Fasting (Kitab Al-Siyam)
- 1
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। (আল্লাহর বাণী) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম পালন ফরয করা হয়েছে যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৩)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় (ইসলামের প্রথম যুগে) লোকেরা যখন এশার সালাত আদায় করতো তখন থেকে তাদের উপর খানাপিনা ও স্ত্রী-সহবাস হারাম হয়ে যেতো এবং তারা পরবর্তী রাত পর্যন্ত সওম পালন করতো। কিন্তু এক ব্যক্তি নফসের উপর খিয়ানাত করে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলে, অথচ সে এশার সালাত আদায় করেছে কিন্তু তখনও সে পূর্বের সওমের ইফতার করেনি। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ যেসব সাহাবী এ অন্যায়ে লিপ্ত হয়নি তাদের প্রতি সহনশীল ও কল্যাণ প্রদর্শনের ইচ্ছা করলেন এবং বললেনঃ ‘‘আল্লাহ জানেন, তোমরা নিজেদের নফসের সাথে খিয়ানাত করছিলে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৭)। এর দ্বারা আল্লাহ মানুষের উপকার করেছেন এবং এটা তাদের জন্য সহজ ও ঐচ্ছিক করে দিয়েছেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 1 · #2311 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 2
। আল-বারাআ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যখন সওম পালন করতো তখন তাদের কেউ যদি কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়তো তাহলে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে কিছুই খেতে পারতো না। সিরমা ইবনু কায়িস আল-আনসারী (রাযি.) সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? স্ত্রী বললেন, না, তবে আমি খুঁজে দেখি আপনার জন্য কিছু যোগাড় করতে পারি কিনা। স্ত্রী খাবারের সন্ধানে গেলে স্বামী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো। স্ত্রী ফিরে এসে এ অবস্থা দেখে বললেন, তোমার জন্য বঞ্চনা। (ক্ষুদার কারণে) পরদিন দুপুর না হতেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ দিন তিনি নিজ ভূমিতে কাজকর্ম করছিলেন। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করা হলে আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘রামাযানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়াতটির ‘ভোর পর্যন্ত’ তিলাওয়াত করেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 2 · #2312 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (1915) - 3
। সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহর বাণী) ‘‘যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদের কারোর ইচ্ছে হলে সওম না রেখে ফিদ্ইয়া দিতে চাইলে তাই করতো। অতঃপর পরবর্তী আয়াত (২ঃ ১৮৫) দ্বারা উপরের প্রথম বিধানটি মানসূখ হয়ে যায়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 3 · #2313 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (4507) Sahih Muslim (1145) - 4
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ‘‘যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর যে লোক প্রতিদিন খাওয়াতে সক্ষম ছিলো সে সওম না রেখে ফিদ্ইয়া দিতো, এভাবে তার সিয়াম পূর্ণ হতো। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘আর যে ব্যক্তি অধিক সাদাকাহ করবে তা তার জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা সওম পালন করো তবে তা অধিক উত্তম’’ আল্লাহ আরো বলেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা এ মাসে উপনীত হবে তারা সওম পালন করবে। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে।’’[1] হাসান।
Book 14 · Hadith 4 · #2314 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 5
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, গর্ভবতী ও দুগ্ধ প্রদানকারিণী মহিলার জন্যে ফিদ্ইয়া প্রদানের বিধান বহাল রয়েছে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 5 · #2315 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 6
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৪)। তিনি বলেন, এ আয়াতে অতিবৃদ্ধ ও বৃদ্ধার জন্য সওম ভঙ্গের বিধান রয়েছে। এরা উভয়ে যখন সওম পালনের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, এমতাবস্থায় সওম না রেখে প্রত্যেক দিন একজন মিসকীনকে খাবার দিবে। গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারিণী সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করলে তাদের জন্যেও সওম ভঙ্গের অনুমতি আছে।[1] শাযঃ ইরওয়া (৯১২)।
Book 14 · Hadith 6 · #2316 · Shadh, Shadh, Daif - 7
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা ‘উম্মী জাতি, লিখতে জানি না, হিসাব করতেও জানি না। তবে মাস এতো দিনে, এতো দিনে এবং এতো দিনে হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, সুলায়মান তৃতীয়বারে একটি আঙ্গুল গুটিয়ে নেন। অর্থাৎ মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনে এবং কখনো ত্রিশ দিনে হয়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 7 · #2317 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1913) Sahih Muslim (108) - 8
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনে হয়। সুতরাং চাঁদ না দেখে তোমরা সওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন বন্ধও করবে না। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণেও চাঁদ দেখা না গেলে তোমরা মাস ত্রিশদিন পুরা করবে। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু উমার (রাযি.) শা‘বানের ঊনত্রিশ দিনে পৌঁছলে আকাশের দিকে তাকাতেন, যদি চাঁদ দেখতে পেলে সওম রাখতেন। কিন্তু যদি না দেখতে পেতেন অথচ আকাশ মেঘ বা কুয়াশামুক্ত রয়েছে, তাহলে সওম রাখতেন না। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতো তাহলে তিনি পরদিন সওম রাখতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু উমার (রাযি.) সেদিন সওম সমাপ্ত করতেন যেদিন লোকেরা ইফতার করতো (মাস শেষ করতো)। কিন্তু তিনি ঐ সওমটি গণনায় ধরতেন না।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 8 · #2318 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1080) - 9
। আইয়ূব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। উমার ইবনু আব্দুল ‘আযীয (রহ.) বাসরাহ্ অধিবাসীদের কাছে লিখে পাঠালেন, ইবনু উমার (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে যেভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা হুবহু অমুক অমুক তারিখে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। তবে গণনার উত্তম পন্থা হলো, যখন আমরা শা‘বানের চাঁদ দেখবো তখন ইনশাআল্লাহ সওম রাখবো। তবে যদি এক দিন পূর্বেই (ঊনত্রিশে শা‘বানের) চাঁদ দেখা যায় তাহলে সেই হিসেবে সওম রাখবো।[1] সহীহ মাকতূ’।
Book 14 · Hadith 9 · #2319 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif - 10
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ত্রিশ দিন সওম পালনের তুলনায় বেশিরভাগই ঊনত্রিশ দিন সওম পালন করেছি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 10 · #2320 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 11
। আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ঈদের মাস সাধারণত ঊনত্রিশ দিনে হয় না। তা হলো রমাযান এবং যিলহজ মাস।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 11 · #2321 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1912) Sahih Muslim (1089) - 12
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেদিন তোমরা সওম সমাপ্ত করবে সেদিন তোমাদের ঈদের দিন। আর যেদিন তোমরা কুরবানী করবে সেদিন তোমাদের ঈদুল আযহার দিন। ‘আরাফাহর পুরোটাই অবস্থানের জায়গা। ‘মিনার পুরাটাই কুরবানীর স্থান, মক্কাহর প্রতিটি অলিগলিই কুরবানীর স্থান এবং গোটা ‘মুযদালিফার’ এলাকাই অবস্থানস্থল।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 12 · #2322 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 13
। আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ কায়িস (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাসের হিসাব এতো গুরুত্ব সহকারে রাখতেন যে, অন্য কোনো মাসের হিসাব ততোটা গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন না। অতঃপর তিনি রমাযানের চাঁগদ দেখেই সওম পালন করতেন। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তিনি শা‘বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর সওম রাখতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 13 · #2323 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 14
। হুযাইফাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখে কিংবা শা‘বানের ত্রিশ দিন পূর্ণ না করে (রমাযানকে) এগিয়ে আনবে না। আর (শাওয়াল মাসের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত অথবা রমাযানের ত্রিশ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সওম পালন করতে থাকবে। কতিপয় এ হাদীস বর্ণনায় হুযাইফাহ (রাযি.)-এর নাম উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 14 · #2324 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 15
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমাযান মাস আগমনের একদিন অথবা দু‘দিন পূর্বে সওম পালন করবে না। তবে কেউ যদি (প্রতি মাসে) ঐ তারিখে সওম পালনে অভ্যস্ত হয়, সে রাখতে পারে। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখে সওম পালন করবে না এবং শাওয়ালের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম অব্যাহত রাখবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে সওম ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে, অতঃপর সওম ভঙ্গ করবে। আর মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাতিম ইবনু আবূ সাগীর, শু‘বাহ ও হাসান ইবনু সালিহ ‘সিমাক’ থেকে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা ‘‘সওম ভঙ্গ করবে’’ এ কথাটি বর্ণনা করেননি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 15 · #2325 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 16
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি শা‘বানের শেষ দিকে সওম রেখেছো? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সওম রাখোনি, তখন (রমাযানের শেষে) একদিন বা দুই দিন সওম রাখবে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 16 · #2326 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1983) Sahih Muslim (1161) - 17
। আবুল আযহার আল-মুগীরাহ ইবনু ফারওয়াহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মু‘আবিয়াহ (রাযি.) হিমস শহরের প্রবেশ দ্বারে অবস্থিত মুসতাহিল বাজারে লোকদের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, হে জনগণ! আমরা অমুক দিন, অমুক দিন চাঁদ দেখেছি। সুতরাং আমরা সওম আরম্ভ করতে যাচ্ছি। আর যে ব্যক্তি ভালো মনে করে সে যেন এরূপ করে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মালিক ইবনু হুবাইরাহ আস-সাবঈ দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে মু‘আবিয়াহ! আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কিছু শুনেছেন, নাকি আপনার ব্যক্তিগত অভিমত? মু‘আবিয়াহ (রাযি.) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা শা‘বান মাসে সওম পালন করো এবং বিশেষভাবে এর শেষদিকে।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 17 · #2327 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 18
। আবুল ওয়ালীদ (রহ.) বলেন, আমি আবূ ‘আমর আল-আওযাঈকে বলতে শুনেছি, ‘সাররাহ অর্থ মাসের প্রথমভাগ।[1] শায মাকতূ’।
Book 14 · Hadith 18 · #2328 · Maqtu, Maqtu, Isnaad Hasan - 19
। আবূ মুসহির (রহ.) বলেন, সাঈদ ইবনু ‘আব্দুল ‘আযীয (রহ.) বলতেন, ‘সাররাহ’ অর্থ শা‘বানের প্রথমভাগ।[1] শায। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, কারো মতে, মাসের মধ্যভাগ, কারো মতে, শেষভাগ। সহীহঃ মাসের শেষভাগ।
Book 14 · Hadith 19 · #2329 · Shadh, Shadh, Isnaad Sahih - 20
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব (রহ.) বলেন, উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস তাকে মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-এর নিকট সিরিয়াতে কোনো দরকারে পাঠালেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়া এসে তার কাজটি পুরা করি। এমতাবস্থায় রমাযানের চাঁদও উদিত হলো। আমরা সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখি। রমাযানের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরে এলে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বিভিন্ন আলোচনার পর চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কখন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, আমি বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি স্বচক্ষে চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ, লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সওম রেখেছে আর মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-ও সওম রেখেছেন। তিনি বললেন, আমরা চাঁদ দেখেছি শুক্রবার সন্ধ্যায়। সুতরাং আমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়া অথবা (শাওয়ালের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন অব্যাহত রাখবো। তখন আমি বললাম, মু‘আবিয়াহর চাঁদ দেখা ও তাঁর সওম পালন কি আপনার সওম পালন ও ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি উত্তর দিলেন, না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরূপই নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 20 · #2330 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (1087) - 21
। আল-হাসান (রহ.) সূত্রে কোনো এক শহরের অধিবাসী সম্পর্কে বর্ণিত। লোকটি সোমবার সওম পালন করে এবং দুই ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা রবিবার দিবাগত সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছে। তিনি বললেন, ঐ লোক এবং তার অধিবাসীকে সওম কাযা করতে হবে না যতক্ষণ না তারা জানতে পারে যে, ঐ জনপদের লোকেরা রবিবার সওম পালন করেছে। তাহলে তারা সওমের কাযা করবে।[1] সহীহ মাকতূ’।
Book 14 · Hadith 21 · #2331 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Maqtu, Isnaad Sahih - 22
। সিলাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সন্দেহজনক দিনে আম্মাম (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন একটি ভূনা বকরী সেখানে উপস্থিত করা হলে কিছু লোক এক দিকে সরে গেলো (খাওয়া থেকে বিরত থাকলো)। তখন আম্মার (রাযি.) বললেন, যে ব্যক্তি সন্দেহজনক দিনে সওম রেখেছে, সে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাফরমানী করেছে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 22 · #2332 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 23
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা রমাযানের একদিন অথবা দু‘দিন পূর্বে সওম রাখবে না। অবশ্য কেউ প্রতি মাসে ঐ তারিখে সওম পালনে অভ্যস্ত হলে সে রাখতে পারে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 23 · #2333 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1914) Sahih Muslim (1082) - 24
। উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাস ছাড়া বছরের পূর্ণ একটি মাস কখনো সওম রাখতেন না। তিনি সওম অব্যাহত রেখে শা‘বানকে রমাযানের সাথে মিলাতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 24 · #2334 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 25
। আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন, ‘আব্বাদ ইবনু কাসীর (রহ.) মদীনাহয় আগমন করে আল-আ‘লা (রহ.)-এর মাজলিসে উপস্থিত হলেন। তিনি তার হাত ধরে তাকে দাঁড় করালেন, অতঃপর বললেন, হে আল্লাহ! এ লোকটি তার পিতার সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তোমরা (নফল) সওম রাখবে না। আল-আ‘লা বলেন, আল্লাহ সাক্ষী, আমার পিতা আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উক্ত হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আস-সওরী, শিবল ইবনুল আলা, উমাইস ও যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) আল-আ‘লা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রহমান (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন না। আম ইমাম আহমাদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি, তা কেন? তিনি বলেন, তার কাছে হাদীস রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পালনের দ্বারা শা‘বানকে রমাযানের সাথে মিলাতেন। কিন্তু আল-আ‘লা (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বিপরীত বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আমার মতে, দুই হাদীসের মধ্যে বিরোধ নেই। আল-আ‘লা ছাড়া অন্য কেউ এটি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেননি।
Book 14 · Hadith 25 · #2335 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 26
। হুসাইন ইবনুল হারিস আল-জাদালী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা মক্কায় আমীর ভাষণ প্রদানের সময় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে চাঁদ দেখে হজের (হজ্জের) অনুষ্ঠান আদায়ের উপদেশ দিয়েছেন। যদি চাঁদ না দেখি তাহলে দু‘জন নিষ্ঠাবান ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যেন আমাদের হজের (হজ্জের) অনুষ্ঠানাদি পালন করি। আবূ মালিক (রহ.) বলেন, আমি হুসাইন ইবনুল হারিস (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি, মক্কার আমীর কে? তিনি বলেন, আমার জানা নেই। পরবর্তীতে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, মক্কার আমীর হলেন মুহাম্মাদ ইবনু হাতিবের ভাই হারিস ইবনু হাতিব। অতঃপর উক্ত আমীর বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি আমার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে অধিক জ্ঞাত। আর তিনিই একথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন। একথা বলে তিনি এক লোকের দিকে ইঙ্গিত করলেন। হুসাইন (রহ.) বলেন, আমার পাশে বসা এক বৃদ্ধ লোককে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমীরের ইঙ্গিগকৃত এই লোকটি কে? তিনি বললেন, ইনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.)। তিনি যে বলেছেন, (ইবনু উমার) আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত, তাও সঠিক। এরপর আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 26 · #2336 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 27
। রিব‘ঈ ইবনু হিরাশ (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের শেষদিন সম্পর্কে লোকদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা দিলো, এমতাবস্থায় দু‘জন বেদুঈন এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিলেন যে, তারা উভয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে সওম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিলেন। খালফ (রহ.) তার হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে সকালে তাদের ঈদগাহে গমনের নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 27 · #2337 · Sahih, Sahih, Sahih - 28
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি রমাযানের চাঁদ দেখেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে বিলাল! ঘোষণা করে দাও, লোকেরা যেন কাল সওম পালন করে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (১৯৭৮), যঈফ সুনান তিরমিযী (১০৮/৬৯৪), যঈফ সুনান নাসায়ী (১২১/২১১২), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৩৬৪), ইরওয়া (৯০৭)।
Book 14 · Hadith 28 · #2338 · Daif, Daif, Daif - 29
। ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা সাহাবীগণ রমাযানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহান হলে তারা তারাবীহ না পড়া ও সওম না রাখার ইচ্ছা করেন। এমন সময় হাররাহ এলাকা থেকে এক বেদুঈন এসে সাক্ষ্য দিলো যে, সে চাঁদ দেখেছে। তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সে বললো, হ্যাঁ, এবং সে সাক্ষ্য দিলো যে, সে চাঁদ দেখেছে। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযি.)-কে নির্দেশ দিলেনঃ লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, তারা যেন কিয়াম করে এবং সওম রাখে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসটি এক জামা‘আত সিমাকের মাধ্যমে ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি একে মারফূ করেছেন। তবে হাম্মাদ (রহ.) ছাড়া কেউই কিয়াম তথা তারাবীহ সালাতের কথা উল্লেখ করেননি।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 29 · #2339 · Daif, Daif, Daif - 30
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রমাযানের চাঁদ অন্বেষণ করছিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। অতঃপর তিনি নিজেও সওম রাখলেন এবং লোকদেরকেও রমাযানের সওম পালনের নির্দেশ দিলেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 30 · #2340 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 31
। আমর ইবনুল আস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও আহলে কিতাবের সওমের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহারী খাওয়া।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 31 · #2341 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (1096) - 32
। আল-‘ইরবাদ ইবনু সারিয়াহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমাযানের সাহারীর সময় ডাকলেন এবং বললেনঃ বরকতময় সকালের খাবারের দিকে এসো![1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 32 · #2342 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 33
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমানদার ব্যক্তির জন্য খেজুর দিয়ে সাহারী খাওয়া কতোই না উত্তম![1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 33 · #2343 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 34
। একদা সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযি.) খুৎবা প্রদানের সময় বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদেরকে পানাহর থেকে বিরত না রাখে, আর না (পূর্ব) আকাশের শুভ্র আলো যতক্ষণ না পূর্ব দিগন্তে বিস্তৃত হয়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 34 · #2344 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1094) - 35
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে আযান দেয় (বা আহবান জানায়) রাতের সালাত আদায়কারীদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য, আর যারা ঘুমিয়েছিল তাদেরকে জাগ্রত করতে। আর এরূপ না হওয়া পর্যন্ত ফজর হয় না। ইয়াহইয়া (রহ.) হাতের তালুকে একত্র করে বলেন, এরূপ, ইয়াহইয়া তর্জননীদ্বয়কে প্রসারিত করেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 35 · #2345 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (621) Sahih Muslim (1093) - 36
। কায়িস ইবনু তালক (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাও এবং পান করো। ঊর্ধ্বাকাশে ভোরের যে লম্বা রেখা ফুটে উঠে, তা যেন তোমাদেরকে (সাহারী খাওয়া থেকে) বিরত না রাখে। সুতরাং আকাশের দিগন্তে লাল রঙ্গের ফর্সা ফুটে উঠা পর্যন্ত তোমরা খাও এবং পান করো।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 36 · #2346 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 37
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না রাতের কালো সুতা থেকে ভোরের সাদা সুতা (রেখা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত হয়’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৭)। তখন আমি একটি কালো ও একটি সাদা রংয়ের সুতা নিয়ে আমার বালিশের নীচে রাখি। এরপর আমি তা দেখতে থাকি কিন্তু তা স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি হেসে হেসে উঠলেন এবং বললেনঃ বালিশ তো দৈঘ্য প্রস্থকারী। বরং এটা হচ্ছে রাত ও দিন। উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ তা তো রাতের অন্ধকার এবং দিনের শুভ্রতা।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 37 · #2347 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1916) Sahih Muslim (1090) - 38
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ ফজরের আযান শুনতে পায় অথচ খাবারের পাত্র তার হাতে থাকে, সে যেন তা রেখে না দেয় যতক্ষণ না তার প্রয়োজন পূরন হয়।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 38 · #2348 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 39
। ‘আসিম ইবনু উমার (রাযি.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন এদিক (পূর্বদিকে) থেকে রাত আসে এবং এদিক(পশ্চিম দিক) থেকে দিন তিরোহিত হয় অর্থাৎ সূর্য অস্তমিত যায়, তখন সওম পালনকারীর ইফতারের সময়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 39 · #2349 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1954) Sahih Muslim (1100) - 40
। আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাযি.) বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে গেলাম। তখন তিনি সওম পালনরত ছিলেন। সূর্য ডুবে গেলে তিনি বললেনঃ হে বিলাল! সওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু তৈরী করে আনো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সন্ধ্যা হতে দিন। তিনি বললেনঃ সওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু তৈরী করে আনো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো তো দিন বাকী আছে। তিনি আবারও বললেনঃ নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু বানাও। অতঃপর তিনি নেমে ছাতু তৈরী করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করে বললেনঃ যখন তোমরা এদিক (পূর্বদিক) থেকে রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে দেখবে তখনই সওম পালনকারীর ইফতার করবে। তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 40 · #2350 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1955) Sahih Muslim (1101) - 41
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দীন বিজয়ী থাকবে যতদিন লোকেরা অবিলম্বে ইফতার করবে। কেননা ইয়াহূদী ও খৃস্টানরা বিলম্বে ইফতার করে।[1] হাসান।
Book 14 · Hadith 41 · #2351 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 42
। আবূ ‘আতিয়্যাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও মাসরূক (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বলি, হে উম্মুল মু‘মিনীন! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন সাহাবীর একজন সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করেন এবং খুব তাড়াতাড়ি (মাগরিবের) সালাত আদায় করে নেন। আর দ্বিতীয়জন বিলম্বে ইফতার করেন এবং সালাতও বিলম্বে আদায় করেন। তিনি বললেন, তাদের মধ্যে কে ইফতার অনতিবিলম্বে করেন এবং সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা বললাম, তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 42 · #2352 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1099) - 43
। সালমান ইবনু ‘আমির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেই সওম রাখলে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি পবিত্রকারী।[1] দুর্বলঃ যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১০১/৬৬১, ১১০/৬৯৯), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৩৭৪), ইরওয়া (৯২২)।
Book 14 · Hadith 43 · #2353 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 44
। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিবের) সালাতের পূর্বে কয়েকটি পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, পাকা খেজুর না পেলে খোরমা দিয়ে, তাও না পেলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে (ইফতার করতেন)।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 44 · #2354 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 45
। মারওয়ান ইবনু সালিম আল-মুকাফফা‘ (রহ.) বলেন, আমি ইবনু উমার (রাযি.)-কে তার দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে মুষ্টির বাড়তি অংশ কেটে ফেলতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেনঃ ‘পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, শিরা-উপশিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে।’[1] হাসান।
Book 14 · Hadith 45 · #2355 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 46
। মুয়ায ইবনু যুহরা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তাঁর নিকট হাদীস পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযকিকা আফতারতু।’’ অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার উদ্দেশ্যেই সওম পালন করেছি এবং আপনার দেয়া রিযিক দ্বারাই ইফতার করেছি।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (১৯৯৪), ইরওয়া
Book 14 · Hadith 46 · #2356 · Daif, Daif, Sanad Daif, Daif - 47
। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময় রমাযানে এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে ইফতার করার পূর্বে সূর্য প্রকাশ হয়ে পড়লো। আবূ উসামাহ (রহ.) বলেন, আমি হিশামকে বললাম, তাদেরকে কি তা কাযা করার নির্দেশ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, তা অবশ্যই করণীয়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 47 · #2357 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1959) - 48
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরতিহীন সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। লোকেরা বললো, আপনি তো সাওমে বিসাল রাখেন। তিনি বললেনঃ আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। কেননা আমাকে পানাহার করানো হয়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 48 · #2358 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1962) Sahih Muslim (1102) - 49
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা বিরতিহীন সওম পালন করো না। অবশ্য কেউ ‘সাওমে বিসাল’ করতে চাইলে সাহারী পর্যন্ত করতে পারে। সাহাবীরা বললেন, আপনি তো ক্রমাগত সওম পালন করেন? তিনি বলেনঃ আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। আমার খাদ্যদাতা ও পানীয়দাতা আছেন। তিনি আমাকে পানাহার করান।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 49 · #2359 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1963) - 50
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি সওম পালন করেও মিথ্যা বলা ও অপকর্ম ত্যাগ না করে, তাহলে তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 50 · #2360 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1903) - 51
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ সওম পালন করলে সে যেন পাপাচারে লিপ্ত না হয় এবং মূর্খের ন্যায় আচরণ না করে। কেউ তার সাথে ঝগড়া করলে বা তাকে গালমন্দ করলে সে যেন বলে, আমি সায়িম (রোযাদার), আমি সায়িম।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 51 · #2361 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1894) Sahih Muslim (1151) - 52
। আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমির ইবনু রাবী‘আ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সওম পালন অবস্থায় এতো বেশি মিসওয়াক করতে দেখেছি যে, তা সংখ্যায় নির্ণয় করা মুশকিল।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (২০০৯), ইরওয়া (৬৮), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী
Book 14 · Hadith 52 · #2362 · Daif, Daif, Daif, Daif - 53
। আবূ বাকর ইবনু আব্দুর রহমান (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোনো এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছরে এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লোকদের প্রতি সওম ভঙ্গের নির্দেশ দিতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ দুশমনের মোকাবিলায় তোমরা শক্তি সঞ্চয় করো। অবশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সওম রেখেছেন। আবূ বাকর (রহঃ) বলেন, হাদীস বর্ণনাকারী বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আল-‘আর্জ’ নামক সথানে পিপাসার কারণে বা গরমের ফলে সওমরত অবস্থায় তাঁর মাথায় পানি ঢালতে দেখেছি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 53 · #2363 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 54
। লাক্বীত ইবনু সাবারাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি উত্তমরূপে নাকে পানি দিয়ে তা পরিস্কার করো- যদি তুমি সওম পালনের অবস্থায় না থাকো।[1] সহীহ। এটি পূর্বের ১৪২ নং হাদীসের অংশ বিশেষ।
Book 14 · Hadith 54 · #2364 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 55
। সাওবান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণকারী এবং যার রক্তমোক্ষণ করানো, হয়েছে, তাদের বলেনঃ উভয়ের সওম নষ্ট হয়েছে। শাইবান (রহ.) বলেন, আবূ কিলাবাহ বলেছেন, আবূ আসমা আর-রাহবী তাকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযি.) তা নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 55 · #2365 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 56
। একদা শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে চলছিলেন ... অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 56 · #2366 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 57
। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের আঠার দিন অতিবাহিত হবার পর আমার হাত ধরে বাকী‘তে এক ব্যক্তির নিকট আসলেন, যে শিংগা লাগাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়েছে তাদের উভয়ের সওম নষ্ট হয়ে গেছে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 57 · #2367 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 58
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যে রক্তমোক্ষণ করায় তাদের উভয়ের সওম নষ্ট হয়ে যায়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 58 · #2368 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 59
। সাওবান (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যে রক্তমোক্ষণ করায় তাদের উভয়ের সাওম নষ্ট হয়ে যায়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 59 · #2369 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 60
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, উহাইব ইবনু খালিদ (রহ.) এ হাদীস আইউব (রহ.) থেকে তার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবার জা‘ফার ইবনু রাবী‘আহ (রহ.) ও হিশাম ইবনু হাসসান (রহ.) ইকরিমা-ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 60 · #2370 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5694) - 61
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম ও ইহরাম অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন।[1] দুর্বলঃ যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১২৪/৭৭৯), ইরওয়া (৯৩২), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৩৭১), তাকরীজ হাক্বীকাতুস সিয়াম (পৃঃ ৬৭-৬৮)।
Book 14 · Hadith 61 · #2371 · Daif, Daif, Daif - 62
। আব্দুর রহমান ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণ করানো এবং সাওমে বিসাল পালন করতে নিষেধ করেছেন। তবে তিনি এ দু‘টো কাজ সাহাবীদের প্রতি অনুগ্রহ করে হারাম করেননি। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ভোর রাত পর্যন্ত ক্রমাগত সওম পালন করেন। তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই ভোর রাত পর্যন্ত সওমে বিসাল করি। কেননা আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 62 · #2372 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 63
। সাবিত (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযি.) বলেছেন, সওম পালনকারী রক্তমোক্ষণ করালে দুর্বল হয়ে যাবে বিধায় আমরা তা পরিত্যাগ করতাম।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 63 · #2373 · Sahih, Sahih, Sahih - 64
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো বমি হলে, স্বপ্নদোষ হলে এবং রক্তমোক্ষণ করালে সে সওম ভংগ করবে না।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 64 · #2374 · Daif, Daif, Daif - 65
। আব্দুর রহমান ইবনুন নু‘মান ইবনু মা‘বাদ ইবনু হাওযা (রহ.) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে ঘুমের সময় সুগন্ধিযুক্ত ইসমিদ সুরমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেছেনঃ সওম পালনকারী তা বর্জন করবে। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন আমাকে বলেছেন, সুরমা ব্যবহারের হাদীসটি মুনকার।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 65 · #2375 · Daif, Daif, Daif, Daif - 66
। আনস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি সওম অবস্থায় সুরমা লাগাতেন।[1] হাসান মাওকুফ।
Book 14 · Hadith 66 · #2376 · Hasan, Hasan, Daif - 67
। আল-আ‘মাশ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমাদের কোনো সাথীকে সওম পালনকারীর জন্য সুরমা ব্যবহার করাকে অপছন্দনীয় বলতে আমি দেখিনি। ইবরাহীম নাখঈ (রহ.) সওম পালনকারীর জন্য ‘সিবর’ সুরমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।[1] হাসান।
Book 14 · Hadith 67 · #2377 · Hasan, Hasan, Hasan Maqtu, Daif - 68
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো সওম পালনকারীর অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তাকে তা কাযা করতে হবে না। তবে কেউ স্বেচ্ছায় বমি করলে তাকে অবশ্যই সওম কাযা করতে হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাফস ইবনু গিয়াস (রহ.) থেকে হিশাম (রহ.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 68 · #2378 · Sahih, Sahih, Daif - 69
। মা‘দান ইবনু তালহাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। আবূ দারদা (রাযি.) তাকে বর্ণনা করেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করার পর সওম করেন। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবানের সঙ্গে দামিশকের জামে মসজিদে সাক্ষাৎ করে বলি, আবূ দারদা (রাযি.) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বমি করার কারণে ইফতার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। ঐ সময় আমি তাঁকে উযুর পানি ঢেলে দিয়েছি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 69 · #2379 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 70
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম অবস্থায় (তাকে) চুমু দিতেন এবং একত্রে অবস্থান করতেন। তিনি প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রনে অধিক সক্ষম ছিলেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 70 · #2380 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (1927) Sahih Muslim (1106) - 71
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে (স্ত্রীদেরকে) চুমু দিতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 71 · #2381 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1106) - 72
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমরত অবস্থায় আমাকে চুমু দিতেন। তখন আমিও সওমরত ছিলাম।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 72 · #2382 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 73
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেন, একদা আমি কামোদ্দিপ্ত হয়ে সওম অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দিলাম। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আজ এক গুরুতর কাজ করে ফেলেছি, আমি সওম অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি পানি দিয়ে কুলি করলে কি হতো? ঈসা ইবনু হাম্মাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি (উমার) বললাম, তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। আমি বলিঃ তাতে অসুবিধা নেই।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 73 · #2383 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 74
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পালন অবস্থায় তাকে চুমু দিতেন এবং তাঁর জিহবাও চুষতেন। ইবনুল আ‘রাবী বলেন, আমি ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) থেকে জানতে পেরেছি, তিনি বলেছেন, এ হাদীসের সনদ যথার্থ নয়।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (২০০৫)।
Book 14 · Hadith 74 · #2384 · Daif, Daif, Daif, Daif - 75
। আবূ হুরাইরা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সওম অবস্থায় স্ত্রীর সাথে একত্রে অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করেন। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এসে অনুরূপ জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে নিষেধ করে দিলেন। বর্ণনাকালী বলেন, তিনি যাকে অনুমতি দিয়েছেন সে ছিলো বৃদ্ধ এবং যাকে নিষেধ করেছেন সে ছিলো যুবক।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 75 · #2385 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 76
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ ও উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে নাপাক অবস্থায় ভোরো উপনীত হতেন। বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ আল-আযরামী তার হাদীসে বলেন, তিনি রমাযানের রাতে স্বপ্ন দোষের কারণে নয় বরং সহবাসজনিত নাপাক অবস্থায় সওম পালন করতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 76 · #2386 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1109) - 77
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি দরজায় দাঁড়ানো অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নাপাক অবস্থায় ভোর করেছি এবং আমি সওম পালনের ইচ্ছা রাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিও (কখনো) নাপাক অবস্থায় ভোর করি এবং সওম পালনের ইচ্ছা রাখি। তাই আমি গোসল করে সওম পালন করি। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মতো নন। আল্লাহ আপনার আগের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুন্তুষ্ট হয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি আশা করি যে, নিশ্চয় আমি আল্লাহকে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক ভয় করবো এবং যা আমি অনুসরণ করবো তার মাধ্যমে তোমাদের চেয়ে অধিক প্রিয় হবো।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 77 · #2387 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Muslim (1110) - 78
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি ধ্বংস হয়েছি। তিনি বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বললো, আমি সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কাছে আযাদ করার মতো কোনো গোলাম আছে কি? সে বললো, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি একটানা দুই মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বললো, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য আছে কি? সে বললো, না। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে তিনি তাকে বললেনঃ এগুলো সাদাকাহ করে দাও। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! মদীনার দুই পার্শ্বে আমাদের চেয়ে অভাবী পরিবার আর নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি বললেনঃ তাহলে এগুলো তোমার পরিবারের লোকদের খাওয়াও। মুসাদ্দাসের বর্ণনায় রয়েছেঃ তাঁর দাঁতগুলো প্রকাশ পেলো।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 78 · #2388 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6711) Sahih Muslim (1111) - 79
। আয-যুহরী (রহ.) থেকে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে আয-যুহরী আরো বর্ণনা করেন যে, নিজের কাফফারাহ নিজেই ভোগ করা বা তার উপর কাফফারাহ ধার্য না করা কেবল এ ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য ছিলো। তাই বর্তমানে কোনো ব্যক্তি অনুরূপ কাজ করলে তাকে অবশ্যই কাফফারাহ দিতে হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, লাইস ইবনু সা‘দ, আল-আওযাঈ, মানসূর ইবনুল মু‘তামির ও ‘ইরাক ইবনু মালিক (রহ.) ইবনু উয়াইনাহ্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আল-আওযাঈর বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে।’’[1] সহীহ। আর যুহরীর উক্তি মূলের বিপরীত।
Book 14 · Hadith 79 · #2389 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6710) Sahih Muslim (1111) - 80
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভঙ্গ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি গোলাম আযাদ করার অথবা একটানা দুই মাস সওম পালন অথবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করানোর নির্দেশ দেন। ফলে লোকটি বলে, আমি এর কোনটিই করতে সক্ষম নই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর এলে তিনি তাকে বলেনঃ এগুলো নিয়ে গিয়ে সাদাকাহ করে দাও। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার চেয়ে অধিক গরীব লোক নেই। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি লোকটিকে বললেনঃ তাহলে এগুলো তুমি খাও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইবনু জুরাইজ থেকে আয-যুহরীর মাধ্যমে মালিকের শব্দে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সওম ভঙ্গ করে। তিনি তাতে বলেছেনঃ ‘অথবা একটি গোলাম আযাব করো অথবা দুই মাস সওম রাখো কিংবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 80 · #2390 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1111) - 81
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমাযান মাসের সওম ভঙ্গ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। অতঃপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, পরে একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর আসলো, যাতে পনের সা‘ খেজুর ছিলো। তিনি আরো বলেছেনঃ তুমি এবং তোমার পরিবার এগুলো খাও এবং একদিন সওম পালন করো আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 81 · #2391 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 82
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রমাযান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মসজিদে আগমন করলো। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহান্নামের যোগ্য হয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তার কি ব্যাপার? লোকটি বললো, আমি স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করেছি। তিনি বললেনঃ সাদাকাহ করো। সে বললো, আল্লাহর শপথ! আমার কাছে কিছুই নেই, আর আমি সাদাকাহ করতে সক্ষম নই। তিনি বললেনঃ বসো। লোকটি বসলো। অতঃপর তার বসা অবস্থায়ই এক লোক গাধার পিঠে করে খাদ্যের বোঝা নিয়ে উপস্থিত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ জাহান্নামের যোগ্য ব্যক্তিটি কোথায়? লোকটি দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এগুলো সাদাকাহ করে দাও। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের চেয়ে গরীব লোকদেরকে? আল্লাহর শপথ! আমরা সবচেয়ে গরীব। আমাদের কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তবে এগুলো তোমরাই খাও।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 82 · #2392 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1112) - 83
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে এই সনদে ঘটনাটি বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বিশ সা' (খেজুর) ভর্তি একটি ঝুড়ি এলো।[1] মুনকার।
Book 14 · Hadith 83 · #2393 · Munkar, Munkar, Hasan, Isnaad Hasan - 84
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযানে আল্লাহর দেয়া অনুমতি ছাড়া সওম ভঙ্গ করলো সে সারা বছরেও পূরণ করতে সক্ষম নয়।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৫৪৬২), মিশকাত (২০১৩), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১১৫/৭২৬), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৩৬৮)।
Book 14 · Hadith 84 · #2394 · Daif, Daif, Daif, Daif - 85
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতঃপর ইবনু কাসীর ও সুলাইমান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, সুফিয়ান ও শু‘বাহ (রহ.) ইবনুল মুতাবিবস ও আবুল মুতাবিবসের নাম নিয়ে মতভেদ করেছেন।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 85 · #2395 · Daif, Daif, Daif, Daif - 86
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি লোক এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সওম অবস্থায় ভুলবশত পানাহার করেছি। তিনি বলেনঃ আল্লাহই তোমাকে পানাহার করিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 86 · #2396 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari (1933) Sahih Muslim (1155) - 87
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যদি আমার উপর রমাযানের কাযা সওম থাকতো, তাহলে শা‘বান মাস আসার আগে আমি তা আদায় করতে সক্ষম হতাম না।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 87 · #2397 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (1950) Sahih Muslim (1146) - 88
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের উপর কাযা সওম রেখে মারা যায় তার পক্ষ থেকে তার উত্তরাধিকারীরা তা আদায় করবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, এই বিধান মানতের সওমের জন্য প্রযোজ্য। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.)-এর অভিমত এটাই।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 88 · #2398 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1952) Sahih Muslim (1147) - 89
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি রমাযান মাসে অসুস্থ হয়ে রমাযান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত সুস্থ না হয় এবং এ অবস্থায়ই মারা যায় তাহলে তার পক্ষ থেকে মিসকীনকে আহার করাতে হবে। আর তার উপর মানতের সওম থাকলে তার পক্ষ থেকে অভিভাবক তার কাযা আদায় করবে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 89 · #2399 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Daif - 90
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা হামযাহ আল-আসলামী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন ব্যক্তি যে, অনবরত সওম পালন করি, আমি কি সফরের অবস্থায়ও সওম রাখবো? তিনি বললেনঃ ইচ্ছা হলে সওম রাখো আর ইচ্ছা না হলে রেখো না।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 90 · #2400 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1121) - 91
। হামযাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হামযাহ আল-আসলামী (রহ.) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উটের মালিক, আমি এগুলোকে কাজে লাগাই। আমি এগুলোর উপর চড়ে সফর করি এবং ভাড়ায়ও খাটাই। আমার (সফরে থাকা অবস্থায়) এই রমাযান মাস এসে যায়। আমি তো একজন স্বাস্থ্যবান যুবক। হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি (সফরে) সাওম পালন করবো? সওম তো আমার উপরে ঋণ, কাজেই তা পরে রাখার (কাযা করার) চেয়ে এখন রেখে দেয়াই আমার পক্ষে সহজ। হে আল্লাহর রাসূল! অধিক নেকীর আশায় আমি কি সওম রাখবো নাকি ভঙ্গ করবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হামযাহ! তোমার যা ইচ্ছে করতে পারো।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া (৯২৬)।
Book 14 · Hadith 91 · #2401 · Daif, Daif, Daif, Daif - 92
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি ‘উসফান’ নামক জায়গায় পৌঁছে একপাত্র পানি চাইলেন এবং লোকদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে তা উঁচু করে মুখের কাছে ধরলেন। এটি রমাযান মাসের ঘটনা। এজন্যই ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে কখনো সওম রেখেছেন, আবার কখনো সওম রাখেননি। কাজেই কারো ইচ্ছা হলে সওম রাখতেও পারে, আবার নাও রাখতে পারে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 92 · #2402 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1948) Sahih Muslim (1133) - 93
। আনাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রমাযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফর করেছি। এ সময় আমাদের কেউ সওম রেখেছেন এবং কেউ সওম রাখেননি। কিন্তু এ সময় সওম পালনকারী রোযাহীনকে এবং রোযাহীন সওম পালনকারীকে দোষারোপ করেননি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 93 · #2403 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1947) Sahih Muslim (1118) - 94
। কাযা‘আহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.)-এর নিকট আসি। তখন তিনি লোকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন এবং লোকেরা শান্তভাবে তাঁর কথা শুনছিল। আমি তাঁর সাথে একান্তে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রইলাম। তিনি একাকী হলে আমি তাকে সফরের অবস্থায় রমাযানের সওম রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি বরলেন, আমরা মক্কা বিজয়ের সময় রমাযান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওয়ানা হই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম রেখেছিলেন এবং আমরাও সওম রেখেছিলাম। তিনি কোনো এক মানযিলে পৌঁছে বললেনঃ নিশ্চয় তোমরা শত্রুর কাছাকাছি এসো গেছো। এখন সওম ভঙ্গ করাটাই হবে তোমাদের শক্তিবধর্ক হবে। আমাদের কেউ কেউ সওম রাখলাম এবং কেউ কেউ সওমহীন অবস্থায় ভোরে করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা পুনরায় সফর শুরু করলাম এবং এক মানযিলে নামলে তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমরা শত্রুর কোমাবিলায় অবতীর্ণ হবে। এখন সওম ভঙ্গ করাটাই হবে তোমাদের শক্তিবর্ধক হবে। কাজেই তোমরা সওম ভঙ্গ করো। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃঢ় সংকল্পের উপর স্থির রইলেন। আবূ সাঈদ (রাযি.) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে এই ঘটনার পূর্বেও সওম পালন করেছি এবং এর পরেও সওম পালন করেছি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 94 · #2404 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (1120) - 95
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, এক ব্যক্তিকে ছায়া দেয়া হচ্ছে এবং তার চারপাশে লোকেরা ভীড় করেছে। তখন তিনি বললেনঃ সফরে সওম পালন সওয়াবের কাজ নয়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 95 · #2405 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1946) Sahih Muslim (1115) - 96
। বনী আব্দুল্লাহ ইবনু কা‘বের কুশাইর উপগোত্রীয় সদস্য আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অশ্বারোহী বাহিনী অতর্কিত হামলা করলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছি বা আসি। এ সময় তিনি আহার করছিলেন। তিনি বললেনঃ বসো এবং আমার সাথে খাও। আমি বললাম, আমি সওম অবস্থায় আছি। তিনি বললেনঃ বসো আমি তোমাকে সালাত ও সওম সম্পর্কে কিছু বলবো। নিশ্চয় আল্লাহ মুসাফির, দুগ্ধদানকারিণী ও গর্ভবতী থেকে অর্ধেক সালাত এবং সওম কমিয়ে দিয়েছেন। (বর্ণনাকারী বলেন), আল্লাহর শপথ! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একই সাথে এ শব্দ (দুগ্ধদানাকারিণী ও গর্ভবতী) অথবা এর একটি শব্দ বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমি এজন্য অনুতপ্ত হলাম যে, আমি কেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আহারে অংশগ্রহণ করলাম না।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 96 · #2406 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 97
। আবূ দারদা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের দিনে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো এক যুদ্ধাভিযানে বের হই। তখন (গরমের কারণে) আমাদের কেউ তার হাত মাথার উপর রাখেন। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাযি.) ছাড়া আমাদের কেউ সওম রাখেননি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 97 · #2407 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1945) Sahih Muslim (1122) - 98
। সিনান ইবনু সালামাহ ইবনুল মুহাব্বাক আল-হুযালী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কাছে এমন বাহন আছে যা তাকে পর্যাপ্ত আহারের স্থানে পৌঁছে দিবে, তার উচিত রমাযানের সওম পালন করা যেখানেই সে (রমাযান মাস) পাবে।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল জামি‘উস সাগীর (৫৮১০), মিশকাত (২০২৬)।
Book 14 · Hadith 98 · #2408 · Daif, Daif, Daif, Daif - 99
। সালামাহ ইবনুল মুহাব্বাক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফর অবস্থায় রমাযান মাস পাবে ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুযায়ী বর্ণিত।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 99 · #2409 · Daif, Daif, Daif, Daif - 100
। জা‘ফার ইবনু খাইর (রহ.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবূ বাসরাহ আল-গিফারী (রাযি.)-এর সাথে রমাযান মাসে মিসরের আল-ফুসতাত থেকে ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাযি.)-এর জাহাজে সওয়ার ছিলাম। নৌযানের নোঙ্গর উঠানোর পরে তার সম্মুখে সকালের নাস্তা আনা হলো। জা‘ফার তার বর্ণনায় বলেন, তিনি স্বীয় ঘর-বাড়ি থেকে দূরে যাওয়ার আগেই খাবারের দস্তরখানা চাইলেন এবং আমাকে (খাদ্য গ্রহণের জন্য) কাছে ডাকলেন। আমি বলললাম, আপনি কি ঘর-বাড়ি দেখছেন না? আবূ বাসরাহ (রাযি.) বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত ছাড়তে চাও? জা‘ফার বলেন, এরপর তিনি খেলেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 100 · #2410 · Sahih, Sahih, Daif - 101
। মানসুর আল-কালবী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা রমাযান মাসে দিহয়া ইবনু খালীফাহ (রাযি.) দামিশকের এক অঞ্চল থেকে ‘আকাবাহ ও ফুসতাতের মধ্যবর্তী দূরত্বের সম-পরিমাণ অর্থাৎ তিন মাইল দূরত্ব পর্যন্ত সফর করেন। তখন তিনি সওম ভঙ্গ করলেন এবং তাঁর সাথের কিছু লোকও সওম ভঙ্গ করলো। এ সময় কিছু লোক সওম ভঙ্গ করা অপছন্দ করলো। পরে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! আজ আমি এমন বিয়ষ দেখেছি, যা কখনো দেখার ধারণাও করিনি। কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাত থেকে বিমুখ হয়েছে। তিনি ঐ লোকদের নিন্দা করলেন যারা (সফরে) সওম রেখেছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাকে তোমার হিফাযাতে নাও।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 101 · #2411 · Daif, Daif, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan - 102
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আল-গাবা বনভূমিতে যেতেন। তখন তিনি সওম ভঙ্গ করতেন না এবং সালাত কসর করতেন না।[1] সহীহ মাওকুফ।
Book 14 · Hadith 102 · #2412 · Sahih Muquf, Sahih Muquf, Isnaad Sahih - 103
। আবূ বাকরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন না বলে, আমি পুরো রমাযান মাস সওম রেখে এবং এর পূর্ণ রাত (সালাতে) দাঁড়িয়ে কাটিয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ আত্মপবিত্রতা প্রকাশ অপছন্দ করেছেন নাকি কিছু সময় নিদ্রা ও বিশ্রামের প্রয়োজন বলেছেন তা আমার জানা নেই।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬৩৬৭), যঈফ সুনান নাসায়ী
Book 14 · Hadith 103 · #2413 · Daif, Daif, Daif - 104
। আবূ ‘উবাইদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমার (রাযি.)-এর সাথে আমি এক ঈদের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুত্ববাহর পূর্বে সালাত পড়লেন। অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘দিন সওম রাখতে নিষেধ করেছেন। কেননা কুরবানীর দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত খেয়ে থাকো। আর ঈদুল ফিতরের দিন হলো তোমাদের সওমের সমাপ্তি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 104 · #2414 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1990) Sahih Muslim (1137) - 105
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেনঃ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা- এ দু‘দিন সওম পালন করতে এবং দুই ধরনের পোশাক পরতে (সাম্মা) এক কাপড়ে সমগ্র শরীর পেঁচিয়ে নিয়ে শরীরকে এভাবে ঢাকা যে, হাঁটু উঁচু করে বসলে নীচ থেকে লজ্জাস্থান খোলা থাকে এবং দুই সময়ে সালাত আদায় করতে ফজরের পর এবং ‘আসরের পর।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 105 · #2415 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1991، 1992) Sahih Muslim (827 After 1138) - 106
। উম্মু হানী (রাযি.)-এর মুক্তদাস আবূ মুররাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের সাথে তার পিতা আমর ইবনুল আস (রাযি.)-এর নিকট যান। তিনি তাদের উভয়ের সামনে খাবার এনে তা খেতে বললেন। আব্দুল্লাহ (রাযি.) বললেন, আমি সওমরত আছি। আমর (রাযি.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনগুলোতে আমাদেরকে সওম ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সওম রাখতে নিষেধ করেছেন। মালিক (রহ.) বলেন, তা হলো তাশরীকের দিনগুলো।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 106 · #2416 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 107
। ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফাহর দিন, কুরবানীর দিন এবং তাশরীকের দিনগুলো হচ্ছে আমাদের মুসলিমদের ঈদের দিন, এগুলো পানাহারের দিন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 107 · #2417 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 108
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কেবল জুমু‘আহর দিন সওম না রাখে। (রাখতে চাইলে) জুমু‘আহর আগে অথবা পরের দিনও যেন সওম রাখে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 108 · #2418 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1985) Sahih Muslim (1144) - 109
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর আস-সুলামী (রহ.) থেকে তার বোন আস-সাম্মা‘ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শুধু শনিবারে সওম রেখো না। তবে ঐ দিন তোমাদের উফর ফরযকৃত সওম রাখতে পারো। তোমাদের কেউ যদি সওম ভঙ্গের জন্য আঙ্গুর গাছের ছাল বা অন্য গাছের ডালা ছাড়া কিছু না পায়, তাহলে তা চিবিয়ে সওম ভঙ্গ করবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, এ হাদীসটি মানসূখ।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 109 · #2419 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 110
। জুয়াইরিয়াহ বিনতু হারিস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি সওম পালন অবস্থাল ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি গতকাল সওম রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার কি আগামী কাল সওম পালনের ইচ্ছা আছে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সওম ভঙ্গ করো।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 110 · #2420 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1986) - 111
। ইবনু শিহাব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তার নিকট শুধু শনিবার সওম রাখা নিষেধ সম্পর্কিত হাদীস আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, এটা তো হিমসী বর্ণিত হাদীস।[1] মাকতূ‘ মারফূয।
Book 14 · Hadith 111 · #2421 · Maqtu, Maqtu, Isnaad Sahih - 112
। আল-আওযাঈ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, শনিবারের সওম সম্পর্কিত ইবনু বুসর বর্ণিত হাদীসটি আমি গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু আমি দেখলাম যে, তা ব্যাপকভাবে প্রসার পেয়েছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, এ হাদীসটি মিথ্যা।[1] সহীহ মাকতূ‘।
Book 14 · Hadith 112 · #2422 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif - 113
। আবূ কাতাদাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিভাবে সওম রাখেন? এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন। উমার (রাযি.) তা দেখতে পেয়ে বললেন, আমরা আল্লাহকে আমাদের রব, ইসলামকে আমাদের দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমাদের নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। উমার (রাযি.) উক্ত বাক্যটি বারবার বলতে লাগলেন, এক পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টির ভাব দূরীভূত হলো। এরপর উমার (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তি কেমন যে সারা বছর সওম রাখে? তিনি বললেনঃ এমনও কি কেউ সামর্থ্য রাখে? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তি কেমন যে দুই দিন সওম পালন করে এবং একদিন রোযদীন থাকে? তিনি বললেন, কেউ কি এরূপ করতে সক্ষম? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি কেমন যে একদিন সওম পালন করে এবং একদিন রোযহীন থাকে? তিনি বললেন, তা দাঊদ (আঃ)-এর সওমের মতই। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তির সওম কেমন যে একদিন সওম রেখে দু‘দিন রোযাহীন থাকে? তিনি বললেনঃ আমি এটাই কামনা করি, যেন আমাকে এরূপ করার শক্তি দেয়া হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রতি মাসে তিনটি সওম এবং এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত প্রতি বছরের রমাযানের সওম, এটাই হচ্ছে সর্বদা সওম পালনের সমতুল্য। আরাফাহ্ দিনের সওম আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এর দ্বারা তিনি পূর্বের এক বছর এবং পরের বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর আশূরার সওম, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি (এর বিনিময়ে) আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 113 · #2423 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1162) - 114
। আবূ কাতাদাহ (রহ.) থেকে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণিত। তাতে অতিরিক্ত রয়েছেঃ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ব্যাপারে আপনার কি অভিমত? তিনি বললেনঃ ঐ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ঐ দিনই আমার উপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 114 · #2424 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 115
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেনঃ আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি বলেছো, আল্লাহর শপথ! আমি সারা দিন সওম রাখবো এবং সারা রাত দাঁড়িয়ে সালাত পড়বো? তিনি বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এরূপ বলেছি। তিনি বললেনঃ সালাত আদায় করবে এবং নিদ্রায়ও যাবে। সওম পালন করবে এবং কোনো দিন সওম থেকে বিরত থাকবে। তুমি প্রতি মাসে (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) তিনটি সওম রাখো, এটাই সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর চেয়ে অধিক শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একদিন সওম রাখো এবং একদিন সওম থেকে বিরত থাকো। এটিই সর্বোত্তম সওম এবং এটিই হচ্ছে দাঊদ (আঃ)-এর সওম। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও অধিক শক্তি রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর চেয়ে উত্তম সওম নেই।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 115 · #2425 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1976) Sahih Muslim (1159) - 116
। বাহিলিয়্যাহ গোত্রীয় ‘মুজীবা’ নাম্নী নামক জনৈক মহিলা থেকে তার পিতা অথবা চাচার সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি (পিতা অথবা চাচা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করে চলে যান। অতঃপর এক বছর পরে তিনি আসেন। তখন তার মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটেছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেননি? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কে? তিনি বললেন, আমি ঐ বাহিলী, আমি গত বছর এসেছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি কারণে তোমার এরূপ পরিবর্তন ঘটলো, অথচ তুমি তো সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলে? আমি বললাম, আমি আপনার নিকট থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে রাত ছাড়া আহার করিনি (দিনে অনবরত সাওম রেখেছি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার নফসকে কেন এরূপ কষ্ট দিয়েছো? অতঃপর তিনি বললেনঃ ধৈর্যের মাস (রমাযান) এবং প্রতি মাসে একটি করে সওম রাখো। তিনি বললেন, আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেনঃ দু‘দিন সওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ (প্রতি মাসে) তিনটি সওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। একথা বলে তিনি তিনটি আঙ্গুল একত্র করার পর তা ফাঁক করে দিলেন।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 116 · #2426 · Daif, Daif, Daif, Daif - 117
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান মাসের পর আল্লাহর মাস মুহাররম-এর সওম হচ্ছে সর্বোত্তম এবং ফরয সালাতের পর রাতের সালাতই সর্বোত্তম।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 117 · #2427 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1163) - 118
। উসমান ইবনু হাকিম (রহ.) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-কে রজব মাসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনবরত সওম পালন করতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি এ মাসে সওম বর্জন করবেন না। আবার তিনি অনবরত সওম বর্জনও করতেন, এমনকি আমরা বলতাম তিনি (হয় তো) আর সওম রাখবেন না।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 118 · #2428 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1971 Mukhtasar) Sahih Muslim (1157) - 119
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সকল মাসের মধ্যে শা‘বান মাসে অধিক সওম রাখা অধিক পছন্দনীয় ছিলো। তিনি এ মাসে সওম অব্যাহত রেখে তা রমাযানের সাথে যুক্ত করতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 119 · #2429 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 120
। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসলিম আল-কারাশী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছি (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) অথবা তাঁকে সারা বছর সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ তোমার স্ত্রীর প্রতি তোমার কর্তব্য রয়েছে। সুতরাং তুমি রমাযান মাস এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট মাসে আর প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সওম পালন করো। তুমি এরূপ করলে তুমি যেন সারা বছরই সওম রাখলে।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (১৯১৪), মিশকাত (২০১৬), যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১২২/৭৫২)।
Book 14 · Hadith 120 · #2430 · Daif, Daif, Daif, Daif - 121
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবূ আইয়ূব (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযান মাসের সওম রাখার পর শাওয়াল মাসের ছয়টি সওম রাখলো, সে যেন সারা বছর সওম রাখলো।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 121 · #2431 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1164) - 122
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে সওম রাখতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সওম বর্জন করবেন না। আবার তিনি সওম বর্জন করতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি হয় তো আর সওম রাখবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রমাযান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ মাস সওম পালন করতে দেখিনি। আর আমি তাকে শা‘বান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে অধিক (নফল) সওম রাখতে দেখিনি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 122 · #2432 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1969) Sahih Muslim (1156) - 123
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে রয়েছেঃ তিনি (শা‘বান মাসে) সামান্য ক‘দিন ছাড়া গোটা মাসই সওম পালন করতেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 123 · #2433 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 124
। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম সূত্রে বর্ণিত। তিনি উসামাহ (রাযি.)-এর সাথে তার কোনো মালের সন্ধানে ওয়াদিয়ুল কুরায় যান। উসামাহ (রাযি.) প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম পালন করতেন। তার মুক্তদাস তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার কেন সওম রাখেন অথচ আপনি একজন বৃদ্ধ মানুষ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর নিকট বান্দার আমলসমূহ পেশ করা হয়।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 124 · #2434 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 125
। হুনাইদাহ ইবনু খালিদ (রহ.) তার স্ত্রী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক স্ত্রী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশুরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 125 · #2435 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 126
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহর নিকট যে কোনো দিনের সৎ আমলে চেয়ে যিলহজ (হজ্জ) মাসের দশ প্রথম দিনের আমলের অধিক প্রিয়। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে জিহাদে বের হয় এবং কোনো একটি নিয়েও ফিরে না আসে তার কথা স্বতন্ত্র।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 126 · #2436 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (969) - 127
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো (যিলহজ (হজ্জ) মাসে) দশদিন সওম পালন করতে দেখিনি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 127 · #2437 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1176) - 128
। ‘ইকরিমাহ (রহ.) বলেন, আমরা আবূ হুরাইরাহ (রাযি.)-এর কাছে তার ঘরে অবস্থান করেছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন আরাফার ময়দানে সওম রাখতে নিষেধ করেছেন।[1] দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬০৬৯), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৩৭৮/১৭৩২), সিলসিলাতুল আহদিসীয যঈফাহ (৪০৪), মিশকাত (২০৬৩)।
Book 14 · Hadith 128 · #2438 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 129
। আল-হারিস কন্যা উম্মুল ফাদল (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আরাফার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পালন করেছেন কিনা এ নিয়ে কতিপয় লোক তার নিকট বিতর্ক করেন। তাদেরকে কেউ বললেন, তিনি সওম রেখেছেন, আবার কতিপয় বললেন, তিনি সওম রাখেননি। সুতরাং আমি তাঁর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম, তখন তিনি তা উষ্ট্রীর পিঠের উপর আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। তিনি দুধটুকু পান করলেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 129 · #2439 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1988) Sahih Muslim (1123) - 130
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়াতের যুগে কুরাইশরা আশূরার সওম পালন করতো। জাহিলী যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এদিন সওম রাখতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে এ দিন সওম রেখেছেন এবং লোকদেরকেও সওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর রমাযানের সওম ফরয হলে সেটিই ফরয হিসেবে বহাল হলো এবং আশূরার দিন সওম রাখার আবশ্যকতা পরিত্যক্ত হলো। ফলে যার ইচ্ছা সওম রাখতো এবং যার ইচ্ছা ত্যাগ করতো।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 130 · #2440 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2002) Sahih Muslim (1125) - 131
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশূরা এমন দিন ছিলো যে, জাহিলী যুগে আমরা এ দিন সওম পালন করতাম। অতঃপর রমাযান মাসের সওম ফরয করা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি আল্লাহর দিনসমূহের একটি দিন। কাজেই যার ইচ্ছা সওম রাখুক, আর যার ইচ্ছা তা ত্যাগ করুক।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 131 · #2441 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4501) Sahih Muslim (1126) - 132
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে ইয়াহুদীদের আশূরার দিন সওম পালনরত পেলেন। তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বললো, এটি একটি মহান দিন, যেদিন মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে ফির‘আউনের উপর বিজয়ী করেছেন। সুতরাং এ মহান দিনের সম্মানার্থে আমরা সওম পালন করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আঃ)-এর বেশি হকদার। অতঃপর তিনি ঐ দিন সওম পালনের নির্দেশ দেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 132 · #2442 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (3943) Sahih Muslim (1130) - 133
। আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজে আশূরার দিন সওম রাখলেন এবং আমাদেরকেও এ সওম পালনের নির্দেশ দেন, তখন লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদী ও খৃস্টানরা এ দিনটিকে সম্মান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আগামী বছর এলে আমরা নবম দিন সওম পালন করবো। কিন্তু আগামী বছর না আসতেই রাসূলুল্লাহ ইন্তেকাল করেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 133 · #2443 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1134) - 134
। আল-হাকাম ইবনুল আ‘রাজ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট এলাম। এ সময় তিনি মাসজিদুল হারামে তার চাদরে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। আমি তাকে আশূরার সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যখন তুমি মুহাররমের নতুন চাঁদ দেখবে, তখন থেকে গণনা করতে থাকবে। এভাবে যখন নবম দিন আসবে তখন সওম অবস্থায় ভোর করবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এভাবে সওম রাখতেন? তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সওম রাখতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 134 · #2444 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1133) - 135
। ‘আব্দুর রহমান ইবনু মাসলামাহ (রহ.) থেকে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। একদা আসলাম গোত্রের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি তোমাদের এই দিনের সওম রেখেছো? তারা বললো, না। তিনি বললেনঃ দিনের বাকী অংশটুকু (পানাহার না করে) পূর্ণ করো এবং এদিনের সওম কাযা করে নাও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, অর্থাৎ আশূরার দিন।[1] দুর্বল।
Book 14 · Hadith 135 · #2445 · Daif, Daif, Daif - 136
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সওম হলো দাঊদ (আঃ)-এর সওম এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সালাত হলো দাঊদ (আঃ)-এর সালাত। তিনি রাতের অর্ধেক অংশ ঘুমাতেন এবং এক-তৃতীয়াংশ কিয়াম করতেন। আবার এক-ষষ্ঠমাংশ ঘুমাতেন। আর তিনি একদিন সওম ত্যাগ করতেন এবং একদিন সওম রাখতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 136 · #2446 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1131) Sahih Muslim (1159) - 137
। ইবনু মিলহান আল-কায়সী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়ামে বীয অর্থাৎ চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সওম পালনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এগুলো সারা বছর সওম রাখার সমতুল্য।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 137 · #2447 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 138
। আব্দুল্লাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসের প্রথম দিকে তিনদিন সওম পালন করতেন।[1] হাসান।
Book 14 · Hadith 138 · #2448 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 139
। হাফসাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসে তিন দিন সওম রাখতেনঃ (প্রথম সপ্তাহে) সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে সোমবার।[1] হাসান।
Book 14 · Hadith 139 · #2449 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 140
। হুনাইদাহ আল-খুযাঈ (রহ.) থেকে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর কাছে গিয়ে সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালনে নির্দেশ দিতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং (দ্বিতীয় সপ্তাহের) বৃহস্পতিবার।[1] মুনকারঃ মিশকাত (২০৬০)।
Book 14 · Hadith 140 · #2450 · Munkar, Munkar, Isnaad Sahih - 141
। মু‘আযা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করি, মাসের কোন্ কোন্ দিনে সওম রাখতেন? তিনি বললেন, তিনি নির্দিধায় যে কোনো তিন দিন সওম রাখতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 141 · #2451 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1160) - 142
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে সওমের নিয়্যাত করেনি তার সওম হয়নি।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 142 · #2452 · Sahih, Sahih, Daif - 143
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে বলতেনঃ তোমাদের কাছে কোনো খাবার আছে কি? আমরা না বললে তিনি বলতেনঃ আমি সওম রাখলাম। একদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে আগমন করলে আমরা বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে কিছু ‘হাইস’ হাদিয়া দেয়া হয়েছে। আমরা তা আপনার জন্য রেখে দিয়েছি। তিনি বললেনঃ তা আমার কাছে নিয়ে এসো। অথচ তিনি সওম অবস্থায় ভোর করেছেন, পরে তা খেয়ে ইফতার করলেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 143 · #2453 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1154) - 144
। উম্মু হানী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন ফাতিমাহ (রাযি.) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম পাশে বসলেন আর উম্মু হানী (রাযি.) বসলেন তাঁর ডান পাশে। বর্ণনাকারী বলেন, এক দাসী এক পাত্র পানীয় এনে তাঁকে দিলে তিনি তা থেকে কিছু পান করার পর উম্মু হানীর দিকে পাত্রটি এগিয়ে দিলেন এবং তিনি তা থেকে পান করলেন। উম্মু হানী (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যে এখন ইফতার করলাম, আমি তো সওম রেখেছিলাম! তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি এগুলো কাযা করতে চাও? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ যদি তা নফল (সওম) হয় তাহলে কোনো ক্ষতি নেই।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 144 · #2454 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 145
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাকে ও হাফসাহ (রাযি.)-কে কিছু খাবার উপঢৌকন দেয়া হয়। তখন আমরা দু‘জনেই সওম অবস্থায় ছিলাম। আমরা সওম ভাঙ্গলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে আমরা তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে হাদিয়া দেয়া হয়েছিল। আমাদের তা খেতে ইচ্ছে হওয়ায় আমরা তা খেয়ে সওম ভেঙ্গে ফেলি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোনো অসুবিধা নেই, তবে এর পরিবর্তে অন্য দিন সওম রেখে নিবে।[1] দুর্বলঃ যঈফ সুনান আত-তিরমিযী (১১৮/৭৩৮) পরবর্তী দিন শব্দে, যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর (৬৩০৩), মিশকাত (২০৮০)।
Book 14 · Hadith 145 · #2455 · Daif, Daif, Daif - 146
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার সম্মতি ছাড়া স্ত্রী রমাযান মাসের সওম ব্যতীত নফল সওম রাখবে না এবং তার উপস্থিতিতে তার সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার ঘরে আসার অনুমতি দিবে না।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 146 · #2456 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5192) Sahih Muslim (1026) - 147
। আবূ সাঈদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এমন সময় তাঁর কাছে এক মহিলা এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী সাফওয়ান ইবনু মু‘আত্তাল যখন আমি সালাত আদায় করি তখন আমাকে প্রহার করে। আমি সওম রাখলে সে আমাকে সওম ভঙ্গ করা এবং সূর্য উঠার পূর্বে সে ফজরের সালাত আদায় করে না। বর্ণনাকারী বলেন, সেখানে সাফওয়ানও উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে সে সম্পর্কে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার অভিযোগ হলো, ‘আমি যখন সালাত আদায় করি সে আমাকে প্রহার করে’, কারণ হচ্ছে, সে এমন দু‘টি দীর্ঘ সূরা দিয়ে সালাত আদায় করে যা পাঠ করতে আমি তাকে নিষেধ করি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেনঃ (ফাতিহার পর) সংক্ষিপ্ত একটি সূরাই লোকদের জন্য যথেষ্ট। তার অভিযোগ, ‘আমাকে সওম ভাঙ্গতে বাধ্য করে’, ব্যাপার এই যে, সে প্রায়ই সওম রাখে। আমি একজন যুবক, ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনই বললেনঃ কোনো নারী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া (নফল) সওম রাখবে না। এবং তার অভিযোগ, ‘সূর্য উঠার পূর্বে আমি (ফজরের) সালাত আদায় করি না’, কারণ হলো, আমার পরিবারের লোকেরা সর্বদা কাজে (পানি সরবরাহে) ব্যস্ত থাকে। ফলে সূর্য উঠার আগে আমরা ঘুম থেকে জাগতে পারি না। তার কথা শুনে তিনি বললেনঃ যখনই তুমি জাগ্রত হবে তখনই সালাত আদায় করে নিবে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 147 · #2457 · Sahih, Sahih, Daif - 148
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হলে সে যেন তাতে যোগদান করে। সে রোযাহীন হলে যেন খাবার খায়, আর সওম রেখে থাকলে যেন দাওয়াত কারীর জন্য দু‘আ করে। হিশাম (রহ.) বলেন, এখানে ‘সালাত’ অর্থ দু‘আ।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 148 · #2458 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1431) - 149
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোনো (সওম পালনকারী) ব্যক্তিকে খাবার দাওয়াত দেয়া হলে সে যেন বলে, নিশ্চয় আমি রোযাদার।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 149 · #2459 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1150) - 150
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাস শেষ দশদিন ই‘তিকাফ করতেন। যতদিন না আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেন। এরপর তাঁর স্ত্রীগণও (ই‘তিকাফ করেন)।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 150 · #2460 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2026) Sahih Muslim (1172) - 151
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর তিনি ই‘তিকাফ করতে না পারায় পরবর্তী বিশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 151 · #2461 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 152
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফের ইচ্ছা করলে ফজরের সালাত আদায়ের পর তাঁর ই‘তিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। তিনি বলেন, একবার তিনি রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফের ইচ্ছা করলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি একটি তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। এরপর তা দেখে আমিও আমার জন্য একটি তাবূ খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। তিনি বলেন, আমি ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য স্ত্রীরাও অনুরূপ তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তাদের জন্যও তা খাটানো হয়। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরয সালাতের পর তাবুগুলোর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কি? এটা এমন কি ভালো কাজ যা তোমরা করতে চাইছো?’ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি নির্দেশ দিলে তাঁর তাবু ভেঙ্গে ফেলা হলো। স্ত্রীগণও নির্দেশ দিলে তাঁদের তাবুগুলোও ভেঙ্গে ফেলা হলো। অতঃপর তিনি সাওয়াল মাসের প্রথম দশক পর্যন্ত ই‘তিকাফ পিছিয়ে দেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, এ হাদীস ইবনু ইসহাক ও আল-আওযাঈ (রহ.) ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহ.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম মালিক (রহ.) ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাওয়াল মাসে বিশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 152 · #2462 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2033) Sahih Muslim (1173) - 153
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। নাফি‘ (রহ.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের যে স্থানে ই‘তিকাফ করতেন আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) ঐ স্থানটি আমাকে দেখিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 153 · #2463 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2025) Sahih Muslim (1171) - 154
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমাযানে দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি মৃত্যু বরণ করেন সেই বছর বিশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 154 · #2464 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2044) - 155
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফরত অবস্থায় স্বীয় মাথা আমার নিকটবর্তী করতেন। আর আমি তাঁর মাথা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 155 · #2465 · Sahih, Sahih Muslim (297) - 156
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ইউনুস (রহ.) যুহরী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ‘উরওয়াহ ও ‘আমরাহর বর্ণনার উপর কেউই ইমাম মালিকের অনুসরণ করেননি এবং মা‘মার, যিয়াদ ইবনু সাদ যুহরীর মাধ্যমে ‘উরওয়াহ থেকে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1] আমি এটি সহীহ এবং যঈফেও পাইনি।
Book 14 · Hadith 156 · #2466 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2029) - 157
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় তাঁর ঘরের ফাঁক দিয়ে তাঁর মাথা আমার দিকে এগিয়ে দিতেন। আমি হায়িয অবস্থায় তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম এবং চিরুনী করে দিতাম।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 157 · #2467 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (295، 2030، 5925) Sahih Muslim (297) - 158
। সাফিয়্যাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফরত ছিলেন। এক রাতে আমি তাঁর সাথে দেখা করতে যাই। তাঁর সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর আমি ঘরে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালে তিনিও আমাকে এগিয়ে দিতে উঠলেন। তার (সাফিয়্যাহর) বাসস্থান ছিলো উসামাহ ইবনু যায়িদের ঘরের সাথে। দু‘জন আনসারী ব্যক্তি ঐ পথ অতিক্রমকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেয়ে দ্রুত চলে যেতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটো। এ মহিলাটি হচ্ছেন হুয়াইর কন্যা সাফিয়্যাহ। তারা উভয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ শয়তান রক্তপ্রবাহের ন্যায় মানুষের শিরায়-উপশিরায় প্রবেশ করে। আমার আশঙ্কা হলো, সে তোমাদের মনে কুধারণা বা খারাপ কিছুর উদ্রেক করতে পারে।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 158 · #2468 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3281) Sahih Muslim (2175) - 159
। আয-যুহরী (রহ.) থেকে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। সাফিয়্যাহ (রাযি.) বলেন, তিনি যখন উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর দরজার নিকটস্থ মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন তাঁদের পাশ দিয়ে দু‘জন লোক অতিক্রম করলো। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদীসটির অর্থে বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 159 · #2469 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2035) - 160
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফরত অবস্থায় রোগীর কাছে যেতেন এবং তাকে দেখেই চলে যেতেন, সেখানে (অবস্থান করে) তাকে কিছু জিজ্ঞেস করতেন না। ইবনু ঈসা (রহ.)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ অবস্থায় রোগী দেখতে যেতেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (২১০৫)।
Book 14 · Hadith 160 · #2470 · Daif, Daif, Daif, Daif - 161
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ই‘তিকাফকারীর জন্য সুন্নাত হলোঃ সে কোনো রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না, তার সাথে সহবাস করবে না এবং অধিক প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না, সওম না রেখে ই‘তিকাফ করবে না এবং জামে মসজিদে ই‘তিকাফ করবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, ‘ঊল্লিখিত বিষয়গুলোকে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সুন্নাত বলেছেন’ একথাটি আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক ব্যতীত অন্য কেউ বলেননি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, তিনি একে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর উক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 14 · Hadith 161 · #2471 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Sahih - 162
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। উমার (রাযি.) জাহিলী যুগে মানত করেছিলেন যে, তিনি এক রাত বা এক দিন কা‘বা চত্বরে ই‘তিকাফ করবেন। তিনি এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ ই‘তিকাফ করো এবং সওম পালন করো।[1] সহীহ। তবে ‘‘অথবা একদিন’’ এবং ‘‘সওম পালন করো’’- এ কথাটুকু বাদে।
Book 14 · Hadith 162 · #2472 · Sahih, Sahih, Daif - 163
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুদাইল (রহ.) থেকে উক্ত সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। একদা উমার (রাযি.) ই‘তিকাফরত অবস্থায় মসজিদের বাইরে লোকদের তাকবীর ধ্বনি শুনে জিজ্ঞেস করলেন, হে আব্দুল্লাহ! এটা কিসের শব্দ? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওয়াযিন গোত্রের বন্দীদের মুক্ত করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি এ দাসীটিকেও (মুক্ত করে) তাদের সাথে পাঠিয়ে দাও।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 163 · #2473 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 164
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর কোনো এক স্ত্রী ই‘তিকাফ করেছিলেন। তাঁর স্রাবের রক্তের রং হলুদ ও লাল দেখা যেতো। আর আমরা কখনো তার (দু‘ পায়ের মাঝে) একটি পাত্র রেখে দিতাম। এ অবস্থায় তিনি সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।
Book 14 · Hadith 164 · #2474 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2037)