Shares of Inheritance (Kitab Al-Fara'id)
- 1
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জ্ঞান তিন প্রকার। এগুলো ছাড়া যা আছে তা অতিরিক্ত। (১) মুহকাম আয়াতসমূহ (২) প্রতিষ্ঠিত হাদীস (৩) ন্যায্যভাবে সম্পত্তি বণ্টনের জ্ঞান।
Book 19 · Hadith 1 · #2883 · Daif, Daif, Daif, Daif - 2
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে দেখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাঃ) পায়ে হেটে উপস্থিত হলেন। তখন আমি বেহুঁশ থাকায় তাঁর সাথে কথা বলতে পারিনি। তিনি উযু করলেন এবং তাঁর উযুর পানি আমার গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পত্তি কি করবো? আমার শুধু কয়েকটি বোন আছে। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের সম্পর্কের ফতোয়া দিচ্ছেন ...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ)
Book 19 · Hadith 2 · #2884 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6723) Sahih Muslim (1616) - 3
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন আমার অধীনে আমার সাতটি বোন ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি আমার মুখমন্ডলে ফুঁ দিলেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বোনদের জন্য আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করবো কি? তিনি বললেনঃ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ তাদেরকে অনুগ্রহ করো। আমাকে ছেড়ে চলে যাবার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে জাবির! এ রোগে তুমি মারা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমার বোনদের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তোমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন। অধস্তন বর্ণনাকারী বলেন, জাবির (রাঃ) বলতেন, আমার ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ সম্পর্কের ফতোয়া দিচ্ছে...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ১৭৬।)
Book 19 · Hadith 3 · #2885 · Sahih, Sahih, Sahih - 4
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘কালালাহ’ সম্পর্কিত আয়াত সবশেষে অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ সম্পর্কের ফতোয়া দিচ্ছেন...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ)
Book 19 · Hadith 4 · #2886 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4605) Sahih Muslim (1618) - 5
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘‘লোকেরা তোমাকে কালালাহ সম্পর্কে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে।’’ কালালাহ কি? তিনি বললেনঃ যে আয়াত গরমকালে অবতীর্ণ হয়েছে তাই তোমার জন্য যথেষ্ট (অর্থাৎ সূরা আন-নিসার ১৭৬ নং আয়াত)। আমি আবূ ইসহাককে বলি, ‘কালালাহ’ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে সন্তানহীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ, লোকদের ধারণা এরূপই।
Book 19 · Hadith 5 · #2887 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 6
। হুযাইল ইবনু শুরাহবীল আল-আওদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) ওসালমান ইবনু রবী‘আহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে উভয়কে কন্যা, পুত্রের কন্যা ও সহোদর বোনের মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তারা উভয়ে বললেন, মৃতের কন্যা অর্ধেক পাবে এবং সহোদর বোন অর্ধেক পাবে। তারা পুত্রের কন্যা (নাতনীকে) উত্তরাধিকার করেননি। (তারা বললেন) তুমি ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-কে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারো। হয় তো তিনিও আমাদের মতই বললেন। লোকটি তার নিকট এসে প্রশ্ন করলো এবং তাকে তাদের কথাও জানালো। তিনি বললেন, (যদি ঐরূপ অভিমত সমর্থন করি) তবে তো আমি পথভ্রষ্ট হবো এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকবো না। আমি এ বিষয়ে সেই ফায়সালাই দিবো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। মেয়ে পাবে অর্ধেক এবং পুত্রের কন্যা (নাতনী) পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ যেন (উভয়টি মিলে) দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়। আর অবশিষ্ট (এক-তৃতীয়াংশ) অংশ পাবে সহোদর বোন।
Book 19 · Hadith 6 · #2888 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6736) - 7
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বেরিয়ে আল-আসওয়াফ নামক স্থানে এক আনসারী মহিলার নিকট উপস্থিত হই। তখন ঐ মহিলা তার দু’টি মেয়ে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এরা সাবিত ইবনু কায়িস (রাঃ)-এর কন্যা। তিনি আপনার সাথে উহুদ যুদ্ধে যোগদান করে শহীদ হন। এদের চাচা এদের সমস্ত সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে এবং এদের জন্য কিছুই রাখেনি। হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? আল্লাহর শপথ! এদের সম্পত্তি না থাকলে এদেরকে বিবাহ দেয়া সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদের ফায়সালা আল্লাহই দিবেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইতিমধ্যে সূরা আন-নিসার আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদেরকে বিধান দিচ্ছেন...।’’[আয়াত ১১-১৪] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ঐ মহিলা ও তার প্রতিপক্ষকে আমার নিকট ডেকে আনো। তিনি মেয়ে দু’টির চাচাকে বললেনঃ সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ এদেরকে দিয়ে দাও, এদের মাকে আট ভাগের এক ভাগ এবং অবশিষ্ট সম্পদ তোমার। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী বিশর ভুল করেছেন। আসলে মেয়ে দু’টি সা‘দ ইবনুল রবী‘ (রাঃ)-এর কন্যা। কারণ সা‘দ ইবনু কায়িস (রাঃ) শহীদ হন ইয়ামেমার যুদ্ধে।
Book 19 · Hadith 7 · #2889 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Daif - 8
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। সা‘দ ইবনুল রবী‘ (রাঃ)-এর স্ত্রী বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সা‘দ (রাঃ) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন এবং দু’টি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি অধিক সঠিক।
Book 19 · Hadith 8 · #2890 · Hasan, Hasan, Daif - 9
। আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) ইয়ামেনে অবস্থানকালে এক বোন ও এক কন্যার প্রত্যেককে মৃতের সম্পত্তির অর্ধেক অর্ধেক প্রদান করেছেন।
Book 19 · Hadith 9 · #2891 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6734) - 10
। কাবীসহ ইবনু যুয়াইব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক মৃতের নানী আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট এসে তার মীরাস চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে তোমার কোনো অংশ উল্লেখ নেই। আমার জানামতে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতেও কিছু উল্লেখ নেই। সুতরাং এখন তুমি চলে যাও এ বিষয়ে আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখি। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলে আল মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাকে ছয় ভাগের-এক ভাগ প্রদান করেছেন। তিনি বললেন, ঐ সময়ে তোমার সাথে অন্য কেউ ছিলো কি? আল-মুগীরাহ (রাঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর তিনিও আল-মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-এর অনুরূপ বললেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাকে ছয় ভাগের এক ভাগ প্রদানের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় জনৈক দাদী এসে তার মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তোমার উত্তরাধিকার সম্পর্কে আল্লাহর কিতাবে কিছু উল্লেখ নেই। প্রথমে প্রদত্ত নির্দেশ নানীর ব্যাপারে ছিলো। আর আমার নিজের পক্ষ থেকে মীরাসের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা সম্ভব নয়। সুতরাং তুমিও এক-ষষ্ঠাংশের বেশি পাবে না। যদি তোমরা দাদী-নানী উভয়ে জীবিত থাকো তাহলে তা ঐ এক-ষষ্ঠাংশ তোমাদের উভয়ের মধ্যে (অর্ধেক করে) ভাগ করা হবে। আর যদি উভয়ের মধ্যে কোনো একজন জীবিত থাকলে সে তা একাই পাবে।
Book 19 · Hadith 10 · #2892 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Sahih - 11
। ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদী ও নানীর জন্য এক-ষষ্ঠংশ নির্ধারণ করেছেন; যদি মৃতের মা জীবিত না থাকে।
Book 19 · Hadith 11 · #2893 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 12
। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, আমার পৌত্র মারা গেছে। এখন আমি কি তার মীরাস পাবো? তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। সে চলে যাওয়ার সময় তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি আরো এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। অতঃপর সে যখন আবার চলে যাচ্ছিল তাকে ডেকে বললেনঃ তুমি অতিরিক্ত ষষ্ঠাংশ উপহার হিসেবে পেয়েছো। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, এটা সুস্পষ্ট জানা নেই কখন সে এক-ষষ্ঠাংশ পায় (আর কখন এক-তৃতীয়াংশ)। কাতাদাহ বলেন, দাদার সর্বনিম্ন প্রাপ্ত অংশ হচ্ছে এক-ষষ্ঠাংশ।
Book 19 · Hadith 12 · #2894 · Daif, Daif, Daif - 13
। ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদার মীরাস কতটুকু করেছেন তা তোমাদের মধ্যে কার জানা আছে? মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) বললেন, আমি অবহিত আছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ওয়ারিসের সাথে? মা‘কিল (রাঃ) বললেন, তা আমি জানি না। তিনি (‘উমার) বললেন, তা না জানলে তোমার কথায় কোনো লাভ নেই।
Book 19 · Hadith 13 · #2895 · Sahih, Sahih, Daif - 14
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (মৃতের) সম্পদ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আহলে ফারায়িয়ের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এদেরকে বণ্টনের পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা মৃতের নিকটাত্মীয় পুরুষ ব্যক্তি পাবে।
Book 19 · Hadith 14 · #2896 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6732) Sahih Muslim (1615) - 15
। আল-মিকদাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি ঐ ব্যক্তির যিম্মাদার যে সন্তান ও ঋণ রেখে মারা যায়। তিনি কখনো বলেছেনঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ‘তার যিম্মাদার।’ কেউ ধন-সম্পদ রেখে গেলে তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। যার ওয়ারিস নেই আমি তার ওয়ারিস। আমি তার রক্তপণ আদায় করবো। যার কোনো ওয়ারিস নেই, মামা তার ওয়ারিস, সে রক্তপণ আদায় করবে এবং তার ওয়ারিস হবে।
Book 19 · Hadith 15 · #2897 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 16
। আল-মিকদাম আল-কিনদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি প্রত্যেক মু‘মিনের জন্য তার নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি ঋণ বা সন্তান রেখে মারা যাবে তা আমার দায়িত্বে থাকবে। আমি হবো তার সম্পদের উত্তরাধিকারী এবং তার বন্দী মুক্ত করবো। যার ওয়ারিস নেই মামা তার ওয়ারিস হবে। সে তার সম্পদের অধিকারী হবে এবং তার বন্দী মুক্ত করবে। আবূ দাঊদ বলেন ‘যাই‘আ’ শব্দের অর্থ সন্তান।
Book 19 · Hadith 16 · #2898 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Hasan - 17
। আল-মিকদাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যার কোনো ওয়ারিস নেই আমি তার ওয়ারিস হবো। আমি তার বন্দী মুক্ত করবো এবং তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবো। যার কোনো ওয়ারিস নেই, মামা তার ওয়ারিস। সে তার বন্দী মুক্ত করবে এবং তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে।
Book 19 · Hadith 17 · #2899 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 18
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি মুক্তদাস কিছু জিনিস রেখে মারা গেলো। তার কোনো সন্তান বা আত্মীয় না থাকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার সম্পদ তার গ্রামের কোনো লোককে প্রদান করো। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখানে তার এলাকার কেউ আছে কি? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাকে এর পরিত্যক্ত বস্তু প্রদান করো।
Book 19 · Hadith 18 · #2900 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 19
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আয্দ গোত্রের এক ব্যক্তির কিছু সম্পদ আমার কাছে আছে। আমি ঐ বংশের এমন কোনো লোক পাইনি, যাকে তা হস্তান্তর করতে পারি। তিনি বললেনঃ দেখো কোনো আয্দীকে এক বছর পর্যন্ত খুঁজে পাও কি না। পরে লোকটি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই মাল হস্তান্তর করার মতো কোনো লোক আমি আযদ গোত্রে পাইনি। তখন তিনি বললেনঃ তুমি খুযা‘আ গোত্রের যে ব্যক্তির সাথে প্রথম সাক্ষাৎ পাবে তাকে এই মাল দিবে। সে যখন চলে যাচ্ছিল তিনি বললেনঃ লোকটিকে ডেকে আনো। সে তাঁর কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেনঃ খুজা‘আ গোত্রের কোনো বৃদ্ধ লোক খুঁজে তাকে এই মাল হস্তান্তর করো।
