Sacrifice (Kitab Al-Dahaya)
- 1
। মিখনাফ ইবনু সুলাইম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘আরাফায় অবস্থান করছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেনঃ হে লোকসকল! নিশ্চয়ই প্রতিটি পরিবারের লোকদের উপর প্রতি বছর কুরবানী ও ‘আতীরাহ করা কর্তব্য। তিনি বললেন, তোমরা কি জানো, ‘আতীরাহ কি? আতীরাহ হলো, যাকে লোকেরা ‘রাজাবিয়াহ’ বলতে থাকে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আতীরাহ রহিত এবং এর হাদীসও রহিত।
Book 16 · Hadith 1 · #2786 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 2
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কুরবানীর দিনকে ঈদ উদযাপন করতে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। আল্লাহ এ দিনকে এ উম্মাতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্দিষ্ট করেছেন। এক ব্যক্তি বললো, আপনার অভিমত ব্যক্ত করুন, আমি (আমার প্রতিপালিত) দুগ্ধবতী বা মালবাহী পশু ছাড়া অন্য পশু না পেলে কি তা দিয়েই কুরবানী করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তুমি তোমার চুল ও নখ কাটবে, গোঁফ ছোট করবে এবং নাভীর নীচের লোম কাটবে। এ কাজগুলোই আল্লাহর নিকট তোমার পূর্ণাঙ্গ কুরবানী।
Book 16 · Hadith 2 · #2787 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 3
। তাবিঈ হানাশ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে দু’টি দুম্বা কুরবানী করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ব্যাপার কি (দু’টি কেন)? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ওয়াসিয়্যাত করেছেন, আমি যেন তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করি। তাই তাঁর পক্ষ থেকেও কুরবানী করছি।
Book 16 · Hadith 3 · #2788 · Daif, Daif, Daif, Daif - 4
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার কুরবানীর পশু রয়েছে, সে যেন যিলহজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।
Book 16 · Hadith 4 · #2789 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih Muslim (1977) - 5
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দুম্বা কুরবানী করতে নির্দেশ করেন, যার শিং নিখুঁত, হাঁটা কালো, দেখতে কালো এবং শোয়াও কালো (অর্থাৎ পা, চোখ, পেট সবই কালো রঙের)। তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! ছুরি দাও। এরপর বললেনঃ এটা পাথরে ঘষে ধারালো করো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। তিনি ছুড়ি নিলেন, দুম্বাকে ধরে কাৎ করে শোয়ান এবং যবাহ করার সময় বললেনঃ ‘‘বিসমিল্লাহ; হে আল্লাহ! আপনি এ কুরবানী মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবার ও তার উম্মাতের পক্ষ থেকে কবূল করুন।’’ অতঃপর তিনি দুম্বাটি কুরবানী করলেন।
Book 16 · Hadith 5 · #2790 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih Muslim (1967) - 6
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সাতটি উটকে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় কুরবানী করেন এবং মদীনাতে শিংযুক্ত দু’টি ধূসর বর্নের দুম্বা কুরবানী করেন।
Book 16 · Hadith 6 · #2791 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1712) - 7
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ শিংওয়ালা ধূসর বর্ণের দু’টি দুম্বা কুরবানী করেন। যাবাহ করার সময় তিনি ‘বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পাঠ করেন, এবং তিনি তাঁর পা পশুর ঘাড়ের উপর রাখেন।
Book 16 · Hadith 7 · #2792 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3799) - 8
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন দু’টি ধূসর বর্ণের শিংবিশিষ্ট ও খাসী করা দুম্বা যবাহ করেন। তিনি দুম্বা দু’টিকে কিবলাহমুখী করে শুইয়ে বলেনঃ إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ بِاسْمِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ অতঃপর তিনি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যবাহ করেন।
Book 16 · Hadith 8 · #2793 · Daif, Daif, Daif - 9
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন শিংবিশিষ্ট মোটাতাজা দুম্বা কুরবানী করেছেন যার চোখ, মুখ ও পা কালো বর্ণের ছিলো।
Book 16 · Hadith 9 · #2794 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 10
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ‘মুসিন্নাহ’ ছাড়া যবাহ করবে না। তবে তা সংগ্রহ করা তোমাদের জন্য কষ্টকর হলে মেষের জাযা‘আহ যবাহ করতে পারো।
Book 16 · Hadith 10 · #2795 · Daif, Daif, Daif, Sahih Muslim (1963) - 11
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কুরবানীর পশু বণ্টন করেন। তিনি আমাকে অল্প বয়স্ক একটা জাযা‘আহ দেন। যায়িদ (রাঃ) বলেন, আমি সেটি নিয়ে তাঁর নিকট গিয়ে বলি, এটা তো জাযা‘আহ। তিনি বললেনঃ এটাই কুরবানী করো। সুতরাং আমি তা-ই কুরবানী করলাম।
Book 16 · Hadith 11 · #2796 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 12
। ‘আসিম ইবনু কুলাইব (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (কুলাইব) বলেন, ‘আমরা বনী সুলাইম গোত্রের মুজাশি নামক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবীর সাথে ছিলাম। একবার বকরীর মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে তিনি ঘোষককে নির্দেশ দেয়ায় সে ঘোষণা করলো- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এক বছর বয়সের ছাগলের স্থানে ছয়মাস বয়সের ভেড়া যথেষ্ট। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি মাসঊদের পুত্র মুজাশি (রাঃ)।
Book 16 · Hadith 12 · #2797 · Sahih, Sahih, Sahih - 13
। আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন ঈদের সালাতের পর আমাদের সম্মুখে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করলো, আমাদের মতো কুরবানী করলো, তার কুরবানী ঠিক হলো। আর যে ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানী করলো, তা (কুরবানী না হয়ে) গোশত খাওয়ার বকরী হলো। আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি তো সালাতের জন্য বের হওয়ার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছিলাম, আজ পানাহারের দিন। তাই তাড়াহুড়া করে কুরবানীর গোশত নিজে খেয়েছি, পরিবার পরিজন এবং প্রতিবেশীদেরও খেতে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা গোশত খাওয়ার বকরী হলো। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন, আমার কাছে ছয়মাস পূর্ণ বয়সের একটি ছাগল আছে যা আমার গোশত খাওয়ার বকরীর চেয়ে উত্তম। এটা কি আমার কুরবানীর স্থান পূর্ণ করবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্য এরূপ করা জায়িয হবে না।
Book 16 · Hadith 13 · #2798 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (983) Sahih Muslim (1961) - 14
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বুরদাহ নামক আমার এক খালু একদা ঈদের সালাতের আগেই কুরবানী করে ফেলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার বকরী গোশত খাওয়ার বকরী হয়েছে (কুরবানীর বকরী হয়নি)। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে ছয় মাস বয়সের একটি ছাগল আছে। তিনি বললেনঃ সেটা কুরবানী করো, তবে তোমার পর আর কারো জন্য এরূপ করা সঠিক হবে না।
Book 16 · Hadith 14 · #2799 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5556) Sahih Muslim (1961) - 15
। ‘উবাইদ ইবনু ফাইরূয (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, কোন ধরণের পশু কুরবানী করা জায়িয নয়? তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ান। আমার আঙ্গুলগুলো তাঁর আঙ্গুলের চেয়ে তুচ্ছ এবং আমার আঙ্গুলগুলের গিরাগুলো তাঁর আঙ্গুলের গিরার চেয়ে তুচ্ছ। তিনি আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেনঃ চার ধরণের দোষযুক্ত পশু কুরবানী করা জায়িয নয়। অন্ধ যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন- যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া-যার খোঁড়ামী সুস্পষ্ট, বৃদ্ধ ও দুর্বল-যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে। ‘উবাইদ (রহঃ) বলেন, আমি বলি, বয়সের কোনো দোষ থাকাও আমি অপছন্দ করি। আল-বারাআ (রাঃ) বলেন, তুমি যা অপছন্দ করো তা বর্জন করবে, তবে অন্যের জন্য তা নিষিদ্ধ করবে না। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এমন দুর্বল যে, তার হাড়ের মজ্জা নেই।
Book 16 · Hadith 15 · #2800 · Daif, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 16
। ইয়াযীদ মিসরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উতবাহ ইবনু আবদ আস-সুলামীর নিকট এসে বলি, হে ওয়ালীদের পিতা! আমি কুরবানীর পশুর খোঁজে বের হই, কিন্তু কোনো পশুই পছন্দ হয়নি। একটি বকরী পছন্দ হয়েছিল, তার একটি দাঁত না থাকায়, সেটাও বাদ দিয়েছি। এখন এ বিষয়ে আপনি আমাকে পরামর্শ দিন। ‘উতবাহ বলেন, তুমি আমার কাছে সেটা নিয়ে আসনি কেন? আমি বলি, সুবহানাল্লাহ! দাঁতপড়া পশু কুরবানী আপনার জন্য বৈধ, অথচ আমার জন্য বৈধ নয়! তিনি বললেন, হ্যাঁ। তুমি সন্দিহান হয়েছো কিন্তু আমি সন্দিহান হইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কানকাটা, শিংবিহীন, অন্ধ, দুর্বল এবং পা ভাঙ্গা পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। মুসফারা হচ্ছে ঐ পশু যার কানকাটার ছিদ্র স্পষ্ট দেখা যায়। মুস্তাসালা হলো ঐ পশু যার শিং গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে। বাখকা হলো, যে পশুর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছে। মুশায়্যি‘আহ হলো, যে পশু দুর্বলতার কারণে মেষের সাথে সাথে চলতেও অক্ষম। কাসরা হলো ঐ পশু যার পা ভাঙ্গা।
Book 16 · Hadith 16 · #2801 · Daif, Daif, Daif - 17
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করেছেন ‘আমরা যেন কুরবানীর প্রাণীর চোখ-কান ভালভাবে দেখে নেই। ‘আমরা যেন এমন পশু কুরবানী না করি যা কানা বা অন্ধ, কানের অগ্র বা শেষভাগে অংশ কাটা; যার কানের পাশের দিক ফাঁড়া বা গোলাকার ছিদ্র রয়েছে। যুহাইর (রহঃ) বলেন, আমি আবূ ইসহাককে বলি, তিনি কান কাটার কথা উল্লেখ করেছেন কি না? তিনি বললেন, না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, মুকাবালাহ কি? তিনি বললেন, যার কানের একপাশে কাটা। আমি বলি, মুদাবারাহ কি? তিনি বললেন, যে পশুর কানের শেষের অংশ কাটা। আমি বলি, শারকা কি? তিনি বললেন, যার কান ছিদ্র করা হয়েছে। আমি বলি, খারকা কি? তিনি বললেন, যে পশুর কান সম্পূর্ণ কাটা।
Book 16 · Hadith 17 · #2802 · Daif, Daif, Daif - 18
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কান কাটা এবং শিং ভাঙ্গা পশু দ্বারা কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী জুরাই সাদূস গোত্রীয় এবং বাসরাহ নিবাসী। তার থেকে কাতাদাহ (রহঃ) ছাড়া কেউই হাদীস বর্ণনা করেননি।
Book 16 · Hadith 18 · #2803 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Hasan - 19
। কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, আ‘দাব কোন ধরণের পশু? তিনি বলেন, যে পশুর কান বা শিং অর্ধেক বা ততোধিক ভাঙ্গা বা কাটা।
Book 16 · Hadith 19 · #2804 · Maqtu, Maqtu, Sahih, Isnaad Sahih - 20
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তামাত্তু হজ (হজ্জ) করতাম এবং সাতজনে মিলে একটি গরু কুরবানী করতাম। অনুরূপভাবে একটি উটেও সাতজন শরীক হয়ে কুরবানী করেছি।
Book 16 · Hadith 20 · #2805 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1318) - 21
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (একটি) গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং (একটি) উট সাতজনের পক্ষ থেকে (কুরবানী করা যাবে)।
Book 16 · Hadith 21 · #2806 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 22
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুদায়বিয়াতে সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছি।
Book 16 · Hadith 22 · #2807 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1318) - 23
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল আযহার দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ঈদগাহে উপস্থিত হলাম। তিনি খুৎবা শেষে মিম্বার থেকে নামলেন। একটি বকরী আনা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজ হাতে যবাহ করেন এবং বলেনঃ ‘‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। এই কুরবানী আমার ও আমার উম্মাতের যারা কুরবানী করতে অক্ষম তাদের পক্ষ থেকে।’’
Book 16 · Hadith 23 · #2808 · Sahih, Sahih, Daif - 24
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কুরবানীর পশু ঈদগাহে যবাহ করতেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন।
Book 16 · Hadith 24 · #2809 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 25
। ‘আমরাহ বিনতু ‘আব্দুর রাহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে জঙ্গলে বসবাসকারী কিছু লোক এসে ঈদুল আযহার জামা‘আতে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তিন দিনের খাওয়ার পরিমাণ গোশত রেখে বাকী গোশত সাদাকাহ করে দাও। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইতিপূর্বে লোকেরা তো তাদের কুরবানী (গোশত) দ্বারা (অনেকদিন) সুবিধা ভোগ করতো। তারা চর্বি জমা করে রাখতো এবং চামড়া দিয়ে পানির মশক বানাতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরূপ বলা অর্থ কি? তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কুরবানীর গোশত তিন দিনের অধিক জমা রাখতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সময় তোমাদের নিকট কিছু গরীব লোক এসেছিল বিধায় আমি তোমাদেরকে এরূপ নিষেধ করেছিলাম। কাজেই এখন তোমরা তা খাও, সাদাকাহ করো এবং জমা করে রাখো।
Book 16 · Hadith 25 · #2810 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1971) - 26
। নুবাইশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমরা তোমাদেরকে তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যাতে গোশত তোমাদের সকলের নিকট পৌঁছে যায়। আল্লাহ এখন তোমাদের দারিদ্র মোচন করেছেন। কাজেই এখন তোমরা তা খাও, জমা করে রাখো এবং সাদাকাহ করে নেকী অর্জন করো। জেনে রাখো, এ দিনগুলো পানাহারের দিন এবং মহান আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।
Book 16 · Hadith 26 · #2811 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 27
। সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে কুরবানী করেন এবং বলেনঃ হে সাওবান! আমাদের জন্য বকরীর গোশতগুলো তৈরী করো। সাওবান (রাঃ) বলেন, মদীনায় পৌঁছা পর্যন্ত তাঁকে এ গোশত খাওয়াতে থাকি।
Book 16 · Hadith 27 · #2812 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1975) - 28
। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দু’টি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে শুনেছি। এক. মহান আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছেন। সুতরাং তোমরা হত্যা করার সময় সঠিক পন্থায় (দ্রুত) হত্যা করবে। দুই. তোমরা যখন যবাহ করবে, দয়া সহকারে উত্তমরূপে যবাহ করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি উত্তমরূপে ধার, দেয় এবং যবাহকৃত পশুকে আরাম দেয়।
Book 16 · Hadith 28 · #2813 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1955) - 29
। হিশাম ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস (রাঃ)-এর সাথে আল-হাকাম ইবনু আইয়ূবের নিকট যাই। সেখানে গিয়ে দেখা গেলো, কতিপয় যুবক একটি মুরগীকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে তীর ছুঁড়ছে। তখন আনাস (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুকে চাঁদমারীর লক্ষ্যবস্তু বানাতে নিষেধ করেছেন।
Book 16 · Hadith 29 · #2814 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5513) Sahih Muslim (1956) - 30
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যে পশুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয় তোমরা তার গোশত খাও’’[সূরা আল-আন‘আমঃ ১১৮] ‘‘যে পশুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তার গোশত খেয়ো না’’[সূরা আল-আন‘আমঃ ১২১] এর হুকুম রহিত হয়ে গেছে। এটি আহলে কিতাবের যবাহ করা পশুর ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়। (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘আহলে কিতাবের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্যও তাদের জন্য হালাল’’[সূরা আল-মায়িদাহঃ]
Book 16 · Hadith 30 · #2815 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 31
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘শয়তানরা তাদের সঙ্গীদের মনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্ভব করে’’- এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, শয়তানের সহযোগীরা বলতো, আল্লাহর যবাহ করা (মরা জন্তু) তোমরা খাও না, অথচ তোমরা নিজেরা যা যবাহ করছো তা খাও! অতঃপর আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘‘যে পশুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তার গোশত খেয়ো না।’’... শেষ পর্যন্ত (সূরা আল-আন‘আমঃ)
Book 16 · Hadith 31 · #2816 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 32
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ইয়াহুদীরা এসে বললো, ‘আমরা নিজেরা যে পশু হত্যা করি তা খেয়ে থাকি আর আল্লাহ যা হত্যা করেন তা খাই না। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন, ‘‘যে পশুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তার গোশত খেয়ো না’’... আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা আল-আন‘আমঃ)
Book 16 · Hadith 32 · #2817 · Munkar, Munkar, Daif - 33
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐসব যবাহকৃত পশুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন যেগুলো আরবের লোকেরা নিজেদের অহংকার প্রকাশার্থে যবাহ করে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অধস্তন বর্ণনাকারী গুনদার এটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ রাইহানার নাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাতার।
Book 16 · Hadith 33 · #2818 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif - 34
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আমরা আগামীকাল সকালে শত্রুর মোকাবিলা করবো। কিন্তু আমাদের কাছে ছুরি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন বস্তু দ্বারা দ্রুত যবাহ করো যা দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, আল্লাহর নাম নিয়ে যবাহ করো এবং তা খাও, কিন্তু দাঁত অথবা নখ দিয়ে যবাহ করো না। আমি এর কারণ তোমাদের বলছি। দাঁত হচ্ছে হাড় আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি। সৈন্যদের কিছু লোক সামনে অগ্রসর হয়ে কিছু গানীমাত লাভ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দিকে ছিলেন। তারা গোশতের হাড়ি চুলায় বসালো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ডেগের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক গোশতের হাড়িগুলো উপুড় করে ফেলে দেয়া হলো। তিনি তাদের মধ্যে গানীমাত বণ্টন করলেন এবং একটি উটকে দশটি বকরীর সমান ধরলেন। দলের মধ্যকার একটি উট পালিয়ে যায়। তখন তাদের নিকট ঘোড়া ছিলো না। এক লোক (উটকে লক্ষ্য করে) তীর ছুঁড়লে মহান আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ পশুর মধ্যেও পালাতে তৎপর পশু আছে, বা বন্য পশুর মধ্যেও থাকে। সুতরাং (যে পশু পালাবে) তোমরা সেটির সাথে এরূপ আচরণ (তীর নিক্ষেপ) করবে।
Book 16 · Hadith 34 · #2819 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5498) Sahih Muslim (1968) - 35
। মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ান অথবা সাফওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দু’টি খরগোশ শিকার করে চকমকি পাথর দিয়ে যবাহ করলাম। এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে এর গোশত খেতে অনুমতি দিলেন।
Book 16 · Hadith 35 · #2820 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 36
। ‘আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বনূ হারিসাহর জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন, সে (লোকটি) উহুদ পাহাড়ের এক উপত্যকায় একটি মাদী উট চড়াচ্ছিল। এমতাবস্থায় উটটি মারা যাওয়ার উপক্রম হলে সে যবাহ করার জন্য কোনো অস্ত্র না পেয়ে একটি পেরেক নিয়ে উটের বুকের উপরের অংশে ঢুকিয়ে দিয়ে রক্ত প্রবাহিত করলো। পরে লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি তাকে এর গোশত খাওয়ার অনুমতি দিলেন।
Book 16 · Hadith 36 · #2821 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 37
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো হাতে শিকার আসলে তখন কাছে ছুরি না থাকলে সে কি চকমকি পাথর ও লাঠির ধারালো পার্শ্ব দিয়ে তা যবাহ করবে, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেনঃ যেভাবে সম্ভব রক্ত প্রবাহিত করো এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো।
Book 16 · Hadith 37 · #2822 · Sahih, Sahih, Hasan - 38
। আবুল ‘আশরাআ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যবাহ কি শুধু কণ্ঠনালী বা সিনার উপর করতে হবে? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি তার রানে (বল্লমের) আঘাত করতে পারলে তা তোমার জন্য যথেষ্ট। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এরূপ কেবল সংকটাপন্ন অবস্থা বা বন্য প্রাণীর বেলায় প্রযোজ্য। অন্যথায় নয়।
Book 16 · Hadith 38 · #2823 · Daif, Munkar, Daif, Daif - 39
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়তানের নিয়মে যবাহ করতে নিষেধ করেছেন। ইবনু ঈসা বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ ‘শারীতাতিশ শাইতান হলোঃ যবাহের সময় রগ না কেটে কেবল শরীরের চামড়া তুলে পশুকে রেখে দেয়া, ফলে অধিক কষ্ট পেয়ে পশুটি মারা যায়।
Book 16 · Hadith 39 · #2824 · Daif, Daif, Daif, Daif - 40
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যবাহকৃত পশুর পেটের বাচ্চা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমাদের ইচ্ছে হলে তাও খেতে পারো। মুসাদ্দাদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘আমরা বলি, হে আল্লাহ রাসূল! ‘আমরা উষ্ট্রী, গাভী ও বকরী যবাহ করার পর কখনো এর পেটে ভ্রূণ পেয়ে থাকি। ‘আমরা এ ভ্রূণ ফেলে দিবো নাকি খাবো? তিনি বললেনঃ ইচ্ছা হলে খেতে পারো। কেননা মাকে যবাহ করাই এর যবাহের অন্তর্ভুক্ত।
Book 16 · Hadith 40 · #2825 · Sahih, Sahih, Daif - 41
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পশুকে যবাহ করাই তার পেটের বাচ্চার যবাহের জন্য যথেষ্ট।
Book 16 · Hadith 41 · #2826 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 42
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলী যুগের কাছাকাছি একটি (নও মুসলিম) দল আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে। ‘আমরা জানি না তারা আল্লাহর নাম নিয়ে তা যবাহ করেছে কি না। ‘আমরা কি এ গোশত খাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তা খাও।
Book 16 · Hadith 42 · #2827 · Sahih, Sahih, Sahih - 43
। আবুল মালীহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নুবাইশাহ (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে বললো, ‘আমরা জাহিলী যুগে রজব মাসে ‘আতীরাহ করতাম। এখন এ বিষয়ে আপনি আমাদের কি নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহর নামে যে কোনো মাসেই যবাহ করতে পারো, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দাও, নুবাইশাহ (রাঃ) বলেন, লোকটি আবার বললো, ‘আমরা জাহিলী যুগ ফারা‘আ করতাম, এখন এ বিষয়ে আপনি আমাদের কি আদেশ দেন? তিনি বললেনঃ প্রত্যেক বিচরণকারী পশুতে ফারা‘আ রয়েছে। তোমরা তোমাদের পশুদেরকে খাদ্য দিয়ে থাকো। এমন কি তা বোঝা বহনের উপযোগী হয়। বর্ণনাকারী নাসর (রহঃ) বলেন, হাজীদের বহনের উপযোগী হলে একে যবাহ করে তার গোশত তুমি সাদাকাহ করবে। খালিদ (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা, আবূ কিলাবাহ মুসাফিরের জন্য সাদাকাহ করতে বলেছেন। কেননা এটাই উত্তম। খালিদ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ কিলাবাহকে বলি, কয়টি বিচরণকারী পশুতে একটি ফারা‘আ? তিনি বললেন, একশোটি
Book 16 · Hadith 43 · #2828 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 44
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইসলামে কোনো ফারা‘আ নেই এবং ‘আতীরাহও নেই।
Book 16 · Hadith 44 · #2829 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5474) Sahih Muslim (1976) - 45
। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফারা‘আ হলো পশুর ঐ প্রথম বাচ্চা, যা তারা দেবতার উদ্দেশ্যে যবাহ করতো।
Book 16 · Hadith 45 · #2830 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Sahih, Daif - 46
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রতি পঞ্চাশটি বকরীতে একটি বকরী ‘আতীরাহ করতে আদেশ করেছেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, কতিপয় লোকের উক্তি হচ্ছে, ‘ফারা‘আ হলো উটের প্রথম বাচ্চা, যা জাহিলী যুগের লোকেরা তাদের দেবতাদের সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতো। তারা এর গোশত খেতো এবং এর চামড়া গাছে ঝুলিয়ে রাখতো। ‘আতীরাহ হচ্ছে রজব মাসের প্রথম দশ দিনের কুরবানী।
Book 16 · Hadith 46 · #2831 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 47
। উম্মু কুরয আল-কা‘বিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ পুত্রের জন্য একই ধরণের দু’টি এবং কন্যার জন্য একটি বকরী ‘আক্বীকাহ করতে হয়। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে বলতে শুনেছি, ‘মুতাকাফিয়ান অর্থ হলো সমবয়স্ক বা এর কাছাকাছি।
Book 16 · Hadith 47 · #2832 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 48
। উম্মু কুরয (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা পাখিকে তার বাসায় নিরাপদে থাকতে দিবে। আমি তাঁকে এও বলতে শুনেছিঃ ‘আক্বীকাহ্ ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী যবাহ করবে। আক্বীকাহ্ খাসী বা বকরী দ্বারা দেয়াতে কোনো অসুবিধা নেই।
