Interpretation of Dreams
- 1
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৎলোকের উত্তম স্বপ্ন নবুয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ।
Book 35 · Hadith 1 · #3888 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 2
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন নবুয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ।
Book 35 · Hadith 2 · #3889 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 3
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নেককার মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন নবুয়াতের সত্তর ভাগের একভাগ।
Book 35 · Hadith 3 · #3890 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 4
। উম্মু কুরয আল-কাবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ নবুয়াতের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু মুবাশশিরাত (শুভ সংবাদ) অবশিষ্ট আছে।
Book 35 · Hadith 4 · #3891 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 5
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম স্বপ্ন নবুয়াতের সত্তর ভাগের একভাগ।
Book 35 · Hadith 5 · #3892 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 6
। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে সুসংবাদ’’ (১০ঃ ৬৪) সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ ভালো স্বপ্ন যা মুসলিম ব্যক্তি দেখে অথবা তাকে দেখানো হয়।
Book 35 · Hadith 6 · #3893 · Daif - 7
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রোগগ্রস্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা তুলে দেখলেন, লোকেরা সারিবদ্ধভাবে আবূ বাকর (রাঃ) -এর পেছনে আছে। তিনি বললেনঃ হে লোকসকল! মুসলিম ব্যক্তি যে ভালো স্বপ্ন দেখে অথবা তাকে যে ভালো স্বপ্ন দেখানো হয়, তা ব্যতীত নবুয়াতের সুসংবাদের কিছুই অবশিষ্ট নাই।
Book 35 · Hadith 7 · #3894 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 8
। আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখলো, সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলো। কেননা শয়তান আমার স্বরূপ (সাদৃশ্য) ধারণ করতে পারে না।
Book 35 · Hadith 8 · #3895 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 9
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখলো, সে আমাকেই দেখলো। কেননা শয়তান আমার স্বরূপ ধারণ করতে পারে না।
Book 35 · Hadith 9 · #3896 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 10
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখেছে সে আমাকেই দেখেছে। কেননা আমার স্বরূপ ধারণ শয়তানের পক্ষে সম্ভব নয়।
Book 35 · Hadith 10 · #3897 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 11
। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে সে আমাকেই দেখেছে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।
Book 35 · Hadith 11 · #3898 · Sahih, Sahih, Sahih - 12
। আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখেছে সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখেছে। কেননা আমার আকৃতি ধারণ করার সামর্থ্য শয়তানের নাই।
Book 35 · Hadith 12 · #3899 · Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih - 13
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে সে আমাকেই দেখেছে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।
Book 35 · Hadith 13 · #3900 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 14
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বপ্ন তিনি প্রকার। (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) বান্দার মনের খেয়াল এবং (৩)শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব তোমাদের কেউ পছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে তা ইচ্ছা করলে অপরের কাছে ব্যক্ত করতে পারে। আর সে অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে যেন তা ব্যক্ত না করে এবং উঠে নামায পড়ে।
Book 35 · Hadith 14 · #3901 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 15
। আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকার। (এক) শয়তানের পক্ষ থকে ভীতিজনক স্বপ্ন যার দ্বারা সে আদম সন্তানকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। (দুই) মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা দেখলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় স্বপ্নে তা দেখে। (তিন) স্বপ্ন হলো নবুয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ। অধস্তন রাবী বলেন, আমি তাকে বললাম, আপনি কি ঐ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, এটা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি, এটা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি।
Book 35 · Hadith 15 · #3902 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 16
। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, তিনবার আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং সে যে দিকে কাৎ হয়ে শুয়েছিলো তা যেন পরিবর্তন করে।
Book 35 · Hadith 16 · #3903 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 17
। আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। অতএব তোমাদের কেউ স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখলে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, আল্লাহর নিকট অভিশপ্ত শয়তান থেকে তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং যে পাশে শোয়া ছিলো তা পরিবর্তন করে।
Book 35 · Hadith 17 · #3904 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 18
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে সে যে কাতে শোয়া ছিলো তা যেন পরিবর্তন করে, তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে,আল্লাহর নিকট স্বপ্নের কল্যাণ কামনা করে এবং তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
Book 35 · Hadith 18 · #3905 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 19
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার মাথায় প্রহার করা হচ্ছে। আর প্রহারকারীকে দেখলাম যে, সে থর থর করে কাঁপছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান তোমাদের কারো সাথে তামাশা করে, যাতে সে ভয় পায়। অতঃপর সকাল বেলা সে লোকেদের নিকট তা বলে বেড়ায়।
Book 35 · Hadith 19 · #3906 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 20
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষণদানরত অবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘুমন্ত ব্যক্তি স্বপ্নে যা দেখে, আমিও গত রাতে তদ্রূপ স্বপ্নে দেখলাম। আমার ঘাড়ে আঘাত করার ফলে আমার মাথা বিচ্ছিন ণহয়ে পড়ে গেলো। আমি সেটির অনুসরণ করে তা ধরে ফেললাম এবং পুনরায় ঘাড়ে স্থাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঘুমের মধ্যে তোমাদের কারো সাথে শয়তান খেলা করলে সে যেন তা লোকের কাছে না বলে।
Book 35 · Hadith 20 · #3907 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 21
। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে সে যেন ঘুমের মধ্যে তার সাথে শয়তানের খেলা লোকের নিকট ব্যক্ত না করে।
Book 35 · Hadith 21 · #3908 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 22
। আবূ রাযীন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ স্বপ্নের ব্যাখ্যা না করা পর্যন্ত তা উড়ন্ত পাখির পায়ে ঝুলন্ত জিনিস সদৃশ। তার ব্যাখ্যা করা হলে তা ছিটকে পড়ে যায় (বাস্তবায়িত হয়)। তিনি অরো বলেনঃ স্বপ্ন হচ্ছে নবুয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার মনে হয় তিনি আরো বলেছেনঃ সে যেন আমানতদার অথবা স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে পারদর্শী ব্যক্তি ব্যতীত কারো কাছে তা ব্যক্ত না করে।
Book 35 · Hadith 22 · #3909 · Sahih, Sahih, Hasan Lighairihi, Hasan - 23
। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের নামসমূহ দ্বারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করো, তাদের উপনাম দ্বারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করো এবং প্রথম ব্যাখ্যাকারীর ব্যাখ্যা মোতাবেক সাধারণত বাস্তবায়িত হয়।
Book 35 · Hadith 23 · #3910 · Daif, Daif, Daif, Daif - 24
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করবে তাকে দু’টি যবের দানার মধ্যে গিট লাগাতে বাধ্য করা হবে এবং এজন্য তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
Book 35 · Hadith 24 · #3911 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 25
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যমানায় মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন কচিৎই অবাস্তব হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক সত্যবাদী তার স্বপ্নও অধিক সত্য হবে। মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন নবুয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
Book 35 · Hadith 25 · #3912 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 26
। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফেরার পথে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে একটি ছায়াদার মেঘ দেখেছি, যা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঘি ও মধু পড়ছিলো।। লোকেদেরকে দেখলাম যে, তারা হাতে তুলে নিয়ে তা পান করছে। কেউ বেশি পাচ্ছে এবং কেউ কম পাচ্ছে। আমি আরো দেখলাম যে, আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত একটি রশি ঝুলছে। আমি দেখলাম যে, আপনি তা ধরে উপরে উঠে গেছেন। আপনার পর আরেকজন তা ধরে উপরে উঠে গেল, তার পরে আরেকজন তা ধরে উপরে উঠে গেলো। তার পরে আরেকজন তা ধরলে রশিটি ছিঁড়ে গেলো। পুনরায় তা জোড়া লেগে গেলো এবং সেও তা ধরে উপরে উঠে গেলো। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে দিন। তিনি বললেনঃ আচছা, তুমি এর ব্যাখ্যা করো। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, মেঘখন্ড হলো ইসলামের ছায়া। পতিত ঘি ও মধু হলো কুরআন থেকে বেশি ও কম লাভকারী। আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশি হলো সেই মহাসত্য যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত। আপনি রশিটি ধরলেন এবং আল্লাহ আপনাকে উপরে উঠিয়ে নিলেন। আপনার পর তা আরেকজন ধরবে এবং আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নিবেন। তার পরে আরেকজন ধরবে, সেও তা ধরে উপরে উঠে যাবে। এরপর আরেকজন রশিটি ধরবে এবং তা ছিঁড়ে যাবে। আবার তা জোড়া লাগবে এবং সেও তা ধরে উপরে উঠে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কিছু তো ঠিক বলেছো এবং কিছু বলেছো ভুল। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে বলে দিন, আমি কোথায় ঠিক করেছি এবং কোথায় ভুল করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ বাকর! শপথ দিয়ে বলো না। ২/৩৯১৮(১)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করতেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে আসমান-যমীনের মাঝে একটি ছায়াদার মেঘখন্ড দেখলাম, যা থেকে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে। .... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
Book 35 · Hadith 26 · #3913 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 27
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে আমি ছিলাম অবিবাহিত যুবক। আমি মসজিদেই রাত কাটাতাম। আমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে সে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করতো। আমি মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমার জন্য কোন কল্যাণ থাকলে তা আমাকে একটি স্বপ্নে দেখাও যার ব্যাখ্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলে দিবেন। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি স্বপ্নে আমার নিকট দু’জন ফেরেশতাকে আসতে দেখলাম। তারা আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন, পথিমধ্যে আরেকজন ফেরেশতা তাদের সাথে মিলিত হন। তিনি বলেন, তুমি ভয় পেয়ো না। ফেরেশতাদ্বয় আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চললো। তা ছিলো একটি কূপের ন্যায়। তাতে আমি কিছু সংখ্যক লোক দেখতে পেলাম, যাদের কতককে আমি চিনতে পেরেছি। তারা আমাকে ডান দিকে নিয়ে গেলো। ভোর হলে আমি বিষয়টি হাফসা (রাঃ) কে বললাম। হাফসা (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললেন। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ একজন সৎলোক। সে যদি রাতে অধিক নামায পড়তো। যুহরী (রাঃ) বলেন, তখন থেকে আবদুল্লাহ (রাঃ) রাতে বেশী বেশী নামায পড়তেন।
Book 35 · Hadith 27 · #3914 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 28
। খারাশা ইবনুল হুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় পৌঁছে মসজিদে নববীতে প্রবীণদের এক মজলিসে বসলাম। একজন প্রবীন লোক তার লাঠিতে ভর দিয়ে আসলেন। লোকেরা বললো, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী লোক দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়। তিনি খুঁটির পেছনে দাঁড়িয়ে দু’ রাক‘আত নামায পড়লেন। আমি উঠে গিয়ে তাকে বললাম, লোকেরা এই এই বলেছে। তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, জান্নাত আল্লাহর এবং তিনি যাকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করাবেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি দেখলাম, এক ব্যক্তি যেন আমার নিকট এসে আমাকে বললো, চলুন। আমি তার সাথে গেলাম। সে আমাকে একটি বিরাট প্রশস্ত রাস্তায় পৌঁছে দিলো। আমার বাঁ দিকে একটি পথ দেখানো হলো। আমি সেই পথ ধরে অগ্রসর হতে চাইলাম। সে বললো, তুমি এ পথের উপযুক্ত নও। অতঃপর আমার ডানে একটি রাস্তা দেখানো হলো। আমি সেই রাস্তা দিয়ে অগ্রসর হলাম। আমি একটি পিচ্ছিল পাহাড়ে পৌঁছলে সে আমার হাত ধরে আমাকে ধাক্কা দিলো এবং আমি এর চূড়ায় পৌঁছে গেলাম, কিন্তু আমি সেখানে স্থির হয়ে থাকতে পারলাম না। আমি এর চূড়ায় লোহার একটি খুঁটি দেখতে পেলাম। এর চূড়ায় ছিলো একটি সোনার হাতল। সে (ফেরেশতা) আমার হাত ধরে ধাক্কা দিলে আমি সেই হাতল ধরে ফেললাম। সে বললো, তুমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছ? আমি বললাম, হাঁ। সে তার পা দ্বারা খুঁটিতে আঘাত করলে আমি হাতলটি দৃঢ়ভাবে ধরে ফেললাম। তিনি বললেন, আমি ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি উত্তম স্বপ্ন দেখেছো। বিরাট প্রশস্ত রাস্তাটি হলো হাশরের ময়দান। তোমার বাঁ দিকে যে রাস্তাটি চলে গেছে তা হলো জাহান্নামীদের রাস্তা। তুমি জাহান্নামী নও। তোমার ডান দিক দিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে তা হলো জান্নাতীদের রাস্তা। পিচ্ছিল পাহাড়টি হলো শহীদদের মনযিল। যে হাতলটি তুমি আঁকড়ে ধরেছিলে, সেটি হলো ইসলামরে হাতল। অতএব তুমি আমৃত্যু এটি আঁকড়ে ধরে রাখবে। আশা করি আমি জান্নাতবাসী হবো। স্বপ্নটি দেখেছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)।
Book 35 · Hadith 28 · #3915 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih Muslim - 29
। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে খেজুর গাছ সমৃদ্ধ এক এলাকায় হিজরত করছি। আমার মনে হলো যে, সেই এলাকা ইয়ামামা অথবা হাজার। কিন্তু আসলে তা মদীনা, যার নাম ইয়াসরিব। আমি আমার এ স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি তরবারি নাড়াচাড়া করছি এবং তা মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে গেলো। আসলে তা ছিলো উহুদ যুদ্ধে মুমিনদের উপর আগত বিপদ। আমি পুনরায় তরবারি নাড়া দিলে তা পূর্বাপেক্ষা আরো উত্তম রূপ ধারণ করলো। আসলে তা ছিলো আল্লাহ প্রদত্ত পরবর্তী সময়ের বিজয় (মক্কা বিজয়) এবং মুসলিমদের সম্মিলিত অভ্যূত্থান। আমি স্বপ্নে আরও দেখতে পেলাম একটি গাভী। আল্লাহ কল্যাণময়। এরা ছিলেন উহুদের যুদ্ধের শহীদ একদল মুমিন। তাও ভালো, যা আল্লাহ গনীমতের মাল হিসাবে পরে আমাদের দান করেছেন এবং তাও ভালো, যা সত্যের বিনিময় হিসাবে আল্লাহ আমাদের বদর যুদ্ধের দিন দান করেছিলেন।
Book 35 · Hadith 29 · #3916 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 30
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি স্বপ্নে আমার হাতে দু’টি সোনার চুড়ি দেখতে পেলাম। আমি ফুঁ দিতেই তা উড়ে চলে গেলো। আমি এই চুড়িদ্বয়ের এ ব্যাখ্যা করেছি যে, নবুয়াতের দু’ মিথ্যা দাবিদারের আবির্ভাব হবে। তারা হলোঃ মুসায়লামা ও আনসী।
Book 35 · Hadith 30 · #3917 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 31
। কাবূস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল ফাদল (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে আপনার দেহের কোন একটি অঙ্গ আমার ঘরে দেখতে পেলাম। তিনি বলেনঃ তুমি ভালোই দেখেছো। ফাতেমা একটি সন্তান প্রসব করবে এবং তুমি তাকে দুধ পার করাবে। অতএব ফাতেমা (রাঃ) হুসায়ন অথবা হাসান (রাঃ) কে প্রসব করেন এবং তিনি তাকে কুছাম এর ভাগের দুধ পান করান। তিনি বলেন, আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম এবং তাকে তাঁর কোলে রাখলাম। সে পেশাব করে দিলে আমি তার কাঁধে আঘাত করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আমার সন্তানকে কষ্ট দিলে, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।
Book 35 · Hadith 31 · #3918 · Daif, Daif, Hasan - 32
। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বপ্ন সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, এলোমেলো চুলবিশিষ্ট এক কৃষ্ণকায় নারী নির্গত হয়ে মাহইয়াআ অর্থাৎ জুহফায় পৌঁছে যাত্রাবিরতি করলো। আমি স্বপ্নের এই ব্যাখ্যা করলাম যে, মদীনার মহামারী জুহফায় স্থানান্তরিত হয়েছে।
Book 35 · Hadith 32 · #3919 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 33
। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দু’ ব্যক্তি দূর-দূরান্ত থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে উপস্থিত হলো। তারা ছিলো খাঁটি মুসলিম। তাদের একজন ছিলো অপরজন অপেক্ষা শক্তিধর মুজাহিদ। তাদের মধ্যকার মুজাহিদ ব্যক্তি যুদ্ধ করে শহীদ হলো এবং অপরজন এক বছর পর মারা গেলো। তালহা (রাঃ) বলেন, আমি একদা স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি জান্নাতে দরজায় উপস্থিত এবং আমি তাদের সাথে আছি। জান্নাত থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে এলো এবং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরে মারা গিয়েছিল তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলো। সে পুনরায় বের হয়ে এসে শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিলো। পরে সে আমার নিকট ফিরে এসে বললো, তুমি চলে যাও। কেননা তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) সময় এখনও হয়নি, তোমার পালা পরে। সকাল বেলা তালহা (রাঃ) উক্ত ঘটনা লোকেদের নিকট বর্ণনা করলেন। তারা এতে বিস্ময়াভিভূত হলো। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে গেলো এবং তারাও তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করলো। তিনি বলেনঃ কী কারণে তোমরা বিস্মিত হলে? তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ব্যক্তি তাদের দু’জনের মধ্যে অধিকতর শক্তিধর মুজাহিদ। তাকে শহীদ করা হয়েছে। অথচ অপর লোকটি তার আগেই জান্নাতে প্রবেশ করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অপর লোকটি কি তার পরে এক বছর জীবিত থাকেনি? তারা বললো, হাঁ। তিনি বলেনঃ সে একটি রমযান মাস পেয়েছে, রোযা রেখেছে এবং এক বছর যাবত এই এই নামায কি পড়েনি? তারা বললো, হাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আসমান-জমীনের মধ্য যে ব্যবধান রয়েছে, তাদের দু’জনের মধ্যে রয়েছে তার চেয়ে অধিক ব্যবধান।
Book 35 · Hadith 33 · #3920 · Sahih, Sahih, Daif - 34
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে গলায় চাকতি দেখা অপছন্দ করি, কিন্তু আংটা পছন্দ করি। কারণ আংটা অর্থ দীনের উপর অবিচলথাকা।
Book 35 · Hadith 34 · #3921 · Daif, Daif, Very Daif, Daif