Chapters on Hajj Rituals
- 1
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সফর শাস্তিরই একটি টুকরা। তা তোমাদের যে কোন ব্যক্তির ঘুম ও পানাহারকে বাধাগ্রস্ত করে। তোমাদের যে কেউ সফরে নিজ প্রয়োজন পূরণ হওয়ার সাথে সাথে যেন অবিলম্বে বাড়ি ফিরে আসে। ২/২৮৮২(১)। ইয়াকূব ইবনে হুমাইদ ইবন কাসিব ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
Book 25 · Hadith 1 · #2877 · Sahih, Sahih, Sahih - 2
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে ফাদল (রাঃ) এর সূত্রে (অথবা পরস্পরের সূত্রে) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়।
Book 25 · Hadith 2 · #2878 · Hasan, Hasan, Hasan - 3
। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলো (অনুবাদঃ) ‘‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য’’ (সূরা আল ইমরানঃ ৯৭), তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরয? তিনি নিরুত্তর থাকলেন। পুনরায় তারা বলেন, প্রতি বছরই কি? তিনি বলেন, না। কিন্তু আমি যদি বলতাম, হ্যাঁ, তবে তদ্রূপই ওয়াজিব হতো। অতঃপর নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদঃ) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে... ’’ (সুরা মাইদাঃ ১০১)।
Book 25 · Hadith 3 · #2879 · Daif, Daif, Daif, Daif - 4
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরয? তিনি বলেনঃ আমি যদি বলি হাঁ, তবে তা অবশ্যই ওয়াজিব (ফরয) হতো। আর যদি তা ওয়াজিব হতো তবে তোমরা তা আদায় করতে অক্ষম হয়ে পড়তে। আর তোমরা যদি তা আদায় করতে না পারতে তবে তোমাদের শাস্তি দেয়া হতো।
Book 25 · Hadith 4 · #2880 · Sahih, Sahih, Daif - 5
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল-আকরা‘ ইবনে হাসিব (রাঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কি প্রতি বছর, না মাত্র একবার? তিনি বলেনঃ বরং একবার মাত্র। অতঃপর এর অধিক করার কারো সামর্থ্য থাকলে তা নফল।
Book 25 · Hadith 5 · #2881 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 6
। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ধারাবাহিক ভাবে হজ্জ ও ‘উমরা আদায় করো। কেননা এ দু’টি ধারাবাহিকভাবে আদায় করলে তা দারিদ্র ও গুনাহ দূরীভূত করে, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে। ২/২৮৮৭(১)। আবূ বাকর ইবনে আবূ শায়বা-মুহাম্মাদ ইবনে বিশর-উবাইদুল্লাহ ইবনে উমার-আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ-আবদুল্লাহ ইবনে আমের ইবনে রবীয়া-তার পিতা-উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
Book 25 · Hadith 6 · #2882 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 7
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক উমরা থেকে অপর উমরা মাঝখানের সময়ের জন্য কাফফারাস্বরূপ এবং জান্নাতই হলো মবরূর (ক্রটিমুক্ত) হজ্জের প্রতিদান।
Book 25 · Hadith 7 · #2883 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 8
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ্জ করেছে এবং তাতে অশালীন কথাবার্তা বা আচরণ করেনি, সে এমন অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে যেমন তার মা তাকে (নিষ্পাপ) প্রসব করেছে।
Book 25 · Hadith 8 · #2884 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 9
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উটের পিঠে) একটি পুরাতন জিন ও পালানে উপবিষ্ট অবস্থায় হজ্জ করেন। তাঁর পরিধানে ছিল একটি চাদর যার মূল্য চার দিরহাম বা তারও কম। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! এ এমন হজ্জ, যাতে কোন প্রদর্শনেচ্ছা বা প্রচারেচ্ছা নেই।
Book 25 · Hadith 9 · #2885 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 10
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কা ও মদীনার মাঝপথে ছিলাম। আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ এটা কোন্ উপত্যকা? সাহাবীগণ বলেন,আল-আযরাক উপত্যকা। তিনি বলেনঃ আমি মূসা (আ)-কে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি নিজের দু’ আংগুল কর্ণদ্বয়ে স্থাপন করে তাঁর দীর্ঘ কেশের কিছুটা বর্ণনা দেন, যা রাবী দাউদ পূর্ণ মনে রাখতে পারেননি। তিনি উচ্চৈস্বরে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করতে করতে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় এ উপত্যকা অতিক্রম করেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমরা পথ অতিক্রম করে একটি টিলার উপর আসলাম। তিনি বলেনঃ এটা কোন্ টিলা? সাহাবীগণ বলেন, এটা হারশা অথবা লিফাত (লাফ্ত) নামীয় টিলা। তিনি বলেনঃ আমি যেন ইউনুস (আ)-কে একটি লাল বর্ণের উষ্ট্রীর উপর পশমী জুববা পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, যার নাসারন্ধ্রের রমি ছিল খেজুর পাতার তৈরী এবং তিনি তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় এ উপত্যকা অতিক্রম করেন।
Book 25 · Hadith 10 · #2886 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 11
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হজ্জযাত্রীগণ ও উমরার যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধিদল। তারা তাঁর নিকট দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর নিকট মাফ চাইলে তিনি তাদের ক্ষমা করেন।
Book 25 · Hadith 11 · #2887 · Daif, Daif, Daif - 12
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর পথের সৈনিক, হজ্জযাত্রী ও উমরা যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর নিকট দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং কিছু চাইলে তা তাদের দান করেন।
Book 25 · Hadith 12 · #2888 · Hasan, Hasan, Sanad Daif, Daif - 13
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উমরা আদায় করার অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দেন এবং বলেনঃ ‘‘হে আমার ছোট ভাই! তোমার দোয়ার মধ্যে আমাদেরও শরীক করবে, আমাদের ভুলে যেও না’’।
Book 25 · Hadith 13 · #2889 · Daif, Daif, Daif - 14
। সাফওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবূ দারদা (রাঃ) এর কন্যা তার বিবাহ বন্ধনে ছিল। তিনি তার নিকট এলেন এবং সেখানে উম্ম দারদা (রাঃ) কেও উপস্থিত পেলেন, কিন্তু আবূ দারদা (রাঃ) কে পাননি। উম্মু দারদা (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ বছর হজ্জ করতে চাও? সাফওয়ান (রাঃ) বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তাহলে তুমি আমাদের কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর নিকট দোয়া করো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফেরেশতা তার দোয়ার সময় আমীন বলতে থাকেন। যখনই সে তার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করে, তখন ফেরেশতা বলেন, আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ। রাবী বলেন, অতঃপর আমি বাজারের দিকে গেলাম এবং আবূ দারাদা (রাঃ) -র সাক্ষাত পেলাম। তিনিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করেন।
Book 25 · Hadith 14 · #2890 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 15
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে হজ্জ ফরয হয়? তিনি বলেনঃ পাথেয় ও বাহন থাকলে। সে (পুনরায়) বললো, হে আল্লাহর রাসূল! হাজ্জী কে? তিনি বলেনঃ যার (ইহরামের কারণে) এলোমেলো কেশ এবং দুর্গন্ধ শরীর। অপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কী? তিনি বলেনঃ উচ্চৈস্বরে তালবিয়া পাঠ ও রক্ত প্রবাহিত (কোরবানী) করা। ওয়াকী‘ (রহঃ)-এর মতে ‘‘আল-‘আজ্জ’’ অর্থ ‘‘তালবিয়া পাঠ’’ এবং ‘‘আস-সাজ্জু’’ অর্থ ‘‘পশু কোরবানী করা’’।
Book 25 · Hadith 15 · #2891 · Very Daif, Very Daif, Very Daif, Daif - 16
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাথেয় ও বাহন অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে’’ (সূরা আল ইমরানঃ ৯৭) (এর তাৎপর্য এটাই)।
Book 25 · Hadith 16 · #2892 · Very Daif, Very Daif, Daif, Daif - 17
। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন তিন দিন বা তার অধিক দূরত্বের পথ সাথে তার পিতা, ভাই, ছেলে, স্বামী অথবা কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত তিন দিন বা তার অধিক দূরত্বের পথ সফর না করে।
Book 25 · Hadith 17 · #2893 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 18
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও আখেরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে তার সাথে কোন মাহরাম পুরুষ ব্যতীত তার জন্য এক দিনের পরিমাণ দূরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়।
Book 25 · Hadith 18 · #2894 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 19
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, অমুক অমুক যুদ্ধে যোগদানের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং আমার স্ত্রী হজ্জে যাওয়ার সংকল্প করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে তার সাথে হজ্জে যাও।
Book 25 · Hadith 19 · #2895 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 20
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফরয, তবে তাতে অস্ত্রবাজি নাই। তা হচ্ছে হজ্জ ও উমরা।
Book 25 · Hadith 20 · #2896 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 21
। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন দুর্বল ব্যক্তির জিহাদ হলো হজ্জ।
Book 25 · Hadith 21 · #2897 · Daif, Hasan, Daif, Sahih - 22
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ ‘‘শুবরুমার পক্ষ থেকে আমি তোমার দরবারে হাযির হয়েছি’’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ শুবরুমা কে? সে বললো, আমার এক নিকটাত্মীয়। তিনি বলেনঃ তুমি কি কখনও হজ্জ করেছো? সে বললো, না। তিনি বলেনঃ তাহলে এই হজ্জ তোমার নিজের পক্ষ থেকে করো, অত।:পর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ্জ করো।
Book 25 · Hadith 22 · #2898 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 23
। ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমি কি আমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করো। তুমি যদি তার জন্য কল্যাণ ও নেকী বৃদ্ধি করতে না পারো, তবে অন্তত তার জন্য অকল্যাণ ও পাপ বৃদ্ধি করো না।
Book 25 · Hadith 23 · #2899 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih Muquf, Daif - 24
। আবুল গাওছ হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার পিতার উপর ফরজ হওয়া হজ্জ সম্পর্কে ফতওয়া জিজ্ঞেস করেন, যিনি মারা গেছেন কিন্তু হজ্জ করতে পারেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ মানতের রোযাও অনুরূপ অর্থাৎ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা যাবে।
Book 25 · Hadith 24 · #2900 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 25
। আবূ রাযীন আল-উকায়লী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ। তিনি হজ্জ অথবা উমরা করতে বা বাহনে উপবিষ্ট থাকতে অক্ষম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা আদায় করো।
Book 25 · Hadith 25 · #2901 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 26
। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। খাছআম গোত্রের এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ এবং অচল হয়ে পড়েছেন। বান্দাদের উপর আল্লাহর ফরযকৃত হজ্জ তার উপরও ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি তা আদায় করতে সক্ষম নন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করি, তবে তা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হ্যাঁ।
Book 25 · Hadith 26 · #2902 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Sahih, Sahih - 27
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে হুসাইন ইবনে আওফ (রাঃ) অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি হজ্জ করতে সক্ষম নন- যদি না তাকে হাওদার সাথে বেঁধে দেয়া হয়। তিনি মুহূর্তকাল নীরব থাকার পর বলেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করো।
Book 25 · Hadith 27 · #2903 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 28
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে তার ভাই আল-ফাদল (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি কুরবানীর দিন ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীতে তাঁর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন খাষআম গোত্রের এক মহিলা তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ আমার পিতার উপরও তার বৃদ্ধ বয়সে ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনে চড়তে সক্ষম নন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করবো? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। কেননা তোমার পিতার কোন ঋণ থাকলে তাও তোমাকেই পরিশোধ করতে হতো।
Book 25 · Hadith 28 · #2904 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 29
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের সময় এক মহিলা তার শিশু সন্তানকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে উঁচিয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! এই শিশুর জন্যও কি হজ্জ? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে সওয়াব হবে তোমার।
Book 25 · Hadith 29 · #2905 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 30
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শাজারা (যুল-হুলায়ফা) নামক স্থানে উমায়স কন্যা আসমা (রাঃ) এর নিফাস হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ) -কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন।
Book 25 · Hadith 30 · #2906 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 31
। আবূ বাকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। তাঁর সাথে (তাঁর স্ত্রী) উমাইস-কন্যা আসমা (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি শাজারা নামক স্থানে মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বাকর-কে প্রসব করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন তাকে গোসল করার পর হজ্জের ইহরাম বাঁধার এবং লোকেদের অনুরূপ অনুষ্ঠানাদি পালনের নির্দেশ দেন, কিন্তু সে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না।
Book 25 · Hadith 31 · #2907 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih - 32
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বাকরকে প্রসব করলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বিধান জিজ্ঞেস করার জন্য লোক পাঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন গোসল করে একটি কাপড় জড়িয়ে নেন ও ইহরাম বাঁধেন।
Book 25 · Hadith 32 · #2908 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 33
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মদীনাবাসীগণ যুল-হুলায়ফা থেকে, সিরিয়ার অধিবাসীগণ আল-জুহ্ফা থেকে, নাজ্দবাসীগণ ‘কারন’ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এই তিনটি মীকাতের বর্ণনা আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি। আমি আরও জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীগণ ইয়ালামলাম থেকে ইহরাম বাঁধবে।
Book 25 · Hadith 33 · #2909 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 34
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেনঃ মদীনাবাসীগণের মীকাত যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের মীকাত আল-জুহ্ফা, ইয়ামানবাসীদের মীকাত ইয়ালামলাম, নাজ্দবাসীদের মীকাত ‘কারন’, প্রাচ্যের লোকেদের মীকাত যাতু ইরক। অতঃপর তিনি দিগন্তের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ! তাদের অন্তরসমূহ ঈমানের দিকে ধাবিত করুন।
Book 25 · Hadith 34 · #2910 · Sahih, Sahih, Sahih - 35
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন স্বীয় পদদ্বয় বাহনের পাদানিতে রাখেন এবং তাঁর জন্তুযান তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায় তখন তিনি যুল-হুলায়ফার মসজিদের নিকটে ইহরাম বাঁধেন।
Book 25 · Hadith 35 · #2911 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 36
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশ-শাজারা (যুল-হুলায়ফা) নামক স্থানে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উষ্ট্রীর পায়ের নিকটে ছিলাম। উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো, তখন তিনি বলেনঃ ‘‘লাববায়কাবি-উমরাতিন ওয়া হাজ্জাতিম-মাআন’’ (আমি তোমার দরবারে একসাথে হজ্জ ও উমরার সংকল্প নিয়ে হাযির হচ্ছি)। এটা বিদায় হজ্জের ঘটনা।
Book 25 · Hadith 36 · #2912 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Isnaad Sahih - 37
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তালবিয়া শিখেছি। তিনি বলেনঃ ‘‘লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়কা লাব্বায়কা, লা শারীকা লাকা লাব্বায়কা। ইন্নাল-হাম্দা ওয়ান-নিয়‘মাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা শারীকা লাকা ( ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপস্থিত আছি, তোমার নিকট উপস্থিত আছি, তোমার দরবারে হাযির হয়েছি। তোমার কোন শরীক নেই, আমি তোমার নিকট হাযির হয়েছি। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব ও কর্তৃত্ব তোমার। তোমার কোন শরীক নাই’’)। রাবী (রহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাঃ) এর সাথে যোগ করতেনঃ ‘‘লাব্বায়াকা লাব্বায়কা লাব্বায়কা ওয়া সা’দায়কা ওয়াল-খায়রু ফী ইয়াদায়কা, লাব্বায়কা ওয়ার-রাগবাউ ইলায়কা ওয়াল-আমলু’’ (‘‘তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, তোমার নিকট হাযির হয়েছি, তোমার নিকট হাযির আছি, তোমার খেদমতে সৌভাগ্য লাভ করেছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি। সমস্ত আকর্ষণ তোমার প্রতি এবং সকল কাজ তোমারই নির্দেশে’’)।
Book 25 · Hadith 37 · #2913 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 38
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তালবিয়া ছিল নিম্নরূপঃ ‘‘লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়কা, লাব্বায়কা লা শারীকা লাকা লাব্বায়কা ইন্নাল-হাম্দা ওয়ান-নিয়‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলকা লা শারীকা লাকা’’।
Book 25 · Hadith 38 · #2914 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 39
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তালবিয়ায় বলেনঃ ‘‘লাব্বায়কা ইলাহাল্-হাক্ক লাব্বায়কা’’।
Book 25 · Hadith 39 · #2915 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 40
। সাহল ইবনে সাদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিই তালবিয়া পাঠ করে, সাথে সাথে তার ডান ও বাঁ দিকের পাথর, গাছপালা অথবা মাটি, এমনকি দুনিয়ার সর্বশেষ প্রান্ত উভয় দিকের সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে।
Book 25 · Hadith 40 · #2916 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 41
। খাল্লাদ ইবনুস সাইব (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন আমার সাহাবীগণকে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের আদেশ দেই।
Book 25 · Hadith 41 · #2917 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 42
। যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার সাহাবীদের নির্দেশ দিন, তারা যেন উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করে। কারণ তা হজ্জের অন্যতম নির্দশন।
Book 25 · Hadith 42 · #2918 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 43
। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ কাজটি সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং কোরবানীর দিন কোরবানী করা।
Book 25 · Hadith 43 · #2919 · Sahih, Sahih, Daif - 44
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন ইহরামধারী ব্যক্তি কোরবানীর দিন আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানী করে এবং মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করতে থাকে, সূর্য তার গুনাহ রাশিসহ অস্ত যায়। তখন সে তার জন্মদিনের মত নিষ্পাপ হয়ে যায়।
Book 25 · Hadith 44 · #2920 · Daif, Daif, Daif, Daif - 45
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর ইহরাম বাঁধার প্রাক্কালে সুগন্ধি লাগিয়ে দেই এবং ইহরাম খোলার সময় তাওয়াফে ইফাযা করার পূর্বেও আমি তাঁকে সুগন্ধি লাগিয়ে দেই। সুফিয়ানের বর্ণনায় ‘‘আমার এই দু’ হাত দিয়ে’’ কথাটুকুও উল্লেখ আছে।
Book 25 · Hadith 45 · #2921 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 46
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিঁথিতে সুগন্ধির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি, তখন তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করছিলেন।
Book 25 · Hadith 46 · #2922 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 47
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিঁথিতে তিন দিন পরেও সুগন্ধির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি, অথচ তিনি ছিলেন ইহরাম অবস্থায়।
Book 25 · Hadith 47 · #2923 · Daif, Daif, Daif - 48
। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলো, ইহরামধারী ব্যক্তি কিরূপ কাপড় পরিধান করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে জামা পরবে না, পাগড়ী পরবে না, পাজামা পরবে না, টুপি পরবে না এবং মোজা পরবে না। কিন্তু তার জুতা না থাকলে সে মোজা পরতে পারবে, তবে পায়ের গোছা বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলবে। সে জাফরান অথবা সুগন্ধি ঘাস দ্বারা রঞ্জিত কাপড়ও পরিধান করবে না।
Book 25 · Hadith 48 · #2924 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 49
। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামধারী ব্যক্তিকে কুম কুম অথবা ওয়ারস ঘাস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন।
Book 25 · Hadith 49 · #2925 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 50
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দানকালে বলতে শুনেছিঃ যে (মুহরিম) ব্যক্তি কাপড় সংগ্রহ করতে পারেনি সে পাজামা পরতে পারে এবং যে ব্যক্তি জুতা সংগ্রহ করতে পারেনি সে মোজা পরতে পারে। হিশামের বর্ণনায় আছেঃ ‘কাপড় না পেলে সে পাজামা পরিধান করবে’।
Book 25 · Hadith 50 · #2926 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 51
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি জুতা সংগ্রহ করতে না পারলে মোজা পরিধান করবে। সে যেন গোছার নিম্নাংশ পর্যন্ত মোজার উপরিভাগ কেটে নেয়।
Book 25 · Hadith 51 · #2927 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 52
। আবূ বাকর (রাঃ) এর কন্যা আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে রওয়ানা হলাম। আল-আরজ নামক স্থানে পৌঁছে আমরা যাত্রাবিরতি করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়েশা (রাঃ) তাঁর পাশে বসলেন এবং আমি আবূ বাকর (রাঃ) -র পাশে বসলাম। ইত্যবসরে গোলাম আসলো কিন্তু তার সাথে উট ছিলো না। আবূ বাকর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার উট কোথায়? সে বললো, গত রাতে তা হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, তোমার সাথে একটি মাত্র উট ছিল, তাও তুমি হারিয়ে ফেললে? রাবী বলেন, তিনি তাকে মারতে শুরু করলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দেখো! এই ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কী করছে?
Book 25 · Hadith 52 · #2928 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 53
। ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হুনায়েন (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং আল-মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ) আল-আবওয়া নামক স্থানে একটি বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইহরামধারী ব্যক্তি নিজ মাথা ধৌত করতে পারবে। আর আল-মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, সে নিজ মাথা ধৌত করতে পারবে না। অতএব ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমাকে আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ)-র নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠান। আমি গন্তব্যে পৌঁছে দেখি যে, তিনি দু’টি খুঁটির মাঝখানে কাপড় দ্বারা পর্দা টেনে গোসল করছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আমি আবদুল্লাহ ইবনে হুনায়েন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমাকে আপনার নিকট জিজ্ঞেস করতে পাঠিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় কিভাবে তাঁর মাধা ধৌত করতেন? রাবী বলেন, আবূ আইউব (রাঃ) তার হস্তদ্বয় পর্দার কাপড়ের উপর রেখে তা মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করলেন এবং আমি তার মাথা দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন, পানি ঢালো। লোকটি তার গোসলে সাহায্য করছিল। সে তার মাথায় পানি ঢেলে দিলো। তিনি স্বহস্তে তার গোটা মাথা মর্দন করলেন এবং বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এভাবে (মাথা ধৌত) করতে দেখেছি।
Book 25 · Hadith 53 · #2929 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 54
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। কোন কাফেলা আমাদের নিকটবর্তী হলে আমরা নিজেদের মাথার সামনে দিয়ে (মুখমন্ডলে) কাপড় ঝুলিয়ে দিতাম। তারা আমাদের অতিক্রম করে যাওয়ার পর আবার তা মুখমন্ডল থেকে তুলে ফেলতাম। ২/২৯৩৫(১)। আলী ইবনে মুহাম্মদ-আবদুল্লাহ ইবনে ইদরীস-ইয়াযীদ ইবনে আবূ যিয়াদ-মুজাহিদ-আয়েশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
Book 25 · Hadith 54 · #2930 · Daif, Daif, Daif - 55
। আবূ বাকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের (রহঃ) থেকে তার দাদী আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) অথবা নানী সুদায় বিনতে আওফ (রাঃ) -এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল মুত্তালিব কন্যা দুবাআ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ হে ফুফুজান! কোন্ জিনিস আপনাকে হজ্জ থেকে বিরত রাখছে? তিনি বলেন, আমি একজন অসুস্থ মহিলা। আমার আশঙ্কা হয় যে, আমি হজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করতে পারবো না। তিনি বলেনঃ আপনি ইহরাম বাঁধুন এবং এই শর্ত আরোপ করুন, ‘‘যেখানে আমি বাধাগ্রস্ত হবো, সেখানেই ইহরামমুক্ত হবো’’।
Book 25 · Hadith 55 · #2931 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 56
। দুবাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট উপস্থিত হলেন, আমি তখন রোগগ্রস্ত ছিলাম। তিনি বলেনঃ আপনি কি এ বছর হজ্জে যাওয়ার সংকল্প করছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো অসুস্থ। তিনি বলেনঃ আপনি হজ্জের নিয়াত করুন এবং বলুন, ‘‘আপনি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করবেন সেখানে ইহরাম খুলে ফেলবো’’।
Book 25 · Hadith 56 · #2932 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 57
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবায়ের ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা দুবাআ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি রোগগ্রস্ত এবং আমি হজ্জে যাওয়ার ইচ্ছা রাখি। অতএব আমি কিভাবে ইহরাম বাঁধবো? তিনি বলেনঃ আপনি ইহরাম বাঁধুন এবং এই শর্ত রাখুন, ‘‘আপনি (আল্লাহ) যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করবেন, সেটাই হবে আমার ইহরাম খোলার স্থান’’।
Book 25 · Hadith 57 · #2933 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 58
। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম্বিয়া-ই কিরাম (আ) হেরেমের এলাকায় পদব্রজে ও নগ্নপদে প্রবেশ করতেন এবং রায়তুল্লাহ তাওয়াফসহ হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান নগ্নপদে ও পদব্রজে সমাপন করতেন।
Book 25 · Hadith 58 · #2934 · Daif, Daif, Daif, Daif - 59
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চভূমি দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং বের হতেন তখন নিম্নভূমি দিয়ে বের হতেন।
Book 25 · Hadith 59 · #2935 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 60
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের বেলা মক্কায় প্রবেশ করেন।
Book 25 · Hadith 60 · #2936 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 61
। উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আগামী কাল কোথায় অবতরণ করবো? এটা তাঁর (বিদায়) হজ্জের সময়কার কথা। তিনি বলেনঃ আকীল কি আমাদের জন্য একটি বাড়িও অবশিষ্ট রেখেছে? তিনি পুনরায় বলেনঃ আমরা আগামীকাল বনূ কিনানার ঘাঁটিতে (অর্থাৎ মুহাসসাবে) অবতরণ করবো যেখানে কুরায়শগণ কুফরীর উপর অবিচল থাকার শপথ করেছিল। অর্থাৎ বনূ কিনানা কুরায়শদের নিকট থেকে বণূ হাশিমের বিরুদ্ধে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি আদায় করে যে, তারা শেষোক্ত গোত্রের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং ব্যবসায়িক লেনদেনও করবে না। মা‘মার (রহঃ) বলেন, যুহরী (রহঃ) বলেছেন, আল-খায়ফ অর্থ উপত্যকা।
Book 25 · Hadith 61 · #2937 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 62
। আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল-উসায়লিহ্ অর্থাৎ উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে দেখলাম যে, তিনি হাজরে আসওয়াদে চুমা দিচ্ছেন আর বলছেন, আমি অবশ্যি তোমাকে চুম্বন করছি। আমি নিশ্চিত জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র, তুমি ক্ষতিও করতে পারো না এবং উপকারও করতে পারো না। আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তোমায় চুমা দিতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমায় চুমা দিতাম না।
Book 25 · Hadith 62 · #2938 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 63
। সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে উপস্থিত করা হবে। তার দু‘টি চোখ থাকবে, তা দিয়ে সে দেখবে, যবান থাকবে তা দিয়ে সে কথা বলবে এবং সে এমন লোকের অনুকূলে সাক্ষ্য দিবে যে তাকে সত্যতার সাথে চুমা দিয়েছে।
Book 25 · Hadith 63 · #2939 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 64
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের দিকে মুখ করলেন, অতঃপর তার উপর নিজের দু’ ঠোঁট স্থাপন করে দীর্ঘক্ষণ কাঁদলেন। অতঃপর তিনি অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখলেন যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও কাঁদলেন। তিনি বলেনঃ হে উমার! এটাই অশ্রু প্রবাহিত করার উপযুক্ত স্থান।
Book 25 · Hadith 64 · #2940 · Very Daif, Very Daif, Very Daif, Daif - 65
। সালিম ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতা সূত্রে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর কোন রুকনে চুমা খেতেন না, কেবলমাত্র রুকনুল আসওয়াদ (কালো পাথর) এবং এর নিকটের জুমাহ গোত্রের দিককার কোণে (রুকনে ইয়ামানীতে) চুমা খেতেন।
Book 25 · Hadith 65 · #2941 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 66
। শায়বা-র কন্যা সাফিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর যখন নিশ্চিত (নিরাপদ) হলেন তখন তিনি স্বীয় উটে উরোহণ করে (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করেন এবং নিজের হাতের লাঠির সাহায্যে রুকন (হাজরে আসওয়াদ)-কে চুমা দনে। অতঃপর তিনি কাবার অভ্যন্তরভাবে প্রবেশ করেন এবং তথায় কাঠের তৈরী একটি কবুতর দেখতে পান। তিনিতা ভেঙ্গে ফেলেন, অতঃপর তিনি কাবার দরজায় দাঁড়িয়ে তা বাইরে নিক্ষেপ করেন। আমি তা দেখছিলাম।
Book 25 · Hadith 66 · #2942 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 67
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে একটি উটে আরোহণ করে তাওয়াফ করেন এবং একটি লাঠির সাহায্যে (ইশারায়) রুকনকে চুমা দেন।
Book 25 · Hadith 67 · #2943 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 68
। আবূ তুফাইল আমের ইবনে ওয়াসিলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি তাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন, নিজের লাঠির সাহায্যে রুকন স্পর্শ করেন এবং লাঠিতে চুমা দেন।
Book 25 · Hadith 68 · #2944 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Muslim - 69
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ শুরু করতেন তখন প্রথম তিন চক্করে (তাওয়াফে) রামল করতেন (বাহু দুলিয়ে বীরদর্পে প্রদক্ষিণ করতেন) এবং চার চক্করে সাধারণ হেঁটে তাওয়াফ করতেন, হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) শুরু করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত। ইবনে উমার (রাঃ)-ও তাই করতেন।
Book 25 · Hadith 69 · #2945 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih Sahih Bukhari - 70
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত তিনবার রামল করতেন এবং চারবার সাধারণগতিতে তাওয়াফ করতেন।
Book 25 · Hadith 70 · #2946 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 71
। যায়েদ ইবনে আসলাম (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ এখন এই দু’ রামলের মধ্যে কি ফায়দা আছে? এখন তো আল্লাহ তা‘আলা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন এবং কুফর ও তার অনুসারীদের নিশ্চিহৃ করেছেন। আল্লাহর শপথ! আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যেসব আমল করেছি তার কিছুই ত্যাগ করবো না।
Book 25 · Hadith 71 · #2947 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 72
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার ঘটনার পরবর্তী বছরের উমরা পালনকালে মক্কায় প্রবেশ প্রাক্কালে তাঁর সাহাবীগণকে বলেনঃ অচিরেই তোমাদের সম্প্রদায় আগামী কাল তোমাদের দেখতে পাবে। অতএব তারা যেন তোমাদের সতেজ ও চালাক-চতুর দেখতে পায়। তারা মসজিদে প্রবেশ করে রুকন (পাথর) চুম্বন করেন এবং রামল করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে ছিলেন। তারা রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছে হাজরে আওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হন। তারা পুনরায় রামল করে রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছান, অতঃপর রুকনুল-আসওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে চলেন। তারা তিনবার রামল করেন ও চারবার স্বাভাবিক গতিতে হাঁটেন।
Book 25 · Hadith 72 · #2948 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 73
। ইয়ালা ইবনে উমাইয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান কাঁধ খোলা রেখে এবং বাম কাঁধের উপর চাদরের উভয় কোণ একত্রে লটকিয়ে তাওয়াফ করেন। কাবীসা (রাঃ) তার বর্ণনায় বলেন, তাঁর পরিধানে ছিল একটি চাদর।
Book 25 · Hadith 73 · #2949 · Hasan, Hasan, Daif - 74
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হিজর (হাতীম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তা বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত। আমি বললাম, তাকে কা‘বার অন্তর্ভুক্ত করতে কোন্ জিনিস তাদের বাধা দিলো? তিনি বলেনঃ অর্থাভাব তাদের অপারগ করে দিয়েছিল। আমি বললাম, তার দরজা এতো উঁচুতে স্থাপিত হওয়ার কারণ কী যে, তাতে সিঁড়ি ব্যতীত উঠা যায় না? তিনি বলেনঃ তা তোমার সম্প্রদায়ের কান্ড। তাদের মর্জি হলে কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারতো, আর যাদেরকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশে বাধা দিতো। তোমার সম্প্রদায়ের কুফরী ত্যাগের যুগ যদি অতি নিকট না হতো এবং (কাবা ঘর ভাংগার কারণে) তাদের মধ্যে বিতৃষ্ণার উদ্রেক হওয়ার আশঙ্কা না থাকতো, তাহলে তুমি দেখতে পেতে, আমি কিভাবে তা পরিবর্তন করতাম! তা থেকে যা বাদ দেয়া হয়েছিল আমি পুনরায় তা এর অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর স্থাপন করতাম।
Book 25 · Hadith 74 · #2950 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 75
। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ লোকেদের করলো এবং দু’ রাক‘আত নামায পড়লো, তা একটি ক্রীতদাসকে দাসত্বমুক্ত করার সমতুল্য।
Book 25 · Hadith 75 · #2951 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 76
। হুমাইদ ইবনে আবূ সাবিয়্যা (রাঃ) বলেন, আমি ইবনে হিশামকে রুকনে ইয়ামানী সম্পর্কে আতা ইবনে আবূ রাবাহ (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি তখন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। আতা (রাঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (রুকনে ইয়ামানীতে) সত্তরজন ফেরেশতা মোতায়েন আছেন। অতএব যে ব্যক্তি বলে, ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফ্ওয়া, ওয়াল-আফিয়াতা ফিদ-দুন্য়া ওয়াল-আখিরাতে রববানা আতিনা ফিদ-দুন্য়া হাসানাতান ওয়াফিল-আখিরাতে হাসানাতান ওয়াকিনা আযাবান-নার,’’ তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আমীন। (‘‘হে আল্লাহ আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি দুনিয়া ও আখেরাতের। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন, আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন’’)। আতা (রাঃ) রুকনুল-আসওয়াদে (হাজরে আসওয়াদ) পৌঁছলে ইবনে হিশাম (রহঃ) বলেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! এই রুকনুল আসওয়াদ সম্পর্কে আপনি কী জানতে পেরেছেন? আতা (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ ‘‘যে কেউ তার সামনা-সামনি হলো, সে যেন দয়াময় আল্লাহর হাতের সামনাসামনি হলো’’। ইবনে হিশাম তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে আবূ মুহাম্মদ! তাওয়াফ সম্পর্কে কী এসেছে? আতা (রহঃ) বলেন, আমার নিকট আবূ হুরায়রা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে এবং কোন কথা না বলে নিম্নোক্ত দোয়া পড়ে, ‘‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদুল্লিাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’’, তার দশটি গুনাহ মুছে যাবে, তার জন্য দশটি নেকি লেখা হবে এবং তার মর্যাদা দশ গুণ বৃদ্ধি করা হবে। আর যে ব্যক্তি তাওয়াফরত অবস্থায় কথা বলে, সে তার পদদ্বয় কেবল রহমতের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে, যেমন কারো পদদ্বয় পানিতে ডুবে থাকে।
Book 25 · Hadith 76 · #2952 · Daif, Daif, Daif, Daif - 77
। আল-মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি সাত চক্কর তাওয়াফ শেষ করে হাজরে আসওয়াদ বরাবর এলেন এবং মাতাফের প্রান্তে দু’ রাক‘আত নামায পড়লেন। তাঁর ও তাওয়াফের মাঝে আর কেউ ছিলো না। ইবনে মাজাহ (রহঃ) বলেন, এটা (সুতরাবিহীন অবস্থায় নামায পড়া) কেবল মক্কার জন্য নির্দিষ্ট।
Book 25 · Hadith 77 · #2953 · Daif, Daif, Daif, Daif - 78
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) পৌঁছে সাতবার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন, অতঃপর দু’ রাক‘আত নামায পড়েন (ওয়াকী‘ বলেন, অর্থাৎ মাকামে ইবরাহীমের নিকটে), অতঃপর সাফা পর্বতের দিকে রওয়ানা হন।
Book 25 · Hadith 78 · #2954 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 79
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমে এলেন। তখন উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো আমাদের পিতা (পুর্ব পুরুষ) ইবরাহীম (আ)-এর স্থান, যে সম্পর্কে মহামহিম আল্লাহ বলেনঃ ‘‘তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ করো’’ (সূরা বাকারাঃ ১২৫)। ওলীদ (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম মালেক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এভাবে পাঠ করেছেনঃ ‘‘ওয়াত্তাখিযূ মিম-মাকামি ইবরাহীমা মুসাল্লা’’? তিনি বলেন, হ্যাঁ।
Book 25 · Hadith 79 · #2955 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 80
। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রোগস্ত হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লোকেদের পেছনে পেছনে জন্তুযানে আরোহিত অবস্থায় তাওয়াফ করার নির্দেশ দেন। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে নামায পড়তে দেখেছি এবং তাতে তিনি ‘‘ওয়াত-তূর ওয়া কিতাবিম-মাসতূর’’ সূরা তিলাওয়াত করেন। ইবনে মাজাহ (রহঃ) বলেন, এটা আবূ বাকর বর্ণিত হাদীস।
Book 25 · Hadith 80 · #2956 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 81
। ‘আমর ইবনে শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ‘ইবনে আমর (রাঃ) এর সাথে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলাম। আমরা সাতবার তাওয়াফ শেষে কা‘বার পশ্চাতে নামায পড়লাম। অতঃপর আমি বললাম, আমরা কি আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবো না? তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি অগ্রসর হয়ে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন, অতঃপর হাজরে আসওয়াদ ও কা‘বার দরজার মাঝ বরাবর দাঁড়ান, অতঃপর তার নিজের বুক, হস্তদ্বয় ও গাল তার সাথে লাগান এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি।
Book 25 · Hadith 81 · #2957 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 82
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল হজ্জ আদায় করা। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে অথবা তার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছলাম, তখন আমার মাসিক ঋতু শুরু হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কী হয়েছে, তুমি কি ঋতুগ্রস্ত হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তা‘আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। তুমি হজ্জের সমস্ত অনুষ্ঠান পালন করো, শুধুমাত্র বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করো না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কোরবানী করেন।
Book 25 · Hadith 82 · #2958 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 83
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হজ্জ করেন।
Book 25 · Hadith 83 · #2959 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 84
। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হজ্জ করেন।
Book 25 · Hadith 84 · #2960 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 85
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হজ্জ করেন।
Book 25 · Hadith 85 · #2961 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 86
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ) ইফরাদ হজ্জ করেন।
Book 25 · Hadith 86 · #2962 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Very Daif, Sahih - 87
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ ‘‘আমি ‘উমরা ও হজ্জের উদ্দেশে হাজির’’।
Book 25 · Hadith 87 · #2963 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 88
। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘আমি উমরা ও হজ্জের উদ্দেশে আপনার দরবারে হাযির হচ্ছি ’’।
Book 25 · Hadith 88 · #2964 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 89
। আস-সুবাই ইবনে মাবাদ (রহঃ) বলেন, আমি ছিলাম একজন নাসারা (খৃস্টান); অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করি। আমি হজ্জ ও উমরার উদ্দেশে ইহরাম বাঁধলাম। সালমান ইবনে রবী‘আ ও যায়েদ ইবনে সূহান (রাঃ) উভয়ে আমাকে কাদিসিয়ায় হজ্জ ও উমরার একত্রে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেন। তখন তারা বলেন, এ ব্যক্তি তো তার উটের চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট। তাদের এ মন্তব্য যেন আমার বুকের উপর একটি পাহাড় নিক্ষেপ করলো। তাই আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাকে অবহিত করলাম। তিনি তাদের উভয়কে লক্ষ্য করে তিরস্কার করলেন এবং আমাকে বললেন, তুমি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছো, তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত অনুযায়ী আমল করেছো। হিশাম (রহঃ) তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, শাকীক (রহঃ) বলেছেন, আমি ও মাসরূক অনেকবার (সুবাই ইবন মা‘বাদের নিকট) গিয়েছি এবং এ হাদীস সম্পর্কে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছি। ৪/২৯৭০(১)। আস-সুবাই ইবনে মা‘বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবক বয়সে আমি খৃস্টান ছিলাম, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করি এবং ইবাদত-বন্দেগী করার চেষ্টা করি। আমি একই সাথে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধলাম ... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
Book 25 · Hadith 89 · #2965 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 90
। ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই ইহরামে হজ্জ ও উমরা আদায় করেন (কিরান হজ্জ করেন)।
Book 25 · Hadith 90 · #2966 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 91
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, ইবনে উমার ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মক্কায় পৌঁছে হজ্জ ও উমরা উভয়ের জন্য একবার (সাত চক্র) মাত্র তাওয়াফ করেন।
Book 25 · Hadith 91 · #2967 · Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 92
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও উমরার উদ্দেশে এক তাওয়াফ করেন।
Book 25 · Hadith 92 · #2968 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 93
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কিরান হজ্জের ইহরাম বেঁধে (মক্কায়) আগমন করেন। তিনি সাতবার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করেন, অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করেছেন।
Book 25 · Hadith 93 · #2969 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 94
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি হজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধলে এতদুভয়ের জন্য এক তাওয়াফই যথেষ্ট। সে হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান পালন না করা পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হতে পারে না। সে হজ্জ ও উমরা থেকে একই সাথে ইহরামমুক্ত হবে।
Book 25 · Hadith 94 · #2970 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Isnaad Sahih - 95
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল-আকীক নামক স্থানে অবস্থানকালে বলতে শুনেছিঃ আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার নিকট একজন দূত এসে বলেন, এই বরকতময় উপত্যকায় নামায পড়ুন এবং বলুনঃ উমরা ও হজ্জের (ইহরাম)। হাদীসের মূল পাঠ দুহায়ম-এর বর্ণনা অনুযায়ী।
Book 25 · Hadith 95 · #2971 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 96
। সুরাকা ইবনে জুশুম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণদানের উদ্দেশে এই উপত্যকায় দাঁড়িয়ে বলেনঃ জেনে রাখো! কিয়ামত পর্যন্ত হজ্জের সাথে উমরা আদায় করা যেতে পারে।
Book 25 · Hadith 96 · #2972 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 97
। মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর (রহঃ) বলেন, ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাঃ) আমাকে বলেন, নিশ্চয় আমি তোমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করবো। আশা করি আল্লাহ তা‘আলা আজকের দিনের পর থেকে এ হাদী দ্বারা তোমাকে উপকৃত করবেন। জেনে রাখো! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের একদল সদস্য যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের মধ্যে উমরা আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বাধা দেননি এবং তা রহিতকারী কোন আয়াতও নাযিল হয়নি। কিন্তু পরবর্তী কালে এক ব্যক্তি (উমার ইবনুল খাত্তাব) এ সম্পর্কে নিজ ইচ্ছামত যা বলার তাই বলেন।
Book 25 · Hadith 97 · #2973 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 98
। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তামাত্তু হজ্জের অনুকূলে ফতোয়া দিতেন। এক ব্যক্তি তাকে বললো, আপনি আপনার কতক ফতোয়া দেয়া ছেড়ে দিন বা ত্যাগ করুন। আপনার জানা নেই যে, আপনার পরে আমীরুল মুমিনীন (উমার) হজ্জের ব্যাপারে নতুন হুকুম জারী করেছেন। অবশেষে আমি (আবূ মূসা) তার সাথে সাক্ষাত করে বিষয়টি তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন উমার (রাঃ) বলেন, আমি অবশ্যই জানি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তামাত্তু হজ্জ করেছেন। কিন্তু আমার নিকট এটা খুবই খারাপ লাগে যে, লোকেরা গাছের নীচে স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবে, অতঃপর মাথার চুল থেকে পানি পতিত অবস্থায় হজ্জে যাবে।
Book 25 · Hadith 98 · #2974 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 99
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল হজ্জের নিয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ইহরাম বাঁধলাম, এর সাথে উমরার নিয়াত করিনি। যিলহজ্জ মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা মক্কায় উপনীত হলাম। আমরা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ সমাপ্ত করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইহরাম (ভঙ্গ করে) উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন এবং স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার অনুমতি দেন। আমরা আরয করলাম, আমাদের লজ্জাস্থান থেকে বীর্য নির্গত হওয়ার পরপরই আরাফাতের দিকে অগ্রসর হবো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সৎকর্মশীল ও সর্বাধিক সত্যবাদী। আমার সাথে কোরবানীর পশু না থাকলে আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম। সুরাকা ইবনে মালিক (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, এ সুযোগ কি আমাদের এ বছরের জন্য, না চিরকালের জন্য? তিনি বলেনঃ না, বরং চিরকালের জন্য।
Book 25 · Hadith 99 · #2975 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 100
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলকাদ মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলাম। হজ্জ করাই ছিল আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমরা গন্তব্যে (মক্কায়) বা তার কাছাকাছি পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেনঃ যার সাথে কোরবানীর পশু নেই সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। অতএব যাদের সাথে কোরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেলেন। কোরবানীর দিন আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে আসা হলো এবং বলা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কোরবানী করেছেন।
Book 25 · Hadith 100 · #2976 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 101
। আল-বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ রওয়ানা হলেন। আমরা হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কায় পৌঁছলে তিনি বলেনঃ তোমাদের হজ্জকে উমরায় পরিণত করো। লোকেরা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো হজ্জের নিয়াতে ইহরাম বেঁধেছি, তা কিরূপে উমরায় পরিবর্তিত করবো? তিনি বলেনঃ লক্ষ্য করো,আমি তোমাদের যা নির্দেশ করি তা কর তারা তাদের কথার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে স্থান ত্যাগ করেন এবং এই অবস্থায় আয়েশা (রাঃ) এর নিকট যান। তিনি তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করে বলেন, আপনাকে কে অসন্তুষ্ঠ করেছে, আল্লাহ তাকে অসন্তুষ্ট করুন? তিনি বলেনঃ আমি কিভাবে অসন্তুষ্ট না হয়ে পারি, আমি কোন কাজের হুকুম করি, অথচ তা মান্য করা হবে না?
Book 25 · Hadith 101 · #2977 · Daif, Daif, Daif, Daif - 102
। আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাদের সাথে কোরবানীর পশু আছে তারা যেন ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যাদের সাথে কোরবানীর পশু নেই তারা যেন ইহরাম ভঙ্গ করে। রাবী বলেন, আমার সাথে কোরবানীর পশু না থাকায় আমিও ইহরাম ভঙ্গ করলাম, কিন্তু (আমার স্বামী) যুবাইর (রাঃ) এর সাথে কোরবানীর পশু থাকায় তিনি ইহরাম ভঙ্গ করতে পারেননি। আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র প’রে যুবাইর (রাঃ) এর নিকট আসলে তিনি বলেন, তুমি আমার নিকট থেকে উঠে যাও। আমি বললাম, আপনি কি আশঙ্কা করছেন যে, আমি আপনার উপর ঝাপিয়ে পড়বো?
Book 25 · Hadith 102 · #2978 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 103
। আল-হারিস বিলাল (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (বিলাল) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হজ্জের ইহরাম ভঙ্গ করে উমরা করার সুযোগ কি কেবল আমাদের পর্যন্তই সীমিত, না সাধারণভাবে সব লোকের জন্য উন্মুক্ত? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বরং আমাদের জন্যই সীমিত।
Book 25 · Hadith 103 · #2979 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 104
। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (রাঃ) হজ্জের ইহরাম ভঙ্গ করার সুযোগ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের মধ্যে সীমিত ছিল।
Book 25 · Hadith 104 · #2980 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 105
। হিশাম ইবনে ইরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে অবহিত করে বলেছেন, আমি আয়েশা (রাঃ) -কে বললাম, আমি যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করি তবে তা আমার জন্য দূষণীয় মনে করি না। তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব যে কেউ কাবা ঘরের হজ্জ অথবা উমরা সম্পন্ন করে, এই দু’টির মধ্যে সাঈ করলে তার কোন পাপ নেই।’’ (সূরা বাকারাঃ ১৫৮)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তুমি যেরূপ বুঝেছ যদি তাই হতো তবে এভাবে বলা হতোঃ ‘‘তবে এ দু’টির মধ্যে সাঈ না করলে তার কোন গুনাহ নেই’’। উপরোক্ত আয়াত আনসার সম্প্রদায়ের কতক লোকের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তারা যখন ইহরাম বাঁধতো (জাহিলী যুগে) মানাত দেবতার উদ্দেশে বাঁধতো। তাই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা (তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী) তাদের জন্য হালাল ছিলো না। তারা (ইসলামোত্তর যুগে) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ করতে এসে বিষয়টি তাঁর সামনে উত্থাপন করলে তখন আল্লাহ তা‘আলা উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। (আয়েশা (রাঃ) বলেন) আমার জীবনের শপথ! যে ব্যক্তি হজ্জ করতে এসে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করবে না মহান আল্লাহ তার হজ্জ পূর্ণ করবেন না।
Book 25 · Hadith 105 · #2981 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 106
। শায়বার উম্মু ওয়ালাদের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতে দেখেছি এবং তিনি তখন বলছিলেনঃ আল-আবতাহ্ উপত্যকা অতিক্রম করতে হবে।
Book 25 · Hadith 106 · #2982 · Sahih, Sahih, Sahih - 107
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যদি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করে দৌঁড়াই তবে তা এজন্য যে, আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাঈ করতে দেখেছি। আমি যদি তা হেঁটে অতিক্রম করি তবে তা এজন্য যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা হেঁটে অতিক্রম করতে দেখেছি। আমি তো একজন অতি বৃদ্ধ।
Book 25 · Hadith 107 · #2983 · Sahih, Sahih, Hasan - 108
। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ হজ্জ হলো জিহাদ এবং উমরা হলো নফল।
Book 25 · Hadith 108 · #2984 · Daif, Daif, Very Daif, Daif - 109
। আবদুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি উমরা করাকালে (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করেন, আমরাও তাঁর সাথে তাওয়াফ করি, তিনি নামায পড়েন এবং আমরাও তাঁর সাথে নামায পড়ি। আমরা তাঁকে মক্কাবাসীদের থেকে আড়াল করে রাখতাম যাতে কেউ তাঁর কোনরূপ ক্ষতি করার সুযোগ না পায়।
Book 25 · Hadith 109 · #2985 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 110
। ওয়াহব ইবনে খানবাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযান মাসের উমরা (সওয়াবের ক্ষেত্রে) হজ্জের সমতুল্য।
Book 25 · Hadith 110 · #2986 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 111
। হারিম ইবনে খানবাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য।
Book 25 · Hadith 111 · #2987 · Sahih, Sahih, Sahih - 112
। আবূ মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রমযান মাসের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য।
Book 25 · Hadith 112 · #2988 · Sahih, Sahih, Sahih - 113
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযানের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য।
Book 25 · Hadith 113 · #2989 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 114
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য।
Book 25 · Hadith 114 · #2990 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 115
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল যিলকাদ মাসেই উমরা করেছেন।
Book 25 · Hadith 115 · #2991 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 116
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকাদ মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে উমরা করেননি।
Book 25 · Hadith 116 · #2992 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 117
। উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমার (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ মাসে উমরা করেছেন? তিনি বলেন, রজব মাসে। তখন আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও রজব মাসে উমরা করেননি। আর তিনি যখনই উমরা করেছেন, ইবনে উমার (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলেন (কিন্তু তিনি ভুলবশত রজব মাসে বলেছেন)।
Book 25 · Hadith 117 · #2993 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 118
। আবূ বাকর (রাঃ) এর পুত্র আবদর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন আয়েশা (রাঃ)-কে নিজের জন্তুযানে করে নিয়ে যান এবং তানঈম নামক স্থান থেকে তার উমরা করার ব্যবস্থা করেন।
Book 25 · Hadith 118 · #2994 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 119
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার কাছাকাছি সময়ে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বিদায় হজ্জে রওয়ানা হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতে চায় সে তা করতে পারে। আমি যদি সাথে কোরবানীর পশু না আনতাম তবে অবশ্যই উমরার ইহরাম বাঁধতাম। আয়েশা (রাঃ) বলেন, কাফেলার কতক উমরার উদ্দেশ্যে এবং কতক হর্জ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলো। যারা উমরার নিয়াতে ইহরাম বাঁধে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তিনি আরো বলেন, আমরা রওয়ানা হয়ে মক্কায় পৌঁছলাম। আরাফাত দিবস নিকটবর্তী হলে আমি হায়েযগ্রস্ত হলাম এবং তখনও উমরার ইহরাম খুলিনি। এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি বলেনঃ তুমি উমরা ত্যাগ করো, মাথার চুলের বাঁধন খুলে ফেলো, তাতে চিরুনী করো এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। যখন হাসবার রাত (যিলহজ্জ মাসের ১২তম রাত) এলো এবং আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হজ্জ পূর্ণ করলেন তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে (আমার ভাই) আবদুর রহমান ইবনে আবূ বাকর (রাঃ) কে পাঠালেন। তিনি আমাকে তাঁর উটের পিঠে পেছন দিকে তুলে নিয়ে তানঈম রওনা হলেন। সেখানে আমি উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করে দিলেন এবং এজন্য আমাদের উপর না কোরবানী, না সদাকা, আর না রোযা বাধ্যতামূলক হয়েছিল।
Book 25 · Hadith 119 · #2995 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 120
। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে, তাকে ক্ষমা করা হয়।
Book 25 · Hadith 120 · #2996 · Daif, Daif, Daif, Daif - 121
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি বাইতুল মাকদিস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলে তাতে তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহর কাফফারা হয়ে যায়। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, অতএব আমি বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।
Book 25 · Hadith 121 · #2997 · Daif, Daif, Daif, Daif - 122
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা করেছেনঃ হুদায়বিয়ার উমরা, পরবর্তী বছরের কাযা উমরা, তৃতীয়টি জি’রানা থেকে এবং চতুর্থটি তার বিদায় হজ্জের সাথে উমর।
Book 25 · Hadith 122 · #2998 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 123
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারবিয়ার দিন (৮ যিলহজ্জ) মিনায় যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামায পড়েন, অতঃপর ভোরবেলা আরাফাতে রওয়ানা হন।
Book 25 · Hadith 123 · #2999 · Sahih, Sahih, Sahih - 124
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তেন; অতঃপর সঙ্গীদের অবহিত করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাই করতেন।
Book 25 · Hadith 124 · #3000 · Hasan, Hasan Lighairihi, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 125
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য মিনায় একটি ঘর বানিয়ে দিবো না? তিনি বলেনঃ না, যারা আগে পৌঁছে যাবে মিনা তাদের ঠিকানা।
Book 25 · Hadith 125 · #3001 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 126
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মিনায় আপনার জন্য একটি ঘর বানাবো না, যা আপনাকে ছায়া দান করবে? তিনি বলেনঃ না, মিনায় যারা আগে পৌঁছবে, তা তাদের ঠিকানা।
Book 25 · Hadith 126 · #3002 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 127
। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আজকের (৯ যিলহজ্জ) ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মিনা থেকে আরাফাতে রওয়ানা হয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করতো এবং কতক তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) উচ্চারণ করতো। এদের কেউই এজন্য পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করেননি। অথবা তিনি এ কথা বলেছেন যে, না এরা ওদের ত্রুটি নির্দেশ করেছে, আর না ওরা এদের ত্রুটি ধরেছে।
Book 25 · Hadith 127 · #3003 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 128
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে ‘নামিরা’ উপত্যকায় অবতরণ করেছিলেন। রাবী বলেন, হাজ্জাজ ইবনুয যুবায়ের (রাঃ) কে হত্যা করার পর ইবনে উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করে পাঠায় যে, আজকের এ দিনের কোন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খোতবা দিতে মাঠের কেন্দ্রস্থলে) রওয়ানা হতেন? তিনি বলেন, সেই সময় উপস্থিত হলে স্বয়ং আমরাই রওয়ানা হবো। অতএব তিনি কখন রওয়ানা হন তা লক্ষ্য করার জন্য হাজ্জাজ একজন লোক পাঠায়। ইবনে উমার (রাঃ) যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? লোকেরা বললো, এখনও ঢলেনি। তিনি বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তারা বললো, এখনও ঢলেনি। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তারা বললো, হ্যাঁ। তারা যখন বললো, সূর্য ঢলেছে তখন তিনি রওয়ানা হলেন।
Book 25 · Hadith 128 · #3004 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 129
। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে অবস্থান করেন এবং বলেনঃ এটাই অবস্থানস্থল, গোটা আরাফাতই অবস্থানস্থল।
Book 25 · Hadith 129 · #3005 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 130
। ইয়াযীদ ইবনে শায়বান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক স্থানে অবস্থানরত ছিলাম, কিন্তু আরাফাত থেকে তা দূরে মনে হলো। ইতোমধ্যে ইবনে মিরবা‘ (রাঃ) আমাদের নিকট আসেন এবং বলেন, অমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দূত হিসাবে এসেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো। কারণ তোমরা আজকে ইবরাহীম (আঃ)-এর উত্তরসূরি।
Book 25 · Hadith 130 · #3006 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 131
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমগ্র আরাফাতই অবস্থানস্থল, বাতনে আরাফাত থেকে উঠে যাও। গোটা মুযদালিফাই অবস্থানস্থল এবং বাতনে মুহাসসির থেকে উঠে যাও (সেখানে অবস্থান করো না)। সমস্ত মিনাই কুরবানীর স্থান, কিন্তু জামরাতুল আকাবার পশ্চাদভাগ নয়।
Book 25 · Hadith 131 · #3007 · Sahih, Sahih, Daif - 132
। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে মিদাস আস-সুলামী (রহঃ) বলেন যে, তার পিতা (কানানা) তাকে অবহিত করেছেন তার পিতা আব্বাস (রাঃ) এর সূত্রেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে তৃতীয় প্রহরে তাঁর উম্মাতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে দোয়া করেন। জবাবে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাঁকে জানানো হয়ঃ আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম, স্বৈরাচারী যালেম ব্যতীত। কারণ আমি অবশ্যই তার উপর নির্যাতিতের প্রতিশোধ নিবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে প্রভু! আপনি ইচ্ছা করলে নির্যাতিত ব্যক্তিকে জান্নাত দান করতে এবং যালেমকে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত এর কোন জবাব পাওয়া গেলো না। ভোরবেলা তিনি মুযদালিফায় পুনরায় উপরোক্ত দোয়া করেন। এবার তাঁর আবেদন কবুল হলো। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দের হাসি দিলেন অথবা মুচকি হাসলেন। আবূ বাকর (রাঃ) ও উমার (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আপনি এ (হজ্জের) সময় কখনও হাসেননি, আজ কোন্ জিনিস আপনাকে হাসালো? আল্লাহ আপনাকে হাসিমুখে রাখুন। তিনি বলেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীস যখন জানতে পারলো যে, মহামহিম আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন এবং আমার উম্মাতকে ক্ষমা করেছেন, তখন সে গুড়া মাটি তুলে নিজের মাথায় ঢালতে ঢালতে বলতে লাগলো, হায় সর্বনাশ, হায় ধ্বংস। আমি ওর যে অস্থিরতা দেখেছি তা আমাকে হাসিয়েছে।
Book 25 · Hadith 132 · #3008 · Daif, Daif, Daif, Daif - 133
। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিমান্বিত আল্লাহ আরাফাতের দিন জাহান্নাম থেকে যতো অধিক সংখ্যক বান্দাকে নাজাত দেন, অন্য কোন দিন এতো অধিক বান্দাকে নাজাত দেন না। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ এ দিন (বান্দার) নিকটবর্তী হন, অতঃপর তাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের নিকট গৌরব করে বলেনঃ তারা কী চায়?
Book 25 · Hadith 133 · #3009 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 134
। বুকাইর ইবনে আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আবদুর রহমান ইবনে ইয়ামুর আদ-দায়লী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আরাফাতে উপস্থিতকালে তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। নাজদ এলাকার কতক লোক তাঁর নিকট হাযির হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কিভাবে সম্পন্ন হয়? তিনি বলেনঃ ‘‘আরাফাতে অবস্থান হচ্ছে হজ্জ’’। অতএব যে ব্যক্তি মুজদালিফার রাতে ফজর নামাযের পূর্বেই আরাফাতে এসে পৌঁছলো তার হজ্জ পূর্ণ হলো। মিনায় তিন দিন (১১, ১২ ও ১৩ যুলহিজ্জা) অবস্থান করতে হয়। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি দু’ দিন অবস্থানের পর চলে আসে, তবে তাতে কোন গুনাহ নেই। অতঃপর তিনি কোন ব্যক্তিকে নিজ বাহনের পেছনে উঠিয়ে নিলেন এবং সে উচ্চস্বরে একথা ঘোষণা করতে থাকলো। ২/৩০১৫(১)। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া-আবদুর রাযযাক-সাওরী-বুকাইর ইবনে আতা-আবদুর রহমান ইবনে ইয়ামুর আদ-দায়লী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। তখন নাজদের একদল লোক তাঁর নিকট উপস্থিত হলো ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন, আমি সাওরীর কোন রিওয়ায়াত এ হাদীসের তুলনায় অধিক উত্তম পাইনি।
Book 25 · Hadith 134 · #3010 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 135
। উরওয়া ইবনে মুদাররিস আত-তাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে হজ্জ করেন। লোকেরা যখন মুযদালিফায় ছিল তখন তিনি পৌঁছেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার উষ্ট্রীকে শীর্ণকায় করে ফেলেছি (দীর্ঘ সফরে) এবং নিজেও কষ্টক্লেশ করেছি। আল্লাহর শপথ! আমি এমন কোন টিলা ত্যাগ করিনি যার উপর অবস্থান করিনি। আমার হজ্জ হয়েছি কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের সাথে নামাযে শরীক হয়েছে এবং আরাফাতে অবস্থানের পর রাতে অথবা দিনে প্রত্যাবর্তন করেছে সে নিজের ময়লা-মালিন্য (নখ-চুল ইত্যাদি) দূর করেছে এবং তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে।
Book 25 · Hadith 135 · #3011 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 136
। উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনকালে কিভাবে পথ অতিক্রম করতেন? তিনি বলেন, তিনি জন্তুযানে আরোহিত অবস্থায় কিছুটা দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করতেন। উন্মুক্ত জায়গা পেলে তিনি দ্রুত চলতেন। ওয়াকী‘ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ প্রথমোক্ত গতিবেগের তুলনায় অধিক দ্রুত বেগে (চলতেন)।
Book 25 · Hadith 136 · #3012 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 137
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাইশগণ বললো, আমরা তো বাইতুল্লাহর অধিবাসী। তাই আমরা হারামের বাইরে যাই না (আরাফাত হারামের সীমার বাইরে হওয়াতে তারা আরাফাতে যেতো না)। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করো।’’ (সূরা বাকারাঃ ১৯৯)।
Book 25 · Hadith 137 · #3013 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 138
। উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (আরাফাত থেকে) প্রত্যাবর্তন করলাম। যখন তিনি সেই উপত্যকায় পৌঁছলেন যেখানে সম্ভ্রান্ত লোকেরা যাত্রাবিরতি করে, তখন সেখানে যাত্রাবিরতি দিয়ে পেশাব করেন, অতঃপর উযু করেন। আমি বললাম, (মাগরিবের) নামায পড়ে নিন। তিনি বলেনঃ আরও সামনে এগিয়ে গিয়ে নামায পড়বো। তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলে আযান ও ইকামত দেয়া হলো এবং মাগরিবের নামায পড়লেন। অতঃপর কেউ জন্তুযানের পালান না খুলতেই দিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং এশার নামায পড়লেন।
Book 25 · Hadith 138 · #3014 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 139
। আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-খাতমী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি বিদায় হজ্জের সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার নামায পড়েছি।
Book 25 · Hadith 139 · #3015 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 140
। সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিবের নামায পড়লেন। আমরা যখন উটগুলো বসাচ্ছিলাম তখন তিনি বলেনঃ (এশার) নামাযের ইকামত হচ্ছে।
Book 25 · Hadith 140 · #3016 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 141
। ‘আমর ইবনে মায়মুন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে হজ্জ করেছি। আমরা যখন মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম তখন তিনি বলেন, মুশরিকরা বলতো, হে সাবীর (মুযদালিফার একটি পাহাড়)! উজ্জ্বল হও, আমরা প্রত্যাবর্তন করবো। তারা সূর্য না উঠা পর্যন্ত (মুযদালিফা থেকে) প্রত্যাবর্তন করতো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত আমল করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে (মিনার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা করেন।
Book 25 · Hadith 141 · #3017 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 142
। জাবির (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে ধীরেসুস্থে (মুযদালিফা থেকে) রওয়ানা করেন এবং লোকেদেরও শান্তভাবে রওয়ানা হতে বলেন। (মিনায় পৌঁছার পর) তিনি তাদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন ক্ষুদ্র কাঁকর নিক্ষেপ করে। তিনি নিজে (মুযদালিফা ও মিনার মাঝখানে অবস্থিত) ওয়াদী মুহাসসির দ্রুত অতিক্রম করেন এবং বলেনঃ আমার উম্মাত যেন হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শিখে নেয়। কারণ এ বছরের পর হয়তো আমি তাদের সাথে আর মিলিত হতে পারবো না।
Book 25 · Hadith 142 · #3018 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 143
। বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মুযদালিফার দিন ভোরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ হে বিলাল! লোকেদের চুপ করতে বলো। অতঃপর তিনি বলেনঃ এই মুযদালিফায় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রতি যথেষ্ট অনুগ্রহ করেছেন, তোমাদের উত্তম লোকেদের উসীলায় তোমাদের গুনাহগারদের ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তি যা প্রার্থনা করেছে তিনি তাকে তা দিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যাবর্তন করো।
Book 25 · Hadith 143 · #3019 · Sahih, Sahih, Daif - 144
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অর্থাৎ আবদুল মুত্তালিব গোত্রের অল্প বয়ষ্কদেরকে আমাদের গাধাগুলোয় চড়িয়ে মুযদালিফা থেকে আগেভাগে পাঠিয়ে দেন। তিনি আমাদের উরুর উপর হাল্কা আঘাত করে বলতেনঃ আমার কচিকাঁচা! সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত জামরায় পাথর নিক্ষেপ করো না। সুফিয়ানের বর্ণনায় আরও আছে, সুর্যোদয়ের পূর্বে কেউ কাঁকর নিক্ষেপ করতো কি না জানি না।
Book 25 · Hadith 144 · #3020 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 145
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারে যেসব দুর্বল লোকেদের (মুযদালিফা থেকে মিনায়) আগেভাগে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
Book 25 · Hadith 145 · #3021 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 146
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সাওদা বিনতে যামআ (রাঃ) সূহলকায় ছিলেন। তিনি মুযদালিফা থেকে লোকেদের রওনা হওয়ার আগেই চলে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।
Book 25 · Hadith 146 · #3022 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 147
। সুলায়মান ইবনে ‘আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) থেকে তার মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মাতা) বলেন, কোরবানীর দিন জামরাতুল ‘আকাবার নিকটে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খচ্চরের পিঠে আরোহিত অবস্থায় দেখেছি। তখন তিনি বলেছেনঃ হে লোকসকল! যখন তোমরা জামরায় (কংকর) নিক্ষেপ করতে যাবে তখন সেখানে ক্ষুদ্র আকারের কংকর নিক্ষেপ করবে।
Book 25 · Hadith 147 · #3023 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Daif - 148
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল ‘আকাবার ভোরে তাঁর উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় বলেনঃ আমার জন্য কংকর সংগ্রহ করে লও। আমি তাঁর জন্য সাতটি কংকর সংগ্রহ করলাম। তা ছিল আকারে ক্ষুদ্র। তিনি তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেনঃ এই আকারের ক্ষুদ্র কংকর নিক্ষেপ করবে। তিনি পুনরায় বলেনঃ দীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকেদেরকে দীনের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে।
Book 25 · Hadith 148 · #3024 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 149
। আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) জামরাতুল আকাবায় পৌঁছে উপত্যকার নিম্নভূমিতে কাবাকে সামনে রেখে এবং জামরাতুল ‘আকাবাকে ডান দিকে রেখে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে সাথে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন, অতঃপর বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই! যে মহান ব্যক্তির উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছিল তিনি এখান থেকে কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন।
Book 25 · Hadith 149 · #3025 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 150
। সুলায়মান ইবনে ‘আমর ইবনুল আহওয়াস (রাঃ) থেকে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কোরবানীর দিন জামরাতুল আকাবার নিকটে উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে সাথে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন, অতঃপর প্রত্যাবর্তন করেন। ৩/৩১৩১(১)। আবূ বাকর ইবনে শাইবা-আবদুর রহীম ইবনে সুলায়মান-ইয়াযীদ ইবনে আবূ যিয়াদ-সুলায়মান ইবনে আমার ইবনুল আহওয়াস-উম্মু জুনদুব (রাঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
Book 25 · Hadith 150 · #3026 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Daif - 151
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করার পর সেখানে আর অবস্থান করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এরূপ করেন।
Book 25 · Hadith 151 · #3027 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 152
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করে চলে যেতেন, অবস্থান করতেন না।
Book 25 · Hadith 152 · #3028 · Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan Lighairihi, Sahih - 153
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন।
Book 25 · Hadith 153 · #3029 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 154
। কুদামা ইবনে আবদুল্লাহ আল-আমেরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোরবানীর দিন লাল-সাদা মিশ্র বর্ণের একটি উষ্ট্রীতে সওয়ার অবস্থায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। এতে না ছিল আঘাত, না ছিল হাঁকানো, না এদিক, না ওদিক।
Book 25 · Hadith 154 · #3030 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 155
। আবুল বাদ্দাহ ইবনে আসেম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট চারকদের একদিন কাঁকর নিক্ষেপ করার ও একদিন বিরতি দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
Book 25 · Hadith 155 · #3031 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 156
। আবুল বাদ্দাহ ইবনে আসেম (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট চারকদের মিনায় অথবা তার বাইরে রাত যাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যেন তারা কোরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ করে। এরপর কোরবানীর পরে দু’ দিনের কংকর একসাথে নিক্ষেপ করবে। তারা ঐ দু’ দিনের যে কোন একদিন তা নিক্ষেপ করবে। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয় আবদুল্লাহ ইবনে আবূ বাকর বলেছেন, প্রথম দিন (কোরবানীর দিন) কংকর নিক্ষেপ করবে, অতঃপর প্রস্থানের দিন কংকর নিক্ষেপ করবে।
Book 25 · Hadith 156 · #3032 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 157
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জ করলাম। আমাদের সাথে মহিলা ও শিশুরা ছিল। আমরা শিশুদের পক্ষ থেকে তালবিয়া পাঠ ও কংকর নিক্ষেপ করেছি।
Book 25 · Hadith 157 · #3033 · Daif, Daif, Daif, Daif - 158
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রেখেছেন যতক্ষণ না জামরাতুল আকাবায় (কোরবানীর দিন) কংকর নিক্ষেপ করেছেন।
Book 25 · Hadith 158 · #3034 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 159
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাযল ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একই বাহনে তাঁর পিছনে সওয়ার ছিলাম। আমি তাঁকে অনবরত তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি, যতক্ষণ না তিনি জামরাতুল ‘আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করেছেন। তিনি যখন তা নিক্ষেপ করেন, তখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করেছেন।
Book 25 · Hadith 159 · #3035 · Sahih, Sahih, Sahih - 160
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তোমরা জামরায় কংকর নিক্ষেপ করলে, তখন তোমাদের জন্য স্ত্রীসংগ ব্যতীত সবকিছু হালাল হয়ে গেলো। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেন, হে ইবনে আব্বাস! সুগন্ধিও? তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার বক্তব্য এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ মাথায় কস্ত্তরী মাখতে দেখেছি (কংকর নিক্ষেপের পরে)। তা সুগন্ধি কি নয়?
Book 25 · Hadith 160 · #3036 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 161
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহরাম বাঁধার আগে সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি এবং যখন তিনি ইহরাম খুলেছেন তখনও।
Book 25 · Hadith 161 · #3037 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 162
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! যারা মাথা মুন্ডন করিয়েছে তাদের ক্ষমা করুন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা নিজেদের মাথার চুল ছঁটিয়েছে? তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! যারা নিজেদের মাথা মুন্ডন করিয়েছে তাদের ক্ষমা করুন। এ কথা তিনি তিনবার বলেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যারা নিজেদের মাথার চুল ছাঁটিয়েছে তাদের জন্যও। তিনি বলেনঃ যারা চুল ছাঁটিয়েছে তাদের জন্যও।
Book 25 · Hadith 162 · #3038 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 163
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা মাথা মুন্ডন করিয়েছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি দয়া করুন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছঁটিয়েছে তাদের প্রতিও। তিনি বলেনঃ যারা মাথা মুন্ডণ করিয়েছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি দয়া করুন। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যারা চুল ছাঁটিয়েছে তাদের জন্যও (অনুরূপ দোয়া করুন)। তিনি বলেনঃ যারা মাথা মুন্ডন করিয়েছে তাদের প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যারা চুল ছাঁটিয়েছ তাদের প্রতিও। তিনি বলেনঃ যারা চুল ছাঁটিয়েছে তাদের প্রতিও।
Book 25 · Hadith 163 · #3039 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 164
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যারা মাথা মুন্ডন করিয়েছে আপনি তাদের জন্য তিনবার, আর যারা চুল ছাঁটিয়েছে তাদের জন্য একবার মাত্র দোয়া করেছেন, এর কারণ কী? তিনি বলেনঃ যারা মাথা মুন্ডন করিয়েছে তারা সন্দেহ করেনি (অর্থাৎ উত্তম কাজ সন্দেহমুক্তভাবে সমাধা করেছে)।
Book 25 · Hadith 164 · #3040 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 165
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী হাফসা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকেরা ইহরামমুক্ত হয়েছে, আর আপনি এখনও উমরার ইহরাম থেকে মুক্ত হননি, এর কারণ কী? তিনি বলেনঃ আমি আমার মাথার চুল জমাটবদ্ধ করে নিয়েছি এবং সাথে কোরবানীর পশু এনেছি। তাই কোরবানী না করা পর্যন্ত আমি ইহরামমুক্ত হতে পারি না।
Book 25 · Hadith 165 · #3041 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 166
। সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথার চুল একত্রে জমাটবদ্ধ অবস্থায় লাব্বাইক ধ্বনি করেছেন।
Book 25 · Hadith 166 · #3042 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 167
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মিনার সমস্ত এলাকাই কোরবানীর স্থান, মক্কার প্রতিটি প্রশস্ত সড়কই রাস্তা এবং কোরবানীর স্থান, আরাফাতের গোটা এলাকাই অবস্থানস্থল এবং মুযদালিফার সমস্ত এলাকাও অবস্থানস্থল।
Book 25 · Hadith 167 · #3043 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 168
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের অনুষ্ঠানাদিতে অগ্র-পশ্চাত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দু’ হাতের ইশারায় বলেনঃ কোন ক্ষতি নেই।
Book 25 · Hadith 168 · #3044 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 169
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনার দিবসে লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেনঃ কোন দোষ নেই, কোন ক্ষতি নেই। অতএব এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, কোরবানীর পূর্বে আমি মাথা মুন্ডন করিয়েছি। তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই। আরেকজন বললো, আমি সন্ধ্যায় কাঁকর নিক্ষেপ করেছি। তিনি বলেনঃ কোন ক্ষতি নেই।
Book 25 · Hadith 169 · #3045 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 170
। আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মাসআলা জানতে চাওয়া হলো যে, কোন ব্যক্তি মাথা মুন্ডনের পূর্বে কোরবানী করেছে অথবা কোন ব্যক্তি কোরবানীর পূর্বে মাথা কামিয়েছে। তিনি বলেনঃ তাতে কোন দোষ নেই।
Book 25 · Hadith 170 · #3046 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 171
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর দিন লোকেদের উদ্দেশে মিনায় বসলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কোরবানী করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করেয়েছি। তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই। অপর এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কোরবানী করেছি। তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই। সেদিন কোন অনুষ্ঠান কোন অনুষ্ঠানের আগে বা পরে সম্পন্ন করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই।
Book 25 · Hadith 171 · #3047 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih - 172
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জামরাতুল আকাবায় পূর্বাহ্নে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তিনি এরপরের (দিনগুলোতে) পাথর নিক্ষেপ করেন অপরাহ্নে।
Book 25 · Hadith 172 · #3048 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 173
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অপরাহ্নে) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর জামরায় কাঁকর নিক্ষেপ করতেন, কাঁকর নিক্ষেপের পর তাঁর নামায পড়ার সময় হয়ে যেতো।
Book 25 · Hadith 173 · #3049 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 174
। সুলায়মান ইবনে ‘আমর ইবনুল আহ্ওয়াস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিদায় হজ্জে বলতে শুনেছিঃ হে লোকসকল! কোন্ দিনটি সর্বাধিক সম্মানিত? তিনি তিনবার এ কথা বলেন। তারা বলেন, হজ্জের বড় দিন। তিনি বলেনঃ তোমাদের রক্ত (জীবন), তোমাদের সম্পদ, তোমাদের মান-সম্ভ্রম তোমাদের পরস্পরের জন্য (তাতে হস্তক্ষেপ করা) হারাম, যেভাবে তোমাদের এ দিনে, এই মাসে এবং এই শহরে হারাম। সাবধান! কেউ অপরাধ করলে সেজন্য তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে। পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে দায়ী করা যাবে না এবং পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে দায়ী করা যাবে না। জেনে রাখো! তোমাদের এই শহরে শয়তান নিজের জন্য ইবাদত পাওয়া থেকে চিরকালের জন্য নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু কতগুলো কাজ যা তোমরা তুচ্ছজ্ঞানে করতে গিয়ে শয়তানের আনুগত্য করো এবং তাতে সে খুশি হয়ে যায়। সাবধান! জাহিলী যুগের সকল রক্তের (হত্যার) দাবি রহিত হলো। এসব দাবির মধ্যে আমি সর্ব প্রথম আল-হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের রক্তের দাবি রহিত করছি, সে লাইস গোত্রে প্রতিপালিত হওয়াকালে হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত সূদের দাবি রহিত হলো। তবে তোমার মূলধন ফেরত পাবে, তোমরাও জুলুম করবে না এবং জুলুমের শিকারও হবে না। শোনো হে আমার উম্মাত! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? একথা তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। একথাও তিনি তিনবার বলেন।
Book 25 · Hadith 174 · #3050 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 175
। মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতইম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনার মসজিদুল খায়ফ-এ দাঁড়িয়ে বলেনঃ আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তিকে সজীব ও আলোকোজ্জ্বল করে রাখুন যে আমার কথা শোনে, অতঃপর তা (অন্যদের নিকট) পৌঁছে দেয়। জ্ঞানের অনেক বাহক মূলত জ্ঞানী নয়। কোন কোন জ্ঞানের বাহক যার নিকট জ্ঞান বয়ে নিয়ে যায়, সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনটি বিষয় মুমিন ব্যক্তির অন্তর প্রতারণা করতে পারে না: (১) একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) জন্য ‘আমল (কাজ) করা, (২) মুসলিম শাসকবর্গকে সদুপদেশ প্রদানে এবং (৩) মুসলিম জামা‘আতের (সমাজের) সাথে সংঘবদ্ধ থাকার ব্যাপারে। কারণ মুসলিমদের দোয়া তাদেরকে পেছন দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখে।
Book 25 · Hadith 175 · #3051 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 176
। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে তাঁর কানকাটা উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় বলেনঃ তোমরা কি জানো আজ কোন দিন, এটা কোন মাস এবং এটা কোন শহর? তারা বলেন, এটা (মক্কা) সম্মানিত শহর, সম্মানিত মাস ও সম্মানিত দিন। তিনি আরো বলেনঃ সাবধান! তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের রক্ত তোমাদের পরস্পরের প্রতি তেমনি হারাম যেমনি তোমাদের এই মাসের সম্মান রয়েছে তোমাদের এই শহরে তোমাদের এই দিনে। শুনে রাখো! আমি তোমাদের আগেই হাওযে কাওসারে উপস্থিত থাকবো। অন্যান্য উম্মাতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে আমি গৌরব করবো। তোমরা যেন আমার চেহারা কালিমালিপ্ত না করো। সাবধান! কিছু লোককে আমি মুক্ত করতে পারবো, আর কিছু লোককে আমার নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া হবে। তখম আমি বলবো, হে আল্লাহ! এরা তো আমার সাহাবী! তিনি বলবেনঃ তোমার পরে এরা কী বিদআতী কাজ করেছে, তা তুমি জানো না।
Book 25 · Hadith 176 · #3052 · Sahih, Sahih, Sahih - 177
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বছর হজ্জ করেন, সেই বছর কোরবানীর দিন জামরাসমূহের মধ্যস্থলে দাঁড়ালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেনঃ আজ কোন্ দিন? সাহাবীগণ বললেন, কোরবানীর দিন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটি কোন্ শহর? তারা বললেন, এটা আল্লাহর সম্মানিত শহর। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন্ মাস? তারা বললেন, আল্লাহর সম্মানিত মাস। তিনি বলেনঃ এটি হজ্জের বড় দিন। তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের মান-সম্ভ্রম (প্রভৃতির উপর হস্তক্ষেপ) তোমাদের জন্য হারাম, যেমন এই শহরের হুরমাত (সম্মান) এই মাসে এবং এই দিনে। তিনি পুনরায় বলেনঃ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তারা বলেন, হাঁ। তখন তিনি বলতে শুরু করলেনঃ হে আল্লাহ! সাক্ষী থাকুন। অতঃপর তিনি লোকেদের বিদায় দেন। তখন তারা বলেন, এটা বিদায় হজ্জ।
Book 25 · Hadith 177 · #3053 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 178
। আয়েশা (রাঃ) ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারা বিলম্ব করেন।
Book 25 · Hadith 178 · #3054 · Daif, Shadh, Daif, Daif - 179
। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারার সাত চক্করে রমল (বাহু দুলিয়ে বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ) করেননি। আতা (রহঃ) বলেন, তাওয়াফে যিয়ারাতে রমল করতে হয় না।
Book 25 · Hadith 179 · #3055 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 180
। মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবূ বাকর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি তার নিকট এলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কোথা থেকে এসেছো? সে বললো, যমযমের নিকট থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি তা থেকে প্রয়োজনমত পান করেছো? সে বললো, তা কিরূপে? তিনি বলে, তুমি তা থেকে পান করার সময় কিবলামুখী হবে, আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তিনবার নিঃশ্বাস নিবে এবং তৃপ্তি সহকারে পান করবে। পানি পানশেষে তুমি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে নিদর্শন এই যে, তারা তৃপ্তি সহকারে যমযমের পানি পান করে না।
Book 25 · Hadith 180 · #3056 · Daif, Daif, Daif, Hasan - 181
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যমযমের পানি যে উপকার লাভের আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে।
Book 25 · Hadith 181 · #3057 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 182
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন কাবা ঘরে প্রবেশ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল ও উসমান ইবনে শাইবা (রাঃ)। তাঁরা ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। তাঁরা বেরিয়ে এলে আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ স্থানে নামায পড়েছেন? তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, তিনি ভিতরে প্রবেশ করে ডান দিকের দু’ স্তম্ভের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তার দিকে মুখ করে নামায পড়েন। অতঃপর আমি নিজেকে তিরস্কার করলাম যে, আমি কেন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতো রাক‘আত নামায পড়েছেন।
Book 25 · Hadith 182 · #3058 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 183
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট থেকে আনন্দিত চোখে ও উৎফুল্ল চিত্তে বেরিয়ে গেলেন, কিন্তু বিষণ্ণ অবস্থায় ফিরে এলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার নিকট থেকে চক্ষু শীতল অবস্থায় বেরিয়ে গেলেন, অথচ দুশ্চিন্তাযুক্ত অবস্থায় ফিরে এলেন! তিনি বলেনঃ আমি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করার পর ভাবলাম, আমি যদি এটা না করতাম! আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, আমার পরে আমার উম্মাতের কষ্ট হবে।
Book 25 · Hadith 183 · #3059 · Daif, Daif, Daif - 184
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) মিনার দিনগুলোর রাত মক্কায় কাটানোর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন। কারণ হাজ্জীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত ছিল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।
Book 25 · Hadith 184 · #3060 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 185
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত আর কাউকে মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের অনুমতি দেননি। কারণ তার উপর পানি সরবরাহের দায়িত্ব অর্পিত ছিল।
Book 25 · Hadith 185 · #3061 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 186
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-আবতাহ্ নামক স্থানে যাত্রাবিরতি সুন্নাত নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এজন্য যাত্রাবিরতি করেন যাতে (মদীনার উদ্দেশ্যে তাঁর রওয়ানা করা সহজ হয়।)
Book 25 · Hadith 186 · #3062 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 187
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা বাতহা নামক স্থান থেকে মদীনার উদ্দেশে রওনা হন।
Book 25 · Hadith 187 · #3063 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 188
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও উষমান (রাঃ) বাতহা নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করতেন।
Book 25 · Hadith 188 · #3064 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 189
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বিক্ষিপ্তভাবে সব দিকে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শেষবারের মত বাইতুল্লাহ তাওয়াফ না করা পর্যন্ত কেউ যেন প্রস্থান না করে।
Book 25 · Hadith 189 · #3065 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 190
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শেষবারের মত বাইতুল্লাহ তাওয়াফ না করা পর্যন্ত কোন ব্যক্তিকে (মক্কা থেকে) প্রস্থান করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
Book 25 · Hadith 190 · #3066 · Sahih, Sahih, Sahih - 191
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাওয়াফে ইফাযা করার পর সাফিয়্যা বিনতে হুয়ায়্যি (রাঃ) ঋতুবতী হলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম। তিনি বলেন, সে কি আমাদের আটকে রাখব? আমি বললাম, তিনি তাওয়াফে ইফাযা করেছেন, অতঃপর ঋতুবতী হয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে রওয়ানা হতে পারো।
Book 25 · Hadith 191 · #3067 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 192
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যা (রাঃ) সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা বললাম, সে ঋতুবতী হয়েছে। তিনি বলেনঃ বন্ধ্যা, ন্যাড়া, সে তো আমাদের আটকে ফেলেছে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি কোরবানীর দিন তাওয়াফ করেছেন। তিনি বলেনঃ তাহলে অসুবিধা নেই। তোমরা তাকে রওনা হতে বলো।
Book 25 · Hadith 192 · #3068 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 193
। জাফর সাদেক ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাকের (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) এর নিকট গেলাম। আমরা তার নিকট উপস্থিত হলে তিনি সাক্ষাতপ্রার্থীদের পরিচয় জানতে চান। আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে আমি বলি যে, আমি আলী ইবনুল হুসাইনের পুত্র মুহাম্মাদ। অতএব তিনি (স্নেহভরে) আমার দিকে তার হাত বাড়ালেন এবং তা আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি প্রথমে আমার পরিচ্ছদের উপর দিকের বোতাম, অতঃপর নিচের বোতাম খুললেন, অতঃপর তার হাত আমার বুকের উপর রাখলেন। আমি তখন উঠতি বয়সের যুবক। তিনি বলেন, তোমাকে মোবারকবাদ জানাই। তুমি যা জানতে চাও জিজ্ঞেস করো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ সময় তিনি (বার্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। ইতোমধ্যে নামাযের ওয়াক্ত হলো। তিনি নিজেকে একটি চাদরে আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাদরের প্রান্তভাগ নিজ কাঁধের উপর রাখতেন, তা (আকারে) ছোট হওয়ার কারণে নিচে পড়ে যেতো। তার আরেকটি বড় চাদর তার পাশেই আলনায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়লেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (বিদায়) হজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির (রাঃ) স্বহস্তে নয় (৯) সংখ্যার প্রতি ইংগিত করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং (এ সময়কালের মধ্যে) হজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকেদের মধ্যে ঘোষণা করালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ বছর) হজ্জে যাবে। সুতরাং মদীনায় অসংখ্য লোকের সমাগম হলো। তাদের প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী। অতএব তিনি রওয়ানা হলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা যুল-হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছলে আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বাকরকে প্রসব করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন, এখন আমি কী করবো? তিনি বলেনঃ তুমি গোসল করো, এক খন্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বাঁধো এবং ইহরামের পোশাক পরিধান করো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের (ইহরামের দু’ রাক‘আত) নামায পড়লেন, অতঃপর ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অবশেষে ‘বাইদা’ নামক স্থানে তাঁর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো, তখন আমি (জাবির) সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায় তাকিয়ে দেখলাম, লোকে লোকারণ্য, কতক সওয়ারীতে এবং কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডান দিকে, বাঁ দিকে এবং পেছনেও একই দৃশ্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এই তালবিয়া পাঠ করলেনঃ লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা ইন্নাল-হামদা ওয়ান-নিয়’মাতা লাকা ওয়াল-মুলকা লা শারীকা লাকা’’ (আমি তোমার দরবারে হাজির আছি হে আল্লাহ, আমি তোমার দরবারে হাজির, আমি তোমার দরবারে হাজির। তোমার কোন শরীক নাই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত তোমারই এবং রাজত্বও, তোমার কোন শরীক নাই)। লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়া পাঠ করলো যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। লোকেরা তাঁর তালবিয়ার সাথে কিছু শব্দ বাড়িয়ে বলে, কিন্তু তিনি তাদের বাধা দেননি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত তালবিয়াই পাঠ করেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা হজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়াত করিনি, আমরা উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা তাঁর সাথে বাইতুল্লাহ শরীফে পৌঁছলে তিনি রুকন (হাজরে আসওয়াদ) চুম্বন করলেন, অতঃপর (সাতবার কাবা ঘর) তাওয়াফ করলেন, (প্রথম) তিনবার দ্রুত গতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। অতঃপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌঁছে তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ করো ’’ (সূরা বাকারাঃ ১২৫) তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তাঁর ও বাইতুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দুই রাক‘আত নামায পড়লেন)। (জাফর বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মাদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি দু’ রাক্আত নামাযে সূরা কাফিরূপ ও সূরা ইখলাস পড়েছেন। অতঃপর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ ফিরে এলেন এবং হাজরে আসওয়াদে চুমা দিলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদের্শন সমূহের অন্যতম ’’ (সূরা বাকারাঃ ১৫৮) এবং (আরও বললেন) আল্লাহ তাআলা যা দিয়ে আরম্ভ করেছেন আমরাও তা দিয়ে আরম্ভ করবো। অতএব তিনি সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন এবং তার এতোটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বাইতুল্লাহ শরীফ দেখতে পেলেন। তিনি (কিবলামুখী হয়ে) আল্লাহর একত্ব ও মহত্ব ঘোষণা করলেন এবং এ দোয়া পড়েনঃ ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলক ওয়া লাহুল-হামদু ইউহ্য়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়েন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু আনজাযা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু’’ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, তাঁর জন্য রাজত্ব এবং তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, নিজের বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সমস্ত সম্মিলিত শক্তিকে পরাভূত করেছেন)। তিনি এ দোয়া তিনবার পড়লেন এবং মাঝখানে অনুরূপ আরো কিছু দোয়া পড়লেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়া পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন, যাবত না তাঁর পা মোবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকলো। তিনি দৌঁড়ে চললেন যাবত না উপত্যকার মধ্যভাগ অতিক্রম করলেন। মারওয়া পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন, যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। শেষ তাওয়াফে তিনি মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে (লোকেদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগে বুঝতে পারতাম যে, আমার কী করা উচিত তাহলে আমি সাথে করে কোরবানীর পশু আনতাম না এবং (হজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তিত করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কোরবানীর পশু নাই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সাথে কোরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত সকলেই ইহরাম খুলে ফেলেন এবং চুল ছোট করলেন। এ সময় সুরাকা ইবনে মালেক ইবনে জুশুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতের আংগুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকিয়ে দু’বার বললেনঃ উমরা হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করলো, না, বরং সর্বকালের জন্য। এ সময় আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কোরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাতিমা (রাঃ) কেও তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিত ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। আলী (রাঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (রাবী বলেন) এরপর আলী (রাঃ) ইরাকে অবস্থানকালে বলতেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম ফাতিমার উপর অসন্তুষ্ট অবস্থায়, সে যা করেছে সে সম্পর্কে মাসআলা জানার জন্য। আমি তাঁকে বললাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ফাতিমা ঠিকই করেছে, ঠিকই বলেছে! তুমি হজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে? আলী (রাঃ) বলেন, আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধলাম যে নিয়াতে ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার সাথে কোরবানীর পশু আছে, অতএব তুমি ( আলী) ইহরাম খুলো না। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) ইয়ামেন থেকে যে পশুপাল নিয়ে আসেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সাথে করে যে পশুগুলো নিয়ে এসেছিলেন এর সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়ায় একশত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সাথে কোরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেলেন এবং চুল ছোট করে। অতঃপর তারবিয়ার দিন (৮ যিলহজ্জ) শুরু হলে লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলো এবং মিনার দিকে রওয়ানা হলো। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে গেলেন এবং তথায় যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামায পড়লেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত তথায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং তাঁর জন্য নামিরা নামক স্থানে গিয়ে একটি তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, অতঃপর নিজেও রওয়ানা হয়ে গেলেন। কুরাইশগণ নিশ্চিত ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাশআরুল হারাম নামক স্থানে অবস্থান করবেন, যেমন কুরাইশগণ জাহিলী যুগে এখানে অবস্থান করতো (মানহানি হওয়ার আশঙ্কায় তারা সাধারণের সাথে একত্রে আরাফাতে অবস্থান করতো না)। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন যাবত না আরাফাতে পৌঁছলেন। তিনি দেখতে পেলেন, নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলেন। অবশেষে সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়লে তিনি তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রী সাজানোর নির্দেশ দিলে তা সাজানো হলো। অতঃপর তিনি উপত্যকার মাঝখানে আসেন এবং লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ ‘‘তোমাদের জীবন ও সম্পদ তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেভাবে এই দিনে, এই মাসে এবং এই শহরে হারাম’’। ‘‘সাবধান! জাহিলী যুগের সকল জিনিস (অপ-সংস্কৃতি) রহিত হলো। আমাদের (বংশের) রক্তের দাবির মধ্যে সর্বপ্রথম আমি রবীআ ইবনুল হারিসের রক্তের দাবি রহিত করলাম।’’ সে সাদ গোত্রে শিশু অবস্থায় লালিত-পালিত হওয়াকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিল। ‘‘জাহিলী যুগের সূদও রহিত করা হলো। আমাদের বংশের প্রাপ্য সূদের মধ্যে সর্ব প্রথম আমি আবদুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস (রাঃ) -র প্রাপ্য সমুদয় সূদ রহিত করলাম। ’’ ‘‘তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর জামানতে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর কালামের মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের অন্দর মহলে এমন কোন লোককে যেতে না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা অনুরূপ কাজ করে তবে তাদেরকে হাল্কাভাবে মারপিট করবে। আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তোমরা না্যয়সঙ্গতভাবে তাদের পোশাক ও ভরণযোষণের ব্যবস্থা করবে।’’ ‘‘আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি যা দৃঢ়ভাবে অঁকড়ে ধরে থাকলে তোরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।’’ ‘‘তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে? উপস্থিত জনতা বললো, আমরা সাক্ষ্য দিবো যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার কর্তব্য পালন করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন’’। অতঃপর তিনি নিজের তর্জনী (শাহাদত আঙ্গুল) আকাশের দিকে উত্তোলন করে এবং জনতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন (তিনবার) অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকাসওয়ার উপর সওয়ার হয়ে আল মাওকিফ (অবস্থানস্থল)-এ এলেন, নিজের কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর পেট পাথরের স্ত্তপের দিকে করে দিলেন এবং পায়ে হাঁটার পথ নিজের সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামা (রাঃ) কে তাঁর বাহনের পেছন দিকে বসালেন এবং কাসওয়ার নাসারন্ত্রের দড়ি সজোরে টান দিলেন, ফলে এর মাথা জিনপোষ স্পর্শ করলো (এবং তা অগ্রযাত্রা শুরু করলো)। তিনি তাঁর ডান হাতের ইশারায় বলেনঃ ‘‘হে জনমন্ডলী! শান্তভাবে,শান্তভাবে (ধীরে সুস্থে মধ্যম গতিতে) অগ্রসর হও।’’ যখনই তিনি বালুর স্তূপের নিকট পৌঁছতেন, কাসওয়ার নাসারন্ধ্রের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন, যাতে তা উপর দিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন এবং এখানে এক আযানে ও দু’ ইকামতে মাগরিব ও ইশার নামায পড়লেন। এই দু’ নামাযের মাঝখানে অন্য কোন নামায পড়েননি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুয়ে ঘুমালেন যাবত না ফজরের ওয়াক্ত হলো। অতঃপর উষা পরিস্কার হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইকামতসহ ফজরের নামায পড়লেন। অতঃপর কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে ‘মাশআরুল-হারাম’ নামক স্থানে আসেন। এখানে তিনি (কিবলামুখী হয়ে) আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তাঁর মহত্ব বর্ণনা করলেন, কলেমা তাওহীদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ব ঘোষণা করলেন। আকাশ যথেষ্ট পরিস্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্য উদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওয়ানা হলেন এবং ফাযল ইবনে আব্বাসকে সওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসালেন। সে ছিল সুদর্শন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অগ্রসর হলেন তখন (পাশাপাশি) একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফাযল তাদের দিকে তাকাতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত অন্যদিক থেকে ফাযলের চেহারার উপর রাখলেন। সে আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলো। এভাবে তিনি ‘বাতনে মুহাসসির’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সাওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুততর করলেন। তিনি মধ্যপথ দিয়ে অগ্রসর হলেন যা জামরাতুল কুবরায় গিয়ে পৌঁছেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে এখানে সাতটি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যবেহ করলেন। অতঃপর যে কয়টি অবশিষ্ট ছিল তা আলি (রাঃ) কে যবেহ করতে বললেন এবং তিনি তা কোরবানী করলেন। তিনি নিজ পশুতে ‘আলীকেও শরীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হলো। তাঁরা উভয়ে এই গোশত থেকে আহার করলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহর দিকে রওয়ানা হলেন এবং মক্কায় পৌঁছে যোহরের নামায পড়লেন। অতঃপর তিনি (নিজ গোত্র) বনূ আবদুল মুত্তালিবে এলেন। তারা লোকেদের যমযমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! পানি তোলো। আমি যদি আশঙ্কা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করবে, তাহলে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিলো এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন।
Book 25 · Hadith 193 · #3069 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 194
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তিন পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমাদের কতক একসাথে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধে, কতক শুধু হজ্জের ইহরাম, বাঁধে এবং কতক শুধু উমরার ইহরাম বাঁধে। যারা একসাথে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বেঁধেছিল তাদের জন্য হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ না করা পর্যন্ত (ইহরামের ফলে) কোন (সাময়িক) নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হয়নি। অনুরূপ যারা শুধুমাত্র হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিল তাদের জন্যও হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ না করা পর্যন্ত (ইহরামের ফলে) কোন (সাময়িক) নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হয়নি। আর যারা শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তাদের জন্য বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝখানে সাঈ করার পর (ইহরামের কারণে) যা কিছু হারাম ছিল তা হালাল হয়ে গেলো, হজ্জের ইহরাম বাঁধার পূর্ব পর্যন্ত।
Book 25 · Hadith 194 · #3070 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan - 195
। সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার হজ্জ করেছেনঃ হিজরতের পূর্বে দু’ বার এবং হিজরতের পর মদীনা থেকে একবার (যা বিদায় হজ্জ নামে প্রসিদ্ধ)। শেষোক্তটি তিনি কিরান হজ্জ করেছেন অর্থাৎ একত্রে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধেন। এ হজ্জে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতোটি কোরবানীর পশু এনেছিলেন এবং আলী (রাঃ) যতোটি পশু এনেছিলেন তার মোট সংখ্যা ছিল একশত। এর মধ্যে একটি উট ছিল আবূ জাহলের, এর নাসারদ্ধ্রে রূপার লাগাম আঁটা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বহস্তে ৬৩টি এবং ‘আলী (রাঃ) অবশিষ্টগুলি কোরবানী করেন। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ হাদীসকে তার নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন, জাফর সাদিক, তিনি তার পিতার সূত্রে, তিনি জাবির (রাঃ) এর সূত্রে। অন্যদিকে ইবনে আবূ লাইলা, তিনি আল-হাকামের সূত্রে, তিনি মিকসামের সূত্রে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর সূত্রে।
Book 25 · Hadith 195 · #3071 · Sahih, Sahih, Daif - 196
। আল-হাজ্জাজ ইবনে আমর আল-আনসারী (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যার হাড় ভেঙ্গে গেলো অথবা যে লেংড়া হয়ে গেলো (ইহরাম বাঁধার পর), সে ইহরামমুক্ত হয়ে গেলো। সে পুনর্বার হজ্জ করবে। (ইকরিমা বলেন), আমি এ হাদীস ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর নিকট বর্ণনা করলে তারা উভয়ে বলেন, তিনি (হাজ্জাজ) সত্য বলেছেন।
Book 25 · Hadith 196 · #3072 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 197
। উম্মু সালামা (রাঃ) এর মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবনে রাফে (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল-হাজ্জাজ ইবনে আমর (রাঃ) এর নিকট ইহরামধারী ব্যক্তির বাধাগ্রস্ত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির হাড় ভেঙ্গে গেলে বা সে পঙ্গু হয়ে গেলে বা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে অথবা বাধাগ্রস্ত হলে সে হালাল হয়ে যাবে। তাকে পরবর্তী বছর হজ্জ করতে হবে। ইকরিমা (রাঃ) বলেন, আমি এ হাদীস ইবনে আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর নিকট বর্ণনা করলে তারা উভয়ে বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। আবদুর রাযযাক বলেন, আমি এ হাদীস হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈর কিতাবে লিপিবদ্ধ পেয়েছি। আমি তা নিয়ে মামার-এর নিকট এলে তিনি আমার সামনে তা পাঠ করেন অথবা আমি তার সামনে তা পাঠ করি।
Book 25 · Hadith 197 · #3073 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 198
। আবদুল্লাহ ইবনে মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদের মধ্যে কা‘ব ইবনে উজরা (রাঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। আমি তার নিকট নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম (অনুবাদঃ) ‘‘তবে রোযা অথবা সদাকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে ফিদয়া দিবে।’’ (সূরা বাকারাঃ ১৯৬)। কা‘ব (রাঃ) বলেন, এ আয়াত আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। আমার মাথায় অসুখ ছিল। আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। উকুন আমার মুখমন্ডলে ছড়িয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে যে কষ্ট ভোগ করতে দেখছি তেমনটি আর কখনও দেখিনি। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে পারবে? আমি বললাম, না। রাবী বলেন, তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ ‘‘তবে রোযা অথবা সদাকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে ফিদ্য়া দিবে।’’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন দিন রোযা রাখতে হবে, আর সদাকার ক্ষেত্রে ছয়জন মিসকীনকে খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে, মাথাপিছু অর্ধ সা‘ (এক কেজি দু‘শ পঞ্চাশ গ্রাম) এবং কোরবানীর ক্ষেত্রে একটি বকরী।
Book 25 · Hadith 198 · #3074 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 199
। কা‘ব ইবনে উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উকুন আমাকে কষ্ট দিতে থাকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মাথা কামানোর নির্দেশ দেন এবং তিন দিন রোযা রাখতে অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাতে বলেন। তিনি জানতেন যে, আমার নিকট কোরবানী করার মত কিছু ছিলো না।
Book 25 · Hadith 199 · #3075 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 200
। ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ও রোযা অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন।
Book 25 · Hadith 200 · #3076 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 201
। জাবির (রাঃ) বর্ণিত। একটি কঠিন ব্যথার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন।
Book 25 · Hadith 201 · #3077 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 202
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ঘ্রাণহীন যায়তুনের তৈল মাথায় মাখতেন।
Book 25 · Hadith 202 · #3078 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 203
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ইহরামধারী ব্যক্তিকে তার জন্তুযান নিতে ফেলে দিলে তার ঘাড় ভেঙ্গে সে মারা যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার পরনের বস্ত্রদ্বয় দিয়ে তাকে কাফন দাও এবং তার মুখমন্ডল ও মাথা ঢেকো না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে। ২/৩০৮৪(১)। আলী ইবনে মুহাম্মাদ-ওয়াকী-শোবা-আবূ বিশর-সাঈদ ইবনে জুবাইর-ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। হয়েছে। তবে তিনি বলেন, তার জন্তুযান তার ঘাড় মটকে দেয়। রাসূলুল্লাহ আরও বলেনঃ তাকে সুগন্ধি মাখিও না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।
Book 25 · Hadith 203 · #3079 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 204
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামধারী ব্যক্তি কর্তৃক হায়েনা শিকারের কাফফারা একটি ভেড়া নির্ধারণ করেছেন এবং হায়েনাকেও শিকারের অন্তুর্ভুক্ত করেছেন।
Book 25 · Hadith 204 · #3080 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 205
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইহরামধারী ব্যক্তি পাখির ডিম আত্মসাৎ করলে তাকে তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে (কাফফারা স্বরূপ)।
Book 25 · Hadith 205 · #3081 · Daif, Daif, Very Daif, Daif - 206
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচটি অনিষ্টকর প্রাণী আছে যা হারামের বাইরে ও ভেতরে হত্যা করা বৈধঃ সাপ, বুকে বা পিঠে সাদা চিহ্নযুক্ত কাক, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর ও চিল।
Book 25 · Hadith 206 · #3082 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 207
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন পাঁচটি প্রাণী আছে যা কোন ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় হত্যা করলে তার কোন দোষ হবে নাঃ বিছা, কাক, চিল, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর।
Book 25 · Hadith 207 · #3083 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 208
। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি নিম্নোক্ত প্রাণীগুলো হত্যা করতে পারেঃ সাপ, বিছা, আক্রমণকারী হিংস্র প্রাণী, পাগলা কুকুর ও ক্ষতিকর ইঁদুর। আবূ সাঈদ (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলো, ইঁদুরকে ক্ষতিকর বলা হলো কেন? তিনি বলেন, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য জেগেছিলেন এবং সে ঘরে আগুন ধরানোর জন্য জ্বলন্ত সলিতা নিয়েছিল।
Book 25 · Hadith 208 · #3084 · Daif, Daif, Daif, Daif - 209
। ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা‘ব ইবনে জাসসামা (রাঃ) আমাদের অবহিত করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন আল-আবওয়া অথবা ওয়াদ্দান এলাকায় ছিলাম। আমি তাঁকে বন্য গাধার গোশত পেশ করলাম। তিনি তা আমাকে ফেরত দিলেন। তিনি আমার চেহারায় অনুতাপের লক্ষণ দেখে বলেনঃ আমরা অন্য কোন কারণে তা ফেরত দেইনি, বরং আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি (তাই তা ফেরত দিয়েছি)
Book 25 · Hadith 209 · #3085 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 210
। ‘আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে শিকারকৃত প্রাণীর গোশত পেশ করা হলো। তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকার কারণে তা আহার করেননি।
Book 25 · Hadith 210 · #3086 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 211
। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি (শিকারকৃত) বন্য গাধা প্রদান করে তা তার সঙ্গীদের মধ্যে বণ্টন করার নির্দেশ দেন। তখন তারা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন।
Book 25 · Hadith 211 · #3087 · Isnaad Malool, Isnaad Malool, Daif - 212
। আবদুল্লাহ ইবনে আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলাম। তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু আমি বাঁধিনি। আমি একটি গাধা দেখতে পেয়ে তার উপর ঝাপিয়ে পড়লাম এবং তা শিকার করলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার অবস্থা বর্ণনা করলাম। আমি আরও উল্লেখ করলাম যে, আমি তখনও ইহরাম বাঁধিনি এবং তা আপনার জন্য শিকার করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের এ গোশত খাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আমি তাঁর জন্য এটা শিকার করেছি বলায় তিনি তা আহার করলেন না।
Book 25 · Hadith 212 · #3088 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 213
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে (মক্কায়) কোরবানীর পশু পাঠাতেন। আমি তাঁর কোরবানীর পশুর জন্য মালা তৈরি করে দিতাম। অতঃপর তিনি এমন কোন জিনিস বর্জন করতেন না, যা ইহরামধারী ব্যক্তি বর্জন করে থাকে।
Book 25 · Hadith 213 · #3089 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 214
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোরবানীর পশুর জন্য মালা তৈরি করে দিতাম এবং তিনি তা পশুর গলায় পরিয়ে দিতেন। এরপর তা পাঠিয়ে দেয়া হতো এবং তিনি (সেখানে) অবস্থান করতেন। আর তিনি এমন কোন বস্ত্ত বর্জন করতেন না যা ইহরামধারী ব্যক্তি বর্জন করে থাকে।
Book 25 · Hadith 214 · #3090 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 215
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর উদ্দেশ্যে বাইতুল্লাহ্য় মেষ-বকরী পাঠান এবং তার গলায় মালা পরান।
Book 25 · Hadith 215 · #3091 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 216
। ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর উটের কুঁজ ডান পাশ দিয়ে ফেড়ে দেন এবং তা থেকে রক্ত পরিষ্কার করেন। ‘আলী (রাঃ) তার বর্ণনায় বলেন, এটা যুল-হুলাইফা নামক স্থানে। আর তিনি একজোড়া জুতার মালা পরিয়ে দেন।
Book 25 · Hadith 216 · #3092 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 217
। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর পশুর গলায় মালা পরান, কুঁজ ফেড়ে দেন এবং তা (মক্কায়) পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তিনি এমন কোন কিছু পরিহার করেননি যা ইহরামধারী ব্যক্তি পরিহার করে।
Book 25 · Hadith 217 · #3093 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 218
। ‘আলী ইবনে আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেন, আমি যেন তাঁর কোরবানীর পশু দেখাশুনা করি, ঝুল ও চামড়া (দরিদ্রদের মধ্যে) বণ্টন করি এবং কসাইকে যেন তা থেকে (পারিশ্রমিক বাবদ) কিছু না দেই। তিনি বলেনঃ তাকে আমি নিজের পক্ষ থেকে দিবো।
Book 25 · Hadith 218 · #3094 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 219
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর জন্য যে পশু পাঠান তার মধ্যে আবূ জাহলের একটি উটও ছিল এবং এর নাসারন্ধ্রের দড়ি ছিল রূপার তৈরী।
Book 25 · Hadith 219 · #3095 · Sahih, Sahih, Hasan - 220
। ইয়াস ইবনে সালামা (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোরবানীর পশুর মধ্যে একটি উটও ছিল।
Book 25 · Hadith 220 · #3096 · Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 221
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুদাইদ নামক স্থান থেকে তাঁর কোরবানীর পশু ক্রয় করেন।
Book 25 · Hadith 221 · #3097 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 222
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তার কোরবানীর পশু হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বলেনঃ এর পিঠে চড়ে যাও। সে বললো, এটা কোরবানীর পশু। তিনি বলেনঃ তুমি তার পিঠে চড়ে যাও। তোমার জন্য আফসোস।
Book 25 · Hadith 222 · #3098 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 223
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে একটি উট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেনঃ এর পিঠে চড়ে যাও। লোকটি বললো, এটা কোরবানীর উট। তিনি বলেনঃ তুমি এর পিঠে চড়ো। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উটের পিঠে চড়ে যেতে দেখেছি। এর গলায় একটি জুতা বাঁধা ছিল।
Book 25 · Hadith 223 · #3099 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 224
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যুআইব আল-খুযাঈ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোরবানীর পশু নিয়ে (মক্কায়) পাঠাতেন, অতঃপর বলতেনঃ এগুলোর মধ্যে কোন পশু অচল হয়ে পড়লে এবং তুমি তার মৃত্যুর আশঙ্কা করলে সেটি যবেহ করবে, অতঃপর তার রক্তের মধ্যে তার গলার জুতা ফেলে রাখবে, অতঃপর তার পাছার উপর ক্ষতচিহ্ন করবে। তবে তার গোশত তুমিও খাবে না এবং তোমার সঙ্গীদের মধ্যেও কেউ খাবে না।
Book 25 · Hadith 224 · #3100 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 225
। নাজিয়া আল-খুযাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (আমরের বর্ণনামতে তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোরবানীর উটের রক্ষণাবেক্ষণকারী) তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোনো উট অচল হয়ে পড়লে আমি কী করবো? তিনি বলেনঃ সেটি যবেহ করবে এবং তার গলার জুতা তার রক্তের মধ্যে ফেলে দিবে, অতঃপর তার পাছার উপর ক্ষতচিহ্ন করবে এবং লোকেদের জন্য তা ফেলে রাখবে, তারা তা আহার করবে।
Book 25 · Hadith 225 · #3101 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 226
। আলকামা ইবনে নাযলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) ইন্তিকাল করেন এবং ঐ সময় পর্যন্ত মক্কার বাড়িঘর ‘আস-সাওয়াইব’ নামে পরিচিত ছিল। কোন ব্যক্তির প্রয়োজন হলে সে তাতে (তিন ঘরে) বসবাস করতো এবং কারো (নিজের জন্য) প্রয়োজন না হলে সে তা অন্যকে বসবাসের জন্য খালি করে দিতো।
Book 25 · Hadith 226 · #3102 · Daif, Daif, Daif, Daif - 227
। আবূ সালামা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনুল হামরাআ (রাঃ) তাকে বলেন, আমি দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় আল-জাযওয়ারা নামক স্থানে বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি (মক্কা) আল্লাহর গোটা যমীনের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং দুনিয়ার সমস্ত যমীনের মধ্যে তুমি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। আল্লাহর শপথ! তোমার থেকে আমাকে উচ্ছেদ না করা হলে আমি (তোমায় ত্যাগ করে) চলে যেতাম না।
Book 25 · Hadith 227 · #3103 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 228
। সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের বছর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর ভাষণে বলতে শুনেছিঃ হে জনগণ! আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির দিন থেকে মক্কাকে হারাম (সম্মানিত) করেছেন। অতএব তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। তার বৃক্ষরাজি কাটা যাবে না, এখানকার শিকারের পিছু ধাওয়া করা যাবে না, এখানে পড়ে থাকা কোন জিনিস তুলে নেয়া যাবে না, কেবল সেই ব্যক্তি তা তুলতে পারবে যে তার ঘোষণা দিবে। আব্বাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু ইযখির ঘাস (বৈধ করা হোক)। কারণ তা ঘরবাড়ি তৈরী ও কবরে রাখার জন্য (প্রয়োজন হয়)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইযখির ঘাস ব্যতীত।
Book 25 · Hadith 228 · #3104 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 229
। আইয়্যাশ ইবনে আবূ রবীআ আল-মাখযূমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই উম্মাত যত দিন এই হারাম শরীফের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করবে, ততো দিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। কিন্তু যখন তারা তা বিনষ্ট করবে, তখন ধ্বংস হবে।
Book 25 · Hadith 229 · #3105 · Daif, Daif, Daif, Daif - 230
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান মদীনার দিকে গুটিয়ে আসবে, যেমন সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে।
Book 25 · Hadith 230 · #3106 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 231
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি মদীনায় মৃত্যুবরণ করতে পারে, সে যেন তাই করে। কারণ যে ব্যক্তি এখানে মারা যাবে, আমি তার পক্ষে সাক্ষী হবো।
Book 25 · Hadith 231 · #3107 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 232
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আ) তোমার বন্ধু ও নবী। তুমি মক্কাকে ইবরাহীম (আ)-এর যবানীতে হারাম (সম্মানিত) ঘোষণা করেছো। হে আল্লাহ! আমিও তোমার বান্দা ও নবী। অতএব আমি মদীনাকে, তার দু’ প্রস্তরময় জমীনের মধ্যস্থল হারাম ঘোষণা করছি। আবূ মারওয়ান (রাঃ) বলেন, ‘লাবাতাইহা’ শব্দের অর্থ মদীনার দু’ প্রান্তের প্রস্তরময় ভূমি।
Book 25 · Hadith 232 · #3108 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 233
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদীনার অধিবাসীদের ক্ষতিসাধনের ইচ্ছা করবে, তাকে আল্লাহ তা‘আলা এমনভাবে গলিয়ে দিবেন, যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়।
Book 25 · Hadith 233 · #3109 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 234
। আবদুল্লাহ ইবনে মিকনাফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উহুদ একটি পাহাড়, সে আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি। তা জান্নাতের টিলাসমূহের একটির উপর অবস্থিত। আর আইর পাহাড় দোযখের টিলাসমূহের একটির উপর অবস্থিত।
Book 25 · Hadith 234 · #3110 · Very Daif, Very Daif, Daif, Daif - 235
। শাকীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আমার মাধ্যমে বাইতুল্লায় হাদিয়াস্বরূপ কতকগুলি দিরহাম পাঠায়। আমি বাইতুল্লাহর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে শাইবাকে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট দেখতে পেলাম। আমি দিরহামগুলো তাকে দিলাম। সে তাকে জিজ্ঞাসা করলো, এগুলো কি তোমার দিরহাম? আমি বললাম, না। এগুলো আমার হলে তা নিয়ে তোমার নিকট আসতাম না। সে বললো, যদি তুমি এ কথা বলো তবে শোনো, তুমি যে স্থানে বসে আছো, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এখানে বসেছেন, অতঃপর বলেছেন, আমি কাবার সম্পদ দরিদ্র মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন না করা পর্যন্ত বের হবো না। আমি বললাম, আপনি তা করবেন না। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তা করবো। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি একথা কেন বললে? আমি বললাম, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পদের স্থান দেখেছেন এবং আবূ বাকর (রাঃ) ও। তাঁদের উভয়ের আপনার চেয়ে মালের অধিক প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁরা এ সম্পদ স্থানচ্যুত করেননি। একথা শুনে উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ান এবং বের হয়ে চয়ে যান।
Book 25 · Hadith 235 · #3111 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 236
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মক্কায় রমযান মাস পেলো, রোযা রাখলো এবং যথাসাধ্য (রাতে) ইবাদত করলো, আল্লাহ তা‘আলা তাকে অন্য স্থানের তুলনায় এক লক্ষ রমযান মাসের সওয়াব দান করবেন এবং প্রতিটি দিনের পরিবর্তে একটি গোলাম এবং প্রতিটি রাতের পরিবর্তে একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব (তার আমলনামায়) লিখে দিবেন, প্রতিটি দিনের পরিবর্তে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য একটি ঘোড়া দানের সমপরিমাণ সওয়াব, প্রতি দিনের জন্য একটি নেকী (পুন্য) এবং প্রতিটি রাতের জন্য একটি পূর্ণ দান করবেন।
Book 25 · Hadith 236 · #3112 · Mawdu, Mawdu, Very Daif, Daif - 237
। দাউদ ইবনে আজলাম (রাঃ) বলেন, আমরা আবূ ইকালের সাথে বৃষ্টির মধ্যে (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করলাম এবং তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে এলাম। তখন আবূ ইকাল বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) -র সাথে বৃষ্টির মধ্যে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছি। আমরা তাওয়াফ শেষে মাকামে (ইবরাহীম) এসে দু’ রাক‘আত নামায পড়েছি। অতঃপর আনাস (রাঃ) আমাদের বলেন, এখন নতুনভাবে নিজেদের আমলের হিসাব রাখো। তোমাদের পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপই বলেছেন এবং আমরা তাঁর সাথে বৃষ্টির মধ্যে তাওয়াফ করেছি।
Book 25 · Hadith 237 · #3113 · Very Daif Isnaad, Very Daif Isnaad, Very Daif, Daif - 238
। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মদীনা থেকে মক্কায় পদব্রজে গিয়ে হজ্জ করেন এবং তিনি বলেনঃ নিজেদের কোমরে পরিধেয় বস্ত্র বেঁধে নাও।’’ তিনি কিছুটা দ্রত গতিতে পথ অতিক্রম করেন।
Book 25 · Hadith 238 · #3114 · Daif, Daif, Daif, Daif