Book 16 · Hadith 48 · #2833 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 49
। উম্মু কুরয (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (আক্বীকাহ্) ছেলের পক্ষ থেকে সমবয়স্ক দু’টি বকরী এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একট বকরী। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এটিই আসল হাদীস। আর সুফিয়ানের হাদীস সন্দেহযুক্ত।
Book 16 · Hadith 49 · #2834 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 50
। সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আক্বীকাহর সাথে বন্ধক থাকে। সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আক্বীকাহ করতে হয়, মাথা মুড়াতে হয় এবং (মাথায়) রক্ত মাখাতে হয়। কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, রক্ত কিভাবে মাখতে হয়? তিনি বলেন, আক্বীকাহর পশু যবাহ করে তা থেকে একটু পশম দিয়ে তাতে রক্ত মেখে তা বাচ্চার মাথায় নরম তালুতে রেখে দিবে। অতঃপর মাথা থেকে সূতার ন্যায় রক্ত গড়িয়ে পড়লে মাথা ধুইয়ে তা ন্যাড়া করবে। আবূ দাঊদ বলেন, ‘রক্তমাখার’ শব্দটি হাম্মামের ধারণামূলক, অন্যরা তা বর্জন করেছেন। আবূ দাঊদ বলেন, এখন এ হাদীস আমলযোগ্য নয়।
Book 16 · Hadith 50 · #2835 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 51
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আক্বীকাহর বিনিময়ে বন্ধক থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে আক্বীকাহ করতে হয়, মাথার চুল ফেলতে হয় এবং নাম রাখতে হয়। আবূ দাঊদ বলেন, ‘ইউদমা’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইউসাম্মা’ শব্দটি অধিক সঠিক।
Book 16 · Hadith 51 · #2836 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 52
। সালমান ইবনু ‘আমির আদ-দাব্বী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতিটি সন্তানের সাথে আক্বীকাহ রয়েছে। সুতরাং তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো।
Book 16 · Hadith 52 · #2837 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5471، 5472) - 53
। হাসান বাসরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলতেন, কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা দ্বারা মাথা মুন্ডানোকে বুঝানো হয়েছে।
Book 16 · Hadith 53 · #2838 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif - 54
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে একটি করে দুম্বা আক্বীকাহ করেছেন।
Book 16 · Hadith 54 · #2839 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 55
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতার ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আক্বীকাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ কষ্ট পছন্দ করেন না। হয় তো সেজন্যই তিনি আক্বীকাহকে কষ্ট নামকরণ করেছেন। তিনি বলেনঃ যার কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে, সে যেন তার পক্ষ থেকে আক্বীকাহ করে। সে যেন ছেলের পক্ষ থেকে সমবয়স্ক দু’টি বকরী এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী যবাহ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফারা‘আ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ ফারা‘আ বৈধ। তোমরা যদি একে এ সময় পর্যন্ত ছেড়ে দাও যে, তা বয়স্ক, শক্তিশালী, ইবনু মাখাদ কিংবা ইবনু লাবূন হয়, তারপর তা কোনো বিধবাকে দিয়ে দাও বা আল্লাহর পথে বাহন হিসেবে প্রদান করো, তাহলে এ কাজ একে যবাহ করে এর গোশত ও লোম চটচটে করার চেয়ে উত্তম হবে। অথবা তোমার উটকে ভারাক্রান্ত করা ও তোমার দুধের পাত্র উপুর করে দেয়ার চেয়ে উত্তম হবে।
Book 16 · Hadith 55 · #2840 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 56
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমাদের কারো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে একটি বকরী যবাহ করতো এবং শিশুর মাথায় ঐ পশুর রক্ত মেখে দিতো। অতঃপর আল্লাহ যখন দীনে ইসলাম আনলেন, ‘আমরা বকরী যবাহ করতাম, শিশুর মাথা মুন্ডন করতাম এবং তাতে যা‘ফরান মাখতাম।
Book 16 · Hadith 56 · #2841 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan