Eclipses
- 1
আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা দূর না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু‘আ করতে থাকবে। (১০৪৮,১০৬২, ১০৬৩, ৫৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 1 · #1036 - 2
আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে। (১০৫৭, ৩২০৪; মুসলিম ১০/৫, হাঃ ৯১১, আহমাদ ১৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 2 · #1037 - 3
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই তোমরা যখনই গ্রহণ হতে দেখবে তখনই সালাত আদায় করবে। (৩২০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 3 · #1038 - 4
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইবরাহীম (রাযি.) ইন্তিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইব্রাহীম (রাযি.) এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। (১০৬০, ৬১৯৯; মুসলিম ১০,৫, হাঃ ৯১৫, আহমদ ১৮১৬৫, ১৮২০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 4 · #1039 - 5
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, অতঃপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করেন। অতঃপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ‘ করেন এবং এ রুকূ‘ও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং সিজদা্ও দীর্ঘক্ষণ করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকা‘আতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকা‘আতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। অতঃপর তিনি লোকজনের উদ্দেশে খুৎবা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সদাক্বাহ প্রদান করবে। অতঃপর তিনি আরো বললেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আল্লাহর কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহর চেয়ে অধিক অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং বেশী করে কাঁদতে। (১০৪৬, ১০৪৭, ১০৫০, ১০৫০, ১০৫৬, ১০৫৮, ১০৬৪, ১০৬৫, ১০৬৬, ১২১২, ৩২০৩, ৪৬২৪, ৫২২১, ৬৬৫৩১; মুসলিম ১০/১, হাঃ ৯০১, আহমাদ ২৫৩৬৭, ২৫৪০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 5 · #1040 - 6
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হলো, তখন ‘আস্-সালাতু জামি‘আতুন’ বলে (সালাতে সমবেত হবার জন্য) আহবান জানানো হল। (১০৫১; মুসলিম ১০/৪, হাঃ ৯১০, আহমাদ ৭০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 6 · #1041 - 7
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. ‘আয়িশাহ ও আসমা (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবাহ দিয়েছিলেন। ১০৪৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হয়। তখন তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদা্য় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী। অতঃপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অতঃপর সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি পরবর্তী রাক‘আতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাক‘আত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। (৯৮৩) রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলতেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে ‘উরওয়াহ (রহ.) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি ‘উরওয়াহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই (‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র) তো মদিনা্য় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাক‘আত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি সুন্নাত অনুসরণ করতে ভুল করেছেন। (১০৪৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 7 · #1042 - 8
وَقَالَ اللهُ تَعَالَى وَخَسَفَ الْقَمَرُ. আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘আর চন্দ্র নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে’’। (সূরাহ্ ক্বিয়ামাহ ৭৫/৮) ১০৪৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। অতঃপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন, আর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে পূর্বের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা পূর্বের কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তবে এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি শেষ রাক‘আতে প্রথম রাক‘আতের অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর লোকদের উদ্দেশে তিনি খুৎবাহ দিলেন। খুৎবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 8 · #1043 - 9
وَقَالَ أَبُو مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তা বর্ণনা করেছেন। ১০৪৮. আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। তবে এ দিয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ওয়ারিস, শু‘আইব, খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্, হাম্মাদ ইবনু সালাম (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে ‘এ দিয়ে আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন’ বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা (রহ.) মুবারক (রহ.) স্থলে হাসান (রহ.) হতে ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবূ বাকরা (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ এ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। (১০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 9 · #1044 - 10
পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকেদের আদেশ করলেন। (১০৪৪; মুসলিম ১০/২, হাঃ ৯০৩, আহমাদ ১৪৭২, ১৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯২ শেষাংশ)
Book 16 · Hadith 0 · #1045 - 11
পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদা্য় গেলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকেদের আদেশ করলেন। (১০৪৪; মুসলিম ১০/২, হাঃ ৯০৩, আহমাদ ১৪৭২, ১৪৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৬ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯২ শেষাংশ)
Book 16 · Hadith 10 · #1046 - 12
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যুগ্রহণ হয় তখন ‘আস্-সালাতু জামিআতুন’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক রাকা‘আতে দু’বার রুকূ‘ করেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকা‘আতেও দু’বার রুকূ‘ করেন অতঃপর বসেন আর ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেছেন, এ সালাত ছাড়া এত লম্বা সিজদা আমি কক্ষনো করিনি। (১০৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 11 · #1047 - 13
وَصَلَّى ابْنُ عَبَّاسٍ لَهُمْ فِي صُفَّةِ زَمْزَمَ وَجَمَعَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَصَلَّى ابْنُ عُمَرَ. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) লোকেদেরকে নিয়ে যম্যমের সুফ্ফায় সালাত আদায় করেন এবং ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) জামা‘আতে সালাত আদায় করেছেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেছেন। ১০৫২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন। আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে তা পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে তা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন এবং সালাত শেষ করেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গিয়েছে। তারপর তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখনই আল্লাহকে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা হতে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেনঃ আমিতো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে? তিনি বললেনঃ তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহ্সান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, অতঃপর সে তোমার হতে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না। (২৯ মুসলিম ১০/৩, হাঃ ৯০৭, আহমাদ ২৭১১, ৩৩৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 12 · #1048 - 14
আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। তখন লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। তখন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)ও সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের কী হয়েছে? তখন তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং ‘সুবহানাল্লাহ্’ বললেন। আমি বললাম, এ কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি ইঙ্গিতে বললেন, হাঁ। আসমা (রাযি.) বলেন, আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। এমন কি (দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে) আমি প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়লাম এবং মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আল্লাহর হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি এ স্থান হতে দেখতে পেলাম, যা এর পূর্বে দেখিনি, এমন কি জান্নাত এবং জাহান্নাম। আর আমার নিকট ওয়াহী পাঠান হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কবরের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা বলেছেন তার কাছাকাছি ফিতনায় লিপ্ত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (‘মিস্লা’ ও ‘কারীবান’) দু’টির মধ্যে কোনটি আসমা (রাযি.) বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই। তোমাদের এক একজনকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রশ্ন করা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী জান? তখন মু’মিন (ঈমানদার) অথবা ‘মুকিন’ (বিশ্বাসী) বলবেন- বর্ণনাকারী বলেন যে, আসমা (রাযি.) ‘মু’মিন’ শব্দ বলেছিলেন, না ‘মুকীন’ তা আমার স্মরণ নেই, তিনি হলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট দলীল ও হিদায়াত নিয়ে আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং আমরা এতে সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি ও তাঁর অনুসরণ করেছি। অতঃপর তাঁকে বলা হবে, তুমি পুণ্যবান বান্দা হিসেবে ঘুমিয়ে থাক। আমরা অবশ্যই জানতাম যে, নিশ্চিতই তুমি দৃঢ়বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিলে। আর মুনাফিক কিংবা সন্দেহকারী বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাযি.) ‘মুনাফিক’ না ‘সন্দেহকারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই, সে শুধু বলবে, আমি কিছুই জানি না। আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি এবং আমিও তাই বলেছি। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 13 · #1049 - 15
আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 14 · #1050 - 16
পরে একদা সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি ফিরে এলেন, তখন ছিল সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হুজরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুলে আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি আবার দাঁড়িয়ে কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। অবশ্য এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন। এ সিজদা্ প্রথম সিজদার চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। এরপরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই বললেন। শেষে তিনি সবাইকে কবরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ করলেন। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 0 · #1051 - 17
পরে একদা সকালে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি ফিরে এলেন, তখন ছিল সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হুজরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরাও তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। অতঃপর মাথা তুলে আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। অতঃপর তিনি আবার দাঁড়িয়ে কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন, তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি আবার দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। অবশ্য এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা্ করেন। এ সিজদা্ প্রথম সিজদার চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। এরপরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই বললেন। শেষে তিনি সবাইকে কবরের ‘আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ করলেন। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 15 · #1052 - 18
رَوَاهُ أَبُو بَكْرَةَ وَالْمُغِيرَةُ وَأَبُو مُوسَى وَابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ. আবূ বাকরাহ, মুগীরাহ, আবূ মূসা, ইবনু ‘আব্বাস ও ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর এ বিষয়ে বিবরণ রয়েছে। ১০৫৭. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো মৃত্যুর ও জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন সালাত আদায় করবে। (১০৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 16 · #1053 - 19
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়ালেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি কিরাআত দীর্ঘ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পড়েন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে স্বল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ‘ করেন এবং রুকূ‘ দীর্ঘ করেন। তবে এ রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দু’টি সিজদা্ করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতেও অনুরূপ করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে হয় না। আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে এ হল দু’টি নিদর্শন; যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে আসবে। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 17 · #1054 - 20
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর পূর্বে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকূ‘ ও সিজদা্ সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেনঃ এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ্ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর যিকর, দু‘আ এবং ইস্তিগ্ফারের দিকে ধাবিত হবে। (মুসলিম ১০/৫, হাঃ ৯১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 18 · #1055 - 21
قَالَهُ أَبُو مُوسَى وَعَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. এ বিষয়ে আবূ মূসা ও ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ১০৬০. মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -(এর পুত্র) ইব্রাহীম (রাযি.) যে দিন ইন্তিকাল করেন, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা বলল, ইব্রাহীম (রাযি.)-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু’টোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে এবং সালাত আদায় করতে থাকবে। (১০৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 19 · #1056 - 22
আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন আর এদিকে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি খুৎবাহ দিলেন। এতে তিনি প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ أَمَّا بَعْدُ ‘আম্মা বা‘দ’। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৬, অনুচ্ছেদ)
Book 16 · Hadith 20 · #1057 - 23
আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তখন তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (১০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 21 · #1058 - 24
আবূ বাকরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তিনি বের হয়ে তাঁর চাদর টেনে টেনে মসজিদে পৌঁছলেন এবং লোকজনও তাঁর নিকট সমবেত হল। অতঃপর তিনি তাঁদের নিয়ে দু‘রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর সূর্যগ্রহণ মুক্ত হলে তিনি বললেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যুর কারণে এ দু’টোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন গ্রহণ হবে, তা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু‘আ করতে থাকবে। এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কারণেই বলেছেন যে, সেদিন তাঁর পুত্র ইব্রাহীম (রাযি.)-এর ওফাত হয়েছিল এবং লোকেরা সে ব্যাপারে পরস্পর বলাবলি করছিল। (১০৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 22 · #1059 - 25
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় লোকদের নিয়ে দু’রাক‘আতে চার রুকূ‘ সহ সালাত আদায় করেন। প্রথমটি (দ্বিতীয় রাক‘আতের চেয়ে) দীর্ঘস্থায়ী ছিল। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
Book 16 · Hadith 23 · #1060 - 26
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি একজনকে ‘আস্-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠান। অতঃপর তিনি অগ্রসর হন এবং চার রুকূ‘ ও চার সিজদা্সহ দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। ওয়ালীদ (রহ.) বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনু নামির আরো বলেন যে, তিনি ইবনু শিহাব (রহ.) হতে অনুরূপ শুনেছেন যুহরী (রহ.) বলেন যে, আমি ‘উরওয়াহ্ (রহ.)-কে বললাম, তোমার ভাই ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযি.) এরূপ করেননি। তিনি যখন মদিনা্য় গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেন, তখন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হাঁ, তিনি সুন্নাত অনুসরণে ভুল করেছেন। সুলাইমান ইবনু কাসীর (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে সশব্দে কিরাআতের ব্যাপারে ইবনু কাসীর (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৫ শেষাংশ)
Book 16 · Hadith 0 · #1061 - 27
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি একজনকে ‘আস্-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠান। অতঃপর তিনি অগ্রসর হন এবং চার রুকূ‘ ও চার সিজদা্সহ দু‘ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। ওয়ালীদ (রহ.) বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনু নামির আরো বলেন যে, তিনি ইবনু শিহাব (রহ.) হতে অনুরূপ শুনেছেন যুহরী (রহ.) বলেন যে, আমি ‘উরওয়াহ্ (রহ.)-কে বললাম, তোমার ভাই ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাযি.) এরূপ করেননি। তিনি যখন মদিনা্য় গ্রহণ-এর সালাত আদায় করেন, তখন ফজরের সালাতের ন্যায় দু‘রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হাঁ, তিনি সুন্নাত অনুসরণে ভুল করেছেন। সুলাইমান ইবনু কাসীর (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে সশব্দে কিরাআতের ব্যাপারে ইবনু কাসীর (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১০৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৫ শেষাংশ)
Book 16 · Hadith 24 · #1062