Funerals (Kitab Al-Jana'iz)
- 1
। আল-খুদর গোত্রের তীরন্দাজ ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নুফাইলী বলেন, শব্দটি ‘খাদরি’ নয়, বরং খুদর, তবে ব্যবহারে তা প্রচলিত হয়ে গেছে। ‘আমির বলেন, আমি আমাদের শহরেই ছিলাম। এমন সময় ‘আমরা কিছু পতাকা উড্ডীন দেখতে পেয়ে লোকদের জিজ্ঞেস করি, এসব কি? তারা বললো, এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকা। আমি তাঁর নিকট আসলাম। তখন তিনি একটি গাছের নীচে তাঁর জন্য বিছানো একটি কম্বলের উপর বসা ছিলেন। তাঁর চারপাশে তাঁর সাহাবীগণও বসা ছিলেন। আমি তাদের কাছে বসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেনঃ মু‘মিন ব্যক্তি যখন অসুস্থ হয়, অতঃপর আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত দেন, এটা তার অতীতের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শিক্ষণীয়। পক্ষান্তরে কোনো মুনাফিক অসুস্থ হওয়ার পর তাকে তা থেকে মুক্তি দেয়া হলে সে এমন উটের মতো যাকে তার মালিক শক্ত করে বেঁধে আবার ছেড়ে দিলো। কিন্তু সে কিছুই বুঝলো না, তার মালিক তাকে কেনই বা শক্ত করে বাঁধলো আর কেনই বা ছেড়ে দিলো। তাঁর আশপাশে বসা লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূর! কিসের অসুস্থতা? আল্লাহর শপথ! আমি তো কখনো অসুস্থ হইনি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আমাদের এখান থেকে উঠে যাও, কারণ তুমি আমাদের দলভুক্ত নও। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমরা তাঁর কাছে বসা। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি আসলো। তার গায়ে কম্বল জড়ানো এবং তার হাতে কিছু একটা ছিলো। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে দেখতে পেয়েই আপনার কাছে উপস্থিত হলাম। গাছপালার মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় আমি পাখির বাচ্চার আওয়াজ শুনতে পাই। আমি সেগুলো ধরে আমার কম্বলের মধ্যে রাখি। বাচ্চাগুলোর মা এসে আমার উপর চক্কর দিতে লাগলো। আমি বাচ্চাগুলোকে তাদের মায়ের জন্য কম্বলের মধ্য থেকে বের করে দিলাম। পাখিটি এসে বাচ্চাগুলোর সাথে মিলিত হলো। আমি সবগুলোকে আমার কম্বল দিয়ে লেপটিয়ে ধরে ফেললাম। এখন সবগুলো পাখি আমার সাথে রয়েছে। তিনি বললেনঃ সেগুলো বের করে রাখো। সুতরাং আমি বের করলাম। কিন্তু মা পাখিটা বাচ্চাদের রেখে যেতে চাইলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেনঃ বাচ্চাদের প্রতি মা পাখিটার মায়ায় তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছো না! তারা বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ রাসূল! তিনি বললেনঃ সেই সত্তার শপথ, যিনি আমাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন! বাচ্চাদের প্রতি মা পাখিটার যে মায়া রয়েছে, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর বান্দাদের প্রতি আরো অধিক মমতাময়ী। তুমি যেখান থেকে বাচ্চাগুলোকে ধরে এনেছো মা-সহ তাদেরকে সেখানে রেখে আসো। সুতরাং সে পাখিগুলো সেখানে রেখে এলো।
Book 21 · Hadith 1 · #3086 · Daif, Daif, Daif, Daif - 2
। মুহাম্মাদ ইবনু খালিদ (রহঃ) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোনো ব্যক্তির জন্য বিনাশ্রমে আল্লাহর পক্ষ থেকে মর্যাদার আসন নির্ধারিত হলে আল্লাহ তার দেহ, সম্পদ অথবা সন্তানকে বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর সে তাতে ধৈর্য ধারণ করলে শেষ পর্যন্ত বরকতময় মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত উক্ত মর্যাদার স্তরে উপনীত হয়।
Book 21 · Hadith 2 · #3087 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Hasan - 3
। আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একবার দুইবার নয়, বহুবার বলতে শুনেছিঃ কোনো বান্দা নেক কাজ করলে এবং পরে রোগ বা সফর তাকে সে কাজ থেকে বিরত রাখলে তার আমলনামায় সুস্থ ও আবাসে অবস্থানকালে তার কৃত সৎ আমলের ন্যায় সওয়াব লেখা হবে।
Book 21 · Hadith 3 · #3088 · Hasan, Hasan, Sahih Bukhari (2996) - 4
। উম্মুল আলা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি বললেনঃ হে আলার মা! সুসংবাদ গ্রহণ করো, আগুন যেভাবে সোনা-রূপার ময়লা দূর করে দেয় তদ্রুপ মহান আল্লাহ কোনো মুসলিমের রোগের দ্বারা তার গুনাহসমূহ দূর করে দেন।
Book 21 · Hadith 4 · #3089 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 5
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে কঠোর আয়াতটি আমি অবশ্যই অবহিত আছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! সেটি কোন্ আয়াত? তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘কেউ পাপ করলে তার প্রতিফল সেই পাবে এবং সে আল্লাহর বিপক্ষে কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না।’’[সূরা আন-নিসাঃ ১২৩] তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! তুমি কি জনো, কোনো মুসলিম যখন বিপদগ্রস্ত বা নির্যাতিত হয়, এতে তার আমলের মন্দ দিকগুলো দূরীভূত হয়ে যায়। যে ব্যক্তির হিসাব নেয়া হবে সে মারা পড়বে বা শাস্তি পাবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ কি বলেননি, ‘‘যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে তার হিসাব সহজে গ্রহণ করা হবে।’’[সূরা আল-ইনশিকাক্বঃ ৮] তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ এর অর্থ আমল পেশ করা।
Book 21 · Hadith 5 · #3090 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Isnaad Hasan - 6
। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যান। তিনি তার কাছে প্রবেশ করে তার চেহারায় মৃত্যু ছাপ দেখে বললেনঃ আমি তোমাকে ইয়াহুদীদেরকে ভালোবাসতে নিষেধ করতাম। ‘আব্দুল্লাহ বললো, তাদের প্রতি আস‘আদ ইবনু যুরারাহ বিদ্বেষ পোষণ করে কি পেয়েছে? ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে তার ছেলে ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর নবী! ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেছে। তাকে কাফন দেয়ার জন্য আপনার একটি জামা দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গায়ের চাঁদরটি খুলে তাকে দিলেন।
Book 21 · Hadith 6 · #3091 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 7
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ইয়াহুদী যুবক অসুস্থ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যান। তিনি তার মাথার কাছে বসে বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। সে তার পিতার দিকে তাকালো। সেও তার মাথার কাছেই বসা ছিলো। তার পিতা তাকে বললো, আবুল কাসিমের কথা মেনে নাও। সে ইসলাম গ্রহণ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে উঠে আসার সময় বললেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাকে আমার মাধ্যমে দোযখ থেকে মুক্তি দিলেন।
Book 21 · Hadith 7 · #3092 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5657) - 8
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসেন। তিনি খচ্চর বা তুর্কী ঘোড়ায় চড়ে আসেননি।
Book 21 · Hadith 8 · #3093 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5664) - 9
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ উত্তমরূপে উযূ করে নেকীর আশায় তার কোনো (অসুস্থ) মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর খারীফ (সত্তর বছর) পথ দূরে রাখা হবে। আমি (সাবিত আল-বানানী) আবূ হামযাহকে জিজ্ঞেস করি, খারীফ শব্দের তাৎপর্য কি? তিনি বললেন, বছর। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বাসরার মুহাদ্দিসগণ শুধু ‘উযু করে রোগী দেখার, অংশটুকু বর্ণনা করেছেন।
Book 21 · Hadith 9 · #3094 · Daif, Daif, Daif, Daif - 10
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেউ বিকাল বেলা কোনো রোগীকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফিরিশতা তার সাথে রওয়ানা হয় এবং তারা তার জন্য ভোর হওয়া পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকে। উপরন্তু তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরী করা হয়। আর কোনো ব্যক্তি দিনের প্রথমভাগে রোগী দেখতে গেলে তার সাতেও সত্তর হাজার ফিরিশতা রওয়ানা হয় এবং তারা সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। তাকেও জান্নাতে একটি বাগান দেয়া হয়।
Book 21 · Hadith 10 · #3095 · Sahih Muquf, Sahih Muquf, Daif - 11
। আলী (রাঃ) থেকে এ সনদেও উপরের হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণিত। কিন্তু এতে ‘খারীফ’ শব্দের উল্লেখ নেই।
Book 21 · Hadith 11 · #3096 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 12
। আবূ জাফর ‘আব্দুল্লাহ ইবনু নাফি‘ (রহঃ) বলেন, একদা আল-হাসান ইবনু আলী (রাঃ) অসুস্থ হলে তাকে আবূ মূসা (রাঃ) দেখতে আসেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের বর্ণনা শু‘বাহ (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের সনদসূত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফূ করা হয়েছে, তবে এটি যথার্থ নয়।
Book 21 · Hadith 12 · #3097 · Sahih, Sahih, Daif - 13
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তির নিক্ষিপ্ত তীরে সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য মসজিদের ভেতর একটি তাঁবু টানালেন। যেন তিনি কাছ থেকে তাকে দেখতে পারেন।
Book 21 · Hadith 13 · #3098 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (463) Sahih Muslim (1769) - 14
। যায়িদ ইবনু আরকাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার চোখে ব্যথা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন।
Book 21 · Hadith 14 · #3099 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 15
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কোনো অঞ্চলে প্লেগ-মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কথা শুনলে সেখানে যাবে না। আর যদি কোনো এলাকায় মহামারী ছড়িয়ে পড়ে এবং তোমরাও সেখানে অবস্থান করো, তাহলে সেখান থেকে পালিয়ে এসো না।
Book 21 · Hadith 15 · #3100 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5729) Sahih Muslim (2219) - 16
। সা‘দ কন্যা ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তার পিতা বলেছেন, আমি মক্কাতে অসুস্থ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন। তিনি আমার কপালে হাত রাখলেন এবং বুক ও পেট মলে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! সা‘দকে রোগমুক্ত করে দিন এবং তার হিজরাতকে পূর্ণ করে দিন।
Book 21 · Hadith 16 · #3101 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5659) - 17
। আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রোগীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো। সুফিয়ান আস-সাওরী (রহঃ) বলেন, ‘আল-আনী’ অর্থ বন্দী।
Book 21 · Hadith 17 · #3102 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5373) - 18
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি এমন রোগীকে দেখতে গেলো যার অন্তিম সময় আসেনি, সে যেন তার সামনে সাতবার বলেঃ 'আমি মহান আরশের প্রভু মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তোমাকে রোগমুক্তি দেন', তাহলে তাকে নিশ্চয়ই রোগমুক্তি দেয়া হবে।
Book 21 · Hadith 18 · #3103 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 19
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোনো রোগীকে দেখতে গেলে সে যেন বলেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে আরোগ্য দিন যাতে সে আপনার উদ্দেশ্যে শত্রুকে আঘাত হানতে পারে এবং আপনার জন্য জানাযার বা সালাতে শরীক হতে পারে।
Book 21 · Hadith 19 · #3104 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 20
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা না করে। বরং সে যেন বলে, ‘‘হে আল্লাহ! যে পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, আমাকে ততক্ষণ জীবিত রাখুন এবং যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর, তখন আমাকে মৃত্যু দিন।’’
Book 21 · Hadith 20 · #3105 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari (6351) Sahih Muslim (2680) - 21
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে... হাদীসের বাকী অংশ উপরের হাদীসে অনুরূপ।
Book 21 · Hadith 21 · #3106 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 22
। বনূ সুলাইমের উবাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম সাহাবী ছিলেন। অধস্তন বর্ণনাকারী মুসাদ্দাদ এটি কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মারফূ’ হাদীসরূপে আবার কখনো উবাইদ ইবনু খালিদের কাছ থেকে মওকুফ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আকস্মিক মৃত্যু গযবের দ্বারা গ্রেপ্তারস্বরূপ।
Book 21 · Hadith 22 · #3107 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Isnaad Sahih - 23
। জাবির ইবনু আতীক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে দেখতে যান। তিনি দেখলেন, সে বেহুঁশ অবস্থায় রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সশব্দে ডাকলেন। কিন্তু তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিতে পারলেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’’ পাঠ করলেন। তিনি বললেনঃ হে আবুর রাবী’! ‘আমরা তোমার ব্যাপারে পরাজিত। এতে মহিলারা চিৎকার করলো এবং কাঁদতে লাগলো। ইবনু আতীক (রহঃ) তাদেরকে থামাতে চেষ্টা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলরেন তাদের ছেড়ে দাও। ওয়াজিব হয়ে গেলে কোনো ক্রন্দনকারিণীই কাঁদবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওয়াজিবের তাৎপর্য কি? তিনি বললেনঃ মৃত্যু। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিতের কন্যা বললো, আল্লাহর শপথ! আমি মনে করেছিলাম, (হে আমার পিতা) তুমি শহীদ হবে। কারণ তুমি জিহাদের সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মহামহিম আল্লাহ নিশ্চয়ই তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তোমরা কাকে শহীদ বলে গণ্য করো? তারা বললেন, আল্লাহর পথে (যুদ্ধে) নিহত ব্যক্তিকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী শহীদ, পানিতে ডুবে নিহত ব্যক্তি শহীদ, চাপা পড়ে নিহত ব্যক্তি শহীদ এবং প্রসবকালীন কষ্টে নিহত নারী শহীদ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আল-জুমউ’ অর্থ গর্ভবর্তী মহিলা।
Book 21 · Hadith 23 · #3108 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 24
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনুল হারিস ইবনু ‘আমির ইবনু নাওফাল খুবাইব (রাঃ)-কে খরিদ করেছিল। ইনি সেই খুবাইব যিনি বদর যুদ্ধের দিন আল-হারিস ইবনু ‘আমিরকে হত্যা করেছেন। খুবাইব (রাঃ) তাদের কাছে বন্দী ছিলেন। তারা তাকে হত্যা করতে একত্র হলো। তিনি হারিসের কন্যার কাছে ক্ষৌরি হওয়ার জন্য একটি ছুরি চাইলেন। সে তাকে তা এনে দিলো। তার অজান্তেই তার শিশু পুত্রটি খুবাইবের এসে পড়লো। স্ত্রীলোকটি এসে দেখলো, ছেলেটি তার রানের উপর বসে আছে এবং তার হাতে ঐ ধারাল ছুরিটি রয়েছে। সে খুব ভীত হয়ে পড়লো। তার চেহারা দেখে খুবাইব তা বুঝতে পেরে বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছো আমি একে হত্যা করবো, আমি কখনো এরূপ করবো না।
Book 21 · Hadith 24 · #3109 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3989، 3045) - 25
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পূর্বে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যু বরণ না করে।
Book 21 · Hadith 25 · #3110 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2877) - 26
। আবূ সাঈদ আল-খুদঈ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি নতুন কাপড় নিয়ে ডাকলেন এবং তা পরিধান করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোনো ব্যক্তি যে কাপড় পরিধান করে মারা যাবে, কিয়ামতের দিন তাকে ঐ কাপড়েই উঠানো হবে।
Book 21 · Hadith 26 · #3111 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 27
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোনো মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হলে উত্তম কথা বলবে। কেননা কথার সাথে ফিরিশতারা আমীন আমীন বলেন। আবূ সালামাহ (রাঃ) মারা গেলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি বলবো? তিনি বললেনঃ তুমি বলো, ‘‘হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে কল্যাণকর পরিণতি দান করুন।’’ উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, এ দু‘আর বদৌলতে মহান আল্লাহ আমার কল্যাণময় পরিণতি দান করলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (তাঁর সাথে বিবাহ হয়)।
Book 21 · Hadith 27 · #3112 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (919) - 28
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার সর্বশেষ বাক্য হবে ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
Book 21 · Hadith 28 · #3113 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 29
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মৃত্যুপথ যাত্রীকে ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ তালক্বীন দাও।
Book 21 · Hadith 29 · #3114 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (916) - 30
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করেন। তখনো তার চোখ খোলা থাকায় তিনি তা বন্ধ করে দেন। অতঃপর তার পরিবারের কিছু লোক চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। তিনি বললেনঃ নিজেদের জন্য কল্যাণ কামনা ছাড়া তোমরা অযথা কিছু বলো না। কারণ তোমরা যা বলবে তার সাথে সাথে ফিরিশতারা আমীন বলবেন। পুনরায় তিনি বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আবূ সালামাহকে ক্ষমা করে দাও এবং তাকে হেদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদা দান করো। তার পেছনে যারা রয়ে গেলো, তুমিই তাদের অভিভাবক হও। হে জগতসমূহের প্রতিপালক! তার কবরকে প্রশস্ত করো এবং তা আলোকিত করো।’’ আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, রূহ বের হয়ে যাওয়ার পর চোখ বন্ধ করে দিবে। আবূ মাইসারাহ (রহঃ) নামক এক ইবাদতগুজার ব্যক্তি বলেন, আমি ইবাদতপ্রিয় জা‘ফার আল-মু‘আল্লিম (রাঃ)-এর মৃত্যুকালে তার চোখ বন্ধ করে দিয়েছি। তার মৃত্যুর রাতে আমি তাকে স্বপ্নে দেখি এবং তিনি বললেন, মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে তুমি যে আমার চোখ বন্ধ করে দিয়েছিলে তা ছিলো আমার প্রতি তোমার মহা অনুগ্রহ।
Book 21 · Hadith 30 · #3115 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (920) - 31
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো উপর বিপদ আসলে সে যেন বলেঃ ‘‘‘আমরা আল্লাহর জন্য এবং ‘আমরা নিশ্চয়ই তাঁর কাছে ফিরে যাবো। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আমার বিপদের কথা পেশ করছি। সুতরাং আমাকে এর উত্তম প্রতিফল দান করুন এবং বিপদকে আমার জন্য কল্যাণকর বস্তুতে পরিবর্তন করে দিন।’’
Book 21 · Hadith 31 · #3116 · Sahih, Sahih, Hasan - 32
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি ডোরাদার চাঁদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছিল।
Book 21 · Hadith 32 · #3117 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5814) Sahih Muslim (942) - 33
। মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের নিকট ‘সূরা ইয়াসীন’ পাঠ করো।
Book 21 · Hadith 33 · #3118 · Daif, Daif, Daif, Daif - 34
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়িদ ইবনু হারিসাহ, জা‘ফার ও ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) যখন শহীদ হন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গিয়ে বসেন। তাঁর চেহারায় চিন্তার ছাপ পরিলক্ষিত হলো।
Book 21 · Hadith 34 · #3119 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1305) Sahih Muslim (935) - 35
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ‘আমরা একটি লাশ দাফন করলাম। ‘আমরা অবসর হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলেন। ‘আমরাও তাঁর সাথে ফিরে এলাম। তিনি ঘরের দরজার নিকট পৌঁছে থামলেন। ‘আমরা এক মহিলার মুখোমুখি হলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ধারণা করলাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিলাটিকে চিনতে পেরেছেন। মহিলাটি চলে যাওয়ার সময় দেখা গেলো, তিনি তো ফাতিমাহ (রাঃ)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ফাতিমাহ! কোন্ জিনিস তোমাকে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এসেছিলাম এ বাড়ির লোকদের সান্ত্বনা দিতে এবং ধৈর্য ধারণের নসিহত করতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ খুব সম্ভব তুমি তাদের সাথে কবর পর্যন্ত গিয়েছিলে! তিনি বললেন, আল্লাহর আশ্রয় চাই। নারীদের কবরস্থানে যাওয়ার বিষয়ে আমি আপনার আলোচনা শুনেছি। তিনি বললেনঃ যদি তুমি তাদের সাথে কবরস্থানে যেতে তাহলে আমি তোমাকে এই করতাম। তিনি এ বিষয়ে কঠোর বাণী উচ্চারণ করলেন। আমি (মুফাদ্দাল) রবী‘আহকে ‘আল-কুদা’ শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমার ধারণা, এর অর্থ কবর।
Book 21 · Hadith 35 · #3120 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 36
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার কাছে যান। মহিলাটি তার ছেলের মৃত্যুশোকে কাঁদছিলো। তিনি তাকে বললেনঃ আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধরো। মহিলাটি বললো, তুমি তো আমার মতো বিপদগ্রস্ত হওনি। তাকে বলা হলো, ইনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পরে মহিলাটি তাঁর বাড়িতে এলো, কিন্তু দরজায় কোনো দারোয়ান দেখলো না। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তখন আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ প্রকৃত ধৈর্য বিপদের প্রথম দিকেই।
Book 21 · Hadith 36 · #3121 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1252) Sahih Muslim (926) - 37
। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা [যাইনাব (রাঃ)] তাঁর নিকট লোক পাঠালেন। তখন আমি ও সা‘দ (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলাম। সম্ভবতঃ উবাই (রাঃ) আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বলে পাঠান, আমার একটি শিশু পুত্র বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) কন্যা মুমূর্ষ অবস্থায় আছে। আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি তাকে লোক মারফত সালাম পাঠিয়ে বললেনঃ বলো, আল্লাহ যা গ্রহণ করেন এবং যা দান করেন তা সবই তাঁর। তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুর একটা নির্দিষ্ট সময়কাল আছে। তিনি পুনরায় কসম দিয়ে লোক পাঠালেন। তিনি সেখানে গেলেন। বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে রাখা হলো। তখন তার প্রাণ ছটফট করছিল। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। সা‘দ (রাঃ) তাঁকে বললেন, এ কি? তিনি বললেনঃ এটাই হলো মায়া। আল্লাহ যাদেরকে চান তাদের অন্তরে এটি স্থাপন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের দয়া করেন।
Book 21 · Hadith 37 · #3122 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1284) Sahih Muslim (923) - 38
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজ রাতে আমার ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। আমি আমার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম (আঃ)-এর নাম অনুসারে তার নাম রেখেছি ইবরাহীম। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখেছি ইবরাহীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনেই প্রাণ ত্যাগ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’ চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। তিনি বললেনঃ চোখ অশ্রু ঝরাচ্ছে, অন্তর দুঃখভারাক্রান্ত, তবুও ‘আমরা শুধুমাত্র তাই বলবো যাতে আমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হবেন (অর্থাৎ ইন্না লিল্লাহি ওয়া...)। হে ইবরাহীম! তোমার বিচ্ছেদে ‘আমরা শোকার্ত।
Book 21 · Hadith 38 · #3123 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2315) - 39
। উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উচ্চস্বরে বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করেছেন।
Book 21 · Hadith 39 · #3124 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7215) - 40
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাপকারিণী ও তা শ্রবণকারিণীকে অভিশম্পাত করেছেন।
Book 21 · Hadith 40 · #3125 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 41
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেয়া হয়। এ কথা ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, এ ধরণের কথা ইবনু ‘উমার কোথেকে শুনেছে। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ কবরবাসীর পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটির কারণে এ কবরের বাসিন্দাকে শাস্তি দেয়অ হচ্ছে। অতঃপর ‘আয়িশাহ (রাঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘একের বোঝা অন্যের উপর চাপানো হবে না।’’[সূরা আল-আন‘আমঃ ১৬৪, বনী ইসরাঈলঃ ১৫, ফাতিরঃ ১৮, যুমারঃ ৩৯ এবং নাজমঃ ৩৮] হান্নাদ (রহঃ) আবূ মু'আবিয়ার সুত্রে বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ইয়াহুদীর কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম।
Book 21 · Hadith 41 · #3126 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3979، 3980، 3981) Sahih Muslim (932) - 42
। যায়িদ ইবনু আওস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ আবূ মূসা (রাঃ)-কে দেখতে যাই, তার স্ত্রী কাঁদতে লাগলেন। আবূ মূসা (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ শুননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কান্না থামিয়ে চুপ হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) যখন মারা যান, তখন ইয়াযীদ বলেন, আমি মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে বললাম, আবূ মূসা আপনাকে কী বলেছিলেন? (তিনি বলেছিলেন), তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ শুননি- অতঃপর আপনি তখন চুপ হয়েছিলেন। মহিলাটি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মৃত্যুশোকে প্রকাশে) যে মহিলা মাথা মুড়িয়ে বিলাপ করে কাঁদে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
Book 21 · Hadith 42 · #3127 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 43
। আসীদ ইবনু আবূ আসীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বাই‘আত গ্রহণকারী জনৈক মহিলার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছ থেকে যেসব সৎকাজের বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন তাতে এটাও ছিলোঃ ‘আমরা তাঁর অবাধ্য হবো না, মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করবো না, বুক চাপড়াবো না, ধ্বংসের আহবান করবো না, কাপড়-চোপড় ফাঁড়বো না এবং চুল এলোমেলো করবো না।
Book 21 · Hadith 43 · #3128 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 44
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জা‘ফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরী করো। কারণ তাদের কাছে এমন দুঃসংবাদ এসেছে যা তাদেরকে ব্যস্ত রাখবে।
Book 21 · Hadith 44 · #3129 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Hasan - 45
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির বুকে বা কণ্ঠনালীতে একটি তীর বিদ্ধ হলে তাতেই সে নিহত হলো। অতঃপর তার পরিহিত কাপড়েই তাকে (দাফনে) জড়ানো হলো। ‘আমরা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই ছিলাম।
Book 21 · Hadith 45 · #3130 · Hasan, Hasan, Daif - 46
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন যে, তাদের শরীর থেকে যুদ্ধাস্ত্র ও চামড়ার বস্ত্র খুলে নিয়ে তাদের রক্তমাখা পরিধেয় বস্ত্রসহ তাদেরকে দাফন করতে হবে।
Book 21 · Hadith 46 · #3131 · Daif, Daif, Daif - 47
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উহুদ যুদ্ধের শহীদদেরকে গোসল দেয়া হয়নি। তাদেরকে রক্তরঞ্জিত দেহেই দাফন করা হয় এবং তাদের উপর জানাযা পড়া হয়নি।
Book 21 · Hadith 47 · #3132 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 48
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাহ (রাঃ)-এর (লাশের) পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে দেখলেন, তার লাশ বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ সাফিয়্যাহ (হামযাহর বোন) যদি কষ্ট না পেতো তাহলে আমি তার লাশ পড়ে থাকতে দিতাম এবং পশু-পাখিরা তা খেয়ে নিতো এবং কিয়ামতের দিন তাকে এদের পেট থেকেই উত্থিত করা হতো। এ সময় কাফনের কাপড় কম ছিলো, কিন্তু মৃতদেহ ছিলো অনেক। ফলে এক, দুই, এমন কি তিন ব্যক্তিকে একই কাপড়ে জড়িয়ে কাফন দেয়া হয়। কুতাইবাহর বর্ণনায় রয়েছেঃ অতঃপর তাদেরকে একই কবরে দাফন করা হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করতেনঃ এদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী ছিলো। তিনি তাকে (কিবলাহর দিকে (ডানে) রাখতেন।
Book 21 · Hadith 48 · #3133 · Hasan, Hasan, Daif - 49
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাহ (রাঃ)-এর লাশের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে দেখলেন, তার মৃতদেহ বিকৃত করা হয়েছে। তিনি হামযাহ (রাঃ) ছাড়া অন্য কোনো শহীদ জানাযা পড়েননি।
Book 21 · Hadith 49 · #3134 · Hasan, Hasan, Daif - 50
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দু’ জনকে একই কবরে দাফনের নির্দেশ দেন এবং জিজ্ঞেস করতে থাকেনঃ এদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী ছিলো। অতঃপর তাদের কারো প্রতি ইঙ্গিত করা হলে তাকেই তিনি প্রথম কবরে রাখতেন। তিনি বললেনঃ আমি কিয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষী হবো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে রক্তমাখা দেহে দাফনের নির্দেশ দেন এবং তাদের গোসল দিলেন না।
Book 21 · Hadith 50 · #3135 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1343) - 51
। লাইস (রাঃ) থেকে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দু’ দু’ ব্যক্তিকে একই কাপড়ে একত্রে কাফন দেন।
Book 21 · Hadith 51 · #3136 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 52
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার রান অনাবৃত করবে না এবং জীবিত ও মৃত কারো রানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না।
Book 21 · Hadith 52 · #3137 · Very Daif, Very Daif, Daif - 53
। আব্বাস ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে যখন সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তারা বললেন, আল্লাহর শপথ! ‘আমরা বুঝে উঠতে পারছি না, ‘আমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বস্ত্র খুলে নিবো যেভাবে সাধারণ লোকের মৃতদেহ থেকে বস্ত্র খুলে নেই, নাকি তাঁর পরিধেয় বস্ত্রসহ তাঁকে গোসল দিবো? তারা এ নিয়ে মতভেদে লিপ্ত হলে মহান আল্লাহ তাদের উপর ঘুম চাপিয়ে দিলেন। ঘুমের ঘোরে তাদের প্রত্যেকের থুতনি নিজ নিজ বুকের সাথে ঠেকে গেলো। এমতাবস্থায় ঘরের এককোণ থেকে অদৃশ্য আওয়াজ আসলো। ঐ আওয়াজ কে দিলো তা জানা গেলো না। ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাপড়ে আবৃত অবস্থায়ই গোসল দাও।’’ একথা শুনে তারা জেগে উঠলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর জামা পরিহিত অবস্থায় গোসল দিলেন। তারা জামার উপর পানি ঢাললেন এবং হাতের পরিবর্তে জামা দিয়ে তাঁর শরীর রগরালেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি যদি আগে বুঝতে পারতাম যা পরে বুঝতে পেরেছি তাহলে তাঁর স্ত্রীরাই তাঁর গোসল দিতেন।
Book 21 · Hadith 53 · #3138 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 54
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা [যাইনাব (রাঃ)] মারা গেলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তোমরা তাকে কুল পাতা মেশানো সিদ্ধ পানি দিয়ে তিন, পাঁচ অথবা প্রয়োজনবোধ এর চেয়ে অধিকবার গোসল করাও এবং শেষবারে কাফুর মিশিয়ে নাও। গোসল দেয়া হলে তোমরা আমাকে খবর দিবে। অতঃপর ‘আমরা গোসল দেয়া শেষ করে তাঁকে খবর দিলাম। তিনি তাঁর ব্যবহৃত একখানা কাপড় দিয়ে আমাদেরকে বললেনঃ এটা তার গায়ে পরিয়ে দাও।
Book 21 · Hadith 54 · #3139 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1253) Sahih Muslim (939) - 55
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা তার [যয়নাব (রাঃ)] চুলগুলো তিন গোছায় ভাগ করেছিলাম।
Book 21 · Hadith 55 · #3140 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (939) - 56
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁর (যাইনাবের) মাথার চুল তিন গোছায় ভাগ করলাম। এরপর কপালের (একভাগ) চুল এবং মাথার দু’পাশের (দু’ ভাগ) চুল তার পিছনের দিকে ফেলে দিলাম।
Book 21 · Hadith 56 · #3141 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1263) Sahih Muslim (939) - 57
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যার (যাইনাবের) গোসল সম্পর্কে তাদেরকে বললেনঃ তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং উযুর অঙ্গসমূহ থেকে গোসল দেয়া আরম্ভ করবে।
Book 21 · Hadith 57 · #3142 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (167) Sahih Muslim (939) - 58
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে হাফসাহ (রহঃ)-ও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে এও রয়েছেঃ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অথবা সাতবার বা প্রয়োজনে এর চেয়ে অধিকবার গোসল দিবে।
Book 21 · Hadith 58 · #3143 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1253) Sahih Muslim (939) - 59
। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ)-এর নিকট গোসল দেয়ার পদ্ধতি শিখেছেন। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, কুলপাতা মিশানো গরম পানি দিয়ে দু’ বার এবং কর্পুর মিশ্রিত পানি দিয়ে একবার গোসল দিতে হয়।
Book 21 · Hadith 59 · #3144 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 60
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুৎবা দেয়ার সময় তাতে তাঁর এক সাহাবীর কথা উল্লেখ করলেন। ঐ সাহাবী মারা গেলে লোকেরা তাকে রাতের বেলায় অপর্যাপ্ত কাপড়ে কাফন দিয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে রাতের বেলায় কবরস্থ করাকে তিরস্কার করলেন, যেন লোকজন জানাযা শরীক হতে পারে। তবে কেউ বিশেষ কারণে রাতে কবর দিতে চাইলে তা ভিন্ন কথা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইকে কাফন পরালে যেন উত্তমরূপে কাফন পরায়।
Book 21 · Hadith 60 · #3145 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (943) - 61
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (তাঁর ইন্তেকালের পর) একটি ডোরাদার ইয়ামেনী চাঁদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। অতঃপর তা পাল্টিয়ে সাদা চাঁদরে ঢেকে দেয়া হয়।
Book 21 · Hadith 61 · #3146 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 62
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ মারা গেলে এবং তার পরিজন সচ্ছল হলে তারা যেন ডোরাদার ইয়ামেনী চাদরে কাফন দেন।
Book 21 · Hadith 62 · #3147 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 63
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (তাঁর ইন্তেকালের পর) ইয়ামেনের তৈরী তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। কাফনে কোনো কামীস ও পাগড়ী ছিলো না।
Book 21 · Hadith 63 · #3148 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1272) Sahih Muslim (941) - 64
। হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছ থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তাতে সুতীর কাপড় উল্লেখ আছে। কেউ ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট লোকজনের বক্তব্য তাঁর কাফনে দু’টি সাদা কাপড় ও একটি কারুকার্য খচিত ইয়ামেনী চাদর ছিলো উল্লেখ করলে তিনি বলেন, (কাফনের জন্য) ইয়ামেনী চাদরটি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সাহাবীগণ তা ফিরিয়ে দেন। তারা তাঁকে ঐ চাঁদরে কাফন দেননি।
Book 21 · Hadith 64 · #3149 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1271) Sahih Muslim (941) - 65
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনটি কাপড়ে কাফন দেয়া হয়। এগুলো ছিলো নাজরানের তৈরী। যার একটি ছিলো চাদর, একটি লুঙ্গি এবং অপরটি ছিলো মৃত্যুশয্যায় তাঁর পরিহিত পোশাক। উসমান ইবনু আবূ শাইবাহর বর্ণনায় রয়েছেঃ তাকে তিনটি কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল- যার দু’টি চাদর লাল বর্ণের এবং যে জামা পরিহিত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
Book 21 · Hadith 65 · #3150 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 66
। আলী ইবনু তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা বেশি দামী কাফন ব্যবহার করবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কাফনের জন্য বেশি দামী কাপড় ব্যবহার করো না। কেননা তা শিঘ্রই নষ্ট হয়ে যাবে।
Book 21 · Hadith 66 · #3151 · Daif, Daif, Daif - 67
। আবূ ওয়াইল (রাঃ) থেকে খাব্বাব (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তার কাফনের জন্য একটি কম্বল ছাড়া কিছুই ছিলো না। ‘আমরা তা দিয়ে তার মাথা ঢাকলে তার দু’ পা উন্মুক্ত হয়ে যেতো আবার তার দু’ পা ঢাকলে তার মাথা উন্মুক্ত হয়ে যেতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ কম্বল দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং তার দু’ পায়ের উপর ইযখির ঘাস বিছিয়ে দাও।
Book 21 · Hadith 67 · #3152 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3913، 6432) Sahih Muslim (940) - 68
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম কাফন হচ্ছে হুল্লা এবং কুরবানীর জন্য উত্তম পশু হচ্ছে শিংওয়ালা দুম্বা।
Book 21 · Hadith 68 · #3153 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 69
। গাক্বীফ গোত্রের কাফিনের কন্যা লায়লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা উম্মু কুলসুম (রাঃ) মারা গেলে যে মহিলা তাকে গোসল দেয় তার সাথে ‘আমিও ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (কাফনের জন্য) প্রথমে তহবন্দ, তারপর কামীস, তারপর ওড়না, তারপর চাদর এবং অন্য একটি কাপড় দিলেন। যা দিয়ে লাশ পেচিয়ে দেয়া হলো। লায়লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফনের কাপড়সহ দরজার পাশেই বসা ছিলেন। তিনি সেখান থেকে একটি একটি করে কাপড়গুলো আমাদেরকে প্রদান করেন।
Book 21 · Hadith 69 · #3154 · Daif, Daif, Daif, Daif - 70
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সুগন্ধির মধ্যে সর্বোত্তম হলো কস্তুরী।
Book 21 · Hadith 70 · #3155 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 71
। আল-হুসাইন ইবনু ওয়াহওয়াজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তালহা ইবনুল বারাআ (রাঃ) অসুস্থ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে এসে বললেনঃ আমি দেখতে পাচ্ছি তালহার মৃত্যু আসন্ন। কাজেই তোমরা আমাকে তার খবর জানাবে এবং তার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা দ্রুত করবে। কেননা কোনো মুসলিমের লাশ তার পরিবারের মধ্যে আটকে রাখা ঠিক নয়।
Book 21 · Hadith 71 · #3156 · Daif, Daif, Daif, Daif - 72
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) থেকে ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি যুবায়র (রাঃ)-কে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার অবস্থায় গোসল করতেনঃ সহবাসের পর, জুমু‘আহর দিনে গোসল, শিঙ্গা লাগানোর পর এবং মৃতকে গোসল দেয়ার পর গোসল।
Book 21 · Hadith 72 · #3157 · Daif, Daif, Daif, Hasan - 73
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দেয় সে যেন গোসল করে এবং যে ব্যক্তি লাশ বহন করে সে যেন উযু করে।
Book 21 · Hadith 73 · #3158 · Sahih, Sahih, Daif - 74
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মৃতকে গোসল দেয়ার পর গোসল করা সম্পর্কিত হাদীস রহিত হয়েছে। আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলের নিকট শুনেছি, তাকে মৃতের গোসল দেয়ার পর গোসল করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তার জন্য উযু করাই যথেষ্ট। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ সালিহ এ হাদীসের সনদে তার ও আবূ হুরাইরাহর মাঝে ইসহাক্বের নাম ঢুকিয়েছেন। তিনি বলেন, মুস‘আবের হাদীসটি দুর্বল। তাতে এমন কিছু আছে, যার উপর আমল করা হয় না।
Book 21 · Hadith 74 · #3159 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 75
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উসমান ইবনু মাযউনের লাশে চুমু খেতে দেখেছি। আমি তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখেছি।
Book 21 · Hadith 75 · #3160 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 76
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাতের বেলায় কবরস্থানে আলো দেখতে পেয়ে লোকেরা সেখানে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখলো। তিনি বললেনঃ তোমাদের সাথীকে আমার কাছে দাও। এ লোকটি উচ্চস্বরে যিকির করতো।
Book 21 · Hadith 76 · #3161 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 77
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা উহুদের শহীদদের দাফনের জন্য অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষক এসে ঘোষণা করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, শহীদদের লাশ যেন তাদের নিহত হওয়ার স্থানে দাফন করা হয়। সুতরাং ‘আমরা তাদের লাশ (পূর্বের স্থানে) ফিরিয়ে আনি।
Book 21 · Hadith 77 · #3162 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 78
। মালিক ইবনু হুবাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ মারা গেলে এবং মুসলিমদের তিন কাতার লোক তার জানাযা পড়লে (আল্লাহ তার জন্য জান্নাত) ওয়াজিব করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, এ কারণে মালিক (রাঃ) জানাযায় লোক সংখ্যা কম হলে তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করতেন, এ হাদীস মোতাবেক আমলের উদ্দেশ্যে।
Book 21 · Hadith 78 · #3163 · Daif, Daif, Daif - 79
। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মহিলাদেরকে জানাযায় অংশগ্রহণে নিষেধ করা হয়, তবে এ বিষয়ে আমাদের উপর কড়াকড়ি করা হয়নি।
Book 21 · Hadith 79 · #3164 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (313) Sahih Muslim (938 After 1491) - 80
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন), যে ব্যক্তি লাশের অনুগমন করে এবং তার জানাযা আদায় করে তার জন্য এক ক্বীরাত সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি লাশের অনুগমন করে এবং দাফন শেষ করা পর্যন্ত শরীক থাকে তার জন্য রয়েছে দু’ ক্বীরাত সওয়াব। এ দু’ ক্বীরাতের ছোট ক্বীরাতটি উহুদ পাহাড়ের সমান অথবা উভয়ের একটি উহুদ পাহাড়ের সমান।
Book 21 · Hadith 80 · #3165 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 81
। দাঊদ ইবনু ‘আমির ইবনু সা‘দ ইবনু ওয়াক্কাস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা দাঊদের পিতা ‘আমির (রাঃ) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় ক্ষুদ্র কুটিরবাসী খাব্বাব (রাঃ) এসে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার! আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কি বলেছেন তা কি আপনি শুনেছেন? তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃতের ঘর থেকে রওয়ানা হয়ে তার পিছনে পিছনে যায় এবং তার জানাযা পড়ে... অতঃপর সুফিয়ানের হাদীসের অনুরূপ। ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে লোক পাঠালে তিনি বললেন, আবূ হুরাইরাহ ঠিকই বলেছেন।
Book 21 · Hadith 81 · #3166 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (945) - 82
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোনো মুসলিম মারা গেলে তার জানাযায় যদি এমন চল্লিশ ব্যক্তি অংশ গ্রহণ করে যারা কখনো আল্লাহর সাথে শরীক করে নাই তবে তার জন্য তাদের সুপারিশ মঞ্জুর করা হবে।
Book 21 · Hadith 82 · #3167 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (948) - 83
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে এবং আগুন নিয়ে লাশের অনুসরণ করা যাবে না। হারূনের বর্ণনায় রয়েছেঃ লাশের আগে আগেও চলা যাবে না।
Book 21 · Hadith 83 · #3168 · Daif, Daif, Daif - 84
। ‘আমির ইবনু রবী‘আহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তোমরা জানাযা বহন করে নিয়ে যেতে দেখো তাহলে তা তোমাদেরকে অতিক্রম না করা পর্যন্ত অথবা নীচে নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়িয়ে থাকবে।
Book 21 · Hadith 84 · #3169 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1307) Sahih Muslim (958) - 85
। ইবনু আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন লাশের অনুসরণ করবে তখন তা নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত বসবে না। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সুফিয়ান সাওরী এ হাদীসটি সুহাইলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার পিতা থেকে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ লাশ মাটিতে না নামানো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। আবূ মু‘আবিয়াহও হাদীসটি সুহাইবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ লাশ কবরে না নামানো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সুফিয়ান (রাঃ) আবূ মু‘আবিয়াহর তুলনায় অধিক স্মৃতি সম্পন্ন।
Book 21 · Hadith 85 · #3170 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 86
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। এমন সময় আমাদের সামনে দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর ‘আমরা তা বহন করতে অগ্রসর হয়ে দেখি সেটা ইয়াহুদীর লাশ। ‘আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো ইয়াহুদীর লাশ। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই মৃত্যু একটি ভয়াবহ ঘটনা। কাজেই তোমরা কোনো লাশ নিয়ে যেতে দেখলে উঠে দাঁড়াবে।
Book 21 · Hadith 86 · #3171 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1311) Sahih Muslim (960) - 87
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো লাশ নিয়ে যেতে দেখলে প্রথমে দাঁড়াতেন, তারপর বসে পড়তেন।
Book 21 · Hadith 87 · #3172 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (962) - 88
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়া হলে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তা কবরে না নামানো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন। একবার এক ইয়াহুদী ‘আলিম তাঁর কাছে এসে বললো, ‘আমরাও এরূপ করি। একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে গেলেন এবং বললেনঃ তোমরা তাদের বিপরীত করার জন্য বসে যাও।
Book 21 · Hadith 88 · #3173 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 89
। সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বাহন আনা হলো। তিনি তখন একটি লাশের সাথে সাথে চলছিলেন। তিনি সাওয়ারীতে চড়তে অসম্মতি জানালেন। অতঃপর (লাশ দাফন থেকে) অবসর হলে তাঁকে সাওয়ারী দেয়া হলে তিনি তাতে চড়লেন। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ ফিরিশতারা পায়ে হেঁটে লাশের সাথে যাচ্ছিলেন। তাদের হেঁটে যাওয়া অবস্থায় আমার বাহনে চড়ে যাওয়া সংগত মনে করিনি। অতঃপর তারা যখন চলে গেলেন তখন আমি সাওয়ারীতে আরোহণ করলাম।
Book 21 · Hadith 89 · #3174 · Sahih, Sahih, Daif - 90
। সিমাক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনুদ দাহদাহ্ (রাঃ)-এর জানাযা আদায় করলেন। তাতে ‘আমরাও শরীক ছিলাম। অতঃপর একটি ঘোড়া আনা হলে, তিনি তা বেঁধে রাখলেন। পরে তিনি তাতে আরোহণ করলে ঘোড়াটি দ্রুত যেতে থাকে। তখন ‘আমরাও তাঁর চারপাশে সাথে সাথে দৌঁড়িয়ে চলছিলাম।
Book 21 · Hadith 90 · #3175 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (965) - 91
। সালিম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ)-কে লাশের আগে আগে চলতে দেখেছি।
Book 21 · Hadith 91 · #3176 · Sahih, Sahih, Sahih - 92
। যিয়াদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) তার পিতা থেকে মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা, যিয়াদ পরিবারের সদস্যরা আমাকে জানিয়েছেন, যিয়াদ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাহনে আরোহী ব্যক্তি লাশের পিছনে পিছনে চলবে এবং পায়ে হাটা ব্যক্তি লাশের পিছনে, সামনে, ডানে বামে এবং সাথে সাথেও যেতে পারবে। অপূর্ণাঙ্গভাবে প্রসবিত বাচ্চার জানাযা পড়তে হবে এবং তার পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা ও রহমতের দু‘আ করতে হবে।
Book 21 · Hadith 92 · #3177 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 93
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মৃতের দাফন-কাফনের কাজ জলদি করবে। কেননা সে যদি নেককার হয় তবে তো ভালো। তাকে তোমরা তার কল্যাণকর পরিণতির দিকে দ্রুত পৌঁছে দিবে। আর যদি সে খারাপ লোক হয় তবে তো অমঙ্গল। তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে অমঙ্গলকে দ্রুত নামিয়ে দিলে।
Book 21 · Hadith 93 · #3178 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1315) Sahih Muslim (944) - 94
। উয়াইনাহ ইবনু ‘আব্দুর রাহমান (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) উসমান ইবনু আবুল আস (রাঃ)-এর লাশের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে হাঁটছিলাম। এমন সময় আবূ বাকরাহ (রাঃ) আমাদের সাথে মিলিত হলেন। তিনি তার চাবুক উঠিয়ে বললেন, তোমরা তো দেখেছো যে, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (লাশ নিয়ে) দ্রুত চলেছি।
Book 21 · Hadith 94 · #3179 · Shadh, Shadh, Sahih, Isnaad Sahih - 95
। উয়াইনাহ (রহঃ) থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে এতে রয়েছেঃ এটি ছিলো ‘আব্দুর রাহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ)-এর জানাযার ঘটনা। আবূ বাকরাহ (রাঃ) দ্রুত তার খচ্চর হাঁকালেন এবং (দ্রুত চলতে) তার চাবুক দিয়ে ইশারা করলেন।
Book 21 · Hadith 95 · #3180 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 96
। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানাযার সাথে চলার নিয়ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ দৌড়ের চেয়ে কিছুটা কম গতিতে চলবে। যদি নেককার হয় তবে ‘আমরা তাকে দ্রুত তার উত্তম পরিণতির দিকে পৌঁছে দিচ্ছি। আর যদি সে এর বিপরীত হয় তবে আগুনের বাসিন্দারা ধ্বংস হয়েছে। জানাযা (লাশ) আগে আগে থাকবে আর লোকেরা তার পিছনে চলবে। যে ব্যক্তি লাশের আগে চলে সে যেন জানাযার সাথেই যাচ্ছে না। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। তিনি হলেন,ইয়াহইয়া আল-জাবির। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি কুফার অধিবাসী। আর আবূ মাজিদা বাসরাহর অধিবাসী। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এই আবূ মাজিদা অজ্ঞাত।
Book 21 · Hadith 96 · #3181 · Daif, Daif, Daif, Daif - 97
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি অসুস্থ হলে তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো। তার এক প্রতিবেশী এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললো, সে মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি বললেনঃ তুমি কিভাবে জানলে? সে বললো, আমি দেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই সে মারা যায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি ফিরে গেলো এবং পুনরায় তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো। সে আবার এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললো, সে মৃত্যু বরণ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই সে মারা যায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, সে ফিরে গেলো এবং পুনরায় তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো। রোগীর স্ত্রী তার প্রতিবেশীকে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ খবর দাও। সে বললো, হে আল্লাহ! এর (রোগীর) প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি রোগীর কাছে এসে দেখলো, সে তার কাছে রক্ষিত তীরের ফলা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে বললো, সে মৃত্যু বরণ করেছে। তিনি বললেনঃ তুমি কিভাবে জানলে? লোকটি বললো, আমি তাকে তীর দিয়ে আত্মহত্যা করতে দেখেছি। তিনি বললেনঃ তুমি সরাসরি দেখেছো? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে আমি তার জানাযা পড়বো না।
Book 21 · Hadith 97 · #3182 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (978) - 98
। আবূ বারযা আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা‘ইয ইবনু মালিকের জানাযা সালাত পড়েননি এবং পড়তে নিষেধও করেননি।
Book 21 · Hadith 98 · #3183 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Daif - 99
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইবরাহীম (রাঃ) আঠার মাস বয়সে মারা যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা সালাত পড়েননি।
Book 21 · Hadith 99 · #3184 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Isnaad Hasan - 100
। ওয়াইল ইবনু দাঊদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল-বাহীকে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইবরাহীম (রাঃ) মারা গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বসার জায়গাতে তার জানাযা পড়েন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি আমি সাঈদ ইবনু ইয়া‘কূব আত-তালাকানীর সামনে পড়লাম। ইবনুল মুবারক (রহঃ) আপনাদের কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়া‘কূব ইবনু কা‘কা‘র থেকে ‘আতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইবরাহীমের জানাযা সালাত আদায় করেছেন। তখন তার বয়স ছিলো সত্তর দিন।
Book 21 · Hadith 100 · #3185 · Daif Munkar, Daif Munkar, Daif - 101
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইল ইবনু বাইদার জানাযা মসজিদের ভিতরেই আদায় করেছেন।
Book 21 · Hadith 101 · #3186 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (973) - 102
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইদার পুত্র-সুহাইল ও তার ভাইয়ের জানাযা মসজিদের ভিতরেই আদায় করেছেন।
Book 21 · Hadith 102 · #3187 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (973) - 103
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মসজিদের ভিতরে জানাযার সালাত পড়ে তার কোনো গুনাহ হবে না।
Book 21 · Hadith 103 · #3188 · Daif, Hasan, Daif, Daif - 104
। ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন সময়ে সালাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃত ব্যক্তিদের দাফন করতে নিষেধ করেছেন। (তা হলো) সূর্য উদয়ের সময় থেকে তা উপরে না উঠা পর্যন্ত, ঠিক দুপুর বেলায় সুর্য পশ্চিম দিকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় তা সম্পূর্ণ ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত অথবা তিনি অনুরূপ কিছু বলেছেন।
Book 21 · Hadith 104 · #3189 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (831) - 105
। আল-হারিস ইবনু নাওফালের মুক্তদাস ‘আম্মার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উম্মু কুলসুম (রাঃ) ও তার পুত্রের জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। ছেলেকে ইমামের নিকট রাখা হলে আমি প্রতিবাদ করলাম। উপস্থিত লোকদের মধ্যে ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ আল-খুদরী, আবূ কাতাদাহ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। তারা বললেন, এটাই সুন্নাত।
Book 21 · Hadith 105 · #3190 · Sahih, Sahih, Sahih - 106
। নাফি‘ আবূ গালিব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আল-মিওবাদের গলিপথে ছিলাম। এ সময় সেখান দিয়ে একটি জানাযা (লাশ) যাচ্ছিল, তার সাথে অনেক লোক ছিলো। তারা বলেছিল, এটা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উমাইরের লাশ। ‘আমির লাশের পিছনে চললাম। তখন আমি দেখি, হালকা কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তি একটি ছোট্ট মাথাবিশিষ্ট ঘোড়ায় বসা এবং তিনি নিজ মাথায় এক টুকরা কাপড় দিয়ে রোদ থেকে আত্মরক্ষা করছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ নেতৃস্থানীয় লোকটি কে? লোকেরা বললো, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)। অতঃপর লাশ নামানো হলে আনাস (রাঃ) দাঁড়িয়ে তার জানাযা পড়ালেন। আমি তার পিছনেই দাঁড়ালাম; তার ও আমার মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক ছিলো না। তিনি লাশের মাথা বরাবর দাঁড়ালেন। তিনি চার তাকবীরে সালাত আদায় করলেন। জানাযার সালাত দীর্ঘও করেননি, একেবারে সংক্ষিপ্তও করেননি। অতঃপর তিনি বসার জন্য গেলেন। লোকেরা বললো, হে আবূ হামযাহ! এটি একজন আনসারী মহিলার লাশ (এর জানাযা পড়ুন)। লাশটি তার নিকটে আনা হলো। সে একটি সবুজ গেলাফে আবৃত ছিলো। তিনি তার নিতম্ব বরাবর দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি পূর্বের পুরুষ লোকটির নিয়মেই তার জানাযা পড়ালেন। এরপর তিনি বসে গেলেন। ‘আলা ইবনু যিয়াদ তাকে বলেন, হে আবূ হামযাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনার আদায়কৃত সালাতের নিয়মেই মৃতের জানাযা পড়তেন? তিনিও কি মহিলাদের জানাযায় চার তাকবীর বলতেন এবং পুরুষের মাথা বরাবর এবং মহিলাদের কোমর বরাবর দাঁড়াতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ‘আলা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ হামযাহ! আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো যুদ্ধে যোগদান করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমি তাঁর সাথে হুনাইনের যুদ্ধে যোগদান করেছি। মুশরিকরা আমাদের বিরুদ্ধে রওয়ানা হলো। তারা আমাদের উপর কঠিন আক্রমণ করলো। এমনি আমাদের লোকদের পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাতে দেখলাম। শত্রুবাহিনীর এক লোক আমাদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছিল। সে তরবারির আঘাতে আমাদের ক্ষত-বিক্ষত করছিলো। পরিশেষে আল্লাহ তাদের পরাস্ত করলেন। তিনি তাদের নিয়ে আসেন এবং তারা এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইসলাম গ্রহণের বাই‘আত নিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন বললেন, আমার একটি মানত আছে। তা হলো, সেদিন যে লোকটি আমাদের আহত করছিল, আল্লাহ যদি তাকে আমাদের করায়ত্ত করেন তবে আমি তাকে হত্যা করবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। লোকটিকে উপস্থিত করা হলে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর নিকট তওবা করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাই‘আত নেয়া থেকে বিরত থাকলেন এবং ঐ সাহাবীকে তার মানত পূর্ণ করার সুযোগ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবী লোকটিকে মারার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন, সাহাবী কিছুই করছেন না, তখন তিনি লোকটির বাই‘আত নিলেন। সেই সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মানত কিভাবে পূর্ণ হবে? তিনি বললেনঃ আমি তো তোমার মানত পূর্ণ করতে তার বাই‘আত গ্রহণে বিরত ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে ইশারা করেননি কেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোনো নবীর জন্য ইশারা করা শোভনীয় নয়। আবূ গালিব (রহঃ) বলেন, মহিলার কোমর বরাবর আনাস (রাঃ)-এর দাঁড়ানোর বিষয়ে আমি লোকদের জিজ্ঞেস করলে তারা আমাকে বললেন, প্রথম যুগে এরূপই করা হতো। কেননা তখন কোনো খাটিয়ার ব্যবস্থা ছিলো না। সুতরাং ইমাম মহিলাদের কোমর বরাবর দাঁড়াতেন, যেন লোকদের ও লাশের মাঝে আড়াল সৃষ্টি হয়।
Book 21 · Hadith 106 · #3191 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 107
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে এক মহিলার জানাযা পড়েছি। তিনি নিফাসগ্রস্ত অবস্থায় মারা যান। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানাযায় তার দেহের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন।
Book 21 · Hadith 107 · #3192 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1331) Sahih Muslim (964) - 108
। আশ-শা’বী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নতুন কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন সাহাবীগণ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চার তাকবীরে জানাযার সালাত আদায় করলেন। আমি (আবূ ইসহাক) আশ-শা‘বীকে জিজ্ঞেস করলাম, এ হাদীস আপনাকে কে বর্ণনা করেছে? তিনি বললেন, একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যার সাথে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সাক্ষাৎ করেছেন।
Book 21 · Hadith 108 · #3193 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1247) Sahih Muslim (954) - 109
। ইবনু আবূ লাইলাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। বলেন, যায়িদ ইবনু আরকাম আমাদের জানাযার সালাতে চার তাকবীর বলতেন। একবার এক জানাযার সালাতে তিনি পাঁচ তাকবীর দিলেন। আমি এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ তাকবীরও দিতেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি ইবনুল মুসান্নার হাদীসটি ভালভাবে স্মরণ রেখেছি।
Book 21 · Hadith 109 · #3194 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (957) - 110
। তালহা ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আওফ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে জানাযার সালাত পড়েছি। তিনি সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করলেন। তিনি বললেন, ফাতিহা পড়া সুন্নাত।
Book 21 · Hadith 110 · #3195 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1335) - 111
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কোনো মৃতের জানাযা পড়লে তার জন্য নিষ্ঠার সাথে দু‘আ করবে।
Book 21 · Hadith 111 · #3196 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 112
। আলী ইবনু শাম্মাখ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মারওয়ানের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, মৃতের জানাযায় আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোনো দু‘আ পড়তে শুনেছেন? তিনি বললেন, আপনি কি এ কথাই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন? মারওয়ান বললেন, হ্যাঁ। ইবনু শাম্মখ বলেন, ইতিপূর্বে তাদের উভয়ের মধ্যে এ বিষয়ে কথোপকথন হয়। আবূ হুরাইরাহ বললেন, তিনি এ দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! তুমিই তার প্রভু, তুমি তাকে সৃষ্টি করেছো, তুমি তাকে ইসলামের পথে হিদায়াত দিয়েছো, তুমি তার রূহ কবয করেছো, তুমি তার গোপন-প্রকাশ্য সবকিছুই অবহিত। ‘আমরা তোমার কাছে তার সুপারিশকারী হিসেবে এসেছি, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও।’’
Book 21 · Hadith 112 · #3197 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Isnaad Hasan - 113
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাতে এ দু‘আ করতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সাওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।’’
Book 21 · Hadith 113 · #3198 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 114
। ওয়াসিলাহ ইবনুল আকসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাথে নিয়ে মুসলিমদের এক লোকের জানাযার সালাত আদায় করলেন। তখন আমি তাকে এ দু‘আ করতে শুনেছিঃ ‘‘হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক আপনার দায়িত্বে থাকলো, আপনি তাকে কবরের ফিতনাহ ও রক্ষা করুন।’’ ‘আব্দুর রাহমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘এ ব্যক্তি আপনার যিম্মায় ও প্রতিবেশী থাকলো। সুতরাং আপনি তাকে কবরের বিপদ ও দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি তো প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও সত্যের অধিকারী হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন। কেননা আপনিই একমাত্র ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’
Book 21 · Hadith 114 · #3199 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 115
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একটি কালো মহিলা বা পুরুষ মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিতো। একদিন তাকে দেখতে না পেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলা হয় যে, সে মৃত্যু বরণ করেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আমাকে জানালে না কেন? তিনি বললেনঃ আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তারা তাঁকে তার কবর দেখিয়ে দিলে তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জানাযা আদায় করলেন।
Book 21 · Hadith 115 · #3200 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (458) Sahih Muslim (956) - 116
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে নাজ্জাসীর মৃত্যুর দিন তার মৃত্যু সংবাদ জানালেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে ঈদের মাঠে গিয়ে সেখানে সারিবদ্ধ হরে চার তাকবীরে জানাযা সালাত পড়লেন।
Book 21 · Hadith 116 · #3201 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1245) Sahih Muslim (951) - 117
। আবূ বুরদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নাজ্জাসীর দেশে হিজরাত করতে নির্দেশ দেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করেন। নাজ্জাসী বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর রাসূল। তিনি সেই রাসূল, যাঁর সম্পর্কে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) সুসংবাদ প্রদান করেছেন। আমি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে না থাকতাম তবে আমি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর জুতো জোড়া বহন করতাম।
Book 21 · Hadith 117 · #3202 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 118
। আল-মুত্তালিব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ) মারা গেলে তার লাশ আনা হলো, তারপর লাশ দাফন করা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তাঁর কাছে একটি পাথর নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি তা বহন করতে অক্ষম হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পাথরটির কাছে গেলেন এবং নিজের জামার আস্তিন গোটালেন। বর্ণনাকারী কাসীর (রহঃ) বলেন, আল-মুত্তালিব বললেন, আমাকে যে ব্যক্তি এ ঘটনা অবহিত করেছেন তিনি বললেন, আমি যেন এখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহুদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি যখন তিনি তাঁর জামার আস্তিন গুটিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি পাথরটি দু’ হাতে তুলে এনে (উসমান ইবনু মাযউনের) শিয়রে রাখেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারবো এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার কাছে দাফন করবো।
Book 21 · Hadith 118 · #3203 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 119
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা যেন তার জীবিত কালের হাড় ভাঙ্গার মতই।
Book 21 · Hadith 119 · #3204 · Sahih, Sahih, Sahih - 120
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লাহদ (কবর) আমাদের জন্য, শাক্ক (কবর) ‘আমরা ব্যতীত অন্যদের জন্য।
Book 21 · Hadith 120 · #3205 · Sahih, Sahih, Daif - 121
। ‘আমির (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আলী (রাঃ), আল-ফাদল ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও উসামাহ ইবনু যায়িয (রাঃ) গোসল দিয়েছেন এবং তারাই তাকে কবরে নামিয়েছেন। আশ্ শা‘বী (রহঃ) বলেন, মারহাব কিংবা ইবনু আবূ মারহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, তারা ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-কেও তাদের সাথে শরীক করেন। দাফন সম্পন্ন করে আলী (রাঃ) বললেন, মৃত ব্যক্তির দাফন কাজ তার স্বজনের সম্পন্ন করা উচিত।
Book 21 · Hadith 121 · #3206 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 122
। আবূ মারহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরে নেমেছিলেন। আমি যেন তাদের চারজনকে এখনো প্রত্যক্ষ করছি।
Book 21 · Hadith 122 · #3207 · Sahih, Sahih, Daif - 123
। আবূ ইসহাক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-হারিস (রাঃ) তার মৃত্যুর পূর্বে ওয়াসিয়াত করেন যে, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) যেন তার জানাযা সালাত পড়ান। সুতরাং তিনি তার জানাযা পড়ালেন। অতঃপর তিনি তাকে পায়ের দিক থেকে কবরে রাখলেন। তিনি বললেন, এটাই সুন্নাত।
Book 21 · Hadith 123 · #3208 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 124
। আল-বারা‘আ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আনসারদের এক ব্যক্তির জানাযা পড়ার জন্য বের হলাম। ‘আমরা সেখানে পৌঁছে দেখি, তখনো কবর খনন শেষ হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলাহমুখী হয়ে বসলেন। ‘আমরাও তাঁর সাথে বসে গেলাম।
Book 21 · Hadith 124 · #3209 · Sahih, Sahih, Hasan - 125
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে লাশ রাখার সময় বলতেনঃ ‘‘আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তারীকার উপর রাখা হলো।’’
Book 21 · Hadith 125 · #3210 · Sahih, Sahih, Sahih - 126
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, আপনার পথভ্রষ্ট বৃদ্ধ চাচা আবূ তালিব মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি বললেনঃ যাও এবং তোমার পিতাকে দাফন করে আসো। আমার কাছে ফিরে আসার আগে অন্য কিছু করো না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে মাটি দিয়ে সরাসরি তাঁর কাছে আসি। তিনি আমাকে গোসল করতে নির্দেশ করেন। সুতরাং আমি গোসল করলাম। তিনি আমার জন্য দু‘আ করলেন।
Book 21 · Hadith 126 · #3211 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 127
। হিশাম ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আনসাররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘আমরা আহত এবং ক্লান্ত। আমাদেরকে এখন কি করতে বলেন? তিনি বললেনঃ কবর প্রশস্ত করে খনন করো এবং একই কবরে দুই-তিনজনকে দাফন করো। জিজ্ঞেস করা হলো, কাকে আগে (ডান দিকে) রাখা হবে? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক পারদর্শী। হিশাম বলেন, সেদিন আমার পিতা ‘আমির (রাঃ) শহীদ হন। তাকে দু’ জনের অথবা একজনের সাথে কবর দেয়া হয়।
Book 21 · Hadith 127 · #3212 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 128
। হুমাইদ ইবনু হিলাল (রহঃ) থেকে একই সনদে একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবর খনন গভীর করবে।
Book 21 · Hadith 128 · #3213 · Sahih, Sahih, Sahih - 129
। সা‘দ ইবনু হিশাম ইবনু ‘আমির (রহঃ) থেকে এ সনদে একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
Book 21 · Hadith 129 · #3214 · Sahih, Sahih - 130
। আবু হাইয়ায আল-আসাদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রাঃ) আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কাজে প্রেরণ করবো যে কাজে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছিলেন? তা হলোঃ আমি যেন কোনো উঁচু কবর দেখলে তা সমতল করা ব্যতীত এবং কোনো মূর্তি দেখলে চূর্ণ-বিচূর্ণ না করে নিভৃত না হই।
Book 21 · Hadith 130 · #3215 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (969) - 131
। ‘আমর ইবনুল হারিস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ আলী আল-হামদানী (রহঃ) তাকে এ হাদীসটি জানান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ফাদালাহ ইবনু উবাই (রাঃ)-এর সাথে রোম দেশের রূযিস নামক স্থানে ছিলাম। আমাদের এক ব্যক্তি এখানে মৃত্যু বরণ করলো। তার কবর সম্পর্কে ফাদালাহ (রাঃ)-এর নির্দেশ মোতাবেক মাটি সমান করে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনেছি। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, 'রূযিস' সমুদ্রে অবস্থিত একটি দ্বীপের নাম।
Book 21 · Hadith 131 · #3216 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (969) - 132
। আল-কাসিম সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ফুফু! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দু’ সাথীর কবর খুলে আমাকে একটু দেখান। তিনি তিনটি কবরই আমাকে (পর্দা) খুলে দেখালেন। আমি দেখি যে, তা খুব উঁচুও নয় আবার একেবারে সমতলও নয়। কবর তিনটির উপর আল-আরসা নামক স্থানের লাল কাঁকর বিছানো ছিলো। আবূ আলী (রাঃ) বলেন, কথিত আছে, সম্মুখভাগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর, তাঁর মাথার দিকে আবূ বাকর (রাঃ) এর কবর এবং তাঁর পায়ের দিকে ‘উমার (রাঃ) এর কবর। ‘উমার (রাঃ) এর মাথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ের কাছে অবস্থিত।
Book 21 · Hadith 132 · #3217 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 133
। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দু‘আ করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
Book 21 · Hadith 133 · #3218 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 134
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামে কোনো বলিদান নেই। ‘আব্দুর রাযযাক (রহঃ) বলেন, জাহিলী যুগে লোকেরা কবরের কাছে গরু ছাগল বলি দিতো।
Book 21 · Hadith 134 · #3219 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 135
। উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে বেরিয়ে উহুদের শহীদদের কবরের নিকট গিয়ে মৃতের জন্য জানাযার নিয়মে সালাত আদায় করে ফিরে আসলেন।
Book 21 · Hadith 135 · #3220 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6426) Sahih Muslim (2296) - 136
। ইয়াযীদ ইবনু আবূ হাবীব (রহঃ) থেকে এ সনদেও একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট বছর পর উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য জানাযা পড়েছেন জীবিত ও মৃতের দু‘আ করার অনুরূপ।
Book 21 · Hadith 136 · #3221 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4042) - 137
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের উপর বসতে, তাতে চুনকাম করতে এবং তার উপর কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করতে শুনেছি।
Book 21 · Hadith 137 · #3222 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (970) - 138
। জাবির (রাঃ) সূত্রে এ সনদেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ এতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে নিষেধ করেছেন। সুলাইমান ইবনু মূসার বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর লিখতে নিষেধ করেছেন। উসমানের বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশটি মুসাদ্দাদের বর্ণনায় নেই।
Book 21 · Hadith 138 · #3223 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (970) - 139
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহ সিজদার স্থানে (মসজিদে) পরিণত করেছে।
Book 21 · Hadith 139 · #3224 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (437) Sahih Muslim (530) - 140
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি আগুনের ফুলকির উপর বসে এবং তাতে তার পরিধেয় বস্ত্র পুড়ে ঐ আগুন তার শরীরের চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায় এটা তার জন্য কবরের উপর বসার চেয়ে উত্তম।
Book 21 · Hadith 140 · #3225 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (971) - 141
। আবূ মারসাদ আল-গানবী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কবরের উপর বসবে না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে না।
Book 21 · Hadith 141 · #3226 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (972) - 142
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জাহিলী যুগে তার নাম ছিলো জাহম ইবনু মা‘বাদ। তিনি হিজরাত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে আসলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নাম কি? তিনি বললেন, জাহম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তোমার নাম বাশীর। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যাচ্ছিলাম। তিনি মুশরিকদের কতিপয় কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ এরা বিরাট কল্যাণ লাভের পূর্বেই অতীত হয়ে গেছে। তিনি তিনবার এরূপ বললেন। অতঃপর তিনি কতিপয় মুসলিমের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ এরা প্রচুর কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবরস্থানের উপর দিয়ে চলতে দেখে বললেনঃ হে জুতা পরিধানকারী! তোমার জন্য দুঃখ হচ্ছে, তুমি জুতা খুলে ফেলো। লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকালো এবং তাঁকে চিনতে পেরে সে তার পায়ের জুতা খুলে ফেলে দিলো।
Book 21 · Hadith 142 · #3227 · Hasan, Hasan, Isnaad Sahih - 143
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন কোনো বান্দাকে কবরে রাখা হয়, অতঃপর তার সাথীরা সেখান থেকে চলে যেতে থাকে, তখন সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়।
Book 21 · Hadith 143 · #3228 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1338) Sahih Muslim (2870) - 144
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে (একই কবরে) অন্য এক লোককে দাফন করা হয়েছিল। তাই আমি তার লাশ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ইচ্ছা করলাম। অতঃপর ছয় মাস পর আমি পিতার লাশ তুললাম (এবং অন্যত্র দাফন করলাম)। তার শরীরের কোনো অংশই পরিবর্ততন হয়নি। কেবল দাড়ির কিছু চুল মাটির সংস্পর্শে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিলো।
Book 21 · Hadith 144 · #3229 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Isnaad Sahih - 145
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দিয়ে লোকেরা একটি লাশ নিয়ো যাওয়ার সময় মৃতের উত্তম প্রশংসা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (জান্নাত) ওয়াজিব হয়ে গেছে। অতঃপর লোকেরা তাঁর সামনে দিয়ে আরেকটি লাশ নিয়ে গেলো এবং তারা মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করলো। তিনি বললেনঃ (জাহান্নাম) ওয়াজিব হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।
Book 21 · Hadith 145 · #3230 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 146
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবরের নিকট এসে কাঁদলেন এবং তাঁর সাথীরাও কাঁদলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আমার মহান প্রভুর নিকট আমার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অতঃপর কবর যিয়ারাতের অনুমতি চাইলে আমাকে তার অনুমতি দেয়া হয়। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারাত করো। কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
Book 21 · Hadith 146 · #3231 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (976) - 147
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারাত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তা যিয়ারাত করতে পারো। কেননা কবর যিয়ারাতের মধ্যে (শিক্ষা গ্রহণের) সুযোগ আছে।
Book 21 · Hadith 147 · #3232 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (977) - 148
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারাতকারী মহিলাদের অভিসম্পাত করেছেন। যারা কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করে এবং কবরে বাতি জ্বালায় তাদেরকেও অভিসম্পাত করেছেন।
Book 21 · Hadith 148 · #3233 · Daif, Daif, Daif - 149
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারাত করতে গিয়ে বললেনঃ ‘‘হে মুত্যুবাসিন্দা মু‘মিনগণ! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ ‘আমরাও তোমাদের সাথে অচিরেই মিলিত হবো।’’
Book 21 · Hadith 149 · #3234 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (249) - 150
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যার উষ্ট্রী তাকে ফেলে দিয়ে তার ঘাড় ভেঙ্গে দিয়েছে এবং এতে সে ইহরাম অবস্থায় মারা গেছে। তিনি বললেনঃ তাকে তার ইহরামের দু’ কাপড়েই কাফন পরাও, বরই পাতা মিশানো পানি দিয়ে তাকে গোসল করাও এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে এ হাদীসের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে শুনেছি। (১) তার ইহরামের দু’ কাপড়েই কাফন পরাও- অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীকে দু’ কাপড়ে কাফন দিতে হবে। (২) বরই পাতা মিশানো পানি দিয়ে তাকে গোসল করাও- অর্থাৎ প্রতিটি লাশ বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল দিতে হবে। (৩) ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তির মাথা ঢাকবে না। (৪) তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না এবং (৫) তার সমস্ত সম্পদ থেকে প্রথমে তার কাফনের ব্যবস্থা করো।
Book 21 · Hadith 150 · #3235 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1267) Sahih Muslim (1206) - 151
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে এ সনদেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তাকে দু’ কাপড়ে কাফন দিবে। আবূ দাঊদ (রহঃ) সুলাইমান থেকে আইয়ূব সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ‘সাওবাই’ শব্দ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ‘আমর ‘সাওবাইহি’ শব্দ বর্ণনা করেছেন। আর সুলাইমান এককভাবে ‘‘তাকে সুগন্ধিযুক্ত করো না’’- কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
Book 21 · Hadith 151 · #3236 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1849) Sahih Muslim (1206) - 152
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সুলাইমানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
Book 21 · Hadith 152 · #3237 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 153
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে তার ইহরাম অবস্থায় তার উষ্ট্রী পিঠ থেকৈ ফেলে দিয়ে হত্যা করলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হয়। তিনি বললেনঃ তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরাও, কিন্তু তার মাথা ঢাকবে না এবং তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না। কেননা (কিয়ামতের দিন) তাকে তাহলীল পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।
Book 21 · Hadith 153 · #3238 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1839)