Jami At Tirmidhi

← Jami At Tirmidhi

The Book on Al-Witr

৩৩ হাদিস

  1. 1

    । খারিজা ইবনু হুযাফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা একটি নামায দিয়ে তোমাদের সাহায্য করেছেন। এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম তা হল বিতরের নামায। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য এটা ইশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন —সহীহ। “এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম” এই অংশ বাদে। ইবনু মাজাহ– (১১৬৮)। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, বুরাইদা ও আবু বাসরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ খারিজা ইবনু হুযাফার হাদীসটি গারীব। কেননা এটা আমরা শুধুমাত্র ইয়াযীদ ইবনু আবু হাবীবের সূত্রেই জেনেছি। কিছু মুহাদ্দিস এ হাদীস সম্পর্কে সন্দেহে পড়েছেন এবং আবদুল্লাহ ইবনু রাশিদ আয-যাওফীকে আয-যুরাকী বলে উল্লেখ করেছেন, তা ঠিক নয়। আবু বাসরাহ আল গিফারীর নাম হুমাইল ইবনু বাসরাহ। কোন কোন ব্যক্তি তার নাম জামীল বলেও উল্লেখ করেছেন। তা সঠিক নয়। আরেক আবু বাসরাহ গিফারী রয়েছেন যিনি আবু যার গিফারী থেকে হাদীস বর্ণনা করেও তিনি আবু যারের ভাইপো।

    Book 3 · Hadith 1 · #449 · Sahih, Sahih, Daif
  2. 2

    । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বিতরের নামায তোমাদের ফরয নামাযসমূহের মত অত্যাবশ্যকীয় (ফরয) নামায নয়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ নামায) তোমাদের জন্য সুন্নাতরূপে প্রবর্তন করেছেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ (মুমিনগণ)! তোমরা বিতর আদায় কর। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৬৯)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, ইবনু মাসউদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ‘আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান।

    Book 3 · Hadith 2 · #450 · Sahih, Sahih, Hasan, Daif
  3. 3

    । সুফিয়ান সাওরী ও অন্যান্যরা আবু ইসহাক হতে, তিনি আসিম ইবনু যামরাহ হতে, তিনি ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আলী) বলেছেন, বিতরের নামায ফরয নামাযের মত জরুরী নামায নয়। বরং এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামায। —সহীহ। সহীহুত তারগীব- (৫৯০)। এ হাদীসটি পূর্ববতী আবু বাকার ইবনু আয়্যাশের হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ। মানসূর ইবনু মু'তামিরও এ হাদীসটি আবু ইসহাক হতে আবু বাকার ইবনু আয়্যাশের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

    Book 3 · Hadith 3 · #451 · Daif
  4. 4

    । মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিতর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, তিনি রাতের সকল ভাগেই বিতর আদায় করেছেন, হয় রাতের প্রথম ভাগে অথবা মধ্যভাগে অথবা শেষ ভাগে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিতর ভোর রাত পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৫৮), বুখারী ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুসাইনের নাম উসমান ইবনু আসিম আল-আসাদী এ অনুচ্ছেদে আলী, জাবির, আবু মাসউদ আনসারী ও আবু কাতাদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু "ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল আলিম শেষ রাতেই বিতর আদায় করা পছন্দ করেছেন।

    Book 3 · Hadith 5 · #452 · Sahih, Sahih, Sahih
  5. 5

    । আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের নামাযের সংখ্যা ছিল তের রাকাআত। এর মধ্যে পাঁচ রাকাআত তিনি বিতর আদায় করতেন। এ পাঁচ রাক'আত আদায় শেষ করেই তিনি বসতেন। মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি উঠে হালকা দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২০৯, ১২১০), সালাতুত তারাবীহ, মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা বিতর নামায পাঁচ রাকাআত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এর কোন রাকাআতেই বসবে না, সর্বশেষ রাকাআতে বসবে। আবু ঈসা বলেনঃ “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বা সাত রাকাআত বিতর পড়তেন” এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুসআব আল-মাদীনীকে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, তিনি কিভাবে নয় বা পড়ার পর সালাম ফিরাতেন এবং শেষে এক রাকাআত বিতর পড়তেন।

