Sunan Abu Dawud

← Sunan Abu Dawud

Prayer (Kitab Al-Salat)

৭৭০ হাদিস

  1. 1

    । আবূ সুহাইল ইবনু মালিক থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি ত্বালহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, উস্কখুস্ক চুল বিশিষ্ট নাজদের জনৈক অধিবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল। তখন তার মুখ হতে গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু কথাগুলো বুঝা যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (ইসলাম হচ্ছে) দিবা-রাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। লোকটি বললো, আমার ওপর এছাড়া আরও (সালাত) আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে তুমি নফল (সালাত) আদায় করতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশে রমাযান মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ করলেন। লোকটি বলল, আমার উপর এছাড়া আরও (সিয়াম) আছে কি? তিনি বললেনঃ না, তবে তুমি নফল (সিয়াম) পালন করতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাকাতের কথাও বললেন। লোকটি বলল, আমাকে এছাড়াও কোন দান করতে হবে কি? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল হিসেবে (দান) করতে পার। অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে চলে যেতে লাগল যে, আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশীও করব না কমও করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকটি সত্য বলে থাকলে অবশ্যই সফলকাম হয়ে গেল। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 1 · #389 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (46) Sahih Muslim (11)
  2. 2

    । আবূ সুহাইল নাফি‘ ইবনু মালিক ইবনু আবূ ‘আমির একই সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) তার পিতার শপথ!* সে অবশ্যই সফলকাম হবে যদি সত্য বলে থাকে। তার পিতার শপথ! সে সত্য বলে থাকলে জান্নাতে প্রবেশ করবে।[1] শায : ‘‘তার পিতার শপথ’’ কথাটি অতিরিক্ত যোগে।

    Book 2 · Hadith 2 · #390 · Shadh, Shadh, Sahih Bukhari (1891 Mukhtasar) Sahih Muslim (11)
  3. 3

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাইতুল্লাহর নিকট জিবরীল (আঃ) দু’বার আমার সালাতে ইমামতি করেছেন। (প্রথমবার) সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঢলে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে তিনি যুহর সালাত আদায় করলেন। তখন (পূর্ব দিকে) জুতার ফিতার সমান ছায়া দেখা দিয়েছিল। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে ‘আসরের সালাত আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার সমান হয়। এরপর আমাকে নিয়ে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করে থাকে। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন, যখন শাফাক্ব (লাল শুভ্র রং) অন্তর্হিত হয় এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারীর জন্য পানাহার হারাম হয়ে যায়। (দ্বিতীয়বারে) পরের দিন তিনি আমাকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন, (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া যখন সমান হলো। তিনি আমাকে নিয়ে ‘আসর সালাত আদায় করলেন, যখন ছায়া তার দ্বিগুণ হলো। তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময় হয়। তিনি আমাকে নিয়ে ‘ইশা সালাত আদায় করলেন রাতের তৃতীয়াংশে এবং ফজর সালাত আদায় করলেন ভোরের আলো ছড়িয়ে যাওয়ার পর। অতঃপর জিবরীল (আঃ) আমার দিকে ফিরে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটাই হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের সালাতের ওয়াক্ত এবং সালাতের ওয়াক্তসমূহ এই দু’ সময়ের মাঝখানেই নিহিত।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 3 · #391 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  4. 4

    । উসামাহ ইবনু যায়িদ আল-লাইসী সূত্রে বর্ণিত। ইবনু শিহাব (রহঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, একদা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) মিম্বারের উপর বসে (কর্মব্যস্ত) ছিলেন। ফলে তিনি ‘আসরের সালাত আদায়ে কিছুটা বিলম্ব করলেন। তখন ‘উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর (রহঃ) তাকে বললেন, আপনি জানেন না, জিবরীল (আঃ) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অবহিত করেছেন? ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনি যা বলছেন, বুঝে শুনে বলুন। ‘উরওয়াহ বললেন, আমি বাশীর ইবনু আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ জিবরীল (আঃ) অবতরণ করে আমাকে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি। এভাবে তিনি আঙ্গুলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত গণণা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথেই যুহরের সালাত আদায় করতে দেখেছি। প্রচন্ড গরমের দিনে তিনি কখনো দেরী করেও আদায় করেছেন। আমি তাঁকে ঐ সময় ‘আসরের সালাত আদায় করতে দেখেছি যখন সূর্য উপরে উজ্জ্বল বর্ণ অবস্থায় থাকত, তখনো তাতে হলুদ রং আসেনি। কোন ব্যক্তি ‘আসরের সালাত আদায় করে সূর্য ডুবার পূর্বেই যুলহুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছে যেত। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করতেন সূর্য ডোবার পরপরই, আর ‘ইশার সালাত আদায় করতেন যখন (পশ্চিম আকাশ) কালো রঙে আচ্ছাদিত হত, অবশ্য তিনি কখনো লোকজনের একত্র হওয়ার আশায় তা বিলম্বেও আদায় করতেন। একবার তিনি ফজরের সালাত অন্ধকারে আদায় করেন, অতঃপর পরের বার আদায় করেন ভোরের আলো প্রকাশ হওয়ার পর। পরবর্তীতে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদা ফজরের সালাত অন্ধকারেই আদায় করেন, পুনরায় আর কখনোই তিনি ভোরের আলো প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষা করেননি। [1] হাসান। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি যুহরী (রহঃ) সূত্রে মা‘মার, মালিক, ইবনু উয়াইনাহ, শু‘আইব ইবনু আবূ হামযাহ ও লাইস ইবনু সা‘দ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা সালাত আদায়ের সময় উল্লে­খ করেননি, এবং তার কোন ব্যাখ্যাও দেননি। وَرَوَى وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم وَقْتَ الْمَغْرِبِ قَالَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ - يَعْنِي مِنَ الْغَدِ - وَقْتًا وَاحِدًا ‏. - صحيح . ওয়াহাব ইবনু কায়সান (রহঃ) জাবির (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে মাগরিবের ওয়াক্ত সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ পরের দিন সূর্যাস্তের পরে একই সময়ে জিবরীল (আঃ) মাগরিবের সালাত আদায় করতে আসলেন। সহীহ। قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم قَالَ ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ يَعْنِي مِنَ الْغَدِ وَقْتًا وَاحِدًا. - حسن .‏ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেনঃ আমাকে নিয়ে জিবরীল (আঃ) পরের দিন একই সময়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। হাসান।

    Book 2 · Hadith 4 · #392 · Hasan, Hasan, Hasan
  5. 5

    । আবূ মুসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি তার কোন জবাব না দিয়ে বিলালকে (ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের) নির্দেশ দিলেন। বিলাল সুবহি সাদিক হওয়ার পরপরই ফজর সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। তারপর তিনি এমন সময় ফজর সালাত আদায় করলেন যখন (অন্ধকারের কারণে) একজন আরেকজনকে চিনতে পারত না অথবা একজন তার পাশ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত না। অতঃপর সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়লে তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলে বিলাল যুহর সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। তখন কেউ বলল, দুপুর হয়েছে। অথচ (সূর্য ঢলে পড়া সম্পর্কে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক জ্ঞাত। অতঃপর তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলে বিলাল ‘আসর সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। তখন সূর্য সাদা ও উঁচুতে ছিল। অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে তিনি বিলালকে মাগরিব সালাতের জন্য ইক্বামাতের(ইকামত/একামত) নির্দেশ দিলে বিলাল ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। অতঃপর পশ্চিমাকাশের লাল আভা (শাফাক্ব) দূরীভূত হলে তিনি বিলালকে ‘ইশা সালাত আদায়ের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার নির্দেশ দিলে বিলাল ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। পরের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় শেষে প্রত্যাবর্তন করলে আমরা বললাম, সূর্য উদয় হয়েছে কি? (এ দিন) তিনি যুহর সালাত আদায় করলেন পূর্বের দিনের ‘আসরের ওয়াক্তে। তিনি ‘আসরের সালাত আদায় করলেন যখন সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে অথবা তিনি বলেছেন সন্ধ্যায়। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন আকাশের লালিমা (শাফাক্ব) দূরীভূত হওয়ার পূর্বে। আর তিনি ‘ইশার সালাত আদায় করলেন রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর। অতঃপর বললেন, সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? এই দু’ সময়সীমার মধ্যবর্তী সময়ই হচ্ছে সালাতের ওয়াক্ত (অর্থাৎ পূর্বের দিন ও পরের দিন যে যে সময়ে সালাত আদায় করা হয়েছে তার মাঝামাঝি সময়)। [1] সহীহ : মুসলিম। قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم فِي الْمَغْرِبِ بِنَحْوِ هَذَا قَالَ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ قَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى شَطْرِهِ ‏.وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم ‏.‏ ‏ - صحيح . ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে মাগরিব (সালাতের ওয়াক্ত) সম্পর্কে এরূপই বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, কারো মতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইশার সালাত আদায় করেছেন রাতের এক তৃতীয়াংশে, আবার কারো মতে অর্ধরাতে। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 5 · #393 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (614)
  6. 6

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুহরের ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে। সূর্য হলুদ রং ধারণ না করা পর্যন্ত ‘আসরের ওয়াক্ত থাকে। মাগরিবের ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে (পশ্চিমাকাশে) লাল রংয়ের আভা বিলোপ না হওয়া পর্যন্ত। ‘ইশার ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে অর্ধরাত পর্যন্ত। আর ফজর সালাতের ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 6 · #394 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (612)
  7. 7

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী ইবনু আবূ তালিব সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি যুহরের সালাত আদায় করতেন ঠিক দ্বিপ্রহরের পরপরই। আর ‘আসরের সালাত আদায় করতেন ঐ সময় যখন সূর্য জীবন্ত থাকত। মাগরিবের সালাত আদায় করতেন সূর্যাস্তের পরপরই। লোকজন জড়ো হলে ‘ইশার সালাত তাড়াতাড়ি (প্রথম ওয়াক্তে) আদায় করতেন, আর লোকজনের উপস্থিতি কম হলে বিলম্বে আদায় করতেন। তিনি ফজরের সালাত অন্ধকারে আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 7 · #395 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (560) Sahih Muslim (646)
  8. 8

    । আবূ বারযা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লে যুহরের সালাত আদায় করতেন, ‘আসরের সালাত আদায় করতেন ঐ সময় যখন আমাদের কেউ মদীনার শেষ প্রান্তে গিয়ে ফিরে আসতে পারত এবং সূর্যের প্রখরতা বিদ্যমান থাকত। মাগরিবের কথা আমি ভুলে গেছি। ‘ইশার সালাত রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে তিনি পরোয়া করতেন না, কখনো বা অর্ধরাত পর্যন্ত। ‘ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলা তিনি অপছন্দ করতেন না। তিনি ফজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যখন আমাদের কেউ তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত না। ফজরের সালাতে তিনি ষাট আয়াত থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 8 · #396 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (541) Sahih Muslim (647)
  9. 9

    । জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুহরের সালাত আদায় করতাম। আমি এক মুষ্ঠি পাথর কণা তুলে নিতাম, যেন সেগুলো আমার হাতে ঠান্ডা হয়ে যায়। আমি সিজদার সময় প্রচন্ড গরমের কারণে সেগুলো কপালের নিচে রেখে সেগুলোর উপর সিজদা্ করতাম।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 9 · #397 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  10. 10

    । আসওয়াদ সূত্রে বর্ণিত। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, গ্রীষ্মকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (যুহর) সালাত আদায়ের সময় ছিল (ছায়ার) তিন কদম হতে পাঁচ কদম পর্যন্ত। আর শীতকালে ছিল পাঁচ কদম হতে সাত কদম পর্যন্ত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 10 · #398 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  11. 11

    । যায়িদ ইবনু ওয়াহাব সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ যার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। মুয়াজ্জিন যুহরের আযানের জন্য প্রস্তুত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থাম, ঠান্ডা হোক (রোদ্রতাপ হালকা হোক)। মুয়াজ্জিন আবার আযান দিতে প্রস্তুত হলে তিনি বললেনঃ থাম, ঠান্ডা হোক! বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার অথবা তিনবার এরূপ বললেন। এমনকি আমরা টিলা সমূহের ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ গ্রীষ্মের খরতাপ জাহান্নামেরই অংশ বিশেষ। কাজেই প্রচন্ড গরমে ঠান্ডা করে (বিলম্বে) সালাত আদায় করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 11 · #399 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (535) Sahih Muslim (616)
  12. 12

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অত্যধিক গরমে তোমরা যুহরের সালাত ঠান্ডা করে (বিলম্বে) আদায় করবে। কারণ অত্যধিক গরম জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ বিশেষ।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 12 · #400 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (536) Sahih Muslim (615)
  13. 13

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঢলে পড়লে বিলাল (রাঃ) যুহরের সালাতের আযান দিতেন। [1] হাসান সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 13 · #401 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih Sahih Muslim
  14. 14

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যখন সূর্য উঁচুতে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত। সালাতের পর লোকজন ‘আওয়ালী (মদীনার পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম) পর্যন্ত যেত। অথচ সূর্য তখনো উঁচুতেই থাকত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 14 · #402 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (621)
  15. 15

    । আয-যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আওয়ালীর দূরত্ব মাদীনাহ থেকে দুই অথবা তিন মাইল। বর্ণনাকারী বলেন, সম্ভবত তিনি (যুহরী) চার মাইলের কথাও বলেছেন।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 15 · #403 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  16. 16

    । খায়সামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্যের জীবন্ত হওয়ার অর্থ হলো, তার তাপ অবশিষ্ট থাকা বা অনুভূত হওয়া।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 16 · #404 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  17. 17

    । ‘উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ ‘আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যখন রোদ তার ঘরের মধ্যে থাকত এবং দেয়ালে রোদ প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই এরূপ হত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 17 · #405 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (522) Sahih Muslim (611)
  18. 18

    । ‘আলী ইবনু শায়বান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। সে সময় তিনি সূর্যের রং উজ্জল থাকা পর্যন্ত ‘আসরের সালাত বিলম্ব করে আদায় করেছেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 18 · #406 · Daif, Daif, Daif, Daif
  19. 19

    । ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন বলেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত অর্থাৎ ‘আসরের সালাত আদায় করা হতে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তাদের ঘর ও কবরগুলোকে জাহান্নামের আগুনে পরিপূর্ণ করে দিন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 19 · #407 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2931) Sahih Muslim (627)
  20. 20

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আবূ ইউনুস সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমাকে তার জন্য এক জিলদ কুরআন লিখে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন, যখন তুমি ‘‘তোমরা সালাত সমূহের হিফাযাত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের। আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ২৩৮) এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছবে তখন আমাকে অবহিত করে অনুমতি চাইবে। অতঃপর আমি উক্ত আয়াত পর্যন্ত পৌঁছে তাঁকে অবহিত করে অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, তুমি এভাবে লিখ, ‘‘তোমরা সালাতসমূহের হিফাযাত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের এবং ‘আসরের সালাতের।’’ অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 20 · #408 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (629)
  21. 21

    । যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দুপুরে (সূর্য ঢলা পরপরই প্রচন্ড গরমে) আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের নিকট অন্যান্য সালাতের চেয়ে এ সালাতই ছিল বেশি কষ্টদায়ক। অতঃপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘তোমরা সালাত সমূহের হিফাযাত কর, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের’’ (সূরাহ বাক্বারাহ, ২৩৮)। যায়িদ (রাঃ) বলেন, এ সালাতের পূর্বে এবং পরে দু’ ওয়াক্ত করে সালাত রয়েছে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 21 · #409 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  22. 22

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আসরের সালাত এক রাক‘আত আদায় করতে পারল সে (যেন ওয়াক্তের মধ্যেই পুরো) ‘আসর সালাত পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের এক রাক‘আত আদায় করতে সক্ষম হল সে (যেন ওয়াক্তের মধ্যেই পুরো) ফজর সালাত পেল। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 22 · #410 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (608)
  23. 23

    । আল-‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহর সালাত আদায়ের পর আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখলাম, তিনি ‘আসরের সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়েছেন। তার সালাত আদায় শেষে আমরা তার বেশী আগে (‘আসর) সালাত আদায় করা নিয়ে আলোচনা করলাম। অথবা তিনিই এ বিষয়ে আলোচনা করলেন এবং (এর কারণ সম্পর্কে) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এটা মুনাফিকদের সালাত! এটা মুনাফিকদের সালাত!! এটা মুনাফিকদের সালাত!!! এদের কেউ বসে থাকে আর যখন সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের দু’ শিংয়ের মধ্যখানে বা উপর অবস্থান করে তখন সে দাঁড়িয়ে চারটি ঠোকর মারে। তাতে সে খুব সামান্যই আল্লাহর স্মরণ করে থাকে। [1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 23 · #411 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (622)
  24. 24

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির ‘আসরের সালাত ছুটে গেল (আদায় করল না) তার যেন পরিবার-পরিজন ধ্বংস হয়ে গেলো এবং তার ধনসম্পদ লুট হয়ে গেল (নিঃসম্বল হয়ে গেল)। [1] ইমাম আবূ দাউদ বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, আইয়ূব ও যুহরী "‏أُتِرَ‏" (উতিরু) শব্দের বানানে কিছুটা পার্থক্য করেছেন। সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 24 · #412 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (552) Sahih Muslim (626)
  25. 25

    । আবূ ‘আমর আল-আওযাঈ (রহঃ) বলেন, ‘আসরের সালাতে বিলম্ব করার অর্থ হচ্ছে, সূর্যের হলুদ রং জমিনে প্রতিভাত হতে দেখা (পর্যন্ত বিলম্ব করা)।[1] দুর্বল মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 25 · #413 · Daif Maqtu, Daif Maqtu, Daif
  26. 26

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর তীর নিক্ষেপ করতাম। আমাদের প্রত্যেকেই তখনো তার তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 26 · #414 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  27. 27

    । সালামাহ ইবনুল আকওয়া' (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার পরপরই আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 27 · #415 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (561) Sahih Muslim (636)
  28. 28

    । মারসাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ আইয়ূব (রাঃ) জিহাদ হতে ফিরে আমাদের নিকট আসলেন, সে সময় ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি মাগরিবের সালাত আদায়ে বিলম্ব করলে আবূ আইয়ূব (রাঃ) ‘উক্ববাহ্ (রাঃ)-এর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হে ‘উক্ববাহ্! এটা আবার কেমন সালাত? ‘উক্ববাহ্ (রাঃ) বললেন, আমরা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তিনি বললেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেননিঃ আমার উম্মাত ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে অথবা মূল অবস্থায় থাকবে যতদিন তারা মাগরিবের সালাত আদায়ে তারকা উজ্জ্বল হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করবে না।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 28 · #416 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  29. 29

    । নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এই ‘ইশার সালাতের শেষ ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে বেশি অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত সালাত (এ পরিমান সময়ের পর) আদায় করতেন, যখন তৃতীয়বার চাঁদ অস্তমিত হয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 29 · #417 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  30. 30

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমরা ‘ইশার সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তিনি আসলেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা এর চেয়েও কিছু সময়ের পর। তিনি কোন কাজে ব্যস্ততার জন্য নাকি অন্য কিছুর কারণে বিলম্ব করলেন আমরা তা অবগত নই। তিনি এসে বললেনঃ তোমরা কি এ (‘ইশার) সালাতের জন্য অপেক্ষা করছো? আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর না হলে আমি এ সময়েই (‘ইশার সালাত) আদায় করতাম। অতঃপর তিনি মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার নির্দেশ দিয়ে সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 30 · #418 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (639)
  31. 31

    । ‘আসিম ইবনু হুমাইদ আস-সুকুনী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমরা ‘ইশার সালাতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতীক্ষায় ছিলাম। তিনি আসতে এতটা বিলম্ব করলেন যে, কেউ কেউ ধারণা করল, হয়তো তিনি বের হবেন না। আবার কেউ এরূপ মন্তব্য করল যে, হয়তো তিনি (ঘরে) সালাত আদায় করে ফেলেছেন। আমাদের এসব আলোচনার এক পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এলেন। অতঃপর লোকেরা যা কিছু বলাবলি করছিল, তা তাঁকেও বলল। তিনি বললেনঃ তোমরা এই (‘ইশার) সালাত বিলম্বে আদায় করবে। কারণ এ সালাতের মাধ্যমে অন্য সকল জাতির উপর তোমাদেরকে মর্যাদা দান করা হয়েছে। তোমাদের পূর্বে কোন জাতি এ সালাত আদায় করেনি।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 31 · #419 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  32. 32

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায় করলাম। সেদিন তিনি প্রায় অর্ধেক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সালাতের জন্য বের হয়ে আসেন এবং বলেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান কর। সুতরাং আমরা নিজেদের জায়গায় অবস্থান করলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ ইতোমধ্যে অনেকেই ‘ইশার সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য অপেক্ষামাণ থাকলে, ততক্ষণ তোমাদেরকে সালাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে। দুর্বলের দুর্বলতা এবং রোগীর রুগ্নতার আশংকা না থাকলে আমি অবশ্যই এ সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করতাম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 32 · #420 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  33. 33

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, মহিলারা সালাত আদায় করে গায়ে চাদর জড়িয়ে প্রত্যাবর্তন করত এবং অন্ধকারের কারণে তাদের চেনা যেত না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 33 · #421 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (867) Sahih Muslim (645)
  34. 34

    । রাফি' ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ভোরের আলো প্রকাশিত হলে ফজর সালাত আদায় করবে। কারণ এতে তোমাদের জন্য অত্যধিক সাওয়াব বা অতি উত্তম বিনিময় রয়েছে।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 34 · #422 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  35. 35

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনুস সুনাবিহী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মুহাম্মাদের মতে, বিতর সালাত ওয়াজিব। একথা শুনে ‘উবাদাহ্ ইবনুস সামিত (রাঃ) বললেন, আবূ মুহাম্মাদ মিথ্যা (ভুল) বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে নির্ধারিত সময়ে পূর্ণরূপে রুকু' ও পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে সালাত আদায় করবে, তাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন অন্যথায় শাস্তি দিবেন। [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 35 · #423 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  36. 36

    । উম্মু ফারওয়াহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সালাতের ওয়াক্ত হওয়ায় সাথে সাথে (প্রথম ওয়াক্তেই) সালাত আদায় করা।[1] সহীহ। খুযাঈ তাঁর বর্ণিত হাদীসে তার ফুফু উম্মু ফারওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।

    Book 2 · Hadith 36 · #424 · Sahih, Sahih, Sahih
  37. 37

    । আবূ বাকর ইবনু ‘উমারাহ ইবনু রুয়াইবাহ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাসরাহর জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন আমাকে তা বলুন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ঐ ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায় করবে। লোকটি বললো, আপনি কি একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? এরূপ তিনবার বলল। এর জবাবে তিনি প্রত্যেকবারই বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে। অতঃপর লোকটি বলল, আমিও তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 37 · #425 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim (634)
  38. 38

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ফাদালাহ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (শারী‘আত সম্পর্কে) শিক্ষা দেন। তন্মধ্যে তিনি আমাকে এটাও শিক্ষা দেন যে, তুমি (নির্ধারিত সময়ে) পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাযাত করবে। আমি বললাম, এ সময়গুলোতে আমার কর্মব্যস্ততা থাকে। অতএব আমাকে এমন একটা পরিপূর্ণ সময়ের (বা কাজের) নির্দেশ দিন যা করলে আমার পক্ষ হতে তা আদায় হয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ তুমি দুই ‘আসরের হিফাযাত করবে। আমাদের ভাষায় দুই ‘আসর শব্দটি প্রচলিত না থাকায় আমি বললাম, দুই ‘আসর কি? তিনি বললেনঃ দু’টি সালাত, একটি হচ্ছে সূর্যোদয়ের পূর্বে, অপরটি সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজর ও ‘আসর সালাত)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 38 · #426 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  39. 39

    । আবূ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে পাঁচটি কাজ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (১) যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু ও রুকু' সিজদা্ সহকারে নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, (২) রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে, (৩) পথ খরচের সার্মথ্য থাকলে হজ করবে, (৪) সন্তুষ্ট চিত্তে যাকাত আদায় করবে, এবং (৫) আমানত আদায় করবে। লোকেরা বলল, হে আবূ দারদা! আমানত আদায়ের অর্থ কি? তিনি বলেন, জুনুবী হলে গোসল করা।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 39 · #427 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  40. 40

    । আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, আমি তোমার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছি। আর আমি আমার পক্ষ হতে এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে এসব সালাতের হিফাযাত করবে তাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি এর হিফাযাত করবে না তার জন্য আমার পক্ষ হতে কোন প্রতিশ্রুতি নেই।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 40 · #428 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  41. 41

    । আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার! যখন তোমার শাসকগণ সালাতকে মেরে ফেলবে বা বিলম্ব করে সালাত আদায় করবে তখন তুমি কি করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে কি নির্দেশ করেন? তিনি বললেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করবে, অতঃপর তাদেরকে ঐ ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে দেখলে তাদের সাথেও আদায় করে নিবে। সেটা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 41 · #429 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (648)
  42. 42

    । ‘আমর ইবনু মায়মূন আল-আওদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দূত হিসেবে মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) ইয়ামানে আমাদের নিকট আসলেন। আমি ফজরের সালাতে তাঁর তাকবীর শুনতে পেলাম। তিনি উচ্চ কণ্ঠস্বর বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। তার সাথে আমার ভালবাসা সৃষ্টি হওয়ায় তার মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর সাহচর্য ত্যাগ করিনি। অতঃপর তার মৃত্যু হলে সিরিয়ায় তাকে দাফন করি। এরপর আমি ভাবলাম, তার পরবর্তী সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি কে হতে পারে? অবশেষে আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে যাই এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তার সাহচর্যে থাকি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, যখন তোমাদের উপর এমন শাসকদের আর্বিভাব ঘটবে যারা বিলম্ব করে সালাত আদায় করবে তখন তোমরা কি করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কি? তিনি বললেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করবে। আর পুনরায় তাদের সাথে আদায়কৃত সালাতকে নফল হিসেবে ধরে নিবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 42 · #430 · Sahih, Sahih, Hasan
  43. 43

    । ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ অচিরেই আমার পরে তোমাদের উপর এমন শাসকদের আগমন ঘটবে কর্মব্যস্ততা যাদেরকে নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় হতে বিরত রাখবে, এমনকি সালাতের ওয়াক্ত চলে যাবে। অতএব তখন তোমরা নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করে নিবে। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি ঐ সালাত পুনরায় তাদের সাথেও আদায় করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইচ্ছে হলে আদায় করতে পার। সুফিয়ানের বর্ণনায় রয়েছেঃ লোকটি বলল, আমি তাদের সাথে ঐ সালাত পেলে তাদের সাথেও আদায় করব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, ইচ্ছে হলে আদায় করতে পার।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 43 · #431 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih
  44. 44

    । কাবীসাহ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে তোমাদের এমন শাসকগণ আসবে, যারা বিলম্বে সালাত আদায় করবে। এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই, বরং তাদের জন্যই ক্ষতিকর। যতদিন পর্যন্ত তারা কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করবে ততদিন পর্যন্ত তোমরা তাদের সাথে সালাত আদায় করতে থাকবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 44 · #432 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  45. 45

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনের একরাতে বিরতিহীনভাবে সফর করতে থাকলে আমাদের ক্লান্তি ভাব দেখা দেয়। ফলে শেষ রাতে তিনি যাত্রা বিরতি করেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি জেগে থাকবে এবং রাতের দিকে লক্ষ্য রাখবে। কিন্তু বিলাল (রাঃ)-ও নিদ্রাকাতর হয়ে তার উটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ফলশ্রুতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বিলাল এবং তাঁর সাহাবীদের কারোরই ঘুম ভাঙ্গল না। অতঃপর সূর্যের তাপ তাদের গায়ে এসে পড়লে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্থির হয়ে বললেনঃ কি হলো বিলাল! বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! যে সত্তা আপনাকে অচেতন রেখেছেন, আমাকেও তিনিই অচেতন রেখেছেন। অতঃপর তারা নিজেদের বাহন নিয়ে কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযু করলেন এবং বিলালকে নির্দেশ করলে বিলাল ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় শেষে বললেনঃ কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই উক্ত সালাত আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘‘আমার স্মরণার্থে সালাত প্রতিষ্ঠা কর।’’ (সূরা ত্ব-হা ১৪)[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 45 · #433 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (680)
  46. 46

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ঐ স্থান ত্যাগ কর যেখানে তোমাদেরকে গাফলতি পেয়ে বসেছিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বিলালকে নির্দেশ দেয়া হলে তিনি আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন এবং তিনি সালাত আদায় করালেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি মালিক, সুফিয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ, আল-আওযাঈ ও ‘আবদুর রাজ্জাক, মা‘মার ও ইবনু ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মা‘মার সূত্রে আওযাঈ এবং আবান আল-আত্তার ব্যতীত কেউই যুহরীর এ হাদীসে আযানের উল্লে­খ করেননি।

    Book 2 · Hadith 46 · #434 · Sahih, Sahih, Daif
  47. 47

    । আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে ছিলেন। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিকে মনোনিবেশ করলে আমিও তাঁর সাথে মনোনিবেশ করি। তিনি বললেনঃ লক্ষ্য রাখ। আমি বললাম, এই একজন যাত্রী, এই দু’জন যাত্রী, এই তিনজন যাত্রী। এভাবে আমরা সাতজন হয়ে গেলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাদের ফজর সালাতের ব্যাপারে সজাগ থাক। কিন্তু তাদের সবার কান বন্ধ হয়ে গেল (সকলেই ঘুমিয়ে পড়লেন) এবং গায়ে সূর্যতাপ না লাগা পর্যন্ত তারা ঘুম হতে জাগতে পারলেন না। অতঃপর ঘুম থেকে জেগে কিছু দূর সফর করে তারা (এক স্থানে) অবতরণ করে অযু করলেন। বিলাল (রাঃ) আযান দিলে সবাই প্রথমে ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত, অতঃপর ফরয সালাত আদায় করে সওয়ারীতে আরোহণ করলেন। তারপর পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, আমরা (নির্ধারিত সময়ে) সালাত আদায়ে অবহেলা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঘুমের কারণে গাফলতি হলে দোষ নেই। কিন্তু জাগ্রতবস্থায় গাফিলতি করা অন্যায়। তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যেন স্মরণ হলেই সালাত আদায় করে নেয়। আর পরবর্তী দিন যেন নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করে (অর্থাৎ সালাত ক্বাযা করা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়)।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 47 · #435 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  48. 48

    । খালিদ ইবনু সুমাইর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রাবাহ আল-আনসারী (রাঃ) মাদীনাহ থেকে আমাদের এখানে আসলেন। আনসারগণ তাঁকে জ্ঞানী লোক (বিশিষ্ট ফাক্বীহ) হিসেবে গণ্য করতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোড়া রক্ষক আবূ ক্বাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতার যুদ্ধে সামরিক বাহিনী প্রেরণ করলেন। তারপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) বলেন, সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঘুম ভাঙ্গল না। অতঃপর আমরা সালাতের জন্য অস্থির ও ভীত অবস্থায় জাগ্রত হলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শান্ত হও, শান্ত হও। এমনকি সূর্য উঁচুতে উঠে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার যারা ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায়ে অভ্যস্ত তারা যেন তা আদায় করে নেয়। এ কথা শুনে যারা ঐ দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায় করত এবং যারা আদায় করত না তারা সকলেই দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায় করে নিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের আযান দেয়ার নির্দেশ দিলে আযান দেয়া হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে বললেনঃ জেনে রাখ, আমরা আল্লাহরই প্রশংসা করছি, দুনিয়ার কোন কাজ আমাদেরকে আমাদের সালাত থেকে বিরত রাখেনি। বরং আমাদের রূহগুলো আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ ছিল। তিনি স্বীয় ইচ্ছা মোতাবেক তা ছেড়েছেন। অতএব তোমাদের কেউ আগামীকাল নির্ধারিত সময়ে ফজরর সালাত পেলে সে যেন তার সাথে অনুরূপ আরেক ওয়াক্ত সালাত (অর্থাৎ এ ক্বাযা সালাতটিও) আদায় করে নেয়।[1] শায।

    Book 2 · Hadith 48 · #436 · Shadh, Shadh, Sahih, Isnaad Sahih
  49. 49

    । আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা মোতাবেক তোমাদের রূহসমূহকে আটকে রেখেছিলেন, আবার তাঁর ইচ্ছা মোতাবেক ছেড়েও দিয়েছেন। উঠো এবং সালাতের আযান দাও। অতঃপর সকলে উঠে অযু করে নিল। ইতোমধ্যে সূর্যও উপরে উঠে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 49 · #437 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7471)
  50. 50

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ তার পিতার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছেঃ সূর্য উপরে উঠার পর তিনি অযু করে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : অনুরূপ বুখারী।

    Book 2 · Hadith 50 · #438 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  51. 51

    । আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘুমের কারণে সালাতের গাফলতি হলে দোষ নেই। কিন্তু জাগ্রতবস্থায় গাফিলতি করে বিলম্বে সালাত আদায় করা অন্যায়, এতে করে আরেক সালাতের ওয়াক্ত এসে যায়।[1] সহীহ : মুসলিম, অনুরূপ গত হয়েছে ৪৩৭ নং এ।

    Book 2 · Hadith 51 · #439 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (681)
  52. 52

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নেয়। এটাই তার সালাতের কাফফারা।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 52 · #440 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (597) Sahih Muslim (684)
  53. 53

    । ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সফরে ছিলেন সে সময় লোকেরা ফজরের সালাতের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে ছিল। অতঃপর সূর্যের তাপে তাদের ঘুম ভাঙ্গে। তারা কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর সূর্য উপরে উঠে গেলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ্জিনকে নির্দেশ দিলে মুয়াজ্জিন আযান দেন। অতঃপর তিনি প্রথমে ফজরের পূর্বের দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায় করেন এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার পর ফজরের ফরয সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 53 · #441 · Sahih, Sahih, Daif
  54. 54

    । ‘আমর ইবনু উমায়্যাহ আদ-দামরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর কোন এক সফরে ছিলাম। তিনি ফজরের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে ছিলেন। সূর্যোদয়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠে বললেন, এ জায়গা থেকে সরে পড়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর (অন্য এক স্থানে গিয়ে) বিলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন। সকলে অযু করে দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায় করল। অতঃপর নির্দেশ মোতাবেক বিলাল সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করালেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 54 · #442 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih
  55. 55

    । যু-মিখবার আল-হাবাশী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাত করতেন। তার বর্ণনায় রয়েছেঃ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটুকু পরিমাণ পানি দিয়ে অযু করলেন যে, তাতে জমিন ভিজল না। অতঃপর বিলালকে নির্দেশ দিলে তিনি আযান দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ধীরেসুস্থে শান্তভাবে দুই রাক‘আত সুন্নাত পড়ে বিলালকে সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিতে বললেন। এরপর তিনি ধীরেসুস্থে ফরয সালাত আদায় করালেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 55 · #443 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif
  56. 56

    । নাজ্জাশীর ভ্রাতুষ্পুত্র যু-মিখবার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি অনুরূপ ঘটনার বর্ণনাতে বলেন, অতঃপর বিলাল কোনরূপ তাড়াহুড়া না করে ধীরেসুস্থে আযান দিলেন।[1] শায।

    Book 2 · Hadith 56 · #444 · Shadh, Shadh, Daif
  57. 57

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির মেয়াদকালে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আগমন করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (রাতের বেলায়) আমাদের পাহারা দেয়ার দায়িত্ব কে নেবে? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমি। অতঃপর সবাই ঘুমিয়ে পড়ল, এমনকি সূর্যদয় হয়ে গেল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠে বললেনঃ তোমরা ঐরূপ কর যেরূপ তোমরা করে থাকতে (অর্থাৎ সূর্যদয়ের পূর্বে যেরূপ সালাত আদায় করতে এখনও তাই কর)। সুতরাং আমরা তাই করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ ঘুমিয়ে পড়লে বা ভুলে গেলে সেও এরূপই করবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 57 · #445 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  58. 58

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে উঁচু করে মাসজিদ বানানোর নির্দেশ দেয়া হয়নি। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, তোমরা (অচিরেই) মাসজিদ সমূহকে এমনভাবে সুসজ্জিত ও কারুকার্যময় করবে যেরূপ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা (তাদের উপাসনালয়) সুসজ্জিত করে থাকে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 58 · #446 · Sahih, Sahih, Daif
  59. 59

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা মাসজিদ নিয়ে পরস্পর গৌরব ও অহঙ্কারে মেতে না উঠা পর্যন্ত ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 59 · #447 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  60. 60

    । ‘উসমান ইবনু আবূল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তায়িফের ঐ স্থানে মাসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন যেখানে মুশরিকদের মূর্তিসমূহ স্থাপিত ছিল।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 60 · #448 · Daif, Daif, Daif, Daif
  61. 61

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদে নাববী নির্মাণ করা হয়েছিল ইট ও খেজুর পাতা দ্বারা। মুজাহিদ বলেন, তার খুঁটি ছিল খেজুর কাঠের। আবূ বাকর (রাঃ) (স্বীয় শাসনামলে) মাসজিদকে সম্প্রসারণ করেননি। তবে ‘উমার (রাঃ) সম্প্রসারণ করেছেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের ভিত্তির উপরই তিনি ইট ও খেজুর পাতা দিয়ে তা নির্মাণ করান এবং নতুন কিছু স্তম্ভ স্থাপন করেন। মুজাহিদ বলেন, তার স্তম্ভ ছিল খেজুর কাঠের। পরে ‘উসমান (রাঃ) তা পরিবর্তন করে মাসজিদকে অনেক সম্প্রসারিত করেন। তিনি নকশাযুক্ত পাথর ও চুনা দিয়ে তার দেয়াল তৈরি করেন, নকশাযুক্ত পাথর খচিত খুঁটি নির্মাণ করেন এবং ছাদ নির্মাণ করেন সেগুন কাঠ দ্বারা। মুজাহিদ বলেন, তার ছাদ ছিল সেগুন কাঠের। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, (الْقَصَّةُ) হলো চুন বা প্লাস্টার।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 61 · #449 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (446)
  62. 62

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদে নাববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুঁটি ছিল খেজুর গাছের কান্ডের। তার উপরিভাগ ছিল খেজুর পাতা দ্বারা আচ্ছাদিত। আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তা ভেঙ্গে পড়ে গেলে তিনি খেজুর গাছ ও খেজুর পাতা দিয়ে তা পুনর্নির্মাণ করেন। অতঃপর ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ঐগুলো বিনষ্ট হয়ে গেলে তিনি তা পাকা ইট দিয়ে নির্মাণ করেন। আজও তা বিদ্যমান আছে (অর্থাৎ এই হাদীস সংকলনের সময় পর্যন্ত)।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 62 · #450 · Daif, Daif, Daif, Daif
  63. 63

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করে মদীনার বনু ‘আমর ইবনু ‘আওফ নামক উচ্চভূমির একটি এলাকায় অবতরণ করলেন। সেখানে তিনি চৌদ্দ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বনু নাজ্জারের নিকট লোক পাঠালেন। তারা তাঁর (সম্মানার্থে) গলায় তরবারী ঝুলিয়ে অস্ত্রে সুসজ্জিত অবস্থায় এলো। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উটের উপর দেখতে পাচ্ছি এবং তার পেছনে আবূ বকর (রাঃ) আরোহিত ছিলেন। আর বনু নাজ্জারের লোকেরা ছিল তাঁর চারপাশে। অবশেষে তিনি আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ)-এর আঙ্গিনায় অবতরণ করলেন। যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত হত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে নিতেন। তিনি বকরী রাখার স্থানেও সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি মাসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। তিনি বনু নাজ্জারের নিকট সংবাদ পাঠিয়ে ডাকালেন এবং বললেন, হে বনু নাজ্জার! তোমরা এ বাগানের মূল্য নিয়ে নাও। তারা বলল, অ­াল্লাহর শপথ! আমরা এর বিনিময় একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাই। আনাস (রাঃ) বলেন, বাগানটিতে যা যা ছিল আমি তোমাদেরকে তা বলছিঃ তাতে ছিল মুশরিকদের কিছু কবর, পুরাতন ধ্বংসস্তুপ এবং কিছু খেজুর গাছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশক্রমে মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে হাড়গোড় ইত্যাদি বেছে অন্যত্র ফেলে দেয়া হলো। কর্তিত খেজুর গাছের কান্ড মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে গেরে দেয়া হলো। দরজার চৌকাঠ নির্মাণ করা হলো পাথর দ্বারা। সাহাবীগণ পাথরগুলো স্থানান্তরের সময় কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বলছিলেনঃ হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণই প্রকৃত কল্যাণ। আপনি আনসার ও মুহাজিরের সাহায্য করুন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 63 · #451 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (428) Sahih Muslim (524)
  64. 64

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নাববীর জায়গাটিতে বনু নাজ্জারের একটি বাগান ছিল। তাতে ক্ষেত, খেজুর গাছ ও মুশরিকদের কিছু কবর ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ আমার কাছ থেকে তোমরা এ বাগানের মূল্য নিয়ে নাও। তারা বলল, আমার এর মূল্য চাই না (বরং দান করতে চাই)। অতঃপর খেজুর গাছ কাটা হলো, শষ্যক্ষেত্র সমতল করে দেয়া হলো এবং মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে হাড়গোড় বেছে ফেলে দেয়া হলো। .... অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে বর্ণনাকারী এ হাদীসে (হে আল্লাহ) ‘আপনি সাহায্য করুন’- এর স্থলেঃ ‘আপনি ক্ষমা করুন’ উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী মূসা বলেন, ‘আবদুল ওয়ারিসও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল ওয়ারিস এ হাদীস হাম্মাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 64 · #452 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  65. 65

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাড়ায় পাড়ায় মাসজিদ নির্মাণ করার এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 65 · #453 · Sahih, Sahih, Sahih
  66. 66

    । সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার সন্তানদের উদ্দেশ্যে এ মর্মে পত্র লিখেন যে, অতঃপর জেনে রাখ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন এলাকায় এলাকায় মাসজিদ নির্মাণ করি এবং তা ঠিকঠাক ও পরিচ্ছন্ন রাখি।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 66 · #454 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  67. 67

    । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্ত দাসী মায়মূনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! বায়তুল মাক্বদিস (মাসজিদুল আক্বসা) সম্পর্কে আমাদের জন্য আপনার অভিমত কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সেখানে গিয়ে সালাত আদায় করতে পার। ঐ সময় শহরটি শত্রুদের দখলে ছিল। (সেজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) তোমরা সেখানে গিয়ে সালাত আদায় করতে না পারলে সেখানে বাতি জ্বালানোর জন্য তেল পাঠিয়ে দিও।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 67 · #455 · Daif, Daif, Daif, Daif
  68. 68

    । আবূল ওয়ালীদ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে মসজিদের কঙ্কর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক রাতে বৃষ্টি হওয়ায় মাটি কার্দমাক্ত হয়ে যায়। তখন এক ব্যক্তি তার কাপড়ে করে ছোট ছোট পাথর টুকরা এনে মাটিতে বিছিয়ে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় শেষে বললেনঃ এটা কতই না উত্তম কাজ।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 68 · #456 · Daif, Daif, Daif, Daif
  69. 69

    । আবূ সালিহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কথিত আছে, কোন ব্যক্তি যখন মাসজিদ থেকে পাথর কুচি বাইরে নিয়ে যায়, তখন সেগুলো তাকে শপথ দিতে থাকে (এবং বলতে থাকে, আমাদেরকে মাসজিদ থেকে বের করো না)।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 69 · #457 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif
  70. 70

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ বাদর (রাঃ) বলেন, আমার মতে হাদীসটি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সানাদ পৌঁছিয়ে মারফূ' ভাবেই বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাথর কুচি তার অপসারণকারীকে এ মর্মে শপথ দেয় যে-তাকে যেন মাসজিদ থেকে বের করা না হয়।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 70 · #458 · Daif, Daif, Daif
  71. 71

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের সাওয়াবসমূহ (কাজের বিনিময়গুলো) আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, এমনকি কোন ব্যক্তি কর্তৃক মাসজিদ থেকে ময়লা-আবর্জনা দূর করার সাওয়াবও। অপরদিকে আমার উম্মাতের পাপরাশিও আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি তাতে কুরআনের কোন সূরাহ বা আয়াত শেখার পর তা ভুলে যাওয়ার চাইতে বড় গুনাহ আর দেখিনি।[1] দুর্বল : মিশকাত ৭২০।

    Book 2 · Hadith 71 · #459 · Daif, Daif, Daif, Daif
  72. 72

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা যদি এই দরজাটি কেবল নারীদের (মসজিদে যাতায়াতের) জন্য ছেড়ে দিতাম! নাফি’ (রহঃ) বলেন, (এরপর থেকে) ইবনু ‘উমার (রাঃ) মৃত্যু পর্যন্ত ঐ দরজা দিয়ে আর (মসজিদে) প্রবেশ করেননি।[1] সহীহ। ‘আবদুল ওয়ারিস ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীর (অর্থাৎ ইসমাঈলের) মতে, কথাটি (ইবনু ‘উমার (রাঃ) নন বরং) ‘উমার (রাঃ) বলেছিলেন। আর এটাই অধিকতর সহীহ।

    Book 2 · Hadith 72 · #460 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  73. 73

    । নাফি’ (রহঃ) বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এটাই অধিকতর সহীহ।

    Book 2 · Hadith 73 · #461 · Daif, Daif, Daif
  74. 74

    । নাফি’ (রহঃ) বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মহিলাদের দরজা দিয়ে পুরুষদের (মসজিদে) প্রবেশ করতে নিষেধ করতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 74 · #462 · Daif, Daif, Daif
  75. 75

    । ‘আবদুল মালিক ইবনু সাঈদ ইবনু সুওয়াইদ বলেন, আমি আবূ হুমাইদ (রাঃ) বা আবূ উসাইদ আনসারী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশকালে যেন সর্বপ্রথম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সালাম পাঠ করে, অতঃপর যেন বলেঃ ‘হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।’ আর বের হওয়ার সময় যেন বলেঃ ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি।’[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 75 · #463 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Muslim (713)
  76. 76

    । হাইওয়াহ ইবনু শুরায়িহ (রহঃ) বলেন, আমি ‘উক্ববাহ্ ইবনু মুসলিমের সাথে সাক্ষাত করে বলি, আমি জানতে পারলাম যে, আপনার নিকট ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করা হয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশের সময় বলতেনঃ ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অতীব মর্যাদা ও চিরন্তন পরাক্রমশালীর অধিকারী মহান আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হতে। ‘উক্ববাহ্ (রাঃ) বললেন, এতটুকুই? আমি বললাম, হ্যাঁ। ‘উক্ববাহ্ (রাঃ) বললেন, কেউ এ দু‘আ পাঠ করলে শয়তান বলে, এ লোকটি আমার (অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা) থেকে সারা দিনের জন্য বেঁচে গেল।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 76 · #464 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  77. 77

    । আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে আসলে যেন বসার পূর্বেই দুই রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 77 · #465 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (444) Sahih Muslim (714)
  78. 78

    । আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তাতে আরো আছেঃ দুই রাক‘আত সালাত আদায়ের পর তার ইচ্ছা হলে বসবে অথবা নিজ প্রয়োজনে বাইরে চলে যাবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 78 · #466 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  79. 79

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত তার সালাত আদায়ের স্থানে (জায়নামাযে) বসে থাকে ততক্ষণ মালায়িকাহ্ (ফিরিশতাগণ) তার জন্য দু‘আ করতে থাকেন। তার অযু নষ্ট হওয়া অথবা উঠে চলে যাওয়া পর্যন্ত মালায়িকাহ্ এই বলে দু‘আ করতে থাকেনঃ ‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন।’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 79 · #467 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (445)
  80. 80

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত সালাত আদায়েরত ব্যক্তি হিসেবেই গণ্য হবে, যতক্ষণ সালাত (অর্থাৎ সালাতের অপেক্ষা) তাকে আটকে রাখবে। তাকে তো তার পরিবার পরিজনের নিকট ফিরে যেতে কেবল সালাতই বারণ করছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 80 · #468 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (659) Sahih Muslim (649 After 661)
  81. 81

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাত আদায়ের স্থানে (জায়নামাযে) সালাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুরো সময় সে সালাতেই থাকে। তার প্রত্যাবর্তন না করা অথবা অযু ছুটে না যাওয়া পর্যন্ত মালায়িকাহ্ তার জন্য এই বলে দু‘আ করতে থাকেঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন।’ বলা হলো, অযু ছুটে যাওয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ (পায়খানার রাস্তা দিয়ে) নিঃশব্দে অথবা সশব্দে বায়ু নির্গত হওয়া।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 81 · #469 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (649 After 661)
  82. 82

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন উদ্দেশে মসজিদে এলে, সে ঐ উদ্দেশ্য অনুপাতেই (প্রতিদান) পাবে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 82 · #470 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  83. 83

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কেউ কোন ব্যক্তিকে (চিৎকার করে) মসজিদে হারানো বস্তু অনুসন্ধান করতে শুনলে সে যেন বলে, আল্লাহ তোমাকে ঐ বস্তু কখনো ফিরিয়ে না দিন। কারণ মাসজিদ তো এ কাজের জন্য নির্মান করা হয়নি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 83 · #471 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (568)
  84. 84

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা অন্যায়। (কেউ ফেললে) তার কাফফারা হচ্ছে তা ঢেকে দেয়া বা মিটিয়ে দেয়া।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 84 · #472 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari (415) Sahih Muslim (552)
  85. 85

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থু থু ফেলা অপরাধ। এর কাফফারা হলো মাটি দিয়ে তা ঢেকে ফেলা অর্থাৎ তা মুছে দিবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 85 · #473 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (552)
  86. 86

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থু থু বা কফ্ ফেলা ... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 86 · #474 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  87. 87

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই মসজিদে প্রবেশের পর তার মধ্যে থু থু অথবা কফ্ ফেলবে, সে যেন মাটি খুঁড়ে তা চাপা দিয়ে দেয়। এরূপ না করতে পারলে যেন নিজ কাপড়ে থু থু ফেলে এবং ঐ কাপড়সহ বাইরে চলে যায়।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 87 · #475 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  88. 88

    । ত্বারিক্ব ইবনু ‘আব্দুল্লাহ আল-মুহারিবী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি সালাতে দাঁড়ালে বা সালাত আদায়কালে যেন তার সামনে অথবা ডান দিকে থু থু না ফেলে। অবশ্য বাম দিকে (ফাঁকা) জায়গা থাকলে সেদিকে থু থু ফেলবে অথবা বাম পায়ের নিচে থু থু ফেলে তা ঘষে মুছে ফেলবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 88 · #476 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  89. 89

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ দানকালে মসজিদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে কফ্ দেখতে পেয়ে তিনি লোকদের উপর অসন্তুষ্ট হন এবং পরে তিনি তা তুলে ফেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা পরে তিনি জাফরান আনিয়ে সেখানে তা লাগিয়ে দিয়ে বললেনঃ সালাত আদায়কালে মহান আল্লাহ তোমাদের সামনেই থাকেন। কাজেই সালাত আদায়ের সময় কেউ যেন সামনে থু থু না ফেলে। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিমে জাফরান লাগানোর কথাটি নেই। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কোন কোন বর্ণনায় জাফরানের কথা উল্লে­খ নেই। আবার কোন বর্ণনায় ‘আল-খালূক’ তথা ‘কস্তুরীযুক্ত সুগন্ধি’র কথা উল্লে­খ আছে।

    Book 2 · Hadith 89 · #477 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1213) Sahih Muslim (547)
  90. 90

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের ডাল পছন্দ করতেন এবং তাঁর হাতে সর্বদা (প্রায়ই) এর একটি লাঠি থাকত। তিনি মসজিদে প্রবেশ করে মসজিদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে তা ঘষে তুলে ফেললেন। অতঃপর রাগান্বিত হয়ে লোকদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমাদের কারো মুখে থু থু ফেললে সে কি তাতে খুশি হবে? জেনে রাখ, তোমাদের কেউ যখন ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)মুখী হয়ে (সালাতে) দাঁড়ায়, তখন সে মূলত সম্মানিত মহান আল্লাহর দিকেই মুখ করে দাঁড়ায়। আর মালায়িকাহ্ (ফিরিশতাগণ) তখন তার ডান দিকে থাকেন। কাজেই কেউ যেন ডানদিকে ও ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে থু থু না ফেলে, বরং বাম দিকে অথবা পায়ে নীচে ফেলে। যদি হঠাৎ শ্লেষ্মা বেরিয়ে আসে (তাড়াতাড়ির প্রয়োজন হয়), তাহলে কাপড়ে এরূপ করবে। ইবনু ‘আজলান ফেলার পদ্ধতি বর্ণনা সম্পর্কে বলেন, নিজের কাপড়ে থু থু ফেলে কাপড়ের একাংশকে অপর অংশের উপর কচ্লাবে (উলট-পালট করে নেবে)।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 90 · #478 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  91. 91

    । আবূ সাহলা আস-সাইব ইবনু খাল­াদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতিকালে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে থু থু ফেললে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা লক্ষ্য করলেন। লোকটি সালাত শেষ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উপস্থিত লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ এই ব্যক্তিকে দিয়ে তোমাদের সালাত আদায় করাবে না (আর ইমামতি করবে না)। পরবর্তীতে লোকটি তাদের ইমামতি করতে চাইলে তারা তাকে নিষেধ করে এবং তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তিও অবহিত করে। অতঃপর লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয় অবহিত করলে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথাও বলেছেনঃ তুমি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দিয়েছ।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 91 · #479 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  92. 92

    । মুত্বাররিফ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে দেখতে পেলাম, তিনি সালাত আদায়কালে স্বীয় বাম পায়ের নিচে থু থু ফেললেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 92 · #480 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (554)
  93. 93

    । আবূল আ’লা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন উপরিউক্ত হাদীসের অর্থেই। তবে তিনি তাতে বৃদ্ধি করেছেন ‘‘অতঃপর তিনি [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর জুতা দিয়ে রগড়ে দিলেন।’’[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 93 · #481 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (554)
  94. 94

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখলাম, ওয়াসিলাহ ইবনু আসক্বা' (রাঃ) দামিশক্বের মসজিদে চাটাইয়ের উপর থু থু নিক্ষেপ করে পরে তা পা দিয়ে মুছে ফেলেন। তাকে এরূপ করার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপই করতে দেখেছি। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 94 · #482 · Daif, Daif, Daif, Daif
  95. 95

    । ‘উবাদাহ ইবনুল ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর সাথে দেখা করতে আসি। সে সময় তিনি তার মসজিদে ছিলেন। তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু তাব নামক এক প্রকার খেজুরের ডাল হাতে নিয়ে আমাদের এই মসজিদে আসলেন। তিনি তাকিয়ে মসজিদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে সেখানে এগিয়ে গেলেন এবং ডালটি দ্বারা তা তুলে ফেলেন। অতঃপর বলেনঃ তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে যে, আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। তিনি আরো বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন আল্লাহ তার সামনেই থাকেন। তাই কেউ যেন নিজের সম্মুখে ও ডান দিকে থু থু না ফেলে, বরং যেন বামদিকে (কিংবা) বাম পায়ের নিচে ফেলে। আর যদি হঠাৎ শ্লেষ্মা বেরিয়ে আসে (তাড়াতাড়ির প্রয়োজন হয়) তাহলে এরূপ করবে। এই বলে তিনি মুখের উপর কাপড় রেখে তা রগড়িয়ে বললেনঃ ‘আবির (এক ধরনের সুগন্ধি) নিয়ে এসো। জনৈক যুবক দাঁড়াল, এবং দ্রুত নিজের ঘরে গিয়ে হাতে সুগন্ধি নিয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে ডালের মাথায় লাগিয়ে শে­ষ্মা লেগে থাকার স্থানে ঘষে দিলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, এ কারণেই তোমরা মসজিদে সুগন্ধি ব্যবহার করে থাক।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 95 · #483 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (3008)
  96. 96

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে মসজিদে (নাববীর) কাছে আসল। এরপর উটটি মসজিদের আঙ্গিনায় বেঁধে বলল, আপনাদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সাহাবীগণের সামনেই বসা ছিলেন। আমরা লোকটিকে বললাম, এই যে সাদা বর্ণের লোকটি হেলান দিয়ে বসে আছেন- ইনিই (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! লোকটি তাঁকে বলল, হে ‘আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র! উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমি তোমার কথা শুনেছি। এরপর লোকটি বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছি ..... এরপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 96 · #484 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (63)
  97. 97

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু সা’দ ইবনু বাকর গোত্রের লোকেরা দিমাম ইবনু সা‘লাবাহকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠালেন। লোকটি তাঁর নিকট এসে উটকে মসজিদের দরজার কাছে বসিয়ে বেঁধে রেখে মসজিদে প্রবেশ করল। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি বলল, তোমাদের মধ্যে ‘আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র। লোকটি বলল, হে ‘আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র! ..... অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 97 · #485 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  98. 98

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবাদের নিয়ে মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় তাঁর কাছে ইয়াহুদীরা এসে বলল, হে আবূল কাসিম! পরে তারা তাদের মধ্যকার এমন এক পুরুষ ও এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল যারা যেনায় লিপ্ত হয়েছে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 98 · #486 · Daif, Daif, Daif
  99. 99

    । আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলূল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য (অর্থাৎ আমার উম্মাতের জন্য) সমগ্র জমিনকে পবিত্র এবং মাসজিদ (সিজদার স্থান) বানানো হয়েছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিমে জাবির সূত্রে।

    Book 2 · Hadith 99 · #487 · Sahih, Sahih, Sahih
  100. 100

    । আবূ সালিহ আল-গিফারী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। কোন এক সফরে ‘আলী (রাঃ) বাবিল নামক শহর অতিক্রমকালে তার কাছে মুয়াজ্জিন এসে ‘আসরের সালাতের আযান দেয়ার অনুমতি চাইল। কিন্তু তিনি বাবিল শহর থেকে বেরিয়ে এসে মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলার নির্দেশ দিলেন। মুয়াজ্জিন ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলে তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে বললেন, আমার প্রিয় বন্ধু (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে কবরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে আমাকে বাবিলের জমিনে সালাত আদায় করতেও নিষেধ করেছেন। কারণ তা অভিশপ্ত জমিন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 100 · #488 · Daif, Daif, Daif
  101. 101

    । আবূ সালিহ আল-গিফারী (রহঃ) ‘আলী (রাঃ) সূত্রে সুলাইমান ইবনু দাঊদ-এর অনুরূপ সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে ‘‘ফালাম্মা বারাযা’’ এর স্থলে ‘‘ফালাম্মা খারাজা’’ উল্লেখ করা হয়েছে।

    Book 2 · Hadith 101 · #489 · Daif, Daif, Daif, Daif
  102. 102

    । আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবলমাত্র গোসলখানা ও কবরস্থান ছাড়া সমগ্র জমিনই মাসজিদ (তথা সালাতের স্থান হিসেবে গণ্য)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 102 · #490 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  103. 103

    । আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করবে না। কারণ তা শয়তানের আড্ডাখানা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বকরীর খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ সেখানে সালাত আদায় করতে পার। কারণ তা বরকতময় প্রাণী (বা স্থান)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 103 · #491 · Sahih, Sahih, Sahih
  104. 104

    । ‘আবদুল মালিক ইবনু রাবী' ইবনু সাবুরাহ্ থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শিশুর বয়স সাত বছর হলেই তাকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিবে এবং তার বয়স দশ বছর হয়ে গেলে (সালাত আদায় না করতে চাইলে) এজন্য তাকে প্রহার করবে।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 104 · #492 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  105. 105

    । ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সালাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সালাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 105 · #493 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  106. 106

    । দাঊদ ইবনু সাওয়ার আল-মুযানী (রহঃ) একই সানাদ ও অর্থে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে অতিরিক্তভাবে একথাও রয়েছেঃ তোমাদের কেউ তার দাসীকে তার দাসের সঙ্গে বিয়ে দিলে (এরপর থেকে) সে তার (দাসীর) নাভির নিচে ও হাঁটুর উপরে তাকাবে না। [1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 106 · #494 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih
  107. 107

    । হিশাম ইবনু সা’দ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মু‘আয ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু খুবাইব আল-জুহানীর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, শিশু কখন সালাত আদায় করবে? তার স্ত্রী বললেন, আমাদের মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি এ বিষয়ে উল্লেখ করেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেনঃ শিশু যখন ডান ও বাম (হাতের) পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবে তখন তাকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিবে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 107 · #495 · Daif, Daif, Daif
  108. 108

    । আবূ ‘উমাইর ইবনু আনাস হতে তার এক আনসারী চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য লোকদের কিভাবে একত্র করা যায় সে সম্পর্কে চিন্তিত ছিলেন। কেউ পরামর্শ দিলেন, সালাতের সময় উপস্থিত হলে একটা পতাকা উড়ানো হোক। তা দেখে একে অন্যকে সংবাদ জানিয়ে দিবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এটা পছন্দ হলো না। কেউ কেউ প্রস্তাব করল, ইয়াহূদীদের ন্যায় শিঙ্গা-ধ্বনি দেয়া হোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাও পছন্দ করলেন না। কারণ তা ছিল ইয়াহূদীদের রীতি। কেউ কেউ নাকূস (ঘণ্টা ধ্বনি) ব্যবহারের প্রস্তাব করলে তিনি বলেনঃ ওটা নাসারাদের রীতি। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিন্তার কথা মাথায় নিয়ে প্রস্থান করলেন। অতঃপর (আল্লাহর পক্ষ হতে) স্বপ্নে তাকে আযান শিখিয়ে দেয়া হলো। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভোরে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি অবহিতকালে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক আগন্তুক এসে আমাকে আযান শিক্ষা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, একইভাবে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও বিশদিন আগেই স্বপ্নযোগে আযান শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি কারো কাছে তা ব্যক্ত না করে গোপন রেখেছিলেন। অতঃপর (আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদের স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলার পর) তিনিও তার স্বপ্নের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আগে বললে না কেন? তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ এ বিষয়ে আমার আগেই বলে দিয়েছেন। এজন্য আমি লজ্জিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিলাল! উঠো, এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ তোমাকে যেরূপ বলতে নির্দেশ দেয় তুমি তাই করো। অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। আবূ বিশর বলেন, আবূ ‘উমাইর আমার নিকট র্বণনা করেন যে, আনসারদের ধারণা ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ ঐদিন অসুস্থ না থাকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করতেন।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 108 · #496 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  109. 109

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘নাকুস’ (ঘণ্টা ধ্বনি) দিয়ে লোকদের সালাতের জন্য একত্র করা নির্দেশ দিলেন, তখন আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি হাতে ঘন্টা নিয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! ঘন্টাটি বিক্রি করবে কি? লোকটি বললঃ তা দিয়ে তুমি কি করবে? আমি বললাম, আমরা এর সাহায্যে লোকদের সালাতের জন্য ডাকব। লোকটি বলল, আমি কি তোমাকে এর চাইতে উত্তম জিনিস অবহিত করব না? আমি বললাম, অবশ্যই। লোকটি বলল, তুমি বলবেঃ ‘‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ, হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ; হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ (অর্থঃ আল্লাহু মহান, আল্লাহু সর্বশ্রেষ্ঠ (দুইবার), আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই (দুইবার), আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল (দুইবার), এসো সালাতের দিকে (দুইবার), এসো সফলতার দিকে (দুইবার), আল্লাহু মহান, আল্লাহু মহান, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই।) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি কিছুটা দূরে গিয়ে বলল, যখন সালাতের জন্য দাঁড়াবে তখন বলবেঃ ‘‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লালল্লাহু, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, ক্বাদ্ ক্বামাতিস সালাতু ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ অতঃপর ভোর হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে স্বপ্নে দেখা বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বললেনঃ এটা স্বপ্ন সত্য, ইনশাআল্লাহ। তুমি উঠো, বিলালকে সাথে নিয়ে গিয়ে তুমি স্বপ্নে যা দেখেছো তা তাকে শিখিয়ে দাও, যেন সে (ঐভাবে) আযান দেয়। কারণ তার কণ্ঠস্বর তোমার কণ্ঠস্বরের চেয়ে উচ্চ। অতঃপর আমি বিলালকে নিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাকে (আযানের শব্দগুলো) শিখাতে থাকলাম, বিলাল ঐগুলো উচ্চস্বরে বলতে লাগল। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) নিজ ঘর থেকে আযান শুনতে পেয়ে তৎক্ষনাৎ চাদর টানতে টানতে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ঐ মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য নবীরূপে পাঠিয়েছেন, আমিও একই স্বপ্নে দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই ....। [1] হাসান সহীহ। قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا رِوَايَةُ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ وَقَالَ فِيهِ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ ‏"‏ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ - صحيح . ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ সূত্রে যুহরী (রহঃ)-এর বর্ণনায়ও অনুরূপ রয়েছে। তাতে যুহরী সূত্রে ইবনু ইসহাক বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’’ (অর্থাৎ আল্লাহু আকবার চারবার বলেছেন)। সহীহ। وَقَالَ مَعْمَرٌ وَيُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِيهِ ‏"‏ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ لَمْ يُثَنِّيَا ‏. - صحيح - لكن أصح تربيع التكبير.‏ অপরদিকে যুহরী সূত্রে মা’মার ও ইউনুস বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।’’ তারা আল্লাহু আকবার দু’বার বলেছেন, চারবার বলেননি। সহীহ : কিন্তু তাকবীরে তারবী' করাটা অধিক সহীহ।

    Book 2 · Hadith 109 · #497 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  110. 110

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল মালিক ইবনু আবূ মাহযূরাহ হতে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি [আবূ মাহযূরাহ (রাঃ)] বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আযানের নিয়ম শিখিয়ে দিন। তিনি আমার মাথার সম্মুখ ভাগে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি বলবেঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার-উচ্চস্বরে। এরপর কিছুটা নীচু স্বরে বলবেঃ আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হাইয়্যা ‘আলাস সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাস সলাহ। হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ। ফজরের সালাত হলে বলবেঃ আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম, আসালাতু খাইরুম মিনান নাউম (ঘুমের চেয়ে সালাত উত্তম-দু’বার)। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 110 · #498 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  111. 111

    । আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তাতে রয়েছেঃ আসসালাতু খাইরুম মিনান-নাওম, আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম-(এটা) ফজরের প্রথম আযানে (বলবে)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদের বর্ণনা এর চেয়ে বেশি স্পষ্ট। তাতে রয়েছেঃ তিনি আমাকে ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো দুই দুইবার করে শিখিয়েছেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাল্-ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ‘আবদুর রাযযাক্ব বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার সময় ‘ক্বাদ্ ক্বামাতিস সালাতু, ক্বাদ ক্বামাতিস্ সলাহ’ দু’বার বলবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মাহযূরাহ (রাঃ)-কে বললেন, (আমি যেভাবে আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগলো শিখালাম) তুমি কি তা ঠিকমতো শুনেছ? বর্ণনাকারী বলেন, আবূ মাহযূরাহ তার কপালের চুল কাটতেন না এবং সেগুলো পৃথকও করতেন না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কপালে (এই চুলের উপর) হাত বুলিয়েছিলেন।[1] সহীহ : তবে ‘আবূ মাহযূরাহ তার কপালের চুল কাটতেন না...’ এ কথাটি বাদে।

    Book 2 · Hadith 111 · #499 · Sahih, Sahih, Hasan
  112. 112

    । আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আযানের শব্দ ঊনিশটি আর ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দ সতেরটি শিখিয়েছেন। আযানের শব্দগুলো হচ্ছেঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আর ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো হচ্ছেঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, ক্বাদ ক্বামাতিস সালাতু ক্বাদ ক্বামাতিস সলাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 112 · #500 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Sahih Sahih Muslim (379 Mukhtasar)
  113. 113

    । আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আযানের শব্দগুলো শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুমি বলোঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। তারপর কন্ঠস্বর উচুঁ করে আবার বলোঃ আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 113 · #501 · Sahih, Sahih, Sahih
  114. 114

    । আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে আমাকে অক্ষরে অক্ষরে আযানের শব্দগুলো শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আলল­াহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ফজরের (আযানে) বলতেন, আসসালাতু খাইরুম মিনান্ নাউম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 114 · #502 · Sahih, Sahih, Sahih
  115. 115

    । আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অক্ষরে অক্ষরে আযান শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বলতেনঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তারপর বাকী অংশ ‘আবদুল ‘আযিয ইবনু ‘আবদুল মালিক সূত্রে বর্ণিত ইবনু জুরাইজের হাদীসের অনুরূপ। মালিক ইবনু দীনারের হাদীসে রয়েছে, বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবূ মাহযূরাহর পুত্রকে বললাম, আপনার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেরূপ আযান শিখেছেন আমাকে তা বর্ণনা করুন। তিনি তার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার .....।[1] সহীহ, তাকবীরে তারবী' সহকারে। وَكَذَلِكَ حَدِيثُ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنِ ابْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ عَنْ عَمِّهِ عَنْ جَدِّهِ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ تَرَجَّعْ فَتَرَفَّعْ صَوْتَكَ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏. منكر : والمحفوظ : الترجيع في الشهادتين فقط . অনুরূপ জা‘ফর ইবনু সুলাইমান- ইবনু আবূ মাহযূরাহ-তার চাচা-তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাতে রয়েছেঃ তারপর তারজী' করবে এবং উচ্চস্বরে ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’’- বলবে। মুনকার : মাহফূয হচ্ছে কেবল শাহাদাতাইনে তারজী করা।

    Book 2 · Hadith 115 · #503 · Munkar, Sahih, Daif
  116. 116

    । ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের অবস্থা পর্যায়ক্রমে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, রসূলু্ল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের মুসলিমগণ অথবা মু’মিনগণের একত্রে জামা‘আতে সালাত আদায় করাটা আমার কাছে আনন্দদায়ক। এমনকি প্রাথমিক অবস্থায় আমি চিন্তা করলাম, সালাতের সময় হলে মানুষদের ডেকে আনার জন্য ঘরে ঘরে লোক পাঠিয়ে দিব। এমনকি আমি এ ইচ্ছাও করলাম যে, সালাতের সময় উপস্থিত হলে কিছু লোককে দুর্গের উপর দাঁড় করিয়ে দিব যারা মুসলিমদের সালাতের জন্য আহবান করবে। এমনকি তারা ‘নাকুস’ ঘন্টা ধ্বনিও বাজালো বা বাজাবার উপক্রম করল। বর্ণনাকারী বলেন, এমন সময় এক আনসারী এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে উৎকন্ঠিত দেখে আপনার কাছ থেকে ফিরে যাওয়ার পর (রাতে স্বপ্নে) এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। লোকটি যেন দু’টি সবুজ কাপড় পরে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে আযান দিল। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সে আবারও আযানের অনুরূপ শব্দ উচ্চারণ করল (ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিল)। কিন্তু ‘ক্বাদ ক্বামাতিস্ সালাতু’ অতিরিক্ত বলল। লোকেরা আমাকে মিথ্যাবাদী মনে না করলে আমি অবশ্যই বলব, আমি জাগ্রতই ছিলাম, ঘুমন্ত নয়। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই উত্তম স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তবে ‘আমরের বর্ণনায় ‘‘আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে উত্তম স্বপ্ন দেখিয়েছেন’ কথাটুকু নেই। তুমি বিলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দাও। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমিও তার মত একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু লোকটি আগেই বলে ফেলাতে আমি বলতে লজ্জাবোধ করি। ইবনু আবূ লায়লাহ বলেন, আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোন লোক মসজিদে এসে জামা‘আত হতে দেখলে মুসল্ল­ীদের কাছে সালাত কয় রাক‘আত হয়েছে তা জিজ্ঞেস করত। অতঃপর ইশারায় তা জানিয়ে দেয়া হতো। তারপর তারা ঐ পরিমাণ সালাত দ্রুত আদায় করে জামা‘আতে শামীল হত। ফলে তাঁর পিছনের মুক্তাদীদের অবস্থা পৃথক পৃথক হত। কেউ দাঁড়ানো, কেউ রুকু‘তে, কেউ বসা, আবার কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই সালাতরত অবস্থায় থাকত। ইবনু মুসান্না ‘আমর ও হুসায়ন ইবনু আবূ লায়লাহ সূত্রে বর্ণনা করেন, এমন সময় (জামা‘আত শুরু হওয়ার পর) মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) আসলেন। শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি একথা হুসাইন থেকে শুনেছিঃ তিনি বললেন, আমি আপনাকে যে অবস্থায় পাবো, তারই তো অনুসরণ করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু‘আয তোমাদের জন্য একটি সুন্নাত নির্ধারণ করেছে। তোমরাও সেরূপ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পদার্পণ করে তাদের তিন দিন সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। অতঃপর রমাযানের সিয়াম ফরয (হওয়া সম্পর্কিত) আয়াত অবতীর্ন হয়। সাহাবীগণের ইতিপূর্বে সিয়াম পালনের অভ্যাস না থাকায় সিয়াম পালনের বিধান তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। কাজেই কেউ সিয়াম পালন অক্ষম হলে মিসকীনকে খাদ্য আহার করাতেন। এমতাবস্থায় এই আয়াত নাযিল হলোঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ রমাযান মাস পেলে সে যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৫)। এতে রোগী ও মুসাফিরকে অব্যাহতি দিয়ে অবশিষ্ট সবাইকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দেয়া হলো। আমাদের সাথীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেনঃ (ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায়) কেউ ইফতার করে আহার না করে ঘুমিয়ে পড়লে তার পক্ষে পরদিন সূর্যাস্তের পূর্বে কোন কিছু খাওয়া বৈধ ছিল না। একদা ‘উমার (রাঃ) সহবাসের ইচ্ছা করলে তার স্ত্রী বললেন, আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। ‘উমার ধারনা করলেন, তার স্ত্রী বাহানা করছে। তাই তিনি স্ত্রী সহবাস করলেন। অন্যদিকে জনৈক আনসারী (ইফতারের পর) খাদ্য চাইলে লোকেরা বলল, অপেক্ষা করুন আমরা আপনার জন্য খানা তৈরি করছি।। ইতিমধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর সকাল বেলা এই আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘রোযার রাতে স্ত্রী সহবাস তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো।’’ (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৭)[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 116 · #504 · Sahih, Sahih, Daif
  117. 117

    । মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের অবস্থা পর্যায়ক্রমে তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। অনুরূপ সিয়ামের অবস্থাও তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। তারপর বর্ণনাকারী নাসর ঐরূপ দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। ইবনুল মুসান্না কেবল বাইতুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তৃতীয় অবস্থা এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পদার্পণ করার পর তের মাস যাবত বাইতুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। অতঃপর আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘আসমানের দিকে তোমার মুখ উত্তোলন আমরা লক্ষ্য করেছি। অতএব তোমার পছন্দের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে আমি তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি। এখন তুমি তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও। (সূরহ বাক্বারাহ, ১৪৪)। এভাবে আল্লাহ তাঁর মুখ কা’বার দিকে ফিরিয়ে দিলেন। ইবনুল মুসান্নার হাদীস এখানেই শেষ। আর যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন নাসর তার নাম উলে­খ করে বলেনঃ অতঃপর আনসার গোত্রের ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) আসলেন। তিনি উক্ত হাদীসে বলেনঃ স্বপ্নে দেখা লোকটি কিবলার দিকে মুখ করে বললঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ দু’বার, হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ দু’বার। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অতঃপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে আবারও দাঁড়িয়ে পূর্বের কথারই পুনরাবৃত্তি করল। তবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ বলেন, লোকটি হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ বলার পর ক্বাদ্ ক্বামাতিস্ সালাতু ক্বাদ্ ক্বামাতিস্ সলাহ বাক্য দু’বার বলল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এটা তুমি বিলালকে শিখিয়ে দাও। অতঃপর বিলাল (রাঃ) শিখানো শব্দগুলো দ্বারা আযান দিলেন। এরপর বর্ণনাকারী সওম (রোযা) সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসে তিন দিন এবং আশুরার দিন সিয়াম পালন করতেন। অতঃপর আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেনঃ ‘‘তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হলো যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছিল, যেন তোমরা আল্লাহভীরু (মুত্তাক্বী) হতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা মুসাফির হলে পরবর্তীতে তাকে এর ক্বাযা করতে হবে। যারা সিয়াম পালনে সক্ষম (হয়েও সিয়াম পালন করে না) তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে আহার করাবে’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৩-১৮৪)। এতে কেউ ইচ্ছে হলে সিয়াম পালন করত, আর কেউ বা সিয়াম পালন না করে প্রতি সিয়ামের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে আহার করাতো। এটাই তার জন্য যথেষ্ট ছিল। (সিয়ামের প্রাথমিক অবস্থা এরূপই ছিল) অতঃপর এ বিধান পরিবর্তন করে আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেনঃ ‘‘রমাযান হচ্ছে মহিমান্বিত মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা মানব জাতির পথপ্রদর্শক, হিদায়াতের স্পষ্ট দলীল এবং (হাক্ব ও বাতিলের মধ্যে) পার্থক্যকারী। তোমাদের যে কেউ রমাযান মাস পেলে সে যেন সিয়াম পালন করে। আর কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে সে পরবর্তী সময়ে তা ক্বাযা করে নিবে’’- (সূরাহ বাক্বারাহ, ১৮৫)। এরপর থেকে রমাযান মাস প্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির উপর সিয়াম ফরয হয়ে যায় এবং মুসাফিরের জন্য এর ক্বাযা আদায় ফরয সাব্যস্ত হয়। আর ফিদয়ার ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হয় সিয়াম পালনে অপারগ বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের জন্য। সাহাবী সিরমাহ (রাঃ) সারা দিন পরিশ্রম করেছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ, প্রথম দিকে তাকবীরে তারবী' সহকারে। ইরওয়াউল গালীল ৪/ ২০-২১।

    Book 2 · Hadith 117 · #505 · Sahih, Sahih, Daif
  118. 118

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলালকে আযান জোড় ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বেজোড় সংখ্যায় বলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। হাম্মাদ তার হাদীসে আরো বলেন, কিন্তু ‘‘ক্বাদ ক্বামাতিস সলাহ’’ বাক্যটি ছাড়া (অর্থাৎ এ বাক্যটি দু’বার বলতে হবে)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 118 · #506 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (605) Sahih Muslim (378)
  119. 119

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইসমাঈল বলেন, আমি এ হাদীস আইউবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, কিন্তু ক্বাদ ক্বামাতিস্ সলাহ (বাক্যটি জোড় সংখ্যায় বলবে)।

    Book 2 · Hadith 119 · #507 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (607) Sahih Muslim (378)
  120. 120

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আযানের শব্দগুলো দু’বার করে এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো একবার করে বলা হত। তবে ‘‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাতু’’ বাক্যটি দু’বার বলা হত। আমরা ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শুনলেই অযু করে সালাত আদায় করতে আসতাম। শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ জা‘ফর থেকে কেবলমাত্র এ হাদীসটিই শুনেছি।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 120 · #508 · Hasan, Hasan, Sahih, Sahih
  121. 121

    । মসজিদে ‘উরয়ানের মুয়াজ্জিন আবূ জা‘ফর (রহঃ) বলেন, আমি মাসজিদুল আকবারের মুয়াজ্জিন আবূল মুসান্না হতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে শুনেছি .... অতঃপর পুরো হাদীস বর্ণনা করেন।

    Book 2 · Hadith 121 · #509 · Hasan, Hasan, Sahih, Sahih
  122. 122

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান প্রচলনের জন্য কয়েকটি বিষয়ের ইচ্ছা করেছিলেন। কিন্তু এর কোনটিই করেননি। অতঃপর ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদকে স্বপ্নে দেখানো হলো। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা জানালে তিনি বললেনঃ বিলালকে শিখিয়ে দাও। তিনি বিলালকে শেখানোর পর বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি স্বপ্নে আযান দেখেছি, সেজন্য আমিই আযান দিতে চেয়েছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আচ্ছা, তুমি ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দাও।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 122 · #510 · Daif, Daif, Daif, Daif
  123. 123

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ তার দাদা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে এরূপই বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার দাদা (‘আব্দুল্লাহ) ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 123 · #511 · Daif, Daif, Daif, Daif
  124. 124

    । যিয়াদ ইবনুল হারিস আস-সুদাঈ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের প্রথম আযান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশক্রমে আমি দিয়েছিলাম। আযান শেষে আমি বলতে লাগলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিব? তিনি তখন পূর্ব দিগন্তে ভোরের আভা লক্ষ্য করে বললেনঃ না। ভোরের আলো প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি বাহন থেকে নেমে পেশাব-পায়খানা সেরে আমার দিকে ফিরে এলেন। সাহাবীগণ তাঁর সাথে মিলিত হলেন (চারপাশে উপস্থিত হলেন)। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি অযু করলেন। বিলাল (রাঃ) ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিতে চাইলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ নিশ্চয় আমাদের ভাই সুদা আযান দিয়েছে। আর যে আযান দেয় সে-ই ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিবে। অতঃপর আমি ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলাম। [1] দুর্বল : ইরওয়া ২৩৭, যঈফাহ্ ৩৫।

    Book 2 · Hadith 124 · #512 · Daif, Daif, Daif, Daif
  125. 125

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যতদূর পর্যন্ত যায় তাকে ততদূর ক্ষমা করে দেয়া হয়। তাজা ও শুষ্ক প্রতিটি জিনিসই (কিয়ামতের দিন) তার জন্য সাক্ষী হয়ে যাবে। আর কেউ জামাআতে হাজির হলে তার জন্য পঁচিশ ওয়াক্ত সালাতের সাওয়াব লিখা হয় এবং এক সালাত থেকে আরেক সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 125 · #513 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  126. 126

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান সশব্দে হাওয়া ছাড়তে ছাড়তে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়, যেন আযানের শব্দ তার কানে না পৌঁছে। আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে সে আবার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়। ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শেষে সে আবার ফিরে আসে এবং মুসল্লীর মনে অহেতুক চিন্তার উদ্রেক করে এবং বলে, উমুক কথা স্মরণ কর। সে এমন কথা স্মরণ করয়ে দেয় যা তার চিন্তায়ই আসেনি। এমনকি মুসল্লী কখনো ভুলেই যায় যে, কত রাক‘আত সালাত আদায় করেছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 126 · #514 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (608) Sahih Muslim (389)
  127. 127

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম হচ্ছেন যিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন (ওয়াক্তের) আমানাতদার। ‘হে আল্লাহ! ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দিন।’[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 127 · #515 · Sahih, Hasan
  128. 128

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন...পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।

    Book 2 · Hadith 128 · #516 · Daif, Sahih, Sahih, Hasan
  129. 129

    । বানু নাজ্জারের এক মহিলা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) মসজিদের নিকটবর্তী আমার ঘরটিই ছিল সবচেয়ে উঁচু। বিলাল (রাঃ) ঘরের ছাদে উঠে ফজরের আযান দিতেন। তিনি সাহরীর সময় (শেষ রাতে) সেখানে এসে বসতেন এবং সুবহে সাদিকের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে তিনি শরীরের আড়মোড় ভেঙ্গে (বা হাই তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করছি এবং কুরাইশদের ব্যাপারে আপনার কাছে সাহায্য চাইছি যেন তাদের দ্বারা আপনার দ্বীন ক্বায়িম হয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি আযান দিতেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! কোন রাতেই আমি বিলালকে এ কথাগুলো ত্যাগ করতে দেখিনি।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 129 · #517 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  130. 130

    । ‘আওন ইবনু আবূ জুহায়ফাহ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাক্কাহতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি তখন লাল চামড়ার তৈরী ছোট তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় বিলাল বের হয়ে এসে আযান দিলেন। আযানের সময় আমি তার মুখের দিকে লক্ষ্য করছিলাম যে, তিনি এদিক ওদিক মুখ ঘুরাচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ে ডোরাকাটা চাদর জড়িয়ে বেরিয়ে এলেন।[1] সহীহ : মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে। وَقَالَ مُوسَى قَالَ رَأَيْتُ بِلَالاً خَرَجَ إِلَى الأَبْطَحِ فَأَذَّنَ فَلَمَّا بَلَغَ حَىَّ عَلَى الصَّلَاةِ حَىَّ عَلَى الْفَلَاحِ ‏.‏ لَوَى عُنُقَهُ يَمِينًا وَشِمَالاً وَلَمْ يَسْتَدِرْ ثُمَّ دَخَلَ فَأَخْرَجَ الْعَنَزَةَ وَسَاقَ حَدِيثَهُ ‏.‏ منكر . বর্ণনাকারী মূসা বলেন, আবূ জুহায়ফাহ (রাঃ) বলেন, আমি দেখলাম, বিলাল (রাঃ) ‘আবত্বাহ’ নামক স্থানে গিয়ে আযান দিলেন। তিনি ‘হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ, হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ’ পর্যন্ত পৌঁছলে স্বীয় ঘাড় ডানে-বামে ঘুরালেন, তবে শরীর ঘুরাননি। অতঃপর তাঁবুতে প্রবেশ করে একটি বর্শা (বা ছড়ি) বের করলেন। .. এরপর বর্ণনাকারী মূসা হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। মুনকার।

    Book 2 · Hadith 130 · #518 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (503)
  131. 131

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যবর্তী সময়ের দু‘আ কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 131 · #519 · Sahih, Sahih, Sahih
  132. 132

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আযান শুনতে পেলে মুয়াজ্জিন যেরূপ বলবে তোমরাও তদ্রূপ বলবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 132 · #520 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (611) Sahih Muslim (383)
  133. 133

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা আযান শুনতে পেলে মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রুপ বলবে। তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কেননা কেউ আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করবে। ওয়াসিলাহ হচ্ছে জান্নাতের একটি বিশেষ মর্যাদার আসন, যার অধিকারী হবেন আল্লাহর একজন বিশিষ্ট বান্দা। আমি আশা করছি, আমিই হবো সেই বান্দা। কেউ আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওয়াসিলাহ্ প্রার্থনা করলে সে আমার শাফা‘আত পাবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 133 · #521 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (384)
  134. 134

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! মুয়াজ্জিন তো আমাদের উপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুয়াজ্জিনরা যেরূপ বলে থাকে তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর আযান শেষ হলে (আল্লাহর নিকট) দু‘আ করবে। তখন তোমাকে তা-ই দেয়া হবে (তোমার দু‘আ কবুল হবে)।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 134 · #522 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  135. 135

    । সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে বলেঃ ‘‘এবং আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তাঁর কোন শারীক নেই। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।’’- তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 135 · #523 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (386)
  136. 136

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ্জিনকে শাহাদাতের শব্দ উচ্চারণ করতে শুনলে বলতেন, আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমিও অনুরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 136 · #524 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  137. 137

    । ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি মুয়াজ্জিনের আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার-এর জওয়াবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে এবং আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর জওয়াবে আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে এবং আশহাদু আন্না মুাহম্মাদার রাসূলুল্লাহ এর জওয়াবে আশহাদু আন্না মুাহম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলে। অতঃপর হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ-এর জওয়াবে যদি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলে। তারপর হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ-এর জওয়াবে যদি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলে। তারপর যদি আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার জওয়াবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর জওয়াবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 137 · #525 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (385)
  138. 138

    । আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সাহাবী সূত্রে বর্ণিত। বিলাল (রাঃ) ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। তিনি ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সলাহ’ বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদমাহা।’’ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের অবশিষ্ট শব্দগুলোর জওয়াব ঐরূপ দিলেন যেরূপ ‘উমার (রাঃ) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসে আযান সম্পর্কে বলা হয়েছে।[1] দুর্বল : ইরওয়া ২৪১।

    Book 2 · Hadith 138 · #526 · Daif, Daif, Daif, Daif
  139. 139

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনার পর নিম্নোক্ত দু‘আ পড়বে তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার শাফা‘আত অবশ্যম্ভাবীঃ আল্লা­হুম্মা রব্বা হাযিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তাম্মাতি ওয়াস্ সালাতিল ক্বায়িমাতি আতি মুহাম্মাদানিল্ ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাযীলাহ্ ওয়াব‘আসহু মাক্বামাম্ মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদ্তাহহু। অর্থঃ হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও চিরন্তন সালাতের রব! আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াসিলাহ ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করুন এবং তাঁকে আপনার প্রতিশ্রুত প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করুন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 139 · #527 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (614)
  140. 140

    । উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন আমি যেন মাগরিবের আযানের সময় এ দু‘আ পাঠ করিঃ আল্লাহুম্মা ইন্না হাযা ইক্ববালু লাইলিকা ওয়া ইদবারু নাহারিকা ওয়া আসওয়াতু দু‘আয়িকা ফাগফিরলী। অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! এটা হচ্ছে আপনার রাত আসার সময়, আপনার দিন বিদায়ের মুহূর্ত এবং আপনাকে আহবানকারীর ডাক শোনার সময়। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’[1] দুর্বল : মিশকাত ৬৬৯।

    Book 2 · Hadith 140 · #528 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  141. 141

    । ‘উসমান ইবনু আবূল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আমার সম্প্রদায়ের ইমাম নিয়োগ করুন। তিনি বলেনঃ যাও, তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হলো। তবে দূর্বল মুক্তাদীদের প্রতি খেয়াল রাখবে এবং এমন একজন মুয়াজ্জিন নিয়োগ করবে যে তার আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না।[1] সহীহ : মুসলিম, মুয়াজ্জিন নিয়োগের কথাটি বাদে।

    Book 2 · Hadith 141 · #529 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  142. 142

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা বিলাল (রাঃ) সুবহে সাদিকের আগেই আযান দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনরায় আযান দেয়ার স্থানে ফিরে গিয়ে এ ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিলেনঃ জেনে রাখ, বান্দা (বিলাল) আযানের সময় সম্পর্কে অমনোযোগী হয়ে পড়েছিল। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ ছাড়া অন্য কেউ আইয়ূব (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেননি।

    Book 2 · Hadith 142 · #530 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  143. 143

    । নাফি' (রহঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর মাসরূহ নামক এক মুয়াজ্জিন ছিল। একদা তিনি সুবহে সাদিকের পূর্বেই আযান দিলে ‘উমার (রাঃ) তাকে (পুনরায় আযান দেয়ার) নির্দেশ দিলেন ... তারপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবনু যায়িদ হতে ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমার থেকে নাফি' অথবা অন্য কারো সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, দারাওয়ার্দী, ‘উবাইদুল্লাহ হতে নাফি' থেকে ইবনু ‘উমার সূত্রে বর্ণনা করেনঃ ‘উমার (রাঃ)-এর মাস‘ঊদ নামক একজন মুয়াজ্জিন ছিল। আর এটাই প্রথম কথার চাইতে অধিকতর সহীহ।

    Book 2 · Hadith 143 · #531 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  144. 144

    । বিলাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ভোরের আলো এরূপ প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তুমি আযান দিবে না। এই বলে তিনি তাঁর উভয় হাত (উত্তর ও দক্ষিন দিকে) প্রসারিত করলেন। [1] হাসান। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শাদ্দাদ (রহঃ) বিলাল (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাননি।

    Book 2 · Hadith 144 · #532 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  145. 145

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ্জিন ছিলেন। আর তিনি ছিলেন অন্ধ।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 145 · #533 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (381)
  146. 146

    । আবূশ্-শা‘সা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সাথে মসজিদে ছিলাম। মুয়াজ্জিন ‘আসরের আযান দিলে এক ব্যক্তি মাসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, লোকটি আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচারণ করল।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 146 · #534 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (655)
  147. 147

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) আযান দেয়ার পর অপেক্ষমান থাকতেন। তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বের হতে দেখতেন, তখন সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 147 · #535 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (606)
  148. 148

    । মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি যুহর কিংবা ‘আসরের সালাতের জন্য তাসবীব (পুনরায় আহবান) করায় ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, চল আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাই। কারণ এটা বিদ‘আত।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 148 · #536 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  149. 149

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ তার পিতা আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয়, তখন আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا رَوَاهُ أَيُّوبُ وَحَجَّاجٌ الصَّوَّافُ عَنْ يَحْيَى ‏.‏ وَهِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ قَالَ كَتَبَ إِلَىَّ يَحْيَى ‏.‏ وَرَوَاهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ وَعَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى وَقَالَا فِيهِ ‏"‏ حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ ‏"‏ ‏.‏ صحيح : خ . মু‘আবিয়াহ ইবনু সাল­াম ও ‘আলী ইবনুল মুবারক ইয়াহ্ইয়াহ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা শান্তভাবে (অপেক্ষা করতে) থাকবে। সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 149 · #537 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (637) Sahih Muslim (604)
  150. 150

    । ইয়াহ্ইয়াহ (রহঃ) একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ যতক্ষণ না তোমরা দেখবে, আমি বের হয়েছি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি বের হয়েছি, শব্দগুলো মা’মার ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। ইবনু ‘উয়াইনাহও মা’মার সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতেও ‘আমি বের হয়েছি’ কথাটি উল্লেখ নেই।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 150 · #538 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (637) Sahih Muslim (604)
  151. 151

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসার সময় হলেই সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্থানে আসার পূর্বেই লোকেরা নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 151 · #539 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (640) Sahih Muslim (605)
  152. 152

    । হুমাইদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাবিত আল-বুনানীকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হওয়ার পরও কথা বলেছিল। তিনি আনাস (রাঃ) সূত্রে হাদীস বর্ণনা করে বলেন, ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যাওয়ার পর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে এবং তাঁকে (কথাবার্তায়) ব্যস্ত রাখে।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 152 · #540 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (643)
  153. 153

    । কাহমাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনায় আমরা সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম, কিন্তু তখনো ইমাম বের হননি। এমতাবস্থায় আমাদের মধ্যকার কেউ কেউ বসে পড়ল। কুফাবাসী জনৈক শায়খ বললেন, কিসে আপনাকে বসিয়ে দিল? আমি বললাম, ইবনু বুরাইদাহ। তিনি বলেছেন, ইমামের জন্য এভাবে (দাঁড়িয়ে) অপেক্ষা করা নিষ্প্রোয়োজন। তিনি বলেন, আমার শায়খ ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওসাজাহ (রহঃ) আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তাকবীরে তাহরীমা বলার পূর্বে সালাতের কাতারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতাম। তিনি আরো বলেন, সম্মানিত মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর মালায়িকাহ্ (ফিরিশতাগণ) দু‘আ করে থাকেন ঐ লোকদের জন্য যারা সামনের কাতারসমূহের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহর নিকট ঐ পদক্ষেপের চাইতে অধিক পছন্দনীয় পদক্ষেপ আর কোনটি নেই মানুষেরা যা কাতারবদ্ধ হবার জন্য করে থাকে।[1] দুর্বল : মিশকাত ১০৯৫।

    Book 2 · Hadith 153 · #541 · Daif, Daif, Daif
  154. 154

    । আনাস (রাঃ) বলেন, (‘ইশার) সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কোণে এক লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি সালাত শুরু করতে আসায় বিলম্ব করায় অপেক্ষমান লোকজন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 154 · #542 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (642) Sahih Muslim (376)
  155. 155

    । সালিম আবূন্ নাদর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলার পর মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা কম দেখলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শুরু না করে বসে যেতেন। অতঃপর যখনই পূর্ণ জামা‘আতের মুসল্লীর সমাগম হতে দেখতেন তখন সালাত আদায়ে দাঁড়াতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 155 · #543 · Daif, Daif, Daif
  156. 156

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ইসহাক হতে.... ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে এই সানাদে পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

    Book 2 · Hadith 156 · #544 · Daif, Daif, Daif
  157. 157

    । আবূ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন জনপদে বা বনজঙ্গলে তিনজন লোক একত্রে বসবাস করা সত্ত্বেও তারা জামা‘আতে সালাত আদায়ের ব্যবস্থা না করলে তাদের উপর শয়তান আধিপত্য বিস্তার করে। অতএব তোমরা জামা‘আতকে আকঁড়ে ধর। কারণ নেকড়ে (বাঘ) দলচ্যুত বকরীটিকেই খেয়ে থাকে। যায়িদাহ (রহঃ) বলেন, সায়িব (রহঃ) বলেছেন, এখানে জামা‘আত বলতে সালাতের জামা‘আতকেই বোঝানো হয়েছে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 157 · #545 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Sahih
  158. 158

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয়, (লোকদেরকে জামা‘আতে) সালাত আদায়ের নির্দেশ দেই এবং কাউকে লোকদের সালাত আদায় করাবার হুকুম করি, অতঃপর লাকড়ি বহনকারী কিছু লোককে সাথে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়ি। সেগুলো দ্বারা ঐসব লোকের ঘর-বাড়ি আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য যারা জামা‘আতে (সালাত আদায় করতে) উপস্থিত হয়নি।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 158 · #546 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (657) Sahih Muslim (651)
  159. 159

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয়, আমি আমার যুবকদের লাকড়ির বোঝা জমা করার নির্দেশ দেই, অতঃপর যারা কোন কারণ ছাড়াই নিজ নিজ ঘরে সালাত আদায় করে, সেগুলো দিয়ে তাদের ঘর জ্বালিয়ে দেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্মকে বললাম, হে আবূ ‘আওফ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা‘আত বলতে কি জুম্মার কথা বুঝিয়েছেন? তিনি বলেন, আমার দু’ কান বধির হোক, যদি আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে না শুনে থাকি। তিনি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নির্দিষ্টভাবে) জুমু‘আহ্ বা অন্য কিছুর উল্লে­খ করেননি।[1] সহীহ : (لَيْسَتْ بِهِمْ عِلَّةٌ) কথাটি বাদে।

    Book 2 · Hadith 159 · #547 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (651)
  160. 160

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা সঠিকভাবে আযানের সাথে এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি সবিশেষ নযর রাখবে। কেননা এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই হচ্ছে হিদায়াতের পথ। মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য হিদায়াতের এ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের (সাধারণ) ধারণা, স্পষ্ট মুনাফিক ব্যতীত কেউ জামা‘আত থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে না। আমরা তো আমাদের মধ্যে এমন লোকও দেখেছি, যারা (দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে) দু’জনের উপর ভর করে (মসজিদে) যেত এবং তাকে (সালাতের) কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার ঘরে তার মাসজিদ (সালাতের স্থান) নেই। তোমরা যদি মসজিদে আসা বাদ দিয়ে ঘরেই (ফরয) সালাত আদায় কর তাহলে তোমরা তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতকেই বর্জন করলে। আর তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগ করলে অবশ্যই কুফরীতে জড়িয়ে পড়বে। [1] সহীহ : মুসলিমে (لضللتم) ‘‘তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে’’ শব্দে। আর এটাই মাহফূয।

    Book 2 · Hadith 160 · #548 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (654)
  161. 161

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনা সত্ত্বেও কোনরূপ ওজর ছাড়া (বিনা কারণে) জামা‘আতে সালাত আদায়ে বিরত থাকে তার অন্যত্র (একাকী) সালাত কবুল হবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ওজর কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ভয়-ভীতি অথবা অসুস্থতা। [1] সহীহ : ওজর সম্পর্কিত বাক্যটি বাদে। এছাড়া(ولا صلاة له) শব্দে মিশকাত।

    Book 2 · Hadith 161 · #549 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  162. 162

    । ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো অন্ধ, আমার ঘরও দূরে অবস্থিত। আমার একজন পথচালকও আছে, কিন্তু সে আমার অনুগত নয়। এমতাবস্থায় আমার জন্য ঘরে সালাত আদায়ের অনুমতি আছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আযান শুনতে পাও? ইবনু উম্মে মাকতূম বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার জন্য অনুমতির কোন সুযোগ দেখছি না।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 162 · #550 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif, Daif
  163. 163

    । ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! মাদীনাতে অনেক কীট-পতঙ্গ ও হিংস্র জন্তু রয়েছে (যদ্বারা আক্রান্ত হবার আশংকা আছে, এরূপ অবস্থায়ও কি মসজিদে জামা‘আতে হাযির হতে হবে?)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ্, হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ শুনতে পাও? (শুনতে পেলে) অবশ্যই জামা‘আতে আসবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 163 · #551 · Sahih, Sahih, Daif
  164. 164

    । উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করার পর বললেনঃ অমুক হাযির আছেন কি? সাহাবীগণ বললেনঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দুই ওয়াক্ত (ফজর ও ‘ইশা) সালাতই মুনাফিকদের জন্য বেশি ভারী হয়ে থাকে। তোমরা যদি এই দুই ওয়াক্ত সালাতে কি পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে তা জানতে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তোমরা অবশ্যই এতে শামিল হতে। জামা‘আতের প্রথম কাতার মালায়িকাহর (ফিরিশতাদের) কাতারের সমতুল্য। তোমরা যদি এর ফাযীলাত সম্পর্কে জানতে, তাহলে অবশ্যই তোমরা এজন্য প্রতিযোগিতা করতে। নিশ্চয় দু’জনের জামা‘আত একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। তিনজনের জামা‘আত দু’জনের জামা‘আতের চেয়ে উত্তম। জামা‘আতে লোক সংখ্যা যত বেশী হবে মহান আল্লাহর নিকট তা ততই বেশি পছন্দনীয়।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 164 · #552 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Sahih
  165. 165

    । ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত ‘ইবাদাতে কাটালো। আর যে ব্যক্তি ‘ইশা ও ফজরের সালাত জামা‘আতে আদায় করল, সে যেন সারা রাতই ‘ইবাদাতে কাটালো।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 165 · #553 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (656)
  166. 166

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থেকে যার (বাসস্থান) যত বেশী দূরে, সে তত বেশি সাওয়াবের অধিকারী।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 166 · #554 · Sahih, Sahih, Sahih
  167. 167

    । উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার জানা মতে মদীনার সালাত আদায়কারীদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তির বাসস্থান মাসজিদ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে অবস্থিত ছিল। এ সত্ত্বেও তিনি সর্বদা পায়ে হেঁটে জামা‘আতে উপস্থিত হতেন। আমি তাকে বললাম, আপনি একটি গাধা খরিদ করে নিলে গরম ও অন্ধকারে তাতে সওয়ার হয়ে আসতে পারতেন। তিনি বললেন, আমার ঘর মসজিদের নিকটবর্তী হোক, তা আমি অপচ্ছন্দ করি। একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি মসজিদে আসা ও মাসজিদ থেকে ঘরে ফেরার বিনিময়ে সাওয়াব লাভের প্রত্যাশা করি (তাই এরূপ বলেছি)। তিনি বললেনঃ তুমি যা পাওয়ার আশা করেছ, আল্লাহ তোমাকে তাই দিয়েছেন। তুমি যে সাওয়াবের প্রত্যাশা করেছ আল্লাহ তা পূর্ণরূপেই তোমার জন্য মঞ্জুর করেছেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 167 · #555 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (663)
  168. 168

    । আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফরয সালাতের জন্য অযু করে নিজ ঘর থেকে বের হবে, সে একজন ইহরামধারী হাজ্জীর সমান সাওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি চাশতের সালাত আদায় করার জন্য বের হবে, সে একজন ‘উমরাহকারীর সমান সাওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত সালাত আদায়ের পর থেকে আরেক ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মধ্যবর্তী সময়ে কোন বাজে কথা বা কাজ করবে না, তাকে ইল্লি­ন-এ লিপিবদ্ধ করা হবে (অর্থাৎ তার মর্যাদা সুউচ্চ হবে)।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 168 · #556 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  169. 169

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঘরে ও বাজারে (একাকী) সালাত আদায় অপেক্ষা জামা‘আতে সালাত আদায় করলে পঁচিশ গুণ বেশি সাওয়াব পাবে। কেননা তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে অযু করে শুধুমাত্র সালাতের উদ্দেশেই মসজিদে যায়, এবং একমাত্র সালাতই তাকে (ঘর থেকে) বের করে, তাহলে মসজিদে পৌঁছা পর্যন্ত তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং একটি করে গুনাহ ক্ষমা হয়। মসজিদে প্রবেশ করার পর সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতের জন্য অবস্থান করবে ততক্ষণ তাকে সালাতের মধ্যেই গণ্য করা হবে। সে যতক্ষণ পর্যন্ত তার সালাত আদায়ের স্থানে অবস্থান করে মালায়িকাহ্ তার জন্য এই বলে দু‘আ করতে থাকেঃ ‘‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। হে আল্লাহ! তার তওবা্ কবুল করুন।’’ যতক্ষণ পর্যন্ত সে কাউকে কষ্ট না দেয় অথবা তার অযু না ভাঙ্গে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ্ (ফিরিশতাগণ) তার জন্য এরূপ দু‘আ করতে থাকে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 169 · #557 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (477) Sahih Muslim (649)
  170. 170

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতের সাথে এক ওয়াক্ত সালাত (একাকী) পঁচিশ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের সমান। কেউ কোন খোলা মাঠে (জামা‘আতের সাথে) পূর্ণরূপে রুকু'-সিজদা্ সহকারে সালাত আদায় করলে সে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সাওয়াব পাবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যিয়াদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেনঃ কোন ব্যক্তির মাঠে বা জঙ্গলে (জামা‘আতে) সালাত আদায় করা (অন্যত্র) জামা‘আতে সালাতের উপর কয়েকগুণ বেশি সাওয়াব হবে, অতঃপর পুরো হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : বুখারীতে এর প্রথমাংশ।

    Book 2 · Hadith 170 · #558 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  171. 171

    । বুরায়দাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা অন্ধকার রাতে মসজিদে যাতায়াত করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন পূর্ণজ্যোতির সুসংবাদ দাও।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 171 · #559 · Sahih, Sahih, Sahih
  172. 172

    । আবূ সুমামাহ আল-হান্নাত সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি মসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কা’ব ইবনু ‘উজরাহর (রাঃ) সাথে তার সাক্ষাত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে আমার দু’ হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাতে দেখতে পেয়ে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি আরো বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অযু করে মসজিদের উদ্দেশে বের হলে সে যেন তার দু’ হাতের আঙ্গুল না মটকায়। কেননা সে তখন সালাতের মধ্যেই থাকে (অর্থাৎ ঐ অবস্থায় তাকে সালাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 172 · #560 · Sahih, Sahih, Hasan
  173. 173

    । সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী সাহাবীর মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট কেবল সাওয়াব লাভের প্রত্যাশায় একটি হাদীস বর্ণনা করব। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে অযু করে সালাতের উদ্দেশে বের হয়, তখন সে তার ডান পা উঠাতেই মহান আল্লাহ তার জন্য একটি সাওয়াব লিখে দেন। এরপর বাম পা ফেলার সাথে সাথেই মহা সম্মানিত আল্লাহ তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে মসজিদের নিকটে থাকবে অথবা দুরে। অতঃপর সে যখন মসজিদে গিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। যদি জামা‘আত শুরু হয়ে যাওয়ার পর মসজিদে উপস্থিত হয় এবং অবশিষ্ট সালাতে শামিল হয়ে সালাতের ছুটে যাওয়া অংশ পূর্ণ করে, তাহলেও তাকে অনুরূপ (জামা‘আতে পূর্ণ সালাত আদায়কারীর সমান সাওয়াব) দেয়া হয়। আর যদি সে (মসজিদে এসে) জামা‘আত সমাপ্ত দেখে একাকী সালাত আদায় করে নেয়, তবুও তাকে ঐরূপ (ক্ষমা করে) দেয়া হয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 173 · #561 · Sahih, Sahih, Daif
  174. 174

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে মসজিদে গিয়ে দেখতে পেল লোকেরা সালাত আদায় করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ তাকেও জামা‘আতে শামিল হয়ে সালাত আদায়কারীদের সমান সাওয়াব দান করবেন। অথচ তাদের সাওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 174 · #562 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  175. 175

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর বাঁদীদেরকে আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) যেতে নিষেধ করো না। তবে তারা বের হওয়ার সময় যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 175 · #563 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  176. 176

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর বাঁদীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 176 · #564 · Daif, Sahih, Sahih Bukhari (900) Sahih Muslim (442)
  177. 177

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 177 · #565 · Sahih, Sahih, Daif
  178. 178

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মহিলাদেরকে রাতের বেলা মসজিদে যেতে অনুমতি দাও। তখন তার এক ছেলে (বিলাল) বলল, আল্লাহর শপথ! আমি তাদেরকে (রাতের বেলা মসজিদে যেতে) অনুমতি দিব না। এটাকে তারা বাহানা হিসেবে গ্রহণ করবে। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো তাদেরকে অনুমতি দিব না। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে গালমন্দ করেন এবং ক্রোধান্বিত হয়ে বলেন, আমি তোমাকে বলছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মহিলাদের অনুমতি দাও, আর তুমি কিনা বলছ, আমি তাদেরকে অনুমতি দিব না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 178 · #566 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (442)
  179. 179

    । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আজকের মহিলাদের এরূপ অবস্থা দেখতেন (যেমন সুগন্ধি লাগানো, বেপর্দা চলা), তাহলে অবশ্যই তিনি তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করে দিতেন। যেরূপ নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল বনী ইসরাঈলের মহিলাদের। বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়াহ্ বলেন, আমি ‘আমরাহকে বললাম, বনী ইসরাঈলের মহিলাদের কি নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 179 · #567 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (869) Sahih Muslim (445)
  180. 180

    । ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদের জন্য ঘরের আঙ্গিনায় সালাত আদায়ের চাইতে তার গৃহে সালাত আদায় করা উত্তম। আর নারীদের জন্য গৃহের অন্য কোন স্থানে সালাত আদায়ের চাইতে তার গোপন কামরায় সালাত আদায় করা অধিক উত্তম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 180 · #568 · Sahih, Sahih, Daif
  181. 181

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা যদি এ দরজাটি কেবল মহিলাদের জন্য ছেড়ে দেই, তবে ভালই হয়। নাফি‘ (রহঃ) বলেন, অতঃপর ইবনু ‘উমার (রাঃ) মৃত্যু পর্যন্ত ঐ দরজা দিয়ে আর কখনো মসজিদে প্রবেশ করেননি।[1] সহীহ ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম আইয়ূব হতে, তিনি নাফি' হতে ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটাই অধিক সহীহ।

    Book 2 · Hadith 181 · #569 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  182. 182

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে তোমরা সালাতের জন্য দৌড়ে আসবে না, বরং স্বাভাবক গতিতে শান্তভাবে হেঁটে আসবে এবং (ইমামের সাথে) যতটুকু সালাত পাবে আদায় করে নেবে। আর যেটুকু ছুটে গেছে তা পূর্ণ করে নিবে।[1] হাসান সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যুবাইদী, ইবনু আবূ যি’ব, ইব্রাহীম ইবনু সা‘দ, মা‘মার, ও শু‘আয়ব ইবনু হামযাহ প্রমূখ যুহরী সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ ‘‘সালাতের যেটুকু ছুটে যাবে তোমরা তা পূর্ণ করে নেবে’’। ‏ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَحْدَهُ ‏"‏ فَاقْضُوا ‏"‏ ‏. - شاذ . ‏ وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏"‏ فَأَتِمُّوا ‏"‏ ‏.‏ وَابْنُ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم وَأَبُو قَتَادَةَ وَأَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم كُلُّهُمْ قَالُوا ‏"‏ فَأَتِمُّوا ‏"‏ ‏.‏ যুহরী সূত্রে কেবল ইবনু ‘উয়ায়নাহ বর্ণনা করেছেন যে, ‘‘তোমরা আদায় করে নিবে’’। শায। হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ, ইবনু মাস‘উদ, ক্বাতাদাহ, আনাস (রাযিআল্লাহ ‘আনহুম) প্রমূখ সহাবায়ি কিরামগণ হতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেনঃ ‘‘তোমরা তা পূর্ণ করে নেবে।’’

    Book 2 · Hadith 182 · #570 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (636) Sahih Muslim (602)
  183. 183

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সালাতের জন্য স্বাভাবিক গতিতে শান্তভাবে আসবে। অতঃপর (ইমামের সাথে) যেটুকু পাবে আদায় করবে, যেটুকু ছুটে গেছে তা পূর্ণ করে নিবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে ইবনু সীরীন কিছুটা শাব্দিক পার্থক্য সহকারে এরূপই বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 183 · #571 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  184. 184

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একাকী সালাত আদায় করতে দেখে বললেনঃ এ লোকটিকে সাদাকা করার মত কি এমন কেউ নেই যে তার সাথে সালাত আদায় করবে?[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 184 · #572 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  185. 185

    । জাবির ইবনু ইয়াযীদ ইবনু আসওয়াদ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, তিনি যুবক বয়সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে দেখা গেল, দু’জন লোক সালাত আদায় না করে মসজিদের কোণে বসে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডাকলেন। তারা এরূপ অবস্থায় আসল যে, ভয়ে তাদের পাঁজরের গোশত কাঁপছিল। তিনি বললেনঃ আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে কোন জিনিস তোমাদেরকে বাধা দিল? তারা বলল, আমরা তো ঘরে সালাত আদায় করেছি। তিনি বললেনঃ তোমরা এরূপ করবে না। তোমাদের কেউ ঘরে সালাত আদায়ের পর ইমামকে এসে সালাত আদায়রত পেলে সে যেন তার সাথে সালাত আদায় করে। যা তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 185 · #573 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  186. 186

    । জাবির ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিনাতে ফজরের সালাত আদায় করলাম ...... পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 186 · #574 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  187. 187

    । ইয়াযীদ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে সালাতরত পেয়ে তাঁদের সাথে সালাত আদায়ে শামিল না হয়ে বসে পড়লাম। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে ফিরে ইয়াযীদকে বসে থাকতে দেখে বললেনঃ তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করনি, হে ইয়াযীদ? ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কেন তুমি লোকদের সাথে জামা‘আতে শামিল হওনি? ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, আমি ভেবেছিলাম আপনারা সালাত আদায় করে ফেলেছেন, তাই আমি বাড়িতে সালাত আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ তুমি মসজিদে এসে লোকদের সালাতরত পেলে তাদের সাথে সালাতে শরীক হবে, যদিও তুমি তা আগে আদায় করে থাক। সেটা (জামা‘আতের সাথে আদায়কৃত সালাত) তোমার জন্য নফল হিসেবে এবং এটা (ঘরে আদায়কৃত সালাত) ফরয হিসেবে গণ্য হবে।[1] দুর্বল : মিশকাত ১১১৫।

    Book 2 · Hadith 187 · #575 · Daif, Daif, Daif, Daif
  188. 188

    । বানু আসাদ ইবনু খুযাইমার জনৈক ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত। তিনি আবূ আইয়ূব আল-আনসারী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের কেউ বাড়িতে সালাত আদায়ের পর মসজিদে এসে সেখানে সালাতের জামা‘আত হতে দেখলে আমি তাদের সাথে সালাত আদায় করব কিনা এ ব্যাপারে আমার মনে একটা খটকা অনুভব করি। আবূ আইয়ূব (রাঃ) বললেন, এ ব্যাপারে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেনঃ (জামা‘আতে শরীক হলে) তার জন্যও এর সাওয়াবের অংশ রয়েছে।[1] দুর্বল : মিশকাত ১১৫৪।

    Book 2 · Hadith 188 · #576 · Daif, Daif, Daif
  189. 189

    । সুলায়মান ইবনু ইয়াসার অর্থাৎ মায়মূনাহ্ (রাঃ)-এর মুক্ত দাস সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বালাত নামক স্থানে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে দেখা করতে এসে লোকদেরকে সালাত আদায়রত পাই। আমি বললাম, আপনি তাদের সাথে সালাত আদায় করছেন না কেন? তিনি বললেন, আমি ইতিপূর্বে সালাত আদায় করেছি। আমি রসূলুল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা একদিনে কোন সালাত দু’বার আদায় করো না।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 189 · #577 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Sahih
  190. 190

    । ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) বলেন, আমি রসূলু্ল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কেউ সঠিক সময়ে লোকদের ইমামতি করলে সে নিজেও এবং মুক্তাদীরাও (এর পূর্ণ সাওয়াব) পাবে। আর কোন ইমাম যদি বিলম্বে সালাত আদায় করে, তাহলে সে গুনাহগার হবে, মুক্তাদীরা নয়।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 190 · #578 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Sahih
  191. 191

    । খারাশাহ ইবনুল হুর আল-ফাযারীর বোন সাল­ামাহ বিনতুল হুর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের একটি নিদর্শন এটাও যে, মসজিদের বাসিন্দারা ইমামতির জন্য একে অপরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে। পরিস্থিতি এমন হবে যে, তাদের সালাত আদায় করাবার মত কোন (যোগ্য) ইমাম তারা পাবে না। [1] দুর্বল : মিশকাত ১১২৪।

    Book 2 · Hadith 191 · #579 · Daif, Daif, Daif, Daif
  192. 192

    । আবূ মাসউদ আল-বাদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও কিরাআতে অধিক পারদর্শী ব্যক্তি লোকদের ইমামতি করবে। কিরাআতের দিক থেকে সকলে সমান হলে ইমামতি করবে ঐ ব্যক্তি, যে সবার আগে হিজরাত করেছে। হিজরাতের দিক থেকে যদি সবাই সমান হলে সবচেয়ে বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তি ইমামতি করবে। কেউ যেন অনুমতি ছাড়া কারো বাড়িতে, কারো প্রভাবাধীন এলাকায় ইমামতি না করে এবং অনুমতি ছাড়া কারো সংরক্ষিত আসনে না বসে। [1] সহীহ : মুসলিম। শু’বাহ বলেন, আমি ইসমাঈলকে বললাম, ‘সংরক্ষিত আসন’ অর্থ কি? তিনি বললেন, ‘তার বিছানা’।

    Book 2 · Hadith 192 · #580 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (673)
  193. 193

    । ইবনু মু‘আয ..... শু’বাহ (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ কেউ কারোর প্রভাবাধীন এলাকায় (অনুমতি ছাড়া) ইমামতি করবে না।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহ্ইয়াহ্ আল-কাত্তান শু’বাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যে, সর্বাধিক অভিজ্ঞ ক্বারীই ইমামতির যোগ্য।

    Book 2 · Hadith 193 · #581 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  194. 194

    । আবূ মাসউদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ কিরাআতে সবাই সমান হলে হাদীস সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ লোক ইমামতি করবে। হাদীস সম্পর্কেও সকলে সমান হলে সর্বাগ্রে হিজরাতকারী (ইমামতি করবে)। আর এই বর্ণনাতে ‘সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্বারী’ কথাটি উল্লে­খ নেই।[1] সহীহ : মুসলিম। قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ قَالَ ‏"‏ وَلَا تَقْعُدْ عَلَى تَكْرِمَةِ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِهِ ‏"‏ ‏.‏ صحيح . ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাজ্জাজ ইবনু আরত্বাত (রহঃ) ইসমাইলের সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে যেন অনুমতি ছাড়া কারো নির্দিষ্ট আসনে না বসে। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 194 · #582 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  195. 195

    । ‘আমর ইবনু সালামাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এমন জায়গায় সমবেত ছিলাম যে, লোকেরা আমাদের পাশ দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাতায়াত করত এবং প্রত্যাবর্তনের সময় তারা আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বর্ণনা করত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ এরূপ বলেছেন। তখন আমি বালক ছিলাম, যা শুনতাম তাই মুখস্থ করে ফেলতাম। শুনে শুনে আমি কুরআনের কিছু অংশও মুখস্থ করে ফেলি। একবার আমার পিতা কিছু সংখ্যক লোকসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। তিনি তাদেরকে সালাতের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিলেন। তিনি আরো বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার কুরআন সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ইমামতি করবে। আর আমিই ছিলাম কুরআন সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ এবং সকলের চেয়ে আমারই কুরআন বেশী মুখস্থ ছিল। সেহেতু তারা আমাকে ইমাম নিযুক্ত করল। আমি তাদের ইমামতি করতাম। এ সময় আমার গায়ে ছোট একটি গেরুয়া রংয়ের চাদর ছিল। আমি যখন সিজদায় যেতাম তখন আমার লজ্জাস্থান অনাবৃত হয়ে যেত। এক মহিলা বলল, তোমাদের ক্বারীর লজ্জাস্থান ঢাকার ব্যবস্থা কর। তারা আমার জন্য একটি ওমানী চাদর খরিদ করল। এতে আমি এতই আনন্দিত হই যে, ইসলাম গ্রহণের পর আর কিছুতে আমি এতটা আনন্দিত হইনি। আমার বয়স যখন মাত্র সাত কি আট বছর তখন থেকেই আমি তাদের ইমামতি করতাম।[1] সহীহ : অনুরূপ বুখারী।

    Book 2 · Hadith 195 · #583 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (54)
  196. 196

    । ‘আমর ইবনু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে একই হাদীসে বর্ণিত আছে, আমি একটি তালিযুক্ত চাদর গায়ে দিয়ে তাদের ইমামিত করতাম। চাদরটি ছেঁড়া থাকায় সিজদায় গমনকালে আমার নিতম্ব উন্মুক্ত হয়ে যেত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 196 · #584 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  197. 197

    । ‘আমর ইবনু সালামাহ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তারা একটি প্রতিনিধি দল হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যান এবং ফিরে আসার সময় জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের (সালাতে) ইমামতি করবে কে? তিনি বললেন, কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী ব্যক্তি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমিই ছিলাম আমার কওমের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী। সেজন্য তারা আমাকে (ইমামতির জন্য) আগে দিল। কিন্তু আমি অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক ছিলাম। আমার পরনে ছোট একটি চাদর থাকত। জারাম গোত্রের যে কোন মাজলিসে উপস্থিত হলে আমিই তাদের ইমামতি করতাম এবং আজকের এদিন পর্যন্ত তাদের জানাযার সালাতও আমি পড়াতাম। [1] সহীহ : কিন্তু তার(عن أبيه) কথাটি অসংরক্ষিত। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদ ইবনু হারূন সূত্রে ‘আমর ইবনু সালামাহর বর্ণনায় সানাদে ‘আন আবীহি’ উল্লেখ নেই।

    Book 2 · Hadith 197 · #585 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  198. 198

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাদীনাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবতরণের পূর্বেই মুহাজিরদের প্রথম দলটি মদীনায় এসে ‘আল-উসবাহ্’ নামক স্থানে অবতরণ করলে আবূ হুযাইফাহ্ (রাঃ)-এর মুক্ত দাস সালিম (রাঃ) তাদের ইমামতি করেন। তিনি ছিলেন তাদের মধ্যকার কুরআনকে সর্বাধিক হিফ্যকারী।[1] সহীহ : বুখারী। زَادَ الْهَيْثَمُ وَفِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الأَسَدِ ‏.‏ - صحيح : خ نحوه . হায়সাম বলেন, তাদের মধ্যে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব ও আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুল আসাদ (রাঃ)-ও ছিলেন। সহীহ : অনুরূপ বুখারী।

    Book 2 · Hadith 198 · #586 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (692)
  199. 199

    । মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অথবা তার সাথীকে বললেনঃ সালাতের সময় হলে তোমরা আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিবে। তারপর তোমাদের মধ্যকার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামতি করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ‏ وَفِي حَدِيثِ مَسْلَمَةَ قَالَ وَكُنَّا يَوْمَئِذٍ مُتَقَارِبَيْنِ فِي الْعِلْمِ ‏. - هَذَا مُدْرَجٌ . মাসলামাহর হাদীসে রয়েছেঃ ঐ সময় আমরা ‘ইলমের দিক থেকে প্রায় সমান ছিলাম। এটি মুদরাজ। وَقَالَ فِي حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ قَالَ خَالِدٌ قُلْتُ لأَبِي قِلَابَةَ فَأَيْنَ الْقُرْآنُ قَالَ إِنَّهُمَا كَانَا مُتَقَارِبَيْنِ ‏. - هَذَا مُرْسَل .‏ ইসমাঈলের হাদীসে রয়েছেঃ খালিদ বলেন, আমি আবূ ক্বিলাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী হওয়ার কথা বলা হলো না কেন? তিনি বললেন, তারা উভয়েই এ দিক থেকে প্রায় সমমানের ছিলেন। এটি মুরসাল।

    Book 2 · Hadith 199 · #587 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (630) Sahih Muslim (674)
  200. 200

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যকার উত্তম লোক যেন তোমাদের আযান দেয় এবং কিরাআতে অধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি যেন তোমাদের ইমামতি করে।[1] দুর্বল : মিশকাত ১১১৯।

    Book 2 · Hadith 200 · #588 · Daif, Daif, Daif, Daif
  201. 201

    । উম্মু ওয়ারক্বাহ বিনতু নাওফাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদরের যুদ্ধে গেলেন তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আপনার সাথে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি দিন। আমি পীড়িত-আহতদের সেবা করব। হয়তো মহান আল্লাহ আমাকেও শাহাদাতের মর্যাদা দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার ঘরেই অবস্থান কর। মহান আল্লাহ তোমাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করবেন। বর্ণনাকারী বলেন, ঐদিন থেকে উক্ত মহিলার নাম হয়ে গেল শাহীদাহ্। তিনি কুরআন মাজীদ ভাল পড়তেন। সেজন্য তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তার ঘরে একজন মুয়াজ্জিন নিয়োগের অনুমতি দিলেন। তিনি একটি দাস ও একটি বোবা দাসীকে তার মৃত্যুর পর আযাদ করে দেয়ার চুক্তি করেছিলেন। তারা (দাস ও দাসী) দু’জন রাতে উঠে তার নিকট গিয়ে তাঁর চাদর দিয়ে তাকে চেপে ধরে হত্যা করে উভয়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যুষে এটা ‘উমার (রাঃ) জানতে পেরে লোকদের জানিয়ে দিলেন, এ দু’টি গোলাম-বাঁদী সম্পর্কে কারো জানা থাকলে বা তাদেরকে কেউ দেখে থাকলে, তাদের যেন (ধরে) নিয়ে আসে। (তারা গ্রেফতার হলে) তাদেরকে নির্দেশ মোতাবেক শূলে চড়ানো হয়। মাদীনাতে তাদের দু’জনকেই সর্বপ্রথম শূলে চড়ানো হয়।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 201 · #589 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  202. 202

    । উম্মু ওয়ারক্বাহ বিনতু ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) কর্তৃক অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে প্রথম বর্ণনাটিই পূর্ণাঙ্গ। তাতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তার বাড়িতে যেতেন। তিনি তার জন্য একজন মুয়াজ্জিনও নিযুক্ত করেন, যে তার জন্য (তার ঘরে) আযান দিত। তিনি তাকে (উম্মু ওয়ারাক্বাহকে) তার ঘরের মহিলাদের ইমামতি করার নির্দেশ দেন। ‘আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি তার নিযুক্ত বয়োবৃদ্ধ মুয়াজ্জিনকে দেখেছি।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 202 · #590 · Hasan, Hasan, Hasan
  203. 203

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তিন ব্যক্তির সালাত আল্লাহ কবুল করেন না। (এক) যে ব্যক্তি নিজে আগে বেড়ে ইমামতি করে অথচ লোকেরা তাকে অপছন্দ করে। (দুই) যে ব্যক্তি ‘দিবারে’ সালাত আদায়ে অভ্যস্ত। ‘দিবার’ হচ্ছে ওয়াক্ত শেষ হবার মুহূর্তে সালাত আদায় করা। (তিন) যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন লোককে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে।[1] দুর্বল : তবে প্রথম অংশটি সহীহ, মিশকাত ১১২৩।

    Book 2 · Hadith 203 · #591 · Daif, Daif, Daif, Daif
  204. 204

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিমের ইমামতিতে ফরয সালাত আদায় করা ওয়াজিব, চাই সে নেককার বা বদকার হোক না কেন, এমনকি কবীরাহ গুনাহের কাজে জড়িত থাকলেও।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 204 · #592 · Daif, Daif, Daif
  205. 205

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধে গমনকালে) ইবনু উম্মু মাকতূমকে (মদীনার) শাসক নিয়োগ করেছিলেন। তিনি লোকদের ইমামতি করতেন, অথচ তিনি অন্ধ ছিলেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 205 · #593 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih
  206. 206

    । বুদাইল হতে আবূ ‘আত্বিয়্যাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাঃ) আমাদের এই সালাতের স্থানে (মসজিদে) আসলেন। অতঃপর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হলে আমরা তাকে সামনে গিয়ে সালাত আদায় করাতে বললাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজেদের মধ্য হতে একজনকে ইমামতি করতে বল। আমি তোমাদের ইমামতি না করার কারণ সম্পর্কে তোমাদের একটি হাদীস শোনাব। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কেউ কোন কওমের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে সে যেন তাদের ইমামতি না করে। বরং তাদের মধ্য হতেই যেন কেউ ইমামতি করে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 206 · #594 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  207. 207

    । হাম্মাম সূত্রে বর্ণিত। হুযাইফাহ্ (রাঃ) মাদায়িন নামক স্থানে একটি দোকানের উপর দাঁড়িয়ে লোকদের ইমামতি করলেন। এ সময় আবূ মাসউদ (রাঃ) তার জামা ধরে তাকে টান দিলেন। তিনি সালাত শেষে বললেন, আপনার কি জানা নেই যে, লোকদের এরূপ (উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামতি) করা হতে নিষেধ করা হত? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আপনি যখন আমাকে টান দেন তখনই আমার তা স্মরণ হয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 207 · #595 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  208. 208

    । ‘আদী ইবনু সাবিত আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আমার কাছে এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন যিনি মাদায়েনে ‘আম্মার ইবনু ইয়াসীর (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে ‘আম্মার (রাঃ) সামনে গেলেন এবং ইমামতি করার জন্য একটি দোকানের উপর দাঁড়ালেন। তখন লোকেরা তার থেকে নিঁচু স্থানে ছিল। হুযাইফাহ্ (রাঃ) সামনে এগিয়ে গিয়ে ‘আম্মারের দু’ হাত চেপে ধরলে ‘আম্মার (রাঃ) তার অনুসরণ করেন এবং হুযাইফাহ্ (রাঃ) তাকে নিচে নামিয়ে আনেন। ‘আম্মার সালাত শেষ করলে হুযাইফাহ্ (রাঃ) বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শোননি, কেউ কোন কওমের ইমামতি করলে সে যেন তাদের চেয়ে উঁচু স্থানে না দাঁড়ায়? অথবা অনুরূপই বলেছেন। ‘আম্মার (রাঃ) বললেন, তাই তো আপনি আমার হাত ধরা মাত্রই আমি পেছনে সরে আসলাম।[1] হাসান পূর্বেরটির কারণে।

    Book 2 · Hadith 208 · #596 · Hasan, Hasan Lighairihi, Daif, Daif
  209. 209

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর পুনরায় নিজ কওমের নিকট গিয়ে ঐ সালাতেই তাদের ইমামতি করতেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 209 · #597 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  210. 210

    । ‘আমর ইবনু দীনার সূত্রে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায়ের পর সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি পুনরায় নিজ কওমের ইমামতি করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 210 · #598 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (700، 701) Sahih Muslim (465)
  211. 211

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় সওয়ার হন এবং ঘোড়ার পিঠ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি ডান পাঁজরে ব্যথা পান। ফলশ্রুতিতে তিনি কোন এক ওয়াক্তের সালাত বসে আদায় করেন। আমরাও তাঁর পেছনে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন তার অনুসরণ করা হয়। ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও তখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। ইমাম রুকু‘ করলে তখন তোমরাও রুকু‘ করবে। ইমাম মাথা উঠালে তোমরাও তখন মাথা উঠাবে। আর ইমাম ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বললে তোমরা বলবে, ‘‘রব্বানা লাকাল হামদ’’। আর ইমাম বসে সালাত আদায় করলে তোমরা সকলেই বসে সালাত আদায় করবে। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 211 · #599 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (689) Sahih Muslim (411)
  212. 212

    । জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় একটি ঘোড়ায় সওয়ার হলে সেটি তাঁকে একটি খেজুর গাছের গোড়ার উপর ফেলে দেয়। এতে তিনি পায়ে আঘাত পান। আমরা তাঁর সাথে দেখা করতে এসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ঘরে তাঁকে বসে সালাত আদায়রত পাই। বর্ণনাকারী বলেন, আমরাও তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে যাই। কিন্তু তখন তিনি চুপ থাকলেন। আমরা পুনরায় তাঁর সাথে দেখা করতে এসে দেখি, তিনি বসা অবস্থায় ফরয সালাত আদায় করছেন। আমরাও তাঁর পেছনে (সালাত আদায়ে) দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের প্রতি ইশারা করলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বললেনঃ ইমাম বসে সালাত আদায় করলে তোমরাও বসা অবস্থায় সালাত আদায় করবে। আর ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। পারস্যবাসীরা তাদের নেতাদের সামনে যেরূপ করে থাকে (দাঁড়িয়ে থাকে) তোমরা ঐরূপ করো না।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 212 · #600 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  213. 213

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন তার অনুসরণ করা হয়। কাজেই ইমাম তাকবীর বললে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। ইমাম তাকবীর না বলা পর্যন্ত তোমরা তাকবীর বলবে না। ইমাম রুকু' করলে তোমরাও রুকু' করবে। ইমাম রুকু' না করা পর্যন্ত তোমরা রুকু‘ করবে না। ইমাম ‘‘সামিআল­াহু লিমান হামিদাহ্’’ বললে তোমরা বলবে, ‘‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’’। মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘ওয়া লাকাল হামদ’’। ইমাম সিজদা্ করলে তোমরাও সিজদা্ করবে। ইমাম সিজদা্ না করা পর্যন্ততোমরা সিজদাহ্ করবে না। ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর বসে আদায় করলে তোমরাও বসে আদায় করবে। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমার সহকর্মীরা আমাকে সুলাইমানের সূত্রে ‘‘আল্লাহুম্মা রববানা লাকাল হামদ’’-এর বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    Book 2 · Hadith 213 · #601 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  214. 214

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন অন্যেরা তার অনুসরণ করে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তাতে আরো রয়েছেঃ ইমাম যখন কিরাত পাঠ করবে, তখন তোমরা চুপ থাকবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই অতিরিক্ত অংশটুকু-‘‘ইমাম যখন কিরাত পাঠ করবে, তখন তোমরা চুপ থাকবে’’ সুরক্ষিত (মাহফূয) নয়। এটা আবূ খালিদের ধারণা মাত্র।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 214 · #602 · Sahih, Sahih, Sahih
  215. 215

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে বসা অবস্থায় সালাত আদায়কালে লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। তিনি তাদেরকে বসার জন্য ইশারা করলেন। অতঃপর সালাত শেষে বললেন, ইমাম তো এজন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন অন্যেরা তার অনুসরণ করে। কাজেই ইমাম রুকু' করলে তোমরাও রুকু' করবে। ইমাম মাথা উঠালে তোমরাও মাথা উঠাবে। আর ইমাম বসে সালাত আদায় করলে তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 215 · #603 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (688) Sahih Muslim (412)
  216. 216

    । জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগাক্রান্ত অবস্থায় বসে সালাত আদায়কালে আমরাও তাঁর পেছনে সালাত আদায় করি। সে সময় আবূ বাকর (রাঃ) লোকদের শোনাবার জন্য উচ্চস্বরে তাঁর তাকবীর বলছিলেন। অতঃপর (পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ) হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 216 · #604 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (413)
  217. 217

    । উসায়িদ ইবনু হুদায়ির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি লোকদের ইমামতি করতেন। একদা তিনি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে আসেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ইমাম তো অসুস্থ। তিনি বললেনঃ ইমাম বসে সালাত আদায় করলে, তোমরাও বসে আদায় করবে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুত্তাসিল নয়।

    Book 2 · Hadith 217 · #605 · Sahih, Sahih, Daif
  218. 218

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হারাম (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে ঘি ও খেজুর পেশ করলেন। তিনি বললেন, খেজুরের পাত্রে খেজুর আর ঘিয়ের মশকে ঘি রেখে দাও। কেননা আমি সওমরত আছি। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাদেরকে নিয়ে দু’ রাক‘আত নফল সালাত আদায় করলেন। তখন উম্মু সুলাইম ও উম্মু হারাম (রাঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন। বর্ণনাকারী সাবিত বলেন, আমার এটাই মনে পড়ছে যে, আনাস বলেছেন, তিনি আমাকে তাঁর ডান দিকে একই বিছানায় দাঁড় করালেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 218 · #606 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  219. 219

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর ও তাদের মধ্যকার একজন মহিলার ইমামতি করলেন। তিনি তাঁকে তাঁর ডান পাশে এবং ঐ মহিলাকে পেছনে দাঁড় করালেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 219 · #607 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (660)
  220. 220

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা উঠে মশকের মুখ খুলে অযু করলেন। তারপর সেটির মুখ বন্ধ করে সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তখন উঠে তাঁর অনুরূপ অযু করে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার ডান পাশ (বা ডান হাত) ধরে তাঁর পেছন দিক দিয়ে আমাকে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। এ সময় আমিও তার সাথে সালাত আদায় করলাম।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 220 · #608 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (763)
  221. 221

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এ ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথা অথবা মাথার চুল ধরে তাঁর ডান পাশে এনে দাঁড় করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 221 · #609 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5919)
  222. 222

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর নানী মুলায়কাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তৈরি করা খাদ্য খাওয়ার জন্য তাঁকে দা‘ওয়াত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহার করার পর বললেনঃ তোমরা দাঁড়াও। আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস বলেন, আমি উঠলাম এবং দীর্ঘ দিন ব্যবহারে কালো হয়ে যাওয়া আমাদের মাদুরটির উপর পানি ঢেলে তা পরিস্কার করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির উপর দাঁড়ালেন। আমি ও ইয়াতীম (ছোট ভাই) তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। আর বৃদ্ধা নানী আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন। তিনি আমাদের নিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে চলে গেলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 222 · #610 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (380) Sahih Muslim (658)
  223. 223

    । ‘আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলকামাহ ও আল-আসওয়াদ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমরা দীর্ঘক্ষণ তার দরজায় বসে থাকার পর জনৈক দাসী বের হয়ে আসল। অতঃপর সে (পুনরায় ঘরে ঢুকে ‘আবদুল্লাহর নিকট) তাদের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাদের প্রবেশের অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি ‘আলকাবমাহ এবং আল-আসওয়াদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি এরূপই করতে দেখেছি।[1] সহীহ : মুসলিমে এর কেবল মারফু বর্ণনাটি।

    Book 2 · Hadith 223 · #611 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  224. 224

    । জাবির ইবনু ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি সালাত শেষে (আমাদের দিকে) ফিরে বসতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 224 · #612 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  225. 225

    । আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে সালাত আদায়কালে তাঁর ডান দিকে থাকতে পছন্দ করতাম। যাতে (সালাত শেষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ করে বসেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 225 · #613 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (709)
  226. 226

    । মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম ফরয সালাত আদায়ের স্থান হতে সরে অন্যত্র সালাত আদায় করবে। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘আত্বা আল-খুরাসানী (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রহঃ) এর সাক্ষাত পাননি।

    Book 2 · Hadith 226 · #614 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  227. 227

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের শেষ পর্যায়ে (শেষ বৈঠকে) বসে কোনরূপ কথা বলার (সালাম ফিরানোর) পূর্বেই যদি ইমামের অযু নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ইমামের সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তার পেছনে সালাত আদায়কারীদেরও সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 227 · #615 · Daif, Daif, Daif, Daif
  228. 228

    । ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ত্বাহারাত (পবিত্রতা) হচ্ছে সালাতের চাবি, তাকবীর হচ্ছে সালাতের তাহরীম, আর হারাম হচ্ছে সালাতের তাহলীল।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 228 · #616 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Lighairihi
  229. 229

    । মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পূর্বে তোমরা রুকু' ও সিজদা্ করবে না। আমি যখন তোমাদের পূর্বে রুকু‘তে যাব এবং তোমাদের পূর্বে (রুকু' হতে) মাথা তুলব, তখন তোমরা আমার অনুসরণ করবে। কেননা আমি তো এখন কিছুটা ভারী (স্থুল) হয়ে গিয়েছি।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 229 · #617 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  230. 230

    । আবূ ইসহাক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) কে খুৎবা দানকালে বলতে শুনলাম, আমাদের নিকট অতীব সত্যবাদী আল-বারাআ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রুকু' থেকে মাথা তুলে অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিজদা্ করতে দেখলে তাঁরাও সিজদায় যেতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 230 · #618 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (747) Sahih Muslim (474)
  231. 231

    । আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা সালাত আদায় করতাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যতক্ষণ না রুকু‘তে দেখতে পেতাম, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ রুকু‘তে যেতে পিঠ ঝুঁকাতো না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 231 · #619 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (474)
  232. 232

    । মুহারিব ইবনু দিসার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদকে মিম্বারে দাড়িয়ে বলতে শুনলাম, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট আল-বারাআ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতেন। রসূলু্ল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু' যখন করতেন, তখন তারাও রুকু‘ করতেন। তিনি যখন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলতেন, তখন তাঁরা দাঁড়িয়ে থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি লক্ষ্য করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জমিনে কপাল রাখতেন (সিজদায় যেতেন), তখন তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 232 · #620 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (474)
  233. 233

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কি ভয় হয় না, ইমাম সিজদাতে থাকাবস্থায় কেউ মাথা উঠালে আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথা অথবা তার আকৃতিকে গাধার আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দিতে পারেন। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 233 · #621 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (427)
  234. 234

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সালাত আদায়ে উৎসাহিত করেছেন এবং সালাতের পর তাঁর চলে যাওয়ার পূর্বে তাদের চলে যেতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ : মুসলিমে উৎসাহিত করণের কথাটি বাদে।

    Book 2 · Hadith 234 · #622 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  235. 235

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক কাপড়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’টি করে কাপড় আছে?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 235 · #623 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (358) Sahih Muslim (515)
  236. 236

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কাঁধ খোলা রেখে এক কাপড়ে সালাত আদায় না করে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 236 · #624 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (516)
  237. 237

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এক কাপড়ে সালাত আদায় করলে সে যেন কাপড়ের ডান পাশকে বাম কাঁধের উপর এবং বাম পাশকে ডান কাঁধের উপর ঝুলিয়ে রাখে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 237 · #625 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (360)
  238. 238

    । ‘উমার ইবনু আবূ সালামাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি কাপড়টি গায়ে জড়িয়ে নিয়ে উভয় কাঁধের উপর বিপরীতমূখী করে ঝুলিয়ে রাখতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 238 · #626 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (517)
  239. 239

    । ক্বায়িস ইবনু ত্বালক হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর নবী! একটি কাপড়ে সালাত আদায়ের ব্যাপারে আপনার মতামত কি? বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইযারের উপর চাদর ছেড়ে দিয়ে উভয়টিকে একত্র করে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দু’টি করে কাপড় আছে কি?[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 239 · #627 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  240. 240

    । সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লোকদেরকে সংকীর্ণ ইযারের কারণে তা বালকদের ন্যায় ঘাড়ে বেঁধে সালাত আদায় করতে দেখেছি। এমতাবস্থায় একজন বলল, হে সমবেত নারী সমাজ! পুরুষরা মাথা না তোলা পর্যন্ত তোমার মাথা তুল না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 240 · #628 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (362) Sahih Muslim (441)
  241. 241

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাপড়ে সালাত আদায় করলেন। সেটির কিছু অংশ আমার গায়ে ছিল।[1] সহীহ : মুসলিম। এটি গত হয়েছে।

    Book 2 · Hadith 241 · #629 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  242. 242

    । সালামাহ ইবনুল আকওয়া' (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি শিকার করে থাকি। আমি কি একটি জামা পরে সালাত আদায় করতে পারি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তবে একটি কাঁটা দিয়ে হলেও তা বেঁধে নাও (যেন লজ্জাস্থান উম্মুক্ত হয়ে না যায়)।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 242 · #630 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  243. 243

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান আবূ বাকর হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) গায়ে কোন চাদর না জড়িয়েই একটি মাত্র জামা পরে আমাদের ইমামতি করলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি জামা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 243 · #631 · Daif, Daif, Daif
  244. 244

    । ‘উবাদাহ ইবনুল ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ্ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে একটি যুদ্ধে যাই। তিনি সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তখন আমার গায়ে একটি চাদর ছিল। আমি সেটির দু’ প্রান্ত দু’ কাঁধের উপর রাখার চেষ্টা করছিলাম। (চাদরটি ছোট হওয়ায়) সেটি দিয়ে আমার শরীর (বা কাধঁ) ঢাকা যাচ্ছিল না। অবশ্য চাদরটিতে আঁচল লাগানো ছিল। আমি তা উল্টে নিয়ে দুই বিপরীত দিকে দু’ কাঁধের উপর তার দুই মাথা ফেলে দিলাম। তারপর আমি কিছুটা ঝুঁকে গিয়ে তা চিবুক দিয়ে চেপে ধরলাম, যেন পড়ে না যায়। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। পরে ইবনু শাখরা এসে তাঁর পাশে দাঁড়ালো। তিনি তাঁর দু’হাতে আমাদের উভয়ের হাত ধরে তাঁর পেছনে দাঁড় করিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার প্রতি লক্ষ্য করছিলেন। অথচ আমি বুঝতেই পারিনি, অবশ্য পরে বুঝেছি। তিনি ইশারায় আমাকে বললেনঃ ওটাকে ‘তহবন্দ’ বানিয়ে নাও। সালাত আদায় শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে জাবির! আমি বললামঃ আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, চাদর প্রশস্ত হলে সেটির দু’ মাথা বিপরীতভাবে দু’ কাঁধের উপর দিবে। পক্ষান্তরে চাদর ছোট হলে সেটি কোমরে বেঁধে নিবে।[1] সহীহ : মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে।

    Book 2 · Hadith 244 · #632 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (3008)
  245. 245

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অথবা ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, তোমাদের কারো নিকট দু’টি কাপড় থাকলে সে যেন ঐগুলি পরেই সালাত আদায় করে। আর একটি মাত্র কাপড় থাকলে সে যেন তা কোমরে বেঁধে নেয় এবং ইয়াহূদীদের ন্যায় দু’ কাঁধে ঝুলিয়ে না রাখে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 245 · #633 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  246. 246

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু বুরায়দাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন একটি মাত্র চাদরে সালাত আদায় করতে, যা দেহ আবৃত করে না। তিনি আরো নিষেধ করেছেন, গায়ে চাদর না জড়িয়ে কেবল পাজামা পরে সালাত আদায় করতে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 246 · #634 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  247. 247

    । ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ সালাতের মধ্যে স্বীয় বস্ত্র (পাজামা/লুঙ্গি/প্যান্ট ইত্যাদি পায়ের গিরার নিচে) ঝুলিয়ে রাখে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হালাল করবেন না এবং জাহান্নামও হারাম করবেন না।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, একদল বর্ণনাকারী (যেমন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, হাম্মাদ ইবনু যায়িদ, আবূল আহওয়াস, আবূ মু‘আবিয়াহ প্রমূখ) ‘আসিম সূত্রে ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর বক্তব্যরূপে মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 247 · #635 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  248. 248

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি স্বীয় লুঙ্গি (পায়ের গিরার নিচে) ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যাও, অযু করে আস। সে অযু করে এলে তিনি আবার বললেনঃ যাও, অযু করে আস। সে পুনরায় অযু করে আসল। একজন বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তাকে (অযু থাকাবস্থায় পুনরায়) অযু করতে কেন বললেন? তিনি বললেন, সে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। মহান আল্লাহ (পায়ের গিরার নিচে) লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায়কারীর সালাত কবুল করেন না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 248 · #636 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  249. 249

    । মুহাম্মাদ ইবনু যায়িদ ইবনু কুনফুয হতে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তার মাতা উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, মহিলারা কয়টি কাপড় পরে সালাত আদায় করবে? তিনি বললেন, একটি ওড়না এবং একটি জামা পরেই সালাত আদায় করতে পারবে। তবে জামাটি এরূপ লম্বা হবে যা দিয়ে পায়ের উপরিভাগ ঢেকে যাবে।[1] দুর্বল মাওকূফ।

    Book 2 · Hadith 249 · #637 · Daif Muquf, Daif Muquf, Daif
  250. 250

    । মুহাম্মাদ ইবনু যায়িদ উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, মহিলারা ইযার ছাড়া কেবল একটি জামা ও একটি ওড়না পরে সালাত আদায় করতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ জামাটি যদি এরূপ লম্বা হয়, যা দিয়ে পায়ের পাতা ঢেকে যায় (তাহলে সেটা পরে সালাত আদায় করতে পারবে)।[1] দুর্বল : মিশকাত ৭৬৩। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি মালিক ইবনু আনাস, বাকর ইবনু মুদার, হা্ফস ইবনু গিয়াস, ইসমাঈল ইবনু জা‘ফর, ইবনু আবূ যি’ব, এবং আবূ ইসহাক-মুহাম্মাদ ইবনু যায়িদ হতে তার মাতা থেকে উম্মু সালামাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাদের কেউই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উল্লেখ করেননি।

    Book 2 · Hadith 250 · #638 · Daif, Daif, Daif
  251. 251

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন প্রাপ্তবয়স্কা মহিলা ওড়না ছাড়া সালাত আদায় করলে আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 251 · #639 · Sahih, Sahih, Sahih
  252. 252

    । মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ত্বালহার মা সাফিয়্যাহর নিকট যান। সেখানে তিনি সাফিয়্যাহর মেয়েদের দেখতে পেয়ে বললেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করেন। তখন আমার ঘরে একটি বালিকা ছিল। তিনি আমাকে তার একখানা লুঙ্গি দিয়ে বললেনঃ এটিকে দুই টুকরা করে এক টুকরা এই বালিকাকে এবং আরেক টুকরা উম্মু সালামাহর নিকট যে বালিকা রয়েছে তাকে দাও। কারণ আমি তাকে অথবা তাদের উভয়কে প্রাপ্তবয়স্কা মনে করি। [1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে হিশাম এরূপই করেছেন।

    Book 2 · Hadith 252 · #640 · Daif, Daif, Daif
  253. 253

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় কাপড় উপর থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিতে ও মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন।[1] হাসান। ‏‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عِسْلٌ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ ‏.‏ - صحيح . ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘ইসল ‘আত্বা (রহঃ) হতে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় কাপড় ঝুলিয়ে দিতে নিষেধ করেছেন। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 253 · #641 · Hasan, Hasan, Daif
  254. 254

    । ইবনু জুরায়িজ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আত্বা (রহঃ)-কে অধিকাংশ সময় কাপড় ঝুলিয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘আত্বা (রহঃ)-এর এরূপ আচরণ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসকে দূর্বল করে দেয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 254 · #642 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Sahih, Isnaad Sahih
  255. 255

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পরিধেয় কাপড় বা লেপের উপর সালাত আদায় করতেন না।[1] সহীহ

    Book 2 · Hadith 255 · #643 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  256. 256

    । সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ আল-মাক্ববূরী থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস আবূ রাফি‘কে হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর পাশ দিয়ে যেতে দেখলেন। তখন তিনি (হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)) গর্দানের পেছনে চুলের ঝুটি বেঁধে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ রাফি' (রাঃ) বাঁধন খুলে দিলে হাসান (রাঃ) তার প্রতি রাগের দৃষ্টিতে তাকালেন। আবূ রাফি‘ বলেন, আগে সালাত আদায় শেষ করুন, রাগ করবেন না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এটা (চুলের ঝুটি) হচ্ছে শয়তানের ঘাঁটিবিশেষ, অর্থাৎ শয়তানের আড্ডাখানা। [1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 256 · #644 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  257. 257

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিসকে মাথার চুল পেছন দিক থেকে বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখলেন। ফলে তিনি তার পেছনে দাঁড়িয়ে তা খুলতে লাগলে তিনি চুপ করে থাকলেন। সালাত শেষে তিনি ইবনু ‘আব্বাসকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি আমার মাথা স্পর্শ করলেন কেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এভাবে পেছনে চুলের ঝুটি বেধে সালাত আদায়কারীর উপমা হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে তার হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 257 · #645 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (492)
  258. 258

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি মাক্কাহ বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতাজোড়া তাঁর বাম পাশে রেখে সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 258 · #646 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  259. 259

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ মাক্কাহ বিজয়ের দিন আমাদের ফজরের সালাত আদায় করালেন। সালাতে তিনি সূরাহ আল-মু’মিনূন হতে তিলাওয়াত শুরু করলেন। তিনি যখন মূসা ও হারূন (আঃ) অথবা মূসা ও ঈসা (আঃ)-এর কাহিনী পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাশি আরম্ভ হয়। তিনি কিরাত ছেড়ে দিয়ে রুকু' করলেন। সে সময় ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সায়িব সেখানে উপস্থিত ছিলেন।[1] সহীহ : মুসলিম, বুখারী মু‘আল্লাক্বভাবে।

    Book 2 · Hadith 259 · #647 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (455)
  260. 260

    । আবূ সাঈদ আল-খদুরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায়কালে তাঁর জুতাজোড়া খুলে তাঁর বাম পাশে রেখে দিলেন। এ দৃশ্য দেখে লোকেরাও তাদের জুতা খুলে রাখল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে বললেনঃ তোমরা তোমাদের জুতা খুললে কেন? তারা বলল, আপনাকে আপনার জুতাজোড়া খুলে রাখতে দেখে আমরাও আমাদের জুতা খুলে রেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসে আমাকে জানালেন, আপনার জুতাজোড়ায় নাপাকি লেগে আছে। তিনি আরো বললেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন তার জুতাজোড়া দেখে নেয়। তাতে নাপাকি দেখতে পেলে যেন জমিনে তা ঘষে নিয়ে পরিধান করে সালাত আদায় করে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 260 · #648 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  261. 261

    । বাকর ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রহঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত আছে। তাতে (কাযার তথা নাপাকি শব্দের পরিবর্তে) দু’ জায়াগাতে ‘খুবসুন’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 261 · #649 · Sahih, Sahih, Daif
  262. 262

    । ই‘য়ালা ইবনু শাদ্দাদ ইবনু আওস থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহূদীদের বিপরীত কর। তারা জুতা এবং মোজা পরে সালাত আদায় করে না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 262 · #650 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  263. 263

    । ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো খালি পায়ে আবার কখনো জুতা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 263 · #651 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  264. 264

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সালাত আদায়কালে জুতা খুলে তার ডান পাশে ও বাম পাশে না রাখে। কারণ তা অন্যের ডান পাশে হবে। অবশ্য বাম পাশে কেউ না থাকলে (রাখতে পারবে)। তবে জুতাজোড়া উভয় পায়ের মধ্যখানে রাখাই শ্রেয়।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 264 · #652 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  265. 265

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাত আদায়কালে জুতা খুলে যেন এমন জায়গায় না রাখে যাতে অন্যের কষ্ট হয়। বরং জুতাজোড়া যেন দু’ পায়ের মাঝখানে রেখে দেয় অথবা তা পরেই সালাত আদায় করে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 265 · #653 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  266. 266

    । মায়মূনাহ বিনতুল হারিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন, তখন আমি হায়িয অবস্থায় তাঁর পাশে অবস্থান করতাম। তাঁর সিজদাকালে কখনো তাঁর কাপড় আমার গায়ে লেগে যেত। তিনি (খেজুর পাতার ছোট) চাটাইয়ের উপরও সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 266 · #654 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (379) Sahih Muslim (513)
  267. 267

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি স্থূলদেহী। সেজন্য আপনার সাথে (জামা‘আতে) সালাত আদায়ে আমি সক্ষম নই। একদা ঐ লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খানা তৈয়ার করে তাঁকে তার বাড়িতে যেতে আহবান করল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! এখানে সালাত আদায় করুন। যেন আমি জেনে নিতে পারি, আপনি কিভাবে সালাত আদায় করেন। অতঃপর আমি সেভাবেই আপনার অনুসরণ করব। অতঃপর লোকেরা তাঁর জন্য একটি বড় চাটাইয়ের একাংশ ধৌত করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে দাঁড়িয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। ইবনুল জারূদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে ঐদিন ছাড়া আর কোনদিন ঐ (সময়) সালাত আদায় করতে দেখিনি![1] সহীহ : বুখারীতে(فَصَلِّ حَتَّى أَرَاكَ كَيْفَ تُصَلِّي فَأَقْتَدِيَ بِكَ) তার কথাটি বাদে।

    Book 2 · Hadith 267 · #655 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (870)
  268. 268

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝেমধ্যে উম্মু সুলাইম (রাঃ)-কে দেখতে যেতেন। সেখানে কখনো সালাতের সময় হয়ে গেলে তিনি আমাদের (খেজুর পাতার তৈরী) মাদুরের উপর সালাত আদায় করে নিতেন। উম্মু সুলাইম (রাঃ) সেটিকে পানি দিয়ে ধুয়ে দিতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 268 · #656 · Sahih, Sahih, Sahih
  269. 269

    । মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খেজুর পাতার তৈরী) চাটাই ও প্রক্রিয়াজাত চামড়ার উপর সালাত আদায় করতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 269 · #657 · Daif, Daif, Daif
  270. 270

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রচন্ড গরমকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতাম। তখন আমাদের কেউ গরমের কারণে জমিনে সিজদা্ করতে না পারলে পরিধেয় বস্ত্রের উপর সিজদা্ করত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 270 · #658 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (385) Sahih Muslim (620)
  271. 271

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মালায়িকাহ্ (ফিরিশতাগণ) যেরূপ তাদের প্রতিপালকের নিকট কাতারবদ্ধ হয়ে থাকে তোমরা কি সেরূপ কাতারবদ্ধ হবে না? আমরা বললাম, মালায়িকাহ্ তাদের প্রতিপালকের নিকট কিরূপে কাতারবদ্ধ হয়? তিনি বলেন, সর্বাগ্রে তারা প্রথম কাতার পূর্ণ করে, তারপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী কাতারগুলো এবং তারা কাতারে পরস্পর মিলে মিলে দাঁড়ায়।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 271 · #659 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (430)
  272. 272

    । আবূল কাসিম আল-জাদালী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেত লোকদের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনবার বললেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা কর। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করে দাড়াঁও। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতানৈক্য সৃষ্টি করে দিবেন। বর্ণনাকারী নু’মান (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি এক লোককে দেখলাম, সে তার সঙ্গীর কাঁধের সাথে নিজের কাঁধ, তার হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু এবং তার গোড়ালির সাথে নিজের গোড়ালী মিলিয়ে দাঁড়াচ্ছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম, কাতারসমূহ সোজা করার নির্দেশ বাক্য যোগে। আর কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানোর বাক্যটি বুখারী তা‘লীক্বভাবে বর্ণনা করেছেন আনাস সূত্রে।

    Book 2 · Hadith 272 · #660 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  273. 273

    । সিমাক ইবনু হারব সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কাতারবদ্ধ করতেন এমন সোজা করে যেরূপ তীরের ফলা সোজা করা হয়। এমনকি তিনি যখন বুঝতে পারলেন, আমরা এ সম্পর্কে তাঁর তা‘লীম আত্মস্থ করেছি ও বুঝেছি, তখন একদা তিনি (আমাদের দিকে) ঘুরে দেখতে পেলেন, একজনের বুক সামনে দিকে এগিয়ে আছে। তিনি বললেনঃ তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারায় বৈপরিত্য সৃষ্টি করে দিবেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 273 · #661 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (436)
  274. 274

    । আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতারের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়ে আমাদের বুক ও কাঁধ সোজা করে দিতেন, আর বলতেনঃ তোমরা কাতারে বাঁকা হয়ে দাঁড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরে বৈপরিত্য সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলতেনঃ নিশ্চয় প্রথম কাতারসমূহের প্রতি মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর মালায়িকাহ্ (ফিরিশতাগণ) দু‘আ করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 274 · #662 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  275. 275

    । সিমাক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমরা সালাতের জন্য দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারসমূহ সোজা করে দিতেন। অতঃপর আমরা সমান্তরালভাবে দাঁড়িয়ে গেলে তিনি তাকবীর বলতেন।[1] সহীহ : অনুরূপ মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 275 · #663 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  276. 276

    । ইবনু ‘উমার ও আবূ শাজারাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করে নাও, পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও এবং উভয়ের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ কর আর তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও। বর্ণনাকারী ঈসার বর্ণনায়, ‘‘তোমাদের ভাইয়ের হাতে’’ শব্দগুলো নেই। ( তিনি আরো বলেন,) শয়তানের জন্য কাতারের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা রেখে দিও না। যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত দ্বারা মিলাবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার ভঙ্গ করবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত হতে কর্তন করবেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ শাজারার নাম হচ্ছে কাসীর ইবনু মুররাহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, ‘‘তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও’’ এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তি এসে কাতারে প্রবেশ করতে চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিই তার জন্য নিজ নিজ কাধঁ নরম করে দেবে, যেন সে সহজে কাতারে শামিল হতে পারে। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 276 · #664 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  277. 277

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (সালাতের) কাতারসমূহে মিলে মিশে দাঁড়াবে। এক কাতারকে অপর কাতারের নিকটে রাখবে। পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! আমি চাক্ষুস দেখতে পাচ্ছি, কাতারের খালি (ফাঁকা) জায়গাতে শয়তান যেন একটি বকরীর বাচ্চা ন্যায় প্রবেশ করছে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 277 · #665 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  278. 278

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাতারসমূহ সোজা করবে। কারণ কাতারসমূহ সোজা করার দ্বারাই সালাত পূর্ণতা পায়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 278 · #666 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (723) Sahih Muslim (433)
  279. 279

    । প্রাসাদের মালিক মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনুস সায়িব সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি জান (মসজিদে নাবাবীতে) এ কাষ্ঠ খন্ডটি কেন তৈরী করা হয়েছে? আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর তাঁর হাত রেখে বলতেনঃ তোমরা সোজা হয়ে যাও এবং তোমাদের কাতারসমূহ বরাবর করে নাও।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 279 · #667 · Daif, Daif, Daif, Daif
  280. 280

    । আনাস (রাঃ) থেকে এরূপ সূত্রের উক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে আরো রয়েছেঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ানোর সময় ঐ কাষ্ঠ খন্ডটি তাঁর ডান হাতে নিয়ে বলতেনঃ তোমরা সোজা হয়ে যাও, তোমাদের কাতারসমূহ বরাবর করে নাও। তারপর সেটি বাম হাতে নিয়ে বলতেনঃ তোমরা সোজা হয়ে যাও, তোমাদের কাতারসমূহ বরাবর করে নাও।[1] দুর্বল : মিশকাত ১০৯।

    Book 2 · Hadith 280 · #668 · Daif, Daif, Daif, Daif
  281. 281

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূর্ণ করবে, তারপর তার পরবর্তী কাতার পূর্ণ করবে। এরপর কোন কাতার অসম্পূর্ণ থাকলে তা যেন শেষ কাতারে হয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 281 · #669 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  282. 282

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যকার উৎকৃষ্ট হচ্ছে ঐসব লোক, যারা সালাতের মধ্যে নিজেদের কাঁধ বেশি নরম করে দেয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 282 · #670 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  283. 283

    । ‘আবদুল হামীদ ইবনু মাহমূদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সাথে জুম্মার সালাত আদায় করি। লোকজন বেশি হওয়ায় আমরা খুঁটি সমূহের মাঝখানে যেতে বাধ্য হই। এতে করে আমরা আগে পিছে হয়ে যাই। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা এভাবে (দুই খুঁটির মাঝখানে) দাঁড়ানো হতে বিরত থাকার চেষ্টা করতাম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 283 · #671 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  284. 284

    । আবূ মাসঊদ আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যকার প্রবীণ ও জ্ঞানী লোকেরা যেন আমার কাছাকাছি দাঁড়ায়। তারপর পর্যায়ক্রমে দাঁড়াবে যারা ঐ গুণে তাদের কাছাকাছি, তারপর দাঁড়াবে যারা তাদের কাছাকাছি তারা।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 284 · #672 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (432)
  285. 285

    । ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাতে আরো রয়েছেঃ ‘‘তোমরা আগ-পিছ হয়ে দাঁড়াবে না। তাহলে তোমাদের অন্তরে বৈপরিত্য সৃষ্টি হবে। সাবধান! তোমরা মসজিদে বাজারের ন্যায় শোরগোল করবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 285 · #673 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (432)
  286. 286

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় কাতারের ডান দিকের (মুসল্লী­দের) উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং মালায়িকাহ (ফিরিশতাগণ) দু‘আ করেন।[1] হাসান : এই শব্দে : (على الذين يصلون الصوفوف) ‘‘যারা কাতারবদ্ধ হয়ে সালাত আদায় করে’’।

    Book 2 · Hadith 286 · #674 · Hasan, Hasan, Daif
  287. 287

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু গানম সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মালিক আল আশ‘আরী (রাঃ) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে বর্ণনা করব না? এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। প্রথমে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের কাতারবদ্ধ করালেন, তারপর তাদের পিছনের কাতারে বালকদের দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি তাদের সাথে সালাত আদায় করলেন। এরপর বর্ণনাকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বর্ণনা দেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই সালাত আদায় করতে হয়। বর্ণনাকারী ‘আবদুল আ‘লা বলেন, আমার ধারণা আমার শায়খ কুররাহ ইবনু খালিদ বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার উম্মাত এভাবেই সালাত আদায় করবে।[1] দুর্বল : মিশকাত ১১১৫।

    Book 2 · Hadith 287 · #675 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  288. 288

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের সর্বোত্তম কাতার হচ্ছে প্রথমটি আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে শেষেরটি। পক্ষান্তরে মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হচ্ছে শেষেরটি আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে প্রথমটি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 288 · #676 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (440)
  289. 289

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদল লোক সর্বদা প্রথম কাতার থেকে পিছনের দিকে সরতে থাকবে। ফলে আল্লাহও তাদেরকে জাহান্নামের পিছন দিকে রাখবেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 289 · #677 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif
  290. 290

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে প্রথম কাতারে দাঁড়াতে বিলম্ব করতে দেখে বললেনঃ সামনে আস এবং আমার অনুকরণ কর। আর তোমাদের পরের লোকেরাও তোমাদের অনুসরণ করবে। একদল লোক সর্বদাই (প্রথম কাতার থেকে) পিছনের দিকে সরতে থাকবে। ফলে মহান আল্লাহও তাদের পিছনে ফেলে রাখবেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 290 · #678 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (438)
  291. 291

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইমামকে কাতারের মাঝখান বরাবর দাঁড় করাও এবং (কাতারের মধ্যকার) ফাঁকা জায়গা বন্ধ করে দাও।[1] দুর্বল : কিন্তু হাদীসের দ্বিতীয় অংশটি সহীহ। দেখুন হাদীস নং ৬৬৬, ৬২০।

    Book 2 · Hadith 291 · #679 · Daif, Daif, Daif
  292. 292

    । ওয়াবিসাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কাতারের পিছনে একাকী দাড়িঁয়ে সালাত আদায় করতে দেখে তাকে পুনরায় সালাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 292 · #680 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  293. 293

    । হাসান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ বাকরা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘তে থাকাবস্থায় তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি কাতারে না পৌঁছেই রুকু‘ করে নিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বললেন : আল্লাহ (ইবাদাত ও নেকীর প্রতি) তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন, তবে পুনরায় এরূপ করো না।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 293 · #681 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (783)
  294. 294

    । হাসান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আবূ বাকরা (রাঃ) (মসজিদে) এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রুকু‘তে পেলেন। তিনি কাতারে না পৌঁছেই রুকু' করলেন, তারপর কাতারে শামিল হওয়ার জন্য অগ্রসর হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার কে কাতারে পৌঁছার পূর্বেই রুকু' করেছে এবং পরে কাতারে শামিল হওয়ার জন্য অগ্রসর হয়েছে? আবূ বাকরা (রাঃ) বললেন, আমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন। তবে পুনরায় এরূপ করো না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 294 · #682 · Sahih, Sahih, Sahih
  295. 295

    । ত্বালহা ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি (খোলা ময়দানে সালাত আদায়কালে) তোমার সামনে উটের পিঠের হাওদার পিছন দিকের কাষ্ঠ খন্ড বা অনুরূপ কোন কিছু স্থাপন করলে তোমার সামনে দিয়ে কারো চলাচলে (সালাতের) কোন ক্ষতি হবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 295 · #683 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim (499)
  296. 296

    । ‘আত্বা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওদার পশ্চাৎভাগের কাষ্ঠ খন্ড এক হাত বা তার চেয়ে কিছু বেশি (লম্বা) হয়ে থাকে।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 296 · #684 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  297. 297

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন বের হওয়ার সময় সঙ্গে বর্শা নেয়ার নির্দেশ দিতেন। সেটি তাঁর সামনে স্থাপন করা হত এবং তিনি সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। আর লোকজন তাঁর পেছনে থাকত। তিনি সফর অবস্থায়ও এরূপ করতেন। এ জন্যই তখন থেকে শাসকরা সাথে বর্শা রেখে থাকেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 297 · #685 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (494) Sahih Muslim (501)
  298. 298

    । আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-বাত্বহা নামক স্থানে সালাত আদায় করলেন। তখন তার সামনে একটি বর্শা স্থাপিত ছিল। তিনি যুহরের দুই রাক‘আত ও ‘আসরের দুাই রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এ সময় বর্শার অপর পাশ দিয়ে নারী ও গাধা চলাচল করছিল।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 298 · #686 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (495) Sahih Muslim (503)
  299. 299

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ (খোলা জায়গাতে) সালাত আদায় করলে যেন (সুতরাহ হিসেবে) তার সামনে কিছু স্থাপন করে। কিছু না পাওয়া গেলে যেন একটি লাঠি স্থাপন করে নেয়। সাথে কোন লাঠি না থাকলে (মাটিতে) যেন একটি দাগ টেনে নেয়। তারপর সামনে দিয়ে কিছু চলাচল করলে সালাতের কোন ক্ষতি হবে না।[1] দুর্বল : মিশকাত ৭৮১।

    Book 2 · Hadith 299 · #687 · Daif, Daif, Daif, Daif
  300. 300

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন .. বর্ণনাকারী অতঃপর দাগ টানা সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ সুফিয়ান বলেন, এ হাদীসটিকে মজবুত প্রমাণ করার মত কিছুই পেলাম না। হাদীসটি কেবল উক্ত সানাদেই বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সুফিয়ানকে বললাম, লোকেরা এতে মতপার্থক্য করেছে। তিনি কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, আমার কেবল আবূ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমরের কথাই মনে পড়ছে। সুফিয়ান বলেন, ইসমাঈল ইবনু উমায়্যাহর মৃত্যুর পর এক ব্যক্তি এখানে (কুফায়) এসে এই শায়খ আবূ মুহাম্মাদের অনুসন্ধান করে তাকে পেয়ে যান। তিনি তাকে এ মাটিতে দাগ টানা সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি একাধিকবার আহমাদ ইবনু হাম্বাল থেকে মাটিতে দাগ দেয়া সর্ম্পকে শুনেছি যে, দাগটি প্রস্থে নবচন্দ্রের ন্যায় (মোটা) হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি মুসাদ্দাদকে বলতে শুনেছিঃ ইবনু দাউদ বলেছেন, দাগ লম্বালম্বিভাবে টানতে হবে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 300 · #688 · Daif, Daif, Daif, Daif
  301. 301

    । সুফিয়ান ইবনু ‘উয়ায়নাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শারীক (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি এক জানাযার সালাত আদায় করতে এসে আমাদের সাথে ‘আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি (উক্ত ফরয সালাতে সুতরাহ হিসেবে) নিজের টুপি (খুলে) সামনে রাখলেন।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 301 · #689 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  302. 302

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটের দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম, অনুরূপ বুখারী।

    Book 2 · Hadith 302 · #690 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (430) Sahih Muslim (502)
  303. 303

    । দুবা‘আহ বিনতু মিক্বদাদ ইবনুল আসওয়াদ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মিক্বদাদ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি (সুতরাহ হিসেবে) কোন লাকড়ি, স্তম্ভ বা গাছের দিকে ফিরে সালাত আদায় করলে ওগুলোকে নিজের ডান অথবা বাম পাশে রাখতেন, দু’ চোখের ঠিক মাঝ বরাবর রাখতেন না।[1] দুর্বল : মিশকাত ৭৮৩।

    Book 2 · Hadith 303 · #691 · Daif, Daif, Daif, Daif
  304. 304

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ঘুমন্ত ও বাক্যালাপকারী লোকদের সামনে রেখে সালাত আদায় করো না।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 304 · #692 · Hasan, Hasan, Hasan
  305. 305

    । সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সু্তরাহ স্থাপন করে সালাত আদায় করলে যেন সু্তরার কাছাকাছি দাঁড়ায়। যাতে করে শয়তান তার সালাত ভঙ্গ করতে না পারে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ওয়াক্বিদ ইবনু মুহাম্মাদ সাফওয়ান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সাহল হতে তার পিতার সূত্রে অথবা মুহাম্মাদ ইবনু সাহল হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে। কোন কোন বর্ণনাকারী বলেছেন, নাফি' ইবনু জুবাইর সাহল ইবনু সা’দ হতে। এর সানাদ বর্ণনায় মতপার্থক্য করা হয়েছে।

    Book 2 · Hadith 305 · #693 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  306. 306

    । সাহল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাঁড়ানোর স্থান ও তাঁর কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে একটি বকরী চলাচলের পরিমাণ জায়গা ফাঁকা থাকত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 306 · #694 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (496) Sahih Muslim (508)
  307. 307

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাত আদায়কালে তার সামনে দিয়ে কাউকে যেতে দিবে না এবং সাধ্যমত যেন তাকে বাধা দেয়া হয়। সে বাধা উপেক্ষা করলে তার সাথে যুদ্ধ করবে। কারণ সে হচ্ছে একটা শয়তান।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 307 · #695 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (505)
  308. 308

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাত আদায় করলে যেন সু্তরার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের সমর্থাবোধক হাদীস বর্ণনা করেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 308 · #696 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Sahih
  309. 309

    । সুলাইমান ইবনু মালিকের দ্বাররক্ষী আবূ ‘উবায়িদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আত্বা ইবনু ইয়াযীদ আল-লাইসীকে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখি। অতঃপর আমি তার সামনে দিয়ে যেতে উদ্যত হলে তিনি আমাকে বাধা দিয়ে বললেন, আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যকার কেউ তার ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে চলাচলে কাউকে বিরত রাখতে সক্ষম হলে সে যেন তাই করে।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 309 · #697 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  310. 310

    । হুমায়িদ ইবনু হিলাল সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সালিহ (রহঃ) বলেছেন, আমি আবূ সাঈদ (রাঃ)-কে যা করতে দেখেছি ও বলতে শুনেছি তোমার নিকট তাই বর্ণনা করব। একদা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) মারওয়ানের নিকট গিয়ে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ কোন কিছুকে সুতরাহ বানিয়ে সালাত আদায়কালে কেউ তা লঙ্ঘন করে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে সে যেন তার বক্ষে হাত মেরে তাকে বাধা দেয়। যদি সে না মানে, তাহলে সে যেন তার সাথে লড়াই করে। কারণ সে হচ্ছে একটা শয়তান।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 310 · #698 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (509) Sahih Muslim (505)
  311. 311

    । বুসর ইবনু সাঈদ সূত্রে বর্ণিত। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) তাকে আবূ জুহায়িম (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন- সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে গেলে কি (পরিমাণ অন্যায়) হবে এ সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন তা জিজ্ঞেস করার জন্য। আবূ জুহায়িম (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত যে, এ কারণে তাকে কত মারাত্মক শাস্তি ভোগ করতে হবে, তাহলে সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন) দাঁড়িয়ে থাকাও অধিকতর উত্তম মনে করত। আবূন নাদর বলেন, আমার স্মরণ নেই যে, তিনি চল্লিশ দিন, মাস, না বছর বলেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 311 · #699 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (510) Sahih Muslim (507)
  312. 312

    । আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায়কারী ব্যক্তির সম্মুখে উটের পিঠের হাওদার পিছনের লাকড়ি পরিমাণ কিছু না থাকলে তার সামনে দিয়ে গাধা, কালো কুকুর অথবা মহিলা অতিক্রম করলে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। আমি বললাম, লাল, হলুদ কিংবা সাদা রংয়ের কুকুরের তুলনায় কালো কুকুরের কি এমন বিশেষত্ব? তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যেরূপ আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমিও সেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেনঃ কালো কুকুর হলো একটা শয়তান।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 312 · #700 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (510)
  313. 313

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঋতুবতী মহিলা ও কুকুর সালাত আদায়কারীর (সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে) সালাত নষ্ট হয়ে যায়। [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 313 · #701 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  314. 314

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সু্তরাহ ছাড়া সালাত আদায় করলে তার সামনে দিয়ে কুকুর, গাধা, শূকর, ইয়াহূদী, অগ্নিউপাসক অথবা স্ত্রীলোক অতিক্রম করলে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্য কঙ্কর নিক্ষেপের দূরত্বের বাইরে দিয়ে যদি অতিক্রম করে, তাহলে তার সালাত হয়ে যাবে।[1] দুর্বল : মিশকাত ৭৮৯। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটির ব্যাপারে আমি কিছু (সন্দেহ) অনুভব করছি। ইবরহীম (রহঃ) প্রমুখের সাথে এই হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করে আমি দেখলাম, হাদীসটি হিশাম থেকে কেউই বর্ণনা করেননি এবং এ ব্যাপারে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হাদীসটিকে কাউকেই আমি হিশামের সাথে সম্পর্কিত করতে দেখিনি। আমার ধারণা মতে ইবনু আবী সামীনাহ হতে সন্দেহের সূত্রপাত হয়েছে। হাদীসটিতে ‘অগ্নিউপাসক’ ‘কঙ্কর নিক্ষেপের দূরত্ব’ এবং ‘শূকর’-এর উল্লে­খ প্রত্যাখ্যাত ও অগ্রহণযোগ্য। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, আমি হাদীসটি কেবলমাত্র মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইল আল-বাসরী থেকে শুনেছি। আমার ধারণা, তিনি ভুলে পতিত হয়েছেন। কারণ হাদীসটি তিনি তার মুখস্ত থেকে বর্ণনা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 314 · #702 · Daif, Daif, Daif
  315. 315

    । ইয়াযীদ ইবনু নীমরান সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাবূকে এক খোঁড়া ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। সে বলল, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে আমি গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তার পদচিহ্ন (চলার শক্তি) মিটিয়ে দাও। এরপর থেকে আমি আর হাঁটতে পারি না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 315 · #703 · Daif, Daif, Daif, Daif
  316. 316

    । সাঈদ হতে উক্ত সানাদ ও অর্থে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে এও রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে আমাদের সালাত নষ্ট করেছে। আল্লাহ তার পা কেটে দিন। [1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ হতে মুসহিরও উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতেও রয়েছেঃ সে আমার সালাত নষ্ট করেছে।

    Book 2 · Hadith 316 · #704 · Daif, Daif, Daif
  317. 317

    । সাঈদ ইবনু গাযওয়ান থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি হজ পালনের উদ্দেশে গমনকালে তাবূকে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এক খোঁড়া লোক দেখতে পেয়ে তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। লোকটি বলল, আমি আপনার কাছে এই শর্তে একটি কথা বলব যে, আমি যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন পর্যন্ত আপনি কাউকে তা বলতে পারবেন না। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূকে অবতরণ করে একটি খেজুর গাছের নিকট গিয়ে বললেনঃ এটাই হচ্ছে আমাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হ্ (সুতরাহ)। এই বলে তিনি সেদিকে ফিরে সালাত শুরু করলেন। আমি তখন বালক ছিলাম বিধায় (না বুঝতে পেরে) দৌঁড়ে তাঁর ও সেই গাছের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেনঃ সে আমাদের সালাত কেটেছে। আল্লাহ! তুমিও তার পদচিহ্ন (চলার শক্তি) মিটিয়ে দাও। অতঃপর সেদিন থেকে আজকের এদিন পর্যন্ত আমি আর (দু’পায়ে ভর করে) দাঁড়াতে পারিনি। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 317 · #705 · Daif, Daif, Daif, Daif
  318. 318

    । ‘আমর ইবনু শু‘আইব থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘সানিয়্যাতু আযাখির’ নামক স্থানে অবতরণ করলাম। সালাতের সময় হলে তিনি দেয়ালের দিকে কিবলামুখী হয়ে (দেয়ালকে সুতরাহ বানিয়ে) সালাত আদায় করলেন। আমরাও তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। ইতিমধ্যে একটি ছাগলছানা এসে তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তিনি সেটিকে এমনভাবে বাধা দিতে থাক‎লেন যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর পেট দেয়ালের সাথে লেগে গেল। অবশেষে ছানাটি তার পেছন দিয়ে চলে গেল।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 318 · #706 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  319. 319

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়কালে একটি ছাগলছানা তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তিনি সেটিকে বাধা দিলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 319 · #707 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  320. 320

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (সালাত আদায়কালে) আমি তাঁর ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। শু’বাহ বলেন, আমার ধারণা, ‘আয়িশাহ (রাঃ) এটাও বলেছিলেন, আমি তখন হায়িয অবস্থায় ছিলাম। [1] সহীহ, তবে ‘আমি হায়িয অবস্থায় ছিলাম’ এ কথাটি বাদে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বিভিন্ন সানাদে বর্ণিত হয়েছে। কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ ও আবূ সালামাহ্ কর্তৃক ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রের বর্ণনায় ‘আমি তখন হায়িয অবস্থায় ছিলাম’ কথাটুকু উল্লে­খ নেই।

    Book 2 · Hadith 320 · #708 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari (383) Sahih Muslim (512)
  321. 321

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতে সালাত আদায়কালে তিনি তাঁর ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে ঐ বিছানায় ঘুমিয়ে থাকতেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে তাকে জাগিয়ে দিতেন, ফলে তিনিও বিতর সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 321 · #709 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (512) Sahih Muslim (512)
  322. 322

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, তোমরা (সালাত ভঙ্গের ব্যাপারে) আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের পর্যায়ভুক্ত করেছ। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি যে, আমি তাঁর সামনে আড়া-আড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। তিনি সিজদা্ করতে চাইলে আমার পায়ে চিমটি কাটতেন, এতে আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম। অতঃপর তিনি সিজদা্ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 322 · #710 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (519)
  323. 323

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতে সালাত আদায়কালে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার দু’ পা তাঁর সামনে থাকত। তিনি যখন সিজদা্ করতে চাইতেন, তখন আমার পায়ে খোঁচা দিতেন। ফলে আমি পা গুটিয়ে নিতাম, অতঃপর তিনি সিজদা্ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 323 · #711 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (382) Sahih Muslim (512)
  324. 324

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কিবলার দিকে আড়া-আড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। এরূপ অবস্থায়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতের নফল) সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি বিতর সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে আমাকে চিমটি কাটতেন আর বলতেনঃ উঠো এবং পাশে দাঁড়াও। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় ‘চিমটি কাটার’ কথাটি আছে। [1] হাসান সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 324 · #712 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  325. 325

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বালিগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে একটি মাদী গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে মিনায় আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সালাত আদায় করাচ্ছিলেন। আমি একটি কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে গাধীর পিঠ থেকে নামলাম এবং সেটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হলাম। এ সময় কেউ আমাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেনি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা হলো কা’নবীর বর্ণনা। এটাই পূর্ণাঙ্গ। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইমামের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে সালাতের ক্ষতি হয় কিন্তু কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে কোন ক্ষতি নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 325 · #713 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (493) Sahih Muslim (504)
  326. 326

    । আবূস সাহবা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট সালাত নষ্ট হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, একদা আমি এবং বনু ‘আবদুল মুত্তালিবের এক বালক গাধার পিঠে আরোহণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সে ও আমি গাধার পিঠ থেকে নামলাম এবং আমরা গাধাটিকে কাতারের সামনে ছেড়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে আপত্তিকর মনে করলেন না। এ সময় বনু ‘আবদুল মুত্তালিবের দু’টি বালিকা এসে কাতারের মধ্যে প্রবেশ করল। এতেও তিনি কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 326 · #714 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  327. 327

    । মানসূর (রহঃ) হতে একই সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন ‘আবদুল মুত্তালিব গোত্রের দু’টি মেয়ে ঝগড়ারত অবস্থায় আসল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ধরে ফেললেন। ‘উসমান বলেন, তারপর উভয়কে পৃথক করে দিলেন। দাউদ বলেন, তারপর তাদের একজনকে অপরজন হতে আলাদা করে দিলেন কিন্তু তিনি এরূপ করা আপত্তিকর মনে করলেন না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 327 · #715 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  328. 328

    । আল-ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। আমরা তখন আমাদের বাগানে ছিলাম। তাঁর সাথে ‘আব্বাস (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বালু ভূমিতে সালাত আদায় করলেন। অথচ তাঁর সামনে কোন সুতরাহ ছিল না। আমাদের মাদী গাধা এবং কুকুরটি তাঁর সামনে দৌড়াদৌড়ি করছিল। কিন্তু তিনি একে আপত্তিকর মনে করলেন না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 328 · #716 · Daif, Daif, Daif, Daif
  329. 329

    । আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের সামনে দিয়ে কোন কিছু অতিক্রম করলে সালাত ভঙ্গ হয় না। তবে সাধ্যানুযায়ী তোমরা এরূপ করতে বাধা দিবে। কারণ সে তো একটা শয়তান।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 329 · #717 · Daif, Daif, Hasan
  330. 330

    । আবূল ওয়াদ্দাক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সালাত আদায় করছিলেন এমন সময় তাঁর সামনে দিয়ে এক কুরাইশ যুবক অতিক্রম করলে তিনি তাকে বাধা দিলেন। সে পুনরায় অতিক্রম করতে চইলে তিনি তাকে আবারো বাধা দিলেন। এরূপ তিনবার হলো। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বললেন, বস্তুত সালাতকে কোন কিছুই নষ্ট করতে পারে না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যথাসাধ্য (সালাতের সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে) বাধা দিবে। কারণ সে একটা শয়তান। [1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’টি হাদীস পরস্পর বিরোধী হলে তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ যেরূপ আমল করেছেন তা বিবেচনায় আনতে হবে। দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 330 · #718 · Daif, Daif, Hasan
  331. 331

    । সালিম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আরম্ভকালে নিজের দু’ হাত স্বীয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। অনুরূপভাবে রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু' থেকে মাথা উঠানোর পরও তাঁকে হাত উঠাতে দেখেছি। তবে তিনি দু’ সিজদার মাঝে হাত উঠাতেন না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 331 · #719 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (735، 736، 738) Sahih Muslim (390)
  332. 332

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ানোর সময় স্বীয় দু’ হাত কান পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকু‘তে গমনকালেও দু’ হাত উপরে উঠাতেন। রুকু' থেকে উঠার সময়ও দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান্ হামিদাহ্’’- বলতেন। তবে তিনি সিজদার সময় হাত উঠাতেন না। প্রত্যেক রুকুর জন্য তাকবীর বলার সময় দু’ হাত উঠাতেন এবং এভাবেই সালাত সম্পন্ন করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 332 · #720 · Sahih, Sahih, Hasan
  333. 333

    । আবূ ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তিনি তাকবীর বলার সময় স্বীয় দু’ হাত উত্তোলন করতেন। অতঃপর স্বীয় হাত কাপড়ে ঢুকিয়ে ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি রুকু‘তে গমনকালে স্বীয় দু’ হাত বের করে উপরে উঠাতেন এবং রুকু' থেকে মাথা উঠানোর সময়ও দু’ হাত উপরে উঠাতেন। তারপর সিজদাতে স্বীয় চেহারা দু’ হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে রাখতেন। অতঃপর সিজদা্ থেকে মাথা উত্তোলনের সময়ও দু’ হাত উত্তোলন করতেন। এরূপে তিনি তাঁর সালাত শেষ করতেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, আমি হাসান ইবনু হাসানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি এরূপই ছিল। যে লোক এর অনুসরণ করেছে- সে তো করেছে আর যে তা বর্জন করেছে- সে তো তা বর্জন করেছে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীস ইবনু জাহাদাহ হতে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাতে সিজদা্ থেকে মাথা উঠানোর সময় হাত উত্তোলনের কথা উল্লেখ নেই।

    Book 2 · Hadith 333 · #721 · Sahih, Sahih, Daif
  334. 334

    । ‘আবদুল জাববার ইবনু ওয়ায়িল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে দাঁড়িয়ে স্বীয় দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কর্ণদ্বয় পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবীর বলতে দেখেছেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 334 · #722 · Daif, Daif, Daif
  335. 335

    । ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল বলেন, আমার পরিবারের লোকজন আমার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আমার পিতা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীর বলার সময় দু’ হাত উঠাতে দেখেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 335 · #723 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  336. 336

    । ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অবশ্যই তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি দেখাব। তিনি বলেন, (তা হচ্ছে এরূপঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে স্বীয় দু’ হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করেন। তারপর ডান হাত দিয়ে স্বীয় বাম হাত ধরেন এবং রুকু‘তে গমনকালে স্বীয় দু’ হাত তদ্রুপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর উভয় হাতকে হাঁটুদ্বয়ের উপর রাখেন। রুকু' হতে মাথা উত্তোলনের সময়ও তিনি উভয় হাত ঐভাবে উত্তোলন করেন। এরপর তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিলেন এবং বাম হাত বাম ঊরুর উপর এবং ডান হাত ডান ঊরুর উপর আলাদাভাবে রাখেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা অঙ্গুলিদ্বয় আবদ্ধ করে রাখেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি বৃত্তাকার করেন এবং শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেন। (বর্ণনাকারী বলেন), আমি তাকে এভাবে বলতে দেখেছি। আর বিশর নিজের মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা বৃত্তাকার করেন এবং শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 336 · #724 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  337. 337

    । ‘আসিম হতে এই সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ও জোড়া আঁকড়ে ধরেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি কয়েক দিন পর সেখানে গিয়ে দেখলাম, সাহাবীগণ প্রচন্ড শীতের দরুণ শরীর আবৃত করে রেখেছেন। এ সময় তাঁদের হাতগুলো নিজ নিজ কাপড়ের নীচে নড়াচড়া করছিল (রফ‘উল ইয়াদাইনের কারণে)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 337 · #725 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  338. 338

    । ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আরম্ভকালে স্বীয় দু’ হাত নিজের কান পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি কয়েক দিন পর সেখানে গিয়ে দেখলাম, সাহাবীগণ সালাত আরম্ভকালে তাদের হাতগুলো বুক পর্যন্ত উঠাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের শরীর কোট ও অন্যান্য কাপড়ে আবৃত ছিল।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 338 · #726 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  339. 339

    । ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শীতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে দেখলাম যে, তাঁর সাহাবীগণ সালাতরত অবস্থায় তাদের কাপড়ের ভিতর থেকে নিজ নিজ হাত উত্তোলন করছিলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 339 · #727 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  340. 340

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুমায়িদ আস-সাঈদী (রাঃ)-কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে- যাদের মধ্যে আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) ছিলেন- বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আমি আপনাদের চেয়ে অধিক অবগত। তাঁরা বললেন, সেটা আবার কিভাবে? আল্লাহর শপথ! আপনি তো তাঁর অনুসরণ ও সাহচর্যের দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে বেশি অগ্রগামী নন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তাঁরা বললেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ানোর সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে পূর্ণরূপে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। এরপর কিরাত পড়ে তাকবীর বলে রুকু‘তে গমনকালে স্বীয় দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তারপর রুকু‘তে গিয়ে দু’ হাতের তালু দ্বারা হাঁটুদ্বয় দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতেন। রুকু‘তে তাঁর মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল থাকত। এরপর রুকু‘ হতে মাথা উঠিয়ে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলে তিনি স্বীয় দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তিনি সিজদায় যেতেন, সিজদাতে বাহূদ্বয় স্বীয় পাজরের পাশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। তারপর সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তাতে সোজা হয়ে বসতেন.....। অতঃপর শেষ রাক‘আতে স্বীয় বাম পা ডান পাশে বের করে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তখন তাঁরা সকলে বললেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 340 · #728 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  341. 341

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর আল-‘আমিরী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি সাহাবীগণের মাজলিসে উপস্থিত হই। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। তখন আবূ হুমায়িদ (রাঃ) বলেন ..... তারপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তিনি রুকুতে স্বীয় হাতের তালু দ্বারা হাঁটু মজবুতভাবে ধরতেন, হাতের অঙ্গুলিগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতেন এবং স্বীয় মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল রাখতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দুই রাক‘আত সালাত শেষে বসার সময় বাম পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তারপর চতুর্থ রাক‘আতে বসার সময় স্বীয় দু’ পা ডান দিকে বের করে দিয়ে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসে যেতেন।[1] সহীহ, তবে তার(وَلَا صَافِحٍ بِخَدِّه) কথাটি বাদে।

    Book 2 · Hadith 341 · #729 · Sahih, Sahih, Daif
  342. 342

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সিজদাতে নিজের দু’ হাত একেবারে বিছিয়েও দিতেন না আবার তা শরীরের সাথে মিলিয়েও রাখতেন না। তিনি তাঁর পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 342 · #730 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (828)
  343. 343

    । ‘আব্বাস অথবা ‘আইয়্যাশ ইবনু সাহল আস-সাঈদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি সাহাবীগণের একটি মাজলিসে উপস্থিত হন, যেখানে তাঁর পিতা, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ), আবূ হুমায়িদ আস-সাঈদী এবং আবূ উসায়িদ (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীস কিছুটা হ্রাসবৃদ্ধিসহ বর্ণিত হয়েছে। তাতে বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু' হতে মাথা উঠিয়ে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ বলে নিজের দু’ হাত উত্তোলন করতেন। তারপর আল্লাহ আকবার বলে সিজদায় যেতেন এবং সিজদাতে হাতের তালু, হাঁটু ও পায়ের পাতার উপর ভর করতেন। তারপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে (সিজদা্ হতে উঠে) বাম পার্শ্বের পাছার উপর ভর করে বসতেন আর অন্য পা সোজা করে রাখতেন। তারপর তাকবীর বলে সিজদায় যেতেন এবং পুনরায় তাকবীর বলে সিজদা্ হতে উঠে বাম পার্শ্বের পাছার উপর না বসে দাঁড়িয়ে যেতেন। অতঃপর (পুরো) হাদীস বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত শেষে বসার পর (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়ানোর ইচ্ছা করলে তাকবীর বলে দাঁড়াতেন এবং (এভাবে) অবশিষ্ট দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। কিন্তু তাতে শেষ বৈঠকে বাম পার্শ্বের পাছার উপর বসার কথা উল্লে­খ নেই।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 343 · #731 · Daif, Daif, Daif
  344. 344

    । ‘আব্বাস ইবনু সাহল (রহঃ) বলেন, আবূ হুমায়িদ, আবূ উসায়িদ, সাহল ইবনু সা‘দ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) একটি মাজলিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তখন আবূ হুমায়িদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে আমি আপনাদের চাইতে অধিক অবগত ..... অতঃপর তিনি এখানে অংশ বিশেষ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে নিজের দু’ হাতে শক্তভাবে হাঁটুদ্বয় ধরে রাখতেন এবং দু’ হাতকে তাঁর পার্শ্বদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে রাখতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সিজদাতে নাক ও কপাল মাটির সাথে মিলিয়ে রাখতেন এবং দু’ হাতকে তাঁর পার্শ্বদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে রাখতেন। .... অতঃপর বসে বাম পা বিছিয়ে দিতেন, ডান পায়ের সম্মুখ ভাগ কিবলামুখী করে রাখতেন, ডান হাতের তালু ডান পায়ের ঊরুর উপর এবং বাম হাতের তালু বাম পায়ের ঊরুর উপর রাখতেন এবং তাঁর (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ‘উত্বাহ ইবনু আবূ হাকীম (রহঃ) ‘আব্দুল্লাহ হতে ‘আব্বাস ইবনু সাহল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা তাতে বাম পার্শ্বের পাছার উপর বসার কথা উল্লে­খ করেননি।

    Book 2 · Hadith 344 · #732 · Sahih, Sahih, Hasan
  345. 345

    । আবূ হুমায়িদ (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি সিজদাতে স্বীয় পেট ঊরু থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ইবনুল মুবারক ও অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 2 · Hadith 345 · #733 · Daif, Daif, Daif, Daif
  346. 346

    । ‘আবদুল জাববার ইবনু ওয়ায়িল তাঁর পিতা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গমনকালে যমীনে স্বীয় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন, সিজদাতে তিনি নিজের দু’ হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে কপাল রাখতেন এবং দু’ হাত বগল হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন।[1] দুর্বল। قَالَ حَجَّاجٌ وَقَالَ هَمَّامٌ وَحَدَّثَنَا شَقِيقٌ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بِمِثْلِ هَذَا وَفِي حَدِيثِ أَحَدِهِمَا - وَأَكْبَرُ عِلْمِي أَنَّهُ حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ - وَإِذَا نَهَضَ نَهَضَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَاعْتَمَدَ عَلَى فَخِذَيْهِ ‏.‏ - ضعيف . ‘আসিম ইবনু কুলাইব তাঁর পিতা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, যথা সম্ভব মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদাহ বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি দাঁড়ানোর সময় ঊরু ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 346 · #734 · Daif, Daif, Daif
  347. 347

    । ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীর বলার সময় তাঁর দু’ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 347 · #735 · Daif, Daif, Daif
  348. 348

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। এমনিভাবে রুকু‘তে গমনকালে, রুকু‘ হতে সোজা হওয়ার সময় এবং দু’ রাক‘আত শেষে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়ানোর সময়ও দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 348 · #736 · Daif, Daif, Daif, Daif
  349. 349

    । মায়মূন আল-মাক্কী সূত্রে বর্ণিত। তিনি দেখলেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ির (রাঃ) লোকদের সালাত আদায়কালে দাঁড়ানোর সময়, রুকু‘ হতে সোজা হওয়ার সময়, সিজদা্কালে, এবং (দু’ রাক‘আত শেষে তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়ানোর সময় তাঁর দু’ হাত উঠালেন। অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে ইবনুয যুবায়িরের সালাত সম্পর্কে বললাম, কাউকে তো এভাবে হাত উঠিয়ে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তিনি বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের পদ্ধতি অবলোকন করতে চাইলে ইবনুয যুবায়িরের সালাতের অনুসরণ কর।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 349 · #737 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  350. 350

    । নাদর ইবনু কাসীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু তাউস (রহঃ) খায়িফের মসজিদে আমার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কালে প্রথম সিজদায় যাওয়ার পর সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় চেহারা বরাবর দু’ হাত উত্তোলন করলেন। বিষয়টি আমার কাছে অপ্রীতিকর মনে হওয়ায় আমি এ ব্যাপারে উহায়িব ইবনু খালিদকে জিজ্ঞাসা করি। ফলে উহায়িব (রহঃ) ‘আবদুল্লাহকে বললেন, তুমি এমন একটি কাজ করেছ, যা আমি ইতিপূর্বে আর কাউকে করতে দেখিনি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু তাউস (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে এরূপ করতে দেখেছি এবং আমার পিতা বলেছেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আমি নিশ্চিত অবগত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 350 · #738 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  351. 351

    । নাফি' (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলার সময়, রুকু‘তে গমনকালে, রুকু‘ হতে মাথা উত্তোলনকালে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ বলে এবং দুই রাক‘আত সালাত আদায়ের পর (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাড়ানোর সময় উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি এর বর্ণনা সূত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (অর্থাৎ এটি মারফূ হাদীস)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সঠিক হচ্ছে, এটি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর বক্তব্য, মারফূ হাদীস নয়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, প্রথম হাদীসের দুই রাক‘আত সালাত শেষে দাঁড়ানোর সময় হাত উত্তোলনের কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত নয়। আর সাক্বাফী এটি ‘উবাইদুল্লাহ সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর মাওকূফ বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাতে উল্লেখ আছেঃ ‘‘তিনি দু’ রাক‘আত সালাত শেষে দাড়ানোর সময় উভয় হাত বক্ষ পর্যন্ত উঠাতেন।’’ এ বর্ণনাটি সহীহ।[1] সহীহ : বুখারী। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, লাইস ইবনু সা‘দ, মালিক, আইয়ূব ও ইবনু জুরায়িজ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ এর বর্ণনা সূত্র সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। হাম্মাদই কেবল এককভাবে হাদীসকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়িজ বলেন, আমি নাফি‘কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি অন্য সময়ের চেয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তাঁর হাত অধিক উঠাতেন? তিনি বলেন, না; বরং তিনি সব সময়ই একইভাবে হাত উঠাতেন। আমি বললাম, আমাকে ইশারায় দেখিয়ে দিন। তিনি তার বুক বা তার চেয়ে একটু নীচে পর্যন্ত ইশারা করে দেখালেন।

    Book 2 · Hadith 351 · #739 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari (739)
  352. 352

    । নাফি' (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সালাত আরম্ভের সময় নিজের দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় দু’ হাত একটু কম উপরে উঠাতেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমার জানা মতে বর্ণনাকারী মালিক ছাড়া কেউ হাত কম উঠানোর কথা উল্লে­খ করেননি।

    Book 2 · Hadith 352 · #740 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  353. 353

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের দুই রাক‘আত আদায় শেষে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে উভয় হাত উঠাতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 353 · #741 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  354. 354

    । ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে তাঁর দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি কিরাত শেষে রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু‘ হতে উঠার সময়ও অনুরূপ করতেন। তবে বসে সালাত আদায়কালে তিনি এরূপ হাত তুলতেন না। তিনি সিজদার পর দাঁড়ালে হাত উঠিয়ে তাকবীর বলতেন।[1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুমায়িদ আস-সাঈদী (রাঃ)-এর হাদীসে রয়েছেঃ যখন তিনি সালাতের দুই রাক‘আত আদায় শেষে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে তাঁর দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, যেরূপ তিনি সালাত আরম্বকালে উঠাতেন।

    Book 2 · Hadith 354 · #742 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  355. 355

    । মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময়, রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু‘ হতে উঠার সময় দু’ হাত কানের উপরিভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। [1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 355 · #743 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (391)
  356. 356

    । বাশীর ইবনু নাহীক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে দাঁড়ালে তাঁর বগল দেখতে পেতাম (অর্থাৎ তিনি হাত এতটা পৃথক রাখতেন)। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মু‘আয আরো উল্লে­খ করেন যে, বর্ণনাকারী নাহীক বলেন, তুমি কি দেখনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সালাতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যেতে পারেন না। বর্ণনাকারী মূসা ইবনু মারওয়ান তাঁর হাদীসে আরো উল্লেখ করেন যে, তিনি তাকবীর বলার সময় দু’ হাত উত্তোলন করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 356 · #744 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  357. 357

    । ‘আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাতের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তাঁর দু’ হাত উঠিয়েছেন এবং রুকুতে দু’ হাত একত্র করে দু’ হাঁটুর মাঝখানে রেখেছেন। এ সংবাদ সা‘দ (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আমার ভাই (‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ) সত্যই বলেছেন। পূর্বে আমরা এরূপই করেছি। পরবর্তীতে আমাদেরকে এরূপ (দু’ হাঁটুর মাঝখানে হস্তদ্বয় স্থাপন) করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 357 · #745 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  358. 358

    । ‘আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কিরূপ ছিল তা শিক্ষা দেব না? বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং তাতে কেবলমাত্র একবার হাত উত্তোলন করলেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের সারসংক্ষেপ। উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি সহীহ নয়।[1] সহীহ। [1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, হাঃ ২৫৭, অনুঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল প্রথমবারই হাত উঠিয়েছেন), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ তাত্ববীক, অনুঃ ঐরূপ না করার অনুমতি প্রসঙ্গে, হাঃ ১০৫৭) উভয়ে ওয়াকী থেকে। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন এবং ইবনু হাযাম বলেছেন সহীহ। পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণ এটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম নাববী, ইমাম শাওকানী (রহঃ) প্রমুখ ইমামগণ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। (আল-মাজমু‘আহ ফী আহাদীসিল মাওযু‘আহ, ২০ পৃঃ)। [১ম অংশ] ইমাম ইবনু হিব্বান বলেন, রফ‘উল ইয়াদাইন না করার পক্ষে কূফাবাসীদের এটিই সবচেয়ে বড় দলীল হলেও এটিই সবচেয়ে দুর্বলতম দলীল। কেননা এর মধ্যে এমন সব বিষয় রয়েছে যা একে বাতিল গণ্য করে। (নায়লুল আওত্বার ৩/১৪, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৪, ‘আওনুল মা‘বূদ)। হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে বলেন, ইবনুল মুবারক বলেছেন, হাদীসটি আমার নিকট প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত নয়। ইবনু আবূ হাতিম বলেন, এ হাদীসটি ভুল ও ত্রুটিযুক্ত। ইমাম আহমাদ ও তাঁর শায়খ ইয়াহইয়া ইবনু আদম বলেন, হাদীসটি দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। ইমাম দারাকুতনী বলেন, হাদীসটি প্রমাণিত নয়। ইমাম বায়হাক্বী এবং ইমাম দারিমী (রহঃ)ও হাদীসটিকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বললেও তিনি নিজেই আবার ‘আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ)-এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, এ হাদীসটি প্রমাণিত নয় এবং প্রতিষ্ঠিতও নয়। (আওনুল মা‘বূদ, নায়লুল আওত্বার, জামি আ-তিরমিযী ও অন্যান্য)। আল্লামা শামসুল হাক্ব ‘আযীমাবদী (রহঃ) বলেন, তাকবীরে তাহরীমাহ ব্যতীত অন্যত্র রফ‘উল ইয়াদাইন না করার পক্ষে এ হাদীসটিকে দলীল হিসেবে পেশ করা হয়। কিন্তু হাদীসটি দলীলযেগ্য নয়। কেননা হাদীসটি দুর্বল ও অপ্রমাণিত। আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু মাসঊদের সূত্র চাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে রফ‘উল ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সহীহ সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়নি। আর ইবনু মাসঊদের এ হাদীসটিকে সহীহ মেনে নিলেও তা রফ‘উল ইয়াদাইন এর পক্ষে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহের বিপরীতে পেশ করা যাবে না এবং ইবনু মাসঊদের এ হাদীসের উপর ‘আমঅল করা উচিত হবে না। কেননা এটি না বোধক আর ঐগুলি হাঁ বোধক। ইলমে হাদীসের মূলনীতি অনুযায়ী হাঁ বোধক হাদীস না বোধক হাদীসের উপর অগ্রাধিকারযোগ্য। মাযহাবী থিওরীতেও বলা হয়েছে, হানাফী ও অন্যদের নিকট যখন হাঁ সূচক ও না সূচকের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিবে তখন না সূচকের উপর হাঁ সূচক অগ্রাধিকার পাবে। এরূপ নীতি বলবৎ হয় যদি হাঁ সূচকের পক্ষে একজনও হয় তবুও। সুতরাং সেখানে বিরাট এক জামা‘আত হা সূচকের পক্ষে সেখানে অন্য কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। যেমনটি এ মাসআলার ক্ষেত্রে। সুতরাং দলীল সাব্যস্ত হওয়ার পর গোড়ামীনা করাটাই উচিত....। (হাশিয়া মিশকাত: আলবানী ১/১৫৪, ও যঈফাহ ৫৬৮)। ইমাম খাত্তাবী (রহঃ) বলেন, রুকু‘র সময় এবং রুকু‘ থেকে মাথা উঠানোর পর রফ‘উল ইয়াদাইন করার পক্ষে যে সমস্ত সহীহ হাদীসাবলী বর্ণিত হয়েছে তা ইবনু মাসঊদের হাদীসের চেয়ে অগ্রগণ্য। প্রমাণ্যযোগ্য হাঁ বোধক হাদীস না বোধকের উপর প্রাধাণ্যযোগ্য। * ইবনু মাস‘উদের হাদীস সম্পর্কে ইবরাহীম নাখায়ীল ধারণামূলক উক্তিঃ ইবনু মাসঊদের হাদীস সম্পর্কে ইবরাহীম নাখায়ীর এক বিতর্কের কথা কতিপয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আমর ইবনু মুররাহ বলেন, আমি মসজিদে হাযরামাউতে প্রবেশ করে দেখি, আলকামাহ ইবনু ওয়ায়িল তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘র পূর্বে ও পরে রফ‘উল ইয়াদাইন করেছেন। অতঃপর আমি ইবরাহীম নাখায়ীর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, তিনিই শুধু দেখেছেন আর ইবনু মাসঊদ ও তার ছাত্ররা দেখেনি? (ত্বাহাভী ১/২২৪)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ইবরাহীম নাখায়ী বলেন, ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) একজন গ্রাম্য লোক। তিনি ইসলামের বিধি বিধান জানেন না। তিনি যদি রফ‘উল ইয়াদাইন করতে একবার দেখে থাকেন তাহলে ইবনু মাসঊদ পঞ্চাশবার না করতে দেখেছেন, ইত্যাদি। (আবূ ইউসূফের আসার ২১ পৃঃ, জামি‘উল মাসানিদ ১/৩৫৮, ত্বাহাভী ১/১২০)। কিন্তু ইবরাহীম নাখায়ীর এ মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ কেবল ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) নন বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসংখ্য সাহাবায়ি কিরাম রফ‘উল ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাঁদের সংখ্যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সুতরাং ‘‘ইবনু মাসঊদ পঞ্চাশবার রফ‘উল ইয়াদাইন না করতে দেখেছেন’’- এটা ইবরাহীম নাখায়ীর শুধু দাবীমাত্র। তাই তো হাদীস সম্রাট ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এটা ইবরাহীম নাখায়ীর শুধু ধারণা যে, ওয়ায়িল ইবনু হুজর ‘‘একবার রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেছেন।’’ অথচ ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) নিজে বর্ণনা করেছেন যে, ‘তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণকে বহুবার রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেছেন’ এবং ওয়ায়িল ঐরূপ ধারণার মুখাপেক্ষী নন। কারণ তাঁর চোখে দেখা এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা অন্যের (ইবরাহীম নাখায়ীর) ধারণার চেয়ে অনেক উত্তম। (দেখুন, জুযউল ক্বিরাআত, পৃঃ ২৩)। ইমাম বায়হাক্বী ‘আলমা‘রিফাহ গ্রন্থে বলেনঃ ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেনঃ উচিত হচ্ছে, ওয়ায়িলের বক্তব্যকে গ্রহণ করা। কেননা তিনি একজন জলীলুল কদর সাহাবী (রাঃ)। এমতাবস্থায় তাঁর হাদীসকে কিভাবে প্রত্যাখ্যান করা যায় এমন লোকের কথায় যিনি সাহাবী নন? বিশেষ করে ওয়ায়িলের পাশাপাশি অসংখ্য সাহাবায়ি কিরাম (রাঃ)-ও রফ‘উল ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। (দেখুন, নাসবুর রায়াহ)। ফাক্বীহ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) বলেনঃ (ইবরাহীম নাখায়ীর) এ উক্তি দোষণীয়, এর উপর নির্ভর করা যায় না। কেননা রফ‘উল ইয়াদাইন করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে সাব্যস্ত হয়েছে, অতঃপর খুলাফায়ি রাশিদীন থেকে, অতঃপর সাহাবীগণ ও তাবিঈগণ থেকে। আর ইবনু মাসঊদের রফ‘উল ইয়াদাইন ভুলে যাওয়া এটা ওয়াজিব করে না যে, এ সমস্ত সাহাবায়ি কিরামগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেননি। ইমাম বায়হাক্বী, শায়খ আবূল হাসান সিন্দী হানাফী ও ফাক্বীহ আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) প্রমুখগণ বলেনঃ বরং ইবনু মাসঊদ এমন কিছু বিষয় ভুলে গেছেন যে ব্যাপারে মুসলিমগণ মতভেদ করেননি। যেমনঃ (১) তিনি সমস্ত সাহাবায়ি কিরাম ও মুসলিম উম্মাহর বিপরীতে সূরাহ নাস ও সূরাহ ফালাক্বকে কুরআনের অংশ মনে করতেন না। (২) তিনি তাতবীক অর্থাৎ রুকু‘র সময় দু’ হাঁটুর মাঝখানে দু’ হাত জড়ো করে হাঁট দ্বারা চেপে রাখতে বলতেন। অথচ এরূপ ‘আমল রহিত হয়ে যাওয়া এবং তা বর্জন করার উপর সকল ‘আলিমগণ যে একমত হয়েছেন তাও তিনি ভুলে গেছেন। (৩) ইমামের সাথে দু’ জন মুক্তাদী হলে মুক্তাদীদ্বয় কোথায় কিভাবে দাঁড়াবেন তাও তিনি ভুলে গেছেন। তিনি বলতেন, ইমামের বরাবর দাঁড়াতে হবে। অথচ এটা হাদীসের সম্পূর্ণ খেলাফ। (৪) তিনি ভুলে গিয়েছিলেন বিধায় এরূপ বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার দিন ফজরের সালাত সঠিক সময়ে পড়তেন না বরং ঈদের সালাতের পূর্বে পড়তেন। অথচ এটা সমস্ত মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধ মত। এ ব্যাপারে সমস্ত ‘আলিমগণের ঐক্যমতের কথাও তিনি ভুলে গেছেন। (৫) তিনি ভুলে গেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফা ময়দানে কী নিয়মে দু’ ওয়াক্ত সালাত একত্রে আদায় করেছেন। (৬) তিনি সিজদার সময় মাটিতে হাত বিছিয়ে রাখতে বলতেন। অথচ এটি হাদীসের পরিপন্থি হওয়ার ব্যাপারে ‘আলিমগণ মতভেদ করেননি বরং একমত পোষণ করেছেন, তাও ইবনু মাসঊদ ভুলে গেছেন। (৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম وما خلق الذكر والأنثى আয়াতটি কিভাবে পড়তেন তাও তিনি ভুলে গেছেন। অতএব এ সমস্ত ভুল যাঁর হয়েছে, তাঁর সালাতে রফ‘উল ইয়াদাইন না করা এবং সে বিষয়ে হাদীস না জানা বা না বলাও ভুলের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট এ কথা প্রসিদ্ধ যে, ইবনু মাসঊদের শেষ বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে স্মৃতি ভ্রম ঘটে। সুতরাং রফ‘উল ইয়াদাইন না করার হাদীসটিও সে সবের অন্তর্ভুক্ত হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। (দেখুন, মাওয়াহিবু লাতীফা ১/২৬০, ইমাম বুখারী জুযউ রফ‘উল ইয়াদাইন, ইমাম যায়লায়ী’ হানাফীর নাসবুর রায়াহ ৩৯৭-৪০১ পৃঃ, ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৩৪, শারহু মুসনাদে ইমাম আবূ হানিফা ১৪১ পৃঃ, বালাগুল মুবীন ১/২২৯, ও অন্যান্য)। * ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত আরো কয়েকটি হাদীসঃ (ক) ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ ‘‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তাঁরা সালাতে রফ‘উল ইয়াদাইন করেননি। সালাতের শুরুতে ছাড়া।’’ (বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ ২/১১৩, ১১৪, দারাকুতনী ১/২৯৫, ইবনু আদী কামিল ফিয যু‘আফা ৬/১৫২, উক্বাইলী ২/৪২৯, ইবনু হিববান ‘আল-মাজরুহীন ২/২৭০)। এ হাদীসকে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ), আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ), ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) ও ইমাম শাওকানী (রহঃ) বানোয়াট (মাওযু) বলেছেন- (দেখুন, তাসহীলুল ক্বারী, আল-ফাওয়ায়িদুল মাওযু‘আহ, আল-লাআ-লিল মাসনু‘আহ ফিল আহাদীসিল মাওযু‘আহ ২/১৯, এবং অন্যান্য)। ইবনুল জাওযী (রহঃ) হাদীসটিকে তার ‘আল-মাওযু’আত’ কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তিনি ইমাম আহমাদ সূত্রে বলেছেনঃ এর বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু জাবির কিছুই না। তার থেকে কেবল এমন লোকই হাদীস বর্ণনা করে থাকেন যিনি তার চেয়েও নিকৃষ্ট। হাফিয ‘আত-তাক্বরীব’ (২/১৪৯) গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম দারাকুতনী বলেনঃ এতে মুহাম্মাদ ইবনু জাবির একক হয়ে গেছেন। তিনি দুর্বল। হাম্মাদ থেকে ইবরাহীম সূত্রে। হাদীসটি হাম্মাদ ছাড়াও ইবরাহীম থেকে মুরসালভাবে ইবনু মাসঊদ সূত্রে মাওকূফভাবে বর্ণিত হয়েছে, মারফূভাবে নয়। আর এটাই সঠিক অর্থাৎ মাওকূফ। বায়হাক্বী তার ‘সুনান’ গ্রন্থে বলেনঃ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মান থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে ইবনু মাসঊদ সূত্রে মুরসালভাবে। (খ) উক্ত রিওয়ায়াতটিই বর্ণনা করেছেন বায়হাক্বী তার ‘খুলাফিয়াত’ গ্রন্থে তারই সনদে ইবরাহীম সূত্রে এভাবেঃ ‘‘ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সালাত আরম্ভকালে তাকবীর দিয়ে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন কেবল একবার। এরপর আর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন না।’’ ইমাম হাকিম বলেনঃ এটাই সঠিক অর্থাৎ মাওকূফ। ইবরাহীম ইবনু মাসঊদের সাক্ষাৎ পাননি। সুতরাং বর্ণনাটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)। এছাড়া সনদের মুহাম্মাদ ইবনু জাবির সম্পর্কে হাদীসবিশারদ ইমামগণ সমালোচনা করেছেন। তার ব্যাপারে উত্তম কথা হচ্ছেঃ তিনি হাদীস চুরি করতেন। তার হাদীসে মুনকার ও মাওযু‘আতের আধিক্য রয়েছে। ইবনু ‘আদী বলেন, ইসহাক্ব ইবনু আবূ ইসরাঈল মুহাম্মাদ ইবনু জাবিরকে তার একদল শায়খের উপর মর্যাদা দিতেন। তার থেকে আইয়ূব, ইবনু ‘আওন, হিশাম ইবনু হাসসান, সাওরী, শু‘বাহ, ইবনু উ‘আইনাহ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি সমালোচিত। তথাপি তার হাদীস লিখে রাখা হতো। তার ব্যাপারে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি দুর্বল। (দেখুন, নাসবুর রায়াও অন্যান্য)। (গ) ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ ‘‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে,আবূ বাকর ও উমার (রাঃ)-এর পিছনে ১২ বছর এবং ‘আলীর পিছনে কুফায় ৫ বছর সালাত আদায় করেছি। এরা কেউ রফ‘উল ইয়াদাইন করেননি।’’ এটাও বানানো হাদীস। এর বর্ণনাকারী আসবাগ ইবনু খালীল মালিকী মাযহাবের মুফতি ছিলেন। হাদীসের জ্ঞান ছিলো না। ইলমে হাদীস ও আসহাবে হাদীসের দুশমন ছিলেন। তিনি মালিকী মাযহাবের পক্ষে এ হাদীস তৈরী করেন। ইবনু মাসঊদের মৃত্যু হয় উসমানের খিলাফাতকালে। সুতরাং তার উক্তি ‘‘আমি আলীর পিছনে ৫ বছর সালাত আদায় করেছি’’ কত হাস্যকর। এ থেকে বুঝা যায় আসবাগ ইতিহাসের জ্ঞানে দুর্বল ছিলেন। তা না হলে এমন অপ্রয়োজনীয় ভুল করতেন না। (দেখুন, তাযকিরাতুল মাওযু‘আত, পৃঃ ৩৯)। (ঘ) ইবনু মাসঊদ বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত উঠাতেন আমরাও হাত উঠাতাম। তিনি হাত উঠানো ছেড়ে দিলেন আমরাও ছেড়ে দিলাম।’’ এ বর্ণনা বানানো এবং সনদ বিহীন। (ঙ) ত্বাহাবী শারহু মাআনীতে বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম নাখায়ী বলেনঃ ‘‘ইবনু মাসঊদ কেবল সালাতের শুরুতে হাত উঠাতেন, এছাড়া অন্যত্র হাত উঠাতেন না।’’ এর সনদ মুনকাতি। ইমাম ত্বাহাবী বলেনঃ ইবরাহীম নাখায়ী ইবনু মাসঊদ সূত্রে সেই হাদীসকেই মুরসালভাবে বর্ণনা করেন, যা তার নিকট সহীহ ও একাধিকসূত্রে পৌঁছেছে। রফ‘উল ইয়াদাইন না করার অন্যান্য দুর্বল ও ভিত্তিহীন বর্ণনাঃ একঃ বারা‘আ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বর্ণিত হাদীস। যা সহীহ নয় বরং ভিত্তিহীন। সামনে ৭৪৯ ও ৭৫২ নং হাদীসের টিকায় এর আলোচনা আসবে। দুইঃ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, পরে ছেড়ে দিয়েছেন।’’- এর কোনই ভিত্তি নেই। বরং ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে রফ‘উল ইয়াদাইনের পক্ষেই সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। তিনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসঃ (ক) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘র সময় ও রুকু‘ থেকে উঠার সময় দু’ হাত তুলতেন। পরবর্তীতে তিনি সালাত শুরুর সময় বাদে অন্যত্র দু’ হাত তুলেননি।’’ এটিও ভিত্তিহীন হাদীস। বরং ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সহীহভাবে রুকু‘ কালে ও রুকু থেকে উঠার সময় দু’ হাত তোলার হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনুল জাওযী (রহঃ) ‘আত-তাহক্বীক্ব’ গ্রন্থে বলেনঃ হানাফীদের ধারণা, ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবায়র বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা রফ‘উল ইয়াদাইন মানসূখ হয়ে গেছে। অথচ হাদীস দু’টির কোনো ভিত্তিই নেই। বরং ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে এর বিপরীতে রফ‘উল ইয়াদাইনের পক্ষেই সুরক্ষিত (মাহফূয) বর্ণনা রয়েছে। তা হলোঃ একদা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে মায়মূন আল-মাক্বী বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়র (রাঃ)-কে সালাতের শুরুতে, রুকু‘র সময়, সিজদার প্রাক্কালে এবং তৃতীয় রাক‘আতের জন্য দাঁড়ানোর সময় দু’ হাতে ইশারা (রফ‘উল ইয়াদাইন) করতে দেখেছি। এ কথা শুনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তুমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত দেখতে পছন্দ করো তাহলে ইবনু জুবায়রের সালাতের অনুকরণ করো। (হাদীস সহীহ, দেখুন, আবূ দাঊদ, ত্বাবারানী ‘কাবীর’ ১১/১৩৩, আহমাদ ১/২৫৫, ২৮৯)। ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত বর্ণনাদ্বয় সহীহ হতো, তথাপি মানসুখ হওয়ার দাবী করা সঠিক হতো না। কেননা (কোনো হাদীস) নাসিখ হওয়ার জন্য সেটি মানসুখের চেয়ে অধিক মজবুত হওয়া শর্ত। (দেখুন, নাসবুর রায়াহ ও অন্যান্য)। (খ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বানানো আরেকটি বর্ণনা। তিনি বলেনঃ ‘‘দশজন সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবী রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন না।’’ হাদীসটি বানানো। মৌলভী ‘আব্দুল হাই ফিরিংগী বলেনঃ এটার সনদ না পাওয়া পর্যন্ত এর কোনো মূল্য নেই। (দেখুন, আত-তা‘লিকুল মুমাজ্জাদ, পৃঃ ৭১) (গ) ‘‘সাতটি স্থান ব্যতীত অন্যত্র হাত উঠানো যাবে না, যথাঃ সালাত আরম্ভকালে, মাসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় বাইতুল্লাহ দেখাকালে, মারওয়াতে দাঁড়িয়ে, লোকদের সাথে আরাফায় অবস্থানকালে, জাম‘আতে এবং জামরাতে পাথর নিক্ষেপের সময় উভয় মাকামে।’’ (ত্বাবারানী কাবীর) উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি বাতিল। এর কয়েকটি দোষণীয় দিক রয়েছে। যেমনঃ ১. হাদীসটি বর্ণনায় ইবনু আবূ লায়লাহ একক হয়ে গেছেন। তার দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম বায়হাক্বী বলেন, তিনি মজবুত নন। বাযযার বলেন, তিনি হাফিয নন। তিনি এটি কখনো মারফূ আবার কখনো মাওকূফভাবে বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল হাক্ব ইশাবিলী ‘আল-আহকাম’ (১/১০২) গ্রন্থে বলেনঃ একাধিক সূত্রে এটি মাওকূফভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনু আবূ লায়লাহ হাফিয নন। হাফিয ‘আত-তাক্ববীর’ গ্রন্থে বলেন, একাধিক সূত্রে এটি মাওকূফভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনু আবূ লায়লাহ হাফিয নন। হাফিয ‘আত-তাক্ববীর’ গ্রন্থে বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু স্মরণশক্তি খারাপ। ইমাম যাহাবী ‘যুআফা’ গ্রন্থে বলেন, তার স্মরণশক্তি খারাপ। এজন্য তার বর্ণিত হাদীস সাধারণ দুর্বলের অন্তর্ভুক্ত না করে কঠিন দুর্বল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২. এ হাদীস যারা ইবনু আবূ লায়লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে ওয়াকী‘ সবচেয়ে প্রমাণযোগ্য। তিনি এটি ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমারের মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ৩. তাবেঈনদের একদল সহীহ সনদসমূহ দ্বারা বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার রুকু‘র সময় ও রুকু‘ থেকে উঠে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। ৪. শু‘বাহ বলেন, মুকসিম থেকে হাকাম শুধুমাত্র চারটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে এ হাদীসটি নেই। ৫. হাদীসটির শব্দগত গড়মিল রয়েছে। কখনো এটি ‘লা তারফাউ’ শব্দে আবার কখনো কেবল ‘তারফাউ’ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। সঠিক হচ্ছে ‘লা’ শব্দযোগে। ৬. হাদীসটি অন্যান্য সহীহ হাদীসসমূহের পরিপন্থি। কেননা মুতাওয়াতিরভাবে সহীহ হাদীসসমূহে উক্ত সাতটি স্থান ছাড়াও অন্যত্র রফ‘উল ইয়াদাইন করার কথা বর্ণিত হয়েছে। যেমনঃ দু‘আ করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত উত্তোলন, সালাতে হাত উঠিয়ে দু‘আ করা এবং এ জন্য নির্দেশ প্রদান করা, কুনুতে নাজিলা ও বিতরের কুনুতে হাত উত্তোলন, জানাযার সালাতে প্রতি তাক্ববীরে হাত উত্তোলন, ইসতিসকার সালাতে হাত উত্তোলন, রুকু‘র আগে রুকু‘র পরে এবং দু’ রাক‘আত শেষে তৃতীয় রাক‘আতে দাঁড়ানোর সময় হাত উত্তোলন ইত্যাদি। জ্ঞাতব্যঃ ‘মাযমাউয জাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে হাইসামীর বক্তব্যঃ ‘এর সনদে ইবনু আবূ লায়লাহ রয়েছে। তার স্মরণশক্তি খারাপ এবং তার হাদীস হাসান ইনশাআল্লাহ।’ শায়খ আলবানী বলেনঃ কিন্তু তার এ বক্তব্য মুসতাকিম নয়। কেননা যে বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি খারাপ হয় তার বর্ণনা মারদূদ (প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার) অন্তর্ভুক্ত হয়। যা উসলুল হাদীসে স্বীকৃত বিষয়। তিনি যদি এ কথার দ্বারা তার (মুতলাক) সাধারণ বর্ণনাকে বুঝান যা প্রকাশ্য (তবে সে কথা ভিন্ন)। কিন্তু তিনি যদি তার এ হাদীসকে হাসান বুঝান তাহলে তা কিভাবে সম্ভব? এর কোনো শাহিদ বর্ণনা নেই যা একে শক্তিশালী করবে যার দ্বারা এটি হাসান রূপান্তরিত হবে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘র সময়, রুকু‘র পরে, ইসতিসকার দু‘আ ও অন্যত্র দু’ হাত উঠিয়েছেন। আমাদের জন্য হাদীসটি প্রত্যাখ্যানের জন্য এ কথা উল্লেখ করা যথেষ্ট হবে যা ইমাম জায়লায়ী হানাফী ‘নাসবুর রায়াহ’ গ্রন্থে বলেছেন। ইমাম যায়লায়ী হানাফী (রহঃ) ‘নাসবুর রায়াহ’ গ্রন্থে বলেনঃ স্পষ্ট কথা এই যে, হাদীসটি মারফূ‘ ও মাওকুফ কোনোভাবেই সহীহ নয়। অতঃপর তাবারানীর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ রয়েছে। তার সম্পর্কে বহু সমালোচনা আছে। অন্তত পক্ষে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়। এই বৈশিষ্ট্য এখানে বিদ্যমান। ‘‘লা তারফাউ...’’ হাদীসটি ‘‘ওয়া ‘আলাল মাইয়্যিত’’ শব্দযোগে বর্ণিত হয়েছে। সেটির সনদও দুর্বল। সনদে ইবনু যুরাইজ এবং মুকসিমের মাঝে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) ঘটেছে। সম্ভবতঃ তাদের মাঝে ইবনু আবূ লায়লাহ ছিলো। এছাড়া সনদে সাঈদ ইবনু সালিমের স্মরণশক্তি খারাপ। (বিস্তারিত দেখুন, নাসবুর রায়াহ, সিলসিলাতুল আহদিসিস যঈফাহ, হা- ১০৫৪ ও অন্যান্য)। (ঘ) ‘‘সিজদা দিতে হয় সাতটি অঙ্গে। যথাঃ দু’ হাত, দু’ পা, দু’ আঠু ও কপাল। আর হাত উত্তোলন করতে হয় কা‘বা দেখাকালে। সাফা ও মারওয়াতে, আরাফায়, জামা‘আতে, পাথর নিক্ষেপের সময় এবং সালাত ক্বায়িমের সময়।’’ (ত্বাবারানী কাবীর) উল্লেখিত হাদীসে ‘হাত উত্তোলন করতে হয়...’ কথাগুলো মুনকার। হাদীসের এ দ্বিতীয় অংশটি বর্ণনাকারী ‘আত্বা ইবনু সায়িব একা বর্ণনা করেছেন। তার কারণে সনদটি দুর্বল। ‘আত্বা সংমিশ্রণ করতেন। যেমনটি হায়সামী, ইবনু হিব্বান ও অন্যান্যরা বলেছেন। (বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাহ যঈফাহ হাঃ/১০৫৩)। চারঃ জাবির ইবনু সামুরাহ থেকে বর্ণিত, একদা আমাদের সালাতের হাত উত্তোলন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ ‘‘কি ব্যাপার! দুষ্ট ঘোড়ার লেজের ন্যায় হাত উত্তোলন করছো? সালাতে স্থিরতা অবলম্বন করো।’’ এ হাদীসের সাথে রুকু‘র আগে ও পরে রফ‘উল ইয়াদাইনের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। হাদীসটি সমস্ত মুহাদ্দিসগণই সালাম ও তাশাহুদ পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমন, সহীহ মুসলিমে অনুচ্ছেদঃ সালাতে স্থিরতার নির্দেশ ও হাত দ্বারা ইশারা করা নিষেধ এবং সালামের সময় হাত উঁচু করা নিষেধ।’’, সহীহ ইবনু খুযাইমাহর অনুচ্ছেদঃ ‘‘সালাতরত অবস্থায় ডান ও বাম হাতের ইশারা করার ব্যাপারে তিরস্কার।’’, ইমাম নাসায়ী অনুচ্ছেদ বেঁধেছেন এভাবেঃ ‘‘সালাতরত অবস্থায় হাত দিয়ে সালাম দেয়া’’ ইত্যাদি। ইবনু হিব্বান, আবূ ‘আওয়ানাহ, ইমাম বায়হাক্বী এবং অন্যান্য মুরশিদগণও অনুরূপ পরিচ্ছেদ বেঁধেছেন। তাই তো ইমাম নাববী (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু সামুরাহর হাদীস দ্বারা তারা অতি আশ্চর্য বস্তুর ন্যায় দলীল গ্রহণ করে এবং সুন্নাত দ্বারা অধিক নিন্দনীয় অজ্ঞতাপূর্ণ দলীল গ্রহণ করে। কেননা রুকু‘র আগে ও রুকু‘র পরে রফ‘উল ইয়াদাইন সম্পর্কে ঐ হাদীসটি বর্ণিত হয়নি। (দেখুন, সারাহ্ সহীহ মুসলিম ৩/৪০৩)। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ঘটনাটি ছিলো তাশাহুদের অবস্থায় ক্বিয়ামের অবস্থায় নয়। তাঁদের (সাহাবীগণ) কেউ কেউ একে অন্যকে সালাতের মধ্যে সালাম দিতেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদে হাত উঠাতে নিষেধ করলেন। যাদের সামান্যতম জ্ঞান আছে তারা এ ধরণের হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেননি। আর এটা সুপরিচিত, প্রসিদ্ধ, এতে কোনো মতভেদ নেই। আর যদি ব্যাপারটি ঐরূপ হয় তাহলে তো তাক্ববীরে তাহরীমায় হাত উত্তোলন, ঈদের সালাতে হাত উত্তোলনও নিষেধ হয়ে যাবে। কেননা এতে এক রফ‘উল ইয়াদাইন থেকে আরেক রফ‘উল ইয়াদাইনকে পার্থক্য করা হয়নি। জাবির ইবনু সামুরাহ বর্ণিত আরেক হাদীস বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট করেছে। তা হলোঃ জাবির ইবনু সামুরাহ বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে সালাত আদায়কালে বলতাম, আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম। মিস‘আর তার দু’ হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কি হলো! এরা তাদের হাত দ্বারা ইশারা করছে, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজের ন্যায়? তাদের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে তারা তাদের হাতকে রানের উপর রাখবে, অতঃপর ডান দিকেও বাম দিকের ভাইকে সালাম করবে। (দেখুন, বুখারী জুযউ রফ‘উল ইয়াদাইন)। [পরের অংশ নোটে দেখুন]

    Book 2 · Hadith 358 · #746 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  359. 359

    । সুফিয়ান (রহঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদীস এই সানাদে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি শুধুমাত্র প্রথমবারই একবার হাত উঠিয়েছেন। কতিপয় বর্ণনাকারী বলেন, তিনি শুধুমাত্র একবার হাত উঠান।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 359 · #747 · Daif, Daif, Daif
  360. 360

    । বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভের সময় কেবল একবার কানের কাছাকাছি পর্যন্ত হাত উঠাতেন। এরপর আর হাত উঠাতেন না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 360 · #748 · Daif, Daif, Daif, Daif
  361. 361

    । ইয়াযীদ হতে এই সূত্রে শারীকের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাতে ‘‘তিনি এরপর আর হাত তুলেননি’’ কথাটির উল্লেখ নেই। সুফিয়ান বলেন, অতঃপর বর্ণনাকারী (ইয়াযীদ) আমাদের নিকট কুফা শহরে ‘‘তিনি এরপর আর হাত তুলেননি’’ কথাটি উল্লে­খ করেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হুশাইম, খালিদ এবং ইবনু ইদরীসও হাদীসটি ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা ‘‘তিনি এরপর আর হাত তুলেননি’’ কথাটি উল্লে­খ করেননি।

    Book 2 · Hadith 361 · #749 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  362. 362

    । বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তাঁর দু’ হাত উঠাতে দেখেছি। অতঃপর সালাত শেষ করা পর্যন্ত তিনি দু’ হাত আর উত্তোলন করেননি।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ নয়।

    Book 2 · Hadith 362 · #750 · Daif, Daif, Daif, Daif
  363. 363

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভকালে দুই হাত উপরের দিকে প্রসারিত করে উঠাতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 363 · #751 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  364. 364

    । ‘আবদুর রহমান সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনুয যুবায়ির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, সালাতে দুই পা সমান রাখা এবং এক হাতের উপর অপর হাত রাখা সুন্নাত।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 364 · #752 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  365. 365

    । ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে সালাত আদায় করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে তাঁর বাম হাতের উপর ডান হাতকে রাখেন। [1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 365 · #753 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  366. 366

    । আবূ জুহাইফাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, সালাত আদায়কালে বাম হাতের তালুর উপর ডান হাতের তালু নাভীর নীচে রাখা সুন্নাত।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 366 · #754 · Daif, Daif, Daif, Daif
  367. 367

    । ইবনু জুরাইজ হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে সালাত আদায়কালে নাভীর উপরে ডান হাত দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরে রাখতে দেখেছি।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু জুবাইর সূত্রে ‘নাভীর উপরে’ কথাটি বর্ণিত আছে। আর আবূ মিজলায বলেছেন, ‘নাভীর নীচে’। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। কিন্তু সেটি শক্তিশালী নয়।

    Book 2 · Hadith 367 · #755 · Daif, Daif, Daif, Hasan
  368. 368

    । আবূ ওয়ায়িল সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি সালাতের সময় (বাম) হাতের উপর (ডান) হাতকে নাভীর নীচে রাখি।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি শুনেছি, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) সানাদের ‘আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক আল-কূফীকে দুর্বল বর্ণনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    Book 2 · Hadith 368 · #756 · Daif, Daif, Daif, Daif
  369. 369

    । তাউস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা নিজের বুকের উপর বাধঁতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 369 · #757 · Sahih, Sahih, Sahih
  370. 370

    । ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলার পর নিম্নোক্ত দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানীফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহয়ায়া ওয়া মামাতী লিল্লা­াহী রব্বিল ‘আলামীন। লা শারীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লহুম্মা আনতাল মালিকু লা ইলাহা লী ইল্লা আনতা, আনতা রব্বি ওয়া আনা ‘আবদুকা। যালামতু নাফসী ওয়া‘তারাফতু বিযামবী ফাগফিরলী যুনূবী জামীআন। লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা ওয়াহদিনী লি-আহসানিল আখলাক্ব। লা ইয়াহদিনী লি-আহসানিহা ইল্লা আনতা ওয়াসরিফ ‘আন্নী সাইয়্যিআহা, লা ইয়াসরিফু সাইয়্যিআহা ইল্লা আনতা। লাব্বাইকা ওয়া সা‘দাইকা ওয়াল- খায়রু কুল্লুহূ ফী ইয়াদাইকা, ওয়াশ শাররু লাইসা ইলাইকা আনাবিকা ওয়া ইলাইকা তাবারাকতা ওয়া তা‘আলাইতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।’’ অতঃপর রুকু‘কালে তিনি এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা লাকা রাকা‘তু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া লাকা আসলামতু, খাসাআ লাকা সামঈ ওয়া বাসারী ওয়া মুখয়ী ওয়া ‘ইযামী ওয়া ‘আসাবী।’’ তারপর রুকু‘ হতে মাথা উঠিয়ে তিনি এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্, রব্বানা লাকাল হামদ মিলউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মিলউ মা বায়নাহুমা ওয়া মিলউ মাশি’তা মিন শায়ইন বা’দু।’’ তারপর সিজদার্ সময় এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া লাকা আসলামতু। সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খালাকাহু ওয়া সাওয়ারাহু ফাআহসানা সূরাতাহু ওয়া শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাসারাহু ওয়া তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিক্বীন।’’ তারপর সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে তিনি এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু ওয়ামা আখখারতু, ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আলানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আ‘লামু বিহী মিন্নী। আনতাল মুক্বাদ্দিমু ওয়াল মুআখখিরু লা-ইলাহা ইল্লা আনতা। [1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 370 · #758 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (771)
  371. 371

    । ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলে দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি কিরাত পাঠ শেষে রুকু‘তে গমনকালে এবং রুকু‘ হতে উঠার সময়ও অনুরূপ করতেন। তবে তিনি বসা অবস্থায় হাত উত্তোলন করতেন না। তিনি দু’ সিজদা্ শেষে (অর্থাৎ দুই রাক‘আত আদায় শেষে) উঠার সময়ও অনুরূপভাবে হাত উঠাতেন এবং তাকবীর বলে ‘আবদুল ‘আযীয বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসে উল্লিখিত দু‘আ পাঠ করতেন। তবে এ বর্ণনায় দু‘আ কিছুটা কম-বেশি রয়েছে এবং ‘‘ওয়াল খায়রু কুল্লুহূ ফী ইয়াদাইকা ওয়াশ-শাররু লাইসা ইলাইকা’’- বাক্যটির উল্লে­খ নেই। বর্ণনাকারী এতে আরো উল্লে­খ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে বললেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু ওয়া আখখারতু ওয়া আসরারতু ওয়া‘আলানতু আনতা ইলাহী লা ইলাহা ইল্লা আনতা।’’[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 371 · #759 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  372. 372

    । শু‘আইব ইবনু আবূ হামযাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির, ইবনু আবূ ফারওয়াহ এবং মদীনার অন্যান্য ফাক্বীহগণ আমাকে বলেছেন, উপরোক্ত দু‘আ পাঠকালে তুমি ‘‘ওয়া আনা আওয়ালুল মুসলিমীন’’ এর স্থলে ‘‘ওয়া আনা মিনাল-মুসলিমীন’’ বাক্যটি বলবে।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 372 · #760 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  373. 373

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দ্রুত গতিতে ক্লান্ত অবস্থায় মসজিদে (সালাতে) উপস্থিত হয়ে বলল, ‘‘আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের মধ্যকার কে এই দু‘আটি পড়েছে? সে তো মন্দ কিছু বলেনি। তখন লোকটি বলল, আমি হে আল্লাহর রসূল! আমি ক্লান্ত অবস্থায় মসজিদে এসে এই দু‘আটি পড়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখতে পেলাম, বারজন মালায়িকাহ্ (ফিরিশতা) এজন্য প্রতিযোগিতায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, কে সর্বাগ্রে দু‘আটি আল্লাহর দরবারে নিয়ে যাবেন। বর্ণনাকারী হুমায়িদের বর্ণনায় আরো রয়েছে, তোমাদের কেউ (মসজিদে) এলে যেন স্বাভাবিক গতিতে আসে। অতঃপর ইমামের সাথে যেটুকু সালাত পাবে আদায় করবে এবং সালাতের ছুটে যাওয়া অংশ (ইমামের সালাম ফিরানোর পর) একাকী আদায় করে নিবে।[1] সহীহ : মুসলিমে অতিরিক্ত অংশ বাদে।

    Book 2 · Hadith 373 · #761 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (600)
  374. 374

    । ইবনু জুবায়ির ইবনু মুত্বঈম হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন এক সালাত আদায় করতে দেখেছেন। বর্ণনাকারী ‘আমর বলেন, সেটা কোন সালাত ছিল (ফরয না নফল) তা আমার জানা নেই। তিনি (সালাত আদায়কালে) বলেছেন, ‘‘আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা’’, (তিনবার) ‘‘আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীমি মিন নাফখিহি ওয়া নাফসিহি ওয়া হামযিহি।’’ বর্ণনাকারী (‘আমর ইবনু মুররাহ) বলেন, নাফখিহি হচ্ছে শয়তানের কবিতা, নাফসিহি হচ্ছে শয়তানের অহঙ্কার এবং হামযিহি হচ্ছে শয়তানের কুমন্ত্রণা।[1] দুর্বল : মিশকাত ৮১৭, ইরওয়া ৩৪২।

    Book 2 · Hadith 374 · #762 · Daif, Daif, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  375. 375

    । নাফি‘ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নফল সালাত আদায়কালে বলতে শুনেছি ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 375 · #763 · Daif, Daif, Hasan Lighairihi, Hasan
  376. 376

    । ‘আসিম ইবনু হুমায়িদ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত কিসের দ্বারা আরম্ভ করতেন সে সম্পর্কে আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করেছ যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। অতঃপর তিনি বলেন, তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে প্রথমে দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার আলহামদুলিল্লাহ, দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং দশবার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন। তারপর এই দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফির লী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী, ওয়া ‘আফিনী।’’এছাড়া তিনি কিয়ামতের দিনের সংকীর্ণ স্থান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। [1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু মা‘দান, রবী‘আহ হতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 376 · #764 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  377. 377

    । আবূ সালামা ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত কিসের দ্বারা আরম্ভ করতেন? তিনি বললেন, তিনি রাতে দন্ডায়মান হয়ে এই দু‘আ দ্বারা সালাত আরম্ভ করতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা রব্বা জিবরীলা ওয়া মীকাঈলা ওয়া ইসরাফিলা ফাত্বিরাস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদা, ‘আলিমুল গায়বি ওয়াশ শাহাদাতি, আনতা তাহকুমু বাইনা ‘ইবাদিকা ফীমা কানূ ফীহি ইয়াখতালিফূন। ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনাল হাক্বক্বি বি-ইযনিকা, ইন্নাকা আনতা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাত্বিম মুসতাক্বীম।’’ [1] হাসান : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 377 · #765 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih Muslim (770)
  378. 378

    । ‘ইকরামাহ একই সানাদে ভিন্ন শব্দে ও অর্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (তাহাজ্জুদ) সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে বলতেন ... (হাদীস)।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 378 · #766 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih
  379. 379

    । মালিক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয ও নফল যে কোন সালাতেই সালাতের প্রথমে, মাঝে বা শেষ দিকের যে কোন সময়ে দু‘আ পড়া যায়।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 379 · #767 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  380. 380

    । রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ আয-যুরাকী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে সালাত আদায় করছিলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘ হতে মাথা উঠিয়ে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ বললে এক ব্যক্তি বলে উঠেন- ‘‘আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ’’। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই দু‘আ পাঠকারী কে? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি দেখলাম, তিরিশেরও অধিক মালায়িকাহ্ (ফিরিশতা) তা সর্বাগ্রে লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। [1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 380 · #768 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (799)
  381. 381

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলূল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্য রাতে (তাহাজ্জুদ) সালাতে দন্ডায়মান হয়ে বলতেনঃ ‘‘আল­াহুম্মা লাকাল হামদু আনতা নূরুস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি, ওয়া লাকাল-হামদু আনতা রব্বুস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি, ওয়া মান ফীহিন্না, আনতাল হাক্কু, ওয়া ক্বাওলুকাল-হাক্কু, ওয়া ওয়া‘দুকাল-হাক্কু, ওয়া লিক্বাউকা হাক্কুন, ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন, ওয়ান-নারু হাক্কুন, ওয়াস্-সা‘আতু হাক্কুন। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া ‘আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইকা আনাবতু ওয়া বিকা খাসামতু, ওয়া ইলাইকা হাকামতু ফাগফির লী মা ক্বাদ্দামতু ওয়া আখখারতু ওয়া আসরারতু ওয়া আ‘লানতু, আনতা ইলাহী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।’’ [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 381 · #769 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (769)
  382. 382

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদ সালাতে আল্লাহু আকবার বলার পর বলতেন ..... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 382 · #770 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (769)
  383. 383

    । মু‘আয ইবনু রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে সালাত আদায় করি। এমন সময় রিফা‘আহ হাঁচি দিয়ে বলেন, ‘আলহামুদিল্লাহি হামদান কাসীরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহি মুবারাকান ‘আলাইহি কামা ইউহিব্বু রব্বুনা ওয়া ইরায়দা।’’ সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সালাতের মধ্যে এই দু‘আটি কে পাঠ করেছে? অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস মালিক বর্ণিত পূর্ববতী হাদীসের অনুরূপ।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 383 · #771 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  384. 384

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমির হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে সালাত আদায়কালে আনসার গোত্রের জনৈক যুবক হাঁচি দিয়ে বলল, ‘‘আলহামদু লিল্লাহে হামদান কাসীরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহি হাত্তা ইয়ারদা রব্বুনা ওয়া বা‘দু মা ইয়ারদা মিন আমরিদ্-দুনয়া ওয়াল-আখিরাহ।’’ সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই কথাগুলো কে বলেছে? যুবকটি এ সময় নীরব থাকল। তিনি পুনরায় বললেন, এই কথাগুলো কে বলেছে? সে তো মন্দ কিছু বলেনি। তখন যুবকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! এগুলো আমিই বলেছি এবং আমি ভাল উদ্দেশেই বলেছি। তিনি বললেনঃ এ উক্তিগুলো কোথাও অপেক্ষা করেনি, বরং মহিয়ান রহমানের আরশে পৌঁছে গেছে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 384 · #772 · Daif, Daif, Daif, Daif
  385. 385

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাতের জন্য দন্ডায়মান হলে তাকবীরে তাহরীমা বলার পর এই দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।’’ অতঃপর তিনবার ‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ ও তিনবার ‘‘আল্লা­হু আকবার কাবীরান’’ বলার পর ‘‘আ‘উযু বিল্লাহিস সামি‘ইল-‘আলীমি মিনাশ-শয়তানির রজীম মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি’’ বলতেন। তারপর কিরাত পাঠ করতেন। [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 385 · #773 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  386. 386

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভকালে এই দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।’’ [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি ‘আবদুস সালাম ইবনু হারব সূত্রে প্রসিদ্ধি নয়। আর এটি কেবল ত্বালক্ব ইবনু গান্নাম বর্ণনা করেছেন। অবশ্য একদল বর্ণনাকারী বুদায়ির সূত্রে সালাতের ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা তাতে এই দু‘আর কিছুই উল্লে­খ করেননি।

    Book 2 · Hadith 386 · #774 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih
  387. 387

    । আল-হাসান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সামুরাহ (রাঃ) বলেন, সালাতে নিশ্চুপ থাকার দুটি স্থান (দু’ সাকতা) আমি স্মরণ রেখেছি। প্রথম সাকতা হলো ইমামের তাকবীরে তাহরীমা বলা থেকে কিরাত আরম্ভ করা পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় সাক্তা হলো ইমামের সূরাহ ফাতিহা ও অন্য সূরাহ পড়ার পর রুকু‘তে যাওয়ার পূর্বে। কিন্তু ‘ইমরান ইবনু হুসায়িন (রাঃ) একথা মেনে নিতে অস্বীকার করেন। ফলে তারা এ বিষয়ে জানার জন্য মাদীনাতে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখে পাঠালে তিনি সামুরাহ (রাঃ)-এর বর্ণনাকে সত্যায়িত করেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসে হুমায়িদও অনুরূপভাবে বলেছেন যে, কিরাত শেষে একটি সাকতা রয়েছে।

    Book 2 · Hadith 387 · #775 · Daif, Daif, Isnaad Sahih
  388. 388

    । সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দু’ জায়গায় চুপ থাকতেন। সালাত আরম্ভকালে (অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমা বলার পর) এবং কিরাত শেষ করার পর .... অতঃপর ইউনুস সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 388 · #776 · Daif, Daif, Sahih
  389. 389

    । আল-হাসান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা সামুরাহ ইবনু জুনদুব ও ‘ইমরান ইবনু হুসায়িন (রাঃ) পরস্পরে আলোচনাকালে প্রসঙ্গক্রমে সামুরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সালাতের দু’ স্থানে চুপ থাকা (দুই সাকতা) সম্পর্কীত জ্ঞান হিফয করেছেন। প্রথম সাকতা হচ্ছে তাকবীরে তাহরীমা বলার পর এবং দ্বিতীয় সাকতা হচ্ছে ‘‘গইরিল মাগযূবি ‘আলাইহিম ওলাযযল্লীন’’ পাঠের পর। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) বিষয়টি স্মরণ রাখলেও ‘ইমরান ইবনু হুসায়িন (রাঃ) তা অস্বীকার করে বসেন। ফলশ্রুতিতে তাঁরা দু’জনেই এ বিষয়ে জানার জন্য উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখেন। তিনি তাঁদের পত্রের জবাবে লিখেন যে, সামুরাহ (রাঃ) বিষয়টি যথাযথ স্মরণ রেখেছেন।[1] দুর্বল : মিশকাত ৮১৮।

    Book 2 · Hadith 389 · #777 · Daif, Daif, Daif
  390. 390

    । সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে দু’ স্থানে চুপ থাকা সম্পর্কীত জ্ঞান আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে হিফয করেছি। বর্ণনাকারী সাঈদ বলেন, আমরা ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)-কে দু’ স্থানে চুপ থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যখন কেউ সালাত আরম্ভ করবে এবং যখন কিরাত শেষ করবে (তখন চুপ থাকবে)। পরে তিনি বলেন, (কিরাত শেষ করা অর্থ হচ্ছে) যখন কেউ গইরিল মাগযূবি ‘আলাইহিম ওয়ালয্‌যল্লীন বলবে। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 390 · #778 · Daif, Daif, Daif
  391. 391

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা বলার পর তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী সময়ে চুপ থাকতেন। ফলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যবতী সময়ে কেন চুপ থাকেন তা আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, (এ সময় আমি নিশ্চুপে এই দু‘আ পড়ে থাকি) ‘‘আল্লাহুম্মা বাঈদ বাইনী ওয়া বাইনা খত্বা ইয়া ইয়া কামা বা‘আদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা আনক্বিনী মিন খত্বা ইয়া ইয়া কাসাওবিল আবয়াযি মিনাদ দানাস। আল্লাহুম মাগসিলনী বিস সালজি ওয়াল মায়ি ওয়াল বারদ।’’ [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 391 · #779 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (744) Sahih Muslim (598)
  392. 392

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) ও ‘উসমান (রাঃ) ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামিন’’ হতে কিরাত আরম্ভ করতেন। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 392 · #780 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (743) Sahih Muslim (399)
  393. 393

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শুরু করতেন তাকবীরে তাহরীমার দ্বারা আর কিরাত শুরু করতেন আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন দ্বারা। তিনি রুকু‘তে স্বীয় মাথা উঁচুও করতেন না আবার নীচুও করতেন না বরং পিঠের সাথে সমান্তরাল করে রাখতেন। তিনি রুকু‘ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পূর্বে সিজদায় যেতেন না এবং এক সিজদার পর সোজা হয়ে বসার পূর্বে দ্বিতীয় সিজদা্ করতেন না। তিনি প্রত্যেক দু’ রাক‘আত সালাত শেষে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ (তাশাহুদ) পড়তেন। অতঃপর বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে রাখতেন। তিনি শয়তানের ন্যায় (দুই গোড়ালীর উপর পাছা রেখে) বসতে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় (মাটিতে দু’ হাত বিছিয়ে) সিজদা্ করতে নিষেধ করতেন। তিনি সালামের দ্বারা সালাত সমাপ্ত করতেন। [1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 393 · #781 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (498)
  394. 394

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এইমাত্র আমার উপর একটি সূরাহ অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি পড়লেনঃ ‘‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম, ইন্না আ’ত্বায়না কাল-কাওসার .....’’ সূরাটির শেষ পর্যন্ত। তিনি বললেন, তোমরা কি জান! কাওসার কি? তাঁরা বললেন, এ বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই সর্বাধিক অবগত। তিনি বললেন, তা হচ্ছে একটি নহর, আমার রব্ব আমাকে জান্নাতে তা দান করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।[1] হাসান : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 394 · #782 · Hasan, Hasan, Sahih, Sahih Muslim (400)
  395. 395

    । ‘উরওয়াহ হতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইফকের ঘটনা উল্লেখ পূর্বক বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। (অতঃপর ওয়াহী হওয়া শেষে) তিনি মুখ খুলে বললেন, ‘আউযু বিস্ সামি‘ইল ‘আলীম মিনাশ শাইত্বনির রজীম, ‘‘ইন্নাল্লাযীনা জা’উ বিল-ইফকি ‘উসবাতুম মিনকুম....’’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অর্থঃ ‘‘যারা মিথ্যা অপপ্রচার করেছে তারা তোমাদের মধ্যেরই লোক .....।’’ [1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুনকার। কারণ একদল এ হাদীসটি ইমাম যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণনায় উক্ত আয়াতের সাথে আ‘উযু বিল্লাহ্-এর উল্লে­খ নেই। আমার আশঙ্কা হচ্ছে আ‘উযু বিল্লাহ বাক্যটি বর্ণনাকারী হুমায়িদের উক্তি।

    Book 2 · Hadith 395 · #783 · Daif, Daif, Daif, Daif
  396. 396

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উসমান (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কিভাবে সূরাহ বারাআতকে সূরাহ আল-আনফালের অন্তর্ভুক্ত করে আল-কুরআনের সাব‘উল মাসানী (সাতটি দীর্ঘ সূরাহ)-এর মধ্যে গণ্য করেন এবং উভয় সূরার মধ্যস্থলে বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম কেন লিখেন না? অথচ সূরাহ্ বারাআত মিআতাইন (তথা ১০০-এর অধিক আয়াত সম্বলিত সূরাহ্)-এর অন্তর্ভুক্ত (কারণ সূরাহ্ বারাআতে ১২৯টি আয়াত আছে)। পক্ষান্তরে সূরাহ আল-আনফাল মাসানীর অন্তর্ভুক্ত (কারণ তাতে আয়াতের সংখ্যা ১০০-এর কম অর্থাৎ ৭৫টি)। ‘উসমান (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কোন আয়াত অবতীর্ণ হওয়া মাত্রই তিনি ওয়াহী লিখক সাহাবীদের ডেকে বলতেনঃ এই আয়াত অমুক সূরার অমুক স্থানে সন্নিবেশিত কর যেখানে এই এই বিষয় আলোচিত হয়েছে। তাঁর উপর একটি কিংবা দু’টি আয়াত অবতীর্ণ হলেও তিনি ঐরূপ বলতেন। সূরাহ আল-আনফাল হচ্ছে মাদীনা হতে আগমনের পরপরই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ সূরাহ সমূহের অন্যতম সূরাহ। আর সূরাহ বারাআত হচ্ছে কুরআন অবতীর্ণের শেষ পর্যায়ের নাযিলকৃত সূরাহ সমূহের অন্যতম। তথাপি সূরাহ আল-আনফালের ঘটনাবলীর সাথে সূরাহ বারাআতে বর্ণিত ঘটনাবলীর সাদৃশ্য আছে। সেজন্য আমার মনে হলো, এটি সূরাহ্ আল-আনফালের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমি সূরাহ দুটি একত্রে সাব‘উ-তিওয়াল-এর অন্তর্ভুক্ত করি এবং এ উভয় সূরাহ মধ্যস্থলে বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম লিখি নাই। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 396 · #784 · Daif, Daif, Hasan
  397. 397

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে এই সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন। কিন্তু সূরাহ বারাআত সূরাহ আনফালের অন্তর্ভুক্ত কি না এ ব্যাপারে তিনি পরিষ্কারভাবে কিছুই বলেননি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, শা‘বী, আবূ মালিক, ক্বাতাদাহ ও সাবিত ইবনু ‘উমারাহ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর সূরাহ আন-নামল অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি (কোন সূরার শুরুতে) বিসমিল্লাহ লিখেননি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 397 · #785 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  398. 398

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোন সূরার শুরুর দিক চি‎‎হ্নিত করতে পারতেন না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 398 · #786 · Sahih, Sahih, Sahih
  399. 399

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কখনো সালাত দির্ঘায়িত করতে চাই। কিন্তু শিশুর কান্নার আওয়ায শুনে তার মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করে সালাত সংক্ষেপ করি। [1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 399 · #787 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (707)
  400. 400

    । জাবির (রাঃ) বলেন, মু‘আয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায়ের পর ফিরে এসে আমাদের সালাতে ইমামতি করতেন-বর্ণনাকারী পুনরায় বলেন, তিনি ফিরে এসে স্বীয় সম্প্রদায়ের লোকদের সালাতে ইমামতি করতেন। এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ে বিলম্ব করেন। সেদিনও মু‘আয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে তাদের ইমামতি করেন এবং উক্ত সালাতে তিনি সূরাহ আল-বাক্বারাহ পাঠ করলে এক ব্যক্তি জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী সালাত আদায় করে নেয়। ফলে বলা হলো, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেলে নাকি? লোকটি বললঃ আমি মুনাফিক হই নাই। পরে লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! মু‘আয (রাঃ) আপনার সাথে সালাত আদায় শেষে ফিরে গিয়ে আমাদের সালাতের ইমামতি করেন। আমরা মেহনতী মজদুর লোক এবং নিজেরাই ক্ষেতের কাজ-কর্ম করে থাকি। অথচ মু‘আয (রাঃ) আমাদের সালাতে ইমামতিকালে সূরাহ বাক্বারাহ পড়েন (অর্থাৎ দীর্ঘ সুরাহ পাঠ করে থাকেন)। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মু‘আয (রাঃ)-কে সম্বোধন করে) বললেনঃ হে মু‘আয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? তুমি সালাতে অমুক অমুক (ছোট) সূরাহ পাঠ করবে। আবূয যুবায়ির বলেন, সূরাহ আল-‘আলা, ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা এ ধরনের (ছোট) সূরাহ পাঠ করবে। অতঃপর আমরা তা (বর্ণনাকারী) ‘আমরের নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আমার ধারণা, তিনি সেটাও উল্লেখ করেছেন। [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 400 · #788 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (700) Sahih Muslim (465)
  401. 401

    । হাযম ইবনু উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর নিকট এমন সময় এলেন যখন তিনি মাগরিবের সালাতের ইমামতি করছিলেন। বর্ণনাকারী এ হাদীসে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (রাঃ)-কে ডেকে বললেনঃ হে মু‘আয! তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী হয়ো না। কেননা তোমার পেছনে বৃদ্ধ, রোগাগ্রস্ত, কর্মব্যস্ত এবং মুসাফির লোকেরা সালাত আদায় করে।[1] মুসাফির উল্লেখের দ্বারা মুনকার

    Book 2 · Hadith 401 · #789 · Daif, Munkar, Daif
  402. 402

    । আবূ সালিহ (রহঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি সালাতে কি দু‘আ পাঠ কর? লোকটি বলল, আমি তাশাহহুদ (তথা আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা­হি..) পাঠ করি এবং বলি ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযুবিকা মিনান্ নার।’ কিন্তু আমি আপনার ও মু‘আযের অস্পষ্ট শব্দগুলো বুঝতে পারি না ( অর্থাৎ আপনি ও মু‘আয কি দু‘আ পড়েন তা বুঝতে সক্ষম হই না)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরাও তার আশে-পাশে ঘুরে থাকি (অর্থাৎ জান্নাত প্রার্থনা করি)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 402 · #790 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  403. 403

    । জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মু‘আয (রাঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক যুবককে বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি সালাতে কি পড়? সে বলল, আমি সূরাহ ফাতিহা পড়ি এবং আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রত্যাশা ও জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাই। আমি আপনার ও মু‘আযের অস্পষ্ট শব্দগুলো বুঝি না (অর্থাৎ আপনি এবং আমাদের ইমাম মু‘আয সালাতে নীরবে কোন কোন শব্দযোগে দু‘আ ও মুনাজাত করেন তা আমি অবহিত নই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং মু‘আয উভয়ের আশে-পাশেই ঘুরে থাকি (অর্থাৎ আমরাও জান্নাতের প্রত্যাশা এবং জাহান্নাম হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি), অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 403 · #791 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan
  404. 404

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে ইমামতিকালে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা মুক্তাদীদের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন এবং বৃদ্ধ লোকও থাকে। অবশ্য কেউ একাকী সালাত আদায় করলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী সালাত দীর্ঘায়িত করতে পারে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 404 · #792 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (703)
  405. 405

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে ইমামতি করলে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কারণ মুক্তাদীদের মধ্যে দুর্বল, বৃদ্ধ ও কর্মব্যস্ত লোকেরাও থাকে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 405 · #793 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  406. 406

    । ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এমন লোকও আছে (যারা সালাত আদায় করা সত্ত্বেও সালাতের রুকন ও শর্তগুলো সঠিকভাবে আদায় না করায় এবং সালাতে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশুখুযু না থাকায় তারা সালাতের পরিপূর্ণ সাওয়াব পায় না)। বরং তারা দশ ভাগের এক ভাগ, নয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ, সাত ভাগের এক ভাগ, ছয় ভাগের এক ভাগ, পাঁচ ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগের একভাগ বা অর্ধাংশ সাওয়াব প্রাপ্ত হয়। [1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 406 · #794 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  407. 407

    । ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ সূত্রে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাত পড়তে হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব সালাতে আমাদেরকে শুনিয়ে কিরাত পড়েছেন, আমরাও তোমাদেরকে সেসব সালাতে সশব্দে কিরাত পড়ে শুনাই। পক্ষান্তরে তিনি যেসব সালাতে নিঃশব্দে কিরাত পড়েছেন, আমরাও তাতে নিঃশব্দে কিরাত পড়ে থাকি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 407 · #795 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (772) Sahih Muslim (396)
  408. 408

    । আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যুহর ও ‘আসর সালাতের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য দু’টি সূরাহ পাঠ করতেন। তিনি কোন কোন সময়ে আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পড়তেন। তিনি যুহর সালাতের প্রথম রাক‘আত কিছুটা দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আত সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফজর সালাতেও অনুরূপ করতেন। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ তার বর্ণনাতে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য সূরাহ পাঠের কথা উল্লে­খ করেননি।

    Book 2 · Hadith 408 · #796 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (762) Sahih Muslim (451)
  409. 409

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাতে এও রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের শেষ দু’ রাক‘আতে শুধু সূরাহ ফাতিহা পাঠ করতেন। হাম্মামের বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক‘আতের তুলনায় প্রথম রাক‘আত কিছুটা দীর্ঘ করতেন। তিনি ফজর ও ‘আসর সালাতেও অনুরূপ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 409 · #797 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (776) Sahih Muslim (451)
  410. 410

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের ধারণা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাক‘আত হয়ত এজন্যই দীর্ঘ করতেন যাতে লোকেরা প্রথম রাক‘আত থেকেই জামা‘আতে শরীক হওয়ার সুযোগ পান।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 410 · #798 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (776) Sahih Muslim (451)
  411. 411

    । আবূ মা‘মার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাতে কিরাত পাঠ করতেন কি না এ বিষয়ে আমরা খাববাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, (পাঠ করতেন)। আমরা তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা তা কিভাবে জানতেন (বা বুঝতেন)? তিনি বলেন, আমরা তাঁর দাড়ি আন্দোলিত হতে দেখে বুঝে ফেলতাম। [1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 411 · #799 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (746)
  412. 412

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর সালাতের প্রথম রাক‘আতে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, কারো (আগমনের) পদধ্বনি শোনা যেত না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 412 · #800 · Daif, Daif, Daif, Daif
  413. 413

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ‘উমার (রাঃ) সা‘দ (রাঃ)-কে বলেন, লোকেরা আপনার প্রতিটি বিষয়ে অভিযোগ করেছে, এমনকি আপনার সালাত সম্পর্কেও। সা‘দ (রাঃ) বলেন, আমি সালাতের প্রথম দু‘ রাক‘আতে কিরাত দীর্ঘ করি এবং শেষের দু‘ রাক‘আতে কেবল সূরাহ ফাতিহা পাঠ করি। তিনি আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে যেভাবে সালাত আদায় করেছি- তার কোন ব্যতিক্রম করিনি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আপনার ব্যাপারে আমার ধারণাও তা-ই।[1] সহীহ : বুখরী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 413 · #801 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (770) Sahih Muslim (453)
  414. 414

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাতে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমরা তা নির্ণয় করেছি। আমরা নির্ণয় করি যে, তিনি যুহর সালাতে প্রথম দু‘ রাক‘আতে ত্রিশ আয়াত পড়ার পরিমান দাঁড়াতেন- যেমন সূরাহ ‘‘আলিফ লাম মীম আস্-সিজদা্’’ ইত্যাদি এবং শেষের দু‘ রাক‘আতে তিনি প্রথম দু‘ রাক‘আতের চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন। তিনি যুহরের শেষ দু‘ রাক‘আতে যতক্ষণ দাঁড়াতেন ‘আসরের প্রথম দু‘ রাক‘আতেও ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। তিনি ‘আসরের শেষ দু‘ রাক‘আতে তার প্রথম দু‘ রাক‘আতে চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 414 · #802 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (452)
  415. 415

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাতে সূরাহ ‘‘ওয়াস-সামায়ি ওয়াত-ত্বারিক’’ এবং ‘‘ওয়াস-সামায়ি যাতিল-বুরূজ’’ এর অনুরূপ সূরাহ পড়তেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 415 · #803 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  416. 416

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে। তিনি বলেন, সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ছেলে পড়ত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করতেন এবং তাতে সূরাহ ‘‘ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা’’ এর অনুরূপ সূরাহ পড়তেন। তিনি ‘আসর ও অন্যান্য সালাতেও অনুরূপ সূরাহ পড়তেন। তবে তিনি ফজর সালাতে দীর্ঘ সূরাহ পড়তেন। [1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 416 · #804 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim (459)
  417. 417

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর সালাতে (তিলাওয়াতে সিজদা্ পাঠ করে) সিজদা্ দিয়ে দাঁড়ালেন, তারপর রুকু‘ করলেন। আমরা তাঁকে সূরাহ ‘‘তানযীল আস-সিজদা্’’ পাঠ করতে দেখেছি। ইবনু ঈসা বলেন, মু‘তামির ছাড়া কেউই এ হাদীস উমাইয়্যাহ হতে বর্ণনা করেননি।[1] দুর্বল : মিশকাত ১০৩১।

    Book 2 · Hadith 417 · #805 · Daif, Daif, Daif, Daif
  418. 418

    । ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি বনু হাশিমের কয়েকজন যুবকের সাথে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমি আমাদের মধ্যকার এক যুবককে বললাম, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করুন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাতে কিরাত করতেন কি? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, না, না। তাঁকে বলা হলো, তিনি সম্ভবত মনে মনে পড়তেন। তিনি রেগে বললেন, মনে মনে পড়ার চেয়ে না পড়াই উত্তম। তিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত ব্যক্তি, তাঁর প্রতি অবতীর্ণ বিষয় তিনি অকপটে প্রচার করেছেন। আমরা তিনটি বিষয়ে অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম। (তা হলো) আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে উযু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমাদের জন্য সাদাকা খাওয়া নিষেধ, এবং আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে গাধাকে ঘোড়ার সাথে সংগম করাতে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 418 · #806 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  419. 419

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাতে কিরাত করতেন কিনা আমি তা অবহিত নই। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 419 · #807 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  420. 420

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস তাঁকে ‘‘ওয়াল মুরসালাতি ‘উরফা’’ শীর্ষক সূরাহ পড়তে শুনে বললেন, হে বৎস! তুমি এ সূরাহ পাঠ করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বশেষ মাগরিব সালাতে এ সূরাহ পড়তে শুনেছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 420 · #808 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (763) Sahih Muslim (462)
  421. 421

    । জুবাইর ইবনু মুত্ব‘ইম হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ তূর পাঠ করতে শুনেছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 421 · #809 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (765) Sahih Muslim (463)
  422. 422

    । মারওয়ান ইবনুল হাকাম সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) আমাকে বললেন, আপনি মাগরিব সালাতে ‘‘কিসারে মুফাসসাল’’ পাঠ করেন কেন? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিব সালাতে দু‘টি লম্বা সূরাহ পড়তে শুনেছি। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ লম্বা সূরাহ দু‘টি কি কি? তিনি বললেন, সূরাহ আল-আ‘রাফ ও সূরাহ আল-আন‘আম। (ইবনু জুরাইজ বলেন) এরপর আমি এ বিষয়ে ইবনু আবূ মুলায়কাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজের পক্ষ হতে বললেন লম্বা সূরাহ দু‘টি হচ্ছে সূরা আল-মায়িদাহ্ ও সূরাহ আল-আ‘রাফ।[1] সহীহ : বুখারী সংক্ষেপে।

    Book 2 · Hadith 422 · #810 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (764)
  423. 423

    । হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা মাগরিবের সালাতে তোমাদের মতই সূরাহ আল ‘আদিয়াত ও অনুরূপ দীর্ঘ সূরাহ পড়তেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস প্রমাণ করে, মাগরিব সালাতে দীর্ঘ সূরাহ পাঠ রহিত হয়ে গেছে। আর এটাই সহীহ।[1] সহীহ মাক্বতূ'।

    Book 2 · Hadith 423 · #811 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih
  424. 424

    । ‘আমর ইবনু শু‘আইব হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফরয সালাতে ইমামতিকালে মুফাসসালের ছোট-বড় সব সূরাহই পড়তে শুনেছি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 424 · #812 · Daif, Daif, Daif
  425. 425

    । আবূ ‘উসমান আন-নাহদী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তিনি ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর পিছনে মাগরিবের সালাত আদায় করেন। তিনি সূরাহ ইখলাস পাঠ করেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 425 · #813 · Daif, Daif, Daif
  426. 426

    । মু‘আয ইবনু ‘আব্দুল্লাহ আল-জুহানী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহায়নাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁকে অবহিত করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজর সালাতে উভয় উভয় রাক‘আতে ‘‘ইজা যুলযিলাতিল আরজু’’ পাঠ করতে শুনেছেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলবশতঃ এরূপ করেছিলেন না ইচ্ছাকৃতভাবে, তা আমি অবহিত নই।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 426 · #814 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  427. 427

    । ‘আমর ইবনু হুরাইস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফজরের সালাতে ‘‘ফালাউক্বসিমু বিল খুন্নাস, আল জাওয়ারিল কুন্নাস’’ সূরাহ (তাকবীর) পাঠ করার শব্দ শুনতে পাচ্ছি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 427 · #815 · Sahih, Sahih, Sahih
  428. 428

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমরা যেন সালাতে সূরাহ ফাতিহা এবং তার সাথে কুরআন থেকে সহজপাঠ্য কোন আয়াত পড়ি।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 428 · #816 · Sahih, Sahih, Sanad Daif, Daif
  429. 429

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি মদীনার রাস্তায় বের হয়ে ঘোষনা করো যে, কুরআন পাঠ ছাড়া সালাত হয় না; অন্তত সূরাহ ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য (সূরাহ বা আয়াত) অবশ্যই মিলাবে।[1] মুনকার।

    Book 2 · Hadith 429 · #817 · Daif, Munkar, Daif, Daif
  430. 430

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করেন যে, আমি যেন ঘোষণা করি, সূরাহ ফাতিহা এবং তার সাথে অন্য (সূরাহ বা আয়াত) না মিলালে সালাতই হবে না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 430 · #818 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif
  431. 431

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল, যার মধ্যে ‘কুরআনের মা’ অর্থাৎ সূরাহ ফাতিহা পাঠ করল না, তার ঐ সালাত ত্রুটিপূর্ণ, তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ, তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখন কিভাবে পড়ব? তিনি আমার বাহু চাপ দিয়ে বললেন, হে ফারসী! তুমি মনে মনে পাঠ করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ বলেন, আমি সালাতকে (অর্থাৎ সূরাহ ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দাহ‘র মধ্যে দু‘ ভাগ করে নিয়েছি। যার এক ভাগ আমার জন্য, আরেক ভাগ আমার বান্দাহ‘র জন্য এবং আমার বান্দাহ আমার কাছে যা চায়, তাকে তাই দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সূরাহ ফাতিহা পাঠ করো। বান্দাহ যখন বলে, ‘‘আল হামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন’’- তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাহ আমার প্রশংসা করেছে। অতঃপর বান্দাহ যখন বলে, ‘‘আর-রহমানির রহীম’’- তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাহ আমার গুণগান করেছে। বান্দাহ যখন বলে, ‘‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’’- তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাহ আমাকে সম্মান প্রদর্শন করেছে। অতঃপর বান্দাহ যখন বলে, ‘‘ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্‌তাঈন’’- তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে সীমিত এবং আমার বান্দাহ যা প্রার্থনা করেছে- তাই তাকে দেয়া হবে। অতঃপর বান্দাহ যখন বলে, ‘‘ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাকীম, সীরাতালাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়ালাযযল্লীন’’- তখন আল্লাহ বলেন, এর সবই আমার বান্দাহ‘র জন্য আমার বান্দাহ আমার কাছে যা চেয়েছে, তাকে তাই দেয়া হবে। সহীহ : মুসলিম।[1] [1] মুসলিম (অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সূরাহ ফাতিহার তাফসীর, হাঃ ২৯৫৩), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ ইফতিতাহ, হাঃ ৯০৮) ইবনু মাজাহ সংক্ষেপে (অধ্যায়ঃ সালাত ক্বায়িম, অনুঃ ইমামের পেছনে ক্বিরাআত পাঠ, হাঃ ৮৩৮) সকলে ‘আলা সূত্রে। খিদাজ শব্দের অর্থঃ ১। ইমাম খাত্তাবী বলেনঃ খিদাজ মানে হচ্ছে নাক্বিস, ফাসিদ ও বাতিল। আরবরা এই খিদাজ শব্দ ঐ সময় ব্যবহার করেন যখন উটনী তার পেটের বাচ্চা ঐ অবস্থায় ফেলে দেয় যখন তা রক্তের পিন্ড থাকে মাত্র, পূর্ণ বাচ্চা জন্ম হয় না। এখান থেকেই খিদাজ শব্দ নেয়া হয়েছে। (দেখুন, মা‘আলিমুস সুনান, ১/৩৮৮) ২। ইমাম বায়হাক্বী বলেনঃ খিদাজ অর্থ হচ্ছে এমন ক্ষতি, যে ক্ষতির কারণে সালাত নাজায়িয হয়ে যায়। (দেখুন, কিতাবুল ক্বিরাআত, পৃঃ ২০)। ৩। শায়খ ‘আব্দুল ক্বাদির জিলানী বলেনঃ সালাতে সূরাহ ফাতিহা পড়া ফারয ও রুকন। সূরাহ ফাতিহা না পড়লে সালাত বাতিল হয়ে যায়। (দেখুন, গুনিয়াতুত ত্বালিবীন, পৃঃ ৫৩)। ৪। ইবনু ‘আব্দুল বার বলেনঃ খিদাজ হচ্ছে নুক্বসান, ফাসাদ। সেজন্যই আরবের লোকেরা ‘উটনীর খিদাজ বাচ্চা’ কথাটা তখন বলে থাকেন যখন উটনী বাচ্চা পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই গর্ভপাত করেন (অর্থাৎ অকালে ঝরে যাওয়া বাচ্চাকে যেমন বাচ্চা বলা যায় না তেমন সূরাহ ফাতিহা না পড়লে সে সালাতকেও সালাত বলা যায় না)। (দেখুন, ইসতিজকার)। ৫। ইমাম ইবনু খুযাইমাহ বলেন ‘খিদাজ’ বা ত্রুটিপূর্ণ এর ব্যাখ্যায় স্বীয় সহীহ গ্রন্থে সালাত অধ্যায়ে ৯৫ নং অনুচ্ছেদ রচনা করেন এভাবেঃ ‘ঐ খিদাজ এর আলোচনা যে সম্পর্কে অত্র হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুঁশিয়ার করেছেন যে, ঐ ত্রুটি থাকলে সালাত যথেষ্ট হবে না। কেননা ত্রুটি দু’ প্রকারের। এক- যা থাকলে সালাত যথেষ্ট হয় না। দুই- যা থাকলেও সালাত সিদ্ধ হয়। পুনরায় পড়তে হয় না। এই ত্রুটি হলে সিজদা্ সাহু দিতে হয় না। অথচ সালাত সিদ্ধ হয়ে যায়।’ অতঃপর তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস উদ্ধৃত করেনঃ ‘‘ঐ সালাত যথেষ্ট নয়, যার মধ্যে মুসল্লী সূরাহ ফাতিহা পাঠ করে না।’’ (সহীহ ইবনু খুযাইমাহ)। ৬। ইমাম বুখারী লিখেছেনঃ আবূ ‘উবাইদ (রহঃ), যিনি লুগাত শাস্ত্রে ইমাম এবং আরবদের পরিভাষায় পারদর্শী, তিনি বলেছেনঃ যখন উটনী অসম্পূর্ণ মৃত বাচ্চা ফেলে দেয় যা মানুষের কোনো উপকারে আসে না, তখন আরাবগণ ‘খিদাজ’ শব্দ ব্যবহার করে থাকেন- (কিতাবুল ক্বিরাআত)। আল্লামা ইবনু মুরতাজা যুবাইদী হানাফীও ‘ক্বামুসের শারাহত অনুরূপ লিখেছেন। আল্লামা ইবনু মানজুর ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে লিখেছেনঃ ‘প্রত্যেক খুর বিশিষ্ট প্রাণী যখন তার গর্ভশয় পূরণ হওয়ার পূর্বেই প্রসব করে দেয় তখন তাকে খিদাজ বলে।’ ৭। আল্লামা জাহরুল্লাহ যামাখশারী বলেনঃ যদি কোনো অঙ্গ যেমন হাত ইত্যাদি কাটা পড়ে তাকে ও খিদাজ বলা হয়। অনুরূপভাবে যে সালাতে কোনো অঙ্গ বা অংশ অসম্পূর্ণ আছে তাকে খিদাজ বলা হয়। ৮। আল্লামা যুরকানী বলেনঃ আবূ হুরাইরাহর খিদাজ শব্দ বিশিষ্ট এই হাদীসটি সালাতে সূরাহ ফাতিহা ওয়াজিব হওয়ার জন্য মজবুত দলীল। (মুয়াত্তার শারাহ ১/১৫৯)। ৯। আল্লামা ‘আবদুর রউফ মুনাদী স্বীয় গ্রন্থে জামিউস সাগীরে লিখেছেনঃ ‘খিদাজ অর্থ নুক্বসান বিশিষ্ট।’ অনুরূপভাবে আল্লামা ‘আযীযীও জামিউস সাগীরের শারাহ গ্রন্থে লিখেছেনঃ খিদাজ বলতে যাতি নুক্বসানকে বুঝানো হয়েছে, যাতে সালাত একেবারেই খারাপ ও পন্ড হয়ে যায়। ১০। হাফিয সাইয়্যিদ আহমাদ হাসান দেহলভী লিখেছেনঃ উপরোক্ত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিহা বিহীন সালাতকে খিদাজ বলেছেন। খিদাজ বলা হয় নুক্বসানকে। নুক্বসানের দু’টি প্রকার আছে। ১. নুক্বসানে যাতি, ২. নুক্বসানে সিফাতি। নুক্বসানে যাতি হচ্ছে, যা কোনো রুকুন বা অংশের অনুপস্থিতিতে বা অভাবে হয়ে থাকে। আর নুক্বসানে সিফাতি হচ্ছে, যা কোনো বস্তুর বিশ্লেষনের বা গুনোর অভাবে হয় আর এখানে নুক্বসানে যাতিই বুঝানো হয়েছে, সিফাতি নয়। সূরাহ ফাতিহা পাঠ সালাতের অন্যতম রুকন। তাই কতিপয় লোক কর্তৃক একে নুক্বসানে সিফাত ধরে নেয়া একবারেই ভুল এবং পূর্ববর্তী ‘আলিমগণের সরাসরি বিরোধী। (আহসানুত তাফসীর)। ১১। তাফসীরে ফাতহুল বায়ানে রয়েছেঃ ‘নিশ্চয় নাক্বিস সালাত এমন ক্ষদি, যে ক্ষতি সালাতে করলে প্রকৃতপক্ষে সেই সালাতকে সালাতই বলা যায় না।’ খিদাজ শব্দের অর্থ যে নাক্বিস, ফাসিদ ও বাতিল। এর আরো প্রমাণ দেখুন তাফসীরে কুরতুবী ১/১২৩, শারাহ যুরক্বানী ১/১৭৫, তানভিরুল হাওয়ালিক, ১/১০৬, নায়লুল আওত্বার, ২/২১৪, লিসানুল আরব, ২/৭২-৭৩ এবং অন্যান্য)। কতিপয় লোক বলে থাকেনঃ ‘খিদাজ অর্থ অপূর্ণ। অর্থাৎ সালাত হবে কিন্তু কিছুটা ত্রুটি থাকবে।’ কিন্তু এটা কি আদৌ ঠিক হবে? সূরাহ ফাতিহাটা পড়ে নিয়ে ঐ ত্রুটিটা সেরে নিলে অসুবিধা কোথায়? লোকেরা ত্রুটিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করবে, আর সেই সালাত ক্ববূল হবে কি না সেই সন্দেহও থাকবে, এরূপ সালাত আদায়ে সার্থকতা আছে কি? সুতরাং খিদাজের এরূপ অর্থ করলেও ফাতিহা বিহীন সালাতের কোনো মুল্য থাকছে না। তবে খিদাজের সঠিক অর্থ সেটাই যা মুহাদ্দিসীনে কিরাম, মুফাসসির ও অভিধানবিদগণ করেছেন। অর্থাৎ নুক্বসান, ফাসিদ ও বাতিল। মনে মনে পাঠ করাঃ কতিপয় লোক বলেনঃ এর অর্থ হচ্ছে অন্তরে অন্তরে চিন্তা করা, জিহ্বা দ্বারা পাঠ করা নয়। কিন্তু এ কথা সম্পূর্ণ ভুল। বরং আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বুঝিয়েছেন জিহ্বা দ্বারা আস্তে আস্তে নিঃশব্দে পড়া। আর এটাই সঠিক মনে মনে চিন্তা করার সাথে জিহ্বার কোনো সম্পর্ক নেই কিন্তু মনে মনে বা চুপি চুপি পাঠ করার সাথে জিহ্বার সম্পর্ক আছে। হিদায়া (১/৯৮) গ্রন্থে রয়েছেঃ ‘ক্বিরাআত হচ্ছে জিহ্বার কাজ।’ আর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কিন্তু এখানে মনে মনে ক্বিরাআত তথা পড়তে বলেছেন, চিন্তা বা ধেয়ান করতে বলেননি। সেজন্যই এর অর্থ করতে গিয়েঃ ১। ইমাম বায়হাক্বী বলেনঃ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ এর অর্থ হচ্ছে জিহ্বা দ্বারা আস্তে আস্তে পড়া, উচ্চস্বরে না পড়া। (দেখুন, কিতাবুল ক্বিরাআত পৃঃ ১৭)। ২। ইমাম নাববী বলেনঃ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ এর অর্থ হচ্ছে তুমি ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা নিঃশব্দে জিহ্বা দ্বারা পাঠ করো, এমনভাবে পাঠ করো যেন তুমি নিজের নিজে শুনতে পাও। (দেখুন, সহীহ মুসলিম শারাহ নাববী, ১/১৭০)। ৩। আল্লামা যুরক্বানী বলেনঃ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ এর অর্থ হচ্ছে শব্দের সঙ্গে জিহ্বা হরকত করা। যদিও নিজ কান পর্যন্ত শব্দটা না আসে। (দেখুন, যুরক্বানী ১/১৭৬) ৪। আল্লামা শাওকানী বলেনঃ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ এর অর্থ হচ্ছে সূরাহ ফাতিহা চুপি চুপি পাঠ করো, যেন তুমি তোমার অন্তরকে শুনাতে পারো। (দেখুন, নায়লুল আওত্বার ২/২০৭) ৫। মোল্লা ‘আলী ক্বারী হানাফী বলেনঃ এর অর্থ হচ্ছে চুপি চুপি পাঠ করা, উচ্চস্বরে নয়। (দেখুন, মিরকাত ১/৫২০)। ৬। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশমিরী হানাফী বলেনঃ যেসব মুদাররিস اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ ‘‘তুমি মনে মনে পাঠ করো’’ এর থেকে চিন্তা ও মনোযোগ অর্থ নিয়েছেন, তাদের ঐ অর্থ নেয়া আভির্ধানিক মতে ঠিক হয়নি। কারণ মনে মনে ক্বিরাআত করার অর্থ কোথাও চিন্তা বা মনোযোগ করা প্রমাণিত হয়নি। (দেখুন, আরফুশ শাজী, পৃঃ ১৭। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর উক্তি কি তাঁরই বর্ণিত অপর হাদীসের বিপরীতঃ কতিপয় লোক এ ধরনের অহেতুক উক্তি করে থাকেন এবং এর প্রমাণ হিসেবে বলেনঃ মুসলিম ও নাসায়ীতে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘ইমামের ক্বিরাআতকালে তোমরা চুপ থাকবে।’’ এর জবাব কয়েকভাবে দেয়া হলোঃ প্রথমতঃ নাসায়ীর হাদীসটি সহীহ নয়। হাদীসটির সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘আজলান এবং আবূ খালিদ আহমার দু’জনেই দুর্বল বর্ণনাকারী (তাক্বরীবুত তাহযীব)। ইমাম আবূ দাঊদও হাদীসটি ঐ সূত্রে বর্ণনা করার পরে বলেছেনঃ আমাদের নিকট হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। এটি বর্ণনাকারীর আবূ খালিদের একটি সন্দেহযুক্ত বা ভ্রান্ত কথা। ২। হাদীসটি মুসলিমে বর্ণিত হয়নি। তবে হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম মুসলিমের সঙ্গে তার লিখকের কথাবার্তা হয়েছিল। তা হচ্ছে এইঃ লিখক বললেন, ইমাম যখন ক্বিরাআত করবে তখন মুক্তাদীরা পড়বে না- কথাটি কি সহীহ? ইমাম মুসলিম বললেন, আমার নিকট সহীহ অর্থাৎ সবার নিকট নয়। এক পর্যায়ে লিখক বললেন, আপনার নিকট সহীহ হলে হাদীসটি আপনি আপনার কিতাব সহীহ মুসলিমে আনছেন না কেন? তখন ইমাম মুসলিম বললেন, হাদীসটি সহীহ ওহয়ার ব্যাপারে সকলে যেহেতু একমত নন, তখন আমি আমার কিতাবে তা উঠাতে চাই না। কারণ আমার কিতাবে ঐ সব হাদীস স্থান দিয়েছি, যেগুলো সহহি হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। (দেখুন, মুসলিম ১/১৭৪) ৩। হাদীসটি ক্বিরাআতের কথা ‘আম’ ভাবে এসেছে। কিন্তু মুক্তাদীর সূরাহ ফাতিহা পাঠের কথা ‘খাস’ ভাবে বিভিন্ন সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ হাদীস সূরাহ ফাতিহা ব্যতীত অন্য সূরাহ ক্বিরাআতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ৪। বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বিরাআতে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করে না তার সালাত হয় না।’’ বর্ণনাটির বর্ধিত অংশও সহীহ। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা পড়তে বলেছেন, আর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কিভাবে পড়তে হবে তার ধরণটা শুধু উল্লেখ করেছেনঃ চুপি চুপি পড়বে, উচ্চস্বরে নয়। সুতরাং আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) মোটেই হাদীসের পরিপন্থি কাজ করেননি। না তার নিজ বর্ণিত হাদীসের, আর না অন্যান্য সাহাবায়ি কিরাম বর্ণিত হাদীস ও আসারসমূহের। যা অতি স্পষ্ট ব্যাপার। ইমাম বুখারী বলেনঃ মুক্তাদী যখন ইমামের সাকতার (নীরবতার) সময় পাঠ করবে তখন ‘‘ইমামের ক্বিরাআতকালে তোমরা চুপ থাকো’’ কথাটার বিপরীত হয় না। তা এজন্যই যে, মুক্তাদী ইমামের সাকতার সময় পাঠ করছে এবং ইমাম যখন পড়তে তখন মুক্তাদী চুপ থাকছে। (দেখুন, বুখারীর জুযউল ক্বিরাআত, এবং বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বিরাআত)। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ (ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠের ব্যাপারে) হাদীস সম্রাটগণ এ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যে, ইমামের পড়াকালে মুক্তাদীরা পড়বে না, কিন্তু ইমাম যখন চুপ থাকবেন (সাকতা করবেন) তখন মুক্তাদীরা পড়ে নিবে। (দেখুন, জামি‘আত-তিরমিযী) ইমাম বায়হাক্বী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল’ ‘আস ক্বিরাআত পড়তেন ঐ সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাকতা করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পড়তেন তিনি তখন নীরব থাকতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আবার নীরব থাকতেন তখন তিনি আবার পড়তেন। (দেখুন, বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বিরাআত, পৃঃ ৬৮, ইমাম বায়হাক্বী বলেন, ‘আমর ইবনু শু‘আইবের তার পিতা থেকে দাদার সূত্রের এ হাদীসের সকল সাক্ষ্যদাতাগণ বিশস্ত)। ইমাম বায়হাক্বী আরো বলেনঃ সাহাবায়ি কিরামগণ সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে (সূরাহ ফাতিহা) ক্বিরাআত করতেন তখন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ক্বিরাআত করতেন তখন সাহাবায়ি কিরামগণ চুপ থাকতেন। এরপর আবার যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকতেন, তখন আবার সাহাবায়ি কিরামগণ পড়তেন। (দেখুন, বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বিরাআত, পৃঃ ৬৯)। মাসআলাহঃ সালাতে প্রত্যেক মুসল্লীর সূরাহ ফাতিহা পাঠ প্রসঙ্গ (ক) ইমাম, মুক্তাদী, নির্বিশেষে সকলের জন্যই সূরাহ ফাতিহা পাঠ আবশ্যক হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মারফূ হাদীস- ইমাম, মুক্তাদী, একাকী সালাত আদায়কারী প্রত্যেককেই সকল প্রকার সালাতে প্রত্যেক রাক‘আতে সূরাহ ফাতিহা পড়তেই হবে, অন্যথায় সালাত অসম্পূর্ণ, বরবাদ, অগ্রহণযোগ্য ও মুরদা গণ্য হবে, উক্ত সালাত যথেষ্ট ও ক্ববূল হবে না ইত্যাদি- সূরাহ ফাতিহা পাঠের প্রতি এ ধরণের গুরুত্বদান এবং তা না পাঠকারীর প্রতি সতর্কবাণী সম্বলিত মারফূ হাদীসের সংখ্যা অনূন্য অর্বশতাধিক। বহু সংখ্যক সাহাবায়ি করিাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এসব মারফূ হাদীসাবলী বর্ণনা করেছেন। যাদের মধ্যে ‘উবাদাহ ইবনু সামিত, আবূ হুরাইরাহ, আনাস, ইবনু ‘আব্বাস ‘আয়িশাহ, আবূ সাঈদ আল-খুদরী, ‘আমার ইবনু শু‘আইব, আবূ উমামাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) প্রমূখ সাহাবীগণও রয়েছেন। লিখনী সংক্ষেপ করাণার্থে নিম্নে সেসব হাদীসাবলী থেকে কয়েকটি হাদীস তুলে ধরা হলো। (১) ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরাহ ফাতিহা পাঠ করবে না তার সালাত হবে না। (সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য)। আলোচ্য হাদীসটি সম্পর্কে বিখ্যাত হাদীস বিশারদগণের অভিমত নিম্নে পেশ করা হলোঃ (ক) সমস্ত মুহাদ্দিসগণের সর্দার ইমাম বুখারী (রহঃ) উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর এ হাদীসটি সম্পর্কে বলেন, সব সালাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর ক্বিরাআত (সূরাহ ফাতিহা) পড়া ওয়াজিব। মুকীম অবস্থায় হোক বা সফরে, সশব্দে ক্বিরাআতের সালাত হোক বা নিঃশব্দে সকল সালাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর সূরাহ ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। (দেখুন, সহীহুল বুখারী, ১ম খন্ড ১০/৯৫)। (খ) সহীহুল বুখারীর অন্যতম ব্যাখ্যাকার আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমাদ কাস্তালানী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটির উদ্দেশ্য হলো, একাকী সালাত আদায়কারী, ইমাম কিংবা মুক্তাদী নির্বিশেষে সকলের জন্যই সশব্দে ক্বিরাআতের সালাত হোক বা নিঃশব্দের সকল প্রকার সালাতেই প্রত্যেক রাক‘আতে সূরাহ ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। (দেখুন, ইরশাদুশ শারী ২/৪৩৯)। (গ) সহীহুল বুখারীর ব্যাক্যাকার বিখ্যাত হানাফী ‘আলিম আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী (রহঃ) বলেন, উবাদাহ ইবনু সামিতের এ হাদীস দ্বারা আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম আওযাঈ, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম ইসহাক্ব, ইমাম আবূ সাওর, ইমাম দাঊদ (রহঃ) প্রমূখ ইমামগণ সকলেই ইমামে পিছনে মুক্তাদীর সকল প্রকার সালাতে সূরাহ ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব হওয়ার দলীল গ্রহণ করেছেন। (অর্থাৎ তারা সকলেই হাদীসের ‘লিমান’ (কোনো ব্যক্তি) শব্দটি ইমাম, মুক্তাদী, একাকী সালাত আদায়কারী নির্বিশেষে সকলের জন্য প্রযোজ্য বলেছেন)। (দেখুন, ‘উমদাতুল কারী ৩/৬৪)। (ঘ) সহীহুল বুখারীর অন্যতম ব্যাখ্যাকার আল্লামা কিরমানী (রহঃ) বলেন, উবাদাহ ইবনু সামিতের এ হাদীস এ হুকুমেরই দলীল যে, ইমাম, মুক্তাদী, একাকী সালাত আদায়কারী সকলের জন্যই সূরাহ ফাতিহা পড়া ওয়াজিব (অপরিহার্য)। (দেখুন ‘উমদাতুল ক্বারী ৩/৬৩)। (ঙ) বিখ্যাত রিজালবিদ ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, মুহাদ্দিসীনে কিরাম বলেছেন, মুক্তাদীদের কেউ যেন ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করা ছেড়ে না দেয়। যদিও ইমাম সশব্দে ক্বিরাআত পাঠ করেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ‘লিমান লাম ইয়াকরাউ বিফাতিহাতিল কিতাব’ এতে ‘লিমান’ কথাটি ‘আম। যাকে কোনো কিছুর সাথে খাস (নির্দিষ্ট) করা যাবে না। (দেখুন, তামহীদ ও তালখীসুল হাবীর)। (চ) আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি প্রকাশ্যই প্রমাণ করে, প্রত্যেক রাক‘আতেই সূরাহ ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। চাই ইমাম হোক বা মুক্তাদী, ইমাম সশব্দে ক্বিরাআত পাঠ করুক বা নিঃশব্দে। (ছ) অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনে কিরাম হাদীসের ‘লিমান’ শব্দটি ‘আম অর্থে গ্রহণ করেছেন। ইমাম কাস্তালানী (রহঃ) বলেন, এটাই হচ্ছে জমহুর মুহাদ্দিসীনের মাযহাব (অভিমত)। অর্থাৎ ইমাম, মুক্তাদী, একাকী সালাত আদায়কারী নির্বিশেষে সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত। (দেখুন, ইরশাদুশ শারী ২/৪৩৫)। (২) উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করলো না তার সালাতই হলো না। (দেখুন, ইমাম বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বিরাআত, পৃঃ ৫৬)। এ হাদীসটি সম্পর্কেঃ (ক) স্বয়ং ইমাম বায়হাক্বী বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ। আর হাদীসের বর্ণিত শব্দ خلف الإمام ‘ইমামের পিছনে’ কথাটি উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে সহীহভাবে বিভিন্নসূত্রে বর্ণিত এবং বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ। (দেখুন, কিতাবুল ক্বিরাআত, পৃঃ ৫৬)। (খ) হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ‘আলিম ভারতের ইমাম বুখারী নামে খ্যাত দেওবন্দী হানাফীদের মধ্যে অতুলনীয় মুহাদ্দিস আল্লামা আনোয়ার মাহ্ কাশমিরী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ইমামের পিছনে সূরাহ্ ফাতিহা পড়ার পক্ষে আংটির চমকদার মতির ন্যায় উজ্জ্বল। (দেখুন, ফাসলুল খিতাব, পৃঃ ১৪৭)। (৩) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি ইমামের ক্বিরাআত অবস্থায় কিছু পড়ে থাকো? এটা করবে না। বরং কেবলমাত্র সূরাহ ফাতিহা চুপে চুপে পড়বে। (দেখুন, বুখারীর জুযউল ক্বিরাআত, সহীহ ইবনু হিব্বান, ত্বাবারানী আওসাত্ব, বায়হাক্বী; হাদীসটি সহীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ‘ইমামের পিছনে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ নং ২২৯, নায়লুল আওত্বার ২/৬৭, অনুচ্ছেদ- মুক্তাদীর ক্বিরাআত ও চুপ থাকা। হাদীসটি মূলতঃ ‘‘যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা চুপ থাকো এবং মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো’’ সূরাহ আল-আ‘রাফের এ আয়াতের ব্যাখ্যা স্বরূপ)। (৪) ‘আমর ইবনু শু‘আইব তার পিতা থেকে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বললেন, তোমরা কি আমার পিছনে কিছু পড়ো? সাহাবীগণ বললেন, আমরা খুব জলদি পড়ে থাকি। তখন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সূরাহ ফাতিহা ছাড়া কিছুই পড়বে না। (দেখুন, বুখারীর জুযউল ক্বিরাআত, বায়হাক্বীর কিতাবুল ক্বিরাআত, হাদীসটির সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত এবং জমহুর মুহাদ্দিসগণের নিকট এর সনদ সহীহ, ইমাম যায়লায়ী হানাফী (রহঃ) বলেন, ‘জমহুর মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট ‘আমর ইবনু শু‘আইবের তার পিতা থেকে দাদার সূত্রে বর্ণনা দলীল হিসেবে গণ্য, আর আমরাও এটা পছন্দ করি।’ হাফিয ইবনুল কাইয়্যিম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইবনু সালাহ সহ অন্যান্য বিদ্বানগণও তার বর্ণনা সহীহ বলেছেন, সুতরাং হাদীসটি সহীহ)। (৫) ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ঐ সালাত আদায় করলেন যে সালাতে স্বরবে ক্বিরাআত পড়তে হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যখন উচ্চস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করবো তখন তোমাদের কেউ উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফাতিহা) ছাড়া অন্য কিছু পড়বে না। (হাদীসটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনী, আহমাদ, বুখারী, ইমাম দারাকুতনী বলেন, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত, ইমাম বুখারী একে সহীহ বলেছেন, ইমাম বায়হাক্বীও এর সকল বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ত বলেছেন, এবং ইবনু হিব্বান, হাকিম ও বায়হাক্বী ইবনু ইসহাক্ব থেকে حدثنا শব্দে, ইবনু ইসহাক্ব বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মাকহুল, মাহমূদ ইবনু রাবী‘ থেকে ‘উবাদাহ ইবনু সামিত থেকে, এতে ইবনু ইসহাক্বের শ্রবণ স্পষ্ট হয়েছে, তার অনুসরণ (তাবে)’ করেছেন যায়িদ ইবনু ওয়অক্বিদ ও অন্যান্যরা মাকহুল সূত্রে)। এর সমর্থক (শাহিদ) বর্ণনাবলীর অন্যতম শাহিদ বর্ণনা হচ্ছে যা আহমাদ বর্ণনা করেছেন খালিদ হাজ্জা আবূ ক্বিলাবাহ থেকে মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ‘আয়িশাহ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে। হাদীসটি নিম্নরূপঃ [২য় অংশ নোটে দেখুন]

    Book 2 · Hadith 431 · #819 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (395)
  432. 432

    । ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এ হাদীসের সানাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরাহ ফাতিহা এবং তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পড়বে না, তার সালাত পূর্ণাঙ্গ হবে না। বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, এ নির্দেশ একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য। সহীহ : বুখারী ও মুসলিমে তার বক্তব্যের এ অংশটুকু বাদে ‘‘তার সাথে অতিরিক্ত কিছু..’’ শেষ পর্যন্ত। আর মুসলিমে(فصاعدا) রয়েছে।

    Book 2 · Hadith 432 · #820 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (394)
  433. 433

    । ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করছিলাম। সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরাত পড়াকালে কিরাত তাঁর জন্য ভারী হয়ে গেল। সালাত শেষে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্ভবতঃ তোমরা তোমাদের ইমামের কিরাত করেছ। আমরা বললাম, হে আল্লাহ রসূল! হ্যাঁ। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমনটি কর না, তবে তোমাদের সূরাহ ফাতিহা পড়াটা স্বতন্ত্র। কেননা যে ব্যক্তি সূরাহ ফাতিহা পাঠ করে না, তার সালাত হয় না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 433 · #821 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  434. 434

    । নাফি' ইবনু মাহমুদ ইবনু রাবী‘ আল-আনসারী সূত্রে বর্ণিত। নাফি‘ বলেন, একবার ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) ফজর সালাতে বিলম্বে উপস্থিত হন। ফলে মুয়াজ্জিন আবূ নু‘আইম (রহঃ) সালাতের তাকবীর বলে লোকদের নিয়ে সালাত আরম্ভ করেন। তখন আমি এবং ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) উপস্থিত হয়ে আবূ নু‘আইমের পিছনে ইক্বাতিদা করি। আবূ নু‘আইম সালাতে স্বরবে কিরাত পড়ছিলেন। ‘উবাদাহ (রাঃ) (তার পিছনে) সূরাহ ফাতিহা পড়েন। সালাত শেষে আমি ‘উবাদাহ (রাঃ)-কে বললামঃ আবূ নু‘আইমের স্বরবে কিরাত পাঠকালে আমি আপনাকেও সূরাহ ফাতিহা পাঠ করতে শুনলাম? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ওয়াক্তের স্বরব ক্বিরাআতের সালাতে আমাদের ইমামতি করেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিরাআতের সময় আটকে গেলেন। অতঃপর সলাম শেষে তিনি আমাদের লক্ষ্য করে বলেনঃ আমার স্বরবে কিরাত পাঠকালে তোমরাও কি কিরাত করেছ? জবাবে আমাদের কেউ বলেন, হ্যাঁ আমরাও কিরাত করেছি। তখন তিনি বলেন, এমনটি করবে না। তিনি আরো বলেন, কিরাত পাঠের সময় তাইতো ভাবছিলাম, আমার কুরআন পাঠ কিসে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে? অতএব আমি যখন সালাতে স্বরবে কিরাত করি, তখন তোমরা উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফাতিহা) ছাড়া অন্য কিছু পড়বে না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 434 · #822 · Daif, Daif, Isnaad Sahih
  435. 435

    । ইবনু জাবির, সাঈদ ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয এবং ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আ‘লা সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা মাকহুল হতে ‘উবাদাহ (রাঃ) সূত্রে আর-রাবী‘ ইবনু সুলাইমানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাঁরা বলেন, ইমাম মাকহুল (রহঃ) মাগরিব, ‘ইশার ও ফজর সালাতে (ইমামের পিছনে) প্রত্যেক রাক‘আতেই নিঃশব্দে সূরাহ ফাতিহা পড়তেন। ইমাম মাকহুল (রহঃ) বলেন, যে সালাতে ইমাম উচ্চস্বরে কিরাত পড়েন এবং থামেন তুমি তখন সূরাহ ফাতিহা নীরবে পড়ে নিবে। আর ইমাম যদি বিরতিহীনভাবে কিরাত করেন, তাহলে তুমি হয় ইমামের আগে, পরে বা ইমামের সাথেই সূরাহ ফাতিহা পড়ে নিবে এবং কোন অবস্থাতেই তা পাঠ করা ছেড়ে দিবে না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 435 · #823 · Daif, Daif, Daif
  436. 436

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বরব ক্বিরাআতের সালাত আদায় শেষে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমাদের কেউ কি এইমাত্র আমার সাথে (সালাতে) কুরআন পাঠ করেছ? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি বলেন, তাইতো ভাবছিলাম আমার কুরআন পাঠে কেন বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে লোকেরা জেহরী সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কিরাত করা থেকে বিরত থাকেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু উকায়মাহর এ হাদীসটি মামার, ইউনুসও উসামাহ্ ইবনু যায়িদ যুহরী সূত্রে বর্ণনাকারী মালিকের হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 436 · #824 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  437. 437

    । সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। সম্ভবতঃ তা ফজরের সালাত। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করে ‘‘আমার কুরআন পাঠে কিসে বিঘ্ন সৃষ্টি হলো’’ এই পর্যন্ত বর্ণনা করেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ তাঁর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, মা‘মার বলেন, অতঃপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বরব কিরাত সম্পন্ন সালাতে কিরাত পাঠ হতে বিরত থাকেন। ইবনুস সার্‌হ তার বর্ণিত হাদীসে বলেন যে, মা‘মার যুহরী সূত্রে বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা কিরাত হতে বিরত থাকেন। আর ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আয-যুহরীর বর্ণনায়مِنْ بَيْنِهِمْ শব্দের উল্লেখ আছে। বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, ইমাম যুহরী এমন কিছু কথা বলেছেন যা আমি শুনিনি। তখন মা‘মার বলেন, তিনি বলেছেন, অতঃপর লোকেরা বিরত থাকেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন যে, হাদীসটি ‘আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক ইমাম যুহরী সূত্রেمَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। ইমাম আওযাঈ যুহরী সূত্রের বণনা সম্পর্কে বলেন, যুহরীর বর্ণনায় এ কথাও আছে যে, ঐ ঘটনায় মুসলিমগণ উপদেশ গ্রহণ করেন। এরপর তাঁরা স্বরব কিরাত সম্পন্ন সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে কিরাত পড়তেন না।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়াহ ইবনু ফারিসকে বলতে শুনেছি যে, ‘‘অতঃপর লোকেরা ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ হতে বিরত থাকেন’’ কথাটুকু ইমাম যুহরীর।

    Book 2 · Hadith 437 · #825 · Sahih, Sahih, Sahih
  438. 438

    । ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে তাঁর পিছনে ‘‘সাবিবহিসমা রব্বিকাল- অলা’’ (সূরাহ আ‘লা) পাঠ করল। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যকার কে কিরাত করেছে? জবাবে তাঁরা বলেন, এক ব্যক্তি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি তোমাদের কেউ আমাকে (কুরআন পাঠে) জটিলতায় ফেলেছে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূল ওয়ালীদ তাঁর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, শু‘বাহ বলেন, আমি ক্বাতাদাহকে বললাম- সাঈদ কি বলেননি যে, ‘‘কুরআন পাঠের সময় চুপ থাক?’’ তিনি বললেনঃ এ হুকুম স্বরব কিরাত সম্পন্ন সালাতের জন্য। ইমাম ইবনু কাসীর তার বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন যে, (শু‘বাহ বলেন) আমি ক্বাতাদাহকে বললাম, সম্ভবতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন কিরাত পাঠ অপছন্দ করেছেন। তিনি বললেন, যদি তিনি অপছন্দ করতেন তাহলে তিনি কিরাত পাঠে নিষেধ করতেন। [1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 438 · #826 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (398)
  439. 439

    । ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যুহরের সালাত আদায় শেষে বললেন, তোমাদের মধ্যকার কে ‘‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ‘লা’’ (সূরাহ আ‘লা) পড়েছে? এক ব্যক্তি বলল, আমি। তখন তিনি বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ আমাকে সালাতে কুরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 439 · #827 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  440. 440

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা কিরাত করছিলাম, এমন সময় সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তখন আমাদের মধ্যে আরব বেদুঈন এবং অনারব লোকজন ছিলো। তিনি বললেন, তোমরা (কুরআন) পড়, প্রত্যেকেই উত্তম। কেননা অচিরেই এমন সম্প্রদায়ের আর্বিভাব ঘটবে, যারা কুরআনকে তীরের ন্যায় ঠিক করবে (তাজবীদ নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে) তারা কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করবে, অপেক্ষা করবে না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 440 · #828 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  441. 441

    । সাহল ইবনু সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা কিরাআত করছিলাম এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত হয়ে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর কিতাব একটাই। আর তোমাদের কেউ লাল, কেউ বা সাদা এবং কেউ বা কালো রঙের। তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের পূর্বে (কুরআন) পড় যারা কুরআনকে তীরের ন্যায় দৃঢ় করবে। তারা কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করবে, অপেক্ষা করবে না (অর্থাৎ আখিরাতের অপেক্ষা না করে এর বিনিময় দুনিয়াতেই পেতে চাইবে)।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 441 · #829 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Daif
  442. 442

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক লোক এসে বলল, আমি কুরআন মুখস্থ করতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা কুরআনের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলোঃ ‘‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহ আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’’ তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো মহা সম্মানিত আল্লাহর জন্য, আমার জন্য কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বলোঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইরহামনী, ওয়ারযুক্বনী, ওয়া ‘আফিনী ওয়াহদিনী।’’ বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি ওগুলো হাতের অঙ্গুলিতে গণনা করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই লোক তার হাতকে উত্তম বস্তু দ্বারা পরিপূর্ণ করেছে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 442 · #830 · Hasan, Hasan, Hasan
  443. 443

    । জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নফল সালাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় দু‘আ করতাম এবং রুকূ‘ ও সিজদা্ অবস্থায় তাসবীহ পড়তাম।[1] দুর্বল মাওকূফ।

    Book 2 · Hadith 443 · #831 · Daif Muquf, Daif Muquf, Daif
  444. 444

    । হাম্মাদ (রহঃ) হুমায়িদ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে নফল সালাতের কথা উল্লেখ নেই। তিনি (হুমায়িদ) বলেন, হাসান (রহঃ) যুহর এবং ‘আসর সালাতে- ইমাম কিংবা মুক্তাদী উভয় অবস্থায়ই সূরাহ ফাতিহা পড়তেন এবং তিনি উক্ত সালাতে সূরাহ ক্বাফ ও সূরাহ যায়িরাত পাঠের অনুরূপ সময় পর্যন্ত তাসবীহ তাহলীল ও তাকবীর পড়তেন।[1] সহীহ মাক্বতূ।

    Book 2 · Hadith 444 · #832 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif
  445. 445

    । মুত্বাররিফ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং ‘ইমরান ইবনু হুসায়িন ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা্ ও রুকূ‘কালে তাকবীর বলতেন এবং দু‘ রাক‘আত সালাত শেষে (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) উঠার সময় তাকবীর বলতেন। সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনকালে ‘ইমরান (রাঃ) আমার হাত ধরে বললেনঃ ইতিপূর্বে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে যে নিয়শে সালাত আদায় করেছেন তিনিও সে নিয়মেই সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 445 · #833 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (786) Sahih Muslim (393)
  446. 446

    । আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রহমান এবং আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) প্রত্যেক ফরয ও অন্যান্য সালাতে দাঁড়ানো এবং রুকূ‘র সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার পূর্বে (দাঁড়িয়ে) বলতেন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ এরপর বলতেন ‘‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।’’ তারপর সিজদাকালে তিনি আল্লাহু আকবার বলতেন। এরপর সিজদা্ থেকে মাথা উঠানো ও পুনরায় সিজদাকালে এবং পুনরায় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তিনি তাকবীর বলতেন। দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক হতে দাঁড়ানোর সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাক‘আতেই বলতেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বলতেনঃ সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তোমাদের তুলনায় আমার সালাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দুনিয়া ত্যাগের পূর্ব পর্যন্তই এভাবেই সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী, মুসলিম সংক্ষেপে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক, যুবায়দী, ও অন্যরা যুহরী হতে ‘আলী ইবনু হুসাইনের সূত্রে এটাকে সর্বশেষ বাক্য বলেছেন। আর ‘আবদুল আ‘লা মা‘মার হতে যুহরীর সূত্রে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

    Book 2 · Hadith 446 · #834 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (803)
  447. 447

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণভাবে তাকবীর বলতেন না। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ থেকে মাথা উঠানোর পর সিজদায় গমনের ইচ্ছা করলে পূর্ণরূপে তাকবীর বলতেন না এবং সিজদা্ থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময়ও পূর্ণরূপে তাকবীর বলতেন না।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 447 · #835 · Daif, Daif, Daif, Daif
  448. 448

    । ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে সিজদায় গমনকালে (জমিনে) হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন এবং এবং সিজদা্ হতে দাঁড়ানোর সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 448 · #836 · Daif, Daif, Daif
  449. 449

    । ‘আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ায়িল হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাকালে স্বীয় হস্তদ্বয় মাটিতে রাখার পূর্বে হাঁটদ্বয় মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন। বর্ণনাকারী হাম্মাম (রহঃ) শাকীক সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ‘আসিম ইবনু কুলায়িব তাঁর পিতার হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত বর্ণনাকারীদ্বয়ের মধ্যে আমার জানামতে সম্ভাব্য মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ তিনি সিজদার পর উঠে দাঁড়ানোর সময় হাঁটু ও রানের উপর ভর করে দাঁড়াতেন। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 449 · #837 · Daif, Daif, Daif, Daif
  450. 450

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সিজদার সময় উটের ন্যায় না বসে এবং সিজদাকালে যেন মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 450 · #838 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  451. 451

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কেউ সালাতে উটের বসার ন্যায় বসে থাকে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 451 · #839 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  452. 452

    । আবূ ক্বিলাবাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ সুলায়মান মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাঃ) আমাদের মসজিদে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায়ের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পদ্ধতিতে সালাত আদায় করতেন তা তোমাদেরকে দেখাতে চাই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি আবূ ক্বিলাবাহকে বললাম, তিনি কিভাবে সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেন, আমাদের শায়খ ‘আমর ইবনু সালামাহ (রহঃ)-এর সালাতের অনুরূপ, যিনি তাদের ইমাম ছিলেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন, তিনি প্রথম রাক‘আতের শেষ সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর পর একটু বসতেন, অতঃপর উঠে দাঁড়াতেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 452 · #840 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (677)
  453. 453

    । আবূ ক্বিলাবাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ সুলায়মান মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাঃ) আমাদের মসজিদে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি এখন সালাত আদায় করবো, কিন্তু সালাত আদায়ের উদ্দেশে নয়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি তা তোমাদেরকে দেখাতে চাই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি প্রথম রাক‘আতের দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর পর একটু বসতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 453 · #841 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  454. 454

    । মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি দেখেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের বিজোড় রাক‘আত সমূহে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দাঁড়াতেন না।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 454 · #842 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari (823)
  455. 455

    । ইবনু জুরাইজ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জুবাইর ত্বাউস থেকে শুনে আমাকে বলেছেন যে, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে দু’ সাজদার মাঝে দু’ পায়ের গোড়ালির উপর পাছা রেখে বসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে জবাবে তিনি বলেন, এটি সুন্নাত। ত্বাউস বলেন, আমরা বললাম, আমরা এরূপ করাকে পায়ের জন্য কষ্টকর মনে করি। জবাবে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এরূপ করা তোমার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাত।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 455 · #843 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (536)
  456. 456

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু‘ হতে মাথা উঠিয়ে বলতেনঃ ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, মিলআস-সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরদি ওয়া মিলআ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা‘দু’’।[1] সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সুফয়ান ও শু‘বাহ হাদীসটি ‘উবাইদ আবুল হাসান হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে ‘‘রুকূ‘র পরে’’ কথাটি উল্লেখ নেই। সুফয়ান সাওরী বলেন, আমরা শায়খ ‘উবাইদ আবুল হাসানের সাথে সাক্ষাত করেছি। তিনিও তাতে ‘রুকুর পরে’ কথাটি উল্লেখ করেননি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শু‘বাহ (রহঃ) আবু ‘ইসমাহ হতে, তিনি আ‘মাশ হতে, তিনি ‘উবাইদ হতে এ হাদীস বর্ণনার সময় ‘‘রুকুর পরে’’ কথাটি উল্লেখ করেন।

    Book 2 · Hadith 456 · #844 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (476)
  457. 457

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলার পর বলতেন ‘‘রব্বানা লাকাল হামদ মিলআস-সামায়ি’’। (বর্ণনাকারী মুআম্মালের বর্ণনা মতে) ‘‘মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরদি ওয়া মিলআ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা‘দু, আহলুস সানায়ি ওয়াল মাজদি আহাক্কু মা ক্বলাল ‘আবদু, ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আবদুন লা মা-নি‘আ লিমা আ‘ত্বাইতা’’। বর্ণনাকারী মাহমুদের বর্ণনায় এ বাক্যটিও রয়েছেঃ ‘‘ওয়ালা মু‘ত্বিয়া লিমা মানা‘তা’’। অতঃপর সমস্ত বর্ণনাকারী এ বাক্যটি বলার বিষয়ে একমতঃ ‘‘ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।’’[1] সহীহ : মুসলিম। বর্ণনাকারী বিশর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল ‘‘রব্বানা লাকাল হামদ’’ বলতেন। মাহমুদের বর্ণনায় ‘‘আল্লাহুম্মা’’ শব্দটি নেই। তিনি শুধু ‘‘রব্বানা লাকাল হামদ’’ এর কথা উল্লেখ করেছেন।

    Book 2 · Hadith 457 · #845 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (477)
  458. 458

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমাম ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বললে তোমরা বলবেঃ ‘‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’’। কেননা যার এ উক্তি ফিরিশতাদের উক্তির সাথে একই সময়ে উচ্চারিত হবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 458 · #846 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (796) Sahih Muslim (409)
  459. 459

    । ‘আমির (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুক্তাদীগণ ইমামের পিছনে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলবে না, বরং বলবে ‘‘রব্বানা লাকাল হামদ’’।[1] হাসান মাক্বতূ‘।

    Book 2 · Hadith 459 · #847 · Hasan Maqtu, Hasan Maqtu, Isnaad Hasan
  460. 460

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ সাজদার মাঝে এ দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া ‘আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুক্বনী’’।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 460 · #848 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  461. 461

    । আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের (নারীদের) মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে বিশ্বাসী, তারা যেন পুরুষদের মাথা উঠানোর পূর্বে নিজেদের মাথা উত্তোলন না করে। কেননা পুরুষদের সতর দেখা নারীদের জন্য অপছন্দীয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 461 · #849 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif
  462. 462

    । আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিজদা্, রুকূ‘ ও দু’ সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠক প্রায় একই সমান হতো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 462 · #850 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (792) Sahih Muslim (471)
  463. 463

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন সংক্ষেপে অথচ পূণার্ঙ্গভাবে সালাত আদায় করতেন, আমি এরূপ সালাত অন্য কারো পিছনে আদায় করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলার পর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমাদের মনে হতো যে, তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদা্ করতেন এবং দু’ সাজদার মধ্যবর্তী সময়ে এতো দীর্ঘক্ষণ বসতেন যে, আমাদের মনে হতো তিনি দ্বিতীয় সাজদার কথা হয়তো ভুলে গেছেন।[1] সহীহ : মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে।

    Book 2 · Hadith 463 · #851 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (473)
  464. 464

    । আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইচ্ছাকৃতভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতরত অবস্থায় দেখি। আমি তাঁর ক্বিয়ামকে রুকূ‘ ও সাজদার অনুরূপ পেলাম। তাঁর রুকূ‘ তাঁর সাজদার সমান এবং দু’ সাজদার মাঝখানের বৈঠক, অতঃপর সিজদা্ করা, অতঃপর সালাম ফিরানো পর্যন্ত বৈঠক প্রায় একই সমান পেয়েছি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ বলেন, তাঁর রুকূ‘ এবং দু’ রাক‘আতের মধ্যবর্তী ই‘তিদাল, তাঁর সিজদা্ ও দু’ সাজদার মাঝে বসা, দ্বিতীয় সিজদা্ এবং সালাম ফিরানোর পর লোকদের দিকে মুখ করে বসা- সবই প্রায় একই সমান ছিল।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 464 · #852 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (471)
  465. 465

    । আবূ মাসউদ আল-বাদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রুকূ‘ ও সিজদাতে পিঠ সোজা করে না তার সালাত যথেষ্ট নয়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 465 · #853 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  466. 466

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো এবং এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং আবার সালাত আদায় করো, তুমি সালাত আদায় করোনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মত সালাত আদায় করে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পুনরায় সালাম দিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি গিয়ে আবার সালাত আদায় করো, কারণ তুমি তো সালাত আদায় করোনি। এভাবে লোকটি তিনবার সালাত আদায় করলো। অতঃপর লোকটি বললো, ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চাইতে উত্তমরূপে সালাত আদায় করতে পারি না। কাজেই আমাকে সালাতের পদ্ধতি শিখিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাতে দাঁড়ানোর সময় সর্বপ্রথম তাকবীরে তাহরীমা বলবে। তারপর তোমার সুবিধানুযায়ী কুরআনের আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর শান্তি ও স্থিরতার সাথে রুকূ‘ করবে, অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা্ করবে। এরপর প্রশান্তির সাথে বসবে। এভাবেই তোমার পুরো সালাত আদায় করবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষে তাকে বললেনঃ তুমি এভাবে সালাত আদায় করলে তোমার সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে। আর এর কোন অংশ আদায়ে ত্রুটি করলে তোমার সালাতও ত্রুটিপূর্ণ হবে। এতে আরো রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি সালাত আদায় করতে চাইলে প্রথমে উত্তমরূপে অযু করে নিবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 466 · #854 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (757) Sahih Muslim (397)
  467. 467

    । ‘আলী ইবনু ইয়াহইয়াহ (রহঃ) হতে তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলো। অতঃপর তিনি পূর্ববতী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি তাতে বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে না ধুলে সালাত পূর্ণ হবে না। অযুর পর তাকবীরে তাহরীমা বলে হামদ ও সানা পড়ে কুরআন হতে যা ইচ্ছে হয় তিলাওয়াত করবে। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে এমনভাবে রুকূ‘ করবে যেন তার জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে। অতঃপর ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বলে স্থিরভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলে এমনভাবে সিজদা্ করবে, যাতে শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। অতঃপর ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে সিজদাতে যাবে, শরীরের জোড়া সমূহ প্রশান্তি লাভ না করা পর্যন্ত সিজদাতে অবস্থান করবে। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদা্ হতে মাথা উঠাবে। কোন ব্যক্তি যখন এরূপে সালাত আদায় করবে, তখনই তার সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 467 · #855 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  468. 468

    । রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পূণার্ঙ্গভাবে অযু না করলে কারও সালাত শুদ্ধ হবে না। সুতরাং সে তার মুখমন্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুবে, মাথা মাসাহ করবে এবং উভয় পা গোড়ালীসহ ধুবে। অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলে হামদ পাঠ করে কুরআন হতে যে অংশ সহজ মনে হয় তিলাওয়াত করবে। অতঃপর হাম্মাদের হাদীসের অনুরূপ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহু আকবার বলে কপাল মাটিতে লাগিয়ে সিজদা করবে এমনভাবে যেন শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে ও প্রশান্তি পায়। এরপর তাকবীর বলে সোজা হয়ে পাছার উপর ভয় দিয়ে বসবে এবং পিঠ সোজা রাখবে। এরূপে তিনি চার রাক‘আত সালাতের নিয়ম শেষ পর্যন্ত বর্ণনা দেন। এ পদ্ধতিতে সালাত আদায় না করলে তোমাদের কারো সালাতই পরিপূর্ণ হবে না।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 468 · #856 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  469. 469

    । রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাত আদায়ে দাঁড়ালে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী হয়ে আল্লাহু আকবার বলে সূরাহ ফাতিহা এবং কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করবে। অতঃপর রুকূ‘তে তোমার দু’ হাত দু’ হাঁটুর উপর রাখবে এবং পিঠ লম্বা করে রাখবে। তিনি আরো বলেনঃ তুমি সিজদা্ করলে তাতে কিছুক্ষণ অবস্থান করবে এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর পর তোমার বাম উরূর উপর বসবে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 469 · #857 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  470. 470

    । রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাত আদায়ে দাঁড়িয় মহা মহীয়ান আল্লাহর নামে তাকবীর বলবে। এরপর কুরআনের যে অংশ তোমার জন্য সহজ তা তিলাওয়াত করবে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি সালাতের প্রথম বৈঠকে প্রশান্তির সাথে বসবে এবং এ সময় তোমার বাম পা বিছিয়ে দিবে, অতঃপর তাশাহহুদ পড়বে। অতঃপর আবার দাঁড়ালে উপরোক্ত নিয়মেই সালাত শেষ করবে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 470 · #858 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  471. 471

    । রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী উযূ করো, তারপর শাহাদাত পাঠ করো। তারপর দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলার পর কুরআনের মুখস্ত অংশ পাঠ করো। অন্যথায় আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করো। তাতে আরো রয়েছেঃ এর থেকে কিছু বাদ দিলে তুমি তোমার সালাতকে ত্রুটিপূর্ণ করলে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 471 · #859 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  472. 472

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু শিবল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কাকের ঠোকরের মত (তাড়াতাড়ি) সিজদা্ করতে, চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বাহু বিছাতে এবং উটের ন্যায় মসজিদের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 472 · #860 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  473. 473

    । সালিম আল-বাররাদ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-আনসারী (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বললাম, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি আমাদের সামনে মসজিদে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহু আকবার বলে সালাত আরম্ভ করলেন। তিনি রুকূ‘তে স্বীয় দু’ হাত দু’ হাঁটুর উপর রাখেন এবং তাঁর আঙ্গুলগুলো হাঁটুর নীচের অংশে রাখেন আর দু’ হাতের কনুইদ্বয় ফাঁকা রাখেন, এমতাবস্থায় শরীর স্থির হয়ে যায়। এরপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলে সোজা হয়ে দাঁড়ান। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদাতে যান এবং দু’ হাতের কনুইদ্বয় ফাঁকা রেখে এমনভাবে সিজদা্ করেন যে, তাঁর সমস্ত শরীর স্থির হয়ে গেলো। অতঃপর সিজদা্ থেকে মাথা উঠিয়ে স্থিরভাবে বসেন। তিনি আরো এক রাক‘আত অনুরূপভাবে আদায় করেন। এভাবে তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করার পর বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবেই সালাত আদায় করতে দেখেছি।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 473 · #861 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan
  474. 474

    । আনাস ইবনু হাকীম আদ্-দাব্বী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি যিয়াদ অথবা ইবনু যিয়াদের ভয়ে মাদীনায় চলে আসেন এবং আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) আমাকে তাঁর বংশ পরিচয় দিলেন এবং আমিও আমার বংশ পরিচয় দিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে যুবক! আমি কি তোমার কাছে হাদীস বর্ণনা করব না? জবাবে আমি বলিঃ হ্যাঁ, আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন! বর্ণনাকারী ইউনুস বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এ হাদীস সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষের ‘আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তাদের সালাত সম্পর্কে হিসাব নেয়া হবে। তিনি বলেনঃ আমাদের মহান রব্ব ফিরিশতাদের বান্দার সালাত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও জিজ্ঞেস করবেন, দেখো তো সে তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছে নাকি তাতে কোন ত্রুটি রয়েছে? অতঃপর বান্দার সালাত পূণার্ঙ্গ হলে পূণার্ঙ্গই লিখা হবে। আর যদি তাতে ত্রুটি থাকে তাহলে মহান আল্লাহ ফিরিশতাদের বলবেন, দেখো তো আমার বান্দার কোন নফল সালাত আছে কিনা? যদি থাকে তাহলে তিনি বলবেনঃ আমার বান্দার ফারয সালাতের ঘাটতি তার নফল সালাত দ্বারা পরিপূর্ণ করো। অতঃপর সকল আমলই এভাবে গ্রহণ করা হবে (অর্থাৎ নফল দ্বারা ফারযের ত্রুটি দূর করা হবে)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 474 · #862 · Sahih, Sahih, Daif
  475. 475

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।

    Book 2 · Hadith 475 · #863 · Daif, Daif, Daif
  476. 476

    । তামীম আদ্-দারী (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর যাকাতের হিসাবও অনুরূপভাবে নেয়া হবে। অতঃপর অন্যান্য আমলের হিসাবও অনুরূপভাবে গ্রহণ করা হবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 476 · #864 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  477. 477

    । মুস‘আব ইবনু সা’দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কালে আমার দু’ হাত দু’ হাঁটুর মাঝখানে রাখলে তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু আমি পুনরায় এরূপ করলে তিনি আমাকে বলেনঃ এরূপ করো না, কেননা পূর্বে আমরাও এরূপ করতাম; কিন্তু আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয় এবং আমাদের হাঁটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 477 · #865 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (790) Sahih Muslim (535)
  478. 478

    । ‘আলকামাহ ও আসওয়াদ হতে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ রুকূ‘র সময় যেন তার দুই বাহু রানের উপর বিছিয়ে রাখে এবং দু’ হাত একত্রে মিলিয়ে রাখে। কেননা (এখানো) আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর আঙ্গুলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে রাখতে দেখছি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 478 · #866 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (534)
  479. 479

    । ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ফাসাবিবহ বিসমি রব্বিকাল ‘আযীম’ কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা এটা রুকূ‘তে পাঠ করবে। অতঃপর ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ‘লা’ এ আয়াত অবতীর্ণ হলে তিনি বলেন, তোমরা এটা সিজদাতে পাঠ করবে।[1] দুর্বল : ইরওয়া।

    Book 2 · Hadith 479 · #867 · Daif, Daif, Isnaad Sahih
  480. 480

    । ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘তে ‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম ওয়া বিহামদিহী’ তিনবার বলতেন এবং সিজদাতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা ওয়া বিহামদিহী’ তিনবার বলতেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘বিহামদিহী’ শব্দটি নিয়ে আমরা সন্দিহান।

    Book 2 · Hadith 480 · #868 · Daif, Daif, Daif, Sahih
  481. 481

    । হুযাইফাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি রুকূ‘তে ‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম’ এবং সিজদাতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আলা’ পাঠ করতেন এবং কুরআন তিলাওয়াতকালে তিনি কোন রহমতের আয়াতে পৌঁছলে সেখানে থেমে রহমতের দু‘আ করতেন এবং কোন ‘আযাবের আয়াত তিলাওয়াতকালে সেখানে থেমে ‘আযাব থেকে পরিত্রান চাইতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 481 · #869 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (772)
  482. 482

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্ এবং রুকূ‘তে ‘সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার্ রূহ্’’ বলতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 482 · #870 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (487)
  483. 483

    । ‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায়ে দাঁড়ালাম। তিনি সূরাহ বাক্বারাহ্ তিলাওয়াতের সময় কোন রহমতের আয়াতে পৌঁছলে তথায় থেমে রহমত চাইতেন এবং যখন কোন আযাবের আয়াতে পৌঁছতেন, তখন সেখানে থেমে আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। অতঃপর তিনি ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূ‘তে অবস্থান করেন এবং তাতে ‘‘সুবহানা যিল্ জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল ‘আযমাতি’’ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় সিজদাতে অবস্থান করেন এবং তাতেও উক্ত দু‘আ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি (দ্বিতীয় রাক‘আতে) দাঁড়িয়ে সূরাহ্ আলে-‘ইমরান তিলাওয়াত করেন। অতঃপর (প্রত্যেক রাক‘আতে) একটি করে সূরাহ তিলাওয়াত করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 483 · #871 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  484. 484

    । হুযাইফাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আদায় করতে দেখলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার পর ‘যুল-মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল ‘আযমাতি’ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সূরাহ্ বাক্বারাহ তিলাওয়াত শুরু করেন এবং তাঁর রুকূ‘ ছিলো ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময়। তিনি রুকূ‘তে ‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম, সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম’ পাঠ করেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে প্রায় রুকূ‘র সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন এবং এ সময় ‘‘লি-রব্বিয়াল হামদ’’ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে তাতে ক্বিয়ামের অনুরূপ সময় অবস্থান করেন এবং এ সময় ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’ পাঠ করেন। অতঃপর সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে দু’ সাজদার মাঝে সিজদায় অবস্থানের সমপরিমাণ সময় বসে থাকেন এবং এখানে তিনি ‘রব্বিগফিরলী’ পাঠ করেন। এরূপে তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং এ সালাতে সূরাহ আল-বাক্বারাহ, সূরাহ আলে-‘ইমরান, সূরাহ নিসা এবং সূরাহ মায়িদাহ্ অথবা সূরাহ আন‘আম তিলাওয়াত করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 484 · #872 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  485. 485

    । আবু হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা সাজদার সময়ে মহান আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। কাজেই এ সময় তোমরা অধিক পরিমাণে দু‘আ পাঠ করবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 485 · #873 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (482)
  486. 486

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অসুস্থকালে) স্বীয় হুজরার পর্দা উঠিয়ে দেখলেন, লোকেরা আবূ বাকর (রাঃ)-এর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! নবুওয়্যাতের কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবে মুসলিমরা যে নেক স্বপ্ন দেখবে তা ব্যতীত। তিনি আরো বলেনঃ আমাকে রুকূ‘ ও সিজদাতে কুরআন পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা রুকূ‘ অবস্থায় রবেবর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো এবং সিজদাতে বেশি করে দু‘আ পড়ার চেষ্টা করো। আশা করা যায়, তোমাদের দু‘আ কবুল হবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 486 · #874 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (479)
  487. 487

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ ও সিজদাতে বেশি করে এ দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী’’। তিনি এভাবে কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 487 · #875 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4968) Sahih Muslim (484)
  488. 488

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাতে এ দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মাগফিরলী যামবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জুল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।’’ ইবনুস সারহ এ বাক্যটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেনঃ ‘‘আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।’’[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 488 · #876 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (483)
  489. 489

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিছানায় না পেয়ে তার খোঁজে মসজিদে গিয়ে সেখানে তাঁকে সাজদারত দেখতে পেলাম। এ সময় তাঁর দু’ পায়ের পাতা খাড়া ছিল। তিনি এ দু‘আ পড়ছিলেনঃ ‘‘আউযু বিরিদাকা মিন্ সাখাতিকা ওয়া আ‘উযু বিমা‘আফাতিকা মিন ‘উকুবাতিকা ওয়া আ‘উযুবিকা মিনকা লা উহসী সানায়ান ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা।’’[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 489 · #877 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (486)
  490. 490

    । ‘উরওয়াহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) তাঁকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এ দু‘আ পড়তেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযুবিকা মিন ‘আযাবিল কবরি ওয়া আ‘উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল ওয়া আ‘উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযুবিকা মিনাল মা’সামি ওয়াল মাগরাম।’’ তখন এক ব্যক্তি বললো, মাগরাব (ঋণ) হতে অধিক পরিমাণে আশ্রয় প্রার্থনার কারণ কি? জবাবে তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হলে কথা বলার সময় মিথ্যা বলে এবং ওয়াদাহ্ করলে তা ভঙ্গ করে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 490 · #878 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (832) Sahih Muslim (589)
  491. 491

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লাহ (রাঃ) হতে তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাঁড়িয়ে নফল সালাত পড়ছিলাম। তখন আমি তাঁকে এ দু‘আ পড়তে শুনেছিঃ ‘‘আ‘উযুবিল্লাহি মিনান্নার ওয়া ওয়াইলুল লি-আহলিন্নার।’’[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 491 · #879 · Daif, Daif, Daif, Daif
  492. 492

    । আবূ সালামাহ্ (রাঃ) হতে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা সালাতে দাঁড়ালাম। সালাতের মধ্যেই এক বেদুইন বললোঃ ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের সাথে অন্যদের উপর রহমত করবেন না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরিয়ে ঐ বেদুইনকে বললেনঃ তুমি প্রশস্ত বস্তুকে সংকীর্ণ করে ফেলেছো। অর্থাৎ মহান আল্লাহ রহমত প্রশস্ত।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 492 · #880 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  493. 493

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল ‘আ‘লা’’ তিলাওয়াত করলে বলতেনঃ ‘‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা।’’[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 493 · #881 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Daif
  494. 494

    । মূসা ইবনু আবূ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার বাড়ির ছাদে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করতেনঃ ‘‘তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন?’’ তখন জবাবে বলতেন, ‘‘সকল পবিত্রতা তোমারই জন্য, অবশ্যই আপনি সক্ষম।’’ পরে লোকেরা তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে এরূপ শুনেছি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ ইমাম আহমাদ বলেছেন, ফারয সালাতের দু‘আয় আমি কুরআনের আয়াত পড়া পছন্দ করি।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 494 · #882 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  495. 495

    । সা‘দী (রাঃ) হতে তাঁর পিতা অথবা তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। তিনি রুকূ‘ ও সিজদাতে ‘‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’’ তিনবার পড়ার সমপরিমাণ সময় অবস্থান করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 495 · #883 · Sahih, Sahih, Daif
  496. 496

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রুকূ‘তে গিয়ে যেন কমপক্ষে তিনবার বলেঃ ‘‘সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম’’ এবং সিজদাতে গিয়ে যেন তিনবার বলেঃ ‘‘সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা’’ আর এটাই সর্বনিম্ন পরিমাণ।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ বর্ণনাটি মুরসাল। কেননা ‘আওন ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাননি।

    Book 2 · Hadith 496 · #884 · Daif, Daif, Daif
  497. 497

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘ওয়াত ত্বীন-ওয়ায যাইতূণ’’-এর ‘‘আলাইসাল্লাহু বি-আহকামিল হাকিমিন’’ বলার সময় তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই বলেঃ ‘‘বালা ওয়া আনা ‘আলা যালিকা মিনাশ শাহিদীন’’। এমনিভাবে কেউ ‘‘লা উক্বসিমু বি-ইয়াওমিল ক্বিয়ামাত (কিয়ামত)ি’’-এর শেষ আয়াত ‘‘আলাইসা যালিকা বি-ক্বাদিরীন ‘আলা আই য়ুহইয়াল মাওতা’’ পাঠ করার সময় যেন অবশ্যই বলেঃ ‘‘বালা।’’ আর যে ব্যক্তি ‘‘সূরাহ মুরসালাত’’ তিলাওয়াত করবে এবং তার ‘‘ফাবি-আইয়ি হাদীসিন বা’দাহু য়ুউমিনূন’’ আয়াতটি পাঠ করবে, সে যেন অবশ্যই বলেঃ ‘‘আমান্না’’। বর্ণনাকারী ইসমাঈল বলেন, অতঃপর আমি আরবের ঐ বেদুইন বর্ণনাকারীকে দেখতে যাই তার বর্ণনাটি সঠিক কিনা জানার জন্য। তখন বর্ণনাকারী আমাকে বলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি মনে করছো আমি হাদীস ভুলে গিয়েছি? আমি ষাটবার হজ করেছি এবং প্রত্যেক হাজ্জে আমি কি ধরনের উটের উপর আরোহণ করেছি, তা এখনও আমার স্মরণ আছে।[1] দুর্বল : মিশকাত ৮৬০।

    Book 2 · Hadith 497 · #885 · Daif, Daif, Daif
  498. 498

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর এ যুবক অর্থাৎ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয ছাড়া কারো পিছনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের অনুরূপ সালাত আদায় করিনি। তিনি বলেন, আমরা তাঁর রুকূ‘তে দশবার এবং সিজদাতে দশবার তাসবীহ পড়ার হিসাব করেছি।[1] দুর্বল : মিশকাত ৮৮৩।

    Book 2 · Hadith 498 · #886 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  499. 499

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে (হাম্মাদের বর্ণনায় রয়েছে) তোমাদের নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাতটি অঙ্গ দ্বারা সিজদা্ করতে আদেশ করা হয়েছে। তিনি সালাতের অবস্থায় চুল ও কাপড় মুষ্ঠিবদ্ধ করতে (বাঁধতে) নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 499 · #887 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (815) Sahih Muslim (490)
  500. 500

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আদিষ্ট হয়েছি, অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ তোমাদের নবীকে সাতটি অঙ্গ দ্বারা সিজদা্ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 500 · #888 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (815) Sahih Muslim (490)
  501. 501

    । ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যখন বান্দা সিজদা্ করে, তখন তার সাথে তার শরীরের সাতটি অঙ্গও সিজদা্ করে। (যেমন), তার মুখমন্ডল, দু’ হাতের তালু, দু’ হাঁটু এবং দু’ পা।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 501 · #889 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (491)
  502. 502

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে মারফূ‘ভাবে বর্ণিত। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুখমন্ডলের ন্যায় দু’ হাতও সিজদা্ করে। তোমাদের কেউ মুখমন্ডল (কপাল) যমীনে রাখার সময় যেন অবশ্যই তার দু’ হাতের তালু যমীনে রাখে এবং যমীন থেকে মুখমন্ডল উঠানোর সময় যেন দু’ হাতও উঠায়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 502 · #890 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  503. 503

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সালাতে এসে আমাদেরকে সিজদা্ অবস্থায় পেলে সিজদায় চলে যাবে। তবে এ সিজদাকে (সালাতের রাক‘আত) গণ্য করবে না। যে ব্যক্তি রুকূ‘ পেলো সে সালাত পেয়েছে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 503 · #891 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  504. 504

    । আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা‘আতের সাথে সালাত আদায়ের পর তাঁর কপাল ও নাকের উপর মাটির দাগ দেখা যায়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 504 · #892 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (813) Sahih Muslim (1167)
  505. 505

    । ‘আবদুর রাযযাক্ব হতে মা‘মার সূত্রে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।

    Book 2 · Hadith 505 · #893 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (813) Sahih Muslim (1167)
  506. 506

    । আবূ ইসহাক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) আমাদের কাছে সাজদার পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর দু’ হাত মাটিতে রাখেন এবং হাঁটুর উপর ভর করে (সিজদাতে) পাছা উঁচু করে রাখেন, অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে সিজদা্ করতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 506 · #894 · Daif, Daif, Daif, Daif
  507. 507

    । আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সিজদাতে ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং তোমাদের কেউ যেন কুকুরের ন্যায় দু’ হাতকে যমীনে বিছিয়ে না দেয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 507 · #895 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (822) Sahih Muslim (494)
  508. 508

    । মায়মূনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাতে স্বীয় দু’ হাত এতোটা ফাঁকা রাখতেন যে, কোন বকরীর বাচ্চা এর নীচ দিয়ে যেতে চাইলে চলে যেতে পারতো।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 508 · #896 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (496)
  509. 509

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতরত অবস্থায় আমি তাঁর পিছন দিয়ে চলে আসি এবং এ সময় আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই। কারণ তিনি তাঁর দু’ হাত প্রসারিত করে রেখেছিলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 509 · #897 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif
  510. 510

    । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আহমার ইবনু জায’ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাতে তাঁর দু’ বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে বিছিন্ন করে রাখতেন এবং এ অবস্থা দেখে আমাদের করুণা সৃষ্টি হতো।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 510 · #898 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  511. 511

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সিজদা করার সময় যেন স্বীয় দু’ হাত কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে না রাখে এবং দু’ উরু যেন মিলিয়ে রাখে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 511 · #899 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  512. 512

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের সমস্যার কথা জানান যে, সিজদার সময় তারা হাতকে বগল থেকে এবং পেটকে উরু থেকে আলাদা করে রাখলে এতে তাদের কষ্টবোধ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এক্ষেত্রে তোমরা হাঁটুর সাহায্য নাও।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 512 · #900 · Daif, Daif, Daif
  513. 513

    । যিয়াদ ইবনু সুবাইহ আল-হানাফী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনু ‘উমারের পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করি এবং আমি আমার কোমরের দু’ পার্শ্বের উপর দু’ হাতের ভর করি। সালাত শেষে তিনি আমাকে বললেনঃ এটা হচ্ছে সালাতের শূলী। এমনটি করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 513 · #901 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih
  514. 514

    । মুত্বাররিফ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন এবং এ সময় তাঁর বুক থেকে যাঁতা পেষার আওয়াজের ন্যায় কান্নার আওয়াজ হচ্ছিল।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 514 · #902 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  515. 515

    । যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ উত্তমরূপে অযু করে নির্ভুলভাবে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দয়ো হয়।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 515 · #903 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  516. 516

    । ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ উত্তমরূপে অযু করে একাগ্রচিত্তে খালিস অন্তরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 516 · #904 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (169)
  517. 517

    । মিসওয়ার ইবনু ইয়াযীদ আল-মালিকী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করি। সালাতের ক্বিরাআতে তাঁর পঠিত আয়াতের অংশ বিশেষ ভুলবশত ছুটে গেলে সালাত শেষে এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি অমুক অমুক আয়াত ছেড়ে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি আমাকে তা স্মরণ করিয়ে দাওনি কেন? সুলাইমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি ভেবেছিলাম, তা মানসূখ হয়ে গেছে। হাসান। ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সালাতে ক্বিরাআত পাঠে আটকে গেলেন। সালাত শেষে তিনি উবাই ইবনু কা‘বকে বললেন, তুমি কি আমাদের সাথে সালাত আদায় করেছো? তিনি বললেন, হাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাকে কিসে বাঁধা দিয়েছে (আমাকে আয়াত মনে করিয়ে দিতে)? [1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 517 · #905 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi
  518. 518

    । ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে ‘আলী! তুমি সালাতের মধ্যে ইমামের ভুল শোধরাবে না।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হারীসের কাছ থেকে আবূ ইসহাক কেবল চারটি হাদীস শুনেছেন। তাতে এ হাদীসটি নেই।

    Book 2 · Hadith 519 · #906 · Daif, Daif, Daif, Daif
  519. 519

    । আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের মধ্যে বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত এদিক সেদিক না তাকায়, ততক্ষণ পর্যন্ত মহান আল্লাহর দৃষ্টি তার দিকে থাকে (বা আল্লাহ তার সামনেই থাকেন)। পক্ষান্তরে যখন সে এদিক সেদিক তাকায়, তখন মহান আল্লাহ তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 520 · #907 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  520. 520

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের মধ্যে এদিক সেদিক তাকানোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটাতো শয়তানের ছোঁ মারা, সে বান্দার সালাতের কিছু অংশ ছোবল মেরে নিয়ে যায়।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 521 · #908 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (751)
  521. 521

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা লোকদেরকে নিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কপালে ও নাকে মাটি লেগে থাকতে দেখা যায়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 522 · #909 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  522. 522

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে, কিছু লোক আকাশের দিকে দু’ হাত উঁচু করে সালাত আদায় করছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যেসব লোক আকাশের দিকে তাকিয়ে সালাত আদায় করে তারা যেন এরূপ করা হতে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি তাদের নিকট আর ফিরে আসবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 523 · #910 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  523. 523

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদের কি হলো যে, তারা সালাতের অবস্থায় তাদের চোখ (আকাশের দিকে) উঁচু করছে? অতঃপর তিনি এ বিষয়ে কঠোর ভাষায় বললেনঃ তাদেরকে এরূপ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়া হবে।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 524 · #911 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (750)
  524. 524

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নকশা করা কাপড় পরিধান করে সালাত আদায়ের পর বললেনঃ এ কাপড়ের কারুকার্য আমাকে সালাত থেকে অমনোযোগী করেছে। তোমরা এ কাপড়খানা আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং আমার জন্য কারুকার্যবিহীন চাদর নিয়ে এসো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 525 · #912 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (752) Sahih Muslim (556)
  525. 525

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ জাহমের কাছ থেকে কুরদী চাদর নিলেন। অতঃপর বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার নকশা খচিত চাদরটি এ কুরদী চাদরের চাইতে উত্তম ছিলো।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 526 · #913 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan Sahih Muslim (556)
  526. 526

    । সাহল ইবনু হানযালিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ফজর সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে লাগলেন এবং সালাতের অবস্থায়ই তিনি গিড়ি পথের দিকে তাকাচ্ছিলেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরিপথ পাহারা দেয়ার জন্য রাতে এক অশ্বারোহীকে সেখানে প্রেরণ করেছিলেন। (সেজন্যই তিনি সেখানে দৃষ্টি ফিরাচ্ছিলেন)।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 527 · #914 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  527. 527

    । আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কন্যা যাইনাবের মেয়ে উমামাহকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানোর সময় উঠিয়ে নিতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 528 · #915 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (516) Sahih Muslim (543)
  528. 528

    । আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কন্যা যাইনাবের মেয়ে উমামাহ বিনতু আবুল ‘আস ইবনু রবী‘কে কাঁধে করে নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। তখন উমামাহ শিশু ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি রুকূ‘ করার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানোর সময় তাকে আবার কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। তিনি এভাবে সালাত আদায় শেষ করেন।[1] সহীহ : বুখারী সংক্ষেপে।

    Book 2 · Hadith 529 · #916 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5996) Sahih Muslim (543)
  529. 529

    । ‘আমর ইবনু সুলায়মান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ক্বাতাদাহকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামাহ বিনতু আবুল ‘আসকে কাঁধে নিয়ে লোকদের সালাতে ইমামতি করেছেন। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন।[1] সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মাখরামাহ তার পিতা থেকে কেবল একটি হাদীস শুনেছেন।

    Book 2 · Hadith 530 · #917 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (543)
  530. 530

    । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যুহর কিংবা ‘আসরের সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপেক্ষায় ছিলাম। বিলাল (রাঃ) তাঁকে সালাতের জন্য আহবান করলে তিনি উমামাহ বিনতু আবুল ‘আসকে কাঁধে নিয়ে আমাদের নিকট আসেন। অতঃপর তিনি ইমামতির জন্য তাঁর জায়গায় দাঁড়ালেন এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। উমামাহ তখনও তাঁর কাঁধেই ছিলো। অতঃপর তিনি তাকবীর বললে আমরাও তাকবীর বললাম। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘র ইচ্ছা করলে তাকে নিচে নামিয়ে রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন। অতঃপর সিজদা্ থেকে উঠার সময় তাকে পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাক‘আতেই এরূপ করেন এবং এভাবেই তিনি সালাত শেষ করেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 531 · #918 · Daif, Daif, Daif, Daif
  531. 531

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সালাতরত অবস্থাতেও কালো সাপ ও কালো বিচ্ছুকে হত্যা করবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 532 · #919 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  532. 532

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে দরজা বন্ধ করে সালাত আদায় করছিলেন। এমতাবস্থায় আমি এসে দরজা খুলতে বললে তিনি হেঁটে গিয়ে দরজা খুলে পুনরায় সালাতে রত হলেন। হাদীসে একথাও রয়েছে যে, দরজাটি ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে ছিলো।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 533 · #920 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  533. 533

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতরত অবস্থায়ই আমরা তাঁকে সালাম দিলে তিনি এর জবাব দিলেন। পরবর্তীতে আমরা বাদশা নাজ্জাশীর কাছ থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাতের অবস্থায় সালাম দিলে তিনি এর জবাব না দিয়ে (সালাত শেষে) বললেনঃ সালাতের মধ্যে অবশ্যই জরুরী কাজ আছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 534 · #921 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1199) Sahih Muslim (538)
  534. 534

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতের অবস্থায় সালাম দিতাম এবং আমাদের জরুরী কথাবার্তাও বলতাম। পরবর্তীতে আমি (হাবশা থেকে) ফিরে আসার পর তাঁকে সালাতের অবস্থায় সালাম করলে তিনি এর জবাব দিলেন না। ফলশ্রুতিতে আমার মনে নতুন ও পুরাতন বহু চিন্তার উদ্ভব হলো। অতঃপর সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘মহান আল্লাহ যখন ইচ্ছে নতুন নিদের্শ প্রদান করেন। মহান আল্লাহর নতুন নির্দেশ হচ্ছে, সালাতের অবস্থায় কথা বলা যাবে না।’ অতঃপর তিনি আমার সালামের জবাব দেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 535 · #922 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  535. 535

    । সুহাইব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতরত অবস্থায় আমি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম করলে তিনি হাতের ইশারায় সালামের জবাব দেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 536 · #923 · Sahih, Sahih, Sahih
  536. 536

    । জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বনু মুসত্বালিক্ব গোত্রের কাছে প্রেরণ করলেন। সেখান থেকে ফিরার পর আমি তাঁকে উটের পিঠে সালাত আদায় করতে দেখে তাঁকে সম্বোধন করে কথা বললে তিনি হাতের ইশারায় আমার কথার জবাব দিলেন। আমি পুনরায় কথা বললে তখনও তিনি হাতের ইশারায় জবাব দিলেন। আমি তাঁকে কুরআন পড়তে শুনছিলাম। তিনি রুকূ‘ ও সিজদা্ ইশারায় আদায় করছিলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি আমাকে বললেনঃ আমি তোমাকে যে কাজে প্রেরণ করেছিলাম সেটার খবর কি? আমি সালাতের অবস্থায় ছিলাম বিধায় তোমার সাথে কথা বলি নাই।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 537 · #924 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (540)
  537. 537

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের জন্য কুবার মসজিদে আসলেন। এমতাবস্থায় আনসারগণ এসে তাঁর সালাতের অবস্থায়ই তাঁকে সালাম দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বিলালকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের অবস্থায় তাদের সালামের জবাব কিভাবে প্রদান করতে দেখেছেন? বিলাল (রাঃ) বললেন, এভাবে। বর্ণনাকারী জা‘ফার ইবনু ‘আওন তার হাতের তালু নীচের দিকে এবং পিঠ উপরের দিকে করে তা দেখিয়ে দিলেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 538 · #925 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  538. 538

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সালাতে এবং সালামে কোন লোকসান নেই। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, আমার মতে এর অর্থ হচ্ছেঃ তুমি কাউকে সালাম প্রদান করলে সে এর জবাব না দিলেও তোমার কোন ক্ষতি বা লোকসান নেই। বরং ধোঁকা বা ক্ষতি হলো, কোন ব্যক্তির সন্দিহান মন নিয়ে সালাত শেষ করা।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 539 · #926 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  539. 539

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, এ হাদীসটি মারফূ‘। তিনি বলেন, সালাম এবং সালাতে কোন ক্ষতি নেই।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ফুযাইল এটি ইবনু মাহদীর শব্দে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এটিকে মারফূ‘ করেননি।

    Book 2 · Hadith 540 · #927 · Sahih, Sahih, Daif
  540. 540

    । মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করি। সালাতের অবস্থায় লোকজনের মধ্যকার এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে জবাবে আমি ইয়ারহামুকাল্লাহ বলায় সকলেই আমার প্রতি (রাগের) দৃষ্টিতে তাকালো। তখন আমি মনে মনে বললাম, তোমাদের মাতা তোমাদেরকে হারাক। তোমরা আমার দিকে এভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছো কেন? মু‘আবিয়াহ বলেন, সকলেই রানের উপর সজোরে হাত মেরে শব্দ করতে থাকলে আমি বুঝতে পারি যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাইছে। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছিলো, তখন (অনিচ্ছা) সত্ত্বেও আমি চুপ হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন- আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক! তিনি আমাকে প্রহার করলেন না, রাগ করলেন না এবং গালিও দিলেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সালাতের অবস্থায় তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন তিলাওয়াত ব্যতীত কোন কথা বলা মানুষের জন্য বৈধ নয়। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ বলার বললেন। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সদ্য জাহিলিয়্যাত ছেড়ে আসা একটি সম্প্রদায়। আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দিয়েছেন। আমাদের মধ্যকার কতিপয় ব্যক্তি গণকের নিকট যায়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তাদের নিকটে যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমাদের মধ্যকার কতিপয় লোক পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ণয় করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এটা তাদের মনগড়া কাজ, এরূপ (কুসংস্কার) যেন তাদেরকে তাদের কাজ থেকে বিরত না রাখে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমাদের মধ্যকার এমনও কিছু লোক আছে যারা রেখা টেনে ভাগ্য নির্ণয় করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ নবীগণের মধ্যকার একজন নবী রেখা টানতেন। সুতরাং কারো রেখা তাঁর নবীর মত হলে সঠিত হতে পারে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমার এক দাসী উহুদ ও জাওয়ানিয়ার আশেপাশে বকরী চরাচ্ছিলো। আমি দেখলাম যে, বাঘ এসে সেখান থেকে একটি বকরী নিয়ে গেছে। আমিও তো আদম সন্তান। কাজেই আমিও তাদের মত দুঃখ পাই। কিন্তু আমি তাকে জোরে একটি থাপ্পর দিলাম। এ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গুরুত্ববহ মনে হওয়ায় আমি তাঁকে বললাম, আমি কি তাকে মুক্ত করে দিবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে নিয়ে এলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহ কোথায়? সে জবাবে বলালো, আকাশে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কে? সে জবাবে বললো, আপনি আল্লাহর রসূল! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আযাদ করে দাও। কারণ সে ঈমানদার মহিলা।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 541 · #928 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (537)
  541. 541

    । মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসার পর আমাকে ইসলামের কিছু বিষয় শেখানো হলো। আমাকে তখন এটাও শেখানো হয়েছিল যে, তুমি হাঁচি দিলে ‘‘আলহামদুল্লিাহ’’ বলবে। আর অন্য কাউকে হাঁচি দেয়ার পর ‘আলহামদুল্লিাহ’ বলতে শুনলে তুমি বলবে, ‘‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’’ (অর্থঃ আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিল এবং ‘‘আলহামদুল্লিাহ’’ বললো। তখন আমি উচ্চস্বরে বললাম, ‘‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’’। এতে উপস্থিত সকলেই আমার দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকালো। তাতে আমিও রাগান্বিত হলাম। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা আমার দিকে এভাবে চোখ ঘুরিয়ে দেখছো কেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন তারা সুবহানাল্লাহ বললো। সালাত আদায় শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (সালাতের মধ্যে) কে কথাবার্তা বলেছে? বলা হলো, এই গ্রাম্য লোকটি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, সালাতে কুরআন পাঠ ও আল্লাহর স্মরণ করা হয়। কাজেই সালাতরত অবস্থায় তোমার তা-ই করা উচিত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাইতে অধিক নম্র ও বিনয়ী শিক্ষক আর কখনো দেখিনি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 542 · #929 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  542. 542

    । ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (সালাত আদায়কালে সূরাহ ফাতিহার শেষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘‘ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’’ পড়তেন তখন তিনি সশব্দে আমীন বলতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 543 · #930 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  543. 543

    । ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে সালাত আদায় করেছেন। তাতে তিনি সশব্দে ‘‘আমীন’’ বলেছেন। তিনি ডানে ও বামে এভাবে সালাম ফিরিয়েছেন যে, আমি তাঁর গালের শুভ্রতা দেখেছি।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 544 · #931 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  544. 544

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাত আদায়কালে সূরাহ ফাতিহার শেষে) যখন ‘‘গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’’ পড়তেন তখন এমন জোরে ‘‘আমীন’’ বলতেন যে, প্রথম কাতারে তাঁর নিকটবর্তী লোকেরা তাঁর এ ‘‘আমীন’’ বলা শুনতে পেতো।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 545 · #932 · Daif, Daif, Daif, Daif
  545. 545

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সালাতে ইমাম যখন পড়বে ‘‘গাইরিল মাগদূবি’’ ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’’ তখন তোমরা ‘‘আমীন’’ বলবে। কেননা যার কথা (আমীন বলা) ফিরিশতার কথার সাথে সাথে উচ্চারিত হবে তার পূর্বেকার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 546 · #933 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (782) Sahih Muslim (409)
  546. 546

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (সালাতে সূরাহ ফাতিহা পাঠের পর) ইমাম যখন ‘‘আমীন’’ বলবে তখন তোমরাও ‘‘আমীন’’ বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন বলা মালায়িকাহ (ফিরিশতার) আমীন বলার সাথে মিলবে তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূরাহ ফাতিহা শেষে) ‘‘আমীন’’ বলতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 547 · #934 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (780) Sahih Muslim (410)
  547. 547

    । বিলাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমার আগে ‘‘আমীন’’ বলবেন না। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূরাহ ফাতিহা পাঠ শেষ হয়ে যেতো অথচ তখনও বিলালের (রাঃ) পড়া শেষ হতো না। তাই তিনি এ কথা বলতেন)।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 548 · #935 · Daif, Daif, Sahih
  548. 548

    । আবূ মুসাব্বিহ আল-মাকরাঈ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ যুহাইর আন-নুমাইরী (রাঃ) এর নিকট বসতাম। তিনি সুন্দর সুন্দর হাদীস শুনাতেন। একবার আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি দু‘আ করতে থাকলে তিনি বললেন, তুমি ‘আমীন’ বলে দু‘আ শেষ করবে। কেননা (দু‘আর শেষে) ‘‘আমীন’’ বলা (গ্রন্থ বা) চিঠিতে সীলমোহর করার মত। অতঃপর আবূ যুহাইর (রাঃ) বলেন, এ বিষয়ে আমি তোমাদেরকে একটি ঘটনা জানাতে চাই। এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হই। অতঃপর আমরা এমন এক ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হই যিনি কাকুতি-মিনতি করে দু‘আ করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামলেন এবং তার দু‘আ শুনলেন, অতঃপর বললেন, যদি সে শেষ করে তাহলে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত। উপস্থিত লোকদের একজন বললো, কিসের দ্বারা সে দু‘আ শেষ করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমীন’ বলে। কেননা যদি সে ‘‘আমীন’’ বলার উপর দু‘আ শেষ করে তাহলে তার দু‘আ কবূল হয় (অথবা সে নিজের জন্য জান্নাত অবধারিত করে নেয়)। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্নকারী লোকটি দু‘আ রত ব্যক্তির নিকট গিয়ে বললো, হে অমুক! তুমি আমীন বলে দু‘আ শেষ করো এবং (জান্নাত লাভের ও দু‘আ কবূলের) সুসংবাদ গ্রহণ করো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আল-মাকরাঈ হলো হিময়ারের একটি গোত্র।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 549 · #936 · Daif, Daif, Daif, Daif
  549. 549

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (সালাত আদায়কালে ইমামের কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে) পুরুষ (মুক্তাদীরা) সুবহানাল্লাহ বলবে আর নারী (মুক্তাদীরা) হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 550 · #937 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1203) Sahih Muslim (422)
  550. 550

    । সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী ‘আমর ইবনু ‘আওফ গোত্রের বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। এমতাবস্থায় সালাতের ওয়াক্ত হলে মুয়াযযিন আবূ বাকর (রাঃ) এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করবেন? আবূ বাকর (রাঃ) স্বীকৃতি দেয়ায় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলো এবং আবূ বাকর (রাঃ) সালাত শুরু করলেন। ইতিমধ্যে লোকদের সালাতরত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পৌঁছলেন এবং কাতার ভেদ করে সামনের কাতারে দাঁড়ালেন। এমতাবস্থায় লোকেরা হাততালি দিয়ে শব্দ করতে লাগলো। কিন্তু আবূ বাকর (রাঃ) সালাতরত অবস্থায় কোন দিকেই খেয়াল করতেন না। অতঃপর যখন লোকদের হাততালি অত্যধিক হলো আবূ বাকর (রাঃ) খেয়াল করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা করে তাকে স্বীয় স্থানে থাকতে বললেন। কিন্তু আবূ বাকর (রাঃ) দু’ হাত উঠিয়ে রাসূলুল্লাহর এ নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং পিছনে সরে কাতারে শামিল হন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেন, হে আবূ বাকর! আমি নির্দেশ দেয়ার পরও তুমি সালাতের ইমামাত করলে না কেন? জবাবে আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে আবূ কুহাফার পুত্রের ইমামাত শোভনীয় নয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে বললেন, কি ব্যাপার! আমি দেখলাম, তোমরা সকলেই হাতের উপর হাত মেরে অধিক শব্দ করেছো। সালাতে কিছু ঘটলে (ইমামের কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে) ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলা উচিত। কেননা কেউ ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বললে ইমাম সেদিকে লক্ষ্য করবে। আর হাততালি দেয়াটা মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ নিয়ম শুধু ফার্য সালাতের বেলায় প্রযোজ্য।

    Book 2 · Hadith 551 · #938 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (684) Sahih Muslim (421)
  551. 551

    । সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বানী ‘আমর ইবনু ‘আওফ গোত্রের লোকদের সংঘর্ষের সংবাদ পৌছলে তিনি তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার জন্য যুহর সালাতের পর সেখানে যান। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে বললেন, আমার ফিরে আসার পূর্বেই ‘আসর সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আবূ বাকরকে লোকদের সালাতে ইমামাত করতে বলবে। অতঃপর ‘আসর সালাতের ওয়াক্ত হলে বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। এরপর ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিয়ে আবূ বাকরকে (ইমামাত করার) আদেশ করলে আবূ বাকর সামনে অগ্রসর হলেন। বর্ণনাকারী হাদীসের শেষাংশে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সালাতে কোন কিছু ঘটলে পুরুষরা ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলবে এবং নারীরা হাততালি দিবে।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 552 · #939 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7190)
  552. 552

    । ঈসা ইবনু আইয়ূব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নারীদের হাততালি দেয়া’ কথাটির অর্থ হলো, তারা ডান হাতের দুই আঙ্গুল বাম হাতের তালুর উপর মারবে।[1] সহীহ মাক্বতু‘।

    Book 2 · Hadith 553 · #940 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif
  553. 553

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় ইশারা করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 554 · #941 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  554. 554

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (সালাতে ইমামের কোন ক্রটি হলে) পুরুষরা ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলবে এবং মহিলারা হাততালি দিবে। কেউ যদি সালাতরত অবস্থায় এরূপ ইশারা করে যদ্দ্বারা নির্দিষ্ট কোন অর্থ বুঝায় তবে সে উক্ত সালাত পুনরায় আদায় করবে। দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি সন্দেহমূলক।

    Book 2 · Hadith 555 · #942 · Daif, Daif, Daif, Daif
  555. 555

    । আবূ যার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে তার সামনে আল্লাহর রহমত থাকে। সুতরাং এ সময় মুসল্লী যেন পাথরকুচি (ইত্যাদি) সরাতে ব্যস্ত না হয়।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 556 · #943 · Daif, Daif, Hasan, Hasan
  556. 556

    । মু‘আইক্বীব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সালাতরত অবস্থায় তুমি পাথরকুচি সরাবে না। যদি সরাতেই হয় তবে কেবল একবার পাথরকুচি সরিয়ে জায়গা সমান করতে পারো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 557 · #944 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1207) Sahih Muslim (546)
  557. 557

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে কোমরে হাত রাখতে নিষেধ করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হলো, পেটের পার্শ্বদেশে হাত রাখা।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 558 · #945 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1220) Sahih Muslim (545)
  558. 558

    । হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন (শাম দেশের) রাক্কাহ নামক শহরে যাই তখন আমার বন্ধুদের একজন আমাকে বললেন, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাক্ষাত পেতে আগ্রহী? আমি বললাম, এটা তো আমার জন্য গনীমাতস্বরূপ। অতঃপর আমাদেরকে ওয়াবিসাহ (রাঃ) এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। আমি আমার সাথীকে বললাম, প্রথমে আমরা তাঁর বেশভুষা দেখবো। আমরা দেখলাম, তিনি মাথার সাথে লেপটে থাকা দুই কানবিশিষ্ট একটি টুপি এবং রেশম ও পশমের তৈরি ধূসর রংয়ের কাপড় পরিধান করেছেন। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমরা সালাম দেওয়ার পর তাকে (লাঠিতে ভর দিয়ে সালাত আদায় সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, উম্মু ক্বাইস বিনতে মিহসান (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেশী হলো এবং তাঁর শরীরের গোশত ঢিলা হয়ে গেল তখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে একটি লাঠি রাখতেন এবং তার উপর ভর করে সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 559 · #946 · Sahih, Sahih, Hasan
  559. 559

    । যায়িদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ সালাত আদায় অবস্থায়ই তার পাশের ব্যক্তির সাথে কথা বলতো। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা আল্লাহর একান্ত অনুগত হয়ে (সালাতে) দাঁড়াও’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ২৩৮)। এ আয়াতে আমাদেরকে সালাতে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হয় এবং কথাবার্তা বলতে নিষেধ করা হয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 560 · #947 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1200) Sahih Muslim (539)
  560. 560

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি বসে (নফল) সালাত আদায় করলে তা অর্ধেক সালাত আদায় হিসেবে ধর্তব্য। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে দেখলাম, তিনি বসে সালাত আদায় করছেন। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার মাথায় হাত রাখলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর! তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, আপনি বলেছেন, কোন ব্যক্তি বসে (নফল) সালাত আদায় করলে তা (দাঁড়িয়ে) অর্ধেক সালাত আদায়ের সমতুল্য। অথচ আপনি বসে সালাত আদায় করছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আমি তাই বলেছি। কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 561 · #948 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (735)
  561. 561

    । ‘ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কারো বসে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, তার বসে সালাত আদায়ের চাইতে দাড়িয়ে সালাত আদায় উত্তম। তার বসে সালাত আদায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের অর্ধেক এবং তার শুয়ে সালাত আদায় বসে সালাত আদায়ের অর্ধেক।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 562 · #949 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1115)
  562. 562

    । ‘ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পাঁজরে ব্যথাজনিত রোগ ছিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তাতে সক্ষম না হলে বসে আদায় করবে এবং তাতেও সক্ষম না হলে শুয়ে সালাত আদায় করবে।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 563 · #950 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1117)
  563. 563

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাতের সালাতে কখনও বসে ক্বিরাআত করতে দেখিনি। অবশেষে বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছলে তিনি রাতের সালাতে বসে ক্বিরাআত করতেন এবং চল্লিশ কিংবা ত্রিশ আয়াত বাকী থাকতে উঠে দাঁড়িয়ে তা পাঠ সম্পন্ন করে সিজদায় যেতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 564 · #951 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1118) Sahih Muslim (731)
  564. 564

    । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায়কালে ক্বিরাআতও বসে পড়তেন। যখন ক্বিরাআতের ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকতো তখন উঠে দাঁড়িয়ে তা পাঠ করতেন, এরপর রুরুূ’ ও সিজদা্ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক’আতেও অনুরূপ করতেন।[1] সহীহ : বুখারীও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি ‘আলকামাহ ইবনু ওয়াক্কাস (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 565 · #952 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1119) Sahih Muslim (731)
  565. 565

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কখনো দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে এবং কখনো দীর্ঘ সময় বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কালে দাঁড়িয়ে রুকূ‘ করতেন এবং বসে সালাত আদায়কালে বসে রুকূ‘ করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 566 · #953 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (730)
  566. 566

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এক রাক‘আতে কয়েকটি সূরাহ পড়তেন? তিনি বললেন, তিনি ‘মুফাসসাল’ (দীর্ঘ) সূরাহ পড়তেন। তিনি বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি বসে সালাত আদায় করতেন? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, যখন তাঁর বয়স অধিক হয়ে যায় (তখন তিনি বসে সালাত আদায় করতেন)।[1] সহীহ : এর দ্বিতীয় অংশ।

    Book 2 · Hadith 567 · #954 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (732)
  567. 567

    । ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি (মনে মনে) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে সালাত আদায় করেন আমি তা অবশ্যই দেখবো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমূখী হয়ে তাকবীর বলে দুই হাত কান বরাবর উত্তোলন করলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাত আঁকড়ে ধরলেন। তারপর যখন রুকূ‘তে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখনও অনুরূপভাবে দু’ হাত উত্তোলন করলেন। বর্ণনাকারী (ওয়াইল ইবনু হুজর) বলেন, অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে বসলেন, বাম হাত বাম ঊরুর উপর রাখলেন এবং ডান কনুই ডান ঊরু হতে পৃথক রাখলেন। তারপর দু’ আঙ্গুল গুটিয়ে বৃত্তাকার করলেন এবং তাঁকে আমি এভাবেই বলতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বিশর (রহঃ) বৃদ্ধাংগুলিকে মধ্যমার সাথে মিলিয়ে বৃত্ত করলেন এবং শাহাদাত অংগুলি দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 568 · #955 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  568. 568

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের সুন্নাত হচ্ছে, (বসার সময়) তোমার ডান পা খাড়া রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে দেয়া।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 569 · #956 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (827)
  569. 569

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, সালাতের সুন্নাত হলো, (বসার সময়) তোমার বাম পা বিছিয়ে রাখা এবং ডান পা খাড়া করে রাখা।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 570 · #957 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  570. 570

    । ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে এই সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

    Book 2 · Hadith 571 · #958 · Sahih, Sahih, Sahih
  571. 571

    । ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত আল-কাসিম ইবনু মুহাম্মদ তাদেরকে তাশাহহুদে বসার নিয়ম দেখান ... অতঃপর হাদীসটি বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 572 · #959 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  572. 572

    । ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে (তাশাহহুদে বসার সময়) তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিতেন। ফলে তাঁর পায়ের পাতার উপরিভাগ কালো হয়ে গিয়েছিল।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 573 · #960 · Daif, Daif, Daif
  573. 573

    । মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, আমি আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি, যাদের মধ্যে আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। আবূ হুমাইদ (রাঃ) বললেন, আমি তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত। তারা বললেন, তাহলে আপনি বর্ণনা করুন। তখন তিনি হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে তিনি এও বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে সাজদার সময় দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো খোলা রাখতেন। অতঃপর ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলে মাথা উঠাতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক’আতও তিনি অনুরূপভাবে আদায় করতেন। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশ বর্ণনা করেন যে, সবশেষে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বের সিজদা্ শেষ করে বাম পা বাইরের দিকে বের করে বাম পাশের নিতম্বের উপর বসতেন। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালের বর্ণনায় আরো রয়েছে, এভাবে হাদীস বর্ণনার পর উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, হাঁ, আপনি সত্যই বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল ও মুসাদ্দাদ তাদের বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক‘আতে কিরূপে বসতেন তা বর্ণনা করেননি।[1] সহীহ : এটি গত হয়েছে (৭৩০ নং)।

    Book 2 · Hadith 574 · #961 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  574. 574

    । মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর সাথে বসা ছিলেন। তখন পূর্বোক্ত হাদীসটি আলোচিত হয়। অবশ্য তাতে সাহাবী আবূ ক্বাতাদাহর নাম উল্লেখ নেই। তিনি বর্ণনা করলেন, তিনি যখন দুই রাক’আত সম্পন্ন করে বসতেন তখন বাম পা বাইরের দিকে ছড়িয়ে দিয়ে নিতম্বের উপর বসলেন।[1] সহীহ

    Book 2 · Hadith 575 · #962 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  575. 575

    । মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর আল-‘আমিরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মাজলিসে এ হাদীসটি আলোচিত হচ্ছিল সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুই রাক‘আত শেষে বসতেন তখন বাম পায়ের তালুর ওপর ভর করে বসতেন, এ সময় তাঁর নিতম্ব মাটিতে লাগিয়ে রাখতেন এবং উভয় পা একদিকে বের করে দিতেন।[1] সহীহ

    Book 2 · Hadith 576 · #963 · Sahih, Sahih, Daif
  576. 576

    । ‘আব্বাস অথবা ‘আইয়াশ ইবনু সাহল আস-সাঈদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এমন একটি মাজলিসে ছিলেন যেখানে তাঁর পিতাও উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদারত অবস্থায় দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের পাতার উপর ভর করলেন। তিনি বসার সময় নিতম্বের উপর বসলেন এবং অপর পা খাড়া করে রাখলেন, অতঃপর তাকবীর বলে সিজদা্ করলেন, এরপর আবার তাকবীর বলে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর পূর্বের নিয়মেই তাকবীর বলে পরবর্তী রাক‘আতের রুকূ‘ করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত শেষে বসলেন। এরপর তিনি ক্বিয়ামের মনস্থ করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং পরবর্তী দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। অতঃপর শেষ বৈঠকে প্রথমে ডান দিক এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরালেন। দুর্বল। ইমাম ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল হামীদ কর্তৃক বর্ণিত নিতম্বের উপর বসা এবং দুই রাক’আতের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানোর কথাটি তাঁর হাদীসে উল্লেখ নেই।

    Book 2 · Hadith 577 · #964 · Daif, Daif, Daif
  577. 577

    । ‘আব্বাস ইবনু সাহল (রহঃ) বলেন, আবূ হুমাইদ, আবূ উসাইদ, সাহল ইবনু সা’দ ও মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) এক জায়গায় সমবেত হলেন। তখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করলেন। কিন্তু তাতে দ্বিতীয় রাক‘আতের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানো এবং (ক্ষনিক) বসার কথা উল্লেখ নাই। বরং তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষান্তে বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিয়ে ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী করে বসলেন।[1] সহীহ : এটি গত হয়েছে (৭৩৩ নং)।

    Book 2 · Hadith 578 · #965 · Sahih, Sahih, Sahih
  578. 578

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাশাহহুদের বৈঠকে বসতাম তখন বলতাম, ‘‘বান্দাদের পূর্বে আল্লাহর প্রতি সালাম, তারপর অমুক ও অমুকের প্রতি সালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ‘‘আল্লাহর প্রতি সালাম বর্ষিত হোক’’ এরূপ বলো না। কেননা আল্লাহ নিজেই সালাম বা শান্তিদাতা। বরং তোমরা সালাতের তাশাহহুদের বৈঠকে বসে বলবে, ‘‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌সলাওয়াতু ওয়াত্-ত্বায়্যিবাতু। আসসালামু ‘আলাইকা আইউহান্ নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্‌সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস সালিহীন’’ (অর্থঃ আমাদের সব সালাম ও অভিবাদন, সালাত ও দু‘আ এবং পবিত্রতা মহান আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। কেননা তোমরা যখন এটা পাঠ করবে তখন তা আসমান ও যমীন অথবা আসমান ও যমীনের মাঝে আল্লাহর যত নেক বান্দা আছে সবার নিকটেই পৌছে যাবে। ‘‘আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহু’’- (অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রসূল)। এরপর তোমরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দু‘আ পাঠ করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 579 · #966 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (835) Sahih Muslim (402)
  579. 579

    । ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে তাশাহহুদের বৈঠকে আমরা কি পাঠ করবো প্রথমে তা জানতাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন। এরপর তিনি পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। সহীহ। শারীক (রহঃ) জামি‘ ইবনু শাদ্দাদের মাধ্যমে এবং আবূ ওয়াইল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কিছু কথা শিখিয়ে দিলেন, তবে তাশাহহুদ শিক্ষার মত করে নয়। তা হলোঃ ‘‘আল্লাহুম্মা বাইনা কুলূবিনা ওয়া আসলিহ্ যাতা বাইনিনা ওয়াহদিনা সুবুলাস্-সালামী ওয়া নাজ্জিনা মিনায্ যুলুমাতি ইলান্নূর। ওয়া জাননিবনাল ফাওয়াহিশা মা যাহারা মিনহা মা বাতানা ওয়া বারিক লানা ফী আসমাইনা ওয়া আবসারিনা ও ক্বালূবিনা ওয়া আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ওয়া তুব ‘আলাইনা ইন্নাকা আন্‌তাত্ তাওওয়াবুর রহীম। ওয়াজ্‘আলনা শাকিরীনা লিনি‘মাতিকা মুসনীনা বিহা ক্বাবিলীহা ওয়া আতিম্মাহা ‘আলাইনা’’।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 580 · #967 · Daif, Sahih, Sahih Muquf, Sahih
  580. 580

    । আল-কাসিম ইবনু মুখায়মিরাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলকামাহ (রহঃ) আমার হাত ধরে বলেন, একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) তার হাত ধরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহর হাত ধরে সালাতের তাশাহহুদ পাঠ শিখিয়েছেন। অতঃপর তিনি আ‘মাশ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত দু‘আর অনুরূপ দু‘আ শিক্ষা দেন। অতঃপর বললেন, যখন তুমি এ দু‘আ পড়বে অথবা পড়া শেষ করবে তখন তোমার সালাত শেষ হবে। এরপর তুমি উঠে যেতে চাইলে উঠে যাবে নতুবা বসে থাকতে চাইলে বসে থাকবে।[1] শায, এটুকু অতিরিক্ত যোগে : ‘‘যখন তুমি এ দু‘আ পড়বে....’’। সঠিক হচ্ছে এটি ইবনু মাসউদের নিজস্ব বক্তব্য।

    Book 2 · Hadith 581 · #968 · Shadh, Shadh, Isnaad Sahih
  581. 581

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাশাহহুদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেনঃ ‘‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্-সলাওয়াতু ওয়াত ত্বায়্যিবাতু। আসসালামূ ‘আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতাহু’’। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বলেন, ‘‘বারাকাতুহু’’ শব্দটি আমি নিজে সংযোজিত করেছি। ‘‘আস্‌সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বলেন, এখানে ‘‘ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু’’ কথাটি আমি যোগ করেছি। ‘‘ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহু’’।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 582 · #969 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  582. 582

    । হিত্তান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর-রাক্বাশী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) আমাদের সালাত পড়ালেন। সালাতের শেষ দিকে তিনি যখন বসলেন, তখন দলের একজন বললো, নেকী ও পবিত্রতা অর্জনের জন্যই সালাত। সালাত শেষে আবূ মূসা (রাঃ) লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে উপস্থিত লোকজন নীরব রইলো। তিনি পুনরায় বললেন, তোমাদের মধ্যকার কে এরূপ কথা বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখনও লোকেরা চুপ রইলো। হিত্তান বললেন, তিনি আমাকে বললেন, হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই একথাগুলো বলেছো। হিত্তান বললেন, না, আমি বলি নাই। অবশ্য আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, এজন্য আপনি আমাকে শাস্তি দিবেন। হিত্তান বললেন, এক ব্যক্তি বললো, কথাগুলো আমিই বলেছি এবং শুধু ভাল উদ্দেশেই বলেছি। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, সালাতের মধ্যে কি বলতে হয় তাকি তোমরা অবহিত নও? একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুত্ববাহ দিলেন। তাতে তিনি আমাদেরকে সালাতের পদ্ধতি ও সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে প্রথমে কাতারসমূহ ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের একজন ইমামতি করবে। ইমাম তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, ইমাম যখন ‘‘গাইরিল্ মাগদূূুুবি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’’ পড়লে তোমরা ‘‘আমীন’’ বলবে। তবেই আল্লাহ তা কবুল করবেন। ইমাম তাকবীর বলে রুকূ‘ করলে তোমরাও তাকবীর বলে রুকূ‘ করবে। কারণ ইমাম তোমাদের পূর্বে রুকূ‘তে যাবে এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ‘ হতে মাথা উঠাবে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা তার বিকল্প। ইমাম ‘‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’ বললে তোমরা তখন বলবে ‘‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল্ হামদ্’’। আল্লাহ তোমাদের একথা শুনবেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর নবীর যবানীতে বলেছেনঃ ‘‘সামি‘ আল্লাহু লিমান হামিদাহ্’’। অতঃপর ইমাম যখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে সিজদা্ করবে। ইমাম তোমাদের আগে তাকবীর বলবে এবং আগে সিজদা্ করবে। একথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা সেটার বিকল্প। তাশাহহুদের বৈঠকে তোমাদের সর্বপ্রথম পড়তে হবেঃ ‘‘আত্তাহিয়্যাতু তায়্যিবাতুস সাল্লাওয়াতু লিল্লাহি; আস্‌সালামু ‘আলাইকা আয়্যূহান্ নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল­াহি ও বারাকাতুহু। আস্সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহু’’। ইমাম আহমাদ (রহঃ) স্বীয় বর্ণনাতে ‘‘বারাকাতুহু’’ ও ‘‘আশহাদু’’ শব্দদ্বয় উল্লেখ করেননি। তিনি ‘‘আন্না মুহাম্মাদান’’ কথাটি উল্লেখ করেছেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 583 · #970 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (404)
  583. 583

    । হিত্তান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর-রাক্বাশী হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তার বর্ণনায় আরো রয়েছে, ইমাম যখন ক্বিরাআত পড়বে তখন তোমরা চুপ করে থাকবে। বর্ণনাকারী তাশাহহুদের ‘‘আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ এর পরে ‘‘ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু’’ কথাটি বৃদ্ধি করেছেন। সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘‘আনসিতু’’ (চুপ করে থাকবে) কথাটি সংরক্ষিত নয়। এ হাদীসে বর্ণনাকারী সুলায়মান আত্-তাইমী ছাড়া অন্য কেউ তা উল্লেখ করেননি।

    Book 2 · Hadith 584 · #971 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (404)
  584. 584

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুরআন শিক্ষার মত করেই তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যাতুল মুবারাকাতুস সলাওয়াতুত ত্বায়্যিবাতু লিল্লাহি। আসসালামু ‘আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস সলিহীন। ওয়া আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 585 · #972 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (403)
  585. 585

    । সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, সালাতের মধ্যভাগে (দ্বিতীয় রাক‘আতের তাশহহুদ বৈঠকে) অথবা সালাতের শেষ দিকে সালাম ফিরানোর পূর্বে তোমরা পাঠ করবেঃ ‘‘আত্তাহিয়্যাতুত্ ত্বায়্যিবাতু ওয়াস্-সলাওয়াতু ওয়াল মুল্কু লিল্লাহি’’। এরপর ডান দিকে সালাম ফিরাবে। অতঃপর ইমাম ও নিজেদের সালাম দিবে। দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সুলায়মান ইবনু মূসা কূফার অধিবাসী ছিলেন। তিনি দামেশক শহরে বসবাস করতেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, সুলায়মান ইবনু মূসার এ সহীফাহ প্রমাণ করে, আল-হাসান সামুরাহ (রহঃ) ইবনু জুনদুব (রাঃ) এর কাছে হাদীস শুনেছেন।

    Book 2 · Hadith 586 · #973 · Daif, Daif, Daif
  586. 586

    । কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বললাম অথবা লোকজন বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদেরকে আপনার উপর দরুদ ও সালাম পড়ার আদেশ করেছেন। সালাম পাঠের নিয়ম আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু আপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা বলো- ‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ’’- (অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষন করুন যেরূপ রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীমের উপর। আপনি ইবরাহীমকে যেমন বরকত দান করেছেন তেমনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন। নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও মহান)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 587 · #974 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6357) Sahih Muslim (406)
  587. 587

    । শু‘বাহ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছেঃ ‘‘সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা’’।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 588 · #975 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6357) Sahih Muslim (406)
  588. 588

    । ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল ‘আলা তার সানাদে ইবনু বিশর ও মিস্‘আরের মাধ্যমে হাকাম হতে হাদীসটি বর্ণনার পর দরূদ পাঠ সম্পর্কে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি যুবাইর ইবনু ‘আদী (রহঃ) ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ) হতে মিস্‘আরের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে শুধু ‘‘কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা’’ এর স্থলে ‘‘কামা সল্লাইতা ‘আলা ‘আলি ইবরাহীমা’’ কথাটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ মিস‘আর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

    Book 2 · Hadith 589 · #976 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6357) Sahih Muslim (406)
  589. 589

    । আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার উপর কিভাবে দরূদ পড়বো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা বলোঃ ‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি কামা সল্লাইতা ‘আলা ‘আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি কামা বারাকতা ‘আলা ‘আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তান-সন্ততির উপর রহমত বর্ষণ করুন যেমনি ইবরাহীমের অনুসারী ও বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। এবং আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তান-সন্ততির উপর বরকত নাযিল করুন যেমনি ইবরাহীমের অনুসারী ও বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও মহান)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 590 · #977 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3369) Sahih Muslim (407)
  590. 590

    । আবূ মাস‘উদ আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) এর মাজলিসে আমাদের নিকট আসলেন। তখন বাশীর ইবনু সা‘দ (রাঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পাঠের আদেশ করেছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়বো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আক্ষেপ করতে ছিলাম যে, তাঁকে প্রশ্নটি না করাই ভাল ছিল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা বলো ... অতঃপর বর্ণনাকারী কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। তবে হাদীসের শেষাংশে শুধু ‘‘ফিল্ আলামীনা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’ কথাটুকু বৃদ্ধি করেছেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 591 · #978 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (406)
  591. 591

    । ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহমাদ ইবনু ইউনুস, যুহাইর, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক, মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনুল হারিস এবং মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদের মাধ্যমে ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা বলোঃ ‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন নাবিই্যুল উম্মীয়ি ওয়া ‘আলা ‘আলি মুহাম্মাদিন।’’[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 592 · #979 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih
  592. 592

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ যদি আমাদের আহলি বাইতের উপর দরূদ পড়ার পুরো সওয়াব পেতে চায় সে যেন এভাবে বলেঃ ‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যি ওয়া আয্ওয়াজিহি উম্মাহাতিল মু‘মিনীনা ওয়া যুররিয়াতিহি ওয়া আহলি বাইতিহি কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’। (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রী উম্মাহাতিল মু‘মিনীন, তাঁর সন্তানাদি ও আহলি বাইতের উপর রহমত বর্ষণ করুন যেমনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।’’[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 593 · #980 · Daif, Daif, Daif, Daif
  593. 593

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ শেষ করবে তখন সে যেন আল্লাহর নিকট চারটি বস্তু হতে আশ্রয় প্রার্থনা করে। (তা হলোঃ) জাহান্নামের আযাব হতে, কবরের আযাব হতে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হতে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট হতে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 594 · #981 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (588)
  594. 594

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে তাশাহহুদের পর বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযুবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া আ‘উযুবিকা মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া আ‘উযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দাজ্জাল, ওয়া আ‘উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি’’। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি দাজ্জালের ফিতনাহ হতে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হতে।)[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 595 · #982 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  595. 595

    । মিহজান ইবনুল আদরা’ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন, এক ব্যক্তি সালাত শেষে তাশাহহুদ পড়ছে এবং সে এটাও পড়ছে যে, ‘‘হে আল্লাহ, হে একক ও অমুখাপেক্ষী আল্লাহ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি, তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।’’ মিহজান (রাঃ) বলেন, লোকটির এ দু‘আ শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তিনি একথা তিনবার বললেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 596 · #983 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  596. 596

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাশাহহুদ আস্তে পড়া সুন্নাত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 597 · #984 · Sahih, Sahih, Sahih
  597. 597

    । ‘আলী ইবনু ‘আবদুর রহমান আল-মু‘আবী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে সালাতের মধ্যে নুড়ি পাথর দিয়ে অনর্থক নাড়াচাড়া করতে দেখলেন। অতঃপর যখন তার সালাত শেষ হলো তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে যা করতেন তুমিও তাই করবে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কি করতেন? তিনি বললেন, সালাতরত অবস্থায় তিনি যখন বসতেন তখন তাঁর ডান হাতের তালু ডান উরুর উপর রাখতেন এবং সব আঙ্গুল বন্ধ করে রাখতেন আর বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের (শাহাদাত) অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন, আর বাম হাতের তালু বাম পায়ের উরুর উপর রাখতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 598 · #985 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (580)
  598. 598

    । ‘আমির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) তার পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে (তাশাহহুদ) বৈঠকে তাঁর বাম পা ডান উরু ও নলার নীচে রাখতেন এবং ডান পা বিছিয়ে দিতেন, বাম হাত বাম হাটুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন ও (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। বর্ণনাকারী ‘আফফান বলেন, ‘আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যিয়াদ আমাদেরকে শাহাদাত আঙুল দ্বারা ইশারা করে দেখিয়েছেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 599 · #986 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (579)
  599. 599

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দু‘আ পাঠকালে আঙুল দ্বারা ইশারা করতেন, অবশ্য আঙুল নাড়তেন না। দুর্বল। ইবনু জুরাইজ বলেন, ‘আমর ইবনু দীনারের বর্ণনায় একথাও আছে যে, ‘আমির তাকে জানান যে, তার পিতা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দু‘আর সময় আঙুল দ্বারা ইশারা করতে দেখেছেন এবং তখন তিনি তাঁর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 600 · #987 · Daif, Shadh, Daif, Daif
  600. 600

    । ‘আমির ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রহঃ) তার পিতার সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টি (শাহাদাত আঙুলের) ইশারাকে অতিক্রম করতো না। আর হাজ্জাজ বর্ণিত হাদীসটি অধিক পরিপূর্ণ।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 601 · #988 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  601. 601

    । মালিক ইবনু নুমাইর আল-খুযাঈ (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করে যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতে তাঁর ডান হাত ডান উরুর উপর রেখে শাহাদাত আঙুল অর্ধনমিত অবস্থায় উচিয়ে রাখতে দেখেছি। [1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 602 · #989 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  602. 602

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) এর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তি সালাতে হাতের উপর ঠেস দিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। ইবনু শাব্বুয়াহ এর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি সালাতে কাউকে হাতের উপর ঠেস দিতে নিষেধ করেছেন। ইবনু রাফি‘ এর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি কাউকে হাতের উপর ঠেস দিয়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ‘‘আর-রাফ্‘উ মিনাস্-সুজুদ’’ অনুচ্ছেদে। ইবনু ‘আবদুল মালিক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সালাতে উঠার সময় হাতের উপর ভর দিতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ : তবে শেষ অংশটুকু বাদে। কেননা তা মুনকার।

    Book 2 · Hadith 603 · #990 · Munkar, Munkar, Daif
  603. 603

    । ইসমাঈল ইবনু উমাইয়াহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহঃ) কে এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতে প্রবেশ করিয়ে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, এটা হলো অভিশপ্ত লোকদের সালাত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 604 · #991 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Isnaad Sahih
  604. 604

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে সালাতে বসা অবস্থায় তার বাম হাতের উপর ভর করে থাকতে দেখলেন। হারুন ইবনু যায়িদ বর্ণনা করেন, সে বাম পাশে পড়ে আছে। হাদীসের বাকী অংশ তারা উভয়ে একইরূপ বর্ণনা করেছেন। (তা হলো) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) লোকটিকে বললেন, এভাবে বসবে না। কারণ যাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে তারাই এভাবে বসে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 605 · #992 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  605. 605

    । আবূ ‘উবায়দাহ (রহঃ) তার পিতা (ইবনু মাস‘উদ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি সালাতের প্রথম দুই রাক‘আতে এরূপে বসতেন যেন গরম পাথরের উপর বসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তিনি দাঁড়ানো পর্যন্ত? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দাঁড়ানো পর্যন্ত।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 606 · #993 · Daif, Daif, Daif, Daif
  606. 606

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’’ বলে ডান দিকে এবং ‘‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’’ বলে বাম দিকে সালাম ফিরাতেন। এ সময় তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। সহীহ : মুসলিম সংক্ষেপে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, শু‘বাহ (রহঃ) আবূ ইসহাক্বের বর্ণনাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    Book 2 · Hadith 607 · #994 · Sahih, Sahih, Sahih
  607. 607

    । ‘আলকামাহ ইবনু ওয়াইল (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছি। তিনি ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় বলতেন ‘‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’’ এবং বাঁ দিকে সালাম ফিরানোর সময় বলতেন ‘‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’’।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 608 · #995 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  608. 608

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায়কালে আমাদের কেউ সালাম ফিরাতো এবং হাত দ্বারা তার ডানে ও বামে ইশারা করতো। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ তোমাদের কোন এক ব্যক্তির কি হলো যে, সে সালাম ফিরাতে এরূপে হাতের ইশারা করে, যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। এটাই তোমাদের প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট অথবা এটাই কি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট নয় যে, সে তার ডান ও বাম দিকের ভাইকে এভাবে সালাম বলবে। তিনি আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 609 · #996 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (431)
  609. 609

    । একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস মিস‘আর (রহঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কারো জন্য কি যথেষ্ট নয় অথবা তাদের কারো জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, সে উরুর উপর হাত রেখে তার ডান ও বাম দিকের ভাইদের সালাম বলবে?[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 610 · #997 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  610. 610

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। এ সময় লোকেরা হাত উত্তোলিত অবস্থায় ছিল। আ‘মাশের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘সালাতরত অবস্থায়’’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কি ব্যাপার! আমি তোমাদের দুষ্ট ঘোড়ার লেজের ন্যায় হাত উঠানো অবস্থায় দেখছি। তোমরা সালাতে ধীরস্থির থাকো।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 611 · #998 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  611. 611

    । সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করেছেন ইমামের সালামের জবাব দিতে, পরস্পরকে ভালোবাসতে এবং একে অন্যকে সালাম দিতে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 612 · #999 · Daif, Daif, Daif, Daif
  612. 612

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সমাপ্তি জানা যেতো তাকবীর দ্বারা।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 613 · #1000 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (482) Sahih Muslim (583)
  613. 613

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকেরা ফারয সালাত শেষে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতো। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এভাবে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা শুনে আমি বুঝতে পারতাম যে, লোকদের সালাত সমাপ্ত হয়েছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 614 · #1001 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (482) Sahih Muslim (583)
  614. 614

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম সংক্ষিপ্ত করাকে সুন্নাত বলেছেন। ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনুল মুবারক (রহঃ) আমাকে এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীরূপে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ উমাইর ঈসা ইবনু ইউনুস ইল-ফাখূরী আর-রামলী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল-ফিরয়াবী মাক্কাহ হতে প্রত্যাবর্তনের পর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করা ত্যাগ করেছেন এবং বলেছেন, ইমাম আহমাদ ইবনু হা্ম্বাল (রহঃ) তাকে এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসাবে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন।

    Book 2 · Hadith 615 · #1002 · Daif, Daif, Daif
  615. 615

    । ‘আলী ইবনু ত্বালক্ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ বায়ু নিঃসরণ করলে সে যেন উঠে গিয়ে অযু করে পুনরায় সালাত আদায় করে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 616 · #1003 · Daif, Daif, Hasan Lighairihi, Hasan
  616. 616

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি ফারয সালাত আদায়ের পর সামনে এগিয়ে বা পিছনে সরে অথবা ডানে বা বাম সরে নফল সালাত আদায় করতে অপারগ? হাম্মাদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে, ফারয সালাত আদায়ের পর।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 617 · #1004 · Sahih, Sahih, Daif
  617. 617

    । আল-আযরাক্ব ইবনু ক্বায়স (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের ইমাম আবূ রিমসা (রাঃ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেন, এ সালাত বা এরূপ সালাত আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আদায় করেছি। তিনি আরো বললেন, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) সামনের কাতারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডান পাশে দাঁড়াতেন। উক্ত সালাতে এমন এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলো যিনি প্রথম তাকবীরেই সালাতে শামিল হতে পেরেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে তাঁর ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরালেন। আমরা তাঁর গলার শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। যেমন আবূ রিমসা উঠে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ তিনি নিজের কথাই বললেন। এ সময় প্রথম তাকবীরসহ সালাত পাওয়া ব্যক্তি দু’ রাকআত নফল সালাত আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ালে ‘উমার (রাঃ) তার দিকে ছুটে গিয়ে তার দুই কাঁধ ধরে সজোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, বসো। কেননা আহলে কিতাবগণ এ কারণে ধ্বংস হয়েছে যে, তারা ফারয ও নফল সালাতের মাঝে কোন ব্যবধান করতো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ তোমাকে দিয়ে সঠিক কাজ করিয়েছেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কোন বর্ণনায় আবূ রিমসা (রাঃ) এর স্থলে আবূ উমাইয়াহর (রাঃ) কথা রয়েছে।

    Book 2 · Hadith 618 · #1005 · Daif, Daif, Daif
  618. 618

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে যুহর বা ‘আসর সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী (আবূ হুরায়রাহ) বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদের সম্মুখ দিকে রাখা কাষ্ঠখন্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে তার উপরে এক হাতকে অপর হাতের উপর রাখলেন। এ সময় তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ ছিল। লোকজন মাসজিদ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে যেতে বলছিল, ‘সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে, সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে যুল-ইয়াদাইন (দু’ হাতবিশিষ্ট) বলে ডাকতেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুল করেছেন, না সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ভুলও করি নাই এবং সালাতও হ্রাস করা হয় নাই। যুল-ইয়াদাইন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আপনি ভুল করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ যুল-ইয়াদাইন কি সত্য বলছে? জবাবে সকলেই ইশারায় হ্যাঁ বললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জায়গায় এগিয়ে গেলেন এবং অবশিষ্ট দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন, এরপর তাকবীর বলে স্বাভাবিক সাজদার মত সিজদায় করলেন অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। এরপর তাকবীর বলে মাথা উঠালেন, তারপর আবার তাকবীর বলে স্বাভাবিক সাজদার মত অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন, অতঃপর তাকবীর বলে মাথা উঠালেন।[1] বর্ণনাকারী আইয়ূব বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সীরীনকে সাহু সিজদা্ এবং সালাম ফিরানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহর কাছে এ বিষয়ে শুনেছি কিনা স্মরণ নেই। তবে আমাকে জানানো হয়েছে যে, ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহু সাজদার পরও সালাম ফিরিয়েছিলেন। সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 619 · #1006 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (573)
  619. 619

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ, তিনি মালিক, তিনি আইয়্যুব হতে, তিনি মুহাম্মাদ হতে পূর্বোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে বর্ণনাকারী হাম্মাদের সানাদে বর্ণিত হাদীসটিই পূর্ণাঙ্গ। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। এ বর্ণনায় ‘আমাদেরকে নিয়ে’ এবং ‘লোকদের ইশারা’ শব্দদ্বয় উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, জবাবে লোকেরা শুধু হ্যাঁ বলেছিলো। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠালেন। এতে ‘‘এরপর তাকবীর বলেন... অতঃপর মাথা উঠালেন’’ একথাগুলো উল্লেখ নেই। এভাবেই হাদীস শেষ হয়েছে। হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ব্যতীত অন্য কেউ ‘‘ফা আওমায়ূ’’ (লোকদের ইশারা) শব্দটি উল্লেখ করেননি।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যারা এ হাদীস বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই ‘ফাক্ববারা’ (তিনি তাকবীর দিলেন) এবং রাজায়া (প্রত্যাবর্তন করলেন) শব্দদ্বয় উল্লেখ করেননি। সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 620 · #1007 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (714)
  620. 620

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর হাম্মাদের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস ‘‘নুববি‘তু আন্না ইমরানাব্‌না হুসাইন ক্বালা সুম্মা সাল্লামা’’ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। বর্ণনাকারী সালামাহ বলেন, আমি তাকে (মুহাম্মাদ ইবনু সীরীরকে) জিজ্ঞেস করলাম, তাশাহহুদের বিষয়? তিনি বললেন, তাশহহুদ পড়া সম্পর্কে আমি তার নিকট থেকে কিছু শুনিনি। অথচ তাশাহহুদ পাঠ করা আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয়। তিনি ‘‘কানা ইউসাম্মীহি যাল্-ইয়াদাইন’’, ‘‘ফাআওমায়ু’’ এবং ‘‘গাদাবা’’ এগুলো উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসটিই পূর্ণাঙ্গ।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 621 · #1008 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  621. 621

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে যুল্-ইয়াদাইন সম্পর্কিত হাদীসে রয়েছেঃ তিনি তাকবীর বলে সিজদা্ করলেন। আর হিশাম ইবনু হাসসান বলেছেন, তিনি তাকবীর বললেন, অতঃপর আবারো তাকবীর বললেন এবং সিজদায় করলেন।[1] শায। ইমাম ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাবীব ইবনুল শাহীদ, হুমাইদ, ইউনুস এবং ‘আসিম আল-আহ্ওয়াল-মুহাম্মদ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের কেউই হাম্মাদ ইবনু যায়িদ হতে হিশাম সূত্রে বর্ণিত হাদীসের এ কথাগুলো উল্লেখ করেননি- (অর্থাৎ) ‘‘তিনি তাকবরি বললেন, অতঃপর আবারো তাকবীর বললেন এবং সিজদা্ করলেন।’’ হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ও আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ এ হাদীস হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন। তারা দু‘জন হিশাম হতে ‘পরপর দুইবার তাকবীর’ দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি, যা হাম্মাদ উল্লেখ করেছেন।

    Book 2 · Hadith 622 · #1009 · Shadh, Shadh, Sahih, Sahih Bukhari (482)
  622. 622

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, মহান আল্লাহ তাঁকে (দু’ রাক‘আত সালাত ভুল বশতঃ ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি) নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু‘টি সাহু সিজদা্ করেননি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 623 · #1010 · Daif, Daif, Daif, Daif
  623. 623

    । ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তাকে আবূ বাকর ইবনু সুলায়মান ইবনু আবূ হাসমাহ অবহিত করেছেন যে, তার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, সালাতে সন্দেহ হলে যে দু‘টি সিজদা্ দিতে হয় সে বিষয়ে লোকদের জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি। ইবনু শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব এ হাদীসটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবূ হুরাইরাহ হতে। তিনি আরো বলেন, আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান, আবূ বাকর ইবনু হারিস ইবনু হিশাম এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহও আমার কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ ঘটনাটি ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর এবং ‘ইমরান ইবনু আবূ আনাস (রহঃ) আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান হতে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে ‘দু’টি সিজদার কথা উল্লেখ নেই। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যুবাইদী-যুহরী-আবূ বাকর ইবনু সুলায়মান ইবনু আবূ হাসমাহ হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাতে রয়েছে, তিনি দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করেননি। শায।

    Book 2 · Hadith 624 · #1011 · Daif, Sahih, Sahih
  624. 624

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত (ভুল বশতঃ) দু’ রাক‘আত আদায় করেই সালাম ফিরালেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাত কি সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি আরো দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে দু‘টি সিজদা্ করলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 625 · #1012 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (715)
  625. 625

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (চার রাক‘আত বিশিষ্ট) ফারয সালাত (ভুল বশতঃ) দু’ রাক‘আত আদায় করেন। সালাত শেষে এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না আপনি ভুল করেছেন? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এর কোনটাই করি নাই। লোকজন বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তা করেছেন। তখন তিনি আরো দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। শায। দাউদ ইবনুল হুসাইন আহমাদের মুক্তদাস আবূ সুফিয়ানের মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে এ ঘটনা সম্পর্কিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর সালাম ফিরিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা অবস্থায়ই দু‘টি সাহু সিজদা্ করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 626 · #1013 · Shadh, Shadh, Shadh, Isnaad Sahih
  626. 626

    । দামদাম ইবনু জাওস আল-হাফফানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) এ হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর দু‘টি সাহু সিজদা্ করেছেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 627 · #1014 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  627. 627

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে (চার রাক‘আত বিশিষ্ট ফারয) সালাত আদায় করতে গিয়ে (ভুল বশতঃ) দু’ রাক‘আত আদায় করেই সালাম ফিরালেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে ইবনু সীরীন বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এতে রয়েছেঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরালেন এবং দুটি সাহু সিজদা্ করলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 628 · #1015 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  628. 628

    । ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের তিন রাক‘আত সালাত আদায় করেই সালাম ফিরালেন এবং হুজরায় প্রবেশ করলেন। তখন লম্বা হাতওয়ালা বিশিষ্ট খিরবাক্ব নামক এক ব্যক্তি উঠে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় চাদর টানতে টানতে বেরিয়ে এসে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কি সত্য বলেছে? লোকজন বললো, হাঁ, তখন তিনি অবশিষ্ট এক রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর দু‘টি সাহু সিজদা্ দিয়ে পরে সালাম ফিরালেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 629 · #1016 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (574)
  629. 629

    । ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ তা আবার কিভাবে! সকলেই বললো, আপনি তো পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাম ফিরানোর পর দু‘টি সাহু সিজদা্ করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 630 · #1017 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (404) Sahih Muslim (572)
  630. 630

    । ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। ইবরাহীম বলেন, এ সালাতে তিনি বেশী করেছিলেন না কম করেছিলেন তা আমি অবহিত নই।। তিনি সালাম ফিরালে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সালাতে নতুন কিছু হয়েছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা আবার কেমন করে? তারা বললো, আপনি তো সালাতে এরূপ এরূপ করেছেন (কম অথবা বেশী সালাত আদায় করেছেন)। এ কথা শুনে তিনি পা ঘুরিয়ে কিবলামুখী হয়ে দু‘টি সাহু সিজদা্ করে সালাম ফিরালেন। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ঘুরে বললেন, সালাতের ব্যাপারে নতুন কিছু ঘটে থাকলে আমি তোমাদেরকে তা অবহিত করতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মতই মানুষ। তোমাদের মতো আমিও ভুল করে থাকি। কাজেই আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। তিনি আরো বললেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে সন্দিহান হলে সে যেন সঠিক দিক বের করতে চিন্তা-ভাবনা করে, অতঃপর তার ভিত্তিতে সালাত সম্পন্ন করে এবং সালাম ফিরায় অতঃপর দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 631 · #1018 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (401) Sahih Muslim (572)
  631. 631

    । ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ (সালাতের মধ্যে) তোমাদের কেউ (কিছু) ভুলে গেলে যেন দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করে নেয়। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুরে দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হুসাইন বর্ণিত হাদীসটি আ‘মাশের হাদীসের অনুরূপ।

    Book 2 · Hadith 632 · #1019 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (572)
  632. 632

    । ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে লোকেরা এ নিয়ে চুপি চুপি আলাপ করতে থাকলো। তা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের কি হয়েছে? তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, না। তারা বললো, আপনি তো পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনি ঘুরে গিয়ে দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করে সালাম ফিরালেন, অতঃপর বললেনঃ আমি তো একজন মানুষ। তোমাদের মত আমিও ভুল করে থাকি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 633 · #1020 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (572)
  633. 633

    । মু‘আবিয়াহ ইবনু খাদীজ (রহঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে সালাতের এক রাক‘আত বাকি থাকতেই সালাম ফিরালেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট গিয়ে বললো, আপনি এক রাক‘আত সালাত আদায় করতে ভুলে গেছেন। কাজেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে মসজিদে প্রবেশ করে বিলাল (রাঃ)-কে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিতে বলেন। বিলাল (রাঃ) ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলে তিনি লোকদেরকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করলেন।[1] মু‘আবিয়াহ ইবনু খাদীজ বলেন, আমি এ ঘটনা লোকজনের নিকট বর্ণনা করলে তারা আমাকে বললো, আপনি কি লোকটিকে চিনেন? আমি বললাম, না, তবে তাকে দেখলে চিনতে পারবো। পরে সেই লোকটি আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আমি বললাম, ইনিই সেই লোক। সকলেই তাকে দেখে বললো, ইনি হচ্ছেন তালহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ)। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 634 · #1021 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  634. 634

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে সন্দিহান হলে সে যেন সন্দেহ পরিহার করে নিশ্চিত প্রত্যয়ের উপর ভিত্তি করে স্বীয় সালাত পূর্ণ করে এবং দু‘টি সাহু সিজদা্ আদায় করে। তার সালাত পূর্ণ হয়ে থাকলে অতিরিক্ত এক রাক‘আত ও দু’টি সিজদা্ নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর সালাত কম হয়ে থাকলে উক্ত এক রাক‘আত সহ তা পূর্ণ হবে এবং দু’টি সিজদা্ শয়তানের জন্য অপমানকর হবে।[1] হাসান সহীহ : অনুরূপ মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 635 · #1022 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (571)
  635. 635

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলের দু‘টি সাজদার নাম করণ করেছেন ‘‘আল্-মুরগিমাতাইন’’ (শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর দু‘টি সিজদা্ )।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 636 · #1023 · Sahih, Sahih, Hasan
  636. 636

    । ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের মধ্যে তোমাদের কেউ যদি সালাতে এরূপ সন্দেহে পতিত হয় যে, সে তিন রাক‘আত না চার রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারছে না তাহলে সে যেন আরো এক রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয় এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে বসা অবস্থায় দু‘টি সিজদা্ আদায় করে। আদায়কৃত অতিরিক্ত এক রাক‘আত যদি পঞ্চম রাক‘আত হয়ে থাকে তবে এ দু’টি সিজদা্ মিলে তা দু’ রাক‘আত নফল সালাতে পরিণত হবে। আর যদি তা চতুর্থ রাক‘আত হয়ে থাকে তবে এ সিজদা্ দু’টি শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 637 · #1024 · Sahih, Sahih, Sahih
  637. 637

    । যায়িদ ইবনু আসলাম (রহঃ) ইমাম মালিক (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে সন্দিহান হয় এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, সে তিন রাক‘আত আদায় করেছে, তখন সে যেন (চতুর্থ রাক‘আতের জন্য) দাঁড়িয়ে সিজদাসহ আরো এক রাক‘আত পূর্ণ করে। সে তাশাহহুদে বসে তাশাহহুদ পাঠ শেষে দু‘টি সিজদা্ করবে, অতঃপর সালাম ফিরাবে। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি ইমাম মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদীস হুবহু বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক, হাফস ইবনু মাইসারাহ, দাউদ ইবনু ক্বায়িস ও হিশাম ইবনু সা‘দ (রহঃ) হতে ইবনু ওয়াহাব উপরোক্ত হাদীস হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হিশাম (রহঃ) হাদীসের সানাদকে আবূ সাঈদ আল-খুদরীর (রাঃ) সাথে যুক্ত করেছেন।

    Book 2 · Hadith 638 · #1025 · Daif, Sahih, Sahih
  638. 638

    । আবূ ‘উবায়দাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায়কালে তুমি তিন রাক‘আত আদায় করেছো নাকি চার রাক‘আত- এরূপ সন্দেহ হলে তোমার দৃঢ় ধারণা যদি চার রাক‘আতে হয়, তাহলে তুমি তাশাহহুদ পাঠ করে বসা অবস্থায় সালাম ফিরানোর পূর্বে দু‘টি সাহু সিজদা্ করবে, তারপর আবার তাশাহহুদ পাঠ করবে, অতঃপর সালাম ফিরাবে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল ওয়াহিদ এ হাদীস খুসাইফ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মরফূ‘ভাবে নয়। ‘আবদুল ওয়াহিদ সূত্রে বর্ণনাকারীরাও একে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণনা করেননি, যদিও তারা হাদীসের মাতানে মতভেদ করেছেন।

    Book 2 · Hadith 639 · #1026 · Daif, Daif, Daif
  639. 639

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতরত অবস্থায় সালাত বেশী আদায় করেছে নাকি কম- এ নিয়ে সন্দিহান হলে সে বসা অবস্থায় দুটি সিজদা্ করবে। অতঃপর যদি তার নিকট শয়তান এসে বলে, (হে মুসল্লী) তোমার তো অযু নষ্ট হয়ে গেছে, তখন সে যেন বলে, তুই মিথ্যা বলেছিস। অবশ্য নাকে (বায়ু নির্গমনের) দুর্গন্ধ পেলে অথবা কানে শব্দ শুনতে পেলে তা স্বতন্ত্র কথা।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 640 · #1027 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  640. 640

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন শয়তান তার কাছে এসে তাতে ধোঁকা দিতে থাকে। এমনকি সে কয় রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না। কাজেই তোমাদের কারো এরূপ অবস্থা হলে সে যেন বসা অবস্থায় দু‘টি সিজদা্ আদায় করে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 641 · #1028 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1232) Sahih Muslim (389 After 569)
  641. 641

    । মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম (রহঃ) তার সানাদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে এও রয়েছেঃ সে সালাম ফিরানোর পূর্বে বসা অবস্থায় (দু‘টি সাহু সিজদা) করবে।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 642 · #1029 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  642. 642

    । মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম আয-যুহরী (রহঃ) উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সে যেন সালাম ফিরানোর আগে দু‘টি সিজদা্ আদায় করে, অতঃপর সালাম ফিরায়।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 643 · #1030 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Hasan
  643. 643

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতরত অবস্থায় কারো সন্দেহ হলে সে যেন সালাম ফিরানোর পর দু‘টি সিজদা্ করে নেয়।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 644 · #1031 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  644. 644

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি দু’ রাক‘আত আদায় করে (তাশাহহুদের জন্য) না বসেই দাঁড়িয়ে গেলেন। লোকেরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেল। সালাত শেষে আমরা যখন সালামের অপেক্ষায় ছিলাম তখন তিনি তাকবীর বলে সালামের পূর্বে বসা অবস্থায় দু‘টি সিজদা্ করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 645 · #1032 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1224) Sahih Muslim (570)
  645. 645

    । আয-যুহরী (রহঃ) তার সানাদে হাদীসটি হুবহু বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী শু‘আয়িব এটাও বর্ণনা করেন যে, আমাদের মধ্যকার কেউ কেউ (ভুল বশতঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় তাশাহহুদ পাঠ করেছে। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-ও দু’ রাক‘আত আদায় করে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং অনুরূপভাবে সালামের পূর্বে দু’টি সিজদা্ করেছিলেন আর এটাই আয-যুহরীর অভিমত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 646 · #1033 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1224) Sahih Muslim (570)
  646. 646

    । মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’ রাক‘আতের পরে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পূর্বেই তার স্মরণ হলে তিনি বসে যাবেন; কিন্তু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলে তিনি বসবেন না, বরং সাহু সিজদা্ আদায় করবেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমার কিতাবে জাবির আল-জু‘ফা সূত্রে বর্ণিত এ হাদীস ছাড়া অন্য কোন হাদীস নেই।

    Book 2 · Hadith 647 · #1034 · Sahih, Sahih, Hasan
  647. 647

    । যিয়াদ ইবনু ‘ইলাক্বাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি দ্বিতীয় রাক‘আতের পর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমরা ‘সুবহানাল্লাহ’ বললাম, তখন তিনিও ‘সুবহানাল্লাহ’ বললেন এবং ঐভাবেই সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর ভুলের জন্য দু‘টি সিজদা্ করলেন। সালাত শেষে তিনি আমাদের দিকে ঘুরে বললেন, আমি আমার মত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেও করতে দেখেছি।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেছেন, ইবনু আবূ লায়লাহ শা‘বীর হতে মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) সূত্রে মরফূ‘ হিসেবে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আবূ ‘উমাইস (‘উতবাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ) সাবিত ইবনু ‘আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন.... যিয়াদ ইবনু ‘ইলাক্বাহর হাদীসের অনুরূপ ইমাম আবূ দাঊদ (রহ) বর্ণনা করেছেন, আবূ ‘উমাইস (‘উতবাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ) হলেন আল-মাসঊদীর ভাই। মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ যেরূপ করেছেন সা‘দ ইবনু আবূ সুফয়ান ‘ইমরান ইবনু হুসাইন, দাহহাক ইবনু ক্বায়িস এবং মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফয়ান (রাঃ)-ও অনুরূপ করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এবং ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) এ ফাতাওয়াহ দিয়েছেন। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, যারা সালাতে দু’ রাক‘আতের পর না বসে (ভুল বশতঃ) দাঁড়িয়ে যায় এবং সালাম ফিরানোর পর সিজদা্ আদায় করে এটা তাদের জন্য। সা‘দ এর খবরঃ সহীহ। ‘ইমরান ইবনু হুসাইনের খবরঃ বিশ্বস্ত রিজাল। দাহহাক এর খবরঃ আমি পাইনি। মু‘আবিয়ার খবরঃ দুর্বল। ইবনু ‘আব্বাসের ফাতাওয়াহঃ হাসান। আর ‘উমারের ফাতাওয়াহঃ দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 648 · #1035 · Daif, Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  648. 648

    । সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের যেকোন ভুলের জন্য সালাম ফিরানোর পর দু‘টি সিজদা্ করতে হয়।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 649 · #1036 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  649. 649

    । ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায়কালে ভুল করেন। ফলে তিনি দু‘টি সাহু সিজদা্ করেন। অতঃপর তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরান।[1] শায।

    Book 2 · Hadith 650 · #1037 · Daif, Shadh, Daif, Isnaad Sahih
  650. 650

    । উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফিরানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। লোকদের ধারণা, মহিলারা যেন পুরুষদের আগে চলে যেতে পারে সেজন্য তিনি এরূপ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী, কিন্তু তার বক্তব্যঃ ‘‘লোকদের ধারণা....’’ এটি মুদরাজ, যুহরীর উক্তি।

    Book 2 · Hadith 651 · #1038 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (837)
  651. 651

    । ক্বাবীসাহ ইবনু হুলব (রহঃ) নামক তাঈ গোত্রের এক ব্যক্তি হতে তার পিতা হুলব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (হুলব) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে যে কোন পাশ দিয়ে ঘুরে বসতেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 652 · #1039 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  652. 652

    । ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যেন তার সালাতের কোন অংশ শয়তানের জন্য না রেখে দেয়। অর্থাৎ সালাত শেষে শুধু ডান দিক থেকেই ঘুরে না বসে (বা প্রস্থান না করে)। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অধিকাংশ সময় বাম পাশ থেকে ঘুরতে দেখেছি। ‘উমারাহ (রহঃ) বলেন, আমি পরবর্তীতে মাদীনায় গিয়ে দেখেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকাংশ ঘর বাম দিকে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। তবে ‘উমারাহর এ কথা বাদেঃ আমি পরবতীতে মাদীনাতে আসি।

    Book 2 · Hadith 653 · #1040 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (852) Sahih Muslim (707)
  653. 653

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের সালাতের কিছু সালাত নিজ বাড়ীতে আদায় করো এবং বাড়ীগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 654 · #1041 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (432) Sahih Muslim (777)
  654. 654

    । যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির ফারয সালাত ছাড়া অন্যান্য সালাত আমার এ মসজিদে আদায়ের চাইতে তার নিজ ঘরে আদায় করা অধিক উত্তম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 655 · #1042 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6113) Sahih Muslim (781)
  655. 655

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তুমি যেখানেই অবস্থান করো না কেন তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ঘুরিয়ে নাও। আর তোমরা যেখানেই থাকো তোমাদের মুখমন্ডলকে মসজিদুল হারামের দিকে ঘুরিয়ে নাও’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১৪৪), এমন সময় এক ব্যক্তি বনী সালামাহ গোত্রের এলাকা দিয়ে অতিক্রমকালে দেখতে পেলো যে, তাঁরা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ফজরের সালাতে রুকু‘ অবস্থায় আছেন। তখন লোকটি বলে উঠলো, জেনে রাখ, ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হকে এখন কা‘বার দিকে ফিরানো হয়েছে। একথা সে দু‘বার বললো। বর্ণনাকারী বলেন, এ ঘোষণা শুনে তাঁরা রুকূ‘ অবস্থায়ই কা‘বার দিকে মুখ ফিরান।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 656 · #1043 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (527)
  656. 656

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমু‘আহর দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ)-কে এদিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিলো। এদিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিলো। এদিনই তাঁর তওবা কবুল হয়েছিলো। এদিনই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন এবং এদিনই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে। এদিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, সালাতরত অবস্থায় কোন মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোন অভাব পূরণের জন্য দু‘আ করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কা‘ব বললেন, এ সময়টি প্রতি এক বছরে একটি জুমু‘আহর দিনে থাকে। আমি (আবূ হুরাইরাহ) বললাম, না, বরং প্রতি জামু‘আহর দিনেই থাকে। অতঃপর কা‘ব (এর প্রমাণে) তাওরাত পাঠ করে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কা‘ব (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্ক জানি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমু‘আহর দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবূ হুরাইরাহ) বললাম, জুমু‘আহর দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘যে কোন মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় ঐ সময়টি পাবে...।’’ কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো সালাত আদায় করা যায় না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি, যে ব্যক্তি সালাতের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সালাতরত বলে গণ্য হবে। আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তা এরূপই।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 657 · #1044 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  657. 657

    । আওস ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমু‘আহর দিন। এদিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিলো, এদিনই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিলো, এদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, লোকজন প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রসূল! কি করে আমাদের দরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে? আপনি তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। বর্ণনাকারী আওস ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, লোকেরা বুঝাতে চাচ্ছিল আপনার শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে মিশে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 658 · #1045 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif
  658. 658

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমু‘আহর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহুর্ত রয়েছে যদি কোন মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। এ মুহুর্তটি তোমরা ‘আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 659 · #1046 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  659. 659

    । আবূ বুরদা ইবনু আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি আপনার পিতাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জুমু‘আহর দিনের (দু‘আ কবুলের) সেই বিশেষ মুহুর্তটি সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি বললাম, হাঁ, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ ঐ বিশেষ মুহুর্তটি হলো ইমামের মিম্বরের উপর বসার সময় থেকে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 660 · #1047 · Daif, Daif, Sahih Muslim (853)
  660. 660

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আহর সালাত আদায়ের জন্য উত্তমরূপে অযু করে (মসজিদে) উপস্থিত হয়, অতঃপর চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুত্ববাহ শুনে, তার (ঐ) জুমু‘আহ হতে (পরবর্তী) জুমু‘আহ পর্যন্ত বরং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি পাথর কুচি অপসারণ বা নাড়াচাড়া করলো সে অনর্থক কাজ করলো।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 661 · #1048 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (758)
  661. 661

    । ‘আত্বা আল-খুরাসানী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার স্ত্রী উম্মু ‘উসমানের মুক্তদাস হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, একদা আমি ‘আলী (রাঃ)-কে কুফার মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি- জুমু‘আহর দিন এলে সকালবেলা শয়তানেরা তাদের ঢাল নিয়ে বাজারে ঘুরে বেড়ায় এবং মানুষকে অনর্থক কাজে আটকে রেখে জুমু‘আহয় যেতে বিলম্ব করায়। আর ফিরিশতারাও সকাল সকালবেলা মসজিদের দরজায় এসে বসে থাকেন এবং ইমামের খুত্ববাহ আরম্ভ না করা পর্যন্ত লিখতে থাকে। অমুক ব্যক্তি প্রথম ঘন্টায় এসেছে, অমুক ব্যক্তি দ্বিতীয় ঘন্টায় এসেছে। কেউ যদি এমন স্থানে বসে যেখান থেকে খুত্ববাহ শুনতে পায় এবং ইমামকেও দেখতে পায়, এমতাবস্থায় সে কোন অনর্থক কাজ না করে চুপ থেকে (খুত্ববাহ শুনলে) সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। আর যদি সে যদি দুূরে অবস্থান করে এবং এমন জায়গায় বসে যেখান থেকে খুত্ববাহ শুনতে পায় না, কিন্তু নীরব থাকে ও অনর্থক কিছু না করে, তাহলে সে এক গুণ সওয়াব লাভ করবে। আর যদি সে এমন স্থানে বসে যেখান থেকে খুত্ববাহ শুনতে পায় এবং ইমামকেও দেখতে পায় কিন্তু সে চুপ না থাকে না এবং অনর্থক কাজ করে তাহলে তার গুনাহ হবে। আর যে ব্যক্তি জুমু‘আহর দিন তার সাথীকে বলে, চুপ করো, সেও অনর্থক কাজ করলো। যে ব্যক্তি অনর্থক কাজে লিপ্ত হয়, সে জুমু‘আহর কোন সওয়াব পায় না। অতঃপর সবশেষে ‘আলী (রাঃ) বলেন, একথাগুলো আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 662 · #1049 · Daif, Daif, Daif, Daif
  662. 662

    । আবুল জা‘দ আদ-দামরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (বিনা কারণে) অলসতা করে পরপর তিনটি জুমু‘আহ ত্যাগ করে মহান আল্লাহ তার অন্তরে সীলমোহর মেরে দেন।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 663 · #1050 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  663. 663

    । সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি কোনরূপ ওজর ছাড়াই জুমু‘আহর সালাত বর্জন করে সে যেন এক দীনার সাদাকা করে। এতে সক্ষম না হলে যেন অর্ধ দীনার সাদাকা করে।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 664 · #1051 · Daif, Daif, Daif
  664. 664

    । কুদামাহ ইবনু ওয়াবরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির বিনা কারণে জুমু‘আহ কাযা হলে সে যেন এক দিরহাম অথবা অর্ধ দিরহাম অথবা এক সা‘ অথবা অর্ধ সা‘ গম সাদাকা করে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু বাশীর হতেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে ‘এক মুদ্দ বা অর্ধ মুদ্দ’ উল্লেখ রয়েছে।

    Book 2 · Hadith 665 · #1052 · Daif, Daif, Daif, Daif
  665. 665

    । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন জুমু‘আহর সালাতের জন্য নিজ নিজ বাড়ী থেকে এবং মদীনার আওয়ালী (শহরতলী) থেকে দলে দলে আসতো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 666 · #1053 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (902) Sahih Muslim (847)
  666. 666

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা জুমু‘আহর আযান শুনতে পাবে তাদের উপর জুমু‘আহর সালাত আদায় করা ফার্য।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, একদল বর্ণনাকারী এ হাদীস সুফয়ান (রহঃ) সূত্রে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) এর হাদীস হিসেবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসেবে নয়। শুধু ক্বাবীসাহ (রহঃ) এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 667 · #1054 · Daif, Daif, Daif
  667. 667

    । আবূ মালীহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। হুনাইনের যুদ্ধের দিনটি ছিলো বৃষ্টির দিন। ঐদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘোষণাকারীকে এ মর্মে ঘোষণা করতে আদেশ দেন যে, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ বাহনে বা শিবিরে সালাত আদায় করে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 668 · #1055 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  668. 668

    । আবূ মালীহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। সেই (হুনাইনের) দিনটি ছিলো জুমু‘আহর দিন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 669 · #1056 · Sahih, Sahih, Sahih
  669. 669

    । আবূ মালীহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি হুদায়বিয়ার সময় জুমু‘আহর দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসেন। সেদিন সামান্য বৃষ্টি হয়েছিলো যাতে জুতার তলাও ভিজে নাই। এ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 670 · #1057 · Sahih, Sahih, Sahih
  670. 670

    । নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা (শীতের রাতে) ইবনু ‘উমার দাজনান নামক স্থানে অবস্থানকালে এক ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে আদেশ করেন যে, প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করে নেয়। সহীহ। আইয়ূব (রহঃ) বলেন, নাফি‘ হতে ইবনু ‘উমার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি অথবা শীতের রাতে নিজ নিজ অবস্থানে সালাত আদায়ের জন্য ঘোষককে ঘোষণা করতে নির্দেশ দিতেন।[1] এটি কে মারফু করলো তা আমি পাইনি।

    Book 2 · Hadith 671 · #1058 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  671. 671

    । নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) দাজনান নামক জায়গায় সালাতের জন্য আযান দিলেন, অতঃপর ঘোষণা করলেন, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও। নাফি‘ (রহঃ) বলেন, অতঃপর ইবনু ‘উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেন যে, সফরে, বৃষ্টি কিংবা শীতের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণাকারীকে সালাতের জন্য ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর সে ঘোষণা করতোঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রহঃ) আইয়ূব ও ‘উবায়দুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাতে বলেছেন, সফরে, প্রচন্ড শীত বা বৃষ্টির রাতে। এটি কে মারফু করলো তা আমি পাইনি।

    Book 2 · Hadith 672 · #1059 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  672. 672

    । নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ইবনু ‘উমার (রাঃ) প্রচন্ড শীত ও ঝড়ো হাওয়ার রাতে দাজনান নামক স্থানে সালাতের জন্য আযান দেন এবং আযান শেষে ঘোষণা করেন, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও। অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালীন প্রচন্ড শীত কিংবা বৃষ্টির রাতে মুয়াযযিনকে ঘোষণা করতে আদেশ দিতেনঃ তোমরা সকলেই নিজ নিজ স্থানে সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 673 · #1060 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (697)
  673. 673

    । নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ঝড়ো হাওয়া ও শীতের রাতে সালাতের জন্য আযান দিলেন এবং বললেন, সকলেই নিজ নিজ স্থানে সালাত আদায় করো। অতঃপর বললেন, শীত কিংবা বৃষ্টির রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযযিনকে ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 674 · #1061 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (666) Sahih Muslim (697)
  674. 674

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মাদীনাতে বৃষ্টির রাতে ও শীতের ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন এরূপ ঘোষণা করেন।[1] মুনকার। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ আল-আনসারী এ হাদীসটি কাসিম হতে ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে মারফূভাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে সফরের কথা উল্লেখ আছে। সহীহ।

    Book 2 · Hadith 675 · #1062 · Munkar, Munkar, Daif
  675. 675

    । জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। ঐ সময় বৃষ্টি হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কারোর ইচ্ছা হলে নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করতে পারে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 676 · #1063 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (698)
  676. 676

    । মুহাম্মাদ ইবনু সীরীনের চাচাতো ভাই ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা বৃষ্টির দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তার মুয়াযযিনকে বললেন, আযানের মধ্যে তুমি যখন ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলবে তখন এরপর ‘‘হাইয়্যা ‘আলাস-সালাহ’’ বলবে না। বরং বলবেঃ ‘সল্লু ফী বুয়ূতিকুম’ (তোমরা নিজ নিজ ঘরে সালাত আদায় করো)। লোকেরা এটাকে অপছন্দ করলে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমার চাইতে উত্তম যিনি তিনিও এরূপ করেছেন। নিঃসন্দেহে জুমু‘আহর সালাত ওয়াজিব। কিন্তু এরূপ কাদা ও বৃষ্টির মধ্যে তোমাদেরকে হেঁটে আসতে (ঘর হতে বের করতে) আমি পছন্দ করি নাই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 677 · #1064 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (901) Sahih Muslim (699)
  677. 677

    । ত্বারিক্ব ইবনু শিহাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমু‘আহর সালাত সত্য- যা প্রত্যেক মুসলিমের উপর জামা‘আতের সাথে আদায় করা ফারয। তবে চার শ্রেণীর লোকের জন্য ফার্য নয়ঃ ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও রোগী।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ত্বারিক্ব ইবনু শিহাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছেন, কিন্তু তাঁর থেকে কিছু শুনেননি।

    Book 2 · Hadith 678 · #1065 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  678. 678

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে জুমু‘আহর সালাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইসলামে সর্বপ্রথম জামা‘আতের সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করা হয়েছে বাহরাইনের ‘জুয়াসা’ নামক একটি গ্রামে। ‘উসমান (রহঃ) বলেন, সেটি ছিল ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রের বসতি এলাকা।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 679 · #1066 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (892)
  679. 679

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব হতে তার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) এর সুত্রে বর্ণিত। তিনি অন্ধ হওয়ার পর ‘আবদুর রহমান হয়েছিলেন তার পরিচালক। তিনি (কা‘ব ইবনু মালিক) যখনই জুমু‘আহর দিন জুমু‘আহর সালাতের আযান শুনতেন তখন আস‘আদ ইবনু যুরারাহ (রাঃ) এর জন্য দু‘আ করতেন। ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি (জুমু‘আহর) আযান শুনলেই আস‘আদ ইবনু যুরারাহর জন্য রহমতের দু‘আ করেন কেন? তিনি বললেন, কারণ তিনিই সর্বপ্রথম ‘নাকীউল খাদামাত’ এর বনূ বায়াদার মালিকানাধীন হাররার ‘হাযম আন-নবীত’ নামক স্থানে আমাদেরকে নিয়ে জুমু‘আহর সালাত আদায় করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, তখন আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, চল্লিশজন।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 680 · #1067 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  680. 680

    । ইয়াস ইবনু আবূ রামলাহ আশ্-শামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফয়ান (রাঃ) যখন যায়িদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)-কে প্রশ্ন করছিলেন আমি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মু‘আবিয়াহ বললেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একই দিনে দুই ‘ঈদ (অর্থাৎ জুমু‘আহ ও ‘ঈদ) উদযাপন করেছেন। তিনি (যায়িদ) বললেন, হ্যাঁ। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) বললেন, তিনি তা কিভাবে আদায় করেছেন? যায়িদ ইবনু আরক্বাম বললেন, তিনি ‘ঈদের সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর জুমু‘আহর সালাত আদায়ের ব্যাপার অবকাশ দিয়ে বলেছেনঃ কেউ জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে চাইলে আদায় করে নিবে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 681 · #1068 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan
  681. 681

    । ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ির (রাঃ) জুমু‘আহর দিনে আমাদেরকে নিয়ে ঈদের সালাত আদায় করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিশাকাশে একটু হেলে যাওয়ার পর আমরা জুমু‘আহর সালাতের জন্য গেলাম, কিন্তু তিনি না আসায় আমরা একা একা (যুহরের) সালাত আদায় করে নিলাম। এ সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তায়েফে ছিলেন। তিনি তায়েফ হতে ফিরে এলে আমরা তার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ির সুন্নাত অনুযায়ী কাজ করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 682 · #1069 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  682. 682

    । ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ির (রাঃ) এর যুগে জুমু‘আহ ও ঈদুল ফিত্বর একই দিনে হওয়ায় তিনি বলেন, একই দিনে দুই ঈদ একত্র হয়েছে। তিনি দুই সালাত (জুমু‘আহ ও ‘ঈদের সালাত) একত্র করেন এবং প্রত্যুষে মাত্র দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন, এর অধিক করলেন না। অতঃপর তিনি ‘আসরের সালাত আদায় করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 683 · #1070 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  683. 683

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজ তোমাদের এ দিনে দু‘টি ‘ঈদের সমাগম হয়েছে। তোমাদের কারোর ইচ্ছা হলে (জুমু‘আহ ত্যাগ করবে), তার জন্য ‘ঈদের সালাতই যথেষ্ট। তবে আমরা দুটিই (ঈদ ও জুমু‘আহর সালাত উভয়টি) আদায় করবো।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 684 · #1071 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  684. 684

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন ফজরের সালাতে সূরাহ তান্যীলুস সিজদা ও ‘হাল আতা ‘আলাল ইনসানি হীনুম্-মিনাদ্দাহরি’ পাঠ করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 685 · #1072 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (879)
  685. 685

    । মুখাব্বিল (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসটি একই সানাদে ও অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তাতে এও রয়েছেঃ জুম্মার সালাতের ক্বিরাআতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ জুমু‘আহ ও সূরাহ ‘‘ইযা জাআকাল মুনাফিকুল’’ পাঠ করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 686 · #1073 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (879)
  686. 686

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মসজিদে নববীর দরজার সামনে রেশমী পোশাক বিক্রি হতে দেখে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এ পোশাক খরিদ করলে এটি জুমু‘আহর দিনে এবং আপনার কাছে প্রতিনিধি দলের আগমনকালে পরিধান করতে পারতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা তো তারাই পরবে আখিরাতে যাদের জন্য কিছুই থাকবে না। পরবর্তীতে ঐ ধরনের কিছু কাপড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলে তার একখানা কাপড় তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্তান (রাঃ)-কে প্রদান করেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে পরার জন্য এ কাপড় দিলেন। অথচ ইতিপূর্বে আপনি উত্বারিদ (নামক ব্যক্তির) কাপড় সম্পর্কে যা বলার বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এ কাপড় তোমাকে পরার জন্য দেইনি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) কাপড়টি মাক্কাহর অধিবাসী তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 687 · #1074 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (886) Sahih Muslim (2068)
  687. 687

    । সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বাজারে একখানা রেশমী কাপড় বিক্রি হতে দেখে তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেশ করে বলেন, আপনি এ কাপড়টি কিনে নিন, এটা ঈদ ও প্রতিনিধি দলের আগমন উপলক্ষে পরতে পারবেন। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য পূর্বের হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 688 · #1075 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2068)
  688. 688

    । মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বা তোমরা যদি সচরাচর পরিহিত কাপড় ছাড়া জুমু‘আহর দিনে পরার জন্য পৃথক একজোড়া কাপড় সংগ্রহ করতে পারো তবে তাই করো।[1] ‘আমর (রহঃ) বলেন, আমাকে ইবনু আবূ হাবীব, মূসা ইবনু সা‘দ হতে তিনি ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান হতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথাগুলো মিম্বারে বসে বলতে শুনেছেন। সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ওয়াহাব ইবনু জারীর তার পিতা হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব হতে তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবূ হাবীব হতে তিনি মূসা ইবনু সা‘দ হতে তিনি ইউসুফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 689 · #1076 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan
  689. 689

    । ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বেচা-কেনা করতে, হারানো বস্তু তালাশ করতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে নিষেধ করেছেন। আরো নিষেধ করেছেন জুমু‘আহর দিন সালাতের পূর্বে মসজিদে গোল হয়ে বসতে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 690 · #1077 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  690. 690

    । আবূ হাযিম ইবনু দীনার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। কতিপয় লোক মসজিদের মিম্বার কোন কাঠের তৈরী ছিলো এ বিষয়ে সন্দিহান হলে তারা সাহল ইবনু সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তা কোন কাঠের তৈরী ছিলো তা আমি জানি। প্রথম যেদিন তা স্থাপন করা হয়েছিল তাও আমি অবগত আছি। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যেদিন তার উপর বলেছিলেন আমি সেদিনও তা দেখেছি। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক মহিলার (যার নাম সাহল (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন) এর নিকট কাউকে এ সংবাদসহ পাঠালেন যে, লোকদের উদ্দেশে বক্তব্য বা খুত্ববাহর সময় আমার বসার জন্য তোমার কাঠমিস্ত্রি ক্রীতদাসকে আমার জন্য কিছু কাঠ প্রস্তুত করতে (মিম্বার বানাতে) বলো। মহিলা তাকে তাই করতে আদেশ করলো। ক্রীতদাসটি আল-গাবা নামক স্থানের ঝাউগাছের কাঠ দিয়ে তা তৈরী করে আনলে ঐ মহিলা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তাঁর নির্দেশে সেটি এ স্থানে রাখা হলো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এর উপর সালাত পড়তে, তাকবীর বলতে, রুকু‘ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি পিছন দিকে সরে গিয়ে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা্ করেন। এরপর তিনি পুনরায় মিম্বারে উঠেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ঘুরে বলেনঃ হে লোকেরা! আমি এজন্যই এরূপ করেছি যাতে তোমরা আমাকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারো এবং আমার সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 691 · #1078 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (917) Sahih Muslim (544)
  691. 691

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। (বয়োঃবৃদ্ধির কারণে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর ভারী হয়ে গেলে তামীম আদ-দারী (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহ রসূল! আমি কি আপনার জন্য একটা মিম্বার তৈরি করে দিবো না, যার উপর আপনার শরীরের ভার রাখবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কাজেই তিনি তাঁর জন্য দুই ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বার তৈরী করে দেয়া হয়।[1] সহীহ : বুখারী মু‘আল্লাক্ব ভাবে।

    Book 2 · Hadith 692 · #1079 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  692. 692

    । সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার এবং (মসজিদের) দেওয়ালের মাঝখানে একটি বকরী চলাচল করার পরিমাণ ফাঁকা ছিলো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 693 · #1080 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (497) Sahih Muslim (509)
  693. 693

    । আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে সালাত আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেনঃ জুমু‘আহর দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এটি মুরসাল হাদীস। মুজাহিদ (রহঃ) আবুল খালীলের চেয়ে বয়সে বড়। আর আবুল খালীল (রহঃ) আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে হাদীস শুনেননি।

    Book 2 · Hadith 694 · #1081 · Daif, Daif, Daif, Daif
  694. 694

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 695 · #1082 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Bukhari (904)
  695. 695

    । ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করে ফিরে আসার পরও প্রাচীরসমূহে ছায়া দেখা যেতো না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 696 · #1083 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4168) Sahih Muslim (860)
  696. 696

    । সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমু‘আহর সালাতের পর দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ ও খাবার খেতাম।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 697 · #1084 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (939) Sahih Muslim (859)
  697. 697

    । আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে বর্নিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাঃ) এর যুগে জুমু‘আহর প্রথম আযান দেয়া হতো ইমাম মিম্বারে বসলে। কিন্তু ‘উসমান (রাঃ) এর খিলাফাতের সময় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি জুমু‘আহর সালাতের জন্য তৃতীয় আযানের নির্দেশ দেন। এ আযান সর্বপ্রথম (মদীনার) আয-যাওরা নামক স্থানে দেয়া হয়। এরপর থেকেই এ নিয়ম বহাল হয়ে যায়।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 698 · #1085 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (916)
  698. 698

    । আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন যখন মিম্বারের উপর বসতেন তখন তাঁর সামনে মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে আযান দেয়া হতো। আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) এর সামনেও অনুরূপ করা হতো। অতঃপর হাদীসের পরবর্তী অংশ ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।[1] মুনকার।

    Book 2 · Hadith 699 · #1086 · Munkar, Munkar, Daif
  699. 699

    । আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাত্র একজন মুয়াযযিন ছিলেন। তিনি হলেন বিলাল (রাঃ)। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 700 · #1087 · Sahih, Sahih, Daif
  700. 700

    । আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র মুয়াযযিন (বিলাল) ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্য কোন মুয়াযযিন ছিল না। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন, তবে পুরো অংশ নয়।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 701 · #1088 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  701. 701

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জুমু‘আহর দিনে খুত্ববাহ দেয়ার উদ্দেশে মিম্বারে উঠে বললেন, সবাই বসে পড়ো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) একথা শুনে তাৎক্ষণিক মসজিদের দরজাতেই বসে পড়েন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেনঃ ওহে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ! তুমি এগিয়ে এসো।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এটি মুরসাল হাদীস হিসাবে পরিচিত। বণনাকারীরা এটি ‘আত্বা (রহঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারী মাখলাদ একজন শায়খ।

    Book 2 · Hadith 702 · #1089 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  702. 702

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহতে দু‘টি খুত্ববাহ প্রদান করতেন। প্রথমে তিনি মিম্বারে উঠে মুয়াযযিন আযান শেষ না করা পর্যন্ত বসে থাকতেন, অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে (প্রথম) খুত্ববাহ দিতেন, তারপর বসতেন এবং কোন কথা না বলে আবার দাঁড়াতেন এবং (দ্বিতীয়) খুত্ববাহ দিতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম সংক্ষেপে।

    Book 2 · Hadith 703 · #1090 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  703. 703

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে (প্রথম) খুত্ববাহ দিতেন, অতঃপর বসতেন এবং আবার উঠে দাঁড়িয়ে (দ্বিতীয়) খুত্ববাহ দিতেন। কেউ যদি তোমাকে বলে তিনি বসে খুত্ববাহ দিতেন, সে মিথ্যা বলেছে। জাবির বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দুই হাজারের অধিক সংখ্যক ওয়াক্তের সালাত আদায় করেছি।[1] হাসান : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 704 · #1091 · Hasan, Hasan, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim (862)
  704. 704

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর সালাতে দু‘টি খুত্ববাহ দিতেন এবং দু’ খুত্ববাহর মাঝখানে বসতেন। তিনি খুত্ববাহয় কুরআন পড়তেন এবং লোকদের উপদেশ দিতেন।[1] হাসান : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 705 · #1092 · Hasan, Hasan, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim (862)
  705. 705

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাঁড়িয়ে খুত্ববাহ দিতে দেখেছি। তিন (দু’ খুত্ববাহর মাঝে) কিছুক্ষণ বসতেন কিন্তু কোন কথা বলতেন না। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 706 · #1093 · Hasan, Hasan, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih
  706. 706

    । শু‘আইব ইবনু রুযাইক্ব আত-ত্বায়িফী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবীর নিকট বসা ছিলাম, যার নাম আল-হাকাম ইবনু হাযন আল-কুলাফী। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি সাত বা আট সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের সপ্তম বা অষ্টমজন হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাই এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বলি, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাক্ষাত পেয়েছি। আপনি মহান আল্লাহর নিকট আমাদের কল্যাণের জন্য দু‘আ করুন। তখন তিনি কিছু খেজুর দ্বারা আমাদের মেহমানদারী করতে আদেশ করলেন। সে সময় (মুসলিমদের) অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। আমরা বেশ কয়েকদিন (মাদীনাতে) অবস্থান করলাম। এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুমু‘আহর সালাতও আদায় করেছি। জুমু‘আহর খুত্ববাহয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দিয়ে পবিত্র ও বরকতপূর্ণ কথার দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং তাঁর কতক হালকা, উত্তম ও পবিত্র গুণাবলী বর্ণনা করেন। অতঃপর বলেনঃ হে জনগণ! তোমাদেরকে যা কিছুর আদেশ দেয়া হয়েছে সে সবের প্রতিটি নির্দেশই তোমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে সক্ষম হবে না। কাজেই তোমরা নিজেদের ‘আমলের উপর অটল থাকো এবং সুসংবাদ প্রদান করো।[1] হাসান। আবূ ‘আলী (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমার কতিপয় বন্ধু এ হাদীসের অংশ বিশেষ আমাকে স্মরণ করিয়ে দেন।

    Book 2 · Hadith 707 · #1094 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  707. 707

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্ববাহ দেয়ার সময় বলতেন, ‘‘আলহামদু লিল্লা-হি নাস্তাঈনুহু, ওয়া নাসতাগফিরুহু ওয়া না‘ঊযু বিল্লা-হি মিন শুরূরি আনফুসিনা মাঁই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু ওয়া মাই ইউদলিল ফালা হা-দিয়া লাহু। ওয়া আশহাদু আল-লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহ। আরসালাহু বিলহাক্বক্বি বাশিরাও ওয়া নাযীরা বাইনা ইয়াদাইস্ সা‘আহ। মাঁই ইউত্বি‘ইল্লা-হা ওয়া রসূলুহু ফাক্বাদ্ রাশাদা ওয়া মাঁই ইয়া‘সিহিমা ফাইন্নাহু লা ইয়াদুররু ইল্লা নাফসাহু ওয়ালা ইয়াদুররুল্লা-হা শাইয়া’’। (সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নিজেদের নাফসের ক্ষতি হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচিছ যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসূল। মহান আল্লাহ তাঁকে কিয়ামতের পূর্বে সত্য দ্বীনসহ সুসংবাদ দাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে সঠিক পথে রয়েছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হয় সে তো নিজেরই ক্ষতি সাধন করে, সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারে না)।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 708 · #1095 · Daif, Daif, Daif, Daif
  708. 708

    । ইউনূস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু শিহাব (রহঃ)-কে জুমু‘আহর দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর -এর খুত্ববাহ প্রদান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি অতিরিক্তভাবে বর্ণনা করেনঃ ‘‘ওয়া মাঁই ইয়া‘সিহিমা ফাক্বাদ গাওয়া ওয়া নাসআলুল্লা-হা রব্বানা আঁই ইয়াজ‘আলানা মিম্মাই ইউতিয়ুহু ওয়া ইউতিয়ু রসূলুহু ওয়া ইয়াত্তাবিঈ রিদওয়ানাহু ওয়া ইয়াজতানিবু সাখাতাহু ফাইন্নামা নাহনু বিহি ওয়া লাহু’’। (অর্থঃ এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্য হয় সে পথভ্রষ্ট। আর আমরা আমাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে তাদের অনুর্ভুক্ত করেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষন করে এবং অসন্তুষ্টির পথ পরিহার করে। কারণ আমরা তারই সাথে এবং তারই জন্য (বা আমরা তাঁরই জন্য সৃষ্টি হয়েছি এবং তাঁরই এখতিয়ারভুক্ত)।’’[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 709 · #1096 · Daif, Daif, Daif
  709. 709

    । ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক বক্তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বললোঃ মাঁই ইউতিয়িল্লাহা ওয়া রসূলুহু ফাক্বাদ রাশাদা ওয়া মাঁই ইয়া‘সিহিমা’’। ‘‘যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করলো সে সঠিক পথ পেলো। আর যে তাঁদের নাফরমানী করলো’’। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি চলে যাও। তুমি অতিশয় নিকৃষ্ট বক্তা।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 710 · #1097 · Sahih, Sahih, Sahih
  710. 710

    । হারিস ইবনুন নু‘মান (রাঃ) এর মেয়ের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ হতে শুনে সূরাহ ‘ক্বাফ’ মুখস্ত করেছি। সূরাহটি তিনি প্রতি জুমু‘আহর খুত্ববাহতে পাঠ করতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহর চুলা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমাদের চুলা এক জায়গাতে ছিলো।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 711 · #1098 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (873)
  711. 711

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত ছিলো নাতিদীর্ঘ এবং তাঁর খুত্ববাহও ছিল নাতিদীর্ঘ। তিনি খুত্ববাহর মধ্যে কুরআনের কিছু আয়াত পাঠ করতেন এবং লোকদের উপদেশ দিতেন।[1] হাসান : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 712 · #1099 · Hasan, Hasan, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih
  712. 712

    । ‘আমরাহ্ বিনতু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) হতে তার বোনের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে শুনে শুনে সূরাহ ‘কাফ’ মুখস্থ করেছি। তিনি প্রত্যেক জুমু‘আহর খুত্ববাহয় সূরাহ ক্বাফ তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব এবং ইবনু আবুর রিজাল, ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ হতে, তিনি ‘আমরাহ উম্মু হিশাম বিনতু হারিসাহ ইবনুন নু‘মান হতে।

    Book 2 · Hadith 713 · #1100 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (872)
  713. 713

    । ‘আমরাহ্ বিনতু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) তার এক -বোন যিনি তার বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন- সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণণা করেছেন।

    Book 2 · Hadith 714 · #1101 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (872)
  714. 714

    । হুসাইন ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমারাহ ইবনু রুওয়াইবাহ (রাঃ) দেখেন যে, বিশর ইবনু মারওয়ান (জুমু‘আহর দিন খুত্ববাহকালে) দু‘আ করছেন। তখন ‘উমারাহ ইবনু রুওয়াইবাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমার এ হাত দু‘টিকে কুৎসিত করুন। যায়িদাহ বলেন, হুসাইন ইবনু ‘আবদুর রহমান বলেছেন, ‘উমারাহ ইবনু রুওয়াইবাহ (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারের উপর এর চাইতে অধিক কিছু করতে দেখিনি অর্থাৎ তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের শাহাদাত অঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা ব্যতীত অন্য কিছুই করতেন না।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 715 · #1102 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (874)
  715. 715

    । সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারে অবস্থানকালে অথবা অন্যত্র কখনো হাত উঠাতে দেখিনি। তবে আমি দেখেছি যে, তিনি মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি মিলিয়ে বৃত্ত বানিয়ে শাহাদাত অঙ্গুলি দিয়ে ইশারা (করে দু‘আ) করতেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 716 · #1103 · Daif, Daif, Daif, Daif
  716. 716

    । ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুত্ববাহ সংক্ষিপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 717 · #1104 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  717. 717

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিনে উপদেশ (ওয়াজ) দীর্ঘ করতেন না, বরং তা কয়েকটি সংক্ষিপ্ত বাক্য হতো মাত্র।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 718 · #1105 · Hasan, Hasan, Hasan
  718. 718

    । সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নসীহতের সময় উপস্থিত থাকবে এবং ইমামের নিকটবর্তী হবে। কারণ যে ব্যক্তি সর্বদা (উপদেশ হতে) দূরে থাকে সে জান্নাতবাসী হলে জান্নাতেও বিলম্বে যাবে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 719 · #1106 · Hasan, Hasan, Daif, Daif
  719. 719

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুত্ববাহ দিচ্ছিলেন। এমন সময় শিশু হাসান ও হুসাইন লাল রংয়ের জামা পরিহিত অবস্থায় আছাড় খেতে খেতে এগিয়ে এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্ববাহ বন্ধ করে মিম্বার হতে নেমে তাদেরকে নিয়ে এসে মিম্বারে উঠে বললেনঃ আল্লাহ সত্যই বলেছেন, ‘‘তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানাদী ফিতনাহ স্বরূপ’’ (সূরাহ তাগাবুনঃ আয়াত ১৫)। আমি এ দু‘জনকে দেখে ধৈর্য্য ধারণ করতে পারিনি। অতঃপর তিনি খুত্ববাহ দিতে লাগলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 720 · #1107 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  720. 720

    । সাহল ইবনু মু‘আয ইবনু আনাস (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন ইমামের খুত্ববাহ চলাকালে কাউকে হাঁটু উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 721 · #1108 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  721. 721

    । ইয়া‘লা ইবনু শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু‘আবিয়াহ (রাঃ) এর সাথে বাইতুল মুকাদ্দাসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করলেন। আমি দেখলাম, মসজিদে উপস্থিত অধিকাংশ লোকই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী এবং ইমামের খুত্ববাহ চলাবস্থায় তারা সকলেই হাঁটু উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসে আছেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইমামের খুত্ববাহ প্রদানের সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারও (রাঃ) হাঁটু উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসতেন। আনাস ইবনু মালিক, শুরাইহ্, সা‘সাআ ইবনু সূহান, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, ইবরাহীম নাখয়ী, মাকহূল, ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা‘দ এবং সু‘আইম ইবনু সুলামাহ প্রমূখের মতে, ইমামের খুত্ববাহ চলাবস্থায় গুটিসুটি মেরে বসাতে কোন দোষ নেই। এগুলো তাদের সূত্রে মুত্তাসিল কে করলো তা আমি পাইনি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘উবাদাহ ইবনু নুসাই ব্যতীত অন্য কেউ এরূপ বসা অপছন্দনীয় বলতেন বলে আমার জানা নাই।

    Book 2 · Hadith 722 · #1109 · Daif, Daif, Daif
  722. 722

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমামের খুত্ববাহ চলাকালে যদি তুমি কাউকে বলো চুপ করো, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 723 · #1110 · Sahih, Sahih, Sahih
  723. 723

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে জুমু‘আহর সালাতে তিন ধরনের লোক এসে থাকে। এক শ্রেণীর লোক জুমু‘আহয় উপস্থিত হয়ে অনর্থক কথা ও কাজে লিপ্ত হয়। সে তার ‘আমল অনুসারেই তার অংশ পাবে। আরেক শ্রেণীর লোক জুমু‘আহয় এসে দু‘আ করে, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থণা করে। তিনি ইচ্ছে করলে তাদের দু‘আ কবুল করতে পারেন অথবা নাও করতে পারেন। আরেক শ্রেণীর লোক জুমু‘আহয় উপস্থিত হয়ে চুপচুপ থাকে, কোন মুসলিমের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে যায় না এবং কাউকে কষ্ট দেয় না। এই কাজগুলো এ ব্যক্তির জন্য ঐ জুমু‘আহ হতে পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরো তিনদিন পর্যন্ত গুনাহের কাফফারাহ হবে। কেননা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি একটি নেকীর কাজ করবে বিনিময়ে তাকে তার দশ গুণ সওয়াব দেয়া হবে’’ (সূরাহ আল-আনআমঃ ১৬০)।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 724 · #1111 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  724. 724

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো অযু নষ্ট হলে হলে সে যেন তার নাক চেপে ধরে বেরিয়ে যায়।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 725 · #1112 · Sahih, Sahih, Sahih
  725. 725

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক জুমু‘আহয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুত্ববাহ চলাকালে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে অমুক! তুমি কি (তাহিয়্যাতুল মসজিদের দু’ রাক‘আত নফল) সালাত আদায় করেছো? সে বললো, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উঠো, সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 726 · #1113 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (930) Sahih Muslim (875)
  726. 726

    । জাবির ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর খুত্ববাহ দিচ্ছিছিলেন, এমন সময় সুলাইক আল-গাতাফানী (রাঃ) মসজিদে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কিছু সালাত আদায় করেছো কি? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 727 · #1114 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (875)
  727. 727

    । ত্বালহা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, সুলাইক আল-গাতাফানী (রাঃ) মসজিদে এলেন। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছেঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ তোমাদের কেউ ইমামের খুত্ববাহ চলাবস্থায় এলে সে যেন সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 728 · #1115 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  728. 728

    । আবুয্ যাহিরিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জুমু‘আহর দিনে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে লোকদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) বললেন, একদা জুমু‘আহর দিন এক ব্যক্তি লোকদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন খুত্ববাহ দিচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বসো, তুমি লোকদের কষ্ট দিয়েছো।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 729 · #1116 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  729. 729

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ মসজিদের মধ্যে তোমাদের কারো তন্দ্রা এলে সে যেন তার স্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র বসে।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 730 · #1117 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  730. 730

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্ববাহ শেষে মিম্বার হতে অবতরণ করার পর এক ব্যক্তি নিজ প্রয়োজনে তাঁর সামনে এসে হাজির হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকটির প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথেই দাঁড়িয়ে থাকতেন অতঃপর সালাতে দাঁড়ালেন।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সাবিত সূত্রে হাদীসটি পরিচিত নয়। এটি জরীর ইবনু হাযিমের একক বর্ণনা। দুর্বল : সহীহ হচ্ছে হাদীস নং ২০১।

    Book 2 · Hadith 731 · #1118 · Daif, Daif, Daif
  731. 731

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (জামা‘আতে) এক রাক‘আত সালাত পেলো সে যেন পুরো সালাতই পেয়ে গেলো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 732 · #1119 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (580) Sahih Muslim (607)
  732. 732

    । নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু্ই ঈদের সালাতে এবং জুমু‘আহর সালাতে ‘সাব্বিহিস্‌মা রব্বিকাল আ‘লা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদীসুল গা-শিয়াহ’’ সূরাহদ্বয় তিলাওয়াত করতেন। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন, ঈদ ও জুমু‘আহ একই দিনে হলে তখনও তিনি এ দু’টি সূরাহ পাঠ করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 733 · #1120 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (878)
  733. 733

    । দাহহাক ইবনু ক্বায়িস (রহঃ) নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর দিন সূরাহ ‘জুমু‘আহ’ তিলাওয়াতের পর কোন সূরাহ পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি সূরাহ ‘হাল আতা-কা হাদীসুল গা-শিয়াহ’’ তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 734 · #1121 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (878)
  734. 734

    । ইবনু আবূ রাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) আমাদের সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করলেন। তিনি (প্রথম রাক‘আতে) সূরাহ জুমু‘আহ পড়লেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরাহ ‘ইযা জা-আকাল মুনা-ফিকূন’’ তিলাওয়াত করলেন। ইবনু আবূ রাফি‘ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনকালে আমি তাকে গিয়ে বললাম, আপনি এমন দু‘টি সূরাহ পাঠ করেছেন যা ‘আলী (রাঃ) কুফাতে পাঠ করতেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জুমু‘আহর দিন (জুমু‘আহর সালাতে) এ দু‘টি সূরাহ তিলাওয়াত করতে শুনেছি।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 735 · #1122 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (877)
  735. 735

    । সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর সালাতে ‘সাবিবহিস্‌মা রব্বিকাল আ‘লা’ এবং ‘হাল আতা-কা হাদীসুল গা-শিয়াহ’’ সূরাহদ্বয় পাঠ করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 736 · #1123 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  736. 736

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হুজরাতে সালাত আদায় করছিলেন আর লোকজন হুজরার বাইরে পেছনের দিক থেকে তাঁর ইকতিদা করেছিলো।[1] সহীহ : বুখারী, এর চেয়ে পরিপূর্ণ।

    Book 2 · Hadith 737 · #1124 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (729)
  737. 737

    । নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে জুমু‘আহর দিন (জুমু‘আহর সালাত শেষে) একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখে তাকে বাধা দিয়ে বললেন, তুমি জুমু‘আহর সালাত চার রাক‘আত আদায় করবে নাকি? ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) জুমু‘আহর দিন বাড়িতে ফিরে দু’ রাক‘আত সুন্নাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম, তার থেকে মারফুভাবে।

    Book 2 · Hadith 738 · #1125 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  738. 738

    । নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) জুমু‘আহর সালাতের পূর্বে দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করতেন এবং জুমু‘আহর সালাতের পরে বাড়িতে গিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম, তার থেকে মারফুভাবে।

    Book 2 · Hadith 739 · #1126 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  739. 739

    । ‘উমার ইবনু ‘আত্বা ইবনু আবুল খুওয়ার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাফি‘ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) তাকে ‘উমার (রাঃ) এর ভাগ্নে আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদের নিকট এটা জানার জন্য পাঠালেন যে, আমীর মু‘আবীয়াহ সালাতে আপনাকে কী করতে দেখেছিলেন। আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, একদা আমি মু‘আবিয়াহ (রাঃ) এর সাথে মিহরাবের মধ্যে জুমু‘আহর সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরিয়ে আমি একই স্থানে দাঁড়িয়ে (সুন্নাত) সালাত আদায় করলাম। ঘরে পৌছে তিনি লোক মারফত আমাকে বললেন, তুমি (আজ) যা করেছো এরূপ আর কখনো করবে না। জুমু‘আহর সালাত আদায়ের পর কোন কথা না বলে কিংবা মাসজিদ হতে বের না হয়ে সেখানে পুনরায় সালাত আদায় করবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন যে, কথা না বলা কিংবা মাসজিদ হতে বের না হওয়া পর্যন্ত এক সালাতের সাথে আরেক সালাত মিলানো যাবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 740 · #1127 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (883)
  740. 740

    । ‘আত্বা (রহঃ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি মাক্কায় অবস্থানকালে জুমু‘আহর (ফারয) সালাত আদায়ের পর সামনে এগিয়ে (স্থান পরিবর্তন করে) দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আবার সামনে এগিয়ে (স্থান পরিবর্তন করে) চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। কিন্তু তিনি মাদীনায় অবস্থানকালে জুমু‘আহর (ফারয) সালাতের পর মসজিদে সালাত আদায় না করে বাড়িতে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 741 · #1128 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  741. 741

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ জুমু‘আহর (ফারয) সালাতের পর সালাত আদায় করতে চাইলে সে যেন চার রাক‘আত আদায় করে। ইবনু ইউনুসের বর্ণনায় রয়েছে, জুমু‘আহর সালাত আদায়ের পরে তোমরা চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, হে বৎস! তুমি মসজিদে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) আদায়ের পর গন্তব্যে পৌছলে অথবা বাড়িতে এলে সেখানেও দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করবে।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 742 · #1129 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (881)
  742. 742

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আহর (ফারয) সালাত আদায়ের পর ঘরে ফিরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারী অর্থগতভাবে। এটি গত হয়েছে হাদীস ১১২৭ নং।

    Book 2 · Hadith 743 · #1130 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  743. 743

    । ‘আত্বা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জুমু‘আহর সালাতের পর সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি (ইবনু ‘উমার) জুমু‘আহর (ফারয) সালাত আদায়ের স্থান থেকে বেশী নয় বরং একটু সরে গিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী ‘আত্বা বলেন, অতঃপর সেখান থেকে একটু সরে গিয়ে চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। হাদীসের বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়িজ বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) কে কতবার এরূপ করতে দেখেছেন? তিনি বললেন, কয়েকবার।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 744 · #1131 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  744. 744

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে এসে দেখেন, মাদীনাহবাসীরা নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ দু‘টি দিন কিসের? সকলেই বললো, জাহিলী যুগে আমরা এ দু’ দিন খেলাধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ তোমাদের এ দু’ দিনের পরিবর্তে উত্তম দু‘টি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্বরের দিন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 745 · #1132 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  745. 745

    । ইয়াযীদ ইবনু খুমাইর আর-রাহাবী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) লোকদের সাথে ঈদুল ফিত্বর কিংবা ঈদুল আযহার সালাত আদায় করতে যান। (সালাত আরম্ভ করতে) ইমাম দেরী করায় তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বললেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) যুগে এ (ইশরাকের) সময় আমরা ঈদের সালাত আদায় শেষ করতাম।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 746 · #1133 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  746. 746

    । উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার জন্য গৃহিণীদের নির্দেশ দেন। বলা হলো, ঋতুবতী মেয়েরা কি করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কল্যাণমুলক কাজ ও মুসলিমদের দু‘আয় তাদের শরীক হওয়া উচিত। এক মহিলা বললো, হে আল্লাহর রসূল! কারো (শরীর ঢাকার মত) কাপড় না থাকলে সে কি করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার বান্ধবীর (সঙ্গীর) কাপড়ের কিছু অংশে জড়িয়ে যাবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 747 · #1134 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (974) Sahih Muslim (890)
  747. 747

    । উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। (এতে রয়েছে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঋতুবতী নারীরা মুসলিমদের সালাতের স্থান হতে পৃথক থাকবে। এ হাদীসে কাপড়ের বিষয় উল্লেখ নাই। বর্ণনাকারী হাফসাহ ও আরেক মহিলার হতে জনৈক মহিলা সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ... অতঃপর মূসা বর্ণিত হাদীসের কাপড় বিষয়টি বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 748 · #1135 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (974) Sahih Muslim (890)
  748. 748

    । উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এ (উপরোক্ত) হাদীস মোতাবেক আমল করতে আদিষ্ট হতাম। বর্ণনাকারী বলেন, ঋতুবতী নারীরা সকলের পিছনে অবস্থান করতো এবং লোকদের সাথে তাকবীর পাঠ করতো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 749 · #1136 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (971) Sahih Muslim (890)
  749. 749

    । ইসমাইল ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আত্বিয়্যাহ (রহঃ) হতে তার দাদী উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমন করে আনসার মহিলাদেরকে একটি ঘরে সমবেত করে ‘উমার ইবনুল খাত্তাবকে আমাদের নিকট প্রেরণ করলেন। ‘উমার (রাঃ) এসে দরজায় দাঁড়িয়ে আমাদেরকে সালাম জানালে আমরা তার সালামের উত্তর দেই। ‘উমার বলেন, আমি আপনাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংবাদবাহক হিসেবে এসেছি। অতঃপর তিনি আমাদের ঋতুবতী ও কুমারী মেয়েদের দুই ঈদের সালাতে অংশগ্রহণের আদেশ দেন, মহিলাদের জন্য জুমু‘আহ বাধ্যতামূলক নয় বলে জানান এবং আমাদেরকে জানাযার সালাতে অংশগ্রহণে নিষেধ করেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 750 · #1137 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  750. 750

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘ঈদের দিন মারওয়ান ঈদের মাঠে মিম্বার স্থাপন করে সালাতের পূর্বেই খুত্ববাহ শুরু করায় জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, হে মারওয়ান! তুমি সুন্নাত বিরোধী কাজ করলে। তুমি ‘ঈদের দিন বাইরে মিম্বার এনেছো এবং সালাতের পূর্বেই খুত্ববাহ শুরু করেছো। অথচ ইতিপূর্বে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খুলাফায়ি রাশিদীনের যুগে) কখনো এমনটি করা হয়নি। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? লোকজন বললো, অমুকের পুত্র অমুক। তিনি বললেন, সে তার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ কেউ কোন গর্হিত (শারী‘আত বিরোধী) কাজ সংঘটিত হতে দেখলে তাকে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। এরূপ করতে অক্ষম হলে তা কথার দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি এতেও অক্ষম হয় তাহলে সে তা অন্তরে ঘৃণা করবে (বা তা দূর করার উপায় অন্বেষনে চিন্তা-ভাবনা করবে)। তবে এটি হচ্ছে দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 751 · #1138 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (49)
  751. 751

    । জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিত্বরের দিন দাঁড়িয়ে খুত্ববাহর পূর্বেই সালাত আদায় করলেন। তারপর লোকদের উদ্দেশে খুত্ববাহ দিলেন এবং খুত্ববাহ শেষে মহিলাদের নিকট গিয়ে তাদেরকে নসীহত করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বিলালের হাতের উপর ভর করেছিলে এবং বিলাল (রাঃ) তার কাপড় বিছিয়ে রেখেছিলেন। মহিলারা তাতে দানের বস্তু নিক্ষেপ করছিলেন। কোন কোন মহিলা তাতে নিজেদের গহনা তাতে ছুড়ে দিচ্ছিলো এবং অন্যরা আরো অনেক কিছু নিক্ষেপ করছিলো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 752 · #1139 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (978) Sahih Muslim (884)
  752. 752

    । ‘আত্বা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি আর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বরের দিন রওয়ানা হয়ে সালাত আদায়ের পর খুত্ববাহ দিলেন। অতঃপর নারীদের নিকট গেলেন। তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। ইবনু কাসীর বলেন, হাদীস বর্ণনাকারী শু‘বাহর দৃঢ় ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদেরকে সাদাকা করতে আদেশ করলে তারা নিজেদের অলংকারাদী ছুড়ে দিতে লাগলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 753 · #1140 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (98) Sahih Muslim (884)
  753. 753

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান করলেন যে, (দূরে অবস্থানের কারণে) মহিলারা তাঁর কথা শুনতে পাননি। কাজেই তিনি বিলালকে সাথে নিয়ে মহিলাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে নসীহত প্রদান করেন ও সাদাকা করতে আদেশ করেন। মহিলারা তাদের কানের রিং ও হাতের আংটি খুলে বিলালের কাপড়ের মধ্যে নিক্ষেপ করতে লাগলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 754 · #1141 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (98) Sahih Muslim (884)
  754. 754

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তিনি আরো বলেন, মহিলারা তাদের কানের রিং ও হাতের আংটি খুলে দিতে লাগলেন এবং বিলাল (রাঃ) স্বীয় চাদরে সেগুলো তুলে রাখলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো অভাবী মুসলিমদের মাঝে বিতরণ করে দিলেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 755 · #1142 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (98) Sahih Muslim (884)
  755. 755

    । ইয়াযীদ ইবনুল বারাআ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ঈদের দিন একটি ধনুক দেয়া হলে তিনি তাতে ভর করে খুত্ববাহ দেন।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 756 · #1143 · Hasan, Hasan, Daif
  756. 756

    । ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবিস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কোন ঈদের সালাত আদায় করেছেন কি? তিনি বললেন, হাঁ। তাঁর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা না থাকলে শিশু হওয়ার কারণে আমি হয়ত তাঁর সাথে সালাতে শরীক হতে পারতাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন কাসীর ইবনুল সলত-এর বাড়ির পাশে স্থাপিত ঝান্ডার নিকটে এসে সালাত আদায় করার পর খুত্ববাহ দেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের কথা উল্লেখ করেননি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা করতে আদেশ করলে মহিলারা তাদের কান ও গলার দিকে ইশারা করেন, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে তাদের নিকট পাঠান। বিলাল (রাঃ) তাদের কাছে গিয়ে (সাদাকা সংগ্রহ করে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে আসেন।[1] সহীহ : বুখারী।

    Book 2 · Hadith 757 · #1144 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (863)
  757. 757

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর এবং ‘উমার অথবা ‘উসমান (রাঃ) আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) ছাড়াই ‘ঈদের সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 758 · #1145 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif
  758. 758

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দুই ঈদের সালাত আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) ছাড়া এক দুইবার নয়, বরং অনেকবার আদায় করেছি।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 759 · #1146 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim (887)
  759. 759

    । ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বর ও ঈদুল আযহার সালাতে প্রথম রাক‘আতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে পাচঁবার তাকবীর বলতেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 760 · #1147 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Hasan
  760. 760

    । ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস একই সানাদে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, রুকূ‘র দুই তাকবীর ব্যতীত।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 761 · #1148 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Hasan
  761. 761

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈদুল ফিত্বরের সালাতের তাকবীর হচ্ছে প্রথম রাক‘আতে সাতটি এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঁচটি এবং উভয় রাক‘আতেই তাকবীরের পর ক্বিরাআত পড়তে হবে।[1] হাসান।

    Book 2 · Hadith 762 · #1149 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan
  762. 762

    । ‘আমর ইবনু ‘শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বরের সালাতে প্রথম রাক‘আতে সাতবার তাকবীর বলতেন, অতঃপর ক্বিরাআত পাঠ করতেন, ক্বিরাআত শেষে তাকবীর বলার পর দ্বিতীয় রাক‘আতের জন্য দন্ডায়মান হয়ে চারবার তাকবীর বলে ক্বিরাআত অরম্ভ করতেন, অতঃপর রুকূ‘ করতেন।[1] হাসান সহীহ, তবে (চার তাকবীর) কথাটি বাদে। সঠিক হচ্ছে (পাঁচ তাকবীর)। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেছেন, ওয়াকী‘ ও ইবনুল মুবারক (রহঃ) এ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, (প্রথম রাক‘আতে) সাতবার এবং (দ্বিতীয় রাক‘আতে) পাঁচবার তাকবীর বলতে হবে।

    Book 2 · Hadith 763 · #1150 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Lighairihi, Daif
  763. 763

    । আবূ মূসা আল-আশ‘আরী ও হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)-কে সাঈদ ইবনুল ‘আস (রহঃ) জিজ্ঞেস করেন, ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাকবীর বলতেন? আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, তিনি জানাযার সালাতের ন্যায় চারটি তাকবীর বলতেন। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) সত্যই বলেছেন। আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, আমি বসরাতে গভর্ণর থাকাকালে (ঈদের সালাতে) এভাবেই তাকবীর দিয়েছি। আবূ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, সাঈদ ইবনুল ‘আসের প্রশ্ন করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।[1] হাসান সহীহ।

    Book 2 · Hadith 764 · #1151 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif
  764. 764

    । ‘উবাইদু্ল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আবূ ওয়াক্বিদ আল-লাইসী (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বর ও ঈদুল আযহার সালাতে কোন সূরাহ পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি সূরাহ ‘কাফ্ ওয়াল-কুরআনিল মাজীদ’ এবং সুরাহ ‘ইক্‌তারাবাতিস সা‘আতু ওয়ান্-শাক্কাল কামারু’ তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 765 · #1152 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (891)
  765. 765

    । ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ঈদের সালাত আদায় করি। সালাত শেষে তিনি বলেনঃ আমি এখন খুত্ববাহ দিবো। যে খুত্ববাহ শুনার জন্য বসতে চায় সে বসবে, আর কেউ চলে যেতে চাইলে চলে যাবে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি মুরসাল।

    Book 2 · Hadith 766 · #1153 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  766. 766

    । ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন।[1] সহীহ : বুখারী। জাবির হতে।

    Book 2 · Hadith 767 · #1154 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Hasan
  767. 767

    । আবূ ‘উমাইর ইবনু আনাস (রহঃ) হতে তার চাচা -যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী ছিলেন- সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একদল আরোহী এসে সাক্ষ্য দিলো যে, গতকাল তারা (ঈদের) চাঁদ দেখেছে। তিনি লোকদেরকে সওম ভঙ্গ করার এবং পরদিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।[1] সহীহ।

    Book 2 · Hadith 768 · #1155 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  768. 768

    । বাকর ইবনু মুবাশশির আল-আনসারী (রাঃ) বলেন, আমি ঈদুল ফিত্বর ও ঈদুল আযহার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের সাথে ঈদগাহে যেতাম। আমরা বাতনে বুতহান নামক প্রান্তর অতিক্রম করে ঈদগাহে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতাম। অতঃপর বাতনে বুতহানের পথ ধরেই আমাদের ঘরে ফিরতাম।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 769 · #1156 · Daif, Daif, Daif
  769. 769

    । ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল ফিত্বরের দিন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গিয়ে (ঈদের) দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। ঈদের সালাতের পূর্বে বা পরে তিনি কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর তিনি বিলালকে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট গিয়ে তাদেরকে দান-খয়রাত করতে নসীহত করেন। মহিলারা নিজেদের কানের দুল ও হার (চাদরে) নিক্ষেপ করতে থাকলো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।

    Book 2 · Hadith 770 · #1157 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (964) Sahih Muslim (884 After 890)
  770. 770

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে নিয়ে ঈদের সালাত মসজিদে আদায় করেন।[1] দুর্বল।

    Book 2 · Hadith 771 · #1158 · Daif, Daif, Daif, Daif
সব বিষয় · Sunan Abu Dawud