Muwatta Malik

← Muwatta Malik

The Times of Prayer

২৯ হাদিস

  1. 1

    রেওয়ায়ত ১. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) একদিন নামায বিলম্বে পড়িলেন। উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রাঃ) তাহার নিকট আসিয়া খবর দিলেন যে, মুগীরা ইবন শু’বা যখন কূফায় ছিলেন তখন তিনি একদিন নামায বিলম্বে পড়িলেন। তারপর আবূ মাসউদ আনসারী (রহঃ) তাহার নিকট আসিয়া বলিলেনঃ মুগীরা এই বিলম্ব কেন? আপনার জানা নাই কি জিবরীল (আঃ) অবতরণ করিলেন, অতঃপর নামায পড়িলেন? (তাহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়লেন, অতঃপর জিবরীল (আঃ) নামায পড়িলেন, (তাহার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়লেন, জিবরীল (আঃ) নামায পড়লেন, (তাহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়লেন, তারপর জিবরীল (আঃ) নামায পড়িলেন, (তাহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়িলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) নামায পড়লেন, (তাহার সাথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও নামায পড়িলেন। তারপর বললেনঃ আপনার প্রতি ইহারই (এইভাবে নামায আদায় করার) নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) বলিলেনঃ উরওয়াহ! তুমি কি বর্ণনা করিতেছ ভাবিয়া দেখ। জিবরীল (আঃ)-ই কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নামাযের সময় ঠিক করিয়াছেন? উরওয়াহ বলিলেনঃ বশীর ইবনে আবূ মাসউদ আনসারী তাহার পিতা হইতে এইরূপ হাদীস বর্ণনা করিতেন।

    Book 1 · Hadith 1 · #1 · Sahih
  2. 2

    রেওয়ায়ত ২. উরওয়াহ (রহঃ) বলিলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আসর পড়িতেন তখনও সূর্যের আলো আয়েশার হুজরাতে থাকিত, আলো ঘরের মেঝে হইতে প্রাচীরে উঠার পূর্বে।

    Book 1 · Hadith 2 · #2 · Sahih
  3. 3

    রেওয়ায়ত ৩. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসিল এবং ফজর নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই লোকের প্রশ্নের উত্তরদানে বিরত রহিলেন । দ্বিতীয় দিন ফজর (সূবহ-এ সাদিক) হইলে পর তিনি ফজরের নামায পড়িলেন। তারপরের দিন ফজর পড়িলেন (ভোরের আলো) পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত হওয়ার পর। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? (সেইলোক) বলিলঃ আমিই সেই ব্যক্তি ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলিলেনঃ এতদুভয়ের মধ্যবর্তী মুহুর্তগুলিই ফজর নামাযের সময়।

    Book 1 · Hadith 3 · #3 · Sahih Lighairihi
  4. 4

    রেওয়ায়ত ৪. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজর পড়িতেন তখন মেয়েলোকেরা নামায আদায়ের পর তাহদের চাদর মুড়ি দিয়া (ঘরের দিকে) ফিরিতেন, অন্ধকারের জন্য তাহাদিগকে চেনা যাইত না।

    Book 1 · Hadith 4 · #4 · Sahih
  5. 5

    রেওয়ায়ত ৫. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকাত পাইয়াছে সে ফজর নামায পাইয়াছে। আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার পূর্বে আসরের এক রাকাত পাইয়াছে সে আসর পাইয়াছে।

    Book 1 · Hadith 5 · #5 · Sahih
  6. 6

    রেওয়ায়ত ৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার (অধীনস্থ) কর্মকর্তাদের নিকট লিখিয়াছেনঃ আমার মতে তোমাদের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হইতেছে নামায, তাই যে উহার রক্ষণাবেক্ষণ করিল এবং (নিষ্ঠার সহিত) বরাবর আঞ্জাম দিল সে নিজের দীনের হিফাজত করিল, আর যে নামাযকে নষ্ট করিল, সে নামায ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় দীনি কাজেরও অধিক নষ্টকারী হইবে। তিনি আরও লিখিলেনঃ তোমরা যোহরের নামায পড়িও যখন ফাই (সূর্য পশ্চিমে হেলিয়া পড়ার পর যে ছায়া হয় তাহা) এক হাত হয়। এই নামাযের সময় তোমাদের প্রত্যেকের ছায়া তাহার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত। আর আসরের নামায পড়িও যখন সূর্য উর্ধ্বে উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন থাকে। (সেই সময় হইতে) সূর্যাস্তের পূর্বে সওয়ারী ব্যক্তি দুই অথবা তিন ফরসখ চলিতে পারে এতটুকু সময় পর্যন্ত। আর মাগরিব পড়িও যখন সূর্য ডুবিয়া যায়, আর ইশা পড়িও (শফক) (شفق) অদৃশ্য হওয়ার পর হইতে এক-তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত। আর যে (ঈশা না পড়িয়া) নিদ্রা যায় তাহার চক্ষুর যেন নিদ্রা নসিব না হয়, আর যে নিদ্রা যায় তাহার চক্ষুর যেন নিদ্রা নসিব না হয়, আর যে নিদ্রা যায় তাহার চক্ষুর যেন নিদ্রা নসিব না হয়। আর ফজর (পড়িও) যখন নক্ষত্রসমূহ পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরস্পর খাপিয়া যায়।

    Book 1 · Hadith 6 · #6 · Mauquf Daif
  7. 7

    রেওয়ায়ত ৭. মালিক ইবন আসবাহী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ)-এর নিকট (পত্র) লিখিয়াছেনঃ সূর্য ঢলিয়া পড়িলে পর তুমি যোহর পড়, আর আসর পড় যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন থাকে, উহাতে হলুদ বর্ণ প্রকাশ হওয়ার পূর্বে। সূর্যাস্তের পর মাগরিব পড়। আর ইশা পড় নিদ্রার পূর্বে। আর নক্ষত্রসমূহ যখন (ফজরের আলোতে) উদ্ভাসিত হয় এবং একে অপরের সহিত খপিয়া যায় তখন ফজর পড়। আর ফজর নামাযে মুফাছছল (مفصل) হইতে দুইটি দীর্ঘ সূরা পাঠ কর।

    Book 1 · Hadith 7 · #7 · Mauquf Sahih
  8. 8

    রেওয়ায়ত ৮. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ)-এর নিকট লিখিয়াছেনঃ তুমি আসর পড়িও যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে; আরোহী তিন ফরসখ পথ চলিতে পারে সেই পরিমাণ সময় পর্যন্ত। আর ইশা পড় তোমার সম্মুখে যখন ইশা উপস্থিত হয় সেই সময় হইতে এক-তৃতীয়াংশ রাত্রি পর্যন্ত। যদি তুমি আরও বিলম্ব কর তবে অর্ধরাত্রি পর্যন্ত করিও। তবে তুমি অলসদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

    Book 1 · Hadith 8 · #8 · Mauquf Daif
  9. 9

    রেওয়ায়ত ৯. আবদুল্লাহ্ ইবন রাফি (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট নামাযের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন। উত্তরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি তোমাকে নামাযের সময়ের সংবাদ দিব, যোহর পড় যখন তোমার ছায়া তোমার সমপরিমাণ হয়। আর আসর পড় যখন তোমার ছায়া তোমার দ্বিগুণ হয়। মাগরিব পড় যখন সূর্য অস্ত যায়। আর ইশা পড় তোমার সম্মুখ (অর্থাৎ তোমার সামনে উপস্থিত ইশার প্রথম সময়) হইতে এক তৃতীয়াংশ রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজর পড় গাবস অর্থাৎ গলসে-রাত্রির অন্ধকার কিছুটা অবশিষ্ট থাকিতে।

    Book 1 · Hadith 9 · #9 · Mauquf Sahih
  10. 10

    রেওয়ায়ত ১০. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা আসর পড়িতাম, অতঃপর লোকজন বাহির হইতেন (কুবায় অবস্থিত) বনি আমর ইবন আউফ-এর বস্তির দিকে, তথায় তাহাদিগকে এই অবস্থায় পাইতেন যে, তাহারা আসরের নামায পড়িতেছেন।

    Book 1 · Hadith 10 · #10 · Sahih
  11. 11

    রেওয়ায়ত ১১. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমরা আসর পড়িতাম। অতঃপর গমনকারী কুবার দিকে গমন করিতেন এবং তাঁহাদের (কুবাবাসীদের) নিকট আসিয়া পৌছতেন (এমন সময় যে), সূর্য তখনও উঁচুতে।

    Book 1 · Hadith 11 · #11 · Sahih
  12. 12

    রেওয়ায়ত ১২. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, যোহরের নামায লোকদিগকে সূর্য ঢলার বেশ কিছুক্ষণ পর পড়িতে আমি পাইয়াছি।

    Book 1 · Hadith 12 · #12 · Mauquf Sahih
  13. 13

    রেওয়ায়ত ১৩. আবূ সুহায়ল (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, তাহার পিতা মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, আমি জুম'আর দিবসে আকীল ইবন আবূ তালিবের একটি ছোট চাটাই (অথবা চাদর) দেখিতে পাইতাম। উহা মসজিদের পশ্চিম প্রাচীরের দিকে ফেলিয়া রাখা হইত। প্রচীরের ছায়া যখন চাটাইকে সম্পূর্ণরূপে আবূত করিয়া ফেলিত, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বাহির হইতেন এবং জুম'আ পড়াইতেন। জুম'আর নামাযান্তে আমরা প্রত্যাবর্তন করিতাম এবং দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ করিতাম।

    Book 1 · Hadith 13 · #13 · Maqtu Sahih
  14. 14

    রেওয়ায়ত ১৪. ইবন আবী সালিত (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) জুম'আর নামায মদীনায় পড়িয়াছেন, আর আসর মলল[1] নামক স্থানে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা তানজীর (সূর্য পশ্চিমে ঢলার পরপরই জুম'আ আদায় করা) ও দ্রুতগতিতে পথ অতিক্রমের জন্য ।

    Book 1 · Hadith 14 · #14 · Mauquf Hasan
  15. 15

    রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, যে নামাযের এক রাকাত পাইয়াছে সে অবশ্য নামায পাইয়াছে।

    Book 1 · Hadith 15 · #15 · Sahih
  16. 16

    রেওয়ায়ত ১৬. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ যদি তোমার রুকু ফাউত হইয়া গেল (পাওয়া গেল না) তবে তোমার সিজদাও ফাউত হইয়া গেল।

    Book 1 · Hadith 16 · #16 · Mauquf Sahih
  17. 17

    রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলিতেনঃ যে রুকু পাইয়াছে সে সিদজাও পাইয়াছে। আর যাহার উম্মুল-কুরআন (সূরা ফাতিহা) ফাউত হইয়াছে তাহার অনেক সওয়াব ফাউত হইয়াছে।

    Book 1 · Hadith 18 · #17 · Mauquf Daif
  18. 18

    রেওয়ায়ত ১৯. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ ‘দুলুকুশ শামস’ হইতেছে (মধ্যাকাশ হইতে) সূর্য পশ্চিমে হেলিয়া পড়া।

    Book 1 · Hadith 19 · #18 · Mauquf Sahih
  19. 19

    রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিতেনঃ দুলুকুশ শামস যখন ছায়া (পশ্চিম দিকে) ঝুঁকে আর ‘গাসাকুল লাইল’ হইতেছে রজনী ও উহার অন্ধকার।

    Book 1 · Hadith 20 · #19 · Mauquf Daif
  20. 20

    রেওয়ায়ত ২১. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যাহার আসরের নামায ফাউত হইয়াছে, তবে যেন তাহার পরিবার-পরিজন ও সম্পদ ছিনাইয়া লওয়া হইয়াছে (অর্থাৎ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ হারাইলে যেমন ক্ষতি হয় তদ্রূপ ক্ষতি হইয়াছে)।

    Book 1 · Hadith 21 · #20 · Sahih
  21. 21

    রেওয়ায়ত ২২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আসরের নামায হইতে প্রত্যাবর্তনের পথে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর এমন এক ব্যক্তির সহিত সাক্ষাৎ হইল যিনি আসরের নামাযে হাজির হন নাই। উমর (রাঃ) বলিলেনঃ আসরের নামায হইতে তোমাকে কোন বস্তু বিরত রাখিল? লোকটি তাহার (উমরের) নিকট ওজর ব্যক্ত করিলেন। ওজর শোনার পর উমর (রাঃ) বললেনঃ (জামাআতে হাযির না হওয়ায়) তোমার পুণ্য কমিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বলা হইয়া থাকে “প্রত্যেক বস্তুর পূর্ণতা এবং ক্ষতি বা লোকসান রহিয়াছে।”

    Book 1 · Hadith 22 · #21 · Mauquf Daif
  22. 22

    রেওয়ায়ত ২৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলতেনঃ মুসল্লি এমন সময়ে নামায পড়িবে, যখন তাহার নামাযের ওয়াক্ত ফাউত হয় নাই, তাহা অতি উত্তম, কিন্তু মুসল্লির নামাযের যে সময় ফাউত হইয়া গিয়াছে (অর্থাৎ মুস্তাহাব সময় ফাউত হইয়া মাকরূহ ওয়াক্ত উপস্থিত হইয়াছে) তবে সেই (ফাউত হওয়া মুস্তাহাব) সময় তাহার পরিজন ও মাল অপেক্ষাও বড় উত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সফরকালে (যেই সফরে নামায কসর পড়িতে হয় সেইরূপ সফর) যাহার নামাযের সময় উপস্থিত হইয়াছে, সে যদি ভুলে অথবা ব্যস্ততাবশত নামায পড়িতে বিলম্ব করে এবং এই অবস্থায় নিজের পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করে, তবে সে যদি নামাযের সময় থাকিতে পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করে সে মুকীমের নামায পড়িবে, আর যদি নামাযের সময় চলিয়া যাওয়ার পর প্রত্যাবর্তন করে, সে মুসাফিরের নামায পড়িবে। কারণ যেরূপ তাহার উপর ফরয হইয়াছিল সেইরূপ সে কাযা পড়িবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নগরীর লোকজন ও আহলে ইলমকে আমি ইহার উপরই পাইয়াছি (অর্থাৎ তাহাদের আমল ও অভিমতও ঐরূপই ছিল)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অস্তাচলে যে লালিমা দৃষ্ট হয় উহাই শফক (شفق)। লালিমা চলিয়া গেলে ইশার নামায ওয়াজিব হইল এবং তুমি মাগরিবের সময় হইতে বাহির হইলে।

    Book 1 · Hadith 23 · #22 · Maqtu Sahih
  23. 23

    রেওয়ায়ত ২৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একবার সংজ্ঞা হারাইয়া ফেলিলেন। (হুঁশ ফিরিয়া আসার পর) তিনি আর নামাযের কাযা আদায় করিলেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে ইহা এইজন্য যে, নামাযের সময় চলিয়া গিয়াছিল। আর নামাযের সময় থাকিতে যে সংজ্ঞা ফিরিয়া পায় সে নামায আদায় করিবে (والله اعلم) (আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ)।

    Book 1 · Hadith 24 · #23 · Mauquf Sahih
  24. 24

    রেওয়ায়ত ২৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর হইতে প্রত্যাবর্তন করার সময় রাত্রিবেলা পথ চলিলেন; যখন রাত্রির শেষ সময় হইল তিনি (নিদ্রার জন্য) অবতরণ করিলেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে বলিলেনঃ তুমি প্রত্যুষের প্রতি লক্ষ রাখ (ভোর হইলে আমাদিগকে জাগাইয়া দিবে)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাহার সাহাবীগণ ঘুমাইয়া পড়িলেন। বিলাল (রাঃ) যথাসাধ্য লক্ষ রাখিতে লাগিলেন। অতঃপর উটের হাওদার সাথে ঠেস দিয়া ভোরের আলোর উদয়ের স্থানকে সম্মুখে রাখিয়া বসিলেন। হঠাৎ তাহার উপর নিদ্রা ভর করিল। এই অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল এবং কাফিলার অন্য কেউ জাগ্রত হইলেন না যতক্ষণ না সূর্যকিরণ তাহাদের উপর পতিত হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘাবড়াইলেন; তারপর বলিলেনঃ বিলাল! ইহা কি? বিলাল বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনাকে যিনি ঘুম পাড়াইয়াছেন তিনি আমাকেও ঘুম পাড়াইয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমরা উট চালিত কর (এবং স্থানান্তরিত হও)। তাহারা উটগুলিকে উঠাইলেন এবং কিছুদূর চলিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে নির্দেশ দিলেন (ইকামত বলার জন্য)। তিনি ইকামত বলিলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে ফজরের নামায পড়াইলেন। নামায সমাপ্ত করার পর তিনি বলিলেনঃ যে নামাযকে ভুলিয়া যায় (অর্থাৎ নামায হইতে গাফিল হয় নিদ্রা অথবা ভুলের দরুন) নামাযের কথা স্মরণ হইলে পর সে উহা পড়িয়া নিবে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা বলিয়াছেনঃ (أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي) “আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।”

    Book 1 · Hadith 25 · #24 · Sahih
  25. 25

    রেওয়ায়ত ২৬. যায়দ ইবন আসলাম (রাঃ) হইতে বর্ণিত, মক্কার পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার বিশ্রাম গ্রহণের জন্য) রাত্রিতে অবতরণ করিলেন এবং বিলালকে নামাযের জন্য জাগাইয়া দেওয়ার দায়িত্বে নিযুক্ত করিলেন। তারপর বিলাল ঘুমাইলেন এবং অন্য সকলেও ঘুমাইলেন। এমন কি তাহারা জাগিলেন সূর্য ওঠার পর। হতচকিত অবস্থায় দলের লোকজন জাগ্রত হইলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে সওয়ার হওয়ার এবং সেই উপত্যকা হইতে বাহিরে চলিয়া যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তিনি বলিলেনঃ এই উপত্যকায় অবশ্যই শয়তান রহিয়াছে। তারপর তাহারা সওয়ার হইলেন এবং সেই উপত্যক হইতে বাহির হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে অবতরণ এবং ওযু করার নির্দেশ দিলেন। আর বিলালকে নামাযের জন্য আযান অথবা ইকামত বলার হুকুম করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনকে নামায পড়াইলেন। তারপর তাঁহাদের দিকে মুখ ফিরাইলেন এবং তাঁহাদের ঘাবড়ানোর অবস্থা অনুধাবন করিলেন। তখন তিনি বলিলেনঃ হে লোকসমাজ! আল্লাহ আমাদের আত্মাসমূহকে কাবু করিয়াছিলেন, আর তিনি যদি ইচ্ছা করিতেন এই সময় ব্যতীত ভিন্ন সময়ে আত্মাসমূহকে আমাদের নিকট ফেরত দিতে পারিতেন। যদি তোমাদের কেউ নামায হইতে ঘুমাইয়া পড় অথবা উহাকে ভুলিয়া যাও, অতঃপর হঠাৎ নামাযের কথা স্মরণ হয়, তবে সেই নামাযকে উহার নির্ধারিত সময়ে যেইরূপে পড়িতে সেইভাবে পড়িবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-এর দিকে দৃষ্টি করিলেন। তারপর বলিলেনঃ বিলাল যখন দাঁড়াইয়া নামায পড়িতেছিল তখন তাহার কাছে শয়তান আসিল এবং তাহাকে ঠেস দেওয়াইয়া বসাইল এবং শিশুকে যেভাবে (থাপি দিয়া) শান্ত করা হয় ও ঘুম পাড়ানো হয় সেইভাবে তাহার সঙ্গে বারবার করিতে থাকিল। এমন কি (শেষ পর্যন্ত) বিলাল ঘুমাইয়া পড়িল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে আহবান করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ)-কে যেরূপ বলিয়াছিলেন বিলালও অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ণনা করিলেন। ইহা শুনিয়া আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল।

    Book 1 · Hadith 26 · #25 · Hasan Lighairihi
  26. 26

    রেওয়ায়ত ২৭. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ জাহান্নামের মূল হইতেই প্রখর গ্রীষ্মের উৎপত্তি। তাই প্রচণ্ড গ্রীষ্মের সময় নামায দেরি করিয়া পড়। তিনি আরও বলিলেনঃ (জাহান্নামের) অগ্নি তাহার নিকট ফরিয়াদ জানাইয়া বলিলঃ হে রব! আমার এক অংশ অপর অংশকে খাইয়া ফেলিল। অতঃপর (আল্লাহ্ তা'আলা) উহাকে বৎসরে দুইবার শ্বাস ছাড়ার অনুমতি দিলেন- এক শ্বাস শীতকালে আর অপর শ্বাস গ্রীষ্মে।

    Book 1 · Hadith 27 · #26 · Sahih Lighairihi
  27. 27

    রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ যখন গ্রীষ্ম প্রখর হয় সেই সময় নামায বিলম্ব করিয়া (গ্রীষ্মের প্রচণ্ডতা যখন কমিয়া যায় তখন) পড়। কারণ গরমের প্রখরতার উৎপত্তি জাহান্নামের মূল হইতেই। তিনি (আরও) উল্লেখ করিলেনঃ জাহান্নাম (উহার আগুন) তাহার পরওয়ারদিগারের নিকট ফরিয়াদ জানাইল। ফলে আল্লাহ্ তা'আলা উহার জন্য প্রতি বৎসর দুইটি শ্বাসের অনুমতি দিলেন, একটি শ্বাস শীত মওসুমে আর একটি গ্রীষ্মকালে।

    Book 1 · Hadith 28 · #27 · Sahih
  28. 28

    রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ যখন গ্রীষ্মের প্রচণ্ডতা বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা নামায দেরি করিয়া পড়িও। কারণ গ্রীষ্মের প্রখরতার উৎপত্তি জাহান্নামের মূল হইতেই।

    Book 1 · Hadith 29 · #28 · Sahih
  29. 29

    রেওয়ায়ত ৩০. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ যে এই উদ্ভিদ হইতে আহার করে সে আমাদের মসজিদসমূহের নিকটে যেন না আসে, পিয়াজের গন্ধ আমাদের কষ্ট দিবে। সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) কোন লোককে নামাযে মুখাবৃত দেখিলে খুব জোরে কাপড় (মুখ হইতে) টানিয়া লইতেন। এমন কি মুখ হইতে কাপড় ছিনাইয়া লইতেন।

    Book 1 · Hadith 31 · #29 · Maqtu Sahih
সব বিষয় · Muwatta Malik