    Book 3 · Hadith 7 · #453 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif
  6. 6

    । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাক’আত বিতরের নামায আদায় করতেন। তিনি এতে মুফাসসাল সূরাসমূহের নয়টি সুরা পাঠ করতেন, প্রতি রাকাআতে তিনটি করে সূরা পাঠ করতেন, এর মধ্যে সর্বশেষ সূরা ছিল “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ”। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত (১২৮১) এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন, আইশা, ইবনু আব্বাস, আবূ আইউব, আবদুর রহমান ইবনু আবযা উবাই ইবনু কা'ব প্রমুখ সাহাবী হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা তিন রাক‘আত বিতর আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, তুমি চাইলে বিতরের নামায পাঁচ, তিন বা এক রাক’আতও আদায় করতে পার। তিনি আরো বলেছেন, আমি তিন রাকাআত বিতর পড়া পছন্দ করি। ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীগণের অভিমতও ইহাই। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেছেন, তারা (নিজেরা) পাঁচ রাকাআতও আদায় করতেন, তিন রাকাআতও আদায় করতেন এবং এক রাকাআতও আদায় করতেন। তারা এর প্রতিটিকেই উত্তম মনে করেছেন।

    Book 3 · Hadith 8 · #454 · Very Daif, Very Daif, Daif
  7. 7

    । আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আমি কি সকালের দুই রাকাআত (সুন্নাত) দীর্ঘ করতে পারি? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের নামায দুই দুই রাকাআত করে আদায় করতেন এবং এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। অতঃপর দুই রাকাআত (সুন্নাত) আদায় করতেন এমনভাবে যে, তখনও তার কানে আযানের শব্দ আসত অর্থাৎ তিনি সংক্ষিপ্ত করতেন। সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৪৪, ১৩১৮), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ্, জাবির, ফযল ইবনু আব্বাস, আবু আইয়ুব ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী ও তাবিঈ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, দুই রাক’আত আদায় করে সালাম ফিরাবে, পরে এক রাকাআত বিতর আদায় করবে। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ কথা বলেছেন।

    Book 3 · Hadith 9 · #455 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  8. 8

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের প্রথম রাকাআতে “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা", দ্বিতীয় রাকাআতে “কুল ইয়া আয়ুহাল কাফিরূন” ও তৃতীয় রাকাআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" সূরা পাঠ করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৭২)। এ অনুচ্ছেদে আলী, ‘আয়িশাহ, আবদুর রহমান ইবনু আবযা এবং উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। অপর এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের তৃতীয় রাকাআতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন। কিছু সাহাবা ও তাবিঈ ইবনু আব্বাসের হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন।

    Book 3 · Hadith 10 · #456 · Sahih, Sahih, Sahih
  9. 9

    । আবদুল আযীয ইবনু জুরাইজ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামাযে কোন কোন সূরা পাঠ করতেন। তিনি বলেন, তিনি প্রথম রাকাআতে সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা', দ্বিতীয় রাকাআতে কুল ইয়া আয়ুহাল কাফিরূন এবং তৃতীয় রাকাআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরব্বিন-নাস" সূরা পাঠ করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ- (১১৭৩)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গরীব। রাবী আব্দুল আয়ীজ তিনি ইবনু জুরাইজের পিতা 'আতা'র শাগরিদ। ইবনু জুরাইজের নাম আব্দুল মালিক ইবনু আব্দুল আযীজ ইবনু জুরাইজ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদও আমরার সূত্রে, তিনি আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

    Book 3 · Hadith 11 · #457 · Sahih, Sahih, Hasan, Daif
  10. 10

    । আবুল হাওরা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কয়েকটি বাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন। এগুলো আমি বিতরের নামাযে পাঠ করে থাকিঃ "اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّمَا قْضَيْتَ؛ إِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ". “হে আল্লাহ! যাদেরকে তুমি হিদায়াত করেছো আমাকেও তাদের সাথে হিদায়াত কর, যাদের প্রতি উদারতা দেখিয়েছ তুমি তাদের সাথে আমার প্রতিও উদারতা দেখাও। তুমি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ তাদের সাথে আমার অভিভাবকত্বও গ্রহণ কর। তুমি আমাকে যা দান করেছ তার মধ্যে বারকাত দাও। তোমার নির্ধারিত খারাবি হতে আমাকে রক্ষা কর। কেননা তুমিই নির্দেশ দিতে পার, তোমার উপর কারো নির্দেশ চলে না। যাকে তুমি বন্ধু ভেবেছ সে কখনও অপমানিত হয় না। তুমি কল্যাণময়, তুমি সুউচ্চ”। সহীহ। ইরওয়া— (৪২৯), মিশকাত— (১২৭৩), তা’লীক আলা-ইবনু খুজাইমাহ– (১০৯৫), সহীহ আবু দাউদ- (১৪২৫)। এ অনুচ্ছেদে আলী (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এটি হাসান হাদীস। আবুল হাওরার সূত্র ব্যতীত অপর কোন সূত্রে আমরা এ হাদীসটি জানতে পারিনি। আবুল হাওরার নাম বার'আহ ইবনু শাইবান। বিতরে দু'আ কুনুতের ব্যাপারে উল্লেখিত হাদীসের চেয়ে বেশি ভাল হাদীস আমাদের জানা নেই। বিতরের কুনুতের ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, সারা বছর (প্রতি রাতে) বিতরের নামাযে কুনুত পাঠ করতে হবে। তিনি রুকূ করার পূর্বে কুনূত পাঠ করা পছন্দ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞের এটাই মত। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, ইসহাক এবং কুফাবাসীগণও একইরকম মত দিয়েছেন। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি কেবল রামাযান মাসের দ্বিতীয়ার্ধেই রুকূ করার পর কুনূত পাঠ করতেন, অন্য সময়ে কুনুত পাঠ করতেন না। কিছু বিশেষজ্ঞ এ মত দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ এবং আহমাদও এ কথাই বলেছেন।

    Book 3 · Hadith 12 · #458 · Sahih
  11. 11

    । আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিতরের নামায না আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ল অথবা তা আদায় করতে ভুলে গেল সে যেন মনে হওয়ার সাথে সাথে অথবা ঘুম হতে উঠার সাথে সাথে তা আদায় করে নেয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৮৮)।

    Book 3 · Hadith 13 · #459 · Sahih, Sahih, Sahih
  12. 12

    । যাইদ ইবনু আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বিতরের নামায না আদায় করে ঘুমিয়ে গেল সে যেন সকাল বেলা তা আদায় করে নেয়। —সহীহ। ইরওয়া— (৪২২)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসের তুলনায় বেশি সহীহ। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু যাইদকে ‘আলী ইবনু আবদুল্লাহ দুর্বল বলেছেন। বুখারী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু যাইদকে সিকাহ রাবী বলেছেন। একদল কুফাবাসী এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, যখন বিতরের কথা মনে হবে তখনই তা আদায় করে নিবে, এমনকি সূর্য উঠার পরে মনে হলেও। সুফিয়ান সাওরী এই মত পোষণ করেছেন।

    Book 3 · Hadith 14 · #460 · Sahih
  13. 13

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নিবে। সহীহ। ইরওয়া— (২/১৫৪), সহীহ আবু দাউদ- (১২৯০)। আবু ঈসা বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 3 · Hadith 15 · #461 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  14. 14

    । আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নাও। সহীহ। ইবনু মাজাহ- (১১৮৯), মুসলিম।

    Book 3 · Hadith 16 · #462 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  15. 15

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন ভোর হয় তখন রাতের সব নামায এবং বিতরের সময় চলে যায়। অতএব তোমরা সকাল হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নাও। —সহীহ। ইরওয়া- (২/১৫৪), সহীহ আবু দাউদ- (১২৯০)। আবু ঈসা বলেনঃ সুলাইমান ইবনু মূসাই কেবল উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি রিওয়াত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ “সকালের নামাযের পর কোন বিতর নেই।” অনেক বিদ্বানগণের এটাই অভিমত। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক বলেছেন, ফজরের নামাযের পর বিতরের ওয়াক্ত থাকে না।

    Book 3 · Hadith 17 · #463 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  16. 16

    । তলক ইবনু ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এক রাতে দুইবার বিতর নেই। -সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২৯৩)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। যে ব্যক্তি রাতের প্রথম অংশে বিতর আদায় করেছে সে আবার শেষ রাতে নামায আদায় করতে উঠলে তাকে আবার বিতর আদায় করতে হবে কিনা এ ব্যাপারে মনীষীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। একদল সাহাবী ও তাবিঈর মত হল, সে তার বিতর নষ্ট করে দিবে। তারা বলেন, সে আরো এক রাকাআত করবে। সব নামাযের শেষে বিতর আদায় করবে। এ পদ্ধতি মানার কারণ হল, রাতে একবারের বেশি বিতর নেই। ইমাম ইসহাক এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। অপর একদল সাহাবা ও তাবিঈর মত হল, যে ব্যক্তি প্রথম রাতে বিতর আদায় করেছে সে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করতে উঠলে যত রাকাআত ইচ্ছা আদায় করে নিবে। বিতর নষ্ট করার বা আবার আদায় করার প্রয়োজন নেই। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, মালিক, শাফিঈ, কুফাবাসী এবং আহমাদ এ মত দিয়েছেন এবং এই মতই বেশি সহীহ। কেননা একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর আদায় করার পর নফল আদায় করেছেন।

    Book 3 · Hadith 18 · #464 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  17. 17

    । উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের নামাযের পর দুই রাক'আত নামায আদায় করতেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৯৫)। আবু উমামা, আয়িশাহ (রাঃ) ও অন্যান্যরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 3 · Hadith 19 · #465 · Sahih, Sahih, Sahih
  18. 18

    । সাঈদ ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কোন এক সফরে ইবনু উমার (রাঃ)-এর সাথী ছিলাম। আমি (বিতর আদায়ের উদ্দেশ্যে) তার পিছনে থেকে গেলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, বিতর আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, তোমার জন্য কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে অনুসরণীয় আদর্শ নেই? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাওয়ারীর উপর বিতরের নামায আদায় করতে দেখেছি। —সহীহ। বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অন্যান্যরা এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, কোন লোকের জন্য তার বাহনের পিঠে বিতরের নামায আদায় করা জায়িয। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক একই রকম কথা বলেছেন। অপর একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার সাওয়ারীর উপর বিতর আদায় করবে না। যখন সে বিতর আদায় করার ইচ্ছা করবে তখন নীচে নেমে এসে মাটির বুকে বিতর আদায় করবে। কুফাবাসীদের একদল এ মত দিয়েছেন।

    Book 3 · Hadith 20 · #466 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  19. 19

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্বাহ্নের বার রাকাআত নামায আদায় করে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি সোনার প্রাসাদ তৈরী করেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৩৮০) এ অনুচ্ছেদে উম্মু হানী, আবূ হুরাইরা, নুআইম ইবনু হাম্মার, আবূ যার, আইশা, আবূ উমামা, উতবা ইবনু আবদ সুলামী, ইবনু আবী আওফা, আবূ সাঈদ, যাইদ ইবনু আরকাম ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই এ হাদীসটি আমরা জানতে পেরেছি।

