The Book of Zakah
- 1
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু'আয (রাঃ)-কে ইয়ামনে পাঠিয়েছিলেন তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন যে, তুমি এমন এক জাতির কাছে যাচ্ছো যারা গ্ৰন্থধারী, যখন তুমি তাদের কাছে পৌছবে তখন তাদের তুমি এ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান করবে যে, “আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” যদি তারা তোমার এই আহবানে সাড়া দেয় তবে তাদের তুমি অবহিত করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর দিবা-রাত্রি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা অর্থাৎ তোমার এই আহবানে সাড়া দেয় তবে তাদের তুমি অবহিত করবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন যা তাদের মধ্যকার বিত্তবানদের থেকে নেয়া হবে এবং বিত্তহীনদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা তোমার এই দাওয়াতের সাড়া দেয়। তবে তুমি নিজকে অত্যাচারিত্যের ফরিয়াদ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
Book 23 · Hadith 1 · #2423 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 2
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয (রহঃ)-এর দাদা থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমি আপনার কাছে আসিনি স্বীয় হস্তদ্বয়ের অঙ্গুলিসমূহের সংখ্যারও অধিক এ শপথ না করা পর্যন্ত যে, আমি আপনার কাছেও আসিব না আর আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। আর এখন আমি এমন হয়েছি যে, আল্লাহ তা’আলা এবং তদীয় রাসূল আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমি আর কিছুই জানি না। আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি আল্লাহ তা’আলার ওহী সম্পর্কে যা দিয়ে আপনার রব আপনাকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। (তখন) তিনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বললেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইসলামের চিহ্ন কি কি? তিনি বললেন, তোমার এ কথা বলা যে, আমি স্বীয় চেহারাকে (নিজকে) আল্লাহ তা'আলার অনুগত বানিয়ে নিলাম, অন্য সব কিছু থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করে।
Book 23 · Hadith 2 · #2424 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Isnaad Hasan - 3
ঈসা ইবন মুসাবির (রহঃ) ... আবু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচিত বলেছেনঃ উত্তমভাবে ওষু করা ঈমানের অর্ধেক। আর আলহামদুলিল্লাহ মীযানকে পরিপূর্ণ করে ফেলবে, তাসবীহ এবং তাকবীর আসমান এবং যমীনসমূহকে পরিপূর্ণ করে ফেললে। সালাত হল আলো আর যাকাত হল দলীল, ধৈর্য (সাওমা) হল নূর এবং কুরআন হল তোমার পক্ষের অথবা বিপক্ষের প্রমাণ।
Book 23 · Hadith 3 · #2425 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 4
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সম্বোধন করে তিনবার বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তিনবার বলার পর তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন। আমাদের প্রত্যেকেই উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে ক্ৰন্দন করতে লাগল। আমরা বুঝতেই পারলাম না যে, তিনি কোন কথার উপর শপথ করলেন। অতঃপর তিনি স্বীয় মস্তক উত্তোলন করলেন। তাঁর চেহারাতে তখন আনন্দের বিচ্ছুরণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল, যা আমাদের কাছে সব রকমের নিয়ামত অপেক্ষা অধিক প্রিয় ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ যে বান্দা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমযান মাসে সাওম পালন করে, যাকাত প্ৰদান করে এবং সাতটি কবিরা গুনাহ পরিত্যাগ করে থাকে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে যে, তুমি প্রশান্ত চিত্তে জান্নাতে প্রবেশ কর।
Book 23 · Hadith 4 · #2426 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 5
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় সম্পদ হতে এক জোড়া বস্তুও দান করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে আহবান করা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা, এ তোমার জন্য উত্তম। জগন্নাতের অনেক দরজা আছে। যে সালাত আদায়কারী হবে তাকে সালাতের দরজা হতে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিহাদের দরজা হতে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি যাকাত প্ৰদানকারী হবে তাকে যাকাতের দরজা হতে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী হবে তাকে রাইয়্যান নামক দরজা হতে আহবান করা হবে। আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারো কি এমন আমল থাকবে যাকে প্রত্যেক দরজা দিয়ে আহবান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে? কাউকে কি প্রত্যেক দরজা দিয়েই আহবানকরা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; এবং আমি আশা করি যে, তুমি তাদের মধ্য থেকেই হবে অর্থাৎ আবু বকর (রাঃ)।
Book 23 · Hadith 5 · #2427 · Sahih, Sahih, Hasan - 6
হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম; তখন তিনি কা'বার ছায়ায় বসা ছিলেন। তিনি আমাকে অগ্রসর হতে দেখে বললেন, কা'বার রাবের শপথ, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমি মনে মনে বললাম, আমার সর্বনাশ, মনে হয় আমার সম্পর্কে কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, আপনার উপর আমার পিতা-মাতা কুরবান হােক। তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল ধনাঢ্য ব্যক্তিরা, কিন্তু যারা এত, এত, এত পরিমাণ দান খয়রাত করে এমনকি তাদের সামনে, ডানে এবং বামে (কল্যাণের বিভিন্ন খাতে) দান কয়রাত করে। অতঃপর তিনি বললেন যে, ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন রয়েছে, যে ব্যক্তি উট, গরুর যাকাত প্ৰদান না করে মারা যায় কিয়ামতের দিন সেগুলোকে পূর্বাপেক্ষা বিরাট এবং বলিষ্ঠাকারে তার সামনে আনা হবে; সেগুলো তাকে ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে এবং শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। যখন দ্বিতীয়টা ফিরে যাবে প্রথমটা ফিরে আসবে। এরূপ চলতে থাকবে লোকজনের মাঝে বিচার কার্য নিম্পন্ন না পর্যন্ত ।
Book 23 · Hadith 6 · #2428 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 7
মুজাহিদ ইবন মূসা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তির ধন-সম্পদ রয়েছে অথচ সে তার যাকাত প্রদান করছে না সেগুলো দিয়ে তার গলায় দুর্দান্ত অতি বিষাক্ত সৰ্প রূপে বেড়ি দেওয়া হবে, সেই ব্যক্তি সৰ্প থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে। অতঃপর তিনি কুরআন থেকে তার প্রমাণ পেশ করলেনঃ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمْ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তাদের জন্য তা মঙ্গল, ইহা যেন তারা কিছুতেই মনে না করে বরং ইহা তাদের জন্য অমঙ্গল। যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন উহাই তাদের গলায় বেড়ি হবে। (সূরা আলে ইমরানঃ)
Book 23 · Hadith 7 · #2429 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 8
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তির উট রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর সবল বা দুর্বল অবস্থায় যাকাত প্ৰদান করে না, সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন যে, উটের সবল এবং দুর্বল হওয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ সেগুলোর (মালিকের) সুদিন কিংবা দুর্দিনে থাকা। কেননা সেগুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে ঐ উটগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। সেই উটগুলো তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। যখন পরবর্তী উটটি ফিরে যাবে পূববর্তী উটটি ফিরে আসবে। এই শাস্তি এমন একদিন দেওয়া হবে, যেই দিন (শাস্তিপ্রাপ্ত লোকটির জন্য) পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে, এই শান্তি লোকদের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির গরু রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর সবল বা দুর্বল অবস্থায় যাকাত প্ৰদান করে না, সেই গরুগুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। সেই ব্যক্তিকে ঐ গরুগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তাকে প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দালন করতে থাকবে। যখন পরবর্তী জন্তুগুলো ফিরে যাবে পূর্ববতীর্ণ জন্তুগুলো ফিরে আসবে, এমন একদিন এই শাস্তি দেওয়া হবে যেই দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে। এই শাস্তি লোকজনের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন হওয়া না পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিবেঃ) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির ছাগল রয়েছে কিন্তু সে সেগুলোর যাকাত প্ৰদান করে না সবল বা দুর্বল অবস্থায়, সেই ছাগল গুলো কিয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এলং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে। অতঃপর সেই ব্যক্তিকে ঐ ছাগলগুলোর সামনে একটি প্রশান্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তখন প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দালন করতে থাকবে এবং প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। কিয়ামতের দিন কোন জন্তু কেঁকড়ানো শিং বিশিষ্ট বা ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট হবে না। যখন পরবর্তী জন্তুগুলো ফিরে যাবে পূৰ্ববতী জন্তুগুলো ফিরে আসবে। এই শান্তি এমন একদিন দেওয়া হবে, যেই দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সম পরিমাণ হবে। এই শান্তি লোকজনের মাঝে বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়ার পর্যন্ত দেওয়া হবে। অতঃপর সে স্বীয় গন্তব্য স্থান দেখে নেবে।
Book 23 · Hadith 8 · #2430 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 9
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত হলেন আর আরবের যারা কাফির হওয়ার ছিল তারা কাফির হয়ে গেল (যাকাত দিতে অস্বীকার করল) তখন উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিভাবে জিহাদ করবেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত লোকজন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' না পড়বে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে আদিষ্ট হয়েছি। তবে যে ব্যক্তি 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে তার জানমাল আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। অবশ্য তার প্রাপ্য বহাল থাকবে (অপরাধের শাস্তি তাকে পেতে হবে।) তার বাকী হিসাব আল্লাহর উপর সোপর্দ। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও জিহাদ করব যে সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত হল সম্পদের পাওনা। আল্লাহর শপথ, যদি লোকজন আমার কাছে এমন একটি রশিও প্রদান না করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রদান করত, তাহলে সেই রশি প্রদান না করার কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। উমর (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর শপথ, আমি আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তের সাথে এই কারণে ঐক্যমত পোষণ করলাম যে, আমি দেখলাম, আল্লাহ তা’আলা আবু বকর (রাঃ)-এর অন্তর জিহাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
Book 23 · Hadith 9 · #2431 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 10
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ)-এর দাদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রত্যেক বিচরণকারী উটের ব্যাপারে বলতে শুনেছিঃ প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটি দিতে হবে (যখন উটের সংখ্যা এক শত বিশের অধিক হবে।) এই হিসাব থেকে কোন প্রকার উট বাদ যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়্যতে তা প্ৰদান করবে তাকে তার সওয়াব প্ৰদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি তা প্রদানে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসূল করে নেব এবং তার আরো অর্ধেক উট উসূল করে নেব। এটা আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াজিব সমূহের এক ওয়াজিব। যাকাতের কোন বস্তু মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধরদের জন্য বৈধ নয়।
Book 23 · Hadith 10 · #2432 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 11
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসকে (ত্রিশ মণ) এর কম মালে যাকাত ওয়াজিব হয় না। পাঁচ উটের কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না এবং পাঁচ ওকিয়া (দুই শত দিৱাহাম)-এর কমেও যাকাত ওয়াজিব হয় না।
Book 23 · Hadith 11 · #2433 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 12
ঈসা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটির কম উটে যাকাত নেই, পাঁচ ওকিয়ার কম দ্রব্যেও যাকাত নেই। আর পাঁচ ওসাকের কম দ্রব্যেও কোন যাকাত নেই।
Book 23 · Hadith 12 · #2434 · Sahih, Sahih, Hasan - 13
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাঃ) তাদেরকে লিখলেন যে, আল্লাহ তা’আলার নির্দেশক্রমে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উপর এ ফরয যাকাত ধাৰ্য করেছেন। অতএব, যে মুসলিমকে নিয়ম মাফিক যাকাত আদায় করতে বলা হবে সে আদায় করে দেবে, আর যে ব্যক্তিকে এর চেয়ে বেশী আদায় করতে বলা হবে সে তা আদায় করবে না। পঁচিশটির কম উট হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকৱী দিতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্ৰিশ পর্যন্ত দুই বছরী উট দিতে হবে। দুই বছরী উট না থাকলে একটি তিন বছৱী পুরুষ উট দিবে। ছয়ত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছরী উট, ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত একটি আরোহণের উপযুক্ত চার বছরী উট, একষট্রি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি পাঁচ বছৱী উট, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুইটি তিন বছরী উট, একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত আরোহণের উপযুক্ত দুইটি চার বছৱী উট দিতে হবে। যখন একশত বিশটি উটের বেশী হবে তখন প্ৰত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছরী উট এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছরী উট ওয়াজিব হবে। যখন যাকাত আদায়কালীন সময় উটের বয়সের বিভিন্নতা দেখা দেয়, যেমন কাহারের উপর একটি পাঁচ বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে কোন পাঁচ বছরী উট নেই বরং তার কাছে চার বছরী উট আছে তখন তার কাছ থেকে চার বছরী উটি আদায় করে সম্ভব হলে আরো দু'টি ছাগল বা বিশটি দিরহাম আদায় করবে। যার উপর একটি চার বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী উটই আছে তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করে নেবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুইটি ছাগল যাই সম্ভব হয় ফিরিয়ে দেবে। যার উপর চার বছরী উট ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু তার কাছে চার বছর বয়সী উট নেই বরং তিন বছর বয়সী উট আছে, তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করা হবে এবং দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তার সাথে আদায় করে নেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র চার বছর বয়সী উট রয়েছে, তাহলে তার কাছে থেকে তাই আদায় করবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি ছাগল ফিরিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উট নেই বরং তার কাছে দুই বছর বয়সী উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে দুইটি ছাগল বা বিশটি দিরহাম যা সম্ভব তা নেবে। আর যার উপর দুই বছরী উট ওয়াজিব হয়ে যায় অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী পুরুষ উট থাকে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসুল করে নেবে এবং তার সাথে অন্য কোন কিছু নেবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট আছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে হ্যাঁ, তার মালিক যদি কিছু আদায় করতে চায় তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত বিচরণকারী ছাগলে যাকাত হিসাবে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। একশত একুশ হতে দুইশত পর্যন্ত ছাগলে দুটি ছাগল ওয়াজিব হবে। দুইশত এক হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলে তিনটি ছাগল ওয়াজিব হবে। যখন এরও অধিক হয়ে যাবে তখন প্রত্যেক একশত ছাগলে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। আর অতি বৃদ্ধ খুঁত বিশিষ্ট এবং পুরুষ ছাগলও আদায় করবে না। তবে হ্যাঁ, উসুলকারী যদি ইচ্ছা করে তবে আদায় করতে পারবে। যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু কখনো একত্রিত করবে না এবং একত্রিত পশুও কখনো বিচ্ছিন্ন করবে না। আর শরিকী মালে যাকাত উভয় মালিকের উপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটি থেকে একটিও কম হয়, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছে করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। খাটি রৌপ্যে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে। কারো কাছে যদি শুধু একশত নব্বই দিরহাম থাকে তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিয়ে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা।
Book 23 · Hadith 13 · #2435 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 14
ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উটের মালিক যাকাত আদায় না করলে উট তার কাছে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে। তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। আর ছাগলের মালিকও যাকাত আদায় না করলে ছাগল তার সামনে পূর্বাপেক্ষা অধিক বলিষ্ঠাকারে উপস্থিত হবে; তাকে স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন যে, জীব জন্তুর অধিকার হল পানির কাছে তার দুধ দোহন করা।* সাবধান, কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধ দেশে কোন উটি নিয়ে উপস্থিত না হয় যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মদ! আমি বলবঃ আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি তো আগেই আল্লাহর হুকুম পৌছিয়ে দিয়েছিলাম। সাবধান, তোমাদের কেউ যেন কিয়ামতের দিন স্বীয় স্কন্ধাদেশে কোন ছাগল নিয়ে উপস্থিত না হয়, যা চিৎকার করতে থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে মুহাম্মাদ! তখন আমি বলবঃ আমি তো আগেই (আল্লাহর হুকুম) পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ তোমাদের কারো কারো সম্পদ যে সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় করা হয় না কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সৰ্পের আকার ধারণ করবে। আর ঐ ব্যক্তি তা থেকে পলায়ন করতে থাকবে কিন্তু সাপে তার পিছু নিতে থাকবে এবং বলতে থাকবেঃ আমি তো তোমার সম্পদ। এইরূপ পিছু নিতে নিতে অবশেষে ঐ সৰ্প তার অঙ্গুলী (এবং পৰ্যায়ক্রমে সমস্ত দেহ) গিলে ফেলবে।
Book 23 · Hadith 14 · #2436 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 15
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ঐ প্রত্যেক বিচরণকারী উটের যাকাত হল প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটনী। উটের হিসাব থেকে কোন উটকে বাদ দেওয়া হবে না। য়ে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়াতে তা দান করবে তার জন্য তার সওয়াব বুয়েছে আর যে ব্যক্তি তা আদায় করতে অস্বীকার করবে। আমিই তার থেকে তা উসুল করে নেব, সাথে সাথে আরো অর্ধেক উন্ট নিয়ে নেব। এটা আমার আল্লাহর হকসমূহ থেকে একটি হক। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের জন্য এর কোন অংশ বৈধ হবে না।
Book 23 · Hadith 15 · #2437 · Hasan, Hasan, Hasan - 16
মুহাম্মাদ ইবন রাফি (রহঃ) ... মু'আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তাদের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার করে আদায় করেন। অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন। আর গরুর যাকাত হিসেবে প্রত্যেক ত্ৰিশে একটি দুই বছর বয়সী বৃষ বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন।
Book 23 · Hadith 16 · #2438 · Sahih, Sahih, Daif - 17
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন আমি প্রত্যেক চল্লিশটি গরু থেকে একটি তিন বছর বয়সী গাভী এবং প্রত্যেক ত্রিশটি থেকে একটি দুই বছর বয়সী গরু। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী কাপড় আদায় করি।
Book 23 · Hadith 17 · #2439 · Sahih Lighairihi, Sahih, Daif - 18
আহমদ ইবন হারবা (রহঃ) ... মুআয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে পাঠান। তখন তাঁকে নির্দেশ দেন যেন তিনি প্রত্যেক ত্রিশটি গরুতে একটি দুই বছর বয়সী গরু বা গাভী এবং প্রত্যেক চল্লিশটি গরুতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী আদায় করেন। আর প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়ামানী চাদর আদায় করেন।
Book 23 · Hadith 18 · #2440 · Sahih, Sahih, Daif - 19
মুহাম্মদ ইবনুন মানসুর তুসী (রহঃ) ... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠানাের সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি গরুর সংখ্যা ত্রিশ না হওয়া পর্যন্ত তার থেকে কোন যাকাত আদায় না করি। যখন ত্রিশ হয়ে যাবে তখন একটি দুই বছর বয়সী পুরুষ অথবা স্ত্রী বাছুর (এঁড়ে বা বকনা) দিতে হবে। এ হুকুম চল্লিশ পর্যন্ত (ত্ৰিশের বেশী কিন্তু চল্লিশের কম)। চল্লিশ হয়ে গেলে তাতে একটি তিন বছর বয়সী গাভী ওয়াজিব হবে।
Book 23 · Hadith 19 · #2441 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif - 20
ওয়াসিল ইবন আব্দুল আ'লা (রাঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উট, গরু এবং ছাগলের প্রাপ্য আদায় না করবে তাকে কিয়ামতের দিন একটি সমতল ভূমিতে উখিত করা হবে। তাকে ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তুরা ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তুরা শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। সে দিন কোন জন্তু শিং বিহীন বা ভগ্ন শিং বিশিষ্ট থাকবে না। আমরা প্রশ্ন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জন্তুর প্রাপ্য কি? তিনি বললেন, ষাঁড় গরু ধার দেওয়া, ডোল (বালতি) ধার দেওয়া এবং পশুর উপর আল্লাহর রাস্তায় ভার বহন করা। (আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য পশু ধার দেওয়া) আর যে ধন্যবান ব্যক্তি ধন সম্পদের যাকাত আদায় না করবে কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ধন সম্পদ তার সামনে বিষাক্ত সৰ্পকারে উপস্থিত হবে, ঐ ধনবান ব্যক্তি তার থেকে পলায়ন করবে কিন্তু ঐ সৰ্প তার পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকবে এবং বলবে যে, এতো তোমার ধন সম্পদ যা থেকে তুমি ব্যয় করতে না। যখন সে ব্যক্তি দেখবে যে, ঐ সৰ্পের কাছে যেতেই হবে তখন সে স্বীয় হস্ত ঐ সৰ্পের মুখে প্রবেশ করিয়ে দেবে। আর সর্প তা চিবুতে থাকবে যে রূপ যাঁড় চিবুতে থাকে।
Book 23 · Hadith 20 · #2442 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 21
উবায়দুল্লাহ ইবন ফাদালাহ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাঃ) তাকে লিখেছিলেনঃ এ হলো ফরয যাকাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে মুসলিমদের উপর ধার্য করেছেন। তাই যে কোন মুসলিমের কাছে তা নিয়ম মাফিক চাওয়া হবে সে তা দিয়ে দেবে। আর যার কাছে অধিক দাবী করা হবে সে তা আদায় করবে না। উট পঁচিশের কম হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকরী। পঁচিশ হয়ে গেলে পঁয়ত্ৰিশ পর্যন্ত একটি দুই বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব। দুই বছর বয়সী উটনী না পেলে তিন বছর বয়সী উট দিতে হবে। ছয়ত্রিশ হয়ে গেলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব। ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত উট চার বছর বয়সী আরোহণের উপযুক্ত একটি উটনী ওয়াজিব। একষট্টি থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত উটে একটি পাঁচ বছর বয়সী উটনী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই পর্যন্ত হলে তাতে দুটি তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে একশত বিশ পর্যন্ত হলে তাতে আরোহণের উপযুক্ত চার বছর বয়সী দুটি উটনী ওয়াজিব হবে। একশত বিশের অধিক হয়ে গেলে প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছর বয়সী উটনী এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছর বয়সী উটনী দিতে হবে। যদি ফরয যাকাত আদায়কালীন উটের বয়সের তারতম্য হয়ে যায় যেমন কারো উপর একটি পাঁচ বছর বয়সী উট ওয়াজিব হয়ে পেল অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী উট নেই বরং চার বছর বয়সী উট রয়েছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই আদায় করা হবে এবং তার সাথে যদি সম্ভব হয় দুইটি ছাগল অথবা বিশটি দিরহাম দিয়ে দিবে। আর কারের উপর একটি তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল। কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উটনী নেই এবং দুই বছর বয়সী উটনী আছে, তাহলে তার কাছ থেকে তাই আদায় করা হবে এবং তার সাথে যাকাত প্ৰদানকারী যাকাত উসুলকারীকে যদি সম্ভব হয় দুটি ছাগল অথবা বিশটি দিব্রহহাম দিয়ে দিবে। আর কারো উপর একটি চার বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল। কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী উট রয়েছে তা হলে তার থেকে তাই আদায় করে নেওয়া হবে এবং যাকাত প্রদানকারী যদি সম্ভব হয়, তাহলে তার সাথে দুটি ছাগল কিংবা বিশটি দিরহাম দিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল। কিন্তু তার কাছে শুধু চার বছর বয়সী উটনী রয়েছে তাহলে তার থেকে তাই গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুটি ছাগল দেবে। আর কারো উপর দু' বছর বয়সী উটনী ওয়াজিব হয়ে গেল অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী উট রয়েছে তাহলে তার থেকে তাই গ্রহণ করা হবে এবং তার সাথে আর কিছু দিতে হবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট রয়েছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। অবশ্য তার মালিক যদি কিছু আদায় করতে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। ছাগলের যাকাত চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত একটি ছাগল। যদি একশত বিশটির উপর একটি ছাগলও বেশী হয় তবে দু'টি ছাগল ওয়াজিব হবে। যদি তার থেকে একটি বেশী হয়ে যায় তাহলে তিনশত পর্যন্ত তিনটি ছাগল দিতে হবে। যদি তার থেকে একটিও বেশী হয়ে যায় তবে প্রতি একশতে একটি করে ছাগল ওয়াজিব হবে। আর যাকাত আদায়কালে অত্যধিক বৃদ্ধ এবং ত্রুটিযুক্ত ও পাঠা ছাগল গ্রহণ করা হবে না। অবশ্য যাকাত উসুলকারী যদি ভাল মনে করে তবে তা গ্ৰহণ করতে পারবে। যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু একত্রিত করা যাবে না। আর একত্রিত পশুও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। শরীকী মালে যাকাত উভয় মালিকের উপর সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটির থেকে একটিও কম হয় তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি আদায় করতে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা। আর রৌপ্যের যাকাত হল চল্লিশ ভাগের এক ভাগ (প্রতি শতে আড়াই ভাগ)। যদি কারো কাছে একশত নব্বইটি দিরহাম থাকে তাহলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি আদায় করতে ইচ্ছা করে তবে সেটা ভিন্ন কথা।
Book 23 · Hadith 21 · #2443 · Sahih, Sahih, Sahih - 22
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গরু এবং ছাগলের অধিকারী হয়েও যাকাত আদায় না করবে, কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত পশু পূর্বাপেক্ষা বৃহৎ এবং মােটা আকারে তার কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত এবং স্বীয় ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে। যখনই পরেরটা ফিরে যাবে পূর্বেরটা ফিরে আসবে। এ রকমই চলতে থাকবে লোকজনের বিচার কার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত।
Book 23 · Hadith 22 · #2444 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 23
হান্নাদ ইবন সারিয়্যী (রহঃ) ... সুওয়াইদ ইবন গাফালাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাকাত উসূলকারী আসলে আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনলামঃ "আমার অঙ্গীকারের মধ্যে আছে (আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ) আমি যেন দুগ্ধবতী জন্তু না নেই এবং বিচ্ছিন্ন জন্তুসমূহ একত্রিত না করি, একত্ৰিত জন্তুসমূহকে বিচ্ছিন্ন না করি। (রাবী বলেন) ইতিমধ্যে তাঁর কাছে এক ব্যক্তি উচু কুঞ্জ বিশিষ্ট একটি উটি নিয়ে এসে বলল যে, এটা আপনি গ্ৰহণ করুন, কিন্তু তিনি গ্ৰহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।
Book 23 · Hadith 23 · #2445 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif - 24
হারূন ইবন যায়ীদ (রহঃ) ... ওয়ায়িল ইবন হুজুর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন যাকাত উসূলকারীকে পাঠালেন। তিনি এক ব্যক্তির কাছে গেলে সে তাকে একটি উটের দুর্বল বাচ্চা দিল। (বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসলে) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আল্লাহ এবং তদীয় রাসূল এর পক্ষ থেকে যাকাত উসুলকারীকে পাঠালাম, অথচ অমুক ব্যক্তি তাকে একটি উটের দুর্বল বাচ্চা দিয়ে দিল। হে আল্লাহ; তুমি তাকে এবং তার উটে কোন বরকত দিও না। এ সংবাদ তার কাছে পৌছলে সে একটি উত্তম উটনী নিয়ে আসল এবং বললঃ আমি আল্লাহ এবং তদীয় রাসূল এর কাছে তওবা করছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তুমি তাকে এবং উটের বরকত দান কর।
Book 23 · Hadith 24 · #2446 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Daif - 25
আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন সমাজের কেউ যাকাত নিয়ে আসত তখন তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ, অমুকের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করা। (রাবী বলেন), আমার পিতা তাঁর কাছে যাকাত নিয়ে আসলে তিনি দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! তুমি আবু আওফার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করা।
Book 23 · Hadith 25 · #2447 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 26
মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) এবং মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কয়েকজন বেদুঈন এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কাছে আপনার পক্ষ থেকে কোন কোন যাকাত উসূলকারী আসে, যারা সীমালংঘন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজ যাকাত উসুলকারীকে সন্তুষ্ট রাখবে। তারা বলল যাকাত উসুলকারী সীমালংঘন করলেও? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজ যাকাত উসূলকারীকে সন্তুষ্ট রাখবে। তারা আবারও বলল, যাকাত উসুলকারী সীমালংঘন করলেও? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজ যাকাত উসূলকারীকে সন্তুষ্ট রাখবে। জারীর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে থেকে এমন কথা শোনার পর হতে কোন যাকাত উসুলকারী আমার কাছ থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যায়নি।
Book 23 · Hadith 26 · #2448 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 27
যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কাছে যাকাত উসুলকারী আসবে তখন তোমরা তার সাথে এমন ব্যবহার করবে, যাতে সে তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যায়।
Book 23 · Hadith 27 · #2449 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 28
মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... মুসলিম ইবন সাফীনা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবন আলকামা (রহঃ) আমার পিতাকে তাঁর গােত্রের অবস্থা দেখাশুনার জন্য নিযুক্ত করলেন এবং তাঁকে তাদের থেকে যাকাত উসূল করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমার পিতা আমাকে একটি দলের নিকট পাঠালেন, যাতে আমি তাদের থেকে যাকাত উসূল করে তাঁর কাছে নিয়ে আসি। আমি বের হয়ে গেলাম এবং সা'র নামক একজন বৃদ্ধ লােকের কাছে আসলাম। আমি তাকে বললাম যে, আমার পিতা আপনার ছাগলের যাকাত উসূল করার জন্য আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুস্পুত্র, তােমরা কিরূপ ছাগল নিয়ে থাক? আমি বললাম যে, আমরা পছন্দ করে উসূল করে থাকি, এমনকি আমরা বকরীর দুধের স্তনও পরীক্ষা করে নেই। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুস্পুত্র! আমি তােমার কাছে বর্ণনা করছি, (শুন) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যখন এই সমস্ত উপত্যকা সমূহের কোন এক উপত্যকায় আমার ছাগল নিয়ে থাকতাম, তখন উটের উপর আরােহণ করে দুইজন লােক আমার কাছে এসে বললেন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি। আপনার কাছে এসেছি আপনার ছাগলের যাকাত উসূল করার জন্য। তিনি বলেন, আমি বললাম যে, আমার এই সমস্ত ছাগলের জন্য কিরূপ যাকাত ওয়াজিব হবে? তারা বললেন, একটা বকরী (ওয়াজিব হবে)। তখন আমি এমন একটি বকরী দেওয়ার ইচ্ছা করলাম যার সম্পর্কে আমার জানা ছিল যে, সেটা অত্যধিক দুগ্ধবতী এবং বলিষ্ঠদেহী। আমি সেটাই তাদেরকে বের করে দিলাম। তারা বললেন যে, এটাতাে গর্ভবতী। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে গর্ভবতী বকরী নিতে নিষেধ করেছেন । তখন আমি তাদেরকে এমন একটি উত্তম বকরী দিতে মনস্থ করলাম, যা এখনাে গর্ভবতী হয়নি তবে অচিরেই গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি তা তাদের সামনে বের করে দিলে তারা বললেন, আমরা এটা গ্রহণ করলাম । আমি তাই তাদেরকে দিয়ে দিলাম। তারা সেটাকে নিজেদের সাথে স্বীয় উটের উপর উঠিয়ে নিলেন এবং প্রস্থান করলেন।
Book 23 · Hadith 28 · #2450 · Daif, Daif, Daif - 29
হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন মুসলিম ইবন ছাফিনা (রহঃ) বলেন যে, আলকামা (রহঃ) তাঁর পিতাকে (মুসলিম এর পিতা ছাফিনাকে) স্বীয় গোত্রের যাকাত উসূল করার জন্য নিযুক্ত করে ছিলেন। রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন (কিন্তু এখানে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে)।
Book 23 · Hadith 29 · #2451 · Daif, Daif, Daif - 30
ইমরান ইবন বাককার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উমর (রাঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত আদায় করতে আদেশ করলে তাঁকে বলা হল যে, ইবন জামীল, খালীদ ইবন ওয়ালীদ এবং আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) যাকাত অস্বীকার করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবন জামীল যাকাত না দিয়ে আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করছে। সে একজন দরিদ্র লোক ছিল তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সম্পদশালী করেছেন। আর খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ)-এর উপর তোমরা অবিচার করছি। কেননা সে তার ধর্ম এবং অন্যান্য সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্ফ করে দিয়েছে। আর আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তলিব (রাঃ), রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা, তার উপরে তো যাকাত প্রযোজ্য হবেই, বরং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরো কিছু তাঁকে দান করতে হবে। (যেহেতু তিনি সম্মানিত ব্যক্তি।)
Book 23 · Hadith 30 · #2452 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 31
আহমদ ইবন হাফস্ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত প্ৰদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী এ বর্ণনাকে হুবহু পূর্বের ন্যায় বর্ণনা করেছেন।
Book 23 · Hadith 31 · #2453 · Sahih, Sahih, Hasan - 32
আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ও মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন হিলাল সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আপনার তিরোধানের পরে শীঘ্রই আমাকে যাকাতের উট এবং বকরীর জন্য হত্যা করা হবে, (যাকাতের ব্যাপারে আপনার জীবদ্দশায়ই যখন এত কড়াকড়ি, না জানি আপনার তিরোধানের পর কত কড়াকড়ি করা হয়) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সেগুলো গরীব মুহাজিরদের মাঝে দান করে দেওয়া না হত, তাহলে সেগুলো আমি গ্রহণই করতাম না।
Book 23 · Hadith 32 · #2454 · Daif, Daif, Daif - 33
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 33 · #2455 · Sahih, Daif, Sahih - Agreed Upon - 34
মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 34 · #2456 · Sahih, Sahih, Hasan - 35
মুহাম্মাদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হয় না।
Book 23 · Hadith 35 · #2457 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 36
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 36 · #2458 · Sahih, Sahih, Hasan - 37
মুহাম্মদ ইবন সালমা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 37 · #2459 · Sahih, Sahih, Hasan - 38
কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের খেদমতের গোলাম এবং আরোহণের ঘোড়ার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 38 · #2460 · Sahih, Sahih, Hasan - 39
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। পাঁচটি উটের কম উটে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর পাঁচ ওসকের কম মালেও কোন যাকাত ওয়াজিব হয় না।
Book 23 · Hadith 39 · #2461 · Sahih, Sahih, Hasan - 40
মুহাম্মদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসকের কম স্তরে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না; পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং পাঁচটি উটের কম উটেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 40 · #2462 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 41
হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, পাঁচ ওসকের কম খেজুরে কোন যাকাত ওয়াজিব হয় না, পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং পাঁচটি উটের কম উটেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 41 · #2463 · Sahih, Sahih, Hasan - 42
মুহাম্মদ ইবন মানসূর তুসী (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, পাঁচ, ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না; পাঁচটি উটের কম উটে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং পাঁচ ওসকের কম খাদ্য বস্তুতেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 42 · #2464 · Sahih, Sahih, Hasan - 43
মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আরোহণের ঘোড়া এবং ক্রীতদাসের যাকাত থেকে তোমাদেরকে অব্যাহতি দিলাম। এখন তোমরা স্বীয় মালের প্রত্যেক দুইশত দিরহামে পাঁচ দিরহাম হারে যাকাত আদায় কর।
Book 23 · Hadith 43 · #2465 · Sahih, Hasan, Daif - 44
হুসাইন ইবন মানসূর (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আরোহণের ঘোড়া এবং খেদমতের ক্রীতদাসের যাকাত থেকে তোমাদেরকে অব্যাহতি দিলাম। আর দুশত দিরহামের কম দিরহামেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 44 · #2466 · Sahih, Sahih, Daif - 45
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আমর ইবন শুয়াইব এর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়ামানী মহিলা এবং তার কন্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসল, তার কন্যার হাতে দু'টি পুরু স্বর্ণের কাঁকন ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত আদায় করেছ? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাকে এ দু'টি কাঁকনের পরিবর্তে আগুনের দুটি কাঁকন পরান? রাবী বলেন, তখন সে দুটি কাঁকনই খুলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিয়ে দিল এবং বলল যে, এ দুটিই আল্লাহ্ এবং তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য।
Book 23 · Hadith 45 · #2467 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 46
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক মহিলা স্বীয় কন্যা সমেত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আসল, তখন তার কন্যার হাতে দু'টি কাঁকন ছিল। অতঃপর রাবী পূৰ্ব বর্ণনার ন্যায় বর্ণনা করেছেন।
Book 23 · Hadith 46 · #2468 · Hasan Lighairihi, Hasan, Hasan - 47
ফযল ইবন সাহল (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি স্বীয় মালের যাকাত আদায় করে না কিয়ামতের দিন তার মাল তার কাছে এক বিষধর সৰ্পকারে পেশ করা হবে, যার চক্ষুর উপর দুটি কাল দাগ থাকবে। রাবী বলেন, সে সৰ্প তাকে পেঁচিয়ে ধরবে অথবা গলায় জড়িয়ে ধরবে। রাবী বলেন, সে সৰ্প বলতে থাকবে যে, আমি তোমার ধন-সম্পত্তি, আমি তোমার ধন-সম্পাত্তি।
Book 23 · Hadith 47 · #2469 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 48
ফযল ইবন সাহল (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা যাকে ধন-সম্পত্তি দান করলেন অথচ সে উহার যাকাত আদায় করল না কিয়ামতের দিন সে ধন-সম্পত্তিগুলো বিষধর সৰ্পের আকার ধারণ করবে যার চক্ষুর উপর দু'টি কাল দাগ থাকবে। কিয়ামতের দিন সে সৰ্প তার চোয়ালদ্বয়ে আঁকড়িয়ে ধরবে এবং বলবে, আমি তোমার ধন-সম্পত্তি, আমি তোমার ধন-সম্পত্তি। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলওয়াত করলেনঃ وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ ۖ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ ۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। (সূরা আলে ইমরানঃ)
Book 23 · Hadith 48 · #2470 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 49
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনছ পাঁচ ওসকের কম শস্যে এবং খেজুরে যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 49 · #2471 · Sahih, Sahih, Hasan - 50
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, পাঁচ ওসক না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর পাঁচ ওকিয়া না হওয়া পর্যন্ত রৌপ্যে যাকাত ওয়াজিব হবে না। পাঁচটি উট না হওয়া পর্যন্ত উটেও যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 50 · #2472 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan - 51
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওসক না হওয়া পর্যন্ত শস্য দানায় এবং খেজুরে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর পাঁচটির কম উটে এবং পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 51 · #2473 · Sahih, Sahih, Hasan - 52
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 52 · #2474 · Sahih, Sahih, Sahih - 53
আহমদ ইবন আবদাহ্ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচ ওকিয়ার কম রৌপ্যে কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। এবং পাঁচটির কম উটেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর পাঁচ ওসকের কম শস্যেও কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না।
Book 23 · Hadith 53 · #2475 · Sahih, Sahih, Hasan - 54
হারূন ইবন সাঈদ (রহঃ) ... সালিমের পিতা (আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকল শস্য বৃষ্টির পানি, নদীর পানি এবং ঝরনার পানি দ্বারা উৎপন্ন হয় অথবা যা মাটির রস দ্বারা উৎপন্ন হয় সেগুলোতে উশর দশ ভাগের একভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে। আর সিঞ্চন যন্ত্র অথবা প্রাণী দ্বারা সিঞ্চিত পানির সাহায্যে যে সমস্ত শস্য উৎপন্ন হয় সেগুলোতে অর্ধ উশ্বর বিশ ভাগের একভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে।
Book 23 · Hadith 54 · #2476 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 55
আমর ইবন সাওয়াদ ও আহমদ ইবন আমার এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বৃষ্টির পানি, নদীর পানি এবং ঝরনার পানি দ্বারা উৎপন্ন শস্যে উশর দশ ভাগের একভাগ এবং সিঞ্চিত পানি দ্বারা উৎপন্ন শস্যে অর্ধ উশর বিশ ভাগের একভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে।
Book 23 · Hadith 55 · #2477 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 56
হান্নাদ ইবনুল সারি (রহঃ) ... মু'আয (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামানে পাঠালেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, আমি বৃষ্টির পানি দ্বারা উৎপন্ন শস্য থেকে উশর দশ ভাগের একভাগ এবং সিঞ্চিত পানি দ্বারা উৎপন্ন শস্য থেকে অর্ধ উশর বিশ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করি।
Book 23 · Hadith 56 · #2478 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 57
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু হাছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন তখন আমরা বাজারে ছিলাম। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আনুমানিক পরিমাণ নির্ধারণ করবে তখন নিয়ে নেবে এবং এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দেবে। আর যদি তোমরা তা না নাও অথবা তিনি বলেছেন, এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে না দাও তাহলে এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দাও। “যদি তোমরা না নাও।” “যদি তোমরা এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে না দাও।” এ বাক্য দুটির মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনটি বলেছেন শু'বা (রহঃ) নিশ্চয়তার সাথে তা বলতে পারেন নি।
Book 23 · Hadith 57 · #2479 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 58
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু উমামা ইবন সাহল থেকে বর্ণিত। আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ (وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তা হল জারূর এবং হুবায়ক নামক দু প্রকার নিম্নমানের খেজুর। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত আদায়কালে নিকৃষ্টদ্রব্য উসূল করতে নিষেধ করেছেন।
Book 23 · Hadith 58 · #2480 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 59
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আউফ ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বের হলেন। তখন তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল। ইতিপূর্বে এক ব্যক্তি এক ছড়া নিকৃষ্ট খেজুর লাটকিয়ে রেখেছিল (দান করার জন্য)। তিনি লাঠি দ্বারা তাতে খোঁচা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে, যদি এ সাদাকার মালিক ইচ্ছা করত তা হলে এরচেয়ে উত্তম খেজুর সাদাকা আদায় করতে পারত। এ সাদাকার মালিক কিয়ামতের দিন এরকম নিকৃষ্ট খেজুরই খাবে।
Book 23 · Hadith 59 · #2481 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 60
কুতায়ব (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুড়িয়ে পাওয়া মাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, যা যাতায়াতের রাস্তা এবং জনঅধ্যুযিত গ্রামে কুড়িয়ে পাবে এক বৎসর পর্যন্ত তার প্রচার করতে থাকবে, যদি তার মালিক এসে পড়ে তাহলে তাকে তা দিয়ে দেবে। অন্যথায় তা তোমার অধিকারে এসে যাবে। আর পরিত্যক্ত রাস্তা এবং জনবসতিশূন্য গ্রামে কুড়িয়ে পাওয়া দ্রব্যে এবং খনিজ দ্রব্যে এক পঞ্চমাংশ যাকাত আদায় করবে।
Book 23 · Hadith 60 · #2482 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 61
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, চতুষ্পদ জন্তুর আঘাতজনিত মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ নেই। কুয়ায় পড়ে মৃত্যুবরণ করলে তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই। আর খনিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করলেও তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই এবং খনিজ দ্রব্যে এক-পঞ্চমাংশ যাকাত ওয়াজিব হবে।
Book 23 · Hadith 61 · #2483 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 62
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত।
Book 23 · Hadith 62 · #2484 · Daif, Sahih Muslim - 63
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চতুষ্পদ জন্তুর আঘাতজনিত মৃত্যুতে কোন ক্ষতিপূরণ নেই। কুয়ায় পড়ে মুত্যুবরণ করলে তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই, খনিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করলে তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই এবং খনিজ দ্রব্যে এক-পঞ্চমাংশ যাকাত ওয়াজিব হবে।
Book 23 · Hadith 63 · #2485 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 64
ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুয়াতে পড়ে মৃত্যুবরণ করলে তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই, চতুষ্পদ জন্তুর আঘাতজনিত মৃত্যুতে কোন ক্ষতিপূরণ নেই, খনিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করলে তার কোন ক্ষতিপূরণ নেই। আর খনিজ দ্রব্যে এক পঞ্চমাংশ যাকাত গুয়াজিব হবে।
Book 23 · Hadith 64 · #2486 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 65
মুগীরা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হেলাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে স্বীয় মধুর উশর দশ ভাগের একভাগ অংশ নিয়ে আসলেন এবং 'সালাবাহ' নামক ময়দান তাঁর তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দিতে আবেদন জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দিলেন। যখন উমর (রাঃ) খলীফা হলেন, তখন সুফইয়ান ইবন ওয়াহাব উমর ইবৃনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে লিখে পাঠালেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (উত্তরে) লিখলেন যে, যদি সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মধুর যে উশর (দশ ভাগের একভাগ) আদায় করত তা যদি তোমার কাছেও আদায় করে তাহলে 'সালাবাহ' তার তত্ত্বাবধানেই রেখে দাও। অন্যথায় সেগুলো তো ফুলে ফুলে বিচরণকারী মধুমক্ষিকা। যার ইচ্ছা সেই (ঐ মধু মক্ষিকার আহরিত মধু) খেতে পারবে।
Book 23 · Hadith 65 · #2487 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 66
ইমরান ইবন মূসা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ এবং নারীর উপর রমযানের ফিতরা ওয়াজিব করেছেন। এক সা' করে খেজুর এবং এক সা' করে যব। পরে লোকজন তা অর্ধ সা' গমের দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেছে।
Book 23 · Hadith 66 · #2488 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 67
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক পুরুষ, নারী, স্বাধীন এবং গোলাম ব্যক্তির উপর এক সা' করে খেজুর বা এক সা' করে যব ফিতরা স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন। রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা তা অর্ধ সা' গম দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেছে।
Book 23 · Hadith 67 · #2489 · Sahih, Sahih, Hasan - 68
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ এবং নারীর উপর এক সা' করে খেজুর অথবা এক সা' করে যব ফিতর স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন।
Book 23 · Hadith 68 · #2490 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 69
মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রাঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উপর রমযান মাসের সাদকায়ে ফিত্বর ওয়াজিব করেছেন। এক এক সা' করে খেজুর অথবা এক এক সা' করে যব, প্রত্যেক মুসলিম স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ এবং নারীর উপর।
Book 23 · Hadith 69 · #2491 · Sahih, Sahih, Hasan - 70
ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মদ (রাঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মুসলিম স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ, নারী, অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির উপর এক সা' করে খেজুর অথবা এক সা' করে যব ফিতরা স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন। এবং এও নির্দেশ দিয়েছেন যে, তা যেন লোকজন সালাতের জন্য বের হওয়ার পূর্বেই আদায় করে দেওয়া হয়।
Book 23 · Hadith 70 · #2492 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 71
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রাঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, নারী, স্বাধীন এবং গোলামের উপর (গোলামের মালিকের উপর) এক সা' করে খেজুর অথবা এক সা' করে যব সাদাকায়ে ফিতর স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন।
Book 23 · Hadith 71 · #2493 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 72
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রাঃ) ... কায়স ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আশুরার দিন সওম পালন করতাম এবং সাদাকায়ে ফিতর আদায় করতাম। অতঃপর রমযানের সাওম পালন করার এবং যাকাত আদায় করার বিধান অবতীর্ণ হলে আমাদেরকে আর পূর্বের সেগুলো আদায় করার নির্দেশও দেওয়া হত না এবং বারণও করা হত না। তবুও আমরা সেগুলোও পালন করতাম।
Book 23 · Hadith 72 · #2494 · Sahih, Sahih, Sahih - 73
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... কায়স ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে তা পালন করার নির্দেশও দিতেন না আর বারণও করতেন না। তবুও আমরা তা পালন করতাম।
Book 23 · Hadith 73 · #2495 · Sahih, Sahih, Sahih - 74
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বসরার আমীর থাকাকালীন রমযান মাসের সমাপ্তি লগ্নে বলেছিলেন, তোমরা নিজ নিজ সাদাকায়ে ফিত্বর আদায় করে দাও, তখন তঁরা একে অপরের পানে তাকাতাকি করতে লাগলেন। তিনি বললেন, এখানে মদীনার অধিবাসী কারা কারা আছ? তোমরা দাঁড়াও এবং তোমাদের সাথীদেরকে শিক্ষা দাও। যেহেতু তারা জানে না যে, এ সাদাকায়ে ফিতর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক পুরুষ, নারী, স্বাধীন এবং গোলাম ব্যক্তির উপর এক সা' করে যব অথবা খেজুর অথবা অর্ধ সা' করে গম ওয়াজিব করে দিয়েছেন। তখনি তাঁরা তা আদায় করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন।
Book 23 · Hadith 74 · #2496 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 75
আলী ইবন মায়মুন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন যে, একবার সাদাকায়ে ফিত্বর এর পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা হতে থাকলে বলা হল যে, তার পরিমাণ হল, এক এক সা' করে গম, খেজুর, যব অথবা সুলত (এক প্রকার যাব)।
Book 23 · Hadith 75 · #2497 · Shadh, Shadh, Sahih - 76
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু রাজা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে তোমাদের মিম্বার অর্থাৎ বসবার মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দানরত অবস্থায় বলতে শুনেছি যে, সাদাকায়ে ফিতরের পরিমাণ হল এক সা' করে খাদ্য দ্রব্য।
Book 23 · Hadith 76 · #2498 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih - 77
মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা' করে যব, খেজুর অথবা পনির সাদাকায়ে ফিত্বর স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন।
Book 23 · Hadith 77 · #2499 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 78
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে অবস্থানকালীন আমরা এক সা' করে খাদ্য যব, খেজুর, শুষ্ক আঙ্গুর অথবা পনির সাদাকায়ে ফিত্বর স্বরূপ আদায় করতাম ।
Book 23 · Hadith 78 · #2500 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 79
হান্নাদ ইবনুস সারি (রহঃ) ... আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে অবস্থানকালীন আমরা এক সা' করে খাদ্য, খেজুর, যব অথবা পনির সাদাকায়ে ফিতর স্বরূপ আদায় করতাম। মুআবিয়া (রাঃ) সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তন করা পর্যন্ত আমরা এ পরিমাণেই আদায় করতাম। অতঃপর তিনি লোকদেরকে শিক্ষা দিতে গিয়ে বলতে লাগলেন যে, সিরিয়ার দু' মুদ গম আমাদের দেশীয় এক সা'র সমপরিমাণ হবে বলেই আমার মনে হয়। রাবী বলেন, অতঃপর লোকজন এর উপরেই আমল করতে শুরু করে দিল।
Book 23 · Hadith 79 · #2501 · -, Sahih, Hasan - 80
মুহাম্মাদ ইবন মানুসূর (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক সা' করে খেজুর, যব, শুষ্ক আঙ্গুর, আটা, পনির অথবা সুলত সাদাকায়ে ফিত্বরা স্বরূপ আদায় করতাম।
Book 23 · Hadith 80 · #2502 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 81
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন আব্বাস (রাঃ) বসরায় খুতবা দানকালীন বললেন যে, তোমরা নিজ নিজ সাদাকায়ে ফিতর আদায় কর, তখন লোকজন একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, এখানে মদীনার অধিবাসী কে কে আছ? তোমরা তোমাদের সাথীদেরকে কাছে গিয়ে তাদেরকে শিক্ষা দাও। কেননা তারা জানে না যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্ৰত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ এবং মহিলার উপর অর্ধ সা' করে গম অথবা এক সা' করে খেজুর বা যব সাদাকায়ে ফিতর স্বরূপ ওয়াজিব করেছেন। হাসান (রহঃ) বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা যদি তোমাদেরকে স্বচ্ছলতা দান করেন তাহলে তোমরাও স্বচ্ছলভাবে দান কর এবং এক সা' করে গম অথবা অন্যান্য বস্তু আদায় করতে থাক।
Book 23 · Hadith 81 · #2503 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 82
মূসা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকজন এক সা' করে যব, খেজুর, সুলত অথবা কিশমিশ সাদাকায়ে ফিতর স্বরূপ আদায় করত।
Book 23 · Hadith 82 · #2504 · Sahih Isnaad, Daif, Isnaad Hasan - 83
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা এক সা' করে যব, খেজুর, কিশমিশ অথবা পনির সাদাকায়ে ফিতর স্বরূপ আদায় করতাম। আমরা এ পরিমাণেই আদায় করছিলাম। মুআবিয়া (রাঃ)-এর যুগ আসলে তিনি বললেন যে, সিরিয়ার দু' মুদ গম এক সা' যবের সমপরিমাণ হবে বলেই আমার মনে হয়।
Book 23 · Hadith 83 · #2505 · Sahih, Sahih, Hasan - 84
ঈসা ইবন হাম্মদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা এক সা' করে খেজুর, যব অথবা পনির সাদাকায়ে ফিতর স্বরূপ আদায় করতাম। অন্য কোন কিছু আমরা আদায় করতাম না।
Book 23 · Hadith 84 · #2506 · Hasan, Hasan, Hasan - 85
আমর ইবন যুরােরাহ্ (রহঃ) ... সাইব ইবন ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক সা' -এর পরিমাণ ছিল বর্তমান কালের এক মুদ এবং এক মুদের এক তৃতীয়াংশ। পরে তাতে আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
Book 23 · Hadith 85 · #2507 · Sahih, Sahih, Daif - 86
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, গ্রহণযোগ্য মাপ হল মদীনাবাসীদের মাপ এবং ওযনের ব্যাপারে মক্কাবাসীদের ওষনই ধর্তব্য।
Book 23 · Hadith 86 · #2508 · Sahih, Sahih - 87
মুহাম্মদ ইবন ম'দান এবং মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকায়ে ফিতরের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। লোকজন ঈদগাহের দিকে বের হয়ে যাওয়ার পূর্বেই যেন উহা আদায় করে দেওয়া হয়।
Book 23 · Hadith 87 · #2509 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 88
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন এবং বললেন যে, তুমি গ্ৰন্থধারী (ইয়াহুদ ও খৃষ্টান) সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ) 'আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই এবং আমি আল্লাহ তা'আলার প্রেরিত রাসূল'-এর সাক্ষ্য প্রদানের জন্য তুমি তাদেরকে আহবান জানাবে, যদি তারা তোমার এ আহবানে সাড়া দেয় তাহলে তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর প্রত্যেক দিবা রাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। এতে যদি তারা তোমার অনুসরণ করে তাহলে তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর নিজ নিজ মালের যাকাত ফরয করেছেন যা স্বচ্ছল ব্যক্তিদের থেকে নিয়ে তাদের অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এতে যদি তারা তোমার অনুসরণ করে তাহলে তুমি তাদের উৎকৃষ্ট মাল নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর অত্যাচারিতদের বদ দু’আকে ভয় করবে, কেননা, আল্লাহ তা’আলা এবং তাদের দু'আর মধ্যে কোন পর্দা থাকে না।
Book 23 · Hadith 88 · #2510 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 89
ইমরান ইবন বাক্কার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, একবার এক ব্যক্তি (বনী ইসরাঈল-এর এক ব্যক্তি) শপথ করল যে, আমি অবশ্যই কিছু সাদাকা করব এবং সাদাকা নিয়ে বের হয়ে সেগুলো এক চােরের হাতে দিয়ে দিল। প্রত্যুষেই লোকজন বলাবলি করতে লাগল যে, একজন চোরকে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। সাদাক দাতা বলল, ইয়া আল্লাহ্! তোমার শোকর যে, আমি একজন চোরকে সাদাকা দিতে পেরেছি। আমি অবশ্যই আবারো সাদাকা করব এবং সাদাকা নিয়ে বের হয়ে সেগুলো এক ব্যভিচারিণীর হাতে দিয়ে দিল। প্রত্যুষেই লোকজন বলাবলি করতে লাগল যে, গত রাত্রে একজন ব্যভিচারিণীকে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। সাদাকা দাতা বলল যে, ইয়া আল্লাহ! তোমার শোকর যে, একজন ব্যভিচারিণীকে সাদাকা দিতে পেরেছি। আমি অবশ্যই আবারো সাদাকা করব এবং সাদাকা নিয়ে বের হয়ে সেগুলো এক স্বচ্ছল ব্যক্তির হাতে দিয়ে দিল। প্রত্যুষেই লোকজন বলাবলি করতে লাগল যে, একজন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। সাদাকা দাতা বলল, ইয়া আল্লাহ! তোমার শোকর যে, একজন আমি চোর, একজন ব্যভিচারিণী এবং একজন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে সাদাকা দিতে পেরেছি। তাকে স্বপ্নে দেখানো হল যে, তোমার সাদাকা কবুল করে নেওয়া হয়েছে। ব্যভিচারিণী! সে হয়ত প্রাপ্ত সাদাকা দ্বারা ব্যভিচার থেকে বেঁচে থাকবে, চাের! সে হয়ত প্রাপ্ত সাদাকা দ্বারা চৌর্যবৃত্তি হতে নিবৃত্ত থাকবে, আর স্বচ্ছল ব্যক্তি! সে হয়ত উপদেশ গ্ৰহণ করবে এবং আল্লাহ তা’আলা প্রদত্ত সম্পত্তি থেকে দান করবে।
Book 23 · Hadith 89 · #2511 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 90
হুসায়ন ইবন মুহাম্মদ (রঃ) ... আবুল মলীহ (রহঃ)-এর পিতা উসামাহ ইবন উমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল করেন না এবং খিয়ািনতের মাল থেকেও সাদাকা কবুল করেন না।
Book 23 · Hadith 90 · #2512 · Sahih, Sahih, Hasan - 91
কুূতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ হালাল মাল থেকে দান না করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার দান কবুল করেন না। হালাল মাল থেকে কৃত দান আল্লাহ তা’আলা তাঁর ডান হাতে কবুল করেন যদিও তা একটি খেজুরই হােক না কেন এবং সে দান আল্লাহ্ তাআলার তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধি পেতে পেতে পাহাড় থেকেও বিরাট আকার ধারণ করে থাকে। যেরূপ তোমাদের কেউ কেউ স্বীয় ঘোড়ার শাবকের বা উটের শাবকের লালন-পালন করে থাকে।
Book 23 · Hadith 91 · #2513 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 92
আবদুল ওয়াহহাব ইবন আবদুল হাকাম (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন হুবশী খাছ'আমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন, সংশয়মুক্ত ঈমান খিয়ানত বিহীন জিহাদ, পাপমুক্ত হজ্জ। জিজ্ঞাসা করা হল যে, সর্বোত্তম সালাত কোনটি? তিনি বললেন, দীর্ঘ কিরাআত বিশিষ্ট সালাত, জিজ্ঞাসা করা হল যে, সৰ্বোত্তম সাদাকা কোনটি? তিনি বললেন, গরীবের দান। জিজ্ঞাসা করা হল যে, সর্বোত্তম হিজরত কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলার নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বিরত থাকা। প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি বললেন, মুশরিকদের বিরুদ্ধে নিজ জানমাল নিয়ে জিহাদ করা। জিজ্ঞাসা করা হল যে, সম্মানজনক নিহত হওয়া কোনটি? তিনি বললেন, যা রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে এবং ঘোড়াকে হত্যা করা হয়েছে (যে ব্যক্তি জিহাদে নিজের ধন-সম্পদ ব করেছে এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে।)
Book 23 · Hadith 92 · #2514 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 93
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক দিরহাম এক লক্ষ দিরহামের উপর প্রাধান্য নিয়ে গেছে। সাহাবীগণ বললেন যে, এটা কিভাবে? তিনি বললেন, এক ব্যক্তির শুধুমাত্র দুইটি দিরহাম ছিল সেখান থেকে সে একটি দান করে দিল, আর এক ব্যক্তি অগণিত ধন-সম্পদ থেকে এক লক্ষ দিরহাম নিয়ে দান করে দিল।
Book 23 · Hadith 93 · #2515 · Hasan, Hasan, Daif - 94
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক দিরহাম এক লক্ষ দিরহাম এর উপর প্রাধান্য নিয়ে গেছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা কিভাবে ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, এক ব্যক্তির শুধুমাত্র দু'টি দিরহামই রয়েছে সেখান থেকে সে একটি দিরহাম নিল এবং সাদাকা করে দিল, আর এক ব্যক্তির অগণিত মাল রয়েছে, সেখান থেকে সে এক লক্ষ দিরহাম নিল এবং দান করে দিল।
Book 23 · Hadith 94 · #2516 · Hasan, Hasan, Daif - 95
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ দিতেন কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি ছিল যার কাছে সাদাকা করার মত কিছুই ছিল না। অগত্যা সে বাজারে যেত এবং বােঝা বহন করত এবং এক মুদ নিয়ে এসে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিত। আমি এমন এক ব্যক্তিকে জানি যে আজ লক্ষ দিরহামের মালিক অথচ সে দিন তার কাছে এক দিরহামও ছিল না।
Book 23 · Hadith 95 · #2517 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 96
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদেরকে সাদাকা করতে নির্দেশ দিলেন আবু আকীল অর্ধ সা' সাদাকা করলেন আর অন্যান্য লােকেরা প্রচুর মাল-সামান নিয়ে আসল। তখন মুনাফিকরা বলল যে, আল্লাহ তা'আলা এ সমস্ত সাদাকার মুখাপেক্ষী নন। অথচ এ সমস্ত অন্যান্য লোকেরা লোক দেখানো মনোভাব নিয়ে সাদাকা করেছিল। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لاَ يَجِدُونَ إِلاَّ جُهْدَهُمْ অর্থঃ মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না। (সূরা তাওবাঃ)
Book 23 · Hadith 96 · #2518 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 97
কুতায়াবা (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একবার সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে সাহায্য করলেন। আবার সাহায্য চাইলে আবারও আমাকে সাহায্য করলেন। পুনরায় সাহায্য চাইলে তিনি সাহায্য করলেন এবং বললেন যে, এ সমস্ত ধন-সম্পদ খুবই মনোমুগ্ধকর এবং চিত্তাকর্ষক। তাই যে ব্যক্তি সেগুলো সন্তুষ্টচিত্তে গ্ৰহণ করবে সেগুলোতে তার জন্য বরকত দেওয়া হবে, আর যে ব্যক্তি সেগুলো লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করবে তার জন্য সেগুলোতে বরকত দেওয়া হবে না। আর সে ব্যক্তি তার মত যে আহার করল। কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারুল না, আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম।
Book 23 · Hadith 97 · #2519 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 98
ইউসুফ ইবন ঈসা (রহঃ) ... তারিকুল মুহারিবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার মদীনায় আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ দাতার হাত হল উপরের হাত। আর দান করা শুরু করবে স্বীয় পোষ্যদের থেকে- তোমার আম্মা, আব্বা, ভাই-বোন, তারপর তোমার নিকটাত্মীয়, নিকটাত্মীয়। (সংক্ষিপ্ত)
Book 23 · Hadith 98 · #2520 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 99
কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা এবং কারো কাছে কিছু না চাওয়ার বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। উপরের হাত হল দাতার হােত আর নীচের হাত হল গ্ৰহীতার হাত।
Book 23 · Hadith 99 · #2521 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 100
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উত্তম দান হল নিজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস সাদাক করা। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম, নিজ পোষ্য থেকে দান করা শুরু করবে।
Book 23 · Hadith 100 · #2522 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 101
আমর ইবন আলী এবং মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাদাকা করতে থাকো, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কাছে শুধুমাত্র একটি দীনার আছে, তিনি বললেন, তুমি তা নিজের জন্য ব্যয় কর। সে বলল, আমার কাছে অন্য আর একটি দীনার আছে। তিনি বললেন, তুমি তা নিজ স্ত্রীর জন্য ব্যয় কর। সে বলল, আমার কাছে অন্য আর একটি দীনার আছে, তিনি বললেন তুমি তা নিজ সন্তানের জন্য ব্যয় কর, সে বলল, আমার কাছে অন্য আর একটি দীনার আছে, তিনি বললেন, তুমি তা নিজ খাদেমের জন্য ব্যয় কর। সে বলল, আমার কাছে অন্য আর একটি দীনার আছে, তিনি বললেন, সে ব্যাপারে তুমিই অধিক বিবেচনাকারী।
Book 23 · Hadith 101 · #2523 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 102
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি জুমার দিনে মসজিদে প্রবেশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি দু'রাকাআত সালাত আদায় করে নাও। তারপর সে দ্বিতীয় জুমাতেও আসল, তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি দু'রাকাআত সালাত আদায় করে নাও, তৃতীয় জুমাতেও সে আসল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি দু' রাকাআত সালাত আদায় করে নাও। এরপর বললেন, তোমরা সাদাকা কর, তোমরা সাদাকা কর, এবং তাকে দু'টি কাপড় দান করলেন, আবার বললেন, তোমরা সাদাকা কর, তখন সে তার কাপড়ের একটি সাদাকা করে দিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এ ব্যক্তিকে দেখেছে? সে ছিন্ন বস্ত্রে মসজিদে প্রবেশ করেছিল, তখন আমি আশা করেছিলাম যে, তোমরা তার অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে তাকে কিছু সাদাকা করবে। কিন্তু তোমরা তা করলে না। তখন আমি বললাম, তোমরা সাদাকা কর। তখন তোমরা সাদাকা করলে এবং আমি তাকে দু'টি কাপড় দিলাম, অতঃপর আমি বললাম, তোমরা সাদাকা কর, তখন সে তার দুটি কাপড়ের একটি সাদাকা করে দিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিকে বললেন, তুমি নিজ কাপড় নিয়ে নাও এবং পুনরায় আর কখনো এ রকম সাদাকা করবে না।
Book 23 · Hadith 102 · #2524 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Isnaad Hasan - 103
কুতায়বা (রহঃ) ... আবুল লাহম (রাঃ) এর গোলাম উমায়র (রাঃ) বলেছেন যে, আমাকে আমার মুনিব গোশত কাটতে বললেন, তখন একজন মিসকীন আসলে আমি তাকে সেখান থেকে কিছু খাওয়ার জন্য দিলাম, আমার মুনিব ইহা জেনে গেলে তিনি আমাকে প্রহার করলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলে তিনি তাকে ডাকালেন এবং বললেন যে, তুমি তাকে কেন প্রহার করেছ? তিনি বললেন, যেহেতু সে আমার আহার্য সামগ্ৰী আমার অনুমতি ছাড়া খাওয়ায়ে ফেলেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সওয়াব তো তোমরা উভয়েই পাবে।
Book 23 · Hadith 103 · #2525 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 104
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর সাদাকা করা কর্তব্য। প্রশ্ন করা হল যে, যার সাদাকা করার সামর্থ্য নেই তার সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, সে নিজের হাতে কাজ করবে এবং তার দ্বারা সে নিজেও উপকৃত হবে এবং কিছু সাদাকা করবে। প্রশ্ন করা হল যে, কারো সে সামৰ্থও না থাকলে তার সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তাহলে সে উৎপীড়িত এবং অভাবগ্ৰস্তাকে সাহায্য করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, সে যদি তাও সামর্থ্য না রাখে । তিনি বললেন, তাহলে সে সৎ কাজের নির্দেশ দেবে। প্রশ্ন করা হল যে, কারো সে সামর্থও না থাকলে তার সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তাহলে সে অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকবে। সেটাই তার জন্য সাদাক স্বরূপ হবে।
Book 23 · Hadith 104 · #2526 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 105
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না এবং মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ স্ত্রী স্বামীর গৃহের (সম্পদ) থেকে সাদাকা করলে স্ত্রীর জন্যও সওয়াব হবে এবং স্বামীর জন্যও অনুরূপ সওয়াব হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীও অনুরূপ সওয়াব পাবে। এদের মধ্যে কারো সওয়াব হ্রাস পাবে না। স্বামীর সওয়াব হবে সম্পদ অর্জন করার কারণে এবং স্ত্রীর সওয়াব হবে সাদাকা করার কারণে।
Book 23 · Hadith 105 · #2527 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 106
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পর খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেনঃ স্ত্রীর জন্য স্বামীর বিনা অনুমতিতে দান করা বৈধ নয়। (সংক্ষিপ্ত)
Book 23 · Hadith 106 · #2528 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 107
আবু দাউদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ একবার তাঁর কাছে একত্রিত হয়ে বললেনঃ আমাদের মধ্যে কে সর্বাগ্রে আপনার সাথে মিলিত হবে (মৃত্যুবরণ করবে)? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার হাত দীর্ঘ। তখন আমার একটি কঞ্চি নিয়ে সবার হাত মাপতে লাগলাম (আমরা ধারণা করলাম) সাওদা (রাঃ) সর্বাগ্রে তাঁর সাথে মিলিত হবেন, যেহেতু তাঁর হাত সবর্ধিক দীর্ঘ ছিল। "যার হাত দীর্ঘ" এর অর্থ ছিল যে অত্যধিক সাদাকা করে।
Book 23 · Hadith 107 · #2529 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 108
মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সর্বোত্তম সাদাকা কোনটি? কী তিনি বললেনঃ তুমি যখন সুস্থ থাক, মালের প্রতি তোমার লোভ থাকে, অনেক দিন বেঁচে থাকার আশা কর এবং দারিদ্রকে ভয় কর তখন তোমার সাদাকা করা (সর্বোত্তম সাদাকা)
Book 23 · Hadith 108 · #2530 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 109
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) বর্ণনা যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম সাদাকা হল যা স্বচ্ছল অবস্থায় সাদাকা করা হয়। আর উপরের হাত নিম্নের হাত থেকে শ্ৰেয়। তুমি নিজের পোষ্যদের থেকে সাদাকা শুরু করবে।
Book 23 · Hadith 109 · #2531 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 110
আমর ইবন সাওয়াদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম সাদাকা হল যা স্বচ্ছল অবস্থায় সাদাকা করা হয়। আর তুমি নিজের পোষ্যদের থেকে সাদাকা শুরু করবে।
Book 23 · Hadith 110 · #2532 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 111
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য সওয়াবের নিয়্যতে খরচ করলে তা তার জন্য সাদাকারূপে গণ্য হবে।
Book 23 · Hadith 111 · #2533 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 112
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উযরা গোত্রের এক ব্যাক্তি নিজের এক গােলামকে বলল যে, সে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হয়ে যাবে। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তােমার কি এ গােলাম ছাড়া অন্য কোন সম্পত্তি আছে? সে বললঃ না। তখনরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ গােলামকে আমার কাছ থেকে কে খরিদ করবে? তাকে নুআয়ম ইব্ন আব্দুল্লাহ আদাবী (রাঃ) আটশত দিরহাম দিয়ে খরিদ করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দিরহাম নিয়ে এসে ঐ লােকটিকে দিয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি নিজের থেকে শুরু কর (অর্থাৎ) নিজের জন্য খরচ কর। কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ কর। তারপর কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা নিজ আত্মীয়-স্বজনের জন্য খরচ কর। তারপরও কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তা এরকম এরকমভাবে খরচ করবে এবং স্বীয় ডান হস্ত এবং বাম হস্ত দ্বারা ইশারা করলেন।
Book 23 · Hadith 112 · #2534 · Sahih, Sahih - 113
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দানশীল এবং কৃপণের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যারা বক্ষ থেকে অবশ্য গলার হাঁসুলী পর্যন্ত লম্বা দুটি লোহার বর্ম বা জুব্বা পরিধান করেছে। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুব্বা বলেছেন না লোহার বর্ম বলেছেন রাবী তা নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারেন নাই) দানশীল ব্যক্তি দান করার ইচ্ছা করলে তা সম্প্রসারিত হয়ে যায় অথবা লম্বা হয়ে যায় (এখানেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্প্রসারিত হয়ে যায় বলেছেন, না লম্বা হয়ে যায় বলেছেন রাবী সেটা নিশ্চয়তার সাথে বলতে পারেন নাই।) সম্প্রসারিত হয়ে তার আঙ্গুল ঢেকে ফেলে এবং তার পদচিহ্ন মুছে দেয়। আর কৃপণ যখন ব্যয় করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মটি আরো ছোট হয়ে যায় এবং প্রত্যেকটি কড়া নিজ নিজ স্থানে অবস্থান গ্ৰহণ করে এবং তাকে তার হাঁসুলী অথবা ঘাড়ের সাথে আটকিয়ে দেয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তা সম্প্রসারিত করতে দেখেছি। কিন্তু তা সম্প্রসারিত হচ্ছিল না। তাউস (রহঃ) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর ব্যাপারে শুনেছি যে, তিনি স্বীয় হাত দ্বারা ইশারা করে দেখিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সম্প্রসারিত করতে চেষ্টা করেছেন কিন্তু তা সম্প্রসারিত হয়নি।
Book 23 · Hadith 113 · #2535 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 114
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুৱায়রা (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, কৃপণ এবং দানশীল ব্যক্তি এমন দু’জন ব্যক্তির ন্যায় যাদের গায়ে দুটি লোহার বর্ম রয়েছে। যার দরুণ তাদের উভয়ের হাত গলার হাঁসুলীর সাথে লেগে রয়েছে। যখন দানশীল ব্যক্তি কোন কিছু দান করতে চায় তখন তা সম্প্রসারিত হয়ে যায় এবং তার পদচিহ্নকে মুছে ফেলে। আর কৃপণ যখন কোন কিছু দান করতে ইচ্ছা করে তখন প্ৰত্যেক কড়া নিজ নিজ স্থানে অবস্থান গ্ৰহণ করে এবং হাতকে তার গলার হাঁসুলীর সাথে মিলিয়ে দেয়। আর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সে তা সম্প্রসারিত করতে চায় কিন্তু সম্প্রসারিত হয় না।
Book 23 · Hadith 114 · #2536 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 115
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আবু উমামা ইবন সাহল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা কিছু সংখ্যক মুহাজির ও আনসারসহ মসজিদে বসা ছিলাম। আমরা আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে একজন লোককে অনুমতি নেওয়ার জন্য পাঠালাম। অতঃপর তাঁর খেদমতে আমরা উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন যে, একবার আমার কাছে একজন ভিক্ষুক আসল তখন আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। আমি তাকে কিছু দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। অতঃপর তাঁকে ডেকে দেখলাম তিনি কি দিতেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি চাও যে, তোমার ঘরে তোমার বিনা অনুমতিতে কোন কিছু প্ৰবেশ করুক এবং কোন কিছু বেরও না হােক, আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, হে আয়েশা, তুমি কখনও এরূপ করো না; তুমি কখনও হিসাব করে খরচ করবে না; নয়তো আল্লাহ্ তা'আলাও তোমাকে হিসাব করে করে দেবেন।
Book 23 · Hadith 115 · #2537 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 116
মুহাম্মদ ইকূল আদম (রহঃ) ... আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেনঃ তুমি হিসাব করে খরচ (দান) করবে না নতুবা আল্লাহ তা'আলাও তোমাকে হিসাব করে দিবেন।
Book 23 · Hadith 116 · #2538 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 117
হাসান ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আসমা বিনত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কাছে তো আমার স্বামী জুবায়র (রাঃ)-এর দেওয়া বস্তু ছাড়া অন্য কোন বস্তু নেই। অতএব তার দেয় বস্তু থেকে আমি কি কিছু দান করতে পারব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা সম্ভব দান করবে এবং হিসাব করবে না; নয়তো আল্লাহ্ তা'আলাও তোমাকে হিসাব করে করে দেবেন।
Book 23 · Hadith 117 · #2539 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 118
নাসর ইবন আলী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ (নিজেদের রক্ষা করা) যদিও তা খেজুরের টুকরা দ্বারাও হয়। (সামান্য বস্তু সাদাকা করতে পারলেও তা কর।)
Book 23 · Hadith 118 · #2540 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 119
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আগুনের আলোচনা করলেন ও তিনি স্বীয় চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নিলেন (এভাবে ফিরালেন যেন তিনি জাহান্নামকে সম্মুখে দেখছিলেন।) অতঃপর জাহান্নামের আগুন থেকে পানাহ্ চাইলেন। শু'বা (রহঃ) বলেন, তিনবার তিনি এরূপ করেছিলেন। অতঃপর বললেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও তা খেজুরের টুকরা দ্বারাও হয়। তাও যদি না পাও তাহলে অন্তত উত্তম কথা দ্বারা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো)।
Book 23 · Hadith 119 · #2541 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 120
আযহার ইবন জামীল (রহঃ) ... জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা একবার দুপুর বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় কিছু নগ্নদেহী এবং নগ্নপদী লোক তলোয়ার (কাঁধে) লটকানো অবস্থায় আমাদের কাছে আসল। তাদের অধিকাংশ বরং সবাই মুদার গোত্রের ছিল। তাদের অনাহারে থাকার অবস্থা দর্শনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ রূপ ধারণ করল। তিনি বাড়ীর ভিতর গেলেন এবং বের হয়ে এসে বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতে সালাত আদায় করে খুতবা দিলেন এবং বললেনঃ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا - اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ অর্থঃ হে মানব! তােমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতেই সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তা হতে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দু'জন হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন এবং আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাকি জ্ঞাতিবন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ দৃষ্টি রাখেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, প্রত্যেকেই ভাবিয়ে দেখুক আগামীকালের জন্য সে কী অগ্ৰীম পাঠিয়েছে। (সূরা নিসাঃ ১ এবং সূরা হাশর ১৮) প্রত্যেকে নিজ নিজ দীনার দিরহাম, কাপড়, এক সা' গম এবং এক সা' খেজুর হতেও দান কর বলতে বলতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটুকু পর্যন্ত বললেন যে, এক টুকরা খেজুর হলেও দান কর। তখন একজন আনসারী সাহাবী একটি থলি নিয়ে আসলেন যেন তার হাত তা বহন করতে অপারগ হয়ে যেতে ছিল বরং অপারগ হয়েই গিয়েছিল। অতঃপর অন্যান্য লোকজনও তার অনুসরণ করল। আমি সেখানে কাপড় এবং খাদ্যের দু'টাে স্তুপ দেখতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মুবারক উজ্জ্বল ও তাঁকে প্রফুল্ল দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামে কোন উত্তম প্রথা চালু করবে সে তার সওয়াব তো পাবেই উপরন্তু আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াবও পাবে। অথচ আমলকারীদের সওয়াব এর পরিমাণ কিছুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে কোন খারাপ প্রথা প্রচলন করবে তার জন্য তার গুনাহ তো রয়েছেই। উপরন্তু খারাপ প্রথার আমলকারীদের সমপরিমাণ গুনাহ্ও তার জন্য রয়েছে। অবশ্য তাদের গুনাহ বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।
Book 23 · Hadith 120 · #2542 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 121
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... হারিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা সাদাকা কর। কেননা তোমাদের সামনে এমন এক সময় আসবে যখন কেহ সাদাকা নিয়ে তা দেওয়ার জন্য ঘুরতে থাকবে এবং যাকে দিবে সে বলবে, তুমি যদি এগুলো গতকাল আনতে তাহলে আমি গ্রহণ করতাম। আজ তো আমার এগুলোর কোন প্রয়োজন নেই।
Book 23 · Hadith 121 · #2543 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 122
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সুপারিশ কর, তোমাদের সুপারিশ গ্ৰহণ করা হবে। (তোমরা সুপারিশ করার জন্য সওয়াবের অধিকারী হবে।) আল্লাহ তাঁর নবীর কথার মধ্যে যা ইচ্ছা তা পূর্ণ করেন।
Book 23 · Hadith 122 · #2544 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 123
হারূন ইবন সাঈদ (রহঃ) ... মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আমার কাছে কিছু চাইলে আমি তাকে নিষেধ করে দেই যাতে তোমরা তার ব্যাপারে সুপারিশ কর এবং তোমরা সওয়াব পাও। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, তোমরা সুপারিশ কর তাহলে তোমরাও সাওয়াব পাবে।
Book 23 · Hadith 123 · #2545 · Sahih, Sahih, Sahih - 124
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন কিছু আত্মসম্মানবোধ আছে যা আল্লাহ্ তা'আলা পছন্দ করেন, আবার এমনও কিছু আত্মসম্মানবোধ আছে যা আল্লাহ্ তা'আলা অপছন্দ করেন। অনুরূপ এমন কিছু বীরত্ব আছে যা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন এবং এমনও কিছু বীরত্ব আছে যা আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন। আল্লাহ তা'আলার পছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হল সন্দেহ ও বদনামের স্থানের আত্মসম্মানবোধ। আর আল্লাহ তা’আলার অপছন্দনীয় আত্মসম্মানবোধ হল সন্দেহ ও বদনামের স্থান ব্যতীত অন্যস্থানের সম্মানবোধ। আল্লাহ্ তাআলার পছন্দনীয় বীরত্ব হল জিহাদের সময় এবং দান করার সময় বীরত্ব করা। আর আল্লাহ তা’আলার অপছন্দনীয় বীরত্ব হল অন্যায় কার্যে বীরত্ব করা।
Book 23 · Hadith 124 · #2546 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 125
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিন বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গর্ব ও অপব্যয় না করে খাও, দান কর এবং পরিধান কর।
Book 23 · Hadith 125 · #2547 · Hasan, Hasan, Daif - 126
আবদুল্লাহ ইবনুল হায়ছাম (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এক মুমিন অন্য মু’মিনের জন্য ঐ দেয়াল সমতুল্য, যার এক অংশ অন্য অংশকে মজবুত করে। তিনি আরো বলেছেনঃ বিশ্বস্তু রক্ষণাবেক্ষণকারী যে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে সন্তুষ্টচিত্তে দান করে সেও দু'জন দানকারীর একজন।
Book 23 · Hadith 126 · #2548 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 127
মুহাম্মদ ইবন সালাম (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সশব্দে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দাতার ন্যায় আর নিঃশব্দে কুরআন পাঠ্যকারী গোপনে দাতার ন্যায়।
Book 23 · Hadith 127 · #2549 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 128
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সালিম-এর পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকবেন না (রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না।) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী এবং দায়ুছ (নিজ স্ত্রীর পাপাচারে যে ঘূণাবোধ করে না।) আর তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।--পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, মাদকাসক্ত ব্যক্তি (যে মদ্যপ তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে) এবং দানকৃত বস্তুর খোঁটা দানকারী ব্যক্তি (দান করার পর যে দানের উল্লেখ করে গঞ্জনা দেয়।)
Book 23 · Hadith 128 · #2550 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 129
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত । তিন বলেন, তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকাবে না, তাদের সাথে কোন কথাও বলবেন না, তাদের আত্মশুদ্ধিও করাবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শান্তি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎসংশ্লিষ্ট আয়াত পাঠ করলেন। তখন আবু যর (রাঃ) বললেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে গেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বললেন, (এরাও) যারা পায়ের গিরার নীচে (পায়ের উঁচু হাড়) কাপড় পরিধান করে, মিথ্যা কসম খেয়ে মাল বিক্রয় করে এবং দানকৃত বস্তুর খোটা দেয়।
Book 23 · Hadith 129 · #2551 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 130
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকবেন না আর তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (তারা হল) দানকৃত বস্তুর খোঁটাদানকারী, পায়ের গিরার নীচে কাপড় পরিধানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে মাল বিক্রয়কারী।
Book 23 · Hadith 130 · #2552 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 131
হারূন ইবন আবদুল্লাহ এবং কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন বুজাইদ আনসারী (রহঃ)-এর দাদী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ভিক্ষুককে কিছু দিয়ে দাও যদিও তা খুরই হােক না কেন। আর হারূন (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে পোড়া খুর। (অর্থাৎ ভিক্ষুককে খালি হাতে না ফিরায়ে যৎকিঞ্চিত হলেও দাও।)
Book 23 · Hadith 131 · #2553 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 132
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি স্বীয় মুনীবের কাছে এসে তার উদৃত্ত বস্তু চায় অথচ তাকে তা দেওয়া না হয়, কিয়ামতের দিন তার জন্য একটি বিরাট সাপ ডাকা হবে যা তার না দেওয়া উদৃত্ত বস্তু জিহবা দ্বারা চাটতে থাকবে।
Book 23 · Hadith 132 · #2554 · Hasan, Sahih, Isnaad Hasan - 133
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয় দাও, যে ব্যাক্তি তোমাদের কাছে আল্লাহ্র ওয়াস্তে চায় তাকে দিয়ে দাও, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য প্রার্থনা করে তাকে সাহায্য দাও আর যে ব্যক্তি তোমাদের উপর ইহসান করে তার প্রতিদান দিয়ে দাও। আগত্যা যদি দিতে নাই পার তাহলে তার জন্য দু’আ কর যে পর্যন্ত না তোমরা মনে করা যে, তোমরা তার প্রতিদান দিতে পেরেছ।
Book 23 · Hadith 133 · #2555 · Sahih, Sahih, Daif - 134
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমি আপনার কাছে আসার পূর্বে আমার উভয় হস্তের অঙ্গুলীসমূহের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে আসব না এবং আপনার ধর্মও গ্রহণ করব না। এখন আমি এমন এক ব্যক্তি, যে আল্লাহ তা’আলা এবং তদীয় রাসূলের শিখানো শিক্ষা ছাড়া আর কিছুই আমি জানি না। আমি আল্লাহর ওয়াস্তে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) আপনার কছে জানতে চাই আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কি সহ আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ্ তাআলা আমাকে ইসলামসহ পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, ইসলামের পরিচয় কি? তিনি বললেন, তুমি বলবে যে, আমি স্বীয় চেহারা আল্লাহ তা’আলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম এবং শিরক পরিত্যাগ করলাম। এবং তুমি সালাত আদায় করবে, যাকাত আদায় করবে। প্রত্যেক মুসলিম অন্য মুসলিমের জন্য সম্মানের পাত্ৰ; তারা ভাইয়ের ন্যায় একে অন্যের সাহায্যকারী। আল্লাহ তা’আলা মুশরিকদের ইসলাম গ্রহণের পরও তাদের কোন আমল কবুল করবেন না যতক্ষণ না তারা মুশরিকদেরকে পরিত্যাগ করে মুসলিমদের কাছে এসে যায়।
Book 23 · Hadith 134 · #2556 · Hasan, Hasan, Hasan - 135
মুহাম্মদ ইবন রাফি' (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করব না? আমরা বললাম, কেন নয়? নিশ্চয়ই ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ সে ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ঘোড়ার লাগাম ধরে বের হয়ে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে বা শহীদ হয়ে যায়। তার পরবর্তী পর্যায়ের লোকের সংবাদও তোমাদেরকে দেব কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ; ইয়া রাসূলাল্লাহ্! দিন। তিনি বললেন, সে হল ঐ ব্যক্তি যে নির্জন কোন গুহায় থাকে, সেখানে সে সালাত আদায় করে, যাকাত আদায় করে এবং অসৎ লোকদের থেকে দূরে সরে থাকে। তোমাদেরকে কি সর্বনিকৃষ্ট লোক সম্পর্কে অবহিত করব? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহু! অবহিত করুন। তিনি বললেন, সে হল ঐ ব্যক্তি যার কাছে কেউ আল্লাহ তা'আলার নামে সাহায্য চায় কিন্তু সে তাকে সাহায্য করে না।
Book 23 · Hadith 135 · #2557 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 136
মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তা'আলা পছন্দ করেন এবং তিন ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। যাদেরকে তিনি পছন্দ করেন তারা হলঃ কোন ব্যক্তি কিছু সংখ্যক লোকের কাছে এসে আল্লাহ তা’আলার নামে কিছু সাহায্য চায়। সে তার এবং তাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে সাহায্য চায় না। তারা তাকে কিছু না দিয়েই ফিরিয়ে দেয়। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি তার পিছু পিছু যায় এবং তাকে এমন গোপনে সাহায্য করে যে, তার সাহায্য সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এবং সাহায্য গ্ৰহীতা ছাড়া আর কেউই জানতে পারে না। আর একদল লোক যারা রাত্রে সফর করছিল যখন নিদ্রা তাদের কাছে সমুদয় বস্তু অপেক্ষা প্রিয় হয়ে গেল তখন তারা অবতরণ করল এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিল। অতঃপর জেগে গেল এবং আমার কাছে (আল্লাহর কাছে) অনুনয়-বিনয় করে কান্নাকাটি করে দোয়া করতে লাগল। আর আমার কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগল। আর এক ব্যক্তি জিহাদে কোন বাহিনীর সাথে ছিল, তারা শত্রুর মুখোমুখী হয়ে পরাজয়বরণ করল। কিন্তু সে সাহসের সাথে সামনে অগ্রসর হয়ে শহীদ হয়ে গেল অথবা আল্লাহ তা’আলা তাকে বিজয় দান করলেন। আর যে তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা অপছন্দ করেন তারা হল, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী অভাবী এবং অত্যাচারী ধনী।
Book 23 · Hadith 136 · #2558 · Daif, Daif, Hasan - 137
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটা দু'টাে খেজুর এবং এক দু লোকমা খাদ্যের জন্য যারা ঘুরে ফেরে তারা মিসকীন নয়, বরং মিসকীন হল যে নিজকে সওয়াল (ভিক্ষা) থেকে বিরত রাখে। যদি তোমাদের ইচ্ছা হয় তাহলে তিলাওয়াত করে নিওঃ (لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا) অর্থাৎ তারা মানুঘের নিকট নাছোড় হয়ে যাচ্ঞা করে না। (সূরা বাকারাঃ)
Book 23 · Hadith 137 · #2559 · Shadh, Shadh, Isnaad Sahih - 138
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন ঘুরা-ফিরাকারী ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে এক দু’লোকমা খাদ্য এবং একটা দু'টা খেজুরের জন্য ঘুরে ফেরে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে মিসকীন কে? তিনি বললেন, যার এমন সম্পত্তি নেই যা তাকে পরমুখাপেক্ষী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। এবং তার দারিদ্র্য আঁচ করা যায় না। ফলে তাকে সাদাকাও দেওয়া হয় না। আর সে এমন অবস্থায় দাঁড়ায় না যাতে লোকজন তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারে।
Book 23 · Hadith 138 · #2560 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 139
নাসির ইবন আলী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মিসকীন সে ব্যক্তি নয় যে, এক লোকমা বা দু'লোকমার এবং একটা-দুটা খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফেরে। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাহলে মিসকীন কে? তিনি বললেন, যার কোন সহায়-সম্বলও নেই আর লোকেরাও তার অবস্থা জানে না যে, তাকে সাহায্য করবে।
Book 23 · Hadith 139 · #2561 · Sahih, Sahih, Daif - 140
কুতায়াবা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবন বুজায়দ তার দাদী উম্মে বুজায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়'আত হয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন যে, কখনাে কোন মিসকীন আমার দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু আমার কাছে তাকে দেওয়ার মত তখন কিছুই থাকে না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন যে, তুমি যদি তাকে দেওয়ার মত একটি ঝলসানাে খুর ব্যতীত আর কিছুই না পাও তবে তাকে তাই দাও।
Book 23 · Hadith 140 · #2562 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 141
মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, বাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী ফকীর এবং মিথ্যাবাদী নেতা।
Book 23 · Hadith 141 · #2563 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 142
আবু দাউদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চার ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তাআলা অপছন্দ করেন - শপথকাৱী বিক্রেতা, অহংকারী ফকীর, বৃদ্ধ ব্যভিচারী এবং অত্যাচারী শাসক।
Book 23 · Hadith 142 · #2564 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 143
আমর ইবন মানসূর (রহঃ)... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিধবা এবং মিসকীনদের জন্য উপার্জনকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ব্যক্তির ন্যায়।
Book 23 · Hadith 143 · #2565 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 144
হান্নাদ ইবনুস সারি (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আলী (রাঃ) ইয়ামেনে অবস্থানকালীন মাটি মিশ্ৰিত কিছু স্বর্ণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো চারজন ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করে দিলেন, আকরা' ইবন হাবিস হানযালী, উওয়ায়না ইবন বদর ফাযারী, আলকামা ইবন উলাছা আমিরী পরবর্তীতে কিলাবী, এবং যায়ীদ ত্বায়ী (রাঃ) পরবর্তীতে নারহানী। তখন কুরায়শ বংশের লোকজন ব্লাগান্বিত হয়ে গেলেন। রাবী অন্যত্র বলেছেন, কুরায়শের সর্দারগণ রাগান্বিত হলেন। তারা বললেন যে, আপনি নাজদের সর্দারদেরকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে বাদ দিচ্ছেন? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন যে, আমি এরকম করেছি তাদের হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য। এমন সময় ঘন শ্মাশ্রু, উন্নত চোয়াল, কোটেরাগত চক্ষু, উঁচু ললাট এবং মুণ্ডিত মাথা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে বলল যে, হে মুহাম্মাদ। আপনি আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করেন। তিনি বললেন যে, যদি আমিই আল্লাহ তা'আলার অবাধ্য হই, তাহলে আর কে আল্লাহ্ তা'আলার বাধ্য হবে? আল্লাহ আঁআলা আমাকে পৃথিবীতে বিশ্বস্ত করে পাঠিয়েছেন আর তোমরা আমাকে বিশ্বস্ত মনে করছ না? অতঃপর সে ব্যক্তি চলে গেল এবং উপস্থিত লোকদের থেকে একজন তাকে হত্যা করার জন্য অনুমতি চাইলেন। লোকের ধারণা যে, অনুমতি প্রার্থনাকারী ছিলেন খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, এই ব্যক্তির ঔরসে এমন কিছু লোক জন্মগ্রহণ করতে পারে যারা কুরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠ অতিক্রম করবে না। তারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে এবং প্রতিমা পূজারীদেরকে ছেড়ে দেবে। তারা ইসলাম থেকে এরকমভাবে দূরে সরে যাবে, যে রকম তীর কামান থেকে দূরে সরে যায়। আমি যদি তাদেরকে পেতাম তাহলে তাদেরকে এমনভাবে হত্যা করতাম, যে রকমভাবে 'আদ গোত্রের লোকদেরকে হত্যা করা হয়েছিল।
Book 23 · Hadith 144 · #2566 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 145
ইয়াহইয়া ইবন হাবীব (রহঃ) এবং আলী ইবন হুজার (রহঃ) ... কবীসা ইবন মুখারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একজনের পাওনা আদায় করে দেয়ার যামিন হয়েছিলাম। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম এবং এ ব্যাপারে তার সাহায্য চাইলাম। তিনি বললেন, তিন ব্যক্তি ব্যতীত সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়। এক ব্যক্তি হল, যে সমাজের কারো পাওনা আদায় করে দেওয়ার যামিন হয়েছে এবং এ ব্যাপারে অন্য কারো সাহায্য চায়, এবং ঐ সাহায্য দ্বারা উহা আদায় করে দেয়। এরপর সে সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকে ।
Book 23 · Hadith 145 · #2567 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 146
মুহাম্মদ ইবন নাদর (রহঃ) ... কাবীসা ইবন মুখারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজনের পাওনা আদায় করে যামিন হয়েছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ব্যাপারে তাঁর সাহায্য চাইলাম। তিনি বললেন যে, হে কবীসা! তুমি আমার কাছে সাদাকার কোন মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর; আসলেই আমি তােমাকে দিয়ে দেব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে কবীসা! সাদাকা তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য বৈধ নয়; যে কারো পাওনা আদায় করে দেওয়ার যামিন হয়, তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ। যাতে সে নিজের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাতে পারে। যার উপর কোন বিপদ নিপতিত হয় এবং তার ধন-সম্পত্তি ধ্বংস হয়ে যায়। তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যাতে তার বিপদ দূর হয়ে যায়। অতঃপর সে সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত হয়ে যায় এবং এমন অভাব্যগ্রস্থ ব্যক্তি যার সম্পর্কে তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, সে অভাবগ্ৰস্ত, তাহলে তার জন্যও সাহায্য চাওয়া বৈধ, যাতে সে নিজের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাতে পারে। হে কবীসা! এ তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়। অন্য কেউ যদি সাহায্য নিয়ে খায় তাহলে সে হারাম খায়।
Book 23 · Hadith 146 · #2568 · Sahih, Sahih, Hasan - 147
যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর বসলেন, আমরাও তাঁর চারপাশে বসে গেলাম। তিনি বললেন, আমার পরবর্তীকালে তোমাদের অর্জিত পার্থিব ধন-দৌলতের আধিক্যে আমি আশংকিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল যে, সে বিপর্যয়ের পরে কি আবার শান্তি আসবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তাকে (প্ৰশ্নকারীকে) বলা হল যে, তোমার কি হল তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কথা বলতে চাইলে আর তোমার সাথে কথা বললেন না। রাবী বলেন, আমরা দেখলাম যে, তখন তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। যখন ওহী অবতীর্ণ হয়ে গেল। তিনি ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, প্রশ্নকারী কি উপস্থিত আছে? নিশ্চয়ই সে বিপর্যয়ের পর শান্তি আসবে না। কেননা দেখ, বসন্ত ঋতুতে ঘাস জন্মায় এবং তা মরেও যায় অথবা মরার পর্যয়ে এসে যায় অথচ ঘাস একটি উত্তম বস্তু কিন্তু কোন চতুষ্পদ জন্তু যখন তা অপরিমিত ভক্ষণ করে তখন বদহজমীর দরুন মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার উপক্রম হয় বা মরেই যায় কিন্তু কোন তৃণভোজি জন্তু যখন তা ভক্ষণ করে তখন তার পেট ভরে যায়। আর সে সূর্যের আলোতে বসে পড়ে, অতঃপর প্রশ্রাব করে এবং চড়ে বেড়ায়। অনুরূপভাবে এ সমস্ত মাল মুসলিমদের জন্য কত উত্তম উৎকৃষ্ট এবং উপকারী সাথী যদি তার থেকে ইয়াতীম মিসকীন এবং মুসাফিরকে দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ধন-সম্পদ সঞ্চয় করে সে যেন আহার করল কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারল না। আর এ ধন-সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াবে।
Book 23 · Hadith 147 · #2569 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 148
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সালমান ইবন আমির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিসকীনকে দান করার মধ্যে শুধু সাদাকার সওয়াব রয়েছে আর আত্মীয়-স্বজনকে দান করার মধ্যে দুটি সওয়াব রয়েছে, দান করার সওয়াব এবং আত্মীয়াত্রার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়াব।
Book 23 · Hadith 148 · #2570 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 149
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যয়নাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেনঃ তোমরা সাদাকা কর যদিও তা অলংকারই হােক না কেন। রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ দরিদ্র ছিলেন, আমি তাঁকে বললাম, আমার সাদাকা। আপনাকে এবং আমার ইয়াতীম ভ্রাতুষ্পপুত্রদেরকে দেওয়ার অবকাশ আমার আছে কি? আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেনঃ তুমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা কর। রাবী বলেন, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম, এসে দেখলাম তাঁর দরজার সামনে যায়নব নাম্নী একজন আনসারী মহিলা দণ্ডায়মান। আমি যে ব্যাপারে প্রশ্ন করতে এসেছি তিনি সে ব্যাপারেই প্রশ্ন করছেন। আমাদের কাছে বিলাল (রাঃ) আসলেন, আমরা তাঁকে বললাম যে, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন। আর আমরা কারা তা তাঁকে বলবে না। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তারা কারা? বিলাল (রাঃ) বললেন, যয়নন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন যয়নব? তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যযয়নব এবং আনসারী যায়নব। বললেন, হ্যাঁ; তাদের জন্য দু'টি সওয়াব রয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়ার এবং দান করার সওয়াব।
Book 23 · Hadith 149 · #2571 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 150
আবু দাউদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো এক বোঝা কাষ্ঠ নিজ পিঠে বহন করে আনা এবং বিক্রি করা কারো কাছে ভিক্ষে চাওয়ার চেয়ে উত্তম। চাই সে ভিক্ষা দিক বা না দিক।
Book 23 · Hadith 150 · #2572 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 151
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা ভিক্ষা করে বেড়ায় কিয়ামতের দিন তাকে এমন অবস্থায় উত্থিত করা হবে যে, তার চেহারায় গোশতের কোন টুকরাই থাকবে না।
Book 23 · Hadith 151 · #2573 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 152
মুহাম্মদ ইবন উছমান (রহঃ) ... আয়িয ইবন আমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে ভিক্ষা চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ভিক্ষা দিলেন। যখন সে দরজার চৌকাটে পা রেখে প্রস্থান করছিল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমরা ভিক্ষার অপকারিতা সম্পর্কে জানতে তাহলে তোমাদের কেউ কারো কাছে কখনো কোন কিছু ভিক্ষা চাওয়ার জন্য যেতে না।
Book 23 · Hadith 152 · #2574 · Hasan, Hasan, Hasan - 153
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন ফিরাসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফিরাসী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি ভিক্ষা চাইব? তিনি বললেন, না। অগত্যা যদি চাইতেই হয় তবে নেককার লোকদের কাছে চাইবে।
Book 23 · Hadith 153 · #2575 · Daif, Daif, Daif - 154
কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কিছুসংখ্যক আনসারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ভিক্ষা চাইলে তিনি তাদেরকে ভিক্ষা দিলেন। অতঃপর আবার চাইলে আবারও দিলেন এমনিভাবে তাঁর কাছে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেলে তিনি বললেন, আমার কাছে কোন কিছু থেকে থাকলে তোমাদেরকে নিশ্চয় দিতাম। এখন আমার কাছে আর দেওয়ার মত কিছুই নেই। যে ব্যক্তি ভিক্ষা থেকে দূরে থাকতে চায় আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দূরেই রাখেন। আর যে ব্যক্তি ধৈৰ্যধারণ করে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দেন। কাউকে ধৈর্য থেকে উত্তম কোন জিনিস দান করা হয়নি।
Book 23 · Hadith 154 · #2576 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 155
আলী ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন, তোমাদের কারো স্বীয় রশি দ্বারা কাঠ কেটে পিঠে বহন করে আনা তার জন্য এর চেয়ে উত্তম, যে আল্লাহর দেওয়া ধন-সম্পত্তির অধিকারী কোন ব্যক্তির কাছে এসে তার কাছে ভিক্ষা চাইবে, সে হয়তো ভিক্ষা দেবে নয়তো দেবে না।
Book 23 · Hadith 155 · #2577 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 156
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে একটি কথার প্রতিশ্রুতি দেবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে, ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, এখানে এমন এক বাক্য রয়েছে যার অর্থ মানুষের কাছে কোন কিছু না চাওয়া।
Book 23 · Hadith 156 · #2578 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 157
হিশাম ইন আম্মার (রহঃ) ... কাবীসা ইবন মুখারিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারাে জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়। যে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সে সাহায্য চেয়ে স্বীয় প্রয়ােজন মিটাতে পারবে, অতঃপর সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকবে। যে কারাে পাওনার যামিন হয়েছে। সে সাহায্য চেয়ে সে পাওনা আদায় করে দেবে, পাওনা আদায় করে দেওয়ার পর আর সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি যার সম্পর্কে তার সমাজের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, অমুকের জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ হবে, তাহলে সে সাহায্য চেয়ে স্বীয় প্রয়ােজন মিটাবে। অতঃপর সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকবে। এরা ছাড়া অন্য কেউ যদি সাহায্য চায় তাহলে তা তার জন্য হারাম হবে।
Book 23 · Hadith 157 · #2579 · Sahih, Sahih, Hasan - 158
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সাহায্য চায় অথচ তার কাছে এই পরিমাণ মাল আছে যাতে তার প্রয়োজন মিটে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন সে মুখে ক্ষত অবস্থায় উত্থিত হবে। প্রশ্ন করা হল যে, কতটুকু মাল দ্বারা প্রয়োজন মিটে যায়? তিনি বললেন, পঞ্চাশ দিরহামে বা তার সমপরিমাণ স্বর্ণ।
Book 23 · Hadith 158 · #2580 · Sahih, Sahih, Daif - 159
হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহায্য চাইতে গিয়ে পীড়াপীড়ি করবে না। আর তোমাদের কেউ আমার কাছে এমন জিনিস চাইবে না যা আমি অপছন্দনীয় মনে করি, তাহলে আমি তাকে যা দেব আল্লাহ তা’আলা তাতে বরকত দেবেন।
Book 23 · Hadith 159 · #2581 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 160
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ)-তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাহায্য চায় অথচ তার চল্লিশটি দিরহাম রয়েছে সেই পীড়াপীড়িকারী।
Book 23 · Hadith 160 · #2582 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 161
কুতায়বা (রহঃ) ... আব্দুর রহমান (রহঃ)-এর পিতা আবু সাঈদ খুদবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমার আম্মা আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পাঠালে আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং বসে গেলাম। তিনি আমার কাছে মুখ করে বললেন যে, যে ব্যক্তি স্বচ্ছলতা চায় আল্লাহ্ তা'আলা তাকে স্বচ্ছলতা দান করেন। আর যে ব্যক্তি কারো কাছে কিছু চাওয়া হতে বাঁচতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে উহা হতে বঁচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি অল্পে তুষ্ট থাকতে চায় আল্লাহ তা’আলা তাকে অল্পে তুষ্ট রাখেন। আর যে ব্যক্তি সাহায্য চায় অথচ তার কাছে চল্লিশটি দিরহাম আছে তাহলে সে পীড়াপীড়ি করল। আমি মনে মনে বললাম যে, আমার ইয়াকূত নামক উষ্ট্রীর মূল্য তাে চল্লিশ দিরহাম থেকেও বেশী হবে, তাই আমি ফিরে আসলাম এবং তার কাছে কিছুই চাইলাম না।
Book 23 · Hadith 161 · #2583 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 162
হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং আমার স্ত্রী বকীউল গারকাদ নামক স্থানে আসলাম। আমার স্ত্রী আমাকে বলল যে, তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও এবং তাঁর কাছে থেকে কিছু নিয়ে আস, আমরা খাব। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম, তখন তাঁর সামনে এমন একজন লোক পেলাম, যে তাঁর কাছে কিছু সাহায্য চাচ্ছিল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আমার কাছে তোমাকে দেওয়ার মত কিছুই নেই। তখন সে ব্যক্তি মনক্ষুন্ন হয়ে চলে যাচ্ছিল এবং বলছিল যে, আমার বয়সের কসম! আপনি যাকে ইচ্ছা তাকেই দেবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কাছে তাকে দেওয়ার মত কিছুই না থাকার কারণে সে আমার উপর মনক্ষুন্ন হচ্ছে। তোমাদের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি সাহায্য চায় অথচ তার কাছে চল্লিশটি দিরহাম বা তার সমপরিমাণ মূল্যের কোন বস্তু থাকে তবে সে যেন পীড়াপীড়ি করল। আসাদী ব্যক্তি মনে মনে বলল যে, আমার উষ্ট্রীর মূল্য চল্লিশ দিরহাম থেকেও বেশী হবে। এক উকিয়া হল চল্লিশ দিরহাম। তাই আমি ফিরে আসলাম এবং কোন সাহায্য চাইলাম না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু যব এবং শুষ্ক আঙ্গুর (কিশমিশ) আসলে তিনি তা থেকে আমাদের মধ্যে কিছু বন্টন করে দিলেন। এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে পরমুখাপেক্ষী হতে বাঁচিয়ে দিলেন।
Book 23 · Hadith 162 · #2584 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 163
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বচ্ছল ব্যক্তির জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ নয় এবং সক্ষম ও সবল ব্যক্তির জন্যও নয়।
Book 23 · Hadith 163 · #2585 · Sahih, Sahih, Sahih - 164
আমর ইবন আলী এবং মুহাম্মদ মুছান্না ... উবায়দুল্লাহ ইবন আদী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, দু'জন লোক তাকে বলেছেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তার কাছে সাদাক হতে কিছু সাহায্য চাইলেন। তিনি তাদের পানে তাকিয়ে দেখলেন যে, তারা উভয়েই সক্ষম ব্যক্তি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমরা চাও তবে তোমাদেরকে দেব, কিন্তু স্বচ্ছল ও উপার্জনে সক্ষম ব্যক্তির জন্য এতে কোন অংশ নেই।
Book 23 · Hadith 164 · #2586 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 165
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাহায্য চাওয়া এমন একটি ক্ষত যদ্দারা মানুষ স্বীয় চেহারাকে বিকৃত করে দেয়। তাই যার ইচ্ছন্ন হয় সে চেহারাকে ক্ষতযুক্ত করুক, আর যার ইচ্ছা হয় সে না করুক। তবে হ্যাঁ; কোন মানুষ শাসনকর্তার নিকট সাহায্য চাইতে পারে অথবা এমন কোন জিনিস সাহায্য চাইতে পারে যা তার একান্ত দরকার।
Book 23 · Hadith 165 · #2587 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 166
মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাহায্য চাওয়া এমন একটি ক্ষত যা দ্বারা মানুষ স্বীয় চেহারাকে বিকৃত করে দেয়। তবে হ্যাঁ, কোন মানুষ শাসনকর্তার নিকট সাহায্য চাইতে পারে অথবা অত্যাবশ্যকীয় বস্তু চাইতে পারে।
Book 23 · Hadith 166 · #2588 · Sahih, Sahih, Hasan - 167
আবদুল জব্বার ইবন আ'লা (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে সাহায্য করলেন। অতঃপর তার কাছে আবারও সাহায্য চাইলে তিনি আবার আমাকে সাহায্যে করলেন। এরপর আমি তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে পুনরায় সাহায্য করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর বললেন, হে হাকীম! এ সমস্ত ধন-সম্পদ মনমুগ্ধকর বটে। তবে যে ব্যক্তি এগুলো সন্তুষ্টচিত্তে গ্ৰহণ করে তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয়, আর যে ব্যক্তি লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে কোন বরকত দেওয়া হয় না, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আহার করে কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম।
Book 23 · Hadith 167 · #2589 · Sahih, Sahih, Sahih - 168
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিয়াম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে সাহায্য করলেন। তার কাছে আবারও কিছু সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে কিছু সাহায্য করলেন। পুনরায় সাহায্য চাইলে আমাকে সাহায্য করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাকীম! এ সমস্ত ধন-সম্পদ উত্তম এবং উৎকৃষ্ট। যে ব্যক্তি সেগুলো সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয় না। সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আহার করে কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারে না। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম।
Book 23 · Hadith 168 · #2590 · Sahih, Sahih, Hasan - 169
রবী ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু সাহায্য চাইলাম। তিনি আমাকে সাহায্য করলেন। আমি তাঁর কাছে আবার কিছু সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে আবারও সাহায্য করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাকীম! এ সমস্ত ধন-সম্পদ হলো মনোমুগ্ধকর। যে ব্যক্তি এগুলো সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয়, আর যে ব্যক্তি এগুলো লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হয় না। সে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আহার করল কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারল না। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম (রাঃ) বলেন, “আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দীন সহ পাঠিয়েছেন, আপনার কাছে চাওয়ার পরে আমি জীবিত থাকাকালীন আর কারো কাছে কিছুই চাইব না।
Book 23 · Hadith 169 · #2591 · Sahih, Sahih, Hasan - 170
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন সাঈদী মালিকী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আমাকে সাদাকা আদায়কারী রূপে নিযুক্ত করলেন। যখন আমি সাদাকা আদায় করে নিলাম এবং সেগুলো উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে দিয়ে দিলাম, তিনি আমাকে কাজের বিনিময় দিতে আদেশ দিলেন। আমি তাকে বললাম যে, আমি এ কাজ আল্লাহর ওয়াস্তে করেছি। আর এর প্রতিদান আমি আল্লাহর কাছ থেকে নেব। তিনি বললেন, আমি তোমাকে যা দিচ্ছি তা তুমি নিয়ে নাও। যেহেতু আমিও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সাদাকা উসূল করতাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমার মতই বলতাম। কিন্তু তিনি আমাকে বলতেন যে, চাওয়া ব্যতীত আমি তোমাকে কিছু দিলে সেটা নিয়ে নেবে এবং খাবে ও সাদাকা করে দেবে।
Book 23 · Hadith 170 · #2592 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 171
সাঈদ ইবন আব্দুর রহমান আবূ উবায়দুল্লাহ মাখিযুমী (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন সাদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার সিরিয়া থেকে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে আসলে তিনি তাঁকে বললেন যে, আমি শুনেছি যে, তুমি মুসলিমদের কোন কাজ করলে তোমাকে তার পারিশ্রমিক দেওয়া হলে তা তুমি নাকি গ্ৰহণ করা না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার অগণিত ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে এবং আমি স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। তাই আমার ইচ্ছা আমার কাজ মুসলিমদের জন্য সাদাক স্বরূপ হােক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি যা মনস্থ করেছ আমিও তাই মনস্থ করেছিলাম, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিনিময় দিতেন, আমি তাঁকে বলতামঃ যে ব্যক্তি আমার থেকেও বেশী মুখাপেক্ষী আপনি এই মাল তাকেই দিন। তিনি আমাকে একবার কিছু মাল দিলে আমি তাঁকে বললাম, এই মাল যে আমার থেকে বেশী অভাবী আপনি তাকেই দিন। তিনি বললেন, তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত যে মাল আল্লাহ্ তোমাকে দেন তা গ্ৰহণ করে নেবে এবং ইচ্ছা করলে তা তোমার কাছে রেখে দেবে নয়তো সাদাকা করে দেবে। আর যেগুলো তোমাকে দেওয়া হয় না তুমি সেগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হবে না।
Book 23 · Hadith 171 · #2593 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 172
কাছীর ইবন উবায়দা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন সাদী (রহঃ) সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একবার উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে গেলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, আমি শুনতে পেলাম তুমি নাকি মুসলিমদের কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং তোমাকে তোমার কাজের পারিশ্রমিক দেওয়া হলে তুমি তা গ্ৰহণ করা না ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন উমর (রাঃ) বললেন, এতে তোমার উদ্দেশ্য কি? আমি বললাম যে, আমার অগণিত ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে আর আমি স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। তাই আমি চাচ্ছিলাম যে, আমার কাজগুলো মুসলিমদের জন্য সাদাক স্বরূপ হােক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তুমি এরূপ করবে না। কেননা তুমি যে রকম চাচ্ছ আমিও সে রকম চাইতাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পারিশ্রমিক দিলে আমি বলতাম যে, আপনি ইহা আমার থেকে বেশী অভাবীদেরকে দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন যে, তুমি এগুলো নিয়ে নাও। ইচ্ছা করলে নিজের কাজে লাগাও নতুবা সাদাকা করে দাও। তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত যে মাল তোমার হস্তগত হয় তা তুমি নিয়ে যাও। কোন মাল এভাবে তোমার হস্তগত না হলে তার প্রতি আকৃষ্ট হবে না।
Book 23 · Hadith 172 · #2594 · Sahih, Sahih, Hasan - 173
আমর ইবন মানসূর এবং ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন সাদী সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি একবার উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে আসলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি শুনতে পেলাম যে, তুমি নাকি মানুষের কাজে নিয়োজিত থাক এবং তার বিনিময় দেওয়া হলে তুমি তা অপছন্দ কর? তিনি বলেন, আমি বললামঃ হ্যাঁ। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, এর দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কি? আমি বললাম, আমার অগণিত ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে আর আমি স্বচ্ছল অবস্থায় রয়েছি। তাই আমি চাচ্ছিলাম যে, আমার কাজগুলো মুসলিমদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হােক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি এরূপ করবে না। তুমি যে রকম ইচ্ছা করছি আমিও সে রকমই ইচ্ছা! করতাম। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিনিময় দিতেন। আর আমি বলতাম যে, আপনি এটা আমার চেয়েও বেশী অভাবীদের দিয়ে দিন। তিনি আমাকে একবার কিছু মাল দিলে আমি তাকে বললাম যে, আপনি ইহা আমার চেয়েও বেশী অভাবীদেরকে দিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটা নিয়ে নাও; ইচ্ছা! করলে নিজের কাজে লাগাও নতুবা সাদাকা করে দাও। আর যে মাল তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত হস্তগত হয়, তুমি তা নিয়ে নেবে অন্যাথায় তার পেছনে পড়বে না।
Book 23 · Hadith 173 · #2595 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 174
আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিনিময় দিতেন আর আমি বলতাম, আপনি ইহা আমার চেয়েও বেশী অভাবীদেরকে দিয়ে দিন। এরপর তিনি আমাকে কিছু বিনিময় দিলে আমি তাঁকে বললামঃ আপনি এটা আমার চেয়েও কোন অভাবী ব্যক্তিকে দিয়ে দিন। তিনি বললেন, তুমি এটা নাও, ইচ্ছা করলে নিজের কাজে ব্যয় কর নতুবা সাদাকা করে দাও। আর তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত কোন মাল যদি তোমার হস্তগত হয় তাহলে তুমি তা নিয়ে নেবে, অন্যথায় তুমি মালের পেছনে পড়বে না।
Book 23 · Hadith 174 · #2596 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 175
আমর ইবন সাওয়্যাদ (রহঃ) ... আব্দুল মুত্তালিব ইবন রবীআ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা রবীআ ইবন হারিছ (রাঃ) তাঁকে এবং ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন যে, আপনারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যান এবং তাঁকে বলুন যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদেরকে সাদাকা উসূল করার জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করুন। আমরা এই অবস্থায় থাকাকালীন আলী (রাঃ) আসলেন এবং আমাদেরকে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের কাউকেও সাদাকা উসূল করার জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করবেন না। আব্দুল মুত্তালিব বলেন, তখন আমি এবং ফজল (রাঃ) চলে আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি আমাদেরকে বললেন যে, সাদাকা লোকজনের ধন-সম্পত্তির ময়লা। তাই ইহা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের জন্য বৈধ নয়।
Book 23 · Hadith 175 · #2597 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 176
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... শু’বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু ইয়াস (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম-আপনি কি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভাগিনেয় নিজ নিজ পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিগণিত? তখন আবু ইয়াস (রহঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, আমি শুনেছি।
Book 23 · Hadith 176 · #2598 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 177
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সূত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, ভাগিনেয় নিজ নিজ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিগণিত হবে।
Book 23 · Hadith 177 · #2599 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 178
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবু রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মাখযূম গোত্রের এক ব্যক্তিকে সাদাকা উসূল করার জন্য নিযুক্ত করলেন। তখন আবু রাফি (রাঃ) তাঁর অনুসরণ করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, সাদাকা আমাদের জন্য বৈধ নয়। আর কারো আযাদকৃত গোলাম তার পরিবারের সদস্য হিসেবেই পরিগণিত।
Book 23 · Hadith 178 · #2600 · Sahih, Sahih, Hasan - 179
যিয়াদ ইবন আইয়ূব (রহঃ) ... বাহয ইবন হাকীম তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন হাদিয়া পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করতেন যে, এটা হাদিয়া না সাদাকা? সাদাকা বলা হলে তিনি তা খেতেন না আর হাদিয়া বলা হলে তিনি হস্ত প্রসারিত করতেন (খেতেন)।
Book 23 · Hadith 179 · #2601 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 180
আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বারীরা (রাঃ)-কে খরিদ করে মুক্ত করে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তাঁর মালিকেরা তাঁর মীরাছ প্ৰাপ্তির শর্ত আরোপ করলে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একথা জানালেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে কিনে মুক্ত করে দাও। কেননা, মুক্তিদাতাই মীরাছের হকদার। আর মুক্তি দিয়ে তাকে এখতিয়ার দিয়ে দেওয়া হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু গোশত আনা হলে তাঁকে বলা হল যে, ইহা বারীরা (রাঃ)-এর সাদাকা হিসাবে প্রাপ্ত গোশত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, “ইহা তার জন্য সাদাকা আর আমার জন্য হাদিয়া।” তার স্বামীও মুক্তিপ্রাপ্ত ছিল।
Book 23 · Hadith 180 · #2602 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 181
মুহাম্মাদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি একবার আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করলাম। যার কাছে ঘোড়াটি ছিল সে ওটাকে (যত্ন না নিয়ে) ধ্বংস করে দেওয়ার উপক্রম করলে আমি তার কাছ থেকে ওটা কিনে নিতে মনস্থ করলাম। আমার মনে হল যে, সে তা সস্তা দামেই বিক্রয় করে দেবে। এ ব্যাপারে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তুমি সেটা খরিদ করো না। যদিও সে তোমাকে তা এক দিরহামেও দিয়ে দেয়। যেহেতু সাদাকা ফিরিয়ে নেওয়া ব্যক্তি স্বীয় বমি আহারকারী কুকুরের সমতুল্য।
Book 23 · Hadith 181 · #2603 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 182
হারূন ইবন ইসহাক (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলেন। অতঃপর তিনি তা বিক্রয় হতে দেখে ক্ৰয় করতে চাইলেন (এবং এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর পরামর্শ চাইলে) তিনি বললেন, তুমি স্বীয় সাদাকা ফিরিয়ে নিও না।
Book 23 · Hadith 182 · #2604 · Sahih, Sahih, Sahih - 183
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, উমর (রাঃ) একবার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় সাদাকা করে দিলেন। তারপর তা বিক্রয় হতে দেখে ক্রয় করতে চাইলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে। এ ব্যাপারে অনুমতি চাইলে তিনি বললেন যে, তুমি স্বীয় সাদাকাকৃত ঘোড়া কিনতে যেও না।
Book 23 · Hadith 183 · #2605 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 184
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্যাব ইবন উসায়ীদ (রাঃ)-কে আঙ্গুরের পরিমাপ করে শুকনা আঙ্গুর (কিশমিশ) দ্বারা তার যাকাত আদায় করতে বললেন, যেরূপ খেজুরের যাকাত শুকনা খেজুর দ্বারা আদায় করা হয়।
Book 23 · Hadith 184 · #2606 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Daif