The Chapters on Divorce
- 1
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসা (রাঃ)-কে তালাক দেন, অতঃপর তাকে ফিরিয়ে নেন।
Book 10 · Hadith 1 · #2013 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 2
। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেদের কী হলো যে, তারা আল্লাহর বিধান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে? তোমাদের কেউ বলে, তোমাকে তালাক দিলাম, তোমাকে আবার ফিরিয়ে নিলাম, তোমাকে আবার তালাক দিলাম।
Book 10 · Hadith 2 · #2014 · Daif, Daif, Daif - 3
। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘৃণ্য বৈধ কাজ হচ্ছে তালাক।
Book 10 · Hadith 3 · #2015 · Daif, Daif, Daif, Sahih - 4
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে পর ‘উমার (রাঃ) বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোচরে আনেন। তিনি বলেনঃ তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, যাবত না সে পবিত্রাবস্থায় ফিরে আসে, অতঃপর পুনরায় তার মাসিক ঋতু হয়, অতঃপর পবিত্রাবস্থায় ফিরে আসে। অতঃপর সে চাইলে তাকে তালাক দিতে পারে তার সাথে সহবাস করার পুর্বে। আর চাইলে সে তাকে স্ত্রী হিসাবে রেখেও দিতে পারে। এই হলো সেই উদ্দাত যা পালনের জন্য আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন।
Book 10 · Hadith 4 · #2016 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 5
। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সহবাসমুক্ত পবিত্র অবস্থায় (তুহরে) তালাক প্রদান হচ্ছে যথার্থ নিয়মের (সুন্নাত) তালাক।
Book 10 · Hadith 5 · #2017 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 6
। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সুন্নাত (যথার্থ নিয়মের) তালাক সম্পর্কে বলেন, স্বামী স্ত্রীকে তার (সহবাসমুক্ত) প্রতি তুহরে এক তালাক দিবে এবং সে তৃতীয় তুহরে পৌঁছলে তাকে শেষ তালাক দিবে। এরপর সে এক হায়েয কাল ইদ্দাত পালন করবে।
Book 10 · Hadith 6 · #2018 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 7
। ইউনুস ইবনু জুবাইর আবূ গাল্লাব (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে তার স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিয়েছে। তিনি বলেন, তুমি কি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমারকে চেনো? সে তার স্ত্রীকে তার মাসিক ঋতু চলাকালে তালাক দিয়েছিলো। ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসলে তিনি তাকে নির্দেশ দেনঃ সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি তালাক হিসাবে গণনায় ধরা হবে? তিনি বলেন, তুমি কি মনে করো, সে যদি অক্ষম হয়ে থাকে, আর আহম্মকী করে (তাহলে কে দায়ী)
Book 10 · Hadith 7 · #2019 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 8
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার স্ত্রীকে তার হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি বলেনঃ তাকে বলো, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, এরপর সে চাইলে তাকে তুহর অথবা গর্ভবতী অবস্থায় তালাক দেয়।
Book 10 · Hadith 8 · #2020 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 9
। আমের আশ-শাবী (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফাতেমাহ বিনতে কায়েস (রাঃ)-কে বললাম, আপনার তালাকের ঘটনাটি আমাকে বলুন। তিনি বলেন, আমার স্বামী ইয়ামনে থাকা অবস্থায় আমাকে তিন তালাক দেয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে জায়েয গণ্য করেন।
Book 10 · Hadith 9 · #2021 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 10
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর তার সাথে সহবাস করেছে, কিন্তু তাকে তালাক দেয়া এবং ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোন সাক্ষী রাখেনি। ইমরান (রাঃ) বলেন, তুমি সুন্নাত নিয়মের বহির্ভূত তালাক দিয়েছো এবং সুন্নাত নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফিরিয়ে নিয়েছো। তুমি তাকে তালাক দেয়া ও ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সাক্ষী রাখো।
Book 10 · Hadith 10 · #2022 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 11
। যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু কুলসুম বিনতে উকবা (রাঃ) ছিলেন তার স্ত্রী। তিনি তার গর্ভাবস্থায় যুবাইর (রাঃ)-কে বলেন, আমাকে এক তালাক দিয়ে সন্তুষ্ট করুন। তিনি তাকে এক তালাক দিলেন, অতঃপর সালাত পড়তে চলে গেলেন। তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, তার স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করেছে। যুবাইর (রাঃ) বললেন, সে কেন আমাকে প্রতারিত করলো! আল্লাহ্ যেন তাকেও প্রতারিত করেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন : আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত তার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে। তাকে বিবাহের প্রস্তাব দাও।
Book 10 · Hadith 11 · #2023 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 12
। আবূস সানাবিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসলাম গোত্রের হারিসের কন্যা সুবাইআ তার স্বামীর মৃত্যুর বিশাধিক দিন পর একটি সন্তান প্রসব করেন। তিনি নিফাস (সন্তান প্রসবজনিত ঋতু) হওয়ার পর নতুন পরিচ্ছদ পরতে লাগলেন (অর্থাৎ সাজগোজ করতে লাগলেন)। এতে তার প্রতি দোষারোপ হতে থাকলে বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অবহিত হয়। তিনি বলেনঃ সে তা করতে পারে, কারণ তার ইদ্দাতকাল পূর্ণ হয়েছে।
Book 10 · Hadith 12 · #2024 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 13
। মাসরূক ও ‘আমর ইবনু উত্বা (রহ.) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে হারিস কন্যা সুবাইআ (রাঃ)-কে তার বিষয়টি জানতে চেয়ে তাকে পত্র লিখেন। সুবাইআ (রাঃ) উত্তরে তাদের নিকট লেখে পাঠান যে, তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর ২৫ দিন পর সন্তান প্রসব করেন এবং পুনর্বিবাহের জন্য প্রস্তুতি নেন। আবূস সানাবিল ইবনু বাকাক তার নিকট দিয়ে গমনকালে বলেন, তুমি খুব তাড়াহুড়া করে ফেললে। ইদ্দাতের দু’ মেয়াদকালের মধ্যে দীর্ঘতর মেয়াদ অর্থাৎ চার মাস দশ দিন অতিবাহিত করো। অতএব আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেনঃ তা কি ব্যাপারে? আমি তাঁকে ঘটনাটি খুলে বললাম। তিনি বলেনঃ তুমি সৎকর্মপরায়ণ স্বামী পেয়ে গেলে বিবাহ করো।
Book 10 · Hadith 13 · #2025 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 14
। মিস্ওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবাই‘আ (রাঃ)-কে তার নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পরপরই বিবাহ করার অনুমতি দেন।
Book 10 · Hadith 14 · #2026 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 15
। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! কেউ ইচ্ছা করলে আমার থেকে লিআন জাতীয় শপথ গ্রহণ করতে পারে যে, নিশ্চয় এই ক্ষুদ্র সূরা নিসা (অর্থাৎ সূরা তালাক) ‘‘চার মাস দশ দিন’’ সম্বলিত আয়াত (সূরা বাকারা) নাযিল হওয়ার পরে নাযিল হয়েছে।
Book 10 · Hadith 15 · #2027 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 16
। ফুরাইআ বিনতে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী তার (পলাতক) গোলামের খোঁজে রওয়ানা হয়ে কাদূম নামক স্থানে তাদের ধরে ফেলেন। তারা আমার স্বামীকে হত্যা করে। যখন আমার স্বামীর মৃত্যুসংবাদ আসে, তখন আমি আমার পরিবার-পরিজন থেকে অনেক দূরে আনসারদের বসতিতে অবস্থান করছিলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যখন আমার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ এলো তখন আমি আমার পরিজন ও ভাইদের বাড়ি থেকে দূরে বসবাস করছিলাম। তিনি আমার ভরণপোষণের জন্য কোন মাল রেখে যাননি এবং তার এমন কোন মালও নেই, আমি যার ওয়ারিস হতে পারি, এমনকি তার মালিকানাভুক্ত কোন ঘরও নাই। আপনি আমাকে অনুমতি দিলে আমি আমার পরিবার ও ভাইদের বাড়িতে গিয়ে উঠতে পারি। আর এটা আমার জন্য অধিক প্রিয় এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে সুবিধাজনকও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি চাইলে তা করতে পারো। মহিলাটি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখে আমার জন্য আল্লাহর এই ফায়সালা শুনে খুশি মনে ফিরে যেতে লাগলাম। আমি মসজিদে অথবা তাঁর কোন এক হুজরার নিকটে পৌঁছতেই, তিনি আমাকে ডেকে বলেন, তুমি জানি কী বলেছিলে? মহিলাটি বললো, আমি পুনরায় তাকে আমার বিবরণ শুনালাম। তিনি বলেনঃ তুমি ঐ ঘরেই অবস্থান করো, যেখানে তোমার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছো, যতক্ষণ না তোমার ইদ্দাত পূর্ণ হয়। ফুরাইআ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি সেখানেই চার মাস দশ দিন ইদ্দাত পালন করলাম।
Book 10 · Hadith 16 · #2028 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 17
। উরওয়া (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মারওয়ানের নিকট প্রবেশ করে তাকে বললাম, আপনার পরিবারের এক মহিলাকে তালাক দেয়া হয়েছে। আমি তার ওখান দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম যে, সে বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। সে বললো, ফাতেমাহ বিনতে কায়েস (রাঃ) আমাদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (ইদ্দত পালনকালে) স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছেন। মারওয়ান বলেন, ফাতেমাহ বিনতে কায়েস (রাঃ) তাদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন। উরওয়া (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) তা আপত্তিকর বলেছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, ফাতেমাহ হিংস্র পশুর উৎপাতের এলাকায় বাস করতেন বলে তার জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। আর এ কারণেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বেলায় এরূপ অনুমতি দিয়েছিলেন।
Book 10 · Hadith 17 · #2029 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 18
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতেমাহ বিনতে কায়েস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার আশঙ্কা হয় যে, কেউ হয়তো আমার ঘরে জোরপূর্বক ঢুকে আমার ক্ষতি করবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অন্য স্থানে চলে যাওয়ার অনুমতি দেন।
Book 10 · Hadith 18 · #2030 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 19
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর তিনি তার খেজুর বাগানে গিয়ে ফল কাটতে চেয়েছিলেন। এক ব্যক্তি তাকে এই উদ্দেশে বের হতে কঠোরভাবে নিষেধ করে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার বাগানের খেজুর সংগ্রহ করো। হয়তো তুমি দান-খয়রাত করবে অথবা অন্য কোন সৎকাজ করবে।
Book 10 · Hadith 19 · #2031 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 20
। আবূ বাকর বিন ‘আবী জাহম বিন সুখাইর আদাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ফাতেমাহ্ বিনতে কায়েস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের নির্দেশ দেননি।
Book 10 · Hadith 20 · #2032 · Sahih, Sahih, Sahih - 21
। ফাতেমাহ বিনতে কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ নাই।
Book 10 · Hadith 21 · #2033 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 22
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। জাওন-কন্যা ‘আমরাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলে সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (আল্লাহর) আশরয় প্রার্থনা করে। তিনি বলেনঃ তুমি এক মহান সত্তার নিকটই আশ্রয় প্রার্থনা করেছো। অতঃপর তিনি তাকে তালাক দিলেন এবং উসামাহ অথবা আনাস (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তদনুযায়ী তিনি তাকে (উপঢৌকনস্বরূপ) তিনখানা সাদা লম্বা কাপড় দেন।
Book 10 · Hadith 22 · #2034 · Munkar, Munkar, Daif - 23
। ‘আমর বিন শুআয়ব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রী তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে বলে দাবি করলে এবং এর স্বপক্ষে একজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী উপস্থিত করলে তার স্বামীকে শপথ করানো হবে। সে শপথ করলে সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে। আর সে (স্বামী) শপথ করতে অস্বীকৃত হলে তার এ অস্বীকৃতি আরেকজন সাক্ষী স্থানীয় গণ্য হবে এবং তার তালাক কার্যকর হবে।
Book 10 · Hadith 23 · #2035 · Daif, Daif, Daif, Daif - 24
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে বাস্তবিকই বলা হলেও যথার্থ বিবেচিত হবে অথবা উপহাসোচ্ছলে বলা হলেও যথার্থ গণ্য হবেঃ বিবাহ, তালাক ও প্রত্যাহার।
Book 10 · Hadith 24 · #2036 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan - 25
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ আমার উম্মাতের মনে মনে বলা কথা উপেক্ষা (ক্ষমা) করেছেন, যাবত না সে তদনুযায়ী কাজ করে অথবা মুখে উচ্চারণ করে।
Book 10 · Hadith 25 · #2037 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 26
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছেঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। অধস্তন রাবী আবূ বাকর (রহ.)-এর বর্ণনায় আছেঃ বেহুঁশ ব্যক্তি যতক্ষণ না সে হুঁশ ফিরে পায়।
Book 10 · Hadith 26 · #2038 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 27
। ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নাবালেগ, পাগল ও ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে কলম তুলে রাখা হয়।
Book 10 · Hadith 27 · #2039 · Sahih, Sahih, Daif - 28
। আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ আমার উম্মাতের ভুল, বিস্মৃতি ও বলপূর্বক যা করিয়ে নেয়া হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।
Book 10 · Hadith 28 · #2040 · Sahih, Sahih, Sahih - 29
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ্ আমার উম্মাতের মনের মন্দ কল্পনা, যতক্ষণ না সে তা কার্যকর করে অথবা মুখে উচ্চারণ করে এবং তার উপর বলপ্রয়োগে কৃত কর্ম উপেক্ষা করেছেন।
Book 10 · Hadith 29 · #2041 · Sahih, Shadh, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 30
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ আমার উম্মাতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কৃত কাজের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
Book 10 · Hadith 30 · #2042 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 31
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জোরপূর্বক আদায়কৃত তালাক ও দাসমুক্তি কার্যকর হবে না।
Book 10 · Hadith 31 · #2043 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 32
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তালাক দেয়ার অধিকার জন্মানোর আগে প্রদত্ত তালাক কার্যকর হয় না।
Book 10 · Hadith 32 · #2044 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 33
। মিস্ওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিবাহের আগে তালাক নাই এবং মালিকানা লাভের আগে দাসমুক্তি নাই।
Book 10 · Hadith 33 · #2045 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Lighairihi, Hasan - 34
। ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিবাহের পূর্বে তালাক নাই।
Book 10 · Hadith 34 · #2046 · Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 35
। আল-আওযাঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুহ্রী (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন্ স্ত্রী তাঁর থেকে আশরয় চেয়েছিলেন? তিনি বলেন, উরওয়া (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এর বরাতে আমাকে অবহিত করেন যে, জাওন-এর কন্যা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসে এবং তিনি তার সান্নিধ্যে যান তখন সে বলে, আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট আশরয় চাই। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এক সুমহান সত্তার নিকট আশরয় প্রার্থনা করেছ। অতএব তুমি তোমার পরিবারের সাথে গিয়ে মিলিত হও (চলে যাও)।
Book 10 · Hadith 35 · #2047 · Munkar, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 36
। রুকানাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি (ইয়াযীদ) তার স্ত্রীকে চূড়ান্ত (বাত্তা) তালাক দিলেন। অতঃপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে (বিধান) জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেনঃ তুমি এর দ্বারা কিনিয়াত করেছিলে? ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, এক তালাকের। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি কি এক তালাকেরই নিয়াত করেছিলে? ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এক তালাকেরই ইচ্ছা করেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর স্ত্রী ফেরত দিলেন। মুহাম্মাদ বিন মাজাহ বলেন, আমি আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ ত্বানাফিসী কে বলতে শুনেছি, এ হাদীস খুব ভাল মানের নয়। ইবনু মাজাহ বলেন, আবূ উবাইদাহ নাজিয়াহ বর্জন করেছেন ও আহমাদ তাকে কাপুরুষ বলেছেন।
Book 10 · Hadith 36 · #2048 · Daif, Daif, Daif, Daif - 37
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (তাঁর স্ত্রীত্বে থাকা বা তাঁকে ত্যাগ করার) এখতিয়ার প্রদান করেন। আমরা তাঁকেই গ্রহণ করি। সুতরাং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে তালাক গণ্য করেননি।
Book 10 · Hadith 37 · #2049 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 38
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি নাযিল হলো (অনুবাদ) ‘‘যদি তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি চাও’’ (সূরা আল-আহযাব ৩৩ঃ ২৯), তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করে বলেন, হে ‘আয়িশাহ! আমি তোমাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করবো। তুমি তোমার পিতা-মাতার সাথে পরামর্শ না করে সে সম্পর্কে তাড়াহুড়া করে কিছু বলবে না। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি জানতেন যে, নিশ্চয় আমার পিতা-মাতা কখনো তাঁর থেকে আমার বিচ্ছেদের পক্ষে মত দিবেন না। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি আমাকে এ আয়াতটি পড়ে শুনান (অনুবাদ) ‘‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ চাও..(সূরা আল-আহযাব ৩৩ঃ ২৮)। তখন আমি বললাম, এ সম্পর্কে আমার পিতা-মাতার সাথে আমি আর কী পরামর্শ করবো! আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকেই গ্রহণ করলাম।
Book 10 · Hadith 38 · #2050 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 39
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে স্ত্রীলোক একান্ত অনন্যোপায় অবস্থা ছাড়া, স্বামীর নিকট তালাক দাবি করে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের (পথের) দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।
Book 10 · Hadith 39 · #2051 · Daif, Daif, Daif, Hasan - 40
। সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে নারী তার স্বামীর কাছে একান্ত অসুবিধা ছাড়া তালাক দাবি করে, তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণ হারাম।
Book 10 · Hadith 40 · #2052 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 41
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সালূল-কন্যা জামীলা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি সাবিতের দ্বীনদারী ও চরিত্রের ব্যাপারে কোন ত্রুটির অভিযোগ করছি না। কিন্তু আমি দ্বীন ইসলামে (থেকে) কুফরী আচরণ অপছন্দ করি। আমি যে তাকে মনের দিক থেকে মোটেই বরদাশত করতে পারছি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি কি সাবিতের দেয়া বাগানটি ফেরত দিবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত (রাঃ)-কে তার থেকে বাগানটি ফেরত নিতে বলেন এবং অতিরিক্ত কিছু নিতে বারণ করেন।
Book 10 · Hadith 41 · #2053 · Sahih, Sahih, Daif - 42
। ‘আবদুল্লাহ্ বিন ‘আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল-কন্যা হাবীবা (রাঃ) সাবিত ইবনু কায়েস ইবনু সামমাস (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। সাবিত (রাঃ) ছিলেন কুৎসিত চেহারাবিশিষ্ট। হাবীবা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর শপথ! আল্লাহর ভয় না থাকলে সাবিত যখন আমার নিকট আসে তখন অবশ্যই আমি তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করতাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফেরত দিতে রাজি আছো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, তিনি তার বাগানটি তাকে ফেরত দিলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনকে পৃথক করে দিলেন।
Book 10 · Hadith 42 · #2054 · Daif, Daif, Daif - 43
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিবয ইবনু আফরার কন্যা রুবাই (রাঃ)-কে বললাম, তুমি তোমার ঘটনাটি আমাকে বলো তো। সে বললো, আমি আমার স্বামীর থেকে খোলা তালাক নিয়েছিলাম। অতঃপর আমি ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে কিরূপে ইদ্দাত পালন করতে হবে? তিনি বলেন, তোমাকে কোন ইদ্দাত পালন করতে হবে না। তবে তোমার স্বামী খুব কাছাকাছি সময়ে তোমার সাথে সহবাস করে থাকলে তোমাকে তার নিকট এক হায়েয কাল থাকতে হবে। রুবাই (রাঃ) বলেন, ‘উসমান (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করছেন, যা তিনি মিরয়ম আল-মাগালিয়ার ব্যাপারে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সাবিত ইবনু কায়েস (রাঃ)-এর স্ত্রী এবং তিনি স্বামী থেকে খোলা তালাক নিয়েছিলেন।
Book 10 · Hadith 43 · #2055 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 44
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্মে শপথ করেন, এক মাস যাবত তাঁর স্ত্রীদের সংস্পর্শে যাবেন না। তিনি একাধারে ঊনত্রিশ দিন এভাবে কাটিয়ে দিলেন। অবশেষে তিরিশ দিনের সন্ধ্যা হলে তিনি আমার নিকট আসেন। আমি বললাম, আপনি তো শপথ করেছিলেন যে, আপনি এক মাস ধরে আমাদের সংস্পর্শে আসবেন না। তিনি বলেনঃ মাস এভাবেও হয়। তিনি তাঁর দু’ হাতের আঙ্গুলসমূহ তিনবার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রেখে ইশারায় বলেনঃ মাস এভাবেও হয়, তিনি পুনরায় (দু’বার পূর্বোক্ত নিয়মে দেখান) কিন্তু তৃতীয় বারে তিনি একটি আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ রাখেন (অর্থাৎ মাস ঊনতিরিশ দিনেও হয়)।
Book 10 · Hadith 44 · #2056 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 45
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যয়নব (রা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত উপঢৌকন তাঁকে ফেরত দেয়ার কারণে তিনি ঈলা করেছিলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছিলেন, যয়নব তো আপনাকে অপমান করেছে! এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হন এবং তাদের সংস্পর্শে না আসার শপথ (ঈলা) করেন।
Book 10 · Hadith 45 · #2057 · Daif, Daif, Daif, Daif - 46
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক স্ত্রীর সংস্পর্শে না আসার জন্য এক মাসের ঈলা করেছিলেন। ঊনতিরিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিকালে অথবা সকালে তিনি (স্ত্রীদের নিকট) আসেন। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঊনতিরিশ দিন তো অতিবাহিত হয়েছে? তিনি বলেনঃ মাস ঊনতিরিশ দিনেও হয়।
Book 10 · Hadith 46 · #2058 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 47
। সালামাহ্ ইবনু সাখর আল-বায়াদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নারীদের প্রতি অধিক আসক্ত ছিলাম। অন্য পুরুষের তুলনায় আমি তাদের সাথে বেশি সহবাসে লিপ্ত হতাম। রমযান মাস শুরু হলে আমি আমার স্ত্রীর সাথে যিহার করলাম। রমযান মাস প্রায় শেষ হতে যাচ্ছে। একদা রাতের বেলা সে আমার সাথে কথাবার্তা বলছিল। তখন তার দেহের একটি অংশ আমার সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেলো। আমি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং তার সাথে সহবাস করলাম। ভোর হলে আমি সকাল সকাল আমার সম্প্রদায়ের লোকেদের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার ঘটনাটি জানালাম। আমি তাদের বললাম, তোমরা আমার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করো। তারা বললো, আমরা তা করতে পারবো না। হয়ত বা আল্লাহ্ আমাদের সম্পর্কে কিতাব (কুরআনের আয়াত) নাযিল করবেন অথবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন কিছু বলবেন, যা আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে থাকবে। বরং আমরা তোমার অপরাধসহ তোমাকে সোপর্দ করবো। তুমি নিজেই গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তোমার ঘটনাটি বলো। রাবী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে আমার বিষয়টি তাঁকে জানালাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এটা করেছো? আমি বললাম, আমিই এটা করেছি। আমি এখানে আছি হে আল্লাহর রসূল! আমার প্রতি আল্লাহর যে হুকুম হয় তাতে আমি ধৈর্য ধারণ করবো তিনি বলেনঃ একটি গোলামকে দাসত্বমুক্ত করো। আমি বললাম, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আমি আমার দেহটি ছাড়া আর কিছুর মালিক নই। তিনি বলেন, তাহলে একাধারে দু’ মাস রোযা রাখো। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার উপর যে বিপদ এসেছে, তা তো এই রোযার কারণেই। তিনি বলেনঃ তাহলে দান-খয়রাত করো অথবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও। রাবী বলেন, আমি বললাম, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আমরা এ রাতটি নিরন্ন অবস্থায় অতিবাহিত করেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি বনু যুরাইক-এর যাকাত বণ্টনকারীর নিকট যাও এবং তাকে বলো, সে যেন তোমাকে যাকাতের কিছু মাল দান করে। তা দিয়ে তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও এবং অবশিষ্ট যা থাকে তা নিজের উপকারে লাগাও।
Book 10 · Hadith 47 · #2059 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 48
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, বরকতময় সেই সত্তা যাঁর শরবণশক্তি সব কিছুতে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। আমি সা‘লাবার কন্যা খাওলা (রাঃ)-এর কিছু কথা শুনলাম এবং কিছু কতা আমার অজ্ঞাত থেকে যায়। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! সে আমার যৌবন উপভোগ করেছে এবং আমি আমার পেট থেকে তাকে অনেক সন্তান উপহার দিয়েছি। অবশেষে আমি যখন বার্ধক্যে উপনীত হলাম এবং সন্তানদানে অক্ষম হলাম, তখন সে আমার সাথে যিহার করেছে। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকটে আমার অভিযোগ পেশ করছি। অতঃপর বেশি সময়ে অতিবাহিত না হতেই জিবরীল (আঃ) এ আয়াতগুলো নিয়ে অবতরণ করলেন (অনুবাদ) ‘‘আল্লাহ্ অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে নিজের স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর নিকটও ফরিয়াদ করছে...’’ (সূরা মুজাদালাঃ ১)।
Book 10 · Hadith 48 · #2060 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 49
। সালামাহ্ ইবনু সাখর আল-বায়াদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কাফ্ফারা আদায়ের পূর্বে সহবাসে লিপ্ত হওয়া যিহারকারী সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একই কাফফারা হবে (অর্থাৎ সহবাসের জন্য স্বতন্ত্র কাফফারা হবে না)।
Book 10 · Hadith 49 · #2061 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 50
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করে এবং কাফফারা আদায়ের পূর্বে তার সাথে সহবাস করে। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করে। তিনি বলেনঃ এরূপ করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করলো! সে বললো, হে আল্লাহর রসূল! চাঁদের আলোতে আমি তার পদদ্বয়ের মলের ঔজ্জ্বল্য দেখে ফেলি এবং নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তার সাথে সহবাস করে বসি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বর্ণনা শুনে হাসলেন এবং তাকে কাফফারা আদায় না করা পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার নির্দেশ দিলেন।
Book 10 · Hadith 50 · #2062 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 51
। সাহল ইবনু সা‘দ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উয়াইমির (রাঃ) আসেম ইবনু আদী (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেন, আপনি আমার পক্ষ থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করুন যে, কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে অপর কোন পুরুষ লোককে পেয়ে তাকে হত্যা করে, তাহলে কি এর প্রতিশোধে তাকেও হত্যা করা হবে অথবা কী করা হবে? আসিম (রাঃ) এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারির প্রশ্ন অপছন্দ করেন। উয়াইমির (রাঃ) আসেম (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কী করেছেন? আসেম (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছি। তুমি কোন শুভ বিষয় আমার নিকট পৌঁছাওনি। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অপছন্দ করেন। উয়াইমির (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করবো। অতএব তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পৌঁছে দেখেন যে, এইমাত্র তাদের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওহী নাযিল হয়েছে। তিনি তাদের উভয়কে লি‘আন করান। উয়াইমির (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ,হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি তাকে নিয়ে (স্ত্রী হিসাবে) বাড়ি যাই, তাহলে আমি তার উপর যেনার মিথ্যা অভিযোগ আরোপকারী সাব্যস্ত হবো। এই বলে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ দানের আগেই তাকে তালাক দেন। পরবর্তীতে লি‘আনকারীদ্বয়ের ব্যাপারে এটাই বিধানরূপে ধার্য হয়। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা এই নারীর প্রতি লক্ষ্য রাখো। সে যদি কৃষ্ণকায়, বড় চোখবিশিষ্ট ও মোটা নিতম্ববিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে আমি মনে করবো যে, উয়াইমির সত্যবাদী। আর যদি সে এমন লাল বর্ণের সন্তান প্রসব করে, যা মনে হয় লাল রংয়ের কীট, তবে আমি মনে করবো যে, উয়াইমির মিথ্যাবাদী। রাবী বলেন, সেই নারী একটি কৃষ্ণকায় সন্তান প্রসব করেছিল।
Book 10 · Hadith 51 · #2063 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 52
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হেলাল ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শরীক ইবনু সাহ্মার সাথে যেনায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রমাণ পেশ করো অন্যথায় তোমার পিঠে হদ্দ কার্যকর হবে। হেলাল ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন! আমি অবশ্যই সত্যবাদী এবং আল্লাহ্ আমার অভিযোগের ব্যাপারে এমন বিধান নাযিল করবেন, যা আমার পিঠকে হদ্দ থেকে রক্ষা করবে। তখন এই আয়াত নাযিল হলো (অনুবাদ) ‘‘আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি যেনার অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লানত’’ (সূরা নূরঃ ৬৭)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ফিরিয়ে তাদের দু’জনকে ডেকে পাঠান। তারা উপস্থিত হলে প্রথমে হেলাল ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) দাঁড়িয়ে শপথ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ অবশ্যই জানেন যে, তোমাদের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। অতএব কেউ তওবা করবে কি? অতঃপর স্ত্রীলোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলো। পঞ্চমবারে সে যখন বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব পতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বললো, এটি কিন্তু অবধারিতকারী বাক্য। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, সেই নারী তখন আর কিছু না বলে থেমে গিয়ে পিছনে হটে গেলো। শেষে আমরা মনে করলাম, সে হয়তো ফিরে যাবে (বিরত থাকবে)। কিন্তু সে বললো, আল্লাহর শপথ! আমি আমার সম্প্রদায়কে চিরদিনের জন্য কালিমালিপ্ত করতে পারি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য রেখো। সে যদি সুরমাদীপ্ত চোখ, গোশতবহুল নিতম্ব ও গোশতবহুল পদযুগলবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে এটি শরীক ইবনু সাহ্মার। অতঃপর সে এই ধরনের সন্তানই প্রসব করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর কিতাবে আগেই যদি (লি‘আনকারীর) বিধান না দেয়া থাকতো, তাহলে তার ও আমার মধ্যে একটা কিছু ঘটে যেত (তাকে শাস্তি দিতাম)।
Book 10 · Hadith 52 · #2064 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 53
। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমু‘আহর রাতে মসজিদে অবস্থানরত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বললো, কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে অপর কোন ব্যক্তিকে (অপকর্মে লিপ্ত) পেয়ে তাকে হত্যা করে, তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করবে। আর যদি সে যেনার অপবাদ দেয়, তাহলে তোমরা তাকে অবশ্যি বেত্রাঘাতে জর্জরিত করবে। আল্লাহর শপথ! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে বিষয়টি তুলে ধরবো। অতএব সে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করলে আল্লাহ্ তা‘আলা লি‘আন সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করেন। অতঃপর লোকটি তার স্ত্রীর প্রতি যেনার অপবাদসহ হাযির হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে লিআন করার এবং সাথে সাথে আরও বলেনঃ হয়তো সে একটি কৃষ্ণকায় সন্তান প্রসব করবে। পরে সে কৃষ্ণকায় ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট একটি বাচ্চা প্রসব করে।
Book 10 · Hadith 53 · #2065 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 54
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে লি‘আন করায় এবং তার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন এবং সন্তানটি উক্ত নারীর সাথে যুক্ত করেন।
Book 10 · Hadith 54 · #2066 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 55
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বালইজলান গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করে। অতঃপর সে তার ঘরে প্রবেশ ক’রে তার সাথে রাত কাটায়। ভোর হলে সে বললো, আমি তাকে কুমারী পাইনি। তার বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে পেশ করা হলে তিনি যুবতীকে ডেকে পাঠান। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, হ্যাঁ, অবশ্যই আমি কুমারী ছিলাম। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলে তারা উভয়েই লি‘আন করে। তিনি তাকে মোহরানা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
Book 10 · Hadith 55 · #2067 · Daif, Daif, Daif, Daif - 56
। ‘আবদুল্লাহ্ বিন ‘আমর (রহ.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চার ধরনের দম্পতির মধ্যে লিআনের বিধান প্রযোজ্য নয়ঃ মুসলিম ব্যক্তির বিবাহাধীন খ্রিস্টান নারী, মুসলিম ব্যক্তির বিবাহাধীন ইহূদী নারী, ক্রীতদাসের বিবাহাধীন স্বাধীনা নারী এবং স্বাধীন পুরুষের বিবাহাধীন ক্রীতদাসী।
Book 10 · Hadith 56 · #2068 · Daif, Daif, Daif - 57
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সংস্পর্শে না আসার শপথ (ঈলা) করে হালালকে হারাম করেন। ফলে তিনি (তাঁর জন্য) হালাল বিষয়টি হারাম করলেন এবং শপথ ভঙ্গের জন্য কাফফারা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
Book 10 · Hadith 57 · #2069 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 58
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, হালাল বস্তু (নিজের উপর) হারাম করা শপথরূপে গণ্য হবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতেনঃ ‘‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে অনুসরণীয় আদর্শ’’ (সূরা আহযাবঃ ২১)।
Book 10 · Hadith 58 · #2070 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 59
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বারীরাকে দাসত্বমুক্ত করে দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (তার বিবাহ বন্ধন বহাল রাখা বা না রাখার) এখতিয়ার দেন। তার স্বামী ছিল স্বাধীন পুরুষ।
Book 10 · Hadith 59 · #2071 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 60
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার স্বামী মুগীছ ছিল ক্রীতদাস। আমি যেন তাকে দেখছি যে, সে বারীরার পিছে পিছে ছুটছে আর কাঁদছে এবং তার চোখের অশ্রু তার গাল বেয়ে পড়ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলেনঃ হে ‘আব্বাস! বারীরার প্রতি মুগীছের ভালবাসা এবং মুগীছের প্রতি বারীরার ঘৃণাতে কি আপনি আশ্চর্যান্বিত হচ্ছে না! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাকে বললেনঃ তুমি যদি তার কাছে ফিরে যেতে। কেননা সে তোমার সন্তানের পিতা। সে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাকে আদেশ করছেন? তিনি বলেনঃ আমি কেবল সুপারিশ করছি। সে বললো, তাকে আমার প্রয়োজন নাই।
Book 10 · Hadith 60 · #2072 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 61
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার প্রসঙ্গ থেকে শরীআতের তিনটি বিধান জারী হয়েছে। তাকে দাসত্বমুক্ত করার পর তাকে তার ক্রীতদাস স্বামীর বিবাহাধীনে থাকা বা না থাকার এখতিয়ার দেয়া হয়। লোকেরা তাকে পর্যাপ্ত দান-খয়রাত করতো। সে তা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উপঢৌকন দিতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তা তার জন্য সদাকা (দান) কিন্তু আমাদের বেলায় উপঢৌকন। তার প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর (অভিভাবকত্বের) অধিকারী।
Book 10 · Hadith 61 · #2073 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih - 62
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাকে তিন হায়েযকাল ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দেয়া হয়।
Book 10 · Hadith 62 · #2074 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 63
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাকে (বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখা বা না রাখার) এখতিয়ার প্রদান করেন।
Book 10 · Hadith 63 · #2075 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 64
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রীতদাসীর তালাক হচ্ছে দু’বার এবং তার ইদ্দাত দু’ হায়েযকাল।
Book 10 · Hadith 64 · #2076 · Daif, Daif, Daif - 65
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবূ ‘আসিম, ইবনু জুরাইয-মুজাহির বিন আসলাম, কাসিম ‘আয়িশাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, ‘‘দাসীর তালাক হলো দুটি এবং তার ইদ্দত হলো দু’ হায়েয।’’ ২/২০৮০ (১)। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ক্রীতদাসীর তালাক হচ্ছে দুটি এবং তার ইদ্দাত দু’ হায়েযকাল।
Book 10 · Hadith 65 · #2077 · Daif, Daif, Daif, Daif - 66
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
Book 10 · Hadith 66 · #2078 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Daif - 67
। বনূ নাওফালের মুক্তদাস আবূল হাসান (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে একটি গোলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, সে তার স্ত্রীকে দু’ তালাক দিয়েছে, পরে তাদের উভয়কে দাসত্বমুক্ত করা হয়েছে, সে কি তাকে বিবাহ করতে পারে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কার বরাতে বলছেন? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ ফয়সালা দিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আবদুল্লাহ বিন মুবারক বলেছেন, আবূল হাসান যে মস্তবড় পাথর তার গর্দানে চাপিয়ে নিয়েছে।
Book 10 · Hadith 67 · #2079 · Daif, Daif, Daif, Daif - 68
। ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আমাদের সামনে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতকে বিপর্যস্ত করো না। উম্মুল ওয়ালাদের উদ্দাত চার মাস দশ দিন।
Book 10 · Hadith 68 · #2080 · Sahih, Sahih, Hasan - 69
। যয়নব বিনতে উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মু সালামাহ ও উম্মু হাবীবা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, এক স্ত্রীলোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছে। এখন তার চোখে অসুখ দেখা দিয়েছে, তাই সে তার চোখে সুরমা লাগাতে চায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, কোন নারী এক বছর পূর্ণ হলে পর গোবর ছিটিয়ে ইদ্দাত সমাপ্ত করতো। এখন তা কেবল চার মাস দশ দিন।
Book 10 · Hadith 69 · #2081 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 70
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন নারীর জন্য স্বামী ব্যতীত অপর কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক রূপচর্চা বর্জন (বা শোক পালন) করা বৈধ নয়।
Book 10 · Hadith 70 · #2082 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 71
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে নারী আল্লাহ্ ও আখেরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক রূপচর্চা বর্জন করা (বা শোক পালন করা) বৈধ নয়।
Book 10 · Hadith 71 · #2083 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 72
। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করবে না। তবে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। সে রঙ্গীন বস্ত্র পরিধান করবে না, তবে ইয়ামনের বিশেষ ধরনের রঙ্গীন চাদর পরতে পারবে। সুরমা ও সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, তবে হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার সময় গোসলের বেলায় সামান্য কস্তুরী ও চন্দন ব্যবহার করতে পারবে।
Book 10 · Hadith 72 · #2084 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 73
। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক স্ত্রী ছিলো। তাকে আমি খুব ভালোবাসতাম। কিন্তু আমার পিতা তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে উল্লেখ করেন। তিনি তাকে তালাক দেয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। অতএব আমি তাকে তালাক দিলাম।
Book 10 · Hadith 73 · #2085 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 74
। আবূ ‘আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে তার পিতা অথবা তার মা তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার নির্দেশ দেয়। এদিকে সে শপথ করে বললো যে, সে তার স্ত্রীকে তালাক দিলে তাকে এক শত গোলাম দাসত্বমুক্ত করতে হবে। এমতাবস্থায় সে আবূ দারদা (রাঃ)-এর নিকট হাযির হলো। তখন তিনি চাশতের সালাত পড়ছিলেন এবং তিনি তা দীর্ঘায়িত করেন। আর যোহর ও আসরের মাঝেও তিনি সালাত পড়তেন। লোকটি তাকে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, তোমার মানত পূর্ণ করো এবং তোমার পিতা-মাতার হুকুমও পালন করো। আবূ দারদা (রাঃ) আরও বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ পিতা হচ্ছে জান্নাতের উত্তম দরজা। অতএব তুমি তোমার পিতা-মাতার অধিকার সংরক্ষণ করো কিম্বা ত্যাগ করো।
Book 10 · Hadith 74 · #2086 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 75
। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে কিয়ামতের দিন তার থেকে ঋণ কর্তন করা হবে। কিন্তু তিন কারণে ঋণগ্রস্ত হলে ভিন্ন কথা। (এক) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঋণ করে আর তার দ্বারা সে আল্লাহর দুশমন এবং নিজের দুশমনের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করে। (দুই) কোন ব্যক্তির নিকট কোন মুসলিম মারা গেলে তাকে দাফন করার জন্য সে ঋণগ্রস্ত হলে। (তিন) যে অবিবাহিত ব্যক্তি দারিদ্রের কারণে আল্লাহর দীন থেকে বিপথগামী হওয়ার আশংকায় ঋণ করে বিবাহ করে। আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষ থেকে তাদের ঋণ শোধ করবেন।
Book 10 · Hadith 46 · #2087 · Daif, Daif, Daif, Daif - 76
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইকে নিঃস্বার্থভাবে চাষাবাদের জন্য জমি দান করলে সেটা নির্দিষ্ট পরিমাণ উৎপাদিত ফসল প্রদানের শর্তে দেয়ার চেয়ে তার জন্য অধিক কল্যাণকর।
Book 10 · Hadith 49 · #2088 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 77
। আবুল মিনহাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইয়াস ইবনে আবদুল মুযানী (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, তিনি কিছু লোককে পানি বিক্রয় করতে দেখে বলেন, তোমরা পানি বিক্রয় করো না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করতে শুনেছি।
Book 10 · Hadith 61 · #2089 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih - 78
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্বৃত্ত পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
Book 10 · Hadith 62 · #2090 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih Muslim