Book 19 · Hadith 19 · #2901 · Daif, Daif, Daif - 20
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খুজা‘আ গোত্রের এক লোক মারা গেলে তার পরিত্যক্ত জিনিসপত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হয়। তখন তিনি বলেনঃ তার কোনো ওয়ারিস বা আত্মীয় আছে কি না খোঁজ করো। কিন্তু তারা কোনো ওয়ারিস বা আত্মীয় খুঁজে পেলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মাল খুজা‘আ গোত্রের বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দিবে। অন্য বর্ণনায় আছে, খুজা‘আর কোনো বৃদ্ধ লোককে খোঁজ করো।
Book 19 · Hadith 20 · #2902 · Daif, Daif, Daif - 21
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একটি লোক মারা যায় এবং তার একজন মুক্তদাস ছাড়া অন্য কোনো উত্তরাধিকারী ছিলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তার কেউ আছে কি? লোকেরা বললো, তার মুক্তদাসটি ছাড়া আর কেউ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাল তাকে দিলেন।
Book 19 · Hadith 21 · #2903 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 22
। ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নারীরা তিন ব্যক্তির মীরাস পাবেঃ (১) তার মুক্তদাসের (২) তার কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর মীরাস এবং (৩) যে সন্তান সম্পর্কে সে লি‘আন করেছে।
Book 19 · Hadith 22 · #2904 · Daif, Daif, Daif, Daif - 23
। মাকহুল (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যভিচারের অপবাদে অভিযুক্ত নারীর সন্তানের উত্তরাধিকার তার মাকে করেছেন এবং তার (মায়ের) মৃত্যুর পর তার পরবর্তীগণ এর ওয়ারিস হবে।
Book 19 · Hadith 23 · #2905 · Sahih, Sahih, Daif - 24
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতার ও তার দাদার সূত্রে নবী থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
Book 19 · Hadith 24 · #2906 · Sahih, Sahih, Daif - 25
। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিম ব্যক্তি কাফিরের এবং কাফির ব্যক্তি মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।
Book 19 · Hadith 25 · #2907 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4282، 4283) Sahih Muslim (1614) - 26
। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হজে (হজ্জে) যাওয়ার পথে জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রাসূল! আগামীকাল সকালে কোথায় নামবেন? তিনি বললেনঃ ‘আক্বীল কি আমাদের জন্য কোনো মনযিল অবশিষ্ট রেখেছে? পুনরায় তিনি বললেনঃ ‘আমরা বনী কিনানাহর উপত্যকায় অবতরণ করবো; যেখানে বসে কুরাইশরা কুফরীর উপর অটল থাকার শপথ করেছিল- অর্থাৎ আল-মুহাস্সাব নামক জায়গায়। এখানেই বনী কিনানাহর লোকজন কুরাইশদেরকে বনী হাশিম গোত্রের বিরুদ্ধে ওয়াদাবদ্ধ করেছিল যে, তারা হাশিম গোত্রের সাথে কোনোরূপ বৈবাহিক সম্পর্ক গড়বে না, তাদের সাথে ব্যবসা করবে না এবং তাদেরকে কোনোরূপ সহযোগিতা করবে না।
Book 19 · Hadith 26 · #2908 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3058) Sahih Muslim (1351) - 27
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি ভিন্ন ধর্মের লোক পরস্পরের ওয়ারিস হয় না।
Book 19 · Hadith 27 · #2909 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 28
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একবার দুই সহোদর ভাই তাদের উত্তরাধিকারিত্ব নিয়ে ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া‘মুরের সম্মুখে ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। তাদের পিতা ইয়াহুদী অবস্থায় মারা যায়। তাদের একজন ছিলো মুসলিম, অপরজন ইয়াহুদী। অতঃপর তিনি (মু‘আয) মুসলিম ব্যক্তিকেও উত্তরাধিকারী করলেন। তিনি বললেন, আবুল আসওয়াদ আমাকে জানান যে, এক ব্যক্তি তাকে বলেছেন, মু‘আয (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ইসলাম বৃদ্ধি করে, কমায় না। তারপর মুসলিম ব্যক্তিকে উত্তরাধিকারী করেন।
Book 19 · Hadith 28 · #2910 · Daif, Daif, Daif, Daif - 29
। আবুল আসওয়াদ আদ-দীলী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ইয়াহুদীর পরিত্যক্ত সম্পদে ওয়ারিস হওয়ার বিষয়ে তার মুসলিম উত্তরাধিকারী মু‘আয (রাঃ)-এর নিকট আসে ... এরপর উপরের হাদীসের অনুরূপ মারফুভাবে।
Book 19 · Hadith 29 · #2911 · Daif, Daif, Daif - 30
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহিলী যুগে যে মীরাস বণ্টিত হয়েছে তা যার জন্য বণ্টিত হয়েছে তারই থাকবে। আর যে সম্পদ ইসলামী যুগে বণ্টন হবে তা ইসলামী নীতি অনুসারে বণ্টিত হবে।
Book 19 · Hadith 30 · #2912 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 31
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) মুক্ত করার জন্য একটি দাসী কেনার ইচ্ছা করলেন। বাঁদীর মালিক বললো, ‘আমরা তাকে আপনার নিকট এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, তার 'ওয়ালাআ' (মৃত্যুর পর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক) ‘আমরা হবো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি বলেনঃ সে তোমাকে এর থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। কারণ দাসীর সম্পদের মালিক তার মুক্তকারী হবে।
Book 19 · Hadith 31 · #2913 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2169) Sahih Muslim (1504) - 32
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুক্তদাসের পরিত্যক্ত সম্পদ ঐ ব্যক্তি পাবে যে মূল্য পরিশোধ করেছে এবং সদয় ব্যবহার করেছে।
Book 19 · Hadith 32 · #2914 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6754) - 33
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রিয়াব ইবনু হুযাইফাহ জনৈক মহিলাকে বিবাহ করে এবং তার গর্ভে তিনটি সন্তান জন্ম হয়। অতঃপর তাদের মা মারা গেলে তারা তার পরিত্যক্ত বাড়ি ও আযাদকৃত দাসের সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) ছিলেন তাদের আত্মীয়। পরবর্তী সময় তিনি তাদেরকে সিরিয়ায় প্রেরণ করেন। তারা সেখানে মৃত্যু বরণ করে। পরে ‘আমর ইবনুল ‘আস সেখানে যান। তখন ঐ মহিলার মুক্তদাস কিছু মালপত্র রেখে মারা যায়। মহিলার ভাইয়েরা আমরের বিরুদ্ধে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করলে ‘উমার (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পিতা বা পুত্র যে ওয়ালাআ সঞ্চয় করলো সেগুলো তার আসাবা পাবে। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) আমাকে একটি রায় লিখেন। এতে ‘আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আওফ, যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) ও অন্য এক লোক সাক্ষী হন। ‘আব্দুল মালিক যখন (৬৮৫ খৃঃ) খলীফা হলেন, তখন হিশাম ইবনু ইসমাঈল বা ইসমাঈল ইবনু হিশামের নিকট অনুরূপ একটি অভিযোগ করা হয়। তিনি বিষয়টি আব্দুল মালিকের নিকট পাঠিয়ে দেন। ‘আব্দুল মালিক বলেন, আমার মনে হয় এর ফায়সালা ইতিপূর্বে আমার নজড়ে পড়েছে। তিনি বলেন, তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর রায় অনুসারেই রায় দিলেন। আর সেই ওয়ালাআর সম্পত্তি এখনো আমাদের অধিকারে রয়েছে।
Book 19 · Hadith 33 · #2915 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 34
। তামীম আদ-দারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! (বর্ণনাকারী) ইয়াযীদের বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের হাতে ইসলাম কবূল করেছে তার ব্যাপারে কি বিধান? তিনি বললেনঃ ঐ মুসলিম ব্যক্তি তার জীবন ও মরণে ঘণিষ্ঠ বন্ধু।
Book 19 · Hadith 34 · #2916 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 35
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালাআ বিক্রয় এবং হেবা করতে নিষেধ করেছেন।
Book 19 · Hadith 35 · #2917 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2535) Sahih Muslim (1506) - 36
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শিশু ভূমিষ্ঠ হয়ে কান্নার শব্দ করে মারা গেলে তাকে ওয়ারিস গণ্য করবে।
Book 19 · Hadith 36 · #2918 · Sahih, Sahih, Daif - 37
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’[সূরা আন-নিসাঃ ৩৩] পূর্ব যুগের লোকেরা পারস্পরিক চুক্তি বা শপথের মাধ্যমে একে অপরের ওয়ারিস হতো, অথচ তাদের মধ্যে বংশীয় বা আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক থাকতো না। এ সুযোগ রহিত হয় সূরা আল-আনফালের এ আয়াত দ্বারাঃ ‘‘আল্লাহর বিধানে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রা একে অন্যের চেয়ে অধিক হকদার।’’
Book 19 · Hadith 37 · #2919 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 38
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে বর্ণিতঃ ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’[সূরা আন-নিসাঃ ৩৩] তিনি বলেন, মুহাজিরগণ হিজরাত করে মদীনায়হ আসার পর, আত্মীয়তার বন্ধন ছাড়াই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত ভ্রাতৃ-বন্ধনের ভিত্তিতে আনসারদের মীরাস পান। যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়রা যে সম্পদ রেখে যাবে, ‘আমরা এর প্রত্যেকটির হকদার নির্দিষ্ট করে দিয়েছি...[সূরা আন-নিসাঃ ৩৩] তিনি বলেন, ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’ উপরের আয়াত দ্বারা রহিত। কিন্তু সাহায্য, উপদেশ, ওসিয়াত ইত্যাদি করার নির্দেশ বহাল আছে, কিন্তু ওয়ারিস হওয়ার প্রথা বাতিল।
Book 19 · Hadith 38 · #2920 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4580) - 39
। দাঊদ ইবনুল হুসাইন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রবী‘র কন্যা এবং সা‘দের মায়ের নিকট কুরআন পড়তাম। সা‘দের মা ছিলেন ইয়াতীম। তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত হন। যখন আমি এ আয়াত পড়িঃ ‘‘যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো।’’ তিনি বললেন, ‘‘যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে...।’’ এ আয়াত পাঠ করো না। কেননা এ আয়াত আবূ বাকর (রাঃ) ও তার ছেলে ‘আব্দুর রাহমানের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। সে ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় আবূ বাকর (রাঃ) শপথ করে বলেন, সে তার উত্তরাধিকারী হবে না। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুর রাহমানকে মীরাসের অংশ দেয়ার জন্য আবূ বাকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী ‘আব্দুল আযীয বর্ণনা করেন, তরবারী তাকে ইসলাম গ্রহণের বাধ্য করার পূর্বে সে ইসলাম গ্রহণ করেনি।
Book 19 · Hadith 39 · #2921 · Daif, Daif, Daif, Daif - 40
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে এবং নিজেদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে তারা পরস্পরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরাত করেনি, তাদের সাথে তোমাদের বন্ধুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক নেই- যতক্ষণ তারা হিজরাত না করে।’’[সূরা আন-আনফলঃ ৭২] বেদুঈনরা মুহাজিরদের ওয়ারিসত হতো না এবং মুহাজিরগণও তাদের ওয়ারিস হতেন না। উপরের আয়াত রহিত হয় এ আয়াত দ্বারাঃ ‘‘আল্লাহর কিতাবে রক্তের আত্মীয়গণ পরস্পরের মাঝে অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু অবহিত।’’ (সূরা আন-আনফালঃ)
Book 19 · Hadith 40 · #2922 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 41
। যুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (অন্যায় কাজে) চুক্তিবদ্ধ হওয়া ইসলামে জায়িয নয়। ইসলাম জাহিলী যুগে এ জাতীয় চুক্তির উপর কঠোরতা আরোপ করেছে।
Book 19 · Hadith 41 · #2923 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2530) - 42
। আসিম আল-আহওয়াল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে বসে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়েন। তাকে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননিঃ ইসলামে কোন্ ওয়াদা নেই? উত্তরে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়িতে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব গড়েছেন। আনাস এই কথাটা দু’-তিনবার বললেন।
Book 19 · Hadith 42 · #2924 · Sahih, Sahih, Sahih - 43
। সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, রক্তপণের বংশের লোকদের অংশ আছে, স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াতের ওয়ারিস হয় না। দাহহাক ইবনু সুফিয়ান (রাঃ) তাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখিত নির্দেশ পাঠানঃ আশ‘আম আদ-দিবাবির স্ত্রীকে তার রক্তপণের ওয়ারিস বানাও। তখন ‘উমার (রাঃ) নিজস্ব মত পরিবর্তন করেন। অন্য বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বেদুঈনদের প্রকাশক নিযুক্ত করেন।
Book 19 · Hadith 43 · #2925 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih