Chapters on Seeking Permission
- 1
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না (তোমরা) ঈমানদার হবে, আর ঈমানদার হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করবে। আমি কি এমন একটি কাজের কথা তোমাদেরকে বলে দিব না, যখন তোমরা তা করবে, পরস্পর ভালোবাসা স্থাপিত হবে? তোমরা একে অপরের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৬৯২), মুসলিম। 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, শুরাইহ ইবনু হানী তার বাবার সূত্রে, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আল-বারাআ, আনাস ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 1 · #2638 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 2
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একজন লোক এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দশ (নেকী)। তারপর অন্য এক লোক এসে বলল, আসসালামুআলাইমুক ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিশ। অতঃপর আরেক লোক এসে বলল, আসসালামু আলাইমুক ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ত্রিশ। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (৩/২৬৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, তবে এ সূত্রে গারীব। ‘আলী, আবূ সাঈদ ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 42 · Hadith 2 · #2639 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 3
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-এর নিকট অনুমতি চেয়ে বলেন, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি? উমর (রাযিঃ) বলেন, এক। আবূ মূসা (রাযিঃ) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তিনি আবারও সালাম দিয়ে বলেন, আমি কি ভিতরে আসতে পারি? উমর (রাযিঃ) বলেন, দুই। তারপর আবূ মূসা (রাযিঃ) অল্প সময় নীরবতা অবলম্বন করলেন। তিনি আবার বললেন, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি? উমর (রাযিঃ) বললেন, তিন। এবার তিনি চলে যেতে লাগলেন। উমার (রাযিঃ) প্রহরীকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি করছেন? প্রহরী বলল, তিনি চলে গেছেন। তিনি বললেন, তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে নিয়ে এসো। তারপর তিনি উমারের সামনে এলে তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনি এরকম করলেন কেন? তিনি বললেন, আমি সুন্নাত পালন করেছি। উমর (রাযিঃ) বললেন, সুন্নাত পালন করেছেন? আল্লাহর কসম! এর সপক্ষে আপনাকে দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, তা না হলে আমি আপনার ব্যবস্থা করছি (অর্থাৎ- শাস্তি দিব)। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি (আবূ মূসা) আমাদের নিকট আসলেন। আমরা কয়জন আনসার বন্ধু একসাথে বসে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস সম্পর্কে কি তোমরা সবার চাইতে বেশি জ্ঞাত নও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, তিনবার অনুমতি চাইতে হবে? তারপর তোমাকে অনুমতি দিলে তো দিল, নতুবা ফিরে যাবে। উপস্থিত লোকজন তার সাথে কৌতুক করতে লাগল। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, এবার আমি মাথা তুলে তার দিকে তাকালাম এবং বললাম, আপনার উপর এ ব্যাপারে কোন শাস্তি হলে আমি আপনার অংশীদার হব। রাবী বলেন, তারপর তিনি উমারের নিকট এসে এ ঘটনা বললেন। উমার (রাযিঃ) বললেন, আমি এ সম্পর্কে জানতাম না। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ‘আলী (রাযিঃ) সা'দ (রাযিঃ)-এর মুক্তদাসী উম্মু তারিক (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আল-জুরাইরীর নাম সাঈদ ইবনু ইয়াস, উপনাম আবূ মাসউদ। এ হাদীসটি আবূ নাযরা হতে অন্যরাও বর্ণনা করেছেন। আবূ নাযরা আল-আবদীর নাম আল-মুনযির ইবনু মালিক ইবনু কুতা'আহু।
Book 42 · Hadith 3 · #2640 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 4
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে তিনবার সম্মতি চাইলাম। তিনি আমাকে সম্মতি দিলেন। সনদ দুর্বল, মতন মুনকার আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ যুমাইলের নাম সিমাক আল-হানাফী। উমার (রাঃ) নিজেই যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তিনবার সম্মতি চাওয়ায় তিনি তাকে (বাড়ির ভেতরে যাওয়ার) সম্মতি দেন, সেখানে তিনিই আবার আবূ মূসা (রাঃ)-এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করেন। এর কারণ এই যে, তিনি আবূ মূসা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের “তোমাকে সম্মতি দিলে তো দিল, নতুবা ফিরে যাবে" অংশটুকু প্রসঙ্গে জানতেন না।
Book 42 · Hadith 4 · #2641 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Sahih - Bukhari And Muslim - 5
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময়ে মসজিদের এক পাশে বসা ছিলেন। লোকটি নামায আদায় করে এসে তাকে সালাম করল।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়ালাইকা, তুমি ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় আদায় কর। তারপর তিনি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১১৬০), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি সাঈদ আল-মাকুবুরী হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় “ফা সাল্লামা আলাইহি ওয়া কা-লা ওয়া আলাইকা” এর উল্লেখ নেই। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
Book 42 · Hadith 5 · #2642 · Sahih, Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 6
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি (আয়িশাহ) বললেন, ওয়া 'আলাইহিস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম এ অনুচ্ছেদে বানী নুমাইরের জনৈক ব্যক্তি তার বাবা হতে, তিনি দাদা হতে এই সূত্রে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি যুহরীও আবূ সালামা হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
Book 42 · Hadith 6 · #2643 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 7
। আবূ উমামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! দু'জন লোকের মধ্যে সাক্ষাৎ হলে কে প্রথম সালাম দিবে? তিনি বললেনঃ তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার বেশি নিকটবর্তী। সহীহঃ মিশকাত (৪৬৪৬), তাখরীজুল কালিমিত তাইয়্যিব (১৯৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, আবূ ফারওয়া আর-রাহাবী বর্ণনাকারী হিসেবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু তার ছেলে মুহাম্মাদ তার সূত্রে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।
Book 42 · Hadith 7 · #2644 · Sahih, Sahih, Sahih - 8
। আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিজাতির অনুকরণকারী ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুকরণ করো না। কেননা ইয়াহুদীগণ আঙ্গুলের ইশারায় এবং নাসারাগণ হাতের ইশারায় সালাম দেয়। হাসানঃ সহীহাহ (২১৯৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটির সনদ যঈফ। এই হাদীসটি ইবনু লাহীআর সূত্রে ইবনু মুবারাক বর্ণনা করেছেন কিন্তু তা মারফু' হিসেবে নয়।
Book 42 · Hadith 8 · #2645 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 9
। সাইয়্যার (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাবিত আল-বুনানীর সাথে হাঁটছিলাম। তিনি কয়েকজন শিশুর পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, কোন একদিন আমি আনাস (রাযিঃ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিয়েছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি সাবিত (রহঃ) হতে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। অন্য সূত্রেও আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীস বর্ণিত আছে। কুতাইবা-জাফার ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 42 · Hadith 9 · #2646 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 10
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে একদল মহিলা বসা ছিল। তিনি হাত উঠিয়ে তাদেরকে সালাম দিলেন। 'আবদুল হামীদ তার হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন। “হাতের ইশারা" ব্যতীত হাদীসটি সহীহঃ জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ (১৯৪-১৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, আবদুল হামীদ ইবনু বাহরাম-শাহর ইবনু হাওশাব সূত্রে বর্ণিত হাদীসে কোন সমস্যা নেই। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (আল-বুখারী) বলেন, শাহর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে উত্তম পর্যায়ের এবং তিনি (এ কথা বলে) তার বিষয়টি মজবুত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ইবনু আওন তার সমালোচনা করেছেন, অতঃপর হিলাল ইবনু আবী যাইনাব-শাহর ইবনু হাওশাব সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ দাউদ বালখী-আন-নাযর ইবনু শুমাইল হতে, তিনি ইবনু ‘আওন হতে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু ‘আওন বলেন, মুহাদ্দীসগণ শাহরকে বাদ দিয়েছেন। আবূ দাউদ (রাহঃ) বলেন, আন-নাযর বলেছেন, “তারা তাকে বাদ দিয়েছেন" অর্থ তারা তাকে তিরস্কার বা অভিযুক্ত করেছেন এ কারণে যে, তিনি শাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
Book 42 · Hadith 10 · #2647 · Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 11
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবার-পরিজনের নিকটে যাও, তখন সালাম দিও। তাতে তোমার ও তোমার পরিবার-পরিজনের কল্যাণ হবে। হাদীসটির সানাদ দুর্বল। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
Book 42 · Hadith 11 · #2648 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 12
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কথা-বার্তা বলার আগেই সালাম বিনিময় হবে। হাসানঃ সহীহাহ (৮১৬)। এ সানাদেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সালাম দেয়ার পরই কাউকে খাবারের দাওয়াত দাও। মাওজু’ - যঈফ আল-জামি' (৩৩৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, আনবাসা ইবনু ‘আবদুর রাহমান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল এবং অবহেলিত। আর মুহাম্মাদ ইবনু যাযান প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী।
Book 42 · Hadith 12 · #2649 · Hasan, Mawdu, Daif, Daif - 13
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদেরকে প্রথম সালাম করো না। রাস্তায় তাদের মধ্যে কারো সাথে তোমাদের দেখা হলে, পথের সংকীর্ণ পার্শ্ব দিয়ে তাকে চলতে বাধ্য কর। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 13 · #2650 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 14
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন একদল ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আসসামু 'আলাইকা (আপনার মৃত্যু হোক)। তাদের এ কথার জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আলাইকুম (তোমাদেরই তাই হোক)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আলাইকুমুস সাম ওয়াল লা'নত (তোমাদের উপর মৃত্যু ও অভিশাপ পতিত হোক)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ আল্লাহ তা'আলা সকল ব্যাপারেই কোমলতা পছন্দ করেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, তারা কি বলেছে আপনি কি তা শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমিও তো বলে দিয়েছি, আলাইকুম। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (৭৬৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ বাসরা আল-গিফারী, ইবনু উমার, আনাস ও আবূ আবদুর রাহমান আল-জুহানী (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 14 · #2651 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 15
। উসামাহ্ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ইয়াহুদী-মুসলিম সম্মিলিত একটি সমাবেশের পাশ দিয়ে চলার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন। সহীহঃ বুখারী (৬২৫৪), মুসলিম (৫/১৮২-১৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 15 · #2652 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 16
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী বসা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। ইবনুল মুসান্না বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ বয়সে নবীনরা প্রবীণদেরকে সালাম করবে। সহীহঃ সহীহাহ (১১৪৫), বুখারী ও মুসলিম। ‘আবদুর রাহমান ইবনু শিবল, ফাযালাহ ইবনু উবাইদ ও জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আইয়ুব সাখতিয়ানী, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ বলেনঃ হাসান আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেননি।
Book 42 · Hadith 16 · #2653 · Sahih, Sahih, Sahih - 17
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অল্প বয়সী বেশি বয়সীদেরকে, পদচারী বসা লোকদেরকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম করবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত (১১৪৯), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 17 · #2654 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari - 18
। ফাযালাহ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অশ্বারোহী পথচারীকে, পথচারী দাঁড়ানো ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। সহীহঃ প্রাগুক্ত (১১৫০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আলী আল-জানবীর নাম 'আমর ইবনু মালিক।
Book 42 · Hadith 18 · #2655 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 19
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ কোন মাজলিসে উপস্থিত হলে সে যেন সালাম করে, তারপর তার ইচ্ছা হলে বসে পড়বে। তারপর সে যখন উঠে দাড়াবে, তখনো যেন সালাম করে। কেননা পরের সালামের চাইতে প্রথম সালাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১৮৩), তাখরীজুল কালিম (২০১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি ইবনু আজলান-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
Book 42 · Hadith 19 · #2656 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 20
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পর্দা তুলে কারো ঘরের মধ্যে তাকালো এবং সম্মতি পাওয়ার আগেই ঘরের গোপনীয় বিষয় দেখে ফেললো, সে দণ্ডনীয় অপরাধী হয়ে গেলো, যা করা তার পক্ষে বৈধ নয়। সে যখন ঘরের ভেতরে তাকিয়ে ছিলো, তখন কেউ যদি এগিয়ে এসে তার দু'চোখ ফুড়ে বা সমূলে উপড়ে ফেলে দিত তবে তাকে আমি অপরাধী সাব্যস্ত করতাম না। আর কেউ যদি উম্মুক্ত দরজার পাশ দিয়ে যায় যার পর্দা নেই, আর সে যদি এদিকে তাকায়, তবে তাতে তার কোন দোষ নেই, বরং দোষ বাড়িওয়ালার (পর্দা ঝুলানো তাদের দায়িত্ব)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৩৫২৬) এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা ইবনু আবূ লাহীআর রিওয়ায়াত ছাড়া এ রকম হাদীস জানতে পরিনি। আবূ আবদুর রহমান আল-হুবুলীর নাম আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ।
Book 42 · Hadith 20 · #2657 · Daif, Daif, Daif - 21
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার দিকে উঁকি দিল। তিনি তীরের ফলা তার দিকে তাক করলে সে সরে পড়ল। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 21 · #2658 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 22
। সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের একটি ছিদ্রপথে তার দিকে উঁকি দিল। তখন তিনি একটি লোহার চিরুনি দিয়ে তার মাথার চুল বিন্যাস করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যদি জানতাম যে, তুমি উঁকি দিয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছ, তাহলে এটা (চিরুনি) তোমার চোখে ঢুকিয়ে দিতাম। দৃষ্টিশক্তির কারণেই তো অনুমতি প্রার্থনার নিয়ম চালু করা হয়েছে। সহীহঃ সহীহুত তারগীব (৩/২৭৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 22 · #2659 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 23
। কালাদাহ ইবনু হাম্বল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা (রাযিঃ) তাকে কিছু দুধ, ছানা ও তরকারীসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠান। সে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপত্যকার উপরে অবস্থান করছিলেন। তিনি (কালাদাহ্) বলেন, আমি অনুমতিও চাইলাম না, সালামও করলাম না, বরং এমনি তার নিকট চলে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে বল, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি? (তারপর আমার নিকট এসো)। আর এ ঘটনাটি সাফওয়ানের ইসলাম গ্রহণের পরের। সহীহঃ সহীহাহ (৮১৮) ইবনু সাফওয়ান জানিয়েছেন এবং এই সূত্রে তিনি বলেননি যে, আমি এ হাদীসটি কালাদার নিকট শুনেছি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনু জুরাইজের রিওয়ায়াত হিসেবে জেনেছি। ইবনু জুরাইজের সূত্রে আবূ আসিমও উক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন। যাগাবীস এক প্রকার উদ্ভিদ যা খাওয়া যায়।
Book 42 · Hadith 23 · #2660 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 24
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার বাবার কিছু ঋণ ছিল। এ ব্যাপারে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কে? আমি বললাম, আমি। তিনি বলেন, আমি, আমি। মনে হল যেন তিনি এ ধরনের উত্তর অপছন্দ করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 24 · #2661 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 25
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে রাতের বেলায় স্ত্রীর নিকট যেতে তাদেরকে নিষেধ করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আনাস, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ হাদীসটি জাবির (রাযিঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় সফর থেকে ফিরে এসে তাদেরকে স্ত্রীদের নিকট যেতে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ নিষেধাজ্ঞার পরও দু'জন লোক রাতে তাদের স্ত্রীদের ঘরে ঢুকে তাদের প্রত্যেকের সাথে একজন করে পরপুরুষ দেখতে পেল।
Book 42 · Hadith 25 · #2662 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 26
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ কিছু লিখলে (শুকানোর জন্য) তার ওপর যেন কিছু ধুলা ছিটিয়ে দেয়। কেননা তা লক্ষ্য পূরণে পরিপূরক। যঈফ, মিশকাত (৫৬৫৭), যঈফা (১৭৩৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই আবু্য যুবাইর হতে এ হাদীস জেনেছি। আমার মতে হামযা হলেন আমর আন-নাসীবীর পুত্র এবং তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
Book 42 · Hadith 26 · #2663 · Daif, Daif, Daif, Daif - 27
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে উপস্থিত হলাম। তার সম্মুখে একজন লেখক বসে ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনলামঃ তোমার কানে কলমটি রেখে দাও, কেননা তা বিষয়বস্তু মনে রাখতে সহায়ক। মাওযু, যঈফা (৮৬৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সনদেই এ হাদীস জেনেছি। উহার সনদ দুর্বল। মুহাম্মাদ ইবনু যাযান ও আনবাসা ইবনু আবদুর রহমান উভয়েই হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে আখ্যায়িত।
Book 42 · Hadith 27 · #2664 · Mawdu, Mawdu, Daif, Daif - 28
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়াহুদীদের কিতাবী ভাষা (হিব্রু) অধ্যয়নের জন্য আদেশ করেন এবং বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি আমার পত্রাদির ব্যাপারে ইয়াহুদীদের উপর নিশ্চিন্ত হতে পারি না। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর মাসের অর্ধেক যেতে না যেতেই আমি সুরিয়ানী ভাষা আয়ত্ত করে ফেললাম। এ ভাষা শিক্ষার পর থেকে তিনি ইয়াহুদীদের নিকট কোন কিছু লিখতে চাইলে আমিই তা লিখে দিতাম। আর তারা তার নিকট কোন চিঠি পাঠালে, আমি তাকে তা পড়ে শুনাতাম। হাসান সহীহঃ মিশকাত (৪৬৫৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ভিন্ন সূত্রেও যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। আমাশ-সাবিত ইবনু উবাইদ হতে, তিনি যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সুরিয়ানী ভাষা শিখতে আদেশ করেন।
Book 42 · Hadith 28 · #2665 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 29
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর পূর্বে কিসরা, কাইসার ও নাজাশী এবং তখনকার সব পরাক্রান্ত রাজা বাদশাহদের নিকট তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে ইনি সেই নাজাশী নন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার জানাযা আদায় করেছিলেন। সহীহঃ মুসলিম (৫/১৬৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব
Book 42 · Hadith 29 · #2666 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 30
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব (রাযিঃ) তাকে বলেছেন, তিনি কুরাইশদের একটি ব্যবসায়ী দলে সিরিয়া গিয়েছিলেন। হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তার নিকট গেলেন। তারপর বর্ণনাকারী তার বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি চিঠি নিয়ে আসা হল এবং তা পড়ানো হল। তাতে লিখা ছিলঃ বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম, আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হতে রোমের রাষ্ট্রপ্রধান হিরাকলের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের প্রতি সালাম। তারপর সমাচার এই...। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ সুফইয়ান (রাযিঃ)-এর নাম সখির ইবনু হারব।
Book 42 · Hadith 30 · #2667 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 31
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অনারবদের নিকট চিঠি লিখতে চাইলেন, তখন তাকে বলা হল, অনারবগণ সীল লাগানো ব্যতীত কোন চিঠিপত্র গ্রহণ করে না। তারপর তিনি একটি আংটি (সীল) বানালেন। তিনি (আনাস) বলেন, এখনও মনে হচ্ছে যেন আমি তার হাতে এর শুভ্রতা (আংটির চাকচিক্য) দেখতে পাচ্ছি। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (৭৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 31 · #2668 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 32
। মিক্দাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার দু’জন সাখী এমন অবস্থায় (মাদীনায়) পৌছালাম যে, আমাদের চোখ-কান ক্ষুধার যন্ত্রণায় অচল হয়ে যাবার উপক্রম হল। তারপর আমরা আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের নিকট উপস্থাপন করতে লাগলাম; কিন্তু কেউই আমাদেরকে গ্রহণ করলেন না। অবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে তাঁর পরিবারের নিকট গেলেন। সেখানে তিনটি বকরী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এগুলোর দুধ দোহন কর। তারপর আমরা এগুলো দোহন করে প্রত্যেকেই যার যার অংশের দুধ পান করতাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অংশ উঠিয়ে রেখে দিতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় আসতেন এবং এমনভাবে সালাম দিতেন যে, ঘুমন্ত লোকেরা জাগ্রত হত না অথচ জাগ্রত লোকেরা তা শুনতে পেত। তারপর তিনি মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করতেন, তারপর তার জন্য রাখা দুধ পান করতেন। সহীহঃ আদাবুয যিফা-ফ নতুন সংস্করণ (১৬৭-১৯৬), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 32 · #2669 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 33
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রস্রাবরত অবস্থায় একজন লোক তাকে সালাম দিল। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দেননি। হাসান সহীহঃ ৯০ নং হাদীসের পুনরুক্তি। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আন নাইশাবূরী-মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি যাহহাক ইবনু উসমান (রাহঃ) হতে একই সনদে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। আলকামা ইবনু ফাগওয়া, জাবির, বারাআ ও মুহাজির ইবনু কুনফু্য (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 33 · #2670 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 34
। আবূ তামীম আল-হুজাইমী (রাযিঃ) হতে তার বংশের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খোঁজ করে না পেয়ে বসে রইলাম। এরই মধ্যে আমি তাকে একদল লোকের মাঝে দেখতে পেলাম, কিন্তু আমি তাকে চিনতাম না। তাদের মাঝে তিনি মীমাংসা করছিলেন। কাজ শেষে কয়েকজন তার সাথে উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইহা দেখে তাকে বললাম, আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ আলাইকাস সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ “আলাইকাস সালামু হল মৃত ব্যক্তির জন্য সালাম। এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ কোন ব্যাক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের সময় যেন বলে, "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সালামের উত্তর দিলেনঃ ওয়া 'আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ, ওয়া 'আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ। সহীহঃ সহীহাহ (১৪০৩) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি আবূ তামীমাহ আল-হুজাইমী-আবূ জুরায়্যি জাবির ইবনু সুলাইম আল-হুজাইমীর সূত্রে আবূ গিফার বর্ণনা করেছেন। আবূ জুরায়্যি (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম... তিনি পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ তামীমার নাম তারীফ ইবনু মুজালিদ।
Book 42 · Hadith 34 · #2671 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 35
। জাবির ইবনু সুলাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললাম, আলাইকাস সালাম’। তিনি বললেনঃ 'আলাইকাস সালাম বল না, বরং 'আসসালামু 'আলাইকা' বল। তারপর তিনি দীর্ঘ ঘটনা বর্ণনা করেন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 35 · #2672 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 36
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম করার সময় তিনবার সালাম করতেন এবং কোন কথা বলার সময় তিনবার তার পুনরাবৃত্তি করতেন। হাসান সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (১৯২), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
Book 42 · Hadith 36 · #2673 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 37
। আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন এক সময় কয়েকজন লোকসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন। সে সময় তিনজন লোক এসে হাযির হল। তাদের দু'জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে আসল এবং একজন চলে গেল। এরা দুজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাম করল এবং এদের একজন বৈঠকে খালি জায়গা দেখে বসে পড়ল আর অন্যজন লোকদের পিছনে গিয়ে বসল। এদের তৃতীয়জন তো পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অবসর হলেন, তখন উপস্থিত লোকদেরকে বললেনঃ আমি কি এদের তিনজনের ব্যাপারে তোমাদেরকে জানাবো না? এদের একজন তো আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় নিল, ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন; দ্বিতীয়জন লজ্জা পেল, কাজেই আল্লাহ তা'আলাও তার হতে লজ্জা করেছেন, আর তৃতীয়জন আল্লাহ হতে মুখ ফিরিয়ে নিল, কাজেই আল্লাহ তা'আলাও তার হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসীর নাম আল-হারিস ইবনু আওফ। আবূ মুররাহ হলেন উম্মু হানী (রাযিঃ) বিনতু আবী তালিবের মুক্তদাস, মতান্তরে আকীল (রাযিঃ) ইবনু আবী তালিবের মুক্তদাস, তার নাম ইয়ায়ীদ।
Book 42 · Hadith 37 · #2674 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 38
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসতাম, তখন যে যেখানেই জায়গা পেতো সে সেখানেই বসে পড়তো। সহীহঃ সহীহাহ (৩৩০), তাখরাজুল ইলম লি আবী খাইসামাহ (১০০) ι আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসট হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীসটি সিমাকের সূত্রে যুহাইর ইবনু মুআবিয়াহও বর্ণনা করেছেন।
Book 42 · Hadith 38 · #2675 · Sahih, Sahih, Daif - 39
। বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তার পাশে বসা কয়েকজন আনসারীর সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদের বললেনঃ তোমাদের খুব প্রয়োজনে রাস্তায় বসতে হলে তোমরা সালামের জবাব দিবে, মাযলুমকে সাহায্য করবে এবং লোকদেরকে রাস্তা দেখিয়ে দিবে। মতন (বক্তব্য) সহীহ। আবূ হুরাইরাহ ও আবূ শুরায়হ আল-খুযাঈ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
Book 42 · Hadith 39 · #2676 · Sahih Matn, Sahih Matn, Sahih - 40
। বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দু'জন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করে তাদের আলাদা হবার পূর্বেই তাদের (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭০৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আবূ ইসহাক-বারাআ (রাঃ) হতে ভিন্ন সুত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
Book 42 · Hadith 40 · #2677 · Sahih, Sahih, Daif - 41
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একসময় জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন ব্যক্তি তার ভাই কিংবা বন্ধুর সাথে দেখা করলে সে কি তার সামনে ঝুঁকে (নত) যাবে? তিনি বললেনঃ না। সে আবার প্রশ্ন করল, তাহলে কি সে গলাগলি করে তাকে চুমু খাবে? তিনি বললেনঃ না। সে এবার বলল, তাহলে সে তার হাত ধরে মুসাফাহা (করমর্দন) করবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
Book 42 · Hadith 41 · #2678 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 42
। কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে মুসাফাহার প্রচলন ছিল কি? তিনি বললেন,হ্যাঁ। সহীহঃ বুখারী (৬২৬৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 42 · #2679 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 43
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সালামের সময় হাত ধরা (মুসাফাহ করা) সালামের পূর্ণতা সম্পাদনকারী। যঈফ, যঈফা (২৬৯১)। এ অনুচ্ছেদে বারাআ এবং ইবনু উমার হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম হতে সুফিয়ানের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি এটিকে সংরক্ষিত বলে মনে করেননি এবং বলেছেন, সম্ভবত ইয়াহইয়া- আমার মতে সুফিয়ান বর্ণিত হাদীস উদ্দেশ্য করেছিলেন যা মানসূর-খাইসামা হতে যিনি ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ "যে ব্যক্তি নামায আদায়ের ইচ্ছা রাখে সে এবং মুসাফির ছাড়া (এশার পর) আলাপ-আলোচনা করার অনুমতি নেই”। মুহাম্মাদ আল-বুখারী আরো বলেন, মানসূর-আবূ ইসহাক হতে তিনি আবদুর রহমান ইবনু ইয়ামীদ অথবা অপরের সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “মুসাফাহা করলে সালাম পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়”।
Book 42 · Hadith 43 · #2680 · Daif, Daif, Daif - 44
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোগীকে সম্পূর্ণভাবে সেবা করার পূর্ণতা হল তার কপালে হাত রাখা অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেনঃ রোগীর হাতের উপর হাত রেখে প্রশ্ন করা, সে কেমন আছে? আর তোমাদের সালামের পূর্ণতা হল একে অন্যের সঙ্গে মুসাফাহা করা। যঈফ, যঈফা (১২৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ খুবএকটা মজবুত নয়। মুহাম্মাদ (বুখারী রাহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর বিশ্বস্ত রাবী এবং আলী ইবনু ইয়াযীদ দুর্বল রাবী। আল-কাসিম হলেন আবদুর রহমানের পুত্র, উপনাম আবূ আবদুর রহমান, তিনি বিশ্বস্ত রাবী। তিনি আবদুর রহমান ইবনু খালিদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়ার মুক্তদাস। আল-কাসিম সিরিয়ার অধিবাসী।
Book 42 · Hadith 44 · #2681 · Daif, Daif, Daif, Daif - 45
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যাইদ ইবনু হারিসা (রাঃ) যখন (সফর হতে) মদীনায় ফিরে এলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমার ঘরে ছিলেন। তিনি এসে দরজা খটখট করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালি গায়ে কাপড় টানতে টানতে তার নিকটে গেলেন। আল্লাহর শপথ! আমি তাকে আগে বা পরে কখনো খালি গায়ে দেখিনি। তারপর তিনি যাইদের সাথে কোলাকুলি করলেন এবং তাকে চুমু খেলেন। যঈফ, মিশকাত (৪৬৮২), রিয়াদুস সালেহীন এর মুকাদ্দামা (ওয়াও/৫) নাকদুল কাত্তানী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। যুহরীর বর্ণনা হিসাবে আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
Book 42 · Hadith 45 · #2682 · Daif, Daif, Daif - 46
। সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী তার এক সঙ্গিকে বলল, আস আমরা এই নবীর নিকট যাই। তার বন্ধু বলল, নবী বলো না, তিনি যদি শুনে ফেলেন তাহলে খুশীতে তার চার চোখ হয়ে যাবে। অতঃপর এরা দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি তাদের বললেনঃ আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, চুরি করো না, যেনা করো না, আল্লাহ যেসব প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া সেগুলো হত্যা করো না, হত্যার উদ্দেশ্যে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে বিচারালয়ে নিয়ে যেও না, যাদু করো না, সুদ খেয়ো না, সতী-সাধ্বী মহিলাকে যেনার অপবাদ দিও না, যুদ্ধের ময়দান থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করো না এবং বিশেষ করে তোমরা ইয়াহুদীগণ শনিবারের সীমা লংঘন করো না। রাবী বলেন, এসব স্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা শুনে তারা তার হাতে-পায়ে চুমু দিল এবং বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নবী। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাহলে আমার অনুসরণ করতে তোমাদের বাধা কিসের? রাবী বলেন, তারা বলল, দাউদ (আঃ) তার রবের নিকটে দু'আ করেছিলেন যে, তার (বংশধরের) সন্তানদের মধ্যেই যেন নবী হন। আমরা আশংকা করছি আমরা যদি আপনার অনুসরণ করি তাহলে ইয়াহুদীগণ আমাদের হত্যা করে ফেলবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৭০৫) এ অনুচ্ছেদে ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ, ইবনু উমার ও কাব ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 46 · #2683 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 47
। উম্মু হানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন এবং ফাতিমা (রাযিঃ) একটি কাপড় দ্বারা তাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্ন করলেনঃ কে? আমি বললাম, আমি উম্মু হানী। তিনি বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম! তারপর বর্ণনাকারী এ হাদীসের পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। সহীহঃ বুখারী (৩৫৭), মুসলিম (২/১৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 42 · Hadith 47 · #2684 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon