Sunan Abu Dawud

← Sunan Abu Dawud

Trials and Fierce Battles (Kitab Al-Fitan Wa Al-Malahim)

৩৯ হাদিস

  1. 1

    । হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সেসবের বর্ণনা দিলেন। কেউ তা মনে রাখলো এবং কেউ তা ভুলে গেলো। আমার এসব সাথী তা অবহিত আছে যে, ঐ সবের কিছু ঘটলেই আমি তা এরূপ স্মরণ করতে পারি যেরূপ কেউ তার পরিচিত লোকের অনুপস্থিতিতে তার চেহারা স্মরণ রাখে। অতঃপর তাকে দেখা মাত্র চিনে ফেলে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 1 · #4237 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6604) Sahih Muslim (2891)
  2. 2

    । আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই উম্মাতের মাঝে চারটি ফিতনা সংঘটিত হবে অতঃপর কিয়ামত হবে।[1] দুর্বলঃ যঈফাহ হা/ ৪৮৩১।

    Book 37 · Hadith 2 · #4238 · Daif, Daif, Daif, Daif
  3. 3

    । আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি ফিতনা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন, এমন কি তিনি আহলাস ফিতনা সম্পর্কে বললেন। তখন একজন বললো, ‘আহলাস’ ফিতনা কি? তিনি বললেন, পলায়ন ও লুটতরাজ। অতঃপর আসবে একটি ফিতনা, যা হবে আনন্দদায়ক, এর অন্ধকারাচ্ছন্ন ধুয়া বের হবে, আমার পরিবারের জনৈক ব্যক্তির দু’ পায়ের নীচ থেকে। সে ধারণা করবে যে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত, অথচ সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমার বন্ধু হচ্ছে আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ। অতঃপর জনগণ এমন ব্যক্তির অধীনে একতাবদ্ধ হবে। সে যেন পাজরের উপর কোমরের হাড় সদৃশ। অতঃপর তিনি ‘দুহায়মা’ বা ঘন অন্ধকারময় ফিতনা প্রসঙ্গে বলেন, সেই ফিতনা এই উম্মাতের কোনো লোককেই একটি চপেটাঘাত না করে ছাড়বে না। অতঃপর যখন বলা হবে যে, তা শেষ হয়ে গেছে, তখনই তা আরো প্রসারিত হবে। এ সময়ে যে লোকটি সকালে মু‘মিন ছিলো সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। অবশেষে সব মানুষ দু’টি শিবিরে বিভক্ত হবে। একটি হবে ঈমানের শিবির, যেখানে মুনাফিকী থাকবে না। আর একটি হবে মুনাফিকীর শিবির, যেখানে ঈমান থাকবে না। যখন তোমাদের এ অবস্থা হবে, তখন দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষা করবে ঐ দিন বা তার পরের দিন থেকে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 3 · #4239 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  4. 4

    । হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামেন (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সাথীরা ভুলে গেছেন না কি জেনে শুনে ভুলে আছেন। আল্লাহর কসম! কিয়ামত পর্যন্ত ফিতনার সংখ্যা হবে তিন শতাধিক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রত্যেকের নাম, পিতার নাম ও গোত্রের নাম আমাদেরকে অবহিত করেছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ৫৩৯৩।

    Book 37 · Hadith 4 · #4240 · Daif, Daif, Daif, Hasan
  5. 5

    । সুবাই ইবনু খালিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুসতার বিজয় হওয়ার পর কিছু খচ্চর ক্রয় করার জন্য আমি কুফায় আসি। আমি একটি মসজিদে প্রবেশ করে কয়েকজন লোক দেখতে পেলাম এবং মাঝখানে জনৈক ব্যক্তি বসে আছেন। তুমি তাকে দেখেই চিনতে পারবে যে, তিনি হিজাজের অধিবাসী। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তিনি কে? উপস্থিত জনতা আমার প্রতি অসন্তুষ্টের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি তাঁকে চেনো না? তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামেন (রাঃ)। অতঃপর হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতো। আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। এ কথা শুনে জনতা তা অপছন্দ করতো। নিশ্চয়ই আমি প্রশ্ন করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ধারণা করেন যে, মহান আল্লাহ যে কল্যাণ আমাদের দিয়েছেন, এর পরে কি কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তাহলে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, তলোয়ার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর কি হবে? তিনি বললেনঃ পৃথিবীতে যদি আল্লাহর কোনো খলীফা থাকে, আর সে যদি তোমার পিঠে আঘাত করে এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, তবুও তার আনুগত্য করো, অন্যথায় তুমি বৃক্ষের কান্ড সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে মৃত্যু বরণ করো। আমি বললাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেন, তারপর আগুন ও পানির নহর নিয়ে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। যে ব্যক্তি তার আগুনে পতিত হবে, সে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে এবং তার গুনাহ মাফ করা হবে। আর যে তার নহরে পতিত হবে, তার অপরাধের শাস্তি অবধারিত হবে এবং সওয়াব বরবাদ হবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেনঃ অতঃপর কিয়ামত সংঘটিত হবে।[1] হাসান।

    Book 37 · Hadith 5 · #4241 · Hasan, Hasan, Hasan
  6. 6

    । খালিদ ইবনু খালিদ আল-ইয়াশকুরী (রহঃ) সূত্রে উপরের বর্ণিত হাদীসে হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম তরবারির পরে কি হবে? তিনি বলেন, মানুষ আবর্জনা বা ফিতনায় মগ্ন থাকবে এবং ষড়যন্ত্রমূলক সন্ধি করবে। অতঃপর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, কাতাদাহ একথার দ্বারা আবূ বাকরের যুগের মুরতাদদের ফিতনাকেই বুঝাতেন। আর তিনি أَقْذَاءٍ অর্থ বলতেন, قَذى অর্থ কলঙ্কهُدْنَةٌ সাময়িক যুদ্ধবিরতি।دَخَنٍ বিদ্বেষ, অপকারেচ্ছা।[1] হাসান।

    Book 37 · Hadith 6 · #4242 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  7. 7

    । নাসর ইবনু আসিম আল-লাইসী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা লাইস গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আল-ইয়াশকুরীর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেন, আপনারা কোন গোত্রের লোক? আমরা বললাম, আমরা লাইস গোত্রের, আপনার নিকট হুযাইফাহ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস জানার জন্য এসেছি। অতএব তিনি সেই হাদীস বর্ণনা করেন। হুযাইফাহ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই কল্যাণময় পরিবেশের পর কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, ফিতনা আসবে। তিনি বললেন, হে হুযাইফাহ! তুমি আল্লাহর কিতাব পড়ো এবং তাতে যা আছে তার অনুসরণ করো। একথা তিনি তিনবার বলেন। হুযাইফাহ বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! এই অকল্যাণের পর আবার কল্যাণ আসবে কি? তিনি বললেন, খিয়ানাত ও মুনাফিকীর সঙ্গে সন্ধি করা হবে, আর কপট একটি দল হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! খিয়ানাতের সঙ্গে সন্ধি বলতে কি বুঝায়? তিনি বললেন, মানুষের অন্তরে যেরূপ ছিলো, সে অবস্থায় আর ফিরে যাবে না। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণকর অবস্থার পর কি অকল্যাণ ফিরে আসবে? তিনি বললেন, অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা সৃষ্টি হবে, আর সেই সময় ভ্রান্ত ‘আকিদাহ-বিশ্বাসের উপর (জাহান্নামের) আগুনের দিকে একদল লোক আহবান করবে। হে হুযাইফাহ! তখন তুমি যদি বৃক্ষমূল আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো তবে তা তোমার জন্য তাদের কাউকে অনুসরণ করার চাইতে উত্তম হবে।[1] হাসান।

    Book 37 · Hadith 7 · #4243 · Hasan, Hasan, Isnaad Sahih
  8. 8

    । হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি যদি তখন কোনো খলীফাহ (শাসক) না পাও, তবে তুমি মরে যাওয়া পর্যন্ত পলায়ন করতে থাকো। অতঃপর তুমি যদি কোনো বৃক্ষমূল শক্তভাবে আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো...। তিনি হাদীসের শেষাংশে বলেন, আমি বললাম, এরপর কি হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন. কেউ যদি তখন ঘোড়ার বাচ্চা প্রসব করাতে যায় তবে তাপ্রসব করার পূর্বেই কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।[1] হাসান।

    Book 37 · Hadith 8 · #4244 · Hasan, Hasan, Hasan
  9. 9

    । আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি একজন ইমামের হাতে হাত রেখে অন্তর থেকে তার আনুগত্যের শপথ করে, তাতে যথাসাধ্য তার আনুগত্য করা কর্তব্য। যদি অপর কোনো ব্যক্তি এসে ঐ ইমামের সাথে বিবাদ করে তবে তোমরা তার ঘাড়ে আঘাত করো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, একথা কি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দু’টি কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে। আমি বললাম, এই যে তিনি আপনার চাচাতো ভাই মুআবিয়াহ, তিনি আমাদেরকে এই এই কাজ করার আদেশ করেন। তিনি বললেন, আল্লাহর আনুগত্যে তোমরা তার আনুগত্য করো আর আল্লাহ নাফরমানীতে তার অবাধ্যচারণ করো।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 9 · #4245 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1844)
  10. 10

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আরববাসীদের জন্য আফসোস! কেননা তাদের উপর অকল্যাণ ঘনিয়ে এসেছে। যে ব্যক্তি তা থেকে হাত গুটিয়ে রাখবে, সে সফল হবে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 10 · #4246 · Sahih, Sahih, Daif
  11. 11

    । ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই মুসলিমদেরকে মদীনাতে অবরোধ করা হবে, এমন কি তাদের দূরতম যুদ্ধক্ষেত্র হবে ‘সালাহ।’[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 11 · #4247 · Sahih, Sahih, Hasan
  12. 12

    । ইমাম যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাহ হলো খায়বারের নিকটবর্তী একটি স্থান। সনদ সহীহ মাকতূ।

    Book 37 · Hadith 12 · #4248 · Sahih Isnaad Maqtu, Sahih Isnaad Maqtu, Sahih
  13. 13

    । সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ (অথবা) আমার রব পৃথিবীকে আমার জন্য সংকুচিত করে দিয়েছেন এবং আমাকে এর পূর্ব ও পশ্চিম সীমানা দেখানো হয়েছে। আর যুতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে, ততটুকুতে অচিরেই আমার উম্মাতের রাজত্ব বিস্তার লাভ করবে। আমাকে লাল ও সাদা (স্বর্ণ ও রূপার) দু’টি ধনভান্ডার দেয়া হয়েছে। আর আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট আমার উম্মাতের জন্য এই কথার আবেদন করছি যে, তিনি তাদের সবাইকে যেন দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত কোনো শত্রু যেন তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে না পারে যারা তাদের ধ্বংস করে দিবে। নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা ফায়সালা করি, তা বাতিল হয় না। তবে আমি তাদের সবাইকে একসঙ্গে দুর্ভিক্ষে ধ্বংস করবো না এবং তাদের নিজেদের ছাড়া দিকবিদিক থেকে আগত তাদের সমূলে বিনাশকারী বিধর্মী শত্রুকে তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে দিবো না, তবে তাদের কতক অপরদের ধ্বংস করবে এবং কতক অপরাধে বন্দী করবে। আর আমি আমার উম্মাতের পথভ্রষ্ট নেতাদের ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার উম্মত যখন পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা বিরত হবে না। আর আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র মূর্তি পূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। অবিলম্বে আমার উম্মাতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবী বলে দাবী করবে। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী এবং আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না। তবে আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর অটল থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, এমন কি এ অবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) এসে যাবে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 13 · #4249 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2889)
  14. 14

    । আবূ মালিক আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন., রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তিনটি বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তা হলো (১) তোমাদের নবী তোমাদের অভিশাপ দিবেন না, অন্যথায় তোমরা সকলেই ধ্বংস হয়ে যেতে। (২) বাতিলপন্থী কখনো সত্যপন্থীদের উপর বিজয়ী হবে না এবং (৩) তোমরা সকলে এক সাথে পথভ্রষ্ট হবে না।[1] দুর্বল, কিন্তু তৃতীয় বাক্যটি সহীহ। যঈফাহ হা/ ১৫১০, সহীহাহ হা/ ১৩৩১।

    Book 37 · Hadith 14 · #4250 · Daif, Daif, Daif
  15. 15

    । আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামের চাকা (হুকুমাত) পয়ত্রিশ, ছত্রিশ বা সাইত্রিশ বছর চালু থাকবে। এ সময়ে তারা ধ্বংস হলে তাদের পথ হবে তাদের পূর্ববর্তীদের মতো। আর এ সময় যদি তাদের দীন প্রতিষ্ঠিত থাকে তবে সত্তর বছর পর্যন্ত তা প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, এর গণনা কি অতীত থেকে না এখন থেকে শুরু হবে? তিনি বললেন, অতীত থেকে শুরু হবে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 15 · #4251 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  16. 16

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সময় ছোট হয়ে আসবে, দীনি জ্ঞান হ্রাস পাবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, কৃপণতা মানুষের অন্তর দখল করবে, হারাজ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘হারাজ’ কি? তিনি বলেন, গণহত্যা।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 16 · #4252 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (157 After 2672)
  17. 17

    । মুসলিম ইবনু অবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই ফিতনা আসবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তির চেয়ে শয়নকারী এবং দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে হেঁটে চলা ব্যক্তি উত্তম হবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, যার উট আছে, সে যেন তার উটের সঙ্গে, যার বকরী আছে, সে তার বকরীর সঙ্গে এবং যার জমি আছে সে তার জমি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিনি প্রশ্ন করলেন, যার এসবের কিছুই নেই? তিনি বললেন, সে যেন তার তলোয়ারের দিকে মনোনিবেশ করে এবং পাথরের আঘাতে তরবারির ধার চূর্ণ করে দেয়, অতঃপর যথাসাধ্য চেষ্টা করে সেই ফিতনা থেকে মুক্তি পাওয়ার।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 17 · #4253 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2887)
  18. 18

    । সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উপরে বর্ণিত হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি মত, যদি কেউ আমার ঘরে ঢুকে পড়ে এবং আমাকে হত্যা করার জন্য তার হাত প্রসারিত করে? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তখন আদম (আঃ)-এর পুত্রের মতো (হাবীলের) হয়ে যাও। অতঃপর বর্ণনাকারী ইয়াযীদ এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ ‘‘তুমি যদি আমাকে হত্যা করতে হাত প্রসারিত করো...’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ২৮)।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 18 · #4254 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan
  19. 19

    । ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ... অতঃপর তিনি আবূ বাকরাহ বর্ণিত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করে বলেন, ঐ ফিতনায় নিহত সকল লোকই জাহান্নামী হবে। তিনি তাতে বলেন, আমি বললাম, হে ইবনু মাস‘ঊদ! ঐ পরিস্থিতি কখন হবে? তিনি বললেন, সেই মারামারিরর যুগে কোনো ব্যক্তি তার বন্ধুর নিকটেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম, সেই যুগ যদি আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে আমাকে কি করতে আদেশ করেন? তিনি বললেন তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, হাত গুটিয়ে রাখবে আর তুমি তোমার ঘরের বাইরে বের হবে না। অতঃপর যখন উসমান (রাঃ) শহীদ হলেন, তখন আমার ফিতনার কথা স্মরণ হলো। সুতরাং আমি যাত্রা করে দামিশকে চলে এলাম এবং খুরাইম ইবনু ফাতিক (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এ হাদীস বর্ণনা করলাম। তিনি যেই সত্তা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই সেই আল্লাহর কসম করে বললেন, আমি তাঁর নিকট ইবনু মাস‘ঊদের যে হাদীস বর্ণনা করেছি, অনুরূপ হাদীস তিনিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন।[1] সনদ দুর্বল।

    Book 37 · Hadith 19 · #4255 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif
  20. 20

    । আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপদ আসতে থাকবে। তখন সকালবেলা যে ঈমানদার ছিলো, সন্ধ্যাকালে সে কাফির হয়ে যাবে। আর সন্ধ্যাবেলা যে ঈমানদার ছিলো, সে সকালবেলা কাফির হয়ে যাবে। তখন দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে বসা ব্যক্তি এবং হেঁটে চলার লোক দৌঁড়ে চলা লোকের চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলো, ধনুকের ছিলাগুলো কেটে ফেলো এবং তরবারিগুলো পাথরে আঘাত করে চূর্ণ-বিচূর্ণ করো। তবুও যদি তোমাদের কারো কারো নিকট কেউ এসে পড়ে, তবে যেন সে আদম (আঃ)-এর দু‘পুত্রের মধ্যে উত্তমটির (হাবীলের) মতো হয়।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 20 · #4256 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  21. 21

    । আব্দুর রাহমান ইবনু সামুরাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাত ধরে মদীনার কোনো এক রাস্তায় ছিলাম। হঠাৎ তিনি একটি ঝুলন্ত মাথার নিকট এসে বললেন, এর হত্যা বড়োই দুর্ভাগা! তিনি যেতে যেতে বললেন, আমার থেকে সে অত্যন্ত দুর্ভাগা। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যদি আমার উম্মাতের কাউকে হত্যা করার জন্য কোনো লোক অগ্রসর হয়, তাহলে তাকে এভাবে বলো, হত্যাকারী জাহান্নামে যাবে, আর নিহত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে।[1] দুর্বল: যঈফাহ হা/৪৬৬৪।

    Book 37 · Hadith 21 · #4257 · Daif, Daif, Daif, Daif
  22. 22

    । আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসাূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় সাহচর্যে উপস্থিত। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন এক সঙ্গে বহু লোক মারা যাবে এবং একটি ঘর অর্থাৎ একটি কবর একটি গোলামের মূল্যের সমান হবে, তখন তুমি কি করবে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত অথবা তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে আমার জন্য যা কল্যাণকর মনে করেন। তিনি বললেন, তখন তোমার ধৈর্য ধারণ করা উচিত অথবা তিনি বলেন, তুমি ধৈর্য ধারণ করবে। পুনরায় তিনি আমাকে ডেকে বলেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, আমি বললাম, আমি আপনার কল্যাণময় সাহচর্যে উপস্থিত। তিনি বললেনঃ তুমি কি করবে যখন দেখবে যে, ‘আহজারুয-যায়িত’ নামক জায়গাটি রক্তে ডুবে যাচ্ছে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমার জন্য এ বিষয়ে যা উত্তম মনে করেন। তিনি বললেন, তুমি তোমার সমমনা লোকদের নিকট চলে যাবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তখন আমার কাঁধে তরবারি ধারণ করবো না? তিনি বললেন, তাহলে তো তুমি তাদের সঙ্গী হয়ে যাবে! তিনি বলেন, তুমি তোমার ঘরে আশ্রয় নিবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, যদি সেই বিপদ আমার ঘরে প্রবেশ করে? তিনি বললেন, তুমি যদি আশঙ্কা করো যে, তরবারি ঝলকে তোমাকে ঝলসিয়ে দিবে, তবে তোমার মুখমন্ডল কাপড়ে ঢেকে ফেলো। তাতে সে হত্যাকারী তোমার গুনাহ ও তার গুনাহ নিয়ে ফিরে যাবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ছাড়া কেউ এ হাদীসে বর্ণনাকারী ‘মুশা‘আস-এর নাম উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 22 · #4258 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  23. 23

    । আবূ কাবশাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় একের পর এক বিপদ আসতে থাকবে। সেই বিপদের সময় সকালবেলা যে ব্যক্তি ঈমানদার ছিলো, বিকেলবেলা সে কাফির হয়ে যাবে, আর সন্ধ্যাবেলা যে লোকটি ঈমানদার ছিলো, সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। সে সময়ের বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির চাইতে উত্তম হবে এবং দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তির চাইতে উত্তম এবং হেঁটে চলা ব্যক্তি দৌড়ে চলা ব্যক্তির চাইতে উত্তম হবে। লোকজন বললো, আপনি আমাদের কি করতে আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের ঘরের পর্দার ন্যায় হয়ে যাও (বের হয়ো না)।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 23 · #4259 · Sahih, Sahih, Hasan
  24. 24

    । আল-মিকদাম ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ফিতনা থেকে দূরে থাকবে, সেই সৌভাগ্যবান; যে লোক ফিতনা থেকে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান; যে ফিতনা থেকে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান। আর যে ব্যক্তি ফিতনায় পড়ে ধৈর্য ধারণ করবে, তার জন্য কতই না মঙ্গল![1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 24 · #4260 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  25. 25

    । আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অচিরেই বধির, মুক ও অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনার সৃষ্টি হবে, যে কেউ এর নিকটবর্তী হবে, ফিতনা তার নিকটবর্তী হবে। আর সেই সময় মুখে কিছু বলা তরবারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ন্যায় মারত্মক হবে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত হা/ ৫৪০২।

    Book 37 · Hadith 25 · #4261 · Daif, Daif, Daif
  26. 26

    । আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই অচিরে এরূপ ফিতনা সৃষ্টি হবে, যা সমস্ত আরবকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে। সেই ফিতনায় নিহতরা জাহান্নামী হবে। জিহ্বার ব্যবহার তখন তরবারির আঘাতের চাইতেও মারাত্মক হবে। দুর্বল।

    Book 37 · Hadith 26 · #4262 · Daif, Daif, Daif
  27. 27

    । আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল কুদ্দুস ‘‘যিয়াদ নামক এক ব্যক্তি থেকে’’ না বলে ‘‘সাদা কান বিশিষ্ট এক ব্যক্তি থেকে’’ বলেছেন। আমি এটি সহীহ এবং যঈফেও পাইনি।

    Book 37 · Hadith 27 · #4263 · Daif, Daif, Isnaad Sahih
  28. 28

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই বকরীই হবে মুসলিমদের উত্তম সম্পদ। তা নিয়ে তারা পাহাড়ের চূড়ায় ও বৃষ্টির পানি এলাকায় চলে যাবে, তাদের দীনকে ফিতনা থেকে রক্ষার জন্য পালাবে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 28 · #4264 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (19)
  29. 29

    । আল-আহনাফ ইবনু কাইস সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। আবূ বাকরাহ (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, তুমি ফিরে যাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দু’ মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হলে হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামে যাবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারী তো জাহান্নামে যাবেই তবে নিহত ব্যক্তি কেন যাবে? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই সেও তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করতে সংকল্পবদ্ধ।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 29 · #4265 · Sahih, Sahih Bukhari (31) Sahih Muslim (2888)
  30. 30

    । মুহাম্মাদ ইবনু মুতাওয়াক্‌কিল আল-আসকালঅনী তার সূত্রে সংক্ষেপে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওয়াককিল সম্পর্কে বলেন, দুর্বল ভাই, তাকে হুসাইন বলা হয়। আমি এটি সহীহ এবং যঈফেও পাইনি।

    Book 37 · Hadith 30 · #4266 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2888)
  31. 31

    । খালিদ ইবনু দিহকান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘যালকিয়া’ নামক স্থানে কনস্টান্টিনোপল যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। তখন ফিলিস্তিনবাসী হানী ইবনু কুলসুম ইবনু শারীক আল-কিনানী নামক জনৈক সম্মানিত ও উত্তম ব্যক্তি এসে আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যাকারিয়াকে সালাম দিলেন, যার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। খালিদ আমাদের বললেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, আমি উম্মু দারদাকে বলতে শুনেছি, আমি আবূ দারদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রসাূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ সব গুনাহই ক্ষমা করবেন; কিন্তু মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে অথবা কোনো ঈমানদার ব্যক্তি অপর কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে (তা ক্ষমা করবেন না)। অতঃপর হানী ইবনু কুলসূম বলেন, আমি মাহমূদ ইবনুল রবী‘কে উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো ঈমানদারকে হত্যা করলো এবং এতে আনন্দিত হলো, আল্লাহ তার কোনো ফরয বা নফল ইবাদাত কবুল করবেন না। খালিদ আমাদের বলেন যে, ইবনু আবূ যাকারিয়া পর্যায়ক্রমে উম্মু দারদা ও আবূ দারদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, তিনি বলেছেনঃ ঈমানদার ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো হারাম রক্তপাত না ঘটাবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সৎ ও হালকা পিঠবিশিষ্ট গণ্য হবে। যখন সে কোনো হারাম রক্তপাত ঘটাবে তখন দুর্বল হয়ে পড়বে। আর হানী ইবনু কূলসুম (রহঃ) মাহমূদ ইবনু রবী‘ এবং উবাদাহ ইবনুস সামিতের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 31 · #4267 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  32. 32

    । সাদাকাহ ইবনু খালিদ বা অন্য কারো সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খালিদ ইবনু দিহকান বলেছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আল-গাসসানীকে বললাম, তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীঃ ‘‘ইগ্‌তাবাতা বিকাত্‌লিহি’’ এর অর্থ কি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা ফিতনায় পতিত হয়ে পরস্পর যুদ্ধ করবে। অতঃপর কাউকে হত্যার পর দেখতে পাবে, নিহত ব্যক্তি হিদায়াতের উপর ছিলো। আর সে এজন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, ‘‘ফা‘তাবাতা’ এর অর্থ সে অধিক রক্তপাত ঘটিয়েছে।[1] সহীহ মাকতু।

    Book 37 · Hadith 32 · #4268 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Sahih
  33. 33

    । মুজালিদ ইবনু আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। খারিজাহ ইবনু যায়িদ (রহঃ) বলেন, আমি যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে কুরআনের এই স্থান সম্পর্কে বলতে শুনেছিঃ ‘‘যে ব্যক্তি কোনো মু‘মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার পরিণাম হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম’’ (৪ঃ ৯৩) এই আয়াত সূরা ফুরকানের এ আয়াত ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে ডাকে না এবং অন্যায়ভাবে এরূপ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে না, যা আল্লাহ হারাম করেছেন’’- এ আয়াতের ছয় মাস পর অবতীর্ণ হয়েছে।[1] মুনকার।

    Book 37 · Hadith 33 · #4269 · Daif, Munkar, Daif, Isnaad Hasan
  34. 34

    । সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম। তিনি বলেন, সূরা ফুরকানের এই আয়াত যখন নাযিল হলো, ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কিছুকে ইলাহ বলে ডাকে না এবং যে আত্মাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করে না; কিন্তু সত্য বা শাস্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তা করে।’’ তখন মক্কার মুশরিকরা বললো, আমরাই তো আল্লাহর নিষিদ্ধ করা আত্মা হত্যা করেছি এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকে ডেকেছি ও ব্যভিচার করেছি। মহান আল্লাহ তখন অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘কিন্তু যারা তাওবা করবে ও ঈমান এনে সৎ কাজ করবে, আল্লাহ তাদের অন্যায়গুলো পরিবর্তন করে নেকি দিবেন।’’ আর এ আয়াত তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, সূরা আন নিসার এ আয়াত সম্পর্কে ‘‘যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঈমানদারকে হত্যা করবে, তার পরিণাম হবে জাহান্নাম’’ (৪ঃ ৬৮)। তিনি বলেছেন, লোকটি যখন ইসলামী শারীয়াতের পরিচয় পাওয়ার পর কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার পরিণাম জাহান্নাম। তার কোনো তাওবা কবূল হবে না। এ কথা মুজাহিদের নিকট বর্ণনা করায় তিনি বলেন, কিন্তু যে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ হবে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 34 · #4270 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (3855) Sahih Muslim (3023)
  35. 35

    । উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এ আয়াত ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না’’- মুশরিকদের পরে নও-মুসলিমদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, আরো নাযিল হয়েছে ‘‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’’[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 35 · #4271 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4810) Sahih Muslim (122)
  36. 36

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে’’ এ আয়াতকে কোনো আয়াতটি মানসূখ করেনি।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 36 · #4272 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4763، 4810) Sahih Muslim (122)
  37. 37

    । আবূ মিজলায (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মহান আল্লাহর এ বাণী প্রসঙ্গে বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম’’, এটা হলো তার পরিণাম। তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন।[1] হাসান মাকতু।

    Book 37 · Hadith 37 · #4273 · Hasan Maqtu, Hasan Maqtu, Daif
  38. 38

    । সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তিনি ফিতনা ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তখন আমরা বললাম, অথবা লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই ফিতনাহ যদি আমাদের পেয়ে বসে, তবে তো ধ্বংস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কখনো নয়, বরং তখন নিহত হলে তো তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। সাঈদ (রাঃ) বলেন, পরে আমি দেখতে পেলাম, আমার ভাইয়েরা ফিতনায় নিহত হয়েছে।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 38 · #4274 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih
  39. 39

    । আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এ উম্মত দয়াপ্রাপ্ত, পরকালে এদের কোনো শাস্তি হবে না, আর ইহকালে তাদের শাস্তি হলো ফিত্বনাসমূহ, ভূমিকম্প ও যুদ্ধ বিগ্রহ।[1] সহীহ।

    Book 37 · Hadith 39 · #4275 · Sahih, Sahih, Hasan
সব বিষয় · Sunan Abu Dawud