Chapters on Recitation
- 1
। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করে কিরআত পাঠ করতেন। তিনি পাঠ করতেন "আলহামদু লিল্লাহ রব্বিল আলামীন”, তারপর বিরতি দিতেন; তারপর পাঠ করতেনঃ “আর-রাহমানির রাহীম", তারপর বিরতি দিয়ে আবার পাঠ করতেনঃ “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন”। সহীহঃ ইরওয়াহ (৩৪৩), মিশকাত (২২০৫), সিফাতুস সালাত, মুখতাসার শামা-য়িল (২৭০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবূ উবাইদও “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” (মালিকি-এর মীমে আলিফবিহীন) পাঠ করতেন এবং তিনি এ কিরা'আতই গ্রহণ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-উমাবী প্রমুখ ইবনু জুরাইজ হতে, তিনি ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এরূপই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই সনদসূত্র পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। কেননা লাইস ইবনু সা'দ (রাহঃ) এ হাদীসটি ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু মামলাক হতে, তিনি উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরাআতের প্রতিটি অক্ষর আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করতেন। লাইসের রিওয়ায়াত অনেক বেশি সহীহ। তার রিওয়ায়াতে এ কথার উল্লেখ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” (আলিফ বিহীন) পাঠ করেছেন।
Book 46 · Hadith 1 · #2877 · Sahih, Sahih, Daif - 2
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর, উমার এবং উসমান (রাঃ) তারা প্রত্যেকেই পাঠ করতেনঃ “মালিকি ইয়াওমিদীন" অর্থাৎ মীমের সাথে আলিফসহ মদের সাথে পাঠ করতেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র এই শাইখ আইউব ইবনু সুওয়াইদ আর-রামলীর রিওয়ায়াত হিসাবে যুহরী-আনাস (রাঃ) বর্ণিত উপরোক্ত হাদীস জেনেছি। যুহরীর কিছু শাগরিদ তার সূত্রে এ হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমার (রাঃ) “মালিকি ইয়াওমিদীন” (মালিকি-এর মীম-এর সাথে আলিফ যোগে) পাঠ করতেন। সনদ দুর্বল আবদুর রাযযাক (রাহঃ) মামার হতে তিনি যুহরী হতে তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমর (রাঃ) “মালিকি ইয়াওমিদীন” (মালিকি-এর মীম-এর সাথে আলিফ যোগে) পাঠ করতেন।
Book 46 · Hadith 2 · #2878 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 3
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়েছেনঃ ইন্নান্নাফসা বিন-নাফসি ওয়াল আইনু বিলআইনি। সনদ দুর্বল সুয়াইদ ইবনু নাসর-ইবনুল মুবারাক- ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত সনদে বর্ণিত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু আলী ইবনু ইয়াযীদ হলেন ইউনুস ইবনু ইয়ামীদের সহোদর। এ হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ বলেনঃ কেবল মাত্র ইবনুল মুবারাক ইউনুস ইবনু ইয়ামীদের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ উবাইদ এ হাদীসের অনুসরণক্ৰমে ওয়াল-আইনু বিল-আইন পড়েছেন।
Book 46 · Hadith 3 · #2879 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 4
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “হাল তাসতাতীউ রব্বাকা" পড়েছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনু সাদের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। রিশদীন ইবনু সা’দ ও আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনু আনউম আল-আফরীকী উভয়ে হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল।
Book 46 · Hadith 4 · #2880 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 5
। উম্মু সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ইন্নাহু আমিলা গাইরা সালিহীন" ("আমিলা’ শব্দের মীমে যের) পাঠ করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৮০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সাবিত আল-বুনানীর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি সাবিত আল-বুনানীর রিওয়ায়াত। এ হাদীসটি শাহর ইবনু হাওশাব হতে আসমা বিনতু ইয়াযীদ সূত্রেও বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আমি আবদ ইবনু হুমাইদকে বলতে শুনেছিঃ আসমা বিনতু ইয়াযীদ হলেন উম্মু সালামা আল-আনসারিয়্যা। আমার মতে উভয় হাদীস একই। শাহর ইবনু হাওশাব (রাহঃ) উক্ত উম্মু সালামা আল-আনসারিয়্যা হতে এ হাদীস ব্যতীত আরো হাদীস বর্ণনা করেছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 46 · Hadith 5 · #2881 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 6
। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত আয়াত এভাবে পাঠ করেছেনঃ “ইন্নাহু আমিলা গাইরা সালিহীন"। সহীহঃ সহীহাহ (২৮০৯)।
Book 46 · Hadith 6 · #2882 · Isnaad Hasan - 7
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশদীদ সহযোগে “কাব বাল্লাগতা মিল্লাদুনী উযরা” পাঠ করেছেন, বা এর মধ্যে তাশদীদ সহযোগে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। উমাইয়্যা ইবনু খালিদ সিকাহ রাবী। আবূল জারিয়া আল-আবদী একজন অজ্ঞাত শাইখ। আমরা তার নাম জানি না।
Book 46 · Hadith 7 · #2883 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 8
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ফী আইনিন হামিআতিন” পাঠ করেছেন। বক্তব্য সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত কিরাআতই সহীহ। বর্ণিত আছে যে, ইবনু আব্বাস ও আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এ আয়াত পাঠে মতভেদ করেছেন এবং বিষয়টি কাব আল-আহবার (রাযিঃ)-এর সামনে পেশ করেছেন। তার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিওয়ায়াত থাকলে তিনি সেটিকেই যথেষ্ট মনে করতেন এবং কাব (রাযিঃ)-এর সামনে মীমাংসার জন্য পেশ করতেন না।
Book 46 · Hadith 8 · #2884 · Sahih Matn, Sahih Matn, Sahih, Daif - 9
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের সময় রোমবাসীরা পারস্যবাসীদের উপর বিজয়ী হয়। এ সংবাদে মুসলিমগণ আনন্দিত হন। কারণ এই প্রসঙ্গে (ইতিপূর্বে) “আলিফ লাম মীম গুলাবাতির রূম... ইয়াফরাহুল মু'মিনূন" (সূরা আর-রুম ১-৪) আয়াত অবতীর্ণ হয়। তিনি বলেন, পারস্যবাসীদের উপর রোমীয়দের বিজয়ের কারণে মুসলিমগণ খুবই আনন্দিত হন। সহীহঃ (৩১৯২)নং হাদীসে এর পুনরুল্লেখ আসবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। “গালাবাত” ও “গুলিবাত” উভয়রপে পাঠ করা যায়। কথিত আছে যে, রোমীয়রা প্রথমে পরাজিত হয়েছিল এবং পরে বিজয়লাভ করে। নাসর ইবনু আলী “গালাবাত” পাঠ করতেন (কিন্তু প্রচলিত কিরাআত “গুলিবাত”)।
Book 46 · Hadith 9 · #2885 · Sahih, Sahih, Daif - 10
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পাঠ করলেন “খালাকাকুম মিন যা'ফিন"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যু’ফিন" হবে। হাসানঃ রাওযুন নায়ীর (৫৩০)। আবদ ইবনু হুমাইদ ইয়াযিদ ইবনু হারুন হতে, তিনি ফুযাইল ইবনু মারযুক (রাহঃ) হতে তিনি আতিয়্যাহ হতে, তিনি ইবনু উমার হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সুত্রে উপরোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু ফুযাইল ইবনু মারযুক সূত্রে জেনেছি।
Book 46 · Hadith 10 · #2886 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 11
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ফাহাল মিন মুদ্দাকির” পাঠ করতেন। সহীহঃ বুখারী (৪৮৬৯, ৪৮৭৪), মুসলিম (২/২০৫, ২০৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 46 · Hadith 11 · #2887 · Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 12
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ফারূহুন ওয়া রাইহানুন ওয়া জান্নাতু নাঈম" পাঠ করতেন। সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু হারূন আল-আওয়ারের রিওয়ায়াত হিসেবেই জেনেছি।
Book 46 · Hadith 12 · #2888 · Sahih Isnaad, Isnaad Hasan - 13
। আলকামাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সিরিয়ায় পৌছে আবূদ দারদা (রাযিঃ)-এর নিকট হাযির হলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরাআত পাঠ করতে পারে? ‘আলকামাহ বলেন, লোকেরা আমার দিকে ইশারা করে দেখালে আমি বললাম, হ্যাঁ আমি পারি। তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি “ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগশা” আয়াতটি আব্দুল্লাহকে কিভাবে তিলাওয়াত করতে শুনেছ? আমি বললাম, আমি তাকে “ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা ওয়ায-যাকারি ওয়াল-উনসা” এভাবে তিলাওয়াত করতে শুনেছি। আবূদ দারদা (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তা'আলার কসম! আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এভাবেই তিলাওয়াত করতে শুনেছি। কিন্তু এসব লোক তো আমাকে “ওয়ামা খালাকায-যাকারা ওয়াল-উনসা" এভাবে পাঠ করাতে চাচ্ছে। আমি তাদের অনুসরণ করি না। সহীহঃ বুখারী (৪৯৪৩, ৪৯৪৪), মুসলিম (২/২০৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর কিরাআত এরূপইঃ ওয়াল লাইলি ইযা- ইযাগশা- ওয়ান নাহারি ইযা তাজাল্লা-ওয়াযযাকারি ওয়াল উনসা।
Book 46 · Hadith 13 · #2889 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 14
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিম্নোক্ত আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এভাবে পড়িয়েছেনঃ “ইন্নী আনার-রাযযাকু যুল কুওয়্যাতিল মাতীন"। মতন সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 46 · Hadith 14 · #2890 · Sahih Matn, Sahih Matn, Hasan Sahih, Sahih - 15
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করেছেন “ওয়া তারান-নাসা সুকারা, ওয়ামাহুম বিসুকারা”। সহীহঃ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯-১৪০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আনাস (রাযিঃ) ও আবূত তুফাইল (রাযিঃ) ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন সাহাবী হতে কাতাদাহ কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এটা আমার মতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। কাতাদাহ্ হাসান হতে তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন হতে এই সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি “ইয়া আইয়ুহান-নাসুত্তাকু রব্বাকুম" পাঠ করেন। হাদীসটি অনেক লম্বা। এখানে সংক্ষেপে পেশ করা হয়েছে।
Book 46 · Hadith 15 · #2891 · Sahih, Sahih, Sahih - 16
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদের বা তোমাদের কারো এরূপ কথা বলা কতই না আপত্তিকরঃ “আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। (বরং তার বলা উচিত যে,) তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা স্মরণ রাখার জন্য অনবরত কুরআন পাঠ করবে। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। উট যেভাবে রশি হতে ছাড়া পেয়ে পালায়, এটা (কুরআন) মানুষের হৃদয় হতে তার চাইতেও বেশি পলায়নপর। সহীহঃ আযযিলা-ল (৪২২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 46 · Hadith 16 · #2892 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 17
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আমি একবাররাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি (নামাযে মধ্যে) সূরা আল-ফুরকান তিলাওয়াত করছিলেন। আমি মনোযোগ সহকারে তার তিলাওয়াত শুনলাম এবং লক্ষ্য করলাম যে, তিনি অনেকগুলো অক্ষর এমন নিয়মে তিলাওয়াত করছেন যে নিয়মে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়াননি। আমি তাকে নামাযের মধ্যেই জব্দ করতে উদ্যত হলাম কিন্তু সালাম ফিরানো পর্যন্ত অবকাশ দিলাম। তিনি সালাম ফিরাতেই আমি তার চাদর তার গলায় পেচিয়ে ধরে প্রশ্ন করলাম, আমি আপনাকে যে (রীতিতে এ) সূরাটি পাঠ করতে শুনলাম তা আপনাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (এরূপই) শিখিয়েছেন। আমি তাকে বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। আল্লাহর কসম! আপনি যে সূরাটি পাঠ করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে আমাকে তা শিখিয়েছেন। তারপর আমি তাকে টেনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে সূরা আল-ফুরকান যেভাবে পাঠ করা শিখিয়েছেন, সেই সূরা তা হতে ভিন্নভাবে আমি একে পাঠ করতে শুনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ‘উমার! তাকে ছেড়ে দাও। হে হিশাম! তুমি সূরাটি তিলাওয়াত করে শুনাও। আমি যেভাবে তাকে তিলাওয়াত করতে শুনেছিলাম সেরূপেই তিনি তা তিলাওয়াত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে উমার! তুমি তিলাওয়াত করে শুনাও। যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠ করিয়েছেন আমি সেভাবেই তা পাঠ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেও এটা অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন বস্তুত এ কুরআন সাত রীতিতে অবতীর্ণ করা হয়েছে। সুতরাং যেভাবে তোমাদের সহজ হয় সেভাবেই তা হতে পাঠ করবে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৩২৫), বুখারী (৪৯৯২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) যুহরী হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাতে মিসওয়ার ইবনু মাখরামার উল্লেখ করেননি।
Book 46 · Hadith 17 · #2893 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 18
। উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে বললেনঃ হে জিবরীল! আমি একটি নিরক্ষর উন্মাতের নিকট প্রেরিত হয়েছি। এদের মধ্যে প্রবীণ, বৃদ্ধ, কিশোর ও কিশোরী আছে এবং এমন লোকও আছে যে কখনো কোন লেখাপড়াই করেনি। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! কুরআন তো সাত রীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। হাসান সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৩২৮)। উমার, হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান, আবূ হুরায়রা, আবূ আইউব আনসারী (রাযিঃ)-এর স্ত্রী উম্মু আইয়ুব, সামুরাহ, ইবনু আব্বাস ও আবূ জুহাইম ইবনুল হারিস ইবনুস সিম্মা আমর ইবনুল আস ও আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে।
Book 46 · Hadith 18 · #2894 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 19
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াতে যে লোক তার কোন ভাইয়ের একটি বিপদ দূর করবে, কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ তা'আলা তার একটি বিপদ দূর করবেন। আর কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি যে লোক গোপন রাখবে, আল্লাহ তা'আলা ইহকালে ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। কোন অভাবীর কষ্ট যে ব্যক্তি দূর করবে, ইহকালে ও পরকালে তার কষ্ট আল্লাহ তা'আলা দূর করবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বান্দার সহায়তা করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার কোন ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। যে লোক জ্ঞান অর্জনের পথে বের হয় আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন দল মসজিদে আল্লাহ তা'আলার কিতাব তিলাওয়াত এবং তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, (আল্লাহ তা'আলার) রহমত তাদের ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে। কৃতকর্ম যাকে পিছিয়ে দেয় বংশ মর্যাদা তাকে অগ্রসর করতে পারে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২২৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী এভাবেই আমাশের সূত্রে-আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আসবাত ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) আমাশের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ সালিহ-আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে...তারপর এ হাদীসের কোন কোন অংশ বর্ণনা করেন।
Book 46 · Hadith 19 · #2895 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim - 20
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কত দিনে কুরআন শেষ করব? তিনি বলেনঃ এক মাসে তা শেষ করবে। আমি বললাম, আমি এর চাইতে বেশি পাঠ করতে পারি (আরো কম দিনে শেষ করতে পারি)। তিনি বললেনঃ তাহলে বিশ দিনে শেষ করবে। আমি বললাম, আমি এর চাইতেও বেশি পাঠ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে পনের দিনে তা শেষ করবে। আমি আবার বললাম, আমি এর চাইতেও কম সময়ে শেষ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে দশ দিনে তা শেষ করবে। আমি আবার বললাম, আমি এর চাইতেও বেশি পাঠ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে পাঁচ দিনে তা শেষ করবে। আমি আবার বললাম, আমি আরো বেশি পাঠ করতে পারি। তিনি (রাবী) বলেন, এর চাইতে কম দিনে পাঠ করতে তিনি আমাকে সম্মতি দেননি। সনদ দুর্বল। নাসাঈতে ৫ দিনের উল্লেখ ব্যতীত অনুরূপ বর্ণনা আছে। সহীহ আবূ দাউদ (১২৫৫), সহীহ বর্ণনা আছে তিনি তাকে বলেছেনঃ প্রতি তিন দিনে কুরআন পাঠ (শেষ) কর। সহীহ আবূ দাউদ (১২৬০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ বুরদা হতে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসাবে একে গারীব বিবেচনা করা হয়। অন্য বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তিনদিনের কমে কুরআন শেষ করে সে কুরআন বুঝেনি”। অধিকন্ত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ “তুমি চল্লিশ দিনে কুরআন শেষ করবে"। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রাহঃ) বলেনঃ এ হাদীসের কারণে আমরা কারো জন্য কুরআন শেষ করতে ৪০ দিনের অধিক সময় লাগানো পছন্দ করি না। কিছু আলিমের মতে তিন দিনের কম সময়ে কুরআন শেষ করা সঙ্গত নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে সর্বনিম্ন তিন দিনের কথা উল্লেখ আছে। কিছু সংখ্যক আলিম তিন দিনের কম সময়ে কুরআন শেষ করার সম্মতি দিয়েছেন। বর্ণিত আছে যে, উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) বিতরের শেষ রাকাআতে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করতেন। আরো বর্ণিত আছে যে, সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহঃ) কা'বা শরীফে এক রাকাআতে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করেছেন। তবে ধীরেসুস্থে সহীহশুদ্ধ করে কুরআন তিলাওয়াত করা সকল আলিমদের মতে বেশি পছন্দনীয়।
Book 46 · Hadith 20 · #2896 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 21
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি চল্লিশ দিনে কুরআন পাঠ (শেষ) করবে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১২৬১), সহীহাহ (১৫১২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কিছু রাবী মামারের সূত্রে-সিমাক ইবনুল ফাযল হতে, তিনি ওয়াহব ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ)-কে চল্লিশ দিনে কুরআন পাঠ (শেষ) করার নির্দেশ দিয়েছেন।
Book 46 · Hadith 21 · #2897 · Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 22
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক ব্যাক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! কোন কাজ আল্লাহর কাছে বেশী পছন্দনীয়? তিনি বলেনঃ সাওয়ারী হতে নেমেই পুনরায় সে সাওয়ার হয়। লোকটি প্রশ্ন করল আল-হাল আল মুরতা হাল কি? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন শেষ করেই আবার প্রথম হতে পাঠ করা শুরু করে দেয়। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুসলিম ইবনু ইবরাহীম হতে তিনি সালিহ আল-মুররী হতে তিনি কাতাদা হতে তিনি যুরারা ইবনু আওফা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেনঃ আমার মতে নাসর ইবনু আলী-আল-হাইসাম ইবনুর রাবী (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস অপেক্ষায় উপরোক্ত সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অনেক বেশি সহীহ।
Book 46 · Hadith 22 · #2898 · Daif Isnaad, Daif - 23
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন দিনের কম সময়ে যে লোক কুরআন পাঠ করল সে কুরআনের কিছুই বুঝেনি। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১২৬০), মিশকাত (২২০১), সহীহাহ (১৫১৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ্ (রহঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
Book 46 · Hadith 23 · #2899 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih