Good Character
- 1
রেওয়ায়ত ১. মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বশেষ ওসীয়্যত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে করিয়াছেন যখন আমি ঘোড়ার রেকাবে পা রাখিতেছিলাম। তাহা এই যে, হে মুআয! মানুষের সহিত সৎ ব্যবহার করিবে।
Book 47 · Hadith 1 · #1531 · Daif - 2
রেওয়ায়ত ২. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলিয়াছেন, যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে দুইটি কাজের মধ্যে একটি গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হইত তিনি সহজটি গ্রহণ করিতেন, যদি উহা গুনাহর কাজ না হইত। যদি উহা গুনাহর কাজ হইত, তবে তিনিই সর্বাধিক উহা বর্জন করিয়া চলিতেন। তিনি নিজের জন্য কাহারও উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নাই। কিন্তু যখন আল্লাহর হারামের পর্দা ছিদ্র হইত তখন তিনি প্রতিশোধ লইতেন।
Book 47 · Hadith 2 · #1532 · Sahih - 3
রেওয়ায়ত ৩. আলী ইবন হুসাইন হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে ইহাও রহিয়াছে যে, মানুষ অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ ত্যাগ করিবে।
Book 47 · Hadith 3 · #1533 · Hasan - 4
রেওয়ায়ত ৪. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, কেহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট সাক্ষাৎ করিতে অনুমতি চাহিল। আমি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে ছিলাম। তিনি বলিলেনঃ এই লোকটি মন্দ। অতঃপর তিনি তাহাকে আসিতে অনুমতি দান করিলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, বেশিক্ষণ না যাইতেই আমি ঐ লোকটির সহিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসিতে শুনিতে পাইলাম। তাহার প্রস্থানের পর আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এইমাত্র আপনি তাহাকে মন্দ বলিলেন, আর এখনই আপনি তাহার সহিত হাসিতেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকলের চাইতে মন্দ ঐ ব্যক্তি যাহার অনিষ্টকারিতার জন্য লোকে তাহাকে ভয় করে।
Book 47 · Hadith 4 · #1534 · Sahih - 5
রেওয়ায়ত ৫. কাব আহবার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, কোন বান্দার মর্যাদা তাহার প্রভুর নিকট কিরূপ উহা জানিতে ইচ্ছা করিলে দেখ, অন্যান্য লোক তাহার সম্বন্ধে কি ধারণা পোষণ করে।
Book 47 · Hadith 5 · #1535 · Maqtu Sahih - 6
রেওয়ায়ত ৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ হইতে বর্ণিত। তিনি বলিয়াছেন, আমার নিকট এই রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মানুষ তাহার সৎ চরিত্রের জন্য সারা রাত্রি ইবাদতকারী ও সর্বদা রোযা রাখে, এমন ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করিয়া থাকে।
Book 47 · Hadith 6 · #1536 · Hasan - 7
রেওয়ায়ত ৭. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি কি তোমাদের এমন কাজের সন্ধান দিব যাহা বহু নামায ও অনেক সদকা হইতেও উৎকৃষ্ট? লোকেরা বলি, নিশ্চয়ই। বলুন। তিনি বলিলেন, পরস্পর আপস করাইয়া দেওয়া। আর তোমরা শক্রতা ও দুশমনী হইতে দূরে থাক। কারণ এই স্বভাব নেকীকে বিনষ্ট করে।
Book 47 · Hadith 7 · #1537 · Maqtu Sahih - 8
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট এই খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি নৈতিকতাকে পূর্ণতা দান করিবার জন্য নবী হইয়া আগমন করিয়াছি।
Book 47 · Hadith 8 · #1538 · Sahih Lighairihi - 9
রেওয়ায়ত ৯. যায়েদ ইবন তালহা ইবন রুকানা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, প্রতিটি ধর্মেরই একটা স্বভাব রহিয়াছে, আর ইসলামের স্বভাব হইল লজ্জা।
Book 47 · Hadith 9 · #1539 · Sahih Lighairihi - 10
রেওয়ায়ত ১০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট দিয়া যাইতেছিলেন। সে তাহার ভাইকে বেশি লজ্জা না করার জন্য নসীহত করিতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এই বিষয়ে তাহাকে নসীহত করা হইতে বিরত থাক। কেননা এই লজ্জা ঈমানের অঙ্গস্বরূপ।
Book 47 · Hadith 10 · #1540 · Sahih - 11
রেওয়ায়ত ১১. হুমাইদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন কয়েকটি কথা শিখাইয়া দিন যাহা দ্বারা উপকার লাভ করিতে পারি। আর অনেক কথা বলিবেন না, আমি ভুলিয়া যাইব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ক্রোধ করিও না।
Book 47 · Hadith 11 · #1541 · Sahih Lighairihi - 12
রেওয়ায়ত ১২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ঐ ব্যক্তি বীর নহে যে অন্যকে ধরাশায়ী করিয়া দেয়, বরং বীর ঐ ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজকে নিয়ন্ত্রণে রাখিতে পারে।
Book 47 · Hadith 12 · #1542 · Sahih - 13
রেওয়ায়ত ১৩. আবু আয়্যূব আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কোন মুসলিমের পক্ষে তাহার ভইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তিন দিনের বেশি ত্যাগ করা বৈধ নহে। ইহা এইরূপে যে, তাহাদের একজন মিলিতে আসে তো অন্যজন তাকাইয়া দেখে না বা একজন মিলিতে আসে তো অন্যজন লক্ষ্য করে না — এই উভয়ের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম, যে প্রথম সালাম করে।
Book 47 · Hadith 13 · #1543 · Sahih - 14
রেওয়ায়ত ১৪. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ করিও না এবং একে অন্যের দিকে পিঠ ফিরাইয়া থাকিও না, বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হইয়া থাক; কোন মুসলিমের জন্য তাহার কোন মুসলিম ভাইকে তিন রাত্রির অধিক ত্যাগ করা বৈধ নহে।
Book 47 · Hadith 14 · #1544 · Sahih - 15
রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা অনুমান করা হইতে বাঁচিয়া থাক। নিশ্চয়ই অনুমান বড় মিথ্যা। কাহারও ছিদ্রান্বেষণ করিও না, কাহারও সম্বন্ধে অনুমানভিত্তিক কথা বলিও না। দুনিয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করিও না। একে অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করিও না এবং অন্যের প্রতি পিঠ ফিরাইয়া থাকিও না। আল্লাহর বান্দা সকলে ভাই ভাই হইয়া যাও।
Book 47 · Hadith 15 · #1545 · Sahih - 16
রেওয়ায়ত ১৬. আতা ইবন আবদুল্লাহ খুরাসানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা পরস্পর মুসাফাহা (কর মর্দন) কর, তাহা হইলে তোমাদের মধ্যকার শক্রতা দূর হইয়া যাইবে। পরস্পর হাদিয়া তোহফা আদান-প্রদান কর, তাহা হইলে পরস্পর ভালবাসা সৃষ্টি হইবে এবং শক্রতা দূর হইয়া যাইবে।
Book 47 · Hadith 16 · #1546 · Daif - 17
রেওয়ায়ত ১৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার বেহেশতের দ্বার খুলিয়া দেওয়া হয় এবং যে মুসলিম বান্দা আল্লাহর সহিত কাহাকেও শরীক করে না তাহাকে ক্ষমা করিয়া দেওয়া হয়, তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজ ভাইয়ের সহিত শক্রতা পোষণ করে। বলা হইতে থাকে, তাহাদের পরস্পর মেলামেশা না হওয়া পর্যন্ত তাহদের ব্যাপারে অপেক্ষা কর অর্থাৎ যতক্ষণ তাহারা আপস না করে তাহাদেরকে ক্ষমা করা হইবে না।
Book 47 · Hadith 17 · #1547 · Sahih - 18
রেওয়ায়ত ১৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিলেনঃ সপ্তাহে দুইবার অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও সোমবার বান্দাদের আমল লেখা হইয়া থাকে। তখন প্রত্যেক মু'মিন বান্দাকে ক্ষমা করা হইয়া থাকে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে স্বীয় ভ্রাতার সহিত শক্রতা পোষণ করে। বলা হয়, এই উভয়কে তাহাদের আপস না হওয়া পর্যন্ত ত্যাগ কর (ক্ষমা করিও না)।
Book 47 · Hadith 18 · #1548 · Mauquf Sahih