The Chapters on Rulings
- 1
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাকে জনগণের বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে বিনা ছুরিতে যবেহ করা হলো।
Book 13 · Hadith 1 · #2308 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 2
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাযীর পদ প্রার্থনা করে নেয় তার দায়দায়িত্ব তার উপরই চাপানো হয়। আর যাকে এই পদ গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তার নিকট একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে তাকে সঠিক পথে চালিত করেন।
Book 13 · Hadith 2 · #2309 · Daif, Daif, Daif, Daif - 3
। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে পাঠান। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি একজন যুবক মাত্র। আমি লোকেদের মধ্যে মীমাংসা করবো, অথচ বিচার কী জিনিস তাই আমি জানি না। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতে হাত দিয়ে আমার বুকে আঘাত করে বলেনঃ ‘‘ইয়া আল্লাহ! আপনি তার অন্তরে হেদায়াত দান করুন এবং তার জিহবাকে (বাকশক্তিকে) সুস্থির রাখুন’’। আলী বলেন, এরপর পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিচার করতে আমি কখনো সন্দেহে পতিত হইনি।
Book 13 · Hadith 3 · #2310 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 4
। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বিচারকই মানুষের বিচার করে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় হাজির হবে যে, একজন ফেরেশতা তার ঘাড় ধরে থাকবেন। অতঃপর সে আকাশের দিকে মাথা তুলবে। আল্লাহ যদি বলেন, তাকে নিক্ষেপ করো, তবে সেই ফেরেশতা তাকে একটি গর্তে নিক্ষেপ করবেন, যার মধ্যে সে চল্লিশ বছর ধরে গড়িয়ে পড়তে থাকবে।
Book 13 · Hadith 4 · #2311 · Daif, Daif, Daif, Daif - 5
। আবদুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাযী যতক্ষণ পর্যন্ত জুলুম না করে, আল্লাহ তার সাথে থাকেন। যখন সে জুলুম করে, তখন তিনি তাকে তার নিজের উপর ছেড়ে দেন।
Book 13 · Hadith 5 · #2312 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 6
। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
Book 13 · Hadith 6 · #2313 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 7
। ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছেনঃ বিচারক যখন ইজতিহাদ করে (চিন্তাভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার চেষ্টা করে) বিচার করে, অতঃপর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়, তার জন্য রয়েছে দু’টি পুরস্কার। আর সে যখন ইজতিহাদ করে বিচার করতে গিয়ে ভুল করে বসে তবুও তার জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার। রাবী ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, আমি হাদীসটি আবূ বাকর ইবনে আমর ইবনে হাযমের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আবূ সালামা (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
Book 13 · Hadith 7 · #2314 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 8
। বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কাযীগণ তিন শ্রেণীভুক্ত। দু’ শ্রেণীর কাযী জাহান্নামী এবং এক শ্রেণীর কাযী জান্নাতী। যে ব্যক্তি (কাযী) ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা দান করে সে জান্নাতী। যে ব্যক্তি (কাযী) সত্য উপলদ্ধি না করে অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিবদমান দলের মধ্যে রায় প্রদান করে সে জাহান্নামী এবং যে ব্যক্তি (কাযী) জ্ঞাতসারে অন্যায় রায় প্রদান করে সেও জাহান্নামী। আবূ হাশিম (রাঃ) বলেন, যদি ইবনে বুরাইদা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ হাদীসটি না থাকতো তাহলে আমরা অবশ্যই বলতাম যে, কাযী ইজতিহাদ করে বিচার করলে সে জান্নাতী হবে।
Book 13 · Hadith 8 · #2315 · Sahih, Sahih, Daif - 9
। আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দু’ (বিবদমান) পক্ষের মধ্যকার বিচারকার্য পরিচালনা না করে। রাবী হিশাম (রাঃ) তার হাদীসে বলেনঃ রাগান্বিত অবস্থায় দু’ (বিবদমান) পক্ষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করা বিচারকের জন্য সংগত নয়।
Book 13 · Hadith 9 · #2316 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 10
। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছে বিবদমান বিষয় মীমাংসার জন্য এসে থাকো। আমিও একজন মানুষ। হয়তো তোমাদের কেউ (একপক্ষ) অপর কারো (বিপক্ষের) তুলনায় নিজের যুক্তি-প্রমাণ পেশে অত্যন্ত বাকপটু হয়ে থাকবে। আর আমি তো তোমাদের বক্তব্য শুনেই তার ভিত্তিতে বিচারকার্য করি। অতএব আমি তোমাদের কারো পক্ষে তার ভাইয়ের হকের কোন অংশের ফয়সালা দিয়ে ফেলতে পারি। এ অবস্থায় সে যেন তার কিছুই গ্রহণ না করে। কারণ আমি তাকে জাহান্নাম একটি টুকরাই কেটে দিচ্ছি, যা নিয়ে সে কিয়ামতের দিন হাজির হবে।
Book 13 · Hadith 10 · #2317 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 11
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমিও একজন মানুষ। হয়তো তোমাদের কেউ অপর কারো তুলনায় নিজের যুক্তি-প্রমাণ পেশে অত্যন্ত বাকপটু হয়ে থাকবে। অতএব আমি তাকে তার ভাইয়ের হক থেকে কিছু কর্তন করে দিয়ে থাকলে তাকে জাহান্নাম একটি টুকরাই কর্তন করে দিলাম।
Book 13 · Hadith 11 · #2318 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 12
। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন জিনিস দাবি করে যা তার নয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান বানিয়ে নেয়।
Book 13 · Hadith 12 · #2319 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 13
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারো যুলুমমূলক মামলায় সহযোগিতা করে অথবা যুলুমে সহায়তা করে, তা থেকে নিবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত সর্বদাই সে আল্লাহর গযবে নিপতিত থাকে।
Book 13 · Hadith 13 · #2320 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 14
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকেদেরকে তাদের দাবি মোতাবেক ফয়সালা দেয়া হলে অবশ্যই কতক লোক অন্য লোকের জীবন (মৃত্যুদন্ড) ও সম্পদ দাবি করে বসতো। কিন্তু বিবাদীকেই শপথ করতে হবে।
Book 13 · Hadith 14 · #2321 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 15
। আল-আশ্আছ ইবনে কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এবং এক ইহূদীর যৌথ মালিকানাধীন এক খন্ড জমি ছিল। সে আমার অংশ অস্বীকার করলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পেশ করলাম। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ তোমার কি দলীল-প্রমাণ আছে? আমি বললাম, না। তিনি ইহূদীকে বলেনঃ শপথ করো। আমি বললাম, এ সম্পর্কে সে শপথ করার সাথে সাথে আমার সম্পত্তি নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) ‘‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই’’। সূরা আল ইমরানঃ ৭৭) ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
Book 13 · Hadith 15 · #2322 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 16
। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের মাল আত্মসাতের লক্ষ্যে সজ্ঞানে মিথ্যা শপথ করে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট থাকবেন।
Book 13 · Hadith 16 · #2323 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 17
। আবূ উমামা আল-হারিসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ কোন ব্যক্তি অপর মুসলিমের প্রাপ্য স্বত্ব মিথ্যা শপথ করে কর্তন করে নিলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং জাহান্নাম তার জন্য অবধারিত করে দিবেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তা সামান্য জিনিস হয়। তিনি বললেনঃ যদি তা পিলু গাছের একটি মেসওয়াকও হয়।
Book 13 · Hadith 17 · #2324 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 18
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এই মিম্বারের নিকট দাঁড়িয়ে মিথ্যা শপথ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়, যদিও তা একটি সবুজ মিসওয়াকের জন্যও হয়।
Book 13 · Hadith 18 · #2325 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 19
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই মিম্বারের নিকট কোন পুরুষ অথবা নারী মিথ্যা শপথ করলে সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্দ্ধারণ করলো, তা একটি কাঁচা দাঁতনের জন্য হলেও।
Book 13 · Hadith 19 · #2326 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 20
। বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহূদী সম্প্রদায়ের এক পন্ডিত ব্যক্তিকে ডেকে বলেনঃ আমি তোমাকে সেই মহান সত্তার শপথ করে বলছি যিনি মূসা (রাঃ)-এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন।
Book 13 · Hadith 20 · #2327 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 21
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ ইহূদীকে বলেনঃ আমি তোমাদের দু’জনকে সেই আল্লাহর শপথ দিচ্ছি যিনি মূসা (রাঃ) এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন।
Book 13 · Hadith 21 · #2328 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 22
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দু’ ব্যক্তি একটি জন্তুর মালিকানা দাবি করলো কিন্তু তাদের কারো নিকটই দলীল-প্রমাণ ছিলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লটারী করে তাতে যার নাম উঠে, তাকে শপথ করার পর তা নিতে বলেন।
Book 13 · Hadith 22 · #2329 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 23
। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দু’ ব্যক্তি একটি জন্তুর ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করলো এবং তাদের একজনের নিকটও কোন প্রমাণ ছিলো না। তিনি তাদের উভয়কে সেটির অর্ধেক অর্ধেক মালিকানা দান করেন।
Book 13 · Hadith 23 · #2330 · Daif, Daif, Hasan - 24
। সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তির কোন মাল বিনষ্ট হয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায়, অতঃপর সে তা কোন ক্রেতার নিকট পেয়ে যায়, তবে সে তা ফেরত পাবে এবং ক্রেতা বিক্রেতার নিকট থেকে তার মূল্য ফেরত নিবে।
Book 13 · Hadith 24 · #2331 · Daif, Daif, Daif, Daif - 25
। ইবনে মুহাইয়্যাসা আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ) এর একটি দুষ্ট উটনী ছিল। সেটি এক সম্প্রদায়ের বাগানে ঢুকে তা বিনষ্ট করে দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে, দিনের বেলা সম্পদের হেফাজত করার দায়িত্ব তার মালিকের (তাই দিনে ফসল বিনষ্ট করলে তার জন্য জন্তুর মালিক দায়ী নয়)। আর জন্তু রাতে যে ক্ষতি করবে, তা জন্তুর মালিকের উপর বর্তাবে। ২/২৩৩২(১)। হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান্-মুআবিয়া ইবনে হিশাম-সুফিয়ান-আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা-যুহরী-হারাম ইবনে মুহাইয়্যাসা-বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বারাআ-পরিবারের একটি উষ্ট্রী কিছু ফসল নষ্ট করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দেন ... পূর্বোক্ত অনুরূপ।
Book 13 · Hadith 25 · #2332 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 26
। সাওআত গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বললাম, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তুমি কি কুরআন পড়ো না। ‘‘তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত’’ (সূরা আল-কালামঃ ৪)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে ছিলেন। আমি তাঁর জন্য আহার তৈরি করলাম এবং হাফসা (রাঃ)-ও তাঁর জন্য আহার তৈরি করলেন। তিনি বলেন, হাফসা (রাঃ) আমার আগে (খাবার নিয়ে) গেলেন। আমি দাসীকে বললাম, যাও, তার পাত্র উল্টে ফেলে দাও। অতএব সে হাফসার নিকট গেলো। হাফসা (রাঃ) যখন তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখতে গেলো অমনি সে তা উল্টে ফেলে দিলো। ফলে পাত্রটি ভেঙ্গে গেলো এবং খাদ্যদ্রব্য ছড়িয়ে পড়লো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের টুকরাগুলো একত্রিত করলেন এবং তার খাবার স্বীয় তালুর সম্মুখে রাখলেন অতঃপর তা খেলেন। তারপর তিনি আমার পাত্রটি হাফসাকে দিয়ে বলেনঃ তোমার পাত্রের বদলে এই পাত্র নাও এবং এতে যা আছে তা খাও। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় এর কোন প্রতিক্রিয়াই লক্ষ্য করলাম না।
Book 13 · Hadith 26 · #2333 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 27
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিন জননীগণের একজনের হুজরায় ছিলেন। তাদের অন্যজন একটি পাত্র ভর্তি আহার্য তাঁর নিকট পাঠান। তিনি (হুজরার জননী) আহার্যের পাত্র বহনকারীর হাতে আঘাত করলে পাত্রটি নিচে পড়ে ভেঙ্গে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের টুকরা দু’টি তুলে নিয়ে একটির সাথে অপরটি জোড়া লাগিয়ে তার মধ্যে পতিত খাবার জমা করেন এবং বলেনঃ তোমাদের মাতার আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে। তোমরা (এটা) খাও। অতএব তারা তা আহার করলেন। অতঃপর তিনি তার ঘরের খাবার ভর্তি পাত্র নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অক্ষত পাত্রটি বাহককে দিলেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি ভঙ্গকারিণীর ঘরে রেখে দিলেন।
Book 13 · Hadith 27 · #2334 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 28
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার প্রতিবেশীর নিকট তার দেয়ালের সাথে নিজের খুঁটি গাড়ার অনুমতি চাইলে সে যেন তাকে নিষেধ না করে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) উপস্থিত লোকেদের নিকট এ হাদীস বর্ণনা করলে তারা মাথা নত করে দেয়। তিনি তাদের এ অবস্থা দেখে বলেন, কী ব্যাপার, আমি দেখছি তোমরা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচেছা! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাদের দু’ কাঁধের মাঝখানে খুঁটি গাড়বো।
Book 13 · Hadith 28 · #2335 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 29
। ইকরিমা ইবনে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মুগীরা গোত্রের দু’ ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এক ভাই বলে যে, অপর ভাই তার দেয়ালের সাথে খুঁটি পুঁতলে তার গোলাম আযাদ হয়ে যাবে। অতঃপর মুজাম্মে ইবনে য়াযীদ (রাঃ) সহ আনসারদের আরো অনেক লোক এসে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালের সাথে খুঁটি গাড়তে বাধা না দেয়। তখন বিতর্ককারী ভাই বললো, হে ভাই! ফয়সালা আমার বিপক্ষে এবং তোমার অনুকূলেই হয়েছে। যেহেতু আমি শপথ করেছি, তাই তুমি আমার দেয়ালের পাশে একটি বড় খুঁটি পুঁতে তার উপর তোমার কাঠ রাখো।
Book 13 · Hadith 29 · #2336 · Hasan, Hasan Lighairihi, Sahih Lighairihi, Daif - 30
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালের সাথে কাঠ পুততে নিষেধ না করে।
Book 13 · Hadith 30 · #2337 · Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 31
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রাস্তা সাত হাত পরিমাণ চওড়া করো।
Book 13 · Hadith 31 · #2338 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 32
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রাস্তার প্রস্থ নিয়ে মতানৈক্য করলে তা সাত হাত চওড়া করো।
Book 13 · Hadith 32 · #2339 · Sahih, Sahih, Sahih - 33
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যে, ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না।
Book 13 · Hadith 33 · #2340 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 34
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না।
Book 13 · Hadith 34 · #2341 · Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Lighairihi, Daif - 35
। আবূ সিরমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন এবং যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দিবে আল্লাহ তাকে কষ্ট দিবেন।
Book 13 · Hadith 35 · #2342 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 36
। নিমরাই ইবনে জারিয়া (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। কতক লোক একটি কুঁড়ে ঘরের মালিকানা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নালিশ দায়ের করলো। তিনি হুযায়ফা (রাঃ)-কে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিতে পাঠান। যাদের রশি দিয়ে সে ঘর বাঁধা ছিল তিনি তাদের পক্ষে রায় দেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে তার মীমাংসার কথা জানান। তিনি বলেনঃ তুমি যথার্থ ফয়সালা করেছো এবং ভালো করেছো।
Book 13 · Hadith 36 · #2343 · Very Daif, Very Daif, Very Daif, Daif - 37
। সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন জিনিস দু’ ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করা হলে তা প্রথম খরিদদার পাবে। রাবী আবুল ওয়াললীদ (রাঃ) বলেন, এ হাদীসে অপরের থেকে ছাড়িয়ে এনে দেয়ার শর্ত বাতিল করা হয়েছে।
Book 13 · Hadith 37 · #2344 · Daif, Daif, Hasan, Hasan - 38
। ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ছয়টি গোলাম ছিল, এদের ব্যতীত তার আর কোন মাল ছিলো না। সে তার মৃত্যুর পূর্বে তাদেরকে দাসত্বমুক্ত করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লটারীর মাধ্যমে এদের মধ্যে দু’জনকে দাসত্বমুক্ত করে দেন এবং চারজনকে গোলাম হিসাবে বহাল রাখেন।
Book 13 · Hadith 38 · #2345 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 39
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দু’ ব্যক্তি একটি বিক্রীত পণ্য নিয়ে জগড়া করছিল। তাদের একজনের নিকটও কোন প্রমাণ ছিলোন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দেন যে, লটারীতে তাদের দু’জনের মধ্যে যার নাম উঠবে সে শপথ করে পণ্য নিবে, তাতে তারা সন্তুষ্ট হতে পারুক বা না পারুক।
Book 13 · Hadith 39 · #2346 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 40
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে যেতেন, তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারী করতেন।
Book 13 · Hadith 40 · #2347 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 41
। যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) ইয়ামান থাকাকালে তার সামনে মীমাংসার জন্য এই মর্মে একটি বিষয় উত্থাপিত হয় যে, তিন ব্যক্তি একই তুহরে এক নারীর সাথে সংগম করে (ফলে তার একটি সন্তান হয়)। আলী (রাঃ) দু’জনকে জিজ্ঞেস করেন (তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখিয়ে) তোমরা কি সন্তানটি এই ব্যক্তির বলে স্বীকার করো? তারা বললো, না। তিনি আবার দু’জনকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি সন্তানটি এই ব্যক্তির বলে স্বীকার করো? তারা বললো, না। তিনি যখনই দু’জনকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি সন্তানটি তার বলে স্বীকার করো, তখনই তারা বলে, না। অতঃপর আলী (রাঃ) তাদের মধ্যে লটারীর ব্যবস্থা করেন এবং লটারীতে যার নাম উঠে, তিনি তাকে সন্তানটি দিলেন এবং তার উপর দু’-তৃতীয়াংশ দিয়াত ধার্য করেন। এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বলা হলে তিনি এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত প্রকাশ পেলো।
Book 13 · Hadith 41 · #2348 · Sahih, Sahih, Hasan - 42
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রফুল্ল মনে ঘরে প্রবেশ করে বলতে লাগলেনঃ হে আয়েশা! তুমি কি দেখোনি যে, মুজাযযায আল-মুদলিজী আমার ঘরে প্রবেশ করে উসামা ও যায়েদকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে তাদের মাথা ঢাকা ও পা বের করা অবস্থায় ঘুমন্ত দেখতে পেলো। সে বললো, এই পান্ডলোর কতক অপর কতক থেকে।
Book 13 · Hadith 42 · #2349 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 43
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কুরাইশগণ এক জ্যোতিষী নারীর কাছে গিয়ে তাকে বললো, আমাদের মধ্যে মাকামে ইবরাহীমের মালিকের (ইবরাহীম আ) সাথে কার অধিক সদৃশ্য তা বলে দিন। সে বললো, তোমরা যদি এই নরম মাটির উপর দিয়ে একটি চাদর টেনে দেয়ার পর উক্ত মাটির উপর দিয়ে (নগ্নপদে) হেঁটে যাও তবে আমি তোমাদের তা বলতে পারবো। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর তারা একটি চাদ টেনে নেয়ার পর ঐ মাটির উপর দিয়ে হেঁটে গেলো। অতঃপর সেই নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পদচিহৃ দেখিয়ে বললো, তোমাদের মধ্যে ইনিই তাঁর (ইবরাহীমের) সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ঘটনার পর তারা আল্লাহর মর্জি বিশ বছর বা ততোধিক অপেক্ষা করলো। শেষে আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নবুয়াত দান করেন।
Book 13 · Hadith 43 · #2350 · Munkar Daif, Munkar Daif, Daif, Daif - 44
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুকে তার পিতা ও মাতার মধ্যে (যাকে ইচ্ছা গ্রহণ করার) এখতিয়ার দিয়ে বলেনঃ হে বৎস! এই তোমার মা এবং এই তোমার বাপ।
Book 13 · Hadith 44 · #2351 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 45
। আবদুল হামীদ ইবনে সালামা (রাঃ) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তার পিতা-মাতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (সন্তানের তত্তাবধানের ব্যাপারে) বিবাদ পেশ করে। তাদের একজন ছিল কাফের এবং অপরজন মুসলিম। তিনি সন্তানকে এখতিয়ার দিলে সে কাফেরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে হেদায়াত দান করুন। অতঃপর সে মুসলিমের প্রতি আকৃষ্ট হয়। অতএব তিনি তাকে মুসলিমের সাথে থাকার ফয়সালা দেন।
Book 13 · Hadith 45 · #2352 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 46
। আমর ইবনে আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মুসলিমদের মধ্যে সন্ধি ও সমঝোতা স্থাপন করা জায়েয, তবে হালালকে হারামকারী এবং হারমকে হালালকারী সন্ধি ব্যতীত।
Book 13 · Hadith 46 · #2353 · Sahih, Sahih, Sahih - 47
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি করতে গিয়ে (বুদ্ধির) দুর্বলতার কারণে ঠকে যেতো। তার পরিবারের লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার উপর প্রতিবন্ধকতা আরোপ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে নিয়ে ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হতে নিষেধ করলেন। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করে ধৈর্য ধারণ করতে পারবো না। তিনি বলেনঃ তুমি ক্রয়-বিক্রয় করাকালে বলো, নগদ আদান-প্রদান হবে এবং যেন প্রতারণা করা না হয়।
Book 13 · Hadith 47 · #2354 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih - 48
। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনকিয ইবনে আমর হলেন আমার নানা। তার মাথায় একটি প্রচন্ড আঘাত লাগার ফলে তার জিহবা আড়ষ্ট হয়ে গেলো। এতদসত্ত্বেও তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করা ত্যাগ করেননি। তিনি প্রায়ই ঠকে যেতেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে জানান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি যখন ক্রয়-বিক্রয় করবে তাখন বলো, যেন প্রতারণা করা না হয়। অতঃপর তুমি যে পণ্যই ক্রয় করবে, তিন দিনের এখতিয়ার পাবে। তুমি সন্তুষ্ট হতে পারলে পণ্য রেখে দিবে এবং অসন্তুষ্ট হলে তা তার মালিককে ফেরত দিবে।
Book 13 · Hadith 48 · #2355 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 49
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক ব্যক্তি ফলের বাগান ক্রয় করে লোকসানের শিকার হয় এবং মারাত্মকভাবে ঋনগ্রস্ত হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের বলেনঃ তোমরা তাকে দান-খয়রাত করো। অতএব লোকজন তাকে দান-খয়রাত করলো কিন্তু তাতেও তার ঋণ শোধ হলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাওনাদারদের বলেনঃ তোমরা যা পেয়েছো তাই নিয়ে নাও, এর বেশী আর পাবে না।
Book 13 · Hadith 49 · #2356 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 50
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) কে তার পাওনাদারদের থেকে নিষ্কৃতি দেন, তারপর তাকে ইয়ামানের শাসক নিয়োগ করেন। মুআয (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাল দ্বারা আমাকে ঋণমুক্ত করেন, অতঃপর আমাকে শাসক নিয়োগ করেন।
Book 13 · Hadith 50 · #2357 · Daif, Daif, Daif - 51
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি দেউলিয়ার দখলে অবিকল তার মাল পেয়ে গেলে অন্যের তুলনায় সে-ই তার অগ্রগণ্য হকদার।
Book 13 · Hadith 51 · #2358 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 52
। আবূ হুরায়রাই (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট বাকিতে তার পণ্য বিক্রয় করার পর ক্রেতা দেউলিয়া হয়ে গেলে এবং তার পণ্য অবিকল অবস্থায় তার নিকট বিদ্যামন থাকলে সে-ই তা ফেরত পাবে। আর তার পণ্যের কিছু মূল্য আদায় করে থাকলে সে অন্যান্য পাওনারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
Book 13 · Hadith 52 · #2359 · Sahih, Sahih, Sahih - 53
। ইবনে খালদা আয-যুরাকী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন মদীনার বিচারপতি। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়া (রাঃ) এর কাছে আমাদের এক দেউলিয়া সঙ্গীর ব্যাপারে জানতে আসলাম। তিনি বরেন, এ ধরনের লোক সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মীমাংসা দিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি দেউলিয়া হলে অথবা মারা গেলে, ঋণদাতা তার মাল অবিকল তার নিকট বিদ্যমান পেলে সে-ই হবে তার অগ্রগণ্য প্রাপক।
Book 13 · Hadith 53 · #2360 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 54
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি নিজ দখলে অপরের মাল অবিকল অবস্থায় রেখে মারা যায় এবং মালিক তার আংশিক মূল্য আদায় করে থাকুক বা না থাকুক, সে অন্যান্য পাওনাদারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
Book 13 · Hadith 54 · #2361 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 55
। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ব্যক্তি উত্তম? তিনি বলেনঃ আমর ‘যুগ’, অতঃপর তার নিকটতর (পরবর্তী) যুগ, অতঃপর তার নিকটতর যুদ। অতঃপর এমন সব লোক আসবে যারা শপথের পূর্বে সাক্ষ্য দিবে এবং সাক্ষ্যের পূর্বে শপথ করবে।
Book 13 · Hadith 55 · #2362 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 56
। জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আমাদের উদ্দেশে (দামিশকের) জাবিয়া নামক স্থানে ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, তোমাদের সামনে যেমন (ভাষণ দিতে) দাঁড়ালাম, তদ্রূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেনঃ তোমরা আমার সাহাবীদের (আমার সাহচর্য লাভের মর্যাদার) হেফাজত করবে, অতঃপর তাদের নিকটবর্তীদের (মর্যাদার) হেফাজত করবে, অতঃপর তাদের পরবর্তীদের। অতঃপর এমনভাবে মিথ্যার প্রসার ঘটবে যে, কারো কাছে সাক্ষ্য তলব না করতেই সে সাক্ষ্য দিবে এবং শপথ করতে না বলতেই শপথ করবে।
Book 13 · Hadith 56 · #2363 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 57
। যায়েদ ইবনে খালিত আল-জুহানী (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছেনঃ সাক্ষীগণের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তলব করার আগেই সাক্ষ্য দেয়।
Book 13 · Hadith 57 · #2364 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 58
। আবূ সাঈদ আল-কুদরী (রাঃ) তেকে বর্ণিত। তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলে (অনুবাদ) ‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা যখন একে অপরের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো তখন তা লিপিবদ্ধ করে রাখো ...’’ (২ঃ ২৮২)। তিনি তিলাওয়াত করতে করতে ‘‘তোমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করলে, যাকে বিশ্বাস করা হয়, সে যেন আমানত প্রত্যর্পণ করে’’ ২ঃ ২৮৩) পর্যন্ত পৌঁছে বলেন, এই শেষোক্ত বিধান তার পূর্ববর্তী বিধানকে রহিত করেছে।
Book 13 · Hadith 58 · #2365 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 59
। আমর ইবনে শুআইব (রাঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতারক (খেয়ানতকারী) নারী-পুরুষ, ইসলামী আইনের আওতায় হদ্দের শাস্তি ভোগকারী এবং বিপক্ষের প্রতি শ্রত্রুতা পোষণকারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
Book 13 · Hadith 59 · #2366 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 60
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ নগরবাসীর পক্ষে গ্রামবাসীর সাক্ষ্য গ্রহণ যোগ্য নয়।
Book 13 · Hadith 60 · #2367 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 61
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষীর সাথে (বাদীর) শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা করেছেন।
Book 13 · Hadith 61 · #2368 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 62
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষীর সাথে (বাদীর) শপথের ভিত্তিতে মোকদ্দমার রায় দিয়েছেন।
Book 13 · Hadith 62 · #2369 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 63
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষী ও (বাদীর) শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা করেছেন।
Book 13 · Hadith 63 · #2370 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 64
। সুররাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষী ও বাদীর শপথ (দ্বারা ফয়সালা করা) অনুমোদন করেছেন।
Book 13 · Hadith 64 · #2371 · Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 65
। খুরাইম ইবনে ফাতিক আল আল-আসাদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায পড়লেন। নামায শেষে তিনি সুষ্ঠুভাবে দাঁড়িয়ে বলেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্যদানকে আল্লাহর সাথে শরীক করার সমতল্য (অপরাধ) গণ্য করা হয়েছে। তিনি তিনবার একথা বলেন, অতঃপর এ আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) ‘‘তোমরা মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাকো আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর সাথে কোন শরীক না করে’’। (২২ঃ ৩০-৩১)।
Book 13 · Hadith 65 · #2372 · Daif, Daif, Daif - 66
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের ফয়সালা নাদেয়া পর্যন্ত সে তার পদদ্বয় একটুও নাড়াতে পারবে না।
Book 13 · Hadith 66 · #2373 · Mawdu, Mawdu, Very Daif, Daif - 67
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের পরস্পরের পক্ষে-বিপক্ষে সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন।
Book 13 · Hadith 67 · #2374 · Daif, Daif, Daif