Chapters On Al-Qadar
- 1
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একসময় আমাদের সামনে এসে দেখলেন যে, আমরা তাকদীর বিষয়ক তর্কে-বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি। তিনি ভীষণ রাগান্বিত হলেন, এতে তার মুখমণ্ডল এমন লালবর্ণ ধারণ করল যেন তার দুই গালে ডালিম নিংড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি এজন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছ, না আমি তোমাদের প্রতি এটা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি? এ বিষয়ে তোমাদের পূর্ববর্তী জনগণের যখনই বাক-বিতণ্ডা করেছে তখনই তারা ধ্বংস হয়েছে। আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে তোমাদেরকে বলছিঃ তোমরা এ বিষয়ে কখনো যেন বিতর্কে লিপ্ত না হও। হাসান, মিশকাত (৯৮, ৯৯)। আবূ ঈসা বলেন, উমার, আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ বিষয়ে সালিহ আল-মুররীর বর্ণনা ব্যতীত আর কিছু জানি না। তার আরো কিছু গারীব পর্যায়ভুক্ত একক বর্ণনা আছে।
Book 32 · Hadith 1 · #2084 · Hasan, Hasan, Daif - 2
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (রূহ জগতে) আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হন। মূসা (আঃ) আদম (আঃ)-কে বলেনঃ আপনি তো সেই আদম, যাকে আল্লাহ তা'আলা নিজ হাতে বানিয়েছেন এবং আপনার মধ্যে তার রূহ সঞ্চার করেছেন। আর আপনিই মানবজাতির বিপথগামী ও তাদেরকে জান্নাত হতে বহিষ্কারের কারণ হলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আদম (আঃ) বললেনঃ আপনিই তো মূসা, আল্লাহ তা'আলা তার সাথে কথা বলার জন্য আপনাকে মনোনীত করেছেন। আপনি এরূপ একটি কাজের জন্য আমাকে অভিযুক্ত করছেন, যা করার সিদ্ধান্তকে আল্লাহ তা'আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির পূর্বেই আমার জন্য লিখে রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর সেই বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৮০), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উমার ও জুনদাব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং সুলাইমান আত-তাইনী-আমাশের সূত্রে গারীব। আর আমাশের কিছু শিষ্য-আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর কিছু বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
Book 32 · Hadith 2 · #2085 · Sahih, Sahih, Sahih - 3
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমলের ক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি? আমরা যেসব কাজ করি তা কি নতুনভাবে ঘটল না আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে? তিনি বললেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! তা আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে। আর সকলের করণীয় বিষয় সহজ করে রাখা হয়েছে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত তারা অবশ্যই সাওয়াবের কাজ সম্পাদন করে আর যারা দুর্ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত তারা দুর্ভাগ্যজনক কাজই সম্পাদন করে থাকে। সহীহ, যিলালুল জান্নাহ (১৬১, ১৬৭)। আবূ ঈসা বলেন, আলী, হুযাইফা ইবনু উসাইদ, আনাস ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 32 · Hadith 3 · #2086 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 4
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অবস্থান করছিলাম। তিনি তখন কাঠি দিয়ে মাটির মধ্যে দাগ কাটছিলেন। হঠাৎ আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন ব্যক্তি নেই যার ঠিকানা জাহান্নামে বা জান্নাতে চিহ্নিত করে বা লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়নি। তারা প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তাহলে আমরা কি (সেই লেখার উপর) নির্ভর করে থাকবো না? তিনি বললেনঃ না, বরং কাজ সম্পাদন করতে থাক। কেননা, যাকে যে কাজের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেয়া হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৭৮), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 32 · Hadith 4 · #2087 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 5
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, আর তিনি তো সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃতঃ তোমাদের সকলেই তার মায়ের গর্ভে সৃষ্টির চল্লিশদিন পর্যন্ত (জমাট বাঁধা) শুক্ররূপে সমন্বিত হতে থাকে, তারপর রক্তপিণ্ডরূপে চল্লিশদিন বিদ্যমান থাকে, তারপর অনুরূপ দিনে গোশতপিণ্ডের রূপ ধারণ করে। তারপর আল্লাহ তা'আলা তার নিকট একজন ফিরিশতা প্রেরণ করেন এবং তার মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন। আর চারটি বিষয়ে তাকে আদেশ করা হয়। সুতরাং তার রিযিক, মৃত্যু, তার কার্যক্রম এবং সে সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান এই বিষয়গুলো সেই ফিরিশতা লিখে দেন। সেই সত্তার শপথ, যিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই! তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি জান্নাতীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র একহাত ব্যবধান থাকে। এমতাবস্থায় তার সেই ভাগ্যের লেখা তার সামনে উপস্থাপন করা হয়, তখন জাহান্নামীদের আমলের উপর তার পরিসমাপ্তি ঘটে, ফলে সে জাহান্নামেই চলে যায়। আর তোমাদের কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের কর্ম সম্পাদন করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে। এমতাবস্থায় তার সামনে ভাগ্যের সেই লেখা এসে। হাযির হয় এবং জান্নাতীদের আমলের উপর তার পরিসমাপ্তি ঘটে, ফলে সে জান্নাতে চলে যায়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৭৬), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু ইবনু ওয়াহব হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন...... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বর্ণনাকারী বলেন, আহমাদ ইবনুল হাসানকে আমি বলতে শুনেছি, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বলতে শুনেছিঃ আমি আমার চোখে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের মতো ব্যক্তিত্ব আর দেখিনি। এই সনদসূত্রে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। আমাশের সূত্রে শুবা ও সাওরীও একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আলা ওয়াকী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি যাইদ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
Book 32 · Hadith 5 · #2088 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 6
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার বিধানের অনুগত হিসাবেই প্রত্যেকটি সন্তান জন্ম নেয়। তারপর তার বাবা-মা তাকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান অথবা মুশরিক হিসাবে গড়ে তোলে। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। যেসব সন্তান এর আগেই (শিশু থাকাবস্থায়) মৃত্যুবরণ করে? তিনি বললেনঃ তারা (জীবিত থাকলে) কি ধরনের আমল করত সে বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা অধিক অবগত। সহীহ, ইরওয়া (১২২০), বুখারী, মুসলিম। উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে আবূ কুরাইব ও হুসাইন ইবনু হুরাইস হতে, তারা ওয়াকী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। আর এই হাদীসে “ইউলাদু আলাল-মিল্লাতি”-এর স্থলে “ইউলাদু আলাল ফিতরাতি” (প্রকৃতিগত স্বভাবের উপর জন্ম নেয়) বাক্য এসেছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটি শুবা ও অন্যান্যরা আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তাতেও “ইউলাদু আলাল ফিতরাতি” উল্লেখ আছে। আসওয়াদ ইবনু সারী হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 32 · Hadith 6 · #2089 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 7
। সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'আ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না। হাসান, সহীহাহ (১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ উসাইদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান এবং সালমান (রাঃ)-এর বর্ণনা হিসাবে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইয়াহইয়া ইবনুষ যুরাইসের সূত্রে জেনেছি। আবূ মাওদূদ দুই ব্যক্তি। এ দুজনের মধ্যে একজনের নাম ফিযযাহ, আল-বাসরী যিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্যজন হলেন আবদুল আযীয ইবনু আবী সুলাইমান আল-মাদানী। আর তারা ছিলেন সমসাময়িক।
Book 32 · Hadith 7 · #2090 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 8
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা ঈমান এনেছি আপনার উপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর। আপনি আমাদের ব্যাপারে কি কোনরকম আশংকা করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা, আল্লাহ তা'আলার আঙ্গুলসমূহের মধ্যকার দুটি আঙ্গুলের মাঝে সমস্ত অন্তরই অবস্থিত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৮৩৪)। আবূ ঈসা বলেন, নাওয়াস ইবনু সাম্আন, উম্মু সালামা, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। আমাশ-আবৃ সুফিয়ান হতে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ আমাশ-আবৃ সুফিয়ান হতে, তিনি জাবির (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ সুফিয়ানের বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
Book 32 · Hadith 8 · #2091 · Sahih, Sahih, Daif - 9
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি গ্রন্থ তার দুই হাতে নিয়ে আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা এই দুটি গ্রন্থের ব্যাপারে কি জান? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তবে যদি আপনি আমাদেরকে জানিয়ে দিন। তিনি তার ডানহাতের গ্রন্থের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটা রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে একটি কিতাব। এতে জান্নাতী সকল ব্যক্তির নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম ও তাদের গোত্রের নাম লিখা আছে। আর শেষে এর যোগফল রয়েছে এবং এতে কম-বেশি করা হবে না। তারপর তিনি তার বামহাতের গ্রন্থের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে একটি গ্রন্থ। এতে জাহান্নামী সকল ব্যক্তির নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম ও গোত্রের নাম লিখা আছে। এর শেষেও যোগফল রয়েছে। এতে কখনো কমানো-বাড়ানো হবে না। তার সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। বিষয়টি এরূপভাবেই চূড়ান্ত হয়ে থাকলে তবে আর আমলের কি প্রয়োজন? তিনি বললেনঃ তোমরা সঠিক পথে থেকে সঠিকভাবে কাজ করতে থাক এবং আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য হাসিলে চেষ্টা কর। কেননা, জান্নাতী লোকের শেষ মুহুর্তের আমল জান্নাতীদের আমলই হবে, সে পূর্বে যে আমলই করুক না কেন। আবার জাহান্নামীর শেষ মুহুর্তের কাজ জাহান্নামীদের আমলই হবে, সে পূর্বে যে আমলই করুক না কেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুইহাতে ইশারা করেন এবং কিতাব দুটি ফেলে দিয়ে বলেনঃ তোমাদের প্রভু তার বান্দাহদের আমল চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। একদল জান্নাতে প্রবেশ করবে আর অন্যদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে। হাসান, মিশকাত (৯৬), সহীহাহ (৮৪৮), আযযিলা-ল (৩৪৮)। কুতাইবা-বাকর ইবনু মুযার হতে, তিনি আবূ কাবীল (রাহঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আর আবূ কবীলের নাম হুয়াই ইবনু হানী।
Book 32 · Hadith 9 · #2092 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 10
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যদি তার কোন বান্দার কল্যাণ করার ইচ্ছা করেন তাহলে তাকে কাজ করার তাওফিক প্রদান করেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কিভাবে তাকে কাজ করার তাওফিক দেন? তিনি বললেনঃ তিনি সেই বান্দাহকে মারা যাবার আগে সৎকাজের সুযোগ দান করেন। সহীহ, আর-রাওযুন নাযীর (২/৮৭), মিশকাত (৫২৮৮), আযযিলা-ল (৩৯৭-৩৯৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 32 · Hadith 10 · #2093 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 11
ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কোন কিছুই অন্য কিছুকে সংক্রমণ করতে পারে না। কোন এক মফস্বলের লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। যে উটের লিঙ্গে চর্মরোগ আছে সে তো সব উটকেই চর্মরোগাক্রান্ত করে ফেলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে প্রথম উটটিকে কে চর্মরোগাক্রান্ত করেছিল? ছোয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই এবং সফর মাসকেও অশুভ বলে ভাবার মতো কিছু নেই। আল্লাহ তা'আলা সকল প্রাণী সৃষ্টি করেছেন এবং তার জীবনকাল, রিযিক ও বিপদাপদ সবকিছু লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। সহীহ, সহীহাহ (১১৫২)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আমি মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু সাফওয়ান আস-সাকাকী আল-বাসরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছিঃ আমি রুকনে ইয়ামানী ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝখানে দাড়িয়ে শপথ করে বলতে পারি যে, আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী হতে অধিক বড় আলিম আমি আর দ্বিতীয়জন দেখিনি।
Book 32 · Hadith 11 · #2094 · Sahih, Sahih, Sahih - 12
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দাহই মু'মিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত না সে তাকদীর ও তার ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনবে। এমনকি তার নিশ্চিত বিশ্বাস থাকতে হবে যে, যা কিছু ঘটেছে তা কিছুতেই অঘটিত থাকত না এবং যা কিছু ঘটে নাই তা কখনোও তাকে স্পর্শ করবে না। সহীহ, সহীহাহ (২৪৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, উবাদা, জাবির ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু মাইমূনের সূত্রেই জেনেছি। আর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাইমূন মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)।
Book 32 · Hadith 12 · #2095 · Sahih, Sahih, Hasan - 13
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকই ঈমানদার হতে পারবে না যে পর্যন্ত না সে চারটি বিষয়ের উপর ঈমান আনবেঃ (১) সে এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং আমি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাকে সত্যসহকারে প্রেরণ করেছেন; (২) মৃত্যুর উপর ঈমান আনবে; (৩) মৃত্যুর পর পুনরুথানে ঈমান আনবে এবং (৪) তাকদীরের উপর ঈমান আনবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৮১)। মাহমূদ ইবনু গাইলান-নাযার ইবনু শুমাইল হতে, তিনি শুবা (রহঃ) হতে উপরের হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এই সূত্রে রিবঈ জনৈক লোকের সূত্রে আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, নাযারের বর্ণিত হাদীসের চাইতে আবূ দাউদ কর্তৃকশুবা (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। মানসূর-রিবঈ হতে, তিনি আলী (রাঃ)-এর সূত্রে আরো একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। জারূদ আমাদেরকে বলেছেন, আমি ওয়াকীকে বলতে শুনেছিঃ আমি অবগত হয়েছি যে, রিবঈ ইবনু হিরাশ (খিরাশ) তার ইসলামী জীবনে কখনোও একটি মিথ্যা কথাও বলেননি।
Book 32 · Hadith 13 · #2096 · Sahih, Sahih, Daif - 14
। মাতার ইবনু উকামিস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন যে জায়গায় কারো মৃত্যু হওয়ার ফায়সালা করেন, তখন ঐ জায়গায় গমনের উদ্দেশ্যে তার কোন প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন। সহীহ, মিশকাত (১১০), সহীহাহ (১২২১)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ আযযা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মাতার ইবনু উকামিস (রাঃ)-এর এই হাদীসটি ছাড়া আর কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই। উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস মাহমূদ ইবনু গাইলান মুআম্মাল ও আবূ দাউদ আল-হুফারী-সুফিয়ান (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে।
Book 32 · Hadith 14 · #2097 · Sahih, Sahih, Sahih - 15
। আবূ আযযা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা কোন জায়গায় কোন বান্দাহর মৃত্যু হওয়া অবধারিত করেন তখন তার জন্য সেই জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। আবূ আযযা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য পেয়েছেন। তার নাম ইয়াসার ইবনু আবদ। আবূল মালীহ-এর নাম আমির ইবনু উসামা ইবনু উমাইর আল-হুযালী। তিনি যাইদ ইবনু উসামা নামেও পরিচিত।
Book 32 · Hadith 15 · #2098 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 16
। আবূ খিযামা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলেন, আমরা এই যে ঝাড়ফুঁক করাই বা ঔষধ ব্যবহারে চিকিৎসা গ্রহণ করি বা অন্য কোন উপায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেই এগুলো কি আল্লাহ তা'আলা নির্ধারিত ভাগ্যের কিছু বাতিল করতে পারে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের এসব চেষ্টা-তদবীরও আল্লাহ তা'আলা নির্ধারিত ভাগ্যের অন্তর্গত। যঈফ, (১৯৮৩) নং হাদীস পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি যুহরী ব্যতীত আরো কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমরা জানি না। অবশ্য একাধিক রাবী এ হাদীসটি সুফিয়ান (রহঃ)-এর সূত্রে যুহরী হতে তিনি আবূ খিযামা হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি অনেক বেশী সহীহ। আর অনেকেই যুহরী (রাহঃ) হতে তিনি আবূ খিযামা হতে তার পিতার সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন।
Book 32 · Hadith 16 · #2099 · Daif, Daif, Daif - 17
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের দুই ধরনের লোক, যাদের জন্য ইসলামের কোন অংশ নেইঃ মুরজিআ ও কাদারিয়া। যঈফ, মিশকাত (১০৫) আযযিলাল (৩৩৪, ৩৩৫) আবূ ঈসা বলেন, এই অনুচ্ছেদে উমার, ইবনু উমার ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি-মুহাম্মাদ ইবনু বিশর হতে তিনি সাল্লাম ইবনু আবূ আমরাহ হতে তিনি ইকরিমা হতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু বিশর-আলী ইবনু (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন।
Book 32 · Hadith 17 · #2100 · Daif, Daif, Daif - 18
। আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতা শিখখীর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম-সন্তানের রূপক আকৃতির সাথে তার পাশেই থাকে নিরানব্বই ধরনের মৃত্যু সংঘটিত হওয়ার মতো বিপদ। সে এ সকল বিপদ অতিক্রম করে যেতে পারলে উপনীত হয় বার্ধক্যে, অবশেষে মারা যায় (বার্ধক্য ও মৃত্যুর বিপদ হতে আর মুক্তি পায় না)। হাসান, মিশকাত (১৫৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এই সূত্র ব্যতীত হাদীসটি প্রসঙ্গে আমাদের জানা নেই।
Book 32 · Hadith 18 · #2101 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 19
। সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম-সন্তানের জন্য আল্লাহ যা ফায়সালা করে রেখেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকাই হল তার সৌভাগ্য। আর আল্লাহ তা'আলার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করা ছেড়ে দেয়াই হচ্ছে তার দুর্ভাগ্য এবং আল্লাহ তা'আলার ফায়সালার উপর নাখোশ হওয়াও তার দুর্ভাগ্য। যঈফ, যঈফা (১৯০৬), তা’লীকুর রাগীব (১/২৪৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনু আবূ হুমাইদের সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি। তাকে হাম্মাদ ইবনু আবূ হুমাইদও বলা হয়। তিনি হলেন আবূ ইবরাহীম আল-মাদানী। হাদীসবেত্তাদের মতে তিনি তেমন মজবুত রাবী নন।
Book 32 · Hadith 19 · #2102 · Daif, Daif, Daif - 20
। নাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট একটি লোক এসে বলল, অমুকে আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি জানতে পারলাম, সে নাকি বিদ'আতী। সে যদি প্রকৃতপক্ষেই তা-ই হয় তাহলে আমার পক্ষ হতে তাকে সালাম বলবে না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতের কাদারিয়া তাকদীর অস্বীকারকারী আকীদা পোষণকারীদের মধ্যে ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি ঘটবে। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৪০৬১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ সাখরের নাম হুমাইদ ইবনু যিয়াদ।
Book 32 · Hadith 20 · #2103 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 21
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে ভাগ্য অবিশ্বাসীদের উপর ভূমিধস ও চেহারা বিকৃতির বিপদ সংঘটিত হবে। হাসান, সহীহাহ (৪/৩৯৪)।
Book 32 · Hadith 21 · #2104 · Hasan - 22
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছয় শ্রেণীর লোককে আমি অভিসম্পাত করছি। আল্লাহ তা'আলা এবং সকল নবী (আঃ) এদেরকে অভিসম্পাত করেছেন। তারা হলঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাবের বিকৃতিসাধনকারী, আল্লাহ তা'আলা নির্ধারিত তাকদীর অস্বীকারকারী, আল্লাহ যাকে অপদস্ত করেছেন তাকে সম্মানিত করার এবং যাকে ইজ্জত দিয়েছেন তাকে অপমান করার জন্য ক্ষমতা দখলকারী, আল্লাহ তা'আলার হেরেমে (হেরেম শরীফে) রক্তপাতকারী, আমার বংশধরের রক্তপাত আল্লাহ তা'আলা যা হারাম করেছেন তার রক্তপাতকারী এবং আমার প্রদর্শিত পথ (সুন্নাত) ত্যাগকারী। যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ (৪৪) আবূ ঈসা বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আবূল মাওয়ালী উপরোক্ত হাদীস উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মাওহিব হতে তিনি আমরাহ হতে তিনি আইশা (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, হাফস ইবনু গিয়াস প্রমুখ-উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মাওহিব হতে তিনি আলী ইবনুল হুসাইন হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস মুরসালরুপে বর্ণনা করেছেন এবং এই সূত্রটিই বেশী সহীহ।
Book 32 · Hadith 22 · #2105 · Isnaad Hasan - 23
আবদুল ওয়াহিদ ইবনু সুলাইম (রহঃ) বলেন, আমি মক্কায় যাওয়ার পর আতা ইবনু আবী বাবাহর সাথে দেখা করলাম এবং তাকে বললাম, হে আবূ মুহাম্মাদ বাসরায় বসবাসকারীরা তো ভাগ্য সম্পর্কে এ ধরনের অস্বীকারমূলক কথা-বার্তা বলছে। তিনি বললেন, হে বৎস! তুমি কি কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে সূরা যুখরুফ' তিলাওয়াত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন এ আয়াত পাঠ করলামঃ “হা-মীম! সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ! নিশ্চয়ই আমরা তা অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআনরূপে, যাতে তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার। তা সংরক্ষিত রয়েছে আমার নিকট একটি মূল কিতাবে, এতো অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন মহান বিজ্ঞানময়" (সূরাঃ যুখরুফ - ১-৪)। তিনি প্রশ্ন করেন, তুমি জান, মূল কিতাব কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা একটি মহাগ্রন্থ যা আল্লাহ তা'আলা আসমান-যমীন সৃষ্টির আগেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাতে এ কথা লিখা আছে যে, ফিরআউন জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আর তাতে এ কথাও লিখা আছে যে, আবূ লাহাবের দুটি হাত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সে নিজেও ধ্বংস হয়েছে। আতা (রাহঃ) বলেন, তারপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ)-এর ছেলে ওয়ালীদের সাথে দেখা করে তাকে প্রশ্ন করি, আপনার পিতা তার মৃত্যুকালে আপনাকে কি কি উপদেশ দিয়ে গেছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে সামনে ডেকে বললেন, হে বৎস! আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর আর জেনে রাখ, যে পর্যন্ত তুমি আল্লাহ্ তা'আলার উপর বিশ্বাস না আনবে এবং ভাগ্য ও তার ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস না আনবে তুমি সে পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলার ভয় অর্জন করতে সক্ষম হবে না। এ বিশ্বাস ব্যতীত তোমার মৃত্যু হলে তুমি জাহান্নামী হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে তাকে আদেশ করেনঃ লিখ। কলম বলল, কি লিখব? তিনি বললেনঃ তাকদীর লিখ, যা হয়েছে এবং অনন্তকাল পর্যন্ত যা হবে সবকিছুই। সহীহ, সহীহাহ (১৩৩) তাখরীজুত ত্বাহাবীয়াহ (২৩২), মিশকাত (৯৪), আযযিলাল (১০২, ১০৫)। আবূ ঈসা বলেন, উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব।
Book 32 · Hadith 23 · #2106 · Sahih, Sahih, Daif - 24
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ ও যামীন সৃষ্টির পঞ্চাশহাজার বছর আগেই মাখলুকাতের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। সহীহ, মুসলিম (৮/৫১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
Book 32 · Hadith 24 · #2107 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 25
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কুরাইশ মুশরিকগণ কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসে। তারা ভাগ্যের ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক করছিল। তখন এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়ঃ “যেদিন তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে, (আর বলা হবে) জাহান্নামের যন্ত্রণার স্বাদ গ্রহণ কর। আমরা প্রতিটি বস্তু নির্ধারিত পরিমাণে (ভাগ্য) সৃষ্টি করেছি" (সূরা কামারঃ ৪৮-৪৯)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৮৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 32 · Hadith 25 · #2108 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 26
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খিয়ানাতকারী পুরুষ ও নারীর সাক্ষ্য, যেনার অপবাদ আরোপের শাস্তি ভোগকারী পুরুষ ও নারীর সাক্ষ্য, বিপক্ষের প্রতি শত্রুতা পোষণকারীর সাক্ষ্য, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সাক্ষ্য, কোন পরিবারের পক্ষে তাদের অধীনস্থ লোকদের সাক্ষ্য এবং ওয়ালাআ ও আত্মীয়তার মিথ্যা পরিচয়দানের অপবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফাযারী বলেন, “আল-কানি” শব্দের অর্থ অধীনস্থ। যঈফ, ইরওয়া (২৬৭৫) মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৭৮১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইয়াযীদ ইবনু যিয়াদ আদ-দিমাশকীর সূত্রেই এই হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। ইয়াযীদ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল হিসাবে গণ্য। তার সূত্র ব্যতীত যুহরী (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবেও আমরা এ হাদীস জানতে পারিনি। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত অর্থ সম্পর্কেও আমাদের কিছু জানা নেই এবং এর সনদসূত্রও আমাদের মতে সহীহ নয়। বিশেষজ্ঞ আলিমগণের এ হাদীস অনুযায়ী কর্মপন্থা এই যে, নিকটাত্নীয়ের পক্ষে অপর নিকটাত্মীয়ের সাক্ষ্য বৈধ হবে। তবে সন্তানের সাক্ষ্য পিতার পক্ষে এবং পিতার সাক্ষ্য সন্তানের পক্ষে জায়িয কি না এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে মতের অমিল আছে। বেশিরভাগ আলিমের মতে পিতার পক্ষে সন্তানের সাক্ষ্য এবং সন্তানের পক্ষে পিতার সাক্ষ্য জায়িয নয়। কোন কোন আলিমের মতে আদেল অর্থাৎ ন্যায়নিষ্ঠ হলে সন্তানের সাক্ষ্য পিতার অনুকূলে এবং পিতার সাক্ষ্য সন্তানের পক্ষে জায়িয। আর ভাইয়ের পক্ষে ভাইয়ের সাক্ষ্য এবং নিকটাত্মীয়ের সাক্ষ্য অপর নিকটাত্মীয়ের পক্ষে জায়িয হওয়ার বিষয়ে কোন মতভেদ নেই। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে শত্রুর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, সে আদেল অর্থাৎ ন্যায়নিষ্ঠ হলেও। তিনি তার মতের সমর্থনে আবদুর রহমান ইবনুল আ'রাজ (রাহঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত হাদীস পেশ করেছেনঃ “বিদ্বেষ পোষণকারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়”। অনুরুপ “লা তাজুুযু শাহাদাতু গিমরিন” মর্মও তাই।
Book 32 · Hadith 14 · #2109 · Daif, Daif, Daif, Daif