হাদিস সংগ্রহ

হাদিসের বই

আরও হাদিস

বর্ণনায়: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিফল পাবে।

প্রতিটি কাজের পেছনে খাঁটি ও সঠিক নিয়ত বা উদ্দেশ্য থাকা অপরিহার্য। লোকদেখানো বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে করা কোনো ভালো কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭

বর্ণনায়: আবু মালিক আল-আশআরী (রা.)

পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।

দৈনন্দিন জীবনে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক সকল প্রকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ঈমানের অন্যতম প্রধান দাবি।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২২৩

বর্ণনায়: উসমান ইবনে আফফান (রা.)

তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।

কুরআন চর্চা, অনুধাবন এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫০২৭

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, মানুষকে দূরে ঠেলে দিও না (বিতৃষ্ণ করো না)।

দ্বীনের দাওয়াত, শিক্ষা দান ও দৈনন্দিন ব্যবহারে কোমলতা, সহানুভূতি এবং নমনীয়তার নীতি অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৯, সহীহ মুসলিম: ১৭৩৪

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)

প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম (ও মানুষ) নিরাপদ থাকে।

কথা ও কাজের মাধ্যমে কাউকে কষ্ট না দেওয়া একজন সচ্চরিত্রবান মুমিনের মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ১০, সহীহ মুসলিম: ৪০

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।

অন্যের জন্য কল্যাণকামিতা এবং পরোপকারী মনোভাব ঈমানের পরিপক্বতার পূর্বশর্ত।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ১৩, সহীহ মুসলিম: ৪৫

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।

কথাবার্তায় সংযম বজায় রাখা এবং অহেতুক বা ক্ষতিকর কথা বলা থেকে বিরত থাকা মুমিনের লক্ষণ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০১৮, সহীহ মুসলিম: ৪৭

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

প্রকৃত ধনী সে নয় যার অনেক ধন-সম্পদ আছে; বরং প্রকৃত ধনী সে, যার অন্তরের ধনী (তৃপ্ত)।

পার্থিব সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং মানসিক শান্তি ও তুষ্টিতেই (কানাআত) প্রকৃত সফলতা নিহিত।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৪৪৬, সহীহ মুসলিম: ১০৫১

বর্ণনায়: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)

প্রতিটি ভালো কাজই একটি সদকা (দান)।

অর্থ দান করাই সদকার একমাত্র উপায় নয়; যেকোনো কল্যাণকর ও ভালো কাজই সদকার সওয়াব এনে দেয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০২১, সহীহ মুসলিম: ১০০৫

বর্ণনায়: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)

যে ব্যক্তি দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।

আল্লাহর রহমত ও দয়া পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো সৃষ্টিজগতের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৭৩৭৬, সহীহ মুসলিম: ২৩১৯

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)

পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি।

পিতা-মাতার খেদমত করা এবং তাঁদের সন্তুষ্ট রাখা আখেরাতে জান্নাত লাভের অন্যতম প্রধান উপায়।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ১৮৯৯

বর্ণনায়: জুবেইর ইবনে মুতইম (রা.)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) ঈমানের অপরিহার্য অংশ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫৯৮৪, সহীহ মুসলিম: ২৫৫৬

বর্ণনায়: আবু জার আল-গিফারী (রা.)

তুমি যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহকে ভয় করো ( তাকওয়া অবলম্বন করো)।

একান্ত গোপনে বা প্রকাশ্যে—সব সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করে জীবনযাপন করা উচিত।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ১৯৮৭

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

কুস্তিতে যে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয় সে প্রকৃত বীর নয়; বরং প্রকৃত বীর সে-ই, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

রাগ বা ক্রোধের চরম মুহূর্তে আত্মসংযম বজায় রাখাই হলো ঈমানী ও মানসিক শক্তির পরিচয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬১১৪, সহীহ মুসলিম: ২৬০৯

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।

নবী কারীম (সা.)-এর ওপর দরূদ পড়া আল্লাহর অপরিসীম রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের অন্যতম উপায়।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৪০৮

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য লিপ্ত থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত সেই বান্দার সাহায্যে থাকেন।

অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতার হাত বাড়ানো আল্লাহর অদৃশ্য সাহায্য পাওয়ার সেরা পথ।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯

বর্ণনায়: সুহাইব ইবনে সিনান (রা.)

মুমিনের বিষয়টাই আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণকর। যদি তার কাছে কোনো ভালো কিছু পৌঁছায়, সে শুকরিয়া আদায় করে; আর যদি কোনো বিপদ আসে, সে ধৈর্য ধরে।

সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ জীবনের সর্বাবস্থায় শুকরিয়া ও সবর ধারণ করা ঈমানদারের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

লজ্জাশীলতা ঈমানেরই একটি বিশেষ শাখা।

লজ্জা বা আত্মমর্যাদাবোধ মানুষকে অপকর্ম ও নির্লজ্জতা থেকে রক্ষা করে নৈতিক চরিত্রে উন্নত করে।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৯, সহীহ মুসলিম: ৩৫

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

নিশ্চয়ই সত্য মানুষকে পুণ্যের পথ দেখায়, আর পুণ্য দেখায় জান্নাতের পথ।

দৈনন্দিন কথা ও কাজে সততা বজায় রাখা আত্মিক বিশুদ্ধতা ও জান্নাত লাভের নিশ্চিত মাধ্যম।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০৯৪, সহীহ মুসলিম: ২৬০৭

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)

ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা—উভয়ের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।

লেনদেনে ঘুষ আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম এবং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ধ্বংস করে।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ১৩৩৭

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

যেকোনো মুসলিম ব্যক্তি একটি গাছ রোপণ করে বা ফসল ফলায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা পশু আহার করে—তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।

পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও কৃসিকাজ করা কেবল পার্থিব প্রয়োজন নয়, বরং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ২৩২০, সহীহ মুসলিম: ১৫৫২

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজ (অবশ্যই কর্তব্য)।

জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দ্বীনি ও মৌলিক বিষয়াদি শিক্ষা করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।

সূত্র: সুনান ইবনে মাজাহ: ২২৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।

শিক্ষার উদ্দেশ্যে যেকোনো কষ্ট বা প্রচেষ্টা স্বীকার করা আখিরাতে সাফল্যের পথকে সুগম করে।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.) / নুমান ইবনে বশীর (রা.)

দোয়া হলো ইবাদতের মূল বা সারসংক্ষেপ।

নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ইবাদতের প্রাণ।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ৩৩৭০

বর্ণনায়: আবু ক্বাতাদাহ (রা.)

সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে নিজের সালাতে চুরি করে। (জিজ্ঞেস করা হলো: কীভাবে?) রাসুল (সা.) বললেন: যে সালাতের রুকূ ও সিজদা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে না।

সালাত ধীরে-সুস্থে, একাগ্রতা ও সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে ধীরস্থিরভাবে আদায় করা ফরজ।

সূত্র: মুসনাদে আহমাদ: ২২৬৪২

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

কেয়ামতের দিন বান্দার হিসাবের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে।

দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময়মতো আদায় করা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ৪১৩

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

অন্যের উপকারের মূল্য দেওয়া, ধন্যবাদ জানানো এবং কৃতজ্ঞ থাকা মুমিনের শিষ্টাচার।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ১৯৫৫

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।

শারীরিক, মানসিক, ঈমানী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করা ইসলামে প্রশংসনীয়।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬৬৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

জাহান্নামকে ঘিরে রাখা হয়েছে লোভ-লালসা ও কামভাব দিয়ে, আর জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে কষ্ট ও অপ্রীতিকর বিষয় দিয়ে।

ক্ষতি ক্ষণস্থায়ী ভোগবিলাস ত্যাগ করে সুদূরপ্রসারী কল্যাণের জন্য কষ্ট সহ্য করাই জান্নাতের পথ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৪৮৭, সহীহ মুসলিম: ২৮২২

বর্ণনায়: নওয়াস ইবনে সামআন (রা.)

পাপ তা-ই, যা তোমার অন্তরে দ্বিধা বা অশান্তি সৃষ্টি করে এবং মানুষ তা জেনে ফেলুক—তা তুমি অপছন্দ করো।

বান্দার বিবেক ও অন্তরের অস্বস্তিই অনেক সময় অন্যায় ও পাপ চিহ্নিত করার প্রাথমিক মাপকাঠি।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৫৫৩

বর্ণনায়: আয়েশা (রা.)

মজবুতভাবে ধরে রাখো: যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নতুন বিষয় (বিদআত) আবিষ্কার করবে, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।

ইবাদতের নামে দ্বীনে নতুন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা কবিরা গুনাহ এবং তা আল্লাহর কাছে অগ্রহণযোগ্য।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম: ১৭১৮

বর্ণনায়: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)

যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের সূচনা বা পথ দেখায়, সে তার নিজের সওয়াবের পাশাপাশি যারা তার অনুসরণ করবে তাদের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।

সমাজকল্যাণমূলক ভালো কাজ শুরু করা এবং অন্যকে উৎসাহিত করার সওয়াব অসীম।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ১০১৭

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

হাশরের মাঠে কোনো বান্দা তার দুটি পা সরাতে পারবে না যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে: তার জীবন কীভাবে কাটিয়েছে, যৌবন কীভাবে ব্যয় করেছে, ধন-সম্পদ কীভাবে উপার্জন করেছে এবং কোথায় খরচ করেছে, আর যা জেনেছে সে অনুযায়ী আমল করেছে কিনা।

সময়, যৌবন, অর্থসম্পদ ও অর্জিত জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহারের ওপরই আখিরাতের মুক্তি নির্ভর করে।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৪১৭

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)

প্রতিটি নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ, আর সকল প্রকার মদই হারাম।

মস্তিষ্ক ও চেতনাকে বিকৃত বা আচ্ছন্ন করে এমন সকল প্রকার মাদক ও নেশাদ্রব্য গ্রহণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২০০৩

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)

যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান প্রদর্শন করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

ছোটদের ভালোবাসা ও বড়দের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সামাজিক শৃঙ্খলার মূল ভিত্তি।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ১৯১৯

বর্ণনায়: আবু দরদা (রা.)

যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, ফেরেশতা তার দোয়ায় বলে: 'আমীন, আর তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।'

অন্যের কল্যাণে গোপনে দোয়া করা দ্রুত কবুল হয় এবং তা নিজের জন্যও কল্যাণ ডেকে আনে।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৭৩২

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

অহংকার যার অন্তরে অণু পরিমাণও থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা এবং সত্যকে অস্বীকার করা মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৯১

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

তোমাদের কেউ যেন হেলান দিয়ে বা দাঁড়িয়ে পান না করে (বসে ও ডান হাতে পান করা সুন্নাহ)।

পানাহারের মতো দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজেও সুন্নাহ ও শিষ্টাচার মেনে চলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ও সওয়াবের মাধ্যম।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২০২৬

বর্ণনায়: উবাই ইবনে কাব (রা.) / এক সাহাবী

তুমি যখনই কোনো কিছু ত্যাগ করবে আল্লাহর ভয়ে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করবেন।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষতিকর হালাল বা হারাম বিষয় ত্যাগ করলে তারচেয়ে উত্তম বিকল্প লাভ করা যায়।

সূত্র: মুসনাদে আহমাদ: ২৩০৭৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

হাদিয়া (উপহার) আদান-প্রদান করো, এতে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।

সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় করা ও অন্তরের বিদ্বেষ দূর করার জন্য উপহার বিনিময় অত্যন্ত কার্যকর।

সূত্র: আল-আদাবুল মুফরাদ: ৫৯৪

বর্ণনায়: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)

যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমুআর মধ্যবর্তী সময়কে আলোর মাধ্যমে উজ্জ্বল করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার বা জুমুআর দিনে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা ঈমানী জ্যোতি ও ফিতনা থেকে সুরক্ষার উপায়।

সূত্র: সুনান আল-কুবরা বাইহাকী: ২৫৭৭

বর্ণনায়: যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা.)

যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, কিন্তু এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে সামান্যতম কমানো হবে না।

অন্যের ইবাদতে সাহায্য করা এবং মেহমানদারির মাধ্যমে অপরিসীম পুণ্য অর্জন করা সম্ভব।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ৮০৭

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)

পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয় আসার আগে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাও: তোমার যৌবনকে বার্ধক্যের আগে, সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, প্রাচুর্যকে দরিদ্রতার আগে, অবসরকে ব্যস্ততার আগে এবং জীবনকে মৃত্যুর আগে।

সময় ও সুযোগ চলে যাওয়ার আগেই আখেরাতের পুণ্য সঞ্চয় ও সময়ের সঠিক ব্যবহার করা উচিত।

সূত্র: আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন: ৭৮৪৬

বর্ণনায়: কাবু ইবনে মালিক (রা.)

মুমিনের দৃষ্টান্ত এক গুচ্ছ শস্যের মতো, যা বাতাস যেদিকেই হেলায় সেদিকেই হেলে পড়ে; আবার বাতাস থমে গেলে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। (অর্থাৎ তারা বিপদে নমনীয় ও ধৈর্যশীল)।

বিপদ-আপদে ঈমানদার ব্যক্তি ভেঙে পড়ে না, বরং ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৭৪৬৬, সহীহ মুসলিম: ২৮১০

বর্ণনায়: শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.)

যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সালাত পড়লো, সে শিরক করলো।

রিয়া বা লোকদেখানো আমল ইবাদতকে ধ্বংস করে দেয় এবং তা ছোট শিরক (শিরকে আসগর) হিসেবে গণ্য।

সূত্র: মুসনাদে আহমাদ: ১৭১১৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ হিংসা মানুষের ভালো কাজগুলোকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে (ধ্বংস করে), যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।

অন্যের নিয়ামত দেখে হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা প্রকাশ করা নিজেরই আমল নষ্ট করার শামিল।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ: ৪৯০৩

বর্ণনায়: হুজাইফা (রা.)

চোগলখোর (যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগিয়ে ঝগড়া বাধায়) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কথা আদান-প্রদান করা মহা পাপ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০৫৬, সহীহ মুসলিম: ১০৫

বর্ণনায়: আবু জার আল-গিফারী (রা.)

তোমাদের কেউ যেন কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা যদি তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও হয়।

ছোট ছোট সৎকাজও নিয়মিত করা উচিত, কারণ আল্লাহর কাছে যেকোনো ছোট আমলও মহামূল্যবান হতে পারে।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬২৬

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

যে ব্যক্তি আল-কুরআনের একটি বর্ণ পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকি দশটি নেকির সমপরিমাণ।

নিয়মিত কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করা প্রচুর সওয়াব অর্জনের এক সহজ ও মহান মাধ্যম।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৯১০

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন।

জীবনযাপন, পোশাক-পরিচ্ছদ, চিন্তাভাবনা ও কথাবার্তায় সৌন্দর্য, মার্জিত রুচি ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সুন্নাহ।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৯১

বর্ণনায়: রিফাআ (রা.)

ব্যবসায়ীরা কেয়ামতের দিন পাপাচারী হিসেবে পুনরুত্থিত হবে; তবে তারা নয়, যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সততা বজায় রেখেছে এবং সত্য বলেছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে শততা, সত্যবাদিতা ও ওজনে সঠিক পরিমাপ বজায় রাখা ঈমানের দাবি।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ১২১০

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)

মাজলুমের (নির্যাতিত ব্যক্তি) অভিশাপকে ভয় করো, কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।

কাউকে অত্যাচার বা জুলুম করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা আবশ্যক, কারণ মাজলুমের ডাক সরাসরি কবুল হয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ২৪৪৮, সহীহ মুসলিম: ১৯

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

তোমরা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ অনুমান হলো সবচেয়ে মিথ্যা কথা।

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা বা ধারণার বশে সিদ্ধান্ত নেওয়া পাপ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০৬৬, সহীহ মুসলিম: ২৫৬৩

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)

যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে চেষ্টা করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেন।

অন্যের সংকট বা প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসা নিজের জীবনের জটিলতা দূর করার ঐশ্বরিক উপায়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ২৪৪২, সহীহ মুসলিম: ২৫৮০

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় একশত বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী' পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না।

দৈনন্দিন জীবনে জিকিরের অভ্যাস গড়ে তোলা সওয়াবের পাহাড় অর্জনের সহজ মাধ্যম।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬৯২

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো পাপই নেই।

অনুতপ্ত হয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা পূর্বের পাপ পুরোপুরি ক্ষমা করে দেন।

সূত্র: সুনান ইবনে মাজাহ: ৪২৫০

বর্ণনায়: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

যদি তোমরা আল্লাহর ওপর সঠিক ও প্রকৃত তাওয়াক্কুল (ভরসা) করতে, তবে তিনি তোমাদের তেমনিভাবে রিজিক দিতেন যেমন পাখিদের দেন—যারা সকালে খালি পেটে বের হয় আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।

কঠোর পরিশ্রমের সাথে আল্লাহর ওপর চূড়ান্ত ভরসাই হলো রিজিক পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৩৪৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

মৃত্যুর পর মানুষের সকল আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, এবং সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।

এমন কাজ করে যাওয়া উচিত যার সওয়াব ও উপকারিতা মৃত্যুর পরও পৃথিবীতে প্রবাহমান থাকে।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ১৬৩১

বর্ণনায়: আয়েশা (রা.)

আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।

ইবাদত ও ভালো কাজে সাময়িক উছ্বাসের চেয়ে ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৪৬৫, সহীহ মুসলিম: ৭৮৩

বর্ণনায়: সহল ইবনে সাদ (রা.)

যে ব্যক্তি তার জিহ্বা (মুখ) এবং লজ্জাস্থানের জামানত (সুরক্ষার নিশ্চয়তা) দিতে পারবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামানত দেব।

মুখ ও যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষা করা জান্নাত লাভের অন্যতম সহজ ও সরাসরি গ্যারান্টি।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৪৭৪

বর্ণনায়: জুনদব ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)

যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করলো, সে আল্লাহর নিরাপত্তা ও হেফাজতে চলে গেল।

প্রতিদিন সকালে ফজর সালাতের মাধ্যমে দিন শুরু করলে সারাদিন আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা পাওয়া যায়।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৬৫৭

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

অন্যের দোষ ঢেকে রাখো; যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।

অন্যের ব্যক্তিগত ভুল বা ত্রুটি জনসমক্ষে প্রচার না করে তা গোপনে সংশোধন করা উচিত।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯

বর্ণনায়: আল-কুরআনের তাফসীর সংক্রান্ত হাদিস / সাহাবী রেওয়ায়েত

তোমরা বিচার-ফয়সালা ও লেনদেনে ন্যায়বিচার করো, এমনকি যদি তা নিজের বা নিজের পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধেও যায়।

স্বজনপ্রীতি ও আত্মস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জীবনের সকল ক্ষেত্রে চরম নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ বজায় রাখা।

সূত্র: সুরা নিসা: ১৩৫-এর মূলভাব হাদীসে বর্ণিত

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)

প্রতিবেশীর হক এতটাই গুরুত্ব দিয়ে জিবরীল (আ.) আমাকে উপদেশ দিচ্ছিলেন যে, আমার মনে হয়েছিল হয়তো শীঘ্রই প্রতিবেশীকে সম্পদের ওয়ারিশ বানিয়ে দেওয়া হবে।

পাশের ঘরে বা এলাকায় বসবাসকারী প্রতিবেশীর সাথে সদব্যবহার ও সুখ-দুঃখে পাশে থাকা জরুরি।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০১৪, সহীহ মুসলিম: ২৬২৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা বা সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তাকান তোমাদের অন্তর এবং কাজের দিকে।

বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সম্পদের প্রাচুর্য নয়, বরং অন্তরের তাকওয়া ও কাজের শুদ্ধতাই আল্লাহর কাছে মূল্যায়িত হয়।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৫৬৪

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

তিন ব্যক্তির দোয়া কখনোই প্রত্যাখ্যাত হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে, এবং মাজলুমের (নির্যাতিত) দোয়া।

বিশেষ কিছু অবস্থা ও সময়ে দোয়া করলে তা সরাসরি কবুলিয়াতের মর্যাদা পায়।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৫২৫

বর্ণনায়: উসমান ইবনে আফফান (রা.)

যে ব্যক্তি ইশার সালাত জামাতে পড়লো সে যেন অর্ধেক রাত সালাত পড়লো, আর যে ফজরের সালাতও জামাতে পড়লো সে যেন পুরো রাত জেগে সালাত পড়লো।

ইশা ও ফজরের সালাত মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করার আমল অপরিসীম সওয়াব বয়ে আনে।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৬৫৬

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না (অর্থাৎ ঘরে সালাত ও কুরআন তেলাওয়াত করো); আর শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় যেখানে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়।

ঘরে নফল সালাত, জিকির ও সুরা বাকারা তেলাওয়াতের মাধ্যমে শয়তানের প্রভাব থেকে ঘরকে মুক্ত রাখা।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৭৮০

বর্ণনায়: মুআজ ইবনে আনাস (রা.)

যে ব্যক্তি খাবারের পর এই দোয়া পড়ে: 'আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আতআমানী হাযা...', তার পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

খাদ্য ও নিয়ামত উপভোগের পর আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করা পাপ মাফের উপায়।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ: ৪০৩-৪০৪

বর্ণনায়: আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা.)

যদি কেউ কোনো ভালো কাজের দিকে পথ দেখায়, সে সেই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে।

অন্যকে ভালো কাজের দাওয়াত দেওয়া ও উৎসাহিত করা সওয়াব বৃদ্ধির এক চমৎকার মাধ্যম।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ১৮৯৩

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

মেহমানকে সম্মান করো; যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান ও আপ্যায়ন করে।

মেহমানদারি করা কেবল সৌজন্যতা নয়, বরং এটি ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষা ও সুন্নাহ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০১৮, সহীহ মুসলিম: ৪৭

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যখন তোমরা কোনো মজলিস বা বৈঠক শেষ করবে, তখন 'সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা...' (কফফরাতুল মজলিস) পাঠ করো; এতে ওই বৈঠকের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

কথাবার্তা ও আড্ডার অনাকাঙ্ক্ষিত অন্যায় ও ভুল মাফ করার জন্য নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ৩৪৩৩

বর্ণনায়: হুজাইফা (রা.)

তোমরা রেশমি পোশাক ও সোনা ব্যবহার করো না (পুরুষদের জন্য); কারণ এগুলো দুনিয়াতে কাফেরদের জন্য আর আখেরাতে তোমাদের (মুসলিমদের) জন্য।

পুরুষদের জন্য সোনা ও খাঁটি রেশমের পোশাক পরিধান করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫৬৩৩, সহীহ মুসলিম: ২০৬৭

বর্ণনায়: উসমান ইবনে আফফান (রা.)

যে ব্যক্তি অজু করে এবং সুন্দরভাবে অজু সম্পন্ন করে, তার শরীর থেকে সমস্ত পাপ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও।

অজু কেবল সালাতের প্রস্তুতি নয়, বরং এটি ছোট ছোট গুনাহ ঝরিয়ে ফেলার এক বিশেষ মাধ্যম।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৪৫

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো, কারণ তা পাপের চিন্তা দূর করে এবং দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমায়।

মৃত্যুচিন্তা মানুষকে সোজা পথে রাখে এবং আখেরাতের প্রস্তুতির তাগিদ দেয়।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৩০৭

বর্ণনায়: সহল ইবনে সাদ (রা.)

যে ব্যক্তি এতিমের লালন-পালনের দায়িত্ব নেয়, আমি এবং সে জান্নাতে এই দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি থাকবো (শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে)।

পিতৃহীন এতিম শিশুদের প্রতি স্নেহ, ভরণপোষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা জান্নাতে রাসুলের সান্নিধ্য পাওয়ার পথ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০০৫

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

যখন তিনজন লোক একসাথে থাকবে, তখন দুজন মিলে গোপনে ফিসফিস করে কথা বলবে না—তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে; কারণ এতে সে কষ্ট পাবে।

সামাজিক শিষ্টাচার রক্ষা করা এবং কারো মনে অযাচিত সন্দেহ বা কষ্টের কারণ না হওয়া।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬২৯০, সহীহ মুসলিম: ২১Takes

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

যদি তোমরা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কান্নাকাটি করতে।

আখিরাতের ভয়াবহতা ও আল্লাহর আজাবের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জীবনকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৪৮৬, সহীহ মুসলিম: ২৩৫৯

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

কোনো মুসলিম যখন অসুস্থ হয় বা কোনো কষ্টে নিপতিত হয়, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার পাপগুলো ঝরিয়ে দেন—যেমন গাছের পাতা ঝরে পড়ে।

অসুস্থতা ও কষ্টকে নেতিবাচকভাবে না দেখে ধৈর্যের সাথে কাটিলে তা পাপমোচনের কারণ হয়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫৬৪৭, সহীহ মুসলিম: ২৫৭১

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালোবাসলো, সে যেন আমাকেই ভালোবাসলো; আর যে আমাকে ভালোবাসলো, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে।

দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও সুন্নাহর অনুসরণ করাই ভালোবাসার প্রমাণ।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৬৭৮

বর্ণনায়: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)

খাবারের পাত্র ঢেকে রাখো এবং পানির পাত্রের মুখ বন্ধ করো (বিশেষ করে রাতে)।

স্বাস্থ্যসুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং ক্ষতিকর পতঙ্গ বা জীবাণু থেকে খাবার নিরাপদ রাখার নির্দেশনা।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫৬০৬, সহীহ মুসলিম: ২০১৪

বর্ণনায়: আনাস ইবনে মালিক (রা.)

তোমরা অলসতা ও অক্ষমতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (রাসুল সা. নিয়মিত দোয়া করতেন: 'আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসাল...')

কর্মঠ হওয়া, অলসতা ত্যাগ করা এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য দোয়ার অভ্যাস করা।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ২৮২৩

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)

দুইটি নিয়ামত এমন আছে, যে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকার মধ্যে (ক্ষতিতে) রয়েছে: সুস্থতা এবং অবসর সময়।

সুস্থ শরীর ও অলস সময়কে অবহেলায় নষ্ট না করে দ্বীন ও দুনিয়ার ভালো কাজে লাগানো উচিত।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬৪১২

বর্ণনায়: সাওবান (রা.)

যে ব্যক্তি সকালে উঠে বলে: 'রদিতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল ইসলামী দ্বীনান, ওয়া বি মুহাম্মাদিন নবীয়্যান...' আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।

আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে সানন্দে গ্রহণ করার কথা প্রতিদিন স্বীকার করা।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ: ৫০৭২

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

তিনটি দোয়া সুনিশ্চিতভাবে কবুল হয়: পিতা-মাতার দোয়া (সন্তানের জন্য), মুসাফিরের দোয়া এবং মাজলুমের দোয়া।

মা-বাবার দোয়া নেওয়া, সফরে দোয়া করা এবং কারো ওপর অত্যাচার করা থেকে বেঁচে থাকা।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ৩৪৪৮

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)

তোমাদের কেউ যেন ডান হাত ছাড়া বাম হাতে না খায় এবং না পান করে; কারণ শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।

পানাহারসহ শুভ ও ভালো কাজগুলো ডান হাত দিয়ে করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২০২০

বর্ণনায়: খাওলা বিনতে হাকিম (রা.)

যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে বলে: 'আউজু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি মা খালাক', সেখানে থাকা অবস্থায় কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

নতুন স্থান, বাড়ি বা সফরে গিয়ে আল্লাহর বাক্যের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রার্থনা করার দোয়া।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৭০৮

বর্ণনায়: আয়েশা (রা.)

নিশ্চয়ই আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় বলে: 'যে আমার সাথে সম্পর্ক যুক্ত রাখবে, আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রাখবেন; আর যে আমাকে কেটে ফেলবে, আল্লাহ তাকে কেটে ফেলবেন।'

পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত নির্ভরশীল।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫৯৮৯, সহীহ মুসলিম: ২৫৫৫

বর্ণনায়: আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা.)

যে ব্যক্তি সুরা বাকারা-এর শেষ দুটি আয়াত রাতে পাঠ করবে, তা তার সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হবে।

রাতে ঘুমানোর আগে কুরআনুল কারীমের নির্দিষ্ট আয়াত পাঠের মাধ্যমে আত্মরক্ষা ও সওয়াব লাভ।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫০০৯, সহীহ মুসলিম: ৮০৭

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)

মিথ্যা বলা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ মিথ্যা পাপের দিকে টানে, আর পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।

কথা, কাজ বা রসিকতার ছলেও মিথ্যা পরিহার করা অপরিহার্য।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬০৯৪, সহীহ মুসলিম: ২৬০৭

বর্ণনায়: উম্মে হাবীবা (রা.)

যে ব্যক্তি দৈনিক বারো রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।

ফরজ সালাতের আগের ও পরের নির্দিষ্ট সুন্নাত সালাতগুলো নিয়মিত আদায়ের বিশেষ ফজিলত।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ৭২৮

বর্ণনায়: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)

শহীদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়—কেবল ঋণ (ধার-দেনা) ছাড়া।

বান্দার হক বা ঋণ পরিশোধ করা এতই জরুরি যে শাহাদাতের মতো সর্বোচ্চ ত্যাগেও তা মাফ হয় না।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ১৮৮৬

বর্ণনায়: সুলাইমান ইবনে সুরদ (রা.)

ক্রোধ বা রাগের সময় বলো: 'আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম' (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই)।

রাগ উঠলে শয়তানের উসকানি থেকে বাঁচতে আল্লাহর জিকির ও আশ্রয় প্রার্থনা করা।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৩২৮২, সহীহ মুসলিম: ২৬১০

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

কোনো ব্যক্তি যখন হাঁচি দেয়, সে যেন বলে 'আলহামদুলিল্লাহ', তার সঙ্গী বলবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ', আর উত্তরে হাঁচিদাতা বলবে 'ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম'।

হাঁচি দেওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করা এবং উত্তরদাতাদের মধ্যে পারস্পরিক শুভকামনার দোয়া বিনিময়।

সূত্র: সহীহ বুখারী: ৬২২৪

বর্ণনায়: জুবেইর ইবনে মুতইম (রা.)

তোমরা হিংসুক ও পরশ্রীকাতর হওয়া থেকে বেঁচে থাকো, কারণ হিংসা মানুষের দ্বীনকে মুণ্ডন করে দেয় (বিনষ্ট করে)।

অন্যের ভালো দেখে হিংসা না করে তার জন্য বরকতের দোয়া করা উচিত।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৫১০

বর্ণনায়: উসমান ইবনে আফফান (রা.)

যে ব্যক্তি সকালে ৩ বার এবং সন্ধ্যায় ৩ বার 'বিসমিল্লাহিল্লাজী লা ইয়াদুররু মাআসমিহী...' পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই নিরাপত্তা দোয়াটি পাঠ করার অভ্যাস করা।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ৩৩৮৮

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি কোনো ইলম বা দ্বীনি জ্ঞান গোপন করে যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতো, কেয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।

অর্জিত সত্য জ্ঞান ও হেদায়াতের বাণী অন্যের কাছে সত্যভাবে পৌঁছে দেওয়া দায়িত্ব, তা গোপন করা পাপ।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযী: ২৬৫৮

বর্ণনায়: আবু জার আল-গিফারী (রা.)

আল্লাহ তাআলা বলেন (হাদিসে কুদসী): 'হে আমার বান্দারা! আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি; সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।'

ছোট-বড় যেকোনো ধরনের জুলুম, অধিকার হরণ বা অপশাসন থেকে শতভাগ দূরে থাকা।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৫৭৭

বর্ণনায়: আবু হুরায়রা (রা.)

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদাকে উঁচুতে তুলে ধরেন।

বিনয় ও নম্রতা মানুষকে ছোট করে না, বরং আল্লাহ ও মানুষের কাছে তার সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