The Book on Faith
- 1
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই”-এর স্বীকারোক্তি না করা পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তারা এটা বললে (একত্ববাদে ঈমান আনলে) তাদের রক্ত (জান) ও সম্পদ আমার থেকে নিরাপদ হবে। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা (অর্থাৎ- অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে)। আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহ তা'আলার দায়িত্বে। সহীহ মুতাওয়াতিরঃ ইবনু মা-জাহ (৭১), বুখারী ও মুসলিম। জাবির, আবূ সাঈদ ও ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 1 · #2556 · Sahih Mutawatir, Sahih Mutawatir, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 2
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্ৰধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না "আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই" এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই" সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা'আলার দায়িত্বে। আবূ বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ নামায ও যাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। কেননা যাকাত সম্পদের হাক্ক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। তারপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবূ বাকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ। সহীহঃ সহীহাহ (৪০৭), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শু'আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ভুল। 'ইমরানের ব্যাপারে মা'মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে।
Book 40 · Hadith 2 · #2557 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 3
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ তা'আলার বান্দা ও তার রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামায আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে। সহীহঃ সহীহাহ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ। মুআয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। ইয়াহইয়া (রাহঃ) হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
Book 40 · Hadith 3 · #2558 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 4
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ধ্ৰু বলেছেনঃ পাচটি ভিত্তির উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিতঃ (১) এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) রামাযানের রোযা রাখা ও (৫) বাইতুল্লাহর হাজ্জ্ব সম্পাদন করা। সহীহঃ ইরওয়াহ (৭৮১), ঈমান আবী উবাইদ (২), রাওযুন নায়ীর (২৭০) জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বরাতে একাধিক সূত্রে রাসূলুল্লাহ হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। সুআইর ইবনু খিমস হাদীস বিশারদগণের মতে সিকাহ বর্ণনাকারী। আবূ কুরাইব-ওয়াকী হতে, তিনি হানযালা ইবনু আবূ সুফইয়ান আল-জুমাহী হতে, তিনি ইকরিমাহ ইবনু খালিদ আল-মাখযুমী হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে। এই সনদে বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 4 · #2559 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 5
। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার (রহঃ) হতে বর্ণিত, তাকদীর মতবাদের ব্যাপারে সর্বপ্রথম মা'বাদ আল-জুহানীই কথা বলেন। কোন এক সময় আমি ও হুমাইদ ইবনু আব্দুর রাহমান আল-হিময়ারী মাদীনায় আসলাম এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেলে এসব লোকেরা যে নতুন কথা বের করেছে সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতাম। আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর দেখা পেলাম। তিনি মাসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। আমি ও আমার সাথী গিয়ে তার পাশে পাশে চললাম। আমি মনে করলাম আমার সঙ্গী আমার উপরি কথা বলার দায়িত্ব দিবেন। তাই আমি বললাম, হে আবূ আব্দুর রাহমান! কিছু সংখ্যক লোক কুরআন তিলাওয়াত করে, জ্ঞানও অন্বেষণ করে, কিন্তু তাদের ধারণায় তাকূদীর বলতে কিছু নেই, যা কিছু হচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, তাদের সাথে তোমার দেখা হলে বলবে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পক নেই এবং তারাও আমার হতে সম্পর্ক মুক্ত। তারপর ইবনু উমর (রাযিঃ) আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে বলেন, তাদের কেউ উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ দান-খাইরাত করলেও তা গ্রহণ করা হবে না, তাকদীিরের ভাল-মন্দের উপর যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনবে। তারপর তিনি বললেন, "উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন, কোন এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ -এর সামনে বসে ছিলাম। এমন সময় সাদা ধবধবে জামা পরা এবং কালো কুচকুচে চুলধারী এক লোক এসে উপস্থিত। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্নও ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউই তাকে চিনতে পারলো না। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এসে তার হাটুদ্বয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি? তিনি বললেনঃ ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুলে, কিতাবসমূহে, রাসূলগণে, পরকালে এবং তাকদীিরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, ইসলাম কি? তিনি বললেনঃ এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দাহ ও তার রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হাজ্জ্ব আদায় করা এবং রামাযানের রোযা রাখা। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ইহসান কি? তিনি বললেনঃ তুমি (এমনভাবে) আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করবে যেন তুমি তাকে দেখছো। তুমি যদি তাকে না দেখ তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই তিনি বলতেন, আপনি সত্যই বলেছেন। তার এই আচরণে আমরা অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সমর্থন করছেন। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, কখন কিয়ামত সংঘটিত হবে? তিনি এবার বললেনঃ জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এই ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চাইতে বেশি কিছু জানে না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, এর নিদর্শনগুলো কি কি? তিনি বললেনঃ যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং খোলা পা, উলঙ্গ শরীরের অভাবী মেষপালক রাখালগণকে বিশাল দালান-কোঠার প্রতিযোগিতায় গর্ব করতে দেখবে। উমর (রাযিঃ) বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিন পর আমার সাক্ষাৎ পেয়ে প্রশ্ন করেনঃ হে উমার! তুমি কি জানো, ঐ প্রশ্নকারী কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে ধর্মীয় অনুশাসন শিখাতে এসেছিলেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৬৩), মুসলিম। উক্ত মৰ্মে আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ-ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি কাহমাস ইবনুল হাসান (রহঃ) সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-মুআয ইবনু হিশাম-কাহমাস (রাযিঃ) সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি একাধিকসূত্রে উমার (রাযিঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণিত হলেও সঠিক সনদসূত্র হলো ইবনু উমার-উমার (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
Book 40 · Hadith 5 · #2560 · Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 6
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল কাইস বংশের একটি প্রতিনিধিদল এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলে, আমরা রাবীআ বংশের লোক। আমরা আপনার নিকট হারাম মাসগুলো ছাড়া আসতে পারি না। সুতরাং আমাদেরকে এমন কতগুলো বিষয়ের আদেশ করুন, যা আমরা ধারণ করতে পারি এবং যারা আমাদের পিছনে আছে তাদেরকেও সেগুলোর দাওয়াত দিতে পারি। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ করছিঃ আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান আনয়ন, তারপর এই কথার ব্যাখ্যা করে বললেনঃ এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই, আমি আল্লাহর রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত দেয়া এবং গানীমাতের সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (বাইতুল মালে) প্রদান করা। সহীহঃ ঈমান আবী উবাইদ, পৃষ্ঠা (৫৮-৫৯), মুসলিম। কুতাইবা-হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি আবু হামযা হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরের হাদীসের মতো বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হামযা আয-যুবাঈর নাম নাসর ইবনু ইমরান। এই হাদীসটি আবূ হামযার সূত্রে শুবাহ (রাহঃ)ও বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে এভাবে আছে, তোমরা কি অবগত আছো যে, ঈমান কি? এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল..... তারপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কুতাইবা ইবনু সাঈদ বলেন, আমি নিম্নবর্ণিত চারজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফকীহর মতো আর কাউকে দেখিনিঃ মালিক ইবনু আনাস, আল-লাইস ইবনু সাদ, আব্বাদ ইবনু আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী ও আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী (রাহঃ)। কুতাইবাহ আরো বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট যে, আমরা প্রতি দিন আব্বাদ ইবনু আব্বাদের নিকট হতে দুটি করে হাদীস সংগ্রহ করে ফিরবো। আব্বাদ হলেন আল-মুহাল্লাব ইবনু আবূ সুফরার বংশধর।
Book 40 · Hadith 6 · #2561 · Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 7
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার চরিত্র ভালো এবং যে নিজ পরিবার-পরিজনের সাথে দয়ার্দ্র ব্যবহার করে সে-ই ঈমানের দিক হতে পরিপূর্ণ মুমিন। যঈফ, সহীহা (২৮৪) হাদীসের আওতায় এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি সহীহ। আবূ কিলাবা (রাহঃ) আইশা (রাঃ) হতে হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নাই। অবশ্য তিনি আইশা (রাঃ)-এর দুধভাই আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ-আইশা (রাঃ) হতে অন্যান্য হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ কিলাবার নাম আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ আল-জারমী। ইবনু আবূ উমার-সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, আইউব আস-সিখতিয়ানী (রাহঃ) আবূ কিলাবার আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান ফকীহগণের অন্তর্ভুক্ত। উমারাহ ইবনু গাযিয়্যাহ এই হাদীসটি আবূ সালিহ হতে আবূ হুরাইরার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন “আল-ঈমানু আরবায়াতুন ওয়া সিত্তুনা বাবান" ঈমানের ৬৪টি দরজা আছে। এই শব্দটি শাজ।
Book 40 · Hadith 7 · #2562 · Daif, Daif, Daif - 8
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, জনতার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাসীহাতপূর্ণ খুতবাহ প্রদান করেন এবং বলেনঃ হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা বেশি পরিমাণে দান-খয়রাত কর। কেননা, জাহান্নামে তোমাদের সংখ্যাই বেশি হবে। তাদের মধ্যকার এক মহিলা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে অভিশাপ দানের প্রবণতার আধিক্যের কারণে, অর্থাৎ- তোমাদের স্বামীদের অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ হবার কারণে। তিনি আরো বলেনঃ আমি তোমাদের স্বল্পবুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধিমান বিচক্ষণদের উপর বিজয়ী হতে পারঙ্গম আর কাউকে দেখিনি। জনৈকা মহিলা প্রশ্ন করলো, তার বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে কমতি হলো কি করে? তিনি বললেনঃ তোমাদের দুজন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। এটা হলো বুদ্ধির স্বল্পতা। আর তোমাদের হায়িয (ঋতুস্রাব) হলে তিন-চার দিন তোমরা নামায আদায় কর না। এটা হলো দ্বীনের স্বল্পতা। সহীহঃ ইরওয়াহ (১/২০৫), আযযিলাল (৯৫৬), মুসলিম। আবূ সাঈদ ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সনদ সূত্রে গারীব।
Book 40 · Hadith 8 · #2563 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 9
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের দরজা (স্তর) হলো সত্তরের অধিক। তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা এবং সর্বোচ্চ স্তর হলো লাইলাহা ইল্লাল্লা-হ' বলা। সহীহঃ সহীহাহ (১৩৬৯), বুখারীর বর্ণনায় ষাটের অধিক এবং মুসলিমের বর্ণনায় সত্তরের অধিক উল্লেখ আছে। আর এটাই অগ্রগণ্য। তাখরাজুল ঈমান (২১/৬৭)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। সুহাইল ইবনু আবী সালিহ (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আবূ সালিহ-আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উমারাহ ইবনু গাযিয়্যাহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। তাতে আছেঃ “ঈমানের চৌষট্টিটি দরজা (স্তর) আছে”। এই অর্থে হাদীসটি শাজ। কুতাইবা বাকর ইবনু মুযার হতে, তিনি উমারাহ ইবনু গাযিয়্যাহ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে তা বর্ণিত হয়েছে।
Book 40 · Hadith 9 · #2564 · Daif, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 10
। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একজনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লজ্জা ও সন্ত্ৰমবোধ ঈমানের অঙ্গ। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫৮), বুখারী ও মুসলিম। আহমাদ ইবনু মানী কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একজনকে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিতে শুনলেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরাহ, আবূ বাকরাহ ও আবূ উমামাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 40 · Hadith 10 · #2565 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 11
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোন এক ভ্রমণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন যেতে যেতে আমি তার নিকটবর্তী হলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি কাজ সম্পর্কে আমাকে জানিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম হতে দূরে রাখবে। তিনি বললেনঃ তুমি তো আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেছো। তবে সেই ব্যক্তির জন্য এ ব্যাপারটা অতি সহজ যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা'আলা তা সহজ করে দেন। তুমি আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করবে, কোন কিছুকে তার সাথে শরীক করবে না, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, রামাযানের রোযা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হাজ্জ করবে। তিনি আরো বললেনঃ আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে বলে দিব না? রোযা হলো ঢালস্বরূপ, দান-খাইরাত গুনাহসমূহ বিলীন করে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং কোন ব্যক্তির মধ্যরাতের নামায আদায় করা। তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “তাদের দেহপাশ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তারা তাদের প্রভুকে ডাকে আশায় ও ভয়ে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কি লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ " (সূরা আস-সিজদা ১৬, ১৭) তিনি আবার বলেনঃ আমি কি সমস্ত কাজের মূল, স্তম্ভ ও সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, স্তম্ভ হলো নামায এবং সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ। তিনি আরো বললেন? আমি কি এসব কিছুর সার সম্পর্কে তোমাকে বলব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তার জিহা ধরে বললেনঃ এটা সংযত রাখ। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা যে কথা-বার্তা বলি এগুলো সম্পর্কেও কি পাকড়াও করা (জবাবদিহি) হবে? তিনি বললেনঃ হে মু'আয! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে শুধুমাত্র জিহবার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৯৭৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 11 · #2566 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 12
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাউকে মসজিদের খিদমাতে নিয়োজিত দেখলে তাকে ইমানদার বলে সাক্ষ্য দিও। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “আল্লাহর মসজিদসমূহের তো তারাই রক্ষণাবেক্ষণ করে, যারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, নামায কায়িম করে এবং যাকাত প্রদান করে"। (সূরা তাওবাঃ ১৮) যঈফ, ইবনু মাজাহ (৮০২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব হাসান।
Book 40 · Hadith 12 · #2567 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 13
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুফর ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য হল নামায ত্যাগ করা। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১০৭৮), মুসলিম।
Book 40 · Hadith 13 · #2568 · Sahih, Sahih - 14
। আমাশ (রহঃ) হতেও উপরোক্ত সনদে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। এতে রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ বান্দাহ ও শিরকের মধ্যে অথবা বান্দাহ্ ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হল নামায ত্যাগ করা। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ সুফইয়ানের নাম তালহা ইবনু নাফি।
Book 40 · Hadith 14 · #2569 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 15
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মু'মিন) বান্দাহ্ ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামায ত্যাগ করা। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ, মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূয যুবাইরের নাম মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু তাদরুস। তিনি তাদলীস করেন বলে প্রসিদ্ধ।
Book 40 · Hadith 15 · #2570 · Sahih Lighairihi, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 16
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মধ্যে (মুক্তির) যে প্রতিশ্রুতি আছে তা হল নামায। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দেয়, সে কুফুরী কাজ করে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১০৭৯) আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
Book 40 · Hadith 16 · #2571 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 17
। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক আল-উকাইলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সাহাবী নামায ব্যাতিত অন্য কোন আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফুরী কাজ বলে মনে করতেন না। সহীহঃ সহীহুত তারগীব (১/২২৭-৫৬৪) আবু ঈসা বলেন, আমি আবু মুসআব আল মাদানীকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বলে যে, “শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকৃতির নামই ঈমান” তাকে ত্বাওবাহ করতে বলা হবে, ত্বাওবাহ না করলে তাকে হত্যা করতে হবে।
Book 40 · Hadith 17 · #2572 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 18
। আল-আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ লাভ করেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নবী হিসেবে খুশী মনে মেনে নিয়েছে। সহীহঃ মুসলিম (১/৪৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 18 · #2573 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 19
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে তিনটি গুণ রয়েছে সে ঈমানের স্বাদ লাভ করেছে। (১) যে ব্যক্তির কাছে আল্লাহ ও তার রাসূলই অন্য সকল কিছু হতে প্রিয়তর, (২) যে আল্লাহ তা'আলার ওয়াস্তে কোন মানুষকে ভালবাসে এবং (৩) আল্লাহ তা'আলা কাউকে (ঈমানের মাধ্যমে) কুফুর হতে মুক্তিদানের পর সে আবার তাতে ফিরে যেতে এতটা অপছন্দ করে যতটা অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪০৩৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কাতাদাহ (রাযিঃ) এ হাদীসটি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
Book 40 · Hadith 19 · #2574 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 20
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিনাকারী যিনায় লিপ্ত থাকাবস্থায় মুমিন থাকে না, চোর চুরি করার সময় মুমিন থাকে না। তবে তওবা করার সুযোগ আছে। সহীহ ইবনু মা-জাহ (৩৯৩৬), বুখারী ও মুসলিম। ইবনু আব্বাস, আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ সূত্রে গারীব। অধিকন্তু আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “বান্দা যখন যিনায় লিপ্ত থাকে, তখন ঈমান তার থেকে বেরিয়ে যায় এবং ছায়ার মতো তার মাথার উপর অবস্থান করে। তারপর সে যখন সেই দুষ্কর্ম হতে সরে আসে তখন ঈমানও তার মাঝে ফিরে আসে।” আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, “অপরাধী ব্যক্তি এ ধরনের পরিস্থিতে ঈমানের স্তর হতে বেরিয়ে ইসলামের স্তরে নেমে আসে”। একাধিক সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি যিনা ও চুরি সম্পর্কে বলেনঃ “যে ব্যক্তি যিনা ও চুরির অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তার উপর হদ (নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর করা হয়েছে, তাতে তার গুনাহর কাফফারা হয়ে গেছে। আর কেউ এ অপরাধে লিপ্ত হলে এবং আল্লাহ তা'আলা তা গোপন রাখলে এটা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি চাইলে কিয়ামত দিবসে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন, ক্ষমাও করতে পারেন"। সহীহঃ সহীহাহ (২৩১৭), বুখারী ও মুসলিম। তাছাড়া এ হাদীসটি আলী ইবনু আবূ তালিব, উবাদাহ ইবনুস সামিত ও খুযাইমাহ (রাযিঃ) প্রমুখগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
Book 40 · Hadith 20 · #2575 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 21
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি হাদযোগ্য অপরাধ করলে এবং দুনিয়াতেই তার উপর হাদ্দ কার্যকর হলে আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাকে পরকালে আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই ন্যায়বিচারক। আর কোন ব্যক্তি হাদ্দযোগ্য অপরাধ করলে, আল্লাহ তা'আলা তার অপরাধ গোপন রাখলে এবং ক্ষমা করলে তিনি তাকে ক্ষমা করার পর আবার শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে অবশ্যই অধিক দয়াপরবশ। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬০৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। বিশেষজ্ঞ আলিমগণও ও মতই পোষণ করেন। তাদের কেউ যেনা, চুরি, ইত্যাদি অপরাধের দরুন তাকে কাফির বলে ফতোয়া দিয়েছেন বলে আমাদের জানা নাই।
Book 40 · Hadith 21 · #2576 · Daif, Daif, Daif - 22
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন। হাসান সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৩৩), সহীহাহ (৫৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর বর্ণনায় আছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল যে, কোন ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহবা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। জাবির, আবূ মূসা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 40 · Hadith 22 · #2577 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 23
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করা হল, কোন ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি ২৫০৪ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ এবং আবূ মূসা (রাযিঃ)-এর সূত্রে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব।
Book 40 · Hadith 23 · #2578 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 24
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অপরিচিত অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছে এবং যে অবস্থায় তার সূচনা হয়েছিল আবার সে রকম অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। সুতরাং অপরিচিতদের জন্যই সু-সংবাদ। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৯৮৮), মুসলিম। সাদ, ইবনু উমার, জাবির, আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে গারীব। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র হাফস ইবনু গিয়াস হতে আমাশের সূত্রেই জেনেছি। আবূল আহওয়াসের নাম ‘আওফ ইবনু মালিক ইবনু নাযলা আল-জুশামী। হাফস এ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
Book 40 · Hadith 24 · #2579 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 25
। কাসীর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আওফ ইবনু যাইদ ইবনু মিলহা (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাপ যেভাবে (সংকুচিত হয়ে) তার গর্তে ফিরে যায় তেমনি দীন ইসলামও এক সময় সংকুচিত হয়ে হিজাযে ফিরে আসবে। পাহাড়ী বকরী যেমন পাহাড় শৃংগে আশ্রয় নেয়, দীন ইসলামও তেমন হিজাযে আশ্রয় নিবে। দীন ইসলাম তো অপরিচিত অবস্থায় যাত্রা শুরু করছিল এবং অচিরেই অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে অর্থাৎ অপরিচিত হয়ে যাবে। সুতরাং অপরিচিতদের জন্য সংবাদ, যারা আমার সুন্নাত বিপর্যস্ত হয়ে যাবার পর তা পুনরুজ্জীবিত করে। অত্যন্ত দুর্বল, সহীহা (১২৭৩) নং হাদীসের আওতায়। মিশকাত (১৭০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 25 · #2580 · Very Daif, Very Daif, Daif - 26
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত বা নিদর্শন তিনটি। সে (১) কথা বললে মিথ্যা বলে; (২) ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৩) তার নিকট আমানাত রাখা হলে সে তার খিয়ানাত করে। সহীহঃ ঈমান আবী উবাইদ, পৃষ্ঠা (৯৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আল-আ'লার বর্ণনা হিসেবে গারীব। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে এই মর্মে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণিত আছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আনাস ও জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস আলী ইবনু হুজুর-ইসমাঈল ইবনু জাফার হতে, তিনি আবূ সুহাইল ইবনু মালিক হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। আবূ সুহাইল হলেন মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর চাচা, তার নাম নাফি, ইবনু মালিক ইবনু আবী আমির আল-আসবাহী আল-খাওলানী।
Book 40 · Hadith 26 · #2581 · Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 27
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি অভ্যাস রয়েছে সে মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর কোন একটি অভ্যাস থাকে, তা ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে। যে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে, ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং চুক্তি করলে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুররাহ (রহঃ)-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মনে করেন এ হাদীসের তাৎপর্য হলো, কার্যকলাপে মুনাফিকী, এখনো যা বিদ্যমান আছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মুনাফিকী ছিল ইসলামকে অস্বীকার করার মুনাফিকী। হাসান বাসরী (রাহঃ) হতে একই রকম ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে।
Book 40 · Hadith 27 · #2582 · Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 28
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি কোন ওয়াদা করে এবং তা পুরা করার নিয়াত করে; কিন্তু কোন কারণে তা পুরা করতে না পারে, তাহলে এজন্য তার কোন গুনাহ হবে না। যঈফ, মিশকাত (৪৮৮১), যঈফা (১৪৪৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এর সনদ মজবুত নয়। আলী-ইবনু আব্দুল আ'লা নির্ভরযোগ্য রাবী। আবূ নুমান এবং আবূ ওক্কাস এ দুইজন অপরিচিত রাবী।
Book 40 · Hadith 28 · #2583 · Daif, Daif, Daif - 29
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের বিরুদ্ধে লড়াই করা কুফুরী এবং তাকে গালি দেয়া ফাসিকী। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। অন্য সনদে ১৯৮৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সাদ ও আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
Book 40 · Hadith 29 · #2584 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 30
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করা বা তাকে হত্যা করা কুফরী। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ইহা ১৯৮৩ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কোন মুসলিম তার মুসলিম ভাইকে হত্যা করা কুফুরী। তবে এর দ্বারা সে মুরতাদ (কাফির) হয় না। এর দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীস "যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয় তার উত্তরাধিকারীগণ ইচ্ছা করলে হত্যাকারীকে হত্যাও করতে পারে, ইচ্ছা করলে ক্ষমাও করতে পারে।” মুরতাদ হয়ে গেলে হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে যেত। ইবনু আব্বাস, তাউস, আতা এবং আরো অনেক বিশেষজ্ঞ আলিমগণ উক্ত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
Book 40 · Hadith 30 · #2585 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 31
। সাবিত ইবনুয যাহহাক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দার যে জিনিসের মালিকানা নেই সে সেই জিনিসের মানত করলে তা পূরণ করা তার জন্য অপরিহার্য নয়। মু'মিনকে অভিশাপকারী তাকে হত্যাকারীর অনুরূপ। যে লোক কোন মুমিন ব্যক্তিকে কুফরীর অপবাদ দেয়, সেও তার হত্যাকারীর অনুরূপ। আর যে ব্যক্তি যে জিনিসের সাহায্যে আত্মহত্যা করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে সেই জিনিস দ্বারাই কিয়ামত দিবসে শাস্তি দিবেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২০৯৮) আবূ যার ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 31 · #2586 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 32
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক তার ভাইকে কাফির বললে তা এ দু'জনের যে কোন একজনের উপর বর্তায়। সহীহঃ মুসলিম (১/৫৭)। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। বায়া অর্থাৎ- স্বীকার করলো।
Book 40 · Hadith 32 · #2587 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 33
। আস-সুনাবিহী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, সে সময় তিনি অন্তিম অবস্থায় ছিলেন। আমি (তাকে এ অবস্থায় দেখে) কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেন, থামো, কাঁদছো কেন? আল্লাহর শপথ! যদি আমার সাক্ষ্য চাওয়া হয় তবে আমি অবশ্যই তোমার (ঈমানের) পক্ষে সাক্ষ্য দিব, যদি সুপারিশের অনুমতি আমাকে দেয়া হয় তবে অবশ্যই তোমার জন্য আমি সুপারিশ করবো; আর আমার পক্ষে সম্ভব হলে আমি অবশ্যই তোমার উপকার করবো। তিনি আবার বললেন, আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তোমাদের জন্য কল্যাণকর যেসব কথা শুনেছি তার সবই তোমাদেরকে বলেছি। শুধুমাত্র একটি কথা বলা বাকি আছে, যা আমি আজ তোমাদেরকে এমন অবস্থায় বলছি যে, মৃত্যু আমাকে বেষ্টন করে ফেলেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে হারাম করে দিবেন। হাসানঃ মুসলিম (১/৪৩) আবূ বাকর, উমার, উসমান, তালহা, জাবির, ইবনু উমার ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আজলান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও হাদীস শাস্ত্রে বিশ্বস্ত ব্যক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ সূত্রে গারীব। আস-সুনাবিহী হলেন আবদুর রহমান ইবনু উসাইল উপনাম আবূ আবদুল্লাহ। যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী- “যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে”-এর তাৎপর্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন ফরযসমূহ, আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি বিধান পুরাপুরি অবতীর্ণ হয়নি, তখন হাদীসের এ অর্থ প্রযোজ্য ছিল। কিছু আলিমের মতে এ হাদীসের অর্থ এই যে, তাওহীদপন্থীরা জান্নাতে যাবেই, যদিও তাদের গুনাহর কারণে কিছু দিন জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে, কিন্তু তারা চিরদিন জাহান্নামে থাকবে না। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ যার, ইমরান ইবনু হুসাইন, জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ, ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও আনাস (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তাওহীদপন্থীরা জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। একইভাবে সাঈদ ইবনু জুবাইর, ইবরাহীম নাখঈ প্রমুখ তাবিঈগণ- “কখনো কখনো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হত”– (সূরা হিজরঃ ২) আয়াতের তাফসীরে বলেন, যখন তাওহীদপন্থীদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন কাফিররা আফসোস করে বলবে যে, তারাও যদি মুসলিম হতো।
Book 40 · Hadith 33 · #2588 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 34
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে আমার উম্মতের একজনকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে আলাদা করে এনে উপস্থিত করবেন। তিনি তার সামনে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা খুলে ধরবেন। প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপর তিনি প্রশ্ন করবেন, তুমি কি এগুলো হতে কোন একটি (গুনাহ) অস্বীকার করতে পার? আমার লেখক ফেরেশতারা কি তোমার উপর যুলুম করেছে? সে বলবে, না, হে প্ৰভু! তিনি আবার প্রশ্ন করবেনঃ তোমার কোন অভিযোগ আছে কি? সে বলবে, না, হে আমার প্রভু! তিনি বলবেনঃ আমার নিকট তোমার একটি সাওয়াব আছে। আজ তোমার উপর এতটুকু যুলুমও করা হবে না। তখন ছোট একটি কাগজের টুকরা বের করা হবে। তাতে লিখা থাকবেঃ “আমি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল"। তিনি তাকে বলবেনঃ দাড়িপাল্লার সামনে যাও। সে বলবে, হে প্ৰভু! এতগুলো খাতার বিপরীতে এই সামান্য কাগজটুকুর কি আর ওজন হবে? তিনি বলবেনঃ তোমার উপর কোন রকম যুলুম করা হবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর খাতাগুলো এক পাল্লায় রাখা হবে এবং উক্ত টুকরাটি আরেক পাল্লায় রাখা হবে। ওজনে খাতাগুলোর পাল্লা হালকা হবে এবং কাগজের টুকরার পাল্লা ভারী হবে। আর আল্লাহ তা'আলার নামের বিপরীতে কোন কিছুই ভারী হতে পারে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩০০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কুতাইবা-ইবনু লাহীআ হতে, তিনি আমির ইবনু ইয়াহইয়া (রাহঃ) হতে এই সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। বিতাকা অর্থ টুকরা বা খণ্ড।
Book 40 · Hadith 34 · #2589 · Sahih, Sahih - 35
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামঃ বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা একাত্তর অথবা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং খৃষ্টানেরাও অনুরূপ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উন্মাত বিভক্ত হবে তিয়াত্তর দলে। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৯৯১) সাদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 40 · Hadith 35 · #2590 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 36
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেনঃ আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত। হাসানঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (১৭১), সহীহাহ (১৩৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব ও সব্যাখ্যায়িত (মুফাসসার)। এই সনদসূত্র ব্যতীত উপরোক্ত প্রকৃতির কোন বর্ণনা প্রসঙ্গে আমাদের জানা নেই।
Book 40 · Hadith 36 · #2591 · Hasan, Hasan, Daif - 37
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা অন্ধকারে তার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি এদের উপর তার নূরের আলোকপ্রভা ঢেলে দিয়েছেন। সুতরাং সেই নূরের আলোকপ্রভা যে ব্যক্তির উপর পড়েছে সে সৎপথ পেয়েছে এবং যে ব্যক্তির উপর তা পড়েনি সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এ জন্যেই আমি বলিঃ আল্লাহ তা'আলার ইলম অনুযায়ী কলম (তাকদীরের লিখন) শুকিয়ে গেছে। সহীহঃ মিশকাত (১০১), সহীহাহ (১০৭৬), আযযিলা-ল (২৪১-২৪৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
Book 40 · Hadith 37 · #2592 · Sahih, Sahih, Sahih - 38
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করেনঃ তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহ তা'আলার কি হক (অধিকার) রয়েছে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ তাদের উপর তার হক এই যে, তারা তার ইবাদাত করবে এবং তার সাথে আর কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করবে না। তিনি আবার প্রশ্ন করেনঃ তারা এগুলো করলে আল্লাহ তা'আলার উপর তাদের কি হক (অধিকার) রয়েছে তুমি কি তা জানো? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার উপর তাদের হক্ক এই যে, তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৯৬), বুখারী ও মুসলিম। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
Book 40 · Hadith 38 · #2593 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 39
আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে এই সুসংবাদ দেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে কিছু শারীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি প্রশ্ন করলাম, সে যদি ব্যভিচার করে থাকে, সে যদি চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ (তবুও সে জান্নাতে যাবে)। সহীহঃ সহীহাহ (৮২৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 40 · Hadith 39 · #2594 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon