Clothing (Kitab Al-Libas)
- 1
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নতুন কাপড় পরিধান করতেন, জামা অথবা পাগড়ি, এর নাম উচ্চারণ করে তিনি এ দু‘আ পাঠ করতেনঃ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ، وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ আবূ নাদরাহ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের কেউ নতুন কাপড় পরলে তাকে বলা হতো, ‘‘এ কাপড় যেন তোমার দ্বারা পুরাতন হয় এবং মহান আল্লাহ যেন এর পরে তোমায় আরো কাপড় পরান।’’[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 1 · #4017 · Sahih, Isnaad Hasan - 2
। আল-জুরাইরী (রহঃ) সূত্রে তার সনদে উপরোক্ত হাদীসের অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত।
Book 34 · Hadith 2 · #4018 · Daif, Hasan - 3
। আল-জুরাইরী (রহঃ) সূত্রে তার সনদে উপরোক্ত হাদীসের অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী (রহঃ) এতে আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ বিনু সালামাহ ও আস-সাক্বাফীর এ হাদীস শ্রবণ একইরূপ।
Book 34 · Hadith 3 · #4019 · Daif, Sahih, Hasan - 4
। সাহল ইবনু মু‘আয ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি খাওয়ার পরে এ দু‘আ পাঠ করবে তার আগে পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا الطَّعَامَ، وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ অর্থঃ ‘‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এ খাদ্য খাওয়ালেন এবং আমার পক্ষ থেকে কোনো কৌশল ও ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যতীতই রিযিক দান করলেন।’’ তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি কোনো কাপড় পরার সময় এ দু‘আ পাঠ করবে তার আগে পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবেঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا الثَّوْبَ وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي، وَلَا قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ অর্থঃ ‘‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কৌশল ও ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যতীতই আমাকে এ কাপড়ের ব্যবস্থা করে পরালেন।’’[1] হাসানঃ দু’ জায়গাতে ‘পরবর্তী গুনাহ’ এ অতিরিক্ত অংশ বাদে।
Book 34 · Hadith 4 · #4020 · Hasan, Hasan, Hasan - 5
। উম্মু খালিদ বিনতু খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কতগুলো পরিধেয় বস্ত্র আনা হলো। তাতে কালো রঙের ডোরাদার ছোট একটি পশমী চাঁদর ছিলো। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের মতে কে এটা পাওয়ার যোগ্য? সবাই চুপ থাকলেন। তিনি বললেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাকে আনা হলে তিনি চাদরটি তাকে পরিয়ে দিলেন এবং দু’ বার বললেনঃ এটা পরিধান করো এবং পুরাতন করো। আর তিনি চাদরের লাল অথবা হলদে রঙের চিহ্নের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে উম্মু খালিদ! খুব সুন্দর! খুব সুন্দর! سَنَاهْ শব্দের অর্থ- হাবশী ভাষায় সুন্দর।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 5 · #4021 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5823) - 6
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিলো জামা।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 6 · #4022 · Sahih, Sahih, Hasan - 7
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জামার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় কোনো পোশাক ছিলো না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 7 · #4023 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 8
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামার হাতা ছিলো কব্জি পর্যন্ত লম্বা।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 8 · #4024 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 9
। মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লম্বা ঢিলা জামা বণ্টন করেন; কিন্তু মাখরামাহ (রাঃ)-কে কিছু দেননি। মাখরামাহ (রাঃ) বললেন, হে বৎস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলো। অতঃপর তার সঙ্গে আমি সেখানে গেলাম। তিনি বললেন, ভিতরে প্রবেশ করে তার নিকট আমার আসার সংবাদ দাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে ডাকলে তিনি একটি লম্বা ঢিলা জামা পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে এসে বললেনঃ আমি তোমার জন্য এটা লুকিয়ে রেখেছিলাম। মাখরামাহ (রাঃ) তাঁর দিকে তাকালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এবার মাখরামাহ খুশী হয়েছে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 9 · #4025 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2599) Sahih Muslim (1058) - 10
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য পোশাক পরে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সেরূপ পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে।[1] হাসান।
Book 34 · Hadith 10 · #4026 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 11
। আবূ আওয়ানাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে গর্ব অহংকারে উদ্দেশ্যে পোশাক পরবে, (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ঐরূপ পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে)।[1] হাসান।
Book 34 · Hadith 11 · #4027 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 12
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে।[1] হাসান সহীহ।
Book 34 · Hadith 12 · #4028 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 13
(ক)। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ি থেকে বের হলেন, তখন তাঁর গায়ে কারুকার্য খচিত কালো পশমী চাদর ছিলো।[1] সহীহ। وقَالَ حُسَيْنٌ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْعَلَاءِ الزُّبَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ: اسْتَكْسَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَسَانِي خَيْشَتَيْنِ فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي وَأَنَا أَكْسَى أَصْحَابِي " صحيح ৪০৩২ (খ)। উতবাহ ইবনু আবদ আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমাকে চাদর পরিয়ে দেয়ার আবেদন করলে তিনি আমাকে ‘কাতান’ জাতীয় দু’টি সূক্ষ্ম কাপড় পরিয়ে দিলেন। আমি আমার গায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমি সকল বন্ধুদের চেয়ে উত্তম পোশাক পরিধানকারী। সহীহ।
Book 34 · Hadith 13 · #4029 · Hasan Isnaad, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 14
। আবূ বুরদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেন, হে বৎস! তুমি যদি দেখতে, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে এমন হলাম যে, আমাদের শরীর থেকে ভেড়ার গন্ধ বের হচ্ছিল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ পশমী পোশাক (এর কারণে)।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 14 · #4030 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 15
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। যূ-ইয়াযান অঞ্চলের অধিপতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি দামী পোশাক উপঢৌকন পাঠালেন, যা তিনি তেত্রিশটি উট বা তেত্রিশটি উটনীর বিনিময়ে কিনেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা গ্রহণ করেন।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 15 · #4031 · Daif, Daif, Daif, Daif - 16
। ইসহাক ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ এর অধিক তরুণ উটনীর বিনিময়ে একটি মূল্যবান পোশাক কিনলেন এবং তা যূ-ইয়াযান অধিপতির নিকট উপঢৌকন হিসেবে পাঠালেন।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 16 · #4032 · Daif, Daif, Daif, Daif - 17
। আবূ বুরদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি ইয়ামেনের তৈরী একটি মোটা লুঙ্গি ও মূলাব্বাদা নামক একটি মোটা চাদর বের করে এনে আল্লাহর কসম করে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় এ দু’টি কাপড় তাঁর পরিধানে ছিলো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 17 · #4033 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2080) - 18
। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খারিজীরা যখন আলী (রাঃ)-এর দল ছেড়ে ‘হারূরা’ নামক অঞ্চলে চলে গেলো, তখন আমি আলী (রাঃ)-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তুমি এদের কাছে যাও। অতঃপর আমি ইয়ামেন দেশে তৈরী আকর্ষণীয় পোশাক পরলাম। আবূ যুমাইল বলেন, ইবনু আব্বাস ছিলেন লাবণ্যময় সুপুরুষ ও সুঠাম দেহের অধিকারী। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাদের নিকট গেলাম। তারা আমাকে মারহাবা জানিয়ে প্রশ্ন করলো, হে ইবনু আব্বাস! এটা কেমন পোশাক? তিনি বললেন, তোমরা যার জন্য আমাকে দোষারোপ করছো, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এর চেয়ে উত্তম পোশাক পরতে দেখেছি।[1] সনদ হাসান।
Book 34 · Hadith 18 · #4034 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Sahih - 19
। সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বোখারাতে রেশম ও পশমের তৈরী কালো পাগড়ি পরিহিত এক লোককে সাদা খচ্চরের উপর আরোহী দেখতে পেলাম। লোকটি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা (পাগড়ি) আমাকে পরিয়ে দিয়েছেন।[1] সনদ দুর্বল।
