Oneness, Uniqueness of Allah (Tawheed)
- 1
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘য়ায (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন।
Book 97 · Hadith 1 · #7331 - 2
ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর মুক্ত গোলাম আবূ মা‘বাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামান পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি আহলে কিতাবদের একটি কাওমের কাছে যাচ্ছ। অতএব, তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহবান হবে- তারা যেন আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নেয়। তারা তা জেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ্ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাঁচ বার সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। যখন তারা সালাত আদায় করবে, তখন তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের ধন-সম্পদে আল্লাহ্ তাদের প্রতি যাকাত ফরজ করেছেন। তা তাদেরই ধনশালীদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আবার তাদের ফকীরদেরকে তা দেয়া হবে। যখন তারা স্বীকার করে নেবে, তখন তাদের থেকে গ্রহণ কর। তবে লোকজনের ধন-সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাক। [১৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 2 · #7332 - 3
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মু‘আয! তোমার কি জানা আছে, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? তিনি বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বান্দা আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। (আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন) আল্লাহর উপর বান্দার হক কী তা কি তুমি জান? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ তা হল বান্দাদেরকে শাস্তি না দেয়া। [২৮৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 3 · #7333 - 4
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক লোক অন্য এক লোককে বারবার ‘ইখলাস’ সূরা তিলাওয়াত করতে শুনল। সকাল বেলা লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট এ বিষয়টি উল্লেখ করল; লোকটি যেন সূরা ইখ্লাসের গুরুত্বকে কম করছিল। এই প্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি! এ সূরাটি অবশ্যই কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ। ইসমাঈল ইবনু জা‘ফর ক্বাতাদাহ ইবনু আল-নুমান (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (কিছুটা) বৃদ্ধি সহ বর্ণনা করেছেন। [৫০১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 4 · #7334 - 5
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠালেন। সালাতে তিনি যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে ইমামত করতেন, তখন ইখ্লাস সূরাটি দিয়ে সালাত শেষ করতেন। তারা যখন অভিযান থেকে ফিরে আসল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে ব্যাপারটি আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকেই জিজ্ঞেস করে কেন সে এ কাজটি করেছে? এরপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সূরাটির আল্লাহ্ তা‘আলার গুণাবলী রয়েছে। এ জন্য সূরাটিতে পড়তে আমি ভালোবাসি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ তাঁকে ভালবাসেন। [মুসলিম ৬/৪৫, হাঃ ৮১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 5 · #7335 - 6
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তার প্রতি রহম করেন না, যে মানুষের প্রতি রহম করে না। [৬০১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 6 · #7336 - 7
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাঁকে জানাল যে, তাঁর মেয়ের পুত্রের মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদবাহককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট। কাজেই তাকে গিয়ে ধৈর্য ধরতে এবং প্রতিফল পাওয়ার আশা করতে বল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে আবার সংবাদ বাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তাঁর কাছে যাবার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ), মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-ও দাঁড়ালেন। এরপর শিশুটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দেয়া হল। তখন শিশুটির শ্বাস এভাবে দুর্বল হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশ্কে আছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ ভিজে গেল। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (এটা কী?) তিনি বললেনঃ এটিই রহম- দয়ামায়া, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর রহম-দিল বান্দাহদের উপরই দয়া করে থাকেন। [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 7 · #7337 - 8
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কেউই নেই যে দুখঃ কষ্টদায়ক কিছু শোনার পর, সে ব্যাপারে আল্লাহর চেয়ে বেশি সবর করতে পারে। লোকেরা আল্লাহর সন্তান আছে বলে দাবী করে, কিন্তু এর পরেও তিনি তাদেরকে শান্তিতে রাখেন এবং রিয্ক দেন। [৬০৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 8 · #7338 - 9
قَالَ يَحْيَى الظَّاهِرُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا وَالْبَاطِنُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [(বুখারী (রহ.)] বলেন, ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ্ জ্ঞানের আলোকে সমস্ত সৃষ্টির উপর প্রকাশমান, আবার তিনি জ্ঞানের আলোকেই অপ্রকাশিত। ৭৩৭৯. ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গায়িবের চাবি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। (১) মায়ের পেটে কী লুকিয়ে আছে তা জানেন একমাত্র আল্লাহ্। (২) আগামীকাল কী ঘটবে তাও জানেন একমাত্র আল্লাহ্। (৩) বৃষ্টিপাত কখন হবে তাও আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। (৪) কে কোন্ ভূমিতে মারা যাবে তা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। (৫) ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কখন ঘটবে আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 9 · #7339 - 10
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলছেন, চক্ষু তাঁকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানেন, সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেন, গায়িব জানেন একমাত্র আল্লাহ্। [৩২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 10 · #7340 - 11
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে সালাত আদায় করতাম তখন আমরা বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তো নিজেই সালাম। হাঁ, তোমরা বল, ....... التَّحِيَّاتُ للهِ অর্থাৎ মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক সকল ‘ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। [৮৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 11 · #7341 - 12
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন পৃথিবী আপন মুঠোয় ধারণ করবেন এবং আসমানকে তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেনঃ আমিই একমাত্র অধিপতি। দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়? শু‘আয়ব, যুবায়দী, ইবনু মুসাফির, ইসহাক ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহ.), ইমাম যুহরী (রহ.) আবূ সালামাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। [৪৮১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 12 · #7342 - 13
وَمَنْ حَلَفَ بِعِزَّةِ اللهِ وَصِفَاتِهِ وَقَالَ أَنَسٌ قَالَ النَّبِيُّ تَقُولُ جَهَنَّمُ قَطْ قَطْ وَعِزَّتِكَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ يَبْقَى رَجُلٌ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ آخِرُ أَهْلِ النَّارِ دُخُولاً الْجَنَّةَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي عَنْ النَّارِ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهَا قَالَ أَبُو سَعِيدٍ إِنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ وَقَالَ أَيُّوبُ وَعِزَّتِكَ لاَ غِنَى بِي عَنْ بَرَكَتِكَ কেউ যদি আল্লাহর ইযযত ও সিফাতের শপথ করে (তার হুকুম কী)? আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম বলবে, হে আল্লাহ্! তোমার সম্মানের কসম, যথেষ্ট হয়েছে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী লোকটি অবস্থান করবে জাহান্নাম ও জান্নাতের মাঝখানে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমার চেহারাখানি জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে (জান্নাতের দিকে) দিন। আপনার সম্মানের কসম। আপনার কাছে এ ব্যতীত আমি আর কিছুই চাইব না। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন আল্লাহ্ বলবেন, তোমাকে তা দেয়া হল এবং তার সাথে আরো দশগুণ বেশি দেয়া হল। আইয়ূব নবী (আঃ) দু‘আ করেছেনঃ হে আল্লাহ্! আপনার সম্মানের কসম! আমি আপনার বরকত থেকে নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করি না ৭৩৮৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কথা বলে দু‘আ করতেনঃ আমি আপনার ইয্যতের আশ্রয় চাচ্ছি, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। আর আপনার কোন মৃত্যু নেই। অথচ জ্বিন ও মানুষ সবই মরণশীল। [মুসলিম ৪৮/১৮, হাঃ ২৭১৭, আহমাদ ২৭৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 13 · #7343 - 14
আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। খালীফা ও মুতামির (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে। তখন জাহান্নাম বলতে থাকবে আরো বেশি আছে কি? আর শেষে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন, তাঁর কদম জাহান্নামে রাখবেন। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিশে স্থির হতে থাকবে। আর বলবে আপনার ইয্যত ও করমের কসম! যথেষ্ট হয়েছে। জান্নাতের কিছু জায়গা শূন্য থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ সেই শূন্য জায়গার জন্য নতুন কিছু মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং জান্নাতের সেই খালি জায়গায় এদের বসতি করে দেবেন। [৪৮৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 14 · #7344 - 15
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিকালে এ দু‘আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান এবং যমীনের প্রতিপালক! আপনারই সব প্রশংসা। আপনি সব আসমান ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যকার সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। আপনারই সব প্রশংসা। আসমানসমূহ এবং যমীনের নূর আপনিই। আপনার বাণীই সত্য। আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য। সত্য আপনার মুলাকাত। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সত্য। হে আল্লাহ্! আপনারই প্রতি আমি নিবেদিত। আপনার প্রতিই আমি ঈমান এনেছি। একমাত্র আপনারই ওপর ভরসা করেছি। আপনার কাছে ফিরে এসেছি। আপনারই সাহায্যে দুশমনের মুকাবিলা করেছি। (হক ও বাতিলের ফায়সালা) আপনারই উপর ন্যস্ত করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে মাফ করে দিন, মাফ করে দিন আমার আগের এবং পরের গুনাহ্, যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি এবং আপনি আমার ইলাহ্, আপনি ছাড়া আমার কোন ইলাহ্ নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮১) সুফ্ইয়ান (রহ.) এ রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আপনিই সত্য এবং আপনার বাণীই সত্য। [১১২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 15 · #7345 - 16
وَقَالَ الأَعْمَشُ عَنْ تَمِيمٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَسِعَ سَمْعُهُ الأَصْوَاتَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى عَلَى النَّبِيِّ (قَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا) আ‘মাশ, তামীম, ‘উরওয়াহ (রহ.), ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যাঁর শ্রবণশক্তি সকল শব্দকে ঘিরে রেখেছে। অতঃপর আল্লাহ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিল করেনঃ হে রাসূল! আল্লাহ্ শুনেছেন সেই স্ত্রীলোকের কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সঙ্গে বাদানুবাদ করছে। (সূরাহ আল-মুজাদালাহ ৫৮/১) ৭৩৮৬. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা উঁচু স্থানে উঠার সময় তাকবীর বলতাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তোমাদের নফসের উপর একটু দয়া কর। কেননা, তোমরা কোন বধির কিংবা অনুপস্থিতকে ডাকছ না। বরং তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং ঘনিষ্ঠতমকে। এরপর তিনি আমার কাছে আসলেন। তখন আমি মনে মনে لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ বলছিলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু কায়স! বল لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ কেননা এটি জান্নাতের ভান্ডারসমূহের একটি ভান্ডার। অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে সেই সম্পর্কে জানিয়ে দেব না (যা হচ্ছে জান্নাতের খাজানা)? [২৯৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 16 · #7346 - 17
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি আমার সালাতে দু‘আ করতে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বল, اللهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي.... হে আল্লাহ্! আমি আমার নফসের ওপর খুব বেশি যুলম করেছি। আপনি ব্যতীত আমার গুনাহ ক্ষমা করার কেউই নেই। কাজেই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনিই অতি ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান। [৮৩৪; মুসলিম ৪৮/১৩, হাঃ ২৭০৫, আহমাদ ৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 0 · #7347 - 18
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন যা দিয়ে আমি আমার সালাতে দু‘আ করতে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি বল, اللهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي.... হে আল্লাহ্! আমি আমার নফসের ওপর খুব বেশি যুলম করেছি। আপনি ব্যতীত আমার গুনাহ ক্ষমা করার কেউই নেই। কাজেই আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনিই অতি ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান। [৮৩৪; মুসলিম ৪৮/১৩, হাঃ ২৭০৫, আহমাদ ৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 17 · #7348 - 19
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিব্রীল আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, আল্লাহ্ আপনার কওমের লোকেদের কথা শুনেছেন এবং তারা আপনাকে যে জবাব দিয়েছে তাও তিনি শুনেছেন।[1] [৩২৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 18 · #7349 - 20
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ সালামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহাবাগণকে সকল কাজে এভাবে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি তাদের কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত নফল সালাত আদায় করে নেয়। তারপর এ বলে দু‘আ করে, হে আল্লাহ্! আমি আপনারই ইল্মের সাহায্যে মঙ্গল তলব করছি। আর আপনারই কুদরতের সাহায্যে আমি শক্তি অন্বেষণ করছি। আর আপনারই অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনিই শক্তি রাখেন, আমি কোন শক্তি রাখি না। আপনিই সব কিছু জানেন, আমি কিছুই জানি না। গায়িবী বিষয়াদির বিশেষজ্ঞ একমাত্র আপনি। এরপর সালাত আদায়কারী মনে মনে স্বীয় উদ্দেশ্য উল্লেখ করে বলবে, হে আল্লাহ্! আপনি যদি জানেন যে, এ কাজটি আমার জন্য বর্তমানে ও ভবিষ্যতে মঙ্গলজনক- বর্ণনাকারী বলেন, কিংবা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্থানে বলেছেনঃ আমার দ্বীন-দুনিয়া ও পরিণামের ক্ষেত্রে কল্যাণকর, তাহলে আমার জন্য তা নির্ধারণ করে নিন এবং তা আমার জন্য সহজ করে দিন, আর আমার জন্য এতে বরকত দিন। হে আল্লাহ্! আর যদি আপনি জানেন যে, এটি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও পরিণামের ক্ষেত্রে অথবা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে অমঙ্গলজনক, তবে তাত্থেকে অমাকে বিরত রাখুন। আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন যেখানেই হয় অতঃপর আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।[1] [১১৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 19 · #7350 - 21
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় কসম করতেন এ কথা বলে- না, তাঁর কসম, যিনি অন্তরসমূহ পরিবর্তন করে দেন। [৬৬১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 20 · #7351 - 22
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ذُو الْجَلاَلِ الْعَظَمَةِ الْبَرُّ اللَّطِيفُ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ذُو الْجَلاَلِ -এর অর্থ মহানত্বের মালিক, الْبَرُّ এর অর্থ দয়ালু। ৭৩৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলার নিরানব্বইটি এক কম একশ’টি নাম আছে।[1] যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। أَحْصَيْنَاهُ -এর অর্থ حَفِظْنَاهُ অর্থাৎ আমরা একে মুখস্থ করলাম। [২৭৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 21 · #7352 - 23
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা কেউ বিছানায় গেলে তখন যেন সে তার কাপড়ের আঁচল দিয়ে তা তিনবার ঝেড়ে নেয়। আর বলে, হে আমার প্রতিপালক! একমাত্র তোমারই নামে আমার শরীরের পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং তোমারই সাহায্যে আবার তা উঠাব। তুমি যদি আমার জীবন আটকে রাখ, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিবে। আর যদি তা ফিরিয়ে দাও, তাহলে তোমার নেককার বান্দাদেরকে যেভাবে হিফাযত কর, সেভাবে তার হিফাযাত করবে। ইয়াহ্ইয়া ও বিশর ইবনু মুফাদ্দাল (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীসেরই অনুকরণে বর্ণনা করেছেন। যুহায়র, আবূ যামরাহ, ইসমা‘ঈল ইবনু যাকারীয়্যা (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আজলান (রহ.) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৬৩২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 22 · #7353 - 24
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আপন বিছানায় যেতেন, তখন বলতেন- হে আল্লাহ্! আমি তোমারই নামে মৃত্যুবরণ করি, আবার তোমারই নামে জীবিত হই। আবার ভোর হলে বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর (ঘুমের) পর জীবিত করেছেন এবং তাঁরই কাছে সমবেত হতে হবে। [৬৩২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 23 · #7354 - 25
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন তাঁর বিছানায় যেতেন তখন বলতেনঃ আমরা তোমারই নামে মৃত্যুবরণ করি ও জীবিত হই এবং তিনি যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবিত করেন এবং তাঁরই কাছে সমবেত হতে হবে। [৬৩২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 24 · #7355 - 26
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর সাতে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে এবং সে বলে আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ্! আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যে রিযিক দেন তাত্থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং উভয়ের মাধ্যমে যদি কোন সন্তান নির্ধারণ করা হয় তাহলে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারে না।[1] [১৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 25 · #7356 - 27
‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম- আমি আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন তুমি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলো ছেড়ে দাও এবং যদি সে কোন শিকার ধরে আনে, তাহলে তা খাও। আর যদি তীক্ষ্ম তীর নিক্ষেপ কর এবং এতে যদি শিকারের দেহ ফেড়ে দেয়, তবে তা খাও। [১৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 26 · #7357 - 28
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখানে এমন কতকগুলো সম্প্রদায় আছে, যারা সবে মাত্র শি্রক ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তারা আমাদের জন্য গোশ্ত নিয়ে আসে। সেগুলো যবাই করার কালে তারা আল্লাহর নাম নেয় কিনা তা আমরা জানি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে নেবে এবং তা খাবে। এ হাদীস বর্ণনায় আবূ খালিদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান, দায়াওয়ার্দী এবং উসামাহ ইবনু হাফ্স। [৫০৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 27 · #7358 - 29
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্মিল্লাহ্ পড়ে এবং তাকবীর বলে দু’টি ভেড়া কুরবানী করেছেন। [৫৫৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 28 · #7359 - 30
জুনদাব ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র কাছে উপস্থিত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পড়লেন। অতঃপর খুত্বাহ দিলেন এবং বললেনঃ সালাত পড়ার আগে যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু যবহ্ করেছে, সে যেন তদস্থলে আরেকটি পশু য্বহ করে। আর যে ব্যক্তি (সালাতের আগে) যবহ্ করেনি সে যেন আল্লাহর নামে যবহ্ করে। [৯৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 29 · #7360 - 31
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি কসমকারী হবে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 30 · #7361 - 32
وَقَالَ خُبَيْبٌ وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الإِلَهِ فَذَكَرَ الذَّاتَ بِاسْمِهِ تَعَالَى খুবায়ব (রাঃ) বলেছিলেন (وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الإِلَهِ) (এবং ওটি আল্লাহর সত্তার স্বার্থে) আর তিনি মূল সত্তাকে তাঁর নামের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন। ৭৪০২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশজন সাহাবীর একটি দল পাঠালেন। তাঁদের মধ্যে খুবায়ব আনসারী (রাঃ)-ও ছিলেন। বর্ণনাকারী ইমাম যুহরী (রহ.) বলেন, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু আয়ায আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হারিসের কন্যা তাকে জানিয়েছে, যখন খুবায়ব (রাঃ)-কে হত্যা করার জন্য তারা সবাই সমবেত হল, তখন খুবায়ব (রাঃ) পাক-সাফ হবার জন্য তার থেকে একখানা ক্ষুর চেয়ে নিলেন। আর যখন তারা খুবায়বকে হত্যা করার জন্য হারামের বাইরে নিয়ে গেল, তখন খুবায়ব আনসারী (রাঃ) কবিতা পাঠ করে বললেনঃ ‘‘মুসলিম হবার কারণেই যখন আমাকে হত্যা করা হচ্ছে, তখন আমার কোন আফসোস নেই। যে পার্শ্বে ঢলে পড়ি না কেন, আল্লাহর জন্যই আমার এ মৃত্যু। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমার এ জীবন দান। যদি তিনি চান তবে আমার কর্তিত অঙ্গরাজির প্রতিটি টুকরায় তিনি বরকত দেবেন।’’ এরপর হারিসের ছেলে তাঁকে শহীদ করল। তাঁদের সে বিপদের খবরটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহাবাগণকে সেদিনই জানিয়ে দিয়েছিলেন। [৩০৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 31 · #7362 - 33
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন আর কেউ নেই। এই কারণেই তিনি অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। এমন কেউ নেই যে, আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে বেশি ভালবাসে। [৪৬৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 32 · #7363 - 34
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন মাখলূক সৃষ্টি করলেন,তখন তা তাঁর কিতাবে লিখলেন এবং তিনি আপন সত্তা বিষয়ে লিখছেন, যা তাঁর কাছে আরশের উপর রক্ষিত আছে, ‘আমার রহমত আমার গযবকে পরাভূত করেছে।’ [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 33 · #7364 - 35
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ ঘোষণা করেন, আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে জন-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু’ হাত এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। [৭৫০৫, ৭৫৩৭; মুসলিম ৪৮/১, হাঃ ১৬৭৫, আহমাদ ৭৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 34 · #7365 - 36
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হলঃ ‘‘হে নবী আপনি বলে দিন তোমাদের উপর থেকে তোমাদের ওপর শাস্তি পাঠাতে তিনিই সক্ষম’’- (সূরাহ আন‘আম ৬/৬৫)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার সত্তার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ্ তখন বললেনঃ ‘‘কিংবা তোমাদের পায়ের নীচ হতে; তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আপনার সত্তার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ্ বললেনঃ কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি অপেক্ষাকৃত সহজ। [৪৬২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 35 · #7366 - 37
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের কাছে গোপন থাকবেন না। আল্লাহ্ অন্ধ নন। এর সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে স্বীয় চোখের দিকে ইশারা করলেন। মাসীহ্ দাজ্জালের ডান চোখ কানা। তার চোখটি যেন আংগুরের মত ভাসমান। [৩০৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 36 · #7367 - 38
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ এমন কোন নবী পাঠাননি যিনি তাঁর জাতিকে কানা মিথ্যুকটির ব্যাপারে সতর্ক করেননি। সে কানা (দাজ্জাল)। আর তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। তার দু’চোখের মাঝখানে ‘কাফির’ লেখা থাকবে। [৭১৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 37 · #7368 - 39
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 38 · #7369 - 40
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা ঈমানদারদেরকে একত্রিত করবেন, তখন তারা বলবে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে কোন সুপারিশ যদি নিয়ে যেতাম তাহলে তিনি আমাদেরকে এ স্থান থেকে বের করে শান্তি প্রদান করতেন। এরপর তারা আদম (আঃ)-এর কাছে গিয়ে বলবে, হে আদম (আঃ)! আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? অথচ আল্লাহ্ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে তিনি তাঁর ফেরেশ্তাগণ দিয়ে সিজদা্ করিয়েছেন। আর আপনাকে সব জিনিসের নাম শিখিয়েছেন। কাজেই আপনি আমাদের রবেবর কাছে সুপারিশ করুন, যেন এ স্থান থেকে আমাদেরকে তিনি স্বস্তি দেন। আদম (আঃ) তখন বলবেন, এ কাজের জন্য আমি উপযুক্ত নই। এবং আদম (আঃ) তাদের কাছে নিজের ভুলের কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন, তোমরা বরং নূহ্ (আঃ)-এর কাছে যাও। যেহেতু তিনিই আল্লাহর প্রথম রাসূল। যাঁকে তিনি যমীনবাসীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তারা নূহ্ (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনিও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তিনি তাঁর কৃত ভুলের কথা মনে করে বলবেন, তোমরা বরং আল্লাহর খলীল ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও। তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনিও তাদের কাছে স্বীয় ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যাঁকে আল্লাহ্ তাওরাত দিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছিলেন। তারা তখন মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। মূসা (আঃ)-ও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের যোগ্য নই। তাদের কাছে তিনি নিজের ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, তোমরা বরং ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, কালেমা ও রূহ্। তখন তারা ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তখন ‘ঈসা (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা, যাঁর আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। তারা সবাই আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবেবর কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে এর অনুমতি দেয়া হবে। আমি আমার রববকে যখন দেখতে পাব, তখনই আমি তাঁর সামনে সিজদা্য় পড়বো। আল্লাহ্ তাঁর মরজী অনুসারে যতক্ষণ আমাকে সেভাবে রাখার রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপর আমি শাফা‘আত করব। আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। এরপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি ফিরে আসব। যখন আমি আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব তখন তাঁর জন্য সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ আমাকে এভাবে রাখতে চাইবেন রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব এবং সুপারিশ করব। তখনো আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি আবার ফিরে আসব। আমি এবারও আমার প্রতিপালককে দেখামাত্র সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে ঐ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। তখন আমার রবেবর শেখানো প্রশংসার দ্বারা প্রশংসা করে শাফাআত করব। তখনও আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা থাকবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে বলব, হে আমার রবব! এখন একমাত্র তারাই জাহান্নামে বাকী আছে, যাদেরকে কুরআন আটক করে রেখে দিয়েছে। এবং যাদের উপর স্থায়ীভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে, আর তার দিলে একটি যবের ওজন পরিমাণ ঈমান আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপর বের করা হবে জাহান্নাম থেকে তাদেরকেও, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে এবং তার দিলে একটি গমের ওযন পরিমাণ ঈমান আছে। জাহান্নাম থেকে (সর্বশেষে) তাকে বের করা হবে, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে এবং তার দিলে অণু পরিমাণ মাত্র ঈমান আছে। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 39 · #7370 - 41
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর হাত পূর্ণ, রাতদিন খরচ করলেও তাতে কমতি আসে না। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা কি দেখেছ? আসমান যমীন সৃষ্টি করার পর থেকে তিনি যে কত খরচ করেছেন, তা সত্ত্বেও তাঁর হাতে যা আছে, তাতে এতটুকু কমেনি। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন তাঁর আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর অন্য তাতে আছে দাঁড়িপাল্লা, যা কখনও তিনি নিচে নামান আবার কখনও উপরে উঠান। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 40 · #7371 - 42
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যমীনকে তাঁর মুঠোয় নিয়ে নেবেন। [৪৮১২] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 0 · #7372 - 43
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যমীনকে তাঁর মুঠোয় নিয়ে নেবেন। [৪৮১২] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 41 · #7373 - 44
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ্ কিয়ামতের দিনে আসমানগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, পর্বতগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, গাছগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকী সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা আল্লাহ্ তা‘আলার যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি দেয়নি। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ বলেন, এ বর্ণনায় একটু যোগ করেছেন ফুদায়ল ইবনু আয়ায. .... আবিদাহ (রহ.) সূত্রে ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে যে, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্মিত হয়ে তার সমর্থনে হেসে দিলেন। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 42 · #7374 - 45
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাবদের এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ আসমানগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, বৃক্ষ ও কাদামাটিকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকি সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখতে পেলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন। এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ আর তারা আল্লাহ্ তা‘আলার যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে নি। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 43 · #7375 - 46
وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ لاَ شَخْصَ أَغْيَرُ مِنْ اللهِ ‘উবাইদুল্লাহ বিন ‘আমর ‘আবদুল মালিক থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন আর কেউই নয়। ৭৪১৬. মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর শপথ! আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ্ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ্ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবার কারণে প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এজন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে অধিক কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। [৬৮৪৬; মুসলিম পর্ব ১৯/হাঃ ১৪৯৯, আহমাদ ১৮১৯২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 44 · #7376 - 47
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে বললেন, তোমার কাছে কুরআনের কোন বস্তু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অমুক সূরাহ অমুক সূরাহ। তিনি সূরাহগুলোর নাম বলেছিলেন। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 45 · #7377 - 48
قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ ارْتَفَعَ فَسَوَّاهُنَّ خَلَقَهُنَّ وَقَالَ مُجَاهِدٌ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمَجِيدُ الْكَرِيمُ وَ الْوَدُودُ الْحَبِيبُ يُقَالُ حَمِيدٌ مَجِيدٌ كَأَنَّهُ فَعِيلٌ مِنْ مَاجِدٍ مَحْمُودٌ مِنْ حَمِدَ আবুল ‘আলীয়া (রহ.) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ -এর অর্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন- (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)। فَسَوَّاهُنَّ-এর অর্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ -এর অর্থ হল, আরশের উপর সমুন্নত হলেন- (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مجيدঅর্থ সম্মানিত, الْوَدُودُ অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٍ থেকে فَعِيلٌ -এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُود (প্রশংসনীয়) এসেছে حَمِدَ থেকে। ৭৪১৮. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে বনূ তামীম-এর গ্রোত্রটি আসল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে বনূ তামীম। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি আমাদেরকে শুভ সংবাদ যখন দিচ্ছেন, তাহলে কিছু দান করুন। এ সময় ইয়ামানবাসী কতিপয় লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেখানে উপস্থিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ হে ইয়ামানবাসী! তোমাদের জন্য সুসংবাদ। বনূ তামীম তা গ্রহণ করল না। তারা বলল, আমরা গ্রহণ করলাম শুভ সংবাদ। যেহেতু আমরা আপনার কাছে এসেছি দ্বীনী জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে এবং জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছি যে, এ দুনিয়া সৃষ্টির আগে কী ছিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তখন ছিলেন, তাঁর আগে আর কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ তখন পানির ওপর ছিল। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করলেন। এবং লাওহে মাফফুযে সব বস্তু সম্পর্কে লিখে রাখলেন। রাবী বলেন, এরপর আমার কাছে এক লোক এসে বলল, হে ‘ইমরান! তোমার উটনী পালিয়ে গিয়েছে, তার খবর লও। আমি উটনীর খোঁজে চললাম। দেখলাম, উটনী মরীচিকার আড়ালে আছে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আমার মন চাচ্ছিল উটনী চলে যায় যাক তবুও আমি মজলিস ছেড়ে যেন না উঠি। [৪১৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 46 · #7378 - 49
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর ডান হাত পূর্ণ, রাত দিনের খরচেও তা কমে না। তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির সূচনা থেকে তিনি কত খরচ করে যাচ্ছেন, তবুও তাঁর ডান হাতের কিছুই কমেনি। তাঁর আরশ পানির ওপর আছে। তাঁর অন্য হাতে আছে দেয়া আর নেয়া। তা তিনি উঠান ও নামান। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 47 · #7379 - 50
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) অভিযোগ নিয়ে আসলেন। তখন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলতে লাগলেন, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কোন জিনিস গোপন করতেন, তাহলে এ আয়াতটি অবশ্যই গোপন করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, (যাইনাব (রাঃ) অপরাপর নবী অন্যান্য কাছে এ বলে গর্ব করতেন যে, তোমাদেরকে বিয়ে দিয়েছে তোমাদের পরিবার-পরিজন, আর আমাকে স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলা সাত আসমানের ওপরে বিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী সাবিত (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃ (হে নবী) আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করতেন আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন, আপনি লোকদের ভয় করছিলেন। এ আয়াতটি যাইনাব ও যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।[1] [৪৭৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 48 · #7380 - 51
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ)-কে উপলক্ষ করে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ উপলক্ষে ওয়ালিমা হিসাবে সেদিন রুটি ও গোশত খাইয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের উপর যাইনাব (রাঃ) গর্ব করে বলতেন, আল্লাহ্ তো আসমানে আমার বিয়ের সিদ্ধান্ত করেছেন। [৪৭৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 49 · #7381 - 52
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন সকল মাখলূক সৃষ্টি করার কাজ শেষ করলেন, তখন তাঁর আরশের ওপর তাঁরই কাছে লিখে রাখলেন, ‘আমার রহমত আমার গযব থেকে এগিয়ে গেছে।’ (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 50 · #7382 - 53
আবূ হুুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আনে, সালাত কায়িম করে, রমযান মাসের সওম পালন করে, আল্লাহ্ তাঁর সম্পর্কে এ দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে আল্লাহর রাস্তায় হিজরাত করুক কিংবা তাঁর জন্মভূমিতে অবস্থান করুক। সাহাবীগণ বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়টি আমরা লোকদের জানিয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই, জান্নাতে একশ’টি (মর্যাদার) স্তর রয়েছে। এগুলো আল্লাহ্ তাঁর রাস্তায় জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতি দু’টি স্তরের মাঝে আসমান ও যমীনের দূরত্ব বিদ্যমান। কাজেই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাওস জান্নাত চাইবে। কারণ, সেটি হচ্ছে সবচেয়ে প্রশস্ত ও সবচেয়ে উচ্চ জান্নাত। আর দয়ালু (আল্লাহর) আরশটি এরই ওপর অবস্থিত।[1] এই ফিরদাওস থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাগুলো প্রবাহিত। [২৭৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 51 · #7383 - 54
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে নাবাবীতে প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। যখন সূর্য অস্ত গেল, তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! তোমার কি জানা আছে, এ সূর্য কোথায় যাচ্ছে? আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে অধিক জানেন। রাসূলুল্লাহ্ স) বললেনঃ এ সূর্য যাচ্ছে এবং অনুমতি চাচ্ছে সিজদা করার জন্য। তারপর সিজদার জন্য তাকে অনুমতি দেয়া হয়। একদিন তাকে নির্দেশ দেয়া হবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে তার অস্তের জায়গা থেকে উদিত হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন, ‘‘এটিই তার থাকার জায়গা’’ ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর কিরাআত অনুসারে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 52 · #7384 - 55
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমার কাছে লোক পাঠালেন। তাই আমি কুরআনের বিভিন্ন অংশ খোঁজ করতে লেগে গেলাম। শেষে সূরা তাওবার শেষের অংশ একমাত্র আবূ খুযাইমাহ আন্সারী (রাঃ) ছাড়া আর কারো কাছে পেলাম না। (আর তা হচ্ছে) لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ থেকে সূরা বারাআতের শেষ পর্যন্ত। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২০) ইউনুস (রহ.) থেকে হাদীসটি এরকমই বর্ণনা করেছেন। আবূ খুযায়মা আনসারীর কাছে এ আয়াত পাওয়া গেছে বলে তিনিও বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 53 · #7385 - 56
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুঃখ কষ্টের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করতেন এ বলেঃ আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। যিনি সর্বজ্ঞ ও ধৈর্যশীল। তিনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই, তিনি মহান আরশের রব্ব। তিনি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি আসমান-যমীনের রবব এবং সম্মানিত আরশের রব্ব। [২৩৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 54 · #7386 - 57
বর্ণনাকারী মাজিশুন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ফাজল ও আবূ সালামাহর মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি সবচেয়ে আগে পুনরায় উঠব। তখন দেখব, মূসা (আঃ) আরশ ধরে আছেন। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 0 · #7387 - 58
বর্ণনাকারী মাজিশুন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ফাজল ও আবূ সালামাহর মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি সবচেয়ে আগে পুনরায় উঠব। তখন দেখব, মূসা (আঃ) আরশ ধরে আছেন। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 55 · #7388 - 59
وَقَالَ أَبُو جَمْرَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ بَلَغَ أَبَا ذَرٍّ مَبْعَثُ النَّبِيِّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِأَخِيهِ اعْلَمْ لِي عِلْمَ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ يَأْتِيهِ الْخَبَرُ مِنْ السَّمَاءِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُ الْكَلِمَ الطَّيِّبَ يُقَالُ ذِي الْمَعَارِجِ الْمَلاَئِكَةُ تَعْرُجُ إِلَى اللهِ আবূ জামরাহ (রহ.) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত পাওয়ার খবর শুনে আবূ যার (রাঃ) তাঁর ভাইকে বললেন, আমার জন্য ঐ লোকের অবস্থা জেনে নাও, যিনি ধারণা করেছেন যে, আসামান থেকে তাঁর কাছে খবর আসে। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, নেক কাজ পবিত্র কথাকে ঊর্ধ্বগামী করে। ذِي الْمَعَارِجِ -এর সম্পর্কে বলা হয় ঐ সব ফেরেশ্তা যারা আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। ৭৪২৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাছে রাত ও দিনে ফেরেশতারা পালাক্রমে আসে। আর তাঁরা একত্রিত হন আসর ও ফজরের সালাতে। তারপর যাঁরা তোমাদের মাঝে রাত কাটিয়েছেন তাঁরা উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন- অথচ তিনি তোমাদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত- কেমন অবস্থায় আমার বান্দাদেরকে তোমরা ছেড়ে এসেছ? তারা তখন উত্তর দেবে, আমরা ওদেরকে সালাত আদায়রত অবস্থায় রেখে এসেছি, প্রথম গিয়েও আমরা ওদেকে সালাতে পেয়েছিলাম। [৫৫৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১২ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৪ প্রথমাংশ)
Book 97 · Hadith 56 · #7389 - 60
খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহ.) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তার হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণও দান করে, আল্লাহ্ তা তাঁর ডান হাত দ্বারা কবূল করেন। আর পবিত্র ও হালাল বস্ত্ত ব্যতীত আল্লাহর দিকে কোন কিছু আগে গিয়ে পৌঁছে না। তারপর এটি তার মালিকের জন্য লালন-পালন ও পরিচর্যা করতে থাকে, তোমরা যেমন ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন পালন করতে থাক। অবশেষে তা পর্বতের মত বিরাট আকার ধারণ করে। [মুসলিম ১২/১৯, হাঃ ১০১৪, আহমাদ ১০৯৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১২ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১১ মধ্যমাংশ) ওয়ারকা (রহ.) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলার দিকে পবিত্র জিনিস ব্যতীত কোন কিছুই গমন করতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৪ শেষাংশ)
Book 97 · Hadith 57 · #7390 - 61
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, দুঃখ-বেদনার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে দু‘আ করতেনঃ মহান ও ধৈর্যশীল আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, মহান আরশের প্রতিপালক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, আসমানসমূহের মালিক এবং মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। [৬৩৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 58 · #7391 - 62
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অল্প কিছু সোনা পাঠানো হলে তিনি চারজনকে ভাগ করে দেন। ইসহাক ইবনু নাসর (রহ.) ...... আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামানে অবস্থানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু মাটি মেশানো সোনা পাঠিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুজাশি গোত্রের আক্রা ইবনু হাবিস হানযালী, ‘উয়াইনাহ ইবনু হিসন ইবনু বাদ্র ফাযারী, ‘আলক্বামাহ ইবনু উলাছা আমিরী ও বনূ কিলাবের একজন এবং বনু নাবহান গোত্রের যায়দ আল খায়ল তাঈর মধ্যে তা বেঁটে দেন। এ কারণে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদবাসী সরদারদেরকে দিচ্ছেন। আর আমাদেরকে বঞ্চিত করছেন। এ প্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তাদের অন্তর জয়ের চেষ্টা করছি। তখন কোটরাগত চোখ, উচ্চ কপাল, বেশি দাড়ি, উচ্চ চোয়াল ও মুন্ডানো মাথা ওয়ালা এক লোক সামনে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় কর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিই যদি তাঁর নাফরমানী করি, তবে তাঁর অনুগত হবে আর কে? আর এজন্যই তিনি আমাকে পৃথিবীর লোকের উপর আমানতদার নির্দিষ্ট করেছেন। অথচ তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। এমন সময় দলের মধ্য থেকে একটা লোক, সম্ভবত খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ), ঐ লোকটিকে হত্যা করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে নিষেধ করলেন। সে লোকটি চলে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে, যারা কুরআন পড়বে, তবে কুরআন তাদের কন্ঠনালি অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। মূর্তিপূজারীদেরকে ছেড়ে তারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে। যদি আমি তাদেরকে পাই, তাহলে আদ জাতিকে হত্যা করার মত তাদেরকে হত্যা করব। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৪, ৬৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 59 · #7392 - 63
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছি, ‘‘আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে’’ আল্লাহর এ কথা সম্পর্কে। তিনি বলেছেনঃ সূর্যের নির্দিষ্ট গন্তব্য হল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 60 · #7393 - 64
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা শীঘ্রই তোমাদের রববকে দেখতে পাবে, যেমনি তোমরা এ চাঁদটিকে দেখতে পাচ্ছ। অথচ এটিকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধে হচ্ছে না। অতএব, তোমরা সক্ষম হলে সূর্য উঠার আগের সালাত ও সূর্য ডুবার পরের সালাত (যথাযথভাবে) আদায় করতে তোমরা যেন পরাজিত না হও। তাহলে তাই কর। [৫৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 61 · #7394 - 65
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই তোমরা তোমাদের রববকে দিব্যচক্ষে দেখতে পাবে। [৫৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 62 · #7395 - 66
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা পুর্ণিমার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রববকে কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে, যেমন এ চাঁদটিকে তোমরা দেখছ এবং একে দেখতে তোমাদের অসুবিধে হচ্ছে না। [৫৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 63 · #7396 - 67
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা (সহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রববকে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি আবার বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কি অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সেরকমই আল্লাহকে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ লোকদেরকে একত্রিত করে বলবেন, যে যার ‘ইবাদাত করছিলে সে যেন তার অনুসরণ করে। তারপর যারা সূর্যের ‘ইবাদত করত, সূর্যের অনুসরণ করবে। যারা চন্দ্রের ‘ইবাদাত করত, তারা চন্দ্রের অনুসরণ করবে। আর যারা তাগুতদের পূজা করত, তারা তাদের অনুসরণ করবে। বাকী থাকবে এই উম্মাত। এদের মধ্যে এদের সুপারিশকারীরাও থাকবে অথবা রাবী বলেছেন, মুনাফিকরাও থাকবে। এখানে বর্ণনাকারী ইবরাহীম (রহ.) সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারপর আল্লাহ্ তাদের কাছে এসে বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষণ আমাদের রব আমাদের কাছে না আসবেন, ততক্ষণ আমরা এ স্থানেই থাকব। আমাদের রব যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। তারপর আল্লাহ্ এমন এক সুরতে তাদের কাছে আসবেন, যে সুরতে তারা তাঁকে চিনবে। তখন তিনি বলবেন, তোমাদের রব আমিই। তারা বলে উঠবে হাঁ, আপনিই আমাদের রব। তারপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। এরপর জাহান্নামের উপর পুল কায়িম করা হবে। যারা পুল পার হবে, আমি এবং আমার উম্মাত তাদের মধ্যে প্রথম থাকব। সেদিন একমাত্র রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউই কথা বলতে পারবে না। আর রাসূলগণেরও আবেদন হবে শুধু আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম (আয় আল্লাহ্! নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে রাখুন)। এবং জাহান্নামে সাদান-এর কাঁটার মত আঁকড়া থাকবে। তোমরা দেখেছ কি সাদান-এর কাঁটা? সহাবাগণ বললেন, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নামের সে কাঁটাগুলো এ সাদান-এর কাঁটার মত। হ্যাঁ, তবে সেগুলো যে কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ই জানেন। ওসব কাঁটা মানুষকে তাদের আমলের অনুপাতে বিদ্ধ করবে। কতিপয় মানুষ থাকবে ঈমানদার, তারা তাদের আমলের কারণে নিরাপদ থাকবে। আর কেউ কেউ তার ‘আমলের কারণে ধ্বংস হবে। কাউকে নিক্ষেপ করা হবে, আর কাউকে প্রতিদান দেয়া হবে। কিংবা সেরকমই কিছু রাবী বলেছেন। তারপর (আল্লাহ্) প্রকাশিত হবেন। তিনি বান্দাদের বিচার শেষ করে যখন আপন রহমতে কতক জাহান্নামবাসীকে বের করতে চাইবেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার শির্ক হতে মুক্তদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দেয়ার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ দেবেন। তারাই হচ্ছে ওসব বান্দা যাদের উপর আল্লাহ রহমত করবেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সিজদার চিহ্ন দ্বারা তাদেরকে ফেরেশ্তারা চিনতে পারবেন। সিজদার চিহ্নগুলো ছাড়া সে সব আদম সন্তানের সারা দেহ জাহান্নামের আগুন ভসমীভূত করে দেবে। সিজদার চিহ্নগুলো জ্বালিয়ে দেয়া আল্লাহ্ জাহান্নামের উপর হারাম করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের ওপর ঢালা হবে সঞ্জীবনীর পানি। এর ফলে নিম্নভাগ থেকে তারা এমনভাবে সজীব হয়ে ওঠবে, প্লাবনের পানিতে বীজ মাটি থেকে যেভাবে গজিয়ে ওঠে। এরপর আল্লাহ্ বান্দাদের বিচার কাজ শেষ করবেন। এদের মধ্য থেকে একজন বাকী থেকে যাবে, যে জাহান্নামের দিকে মুখ করে থাকবে। জাহান্নামীদের মধ্যে এই হচ্চে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমার চেহারাটা জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। কেননা, জাহান্নামের (দুর্গন্ধযুক্ত) হাওয়া আমাকে অস্থির করে তুলছে এবং এর শিখা আমাকে জ্বালাচ্ছে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মুতাবিক তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে। তারপর আল্লাহ্ বলবেন, তোমার প্রার্থিত বস্ত্ত যদি তোমাকে দেয়া হয়, তবে অন্য কিছু চাইবে না তো? তখন সে বলবে, না, তোমার ইয্যতের শপথ করে বলছি, তা ব্যতীত আমি আর কিছু চাইব না। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক তাঁকে বহু অঙ্গীকার ও‘য়াদা দেবে। ফলে আল্লাহ্ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দেবেন। যখন সে জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে এবং জান্নাতকে দেখবে, সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক যতক্ষণ চুপ থাকার চুপ থেকে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতের দ্বার পর্যন্ত এগিয়ে দাও। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, তুমি কি বহু ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে তোমাকে যা দেয়া হবে, তা ব্যতীত আর কিছুই তুমি কখনো চাইবে না। সর্বনাশ তোমার, হে আদম সন্তান! কতই না ও‘য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব সে আল্লাহকে ডাকতে থাকবে। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, আচ্ছা, এটি যদি তোমাকে দেয়া হয়, আর কিছু তো চাইবে না? সে বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেটি ব্যতীত আমি আর কিছুই চাইব না। তারপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দেবে আর আল্লাহ্ তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবেন। যখন সে জান্নাতের দরজার কাছে দাঁড়াবে, তখন তার জন্য জান্নাত উন্মুক্ত হয়ে যাবে, তখন সে এর মধ্যকার আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের প্রাচুর্য দেখতে পাবে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী চুপ থেকে পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমাকে এই ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হবে, সেটা ব্যতীত আর কিছুর প্রার্থনা করবে না? সর্বনাশ তোমার! হে বানী আদম! কতই না ও‘য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতর হতে চাই না। তখন সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ এতে হেসে দেবেন। আল্লাহ্ তার অবস্থার জন্য হেসে তাকে নির্দেশ দেবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে প্রবেশ করলে আল্লাহ্ তাকে বলবেনঃ এবার তুমি চাও। সে তখন রবের কাছে চাইবে এবং আকাঙ্ক্ষা জানাবে। সর্বশেষে আল্লাহ্ নিজে তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন, এটা, ওটা চাও। এতে তার আবেদন-আকাঙ্ক্ষা শেষ হলে আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে ওগুলো দেয়া হল, সঙ্গে সঙ্গে সে পরিমাণ আরো দেয়া হল। [৮০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 0 · #7397 - 68
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা (সহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রববকে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি আবার বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কি অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সেরকমই আল্লাহকে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ লোকদেরকে একত্রিত করে বলবেন, যে যার ‘ইবাদাত করছিলে সে যেন তার অনুসরণ করে। তারপর যারা সূর্যের ‘ইবাদত করত, সূর্যের অনুসরণ করবে। যারা চন্দ্রের ‘ইবাদাত করত, তারা চন্দ্রের অনুসরণ করবে। আর যারা তাগুতদের পূজা করত, তারা তাদের অনুসরণ করবে। বাকী থাকবে এই উম্মাত। এদের মধ্যে এদের সুপারিশকারীরাও থাকবে অথবা রাবী বলেছেন, মুনাফিকরাও থাকবে। এখানে বর্ণনাকারী ইবরাহীম (রহ.) সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারপর আল্লাহ্ তাদের কাছে এসে বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষণ আমাদের রব আমাদের কাছে না আসবেন, ততক্ষণ আমরা এ স্থানেই থাকব। আমাদের রব যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। তারপর আল্লাহ্ এমন এক সুরতে তাদের কাছে আসবেন, যে সুরতে তারা তাঁকে চিনবে। তখন তিনি বলবেন, তোমাদের রব আমিই। তারা বলে উঠবে হাঁ, আপনিই আমাদের রব। তারপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। এরপর জাহান্নামের উপর পুল কায়িম করা হবে। যারা পুল পার হবে, আমি এবং আমার উম্মাত তাদের মধ্যে প্রথম থাকব। সেদিন একমাত্র রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউই কথা বলতে পারবে না। আর রাসূলগণেরও আবেদন হবে শুধু আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম (আয় আল্লাহ্! নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে রাখুন)। এবং জাহান্নামে সাদান-এর কাঁটার মত আঁকড়া থাকবে। তোমরা দেখেছ কি সাদান-এর কাঁটা? সহাবাগণ বললেন, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নামের সে কাঁটাগুলো এ সাদান-এর কাঁটার মত। হ্যাঁ, তবে সেগুলো যে কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ই জানেন। ওসব কাঁটা মানুষকে তাদের আমলের অনুপাতে বিদ্ধ করবে। কতিপয় মানুষ থাকবে ঈমানদার, তারা তাদের আমলের কারণে নিরাপদ থাকবে। আর কেউ কেউ তার ‘আমলের কারণে ধ্বংস হবে। কাউকে নিক্ষেপ করা হবে, আর কাউকে প্রতিদান দেয়া হবে। কিংবা সেরকমই কিছু রাবী বলেছেন। তারপর (আল্লাহ্) প্রকাশিত হবেন। তিনি বান্দাদের বিচার শেষ করে যখন আপন রহমতে কতক জাহান্নামবাসীকে বের করতে চাইবেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার শির্ক হতে মুক্তদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দেয়ার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ দেবেন। তারাই হচ্ছে ওসব বান্দা যাদের উপর আল্লাহ রহমত করবেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সিজদার চিহ্ন দ্বারা তাদেরকে ফেরেশ্তারা চিনতে পারবেন। সিজদার চিহ্নগুলো ছাড়া সে সব আদম সন্তানের সারা দেহ জাহান্নামের আগুন ভসমীভূত করে দেবে। সিজদার চিহ্নগুলো জ্বালিয়ে দেয়া আল্লাহ্ জাহান্নামের উপর হারাম করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের ওপর ঢালা হবে সঞ্জীবনীর পানি। এর ফলে নিম্নভাগ থেকে তারা এমনভাবে সজীব হয়ে ওঠবে, প্লাবনের পানিতে বীজ মাটি থেকে যেভাবে গজিয়ে ওঠে। এরপর আল্লাহ্ বান্দাদের বিচার কাজ শেষ করবেন। এদের মধ্য থেকে একজন বাকী থেকে যাবে, যে জাহান্নামের দিকে মুখ করে থাকবে। জাহান্নামীদের মধ্যে এই হচ্চে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমার চেহারাটা জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। কেননা, জাহান্নামের (দুর্গন্ধযুক্ত) হাওয়া আমাকে অস্থির করে তুলছে এবং এর শিখা আমাকে জ্বালাচ্ছে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মুতাবিক তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে। তারপর আল্লাহ্ বলবেন, তোমার প্রার্থিত বস্ত্ত যদি তোমাকে দেয়া হয়, তবে অন্য কিছু চাইবে না তো? তখন সে বলবে, না, তোমার ইয্যতের শপথ করে বলছি, তা ব্যতীত আমি আর কিছু চাইব না। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক তাঁকে বহু অঙ্গীকার ও‘য়াদা দেবে। ফলে আল্লাহ্ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দেবেন। যখন সে জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে এবং জান্নাতকে দেখবে, সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক যতক্ষণ চুপ থাকার চুপ থেকে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতের দ্বার পর্যন্ত এগিয়ে দাও। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, তুমি কি বহু ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে তোমাকে যা দেয়া হবে, তা ব্যতীত আর কিছুই তুমি কখনো চাইবে না। সর্বনাশ তোমার, হে আদম সন্তান! কতই না ও‘য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব সে আল্লাহকে ডাকতে থাকবে। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, আচ্ছা, এটি যদি তোমাকে দেয়া হয়, আর কিছু তো চাইবে না? সে বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেটি ব্যতীত আমি আর কিছুই চাইব না। তারপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দেবে আর আল্লাহ্ তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবেন। যখন সে জান্নাতের দরজার কাছে দাঁড়াবে, তখন তার জন্য জান্নাত উন্মুক্ত হয়ে যাবে, তখন সে এর মধ্যকার আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের প্রাচুর্য দেখতে পাবে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী চুপ থেকে পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমাকে এই ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হবে, সেটা ব্যতীত আর কিছুর প্রার্থনা করবে না? সর্বনাশ তোমার! হে বানী আদম! কতই না ও‘য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতর হতে চাই না। তখন সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ এতে হেসে দেবেন। আল্লাহ্ তার অবস্থার জন্য হেসে তাকে নির্দেশ দেবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে প্রবেশ করলে আল্লাহ্ তাকে বলবেনঃ এবার তুমি চাও। সে তখন রবের কাছে চাইবে এবং আকাঙ্ক্ষা জানাবে। সর্বশেষে আল্লাহ্ নিজে তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন, এটা, ওটা চাও। এতে তার আবেদন-আকাঙ্ক্ষা শেষ হলে আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে ওগুলো দেয়া হল, সঙ্গে সঙ্গে সে পরিমাণ আরো দেয়া হল। [৮০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 64 · #7398 - 69
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিয়ামতের দিন আমাদের রবেবর দর্শন লাভ করব কি? তিনি বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্যকে দেখতে তোমাদের অসুবিধা হয় কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেনঃ সেদিন তোমাদের রবকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। এতটুকু ব্যতীত যতটুকু সূর্য দেখার সময় পেয়ে থাক। সেদিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, যারা যে জিনিসের ‘ইবাদাত করতে, তারা সে জিনিসের কাছে গমন কর। এরপর যারা ক্রুশপূজারী ছিল, তারা যাবে তাদের ক্রুশের কাছে। মূর্তিপূজারীরা যাবে তাদের মূর্তির সঙ্গে। সকলেই তাদের উপাস্যের সঙ্গে যাবে। বাকী থাকবে একমাত্র আল্লাহর ‘ইবাদাতকারীরা। নেক্কার ও বদকার সকলেই এবং আহলে কিতাবের কতক লোকও থাকবে। অতঃপর জাহান্নামকে আনা হবে। সেটি তখন থাকবে মরীচিকার মত। ইয়াহূদীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কিসের ‘ইবাদাত করতে? তারা উত্তর করবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযায়র (আঃ)-এর ‘ইবাদাত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। কারণ আল্লাহর কোন স্ত্রীও নেই এবং নেই তাঁর কোন সন্তান। এখন তোমরা কী চাও? তারা বলবে, আমরা চাই, আমাদেরকে পানি পান করান। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। তারপর নাসারাদেরকে বলা হবে, তোমরা কিসের ‘ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ‘ইবাদাত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কোন স্ত্রীও ছিল না, সন্তানও ছিল না। এখন তোমরা কী চাও? তারা বলবে, আমাদের ইচ্ছা আপনি আমাদেরকে পানি পান করতে দিন। তাদেরকে উত্তর দেয়া হবে, তোমরা পান কর। তারপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। অবশেষে বাকী থাকবে একমাত্র আল্লাহর ‘ইবাদাতকারীগণ। তাদের নেক্কার ও বদকার সকলেই। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হবে, কোন্ জিনিস তোমাদেরকে আটকে রেখেছে? অথচ অন্যরা তো চলে গেছে। তারা বলবে, আমরা তো সেদিন তাদের থেকে আলাদা রয়েছি, যেদিন আজকের চেয়ে তাদের অধিক প্রয়োজন ছিল। আমরা একজন ঘোষণাকারীর এ ঘোষণাটি দিতে শুনেছি যে, যারা যাদের ‘ইবাদাত করত তারা যেন ওদের সঙ্গে যায়। আমরা অপেক্ষা করছি আমাদের রবের। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর মহাক্ষমতাশালী আল্লাহ্ তাদের কাছে আসবেন। এবার তিনি সে সুরতে আসবেন না, যেভাবে তাঁকে প্রথমে ঈমানদারগণ দেখেছিলেন। এসে তিনি ঘোষণা দেবেন- আমি তোমাদের রবব, সবাই তখন বলে উঠবে আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আর সেদিন নবীগণ ছাড়া তাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলতে পারবে না। আল্লাহ্ তাদেরকে বলবেন, তোমাদের এবং তাঁর মাঝখানে পরিচয়ের জন্য কোন আলামত আছে কি? তারা বলবেন, পায়ের নলা। তখন পায়ের নলা খুলে দেয়া হবে। এই দেখে ঈমানদারগণ সবাই সিজদা্য় পড়ে যাবে। বাকি থাকবে তারা, যারা লোক-দেখানো এবং লোক-শোনানো সিজদা্ করেছিল। তবে তারা সিজদার মনোভাব নিয়ে সিজদা্ করার জন্য যাবে, কিন্তু তাদের মেরুদন্ড একটি তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে। এমন সময় জাহান্নামের উপর পুল স্থাপন করা হবে। সাহাবীগণ বললেন, সে পুলটি কেমন হবে হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ দুর্গম পিচ্ছিল স্থান। এর ওপর আংটা ও হুক থাকবে, শক্ত চওড়া উল্টো কাঁটা বিশিষ্ট হবে, যা নাজ্দ দেশের সাদান বৃক্ষের কাঁটার মত হবে। সে পুলের উপর দিয়ে ঈমানদারগণের কেউ পার হয়ে যাবে চোখের পলকের মতো, কেউ বিদ্যুতের মতো, কেউ বাতাসের মতো আবার কেউ দ্রুতগামী ঘোড়া ও সাওয়ারের মতো। তবে মুক্তিপ্রাপ্তরা কেউ নিরাপদে চলে আসবেন, আবার কেউ জাহান্নামের আগুনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। এ কবারে শেষে অতিক্রম করবে যে লোকটি, সে হেঁচড়িয়ে কোন ভাবে পার হয়ে আসবে। এখন তোমরা হকের বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক কঠোর নও, যতটুকু সেদিন ঈমানদারগণ আল্লাহর সম্মুখে হয়ে থাকবে, যা তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। যখন ঈমানদারগণ এ দৃশ্যটি দেখবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই মুক্তি পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করত, সওম পালন কত, নেক কাজ করত? তখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দ্বীনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ্ তাদের মুখমন্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দু’পা ও দু’পায়ের নলার বেশি পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করবে। তারপর এরা আবার ফিরে আসবে। আল্লাহ্ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দ্বীনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে, যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার ফিরে আসবে। আল্লাহ্ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এ বাণীটি পড়ঃ ‘‘আল্লাহ অণু পরিমাণও যুল্ম করেন না, আর কোন পুণ্য কাজ হলে তাকে তিনি দ্বিগুণ করেন’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৪০)। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ফেরেশ্তা ও মু’মিনগণ সুপারিশ করবে। তখন মহা পরাক্রান্ত আল্লাহ্ বলবেন, এখন শুধু আমার শাফাআতই বাকী রয়েছে। তিনি জাহান্নাম থেকে একমুষ্টি ভরে এমন কতগুলো কওমকে বের করবেন, যারা জ্বলে পুড়ে দগ্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর তাদেরকে জান্নাতের সম্মুখে অবস্থিত ‘হায়াত’ নামের নহরে ঢালা হবে। তারা সে নহরের দু’পার্শ্বে এমনভাবে উদগত হবে, যেমন পাথর এবং গাছের কিনারে বয়ে আনা আবর্জনায় বীজ থেকে তৃণ উদগত হয়। দেখতে পাও তার মধ্যে সূর্যের আলোর অংশের গাছগুলো সাধারণত সবুজ হয়, ছায়ার অংশেরগুলো সাদা হয়। তারা সেখান থেকে মুক্তার দানার মত বের হবে। তাদের গর্দানে মোহর লাগানো হবে। জান্নাতে তারা যখন প্রবেশ করবে, তখন অন্যান্য জান্নাতবাসীরা বলবেন, এরা হলেন রাহমান কর্তৃক আযাদকৃত যাদেরকে আল্লাহ্ কোন নেক ‘আমল কিংবা কল্যাণকর কাজ ব্যতীতই জান্নাতে দাখিল করেছেন। তখন তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা দেখেছ, সবই তো তোমাদের, এর সঙ্গে আরো সমপরিমাণ তোমাদেরকে দেয়া হলো। [২২; মুসলিম ১/৮১, হাঃ ১৮৩, আহমাদ ১১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 65 · #7399 - 70
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদারদেরকে কিয়ামতের দিন আবদ্ধ করে রাখা হবে। অবশেষে তারা অস্থির হয়ে যাবে এবং বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের নিকট কারো দ্বারা শাফাআত করাই যিনি আমাদের স্বস্তি দান করেন। তারপর তারা আদম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, আপনিই তো সে আদম, যিনি মনুষ্য জাতির পিতা, স্বয়ং আল্লাহ্ আপন হাত দিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন তাঁর জান্নাতে, ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে সব জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের এ জায়গা থেকে মুক্তি লাভের জন্য আপনার সেই রবের কাছে শাফাআত করুন। তখন আদম (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : এরপর তিনি নিষেধকৃত গাছের ফল খাওয়ার ভুলের কথাটি উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেন, বরং তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও, যিনি পৃথিবীবাসীদের জন্য প্রেরিত নবীগণের মধ্যে প্রথম নবী। তারপর তারা নূহ্ (আঃ)-এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। আর তিনি না জেনে তাঁর রবের কাছে প্রার্থনার ভুলের কথাটি উল্লেখ করবেন এবং বলবেন বরং তোমরা রাহমানের একনিষ্ঠ বন্ধু ইবরাহীমের কাছে যাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অতঃপর তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তখন ইবরাহীম (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। আর তিনি এমন তিনটি কথা উল্লেখ করবেন যেগুলো আসল ব্যাপারের উল্টো ছিল। পরে বলবেন, তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও তিনি আল্লাহর এমন এক বান্দা যাঁকে আল্লাহ্ তাওরাত দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং গোপন কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁকে নৈকট্য দান করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সবাই তখন মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি ওবলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। এবং তিনি হত্যার ভুলের কথা উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেন, তোমরা বরং ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর রূহ ও বাণী। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারা সবাই তখন ‘ঈসা (লা)-এর কাছে আসবে। ‘ঈসা (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। তিনি বলবেন, তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর এমন এক বান্দা যাঁর আগের ও পরের ভুল তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তখন তারা আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবের কাছে তাঁর নিকট হাযির হবার অনুমতি চাইব। আমাকে তাঁর কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। তাঁর দর্শন লাভের সঙ্গে সঙ্গে আমি সিজদা্য় পড়ে যাবো। তিনি আমাকে সে হালতে যতক্ষণ চাইবেন রাখবেন। অতঃপর আল্লাহ্ বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা ওঠান; বলুন, আপনার কথা শোনা হবে, শাফাআত করুন, কবূল করা হবে, চান, আপনাকে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তখন আমি আমার মাথা ওঠাবো। তারপর আমি আমার প্রতিপালকের এমন স্তব ও স্ত্ততি করবো যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। অতঃপর আমি সুপারিশ করবো, তবে আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। ‘আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, আমি বের হবো এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবো এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব। তারপর আমি ফিরে এসে আমার প্রতিপালকের নিকট হাযির হওয়ার অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তাঁকে দেখার পর সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ্ যতক্ষণ চাইবেন, আমাকে সে হালাতে রাখবেন। তারপর বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে, শাফা‘আত করুন, কবূল করা হবে, চান, দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আমি আমার মাথা উঠাবো। আমার রবের এমন স্তব ও স্তুতি করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ঃ এরপর আমি শাফাআত করব, আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন আমি বের হব এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করব এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব। তারপর তৃতীয়বারের মত ফিরে আসব এবং আমার রবের নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তাকে দেখার পর সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহ্ আমাকে সে হালাতে রাখবেন, যতক্ষণ চাইবেন। অতঃপর আল্লাহ্ বলবেন, মুহাম্মাদ! মাথা উঠান এবং বলুন, শোনা হবে, সুপারিশ করুন, কবূল করা হবে, চান, দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি মাথা উঠিয়ে আমার রবের এমন স্তব ও স্তুতি করব, যা তিনি আমাকে শিখিয়ে দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর আমি শাফাত করব, আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। তারপর আমি বের হয়ে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সেখান থেকে বের হয়ে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাব। অবশেষে জাহান্নামে বাকী থাকবে কেবল তারা, কুরআন যাদেরকে আটকে রেখেছে। অর্থাৎ যাদের ওপর জাহান্নামের চিরবাস ওয়াজিব হয়ে পড়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন’’- (সূরাহ ইসরা ১৭/৭৯) এবং তিনি বললেন এটিই হচ্ছে, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রতিশ্রুত ‘মাকামে মাহমূদ’। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 66 · #7400 - 71
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের কাছে (লোক) পাঠালেন। তাদেরকে একটা তাঁবুর মধ্যে সমবেত করলেন এবং তাদের বললেনঃ তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাত পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে। কারণ আমি হাওযের (কাউসারের) নিকটেই থাকব। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 67 · #7401 - 72
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন, তখন বলতেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্! সব প্রশংসা একমাত্র আপনারই, আসমান ও যমীনের পরিচালক আপনিই এবং আপনারই জন্য সব স্তুতি। আসমান ও যমীন এবং এসবের মাঝের সবকিছুর প্রতিপালক আপনিই এবং আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান যমীন ও এগুলোর মধ্যকার সব কিছুর নূর আপনিই। আপনি সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সত্য। হে আল্লাহ্! আপনারই জন্য আমি ইসলাম কবূল করেছি এবং আপনারই প্রতি ঈমান এনেছি, আপনারই ওপর ভরসা করেছি, আপনারই কাছে মোকদ্দমা সোপর্দ করেছি, আপনারই কাছে ফায়সালা চেয়েছি। তাই আপনি আমার আগের ও পিছের গোপন, প্রকাশ্য এবং যা আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন তা সবই ক্ষমা করে দিন। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। বর্ণনাকারী তাঊস (রহ.) থেকে কায়স ইবনু সা‘দ (রহ.) এবং আবূ যুবায়র (রহ.) قَيّمُ -এর স্থলে قَيَّامُ বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী মুজাহিদ বলেন قَيّومُ সবকিছুর পরিচালককে বলা হয়ে থাকে। ‘উমার (রাঃ) قَيَّامُ পড়েছেন। মূলত শব্দ দু’টিই প্রশংসার জন্য ব্যবহৃত হয়। [১১২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 68 · #7402 - 73
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে শীঘ্রই তার প্রতিপালক কথা বলবেন, তখন প্রতিপালক ও তার মাঝে কোন অনুবাদক ও আড়াল করে এমন পর্দা থাকবে না।। [১৪১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 69 · #7403 - 74
কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি জান্নাত এমন হবে, সেগুলোর পানপাত্র ও তার ভিতরের সব কিছুই হবে রূপার। আর দু’টি জান্নাত এমন হবে, সেগুলোর পানপাত্র ও তার ভিতরের সবকিছুই হবে সোনার। জান্নাতে আদ্নে তাদের ও তাদের রবেবর দর্শনের মাঝে তাঁর চেহারার উপর অহঙ্কারের চাদর ব্যতীত আর কোন কিছু আড়াল থাকবে না। [৪৮৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 70 · #7404 - 75
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মিথ্যা শপথ করে কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথার সত্যায়নে আল্লাহর কিতাবের আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ ‘‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের নি‘আমাতের কোন অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না.....’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 71 · #7405 - 76
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন রকমের মানুষ, যাদের সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না। যে লোক তার মালের উপর এ মিথ্যা কসম করে যে, একে এখন যে মূল্যে বিক্রি করা হলো এর চেয়ে অধিক মূল্যে তা বিক্রয় করা যাচ্ছিল। (২) যে লোক কোন মুসলিমের মাল আত্মসাৎ করার জন্য ‘আসরের সালাতের পর মিথ্যা শপথ করে। (৩) এক লোক সে, যে প্রয়োজনের বেশি পানি আটকিয়ে রাখে। আল্লাহ্ তাকে উদ্দেশ্য করে কিয়ামতের দিন বলবেন, আজ আমি আমার অনুগ্রহ থেকে তোমাকে বঞ্চিত করব, যেমনি তুমি সেই অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করতে যা তোমার হাতে অর্জিত নয়। [২৩৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 72 · #7406 - 77
আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ আসমান ও যমীনকে যেদিন সৃষ্টি করেছিলেন, সেদিনের অবস্থায় যামানা আবার ফিরে এসেছে। বার মাসে এক বছর হয়। তার মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাসম্পন্ন। যুলকাদা, যুলহাজ্জা ও মুহাররম- এ তিন মাস এক নাগাড়ে আসে। আর মুযার গোত্রের রজব মাস যা জুমাদা ও শা’বান মাসের মধ্যে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন্ মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন যার জন্য আমরা ভেবেছিলাম, তিনি এই নামটি পাল্টিয়ে অন্য কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেন, এটি কি যুলহাজ্জা নয়? আমরা উত্তর করলাম, হ্যাঁ, এটি যুলহাজ্জার মাস। তিনি বললেনঃ এটি কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি নীরব রইলেনঃ আমরা ভেবেছিলাম, তিনি হয়ত শহরটির নাম বদলিয়ে অন্য কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি সেই শহরটি নয়? আমরা উত্তর করলাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আজকের এ দিনটি কোন্ দিন? আমরা উত্তর করলাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি চুপ থাকলেন, যার জন্য আমরা ভাবলাম তিনি সম্ভবত এর নামটা বদলে দেবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ তোমাদের রক্ত এবং সম্পদ বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) বলেছেন, আমার ধারণা হচ্ছে, আবূ বকরা (রাঃ) ‘তোমাদের ইয্যত’ কথাটিও বর্ণনা করেছিলেন, অর্থাৎ ওসব এ পবিত্র দিনে, এ পবিত্র শহরে, এ পবিত্র মাসটির মত পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন। শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রবেবর সাক্ষাত লাভ করবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের ‘আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। সাবধান, আমার মৃত্যুর পর তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে একে অপরকে হত্যা করো না। সাবধান! উপস্থিতগণ অনুপস্থিত লোকদের কাছে (কথাগুলো) পৌঁছে দেবে। কেননা, হয়ত যার কাছে পৌঁছে দেয়া হবে, তাদের মাঝে এমন ব্যক্তিও থাকবে, যারা শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হবে। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহ.) যখন এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিই বলেছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, আমি পৌঁছিয়ে দিয়েছি কি? জেনে রেখো পৌঁছিয়ে দিয়েছি কি? [৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 73 · #7407 - 78
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক কন্যার এক ছেলের মৃত্যু উপস্থিত হলে তাঁর কন্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাওয়ার জন্য একজন লোক পাঠালেন। উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠিয়ে জানালেনঃ আল্লাহ্ যা নিয়ে নেন আর যা দেন সবই তাঁরই জন্য। আর প্রতিটি বস্তুর জন্য একটা সময়সীমা নির্দিষ্ট আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধরে এবং অবশ্যই সওয়াবের আশা করে। তারপর নবী-কন্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যাওয়ার জন্য কসম দিয়ে আবার লোক পাঠালেন। তিনি যাওয়ার জন্য ওঠে দাঁড়ালেন। বর্ণনাকারী উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) বলেন, আমি, মু‘আয ইবনু জাবাল, উবাই ইব্ন কা‘ব, ‘উবাদাহ ইবনু সামিতও তাঁর সঙ্গে যাওয়ার জন্য ওঠে দাঁড়ালাম। আমরা সেখানে গিয়ে প্রবেশ করলে তখন তারা শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দিলেন। আর তখন বাচ্চার বুকের মধ্যে এক অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেছিলেনঃ এ তো যেন মশকের মত। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদলেন। তা দেখে সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আপনি কাঁদছেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তাঁর দয়ালু বান্দাদের উরপই দয়া করেন। [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 74 · #7408 - 79
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়েই স্বীয় রবের নিকট অভিযোগ করল। জান্নাত বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার ব্যাপারটি কী যে তাতে শুধু নিঃস্ব ও নিম্ন শ্রেণীর লোকেরাই প্রবেশ করবে। এদিকে জাহান্নামও অভিযোগ করল অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র অহংকারীদেরকেই আমাতে প্রাধান্য দিলেন। আল্লাহ্ জান্নাতকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আমার রহমত। জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। আমি যাকে চাইব, তোমাকে দিয়ে শাস্তি পৌঁছাব। তোমাদের উভয়কেই পূর্ণ করা হবে। তবে আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টির কারো উপর যুলুম করবেন না। তিনি জাহান্নামের জন্য নিজ ইচ্ছানুযায়ী নতুন সৃষ্টি করবেন। তাদেরকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? জাহান্নামে আরো নিক্ষেপ করা হবে, তখনো বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? এভাবে তিনবার বলবে। অবশেষে আল্লাহ্ তাঁর পা জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দিলে তা পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তখন জাহান্নামের একটি অংশ অন্য অংশকে এ উত্তর করবে- আর নয়, আর নয়, আর নয়। [৪৮৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 75 · #7409 - 80
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কতকগুলো সম্প্রদায় তাদের গুনাহর কারণে শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছবে। অতঃপর আল্লাহ্ নিজ রহমতে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন। তাদেরকে ‘জাহান্নামী’ বলা হবে। [৬৫৫৯] হাম্মাম (রহ.) .... আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 76 · #7410 - 81
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বিদ্বান রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন আসমানকে একে আঙ্গুলের ওপর, পৃথিবীকে এক আঙ্গুলের ওপর, পর্বতরাজিকে এক আঙ্গুলের ওপর, বৃক্ষলতা ও নদী-নালাকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং সকল সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর রেখে দেবেন। এবং নিজ হাতে ইশারা দিয়ে বলবেন, সম্রাট একমাত্র আমিই। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং বললেনঃ তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করেনি- (সূরাহ আন‘আম ৬/৯১)। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 77 · #7411 - 82
وَهُوَ فِعْلُ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَأَمْرُهُ فَالرَّبُّ بِصِفَاتِهِ وَفِعْلِهِ وَأَمْرِهِ وَكَلاَمِهِ وَهُوَ الْخَالِقُ الْمُكَوِّنُ غَيْرُ مَخْلُوقٍ وَمَا كَانَ بِفِعْلِهِ وَأَمْرِهِ وَتَخْلِيقِهِ وَتَكْوِينِهِ فَهُوَ مَفْعُولٌ مَخْلُوقٌ مُكَوَّنٌ অতএব রব্ব তাঁর গুণাবলী, কাজ, আদেশ ও কালামসহ তিনি স্রষ্টা ও অস্তিত্বদানকারী। তিনি সৃষ্ট নন। তাঁর কাজ, আদেশ ও সৃষ্টি এবং অস্তিত্ব দানে যা হয়, তা হলো কর্ম, সৃষ্ট ও অস্তিত্ব লাভকারী বস্তু। ৭৪৫২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মাইমূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটালাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে ছিলেন। রাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কেমন হয় তা দেখার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কথা বললেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ কিংবা শেষের কিছু অংশ বাকী থাকল, তিনি উঠে বসলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে.....বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য- (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৯০)। তারপর তিনি উঠে গিয়ে ওযূ ও মিস্ওয়াক করলেন। অতঃপর এগার রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। বিলাল (রাঃ) (ফজরের) সালাতের আযান দিলে তিনি দু’রাক‘আত সালাত পড়ে নিলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সহাবাদেরকে ফজরের (দু’রাক‘আত) সালাত পড়িয়ে দিলেন। [১১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 78 · #7412 - 83
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা যখন (সৃষ্টির) কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন তাঁর নিকট তাঁর আরশের ওপর লিখে দিলেন, ‘‘আমার রহমত আমার ক্রোধকে ছাড়িয়ে গেছে।’’ [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 79 · #7413 - 84
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনি ‘সত্যবাদী’ এবং ‘সত্যবাদী বলে স্বীকৃত’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন কিংবা চল্লিশ রাত একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক হয়, তারপর তেমনি সময়ে গোশতপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ্ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার করার জন্য হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশেতা তার রিযক, ‘আমল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ‘আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের ‘আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত ‘আমল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত ‘আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে। [৩২০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 80 · #7414 - 85
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিব্রীল! আপনি আমাদের সঙ্গে যে পরিমাণ সাক্ষাত করেন, তার চেয়ে বেশি সাক্ষাত করতে কিসে বাধা দেয়? এরই প্রেক্ষাপটে কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়: (ফেরেশতাগণ বলেন) ‘আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আমাদের পেছনে আছে আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা তাঁরই, আপনার প্রতিপালক কক্ষনো ভুলে যান না। (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৬৪)। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশ্নের উত্তর। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 81 · #7415 - 86
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় একটি কৃষিক্ষেত দিয়ে চলছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন একটি খেজুরের ডালের উপর ভর দিয়ে চলছিলেন। তারপর তিনি যখন ইয়াহূদীদের এক কাওমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল, তাঁকে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আবার কেউ কেউ বলল, তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করো না। শেষে তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের শাখার ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন আমি তাঁর পেছনেই ছিলাম। আমি ভাবছিলাম, তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। পরে তিনি বললেনঃ ‘‘তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, ‘রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।’’- (সূরাহ ইসরা ১৭/৮৫)। তখন তাদের একজন আরেকজনকে বলতে লাগল, বলেছিলাম তোমাদেরকে তাঁকে কোন প্রশ্ন করো না। [১২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 82 · #7416 - 87
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়্যতে যে লোক বের হয়, আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং তাঁর কলেমার বিশ্বাসই যদি তাকে বের করে থাকে, এমন লোকের জন্য আল্লাহ্ স্বয়ং যিম্মাদার হয়ে যান। হয়তো তাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, নচেৎ যে জায়গা থেকে সে বের হয়েছিল সওয়াব কিংবা গনীমতসহ তাকে সে জায়গায় ফিরিয়ে আনবেন। [৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 83 · #7417 - 88
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, কেউ যুদ্ধ করে মর্যাদার জন্য, কেউ বীরত্বের জন্য, কেউ লোক দেখানোর জন্য। এদের কার যুদ্ধটা আল্লাহর পথে হচ্ছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক আল্লাহর বাণীকে উর্দ্ধে তুলে ধরার জন্য যুদ্ধ করে, সেটাই আল্লাহর পথে। [১২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 84 · #7418 - 89
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের মধ্যে সব সময় এমন একটি দল থাকবে, যারা আল্লাহর হুকুম আসা পর্যন্ত অন্যান্য লোকের বিরুদ্ধে জয়ী থাকবে। [৩৬৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 85 · #7419 - 90
মু‘আবীয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাত হতে একটি দল সব সময় আল্লাহর হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করতে চাইবে কিংবা বিরোধিতা করবে, তারা এদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকবে। মালিক ইবনু ইয়ুখামির (রহ.) বলেন, আমি মু‘আয (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, তাঁরা হবে সিরিয়ার লোক। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) বলেন, মালিক ইবনু ইয়ুখামির (রাঃ) বলেন, তিনি মু‘আয (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তাঁরা হবে সিরিয়ার। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 86 · #7420 - 91
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মুসায়লামার কাছে একটু অবস্থান করলেন। তখন সে তার সঙ্গীদের মধ্যে ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি যদি আমার কাছে এ টুকরাটিও চাও, তা হলে আমি তোমাকে তাও তো দিচ্ছি না। তোমার সম্পর্কে আল্লাহ্ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তুমি এড়াতে পারবে না। আর যদি তুমি ফিরে যাও, তা হলে আল্লাহ্ স্বয়ং তোমাকে ধ্বংস করে দেবেন। [৩৬২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 87 · #7421 - 92
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় এক কৃষিক্ষেত কিংবা অনাবাদী জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সঙ্গে রাখা একটা খেজুরের শাখার উপর ভর দিয়ে চলছিলেন। তারপর আমরা একদল ইয়াহূদীকে অতিক্রম করছিলাম। তাদের একে অন্যকে বলতে লাগল, তাঁকে রূহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। আবার তাদের কেউ কেউ বলল, তাঁকে জিজ্ঞেস করো না। হয়তো তিনি এমন বিষয় উপস্থাপন করবেন, যা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় লাগবে। তা সত্ত্বেও তাদের কেউ বলে উঠল, আমরা অবশ্যই তাঁকে জিজ্ঞেস করব। অতঃপর তাদের একজন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে এগিয়ে প্রশ্ন করল, হে আবুল কাসিম! রূহ্ কী? এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম, তাঁর প্রতি ওয়াহী নাযিল হচ্ছে, এরপর তিনি পড়লেনঃ ‘‘তোমাকে তারা রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, ‘রূহ হচ্ছে আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (একটি হুকুম)। এ সম্পর্কে তোমাকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।’’- (সূরাহ ইসরা ১৭/৮৫)। আ‘মাশ বললেন, আয়াতে وَمَا أُوتُوا আমাদের কিরাআতে এমনটাই আছে। [১২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 88 · #7422 - 93
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদের নিয়্যত নিয়ে যে লোক বের হবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ এবং তাঁর কলেমার প্রতি বিশ্বাস ব্যতীত অন্য কিছু তাকে তার ঘর থেকে বের করেনি, তবে এমন লোকের জন্য আল্লাহ্ যামিন হয়ে যান। হয়তো তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন, নইলে সে যে সওয়াব ও গনীমাত হাসিল করেছে, তা সহ তাকে তার বাসস্থানে ফিরিয়ে আনবেন। [৩৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 89 · #7423 - 94
(وَمَا تَشَاءُونَ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ) وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ). (وَلاَ تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ). (إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ). قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيهِ نَزَلَتْ فِي أَبِي طَالِبٍ. (يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ). আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ইচ্ছা করবে না যদি না আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন- (সূরাহ আদ দাহর ৭৬/৩০)। আল্লাহর বাণীঃ তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর- (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/২৬)। কোন বিষয় সম্পর্কে কক্ষনো বল না যে, ‘ওটা আমি আগামীকাল করব ‘আল্লাহ ইচ্ছে করলে’ বলা ছাড়া- (সূরাহ কাহাফ ১৮/২৩-২৪)। আল্লাহর বাণীঃ তুমি যাকে ভালবাস তাকে সৎপথ দেখাতে পারবে না, বরং আল্লাহ্ই যাকে চান সৎ পথে পরিচালিত করেন- (সূরাহ আল-ক্বাসাস ২৮/৫৬)। সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাঃ) তাঁর পিতা মুসাইয়্যাব থেকে বলেন, উক্ত আয়াত আবূ তালিব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৮৫)। ৭৪৬৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করবে, তখন দু‘আয় দৃঢ়সংকল্প থাকবে। তোমাদের কেউই এমন কথা বলবে না, তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও। কারণ, আল্লাহকে বাধ্যকারী কেউ নেই। [৬৩৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 90 · #7424 - 95
‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও রাসূল-কন্যা ফাতিমার কাছে রাতে আসলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা সালাত আদায় করছ না? ‘আলী বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জীবন তো আল্লাহর হাতে। তিনি যখন আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগাতে চান জাগিয়ে দেন। আমি এ কথা বলার পর, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেলেন। কথার কোন উত্তর দিলেন না। যাওয়ার সময় তাঁকে উরুর ওপর হাত মেরে বলতে শুনেছি, মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্ক প্রিয়। [১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 91 · #7425 - 96
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদার শস্যক্ষেতের নরম ডগার মত। জোরে বাতাস বইলেই তার পাতা ঝুঁকে পড়ে। বাতাস শান্ত হলে, আবার সোজা হয়ে যায়। ঈমানদারদেরকে বালা-মুসিবত দিয়ে এভাবেই ঝুঁকিয়ে রাখা হয়। আর কাফেরের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছ, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। ফলে আল্লাহ্ যখন চান সেটিকে মূলসহ উপড়ে ফেলেন। [৫৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 92 · #7426 - 97
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তিনি মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের আগের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানের সময়কাল ‘আসরের সালাত ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়। তাওরাতের ধারকদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ‘আমল করল, তবে দুপুর হলে তারা অপারগ হয়ে গেল। এ জন্য তাদেরকে এক এক কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হলো। অতঃপর ইঞ্জিলের ধারকদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলো, তারা সে মোতাবেক ‘আমল করল ‘আসরের সালাত পর্যন্ত, তারপর তারা অক্ষম হয়ে পড়লে তাদেরকে দেয়া হলো এক কীরাত এক কীরাত করে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হলো। ফলে এ কুরআন মোতাবেক তোমরা আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ‘আমল করেছ। এ জন্য তোমাদেরকে দু’কীরাত দু’কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছে। তাওরাতের ধারকরা বললো, হে আমাদের প্রতিপালক! তারাতো আমলে সবচেয়ে কম আবার পারিশ্রমিকে সবচেয়ে অধিক। আল্লাহ্ তখন বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকে তোমাদের উপর কোন যুলুম করা হয়েছে কি? তারা বলল, না। তখন আল্লাহ্ বললেন, সেটি হচ্ছে আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই তাকে দিই। [৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 93 · #7427 - 98
‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়‘আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বায়‘আত এ শর্তে কবূল করছি যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমাদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী লজ্জাস্থানের ব্যাপারে কোন অপবাদ রটনা করবে না, কোন ন্যায়সঙ্গত কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের যারা এ সব পূর্ণ করবে, আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান আছে। আর কেউ এ সব জিনিসের কোনটায় জড়িয়ে পড়লে তাকে যদি সে জন্য দুনিয়ায় শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা এবং পবিত্রতা। আর যাদের দোষ আল্লাহ্ ঢেকে রাখেন সেটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন, ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 94 · #7428 - 99
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সুলাইমানের ষাটজন স্ত্রী ছিল। একদা সুলাইমান (আঃ) বললেন, আজ রাতে আমি অবশ্য অবশ্যই আমার সব স্ত্রীর কাছে যাব। যার ফলে স্ত্রীরা সবাই অবশ্যই গর্ভবতী হয়ে এক একজন অশ্বারোহী প্রসব করবে যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। অতএব সুলাইমান (রাঃ) তাঁর সব স্ত্রীর কাছে গেলেন, তবে তাদের একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউ গর্ভবতী হলো না। সেও প্রসব করলো একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি সুলাইমান (আঃ) ইনশা-আল্লাহ্ বলতেন, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীরা সবাই গর্ভবতী হত এবং এমন সন্তান প্রসব করতো যারা অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 95 · #7429 - 100
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনের কাছে প্রবেশ করলেন তার রোগের খোঁজখবর নিতে। তিনি বললেনঃ তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশা আল্লাহ্ তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। বেদুঈন করল সুস্থতা? না, বরং এটি এমন জ্বর যা একজন বেশি বুড়োকে সিদ্ধ করছে, ফলে তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তাই। [৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 96 · #7430 - 101
আবূ ক্বাতাদাহ তাঁর পিতা (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন তাঁরা সালাত থেকে ঘুমিয়ে ছিলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ আল্লাহ্ যখন ইচ্ছা করেন তোমাদের রূহ্কে নিয়ে নেন, আর যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে দেন। এরপর তারা তাদের প্রয়োজন সারলেন এবং ওযূ করলেন। এতে সূর্য উঠে সাদা রং হয়ে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠলেন, সালাত আদায় করলেন। [৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 97 · #7431 - 102
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একজন মুসলিম ও একজন ইয়াহূদী পরস্পর গালাগালি করল। মুসলিম লোকটি বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মনোনীত করেছেন। এরপর ইয়াহূদীটিও বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মূসা (আঃ)-কে মনোনীত করেছেন। এরপরই মুসলিম লোকটি হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে চড় মারল। তখন ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেল এবং তার ও মুসলিম লোকটির মধ্যে যা ঘটেছে তা জানাল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসার উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, সব মানুষ (শিঙ্গায় ফুৎকারে) অজ্ঞান হয়ে যাবে। তখন সর্বপ্রথম আমি জ্ঞান ফিরে পাব। পেয়েই দেখব, মূসা (আঃ) আরশের একপাশ ধরে আছেন। অতএব আমি জানি না, তিনি কি অজ্ঞান হয়ে আমার আগেই জ্ঞান ফিরে পেয়ে গেলেন, নাকি তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে আল্লাহ্ অজ্ঞান হওয়া থেকে মুক্ত রেখেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 98 · #7432 - 103
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জাল মাদ্বীনাহর দিকে আসবে, তখন সে দেখতে পাবে ফেরেশতাগণ মাদ্বীনাহকে পাহারা দিয়ে রেখেছে। কাজেই দাজ্জাল ও প্লেগ মাদ্বীনাহর নিকটেও আসতে পারবে না ইনশাআল্লাহ্। [১৮৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 99 · #7433 - 104
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি (খাস) দু‘আ আছে। আমার সে দু‘আটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য লুকিয়ে রাখার ইচ্ছা করছি ইনশাআল্লাহ্। [৬৩০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 100 · #7434 - 105
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এমন অবস্থায় আমাকে একটি কূপের কাছে দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি সে কূপ থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় পানি উঠালাম। তারপর আবূ কুহাফার পুত্র (আবূ বকর) তা নিলেন এবং তিনি এক বা দু’ বালতি উঠালেন। তার উঠানোতে দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর ‘উমার তা নিলেন। তখন তা বিরাট একটি বালতিতে রূপ ধারণ করল। আমি লোকের মধ্যে কোন বাহাদুরকে তার মত পানি তুলতে আর দেখিনি। এমনকি লোকেরা কূপের চারপাশ একেবারে ভিজিয়ে ফেলল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 101 · #7435 - 106
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল, তাঁর কাছে কোন যাচ্ঞাকারী কিংবা অভাবী লোক এলে তিনি সাহাবীদের বলতেন, তোমরা তার জন্য সুপারিশ কর, এর প্রতিদান পাবে। আর আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের মুখ দিয়ে তাই প্রকাশ করেন, যা তিনি চান। [১৪৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 102 · #7436 - 107
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এভাবে দু‘আ করো না, হে আল্লাহ্! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি চাইলে আমার প্রতি রহম কর। তুমি চাইলে আমাকে রিযক দাও। বরং দু‘আ প্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে দু‘আ করবে কেননা, তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার কেউ নেই। [৬৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 103 · #7437 - 108
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবনু কায়স ইবনু হিস্ন ফাযারী (রাঃ) মূসা (আঃ)-এর সঙ্গীর ব্যাপারে দ্বিমত করছিলেন যে, তিনি কি খাযির ছিলেন? এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে উবায় ইবনু কা‘ব আনসারী (রাঃ) যাচ্ছিলেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডেকে বললেন, আমি এবং আমার এ বন্ধু মূসা (আঃ)-এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্ক করেছি মূসা (আঃ) যার সঙ্গে সাক্ষাতের পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার ব্যাপারে উল্লেখ করে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের একদল লোকের মাঝে ছিলেন। এমন সময় এক লোক তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, মূসা! আপনি কি জানেন, আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন? মূসা (আঃ) বললেন, না। তারপর মূসা (আঃ)-এর কাছে ওয়াহী নাযিল হল যে, হ্যাঁ আছেন, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গে দেখা করার পথ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সুতরাং আল্লাহ্ সেজন্য একটি মাছকে নির্দেশ হিসেবে ঠিক করলেন এবং তাকে বলা হল, মাছটিকে যখন হারিয়ে ফেলবে, তখন সেদিকে ফিরে যাবে, তবে তুমি তাঁর দেখা পাবে। এরই প্রেক্ষাপটে মূসা (আঃ) সাগরে মাছের চিহ্ন ধরে খোঁজ করতে থাকলে মূসার সঙ্গীটি বলল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে (বসে) ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সেটার কথা আপনাকে বলতে শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল- (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬৩)। মূসা বলল, ‘এটাই তো সে জায়গা যেটা আমরা খুঁজছি।’ কাজেই তারা তাদের পায়ের চিহ্ন ধরে ফিরে গেল। তখন তারা পেল- (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬৪-৬৫)। তাদের এ দু’জনের ঘটনা যা ঘটেছিল, আল্লাহ্ তারই বর্ণনা দিয়েছেন। [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 104 · #7438 - 109
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা আগামী কল্য বানী কিনানা উপত্যকায় অবস্থান করব ইনশা-আল্লাহ্, যেখানে কাফিররা কুফরীর উপর দৃঢ় থাকার শপথ নিয়েছিল। তিনি (এ কথার দ্বারা) মুহাস্সাবকে উদ্দেশ্য করছিলেন। [১৫৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 105 · #7439 - 110
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফবাসীদেরকে অবরোধ করলেন। তবে তা জয় করতে পারলেন না। তখন তিনি বললেনঃ আমরা ইন্শা-আল্লাহ্ ফিরে যাব। মুসলিমগণ বলে উঠল, ‘‘আমরা ফিরে যাবো? কিন্তু জয় তো হলো না।’’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আগামীকাল সকালে লড়াই কর। পরদিন তারা লড়াই করল। অনেক লোক আহত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আমরা ইন্শা আল্লাহ্ আগামীকাল সকালে ফিরে যাব। এবার কথাটি যেন মুসলিমদেরকে আনন্দ দিল। ফলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। [৪৩৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 106 · #7440 - 111
وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ (مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ) وَقَالَ مَسْرُوقٌ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ إِذَا تَكَلَّمَ اللهُ بِالْوَحْيِ سَمِعَ أَهْلُ السَّمَوَاتِ شَيْئًا فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ وَسَكَنَ الصَّوْتُ عَرَفُوا أَنَّهُ الْحَقُّ وَنَادَوْا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُنَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَحْشُرُ اللهُ الْعِبَادَ فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ أَنَا الْمَلِكُ أَنَا الدَّيَّانُ আল্লাহ্ বলেনঃ কে সে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২৫৫)। বর্ণনাকারী মাসরুক (রহ.) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ্ যখন ওয়াহীর দ্বারা বলেন, তখন আসমানের অধিবাসীরা কিছু শুনতে পায়। তাদের অন্তর থেকে যখন ভয় দূর করে দেয়া হয় আর শব্দ স্তিমিত হয়ে যায়, তখন তারা বুঝতে পারে যে, যা ঘটেছে তা অবশ্যই একটা বাস্তব সত্য। তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করতে থাকে তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? জাবির (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উনায়স (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, আল্লাহ্ সকল বান্দাকে হাশরে সমবেত করে এমন আওয়াজে ডাকবেন যে, নিকটবর্তীদের মত দূরবর্তীরাও শুনতে পাবে। আল্লাহ্ বলবেন আমিই মহা সম্রাট, আমিই প্রতিদানকারী। ৭৪৮১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা যখন আসমানে কোন নির্দেশ জারি করেন, ফেরেশ্তারা তাঁর নির্দেশের প্রতি বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশের জন্য স্বীয় পাখাসমূহ হেলাতে থাকেন। তাদের পাখা হেলানোর শব্দটি যেন পাথরের উপর শিকলের ঝনঝনির ধ্বনি। বর্ণনাকারী বলেন, আলী এ ক্ষেত্রে শব্দটিকে সাফাওয়ান এবং অন্যরা সাফওয়ান পড়েছেন। এরপর ফেরেশ্তাদের অন্তর থেকে যখন ভীতি দূর করা হয় তখন তারা একে অপরকে বলতে থাকে, তোমাদের প্রতিপালক কী হুকুম জারি করেছেন? তাঁরা বলেন, তিনি বলেছেন, সত্য। তিনি মহান ও সর্বোচ্চ। বর্ণনাকারী ‘আলী ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فُزِّعَপড়েছেন। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেছেন যে, আমর (রহ.)-ও এভাবেই পড়েছেন। তিনি বলছেন, আমার জানা নেই, বর্ণনাকারী এরকম শুনেছেন কি না? তবে আমাদের কিরাআত এরকমই। [৪৭০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 107 · #7441 - 112
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাঁর কোন এক নবী থেকে (মধুর সুরে) যেভাবে কুরআন শুনেছেন, সেভাবে আর কিছুই তিনি শোনেননি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর এক সঙ্গী বলেছেন, يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ এর অর্থ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) উচ্চস্বরে কুরআন পড়া বোঝাতেন। [৫০২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 108 · #7442 - 113
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম (আঃ) জবাবে বলবেন, হে আল্লাহ্! তোমাদের নিকটে আমি হাযির, তোমার প্রতি আমি বহু ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অতঃপর আল্লাহ্ তাকে এ শব্দে ডাকবেন, আল্লাহ্ তোমাকে নির্দেশ করছেন, তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য একটি দলকে তুমি বের কর। [৩৩৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 109 · #7443 - 114
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন নারীর ব্যাপারে আমি এত হিংসা করিনি, যতটা খাদিজাহ (রাঃ)-এর ব্যাপারে করেছি। আর তার কারণ এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রব্ব তাঁকে আদেশ দিয়েছেন যে, খাদিজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতের একটি ঘরের খোশ খবর পৌঁছে দিন। [৩৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 110 · #7444 - 115
وَقَالَ مَعْمَرٌ وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ أَيْ يُلْقَى عَلَيْكَ وَتَلَقَّاهُ أَنْتَ أَيْ تَأْخُذُهُ عَنْهُمْ وَمِثْلُهُ (فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ) মা‘মার (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ এর অর্থ হচ্চে, তোমার উপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়। تَلَقَّاهُ أَنْتَ এর অর্থ তুমি কুরআন তাদের নিকট হতে গ্রহণ কর। যেমন বলা হয়েছে- فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ আদম (আঃ) তাঁর রবেব নিকট থেকে কয়েকটি বাক্য গ্রহণ করলেন। ৭৪৮৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিবরীলকে ডেকে বলেন, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তাই তুমিও তাকে ভালবাস। কাজেই জিবরীল (আঃ) তাকে ভালবাসেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) আসমানে এ ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ্ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন তাকে আসমানবাসীরা ভালবাসে এবং পৃথিবীবাসীদের মধ্যেও তাকে গ্রহণীয় করা হয়। [৩২০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 111 · #7445 - 116
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ফেরেশতাগণ আসেন, একদল রাতে আর একদল দিনে। তাঁরা আবার একত্রিত হন ‘আসরের সালাতে ও ফজরের সালাতে। তারপর তোমাদের মাঝে যাঁরা রাতে ছিলেন তাঁরা উপরের জগতে চলে যান। তখন আল্লাহ্ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, অথচ তিনি সবচেয়ে অধিক জানেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তখন তাঁরা বলেন, আমরা তাদেরকে সালাতরত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি আর যখন আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখনও তারা সালাতের হালাতেই ছিল। [৫৫৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 112 · #7446 - 117
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে এ খোশখবর দিল যে, আল্লাহর সঙ্গে শারীক না করে কেউ মারা গেলে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে চুরি ও যিনা করে তবুও কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদিও সে চুরি করে ও যিনা করে। [১২৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 113 · #7447 - 118
قَالَ مُجَاهِدٌ يَتَنَزَّلُ الأَمْرُ بَيْنَهُنَّ بَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَالأَرْضِ السَّابِعَةِ মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, ‘ওদের মধ্যে নেমে আসে তাঁর হুকুম’- (সূরাহ আত্ ত্বলাক (তালাক) ৬৫/১২)। সপ্তম আকাশ ও সপ্তম যমীনের মাঝখানে। ৭৪৮৮. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছেনঃ হে অমুক! যখন তুমি তোমার বিছানায় যাবে তখন বলবে, হে আল্লাহ্! আমি আমার নিজেকে তোমারই কাছে সোপর্দ করছি। আমার চেহারাকে তোমার দিকে ফিরাচ্ছি! আমার কর্ম তোমার কাছে সোপর্দ করছি। আমার নির্ভরতা তোমারই প্রতি আশা ও ভয় উভয় হালাতেই। তোমার নিকট ব্যতীত আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তির জায়গা নেই। আমি ঈমান এনেছি তোমার কিতাবের প্রতি যা তুমি নাযিল করেছ এবং তোমার নবীর প্রতি যাঁকে তুমি পাঠিয়েছ। অতঃপর এ রাতে যদি তোমার মওত হয়, তাহলে ফিত্রাতের ওপর তোমার মওত হবে। আর যদি (জীবিত থেকে) তোমার ভোর হয়, তুমি প্রতিদান পাবে। [২৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 114 · #7448 - 119
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাবের দিনে বলেছেনঃ কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ্ তুমি দলগুলোকে পরাজিত কর এবং তাদেরকে প্রকম্পিত কর। [২৯৩৩] হুমায়দী (রহ.) এর বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে....‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি.....। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 115 · #7449 - 120
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি কুরআনের আয়াতঃ ‘‘তুমি সালাতে স্বর উঁচু করবে না এবং খুবই ক্ষীণও করবে না....’’ (সূরাহ ইসরা ১৭/১১০)- এর তাফসীরে তিনি বলেন, এ আয়াতটি তখন নাযিল হয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় লুকিয়ে ছিলেন। সুতরাং যখন তিনি তাঁর স্বর উঁচু করতেন তাতে মুশরিকরা শুনে গালমন্দ করত কুরআনকে, কুরআন নাযিলকারীকে এবং যাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাঁকে। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ বললেনঃ (হে নবী) তুমি সালাতে তোমার স্বর উচ্চ করবে না, যাতে মুশরিকরা শুনতে পায়। আর তা অতি ক্ষীণও করবে না যাতে তোমার সঙ্গীরাও শুনতে না পায়। এই দু’য়ের মধ্যপথ গ্রহণ কর। তুমি স্বর উচ্চ করবে না, তারা শুনে এভাবে পাঠ করবে যেন তারা তোমা হতে কুরআন শিখতে পারে। [৪৭২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 116 · #7450 - 121
(إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ) حَقٌّ (وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ) بِاللَّعِبِ لَقَوْلٌ فَصْلٌ অর্থাৎ সত্য وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ এর অর্থ কুরআন খেল-তামাশার বিষয় নয়। ৭৪৯১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমাকে আদম সন্তান কষ্ট দেয়। কারণ তারা সময়কে গালি দেয়। পক্ষান্তরে আমিই দাহর বা কাল। কেননা আমার হাতেই সকল বিষয়। আমিই রাত ও দিনের বিবর্তন ঘটাই। [৪৮২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 117 · #7451 - 122
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ ঘোষণা করেন যে, সওম আমার জন্যই, আর আমিই এর প্রতিদান দেব। যেহেতু সে আমারই সন্তোষ অর্জনের জন্য তার প্রবৃত্তি, তার আহার ও তার পান ত্যাগ করেছে। আর সওম হল ঢাল। সওম পালনকারীর জন্য আছে দু’টি আনন্দ। এক আনন্দ হলো যখন সে ইফ্তার করে, আর এক আনন্দ হলো, যখন সে তার রবেবর সঙ্গে মিলিত হবে। আল্লাহর কাছে সওমকারীর মুখের গন্ধ মিস্কের সুগন্ধি হতেও উত্তম। [১৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 118 · #7452 - 123
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা আইউব (আঃ) বস্ত্রহীন অবস্থায় গোসল করছিলেন। তখন সোনার একদল পঙ্গপাল তাঁর ওপর পড়লে তিনি তা তাঁর কাপড়ে ভরতে থাকেন। তখন তাঁর রবব ডেকে বললেনঃ হে আইউব! তুমি যা দেখছ, তাত্থেকে তোমাকে কি আমি অভাবহীন করি নি? আইউব (আঃ) বললেন, হ্যাঁ হে আমার রবব! তবে তোমার বরকত থেকে আমি অভাবহীন নই। [২৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 119 · #7453 - 124
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের রব্ব প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকে তখন পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, আমার কাছে যে দু‘আ করবে, আমি তার দু‘আ কবূল করব। আমার কাছে যে চাইবে, আমি তাকে দেব। আমার কাছে যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাকে আমি ক্ষমা করে দেব। [১১৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 120 · #7454 - 125
হাদীসটির এ সনদে আরো আছে যে, আল্লাহ্ বলেনঃ তুমি খরচ কর, তাহলে আমিও তোমার ওপর খরচ করব। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ শেষাংশ)
Book 97 · Hadith 0 · #7455 - 126
হাদীসটির এ সনদে আরো আছে যে, আল্লাহ্ বলেনঃ তুমি খরচ কর, তাহলে আমিও তোমার ওপর খরচ করব। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ শেষাংশ)
Book 97 · Hadith 121 · #7456 - 127
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। জিব্রীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, এই তো খাদীজাহ আপনার জন্য একটি পাত্রে খাবার নিয়ে এসেছেন। বর্ণনাকারী সন্দেহে বলেছেন, অথবা পাত্র নিয়ে এসেছেন, অথবা পানীয় নিয়ে এসেছেন। আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম বলুন। আর তাঁকে এমন একটি মোতির তৈরি প্রাসাদের খোশখবর দিন, যেখানে চেঁচামেচি বা কষ্ট থাকবে না। [৩৮২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 122 · #7457 - 128
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ ঘোষণা করলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি, কোন মানুষের কল্পনায়ও আসেনি। [৩২৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 123 · #7458 - 129
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন তখন এ দু‘আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! সব প্রশংসা একমাত্র তোমারই, তুমিই আসমান ও যমীনের জ্যোতি। তোমারই সমস্ত প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীনের একমাত্র পরিচালক। তোমারই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে সব কিছুর রব। তুমি মহাসত্য। তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য। তোমার বাণী সত্য। তোমার সাক্ষাৎ সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। নবীগণ সত্য। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সত্য। হে আল্লাহ্! তোমারই জন্য আনুগত্য স্বীকার করি। তোমারই প্রতি ঈমান আনি। তোমারই ওপর ভরসা করি এবং তোমারই দিকে ফিরি। তোমারই জন্য বিতর্ক করি। তোমার কাছেই আমি সিদ্ধান্ত চাই। কাজেই আমার আগের ও পরের গোপনীয় ও প্রকাশ্য যাবতীয় গুনাহ্ ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমার একমাত্র মাবূদ। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। [১১২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 124 · #7459 - 130
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস ও ‘উবায়দুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘটনার ব্যাপারে বর্ণনা করেন। যখন অপবাদ রটনাকারীরা তাঁর ব্যাপারে যা বলার তা বলল, তখন আল্লাহ্ তাদের অপবাদ থেকে তাঁকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে হাদীসটির কিছু কিছু অংশ আমাকে বর্ণনা করেছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি ধারণাও করিনি যে, আল্লাহ্ আমার পবিত্রতার পক্ষে এমন ওয়াহী নাযিল করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার মান-সম্মান আমার কাছে এর চেয়ে কম ছিল যে, আল্লাহ্ আমার ব্যাপারে এমন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। তবে আমি আশা করতাম যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে এমন কিছু দেখবেন, যদ্দ্বারা আল্লাহ্ আমার পবিত্রতা ঘোষণা করবেন। কিন্তু আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ যারা অপবাদ রটনা করেছে .... থেকে দশটি আয়াত (সূরাহ আন্-নূর ১০/২১)। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 125 · #7460 - 131
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ঃ আল্লাহ্ বলেন, আমার বান্দা কোন গুনাহর কাজ করতে চাইলে তা না করা পর্যন্ত তার গুনাহ্ লেখো না। আর যদি তা করেই ফেলে, তাহলে তা সমপরিমাণ লেখো। আর যদি আমার (মাহাত্ম্যের) কারণে তা ত্যাগ করে, তাহলে তার পক্ষে একটি নেকী লেখো এবং যদি বান্দা কোন ভাল কাজের ইচ্ছা করল কিন্তু তা না করে, তবুও তোমরা তার জন্য একটি নেকী লেখো। তারপর যদি তা করে, তবে তোমরা তার জন্য কাজটির দশ গুণ থেকে সাত’শ গুণ পর্যন্ত লেখো। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 126 · #7461 - 132
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ সৃষ্টিকে পয়দা করলেন। তারপর যখন তিনি এর থেকে অবসর হলেন তখন ‘রাহীম’ (আত্মীয়তার বন্ধন) উঠে দাঁড়াল। আল্লাহ্ সেটিকে বললেন, তুমি থাম। ‘আত্মীয়তার বন্ধন’ তখন বলল, আমাকে ছিন্নকারী থেকে আশ্রয় চাওয়ার জায়গা এটা। এতে আল্লাহ্ ঘোষণা করলেন, তুমি কি এতে রাযী নও যে, লোক তোমার সঙ্গে সৎভাব রাখবে আমিও তার সঙ্গে সৎভাব রাখব আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব? সে বলল, আমি এতে সন্তুষ্ট, হে আমার প্রতিপালক! আল্লাহ্ বললেনঃ তা-ই তোমার জন্য। তারপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ الاية ক্ষমতা পেলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।’’ (সূরাহ মুহাম্মাদ ৪৭/২২)। [৪৮৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 127 · #7462 - 133
যায়দ ইবনু খালিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় একবার বৃষ্টি হলো। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ বলছেন, (বৃষ্টি হওয়ার ব্যাপার নিয়ে) আমার বান্দাদের কতক আমার সঙ্গে কুফরী করছে, আর কতক ঈমান এনেছে। [৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 128 · #7463 - 134
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেন, আমার বান্দা আমার সাক্ষাত পছন্দ করলে আমিও তার সাক্ষাত পছন্দ করি। আর সে আমার সাক্ষাত অপছন্দ করলে, আমিও তার সাক্ষাত অপছন্দ করি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 129 · #7464 - 135
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেনঃ আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণার মতই ব্যবহার করে থাকি। [৭৪০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 130 · #7465 - 136
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক লোক কোন ভাল ‘আমল করেনি। মৃত্যুর সময় সে বলল, মারা যাওয়ার পর তোমরা তাকে পুড়িয়ে ফেল। আর অর্ধেক স্থলে আর অর্ধেক সাগরে ছড়িয়ে দাও। সে আরো বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ্ যদি তাকে পেয়ে যান তাহলে অবশ্য অবশ্যই তাকে এমন শাস্তি দেবেন, যা তামাম জগতের আর কাউকে দেবেন না। তারপর আল্লাহ্ সাগরকে হুকুম দিলে সাগর তাতে যা ছিল তা একত্রিত করল। স্থলকে হুকুম দিলে সেও তাতে যা ছিল তা একত্রিত করল। তারপর আল্লাহ্ বললেনঃ তুমি কেন এরকম করলে? সে উত্তর করল, তোমার ভয়ে। আর তুমি অধিক জান। এ কারণে আল্লাহ্ তাকে মাফ করে দিলেন। [৩৪৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 131 · #7466 - 137
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, এক বান্দা গুনাহ্ করল। বর্ণনাকারী أَصَابَ ذَنْبًا না বলে কখনো أَذْنَبَ ذَنْبًا বলেছেন। তারপর সে বলল, হে আমার রবব! আমি তো গুনাহ্ করে ফেলেছি। বর্ণনাকারী أَذْنَبْتُ -এর স্থলে কখনো أَصَبْتُ বলেছেন। তাই আমার গুনাহ্ ক্ষমা করে দাও। তার প্রতিপালক বললেনঃ আমার বান্দা কি একথা জেনেছে যে, তার রয়েছে একজন রবব যিনি গুনাহ্ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমার বান্দাকে আমি মাফ করে দিলাম। তারপর সে আল্লাহর ইচ্ছে অনুযায়ী কিছুকাল অবস্থান করল এবং সে আবার গুনাহতে জড়িয়ে গেল। বর্ণনাকারীর সন্দেহ أَصَابَ ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। বান্দা আবার বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আবার গুনাহ্ করে বসেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ্ তুমি মাফ করে দাও। তখন আল্লাহ্ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার আছে একজন রবব যিনি গুনাহ্ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। এরপর সে বান্দা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুকাল সে অবস্থায় থাকল। আবারও সে গুনাহতে জড়িয়ে গেল। এখানে أَصَابَ ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। সে বলল, হে আমার রবব! আমি তো আরো একটি গুনাহ্ করে ফেলেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ্ মাফ করে দাও। তখন আল্লাহ্ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার একজন রবব আছেন, যিনি গুনাহ্ মাফ করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমি আমার এ বান্দাকে মাফ করে দিলাম। এরকম তিনবার বললেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 132 · #7467 - 138
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগের যুগের এক লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাদের আগে যারা ছিলেন তাদের এক লোক। তিনি তার ব্যাপারে বললেন, অর্থাৎ আল্লাহ্ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করলেন। যখন তার মৃত্যু হাজির হল তখন সে তার সন্তানদেরকে বলল, আমি তোমাদের জন্য কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলল, উত্তম পিতা। তখন সে বলল, সে আল্লাহর কাছে কোন নেক ‘আমল রেখে যেতে পারেনি। এখানে لَمْ يَبْتَئِرْ কিংবা لَمْ يَبْتَئِزْ বলা হয়েছে। অতএব, আল্লাহ্ (তার উপর) সমর্থ হলে, অবশ্যই তাকে আযাব দিবেন। অতএব তোমরা লক্ষ্য রাখবে, আমার মওত হলে তোমরা আমাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেবে। এরপর যখন আমি কয়লা হয়ে যাব, তখন ছাই করে ফেলবে। বর্ণনাকারী এখানে فَاسْحَقُونِي কিংবা فاسْحَكُوْنِي বলেছেন। তারপর যেদিন প্রচন্ড বাতাসের দিন হবে সেদিন বাতাসে ছড়িয়ে দেবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পিতা এ বিষয়ে ছেলেদের নিকট থেকে ও‘য়াদা নিল। আমার রবেবর শপথ! ছেলেরা তাই করল। এক প্রচন্ড বাতাসের দিনে তাকে ছড়িয়ে দিল। তারপর মহান আল্লাহ্ নির্দেশ দিলেন। তুমি অস্তিত্বে এসে যাও তক্ষুণি সে উঠে দাঁড়াল। মহান আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার বান্দাহ্! তুমি যা করেছ তা কেন করলে? সে উত্তর দিল, তোমার ভয়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এর বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দিলেন। রাবী আবার অন্য বর্ণনায় বলেছেনঃ আল্লাহ্ ক্ষমা দ্বারাই এর বিনিময় দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীস আবূ উসমানের কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আমি হাদীসটি সালমান (রাঃ) থেকে শুনেছি। তবে তিনি এটুকু যোগ করেছেন, اَذْرُونِي فِي الْبَحْر আমাকে সমুদ্রে ছড়িয়ে দাও। রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন, অথবা যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৯) মুতামির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি لَمْ يَبْتَئِرْ - বর্ণনা করেছেন। [৩৪৭৮] খালীফা (রহ.) মুতামির থেকে لَمْ يَبْتَئِزْ বর্ণনা করেছেন। ক্বাতাদাহ (রহ.) এ সবের বিশ্লেষণ করেছেন لَمْ يَدَّخِرْ অর্থাৎ ‘সঞ্চয় করেনি’ দ্বারা। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 133 · #7468 - 139
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন যখন আমাকে সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে তখন আমি বলব, হে আমার রবব! যার অন্তরে এক সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করাও। তারপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তারপর আমি বলব, তাকেও জান্নাতে প্রবেশ করাও, যার অন্তরে সামান্য ঈমানও আছে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের আঙুলগুলো যেন এখনো দেখছি। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 134 · #7469 - 140
মা’বাদ ইবন হিলাল আল আনাযী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বসরাবাসী কিছু লোক একত্রিত হয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। আমাদের সঙ্গে সাবিত (রাঃ)-কে নিলাম, যাতে তিনি আমাদের কাছে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত শাফাআত সম্পর্কিত হাদীস জিজ্ঞেস করেন। আমরা তাঁকে তাঁর মহলেই চাশতের সালাতরত পেলাম। তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি তাঁর বিছানায় উপবিষ্ট অবস্থায় আছেন। অতঃপর আমরা সাবিত (রাঃ)-কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন শাফাআতের হাদীসটি জিজ্ঞেস করার পূর্বে অন্য কিছু জিজ্ঞেস না করেন। তখন সাবিত (রাঃ) বললেন, হে আবূ হামযাহ! এরা বস্রাবাসী আপনার ভাই, তারা শাফাআতের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছে। অতঃপর আনাস (রাঃ) বললেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই তারা আদম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, আমাদের জন্য আপনার রবেবর নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ এ কাজের জন্য আমি নই। বরং তোমরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও। কারণ, তিনি হলেন আল্লাহর খলীল। তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি এ কাজের জন্য নই। তবে তোমরা মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। কারণ তিনি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন তারা মূসা (আঃ)- এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। কারণ তিনিই আল্লাহর রূহ ও বাণী। তারা তখন ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলব, আমিই এ কাজের জন্য। আমি তখন আমার রবেবর নিকট অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমাকে প্রশংসাসূচক বাক্য ইলহাম করা হবে যা দিয়ে আমি আল্লাহর প্রশংসা করব, যেগুলো এখন আমার জানা নেই। আমি সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে প্রশংসা করব এবং সিজদা্য় পড়ে যাব। তখন আমাকে বলা হবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। তুমি বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। তখন আমি বলবো, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! বলা হবে, যাও, যাদের হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দাও। আমি গিয়ে এমনই করব। তারপর আমি ফিরে আসব এবং পুনরায় সেসব প্রশংসা বাক্য দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করবো এবং সিজদা্য় পড়ে যাবো। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। তখনো আমি বলব, হে আমার রবব! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! তখন বলা হবে, যাও, যাদের এক অণু কিংবা সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের কর। আমি গিয়ে তাই করব। আমি আবার ফিরে আসব এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করবো। আর সিজদা্য় পড়ে যাবো। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। আমি তখন বলবো, হে আমার রবব, আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! এরপর আল্লাহ্ বলবেন, যাও, যাদের অন্তরে সরিষার দানার চেয়েও অতি ক্ষুদ্র পরিমাণও ঈমান আছে, তাদেরকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আমি যাবো এবং তাই করবো। আমরা যখন আনাস (রাঃ)-এর নিকট থেকে বের হয়ে আসছিলাম, তখন আমি আমার সঙ্গীদের কোন একজনকে বললাম, আমরা যদি আবূ খলীফার বাড়িতে নিজেকে গোপনে রাখা হাসান বস্রীর কাছে গিয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি তাঁর কাছে বর্ণনা করতাম। এরপর আমরা হাসান বস্রীর কাছে এসে তাঁর কাছে অনুমতি চাওয়ার সালাম দিলাম। তিনি আমাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। আমরা তাঁকে বললাম, হে আবূ সা‘ঈদ! আমরা আপনারই ভাই আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট হতে আপনার কাছে আসলাম। শাফাআত বিষয়ে তিনি যেমন বর্ণনা দিয়েছেন, তেমন বর্ণনা করতে আমরা আর কাউকে দেখিনি। তিনি বললেন, আমার কাছে সেটি বর্ণনা কর। আমরা তাঁকে হাদীসটি বর্ণনা করে শোনালাম। এরপর আমরা শেষখানে এসে বর্ণনা শেষ করলাম। তিনি বললেন, আরো বর্ণনা কর। আমরা বললাম, তিনি তো এর অধিক আমাদের কাছে বর্ণনা দেননি। তিনি বললেন, জানি না, তিনি কি ভুলেই গেলেন, না তোমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলে বাকীটুকু বর্ণনা করতে অপছন্দ করলেন। বিশ বছর আগে যখন তিনি শক্তি সামর্থ্যে ও স্মরণশক্তিতে দৃঢ় ছিলেন, তখন আমার কাছেও হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। আমরা বললাম, হে আবূ সা‘ঈদ! আমাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করুন। তিনি হাসলেন এবং বললেন, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, খুব বেশি সত্বরতা প্রিয় করে। আমি তো বর্ণনার উদ্দেশেই তোমাদের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন, আমার কাছেও তা বর্ণনা করেছেন, তবে পরে এটুকুও বলেছিলেন, আমি চতুর্থবার ফিরে আসবো এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করব এবং সিজদায় পড়ে যাবো। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। শাফাআত কর, গ্রহণ করা হবে। আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাদের সম্পর্কে শাফাআত করার অনুমতি দান কর, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলেছে। তখন আল্লাহ্ বলবেন, আমার ইয্যত, আমার পরাক্রম, আমার বড়ত্ব ও আমার মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলেছে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করব। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 135 · #7470 - 141
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবশেষে জান্নাতে প্রবেশকারী এবং জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে পরিত্রাণ পাওয়া লোকটি জাহান্নাম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসবে। তার রব্ব তাকে বলবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবে, হে আমার রব্ব! জান্নাত তো পরিপূর্ণ! আল্লাহ্ এভাবে তাকে তিনবার বলবেন। প্রত্যেকবারই সে উত্তর দেবে, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। পরিশেষে আল্লাহ্ তাকে বলবেন, তোমার জন্য আছে এ পৃথিবীর চেয়ে দশ গুণ (বড়)। [৬৫৭১; মুসলিম ১/৮৪, হাঃ ১৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 136 · #7471 - 142
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রবব অতি সত্বর কথা বলবেন। তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন তর্জমাকারী থাকবে না। এরপর সে তাকাবে ডান দিকে, তখন তার আগের ‘আমল ব্যতীত সে আর কিছু দেখবে না। আবার তাকাবে বাম দিকে, তখনো আগের ‘আমল ব্যতীত আর কিছু সে দেখবে না। আর সামনে তাকাবে তখন সে জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না। কাজেই জাহান্নামকে ভয় কর এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও। বর্ণনাকারী আ‘মাশ (রহ.) ...... খায়সামা (রহ.) থেকে অনুরূপই বর্ণনা দিয়েছেন। তবে তিনি وَلَوْ بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ ‘‘যদি পবিত্র কথার বদলেও হয়’’ কথাটুকু যোগ করেছেন। [১৪১৩; মুসলিম ১২/১৯, হাঃ ১০১৬, আহমাদ ১৮২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 137 · #7472 - 143
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী বিদ্বান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ আসমানসমূহকে এক আঙ্গুলে, পৃথিবীকে এক আঙ্গুলে, পানি ও কাদামাটি এক আঙ্গুলে এবং বাকী সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে উঠিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে বলবেন, আমিই রাজাধিরাজ, আমিই রাজাধিরাজ। আমি তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, তিনি তার কথার সমর্থনে তাজ্জব হয়ে এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের বাণী পড়লেনঃ وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ ‘‘তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করেনি’’- (সূরাহ আন‘আম ৬/৯১)। وَالْأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ ....... عَمَّا يُشْرِكُونَ ‘‘কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্ঠিতে থাকবে, আর আকাশমন্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। মাহাত্ম্য তাঁরই, তারা যাদেরকে তাঁর শারীক করে তিনি তাদের বহু ঊর্ধ্বে।’’- (সূরাহ আয্ যুমার ৩৯/৬৭)। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 138 · #7473 - 144
সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গোপন কথাবার্তা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আপনি কী বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, তোমাদের কেউ তার রবেবর নিকটবর্তী হলে তিনি তাঁর ওপর রহমতের ছায়া বিস্তার করে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি এ কাজ করেছ? সে বলল, হ্যাঁ। আল্লাহ্ আবারো জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি এ কাজ করেছ? সে তখনো বলবে, হ্যাঁ। আল্লাহ্ এভাবে তার স্বীকারোক্তি নেবেন। তারপর আল্লাহ্ বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার ওসব কাজ গোপন রেখেছিলাম। আমি আজকেও তোমার জন্য তা ক্ষমা করে দিলাম। [২৪৪১] আদম (রহ.) .... ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 139 · #7474 - 145
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম ও মূসা (আঃ) বিতর্ক করলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি সেই আদম, যিনি নিজ সন্তানদের জান্নাত থেকে বের করে দিলেন। আদম (আঃ) বললেন, আপনি হচ্ছেন সেই মূসা, যাকে আল্লাহ্ রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করলেন এবং যার সঙ্গে কথা বলে তাঁর মর্যাদাকে বাড়িয়ে দিলেন। আপনি এমন একটি ব্যাপারে কেন আমাকে অভিযুক্ত করছেন, আমাকে পয়দা করারও আগে যেটি নির্ধারিত হয়ে গেছে। এভাবে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর ওপর বিজয়ী হলেন। [৩৪০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 140 · #7475 - 146
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন ঈমানদারদেরকে একত্রিত করা হবে। তখন তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবেবর কাছে সুপারিশ নিয়ে যাই তাহলে তিনি আমাদেরকে এ জায়গাটি থেকে স্বস্তি দিবেন। তখন তারা আদম (আঃ)-এর কাছে এসে আবেদন জানাবে, আপনি মানব বংশের পিতা আদম। আল্লাহ্ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন আপন হাতে। এবং তাঁর ফেরেশ্তাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন। আর সব জিনিসের নাম আপনাকে শিখিয়েছেন। তাই আপনি আমাদের রবেবর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, তিনি যেন আমাদের স্বস্তি দেন। তখন আদম (আঃ) তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের জন্য নই। তারপর তিনি তাদের কাছে নিজের সে ভুলের কথা বলবেন, যা তিনি করেছিলেন। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 141 · #7476 - 147
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক রাতে কা‘বার মাসজিদ থেকে সফর করানো হয়। বিবরণটি হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়ে ওয়াহী পাঠানোর আগে তাঁর কাছে তিনজন ফেরেশতার একটা জামা‘আত আসল। অথচ তখন তিনি মাসজিদুল হারামে ঘুমিয়ে ছিলেন। এদের প্রথম জন বলল, তিনি কে? মধ্যের জন বলল, তিনি এদের সব চেয়ে ভাল লোক। সর্বশেষ জন বলল, তা হলে তাদের সব চেয়ে ভাল লোকটিকেই নিয়ে চল। সে রাতের ঘটনা এতটুকুই। এ জন্য তিনি আর তাদেরকে দেখেননি। শেষে তারা অন্য এক রাতে আসলেন, যা তিনি অন্তর দ্বারা দেখছিলেন। তাঁর চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না। সে রকম অন্য নবীগণের (আঃ) চোখ ঘুমিয়ে থাকে, অন্তর ঘুমায় না। এ রাতে তারা তাঁর সঙ্গে কোন কথা না বলে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যমযম কূপের কাছে রাখলেন। জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথীদের থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব নিলেন। জিবরীল (আঃ) তাঁর গলায় নিচ হতে বুক পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন এবং তাঁর বুক ও পেট থেকে সবকিছু নেড়েচেড়ে যমযমের পানি দ্বারা নিজ হাতে ধৌত করেন। সেগুলোকে পরিস্কার করলেন, তারপর সোনার একটি তশ্তরী আনা হল। এবং তাতে ছিল একটি সোনার পাত্র যা পরিপূর্ণ ছিল ঈমান ও হিক্মাতে। তাঁর বুক ও গলার রগগুলো এর দ্বারা পূর্ণ করলেন। তারপর সেগুলো যথাস্থানে রেখে বন্ধ করে দিলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে পৃথিবীর আসমানের দিকে উঠলেন। আসমানের দরজাগুলো হতে একটি দরজাতে নাড়া দিলেন। ফলে আসমানবাসীগণ তাঁকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? তিনি উত্তরে বললেন, জিব্রীল। তারা আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, আমার সঙ্গে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তাঁরা বললেন, মারহাবান ওয়া আহলান (আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি আপনজনের মধ্যে এসেছেন)। তাঁর আগমনে আসমানবাসীরা খুবই আনন্দিত। আল্লাহ্ যমীনে কী করতে চাচ্ছেন, তা আসমানবাসীদেরকে না জানানো পর্যন্ত তারা জানতে পারে না। দুনিয়ার আসমানে তিনি আদম (আঃ)-কে পেলেন। জিবরীল (আঃ) তাঁকে দেখিয়ে বললেন, তিনি আপনার পিতা, তাঁকে সালাম দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সালাম দিলেন। আদম (আঃ) তাঁর সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন, মারহাবান ওয়া আহলান হে আমার পুত্র! তুমি আমার কতইনা উত্তম পুত্র। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি প্রবহমান নদী দুনিয়ার আসমানে দেখলেন। জিজ্ঞেস করলেন, এ নদী দু’টি কোন নদী হে জিবরীল! জিবরীল (আঃ) বললেন, এ দু’টি হলো নীল ও ফুরাতের মূল। এরপর জিবরীল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সঙ্গে নিয়ে এ আসমানে ঘুরে বেড়ালেন। তিনি আরো একটি নদী দেখলেন। এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল মোতি ও জাবারজাদের তৈরি একটি প্রাসাদ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নদীতে হাত মারলেন। সেটা ছিল অতি উন্নতমানের মিস্ক। তিনি বললেন, হে জিব্রীল! এটি কী? জিবরীল (আঃ) বললেন, হাউযে কাউসার। যা আপনার রব আপনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সঙ্গে করে দ্বিতীয় আসমানে গেলেন। প্রথম আসমানের ফেরেশ্তাগণ তাঁকে যা বলেছিলেন এখানেও তা বললেন। তারা জানতে চাইল, তিনি কে? তিনি বললেন, জিবরীল! তাঁরা বললেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁরা বললেন, তাঁর কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁরা বললেন, মারহাবান ওয়া আহলান। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সঙ্গে করে তিনি তৃতীয় আসমানের দিকে গেলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় আসমানের ফেরেশতারা যা বলেছিলেন, তৃতীয় আসমানের ফেরেশতারাও তাই বললেন। তারপর তাঁকে সঙ্গে করে তিনি চতুর্থ আসামনের দিকে গেলেন। তাঁরাও তাঁকে আগের মতই বললেন। তারপর তাঁকে নিয়ে তিনি পঞ্চম আসমানে গমন করলেন। তাঁরাও পূর্বের মতো বললেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দিকে গেলেন। সেখানেও ফেরেশতারা আগের মতই বললেন। সর্বশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে সপ্তম আসমানে গেলে সেখানেও ফেরেশ্তারা তাঁকে আগের ফেরেশতাদের মতো বললেন। প্রত্যেক আসমানেই নবীগণ রয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাম উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে আমি সংরক্ষিত করেছি যে, দ্বিতীয় আসমানে ইদরীস (আঃ), চতুর্থ আসমানে হারুন (আঃ), পঞ্চম আসমানে অন্য একজন নবী, যার নাম আমি স্মরণ রাখতে পারি নি। ষষ্ঠ আসমানে রয়েছে ইব্রাহীম (আঃ) এবং আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার মর্যাদার কারণে মূসা (আঃ) আছেন সপ্তম আসমানে। সে সময় মূসা বললেন, হে আমার রবব। আমি তো ধারণা করিনি আমার ওপর কাউকে উচ্চমর্যাদা দান করা হবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এত উপরে উঠানো হলো, যে ব্যাপারে আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউই জানে না। শেষে তিনি ‘সিদরাতুল মুনতাহায়’ পৌঁছলেন। এখানে প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাঁর নিকটবর্তী হলেন। অতি নিকটবর্তীর ফলে তাঁদের মাঝে দু’ধনুকের ফারাক রইল অথবা তারও কম। তখন আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ওয়াহী পাঠালেন। অর্থাৎ তাঁর উম্মাতের উপর রাত ও দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের কথা ওয়াহীযোগে পাঠানো হলো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামলেন। আর মূসার কাছে আসলে মূসা (আঃ) তাঁকে আটকিয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার রবব আপনাকে কী নির্দেশ দিলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাত ও দিনে পঞ্চাশ বার সালাত আদায়ের। তখন মূসা (আঃ) বললেন, আপনার উম্মাত তা আদায় করতে পারবে না। কাজেই আপনি ফিরে যান, তাহলে আপনার রবব আপনার এবং আপনার উম্মাত হতে এ আদেশটি সহজ করে দেবেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ) এর দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন তিনি এ ব্যাপারে তাঁর থেকে পরামর্শ চাচ্ছিলেন। জিবরাঈল (আঃ) তাঁকে ইশারায় বললেন হ্যাঁ, আপনি ইচ্ছে করলে তা হতে পারে। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে প্রথমে আল্লাহর কাছে গেলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথাস্থানে থেকে বললেন, হে আমার রবব! আমার উম্মাত এটি আদায় করতে পারবে না। তখন আল্লাহ্ দশ ওয়াক্ত সালাত কমিয়ে দিলেন। এরপর মূসা (আঃ)-এর কাছে ফিরে আসলে তিনি তাঁকে থামালেন। এভাবেই মূসা তাঁকে তাঁর রবেবর কাছে পাঠাতে থাকলেন। শেষে পাঁচ ওয়াক্ত বাকী থাকল। পাঁচ সংখ্যায়ও মূসা (আঃ) তাঁকে থামিয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি আমার বনী ইসরাঈল কাওমের কাছে এটা হতেও সামান্য কিছু পেতে চেয়েছি। তবু তারা দুর্বল হয়েছে এবং পরিত্যাগ করেছে। অথচ আপনার উম্মাত শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি সব দিক দিয়ে আরো দুর্বল। কাজেই আপনি আবার যান এবং আপনার রবব থেকে আদেশটি আরো সহজ করে আনুন। প্রতিবারই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরামর্শের জন্য জিবরাঈলের দিকে তাকাতেন। পঞ্চমবারেও জিবরীল তাঁকে নিয়ে যাত্রা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আমার রবব! আমার উম্মাতের শরীর, মন, শ্রবণশক্তি ও দেহ খুবই দুর্বল। তাই আদেশটি আমাদের থেকে আরো সহজ করে দিন। এরপর পরাক্রমশালী আল্লাহ্ বললেনঃ মুহাম্মাদ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আপনার নিকট উপস্থিত, বারবার উপস্থিত। আল্লাহ্ বললেন, আমার কথার কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন হয় না। আমি তোমাদের উপর যা ফরজ করেছি তা ‘উম্মুল কিতাব’ তথা লাওহে মাহ্ফুযে সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি নেক আমলের দশটি নেকী রয়েছে। উম্মুল কিতাবে সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্তই লেখা আছে। তবে আপনার ও আপনার উম্মাতের জন্য তা পাঁচ ওয়াক্ত করা হলো। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসার কাছে ফিরে আসলে মূসা (আঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি নেক আমলের বদলে দশটি সাওয়াব নির্ধারিত করেছেন। তখন মূসা (আঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি বনী ইসরাঈলের নিকট হতে এর চেয়েও অল্প জিনিসের আশা করেছি। কিন্তু তারা তাও আদায় করেনি। আপনার রবেবর কাছে আপনি আবার ফিরে যান, যেন তিনি আরো একটু কমিয়ে দেন। এবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মূসা, আল্লাহর শপথ! আমি আমার রবেবর কাছে বারবার গেছি। আবার যেতে লজ্জাবোধ করছি, যেন তাঁর সঙ্গে মতভেদ করছি। এরপর মূসা (আঃ) বললেন, নামতে পারেন আল্লাহর নামে। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন, দেখলেন, তিনি মসজিদে হারামে আছেন। [৩৫৭০; মুসলিম ১/৭৪, হাঃ ১৬২, আহমাদ ১২৫০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 142 · #7477 - 148
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ জান্নাতবাসীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তখন জান্নাতীগণ বলবেন, হে আমাদের রবব! আমরা উপস্থিত, আপনার কাছে উপস্থিত হতে পেরে আমরা ভাগ্যবান। আপনার হাতেই কল্যাণ। আল্লাহ্ বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা বললেন, হে আমাদের রবব! আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না? আপনি আর কোন সৃষ্টিকে যা দান করেননি, তা আমাদেরকে দান করেছেন। তখন আল্লাহ্ বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম বস্ত্ত দান করব না? তারা বলবেন, হে রবব! এর চেয়ে উত্তম বস্তু কোনটি? আল্লাহ্ বলবেন, তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি বিধিবদ্ধ করলাম। অতঃপর আমি তোমাদের উপর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হবো না। [৬৫৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 143 · #7478 - 149
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আলোচনায় রত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট একজন গ্রাম্য লোকও উপস্থিত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, একজন জান্নাতবাসী অনুমতি চাইবে কৃষিকাজ করার জন্য। আল্লাহ্ তাকে বলবেন, তুমি যা চাও তা কি পাওনি? সে বলবে, হ্যাঁ, পেয়েছি। তবে আমি কৃষিকাজ করতে ভালবাসি। অতি সত্বর ব্যবস্থা করা হবে। এই বীজ বোনা হবে। তক্ষুণি নিমিষে চারা গজাবে, সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং তা কাটা হবে আর তা পাহাড় সমান স্ত্তপ করা হবে। আল্লাহ্ তখন বলবেন, হে আদম সন্তান! লও। কারণ, তোমাকে কোন কিছুই পরিতৃপ্ত করবে না। তখন বেদুঈন লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ লোকটিকে আপনি কুরাইশী কিংবা আনসারী পাবেন। কারণ, তাঁরা হলেন কৃষিজীবী। আর আমরা কৃষিজীবী নই! এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। [২৩৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 144 · #7479 - 150
بَاب ذِكْرِ اللهِ بِالأَمْرِ وَذِكْرِ الْعِبَادِ بِالدُّعَاءِ وَالتَّضَرُّعِ وَالرِّسَالَةِ وَالإِبْلاَغِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى (فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ) (وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَقَامِي وَتَذْكِيرِي بِآيَاتِ اللهِ فَعَلَى اللهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوا إِلَيَّ وَلاَ تُنْظِرُونِ فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلاَّ عَلَى اللهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنْ الْمُسْلِمِينَ) غُمَّةٌ هَمٌّ وَضِيقٌ قَالَ مُجَاهِدٌ اقْضُوا إِلَيَّ مَا فِي أَنْفُسِكُمْ يُقَالُ افْرُقْ اقْضِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَإِنْ أَحَدٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلاَمَ اللهِ) إِنْسَانٌ يَأْتِيهِ فَيَسْتَمِعُ مَا يَقُولُ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ فَهُوَ آمِنٌ حَتَّى يَأْتِيَهُ فَيَسْمَعَ كَلاَمَ اللهِ وَحَتَّى يَبْلُغَ مَأْمَنَهُ حَيْثُ جَاءَهُ (النَّبَأُ الْعَظِيمُ) الْقُرْآنُ (صَوَابًا) حَقًّا فِي الدُّنْيَا وَعَمَلاً بِهِ ৯৭/৩৯. অধ্যায়: আদেশ দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ্ কর্তৃক বান্দাকে স্মরণ করা এবং দু‘আ, মিনতি, বার্তা ও বাণী প্রচারের মাধ্যমে বান্দা কর্তৃক আল্লাহকে স্মরণ করা। আল্লাহর বাণীঃ কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৫২) তাদেরকে নূহের কাহিনী শোনাও। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি আর আল্লাহর আয়াত দ্বারা তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয় (তাতে আমার কোন পরোয়া নেই) কারণ আমি ভরসা করি আল্লাহর উপর। তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, পরে তোমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের মাঝে যেন অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর আমার উপর তা কার্যকর কর আর আমাকে কোন অবকাশই দিও না। আর যদি তোমরা (আমার আহবান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও (তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না), আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছি না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহরই নিকট, আমাকে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে শামিল হওয়ারই আদেশ দেয়া হয়েছে। (সূরাহ ইউনুস ১০/৭১-৭২) غُمَّةٌ এর অর্থ বিপদ, সঙ্কট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَا فِي أَنْفُسِكُمْ اقْضُوا إِلَيَّ -এর ভাবার্থ হচ্ছে- তোমরা আমার নিকট পেশ কর তোমাদের মনে যা কিছু আছে। আরবীতে বলা হয়, افْرُقْ : اقْضِ -তুমি স্পষ্ট করে বল, তবে আমি ফায়সালা দেব। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, وَإِنْ أَحَدٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ এর ভাবার্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর অথবা কুরআনের বাণী শুনতে চাইলে সে নিরাপদ স্থানে গিয়ে পৌঁছা পর্যন্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয়প্রাপ্ত বলে স্বীকৃত। النَّبَأُ الْعَظِيمُ এর অর্থ আল-কুরআন, صَوَابًا এর অর্থ দুনিয়ায় হক (কথা) বলেছে এবং এতে (নেক) ‘আমল করেছে। وَقَالَ عِكْرِمَةُ (وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ) ( وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ) ( وَ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللهُ) فَذَلِكَ إِيمَانُهُمْ وَهُمْ يَعْبُدُونَ غَيْرَهُ. وَمَا ذُكِرَ فِي خَلْقِ أَفْعَالِ الْعِبَادِ وَأَكْسَابِهِمْ لِقَوْلِهِ تَعَالَى (وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا) وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَا تَنَزَّلُ الْمَلاَئِكَةُ إِلاَّ بِالْحَقِّ) بِالرِّسَالَةِ وَالْعَذَابِ (لِيَسْأَلَ الصَّادِقِينَ عَنْ صِدْقِهِمْ) الْمُبَلِّغِينَ الْمُؤَدِّينَ مِنْ الرُّسُلِ (وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) عِنْدَنَا (وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ) الْقُرْآنُ وَصَدَّقَ بِهِ الْمُؤْمِنُ يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ هَذَا الَّذِي أَعْطَيْتَنِي عَمِلْتُ بِمَا فِيهِ. এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইকরিমাহ (রহ.) বলেন, তাদের অধিকাংশ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁর শরীক করে- (সূরাহ ইউসুফ ১২/১০৬)। যদি তাদেরকে তুমি জিজ্ঞেস কর, আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে কে? তারা বলবে, আল্লাহ্! এটিই তাদের বিশ্বাস। অথচ তারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের ‘ইবাদাত করছে। বান্দার কর্ম ও অর্জন সবই সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। কারণ আল্লাহ্ ইরশাদ করছেন। وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا তিনি সমস্ত কিছু যথার্য পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন যথাযথ অনুপাতে- (সূরাহ আল-ফুরক্বান ২৫/২)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, আমি ফেরেশ্তাগণকে পাঠাই না হক ব্যতীত..... (সূরাহ হিজর ১৫/৮)। এখানে ‘হক’ শব্দের অর্থ রিসালাত ও আযাব। সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার জন্য- (সূরাহ আল-আহযাব ৩৩/৮)। এখানে صَّادِقِينَ শব্দের অর্থ মানুষের কাছে যেসব রাসূল আল্লাহর বাণী পৌঁছান। এবং আমিই এর সংরক্ষক- (সূরাহ হিজর ১৫/৯)। আমাদের কাছে আছে এর সংরক্ষণকারিগণ। وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ যারা সত্য এনেছে- (সূরাহ আয্ যুমার ৩৯/৩৩)। এখানে صِدْقِ এর অর্থ কুরআন, صِّدْقِ بِه এর অর্থ ঈমানদার। কিয়ামতের দিন ঈমানদার বলবে, আপনি আমাকে যা দিয়েছিলেন, আমি সে মোতাবেক ‘আমল করেছি। ৭৫২০. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শারীক করা। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটি অবশ্যই বড় গুনাহ্। এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে খাবে এ ভয়ে তাকে হত্যা করা। আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা। [৪৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 145 · #7480 - 151
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন বায়তুল্লাহর নিকট একত্রিত হলো দু’জন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দু’জন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিল বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিল কম। তাদের একজন বলল, তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি আল্লাহ্ কি সবই শুনতে পান? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ শোনেন, যদি আমরা উচ্চস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না। তৃতীয় জন বলল, যদি তিনি উচ্চস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন। এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ্ নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেনঃ ‘‘(দুনিয়ায় নিজেদের শরীরের অংশগুলোকে তোমরা) এই ভেবে গোপন করতে না যে, না তোমাদের কান, না তোমাদের চোখ আর না তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে....’’ (সূরাহ ফুস্সিলাত ৪১/২২)। [৪৮১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 146 · #7481 - 152
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ يُحْدِثُ مِنْ أَمْرِهِ مَا يَشَاءُ وَإِنَّ مِمَّا أَحْدَثَ أَنْ لاَ تَكَلَّمُوا فِي الصَّلاَةِ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ তা‘আলা নতুন কিছু নির্দেশ দানের ইচ্ছা করলে তা করেন। এ নতুন নির্দেশের মধ্যে এটিও যে, তোমরা সালাতের মধ্যে কথা বলো না। ৭৫২২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আহলে কিতাবদেরকে তাদের কিতাব সম্পর্কে কেমন করে প্রশ্ন করতে পার? অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব আছে যা অন্যান্য আসমানী কিতাবের তুলনায় আল্লাহর নিকট অগ্রগণ্য, যা তোমরা (হর-হামেশা) পাঠ করছ, যা পরিপূর্ণ খাঁটি, যাতে ভেজালের লেশ মাত্র নেই। [২৬৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 147 · #7482 - 153
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ! তোমরা কী করে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস কর? অথচ তোমাদের যে কিতাব যেটি আল্লাহ্ তোমাদের নবীর ওপর নাযিল করেছেন, তা আল্লাহর কিতাবগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপযোগী। যা সনাতন ও নির্ভেজাল। অথচ আল্লাহ্ তোমাদেরকে বলে দিয়েছেন, আহলে কিতাবগণ আল্লাহর কিতাবগুলোকে বদলে ফেলেছে, পাল্টে দিয়েছে এবং এরা নিজ হাতে লিখে দাবি করছে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এর দ্বারা তারা তুচ্ছ সুবিধা লুটতে চায়। তোমাদের কাছে যে ইল্ম আছে, তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কিছু জিজ্ঞেস করা থেকে বাধা দিচ্ছে না? আল্লাহর শপথ! তাদের কাউকে তোমাদের ওপর নাযিলকৃত বিষয় সম্পর্কে কখনো জিজ্ঞেস করতে আমি দেখি না। [২৬৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 148 · #7483 - 154
وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ تَعَالَى أَنَا مَعَ عَبْدِي حَيْثُمَا ذَكَرَنِي وَتَحَرَّكَتْ بِي شَفَتَاهُ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ বলেন, আমি আমার বান্দার সঙ্গে ততক্ষণ থাকি, যতক্ষণ সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমার জন্য তার ঠোঁট দু’টো নাড়াচাড়া করে। ৭৫২৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘কুরআনের কারণে আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না’, এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই কষ্টের অবস্থার সম্মুখীন হতেন, যে কারণে তিনি তার ঠোঁট দুটি নাড়াতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে বোঝানোর জন্য ঠোঁট দু’টি সেভাবে নাড়ছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দু’টো নেড়েছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী সা‘ঈদ (রহ.) বললেন, আমিও ঠোঁট দু’টি তেমনি নেড়ে দেখাচ্ছি, যেমনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নেড়ে আমাকে দেখিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ঠোঁট দু’টি নাড়লেন। এ অবস্থায় আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ ‘‘তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহবা দ্রুততার সঙ্গে চালিত করো না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই’’- (সূরাহ আল-ক্বিয়ামহ ৭৫/১৬-১৭)। তিনি বলেন, جَمْعُهُ -এর অর্থ আপনার বুকে এভাবে সংরক্ষণ করা, যেন পরে তা পড়তে সক্ষম হন। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর- (সূরাহ আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)। এর অর্থ হচ্ছে আপনি তা শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর আপনি কুরআন পাঠ করবেন সে দায়িত্ব আমাদের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিব্রীল (আঃ) যখন আসতেন, তিনি তখন মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। জিব্রীল (আঃ) চলে গেলে তিনি ঠিক তেমনি পাঠ করতেন, যেমনি তাঁকে পাঠ করানো হয়েছিল। [৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 149 · #7484 - 155
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না, আর তা খুব নীচুও করো না..... (সূরাহ ইসরা ১৭/১১০)। এ প্রসঙ্গে বলেন, এ আদেশ যখন নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় গোপনে অবস্থান করতেন। অথচ তিনি যখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন, কুরআন উচ্চস্বরে পড়তেন। মুশরিকরা এ কুরআন শুনলে কুরআন, কুরআনের নাযিলকারী আর যিনি এনেছেন সবাইকে গালমন্দ করত। এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলে দিলেন, وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ আপনার সালাতকে এমন উচ্চস্বরে করবেন না অর্থাৎ আপনার কিরাআতকে। তাহলে মুশরিকরা শুনতে পেয়ে কুরআন সম্পর্কে গালমন্দ করবে। আর এ কুরআন আপনার সাহাবীদের কাছে এত ক্ষীণ শব্দেও পড়বেন না, যাতে আপনার কিরাআত তারা শুনতে না পায়। বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করুন। [৪৭২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 150 · #7485 - 156
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না, আর তা খুব নীচুও করো না’’ এ আয়াতটি দু‘আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৪৭২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 151 · #7486 - 157
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সুন্দর আওয়াজে কুরআন পড়ে না, সে আমাদের নয়। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ব্যতীত অন্যরা يَجْهَرُ بِهِ ‘উচ্চস্বরে কুরআন পড়ে না’ কথাটুকু বৃদ্ধি করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 152 · #7487 - 158
وَرَجُلٌ يَقُولُ لَوْ أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا فَعَلْتُ كَمَا يَفْعَلُ فَبَيَّنَ أَنَّ قِيَامَهُ بِالْكِتَابِ هُوَ فِعْلُهُ وَقَالَ (وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ) وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ (وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ) আরেক ব্যক্তি বলে, এ ব্যক্তিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তা দেয়া হতো, আমিও তেমন করতাম যেমন সে করছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ স্পষ্ট করে বলেন, লোকটির কুরআনের সঙ্গে কায়িম থাকার অর্থ তার কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তিনি বললেন, তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা- (সূরাহ আর্-রূম ৩০/২২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন, وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ সৎকর্ম কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার- (সূরাহ হাজ্জ ২২/৭৭)। ৭৫২৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যায় না। এক ব্যক্তি হচ্ছে, আল্লাহ্ যাকে কুরআন দান করেছেন, আর সে দিনরাত তা তিলাওয়াত করে। অন্য লোকটি বলে, এ লোকটিকে যা দেয়া হয়েছে, আমাকে যদি তেমন দেয়া হতো, তাহলে আমিও তেমন করতাম, সে যেমন করছে। আরেক লোক হচ্ছে সে, যাকে আল্লাহ্ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। ফলে সে তা যথাযথভাবে ব্যয় করছে। তখন অন্য লোক বলে, একে যা দেয়া হয়েছে, আমাকেও যদি তেমন দেয়া হতো, আমিও তাই করতাম, যা সে করছে। [৫০২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 153 · #7488 - 159
সালিম তার পিতা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একমাত্র দু’টি বিষয়েই হিংসা করা যায়। একজন হচ্ছে, যাকে আল্লাহ্ কুরআন দান করেছেন, আর সে তা রাতদিন তিলাওয়াত করে, আরেকজন হল, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন আর সে রাতদিন তা ব্যয় করে। [৫০২৫; মুসলিম ৬/৪৭, হাঃ ৮১৫, আহমাদ ৪৫৫০] আমি সুফ্ইয়ান (রহ.) হতে কয়েকবার শুনেছি কিন্তু তাকে الْخَبَرَ উল্লেখ করতে শুনিনি। অর্থাৎ এটি তার বিশুদ্ধ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 154 · #7489 - 160
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ مِنْ اللهِ الرِّسَالَةُ وَعَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَلاَغُ وَعَلَيْنَا التَّسْلِيمُ وَقَالَ اللهُ تَعَالَى(لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالاَتِ رَبِّهِمْ) وَقَالَ تَعَالَى( أُبْلِغُكُمْ رِسَالاَتِ رَبِّي) وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ) وَالْمُؤْمِنُونَ وَقَالَتْ عَائِشَةُ إِذَا أَعْجَبَكَ حُسْنُ عَمَلِ امْرِئٍ فَقُلْ (اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ) وَلاَ يَسْتَخِفَّنَّكَ أَحَدٌ وَقَالَ مَعْمَرٌ (ذَلِكَ الْكِتَابُ) هَذَا الْقُرْآنُ (هُدًى لِلْمُتَّقِينَ) بَيَانٌ وَدِلاَلَةٌ كَقَوْلِهِ تَعَالَى (ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ) هَذَا حُكْمُ اللهِ (لاَ رَيْبَ) لاَ شَكَّ (تِلْكَ آيَاتُ) يَعْنِي هَذِهِ أَعْلاَمُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ (حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ) يَعْنِي بِكُمْ وَقَالَ أَنَسٌ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَهُ حَرَامًا إِلَى قَوْمِهِ وَقَالَ أَتُؤْمِنُونِي أُبَلِّغُ رِسَالَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُمْ যুহরী (রহ.) বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে বার্তা পাঠানো আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেয়া (মানুষের কাছে) আর আমাদের দায়িত্ব হলো মেনে নেয়া। আল্লাহ্ বলেনঃ রাসূলগণ তাঁদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন কিনা তা জানার জন্য- (সূরাহ জ্বিন ৭২/২৮)। তিনি আরো বলেনঃ আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর বার্তাসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি। কাব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (তাবূক যুদ্ধ) থেকে পিছনে রয়ে গেলেন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আল্লাহ্ তো তোমাদের কাজকর্ম দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মু’মিনগণও- (সূরাহ আত্ তওবা ৯/১০৫)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কারো ভালো কাজে তোমাকে আনন্দিত করলে বলো, ‘আমল কর, তোমার এ ‘আমল আল্লাহ্, আল্লাহর রাসূল, সমস্ত মু’মিন দেখবেন। আর তোমাকে কেউ যেন বিচলিত করতে না পারে। মা‘মার (রহ.) বলেন, ذَلِكَ الْكِتَابُ -এর অর্থ এ কুরআন, هُدًى لِلْمُتَّقِينَ -এর অর্থ বর্ণনা করা ও পথ দেখানো। আল্লাহর এ বাণীর মত ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ -এর অর্থ এটি আল্লাহর হুকুম। لاَ رَيْبَ -এর অর্থ এতে কোন সন্দেহ নেই। تِلْكَ آيَاتُ অর্থাৎ এগুলো কুরআনের নিদর্শন। এর দৃষ্টান্ত আল্লাহরই বাণীঃ যখন তোমরা নৌকায় অবস্থান করো আর চলতে থাকে সেগুলো তাদের নিয়ে। এখানে بِهِمْ এর অর্থ بِكُمْ অর্থাৎ তোমাদের নিয়ে। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মামা হারমকে তাঁর কাওমের কাছে পাঠালেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর কি? আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। এই বলে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন ৭৫৩০ মুগীরাহ (রাঃ) বলেন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আমাদের রবেবর বার্তা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে আমাদের মধ্য থেকে যে, নিহত হবে, সে জান্নাতে চলে যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 155 · #7490 - 161
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাকে যে বলবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ওয়াহীর) কিছু বিষয় গোপন করেছেন। মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন.....‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, যে লোক তোমার কাছে বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর কোন কিছু গোপন করেছেন, তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। আল্লাহ্ বলেনঃ হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬৭)। [৩১৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 156 · #7491 - 162
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে কোন্ গুনাহ্টি সব চেয়ে বড়? তিনি বললেনঃ আল্লাহর বিপরীতে কাউকে ডাকা অথচ তিনিই (আল্লাহ্) তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, এরপর কোন্টি? তিনি বললেনঃ এরপর তোমার সঙ্গে আহার করবে এ ভয়ে (তোমার) সন্তানকে হত্যা করা। সে বলল, এরপর কোন্টি? তিনি বললেনঃ এরপর তোমাদের প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা। এরই সমর্থনে আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ্কে ডাকে না। আর যথার্থতা ব্যতীত কোন প্রাণ হত্যা করে না যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন আর তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে। তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে..... (সূরাহ আল-ফুরক্বান ২৫/৬৮)। [৪৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 157 · #7492 - 163
وَقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيَ أَهْلُ التَّوْرَاةِ التَّوْرَاةَ فَعَمِلُوا بِهَا وَأُعْطِيَ أَهْلُ الإِنْجِيلِ الإِنْجِيلَ فَعَمِلُوا بِهِ وَأُعْطِيتُمْ الْقُرْآنَ فَعَمِلْتُمْ بِهِ وَقَالَ أَبُو رَزِينٍ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاَوَتِهِ يَتَّبِعُونَهُ وَيَعْمَلُونَ بِهِ حَقَّ عَمَلِهِ يُقَالُ يُتْلَى يُقْرَأُ حَسَنُ التِّلاَوَةِ حَسَنُ الْقِرَاءَةِ لِلْقُرْآنِ لاَ يَمَسُّهُ لاَ يَجِدُ طَعْمَهُ وَنَفْعَهُ إِلاَّ مَنْ آمَنَ بِالْقُرْآنِ وَلاَ يَحْمِلُهُ بِحَقِّهِ إِلاَّ الْمُوقِنُ لِقَوْلِهِ تَعَالَى (مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللهِ وَاللهُ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ) وَسَمَّى النَّبِيُّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الإِسْلاَمَ وَالإِيمَانَ وَالصَّلاَةَ عَمَلاً قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلاَلٍ أَخْبِرْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الإِسْلاَمِ قَالَ مَا عَمِلْتُ عَمَلاً أَرْجَى عِنْدِي أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ إِلاَّ صَلَّيْتُ وَسُئِلَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ الْجِهَادُ ثُمَّ حَجٌّ مَبْرُورٌ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তাওরাত ওয়ালাদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ‘আমল করল। ইঞ্জিল ওয়ালাদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারাও সে মোতাবেক ‘আমল করল। তোমাদেরকে দেয়া হলো কুরআন, সুতরাং তোমরা এ মোতাবেক ‘আমল কর। আবূ রাযীন (রহ.) বলেন يَتْلُونَه -এর অর্থ তাঁর হুকুমকে যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে অনুসরণ করা। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, يُتْلَى অর্থ। يُقْرَأُ পাঠ করা হয়। حَسَنُ التِّلاَوَةِ অর্থাৎ কুরআন সুন্দরভাবে পাঠ করা। لاَ يَمَسُّهُ এর অর্থ কুরআনের স্বাদ ও উপকারিতা কুরআনের বিশ্বাসীদের ছাড়া না পাওয়া। কুরআনের উপর সঠিক আস্থা স্থাপনকারী ছাড়া কেউই তা যথাযথভাবে বহন করতে পারবে না। কেননা, আল্লাহ্ বলেনঃ যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন না। (সূরাহ আল-জুমু‘আহ ৬২/৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম, ঈমান ও সালাতকে ‘আমল নামে আখ্যায়িত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেনঃ ইসলামে থাকা অবস্থায় যেটি দ্বারা তুমি মুক্তির বেশী আশাবাদী, আমাকে তুমি সে ‘আমলটি সম্পর্কে জানাও। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার মতে মুক্তির বেশী আশা রাখতে পারি যে ‘আমলটি দ্বারা, তা হচ্ছে আমি যখনই ওযু করেছি, তখন সালাত আদায় করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো- কোন্ ‘আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, এরপর জিহাদ, এরপর কবূল হওয়া হাজ্জ। ৭৫৩৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্বের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানকালের দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ‘আসরের সালাত এবং সূর্যাস্তের মাঝের সময়টুকু। তাওরাতধারীদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ‘আমল করল। এ ভাবে দুপুর হয়ে গেল এবং তারাও দুর্বল হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক কীরাত করে মজুরী দেয়া হল। তারপর ইঞ্জিল ধারীদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ‘আমল করল। এ অবস্থায় ‘আসরের সালাত আদায় করা হল। তারাও ক্লান্ত হয়ে গেল। তারপর তাদেরকেও এক কীরাত করে দেয়া হল। শেষে তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়। তোমরা সে মোতাবেক ‘আমল করেছ। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল। আর তোমাদেরকে দেয়া হল দু’কীরাত করে। ফলে কিতাবীগণ বলল, এরা তো আমাদের তুলনায় কাজ করল কম, অথচ মজুরী পেল বেশী। এতে আল্লাহ্ বললেন, তোমাদের হকের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোন যুলুম করা হয়েছে কি? এরা বলবে, না। আল্লাহ্ বললেনঃ এটা আমার অনুগ্রহ, তা আমি যাকে চাই তাকে দিয়ে থাকি। [৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 158 · #7493 - 164
وَقَالَلاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার সালাত আদায় হল না। ৭৫৩৪. ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক (সাহাবী) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ ‘আমলটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেনঃ যথা সময়ে সালাত আদায় করা, মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। [৫২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 159 · #7494 - 165
আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু মাল এল। এ থেকে তিনি এক দলকে দিলেন। অন্য দলটিকে দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, যারা পেলো না তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। এতে তিনি বললেনঃ আমি একজনকে দেই আবার অন্য জনকে দেই না। কিন্তু যাকে আমি দেই না, সে-ই আমার কাছে বেশী প্রিয় যাকে দেই তার থেকে। এমন কিছু কাওমকে আমি দেই, যাদের হৃদয়ে আছে অস্থিরতা ও দ্বনদ্ব। আর কিছু কাওমকে আমি মাল না দিয়ে তাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ যে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন তার উপর সোপর্দ করি। এদেরই একজন হলেন, ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ)। ‘আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার বিনিময়ে আমি একপাল লাল রং এর উটের মালিক হওয়াও অধিক পছন্দ করি না। [৯২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 160 · #7495 - 166
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু’হাত নিকটবর্তী হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 161 · #7496 - 167
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার বর্ণনা করেছেন যে, (আল্লাহ্ বলেন) : আমার বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে দু হাত নিকটবর্তী হই। বর্ণনাকারী এখানে بَاعًا কিংবা بُوعًا বলেছেন। মুতামির (রহ.) বলেন, আমি আমার পিতা থেকে শুনেছি, তিনি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছেন, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন। [৭৪০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 162 · #7497 - 168
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ প্রতিটি আমলের কাফ্ফারা রয়েছে, সে সব আমলের ত্রুটি দূর করার জন্য। কিন্তু সওম আমার জন্যই, এতে লোক দেখানোর কিছু নেই, তাই আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিস্কের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়। [১৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 163 · #7498 - 169
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালকের নিকট হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ বলেনঃ কোন বান্দার জন্য এ দাবী করা শোভনীয় নয় যে, সে ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে ভাল। এখানে ইউনুস (আঃ)-কে তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে। [৩৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 164 · #7499 - 170
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল আলমুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটনীর উপর বসা অবস্থায় সূরাহ ফাত্হ কিংবা সূরা ফাতহের কিছু অংশ পড়তে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তারজীসহ তা পাঠ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, মু‘আবিয়া (রহ.) ইবনুল মুগাফ্ফালের কিরাআত নকল করে পড়ছিলেন। তিনি বললেন, যদি তোমাদের কাছে লোকের ভিড় করার ভয় না হত, তাহলে আমিও তারজী করে ঠিক ঐভাবে পাঠ করতাম, যেভাবে ইবনুল মুগাফফাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাআত নকল করে তারজীসহ পাঠ করেছিলেন। তারপর আমি মু‘আবীয়াহ (রাঃ)-কে বললাম, তাঁর তারজী কেমন ছিল? তিন বললেন, আ, আ, আ, তিনবার। [৪২৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 165 · #7500 - 171
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হারব (রাঃ) আমাকে এ খবর দিয়েছেন, হিরাক্লিয়াস তাঁর তর্জমাকারীকে ডাকলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠিখানা আনার জন্য হুকুম করলেন এবং তা পড়লেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম- আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের প্রতি এ চিঠি পাঠানো হল। তাতে আরও লেখা ছিল يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ (হে আহলে কিতাব! এমন এক কথার দিকে আসো, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই,)। [৭] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
Book 97 · Hadith 166 · #7501 - 172
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব তাওরাত হিব্রু ভাষায় পাঠ করত, আর মুসলিমদের জন্য আরবী ভাষায় এর ব্যাখ্যা করত। এ প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিতাবধারীদেরকে তোমার বিশ্বাস করো না আবার তাদেরকে মিথ্যেবাদী সাব্যস্তও করো না। বরং তোমরা আল্লাহর এ বাণীটি قُولُوا آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا (তোমরা বল, ‘আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে) বল। (সূরাহ বাকারাহ ২/১৩৬) [৪৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 167 · #7502 - 173
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’জন ইয়াহূদী নারী-পুরুষকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তারা যিনা করেছিল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইয়াহূদীর এদের সাথে কী আচরণ করে থাক? তারা বলল, আমরা এদের মুখ কালো করি ও লাঞ্ছিত করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো, এবং তা পাঠ কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তাদেরই ইচ্ছেমত এক লোককে ডেকে বলল, হে আওয়ার! তুমি পাঠ কর। সে পাঠ করতে লাগল, শেষে এক স্থানে এসে সে তাতে আপন হাত রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার হাতটি উঠাও। সে হাত উঠাল। তখন যিনার শাস্তি পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা আয়াতটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তিলাওয়াতকারী বলল, হে মুহাম্মাদ! এদের মাঝে শাস্তি আসলে রজমই, কিন্তু আমরা তা গোপন করছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার হুকুম দিলে তাদেরকে রজম করা হল। বর্ণনাকারী বলেন, যিনাকারী পুরুষটিকে স্ত্রী লোকটির উপর ঝুঁকে পড়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষার চেষ্টা করতে দেখেছি। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 168 · #7503 - 174
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ উচ্চস্বরে সুমধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি যত সন্তোষ প্রকাশ করেন, অন্য কোন কিছুর প্রতি তত সন্তোষ প্রকাশ করেন না। [৫০২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 169 · #7504 - 175
ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.), ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীস সম্পর্কে বলেছেন। অপবাদকারীরা যখন তার উপর অপবাদ দিয়েছিল। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, বর্ণনাকারীদের একেকজন সে সম্পর্কে আমার কাছে হাদীসের একেক অংশের বর্ণনা দিয়েছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এর ফলে আমি আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। অথচ আমি তখন জানি, আমি নির্দোষ পবিত্র এবং আল্লাহ্ আমাকে নির্দোষ বলে প্রমাণ করবেন। আল্লাহর শপথ! কিন্তু আমার মর্যাদা আমার কাছে এমন যোগ্য ছিল না যে, এ ব্যাপারে ওয়াহীই অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার মর্যাদা আমার কাছে এর চেয়ে তুচ্ছ ছিল যে, আল্লাহ্ আমার সম্পর্কে এমন কোন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ যারা এমন জঘন্য অপবাদ এনেছে ..... পুরো দশটি আয়াত (সূরা আন্-নূর ২৪/১১-২০)। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 170 · #7505 - 176
বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এশার সালাতে সূরা وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ পড়তে শুনেছি। স্বর কিংবা কিরআতের দিক থেকে তার চেয়ে সুন্দর আমি আর কাউকে দেখিনি। [৭৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 171 · #7506 - 177
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় লুকিয়ে থাকতেন। আর তিনি উচ্চস্বরে (তিলাওয়াত) করতেন। যখন তা মুশরিক্রা শুনল, তারা কুরআন ও তাঁর বাহককে গালমন্দ করল। এ অবস্থায় আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানিয়ে দিলেন, আপনি আপনার সালাতে কুরআন উচ্চস্বরেও পড়বেন না এবং খুব চুপে চুপেও পড়বেন না। [৪৭২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 172 · #7507 - 178
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ স’স‘আহ (রহ.)-কে বললেন, আমি তোমাকে দেখেছি, তুমি বক্রীপাল ও ময়দানকে ভালবাস। সুতরাং তুমি যখন বক্রীর পাল কিংবা ময়দানে থাকবে, তখন সালাতের জন্য উচ্চস্বরে আযান দেবে। কারণ মুআয্যিনের আযানের স্বর যতদূর পৌঁছবে, তত দূরের জ্বিন, ইনসান, অন্যান্য জিনিস যারাই শুনবে, কিয়ামতের দিন তারা তার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেবে। আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। [৬০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 173 · #7508 - 179
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরআন পড়তেন তখন তাঁর মাথা থাকত আমার কোলে যদিও আমি থাকতাম ঋতুমতী। [২৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 174 · #7509 - 180
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রহ.) ও ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল ক্বারী (রহ.) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবিত অবস্থায় আমি হিশাম ইবনু হাকীম (রাঃ)-কে (সালাতে) সূরায়ে ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি। আমি একাগ্রমনে তাঁর তিলাওয়াত শুনছিলাম। তিনি এমন অনেকগুলো শব্দ তিলাওয়াত করছিলেন, যেগুলো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিলাওয়াত করাননি। এতে আমি তাঁকে সালাতের অবস্থায় ধরে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সালাম ফেরানো অবধি আমি ধৈর্য ধরলাম। তারপর আমি তাঁর চাদর দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। আর বললাম, আমি তোমাকে যে সূরা পাঠ করতে শুনলাম, তা তোমাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, তুমি মিথ্যে বলেছ, তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, তবে তোমার কিরাআতের মত নয়। তারপর আমি তাঁকে টেনে টেনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে চললাম। এরপর আমি বললাম, আমি শুনলাম একে ভিন্ন শব্দ দ্বারা সূরাহ ফুরকান পাঠ করতে, যা আপনি আমাকে শিখাননি। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ আচ্ছা, তাকে ছেড়ে দাও। তুমি পড়, হে হিশাম! এরপর আমি যেমন কিরাআত শুনেছিলাম তিনি তেমন কিরাআত পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কুরআন এভাবেই নাযিল হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘উমার! তুমি পড়। আমি সেভাবে পড়লাম যেভাবে আমাকে শিখানো হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই নাযিল হয়েছে। এ কুরআন সাত হরফে (কিরাআতে) নাযিল করা হয়েছে। কাজেই যেভাবে সহজ হয়, সেভাবে তা পাঠ কর। [২৪১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 175 · #7510 - 181
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ يُقَالُ مُيَسَّرٌ مُهَيَّأٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ بِلِسَانِكَ هَوَّنَّا قِرَاءَتَهُ عَلَيْكَ وَقَالَ مَطَرٌ الْوَرَّاقُ (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) قَالَ هَلْ مِنْ طَالِبِ عِلْمٍ فَيُعَانَ عَلَيْهِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তি যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজ করে দেয়া হয়। مُيَسَّرٌ অর্থ প্রস্তুতকৃত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ بِلِسَانِكَ -এর অর্থ আমি কুরআন পাঠ আপনার জন্য সহজ করে দিয়েছি। ৭৫৫১. ‘ইমরান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আমলকারীরা কিসে ‘আমল করছে? তিনি বললেন, যাকে যে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ করা সহজ করে দেয়া হয়। [৬৫৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 176 · #7511 - 182
‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একবার কোন জানাযায় ছিলেন। তারপর তিনি একটি কাঠের টুকরা হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খোঁচাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, তোমাদে র মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জাহান্নাম কিংবা জান্নাতে নির্দিষ্ট করা হয়নি। সাহাবীগণ বললেন, তা হলে আমরা কি এর উপর নির্ভর করব না? তিনি বললেনঃ তোমরা ‘আমল করতে থাক। প্রত্যেকের জন্য সহজ করে দেয়া হয়। (অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ .....فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى। সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে.....। [১৩৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 177 · #7512 - 183
قَالَ قَتَادَةُ مَكْتُوبٌ يَسْطُرُونَ يَخُطُّونَ (فِي أُمِّ الْكِتَابِ) جُمْلَةِ الْكِتَابِ وَأَصْلِهِ (مَا يَلْفِظُ) مَا يَتَكَلَّمُ مِنْ شَيْءٍ إِلاَّ كُتِبَ عَلَيْهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُكْتَبُ الْخَيْرُ وَالشَّرُّ (يُحَرِّفُونَ) يُزِيلُونَ وَلَيْسَ أَحَدٌ يُزِيلُ لَفْظَ كِتَابٍ مِنْ كُتُبِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَكِنَّهُمْ يُحَرِّفُونَهُ يَتَأَوَّلُونَهُ عَلَى غَيْرِ تَأْوِيلِهِ (دِرَاسَتُهُمْ) تِلاَوَتُهُمْ (وَاعِيَةٌ) حَافِظَةٌ (وَتَعِيَهَا) تَحْفَظُهَا (وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ) يَعْنِي أَهْلَ مَكَّةَ (وَمَنْ بَلَغَ) هَذَا الْقُرْآنُ فَهُوَ لَهُ نَذِيرٌ. ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, (مَسْطُورٍ) অর্থ লিপিবদ্ধ ‘يَسْطُرُونَ’ অর্থ তারা লিখছে (أُمِّ الْكِتَابِ)। অর্থাৎ কিতাবের স্তর ও মূল (مَا يَلْفِظُ) অর্থ যা কিছু বলা হয়, তা লিপিবদ্ধ হয়। এর ব্যাখ্যায় ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ভালমন্দ সব লিপিবদ্ধ করা হয়। (مَا يَلْفِظُ) এর অর্থ পরিবর্তন করা। এমন কেউ নেই, যে আল্লাহর কোন কিতাবের শব্দ পরিবর্তন করতে পারে। তবে তারা তাহরীফ তথা অপব্যাখ্যা করতে পারে। (دِرَاسَتُهُمْ) অর্থ তাদের তিলাওয়াত, (وَاعِيَةٌ) অর্থ সংরক্ষণকারী, (تَعِيَهَا) অর্থ তা সংরক্ষণ করে। এবং এ কুরআন আমার কাছে পাঠানো হয়েছে, যেন তোমাদেরকে এর দ্বারা আমি সতর্ক করি- (সূরাহ আন‘আম ৬/১৯)। অর্থাৎ মক্কাবাসী এবং যাদের কাছে এ কুরআন প্রচারিত হবে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য সতর্ককারী। ৭৫৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন তাঁর মাখলূকাত সৃষ্টি করলেন, তাঁর কাছে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ রাখলেন। আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’ এটি তাঁর কাছে আরশের ওপর আছে। [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
Book 97 · Hadith 178 · #7513 - 184
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে একটি লেখা লিখে রেখেছেন। তা হলো ‘‘আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’’, এটি তাঁরই নিকটে আরশের ওপর লেখা আছে। [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 179 · #7514 - 185
وَيُقَالُ لِلْمُصَوِّرِينَ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ. (إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ). قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ بَيَّنَ اللَّهُ الْخَلْقَ مِنَ الأَمْرِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ). وَسَمَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الإِيمَانَ عَمَلاً. قَالَ أَبُو ذَرٍّ وَأَبُو هُرَيْرَةَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ. وَقَالَ: (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) وَقَالَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْنَا بِجُمَلٍ مِنَ الأَمْرِ إِنْ عَمِلْنَا بِهَا دَخَلْنَا الْجَنَّةَ. فَأَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ وَالشَّهَادَةِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، فَجَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ عَمَلاً ছবি নির্মাতাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছ, তাতে জীবন দাও। তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে তিনি রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও (চলবে) তাঁর, মহীয়ান, গরীয়ান আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪) ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, আল্লাহ্ সৃষ্টিকে হুকুম থেকে পৃথক করে বর্ণনা করেছেন। কেননা তার বাণী হলোঃ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ জেনে রাখ সৃষ্টি ও হুকুম তাঁরই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানকেও ‘আমল বলে উল্লেখ করেছেন। আবূ যার (রহ.) ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন ‘আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর পথে জিহাদ করা। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) এটা তাদের কাজেরই প্রতিদান। ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমাদের কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয়ের নির্দেশ দিন, যেগুলো মেনে চললে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান, সালাত কায়িম করা এবং যাকাত আদায়ের হুকুম দিলেন। এ সবকেই তিনি ‘আমলরূপে উল্লেখ করেছেন। ৭৫৫৫. যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জারমের এ কাওমটির সঙ্গে আশ‘আরী কাওমের গভীর ভালবাসা ও ভ্রাত্বভাব ছিল। এক সময় আমরা আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তাঁর কাছে খাদ্য আনা হল। এতে মুরগীর গোশতও ছিল। এ সময় তাঁর নিকট বানী তায়মুল্লাহর এক লোক ছিল। সে (দেখতে) যেন আযাদকৃত গোলাম। তাকেও আবূ মূসা (রাঃ) খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি এ মুরগীকে এমন কিছু জিনিস খেতে দেখেছি, যার ফলে এটি খেতে আমি ঘৃণা করি। এ জন্য শপথ করেছি, আমি তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তুমি এদিকে এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদীস শোনাব। আমি এক সময় আশ’আরী কওমের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য গেলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহন দেব না। আর তোমাদের দেয়ার মত আমার কাছে বাহন নেই। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হলে তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, আশ‘আরীদের দলটি কোথায়? তারপর তিনি পাঁচটি মোটা তাজা ও উৎকৃষ্ট উট আমাদের দেয়ার জন্য হুকুম করলেন। আমরা এগুলো নিয়ে রওনা দেয়ার সময় বললাম, আমরা কী কর্মটি করলাম! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করে বললেন, আমাদের বাহন দেবেন না এবং তাঁর কাছে দেয়ার মত বাহন নেই। তারপরও তো তিনি আমাদের বাহন দিয়ে দিলেন। হয়ত আমরা তাঁকে তাঁর শপথ সম্পর্কে বেখেয়াল করে দিয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমরা কক্ষনো সফলকাম হবো না। তাই আমরা তাঁর কাছে আবার গেলাম এবং তা তাঁকে বললাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে বাহন দেইনি, বরং দিয়েছেন আল্লাহ্। আল্লাহর শপথ! আমি কোন বিষয়ে শপথ করি আর যদি তার বিপরীতে কল্যাণ দেখতে পাই, তবে তাতেই ফিরে আসি এবং (কাফ্ফারা আদায় করে) তা বৈধ করে নেই। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 180 · #7515 - 186
আবূ জামরাহ দুবায়ী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম। তিনি বললেন, ‘আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে মুযার গোত্রের মুশরিকরা আছে। সে কারণে আমরা সম্মানিত মাস (আশহুরে হুরুম) ব্যতীত আর কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয়ের হুকুম দিন, যার উপর আমল করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব এবং আমরা যাদের রেখে এসেছি তাদেরও এ পথে আহবান জানাতে পারব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের হুকুম করছি। আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছি। আমি তোমাদেরকে হুকুম দিচ্ছি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার। আর তোমরা জান কি, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তা হলো, সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সালাত কায়িম করা, যাকাত দেয়া, গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দেয়া। তোমাদের চারটি বিষয় হতে নিষেধ করছি, লাউয়ের খোল দিয়ে তৈরি পাত্রে, খেজুর গাছের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্রে, আলকাত্রা ইত্যাদি দিয়ে প্রলেপ দেয়া পাত্রে, এবং মাটির সবুজ ঘটিতে তোমরা পান করবে না। [৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 181 · #7516 - 187
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে তোমরা যা বানিয়েছ, তা জীবিত কর। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 182 · #7517 - 188
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এসব ছবি নির্মাতাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছ, তাকে জীবিত কর। [৫৯৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 183 · #7518 - 189
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ বলেছেনঃ তাদের চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে যে আমার সৃষ্টির মত সৃষ্টি করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে? তা হলে তারা একটা অণু কিংবা শস্যদানা কিংবা যব তৈরি করুক। [৫৯৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 184 · #7519 - 190
আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের দৃষ্টান্ত উত্রুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উৎকৃষ্ট এবং সুগন্ধও উৎকৃষ্ট। আর যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত যেন খেজুরের মত। এটি খেতে সুস্বাদু বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তিটি সুগন্ধি ফুলের মত। এর সুগন্ধ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি পাপী হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত আর এর কোন সুগন্ধ নেই। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 185 · #7520 - 191
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জ্যোতিষদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তারা কিছুই নয়। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো কখনো তারা তো এমন কিছুও বলে যা সত্য হয়। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওগুলো সত্য কথার অর্ন্তভূক্ত। জ্বিনেরা এসব ছোঁ মেরে শোনে, পরে তাদের বন্ধুদের কানে মুরগির মত করকর করে নিক্ষেপ করে দেয়। এরপর এসব জ্যোতিষী এতে শত মিথ্যা মিশিয়ে দেয়। [৩২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 186 · #7521 - 192
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ব এলাকা থেকে একদল লোক উত্থিত হবে। তারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তাদের এ পাঠ তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় ফিরে না আসে। বলা হল, তাদের চিহ্ন কী? তিনি বললেন, তাদের চিহ্ন হল মাথা মুন্ডন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 187 · #7522 - 193
لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَأَنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ وَقَوْلَهُمْ يُوزَنُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْقُسْطَاسُ الْعَدْلُ بِالرُّومِيَّةِ وَيُقَالُ الْقِسْطُ مَصْدَرُ الْمُقْسِطِ وَهُوَ الْعَادِلُ وَأَمَّا الْقَاسِطُ فَهُوَ الْجَائِرُ আদম সন্তানদের ‘আমল ও কথা ওজন করা হবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, রোমীয়দের ভাষায় الْقُسْطَاسُ অর্থ ন্যায় ও ইনসাফ। الْمُقْسِطِ শব্দ মূল الْمُقْسِطِ الْقِسْطُ অর্থ ন্যায়পরায়ণ। অন্য দিকে الْقَاسِطُ এর অর্থ (কিন্তু) জালিম। ৭৫৬৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি কালিমাহ আছে, যেগুলো দয়াময়ের কাছে অতি প্রিয়, মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, দাঁড়িপাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বাণী দু’টো হচ্ছে), সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহান্নাল্লাহিল আযীম;- আমরা আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, মহান আল্লাহ্ (যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে) অতি পবিত্র। [৬৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
Book 97 · Hadith 188 · #7523