    Book 3 · Hadith 21 · #467 · Daif, Daif, Daif
  20. 20

    । আবদুর রহমান ইবনু আবু লাইলা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে এমন কোন লোকই জানায়নি যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্বাহ্নের নামায আদায় করতে দেখেছে। কিন্তু উম্মু হানী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন তার ঘরে গেলেন, অতঃপর গোসল করে আট রাকাআত নামায আদায় করলেন। আমি তাকে এতো সংক্ষিপ্তভাবে আর কখনও নামায আদায় করতে দেখিনি। হ্যাঁ তিনি রুকূ-সিজদা ঠিকমত আদায় করছিলেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৭৯)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম আহমাদের মতে, এ অনুচ্ছেদে উম্মু হানী (রাঃ)-এর হাদীসটি সবচাইতে সহীহ। নু'আইম (রাঃ)-এর পিতার নাম নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতের অমিল আছে। মতান্তরে তার নাম খাম্মার, আম্মার, হাববার, হাম্মাম ও হাম্মার। সঠিক নাম হাম্মার। ঐতিহাসিক আবু নু'আইম ভুলবশত হিমায বলে সন্দীহান হয়েছেন এবং পরে পিতার নাম উল্লেখ বাদ দিয়েছেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ ব্যাপারে আবদ ইবনু হুমাইদ আবু নু'আইম হতে আমাকে অবহিত করেছেন

    Book 3 · Hadith 22 · #468 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  21. 21

    । আবু দারদা ও আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! দিনের প্রথম ভাগে আমার জন্য চার রাক’আত নামায আদায় কর, আমি তোমার দিনের শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন পূরণ করে দিব। —সহীহ। তা’লীকুর রাগীব- (১/২৩৬)। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গরীব।

    Book 3 · Hadith 23 · #469 · Sahih, Sahih, Sahih
  22. 22

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্বাহ্নের জোড়া নামাযের নিয়মিত হিফাযত করে, তার গুনাহ সমুহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তা সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও। যঈফ, মিশকাত (১৩১৮) আবূ ঈসা বলেনঃ ওয়াকী, নাযার ইবনু শুমাইল এবং আরও অনেকে এই হাদীসটি নাহহাস ইবনু কাহম হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমরা তাকে এই হাদীস ছাড়া চিনতে পারিনি।

    Book 3 · Hadith 24 · #470 · Daif, Daif, Daif
  23. 23

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পূর্বাহ্নের নামায আদায় করতেন, এমনকি আমরা বলাবলি করতাম, তিনি কখনও এ নামায ছাড়বেন না। তিনি আবার কখনও এমনভাবে এ নামায ছেড়ে দিতেন, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি হয়ত আর কখনও তা আদায় করবেন না। যঈফ, ইরওয়া (৪৬০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 3 · Hadith 25 · #471 · Daif, Sahih, Daif
  24. 24

    আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর যুহরের পূর্বে চার রাকাআত নামায আদায় করতেন। তিনি বলেছেনঃ এটা এমন একটা সময় যখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আমি এ সময় আমার কোন ভাল কাজ উপরে উঠে যাক এ আকাংখা করি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১১৫৭)। এ অনুচ্ছেদে আলী ও আবু আইয়ূব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু সায়িবের হাদীসটি হাসান গারীব। وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ بَعْدَ الزَّوَالِ لاَ يُسَلِّمُ إِلاَّ فِي آخِرِهِنَّ “বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলে যাওয়ার পর এক সালামে চার রাক"আত নামায আদায় করতেন।

    Book 3 · Hadith 26 · #472 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  25. 25

    আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আল্লাহ তা'আলার কাছে অথবা কোন আদম সন্তানের কাছে কোন প্রয়োজন রয়েছে সে যেন প্রথমে উত্তমরূপে ওযু করে, তারপর দুই রাকাআত নামায আদায় করে, তারপর আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে, তারপর এ দু'আ পাঠ করেঃ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ..... আরহামার রাহিমীন"। অর্থাৎ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি ধৈর্যশীল ও মহামহিম। মহান আরশের মালিক আল্লাহ তা'আলা খুবই পবিত্র। সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার জন্য। (হে আল্লাহ!) আমি তোমার নিকট তোমার রহমত লাভের উপায়সমূহ, তোমার ক্ষমা লাভের কঠিন ওয়াদা, প্রত্যেক ভাল কাজের ঐশ্বর্য এবং সকল খারাপ কাজ হতে নিরাপত্তা চাইছি। হে মহা অনুগ্রহকারী! আমার প্রতিটি অপরাধ ক্ষমা কর, আমার প্রতিটি দুশ্চিন্তা দূর করে দাও এবং যে প্রয়োজন ও চাহিদা তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয় তা পরিপূর্ণ করে দাও।” অত্যন্ত দুর্বল, ইবনু মাজাহ (১৩৮৪) আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসের সনদ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কেননা এ হাদীসের এক রাবী ফাইদ ইবনু আবদুর রহমান হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। ফাইদের উপনাম আবূল ওয়ারকা।

    Book 3 · Hadith 27 · #473 · Very Daif, Very Daif, Daif, Daif
  26. 26

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবে প্রতিটি কাজে আমাদেরকে ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করে তখন সে যেন ফরয ছাড়া দুই রাকাআত নামায আদায় করে নেয়, অতঃপর বলেঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা..... সুম্মা আরফিনী বিহি।" হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্য চাইছি, তোমার শক্তির সাহায্য চাইছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ চাইছি। তুমিই শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী, আমার কোন ক্ষমতা নেই। তুমি অফুরন্ত জ্ঞানের অধিকারী, আমার কোন জ্ঞান নেই। তুমি অদৃশ্যবিষয়ে সম্পূর্ণরূপে ও সম্যকভাবে জানো। হে আল্লাহ! তুমি যদি এ কাজটি আমার জন্য, আমার দীনের দৃষ্টিকোণ হতে, আমার জীবন যাপনের ব্যাপারে এবং আমার কাজের পরিণামের দিক হতে অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেনঃ আমার দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে ভাল মনে কর তবে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দাও এবং আমার জন্য সহজ করে দাও। পক্ষান্তরে তুমি যদি এ কাজটি আমার জন্য আমার দীনের দৃষ্টিকোণ হতে, আমার জীবন যাপনের ব্যাপারে এবং আমার কাজকর্মের পরিণামের দিক হতে, অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেনঃ আমার ইহকাল-পরকালের ব্যাপারে ক্ষতিকর মনে কর, তবে তুমি সে কাজটি আমার থেকে দূরে সরিয়ে দাও। এবং আমাকে তা থেকে বিরত রাখ। যেখান হতে হোক তুমি আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করে দাও।” অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অথবা রাবী বলেন, (এ কাজটির স্থলে) প্রার্থনাকারী যেন নিজের উদ্দিষ্ট কাজের নাম করে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৮০)। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও আবু আইয়ূব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবিরের হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। উল্লেখিত হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুর রহমান ইবনু আবুল মাওয়ালীর সূত্রেই জেনেছি। তিনি মাদীনার একজন শাইখ এবং সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) রাবী। তার নিকট হতে সুফিয়ান একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রহমানের নিকট হতে অনেক ইমামই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হলেন, আব্দুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আবীল মাওয়ালী।

    Book 3 · Hadith 28 · #474 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  27. 27

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উম্মু সুলাইম (রাঃ) একদিন সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি বললেন, আমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিন যা আমি নামাযে পাঠ করব। তিনি বললেনঃ দশবার ‘আল্লাহু আকবার দশবার সুবহানাল্লাহ' এবং দশবার "আলহামদু লিল্লাহ পাঠ কর। অতঃপর তোমার যা খুশি তাই চাও। তিনি (আল্লাহ তা'আলা) বলবেনঃ হ্যা, হ্যা (কুবুল করলাম)। -সনদ সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ফযল ইবনু আব্বাস ও আবু রাফি (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আনাসের হাদীসটি হাসান গারীব। সালাতুত তাসবীহ প্রসঙ্গে রাসূল হতে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু এগুলো খুব একটা সহীহ নয়। ইবনুল মুবারক ও অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সালাতুত তাসবীহ ও তার ফাযীলাত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন। আবু ওয়াহব বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে সালাতুত তাসবীহ প্রসঙ্গে আমি প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার বলবে, অতঃপর “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহ গাইরুকা" পাঠ করবে। অতঃপর পনের বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াল-হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার" পাঠ করবে। অতঃপর আউযু বিল্লাহ, বিসমিল্লাহ এবং সূরা ফাতিহা ও তার সাথে অন্য সূরা পাঠ করবে। অতঃপর দশবার সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার" পাঠ করবে। অতঃপর রুকূতে গিয়ে দশবার, রুকু হতে মাথা তুলে দশবার, সিজদায় গিয়ে দশবার, সিজদা হতে মাথা তুলে দশবার এবং দ্বিতীয় সিজদায় দশবার উক্ত দু’আ পাঠ করবে। এভাবে চার রাকাআত নামায আদায় করবে। এতে প্রতি রাকাআতে পঁচাত্তর বার পাঠ করা হবে। প্রতি রাকাআতের প্রথমে এ দু’আ পনের বার পাঠ করবে, অতঃপর দশবার করে উক্ত দু’আ পাঠ করবে। যদি এ নামায রাতের বেলা আদায় করা হয় তবে আমি প্রতি দুই রাকাআত পর পর সালাম ফিরানো ভাল মনে করি। আর যদি দিনের বেলা আদায় করে তবে চাইলে দুই রাকাআত পর পর বা চার রাকাআত পরও সালাম ফিরাতে পারে। আবু ওয়াহব বলেন, ‘আবদুল আযীয আমাকে জানিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেছেন, রুকু সাজদায় পরযায়ক্রমে তিনবার করে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম' ও 'সুবহানা রব্বিয়াল আলা' পাঠ করার পর উল্লেখিত দু’আ পাঠ করবে। আবদুল আযীয বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে প্রশ্ন করলাম, যদি এ নামাযে ভুল হয়ে যায় তবে ভুলের সিজদাতে উক্ত দু’আ পাঠ করতে হবে? তিনি বললেন, না, এ দু’আ তো মোট তিনশো বার পাঠ করতে হবে। -সহীহ। তা’লীকুর রাগীব

    Book 3 · Hadith 29 · #475 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Sahih
  28. 28

    । আবু রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ হে চাচা! আমি কি আপনার সাথে সদ্ব্যবহার করব না, আমি কি আপনাকে ভালবাসব না, আমি কি আপনার উপকার করব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ ইয়া রাসূলুল্লাহ। তিনি বললেনঃ হে চাচা চার রাকাআত নামায আদায় করুন, প্রতি রাকাআতে সূরা আল-ফাতিহা ও এর সাথে একটি করে সূরা পাঠ করুন। কিরাআত পাঠ শেষ করে রুকূ করার পূর্বে পনের বার বলুন, “আল্লাহু আকবার ওয়ালু হামদু লিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।" অতঃপর রুকুতে গিয়ে দশবার, রুকু হতে মাথা তুলে দশবার, সিজদা্তে গিয়ে দশবার, সিজদা হতে মাথা তুলে দশবার, আবার সিজদা্য় গিয়ে দশবার এবং সিজদা হতে মাথা তুলে দাড়ানোর পূর্বে দশবার এটা পাঠ করুন। এভাবে প্রতি রাকাআতে পচাত্তর বার পাঠ করা হবে, চার রাকাআতে সর্বমোট তিনশো বার হবে। আপনার টিলা পরিমাণ গুনাহ হলেও আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিবেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিদিন এরকম নামায আদায় করতে কে পারবে? তিনি বললেনঃ প্রতিদিন আদায় করতে না পারলে প্রতি শুক্রবারে (সপ্তাহে একবার) আদায় করুন। যদি প্রতি জুমুআয় আদায় করতে না পারেন তবে প্রতি মাসে আদায় করুন। (রাবী বলেন,) তিনি এভাবে বলতে বলতে শেষে বললেনঃ বছরে একবার আদায় করে নিন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১৩৮৬)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।

    Book 3 · Hadith 30 · #476 · Sahih, Sahih, Hasan
  29. 29

    । কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিভাবে সালাম করতে হবে তা আমরা জেনেছি, কিন্তু আপনার প্রতি কিভাবে দুরূদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বলো, “হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ কর যেভাবে ইবরাহীমের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত মর্যাদাবান। (হে আল্লাহ!) তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনদের বারকাত দান কর, যেভাবে তুমি ইবরাহীম ও তার পরিবার-পরিজনদের বারকাত দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।" আবদুর রহমান ইবনু আবু লাইলা বলেন, আমরা "তাদের সাথে আমাদের প্রতিও” শব্দটুকুও বলতাম। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৯০৪), বুখারী ও মুসলিম এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু হুমাইদ, আবু মাসউদ, তালহা, আবু সাঈদ, বুরাইদা, যাইদ ইবনু খারিজা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ কাব ইবনু উজরার হাদীসটি হাসান সহীহ। আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলার উপনাম আবু ঈসা। আর আবু লাইলার নাম ইয়াসার।

    Book 3 · Hadith 31 · #477 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  30. 30

    । আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরূদ পাঠ করেছে। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২৮০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশটি রহমত বর্ষণ করেন এবং তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখে দেন।

    Book 3 · Hadith 32 · #478 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  31. 31

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশটি রহমত বর্ষণ করেন। —সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১৩৬৯), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুর রহমান ইবনু আওফ, আমির ইবনু রবী'আ, আম্মার, আবু তালহা, আনাস ও উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফিয়ান সাওরী ও অপরাপর মনীষী বলেছেন, প্রতিপালক প্রভুর পক্ষ হতে ‘সালাত’ শব্দের অর্থ রহমত’ এবং ফেরেশতাদের পক্ষ হতে সালাতের’ অর্থ ‘ক্ষমা প্রার্থনা।’

    Book 3 · Hadith 33 · #479 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  32. 32

    । উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দুআ আকাশ যমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, তোমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যতক্ষণ তুমি দুরূদ পাঠ না কর ততক্ষণ তার কিছুই উপরে উঠে না। -হাসান। সহীহাহ– (২০৫৩)।

    Book 3 · Hadith 34 · #480 · Hasan, Hasan, Daif
  33. 33

    । আলা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (ইয়াকুব) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ যার দীন প্রসঙ্গে সঠিক জ্ঞান আছে কেবল সেই যেন আমাদের বাজারে ব্যবসা করে। -সনদ হাসান। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবু ঈসা বলেনঃ 'আলা ইবনু আবদুর রহমান তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) ও অন্যান্যদের নিকট হাদীস শুনেছেন। 'আলার পিতা আবদুর রহমানও তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবু হুরাইরা, আবু সাঈদ আল-খুদরী ও ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। আবদুর রহমানের পিতা ইয়াকুব একজন বয়বৃদ্ধ তাবিঈ। তিনি উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং তার নিকট হতেও হাদীস বর্ণনা করেছেন

    Book 3 · Hadith 35 · #481 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan
সব বিষয় · Jami At Tirmidhi