Sahih al Bukhari

← Sahih al Bukhari

Funerals (Al-Janaa'iz)

১৫৭ হাদিস

  1. 1

    وَقِيلَ لِوَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ أَلَيْسَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لَيْسَ مِفْتَاحٌ إِلاَّ لَهُ أَسْنَانٌ فَإِنْ جِئْتَ بِمِفْتَاحٍ لَهُ أَسْنَانٌ فُتِحَ لَكَ وَإِلاَّ لَمْ يُفْتَحْ لَكَ ওয়াহহাব ইবনু মুনাবিবহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ কি জান্নাতের চাবি নয়? উত্তরে তিনি বললেন, অবশ্যই। তবে যে কোন চাবির দাঁত থাকে। তুমি দাঁত যুক্ত চাবি [1] আনতে পারলে তোমার জন্য (জান্নাতের) দরজা খুলে দেয়া হবে। অন্যথায় তোমার জন্য খোলা হবে না। ১২৩৭. আবূ যার্ (গিফারী) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন আগন্তুক [জিবরীল (আঃ)] আমার প্রতিপালকের নিকট হতে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেন : যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে। [2] (১৪০৮, ২৩৮৮, ৩২২২, ৫৮২৭, ৬২৬৮, ৬৪৪৩ ৬৪৪৪, ৭৪৮৭, মুসলিম ১/৪০, হাঃ ৯৪, আহমাদ ২১৪৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 1 · #1233
  2. 2

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে আল্লাহ্‌র সঙ্গে শির্ক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহ্‌র সঙ্গে কোন কিছুর শির্ক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (৪৪৯৭, ৬৬৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 2 · #1234
  3. 3

    বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি বিষয়ে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে আমাদের নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন- ১. জানাযার অনুগমন করতে, ২. রুগ্ন ব্যক্তির খোঁজ-খবর নিতে, ৩. দা’ওয়াত দাতার দা’ওয়াত গ্রহণ করতে, ৪. মাযলূমকে সাহায্য করতে, ৫. কসম হতে দায়মুক্ত করতে, ৬. সালামের জবাব দিতে এবং ৭. হাঁচিদাতাকে (ইয়ারহামুকাল্লাহু বলে) সন্তুষ্ট করতে। আর তিনি নিষেধ করেছেন- ১. রৌপ্যের পাত্র[1], ২. স্বর্ণের আংটি, ৩. রেশম, ৪. দীবাজ, ৫. কাস্সী (কেস্ রেশম), ৬. ইস্তিব্রাক (তসর জাতীয় রেশম) ব্যবহার করতে।[2] (২৪৪৫, ৫১৭৫, ৫৬৩৫, ৫৬৫০, ৫৮৩৮, ৫৮৪৯, ৫৮৬৩, ৬২২২, ৬২৩৫, ৬৬৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 3 · #1235
  4. 4

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি বলতে শুনেছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্ পাঁচটিঃ ১. সালামের জওয়াব দেয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়া, ৩. জানাযার পশ্চাদানুসরণ করা, ৪. দা’ওয়াত কবূল করা এবং ৫. হাঁচিদাতাকে খুশী করা (আল-হামদু লিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)। আবদুর রাযযাক (রহ.) ‘আমর ইবনু আবূ সালামাহ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আবদুর রাযযাক (রহ.) বলেন, আমাকে মা‘মার (রহ.)-এরূপ অবহিত করেছেন এবং এ হাদীস সালামাহ (রহ.) ‘উকাইল (রহ.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। (মুসলিম ৩৯/৩, হাঃ ২১৬২, আহমাদ ৮৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 4 · #1236
  5. 5

    আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে বলেছেন, (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবূ বাকর (রাঃ) ‘সুন্হ’-এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি হতে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকজনের সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমন্ডল উন্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ্ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি ক্ববূল করেছেন। قَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَأَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ tخَرَجَ وَعُمَرُ tيُكَلِّمُ النَّاسَ فَقَالَ اجْلِسْ فَأَبَى فَقَالَ اجْلِسْ فَأَبَى فَتَشَهَّدَ أَبُو بَكْرٍ tفَمَالَ إِلَيْهِ النَّاسُ وَتَرَكُوا عُمَرَ فَقَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللهَ فَإِنَّ اللهَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَمَا مُحَمَّدٌ إِلاَّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ إِلَى الشَّاكِرِينَ) وَاللهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللهَ أَنْزَلَهَا حَتَّى تَلاَهَا أَبُو بَكْرٍ tفَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ فَمَا يُسْمَعُ بَشَرٌ إِلاَّ يَتْلُوهَا আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (তারপর) আবূ বাকর (রাঃ) বাহিরে এলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবূ বাকর (রাঃ) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা ‘উমার (রাঃ)-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন.....আম্মা বা‘দু, তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইবাদাত করতে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহ্‌র ইবাদাত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেনঃ (যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন- (আলু-‘ইমরানঃ ১৪৪)। আল্লাহ্‌র কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবূ বাকর (রাঃ)-এর তিলাওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল। (১২৪১=৩৬৬৮, ৩৬৬৯, ৪৪৫২, ৪৪৫৫, ৫৭১০) (১২৪২-৩৬৬৮, ৩৬৭০, ৪৪৫৩, ৪৪৫৪, ৪৪৫৭, ৫৭১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1237
  6. 6

    আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে বলেছেন, (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবূ বাকর (রাঃ) ‘সুন্হ’-এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি হতে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকজনের সঙ্গে কোন কথা না বলে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমন্ডল উন্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ্ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি ক্ববূল করেছেন। قَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَأَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ tخَرَجَ وَعُمَرُ tيُكَلِّمُ النَّاسَ فَقَالَ اجْلِسْ فَأَبَى فَقَالَ اجْلِسْ فَأَبَى فَتَشَهَّدَ أَبُو بَكْرٍ tفَمَالَ إِلَيْهِ النَّاسُ وَتَرَكُوا عُمَرَ فَقَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللهَ فَإِنَّ اللهَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَمَا مُحَمَّدٌ إِلاَّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ إِلَى الشَّاكِرِينَ) وَاللهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللهَ أَنْزَلَهَا حَتَّى تَلاَهَا أَبُو بَكْرٍ tفَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ فَمَا يُسْمَعُ بَشَرٌ إِلاَّ يَتْلُوهَا আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, (তারপর) আবূ বাকর (রাঃ) বাহিরে এলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবূ বাকর (রাঃ) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা ‘উমার (রাঃ)-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন.....আম্মা বা‘দু, তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইবাদাত করতে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহ্‌র ইবাদাত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেনঃ (যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রাসূল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন- (আলু-‘ইমরানঃ ১৪৪)। আল্লাহ্‌র কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবূ বাকর (রাঃ)-এর তিলাওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল। (১২৪১=৩৬৬৮, ৩৬৬৯, ৪৪৫২, ৪৪৫৫, ৫৭১০) (১২৪২-৩৬৬৮, ৩৬৭০, ৪৪৫৩, ৪৪৫৪, ৪৪৫৭, ৫৭১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 5 · #1238
  7. 7

    আনসারী মহিলা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বাই‘আতকারী উম্মুল ‘আলা (রাঃ) হতে বর্ণিত, (মাদ্বীনায় হিজরাতের পর) লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদের বণ্টন করা হচ্ছিল। তাতে ‘উসমান ইবনু মায‘ঊন (রাঃ) আমাদের অংশে পড়লেন, আমরা (সাদরে) তাঁকে আমাদের গৃহে স্থান দিলাম। এক সময় তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তাঁর মৃত্যু হল। যখন তাঁর মৃত্যু হল এবং তাঁকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবাস্-সায়িব! আপনার উপর আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হোক! আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ্ আপনাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আল্লাহ্ আর কাকে সম্মানিত করবেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তাঁর মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহ্‌র কসম! আমি তার জন্য কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহ্‌র কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে, অথচ আমি আল্লাহ্‌র রাসূল। সেই আনসারী মহিলা বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! অতঃপর এরপর হতে কোন দিন আমি কোন ব্যক্তিকে সম্বন্ধে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৭০) حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ مِثْلَهُ وَقَالَ نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ عُقَيْلٍ مَا يُفْعَلُ بِهِ وَتَابَعَهُ شُعَيْبٌ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَمَعْمَرٌ সা‘ঈদ ইবনু ‘উফাইর (রহ.) লায়স (রহ.) সূত্রে ঐরূপ বর্ণনা করেন। আর নাফি‘ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) ‘উকাইল (রহ.) সূত্রে বলেন। مَا يُفْعَلُ بِهِ তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে? শু‘য়াইব, ‘আমর ইবনু দ্বীনার ও মা‘মার (রহ.) ‘উকাইল (রহ.)-কে সমর্থন করেছেন। (২৬৮৭, ৩৯২৯, ৭০০৩, ৭০০৪, ৭০১৮) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 6 · #1239
  8. 8

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা আবদুল্লাহ্ (রাঃ) শহীদ হয়ে গেলে আমি তাঁর মুখমন্ডল হতে কাপড় সরিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলাম। লোকজন আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেননি। আমার ফুফী ফাতিমাহ (রাঃ)ও ক্রন্দন করতে লাগলেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান) তোমরা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশ্তাগণ তাঁদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। ইবনু জুরাইজ (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনু মুন্কাদির (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শু‘বা (রাঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (১২৯৩, ২৮১৬, ৪০৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 7 · #1240
  9. 9

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীর আদায় করলেন। (১৩১৮, ১৩২৭, ১৩২৮, ১৩৩৩, ৩৮৮০, ৩৮৮১, মুসলিম ১১/২১, হাঃ ৯৫১, আহমাদ ২২৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 8 · #1241
  10. 10

    وَقَالَ أَبُو رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ t قَالَ قَالَ النَّبِيُّ أَلاَ آذَنْتُمُونِي আবূ রাফি‘ (রহ.) আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে কেন খবর দিলে না? ১২৪৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেল। যার অসুস্থতার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোঁজ-খবর রাখতেন। তার মৃত্যু হয় এবং রাতেই লোকেরা তাঁকে দাফন করেন। সকাল হলে তাঁরা (এ বিষয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খবর দেন। তিনি বললেনঃ আমাকে খবর দিতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল, তখন ছিল রাত এবং গাঢ় অন্ধকার। তাই আপনাকে কষ্ট দেয়া আমরা পছন্দ করিনি। তিনি ঐ ব্যক্তির কবরের নিকট গেলেন এবং তাঁর জন্য সালাতে জানাযা আদায় করলেন।[1] (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 10 · #1242
  11. 11

    وَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ (وَبَشِّرْ الصَّابِرِينَ) আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আর সবরকারীদের সুসংবাদ প্রদান করুন’’। (আল-বাকরাহ ১৫৫) ১২৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান সাবালিগ হবার পূর্বে মারা গেলে তাদের প্রতি তাঁর রহমত স্বরূপ অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।[1] (১৩৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 11 · #1243
  12. 12

    আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, যারা বালিগ হয়নি। (১০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৭৭ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1244
  13. 13

    আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, যারা বালিগ হয়নি। (১০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৭৭ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 12 · #1245
  14. 14

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালিগ) সন্তান মারা গেল, তবুও সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, এমন হবে না। তবে কেবল কসম পূর্ণ হবার পরিমাণ পর্যন্ত। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন : ‘‘তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে।’’ (৬৬০৬, মুসলিম ৪৫/৪৭, হাঃ ২৬৩২, আহমাদ ৭২২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 13 · #1246
  15. 15

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের নিকট উপস্থিত এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং ধৈর্য ধর। (১২৮৩, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ১১/৮, হাঃ ৯২৬, আহমাদ ১২৩১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 14 · #1247
  16. 16

    وَحَنَّطَ ابْنُ عُمَرَ ابْنًا لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ وَحَمَلَهُ وَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمُسْلِمُ لاَ يَنْجُسُ حَيًّا وَلاَ مَيِّتًا وَقَالَ سَعِيدٌ لَوْ كَانَ نَجِسًا مَا مَسِسْتُهُ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُؤْمِنُ لاَ يَنْجُسُ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) এক (মৃত) পুত্রকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন, তাকে বহন করলেন এবং জানাযার সালাত আদায় করলেন অথচ তিনি (নতুন) উযূ করেননি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, জীবিত ও মৃত কোন অবস্থায়ই মুসলিম অপবিত্র নয়। সা‘দ (রাঃ) বলেন, (মৃতদেহ) অপবিত্র হলে আমি তা স্পর্শ করতাম না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন অপবিত্র হয় না। ১২৫৩. উম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা যায়নাব (রাযি.) ইন্তিকাল করলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন : তোমরা তাকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে খবর দাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানি আমাদেরকে দিয়ে বললেন : এটি তাঁর শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। (১৬৭, মুসলিম ১১/১২, হাঃ ৯৩৯, আহমাদ ২৭৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 15 · #1248
  17. 17

    উম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা যায়নাব (রাযি.) ইন্তিকাল করলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানি আমাদের দিকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। আইয়ুব (রহ.) বলেছেন, হাফ্সাহ (রহ.) আমাকে মুহাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তাঁর হাদীসে আছে যে, তাকে বিজোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও আছে, তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার করে; তাতে আরো আছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘তোমরা তার ডান দিক হতে এবং তার উযূর স্থানগুলো থেকে আরম্ভ করবে।’’ তাতে এ কথাও আছে। (বর্ণনাকারিণী) উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেছেন, আমরা তার চুলগুলো আঁচড়ে তিনটি গোছা করে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 16 · #1249
  18. 18

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যার গোসলের ব্যাপারে ইরশাদ করেন : তোমরা তাঁর ডান দিক হতে এবং উযূর অঙ্গসমূহ হতে শুরু করবে। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 17 · #1250
  19. 19

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা [যায়নাব (রাযি.)]-এর গোসল দিতে যাচ্ছিলাম, গোসল দেয়ার সময় তিনি আমাদের বলেনঃ তোমরা তাঁর ডান দিক হতে এবং উযূর স্থানগুলো হতে শুরু করবে। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 18 · #1251
  20. 20

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার অথবা তোমরা প্রয়োজনয় মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালাম। তখন তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর হতে তাঁর চাদর খুলে দিয়ে বললেনঃ এটি তার ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 19 · #1252
  21. 21

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাঁকে তিন, পাঁচ, সাত বা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। হাফসাহ (রহ.) বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) [1] বানিয়ে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮৫ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1253
  22. 22

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাঁকে তিন, পাঁচ, সাত বা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। হাফসাহ (রহ.) বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) [1] বানিয়ে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮৫ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 20 · #1254
  23. 23

    وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لاَ بَأْسَ أَنْ يُنْقَضَ شَعَرُ الْمَيِّتِ ইবনু সীরীন (রহ.) বলেছেন, মৃতের চুল খুলে দেয়ায় কোন দোষ নেই। ১২৬০. উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার মাথার চুল তিনটি বেণী করেছেন। তাঁরা তা খুলেছেন, অতঃপর তা ধুয়ে তিনটি বেনী করেছেন। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 21 · #1255
  24. 24

    وَقَالَ الْحَسَنُ الْخِرْقَةُ الْخَامِسَةُ تَشُدُّ بِهَا الْفَخِذَيْنِ وَالْوَرِكَيْنِ تَحْتَ الدِّرْعِ হাসান (রহ.) বলেছেন, পঞ্চম বস্ত্রখন্ড [1] দ্বারা কামীসের নীচে উরুদ্বয় ও নিতম্বদ্বয় বেঁধে দিবে। ১২৬১. আইয়ূব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু সীরীন (রহ.)-কে বলতে শুনেছি যে, আনসারী মহিলা উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) আগমন করলেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বাই‘আতকারীদের একজন। তিনি তাঁর এক ছেলেকে দেখার জন্য সাথে বাসরায় এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে পাননি। তখন তিনি আমাদের হাদীস শুনালেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা তাঁর কন্যাকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। আর শেষবারে কর্পুর দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। তিনি বলেন, আমরা যখন শেষ করলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে বললেনঃ এটা তাঁর শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.)-এর অধিক বর্ণনা করেননি। [আইয়ূব (রহ.) বলেন] আমি জানি না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন কন্যা ছিলেন? তিনি বলেন, أشعار অর্থ শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। ইবনু সীরীন (রহ.) মহিলা সম্পর্কে এভাবেই আদেশ করতেন যে, ভিতরের কাপড় শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দিবে, ইজারের মত ব্যবহার করবে না। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 22 · #1256
  25. 25

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার মাথার চুল বেনী পাকিয়ে দিয়েছিলাম, অর্থাৎ তিনটি বেনী। ওয়াকী‘ (রহ.) বলেন, সুফিয়ান (রহ.) বলেছেন, মাথার সামনে একটি বেনী এবং দু’ পাশে দু’টি বেনী। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 23 · #1257
  26. 26

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যাগণের একজনের ইন্তিকাল হলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বিজোড় সংখ্যক তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজনবোধ করলে আরও অধিকবার গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর অথবা তিনি বলেছিলেন কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলগুলো তিনটি বেনী করে পিছনের দিকে ছেড়ে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 24 · #1258
  27. 27

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনটি ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী বস্ত্র দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না। (১২৭১, ১২৭২, ১২৭৩, ১২৮৭, মুসলিম ১১/১৩, হাঃ ৯৪১, আহমাদ ২৬০০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 25 · #1259
  28. 28

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে ওয়াকূফ অবস্থায় অকস্মাৎ তার উটনী হতে পড়ে যায়। এতে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেছেন, তাঁর ঘাড় মটকে দিল। (যাতে সে মারা গেল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও। তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, কিয়ামতের দিবসে সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত হবে। (১২৬৬, ১২৬৭, ১২৬৮, ১৮৩৯, ১৮৪৯, ১৮৫০, ১৮৫১, মুসলিম ১৫/১৪, হাঃ ১২০৬, আহমাদ ৩২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 26 · #1260
  29. 29

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আরাফাতে ওয়াকূফ কালে অকস্মাৎ সে তার সওয়ারী হতে পড়ে যান। যার ফলে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেন, ঘাড় মটকে দিল। (যাতে তিনি মারা গেলেন)। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও; তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 27 · #1261
  30. 30

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তির উট তার ঘাড় মটকে দিল। (ফলে সে মারা গেল)। সে সময় আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। ঐ ব্যক্তি ছিল ইহরাম অবস্থায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করো না। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে মুলাবিব (অর্থাৎ ইহরামরত) অবস্থায় উত্থিত করবেন। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 28 · #1262
  31. 31

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। সে তার সওয়ারী হতে পতিত হলেন। (পরবর্তী অংশের বর্ণনায়) আইয়ুব (রহ.) বলেন,فَوَقَصَتْهُ তার ঘাট মট্কে দিল। আর আমর (রহ.) বলেন,فَأَقْصَعَتْهُ তাকে দ্রুত মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল। যার ফলে তিনি মারা গেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মস্তকও আবৃত করবে না। কারণ, তাঁকে কিয়ামত দিবসে উত্থিত করা হবে এ অবস্থায় যে, আইয়ুব (রহ.) বলেছেন, ‘সে তালবিয়া পাঠ করছে’ আর ‘আমর (রহ.) বলেন, সে তালবিয়া পাঠরত। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 29 · #1263
  32. 32

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই (মুনাফিক সর্দার)-এর মৃত্যু হলে তার পুত্র (যিনি সাহাবী ছিলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দান করুন। আমি সেটা দিয়ে আমার পিতার কাফন পরাতে ইচ্ছা করি। আর আপনি তার জানাযা পড়বেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জামাটি তাঁকে দিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ আমাকে খবর দিও, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাঁকে খবর দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আল্লাহ্ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেনঃ আমাকে তো দু’টির মধ্যে কোন একটি করার ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ (যার অর্থ) ‘‘আপনি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা মাগফিরাত কামনা না-ই করুন (একই কথা) আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন; কখনো আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করবেন না-’’ (আত্তওবাঃ ৮০)। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন, অতঃপর নাযিল হলঃ (যার অর্থ) ‘‘তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে আপনি তাদের জানাযা কক্ষণও আদায় করবেন না।’’(আত্তওবাঃ ৮৪) (৪৬৭০, ৪৬৭২, ৫৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 30 · #1264
  33. 33

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেনঃ যায়দ (রাঃ) পতাকা বহন করেছে অতঃপর শহীদ হয়েছে। অতঃপর জা’ফর (রাঃ) (পতাকা) হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) (পতাকা) ধারণ করে এবং সেও শহীদ হয়। এ খবর বলছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’ চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেন এবং তাঁর দ্বারাই বিজয় লাভ হয়। (২৭৯৮, ৩০৬৩, ৩৬৩০, ৩৭৫৭, ৪২৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 31 · #1265
  34. 34

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সুতী সাদা সাহুলী (ইয়ামানী) কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 32 · #1266
  35. 35

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তাতে জামা ও পাগড়ী ছিল না। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, আবূ নু‘আইম (রহ.) ثَلاَثَةِ শব্দটি বলেননি। আর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ওয়ালীদ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায়ثَلاَثَةِ শব্দটি বলেছেন। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 33 · #1267
  36. 36

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সাদা সাহুলী কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কোন কামীস ও পাগড়ী ছিল না। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 34 · #1268
  37. 37

    وَبِهِ قَالَ عَطَاءٌ وَالزُّهْرِيُّ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَقَتَادَةُ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ الْحَنُوطُ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ يُبْدَأُ بِالْكَفَنِ ثُمَّ بِالدَّيْنِ ثُمَّ بِالْوَصِيَّةِ وَقَالَ سُفْيَانُ أَجْرُ الْقَبْرِ وَالْغَسْلِ هُوَ مِنْ الْكَفَنِ আতা, যুহরী, ‘আমর ইবনু দ্বীনার এবং কাতাদাহ (রহ.) এ কথা বলেছেন। আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) আরও বলেছেন, সুগন্ধিও সমস্ত সম্পদ হতে দিতে হবে। ইব্রাহীম (রহ.) বলেছেন, (সম্পদ হতে) প্রথমে কাফন অতঃপর ঋণ পরিশোধ, অতঃপর ওয়াসিয়াত পূরণ করতে হবে। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেছেন, কবর ও গোসল দেয়ার খরচও কাফনের শামিল। ১২৭৪. সা‘দ (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাবার দেয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুস্‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন আর তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন অথচ তাঁর কাফনের জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। হামযাহ (রাঃ) বা অপর এক ব্যক্তি শহীদ হলেন, তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথচ তাঁর কাফনের জন্যও একটি চাদর ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার ভয় হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময় আমাদের এ পার্থিব জীবনে পূর্বেই দেয়া হল। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন। (১২৭৫, ৪০৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 35 · #1269
  38. 38

    ইব্রাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত, একদা ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাদ্য পরিবেশন করা হল, তখন তিনি সিয়াম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন। তিনি ছিলেন, আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (অথচ) তাঁকে এমন একটি চাদর দিয়ে কাফন দেয়া হল যে, তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর দু’ পা ঢাকলে মাথা বাইরে থাকে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেন, হামযাহ (রাঃ) শহীদ হলেন। তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অতঃপর আমাদের জন্য পৃথিবীতে অত্যধিক প্রাচুর্য দেয়া হয়েছে। আশঙ্কা হয় যে, আমাদের নেক ‘আমলগুলো (এর বিনিময়) আমাদের পূর্বেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি ক্রন্দন করতে লাগলেন, এমনকি খাদ্যও বর্জন করলেন। (১২৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 36 · #1270
  39. 39

    খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাদ্বীনায় হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি কামনা করেছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহ্‌র নিকটে নির্ধারিত হয়ে আছে। অতঃপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যাননি। তাঁদেরই একজন মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) আর আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যাঁদের প্রতিদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছেন। মুস‘আব (রাঃ) উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। আমরা তাঁকে কাফন দেয়ার জন্য এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাঁর মস্তক আবৃত করলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর তাঁর দু’ পা আবৃত করলে তাঁর মস্তক বাইরে থাকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মস্তক আবৃত করতে এবং তাঁর দু’খানা পায়ের উপর ইয্খির (ঘাস) দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন। (৩৮৯৭, ৩৯১৩, ৩৯১৪, ৪০৪৭, ৪০৮২, ৬৪৩২, ৬৪৪৮, মুসলিম ১১/১৩, হাঃ ৯৪০, আহমাদ ২১১৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 37 · #1271
  40. 40

    সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একখানা বুরদাহ নিয়ে এলেন যার সাথে ঝালর যুক্ত ছিল। সাহল (রাঃ) বললেন, তোমরা জান, বুরদাহ কী? তারা বলল, চাদর। সাহল (রাঃ) বললেন, ঠিকই। মহিলা বললেন, চাদরখানি আমি নিজ হস্তে বয়ন করেছি এবং তা আপনার পরিধানের জন্য নিয়ে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর চাদরের প্রয়োজনও ছিল। অতঃপর তিনি তা ইযার হিসেবে পরিধান করে আমাদের সম্মুখে আসলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বললেন, বাহ! কত সুন্দর! আমাকে এটি পরিধানের জন্য দান করুন। সাহাবীগণ বললেন, তুমি ভাল করনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর প্রয়োজনে পরিধান করেছেন; তবুও তুমি তা চেয়ে বসলে। অথচ তুমি জান যে, তিনি কাউকে বিমুখ করেন না। ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তা পরিধানের উদ্দেশে চাইনি। আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য যেন তা দিয়ে আমার কাফন হয়। সাহল (রাঃ) বললেন, অবশেষে তা তাঁর কাফনই হয়েছিল।[1] (২০৯৩, ৫৮১০, ৬০৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 38 · #1272
  41. 41

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জানাযার পশ্চাদানুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি। (৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 39 · #1273
  42. 42

    মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.)-এর এক পুত্রের মৃত্যু হল। তৃতীয় দিবসে তিনি হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করিয়ে ব্যবহার করলেন, আর বললেন, স্বামী ব্যতীত অন্য কারো জন্য তিন দিবসের বেশি শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। (৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 40 · #1274
  43. 43

    যায়নাব বিনত আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে আবূ সুফ্ইয়্যান (রাঃ)-এর মৃত্যুর খবর পৌঁছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তাঁর উভয় গন্ড ও বাহুতে মথিত করলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। (১২৮১, ৫৩৩৪, ৫৩৩৯, ৫৩৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 41 · #1275
  44. 44

    যায়নাব বিন্তু আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবাহ (রাযি.)-এর নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (বৈধ)। (১২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1276
  45. 45

    যায়নাব বিন্তু আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবাহ (রাযি.)-এর নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, যে স্ত্রীলোক আল্লাহ্ এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন (বৈধ)। (১২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 42 · #1277
  46. 46

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পার্শ্বে ক্রন্দন করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর। মহিলাটি বললেন, আমার নিকট থেকে প্রস্থান করুন। আপনার উপর তো আমার মত বিপদ উপস্থিত হয়নি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরজায় উপস্থিত হলেন, তাঁর কাছে কোন প্রহরী ছিল না। তিনি নিবেদন করলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ ধৈর্য তো বিপদের প্রাথমিক অবস্থাতেই (ধারণ করতে হয়)। [1] (১২৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 43 · #1278
  47. 47

    لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا). وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ». فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ سُنَّتِهِ، فَهُوَ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: (لاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى). وَهُوَ كَقَوْلِهِ: (وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ) ذُنُوبًا (إِلَى حِمْلِهَا لاَ يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ) وَمَا يُرَخَّصُ مِنَ الْبُكَاءِ فِي غَيْرِ نَوْحٍ. وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلاَّ كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا». وَذَلِكَ لأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ. কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ (যার অর্থ) ‘‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।’’ (তাহরীমঃ ৬)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কিন্তু তা যদি তার অভ্যাস না হয়ে থাকে তবে তার বিধান হবে যা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ব্যক্ত করেছেনঃ (যার অর্থ) ‘‘নিজ বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’’- (আল-আন‘আমঃ ১৬৪)। আর এ হলো আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণীর ন্যায় ‘‘কোন (গুনাহের) বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি কাউকেও তা বহন করার আহবান জানায় তবে তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না- (ফাতিরঃ ১৮)। আর বিলাপ ব্যতীত ক্রন্দনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে হত্যার অপরাধের অংশ প্রথম আদম সন্তান (কাবিল) এর উপর বর্তাবে। আর সেটা এ কারণে যে, সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার প্রবর্তন করেছে। ১২৮৪. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জনৈকা কন্যা (যায়নাব) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাঁকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহ্‌রই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দন্ডায়মান হলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইবনু উবাদাহ, মু‘আয ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কা’ব, যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (শব্দ হচ্ছিল)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’ চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! একি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ্ তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন। (৫৬৫৫, ৬৬০২, ৬৬৫৫, ৭৩৭৭, ৭৪৪৮, মুসলিম ১১/৬, হাঃ ৯২৩, আহমাদ ২১৮৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 44 · #1279
  48. 48

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক কন্যা [উম্মু কুলসুম (রা.)]-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। আল্লাহর রাসূল কবরের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি তাঁর চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলন করোনি? আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হলে তুমি (কবরে) অবতরণ কর। রাবী বলেন, তখন তিনি আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর কবরে অবতরণ করলেন। (১৩৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 45 · #1280
  49. 49

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট আমি ‘উমার (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ‘উমার (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ্‌র কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে)ঃ ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান। রাবী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! (এ কথা শুনে) ইবনু ‘উমার (রাঃ) কোন মন্তব্য করলেন না। (১২৮৯, ৩৯৭৮, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭, ৯২৮, ৯২৯, আহমাদ ৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১১ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1281
  50. 50

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট আমি ‘উমার (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ‘উমার (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ্‌র কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে)ঃ ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান। রাবী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! (এ কথা শুনে) ইবনু ‘উমার (রাঃ) কোন মন্তব্য করলেন না। (১২৮৯, ৩৯৭৮, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭, ৯২৮, ৯২৯, আহমাদ ৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১১ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1282
  51. 51

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট আমি ‘উমার (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ‘উমার (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ্‌র কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে)ঃ ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান। রাবী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! (এ কথা শুনে) ইবনু ‘উমার (রাঃ) কোন মন্তব্য করলেন না। (১২৮৯, ৩৯৭৮, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭, ৯২৮, ৯২৯, আহমাদ ৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১১ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 46 · #1283
  52. 52

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোকের (কবরের) পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেন: তারা তো তার জন্য ক্রন্দন করছে। অথচ তাকে কবরে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে। (১২৮৮, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩২, আহমাদ ২৪৮১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 47 · #1284
  53. 53

    আবূ বুরদাহর পিতা (আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের ‘আযাব দেয়া হয়? (১২৮৭, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭, আহমাদ ৩৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 48 · #1285
  54. 54

    وَقَالَ عُمَرُ t دَعْهُنَّ يَبْكِينَ عَلَى أَبِي سُلَيْمَانَ مَا لَمْ يَكُنْ نَقْعٌ أَوْ لَقْلَقَةٌ وَالنَّقْعُ التُّرَابُ عَلَى الرَّأْسِ وَاللَّقْلَقَةُ الصَّوْتُ ‘উমার (রাঃ) বলেন, আবূ সুলাইমান [খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-এর জন্য] তাঁর (পরিবার পরিজনকে) কাঁদতে দাও। যতক্ষণ نُقْعُ (নাক্‘) কিংবা لَقْلَقَةُ (লাকলাকাহ) না হয়। নাক্‘ হল মাথায় মাটি নিক্ষেপ, আর ‘লাকলাকাহ’ হল চিৎকার। ১২৯১. মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। [মুগীরাহ (রাঃ) আরও বলেছেন,] আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে। (মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩৩, আহমাদ ১৮২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 49 · #1286
  55. 55

    ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য কৃত বিলাপের বিষয়ের উপর কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আবদুল আ‘লা (রহ.).....কাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণনায় আবদান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আদম (রহ.) শু’বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য জীবিতদের কান্নার কারণে ‘আযাব দেয়া হয়। (১২৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 50 · #1287
  56. 56

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন আমার পিতাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত অবস্থায় নিয়ে এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে রাখা হল। তখন একখানি বস্ত্র দ্বারা তাঁকে আবৃত রাখা হয়েছিল। আমি তাঁর উপর হতে আবরণ উন্মোচন করতে আসলে আমার কাওমের লোকেরা আমাকে নিষেধ করল। পুনরায় আমি আবরণ উন্মুক্ত করতে থাকলে আমার কাওমের লোকেরা (আবার) আমাকে নিষেধ করল। পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হল। তখন তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এক ক্রন্দনকারিণীর শব্দ শুনে জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? লোকেরা বলল, ‘আমরের মেয়ে অথবা (তারা বলল,) ‘আমরের বোন। তিনি বললেন, ক্রন্দন করছো কেন? অথবা বলেছেন, ক্রন্দন করো না। কেননা, তাঁকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশ্তাগণ তাঁদের পক্ষ বিস্তার করে তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন। (১২৪৪, মুসলিম ৪৪/২৬, হাঃ ২৪৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 51 · #1288
  57. 57

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে এবং জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (১২৯৭, ১২৯৮, ৩৫১৯, মুসলিম ১/৪৪, হাঃ ১০৩, আহমাদ ৪১১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 52 · #1289
  58. 58

    সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে একটি কঠিন রোগে আমি আক্রান্ত হলে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আসতেন। একদা আমি তাঁর কাছে নিবেদন করলাম, আমার রোগ চরমে পৌঁছেছে আর আমি সম্পদশালী। একমাত্র কন্যা ছাড়া কেউ আমার উত্তরাধিকারী নেই। তবে আমি কি আমার সম্পদের দু’ তৃতীয়াংশ সদাকাহ করতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি আবার নিবেদন করলাম, তাহলে অর্ধেক। তিনি বললেন, না। অতঃপর তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশ আর এক তৃতীয়াংশও বিরাট পরিমাণ অথবা অধিক। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদেরকে খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। [1] আর আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যে কোন ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার বিনিময় প্রদান করা হবে। এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে (তারও প্রতিদান পাবে)। আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! (আফসোস) আমি আমার সাথীদের হতে পিছনে থেকে যাব? তিনি বললেন, তুমি যদি পিছনে থেকে নেক ‘আমল করতে থাক, তাহলে তাতে তোমার মর্যাদা ও উন্নতি বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। তাছাড়া, সম্ভবত, তুমি পিছনে (থেকে যাবে)। যার ফলে তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকার লাভ করবে। আর অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ্! আমার সাহাবীগণের হিজরত বলবৎ রাখুন। পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু আফসোস! সা‘দ ইবনু খাওলার জন্য (এ বলে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছিলেন, যেহেতু মক্কা্য় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। (৫৬, মুসলিম ২৫/১, হাঃ ১৬২৮, আহমাদ ১৫৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 53 · #1290
  59. 59

    আবূ বুরদাহ ইবনু আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন। এমনকি তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তখন তাঁর মাথা তাঁর পরিবারভুক্ত কোন এক মহিলার কোলে ছিল। তিনি তাকে কোন জবাব দিতে পারছিলেন না। জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি বললেন, সে সব লোকের সঙ্গে আমি সম্পর্ক রাখি না যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সব নারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা প্রকাশ করেছেন- যারা চিৎকার করে ক্রন্দন করে, যারা মস্তক মুন্ডন করে এবং যারা জামা কাপড় ছিন্ন করে। (মুসলিম ১/৪৪, হাঃ ১০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)

    Book 23 · Hadith 54 · #1291
  60. 60

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (১২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 55 · #1292
  61. 61

    ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (১২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 56 · #1293
  62. 62

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (মুতা-র যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে (যায়দ) ইবনু হারিসা, জা‘ফর ও ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছল, তখন তিনি (এমনভাবে) বসে পড়লেন যে, তাঁর মধ্যে দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি (‘আয়িশাহ (রাযি.)] দরজার ফাঁক দিয়ে তা প্রত্যক্ষ করছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জা‘ফর (রাঃ)-এর পরিবারের মহিলাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁদেরকে (কান্নাকাটি করতে) নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেলো এবং দ্বিতীয়বার এসে (বলল) তারা তাঁর কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাঁদেরকে নিষেধ করো। ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তাঁরা আমাদের হার মানিয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমার মনে হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরক্তির সাথে বললেনঃ তাহলে তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশ পালন করতে পারনি। অথচ তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও দ্বিধা করোনি। (১৩০৫, ৪২৬৩, মুসলিম ১১/১০৬/১৭, হাঃ ৯৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 57 · #1294
  63. 63

    আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বীর-ই মাউনার ঘটনায়) ক্বারী (সাহাবীগণের) শাহাদাতের পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাতে) একমাস যাবৎ কুনুত-ই নাযিলা পাঠ করেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি আর কখনো এর চেয়ে অধিক শোকাভিভূত হতে দেখিনি। (১০০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 58 · #1295
  64. 64

    وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ الْجَزَعُ الْقَوْلُ السَّيِّئُ وَالظَّنُّ السَّيِّئُ وَقَالَ يَعْقُوبُ عَلَيْهِ السَّلاَم (إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللهِ) মুহাম্মদ ইবনু কা‘ব (রহ.) বলেন, অস্থিরতা হচ্ছে মন্দ বাক্য উচ্চারণ করা, কুধারণা পোষণ করা। ই‘য়াকূব আলাইহিস্ সালাম বলেছেনঃ ‘‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহ্‌র নিকট নিবেদন করছি।’’ (সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৬) ১৩০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহাহ্ (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু হলো। তখন আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহাহ্ (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁদের রাতের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ আশা করা যায়, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের এ রাতে বারকাত দিবেন। সুফইয়ান (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি আবূ তালহাহ্ (রাঃ) দম্পতির নয় জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন পাঠ করেছে। (৫৪৭০, মুসলিম ৩৮/৫, হাঃ ২১৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 59 · #1296
  65. 65

    وَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ نِعْمَ الْعِدْلاَنِ، وَنِعْمَ الْعِلاَوَةُ (الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ). وَقَوْلُهُ تَعَالَى: (وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ). ‘উমার (রাঃ) বলেন, কতই না উত্তম দুই ঈদ্ল এবং কতই না উত্তম ইলাওয়াহ্ [1] (আল্লাহ্‌র বাণী)ঃ [যার অর্থ] ‘‘যারা তাদের উপর যখন কোন বিপদ আপতিত হয় তখন বলেঃ আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং আমরা সবাই অবশ্যই তাঁরই কাছে ফিরে যাব। এরাই তারা যাদের প্রতি রয়েছে তাদের পালনকর্তার তরফ থেকে অশেষ অনুগ্রহ ও করুণা আর এরাই হল হিদায়াতপ্রাপ্ত।’’ (আল-বাক্বারাহ ১৫৬-১৫৭)। আর আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী : (যার অর্থ) ‘‘তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে। অবশ্য তা অত্যন্ত কঠিন, তবে সেসব বিনীত লোকদের ব্যতিরেকে।’’ (আল-বাক্বারাহ ৪৫) ১৩০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়ই প্রকৃত সবর। (১২৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 60 · #1297
  66. 66

    وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, (বিপদে) চোখ অশ্রুসজল হয়, অন্তর হয় ব্যথিত। ১৩০৩. ‘আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী-তনয়) ইব্রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম (রাঃ)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন।[1] আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। [2] رَوَاهُ مُوسَى عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم মূসা (রহ.)....আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৫, আহমাদ ১৩০১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 61 · #1298
  67. 67

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ‘ সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বললেন, না। হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে ফেললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ শুনে রাখ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা‘আলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে ‘আযাব দিবেন না। তিনি ‘আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনের বিলাপের কারণে ‘আযাব দেয়া হয়। ‘উমার (রাঃ) এ (ধরনের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন। (মুসলিম ১১/৬, হাঃ ৯২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 62 · #1299
  68. 68

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে) যায়দ ইবনু হারিসাহ, জা‘ফর এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের আলামত প্রকাশ পেল। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] দরজার ফাঁক দিয়ে ঝুঁকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে সম্বোধন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! জা‘ফর (রাঃ)-এর (পরিবারের) মহিলাগণ কান্নাকাটি করছে। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাকে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! অবশ্যই তাঁরা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরকে) হার মানিয়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তাঁদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারো। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] আমি বললাম, আল্লাহ্ তোমার নাক ধূলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহ্‌র কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বিরক্ত করতেও ছাড়ছ না। (১২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 63 · #1300
  69. 69

    উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাই‘আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ হতে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। ....আমাদের মধ্য হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল ‘আলা, আবূ সাব্রাহর কন্যা মু‘আযের স্ত্রী, আরো দু’জন মহিলা বা মু‘আযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে ওয়াদা রক্ষা করেনি। (৪৮৯২, ৭২১৫, মুসলিম ১১/১০, হাঃ ৯৩৬, আহমাদ ২৭৩৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 64 · #1301
  70. 70

    ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। হুমাইদী আরও উল্লেখ করেছেন, তা তোমাদের পশ্চাতে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত। (১৩০৮, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৫৮, আহমাদ ১৫৬৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 65 · #1302
  71. 71

    ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে যদি সে তার সহযাত্রী না হয়, তবে ততক্ষণ সে দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি জানাযা পিছনে ফেলে বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায় অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা (মাটিতে) নামিয়ে রাখা হয়। (১৩০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 66 · #1303
  72. 72

    সা‘ঈদ মাকবুরী (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একটি জানাযায় শরীক হলাম। (সেখানে) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) মারওয়ানের হাত ধরলেন এবং তাঁরা জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বেই বসে পড়লেন। তখন আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) এগিয়ে এসে মারওয়ানের হাত ধরে বললেন, দাঁড়িয়ে পড়ুন! আল্লাহ্‌র কসম! ইনি [আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)] তো জানেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কাজ করতে (জানাযা নামিয়ে রাখার পূর্বে বসতে) নিষেধ করেছেন। তখন আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন। (১৩১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 67 · #1304
  73. 73

    আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন জানাযা যেতে দেখবে, যদি সে তার সহযাত্রী না হয় তাহলে সে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে, যতক্ষণ না তা চলে যায় অথবা নামিয়ে না রাখা হয়। (১৩০৯, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৫৯, আহমাদ ১১১৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 68 · #1305
  74. 74

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ব দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম এবং নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এ তো ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি বললেনঃ তোমরা যে কোন জানাযা দেখলে দাঁড়িয়ে যাবে। (মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৬০, আহমাদ ১৪৪৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 69 · #1306
  75. 75

    ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল এবং কায়স (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তাঁরা দু’জন বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। যাকারিয়া (রহ.) সূত্রে ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, আবূ মাস‘উদ ও কায়স (রাঃ) জানাযা যেতে দেখলে দাঁড়িয়ে যেতেন। (মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৬১, আহমাদ ২৩৯০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1307
  76. 76

    ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল এবং কায়স (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তাঁরা দু’জন বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। যাকারিয়া (রহ.) সূত্রে ইবনু আবূ লায়লাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, আবূ মাস‘উদ ও কায়স (রাঃ) জানাযা যেতে দেখলে দাঁড়িয়ে যেতেন। (মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৬১, আহমাদ ২৩৯০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 70 · #1308
  77. 77

    আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং পুরুষরা তা কাঁধে বহন করে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও। আর সৎ না হলে সে বলতে থাকে, হায় আফসোস! তোমরা এটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? মানব জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত। (১৩১৬, ১৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 71 · #1309
  78. 78

    وَقَالَ أَنَسٌ t أَنْتُمْ مُشَيِّعُونَ وَامْشِ بَيْنَ يَدَيْهَا وَخَلْفَهَا وَعَنْ يَمِينِهَا وَعَنْ شِمَالِهَا وَقَالَ غَيْرُهُ قَرِيبًا مِنْهَا আনাস (রাঃ) বলেন, তোমরা (জানাযাকে) বিদায় দানকারী। অতএব, তোমরা তার সম্মুখে, পশ্চাতে এবং ডানে বামে চলবে। অন্যান্যরা বলেছেন, তার নিকট নিকট (চলবে)। ১৩১৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি আপদ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় হতে জলদি নামিয়ে ফেলছ। (মুসলিম ১১/১৬, হাঃ ৯৪৪, আহমাদ ১০৩৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 72 · #1310
  79. 79

    আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন জানাযা (খাটিয়ায়) রাখা হয় এবং পুরুষ লোকেরা তা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, সে পুণ্যবান হলে তখন বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে দাও। আর পুণ্যবান না হলে সে আপন পরিজনকে বলতে থাকে, হায় আফসোস! এটা নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ জাতি ব্যতীত সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে যেত। (১৩১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 73 · #1311
  80. 80

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবিসিনিয়ার বাদশাহ্) নাজাশীর জানাযা আদায় করেন। আমি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম। (১৩২০, ১৩৩৪, ৩৮৭৭, ৩৮৭৮, ৩৮৭৯, মুসলিম ১১/২২, হাঃ ৯৫২, আহমাদ ১৪৮৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 74 · #1312
  81. 81

    আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নাজাশীর মৃত্যু খবর শোনালেন, পরে তিনি সম্মুখে অগ্রসর হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হলে তিনি চার তাকবীরে [1] (জানাযার সালাত) আদায় করলেন। (১২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 75 · #1313
  82. 82

    শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, তিনি আমাকে খবর দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পৃথক কবরের নিকট গমন করলেন এবং লোকেদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীরের সঙ্গে (জানাযার সালাত) আদায় করলেন। [শাইবানী (রহ.) বলেন] আমি শা‘বী (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ হাদীস আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)। (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 76 · #1314
  83. 83

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজ হাবাশা দেশের (আবিসিনিয়ার) একজন পুণ্যবান লোকের মৃত্যু হয়েছে, তোমরা এসো তাঁর জন্য (জানাযার) সালাত আদায় কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জানাযার) সালাত আদায় করলেন, আমরা ছিলাম কয়েক কাতার। আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম। (১৩১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 77 · #1315
  84. 84

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক (ব্যক্তির) কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাকে রাতের বেলা দাফন করা হয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একে কখন দাফন করা হল? সাহাবীগণ বললেন, গত রাতে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে জানালে না কেন? তাঁরা বললেন, আমরা তাঁকে রাতের আঁধারে দাফন করেছিলাম, তাই আপনাকে জাগানো পছন্দ করিনি। তখন তিনি (সেখানে) দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও তাঁদের মধ্যে ছিলাম। তিনি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন। (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 78 · #1316
  85. 85

    وَقَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ وَقَالَ صَلُّوا عَلَى النَّجَاشِيِّ سَمَّاهَا صَلاَةً لَيْسَ فِيهَا رُكُوعٌ وَلاَ سُجُودٌ وَلاَ يُتَكَلَّمُ فِيهَا وَفِيهَا تَكْبِيرٌ وَتَسْلِيمٌ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يُصَلِّي إِلاَّ طَاهِرًا وَلاَ يُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبِهَا وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ وَقَالَ الْحَسَنُ أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَأَحَقُّهُمْ بِالصَّلاَةِ عَلَى جَنَائِزِهِمْ مَنْ رَضُوهُمْ لِفَرَائِضِهِمْ وَإِذَا أَحْدَثَ يَوْمَ الْعِيدِ أَوْ عِنْدَ الْجَنَازَةِ يَطْلُبُ الْمَاءَ وَلاَ يَتَيَمَّمُ وَإِذَا انْتَهَى إِلَى الْجَنَازَةِ وَهُمْ يُصَلُّونَ يَدْخُلُ مَعَهمْ بِتَكْبِيرَةٍ وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ يُكَبِّرُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالسَّفَرِ وَالْحَضَرِ أَرْبَعًا وَقَالَ أَنَسٌ التَّكْبِيرَةُ الْوَاحِدَةُ اسْتِفْتَاحُ الصَّلاَةِ وَقَالَ (وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا) وَفِيهِ صُفُوفٌ وَإِمَامٌ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার সালাত আদায় করবে.....। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য (জানাযার) সালাত আদায় কর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে সালাত বলেছেন, (অথচ) এর মধ্যে রুকূ‘ ও সিজদা্ নেই এবং এতে কথা বলা যায় না, এতে রয়েছে তাকবীর ও তাসলীম। ইবনু ‘উমার (রাঃ) পবিত্রতা ছাড়া (জানাযার) সালাত আদায় করতেন না এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকালে এ সালাত আদায় করতেন না। (তাকবীর কালে) দু’ হাত উত্তোলন করতেন। হাসান (বাসরী) (রহ.) বলেন, আমি সাহাবীগণকে এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, তাঁদের জানাযার সালাতের (ইমামতের) জন্য তাঁকেই অধিকতর যোগ্য মনে করা হত, যাকে তাঁদের ফরজ সালাতসমূহে (ইমামতের) জন্য তাঁরা পছন্দ করতেন। ঈদের দিন (সালাত কালে) বা জানাযার সালাত আদায় কালে কারো উযূ নষ্ট হয়ে গেলে, তিনি পানি খোঁজ করতেন, তায়াম্মুম করতেন না। কেউ জানাযার নিকট পৌঁছে, লোকদের সালাত রত দেখলে তাকবীর বলে তাতে শামীল হয়ে যেতেন। ইবনু মুসাইয়িব (রহ.) বলেছেন, দিনে হোক বা রাতে, বিদেশে হোক কিংবা দেশে (জানাযার সালাতে) চার তাকবীরই বলবে। আনাস (রাঃ) বলেছেন, (প্রথম) এক তাকবীর হল সালাতের সূচনা। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে কক্ষণও তার জন্য সালাত (জানাযা) আদায় করবে না’’- (আত্-তওবা ৮৪)। এ ছাড়াও জানাযার সালাতে রয়েছে একাধিক কাতার ও ইমামতের বিধান। ১৩২২. শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক সাহাবী আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ইমামত করলেন, আমরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দী [1] হলাম এবং সালাত আদায় করলাম। [শাইবানী (রহ.) বলেন,] আমরা (শা‘বীকে) জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ ‘আমর! আপনাকে এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)। (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 79 · #1317
  86. 86

    তবে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) এ বিষয়ে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ হাদীস বলতে শুনেছি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, তা হলে তো আমরা অনেক কীরাত (সাওয়াব) হারিয়ে ফেলেছি। فَرَّطْتُ এর অর্থ আল্লাহ্‌র আদেশ খুইয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৪৪ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1318
  87. 87

    তবে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) এ বিষয়ে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ হাদীস বলতে শুনেছি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, তা হলে তো আমরা অনেক কীরাত (সাওয়াব) হারিয়ে ফেলেছি। فَرَّطْتُ এর অর্থ আল্লাহ্‌র আদেশ খুইয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৪৪ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 80 · #1319
  88. 88

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কীরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু’ কীরাত। জিজ্ঞেস করা হল দু’ কীরাত কী? তিনি বললেন, দু’টি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সাওয়াব)। (৪৭, মুসলিম ১১/১৭, হাঃ ৯৪৫, আহমাদ ৯২১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 81 · #1320
  89. 89

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের নিকট আসলেন। সাহাবাগণ বললেন, একে গত রাতে দাফন করা হয়েছে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে কাতারবন্দী হলাম। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 82 · #1321
  90. 90

    আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিয়ে মুসাল্লায় কাতার করলেন, অতঃপর চার তাকবীর আদায় করলেন। (১২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৪৭ শেষাং)

    Book 23 · Hadith 0 · #1322
  91. 91

    আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিয়ে মুসাল্লায় কাতার করলেন, অতঃপর চার তাকবীর আদায় করলেন। (১২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৪৭ শেষাং)

    Book 23 · Hadith 83 · #1323
  92. 92

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ইয়াহূদীরা তাদের এক পুরুষ ও এক স্ত্রীলোককে হাযির করল, যারা ব্যাভিচার করেছিল। তখন তিনি তাদের উভয়কে রজমের (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) নির্দেশ দেন। মসজিদের পাশে জানাযার স্থানের নিকটে তাদের দু’জনকে রজম করা হল। (৩৬৩৫, ৪৫৫৬, ৬৮১৯, ৬৮৪১, ৭৩৩২, ৭৫৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 84 · #1324
  93. 93

    وَلَمَّا مَاتَ الْحَسَنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ ضَرَبَتْ امْرَأَتُهُ الْقُبَّةَ عَلَى قَبْرِهِ سَنَةً ثُمَّ رُفِعَتْ فَسَمِعُوا صَائِحًا يَقُولُ أَلاَ هَلْ وَجَدُوا مَا فَقَدُوا فَأَجَابَهُ الآخَرُ بَلْ يَئِسُوا فَانْقَلَبُوا হাসান ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর মৃত্যু হলে তাঁর স্ত্রী এক বছর যাবৎ তাঁর কবরের উপর একটি কুব্বা (তাঁবু) তৈরী করে রাখেন, পরে তিনি তা উঠিয়ে নেন। তখন লোকেরা এই বলতে আওয়াজ শুনলেন, ওহে! তারা কি হারানো বস্তু ফিরে পেয়েছে? অপর একজন জবাব দিল, না, বরং নিরাশ হয়ে ফিরে গেছে? ১৩৩০. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে রোগে মৃত্যু হয়েছিল, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেনঃ ইয়াহূদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ্‌র অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, সে আশঙ্কা না থাকলে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর) কবরকে উন্মুক্ত রাখা হত, কিন্তু আমি আশঙ্কা করি যে, (উন্মুক্ত রাখা হলে) একে মসজিদে পরিণত করা হবে। (৪৩৫, মুসলিম ৫/৩, হাঃ ৫২৯, আহমাদ ২৪১১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 85 · #1325
  94. 94

    সামুরাহ ইবনু জুন্দাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পশ্চাতে আমি এমন এক স্ত্রীলোকের জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাসের অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (স্ত্রীলোকটির) মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন। (৩৩২, মুসলিম ১১/২৭, হাঃ ৯৬৪, আহমাদ ২০২৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 86 · #1326
  95. 95

    সামুরাহ ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পশ্চাতে আমি এমন এক স্ত্রীলোকের জানাযার সালাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাস* অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। তিনি তার (স্ত্রীলোকটির) মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন। (৩৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 87 · #1327
  96. 96

    وَقَالَ حُمَيْدٌ صَلَّى بِنَا أَنَسٌ t فَكَبَّرَ ثَلاَثًا ثُمَّ سَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ثُمَّ كَبَّرَ الرَّابِعَةَ ثُمَّ سَلَّمَ হুমাইদ (রহ.) বলেন, আনাস (রাঃ) একবার আমাদের নিয়ে (জানাযার) সালাত আদায় করলেন, তিন বার তাকবীর বললেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জানানো হলে, তিনি কিব্লামুখী হয়ে চতুর্থ তাকবীর দিলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন। ১৩৩৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর মৃত্যুর দিন তাঁর মৃত্যু খবর জানালেন এবং সাহাবীবর্গকে সঙ্গে নিয়ে জানাযার সালাতের স্থানে গেলেন এবং তাদেরকে সারিবদ্ধ করে চার তাকবীরে জানাযার সালাত আদায় করলেন। (১২৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 88 · #1328
  97. 97

    জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহামা নাজাশীর জানাযার সালাত আদায় করলেন, তাতে তিনি চার তাকবীর দিলেন। ইয়াযীদ ইবনু হারূন ও আবদুস্ সামাদ (রহ.) সালীম (রহ.) হতে أَصْحَمَةَ শব্দটি উল্লেখ করেন। (১৩১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 89 · #1329
  98. 98

    وَقَالَ الْحَسَنُ يَقْرَأُ عَلَى الطِّفْلِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَيَقُولُ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَسَلَفًا وَأَجْرًا হাসান (রহ.) বলেছেন, শিশুর জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করবে এবং দু‘আ পড়বে। হে আল্লাহ্! তাকে আমাদের জন্য অগ্রে প্রেরিত, অগ্রগামী এবং আমাদের পুরস্কার স্বরূপ গ্রহণ কর। ১৩৩৫. ত্বলহাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন [1] এবং (সালাত শেষে) বললেন, (আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করলাম) যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, এটা সুন্নাত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 90 · #1330
  99. 99

    শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে এমন এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের ইমামত করলেন এবং তাঁরা তাঁর পিছনে জানাযার সালাত আদায় করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি শা‘বীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ ‘আমর! আপনার নিকট এ হাদীস কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)। (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 91 · #1331
  100. 100

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কালো এক পুরুষ বা এক মহিলা মসজিদে ঝাড়ৃ দিত। সে মারা গেল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেননি। একদা তার কথা উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটির কী হল? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সে তো মারা গেছে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে জানাওনি কেন? সে ছিল এমন এমন বলে তাঁরা তার ঘটনা উল্লেখ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা তার মর্যাদাকে খাটো করে দেখলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তার কবরের কাছে আসলেন এবং তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। (৪৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 92 · #1332
  101. 101

    আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে,) তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, এমন সময় তার নিকট দু’জন ফেরেশ্তা এসে তাকে বসিয়ে দেন। অতঃপর তাঁরা প্রশ্ন করেন, এই যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাঁর সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্‌র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তখন সে দু’টি স্থান একই সময় দেখতে পাবে। আর যারা কাফির বা মুনাফিক, তারা বলবে, আমি জানি না। অন্য লোকেরা যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, না তুমি নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। অতঃপর তার দু’ কানের মাঝখানে লোহার মুগুর দিয়ে এমন জোরে মারা হবে, যাতে সে চিৎকার করে উঠবে, তার আশেপাশের সবাই তা শুনতে পাবে মানুষ ও জ্বীন ছাড়া। (১৩৭৪, মুসলিম ৫১/১৭, হাঃ ২৮৭০, আহমাদ ১২২৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 93 · #1333
  102. 102

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মাওতকে মূসা (আঃ)-এর নিকট পাঠানো হল। তিনি তাঁর নিকট আসলে, মূসা (আঃ) তাঁকে চপেটাঘাত করলেন। (যার ফলে তাঁর চোখ বেরিয়ে গেল।) তখন মালাকুল মাওত তাঁর প্রতিপালকের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। তখন আল্লাহ্ তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হুকুম করলেন, আবার গিয়ে তাঁকে বল, তিনি একটি ষাঁড়ের পিঠে তাঁর হাত রাখবেন, তখন তাঁর হাত যতটুকু আবৃত করবে, তার সম্পূর্ণ অংশের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তাঁকে এক বছর করে আয়ু দান করা হবে। মূসা (আঃ) এ শুনে বললেন, হে আমার রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ্ বললেনঃ অতঃপর মৃত্যু। মূসা (আঃ) বললেন, তা হলে এখনই হোক। তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদূর যায় বাইতুল মাক্বদিসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাঁকে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে নিবেদন করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পথের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম। (৩৪০৭, মুসলিম ৪৩/৪২ হাঃ ২৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 94 · #1334
  103. 103

    وَدُفِنَ أَبُو بَكْرٍ لَيْلاً আবূ বাকর (রাঃ)-কে রাতে দাফন করা হয়েছিল। ১৩৪০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাত্রিকালে দাফন করার পর তার জানাযার সালাত আদায় করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ­ ও তাঁর সাহাবীণগ গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন তিনি লোকটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, এ লোকটি কে? তাঁরা জবাব দিলেন, অমুক, গতরাতে তাকে দাফন করা হয়েছে। তখন তাঁরা তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। (৮৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 95 · #1335
  104. 104

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসুস্থতার সময় তাঁর এক সহধর্মিণী হাবাশা দেশে তাঁর দেখা ‘মারিয়া’ নামক একটি গীর্জার কথা বললেন। উম্মু সালামাহ এবং উম্মু হাবীবাহ (রাযি.) হাবাশায় গিয়েছিলেন। তাঁরা দু’জন ঐ গীর্জাটির সৌন্দর্য এবং তার ভিতরের চিত্রকর্মের বিবরণ দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা তুলে বললেনঃ সে সব দেশের লোকেরা তাদের কোন নেক্কার ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর কবরে মাসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে ঐ সব চিত্রকর্ম অংকণ করত। তারা হলো, আল্লাহ্‌র নিকট নিকৃষ্ট সৃষ্টি। (৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 96 · #1336
  105. 105

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক কন্যার দাফনে হাযির ছিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশেই বসেছিলেন। আমি দেখলাম, তাঁর দু’চোখে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে স্ত্রী মিলনে লিপ্ত হয়নি? আবূ তালহাহ (রাঃ) বলেন, আমি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁর কবরে নেমে পড়, তখন তিনি তাঁর কবরে নেমে গেলেন এবং তাঁকে দাফন করলেন। (১২৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৬১) ফুলাইহ বলেন, أراه অর্থ الذنب পিছনে। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী বলেন, (لِيَقْتَرِفُوْا) অর্থাৎ যেন লিপ্ত হয়ে পড়ে।

    Book 23 · Hadith 97 · #1337
  106. 106

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’ জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্র করতেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করতেন, তাঁদের উভয়ের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত? দু’ জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে তাঁকে কবরে পূর্বে রাখতেন এবং বললেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হব। তিনি রক্ত-মাখা অবস্থায় তাঁদের দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাঁদের গোসল দেয়া হয়নি এবং তাঁদের (জানাযার) সালাতও আদায় করা হয়নি। (১৩৪৫, ১৩৪৬, ১৩৪৭, ১৩৪৮, ১৩৫৩, ৪০৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 98 · #1338
  107. 107

    ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বের হলেন এবং উহুদে পৌঁছে মৃতের জন্য যেরূপ (জানাযার) সালাত আদায় করা হয় উহুদের শহীদানের জন্য অনুরূপ সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ফিরে এসে মিম্বারে তাশরীফ রেখে বললেনঃ আমি হবো তোমাদের জন্য অগ্রে প্রেরিত এবং তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহ্‌র কসম! এ মুহূর্তে আমি অবশ্যই আমার হাউয (হাউয-ই-কাউসার) দেখছি। আর অবশ্যই আমাকে পৃথিবীর ভান্ডারসমূহের চাবিগুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। অথবা (বর্ণনাকারী বলেছেন) পৃথিবীর চাবিগুচ্ছ [1] আর আল্লাহ্‌র কসম! তোমরা আমার পরে শির্ক করবে এ আশঙ্কা আমি করি না। তবে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা যে, তোমরা পার্থিব সম্পদ লাভে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। (৩৫৯৬, ৪০৪২, ৪০৮৫, ৬৪২৬, ৬৫৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 99 · #1339
  108. 108

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি খবর দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’জনকে একত্র করে দাফন করেছিলেন। (১৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 100 · #1340
  109. 109

    জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাঁদেরকে তাঁদের রক্ত সহ দাফন কর। অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদগণের সম্পর্কে (কথাটি বলেছিলেন) আর তিনি তাঁদের গোসলও দেননি। (১৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 101 · #1341
  110. 110

    রাবী আওযায়ী (রহ.) যুহরী (রহ.) সূত্রে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, তাঁদের মাঝে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? কোন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে, তিনি তাঁকে তাঁর সঙ্গীর পূর্বে কবরে রাখতেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমার পিতা ও চাচাকে একখানি পশমের তৈরি নক্শা করা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ جَابِرًا আর সুলাইমান ইবনু কাসীর (রহ.) সূত্রে যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির (রাঃ) হতে শুনেছেন। (১৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1342
  111. 111

    রাবী আওযায়ী (রহ.) যুহরী (রহ.) সূত্রে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, তাঁদের মাঝে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? কোন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে, তিনি তাঁকে তাঁর সঙ্গীর পূর্বে কবরে রাখতেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমার পিতা ও চাচাকে একখানি পশমের তৈরি নক্শা করা কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ جَابِرًا আর সুলাইমান ইবনু কাসীর (রহ.) সূত্রে যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির (রাঃ) হতে শুনেছেন। (১৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৫৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 102 · #1343
  112. 112

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা মক্কা্কে হারাম (সম্মানিত বা নিষিদ্ধ এলাকা) সাব্যস্ত করেছেন। আমার পূর্বে তা, কারো জন্য হালাল (বৈধ ও উন্মুক্ত এলাকা) ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য তা হালাল হবে না। আমার জন্য একটি দিনের (মক্কা্ বিজয়ের দিন) কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। কাজেই তার ঘাস উৎপাটন করা যাবে না, তার গাছ কাটা যাবে না, শিকারকে তাড়িয়ে দেয়া যাবে না। সেখানে পড়ে থাকা (হারানো) বস্তু উঠিয়ে নেয়া যাবে না, তবে হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা প্রদানকারীর জন্য (অনুমতি থাকবে)। তখন ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তবে ইয্খির ঘাস, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য এবং আমাদের কবরগুলোর জন্য প্রয়োজন। তখন তিনি বললেনঃ ইয্খির ব্যতীত। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, আমাদের কবর ও বাড়ি ঘরের জন্য। আর আবান ইবনু সালিহ্ (রহ.) সাফিয়্যা বিন্ত শায়বাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি অনুরূপ বলতে শুনেছি আর মুজাহিদ (রহ.) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বলেন, তাদের কর্মকার ও ঘর-বাড়ির জন্য। (১৫৮৭, ১৮৩৩, ১৮৩৪, ২০৯০, ২৪৩৩, ২৭৮৩, ২৮২৫, ৩০৭৭, ৩১৮৯, ৪৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 103 · #1344
  113. 113

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উবাই (মুনাফিক সর্দারকে) কবর দেয়ার পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (কবরের) নিকট আসলেন এবং তিনি তাকে বের করার নির্দেশ দিলে তাকে (কবর হতে) বের করা হল। তখন তিনি তাকে তাঁর (নিজের) দু’ হাঁটুর উপরে রাখলেন, নিজের (মুখের) লালা (তার উপরে ফুঁকে) দিলেন এবং নিজের জামা তাকে পরিয়ে দিলেন। আল্লাহ্ সমধিক অবগত। সে ‘আব্বাস (রাঃ)-কে একটি জামা পরতে দিয়েছিল। আর সুফইয়ান (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিধানে তখন দু’টি জামা ছিল। ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু ‘উবাই)-এর পুত্র (আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনার (পবিত্র) দেহের সাথে জড়িয়ে থাকা জামাটি আমার পিতাকে পরিয়ে দিন। সুফইয়ান (রহ.) বলেন, তারা মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জামা ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু উবাই)-কে পরিয়ে দিয়েছিলেন, তার কৃত (ইহসানের) বিনিময় স্বরূপ। (১২৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 104 · #1345
  114. 114

    জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উহুদ যুদ্ধের সময় উপস্থিত হল, তখন রাতের বেলা আমার পিতা আমাকে ডেকে বললেন, আমার মনে হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা প্রথমে শহীদ হবেন, আমি তাঁদের মধ্যে একজন হব। আর আমি আমার (মৃত্যুর) পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত তোমার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কাউকে রেখে যাচ্ছি না। আমার যিম্মায় করয রয়েছে। তুমি তা পরিশোধ করবে। তোমার বোনদের ব্যাপারে সদুপদেশ গ্রহণ করবে। জাবির (রাঃ) বলেন, পরদিন সকাল হলে (আমরা দেখলাম যে) তিনিই প্রথম শহীদ। তাঁর কবরে আর একজন সাহাবীকে তাঁর সাথে দাফন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে অন্য একজনের সাথে (একই) কবরে তাঁকে রাখা আমার মনে ভাল লাগল না। তাই ছয় মাস পর আমি তাঁকে (কবর হতে) বের করলাম এবং দেখলাম যে, তাঁর কানে সামান্য চিহ্ন ব্যতীত তিনি সেই দিনের মতই (অক্ষত ও অবিকৃত) রয়েছেন, যে দিন তাঁকে (কবরে) রেখেছিলাম। (১৩৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 105 · #1346
  115. 115

    জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতার সাথে আরেকজন শহীদকে দাফন করা হলে আমার মন তাতে তুষ্ট হতে পারল না। অবশেষে আমি তাঁকে (কবর হতে) বের করলাম এবং একটি পৃথক কবরে তাঁকে দাফন করলাম। (১৩৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 106 · #1347
  116. 116

    জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’জনকে একত্র করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে কে অধিক জ্ঞাত? দু’জনের কোন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে প্রথমে তাঁকে কবরে রাখতেন। অতঃপর ইরশাদ করেনঃ কিয়ামতের দিন আমি তাঁদের জন্য সাক্ষী হব। তিনি রক্ত-মাখা অবস্থায়ই তাঁদের দাফন করার আদেশ করলেন এবং তাঁদের গোসলও দেননি। (১৩৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 107 · #1348
  117. 117

    রাবী সালিম (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমন করলেন যেখানে ইবনু সাইয়াদ ছিল। ইবনু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার পূর্বেই ইবনু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর হতে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ইবনু সাইয়াদের মা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইবনু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবনু সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মাদ! তখন ইবনু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ সে (ইবনু সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত। শু‘আইব (রহ.) তাঁর হাদীসে فَرَفَضَهُ বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, رَمْرَمَةُ অথবা زَمْزَمَةُ এবং উকাইল (রহ.) বলেছেন, رَمْرَمَةُ আর মা‘মার বলেছেন رَمْزَةُ। (২৬৩৮, ৩০৩৩, ৩০৫৬, ৬১৭৪, মুসলিম ৫২/১৯, হাঃ ২৯৩০, ২৯৩১, আহমাদ ৬৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৭২ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1349
  118. 118

    রাবী সালিম (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমন করলেন যেখানে ইবনু সাইয়াদ ছিল। ইবনু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার পূর্বেই ইবনু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর হতে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ইবনু সাইয়াদের মা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইবনু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবনু সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মাদ! তখন ইবনু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ সে (ইবনু সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত। শু‘আইব (রহ.) তাঁর হাদীসে فَرَفَضَهُ বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, رَمْرَمَةُ অথবা زَمْزَمَةُ এবং উকাইল (রহ.) বলেছেন, رَمْرَمَةُ আর মা‘মার বলেছেন رَمْزَةُ। (২৬৩৮, ৩০৩৩, ৩০৫৬, ৬১৭৪, মুসলিম ৫২/১৯, হাঃ ২৯৩০, ২৯৩১, আহমাদ ৬৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৭২ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 108 · #1350
  119. 119

    আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বালক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমাত করত, সে একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি তার মাথার নিকট বসে তাকে বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর, সে তখন তার পিতার দিকে তাকাল, সে তার নিকটই ছিল, পিতা তাকে বলল, আবুল কাসিম (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কুনিয়াত) এর কথা মেনে নাও, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান হতে বের হয়ে যাওয়ার সময় ইরশাদ করলেনঃ যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহ্‌র, যিনি তাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিলেন। (৫৬৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 109 · #1351
  120. 120

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার মা (লুবাবাহ্ বিনত হারিস) মুসতায‘আফীন (দুর্বল, অসহায়) এর অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি ছিলাম না-বালিগ শিশুদের মধ্যে আর আমার মা ছিলেন মহিলাদের মধ্যে। (৪৫৮৭, ৪৫৮৮, ৪৫৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 110 · #1352
  121. 121

    শু‘আইব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু শিহাব (রহ.) বলেছেন, নবজাত শিশু মারা গেলে তাদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিত্রাহর (তাওহীদ) এর উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাতা ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু সরবে কেঁদে থাকলে তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাঁদবে, তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। কারণ, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতিটি নবজাতকই জন্ম লাভ করে ফিতরাতের (তাওহীদের) উপর। অতঃপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কান কাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাহ্তে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ (فِطْرَتَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا) ‘‘আল্লাহ্‌র দেয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন ..... (রূমঃ ৩০)। (১৩৫৯, ১৩৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৯, মুসলিম ৪৬/৬, হাঃ ২৬৫৮, আহমাদ ৮১৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 111 · #1353
  122. 122

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক নবজাতকই ফিত্রাতের উপর জন্মলাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা বা মাজূসী (অগ্নিপূজারী) রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোন (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও? অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ (যার অর্থ) ‘‘আল্লাহ্‌র দেয়া ফিত্রাতের অনুসরণ কর, যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, এটাই সরল সুদৃঢ় দ্বীন’’- (রুমঃ ৩০)। (মুসলিম ৪৬/৬, হাঃ ২৬৫৮, আহমাদ ৮১৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 112 · #1354
  123. 123

    সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল ইবনু হিশাম ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ উমায়্যা ইবনু মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ চাচাজান! ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর অসীলায় আমি আল্লাহ্‌র সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবূ জাহল ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট কালিমাহ পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন : (مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ) الأية(নবীর জন্য সঙ্গত নয়....- (আত্-তওবাঃ ১১৩)। (৩৮৮৪, ৪৬৭৫, ৪৭৭২, ৬৬৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 113 · #1355
  124. 124

    وَأَوْصَى بُرَيْدَةُ الأَسْلَمِيُّ أَنْ يُجْعَلَ فِي قَبْرِهِ جَرِيدَانِ وَرَأَى ابْنُ عُمَرَ فُسْطَاطًا عَلَى قَبْرِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ فَقَالَ انْزِعْهُ يَا غُلاَمُ فَإِنَّمَا يُظِلُّهُ عَمَلُهُ وَقَالَ خَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ رَأَيْتُنِي وَنَحْنُ شُبَّانٌ فِي زَمَنِ عُثْمَانَ tوَإِنَّ أَشَدَّنَا وَثْبَةً الَّذِي يَثِبُ قَبْرَ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ حَتَّى يُجَاوِزَهُ وَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ أَخَذَ بِيَدِي خَارِجَةُ فَأَجْلَسَنِي عَلَى قَبْرٍ وَأَخْبَرَنِي عَنْ عَمِّهِ يَزِيدَ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ إِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِمَنْ أَحْدَثَ عَلَيْهِ وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَجْلِسُ عَلَى الْقُبُورِ বুরাইদাহ আসলামী (রাঃ) তাঁর কবরে দু’টি খেজুরের ডাল পুঁতে দেয়ার ওয়াসিয়াত করেছিলেন। ‘আবদুর রাহমান (ইবনু আবূ বাকর) (রাঃ)-এর কবরের উপরে একটি তাঁবু দেখতে পেয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে বালক! ওটা অপসারিত কর, কেননা একমাত্র তার ‘আমলই তাকে ছায়া দিতে পারে। খারিজ ইবনু যায়দ (রহ.) বলেছেন, আমার মনে আছে, ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফাতকালে যখন আমরা তরুণ ছিলাম তখন ‘উসমান ইবনু মাজ‘উন (রাঃ)-এর কবর লাফিয়ে অতিক্রমকারীকেই আমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ লম্ফবিদ মনে করা হত। আর ‘উসমান ইবনু হাকীম (রহ.) বলেছেন, খারিজাহ (রহ.) আমার হাত ধরে একটি কবরের উপরে বসিয়ে দিলেন এবং তার চাচা ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে আমাকে অবহিত করেন যে, তিনি বলেন, কবরের উপরে বসা মাকরূহ তা ঐ ব্যক্তির জন্য যে, যেখানে বসে পেশাব পায়খানা করে। আর নাফি‘ (রহ.) বলেছেন, ইবনু ‘উমর (রাঃ) কবরের উপরে বসতেন। ১৩৬১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দু’টির বাসিন্দাদের আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এদের দু’ জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ তাদের এমন গুনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না (যা হতে বিরত থাকা) দুরূহ ছিল। তাদের একজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না, আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’ভাগে বিভক্ত করলেন, অতঃপর প্রতিটি কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বললেনঃ ডাল দু’টি না শুকানো পর্যন্ত আশা করি তাদের আযাব হাল্কা করা হবে। (২১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 114 · #1356
  125. 125

    (يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنْ الأَجْدَاثِ) الأَجْدَاثُ الْقُبُورُ(بُعْثِرَتْ) أُثِيرَتْ بَعْثَرْتُ حَوْضِي أَيْ جَعَلْتُ أَسْفَلَهُ أَعْلاَهُ الإِيفَاضُ الإِسْرَاعُ وَقَرَأَ الأَعْمَشُ (إِلَى نَصْبٍ) إِلَى شَيْءٍ مَنْصُوبٍ يَسْتَبِقُونَ إِلَيْهِ وَالنُّصْبُ وَاحِدٌ وَالنَّصْبُ مَصْدَرٌ (يَوْمُ الْخُرُوجِ) مِنْ الْقُبُورِ (يَنْسِلُونَ) يَخْرُجُونَ (মহান আল্লাহ্‌র বাণী) (يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنْ الأَجْدَاثِ) তারা কবর হতে বের হবে- (মা‘আরিজঃ ৪৩)। الأَجْدَاثُ অর্থ কবরসমূহ। (এবং সূরা ইন্ফিতারে)(بُعْثِرَتْ) অর্থ উন্মোচিত হবে بَعْثَرْتُ حَوْضِي -অর্থ আমি (হাওযের) নিচের অংশকে উপরে তুলে দিয়েছি। الإِيفَاضُ অর্থ দ্রুত গতিতে চলা। ‘আমাশ (রহ.)-এর কিরাআত হলো এর অর্থ (إِلَى نَصْبٍ) হলো তারা স্থাপিত কোন বস্তুর দিকে দ্রুত গতিতে চলে। আর النُّصْبُএকবচন আর النَّصْبُ মাস্দার- ক্রিয়া মূল। (সূরা কাফ এর ৪২ আয়াতে)(يَوْمُ الْخُرُوجِ) বেরিয়ে আসার দিন। অর্থাৎ কবর হতে। আর সূরা আম্বিযার ৯৬ আয়াতে (يَنْسِلُونَ) অর্থ ‘বের হয়ে ছুটে আসবে।’ ১৩৬২. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকী‘উল গারক্বাদ (কবরস্থানে) এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন। তিনি উপবেশন করলে আমরাও তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি নীচের দিকে তাকিয়ে তাঁর ছড়িটি দ্বারা মাটি খুঁড়তে লাগলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, অথবা বললেনঃ এমন কোন সৃষ্ট প্রাণী নেই, যার জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে জায়গা নির্ধারিত করে দেয়া হয়নি আর এ কথা লিখে দেয়া হয়নি যে, সে দুর্ভাগা হবে কিংবা ভাগ্যবান। তখন এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তা হলে কি আমরা আমাদের ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করে ‘আমল করা ছেড়ে দিব না? কেননা, আমাদের মধ্যে যারা ভাগ্যবান তারা অচিরেই ভাগ্যবানদের ‘আমলের দিকে ধাবিত হবে। আর যারা দুর্ভাগ্য তারা অচিরেই দুর্ভাগাদের ‘আমলের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বললেনঃ যারা ভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যের ‘আমল সহজ করে দেয়া হয় আর ভাগ্যাহতদের জন্য দুর্ভাগ্যের ‘আমল সহজ করে দেয়া হয়। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘কাজেই যে দান করে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করে আর ভাল কথাকে সত্য বলে বুঝেছে’’- (লাইলঃ ৫)। (৪৯৪৫, ৪৯৪৬, ৪৯৪৭, ৪৯৪৮, ৪৯৪৯, ৬২১৭, ৬৬০৫, ৭৫৫২, মুসলিম ৪৬/১, হাঃ ২৬৪৭, আহমাদ ৬২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 115 · #1357
  126. 126

    হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহ.) বলেন, জারীর ইবনু হাযিম (রহ.) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান (রহ.) হতে, তিনি বলেন, জুনদাব (রাঃ) এই মসজিদে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনি যে, জুনদাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির (দেহে) যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। [1] (৩৪৬৩) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮০ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 0 · #1358
  127. 127

    হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহ.) বলেন, জারীর ইবনু হাযিম (রহ.) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান (রহ.) হতে, তিনি বলেন, জুনদাব (রাঃ) এই মসজিদে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনি যে, জুনদাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির (দেহে) যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। [1] (৩৪৬৩) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮০ শেষাংশ)

    Book 23 · Hadith 116 · #1359
  128. 128

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাব) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে। (৫৭৭৮, মুসলিম ১/৪৭, হাঃ ১১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 117 · #1360
  129. 129

    رَوَاهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ (‘আবদুল্লাহ্) ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিষয়টি রিওয়ায়াত করেছেন। ১৩৬৬. ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উবাই ইবনু সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আহবান করা হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাত আদায়ের উদ্দেশে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল্! আপনি ইবনু ‘উবাই’র জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ‘উমার, সরে যাও! আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম। ‘উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেন এবং ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের এ দু’টি আয়াত নাযিল হল : (وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَداً وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ) (التوبة:৮৪) ‘‘তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক- [আত্তওবা ৯ : ৮৪]। রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল-এর সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই সমধিক অবগত। (৪৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 118 · #1361
  130. 130

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার প্রশংসা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। (এবারও) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেলে। তখন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আরয করলেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেনঃ এ (প্রথম) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ (দ্বিতীয়) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র সাক্ষী। (২৬৪২, মুসলিম ১১/১৯, হাঃ ৯৪৯, আহমাদ ১২৯৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 119 · #1362
  131. 131

    আবুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদ্বীনায় আসলাম, তখন সেখানে একটি রোগ (মহামারী আকারে) ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলে। অতঃপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! কি ওয়াজিব হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চার ব্যক্তি ভাল বলে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। ‘উমার (রাঃ) বলেনঃ তখন আমরা বলেছিলাম, তিনজন হলে? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু’জন হলে? তিনি বললেন, দু’জন হলেও। অতঃপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি। (২৬৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 120 · #1363
  132. 132

    وَقَوْلُهُ تَعَالَى (وَلَوْ تَرَى إِذْ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلاَئِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ) قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ الْهُونُ هُوَ الْهَوَانُ وَالْهَوْنُ الرِّفْقُ وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ (سَنُعَذِّبُهُمْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ) وَقَوْلُهُ تَعَالَى (وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ) আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ (যার অর্থ) ‘‘আর যদি আপনি দেখেন যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় পতিত হয়ে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলেঃ ‘‘বের কর তোমাদের প্রাণ!’’ আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর আযাব প্রদান করা হবে’’ (আল-আন‘আম (৬) : ৯৩)। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, الهون অর্থ الهون অর্থাৎ অবমাননা। (আর সূরা আল-ফুরকানের ৬৩ আয়াতে) الهون অর্থ الرفق অর্থাৎ নম্রতা। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ (যার অর্থ) ‘‘অচিরেই আমি তাদেরকে দু’বার (বারবার) শাস্তি দিব। পরে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে মহাশাস্তির দিকে’’ (আত্-তাওবা (৯) : ১০১)। এবং তাঁর বাণীঃ (যার অর্থ) ‘‘আর নিকৃষ্ট (কঠিন) শাস্তি ফির‘আউন জাতিকে ঘিরে ফেলল, সকাল সন্ধ্যায় তাদেরকে উপস্থিত করা হয় জাহান্নামের সামনে, আর যে দিন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে) ফির‘আউন গোষ্ঠীকে প্রবিষ্ট কর কঠিন শাস্তিতে।’’ (গাফিরঃ ৪৫-৪৬) ১৩৬৯. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’মিন ব্যক্তিকে যখন তার কবরে বসানো হয় তখন উপস্থিত করা হয় ফেরেশতাগণকে। অতঃপর (ফেরেশ্তাগণের প্রশ্নের উত্তরে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, ‘‘আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্‌র রাসূল।’’ এটা আল্লাহ্‌র কালামঃ (যার অর্থ) ‘‘আল্লাহ্ পার্থিব জীবনে ও আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে যারা ঈমান এনেছে, প্রতিষ্ঠিত বাণীতে’’- (ইব্রাহীম ২৭)। (৪৬৯৯, মুসলিম ৫১/১৭, হাঃ ২৮৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮৫) শু‘বাহ্ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন যে, (আল্লাহ্ অবিচল রাখবেন যারা ঈমান এনেছে (يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا) (ابراهيم: ২)এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 121 · #1364
  133. 133

    ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বদরে নিহত) গর্তবাসীদের দিকে ঝুঁকে দেখে বললেনঃ ‘‘তোমাদের সাথে তোমাদের রব যে ওয়াদা করেছিলেন, তা তোমরা বাস্তবে পেয়েছো তো?’’- (আল-আ‘রাফ (৭) : ৪৪)। তখন তাঁকে বলা হল, আপনি মৃতদের ডেকে কথা বলছেন? (ওরা কি শুনতে পায়?) তিনি বললেনঃ ‘‘তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনতে পাও না, তবে তারা জবাব দিতে পারছে না’’। [1] (৩৯৮০, ৪০২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 122 · #1365
  134. 134

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তারা এখন ভালভাবে জানতে (ও বুঝতে) পেরেছে যে, (কবর আযাব প্রসঙ্গে) আমি তাদের যা বলতাম তা বাস্তব। আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেনঃ ‘‘আপনি (হে নবী!) নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না’’- (আন্-নামালঃ ৮০)। (৩৯৭৯, ৩৯৮১, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 123 · #1366
  135. 135

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে এসে কবর আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁকে (দু‘আ করে) বলল, আল্লাহ্ আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন! পরে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) কবর আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ হাঁ, কবর আযাব (সত্য)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন কোন সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। [এ হাদীসের বর্ণনায়] গুণদার (রহ.) অধিক উল্লেখ করেছেন যে, ‘কবর ‘আযাব একেবারে বাস্তব’। (১০৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 124 · #1367
  136. 136

    ‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আসমা বিনত আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি কবরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলে মুসলিমগণ ভয়ার্ত চিৎকার করতে লাগলেন। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 125 · #1368
  137. 137

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে, সে তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। [1] এ সময় দু’জন ফেরেশ্তা তার নিকট এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন মু’মিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্‌র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থান স্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ্ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থান স্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে দেখবে। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (কাতাদাহ) পুনরায় আনাস (রাঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [(আনাস) (রাঃ)] বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানি না। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বললাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানুষ ও জ্বিন) ছাড়া তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে। (১৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 126 · #1369
  138. 138

    আবূ আইয়ুব [আনসারী (রা.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সূর্য ডুবে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বলেনঃ ইয়াহূদীদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে। (এটা আযাব দেয়ার বা আযাবের ফেরেশ্তাগণের বা ইয়াহূদীদের আওয়ায।) [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] নযর (রহ.).....আবূ আইয়ুব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (অনুরূপ) বলেছেন। (মুসলিম ৫১/১৭, হাঃ ২৮৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 127 · #1370
  139. 139

    খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনু ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছেন। (৬৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 128 · #1371
  140. 140

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করতেন, হে আল্লাহ্! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি কবরের শাস্তি হতে, জাহান্নামের শাস্তি হতে, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে এবং মাসীহ্ দাজ্জাল এর ফিতনা হতে। (মুসলিম ৫/২৫, হাঃ ৫৮৮, আহমাদ ৯৪৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 129 · #1372
  141. 141

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন ঐ দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে আর কোন কঠিন কাজের কারণে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ (আযাব দেয়া হচ্ছে) তবে তাদের একজন পরনিন্দা করে বেড়াত, অন্যজন তার পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’খন্ডে ভেঙ্গে ফেললেন। অতঃপর সে দু’ খন্ডের প্রতিটি এক এক কবরে পুঁতে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ আশা করা যায় যে এ দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ‘আযাব হালকা করা হবে। (২১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 130 · #1373
  142. 142

    ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মারা গেলে অবশ্যই তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার অবস্থান স্থল উপস্থাপন করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তবে (অবস্থান স্থল) জান্নাতীদের মধ্যে দেখানো হয়। আর সে জাহান্নামী হলে, তাকে জাহান্নামীদের (অবস্থান স্থল দেখানো হয়) আর তাকে বলা হয়, এ হচ্ছে তোমার অবস্থান স্থল, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে আল্লাহ্ তোমাকে পুনরুত্থিত করা অবধি। (৩২৪০, ৬৫১৫, মুসলিম ৫১/১৭, হাঃ ২৬৮৮, আহমাদ ৫১১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 131 · #1374
  143. 143

    আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়ায় রেখে লোকেরা যখন কাঁধে বহন করে নিয়ে যায় তখন সে নেক্কার হলে বলতে থাকে, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল; আর সে নেক্কার না হলে বলতে থাকে হায় আফসোস! এটাকে নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ ব্যতীত সব কিছুই তার এ আওয়াজ শুনতে পায়। মানুষেরা তা শুনতে পেলে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। (১৩১৪, আহমাদ ১১৩৭২, ১১৫৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 132 · #1375
  144. 144

    قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ t عَنْ النَّبِيِّ مَنْ مَاتَ لَهُ ثَلاَثَةٌ مِنْ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ كَانَ لَهُ حِجَابًا مِنْ النَّارِ أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তির এমন তিনটি সন্তান মারা যায় যারা বালিগ হয়নি, তারা (মাতা-পিতার জন্য) জাহান্নাম হতে আবরণ হয়ে যাবে। অথবা (তিনি বলেছেন) সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। ১৩৮১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা বালিগ হয়নি, আল্লাহ্ তাদের প্রতি তাঁর রহমতের ফযলে সে ব্যক্তিকে (মা-বাপকে) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (১২৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 133 · #1376
  145. 145

    বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (নবী তনয়) ইব্রাহীম (রাঃ)-এর মৃত্যু হলে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাঁর জন্য তো জান্নাতে একজন দুধ-মা রয়েছেন। (২৩৫৫, ৬১৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 134 · #1377
  146. 146

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুশরিকদের শিশু সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তাদের সৃষ্টি লগ্নেই তাদের ভবিষ্যৎ ‘আমল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। (৬৫৯৭, মুসলিম ৪৬/৬, হাঃ ২৬৬০, আহমাদ ১৮৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 135 · #1378
  147. 147

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুশরিকদের নাবালক সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বলেনঃ আল্লাহ্ তাদের ভবিষ্যৎ ‘আমল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। (৬৫৯৮, ৬৬০০, মুসলিম ৪৬/৭, হাঃ ২৬৫৯, আহমাদ ১০০৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 136 · #1379
  148. 148

    আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ প্রত্যেক নবজাতক ফিত্রাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহূদী বা নাসারা অথবা অগ্নি উপাসক করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ? (১৩৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 137 · #1380
  149. 149

    সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজর) সালাত শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ গত রাতে কোন স্বপ্ন দেখেছ কি? (বর্ণনাকারী) বলেন, কেউ স্বপ্ন, দেখে থাকলে তিনি তা বিবৃত করতেন। তিনি তখন আল্লাহ্‌র মর্যী মুতাবিক তাবীর বলতেন। একদা আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমাদের কেউ কি কোন স্বপ্ন দেখেছ? আমরা বললাম, জী না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গত রাতে আমি দেখলাম, দু’জন লোক এসে আমার দু’হাত ধরে আমাকে পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে চললো। হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি বসে আছে আর এক ব্যক্তি লোহার আঁকড়া হাতে দাঁড়িয়ে। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] আমাদের এক সাথী মু‘সা (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, দাঁড়ানো ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তির (এক পাশের) চোয়ালটা এমনভাবে আঁকড়া বিদ্ধ করছিল যে, তা (চোয়াল বিদীর্ণ করে) মস্তকের পিছনের দিক পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল। অতঃপর অপর চোয়ালটিও আগের মত বিদীর্ণ করল। ততক্ষণে প্রথম চোয়ালটা জোড়া লেগে যাচ্ছিল। আঁকড়াধারী ব্যক্তি পুনরায় সেরূপ করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী হচ্ছে? সাথীদ্বয় বললেন, (পরে বলা হবে এখন) চলুন। আমরা চলতে চলতে চিৎ হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির পাশে এসে উপস্থিত হলাম, তার মাথার নিকট পাথর হাতে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ করে দিচ্ছিল। নিক্ষিপ্ত পাথর দূরে গড়িয়ে যাওয়ার ফলে তা তুলে নিয়ে শায়িত ব্যক্তির নিকট ফিরে আসার পূর্বেই বিচূর্ণ মাথা আগের মত জোড়া লেগে যাচ্ছিল। সে পুনরায় মাথার উপরে পাথর নিক্ষেপ করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকটি কে? তাঁরা বললেন, চলুন। আমরা অগ্রসর হয়ে তন্দুরের ন্যায় এক গর্তের নিকট উপস্থিত হলাম। গর্তের উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ ও নীচের অংশ প্রশস্ত এবং এর তলদেশ হতে আগুন জ্বলছিল। আগুন গর্তের মুখের নিকটবর্তী হলে সেখানের লোকগুলোও উপরে চলে আসে যেন তারা গর্ত হতে বের হয়ে যাবে। আগুন ক্ষীণ হয়ে গেলে তারাও (তলদেশে) ফিরে যায়। গর্তের মধ্যে বহুসংখ্যক উলঙ্গ নারী-পুরুষ ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তাঁরা বললেন, চলুন। আমরা চলতে চলতে একটি রক্ত প্রবাহিত নদীর কাছে হাযির হলাম। নদীর মাঝখানে এক ব্যক্তি দাঁড়ানো ছিল। নদীর তীরে অপর এক ব্যক্তি যার সামনে ছিল পাথর। নদীর মাঝখানের লোকটি নদী হতে বের হয়ে আসার জন্য অগ্রসর হলেই তীরে দাঁড়ানো লোকটি সে ব্যক্তির মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করছিল, এতে সে পূর্বস্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। এমনভাবে যতবার সে তীরে উঠে আসতে চেষ্টা করে ততবার সে ব্যক্তি তার মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করে পূর্বস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য করে। আমি জানতে চাইলাম, এ ঘটনার কারণ কী? তাঁরা বললেন, চলতে থাকুন। আমরা চলতে চলতে একটি সবুজ বাগানে উপস্থিত হলাম। এতে একটি বড় গাছ ছিল। গাছটির গোড়ায় এক বৃদ্ধ ও বেশ কিছু বালক-বালিকা ছিল। হঠাৎ দেখি যে, গাছটির সন্নিকটে জনৈক ব্যক্তি আগুন জ্বালাচ্ছে। সাথীদ্বয় আমাকে নিয়ে গাছে আরোহণ করে এমন একটি বাড়িতে প্রবেশ করলেন যার চেয়ে সুদৃশ্য বাড়ি ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। বাড়িতে বহু সংখ্যক বৃদ্ধ, যুবক, নারী এবং বালক-বালিকা ছিল। অতঃপর তাঁরা আমাকে সেখান হতে বের করে নিয়ে গাছে আরো উপরে আরোহণ করে অপর একটি বাড়িতে প্রবেশ করালেন। এটা পূর্বাপেক্ষা অধিক সুদৃশ্য ও মনোরম। বাড়িটিতে ছিল কতিপয় বৃদ্ধ ও যুবক। আমি বললাম, আজ রাতে আপনারা আমাকে (বহুদূর পর্যন্ত) ভ্রমণ করালেন। এবার বলুন, যা দেখলাম তার তাৎপর্য কী? তাঁরা বললেন, না, আপনি যে ব্যক্তির চোয়াল বিদীর্ণ করার দৃশ্য দেখলেন সে মিথ্যাবাদী; মিথ্যা কথা বলে বেড়াতো, তার বিবৃত মিথ্যা বর্ণনা ক্রমাগত বর্ণিত হয়ে দূর দূরান্তে পৌঁছে যেতো। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত তার সঙ্গে এ ব্যবহার করা হবে। আপনি যার মাথা চূর্ণ করতে দেখলেন, সে এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ কুরআনের শিক্ষা দান করেছিলেন, কিন্তু রাতের বেলায় সে কুরআন হতে বিরত হয়ে নিদ্রা যেতো এবং দিনের বেলায় কুরআন অনুযায়ী ‘আমল করতো না। তার সাথে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত এরূপই করা হবে। গর্তের মধ্যে যাদেরকে আপনি দেখলেন, তারা ব্যভিচারী। (রক্ত প্রবাহিত) নদীতে আপনি যাকে দেখলেন, সে সুদখোর। গাছের গোড়ায় যে বৃদ্ধ ছিলেন তিনি ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁর চারপাশের বালক-বালিকারা মানুষের সন্তান। যিনি আগুন জ্বালাচ্ছিলেন তিনি হলেন, জাহান্নামের খাযিন-মালিক নামক ফেরেশ্তা। প্রথম যে বাড়িতে আপনি প্রবেশ করলেন তা সাধারণ মু’মিনদের বাসস্থান। আর এ বাড়িটি হলো শহীদগণের আবাস। আমি (হলাম) জিব্রাঈল আর ইনি হলেন মীকাঈল। (এরপর জিব্রাঈল আমাকে বললেন) আপনার মাথা উপরে উঠান। আমি উঠিয়ে মেঘমালার মত কিছু দেখলাম। তাঁরা বললেন, এটাই হলো আপনার আবাসস্থল। আমি বললাম, আমাকে ছেড়ে দিন আমি আমার আবাসস্থলে প্রবেশ করি। তাঁরা বললেন, এখনো আপনার আয়ু কিছু সময়ের জন্য রয়ে গেছে, যা এখনো পূর্ণ হয়নি। অবশিষ্ট সময় পূর্ণ হলে অবশ্যই আপনি স্বীয় আবাসে চলে আসবেন। (৮৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 138 · #1381
  150. 150

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কয় খন্ড কাপড়ে তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কাফন দিয়েছিলে? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, তিন খন্ড সাদা সাহুলী (স্থানের নাম) কাপড়ে, যার মধ্যে জামা ও পাগড়ী ছিল না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, সোমবার। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আজ কী বার? তিনি (আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আজ সোমবার। তিনি (আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি আশা করি এখন হতে আগত রাতের মধ্যে (আমার মৃত্যু হবে)। অতঃপর অসুস্থকালীন নিজের পরিধেয় কাপড়ের প্রতি লক্ষ্য করে তাতে জাফরানী রং এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, আমার এ কাপড়টি ধুয়ে তার সাথে আরো দু’খন্ড কাপড় বৃদ্ধি করে আমার কাফন দিবে। আমি (‘আয়িশাহ) বললাম, এটা (পরিধেয় কাপড়টি) পুরাতন। তিনি বললেন, মৃত ব্যক্তি অপেক্ষা জীবিতদের নতুন কাপড়ের প্রয়োজন অধিক। আর কাফন হলো বিগলিত শবদেহের জন্য। তিনি মঙ্গলবার রাতের সন্ধ্যায় ইন্তিকাল করেন, ভোর হবার পূর্বেই তাঁকে দাফন করা হয়েছিল। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 139 · #1382
  151. 151

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সদাকাহ করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সদাকাহ করলে তিনি এর প্রতিফল পাবেন কি? তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, হ্যাঁ। (২৭৬০, মুসলিম ১২/১৫, হাঃ ১০০৪, আহমাদ ২৪৩০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 140 · #1383
  152. 152

    قَوْلُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ (فَأَقْبَرَهُ) أَقْبَرْتُ الرَّجُلَ أُقْبِرُهُ إِذَا جَعَلْتَ لَهُ قَبْرًا وَقَبَرْتُهُ دَفَنْتُهُ (كِفَاتًا) يَكُونُونَ فِيهَا أَحْيَاءً وَيُدْفَنُونَ فِيهَا أَمْوَاتًا (আল্লাহ্‌র বাণী)(فَأَقْبَرَهُ) ‘‘তাকে কবরস্থ করলেন’’- (আবাসাঃ ২১)। أَقْبَرْتُ الرَّجُلَ অর্থাৎ যখন তুমি কারোর জন্য কবর তৈরি করবে। قَبَرْتُهُ অর্থাৎ دَفَنْتُهُ কবরস্থ করা (كِفَاتًا) ^ অর্থাৎ জীবিতাবস্থায় ভূপৃষ্ঠে কবরে ও মৃত্যুর পর এর মধ্যে সমাহিত হবে। ১৩৮৯. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগশয্যায় (স্ত্রীগণের নিকট অবস্থানের) পালার সময় কাল জানতে চাইতেন। আমার অবস্থান আজ কোথায় হবে? আগামীকাল কোথায় হবে? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর পালা বিলম্বিত হচ্ছে বলে ধারণা করেই এ প্রশ্ন করতেন। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন] যে দিন আমার পালা আসলো, সেদিন আল্লাহ্ তাঁকে আমার কণ্ঠদেশ ও বক্ষের মাঝে (হেলান দেয়া অবস্থায়) রূহ্ কবয করলেন [1] এবং আমার ঘরে তাঁকে দাফন করা হয়। (৮৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 141 · #1384
  153. 153

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগশয্যায় বলেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। কারণ, তারা তাদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে। (রাবী ‘উরওয়াহ বলেন) এরূপ আশঙ্কা না থাকলে রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কবরকে (ঘরের বেষ্টনীতে সংরক্ষিত না রেখে) খোলা রাখা হতো। কিন্তু তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আশংকা করেন বা আশঙ্কা করা হয় যে, পরবর্তীতে একে মসজিদে পরিণত করা হবে। রাবী হিলাল (রহ.) বলেন, ‘উরওয়া আমাকে (আবূ আমর) কুনিয়াতে ভূষিত করেন আর তখন পর্যন্ত আমি কোন সন্তানের পিতা হইনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩০৭) সুফইয়ান তাম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কবর উটের কুজের ন্যায় (উঁচু) দেখেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩০৮) ‘উরওয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইবনু আবদুল মালিক-এর শাসনামলে যখন (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাওযার) বেষ্টনী দেয়াল ধসে পড়ে, তখন তাঁরা সংস্কার করতে আরম্ভ করলে একটি পা প্রকাশ পায়, তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কদম মুবারক বলে ধারণা করার কারণে লোকেরা খুব ঘাবড়ে যায়। সনাক্ত করার মত কাউকে তারা পায়নি। অবশেষে ‘উরওয়াহ (রাঃ) তাদের বললেন, আল্লাহ্‌র কসম এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পা নয় বরং এতো ‘উমার (রাঃ)-এর পা। (৪৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 142 · #1385
  154. 154

    ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-কে অসিয়্যত করেছিলেন, আমাকে তাঁদের (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দু’ সাহাবী) পাশে দাফন করবে না। বরং আমাকে আমার সঙ্গিনীদের সাথে বাকী‘তে দাফন করবে যাতে আমি চিরকালের জন্য প্রশংসিত হতে না থাকি। (৭৩২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 145 · #1386
  155. 155

    ‘আমর ইবনু মায়মুন আওদী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে দেখলাম তিনি নিজের ছেলে ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, তুমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে বল, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আপনাকে সালাম বলেছেন। অতঃপর আমাকে আমার দু’জন সাথী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর)-এর পাশে দাফন করতে তিনি রাযী আছেন কি না? ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, আমি পূর্ব হতেই নিজের জন্য এর আশা পোষণ করতাম, কিন্তু আজ ‘উমার (রাঃ)-কে নিজের উপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) ফিরে এলে ‘উমার (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কি বার্তা নিয়ে এলে? তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! তিনি [আয়িশা (রাযি.)] আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, সেখানে শয্যা লাভই ছিল আমার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার মৃত্যুর পর আমাকে বহন করে [আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত করে] তাঁকে সালাম জানিয়ে বলবে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (পুনরায়) আপনার অনুমতি চাইছেন। তিনি অনুমতি দিলে, আমাকে সেখানে দাফন করবে। অন্যথায় আমাকে মুসলিমদের কবরস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।[1] অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বলেন, এ কয়েকজন ব্যক্তি যাঁদের উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন, তাঁদের অপেক্ষা অন্য কাউকে আমি এ খিলাফতের (দায়িত্ব পালনে) অধিক যোগ্য বলে মনে করি না। তাই আমার পর তাঁরা (তাঁদের মধ্য হতে) যাঁকে খালীফা মনোনীত করবেন তিনি খালীফা হবেন। তোমরা সকলেই তাঁর আদেশ মেনে চলবে, তাঁর আনুগত্য করবে। এ বলে তিনি ‘উসমান, ‘আলী, তালহা, যুবাইর, ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করলেন। এ সময়ে এক আনসারী যুবক ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহ্ প্রদত্ত সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি ইসলামের ছায়াতলে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন যা আপনিও জানেন। অতঃপর আপনাকে খলীফা নিযুক্ত করা হয় এবং আপনি ন্যায়বিচার করেছেন। সর্বোপরি আপনি শাহাদাত লাভ করছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা! যদি তা আমার জন্য লাভ লোকসানের না হয়ে বরাবর হয়, তবে কতই না ভাল হবে। (তিনি বললেন) আমার পরবর্তী খলীফাকে ওয়াসিয়্যাত করে যাচ্ছি, তিনি যেন প্রথম দিকের মুহাজিরদের ব্যাপারে যত্নবান হন, তাঁদের হক আদায় করে চলেন, যেন তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন। আমি তাঁকে আনসারদের সাথেও সদাচারের উপদেশ দেই, যারা ঈমান ও মাদ্বীনাকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন, যেন তাঁদের মধ্যকার সৎকর্মপরায়ণদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং তাঁদের মধ্যকার (লঘু) অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। সর্বশেষে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দায়িত্বভুক্ত (সর্বস্তরের মু’মিনদের সম্পর্কে) সতর্ক করে দিচ্ছি যেন মু’মিনদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা হয়, তাদের রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা হয় এবং সাধ্যের বাইরে কোন দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা না হয়। (৩০৫২, ৩১৬২, ৩৭০০, ৪৮৮৮, ৭২০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 146 · #1387
  156. 156

    ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃতদের গালি দিও না। কারণ, তারা স্বীয় কর্মফল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল কুদ্দুস ও মুহাম্মাদ ইবনু আনাস (রহ.) আ‘মাশ (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ‘আলী ইবনু জা‘দ, ইবনু আর‘আরা ও ইবনু আবূ ‘আদী (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় আদম (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৬৫১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 147 · #1388
  157. 157

    ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ লাহাব লানাতুল্লাহি ‘আলাইহি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে লক্ষ্য করে বললো, সারা দিনের জন্য তোমার অনিষ্ট হোক! (তার এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে) নাযিল হয়ঃ (যার অর্থ) ‘‘আবূ লাহাবের হাত দু’টো ধ্বংস হোক এবং সেও ধ্বংস হোক’’- (আল-মাসাদঃ ১)। (৩৫২৫, ৩৫২৬, ৪৭৭০, ৪৮০১, ৪৯৭১, ৪৯৭২, ৪৯৭৩, মুসলিম ১/৮৯, হাঃ ২০৮, আহমাদ ২৮০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

    Book 23 · Hadith 148 · #1389
সব বিষয় · Sahih al Bukhari