Book 34 · Hadith 19 · #4035 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 20
। আব্দুর রাহমান ইবনু গানম আল-আশ‘আরী (রহঃ) বলেন, আবূ আমির (রাঃ) বা আবূ মালিক (রাঃ) আমাকে বলেছেন, আল্লাহর কসম এবং কসম, কখনো তিনি আমাকে মিথ্যা বলেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের এমন কিছু লোক হবে, যারা পশম ও রেশমের তৈরী পোশাক এবং রেশমী পোশাক পরা হালাল গণ্য করবে। তাদেরকে কিয়ামতের দিন শূকর ও বানরের আকৃতিতে পরিবর্তিত করা হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশ এর অধিক সাহাবী রেশম ও পশম মিশ্রিত সূতার তৈরী পোশাক পরেছেন। আনাস ও আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 20 · #4036 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari (5590) - 21
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মসজিদের দরজায় একজোড়া রেশমী পোশাক বিক্রি হতে দেখে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! আপনি যদি এ পোশাকটি ক্রয় করতেন তাহলে জুমু‘আহর দিন ও প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎকালে পরতে পারতেন! এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ পোশাক সেই ব্যক্তিই পরে যার আখিরাতে কোনো পাপ্য নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু রেশমী কাপড় এলে তিনি তা থেকে উমার ইবনুল খাত্তাবকে একজোড়া কাপড় দিলেন। উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা আমাকে ব্যবহার করতে দিলেন, অথচ ‘উতারিদের (জনক কাপড় ব্যবসায়ী) কাপড় সম্পর্কে আপনি এই মন্তব্য করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে এটা পরতে দেইনি। অতঃপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এটা মক্কায় তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 21 · #4037 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2612) Sahih Muslim (2068) - 22
। সইলম ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। এ ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তা ছিলো মোটা রেশমী পোশাক। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বলেন, অতঃপর তিনি তার নিকট একটি মোটা রেশমী জুব্বা পাঠালেন এবং বললেনঃ তুমি এটা বিক্রি করে তোমার প্রয়োজন মেটাও।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 22 · #4038 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2054) Sahih Muslim (2068) - 23
। আবূ উসমান আন-নাহদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) উতবাহ ইবনু ফারকাদের কাছে ফরমান লিখে পাঠান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তবে এভাবে দু’ আঙ্গুল, তিন আঙ্গুল ও চার আঙ্গুল পরিমাণ রেশম থাকলে তা পুরুষের জন্য বৈধ।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 23 · #4039 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5829) Sahih Muslim (2069) - 24
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজোড়া রেশমী চাদর উপহার এলো। তিনি তা আমার কাছে পাঠালেন। আমি সেটা পরে তার কাছে আসলে তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম। তিনি বললেনঃ তোমার পরার জন্য এটা পাঠাইনি। অতঃপর তিনি আমাকে আদেশ দিলে আমি তা টুকরা করে আমার পরিবারের মহিলাদের মাঝে বণ্টন করে দিলাম।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 24 · #4040 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2071) - 25
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী পোশাক ও হলুদ রঙের কাপড় পরতে, স্বর্ণের আংটি পরতে এবং রুকূ’তে কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 25 · #4041 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2078) - 26
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত। এতে রুকূ ও সিজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 26 · #4042 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 27
। ইবরাহীম ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ ‘‘আমি এ কথা বলছি না যে, তিনি তোমাদেরকে তা নিষেধ করেছেন।’’[1] হাসান সহীহ।
Book 34 · Hadith 27 · #4043 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih - 28
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রোমের সম্রাট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি 'কিংখাব' উপঢৌকন পাঠালেন। তিনি তা পরিধান করলেন। আমি যেন তাঁর হাত দু’টিকে নাড়াচাড়া করতে দেখছি। অতঃপর তিনি জা‘ফারের নিকট তা পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তা পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলে তিনি বলেনঃ আমি এটা তোমাকে ব্যবহার করতে দেইনি। তিনি প্রশ্ন করলেন, তবে আমি এটা কি করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমার ভাই নাজ্জাশীর নিকট পাঠিয়ে দাও।[1] সনদ দুর্বল।
Book 34 · Hadith 28 · #4044 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 29
। হাসান বাসরী (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লাল রঙের জিনপোষে সওয়ার হই না, হলদে (কুসুম) বর্ণের কাপড় পরিধান করি না এবং রেশম আটকানো জামা পরিধান করি না। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান এ কথার দ্বারা জামার পকেটের দিকে ইশারা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ জেনে রাখো! পুরুষ লোক এমন সুগন্ধি ব্যবহা করবে, যার কোনো রং থাকবে না এবং নারীরা এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে যার রং আছে কিন্তু ঘ্রাণ নেই। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা, নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কিত কথার দ্বারা তাঁরা এরূপ বুঝেছেন যে, নারীরা যখন বাইরে যায় তখন যেন এরূপ সুগন্ধি ব্যবহার করে যার গন্ধ নেই, আর যখন স্বামীর নিকট থাকে, তখন যেমন ইচ্ছে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 29 · #4045 · Sahih, Sahih, Daif - 30
। আবুল হুসাইন হাইসাম ইবনু শাফী‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মা‘আফির গোত্রের আবূ আমির নামক আমার এক সাথী বায়তুল মুকাদ্দাসে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। ‘আযদ’ গোত্রীয় আবূ রায়হানাহ (রাঃ) নামক এক সাহাবী তখন বায়তুল মুকাদ্দাসবাসীদের ওয়ায নাসীহাত করতেন। আবুল হুসাইন বলেন, আমার সাথী আমার আগেই মসজিদে প্রবেশ করলেন। অতঃপর আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কি আবূ রায়হানার ওয়ায-নাসীহাত শুনেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশটি কাজ নিষেধ করেছেনঃ (১) দাঁতের অগ্রভাব সানিত করা, (২) উল্কি লাগানো, (৩) চুল উপড়িয়ে ফেলা, (৪) বিবস্ত্র অবস্থায় এক পুরুষের অন্য পুরুষের সাথে একই বিছানায় ঘুমানো, (৫) বিবস্ত্র অবস্থায় এক মহিলার অন্য মহিলার সাথে এভাবে একই বিছানায় ঘুমানো, (৬) অনারবদের ন্যায় পুরুষের কাপড়ের নিম্নভাগে রেশম ব্যবহার করা অথবা (৭) অনারবদের ন্যায় কাঁধের উপর রেশম লাগানো, (৮) লুটতরাজ করা, (৯) চিতাবাঘের উপর আরোহী হওয়া (বাঘের চামড়ার গদিতে বসা) এবং (১০) বাদশাহ ব্যতীত অন্য লোকের আংটি ব্যবহার করা। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আংটি সম্পর্কিত বর্ণনাটি নিঃসঙ্গ।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 30 · #4046 · Daif, Daif, Daif - 31
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নরম রেশমী জিনপোষে বসতে নিষেধ করা হয়েছে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 31 · #4047 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 32
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, রেশমী কাপড় পরতে এবং নরম তুলতুলে লাল রঙের রেশমী জিনপোষে বসতে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 32 · #4048 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 33
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারুকার্য খচিত একটি চাদর পরে সালাত আদায় করলেন, (সালাতের অবস্থায়) এর কারুকার্যের দিকে তাঁর দৃষ্টি চলে যায়। ফলে সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ এ চাঁদরটি নিয়ে আবূ জাহমের (উপহারদাতার) নিকট যাও, এর কারুকার্য আমার সালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং তার সাদা চাদর নিয়ে এসো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 33 · #4049 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5817) Sahih Muslim (556) - 34
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে প্রথম বর্ণনাটি অধিক শুদ্ধ।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 34 · #4050 · Daif, Sahih, Sahih Bukhari (752) Sahih Muslim (556) - 35
। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম আব্দুল্লাহ আবূ উমার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে বাজারে একটি সিরীয় পোশাক কিনতে দেখলাম। তিনি তাতে লাল রঙের সূতা দেখে ফেরত দিলেন। আমি আসমা (রাঃ)-এর নিকট এসে তা জানালাম। তিনি এক কৃতদাসীকে ডেকে বললেন, হে দাসী! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুব্বাটা আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর সে কারুকার্য খচিত পকেটে, দু’ আস্তিনে ও আগে-পিছনে ফাড়া স্থানে রেশমী কাজ করা একটি জুব্বা বের করে আনলেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 35 · #4051 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 36
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল রেশমের তৈরী পোশাক পরতে বারণ করেছেন। তবে রেশমের কারুকার্য খচিত ও কাপড়ের দু’ পাড়ে রেশমী সূতা থাকলে কোসো অসুবিধা নেই।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 36 · #4052 · Sahih, Sahih, Daif - 37
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ ও যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-কে তাদের শরীরে চর্মরোগের কারণে সফরের সময় রেশমী পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 37 · #4053 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2919) Sahih Muslim (2076) - 38
। আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, একদা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান হাতে রেশম ও বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেনঃ এ দু’টি জিনিস আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্য হারাম।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 38 · #4054 · Sahih, Sahih, Sahih - 39
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা উম্মে কুলসূম (রাঃ)-এর পরিধানে একটি রেশমী চাঁদর দেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন,السِّيَرَاءُ হলো রেশমী সূতা দ্বারা কারুকার্য খচিত চাঁদর।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 39 · #4055 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 40
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ছেলেদের শরীর থেকে রেশমী জামা খুলে ফেলতাম এবং মেয়ের গায়ে থাকতে দিতাম। মিস‘আর (রহঃ) বলেন, এ বিষয়ে আমি আমর ইবনু দীনারকে প্রশ্ন করলে তিনি কিছু বলতে পারেননি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 40 · #4056 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih - 41
। কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কোন জামা সবচেয়ে পছন্দনীয় ছিলো বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সবচেয়ে আর্কষণীয় ছিলো? তিনি বলেন, কারুকার্য খচিত ইয়ামেনী চাদর।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 41 · #4057 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5812) Sahih Muslim (2079) - 42
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাদা পোশাক পরো, কেননা তা তোমাদের সর্বোত্ততম পোশাক। আর তোমাদের মৃতদেরকেও সাদা কাপড়ে কাফন দাও। আর তোমাদের উত্তম সুরমা হলো ‘ইসমিদ’ নামক সুরমা। কেননা তা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং চোখের পাপড়িতে চুল গজায়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 42 · #4058 · Sahih, Sahih - 43
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বললেনঃ লোকটি কি তার চুলগুলো আচড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বলেনঃ লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায় না?[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 43 · #4059 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 44
। আবুল আহওয়াস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি কম মূল্যের পোশাক পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমার ধন-সম্পদ আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কোন ধরণের সম্পদ? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে উট, ছাগল, ঘোড়া ও দাস ইত্যাদি সম্পদ দিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যেহেতু আল্লাহ তোমাকে সম্পদশালী করেছেন, কাজেই আল্লাহ নেয়ামত ও অনুগ্রহের নিদর্শন তোমার মাঝে প্রকাশিত হওয়া উচিত।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 44 · #4060 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 45
। যায়িদ ইবনুল আসলাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু উমার (রাঃ) তার দাড়িতে পীত রঙের খেযাব লাগাতেন। এতে তার কাপড়েও ঐ রঙ লেগে যেতো। তাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনি পীত রঙ ব্যবহার করেন কেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রঙ ব্যবহার করতে দেখেছি এবং তাঁর নিকট এর চেয়ে প্রিয় অন্য কোনো রঙ ছিলো না। তিনি দাড়িতে রঙ লাগানোর সময় তাঁর কাপড়ে, এমন কি পাগড়িতেও এ রঙ লেগে যেতো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 45 · #4061 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih - 46
। আবূ রিমসাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তখন আমি তাঁর পরিধানে দু’টি সবুজ রঙে চাদর দেখেছি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 46 · #4062 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 47
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একটি টিলা থেকে নামছিলাম। তিনি আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন, তখন আমার পরিধানে ঈশৎ লালের সাথে পীত বর্ণের একটি চাদর ছিলো। তিনি বললেনঃ তোমার গায়ে এ চাদর কেন? আমি তাঁর অসন্তুষ্টি বুঝতে পারলাম এবং বাড়ীতে এসে দেখলাম, পরিবারের লোকজন চুলায় রান্না করছে। আমি চাদরটা আগুনে ফেলে দিলাম। অতঃপর আমি সকালে তাঁর নিকট আসতেই তিনি প্রশ্ন করলেনঃ হে আল্লাহ বান্দা! তোমার ঐ চাদরটি কি করেছো? আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি বললেন, তুমি বরং সেটা তোমার পরিবারের কোনো নারীকে ব্যবহার করতে দিতে। কেননা নারীদের জন্য এতে কোনো অসুবিধা নেই।[1] হাসান।
Book 34 · Hadith 47 · #4063 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 48
। হিশাম ইবনুল গায (রহঃ) বলেন, পূর্বের হাদীসেالْمُضَرَّجَةُ বলতে এমন রঙ বুঝানো হয়েছে যা গাঢ় লাল নয় এবং ফিকে লালও নয়।[1] সহীহ মাকতু।
Book 34 · Hadith 48 · #4064 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif - 49
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাকালেন। (আবূ আলী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন) এ সময় আমার গায়ে ছিলো হলদে গোলাপী রঙ মিশানো একটি জামা। তিনি বললেনঃ এরূপ কাপড় পরেছ কেন? অতঃপর আমি চলে আসলাম এবং তা পুড়ে ফেললাম। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাপড়টি কি করেছ? আমি বললাম, জ্বালিয়ে দিয়েছি। তিনি বললেনঃ তোমার পরিবারের কোনো নারীকে তা ব্যবহার করতে দিলেও তো পারতে।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 49 · #4065 · Daif, Daif, Daif, Daif - 50
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দু’টি লাল কাপড় পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় তাঁকে সালাম দিলো। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দেননি।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 50 · #4066 · Daif, Daif, Daif, Daif - 51
। রাফি ‘ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে বের হলাম। রসাূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হাওদাগুলোতে ও উটের পিঠে তুলার লাল সূতার ডোরাযুক্ত চাঁদরগুলো দেখে বললেঃ আমি দেখছি যে, লাল রঙ তোমাদের কাবু করে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথায় আমরা লাল কাপড় সরানোর জন্য এতো দ্রুত ছুটলাম যে, কতগুলো উট ভয় পেয়ে পালাতে লাগলো। আমরা চাদরগুলো খুলে ফেললাম।[1] সনদ দুর্বল।
Book 34 · Hadith 51 · #4067 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 52
। হুরাইস ইবনুল আবাজ্জ আস-সালীহী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। বানী আসাদের এক মহিলা বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী যাইনাব (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। আমরা তার কাপড়ে লাল গেরুয়া রঙ লাগাচ্ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলেন এবং এ গেরুয়া রঙ দেখে চলে গেলেন। যাইনাব (রাঃ) তখন বুঝতে পারলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাজে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। সুতরাং তিনি কাপড় ধুয়ে সবটুকু লাল রঙ উঠিয়ে ফেললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে তা দেখতে না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন।[1] সনদ দুর্বল।
Book 34 · Hadith 52 · #4068 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 53
। আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আর আমি তাঁকে লাল রঙের চাদর পরিহিত দেখেছি। ইতোপূর্বে তাঁর চেয়ে চমৎকার কিছু দেখিনি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 53 · #4069 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3551) Sahih Muslim (2337) - 54
। হিলাল ইবনু আমির (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘মিনা’ উপত্যকায় লাল রঙের চাঁদর পরে একটি খচ্চরের পিঠে আরোহিত অবস্থায় ভাষণ দিতে দেখেছি। আলী (রাঃ) তাঁর সামনে থেকে তাঁর ভাষণ উচ্চস্বরে পুনরাবৃত্তি করছিলেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 54 · #4070 · Sahih, Sahih, Sahih - 55
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটা কালো চাদর রং করে দিলাম। তিনি তা পরিধান করলেন। তিনি ঘামের কারণে পশমের দুর্গন্ধ পেয়ে তা খুলে ফেললেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা (উর্ধতন বর্ণনাকারী) বলেছেন, সুগন্ধি তাঁর খুবই প্রিয় ছিলো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 55 · #4071 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 56
