The Book of Wills
- 1
আহমাদ ইবন হারব (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ সাদাকায় সওয়াব বেশি? তিনি বললেনঃ ঐ সাদাকা, যা তুমি সুস্থ অবস্থায় কর এবং মালের প্রতি তোমার অত্যধিক লালসা থাকে, আর তুমি অভাবগ্রস্ততার ভয় কর এবং তোমার আরও বহুদিন বেঁচে থাকার আশা থাকে। আর সাদাকা করতে এত দেরী করবে না যে, তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়ে যায়। আর তুমি বলবেঃ এত অমুকের জন্য, অথচ তা তো অমুকের জন্য হয়েই গেছে।
Book 30 · Hadith 1 · #3594 · Sahih, Sahih, Hasan - 2
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে আছে যে, যার ওয়ারিসের মাল তার নিকট তার নিজের মাল হতে অধিক প্রিয়? তাঁরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার নিকট তার নিজের মাল তার ওয়ারিসের মাল হতে প্রিয় নয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রাখ, তোমাদের প্রত্যেকের নিকট তার ওয়ারিসের মাল তার নিজের মাল অপেক্ষা প্রিয়। তোমার মাল তো তা-ই যা তুমি (মৃত্যুর) পূর্বেই পাঠিয়ে দিয়েছ, আর ওয়ারিসের মাল তা-ই যা রেখে তুমি মারা যাও।
Book 30 · Hadith 2 · #3595 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 3
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... মুতাররিফ (রহঃ) তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মােহাচ্ছন্ন রাখে, যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও। পরে তিনি বললেনঃ মানুষ (আদম সন্তান) বলে, আমার মাল, আমার মাল। (হে মানুষ!) তোমার মাল তো তা, যা তুমি খেয়ে শেষ করেছ কিংবা যা পরিধান করে পুরাতন করে ফেলেছ, অথবা যা তুমি সাদাকা করে কার্যকর করেছ।
Book 30 · Hadith 3 · #3596 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 4
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হাবীবা তাঈ (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি কিছু দীনার (আলাদা করে) আল্লাহর রাস্তায় দেয়ার ওয়াসিয়াত করলো। এ ব্যাপারে আবুদ দারদা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুকালে দাসমুক্ত করে অথবা সাদাকা দেয়, তার উদাহরণ এরূপ, যেরূপ কোন ব্যক্তি তৃপ্ত হওয়ার পর হাদিয়া দিয়ে থাকে।
Book 30 · Hadith 4 · #3597 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 5
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের উচিত নয় যে, যা তার ওয়াসিয়াত করার ছিল, তাতে ওয়াসিয়াতের ব্যাপারে ওয়াসিয়াতনামা না লিখে দু'রাত অতিবাহিত করা।
Book 30 · Hadith 5 · #3598 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 6
মুহাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের পক্ষে দুটি রাত্রি এমন অবস্থায় অতিবাহিত করা উচিত নয় যে, কোন বিষয়ে তার ওয়াসিয়াত করার রয়েছে। অথচ তার নিকট তার ওয়াসিয়াতনামা লিখিত নেই।
Book 30 · Hadith 6 · #3599 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 7
মুহাম্মাদ ইবন হাতিম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে তাঁর উক্তি (রূপে) বর্ণিত।
Book 30 · Hadith 7 · #3600 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 8
ইউনুস ইবন আবদুল আলা (রহঃ) ... সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য এরূপ উচিত নয় যে, যার নিকট এমন বস্তু রয়েছে, যার ওয়াসিয়াত করা প্রয়ােজন, অথচ সে তিন রাত এভাবে অতিবাহিত করে যে, তার নিকট তার ওয়াসিয়াতনামা না থাকে। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শোনার পর থেকে আমার (এমন কোন সময়) অতিক্রান্ত হয় নি যে, আমার ওয়াসিয়াত (নামা) আমার কাছে ছিল না।
Book 30 · Hadith 8 · #3601 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 9
আহমাদ ইন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতা সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলিমের জন্য উচিত নয়, যে বিষয়ে তার ওয়াসিয়াত করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ওয়াসিয়াতনামা না লিখে সে তিন দিন অতিবাহিত করে।
Book 30 · Hadith 9 · #3602 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 10
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... তালহা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আবু আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোন ওয়াসিয়াত করেছিলেন? তিনি বললেনঃ না। তিনি (তালহা] বলেন, আমি ইবন আবু আওফা (রাঃ)-কে বললাম, তা হলে মুসলিমদের জন্য কিরূপে ওয়াসিয়াতের বিধান করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কিতাব (প্রতিপালন)-এর ওয়াসিয়াত করেছেন।
Book 30 · Hadith 10 · #3603 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 11
মুহাম্মাদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনার, দিরহাম, বকরি এবং উট কিছুই রেখে যাননি, এবং (তাই) তিনি কোন কিছুর ওয়াসিয়াতও করেন নি।
Book 30 · Hadith 11 · #3604 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 12
মুহাম্মাদ ইবন রাফে' (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনার, দিরহাম, বকরি এবং উট কিছুই রেখে যাননি, এবং (তাই) তিনি কোন কিছুর ওয়াসিয়াতও করেন নি।
Book 30 · Hadith 12 · #3605 · Sahih, Sahih, Hasan - 13
জাফর ইবন মুহাম্মাদ ইবন হুযায়ল ও আহমদ ইবন ইউসুফ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিরহাম, দীনার, বকরি, উট কিছুই রেখে যাননি, আর তিনি ওয়াসিয়াতও করেন নি। রাবী জাফর (রহঃ) দীনার ও দিরহামের কথা উল্লেখ করেন নি।
Book 30 · Hadith 13 · #3606 · Sahih, Sahih, Sahih - 14
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোক বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে ওয়াসিয়াত করেছেন। অথচ তাঁর অবস্থা এই ছিল যে, তিনি পেশাব করার জন্য পাত্র চেয়েছিলেন। এর পরেই তিনি ঢলে পড়লেন (ইনতিকাল করেন), যা আমি অনুভব করতেও পারিনি। তাহলে তিনি কার কাছে ওয়াসিয়াত করলেন? তিনি কাউকে ওয়াসিয়ত করেছেন বলে আমার জানা নেই।
Book 30 · Hadith 14 · #3607 · Sahih, Sahih - 15
আহমাদ ইন সুলায়মান (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত বরণ করেছেন, তখন তাঁর কাছে আমি ব্যতীত কেউ ছিল না। তিনি (পেশাব করার জন্য) পাত্র চেয়েছিলেন।
Book 30 · Hadith 15 · #3608 · Sahih, Sahih, Hasan - 16
আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আমির ইবন সা'দ (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নিকটবর্তী হলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। আমার কন্যা ছাড়া আর কোন ওয়ারিছ নেই। আমি কি আমার মালের দুই-তৃতীয়াংশ সাদাকা করে দেব? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ; এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক। কেননা তুমি যদি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, তবে তা তাদেরকে এরূপ অভাবগ্রস্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম যে, আর তারা মানুষের কাছে হাত পেতে (দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে) বেড়াবে।
Book 30 · Hadith 16 · #3609 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 17
আমর ইবন মানসূর ও আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মক্কায় থাকাকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রোগাবস্থায় আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি ওয়াসিয়াত (আল্লাহর রাস্তায় দান) করতে চাই। তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ অর্ধেক সম্পত্তি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তিনের এক অংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক। তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, এটা উত্তম এ থেকে যে, তুমি তাদেরকে অভাবগ্রস্ত রেখে যাবে। আর তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে বেড়াবে (মানুষের কাছে হাত পাতবে)।
Book 30 · Hadith 17 · #3610 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 18
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আমির ইবন সা'দ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মক্কায় থাকাকালে তিনি যখন রোগাক্রান্ত হন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে আসেন। তিনি যে স্থান হতে হিজরত করে গেছেন (মক্কা), সেখানে মৃত্যুবরণ করতে অপছন্দ করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা সা'দ ইবন আফরাকে রহম করুন। অথবা আল্লাহ্ সা'দ ইবন আফরাকে রহম করুন। এক কন্যা ব্যতীত তার [সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর] আর কোন সন্তান ছিল না। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি (দান) ওয়াসিয়াত করবো? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। যদি তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, তবে তাতে তাদেরকে এমন অভাবগ্রস্ত রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম যে, তারা মানুষের হাতে যা আছে তা পাওয়ার জন্য হাত পেতে বেড়াবে।
Book 30 · Hadith 18 · #3611 · Sahih, Sahih, Hasan - 19
আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... সা'দ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ (রাঃ)-এর পরিবারের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, সা'দ (রাঃ) অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যান। তখন তিনি [সাদ (রাঃ)] বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার সমস্ত সম্পদ (দান করার) ওয়াসিয়াত করে যাব? তিনি বললেনঃ না। হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
Book 30 · Hadith 19 · #3612 · Daif, Sahih - 20
আব্বাস ইবন আবদুল আযীম আম্বারী (রহঃ) ... আমির ইবন সা'দ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে আসেন। সা'দ (রাঃ) তাঁকে দেখে কেঁদে দিলেন এবং বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি ঐ স্থানেই মারা যাব, যেখান হতে আমি হিজরত করেছি? তিনি বললেনঃ না, ইনশাআল্লাহ্। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করার ওয়াসিয়াত করে যাব? তিনি বললেনঃ না। তিনি বললেন, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ না। তিনি (সাদ) বললেনঃ অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। তিনি (সা'দ) বললেন তাহলে এক তৃতীয়াংশ? রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক। যদি তুমি তোমার ছেলেদেরকে ধনবান রেখে যাও, তবে তা তাদেরকে অভাবগ্রস্ত হয়ে লোকের নিকট হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা উত্তম।
Book 30 · Hadith 20 · #3613 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 21
ইসহাক ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অসুস্থতার সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন এবং তিনি বললেনঃ তুমি কোন ওয়াসিয়াত করেছ কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কত? আমি বললামঃ আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় (দান করার ওয়াসিয়াত করেছি)। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার সন্তানের জন্য কি রেখেছ? আমি বললামঃ তারা ধনী। তিনি বললেনঃ এক-দশমাংশ ওয়াসিয়াত কর। এভাবে তিনি বলতে থাকেন; আর আমিও বলতে থাকি। অবশেষে তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত কর। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক অথবা বড়।
Book 30 · Hadith 21 · #3614 · Daif, Daif - 22
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি অসুস্থ থাকাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি আমার সমস্ত মালের জন্য ওয়াসিয়াত করবো? তিনি বললেনঃ না। তিনি [সা'দ (রাঃ)] বললেনঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না। তিনি [সাদ (রাঃ)] আবার বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশের? তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়ত করতে পার। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক অথবা বড়।
Book 30 · Hadith 22 · #3615 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih - 23
মুহাম্মাদ ইবন ওলীদ ফাহাম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ (রাঃ) অসুস্থ থাকাকালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে যান। তখন সা'দ (রাঃ) তাকে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার সমস্ত মালের দুই-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি বললেনঃ না। তিনি [সা'দ (রাঃ)] বললেনঃ তাহলে আমি কি আমার অর্ধেক মালের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না। তিনি [সা'দ (রাঃ)] বললেনঃ আমি কি এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক অথবা বড়। আর যদি তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে ধনী রেখে যাও, তবে তা উত্তম হবে এর থেকে যে, তুমি তাদের দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাবে, আর তারা (মানুষের কাছে) হাত পাতবে।
Book 30 · Hadith 23 · #3616 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 24
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, যদি লোক ওয়াসিয়াত করতে গিয়ে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত নেমে আসে, তবে তা-ই ঠিক হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক তৃতীয়াংশ (ওয়াসিয়াত) করতে পার। আর এক-তৃতীয়াংশই অধিক বা বড়।
Book 30 · Hadith 24 · #3617 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 25
মুহাম্মাদ ইব্ন মুসান্না (রহঃ) ... সা'দ ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আগমন করেন, তখন তিনি ছিলেন অসুস্থ। তিনি বললেন, আমার এক কন্যা ব্যতীত আর কোন সন্তান নেই। তাই আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি ওয়াসিয়াত (আল্লাহর রাস্তায় দান) করতে চাই। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। তিনি (সা’দ) বললেন, তাহলে কি অর্ধেকের ওয়াসিয়াত করবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। তিনি [সা'দ (রাঃ)] বললেনঃ তাহলে কি এক-তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়াত করতে পারি? তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ। আর এক-তৃতীয়াংশও অধিক।
Book 30 · Hadith 25 · #3618 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih - 26
কাসিম ইবন যাকারিয়া ইবন দীনার (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি ছয়জন কন্যা রেখে যান। আর তিনি তার উপর দেনাও রেখে যান। খেজুর কাটার সময় হলে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ আপনি অবগত আছেন যে, আমার পিতা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, আর তিনি বহু দেনা রেখে গিয়েছেন। আমার মনে চায় যে, পাওনাদাররা যেন আপনাকে দেখে। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাবির (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি গিয়ে প্রত্যেক প্রকারের খেজুরের পৃথক পৃথক স্তুপ লাগাও। আমি তা সম্পন্ন করে তাকে ডেকে আনলাম। যখন তারা তাঁকে দেখল, তখন তারা যেন আমার প্রতি ঐ মুহূর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে গেল। যখন (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের এ অবস্থা লক্ষ্য করলেন, তখন তনি সর্ববৃহৎ স্তূপের চারদিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করলেন এবং পরে এর উপর বসে পড়লেন। এরপর বললেনঃ তোমার সেই লোকদেরকে ডাক। এরপরে তিনি তাদেরকে পাত্র দ্বারা মেপে মেপে দিতে আরম্ভ করলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলা আমার পিতার আমানত (সমস্ত দেনা) আদায় করে দিলেন। আর সেখান থেকে একটা খেজুরও কমলো। আমি শুধু চেয়েছিলাম যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমার পিতার দেনা পরিশোধ করে দেন।
Book 30 · Hadith 26 · #3619 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 27
আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা বহু কর্য রেখে ইনতিকাল করেন। (তিনি বলেন) আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললামঃ আমার পিতা করয রেখে ইনতিকাল করেছেন, আর তিনি তার খেজুর বাগানের উৎপাদন ব্যতীত আর কিছুই রেখে যাননি। আর এর উৎপাদন এমন যে, তাতে কয়েক বছর না মিলালে কর আদায় হবে না। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমার সঙ্গে চলুন, যাতে পাওনাদাররা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার না করে। এ কথায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে আসলেন এবং প্রত্যেক স্তূপের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে লাগলেন। তিনি প্রত্যেকটির নিকট গিয়ে সালাম করলেন এবং দু'আ করলেন, এর উপর বসলেন। আর তিনি পাওনাদারদের ডেকে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে শুরু করলেন এবং তাদের দেনা পরিশোধ করে দিলেন। আর সে পরিমাণ অবশিষ্ট রইলো, যে পরিমাণ তারা নিয়ে গিয়েছিল।
Book 30 · Hadith 27 · #3620 · Sahih, Sahih, Hasan - 28
আলী ইব্ন হুজুর (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন আমর ইবন হারাম (রাঃ) ইনতিকাল করেন। তিনি দেনা রেখে যান। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পাওনাদারের কাছে এ মর্মে সুপারিশ করার আবেদন করলাম যাতে তারা তার (পিতার) কিছু ঋণ কমিয়ে দেয়। তিনি তাদের কাছে (তা) দাবি করলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি চলে যাও এবং প্রত্যেক প্রকার খেজুর পৃথক করে ফেল অর্থাৎ আজওয়া পৃথক কর এবং ‘ইযক ইবন যায়দ পৃথক করে রাখ। এভাবে অন্যান্য প্রকারকে (পৃথক কর)। পরে আমার নিকট লোক পাঠাবে। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথামত) কাজ করলাম। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সর্বোচ্চ স্তূপের উপর অথবা মধ্যম স্তূপের উপর বসে বললেনঃ লোকদেরকে মেপে দিতে থাক। তিনি [জাবির (রাঃ)] বলেন, আমি তাদেরকে মেপে দিতে লাগলাম এবং এভাবে তাদের পাওনা পরিশোধ করে দিলাম। আমার খেজুর অবশিষ্ট রইলো। মনে হল যে, তা হতে কিছুই কমেনি।
Book 30 · Hadith 28 · #3621 · Sahih, Sahih, Hasan - 29
ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ হারমী (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা এক ইয়াহূদী হতে খেজুর ধার নিয়েছিলেন। তার দেনা আদায় না হতেই তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন এবং দু'টি বাগান রেখে যান। ইয়াহূদীর (পাওনা) খেজুর দুই বাগানের সব ফলকে পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীকে বললেনঃ তুমি কি এরূপ করতে পার যে, তোমার খেজুরের অর্ধেক এ বছর এবং বাকী অর্ধেক আগামী বছর নিবে? ইয়াহুদী এতে অস্বীকৃতি জানালো। তিনি জাবির (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি খেজুর কাটার সময় আমাকে সংবাদ দিতে পারবে? আমি খেজুর কাটার সময় তাঁকে খবর দিলাম। তিনি আবু বকর (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে আসলেন এবং খেজুরের নিচের দিক হতে মেপে মেপে ও কেটে দেওয়া শুরু করা হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরকতের জন্য দু'আ করতে থাকলেন। ফলে তার সমস্ত পাওনা (আম্বারের বর্ণনা অনুসারে) আমাদের ছোট বাগানের খেজুর দ্বারাই আদায় হয়ে গেল। (আর বড় বাগান এমনই রয়ে গেল), জাবির (রাঃ) বলেনঃ পরে আমি তাদের নিকট তাজা খেজুর এবং পানি পেশ করলাম। (সকলের পানাহার শেষ হলে) পরে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এগুলো সেই নিয়ামত, যে সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
Book 30 · Hadith 29 · #3622 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih - 30
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা মারা যান এবং তার উপর দেনা থেকে যায়। আমি আমার পিতার পাওনাদারদের ডেকে বললামঃ তারা যেন তার দেনার বিনিময়ে এই খেজুর নিয়ে নেয়। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করলো। কেননা, তারা তাতে পরিশোধ দেখতে পেল না (তাদের কাছে খেজুরের পরিমাণ কম মনে হল)। জাবির (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ কথা বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি যখন খেজুর কাটবে এবং উঠানে স্তূপকৃত করবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি খেজুর কেটে উঠানে রেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আবু বকর এবং উমর (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে আসলেন। তিনি এসে তার উপর বসে পড়লেন এবং বরকতের জন্য দু'আ করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার পাওনাদারদের ডেকে আন এবং তাদের পাওনা দিয়ে দাও। তিনি [জাবির (রাঃ)] বলেন, আমার পিতার কাছে যাদের পাওনা ছিল, তাদের সকলের পাওনা আদায় করে দিলাম, কারো পাওনা অবশিষ্ট রইলো না; বরং তের ওসাক (খেজুর) অবশিষ্ট থেকে গেল। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই সংবাদ দিলে তিনি শুনে হাসলেন এবং বললেনঃ যাও তুমি আবু বকর এবং উমরকেও এ খবর দাও। আমি তাঁদের কাছে গিয়ে এ খবর দিলে তারা বললেনঃ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করলেন, তার ফল এটাই হবে।
Book 30 · Hadith 30 · #3623 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 31
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আমর ইবন খারিজা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক হকদারের হক দিয়ে দিয়েছেন আর ওয়ারিসদের জন্য ওয়াসিয়াত নেই (বৈধ নয়)।
Book 30 · Hadith 31 · #3624 · Sahih, Sahih, Hasan - 32
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... ইবন খারিজা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, তিনি নিজের সওয়ারীর উপর থেকে লোকদের খুতবা দিচ্ছেন। তখন ঐ সওয়ারী (উট) জাবর কাটছিল এবং তার মুখ থেকে ফেনা বেয়ে পড়ছিল। তিনি তাঁর খুতবায় বললেনঃ আল্লাহু তা'আলা প্রত্যেক লোকের মীরাসের হিসসা বণ্টন করে দিয়েছেন; কাজেই ওয়ারিসের জন্য ওয়াসিয়াত করা বৈধ হবে না।
Book 30 · Hadith 32 · #3625 · Sahih, Sahih, Hasan - 33
উতবা ইবন আবদুল্লাহ মারওয়াযী (রহঃ) ... আমর ইবন খারিজা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহীয়ান নামের মালিক আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক হকদারের অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, এখন আর ওয়ারিসের জন্য ওয়াসিয়াতের অবকাশ নেই।
Book 30 · Hadith 33 · #3626 · Sahih, Sahih, Hasan - 34
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) অর্থাৎ আপনি আপনার নিকট আত্মীয়দের সতর্ক করে দিন। এই আয়াত নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিশেষভাবে) কুরায়শদের ডাকলেন। তারা একত্রিত হলে তিনি প্রথমে সাধারণ ও ব্যাপকভাবে লোকদেরকে, পরে নিজের আত্মীয়দেরকে (সতর্ক করে) বললেনঃ হে কাব ইবন লুআঈয়ের বংশধর, হে বনী মুররা ইবন কা'ব, হে বনী আবদে শামস, হে আবদে মানাফের সন্তানেরা! হে হাশেমিগণ, হে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানগণ! তুমি নিজেকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা কর। এরপর তিনি নিজ কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ফাতিমা! নিজেকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর (আযাব হতে) রক্ষা করার মালিক নই। তবে তোমাদের আত্মীয়তা (রক্ত) সম্বন্ধ রয়েছে এবং তার আর্দ্রতায় আমি আর্ধিত করব।
Book 30 · Hadith 34 · #3627 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 35
আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... মূসা ইবন তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদে মানাফের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে ক্রয় করে নাও (আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা কর)। আমি তোমাদেরকে কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখি না; (আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে) সক্ষম নই। হে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানগণ! তোমরা তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে বাঁচাও। আমি তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা রাখি না। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারব না। কিন্তু আমার ও তোমাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। আমি তার আর্দ্রতা দ্বারা নিজেকে আর্দ্রিত করব (হক আদায় করব)।
Book 30 · Hadith 35 · #3628 · Sahih Lighairihi, Sahih, Hasan - 36
সুলায়মান ইব্ন দাউদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) “আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন” নাযিল হল, তখন তিনি বললেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর নিকট হতে ক্রয় করে নাও (আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা কর)। আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ (আযাব) হতে রক্ষা করতে সক্ষম নই। হে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানেরা! তোমরা নিজেদের ক্রয় করে নাও। আমি তোমাদেরকে আল্লাহ্ (আযাব) হতে রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর (আযাব) হতে রক্ষা করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফী সফিয়্যা! আমি আপনাকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারব না। হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা! তুমি যা ইচ্ছা আমার নিকট চাইতে পার, আমি তোমাকে আল্লাহ (আযাব) হতে রক্ষা করতে পারব না।
Book 30 · Hadith 36 · #3629 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 37
মুহাম্মাদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়কে সতর্ক করুন", এ আয়াত নাযিল হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে কুরায়শের লোকগণ! তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর নিকট হতে খরিদ কর (আযাব হতে রক্ষা কর)। আমি আল্লাহর (আযাবের) সামনে তোমাদেরকে কোন উপকার করতে পারব না। (রক্ষা করতে সক্ষম হবো না)। হে আবদে মানাফের বংশধরগণ! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবন আবদুল মুতালিব! আমি তোমার কোন উপকার সাধন করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফী সফিয়্যা! আমি আল্লাহর আযাব হতে আপনাকে রক্ষা করতে সক্ষম নই। হে ফাতিমা! তুমি যা ইচ্ছা আমার নিকট চাইতে পার, আল্লাহর আযাব হতে তোমাকে রক্ষা করার সামর্থ্য আমার নেই।
Book 30 · Hadith 37 · #3630 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 38
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) আয়াত নাযিল হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মুহাম্মাদ-তনয়া ফাতিমা! হে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা সফিয়্যা! হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধররা! আল্লাহর বিপক্ষে আমি তোমাদের কোন কাজে আসব না (আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে সক্ষম নই)। তোমরা আমার মাল হতে যা ইচ্ছা চেয়ে নিতে পার।
Book 30 · Hadith 38 · #3631 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 39
মুহাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমার আম্মা হঠাৎ ইনতিকাল করেছেন, আমার বিশ্বাস, যদি তিনি কথা বলার সময় পেতেন, তবে দান করার কথা বলতেন। আমি কি তার পক্ষ হতে সাদাকা করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তুমি তার পক্ষ হতে সাদাকা কর।
Book 30 · Hadith 39 · #3632 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 40
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা'দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কোন যুদ্ধে বের হলেন, এ সময় তার মাতা মদীনায় মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তাকে বলা হলঃ আপনি ওয়াসিয়াত করুন। তিনি বললেনঃ আমি কিসের ওয়াসিয়ত করবো, মাল তো সা'দ-এর। সা'দ পৌছার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করলেন। সা'দ (রাঃ) আসলে তার নিকট একথা বলা হলে তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমি তার পক্ষ হতে সাদাকা করি, তবে কি তার কোন উপকার হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তখন সা'দ একটি বাগানের নাম নিয়ে বললেনঃ আমি তা তার পক্ষ হতে সাদাকা করলাম।
Book 30 · Hadith 40 · #3633 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 41
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন লোক মারা যায়, তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিন প্রকার আমল (জারি থাকে)। (প্রথম) সাদাকা জারিয়া (চলমান সাদাকা); (দ্বিতীয়) ঐ ইলম, যা দ্বারা অন্য লোক উপকৃত হয়; (তৃতীয়) নেক সন্তান, যে তার জন্য দু'আ করে।
Book 30 · Hadith 41 · #3634 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 42
আলী ইবন হুজুর (রহঃ) -... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ আমরা পিতা কিছু মাল রেখে মারা গেছেন, কিন্তু তিনি ওয়াসিয়াত করেন নি। আমি যদি তার পক্ষ হতে সাদাকা করি, তবে কি তা তার জন্য কাফফারা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
Book 30 · Hadith 42 · #3635 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 43
মূসা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... শারীদ ইবন সুআয়দ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার মাতা একটি গোলাম আযাদ করার ওয়াসিয়াত করেছেন। আর আমার নিকট একটি হাবশী দাসী রয়েছে, আমি যদি তাকে আমার মার পক্ষ হতে মুক্ত করি, তবে কি তা যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ তাকে (সেই দাসীকে) আমার নিকট নিয়ে এসো। পরে আমি তাকে তার নিকট নিয়ে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার রব কে? সে বললঃ আমার রব আল্লাহ্। তিনি তাকে বললেনঃ আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ তাকে মুক্ত করে দাও, সে ঈমানদার।
Book 30 · Hadith 43 · #3636 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Isnaad Hasan - 44
হুসায়ন ইবন ঈসা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা'দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার মাতা ইনতিকাল করেছেন, কিন্তু তিনি কোন ওয়াসিয়াত করে যাননি। আমি কি তার পক্ষ হতে সাদাকা করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, (করতে পার)।
Book 30 · Hadith 44 · #3637 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 45
আহমাদ ইবন আযহার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার (আমার) মাতা ইনতিকাল করেছেন। তার পক্ষ হতে আমি সাদাকা করলে তার কি কোন উপকার করবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে বললেঃ আমার একটি বাগান আছে। আমি আপনাকে সাক্ষী রাখলাম, আমি তা তার পক্ষ হতে সাদাকা করলাম।
Book 30 · Hadith 45 · #3638 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 46
হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একদা) তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ আমার মাতা মান্নত (অনাদায়ী) রেখে ইনতিকাল করেছেন, আমি তার পক্ষ হতে দাসমুক্ত করলে তা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তুমি তোমার মাতার পক্ষ হতে গোলাম আযাদ কর।
Book 30 · Hadith 46 · #3639 · Sahih Lighairihi, Sahih, Sahih - 47
মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আবু ইউসুফ সায়দালানী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তাঁর মায়ের মান্নত সম্পর্কে যে, তিনি তা পূর্ণ করার পূর্বেই মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।
Book 30 · Hadith 47 · #3640 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan - 48
মুহাম্মাদ ইবন সাদাকা হিমসী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন তাঁর মাতার মান্নত সম্পর্কে, তিনি তা আদায় করার পূর্বেই ইনতিকাল করেছেন। তিনি বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।
Book 30 · Hadith 48 · #3641 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan - 49
আব্বাস ইবন ওয়ালীদ ইবন মজীদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তার মাতার মান্নত সম্পর্কে, তা আদায় করার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন। তিনি বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।
Book 30 · Hadith 49 · #3642 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 50
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁর মাতার উপর মান্নত ছিল, তা আদায় করার আগেই তিনি মারা যান। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।
Book 30 · Hadith 50 · #3643 · Sahih, Sahih, Hasan - 51
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমার মা তার (অনাদায়ী) মান্নত রেখে ইনতিকাল করলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করলে, তখন (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তার পক্ষ হতে তা আদায় করার আদেশ দিলেন।
Book 30 · Hadith 51 · #3644 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan - 52
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। সা'দ ইবন উবাদা আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মান্নত সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করলেন যা তাঁর মায়ের যিম্মায় ছিল এবং তা তিনি আদায়ের আগে মারা যান। তিনি (রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তার পক্ষ হতে তা আদায় কর।
Book 30 · Hadith 52 · #3645 · Sahih, Sahih, Hasan - 53
হারূন ইবন ইসহাক হামাদানী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ আমার মার উপর মান্নত ছিল, কিন্তু তিনি তা আদায় না করে মারা যান। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তা তার পক্ষ হতে আদায় কর।
Book 30 · Hadith 53 · #3646 · Sahih, Sahih, Hasan - 54
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মুবারক (রহঃ) ... সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা ইনতিকাল করেছেন, আমি কি তার পক্ষ হতে সাদাকা করব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললামঃ কোন্ সাদাকা উত্তম? তিনি বললেনঃ পানি পান করানো (-র ব্যবস্থা করা)।
Book 30 · Hadith 54 · #3647 · Hasan, Hasan, Daif - 55
আবু আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কোন সাদাকা উত্তম? তিনি বললেনঃ পানি পান করানো।
Book 30 · Hadith 55 · #3648 · Hasan, Hasan, Daif - 56
ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... সা'দ ইব্ন উবাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর মাতা ইনতিকাল করলে, তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা ইনতিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ হতে সাদাকা করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি [সা'দ (রাঃ)] বললেনঃ কোন্ সাদাকা উত্তম? তিনি বললেনঃ পানি পান করানো। সেটাই মদীনায় (এখনো) সা'দ (রাঃ)-এর পানি পান করানোর ব্যবস্থাপনা (অব্যাহত রয়েছে)।
Book 30 · Hadith 56 · #3649 · Hasan Lighairihi, Hasan, Daif - 57
আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আবু যর! আমি তোমাকে দুর্বল দেখছি। আর আমি আমার জন্য যা ভালবাসি, তা তোমার জন্যও ভালবাসি। কখনও দুই ব্যক্তির আমীর' (পরিচালক) হবে না এবং ইয়াতীমের মালের ওলী হবে না।
Book 30 · Hadith 57 · #3650 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 58
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আমি গরীব, আমার কিছুই নেই, আর আমার (দায়িত্বে) একজন ইয়াতীম রয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি ইয়াতীমের মাল হতে ভক্ষণ কর; কিন্তু অতিরিক্ত এবং বাহুল্য খরচ করো না, (নাহক খাবে না) আর নিজের জন্য মাল জমা করবে না।
Book 30 · Hadith 58 · #3651 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 59
আহমাদ ইব্ন উসমান ইবন হাকীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন, (وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ) অর্থঃ তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতীত ইয়াতীমের মালের নিকটবর্তী হয়ো না। এবং (إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا) অর্থঃ যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমদের মাল ভক্ষণ করে.....' নাযিল হল, তখন লোক ইয়াতীমের মালের নিকট যাওয়া এবং তাদের খাদ্যের নিকট যাওয়া হতে নিজকে দূরে রাখতে লাগলো। মুসলিমদের জন্য এটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়লো। এ ব্যাপারে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ করলে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেনঃ (وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ إِلَى قَوْلِهِ لَأَعْنَتَكُمْ) পর্যন্ত। (অর্থঃ তারা আপনাকে ইয়াতীমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তাদের জন্য সংযত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করাই উত্তম.....)।
Book 30 · Hadith 59 · #3652 · Hasan, Hasan, Daif - 60
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত (إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى) সম্বন্ধে বলেন, যার তত্ত্বাবধানে ইয়াতীম ছিল, এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর সে ইয়াতীমের খাদ্য, তার পানীয় তার হাঁড়ি-পাতিল সব পৃথক করে দেয়। এটা মুসলিমদের জন্য কঠিন হয়ে পড়লো। তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেনঃ (وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ) অর্থঃ যদি তাদের সাথে মিশ্রিত কর (সম্মিলিত রান্নাবান্না ইত্যাদি...) তবে তারা তো তোমাদের দীনী ভাই-ই। ইয়াতীমের মাল তাদের মালের সাথে মিশ্রিত করার অনুমতি দিলেন।
Book 30 · Hadith 60 · #3653 · Hasan, Hasan, Daif - 61
রবী ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ধ্বংস আনয়নকারী সাত বস্তু হতে আত্মরক্ষা করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি? তিনি বললেন, (তা হল) : ১. আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, ২. যাদু করা, ৩. যে প্রাণ আল্লাহ্ নিষিদ্ধ (মর্যাদাসম্পন্ন করেছেন তা (আইনগত) যথার্থ কারণ ব্যতীত (অন্যায়ভাবে কাউকে) হত্যা করা, ৪. সুদ খাওয়া, ৫. ইয়াতীমের মাল খাওয়া, ৬. যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়ন করা, ৭. মু'মিন (সরলা সতী) মহিলাদের প্রতি ব্যভিচারের (মিথ্যা) অপবাদ দেয়া।
Book 30 · Hadith 61 · #3654 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon