Divine Will (Al-Qadar)
- 1
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সত্যবাদী ও সত্যবাদী স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন রক্তপিন্ড, তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন গোশত পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ্ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য- এ চারটি বিষয় লিখার জন্য আদেশ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে যে কেউ অথবা বলেছেন, কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের ‘আমল করতে থাকে। এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার ওপর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের ‘আমল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি জান্নাতীদের ‘আমল করতে থাকে। এমন কি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দু’হাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের ‘আমল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেন যে, আদম তার বর্ণনায় কেবল ذِرَاعٌ (এক গজ) বলেছেন।[2] [৩২০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 1 · #6555 - 2
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ রেহেমে (মাতৃগর্ভে) একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, হে প্রতিপালক! এটি বীর্য। হে প্রতিপালক! এটি রক্তপিন্ড। হে প্রতিপালক! এটি গোশতপিন্ড। আল্লাহ্ যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন ফেরেশতা বলে, হে প্রতিপালক! এটি নর হবে, না নারী? এটি দুর্ভাগা হবে, না ভাগ্যবান? তার রিযক্ কী পরিমাণ হবে? তার জীবনকাল কী হবে? তখন (আল্লাহর নির্দেশমত) তার মায়ের পেটে থাকাকালে ঐ রকমই লিখে দেয়া হয়। [৩১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 2 · #6556 - 3
(وَأَضَلَّهُ اللهُ عَلٰى عِلْمٍ) وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ لِي النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا أَنْتَ لاَقٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَهَا سَابِقُونَ) سَبَقَتْ لَهُمْ السَّعَادَةُ আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে গুমরাহ করেছেন’’- (সূরাহ জাসিয়াহ ৪৫/২৩) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ যার সম্মুখীন তুমি হবে (তোমার যা ঘটবে) তা লেখার পর কলম শুকিয়ে গেছে। ইবনু ‘আব্বাস(রাঃ) বলেছেন,(لَهَا سَابِقُوْنَ) তাদের উপর নেকবখতি প্রাধান্য বিস্তার করেছে। ৬৫৯৬. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামীদের থেকে জান্নাতীদেরকে চেনা যাবে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে ‘আমলকারীরা ‘আমল করবে কেন? তিনি বললেনঃ প্রতিটি লোক ঐ ‘আমলই করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অথবা যা তার জন্য সহজ করা হয়েছে। [৭৫৫১; মুসলিম ৩৮/১, হাঃ ২৬৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 3 · #6557 - 4
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের নাবালিগ সন্তানাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তারা (বাঁচলে) কী ‘আমল করত এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন। [১৩৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 4 · #6558 - 5
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের নাবালিগ সন্তানাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ তারা যা করত এ ব্যাপারে আল্লাহ্ সবচেয়ে বেশি জানেন। [১৩৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 5 · #6559 - 6
তখন সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নাবালিগ অবস্থায় যে মারা যায় তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেনঃ তারা যা করত এ ব্যাপারে আল্লাহ্ সবচেয়ে বেশি জানেন। [১৩৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 0 · #6560 - 7
তখন সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নাবালিগ অবস্থায় যে মারা যায় তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেনঃ তারা যা করত এ ব্যাপারে আল্লাহ্ সবচেয়ে বেশি জানেন। [১৩৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 6 · #6561 - 8
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী নিজে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে যেন অন্য নারীর তালাক না চায়। কেননা, তার জন্য (তাকদীরে) যা নির্ধারিত আছে তাই সে পাবে। [২১৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 7 · #6562 - 9
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ, ‘উবাই ইব্ন কা‘ব ও মু‘আয ইবনু জাবালও ছিলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক কন্যার পাঠানো এক লোক খবর নিয়ে এলো যে, তাঁর পুত্র সন্তান মরণাপন্ন। তখন তিনি লোকটির মারফত কন্যাকে বলে পাঠালেন যে, আল্লাহর জন্যই- যা তিনি নিয়ে যান। আর আল্লাহর জন্যই- যা তিনি দান করেন। প্রত্যেকের জন্য একটি সময় নির্ধারিত রয়েছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের আশা করে। [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 8 · #6563 - 10
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় আনসারদের এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো বাঁদীদের সঙ্গে সংগত হই অথচ মালকে ভালবাসি। কাজেই ‘আযল’র ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এ কাজ কর? তোমাদের জন্য এটা করা আর না করা দুটোই সমান। কেননা, যে কোন জীবন যা পয়দা হওয়াকে আল্লাহ্ লিখে দিয়েছেন তা পয়দা হবেই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 9 · #6564 - 11
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের প্রতি এমন একটি ভাষণ প্রদান করলেন যাতে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে এমন কোন কথাই বাদ দেননি। এগুলো মনে রাখা যার সৌভাগ্য হয়েছে সে স্মরণ রেখেছে আর যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেছে। আমি ভুলে যাওয়া কোন কিছু যখন দেখতে পাই তখন তা চিনতে পারি এভাবে যেমন, কোন ব্যক্তি কাউকে হারিয়ে ফেললে আবার যখন তাকে দেখতে পায় তখন চিনতে পারে। [মুসলিম ৫২/৬, হাঃ ২৮৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 10 · #6565 - 12
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তাঁর সঙ্গে ছিল একটুকরা খড়ি। যা দিয়ে তিনি মাটির উপর দাগ টানছিলেন। তিনি তখন বললেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন লোক নেই যার ঠিকানা জাহান্নামে বা জান্নাতে লেখা হয়নি। লোকদের ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাহলে (এর উপর) নির্ভর করব না? তিনি বললেনঃ না, তোমরা ‘আমল কর। কেননা, প্রত্যেকের জন্য ‘আমল সহজ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى الْآيَةَ। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 11 · #6566 - 13
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বারের যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গীগণের মধ্য হতে ইসলামের দাবি করছিল এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে বললেন যে, এই লোকটি জাহান্নামী। যখন যুদ্ধ শুরু হল, লোকটি ভীষণভাবে যুদ্ধ করল। এতে সে অত্যন্ত ক্ষতবিক্ষত হলো। তবু সে অটল রইল। সাহাবীগণের মাঝ থেকে একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যে ব্যক্তি সম্পর্কে জাহান্নামী হবে ব’লে বলেছিলেন সে তো ভীষণভাবে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেছে এবং তাতে সে বিপুলভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, সে জাহান্নামী! এতে কতক মুসলিমের মনে সন্দেহের ভাব হল। আর লোকটি ঐ অবস্থায় ছিল। হঠাৎ করে সে ক্ষতের যন্ত্রণা অনুভব করতে লাগল আর অমনিই সে স্বীয় হাতটি তীর রাখার স্থানে বাড়িয়ে দিল এবং একটি তীর বের করে আপন বক্ষে বিঁধিয়ে দিল। তখন কয়েকজন মুসলিম রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দৌড়িয়ে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ আপনার কথাকে সত্য করে দেখালেন। অমুক ব্যক্তি তো আত্মহত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল! উঠ, এবং ঘোষণা কর যে, মু’মিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।। আর আল্লাহ্ পাপী বান্দাকে দিয়েও এ দ্বীনের সাহায্য করে থাকেন। [৩০৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 12 · #6567 - 14
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থেকে যে সমস্ত মুসলিম যুদ্ধ করেছেন তাঁদের মাঝে একজন ছিল ভীষণ বেগে আক্রমণকারী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন জাহান্নামীকে দেখতে পছন্দ করে সে যেন এই লোকটার দিকে তাকায়। লোকদের ভিতর থেকে এক লোক সেই লোকটির অনুসরণ করল। আর সে তখন ভীষণভাবে মুশরিকদের সঙ্গে মুকাবিলা করছিল। সে যখম হয়ে তাড়াতাড়ি মৃত্যু কামনা করল। সে তার তরবারীর ধারালো দিকটি নিজের বুকের উপর চেপে ধরল। এমন কি দু’কাঁধের মাঝ দিয়ে তরবারী বক্ষ ভেদ করল। (তখন) লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দৌড়ে এসে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি (সত্যিই) আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী হল? লোকটি বলল, আপনি অমুক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি কোন জাহান্নামী লোক দেখতে পছন্দ করে সে যেন এ লোকটাকে দেখে নেয়।’’ অথচ লোকটি অন্যান্য মুসলিমের চেয়ে তীব্র আক্রমণকারী ছিল। তাই আমার ধারণা ছিল এ লোকটির মৃত্যু এমন অবস্থায় হবে না। যখন সে আঘাত পেল, তাড়াতাড়ি মৃত্যু কামনা করল এবং আত্মহত্যা করে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনে বললেনঃ নিশ্চয় কোন বান্দা জাহান্নামীদের ‘আমল করেন, কিন্তু আসলে সে জান্নাতী। আর কোন বান্দা জান্নাতের অধিবাসীর ‘আমল করেন কিন্তু আসলে সে জাহান্নামী। নিশ্চয়ই ‘আমলের ভাল-মন্দ নির্ভর করে তার শেষ অবস্থার উপর। [২৮৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 13 · #6568 - 15
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, মানত কোন জিনিসকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে না। এর দ্বারা শুধু কৃপণের কিছু মাল বের হয়ে যায়। [৬৬৯২, ৬৬৯৩; মুসলিম ২৬/২, হাঃ ১৬৩৯, আহমাদ ৫২৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 14 · #6569 - 16
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মানত আদম সন্তানকে এমন কিছু এনে দিতে পারে না যা তাক্দীরে নির্ধারিত নেই অথচ সে যে মানতটি করে তাও আমি তাক্দীরে নির্ধারিত করে দিয়েছি যাতে এর মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে (মাল) বের করে নেই। [৬৬৯৪; মুসলিম ২৬/২, হাঃ ১৬৪০, আহমাদ ৯৩৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 15 · #6570 - 17
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখনই কোন উঁচুস্থানে আরোহণ করতাম, কোন উঁচুতে থাকতাম এবং কোন উপত্যকা অতিক্রম করতাম তখনই উচ্চস্বরে তাকবীর বলতাম। রাবী বলেন অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটবর্তী হলেন এবং বললেনঃ ওহে লোকেরা! তোমরা নিজেদের উপর রহম কর। তোমরা কোন বধির বা কোন অনুপস্থিত সত্ত্বাকে ডাকছ না বরং তোমরা ডাকছ শ্রবণকারী ও দর্শনকারী সত্ত্বাকে। এরপর তিনি বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু কায়স! তোমাকে আমি কি এমন একটি কথা শিখিয়ে দিব না, যা হল জান্নাতের ভান্ডারসমূহের অন্যতম? তা হল- لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ। ]২৯৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 16 · #6571 - 18
عَاصِمٌ مَانِعٌ، قَالَ مُجَاهِدٌ سُدًا عَنِ الْحَقِّ. (يَتَرَدَّدُونَ) فِي الضَّلاَلَةِ (دَسَّاهَا) أَغْوَاهَا. (عَاصِمٌ) অর্থ প্রতিরোধকারী- (সূরাহ হূদ ১১/৪৩)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, سَدًّا عَنْ الْحَقِّ পথভ্রষ্টতায় মত্ত হওয়া, (دَسَّاهَا) তাকে পথভ্রষ্ট করেছে- (সূরাহ আশ্ শামস্ ৯১/১০)। ৬৬১১. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে কোন লোককেই খলীফা বানানো হয় তার জন্য দু’টি পরামর্শদাতা থাকে। একটা তাকে সৎকর্মের পরামর্শ দেয় এবং এর প্রতি তাকে উৎসাহিত করে। অন্যটা তাকে মন্দ কাজের পরামর্শ দেয় এবং এর প্রতি তাকে উৎসাহিত করে। নিষ্পাপ হল সেই আল্লাহ্ যাকে রক্ষা করেন। [৭১৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫০ ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 17 · #6572 - 19
وَقَالَ مَنْصُورُ بْنُ النُّعْمَانِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحِرْمٌ بِالْحَبَشِيَّةِ وَجَبَ মানসুর ইবনু নু’মান ..... ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাব্শী ভাষায় حِرْمٌ অর্থ জরুরী হওয়া। ৬৬১২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ছোট গুনাহর ব্যাপারে যা বলেছেন তার থেকে যথার্থ উপমা আমি দেখি না। [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন] আল্লাহ্ আদম সন্তানের উপর যিনার কোন না কোন হিস্সা লিখে দিয়েছেন; তা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চোখের যিনা হল (যা হারাম সেদিকে) তাকানো এবং জিহ্বার যিনা হল মুখে বলা। মন কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে, লজ্জাস্থান তাকে সত্য করে অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে।[1] শাবাবা (রহ.) ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকম বর্ণনা করেছেন। [৬২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 18 · #6573 - 20
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। (وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي.....) الاية (আয়াত সম্পর্কে) তিনি বলেনঃ তা হচ্ছে চোখের দেখা। যে রাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বায়তুল মাকদাস পর্যন্ত ভ্রমণ করানো হয়েছিল, সে রাতে তাঁকে যা দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, কুরআনের বর্ণিত وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ দ্বারা যাক্কূম গাছকে বোঝানো হয়েছে। [৩৮৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 19 · #6574 - 21
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদম ও মূসা (আঃ) (পরস্পরে) বাদানুবাদ করেন। মূসা (আঃ) বলেন, হে আদম, আপনি আমাদের পিতা। আপনি আমাদেরকে বঞ্চিত করেছেন এবং জান্নাত থেকে আমাদেরকে বের করেছেন। আদম (আঃ) তাকে বললেন, হে মূসা! আল্লাহ্ আপনাকে তো নিজ কথার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং আপনার জন্য নিজ হাত দ্বারা লিখেছেন। অতএব আপনি কি আমাকে এমন একটি কাজের ব্যাপারে তিরস্কার করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বেই আল্লাহ্ নির্ধারিত করে রেখেছেন। তখন আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিতর্কে জয়ী হলেন। এ কথাটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন। সুফ্ইয়ানও....আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। [৩৪০৯; মুসলিম ৪৬/২, হাঃ ২৬৫২, আহমাদ ৭৩৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 20 · #6575 - 22
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ওয়ার্রাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মু‘আবিয়াহ (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-এর নিকট লিখলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের পর যা পাঠ করতেন এ সম্পর্কে তুমি যা শুনেছ আমার কাছে লিখে পাঠাও। তখন মুগীরাহ (রাঃ) আমাকে তা লিখে দেয়ার দায়িত্ব দিলেন। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের পরে বলতে শুনেছি لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَه অর্থাৎ আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই। হে আল্লাহ্! তুমি যা দাও তা রোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা রোধ কর তা দানকারী কেউ নেই। তুমি ব্যতীত ধনীর ধন কোন ফল দিতে পারবে না। ইবনু জুরায়জ আবদা থেকে বর্ণনা করেন যে, ওয়ার্রাদ তাকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। এরপর আমি মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর কাছে গিয়েছি। মানুষকে এ কথার নির্দেশ দিতে আমি তাকে শুনেছি। [৮৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 21 · #6576 - 23
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা ভয়ানক বিপদ, দুর্ভাগ্যের অতল তল, মন্দ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। [৬৩৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 22 · #6577 - 24
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় এ ব’লে কসম খেতেনঃ কসম অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর। [৬৬২৮, ৭৩৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 23 · #6578 - 25
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাইয়্যাদকে বললেনঃ আমি (একটি কথা) তোমার জন্য গোপন রেখেছি। সে বললো, তা হচ্ছে (কল্পনার) ধোঁয়া মাত্র। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দূর হও, তুমি তো তোমার তাক্দীরকে কক্ষনো অতিক্রম করতে পারবে না। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ ছাড় একে, এ যদি সেই হয় তবে তুমি (তাকে হত্যা করতে) সক্ষম হবে না। আর যদি সে (দাজ্জাল) না হয় তবে তাকে হত্যা করায় তোমার কোন কল্যাণ নেই। [১৩৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 24 · #6579 - 26
قَضَى قَالَ مُجَاهِدٌ (بِفَاتِنِينَ) بِمُضِلِّينَ إِلاَّ مَنْ كَتَبَ اللهُ أَنَّهُ يَصْلَى الْجَحِيمَ (قَدَّرَ فَهَدَى) قَدَّرَ الشَّقَاءَ وَالسَّعَادَةَ وَهَدَى الأَنْعَامَ لِمَرَاتِعِهَا كَتَبَ নির্দিষ্ট করেছেন- (সূরাহ আস্ সাফফাত ৩৭/১৬২)। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন (بِفَاتِنِينَ) যারা পথভ্রষ্ট হয়, হ্যাঁ যার ব্যাপারে আল্লাহ্ লিখে দিয়েছেন যে, সে জাহান্নামে যাবে- (সূরাহ আ’লা ৮৭/৩)। (قَدَّرَ فَهَدَى) দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য নির্দিষ্ট করেছেন। জীব-জন্তুকে চারণভূমিতে পৌঁছে দেয়া। ৬৬১৯ ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা ‘আযাব। আল্লাহ্ যার উপর ইচ্ছে তা পাঠান। আল্লাহ্ এটা মুসলিমের জন্য রহমত করে দিয়েছেন। প্লেগে আক্রান্ত শহরে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধরে বিশ্বাসের সাথে অবস্থান করে, সেখান থেকে বের না হয়, আল্লাহ্ তার জন্য যা লিখেছেন তা ছাড়া কিছুই তাকে স্পর্শ করবে না, সে অবস্থায় সে শহীদের সাওয়াব পাবে।[1] [৩৪৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 25 · #6580 - 27
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খন্দকের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, তিনি আমাদের সাথে মাটি বহন করেছেন এবং বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তিনি যদি আমাদেরকে পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না। সওমও পালন করতাম না, আর সালাতও আদায় করতাম না। কাজেই আমাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন। আর যদি আমরা শত্রুর মুকাবিলা করি তবে আমাদেরকে সুদৃঢ় রাখুন। আর মুশরিকরা আমাদের উপর বিদ্রোহী হয়েছে। তারাই আমাদেরকে ফিতনায় (যুদ্ধে) ফেলতে চেয়েছে, যা আমরা চাইনি। [২৮৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 82 · Hadith 26 · #6581