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি চাদর জড়িয়ে আছেন, চাদরের ঝালর তাঁর দু’ পায়ের উপর ঝুলছে।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 56 · #4072 · Daif, Daif, Daif, Daif - 57
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 57 · #4073 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 58
। আমর ইবনুল হুরাইস (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে দেখেছি, তাঁর পাগড়ির দু’ পাশ তাঁর কাঁধের উপর ঝুলছিল।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 58 · #4074 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1359) - 59
। আবূ জা‘ফার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু রুকানাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। এই রুকানাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মল্লযুদ্ধে ভূপাতিত করেন। রুকানাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমাদের ও মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য হলো, টুপির উপর পাগড়ি পরিধান করা।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 59 · #4075 · Daif, Daif, Daif, Daif - 60
। আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাগড়ি পরিয়েছেন এবং তার প্রান্তভাগ আমার সামনে ও পিছনে ঝুলিয়ে দিয়েছেন।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 60 · #4076 · Daif, Daif, Daif, Daif - 61
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ ভাবে কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। (১) মানুষের এমনভাবে লেপ্টে পোশাক পরা যে, লজ্জাস্থান আকাশের দিকে উন্মুক্ত হয়ে থাকে, (২) কাপড় এভাবে পরা যে, শরীরের একদিক বের হয়ে থাকে, আর অবশিষ্ট কাপড় কাঁধে ফেলে রাখা হয়।[1] সনদ সহীহ।
Book 34 · Hadith 61 · #4077 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih - 62
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ হাত ভিতরে রেখে আঁটসাট কাপড় পরতে এবং এক কাপড়ে জড়সড় হয়ে দু’ হাতে হাঁটু জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 62 · #4078 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2099) - 63
। মু‘আবিয়াহ ইবনু কুররাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেন, আমি মুযাইনাহ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাই‘আত করতে যাই। আমরা তাঁর নিকট বাই‘আত নিলাম। এ সময় তাঁর জামার বোতাম খোলা ছিলো। আমি আমার হাত তাঁর জামার বুকের ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে মোহরে নাবূওয়াত স্পর্শ করলাম। উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, এরপর থেকে মুআবিয়াহ ও তার ছেলেকে সর্বদা তাদের জামার বোতাম খুলে রাখতে দেখেছি। চাই তা শীতকাল হোক বা গরমকাল, তারা কখনো বোতাম লাগাতেন না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 63 · #4079 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 64
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঠিক দুপুরের প্রথমভাগে আমরা সবাই আমাদের ঘরে বসা। তখন এক ব্যক্তি আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললো, ওই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর মুড়িয়ে এদিকে আসছেন। তিনি তো সাধারণত এ সময়ে আমাদের এখানে আসেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলে তিনি ভিতরে ঢুকলেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 64 · #4080 · Sahih, Sahih, Sahih - 65
। আবূ জুরায়্যি জাবির ইবনু সুলাইম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যার কথা সবাই মেনে চলে এবং যা কিছু বলেন সবাই তা পালন করে। আমি বললাম, ইনি কে? তারা বললো, ইনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি দু’ বার বললাম, ‘আলাইকাস সালাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ ‘আলাইকাস সালাম বলো না, কেননা ‘আলাইকাস সালাম দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া হয়। বরং তুমি বলো, আসসালামু আলাইকা। বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আমি সেই আল্লাহর রাসূল, যাকে তুমি বিপদে পড়ে ডাকলে তিনি তোমার বিপদ দূর করেন; দুর্ভিক্ষের সময়ে তাঁকে ডাকলে তিনি তোমার জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন; ঘাস-পানিহীন মরু প্রান্তরে তোমার সওয়ারী হারিয়ে গেলে তাঁকে ডাকলে তিনি তোমার নিকট তা ফিরিয়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে আমাকে উপদেশ প্রদানের অনুরোধ জানালাম। তিনি বললেনঃ তুমি কখনো কাউকে গালি দিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এর পরে আমি কখনো স্বাধীন, গোলাম, উট ও ছাগল, কোনো কিছুকেই গালি দেইনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ ভালো কাজে অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত। তোমার কাপড় পায়ের নলার মাঝামাঝি পর্যন্ত উঠিয়ে রাখো, যদি এতে সন্তুষ্ট না হও তবে টাখনু পর্যন্ত রাখো। টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা থেকে সাবধান; কারণ তা করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না। কেউ যদি তোমার মধ্যকার জানা কোনো দোষ উল্লেখ করে তোমাকে মন্দ কথা বলে এবং লজ্জিত করে তবে তুমি কিন্তু তার জ্ঞাত দোষ উল্লেখ করে তাকে লজ্জা দিবে না। কেননা এর কৃতকর্মের প্রতিফল তাকে ভোগ করতেই হবে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 65 · #4081 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 66
। সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ পরিধেয় বস্ত্র মাটিতে হেঁচড়িয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। একথা শুনে আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমার লূঙ্গির একদিক মাঝেমধ্যে ঝুলে পড়ে। আমি তো সেদিকে সর্বদা সতর্ক হতে পারি না। তিনি বললেনঃ যারা অহংকারবশে এরূপ করে আপনি তো তাদের মতো নন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 66 · #4082 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5784) - 67
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যাও, উযু করে এসো। লোকটি গিয়ে উযু করে আসলে তিনি তাকে বললেনঃ যাও, উযু করে এসো। লোকটি গিয়ে উযু করে এলে তিনি তাকে আবার বললেনঃ যাও, উযু করে এসো। তখন এক লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাকে কি জন্য উযুর আদেশ দিলেন, অতঃপর তিনি নীরব থাকলেন। তিনি বলেনঃ লোকটি লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। মহান আল্লাহ ঐ সালাত কবূল করেন না যে টাখনুর নীচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায় করে।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 67 · #4083 · Daif, Daif, Daif, Hasan - 68
। আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন প্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি (রহমতের নজরে) দেখবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এরা কারা? নিঃসন্দেহে এরা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একথাটা তিনবার বললেন, আর আমিও তাঁকে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এরা কেমন লোক? এরা তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বললেনঃ (১) যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখে; (২) যে ব্যক্তি দান করে খোঁটা দেয় এবং (৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা বা ধোঁকাপূর্ন কসম করে পণ্য বিক্রি করে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 68 · #4084 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (106) - 69
। আবূ যার (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরের হাদীস বর্ণিত। তাঁর প্রথম হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ। বর্ণনাকারী বলেন, ‘‘আল-মান্নান’’ হলো, যে কাউকে কোনো কিছু দান করলেই খোঁটা দেয়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 69 · #4085 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (106) - 70
। কায়িস ইবনু বিশর আত-তাগলিবী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেন, তিনি আবূ দারদা (রাঃ) সঙ্গী ছিলেন। তিনি বলেন, সে সময় দামিশকে ইবনুল ‘হানযালিয়া’ (রাঃ) নামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবী বাস করতেন, যিনি নিঃসঙ্গ থাকতেন, সালাত শেষ হলে তাসবীহ-তাহলীলে মশগুল হতেন, এরপর বাড়ি ফিরে যেতেন। তিনি বলেন, একদা আমরা আবূ দারদা (রাঃ)-এর নিকট বসা, তখন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবূ দারদা (রাঃ) তাকে বললেন. আপনি এমন একটি কথা শুনান যা আমাদের উপকারে আসবে, অথচ আপনার ক্ষতি হবে না। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অভিযানে একটি বাহিনী পাঠালেন। বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরার পর তাদের এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থানে বসে পড়লো এবং তার পাশের এক ব্যক্তিকে বললো, যদি তুমি দেখতে, আমরা যখন শত্রুবাহিনীর মুখোমুখী হই, তখন অমুক কোনো শত্রুর উপর বর্শা নিক্ষেপ করলো, আর শত্রুকে বললো, এবার সামাল দাও দেখি এই বর্শাটা, আমি তো গিফার বংশের ছেলে। সে বললো, আমার মতে তার নেকী বিনষ্ট হয়েছে। আরেকজন তার এ মন্তব্য শুনে বললো, আমার মতে তার কোনো দোষ হবে না। অতঃপর তারা এ নিয়ে কথা ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। এমন কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনতে পেয়ে বললেনঃ আল্লাহ পবিত্র, সওয়াব পাওয়াতে এবং প্রশংসিত হওয়াতে কোনো দোষ নেই। আমি আবূ দারদা (রাঃ)-কে খুশী হতে দেখলাম। তিনি তার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, আপনি এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বারবার একথা বলতে লাগলেন। অবশেষে আমি বললাম, তিনি হয় তো তার হাঁটুদ্বয়ে চেপে বসবেন। তিনি বলেন, আরেকদিন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আবূ দারদা (রাঃ) তাকে অনুরোধ করলেন, আপনি এমন কিছু বলুন যা আমাদের উপকারে আসে; কিন্তু আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেনঃ ঘোড়ার জন্য খরচকারী খোলা হাতে সাদাকাহকারীর মতো যে দান করা থেকে বিরত হয় না। অতঃপর আরেক দিন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবূ দারদা (রাঃ) তাকে বললেন, আপনি এমন একটি কথা বলুন যা আমাদের উপকারে আসে; কিন্তু আপনার ক্ষতি হবে না। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেনঃ খুরাইম আল-আসাদী অত্যন্ত ভালো মানুষ, তবে তার চুলের গোছা যদি লম্বা না হতো এবং টাখনুর নীচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে না পরতো। তাঁর এ মন্তব্য শুনে খুরাইম (রাঃ) সাথে সাতে একটি বড়ো ছুরি নিয়ে বাবরি চুল কেটে তা কানের লতি পর্যন্ত রাখেন, আর পায়ের টাখনুর অর্ধেক পর্যন্ত পরিধেয় বস্ত্র উঠিয়ে পরতে শুরু করেন। অতঃপর আরেকদিন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আবূ দারদা (রাঃ) তাকে অনুরোধ জানালেন, আপনি আমাদের এমন একটি কথা বলুন, যা আমাদের উপকারে আসে; কিন্তু আপনার ক্ষতি হবে না। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ (যেহেতু) তোমরা তোমাদের ভাইদের নিকট যাচ্ছো, কাজেই তোমাদের বাহনগুলো ঠিকঠাক করে নাও এবং পোশাক পরিপাটি করো, তোমরা যেন সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কদর্য ও অশ্লীলতা পছন্দ করেন না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ নু‘আইম হিশাম সূত্রে এরূপ বর্ণনাই করেছেনঃ ‘‘তোমরা এমন পরিপাটি হও, যেন তোমরা লোকসমাজে তিলক চিহ্ন।’’[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 70 · #4086 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 71
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, অহংকার হলো আমার চাঁদর এবং মহত্ব হলো আমার লুঙ্গি। যে কেউ এর কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।[1]’ সহীহ।
Book 34 · Hadith 71 · #4087 · Sahih, Sahih, Sahih - 72
। আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 72 · #4088 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (91) - 73
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। লোকটি ছিলো খুবই সুন্দর। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সৌন্দর্যকে ভালবাসি। আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন, আমাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করা হয়েছে। এদিক দিয়ে কেউ আমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুক তা আমি চাই না, এমন কি কেউ যদি বলে, আমার জুতার ফিতার চেয়ে তার জুতার ফিতাটা ভালো, সেটাও পছন্দ করি না। এরূপ করা কি অহংকার? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না, বরং অহংকার হলো সত্যকে অবজ্ঞা করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 73 · #4089 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih - 74
। আল-‘আলা ইবনু আব্দুর রাহমান (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে লুঙ্গি পরিধানের স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তুমি এ বিষয়ে সম্যক অবগত লোকের কাছেই এসেছো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের পরিধেয় লুঙ্গি-পায়জামা নলার মধ্যভাগ পর্যন্ত থাকবে, তবে টাখনুদ্বয় পর্যন্ত রাখলেও কোনো গুনাহ হবে না। কিন্তু টাখনুদ্বয়ের নীচে গেলে তা জাহান্নামের আগুনে যাবে। যে অহংকারবশত নিজের লুঙ্গি হেঁচড়িয়ে চলে, আল্লাহ তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 74 · #4090 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 75
। সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লুঙ্গি, জামা ও পাগড়ি হেঁচড়ানো। যে ব্যক্তি অহংকারবশে এর কোনোটি হেঁচড়িয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 75 · #4091 · Sahih, Sahih, Hasan - 76
। ইয়াযীদ ইবনু আবূ সুমাইয়্যহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুঙ্গি সম্পর্কে যা বলেছেন, জামা সম্পর্কেও তাই বলেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 76 · #4092 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Isnaad Hasan - 77
। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইয়াহইয়া (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ইকরিমাহ (রহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে লুঙ্গি পরিধান করতে দেখেছেন। তিনি লুঙ্গির কিনারা সামনের দিকে পায়ের পিঠে ছেড়ে দিয়েছেন এবং পিছনের পাড় কিছুটা উপরে উঠিয়েছেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এভাবে লুঙ্গি পরেছেন কেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবে লুঙ্গি পরিধান করতে দেখেছি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 77 · #4093 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Isnaad Sahih - 78
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন যেসব নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যেসব পুরুষ নারীদের বেশ ধারণ করে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 78 · #4094 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5885) - 79
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন ঐসব পুরুষকে যারা নারীর অনুরূপ পোশাক পরে এবং ঐসব নারীকে যে পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরিধান করে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 79 · #4095 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 80
। ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলা হলো, এক মহিলা (পুরুষদের জুতার মতো) জুতা ব্যবহার করে। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষবেশী নারীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 80 · #4096 · Sahih, Sahih, Daif - 81
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আনসার মহিলাদের আলোচনা প্রসঙ্গে তাদের প্রশংসা করেন এবং তাদের সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সূরা আন-নূর যখন অবতীর্ণ হয়, তখন তারা লুঙ্গি বা এ জাতীয় জামা ছিঁড়ে ওড়না বানিয়ে নেন। [1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 81 · #4097 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Isnaad Hasan - 82
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘হে নবী! আপনার স্ত্রী-কন্যাদেরকে এবং অন্যান্য মু‘মিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়...’’ (সূরা আল-আহযাবঃ ৫৯)। তখন থেকে আনসার মহিলারা তাদের মাথায় এমন চাদর জড়িয়ে বের হতেন, (চাঁদর কালো বর্ণের হওয়ায়) মনে হতো তাতে যেন কাক বসে আছে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 82 · #4098 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 83
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ প্রথম সারি মুহাজির নারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। কেননা আল্লাহ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘তারা যেন তাদের গলদেশ ও বক্ষদেশ মাথার ওগড়া দ্বারা আবৃত করে নেয়’’- তখন তারা তাদের সেলাইবিহীন কাপড় ছিঁড়ে তদ্বারা ওড়না বানিয়ে নেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 83 · #4099 · Sahih, Sahih - 84
। ইবনুস সারহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার মামার পান্ডুলিপিতে ‘উকাইল থেকে ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে ভিন্ন সনদে অনুরূপ অর্থের হাদীস লিপিবদ্ধ দেখেছি।
Book 34 · Hadith 84 · #4100 · Daif, Sahih, Sahih - 85
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে নিজের মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ হে আসমা! মেয়েরা যখন সাবালিকা হয় তখন এই দু’টো অঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রকাশ করা তার জন্য সংগত নয়, এ বলে তিনি তাঁর চেহারা ও দু’ হাতের কব্জির দিকে ইশারা করেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এটি মুরসাল হাদীস। খালিদ ইবনু দুরাইক (রহঃ) আয়িশাহ (রাঃ)-এর সাক্ষাত পাননি। আর সাঈদ ইবনু বাশীরও তেমন শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 85 · #4101 · Sahih, Sahih, Daif - 86
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উম্মু সালামাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রক্তমোক্ষণের অনুমতি চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ তাইবাকে তার রক্তমোক্ষণ করার আদেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি (আবূ তাইবাহ) তার দুধভাই কিংবা নাবালেগ গোলাম ছিলেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 86 · #4102 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2206) - 87
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কৃতদাসকে সঙ্গে নিয়ে ফাতিমাহ (রাঃ)-এর নিকট এলেন, যে কৃতদাসটি তিনি তাকে দান করেছিলেন। ফাতিমাহ (রাঃ)-এর পরিধানে এরূপ একটি কাপড় ছিলো যা দিয়ে তিনি মাথা ঢাকলে পা দু’টিতে পৌঁছে না; আর পা ঢাকলে মাথা পর্যন্ত পৌঁছে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ অবস্থা দেখে বলেনঃ তোমার কোনো পাপ হবে না, কারণ এখানে তো শুধু তোমার পিতা ও তোমার কৃতদাস রয়েছে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 87 · #4103 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 88
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের নিকট এক নপুংসক (হিজড়া) কৃতদাস আসা-যাওয়া করতো। সকলেই তাকে ‘যৌন কামনা রহিত পুরুষ’ হিসেবে গণ্য করতো। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। এ সময় সে তাঁর কোনো স্ত্রীর ঘরে ছিলো এবং সে একটি নারীর প্রশংসা করে বললো, নারীটি যখন সামনের দিকে আসে মনে হয় চারভাঁজে আসছে আর যখন পিছনের দিকে যায় মনে হয় আটভাঁজে যাচ্ছে (অর্থাৎ খুব মোটা)। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তো দেখছি, সে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ। সে যেন তোমাদের নিকট কখনো প্রবেশ না করতে পারে। অতঃপর সবাই তার থেকে পর্দা করলেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 88 · #4104 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2181) - 89
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে উপরের হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত আছে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 89 · #4105 · Daif, Sahih, Sahih Muslim (2181) - 90
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ ‘‘তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আল-বায়দা নামক স্থানে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর সে (হিজড়া) প্রতি শুক্রবার খাদ্যের জন্য শহরে আসতো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 90 · #4106 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 91
। আল-আওযাঈ সূত্রে এ ঘটনা বর্ণিত। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে সে তো না খেয়ে মারা যাবে। কাজেই তিনি প্রতি সপ্তাহে দু’ বার শহরে আসার জন্য তাকে অনুমতি দিলেন, অতঃপর সে খাবার সংগ্রহ করে চলে যাবে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 91 · #4107 · Sahih, Sahih, Sahih - 92
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে’’- আলোচ্য আয়াতকে আয়াত দ্বারা ব্যতিক্রম করা হয়েছেঃ ‘‘এবং বৃদ্ধা মহিলা যাদের বিয়ের যোগ্যতা নেই।’’[1] সনদ হাসান।
Book 34 · Hadith 92 · #4108 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Isnaad Hasan - 93
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম এবং তাঁর নিকট মাইমূনাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। এ সময় ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ) (অন্ধ সাহাবী) এলেন। ঘটনাটি আমাদের উপর পর্দার হুকুম নাযিলের পরের। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তার থেকে আড়ালে চলে যাও। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদের দেখতে ও চিনতে পারছে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদিও সে অন্ধ কিন্তু তোমরা উভয়ে কি তাকে দেখছো না? ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ বিধান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট। তুমি কি ইবনু উম্মু মাকতূম (রাঃ)-এর বাড়িতে ফাতিমাহ বিনতু কায়িস (রাঃ)-এর ইদ্দত পালনের বিষয়টি লক্ষ করো না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ বিনতু কায়িস (রাঃ)-কে বলেছেনঃ ‘‘তুমি ইবনু উম্মু মাকতূমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করো। কারণ সে অন্ধ লোক। তুমি সেখানে খোলামেলা পোশাকে থাকতে পারবে।’’[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 93 · #4109 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 94
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ নিজ কৃতদাসীকে নিজ কৃতদাসের সাথে বিয়ে দিলে সে যেন তার গুপ্ত অঙ্গের দিকে না তাকায়।[1] হাসান।
Book 34 · Hadith 94 · #4110 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 95
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার ক্রীতদাসীকে কৃতদাসের সাথে অথবা মজদুরের সাথে বিয়ে দিলে, সে তার (দাসীর) নাভির নীচে থেকে হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেখবে না।[1] হাসান।
Book 34 · Hadith 95 · #4111 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 96
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট এলেন, এ সময় তিনি ঘোমটা দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, একভাঁজে ঘোমটা দাও, দু’ ভাঁজে নয়, দু’ ভাঁজে নয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তাঁর এ কথার অর্থ হলো, তোমরা পুরুষদের পাগড়ীর মতো একাধিক ভাঁজ করবে না।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 96 · #4112 · Daif, Daif, Daif, Daif - 97
। দিহয়া ইবনু খলীফা আল-কালবী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু মিসরীয় কাপতান কাপড় এলো। তিনি সেগুলো থেকে আমাকে একটি কাতান দিয়ে বললেনঃ এটাকে দু’ টুকরা করো। এক টুকরা কেটে জামা বানাবে এবং অপরটি তোমার স্ত্রীকে ওড়না বানাতে দিবে। তিনি ফিরে যাওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ তোমার স্ত্রীকে এর নীচের আর একটি কাপড় লাগিয়ে নিতে বলবে, যেন তার দেহের আকৃতি দেখা না যায়।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 97 · #4113 · Daif, Daif, Daif, Hasan - 98
। সাফিয়্যাহ বিনত আবূ উবাইদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলেন, যখন তিনি পরিধেয় বস্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন হে আল্লাহর রাসূল! নারীদের ইযার ব্যবহারের বিধান কি? তিনি বললেনঃ তারা এক বিঘত নীচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে পড়তে পারে। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বলেন, এতেও তার কিছু অংশ খোলা থাকবে। তিনি বলেনঃ তবে এক হাত ঝুলিয়ে পড়বে; এর বেশী নয়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 98 · #4114 · Sahih, Isnaad Sahih - 99
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণিত। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অপর সনদে নাফি থেকে সাফিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
Book 34 · Hadith 99 · #4115 · Daif, Sahih, Isnaad Sahih - 100
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মু‘মিনীনদের জন্য এক বিঘত আচল (নীচে) ঝুলানোর অনুমতি দিতেন। অতঃপর তারা আরো বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন জানালে তিনি তাদের জন্য আরো এক বিঘত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন। অতঃপর তারা আমাদের নিকট তাদের কাপড় পাঠিয়ে দিতেন। আর আমরা এক গজ করে মেপে দিতাম।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 100 · #4116 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 101
। মাইমূনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের এক মুক্ত দাসীকে যাকাতের একটি বকরী দান করা হলো। পরে সেটা মারা গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় বললেনঃ তোমরা এর চামড়া পাকা করলে না কেন? তোমরা তো এর দ্বারা উপকৃত হতে পারতে। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো মৃত। তিনি বললেনঃ এটা খাওয়া হারাম।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 101 · #4117 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1492) Sahih Muslim (363) - 102
। যুহরী (রহঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত। এতে মাইমূনাহ (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা এর চামড়া কাজে লাগাও না কেন? অতঃপর অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণনা করেন, তবে বর্ণনাকারী চামড়া দাবাগাত করার কথা উল্লেখ করেনি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 102 · #4118 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1492) Sahih Muslim (363) - 103
। মা‘মার (রহঃ) বলেন, যুহরী (রহঃ) চামড়া দাবাগাত করা শব্দটি অস্বীকার করতেন। তিনি বলতেন, চামড়া দ্বারা বিভিন্ন প্রকার কাজে উপকৃত হওয়া যায়। ইমাম আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, আওযায়ী, ইউনুস ও উকাইল যুহরী বর্ণিত হাদীসে দাবাগাতের কথা উল্লেখ করেনি। কিন্তু যুবাইদী, সাঈদ ইবনু আব্দুল আযীয এবং হাফস ইবনু ওয়ালীদ দাবাগাতের কথা উল্লেখ করেছেন।[1] সনদ সহীহ মাকতু।
Book 34 · Hadith 103 · #4119 · Sahih Isnaad Maqtu, Sahih Isnaad Maqtu, Daif - 104
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ চামড়া দাবাগাত করা হলে পবিত্র হয়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 104 · #4120 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (366) - 105
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত প্রাণীর চামড়া দাবাগাত করার পর কাজে লাগিয়ে উপকৃত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 105 · #4121 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 106
। সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তাবূক যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বাড়িতে গিয়ে সেখানে একটি ঝুলন্ত মশক দেখে তা থেকে পানি চাইলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! এটা তো মৃত প্রাণীর চামড়ার তৈরী মশক। তিনি বললেনঃ দাবাগাত করলেই এটা পবিত্র হয়ে যায়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 106 · #4122 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 107
। আল-আলিয়াহ বিনতু সুবাই (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের ময়দানে আমার বকরী ছিলো। সেখানে মহামারী দেখা দিলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি তাকে জানালাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি তো এর চামড়া নিয়ে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারো। আমি বললাম, এর দ্বারা উপকৃত হওয়া কি বৈধ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কতিপয় কুরাইশী পুরুষ প্রায় গাধার সমান তাদের একটি বকরী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমরা যদি এর চামড়া রেখে দিতে? তারা বললো, এটা মৃত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পানি ও ছলম বৃক্ষের পাতার রস এটাকে পবিত্র করে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 107 · #4123 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 108
। আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন যুবক, তখন জুহাইনা গোত্রের এলাকায় অবস্থানকালে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পত্র পাঠ করে শুনানো হয়। তাতে ছিলোঃ ‘‘তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া ও পেশী স্তন দ্বারা উপকৃত গ্রহণ করো না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 108 · #4124 · Sahih, Sahih, Hasan - 109
। আল-হাকাম ইবনু উতাইবাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি কতিপয় লোকসহ জুহাইনা গোত্রের আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইম (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। হাকাম বলেন, তারা ভেতরে ঢুকলেন আর আমি বাইরে দরজার পাশে বসে রইলাম। অতঃপর তারা বেরিয়ে এসে আমার কাছে বর্ণনা করলেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইম (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর এক মাস পূর্বে জুহাইনা গোত্রে এ কথা লিখে একটি পত্র প্রেরণ করেছেনঃ তোমরা মৃত জন্তুর চামড়া ও স্তন দ্বারা উপকৃত হয়ো না।’ ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আন-নাদর ইবনু শুমাইল (রহঃ) বলেন, দাবাগাত না করা পর্যন্ত চামড়াকে ‘ইহাব’ বলে। দাবাগাত করার পর একে শান্ন ও কিরবাহ (পাকা চামড়া) বলা হয়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 109 · #4125 · Sahih, Sahih, Hasan - 110
। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রেশমের এবং চিতা বাঘের তৈরী গদিতে আরোহী হবে না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 110 · #4126 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 111
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মালাইকা (ফেরেশতারা) চিতাবাঘের চামড়ার তৈরী আসনে আসিন ব্যক্তির সঙ্গি হয় না।[1] হাসান।
Book 34 · Hadith 111 · #4127 · Hasan, Hasan, Daif - 112
। খালিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল-মিকদাম ইবনু মা‘দীকারীব (রাঃ), আমর ইবনুল আসওয়াদ ও কিন্নাসিরীনবাসী বনী আসাদের এক লোক মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) মিকদাম (রাঃ)-কে বললেন, জানতে পারলাম, হাসান ইবনু আলী মারা গেছেন। একথা শুনে মিকদাম (রাঃ) ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়লেন। অমুক ব্যক্তি মু‘আবিয়াহকে বললেন, এর মৃত্যুকে আপনি কি বিপদ মনে করেন? তিনি বললেন, আমি এটাকে কেন বিপদ মনে করবো না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে নিজের কোলে নিয়ে বলতেনঃ হাসান আমার এবং হুসাইন আলীর। আসাদি বললো, তিনি ছিলেন এক জ্বলন্ত কয়লা যাকে আল্লাহ নিভিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর মিকদাম (রাঃ) বলেন, আজ আমি আপনাকে অসন্তুষ্ট না করে ছাড়ব না। তিনি বললেন, হে মু‘আবিয়াহ! আমি যদি সত্য বলি তবে আমাকে সমর্থন করবেন আর মিথ্যা বললে, আমাকে মিথ্যাবাদী বলবেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। তিনি বললেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণ (পুরুষদের) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী পোশাক (পুরুষদের) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি আবারও বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র জন্তুর চামড়া ব্যবহার করতে এবং এর চামড়ার তৈরী আরোহী হতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি আপনার ঘরে এসব দেখেছি। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) বলেন হে মিকদাম! আমি জানতাম যে, তোমার কাছ থেকে রক্ষা পাবো না। খালিদ (রহঃ) বলেন, অতঃপর মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তার জন্য এত পরিমাণ সম্পদ দেয়ার আদেশ দেন, যা অপর দু’ জন সাথীর জন্য দেননি। আর তার ছেলের জন্য দু’ শো দীনার প্রদান করেন। মিকদাম (রাঃ) এগুলো তার সাথীদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আসাদী এখানে যা পেয়েছে তা থেকে কাউকে কিছু দেয়নি। এ সংবাদ মু‘আবিয়াহর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, মিকদাম হলো লম্বা হাতের দানশীল লোক, তার আসাদী নিজের জন্য আটকিয়ে রাখা লোক।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 112 · #4128 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 113
। আবুল মালীহ ইবনু উসামাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 113 · #4129 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 114
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি বলেনঃ তোমার (সফরকালে) জুতা বেশী রাখবে। কারণ জুতা পরিধান করে সব সময় সফর করা যায়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 114 · #4130 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2096) - 115
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতার দু’টি তস্মা (ফিতা) ছিলো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 115 · #4131 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5857) - 116
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে দাঁড়িয়ে জুতা পরতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 116 · #4132 · Sahih, Sahih, Daif - 117
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ এক পায়ে জুতা পরে হাটবে না। হয় উভয় পায়ে জুতা পরবে অথবা উভয় পা থেকে জুতা খুলে রাখবে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 117 · #4133 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5855) Sahih Muslim (2097) - 118
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো একটি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তা ঠিক না করা পর্যন্ত সে অপর জুতাটি পায়ে দিয়ে হাটবে না, আর এক মোজা পরিধান করেও চলবে না এবং বাম হাতে খাবে না।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 118 · #4134 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2099) - 119
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুন্নাত হলো বসার সময় পায়ের জুতা খুলে পাশে রেখে দেয়া।[1] সনদ দুর্বল।
Book 34 · Hadith 119 · #4135 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 120
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জুতা পরার সময় ডান পা থেকে আরম্ভ করবে এবং খোলার সময় বাম পা থেকে আরম্ভ করবে। জুতা পরার সময় ডান পা থেকে প্রথম এবং খোলার সময় শেষে হবে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 120 · #4136 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5856) Sahih Muslim (2097) - 121
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিটি কাজ যথাসাধ্য ডান থেকে আরম্ভ করা ভালবাসতেন। পবিত্রতা অর্জন, চুলে চিরুণী এবং জুতা পরতে তিনি ডান থেকে আরম্ভ করতেন। মুসলিম (রহঃ) বলেন, মেসওয়াক করার সময়ও ডান পাশ থেকে আরম্ভ করতেন। তবে তার বর্ণনায় ‘প্রতিটি কাজ’ শব্দ নেই। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মু‘আয (রহঃ) শু‘বাহ (রহঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি ‘মিসওয়াক’ শব্দ উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 121 · #4137 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (168) Sahih Muslim (268) - 122
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন পোশাক বা জুতা পরিধান করো এবং উযূ করো, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 122 · #4138 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 123
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানা সম্পর্কে বলেনঃ পুরুষের জন্য একটি বিছানা, নারীর জন্য একটি বিছানা এবং একটি অতিথির জন্য। আর চতুর্থটি হলো শয়তানের জন্য।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 123 · #4139 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2084) - 124
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে গিয়ে তাঁকে বালিসে বাম কাতে ঠেস দিয়ে বসা দেখেছি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 124 · #4140 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 125
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইয়ামেনের এক দল সাথীকে দেখতে পেলেন, যাদের সওয়ারীর গদিগুলো ছিলো চামড়ার তৈরী। তিনি বলেন, কেউ যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাদৃশ্য দেখতে চাও, তবে যেন এদেরকে দেখে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 125 · #4141 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih - 126
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ তোমরা কি নরম গদি বানিয়েছ? আমি বললাম, আমরা নরম গদি কোথায় পাবো? তিনি বলেনঃ অচিরেই তোমাদের জন্য নরম গদি হবে।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 126 · #4142 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5161) Sahih Muslim (2083) - 127
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতে ঘুমানোর বালিশ ছিলো চামড়ার তৈরী, সেটির ভেতরে ছিলো খেজুরের ছাল বাকল।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 127 · #4143 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2082) - 128
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য চামড়ার তৈরী একটি তোষক ছিলো, যার ভেতরে খেজুরের ছাল বাকল ভরা ছিলো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 128 · #4144 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2082) - 129
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার বিছানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায়ের ঠিক সামনে ছিলো।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 129 · #4145 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 130
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে দরজায় পর্দা ঝুলানো দেখতে পেয়ে তিনি ভিতরে ঢুকলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, অধিকাংশ সময় তিনি ভিতরে ঢুকেই সর্বপ্রথম ফাতিমাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। এ সময় আলী (রাঃ) এসে ফাতিমাহকে চিন্তিত দেখে বললেন, তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসতে চেয়েও আসেননি। অতঃপর আলী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ফাতিমাহর নিকট গিয়েও প্রবেশ না করায় এটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি বলেনঃ দুনিয়াদারী ও চাকচিক্যতার সাথে আমার কি সম্পর্ক। একথা শুনে আলী ফাতিমাহর নিকট গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, তিনি আমাকে এটাকে কি করতে আদেশ দেন? (আলীর বর্ণনা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তাকে (ফাতিমাহকে) বলো, তা (পর্দাটি) যেন অমুক গোত্রে পাঠিয়ে দেয়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 130 · #4146 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2613) - 131
। ইবনু ফুদাইল (রহঃ) তার পিতার সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, পর্দাটি ছিলো ডোরাযুক্ত ও নকশা খচিত।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 131 · #4147 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2613) - 132
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কোনো জিনিসই রাখতে দিতেন না। তিনি সেগুলোকে ছিঁড়ে ফেলতেন।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 132 · #4148 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5952) - 133
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না, যেখানে ছবি, কুকুর এবং অপবিত্র লোক থাকে।[1] দুর্বল।
Book 34 · Hadith 133 · #4149 · Daif, Daif, Hasan - 134
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ তালহা আল-আনসারী (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে সেই ঘরে ফিরিশতা প্রবেশ করেন না। অতঃপর তিনি (যায়িদ) বলেন, চলো, তোমার উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করি। আমরা তার নিকট পৌঁছে বললাম, হে উম্মুল মু‘মিনীন! আবূ তালহা (রাঃ) আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ এরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, না, তবে আমি তাঁকে যা করতে দেখেছি, সে সম্পর্কে একটি হাদীস আপনাদের বলছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুদ্ধাভিযানে গেলেন। আমি তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলাম। আমি আমাদের একটি পশমী কাপড় দরজার চৌকাঠে পর্দা হিসেবে ঝুলিয়ে রাখলাম। তিনি যখন ফিরে এলেন, আমি স্বাগতম জানিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে সম্মানিত ও মর্যাদা সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি ঘরের দরজার দিকে তাকাতে পশমী পর্দা দেখেন। কিন্তু আমার কথার কোনো জবাব দিলেন না। আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ দেখতে পেলাম। তিনি পশমী (ছবিযুক্ত) কাপড়টির নিকট গিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলে বলেনঃ আল্লাহ আমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন, তা পাথর ও ইটকে পরানোর আদেশ দেননি। তিনি (আয়িশাহ) বলেন, আমি কাপড়টা কেটে দু’টি বালিশ তৈরী করলাম এবং ভেতরে খেজুরের ছাল বাকল ভরে দিলাম; তিনি আমার এ কাজ অপছন্দ করেননি।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 134 · #4150 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2106) - 135
। সুহাইল (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। যায়িদ (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করে বলেন, আমি বললাম, হে আম্মাজি! তিনি (আবূ তালহা) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সব কথা বলেছেন। বনী নাজ্জারের মুক্তদাস সাইদ ইবনু ইয়াসারও এ কথা বলেন।[1] সনদ সহীহ।
Book 34 · Hadith 135 · #4151 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Sahih - 136
। যায়িদ ইবনু খালিদ (রাঃ) বলেন, আবূ তালহা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফিরিশতা প্রবেশ করে না। বুসর (রহঃ) বলেন, অতঃপর যায়িদ (রাঃ) অসুস্থ হলে আমরা তাকে দেখতে তার বাড়িতে গেলাম। তার ঘরের দরজায় ছবিযুক্ত একটি পর্দা দেখলাম। আমি তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমূনাহ (রাঃ)-এর পালিত পুত্র উবায়দুল্লাহ আল-খাওলানীকে বললাম, যায়িদ (রাঃ) আমাদের ছবি না রাখার হাদীস শুনিয়েছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আপনি কি শুনেননি, সে হাদীসে তিনি এ কথাও উল্লেখ করেছেন, কাপড়ের মধ্যে যদি গাছপালা, লতাপাতা ইত্যাদি ছবি থাকে, তা নিষেধ নয়।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 136 · #4152 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5958) Sahih Muslim (2106) - 137
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল-বাতহা’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আদেশ দিলেন যেন তিনি কা‘বার ভিতরে গিয়ে এর মধ্যে বিদ্যমান সব ছবি মিটিয়ে দেন। অতঃপর সব ছবি মিটিয়ে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে প্রবেশ করেননি।[1] সনদ হাসান।
Book 34 · Hadith 137 · #4153 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 138
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমূনাহ (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার সাথে রাতে সাক্ষাৎ করার ওয়াদা করেছিলেন; কিন্তু সাক্ষাৎ করেননি। অতঃপর তাঁর মনে পড়লো যে, আমাদের বিছানার নীচে একটি কুকুর শাবক আছে। তিনি এটাকে বের করে দিতে আদেশ দিলে তা বের করা হলো। অতঃপর তিনি নিজেই পানি দিয়ে সে স্থানটা ধুয়ে ফেললেন। জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় বললেন, যে ঘরে কুকুর এবং ছবি থাকে সে ঘরে আমরা কখনো প্রবেশ করি না। সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মারতে আদেশ দিলেন, এমন কি ছোট বাগান পাহারার কুকুর হত্যা করারও আদেশ দেন, বড় বাগানের পাহারাদার কুকুর ছাড়া।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 138 · #4154 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2105) - 139
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল আমার নিকট এসে বলেন, গত রাতে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু আমি প্রবেশ করিনি। কারণ ঘরের দরজায় ছবি ছিলো। ঘরের মধ্যে ছিলো ছবিযুক্ত পর্দা এবং ঘরের ভিতরে ছিলো কুকুর। সুতরাং আপনি ঘরে ঝুলানো ছবির মাথা কেটে দেয়ার আদেশ করুন, তাহলে তা গাছের আকৃতিতে পরিণত হবে। আর পর্দাটি কেটে দু’টি বালিশের ভিতরের কাপড় বানাতে আদেশ করুন এবং কুকুরটিকে বের করে দেয়ার হুকুম দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশ মতো কাজ করলেন। কুকুরটি ছিলো হাসান বা হুসাইনের এবং তা তাদের খাটের নীচে শুয়ে ছিলো। তিনি সেটাকেও বের করে দেয়ার আদেশ দেন এবং তা বের করে দেয়া হলো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আন-নাযাদ হচ্ছে কাপড় রাখার বস্তু, গদি সদৃশ।[1] সহীহ।
Book 34 · Hadith 139 · #4155 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih