Jami At Tirmidhi

← Jami At Tirmidhi

Chapters on Virtues

৩৪৪ হাদিস

  1. 1

    । ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা' (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আঃ)-কে বেছে নিয়েছেন এবং ইসমাঈল-এর বংশে কিনানাহ গোত্রকে বংশ বেছে নিয়েছেন, কিনানাহ গোত্র হতে কুরাইশ বংশকে বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ বংশ থেকে হাশিম উপগোত্রকে বেছে নিয়েছেন এবং বানী হাশিম হতে আমাকে বেছে নিয়েছেন। ইবরাহীম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আঃ)-কে বেছে নিয়েছেন" অংশটুকু ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। সহীহাহ (৩০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 1 · #3552 · Sahih, Daif, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  2. 2

    । ওয়াসিলাহ্ ইবনুল আসক্বা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর হতে কিনানাহ গোত্রকে বাছাই করেছেন, কিনানাহ গোত্র হতে কুরাইশকে বাছাই করেছেন, আবার কুরাইশদের মধ্য হতে হাশিমকে বাছাই করেছেন এবং বনু হাশিম হতে আমাকে বাছাই করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (৩০২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 2 · #3553 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  3. 3

    । আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুরাইশগণ এক সাথে বসে একে অপরে তাদের বংশমর্যাদা প্রসঙ্গে আলোচনা করে এবং মাটিতে আবর্জনার স্তুপের উপরকার খেজুর গাছের সাথে আপনাকে তুলনা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা সকল জীব সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সব চাইতে ভাল গোত্রে সৃষ্টি করেছেন এবং দুই দলকে তিনি বেছে নেন (ইসহাক ও ইসমাঈল বংশ), তারপর গোত্র ও বংশগুলোকে তিনি বাছাই করেন এবং আমাকে সবচাইতে ভাল বংশে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি ঘরসমূহ বাছাই করেছেন এবং আমাকে সেই ঘরগুলোর মধ্যে সবচাইতে ভাল ঘরে সৃষ্টি করেছেন। অতএব আমি ব্যক্তিসত্তায় তাদের সবচাইতে উত্তম বংশ-খান্দানেও সবার চাইতে উত্তম। যঈফ, নাকদুল কাত্তানী (৩১-৩২), যঈফা (৩০৭৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস হলেন ইবনু নাওফাল।

    Book 49 · Hadith 3 · #3554 · Daif, Daif, Daif
  4. 4

    । আল-মুত্তালিব ইবনু আবূ ওয়াদাআ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আল-আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলেন। মনে হয় তিনি কিছু (কুরাইশদের মন্তব্য) শুনে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে দাড়িয়ে বললেনঃ আমি কে? সাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিব। আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্যে সবচাইতে ভাল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারপর তিনি তার সৃষ্টিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার উত্তম দল হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে কিছু গোত্রে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার ভাল গোত্র হতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে কিছু পরিবারে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যকার সবচাইতে ভাল পরিবারে ও ভাল ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন। যঈফ, যঈফা (৩০৭৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 4 · #3555 · Daif, Daif, Daif
  5. 5

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নবুওয়াত কখন অবধারিত হয়েছে? তিনি বললেনঃ যখন আদম (আঃ) তার শরীর ও রুহের মধ্যে ছিল। সহীহঃ সহীহাহ (১৮৫৬), মিশকাত (৫৭৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। উপর্যুক্ত সনদেই আমরা শুধুমাত্র হাদীসটি অবগত হয়েছি। মাঈসারাহ আল-ফাজর হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 5 · #3556 · Sahih, Sahih, Sahih
  6. 6

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দিন লোকদেরকে উঠানো হবে (কবর হতে কিয়ামতের মাঠে) সেদিন আমিই সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশকারী হব। যখন সকল মানুষ আল্লাহ তা’আলার আদালতে একত্র হবে, তখন আমি তাদের ব্যাপারে বক্তব্য উত্থাপন করব। তারা যখন নিরাশ ও হতাশাগ্রস্ত হবে তখন আমিই তাদের সুখবর প্রদানকারী হব। সে দিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতেই থাকবে। আমার প্রতিপালকের নিকট আদম-সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচাইতে সম্মানিত, এতে গর্বের কিছু নেই। যঈফ, মিশকাত (৫৭৬৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।

    Book 49 · Hadith 6 · #3557 · Daif, Daif, Daif
  7. 7

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যার জন্য যমিন ফাঁক করা হবে (সবার আগে আমিই কবর হতে উঠবো)। তারপর আমাকে জান্নাতের (একজোড়া) পোশাক পরানো হবে। তারপর আমি আরশের ডান পাশে গিয়ে দাঁড়াব। আমি ছাড়া সৃষ্টিকুলের কেউই সেই জায়গায় দাঁড়াতে পারবে না। যঈফ, মিশকাত (৫৭৬৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।

    Book 49 · Hadith 7 · #3558 · Daif, Daif, Daif
  8. 8

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য তোমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে ওয়াসীলাহ কামনা কর। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওয়াসীলাহ কি? তিনি বললেনঃ জান্নাতের সবচাইতে উচু স্তর। শুধুমাত্র এক লোকই তা অর্জন করবে। আশা করি আমিই হব সেই ব্যক্তি। সহীহঃ মিশকাত (৫৭৬৭), মুসলিম (২/৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এর সনদ খুব একটা মাজবুত নয়। কা'ব সুপরিচিত ব্যক্তি নন। লাইস ইবনু আবী সুলাইম ছাড়া আর কেউ তার হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

    Book 49 · Hadith 8 · #3559 · Sahih, Sahih, Sahih
  9. 9

    । উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (পূর্ববর্তী) নবীগণের মাঝে আমার উপমা সেই লোকের মত যে একটি সুরম্য, সম্পূর্ণ ও সুশোভিত প্রাসাদ নির্মাণ করল, কিন্তু একটি ইটের জায়গা অসম্পূর্ণ রেখে দিল। জনগণ প্রাসাদটি প্রদক্ষিণ করত এবং তাতে অবাক হয়ে বলত, যদি তার নির্মাণকারী ঐ ইটের জায়গাটি পূর্ণ করত। অতএব আমি নবীগণের মাঝে সেই ইটের জায়গার সমতুল্য। সহীহঃ তাখরীজ ফিকহিস সীরাহ (১৪১), বুখারী ও মুসলিম জাবিরও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। একই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমিই হব নবীগণের ইমাম (নেতা), তাদের মুখপাত্র এবং তাদের সুপারিশকারী, এতে কোন গর্ব নেই। হাসানঃ মিশকাত (৫৭৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 9 · #3560 · Sahih, Hasan Sahih, Daif
  10. 10

    । আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা মুআযযিনের আযান যখন শুনবে সে সময় তোমরা তার মতো বলবে, তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে। কেননা যে লোক আমার প্রতি একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি এর বিনিময়ে দশবার দয়া বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকটে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা ওয়াসীলাহ হল জান্নাতের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ জায়গা যা আল্লাহ তা'আলার বান্দাদের মাঝে শুধুমাত্র একজনই অর্জন করবে। আশা করি আমিই হব সেই বান্দা। আমার জন্য যে লোক উসীলা প্রার্থনা করল তার জন্য (আমার) সুপারিশ অবধারিত হল। সহীহঃ ইরওয়া (২৪২), তা’লীক 'আলা বিদাইয়াতিস সূল (২০/৫২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মুহাম্মাদ বুখারী (রাহঃ) বলেন, এই ‘আবদুর রহমান ইবনু জুবাইর হলেন কুরাশী ও মিসররিয মাদীনাবাসী এবং আবদুর রহমান ইবনু জুবাইর ইবনু নুফাইর হলেন সিরিয়ার অধিবাসী।

    Book 49 · Hadith 10 · #3561 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  11. 11

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের ইমাম (নেতা) হব, এতে অহংকার নেই। হামদের (আল্লাহ তা'আলার প্রসংসার) পতাকা আমার হাতেই থাকবে, এতেও গর্ব নেই। সে দিন আল্লাহ তা'আলার নবী আদম (আঃ) এবং নবীগণের সকলেই আমার পতাকার নীচে থাকবেন। সর্বপ্রথম আমার জন্যই মাটিকে বিদীর্ণ করা হবে, এতে কোন অহংকার নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৪৩০৮)-এর কিছু অংশ মুসলিমেও আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সানাদে বর্ণিত আছে যে, আবূ নাজরাহ ইবনু আব্বাস হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 11 · #3562 · Sahih, Sahih, Daif
  12. 12

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী তার প্রতীক্ষায় বসে ছিলেন। রাবী বলেন, তিনি বের হয়ে তাদের নিকট এসে তাদের কথাবার্তা শুনলেন। তাদের কেউ বললেন, বিস্ময়ের বিষয়! আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টিকুলের মধ্য হতে (একজনকে) নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়েছেন। তিনি ইবরাহীম (আঃ)-কে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়েছেন। আরেকজন বললেন, এর চেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলঃ মূসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে তার সরাসরি কথাবার্তা। আরেকজন বললেন, ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কালিমা ("কুন" (হও) দ্বারা সৃষ্ট) এবং তার দেয়া রূহ। আরেকজন বললেন, আদম আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকটে বের হয়ে তাদেরকে সালাম করে বললেনঃ আমি তোমাদের কথাবার্তা ও তোমাদের বিস্ময়ের ব্যাপারটা শুনেছি। নিশ্চয় ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সত্যিই তিনি তাই। মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার সাথে বাক্যালাপকারী, সত্যিই তিনি তাই। ঈসা আলাইহিস সালাম তার রূহ ও কালিমা, সত্যিই তিনি তাই। আর আদম আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেছেন, সত্যিই তিনিও তাই। কিন্তু আমি আল্লাহ্ তা'আলার হাবীব (প্রিয় বন্ধু), তাতে কোন গর্ব নেই। কিয়ামত দিবসে আমিই হব প্রশংসার পতাকা বহনকারী তাতে কোন গর্ব নেই। কিয়ামতের দিন আমিই সর্বপ্রথম শাফাআতকারী এবং সর্ব প্রথমে আমার শাফাআতই কুবুল হবে, তাতেও কোন গর্ব নেই। সর্ব প্রথমে আমিই জান্নাতের (দরজার) কড়া নাড়ব। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য তার দরজা খুলে দিবেন, আমাকেই সর্বপ্রথম জান্নাতে পাঠাবেন এবং আমার সাথে থাকবে গারীব মুমিনগণও, এতেও গর্বের কিছু নেই। আমি আগে ও পরের সকল লোকের মধ্যে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত, এতেও গর্বের কিছু নেই। যঈফ, মিশকাত (৫৭৬২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব

    Book 49 · Hadith 12 · #3563 · Daif, Daif, Daif
  13. 13

    । মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ ইবনি আবদিল্লাহ ইবনি সালাম তার পিতা হতে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন (তার দাদা) বলেছেন তাওরাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ঈসা আলাইহিস সালাম-এর গুনাবলী লিখা আছে এবং তাকে (ঈসা আলাইহিস সালাম-কে) তার সাথে দাফন করা হবে। আবূ মাওদুদ বলেন (আইশা (রাঃ) ঘরে কবরের জন্য জায়গা অবশিষ্ট আছে। যঈফ, মিশকাত (৫৭৭২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাবী আবূ মাওদূদ উসমান ইবনু আয-যাহহাক এরূপ বলেছেন। অবশ্য তিনি আযযাহহাক ইবনু উসমান আল-মাদীনী হিসেবেই পরিচিত।

    Book 49 · Hadith 13 · #3564 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  14. 14

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিন হিজরত করে মাদীনায় প্রবেশ করেন সেদিন সেখানকার প্রতিটি জিনিস জ্যোতির্ময় হয়ে যায়। তারপর যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন সেদিন আবার সেখানকার প্রত্যেকটি বস্তু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তার দাফনকার্য আমরা সমাপ্ত করে হাত থেকে ধূলা না ঝাড়তেই আমাদের মনে পরিবর্তন এসে গেল (ঈমানের জোর কমে গেল)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৬৩১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 14 · #3565 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  15. 15

    । কাইস ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তী বছরে (আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের বছর) জন্মগ্রহণ করি। তিনি বলেন, ইয়াসার ইবনু লাইস গোত্রীয় কুবাস ইবনু আশইয়ামকে উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) প্রশ্ন করেন, আপনি বড় নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চাইতে অনেক বড়, তবে আমি তার আগে জন্মগ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীর বছর জন্ম গ্রহণ করেছেন। আমার মা আমাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেলেন যেখানে গিয়ে আমি পাখিগুলোর (হাতিগুলোর) মলের রং সবুজে বদল হয়ে যেতে দেখেছি। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 15 · #3566 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Sahih
  16. 16

    । আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) বলেনঃ কিছু প্রবীণ কুরাইশসহ আবূ তালিব (ব্যবসার উদ্দেশে) সিরিয়ার দিকে রওয়ানা হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে রওয়ানা হন। তারা (বুহাইরাহ) পাদ্রীর নিকট পৌছে তাদের নিজেদের সওয়ারী থেকে মালপত্র নামাতে থাকে, তখন উক্ত পাদ্রী (গীর্জা থেকে বেরিয়ে) তাদের নিকটে এলেন। অথচ এ কাফিলা এর আগে অনেকবার এখান দিয়ে চলাচল করেছে কিন্তু তিনি কখনও তাদের নিকট (গীর্জা) বেরিয়ে আসেননি বা তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। রাবী বলেন, লোকেরা তাদের বাহন থেকে সামানপত্র নামাতে ব্যস্ত থাকাবস্থায় উক্ত পাদ্ৰী তাদের ভেতরে ঢোকেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাত ধরে বলেন, ইনি “সাইয়্যিদুল আলামীন” (বিশ্ববাসীর নেতা), ইনি রাসূল রাব্বিল আলামীন (বিশ্ববাসীর প্রতিপালকের রাসূল) এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে রহমাতুল্লিল আলামীন করে (বিশ্ববাসীর জন্য করুণা স্বরূপ) পাঠাবেন। তখন কুরাইশদের বৃদ্ধ লোকেরা তাকে প্রশ্ন করে, কে আপনাকে জানিয়েছে? তিনি বলেন, যখন তোমরা এ উপত্যকা হতে নামছিলে, (তখন আমি লক্ষ্য করেছি যে,) প্রতিটি গাছ ও পাথর সিজদায় লুটিয়ে পড়ছে। এই দুটি নবী ব্যতীত অন্য কোন সৃষ্টিকে সিজদা করে না। এতদভিন্ন তার ঘারের নীচে আপেল সদৃশ গোলাকার মোহরে নবুওয়াতের সাহায্যে আমি তাকে চিনেছি। খাদ্যদ্রব্যসহ যখন তাদের নিকটে এলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পাল চরাতে গিয়েছিলেন। পাদ্রী বলেন, তোমরা তাকে ডেকে আনার ব্যবস্থা কর। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলেন, তখন একখণ্ড মেঘ তার উপর ছায়া বিস্তার করেছিল এবং কাফিলার লোকেরা যারা তার পূর্বেই এসেছিল তাদেরকে তিনি গাছের ছায়ায় বসা অবস্থায় পেলেন। তিনি বসলে গাছের ছায়া তার দিকে ঝুকে পড়ে। পাদ্রি বলেন, তোমরা গাছের ছায়ার দিকে লক্ষ্য কর, ছায়াটি তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। রাবী বলেন, ইত্যবসরে পাদ্রী তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তাদেরকে শপথ দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা তাকে নিয়ে রোম সাম্রাজ্যে যেও না। কেননা রূমীয়রা যদি তাকে দেখে তাহলে তাকে চিহ্নগুলোর দ্বারা সনাক্ত করে ফেলবে এবং তাকে মেরে ফেলবে। এমতাবস্থায় পাদ্রী লক্ষ্য করেন যে, রূমের সাতজন লোক তাদের দিকে আসছে। পাদ্রী তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে প্রশ্ন করেন, তোমরা কেন এসেছ? তারা বলে, এ মাসে আখিরী যামানার নবীর আগমন ঘটবে। তাই চলাচলের প্রতিটি রাস্তায় লোক পাঠানো হয়েছে, তাই আমাদেরকে আপনাদের পথে পাঠানো হয়েছে। পাদ্রী রোমীয় নাগরিকদের প্রশ্ন করেন, তোমাদের পেছনে তোমাদের চেয়েও ভাল কোন ব্যক্তি আছে কি (কোন পাদ্রী তোমাদেরকে এই নবীর সংবাদ দিয়েছ কি)? তারা বলল, আপনার এ রাস্তায়ই আমাদেরকে ঐ নবীর আসার খরব দেয়া হয়েছে। পাদ্রী বলেন, তোমাদের কি মত, আল্লাহ তা'আলা যদি কোন কাজ কারার ইচ্ছা করেন তবে কোন মানুষের পক্ষে তা প্রতিহত করা কি সম্ভব? তারা বলল, না (অর্থাৎ শেষ যামানার নবীর আগমন ঘটবেই, কোন মানুষ তা ঠেকাতে পারবে না)। রাবী বলেন, তারপর তারা তার নিকট আনুগত্যের শপথ করে এবং তার সাহচর্য অবলম্বন করে। তারপর পাদ্রী (কুরাইশ কাফিলাকে) আল্লাহর নামে শপথ করে প্রশ্ন করেন, তোমাদের মধ্যে কে তার অভিভাবক? লোকেরা বলল, আবূ তালিব। পাদ্রী আবূ তালিবকে অবিরতভাবে আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে তাকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আবূ তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (মক্কায়) ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) বিলাল (রাযিঃ)-কে তার সাথে দেন। আর পাদ্রী তাকে পাথেয় হিসেবে কিছু রুটি ও যাইতুনের তৈল দেন। সহীহ ফিকহুস সীরাহ, দিফা আনিল হাদীসিন নাবাবী (৬২-৭২), মিশকাত (৫৯১৮), তবে বিলালের উল্লেখটুকু মুনকার বলে কথিত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 16 · #3567 · Munkar, Munkar, Daif
  17. 17

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর চল্লিশ বছর বয়সে ওয়াহী অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তিনি মাক্কায় তের বছর ও মাদীনায় দশ বছর বসবাস করেন এবং যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন সে সময় তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৩১৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 17 · #3568 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  18. 18

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল পয়ষট্টি বছর। শাজ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আমাদের নিকট এরূপই বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-ও তার হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 18 · #3569 · Shadh, Shadh, Daif
  19. 19

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক লম্বাও ছিলেন না এবং অতি বেটেও ছিলেন না। তিনি অতিরিক্ত সাদাও ছিলেন না, আবার বেশী তামাটে বর্ণও ছিলেন না। তার মাথার চুল একেবারে ঘন কুকড়ানো ছিল না এবং একেবারে খাড়াও ছিল না। আল্লাহ তা'আলা চল্লিশ বছর বয়সে তাকে নবুওয়াত দান করেন। তারপর তিনি মাক্কায় দশ বছর ও মাদীনায় দশ বছর বসবাস করেন। আল্লাহ তা'আলা ষাট বছরের মাথায় তাকে মৃত্যু দান করেন। সে সময় তার মাথা ও দাঁড়ির বিশটি চুলও সাদা হয়নি। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১) ১৭৫৪ নং হাদীসে এর প্রথমাংশ বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 19 · #3570 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  20. 20

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই মাক্কায় একখানা পাথর আছে যা আমার নবুয়াত অর্জনের রাতগুলোতে আমাকে সালাম করত। আমি এখনও অবশ্যই পাথরখানাকে চিহ্নিত করতে পারি। সহীহঃ মুসলিম (৭/৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 20 · #3571 · Sahih, Sahih, Sahih
  21. 21

    । সামুরাহ ইবনু জুনদাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি একটি পাত্র হতে আহার করতাম। দশজন আহার করে চলে যেত এবং আবার দশজন খেতে বসত। আবূল আলা বলেন, আমরা (সামুরাকে) প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এ সহযোগিতা কোথা হতে আসত? সামুরাহ (রাযিঃ) বললেন, কিসে তুমি আশ্চর্য প্রকাশ করছ। এই দিক দিয়েই সহযোগিতা আসত। এই বলে তিনি আকাশের দিকে হাতের মাধ্যমে ইশারা করেন। সহীহঃ মিশকাত (৫৯২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূল আলার নাম ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর।

    Book 49 · Hadith 21 · #3572 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  22. 22

    । আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কার কোন এক প্রান্তের উদ্দেশ্যে বের হলাম। তিনি যে কোন পাহাড় বা বৃক্ষের নিকট দিয়ে যেতেন তারা তাকে “আস-সালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলুল্লাহ" বলে অভিবাদন জানাত। যঈফ, মিশকাত,তাহীক ছানী (৫৯১৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। একাধিক রাবী এ হাদীস ওয়ালীদ ইবনু আবূ সাওর-আব্বাদ ইবনু আবূ ইয়াযীদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 22 · #3573 · Daif, Daif, Daif
  23. 23

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে নববীতে) একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের সাথে ঠেস দিয়ে খুতবাহ দিতেন। তারপর তার জন্য লোকেরা একখানা মিম্বার স্থাপন করলে তিনি মিম্বারের উপর দাড়িয়ে খুতবাহ দান করেন। সে সময় খুঁটিটি উষ্ট্রীর মতো কাঁদতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার হতে অবতরণ করে তাকে স্পর্শ করলে তা কান্না বন্ধ করে (শান্ত হয়)। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৪১৫)। এ অনুচ্ছেদে উবাই ইবনু কা'ব, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, ইবনু উমার, সাহল ইবনু সা'দ, ইবনু আব্বাস ও উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাযিঃ)-এর এ হাদীস হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 23 · #3574 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  24. 24

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক বেদুঈন এসে বলল, আমি কিভাবে অবগত হব যে, আপনি নবী? তিনি বললেনঃ ঐ খেজুর গাছের একটি কাদিকে আমি ডাকলে (তা যদি নেমে আসে) তাহলে তুমি কি সাক্ষ্য দিবে যে, আমি আল্লাহ তা'আলার রাসূল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহাকে ডাকলেন, সে সময় কাদি খেজুর গাছ থেকে নেমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে এসে গেল। তারপর তিনি বললেনঃ এবার প্রত্যাবর্তন কর এবং তা স্বস্থানে ফিরে গেল। সে সময় বেদুঈনটি ইসলাম গ্রহণ করলো। “বেদুঈন ইসলাম গ্রহণ করল" অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৫৯২৬), সহীহাহ (৩৩১৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।

    Book 49 · Hadith 24 · #3575 · Sahih, Sahih, Daif
  25. 25

    । আবূ যাইদ ইবনু আখত্বাব (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতখানা আমার চেহারায় মর্দন করেন এবং আমার জন্য দু'আ করেন। বর্ণনাকারী আযরাহ (রাহঃ) বলেন, ঐ লোকটি (দু'আর বারাকাতে) একশত বিশ বছর জীবিত ছিলেন অথচ তার মাথার মাত্র কয়েকটি চুল সাদা হয়েছিল। সহীহঃ তা’লীকাতুল হাসসান (৭১২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ যাইদের নাম 'আমর ইবনু আখতাব।

    Book 49 · Hadith 25 · #3576 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  26. 26

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ ত্বালহা আনসারী (রাযিঃ) তার সহধর্মিণী উম্মু সুলাইম (রাযিঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুর্বল কণ্ঠস্বর শুনে আমি বুঝতে পারলাম, তিনি অতি ক্ষুধার্ত। তোমার নিকটে কি (খাবার) কিছু আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আছে। উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) কয়েকখানা যবের রুটি বের করলেন, তারপর নিজের একটি ওড়না বের করে তার একাংশে রুটি বাধলেন এবং তা আমার হাতে লুকিয়ে দেন এবং আমাকে ওড়নার অপরাংশ দেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমাকে পাঠান। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি ঐসব নিয়ে তার লক্ষ্যে রাওয়ানা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম। সে সময় তার সঙ্গে আরো লোক ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাদের সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেনঃ তোমাকে আবূ ত্বালহা পাঠিয়েছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আহারের দাওয়াত? বর্ণনাকারী বলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের বললেনঃ তোমরা উঠে দাঁড়াও। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তারা প্রত্যেকে রওয়ানা হলেন। আর আমি তাদের সামনে সামনে চললাম এবং আবূ তালহা (রাযিঃ)-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলাম। আবূ ত্বালহা (রাযিঃ) বললেন, হে উম্মু সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো লোকজন নিয়ে এসে পড়েছেন, কিন্তু তাদের সকলের আহার করানোর মত খাবার তো আমাদের নিকটে নেই। উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল তা ভাল করেই জানেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আবূ তলিহা (রাযিঃ) এগিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দেখা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ ত্বালহা (রাযিঃ) একসাথে বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু সুলাইম! তোমার নিকট খাবার জিনিস যা কিছু আছে তা এখানে নিয়ে এসো। উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) ঐ রুটিগুলো নিয়ে এলেন। রুটিগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুকরা টুকরা করার হুকুম দিলে তা টুকরা টুকরা করা হল। একটি চামড়ার পাত্র হতে উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) তাতে ঘি ঢেলে দিয়ে তা তরকারীবৎ তৈরী করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছানুযায়ী তাতে কিছু দু'আ-কালাম পাঠ করলেন এবং বললেনঃ দশজন করে আসতে বল। সুতরাং দশজনকে আহবান করা হল, তারা পেট ভরে আহার করে বের হয়ে গেলে তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো দশজনকে আসতে বল। আবার দশজনকে আহবান করা হল। তারা পেট ভরে আহার করে বের হয়ে গেলে তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো দশজনকে আসতে বল। সুতরাং আবার দশজনকে আহবান করা হল। এভাবে দলের প্রত্যেকে পেট ভরে আহার করলেন। দলে সর্বমোট সত্তর কিংবা আশিজন লোক ছিলেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 26 · #3577 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  27. 27

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে আমি লক্ষ্য করলাম, আসরের নামাযের ওয়াক্তও হয়ে গেছে এবং লোকেরা উযূর পানি খোজ করছে কিন্তু তারা তা পায়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উযূর পানি আনা হল। তিনি নিজের হাত পানির পাত্রে রাখলেন এবং তা হতে লোকদেরকে উযূ করার হুকুম দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি লক্ষ্য করলাম তার আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তারা সকলে উযূ করলেন, এমনকি তাদের শেষ লোকটি পর্যন্ত। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন, ইবনু মাসউদ জাবির ও যিয়াদ ইবনুল হারিস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 27 · #3578 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  28. 28

    । আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের আবির্ভাব এভাবে হল যে, আল্লাহ তা'আলা যখন তার বান্দাদের সম্মানিত ও তাদের প্রতি দয়া করতে চাইলেন, সে সময় এই পরিস্থিতি হল যে, যে স্বপ্লই তিনি দেখতেন তা ভোরের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে উদ্ভাসিত হত। তারপর আল্লাহ তা'আলা যত দিন চাইলেন তার এই অবস্থা অব্যাহত থাকে। এ সময় তার কাছে নির্জনতা এত পছন্দনীয় ছিল যার চাইতে অন্য কিছুই তার কাছে বেশী পছন্দনীয় ছিল না। হাসান সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম এর চেয়ে আরো পূর্ণাঙ্গভাৰে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 28 · #3579 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  29. 29

    । আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ তা'আলার রহমতের নিদর্শনগুলোকে (অতি প্রাকৃতিক বিষয়াবলীকে) শাস্তি মনে কর, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলে আমরা এগুলোকে বারাকাত মনে করতাম। অবশ্যই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাবার খেতাম এবং খাদ্যের তাসবীহ পাঠ শুনতে পেতাম। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে একটি পানির পাত্র আনা হলে তিনি তার মাঝে নিজের হাত রাখলেন এবং তার আঙ্গুলগুলো দিয়ে পানি উপচে বের হতে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা অতি মুবারাক ও আকাশের কল্যাণকর পানি দিয়ে উযূ করতে এদিকে এসো। এমনকি সেই পানিতে আমরা সবাই উযূ করলাম। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 29 · #3580 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  30. 30

    । আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-হারিস ইবনু হিশাম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে ওয়াহী কিরূপে আসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কখনও ঘন্টাধ্বনির মতো তা আমার কাছে আসে এবং এটাই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ওয়াহী। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার কাছে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং তিনি যা বলেন, আমি তা সঙ্গে সঙ্গেই আয়ত্ত করি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি অতিরিক্ত শীতের দিনেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি। তা বন্ধ হওয়ার পরও তার কপাল হতে ঘাম গড়িয়ে পড়ত। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 30 · #3581 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  31. 31

    । আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লাল রং-এর পোশাক পরা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তুলনায় বেশি সুদর্শন আমি আর কোন বাবরি চুলওয়ালা লোক দেখিনি। তার বাবরি কেশ তার দুই কাধের মাঝখানে পর্যন্ত ঝুলন্ত ছিল। তার দুই কাধের মধ্যবর্তী জায়গা ছিল দীর্ঘ। তিনি না খর্বাকৃতির ছিলেন আর না দীর্ঘাকৃতির। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। পূর্বে ১৭২৫ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 31 · #3582 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  32. 32

    । আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক আল-বারাআ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল কি তলোয়ারের মতো (চকচকে) ছিল? তিনি বলেন, না, বরং চাদের মতো উজ্জ্বল ছিল। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৯), বুখারী। আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 32 · #3583 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  33. 33

    । আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না অতি লম্বা ছিলেন আর না (অতি) বেঁটে ছিলেন। তার দু হাত ও দু পা ছিল গোশতবহুল, মাথা ছিল আকারে বৃহৎ এবং হাড়ের গ্রন্থিসমূহ ছিল স্থুল ও শক্তিশালী। তার বুক হতে নাভি অবধি প্রলম্বিত ফুরফুরে পশমের একটি রেখা ছিল। চলার সময় তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে হাটতেন, যেন তিনি ঢালবিশিষ্ট জায়গা দিয়ে হেঁটে চলছেন। আমি তার পূর্বে কিংবা তার পরে আর কাউকে তার মতো দেখিনি। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৪০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী'-তার বাবা ওয়াকী হতে, তিনি আল মাসউদী হতে এই সনদসূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 33 · #3584 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  34. 34

    । আলী (রাঃ)-এর নাতি ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট বর্ণনা করতে গিয়ে বলতেনঃ তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং অত্যন্ত বেঁটেও ছিলেন না, বরং লোকদের মাঝে মধ্যম আকৃতির ছিলেন। তার মাথার চুল খুব বেশি কোকড়ানোও ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না, বরং কিছুটা ঢেউ খেলানো ছিল। তিনি স্থূলকায় ছিলেন না, তার মুখাবয়ব সম্পূর্ণ গোলাকার ছিল না, বরং কিছুটা গোলাকার ছিল। তিনি ছিলেন সাদা-লাল মিশ্রিত গৌরবর্ণের এবং লম্বা ভ্রুযুক্ত কালো চোখের অধিকারী। তার হাড়ের গ্রন্থিগুলো ছিল মজবুত, বাহু ছিল মাংসল। তার দেহে অতিরিক্ত লোম ছিল না, বুক হতে নাভি পর্যন্ত হালকা লোমের একটি রেখা ছিল। তার হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল গোশতে পুরু। তিনি দৃঢ় পদক্ষেপে চলতেন, যেন তিনি ঢালবিশিষ্ট স্থান হতে (নীচে সমতলে) নামছেন। তিনি কারো দিকে ফিরে তাকালে গোটা দেহ ঘুরিয়ে তাকাতেন। তার দুই কাধের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল নাবুওয়াতের মোহর। তিনি ছিলেন খাতামুন নাবিয়ীন (নবীগণের মোহর বা তাদের আগমন ধারার পরিসমাপ্তিকারী)। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী ও দানশীল, বাক্যালাপে সত্যবাদী, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং বন্ধু-বান্ধব ও সহোচরদের সাথে সম্মানের সাথে বসবাসকারী (অথবা সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত বংশোদ্ভূত)। যে কেউ তাকে প্রথম বারের মত দেখেই সে প্রভাবান্বিত হত। যে ব্যক্তি তার সাথে মিশত এবং তার প্রসঙ্গে জানতো সে তার প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন হয়ে যেত। তার বর্ণনা প্রদানকারী বলতে বাধ্য হত, তার আগে বা পরে আমি আর কাউকে তার এরকম (সৌন্দর্যময়) দেখিনি। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল, মিশকাত (৫৭৯১) আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসের সনদসূত্র মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) নয়। আবূ জাফর বলেন, আমি আল-আসমাঈকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য ও গঠনাকৃতি সম্পর্কিত বর্ণনার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলতে শুনেছিঃ “মুম্মাগিত” অর্থ অতিরিক্ত লম্বা। আল-আসমাঈ আরো বলেন, আমি এক বিদুঈনকে কথা প্রসঙ্গে বলতে শুনেছি, “তামাগগাতা কী নুশশাবাতিন” (সে তার তীর খুব টেনেছে)। "মুতারাদ্দিদ” অর্থ স্থূলতার কারণে বেঁটে দেহের একাংশ অপরাংশের মধ্যে প্রবিষ্ট মনে হওয়া। “কাতাত” অর্থ কুঞ্চিত ও কোকড়ানো। “রাজিল” যে ব্যক্তির মাথার চুল কোকড়ানো সে। “মুতাহহাম" অর্থ স্থল দেহ, মাংসল দেহ। "মুকালসাম” গোলগাল চেহারা। “মুশরাব" এমন রং যা সাদা-লালে (দুধে আলতায়) মিশ্ৰিত, গৌর, এটা সবচেয়ে সুন্দর বর্ণ। “আদআজ” অর্থ চোখ ঘোর কালো। “আহদাব” যার ভ্রু লম্বা। “কাতাদ” দুই কাঁধের সঙ্গমস্থল, একে কাহিল’ও বলা হয়। “মাসরুবাত” বুকের পশমের সরল রেখা যা বুক হতে নাভী পর্যন্ত প্রলম্বিত। “আশ-শাছন" অর্থ যার হাত ও পায়ের অঙ্গুলীসমূহ এবং হাত ও পায়ের পাতা মাংসবহুল। “আত-তাকাল্লাউ" অর্থ দৃঢ় পদক্ষেপে পথ অতিক্রম। “সাবাব” অর্থ (উপর হতে নীচে) ঢালু স্থান দিয়ে নেমে আসা। যেমন আমরা বলি, আমরা উপর হতে নীচে নামছি। “জালীলুল মুশাশ” বড় গ্রন্থিযুক্ত অর্থাৎ বাহুর অগ্রভাগ, উদ্ধবাহু। “ইশরাত” অর্থ সাহচর্য, “আশীরু" অর্থ সঙ্গী-সহচর, “বাদীহাতু" অর্থ দৈবাৎ, হঠাৎ। যেমন আরবরা বলে, বাদাহ্তুহু বিআমরিন অর্থাৎ আমি তাকে হঠাৎ কোন বিষয়ে ভীত-বিহব্বল করে দিয়েছি।

    Book 49 · Hadith 34 · #3585 · Daif, Daif, Daif
  35. 35

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মতো দ্রুত গতিতে কথা বলতেন না, বরং তিনি ধীরে সুস্থে প্রতিটি শব্দ পৃথকভাবে উচ্চারণ করে কথা বলতেন, ফলে তার কাছে বসা লোক খুব সহজেই তা আয়ত্ত করে নিতে পারত। হাসানঃ আল-মুখতাসার (১৯১), মিশকাত (৫৮২৮), বুখারী ও মুসলিম। “তিনি দ্রুত কথা বলতেন না" এই অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র যুহরীর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে অবগত হয়েছি। উক্ত হাদীস ইউনুস ইবনু ইয়াযীদও যুহরী হতে রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 35 · #3586 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Sahih
  36. 36

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকটি বাক্য তিন তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন, যাতে তার কথা বুঝতে পারা যায়। হাসান সহীহঃ ২৭২৩ নং হাদীস পূর্বেও অনুরূপ উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনুল মুসান্নার বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে জানতে পেরেছি।

    Book 49 · Hadith 36 · #3587 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  37. 37

    । আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জাযয়ি (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে বেশী মুচকি হাসি দিতে আমি আর কাউকে দেখিনি। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১৯৪), মিশকাত, তাহকীক সানী (৫৮২৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জাযইর বরাতে উপরিউক্ত হাদিসের মতোই বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 37 · #3588 · Sahih, Sahih, Daif
  38. 38

    । আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জাযয়ি (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র মুচকি হাসিই দিতেন। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১৯৫), মিশকাত অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা লাইস ইবনু সা'দের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 38 · #3589 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  39. 39

    । আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযিঃ) বলেন, আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ বোনপুত্র রোগাক্রান্ত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলালেন, আমার জন্য বারাকাত ও কল্যাণের দু'আ করলেন এবং তিনি উযূ করলে আমি তার উযূর বাকি পানিটুকু পান করলাম। তারপর আমি তার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালে, তার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী জায়গায় মোহরে নবুওয়াত প্রত্যক্ষ করি। তা ছিল তিতির পাখির ডিমের মতো। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১৪), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, যির বলা হয় তিতির পাখির ডিমকে। এ অনুচ্ছেদে সালমান, কুররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী, জাবির ইবনু সামুরাহ, আবূ রিমসাহ, বুরাইদা আল-আসলামী, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস, 'আমর ইবনু আখত্বাব ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 39 · #3590 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  40. 40

    জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই কাধের মাঝামাঝি স্থানে কবুতরের ডিমের ন্যায় লাল গোশতপিণ্ড আকারে মোহরে নবুওয়াত ছিল। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (১৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 40 · #3591 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif
  41. 41

    । জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের জঙ্ঘাদ্ধয় ছিল হালকা-পাতলা। তিনি মুচকি হাসিই দিতেন। আমি তার দিকে তাকালে মনে হত তিনি উভয় চোখে সুরমা লাগিয়েছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখে সুরমা লাগানো থাকত না। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, এই সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 41 · #3592 · Daif, Daif, Daif
  42. 42

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ ছিল বেশ দীর্ঘ, চোখ দুটি ছিল লাল এবং পায়ের জঙ্ঘা ছিল শীর্ণকায়। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 42 · #3593 · Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  43. 43

    । জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন দীর্ঘ মুখের অধিকারী, তার চোখ দুটি ছিল লাল জঙ্ঘা ছিল শীর্ণকায়। শু'বাহ (রাহঃ) বলেন, আমি সিমাক (রাহঃ)-কে বললাম, “যালীউল ফাম" অর্থ কি? তিনি বললেন, দীর্ঘ মুখ। আমি পুনরায় বললাম, "আশকালুল আয়নাইন" অর্থ কি? তিনি বললেন, লম্বা লাল রেখাযুক্ত দুটি চোখ। আমি পুনরায় বললাম, “মানহুসুল আকিব" অর্থ কি? তিনি বলেন, শীর্ণকায়। সহীহঃ প্রাগুক্ত (৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 43 · #3594 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  44. 44

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাইতে বেশি সুন্দর কোন জিনিস দেখিনি। যেন সূর্য তার চেহারায় (মুখমণ্ডলে) বিচরণ করছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে দৃঢ় পদক্ষেপে দ্রুত চলতেও আর কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। যেন তার জন্য যমিনকে গুটানো হত। তার সাথে পথ চলতে আমাদের প্রাণান্তকর অবস্থা হত, আর তিনি অনায়াসে চলে যেতেন। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।

    Book 49 · Hadith 44 · #3595 · Daif, Daif, Sahih
  45. 45

    । জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মি'রাজের রাতে) আমার সম্মুখে নবীগণকে হাযির করা হয়। সে সময় মূসা (আঃ)-কে আমি দেখলাম, তিনি যেন শানুআহ গোত্রের একজন পুরুষ। আমি ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-কেও লক্ষ্য করেছি, আমার দেখা লোকদের মাঝে তিনি উরওয়াহ ইবনু মাসউদ-এর মত। আমি ইবরাহীম (আঃ)-কেও লক্ষ্য করেছি, আমার দেখা লোকের মাঝে তিনি তোমাদের বন্ধুর অর্থাৎ আমার মতো। জিবরাঈল (আঃ)-কেও আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি আমার দেখা লোকদের মাঝে দিহয়া ইবনু খালীফাহ আল-কালবীর মতো। সহীহঃ সহীহাহ (১১০০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 45 · #3596 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  46. 46

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয়ষট্টি বছর বয়সে মারা যান (জন্ম ও মৃত্যুর বছর দুটিকে আলাদা দুটি বছর ধরে)। শাজ, (৩৪৫৬) নং হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে

    Book 49 · Hadith 46 · #3597 · Shadh, Shadh, Hasan
  47. 47

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পয়ষট্টি বছর বয়সে মারা যান। শাজ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 47 · #3598 · Shadh, Shadh, Hasan, Hasan
  48. 48

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় তের বছর বসবাস করেন এবং তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ৩৬২১ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, আনাস ইবনু মালিক ও দাগফাল ইবনু হানযালাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। তবে দাগফালের প্রত্যক্ষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখা ও তার নিকট হতে হাদীস শোনার কথাটি যথার্থ নয়। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান এবং আমর ইবনু দীনারের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।

    Book 49 · Hadith 48 · #3599 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  49. 49

    । জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়াহ ইবনু আবী সুফইয়ান (রাযিঃ)-কে খুতবাহ দানকালে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং আবূ বাকর ও উমর (রাযিঃ)-ও। আর এখন আমার বয়সও তেষট্টি বছর। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৩১৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 49 · #3600 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  50. 50

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তেষট্টি বছর বয়সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত (৩১৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরীর ভাইয়ের ছেলে-যুহরী হতে, তিনি উরওয়াহ্ হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 50 · #3601 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  51. 51

    । আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি প্রত্যেক বন্ধুর বন্ধুত্ব হতে অব্যাহতি গ্রহণ করছি। আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ কুহাফার ছেলে আবূ বাকর সিদ্দীককেই বন্ধু বানাতাম। তোমাদের এই সাথী আল্লাহ তা'আলার অন্তরঙ্গ বন্ধু। সহীহঃ যঈফাহ ৩০৩৪ নং হাদীসের অধীনে, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ, আবূ হুরাইরাহ, ইবনুয যুবাইর ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 51 · #3602 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  52. 52

    । উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদের নেতা, আমাদের মাঝে সবচাইতে উত্তম, আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশি পছন্দনীয় ব্যক্তি। হাসানঃ মিশকাত (৬০১৮), বুখারী (৩৭৫৪) নং হাদীসে এর প্রথমাংশ উল্লেখ আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 52 · #3603 · Hasan, Hasan, Sahih, Sahih Bukhari
  53. 53

    । আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মাঝে তার কাছে কে সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন। তিনি বললেন, আবূ বাকর (রাযিঃ)। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? তিনি বললেন, উমর (রাযিঃ)। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? তিনি বললেন, আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কে? শাকীক (রহঃ) বলেন, এবার তিনি চুপ থাকলেন। সহীহঃ মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 53 · #3604 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  54. 54

    । আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (জান্নাতে) সর্বোচ্চ সম্মাননায় আসীন লোকদেরকে অবশ্যই তাদের নীচের মর্যাদার লোকেরা দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আসমানের দিগন্তে উদিত তারকা দেখতে পাও। আবূ বাকর ও উমার তাদেরই দলভুক্ত, বরং আরো বেশি রহমত ও মর্যাদার অধিকারী। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস আতিয়াহ হতে আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর বরাতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 54 · #3605 · Sahih, Sahih, Hasan
  55. 55

    । আবূল মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা (ভাষণ) দেবার সময় বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তার এক বান্দাকে এই ইখতিয়ার দেন যে, সে যতদিন ইচ্ছা দুনিয়ায় জীবন যাপন করবে এবং দুনিয়ার নিয়ামাতরাজি যথেচ্ছা ভোগ করবে অথবা আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হবে। ঐ বান্দা আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হওয়াকেই ইখতিয়ার করেছে। রাবী বলেন, (এ কথা শুনে) আবূ বাকর (রাঃ) কেঁদে ফেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বলেন, তোমরা কি এ বৃদ্ধের কাণ্ড দেখে অবাক হবে না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল্লাহ্ তা'আলার এক পুণ্যবান বান্দা প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন, তাকে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্য অর্জন, এ দু'টির যে কোন একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিয়েছেন তখন সে বান্দা তার রবের সান্নিধ্য অর্জনকেই ইখতিয়ার করেছেন (এতে কান্নার কি আছে)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তার তাৎপর্য বুঝার ব্যাপারে আবূ বাকর (রাঃ)-ই ছিলেন তাদের মধ্যে বেশি জ্ঞানী। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, বরং আমরা আমাদের পিতা-মাতা ও আমাদের ধন-সম্পদ আপনার জন্য উৎসর্গ করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে নিজের সাহচর্য ও নিজস্ব সম্পদ দিয়ে ইবনু আবূ কুহাফার চাইতে অধিক আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। যদি আমি আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে ইবনু আবূ কুহাফাকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু বড় বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে ঈমানের (বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব)। এ কথা তিনি দুই অথবা তিনবার বলেন। তোমরা জেনে রাখ! তোমাদের সাথী (মহানবী) আল্লাহ্ তা'আলার একনিষ্ঠ বন্ধু। সনদ দুর্বল এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 55 · #3606 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  56. 56

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে নববীর) মিম্বারে বসে বললেনঃ আল্লাহ তার এক বান্দাকে দুনিয়ার ভোগবিলাস ও আল্লাহ তা'আলার কাছে রক্ষিত ভোগবিলাস এ দুইয়ের মাঝে যে কোন একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দান করলে ঐ বান্দা আল্লাহ তা'আলার কাছে রক্ষিত ভোগবিলাসকে এখতিয়ার করেছেন। তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমাদের বাবা-মা উৎসর্গিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা (তার কথায়) বিস্মিত হলাম এবং লোকেরা বলল, এই বৃদ্ধ লোকের প্রতি খেয়াল কর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বান্দা প্রসঙ্গে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাকে আল্লাহ তা'আলা এখতিয়ার দিয়েছেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়ার ভোগ সামগ্ৰীও দান করতে পারেন কিংবা তিনি ইচ্ছা করলে আল্লাহ তা'আলার নিকট তাকে রক্ষিত ভোগসামগ্ৰীও দান করতে পারেন। অথচ এই লোক বলছেন, আপনার জন্য আমাদের বাবা-মাকে উৎসর্গ করলাম! সেই এখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদের মাঝে, তার প্রসঙ্গে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকদের মাঝে স্বীয় মাল ও সাহচর্য দিয়ে আমার প্রতি সবচাইতে উপকার (কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ) করেছেন আবূ বকর। আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবূ বাকরকেই একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী ভ্রাতৃত্বই যথেষ্ট। মসজিদে আবূ বাকরের দ্বার (বা জানালা) ছাড়া আর কোন দ্বার (বা জানালা) বাকি থাকবে না। সহীহঃ বুখারী (৩৬৫৪), মুসলিম (৭/১০৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 56 · #3607 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  57. 57

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর ছাড়া আর কারো যে কোন ধরনের দয়া আমার উপর ছিল আমি তার প্রতিদান দিয়েছি। আমার উপর তার যে দয়া রয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে তার প্রতিদান দিবেন। আর আমাকে কারো সম্পদ এতটা উপকৃত করেনি, যতটা আবু বাকরের সম্পদ আমাকে উপকৃত করেছে। আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গভাবে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকরকেই একনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। অবগত হও! তোমাদের এই সাথী আল্লাহ তা'আলার অন্তরঙ্গ বন্ধু। যঈফঃ তবে “কারো সম্পদ আমাকে এতটা উপকার করেনি....” শেষ পর্যন্ত সহীহঃ তাখরাজু মুশকিলাতিল ফাকর (১৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 57 · #3608 · Sahih, Sahih, Daif
  58. 58

    । হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার পরে আবূ বাকর ও উমারের অনুসরণ করবে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৭)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী-আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি রিবাঈর আযাদকৃত গোলাম হতে তিনি, রিব’ঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। আহমাদ ইবনু মানী' প্রমুখ-সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসে সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ নিজ শাইখের নাম গোপন (তাদলীস) করেছেন। অতএব কখনও তিনি বর্ণনা করেছেন যাইদা-মালিক ইবনু উমাইর হতে, আবার কখনো যাইদার নাম উল্লেখ করেননি। ইবরাহীম ইবনু সা'দ এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি রিব’ঈর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস হতে, তিনি রিব’ঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি সালিম আল-আন উমী রিবাঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 58 · #3609 · Sahih, Hasan, Hasan
  59. 59

    । হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আমরা অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে আমি আর কত দিন বেঁচে থাকব তা আমার জানা নেই। অতএব তোমরা আমার অবর্তমানে দু'জন লোকের অনুসরণ করবে- এ কথা বলে তিনি আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ)-এর দিকে ইশারা করলেন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।

    Book 49 · Hadith 59 · #3610 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  60. 60

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ) প্রসঙ্গে বলেছেনঃ এরা দু’জন নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর জান্নাতের সকল বয়স্কদের নেতা হবেন। সহীহঃ দেখুন পরবর্তী হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 60 · #3611 · Sahih, Hasan, Hasan
  61. 61

    । আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। সে সময় আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ) আবির্ভূত হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরা দুজন জান্নাতে নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর (সৰ্বকালের) পূর্ণ বয়স্কদের নেতা হবেন। হে ‘আলী! এটা তাদেরকে জানাবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আল-ওয়ালীদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুয়াক্কিরী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। ‘আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ) আলী (রাযিঃ) হতে কিছু শুনেননি। এ হাদীস অবশ্য আলী (রাযিঃ) হতে অন্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 61 · #3612 · Sahih, Sahih, Daif, Daif
  62. 62

    । আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর ও উমার নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর সমস্ত বয়স্ক জান্নাতবাসীর নেতা হবেন। হে ‘আলী! তাদের দু’জনকে জানাইও না। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।

    Book 49 · Hadith 62 · #3613 · Sahih, Sahih, Daif
  63. 63

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন, আমি সেই লোক নই কি যে সর্বাগ্রে ইসলাম কবুল করেছে? আমি কি এমন কাজের অধিকারী নই? সহীহঃ আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (১৯-২০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস কতিপয় বর্ণনাকারী শুবাহ হতে, তিনি জুরাইরী হতে, তিনি আবূ নাযরাহ-এর সনদে উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন। এটাই বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি জুরাইরী হতে, তিনি আবূ নাযরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন ... উক্ত মর্মে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন এবং এতে তিনি আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এটাই অধিক সহীহ।

    Book 49 · Hadith 63 · #3614 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  64. 64

    । আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের আবূ বাকর ও উমারসহ বসা অবস্থায় তাদের নিকট আসতেন। কিন্তু আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। অথচ তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকাতেন এবং তিনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকাতেন। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন এবং তিনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৫৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাকাম ইবনু আতিয়্যার সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। কোন কোন হাদীস বিশারদ হাকাম ইবনু আতিয়্যার সমালোচনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 64 · #3615 · Daif, Daif, Daif
  65. 65

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমর (রাঃ)-এর হাত ধরা অবস্থায় বেরিয়ে এসে মসজিদে ঢুকেন। তাদের একজন ছিলেন তার ডান পাশে এবং অপরজন ছিলেন তার বাম পাশে। তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমরা এভাবে (হাত ধরা অবস্থায়) উঠবো। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৯৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু মাসলামা হাদীসবিশেষজ্ঞদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। এ হাদীসটি নাফি হতে ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রেও ভিন্নরূপে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 65 · #3616 · Daif, Daif, Daif
  66. 66

    । ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ আপনি হাওযে (কাওসারে) আমার সাখী এবং (হিযরাতকালেও ছাওর পর্বত) গুহায় আপনিই (ছিলেন) আমার সাখী। যঈফ, মিশকাত (৬০১৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 66 · #3617 · Daif, Daif, Daif
  67. 67

    । 'আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ)-কে প্রত্যক্ষ করে বলেনঃ এদের উভয়ের কান ও চোখ একই। সহীহঃ সহীহাহ (৮১৪)। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুরসাল। কেননা ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানত্বাব (রাহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা পাননি।

    Book 49 · Hadith 67 · #3618 · Sahih, Sahih, Daif
  68. 68

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বাকরকে হুকুম দাও তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারনে লোকদেরকে কিরাআত শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমার (রাযিঃ)-কে হুকুম দিন তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি পুনরায় বললেনঃ আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এবার আমি হাফসাহ (রাযিঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, আবূ বাকর (রাযিঃ) তার স্থানে দাড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারণে লোকদেরকে (তার কিরাআত) শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমার (রাযিঃ)-কে বলুন তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। হাফসাহ (রাযিঃ) তাই করলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমারই তো ইউসুফ (আঃ)-এর জন্য সমস্যা সৃষ্টিকারী সঙ্গী (যার ফলে তিনি জেলে যেতে বাধ্য হন)। আবূ বাকরকেই লোকদের নামায আদায় করানোর হুকুম দাও। সে সময় হাফসাহ (রাযিঃ) আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে বললেন, কখনো আমি তোমার নিকট হতে মঙ্গল পাইনি। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২৩২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ মূসা, ইবনু আব্বাস, সালিম ইবনু উবাইদ ও 'আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 68 · #3619 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  69. 69

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে আবূ বাকর হাযির থাকতে তাদের ইমামতি করা অন্য কারো জন্য কাম্য নয়। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (৪৮২০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।

    Book 49 · Hadith 69 · #3620 · Very Daif, Very Daif, Daif
  70. 70

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একই মালের এক জোড়া আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় খরচ করে তাকে জান্নাতে ডাকা হবে, হে আল্লাহ তা'আলার বান্দা! এটাই উত্তম জায়গা। সুতরাং যে লোক নামাযী, তাকে নামাযের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক মুজাহিদ তাকে জিহাদের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক দানশীল তাকে দান-খাইরাতের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক রোযাদার তাকে রোযার বিশেষ দ্বার (রাইয়্যান) হতে আহবান করা হবে। সে সময় আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! কোন লোককে সকল দরজা হতে ডাকার তো দরকার নেই। তা সত্ত্বেও কোন লোককে কি এসবগুলো দরজা হতে আহবান করা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি আপনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৮৭৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 70 · #3621 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  71. 71

    । যাইদ ইবনু আসলাম (রহঃ) কর্তৃক তার পিতা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের যুদ্ধের প্রাক্কালে) আমাদেরকে দান-খাইরাত করার হুকুম করেন। সৌভাগ্যক্রমে ঐ সময় আমার সম্পদও ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম, যদি আমি কোন দিন আবূ বকর (রাযিঃ)-কে ডিঙ্গাতে পারি তাহলে আজই সেই সুযোগ। উমার (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার পরিবার -পরিজনদের জন্য তুমি কি বাকি রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) তার সমস্ত মাল নিয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ বাকর! তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য তুমি কি বাকি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, তাদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূলকেই রেখে এসেছি। আমি (মনে মনে) বললাম, কখনও আমি কোন প্রসঙ্গে আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে ডিঙ্গাতে পারব না। হাসানঃ মিশকাত (৬০২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 71 · #3622 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  72. 72

    । জুবাইর ইবনু মুত্বইম (রাযিঃ) বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার সঙ্গে কোন প্রসঙ্গে কথা বলল। তিনি তাকে কিছু করার ব্যাপারে হুকুম দেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আচ্ছা আমি (আবার এসে) আপনাকে যদি না পাই? তিনি বললেনঃ যদি তুমি আমাকে না পাও তবে আবূ বাকরের কাছে এসো। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এই সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 72 · #3623 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  73. 73

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন এক লোক একটি গরুর পিঠে আরোহিত থাকা অবস্থায় গরুটি বলল, আমাকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃষিকাজের জন্য। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি, আবূ বাকর ও উমর (রাঃ)-এই বিষয়টির উপর দৃঢ় আস্থা স্থাপন করলাম। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, তারা দু'জন সেদিন জনতার মাঝে হাযির ছিলেন না। সহীহঃ ইরওয়াহ (২৪৭), বুখারী ও মুসলিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শু’বাহ (রাহঃ) হতে উপর্যুক্ত সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 73 · #3624 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  74. 74

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকরের দ্বার ছাড়া আর সমস্ত দ্বার বন্ধ করে দেয়ার হুকুম দেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, দেখুন হাদীস নং ৩৬৬০। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 74 · #3625 · Sahih, Sahih, Hasan
  75. 75

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবূ বাকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলে তিনি বললেনঃ আপনি জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তিপ্রাপ্ত আল্লাহর বান্দা (আত্বীকুল্লাহ)। সেদিন হতে তিনি আতীক নামে ভূষিত হন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ৬০২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী মাআন হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদের উল্লেখ করেছেন।

    Book 49 · Hadith 75 · #3626 · Sahih, Sahih, Sahih
  76. 76

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীরই আকাশবাসীদের মধ্য হতে দু’জন উযীর এবং যমিনবাসীদের মধ্য হতে দু'জন উযীর ছিল। আকাশবাসীদের মধ্য হতে আমার দু'জন উযীর হলেন জিবরীল ও মীকাঈল আলাইহিস সালাম এবং যমিনবাসীদের মধ্য হতে আমার দু'জন উযীর হলেন আবূ বাকর ও উমার। যঈফ, মিশকাত (৬০৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আর আবূল জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবনু আবূ আওফ। সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আবূল জাহহাফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন প্রিয় লোক। তালীদ ইবনু সুলাইমানের ডাক নাম আবূ ইদরীস, তিনি শীয়া মতালম্বী।

    Book 49 · Hadith 76 · #3627 · Daif, Daif, Daif
  77. 77

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ! আবূ জাহল কিংবা উমার ইবনুল খাত্তাব- এই দু'জনের মাঝে তোমার নিকট যে বেশি প্রিয়, তার মাধ্যমে তুমি ইসলামকে মজবুত কর ও মর্যাদা দান কর”। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, ঐ দু'জনের মাঝে উমর (রাযিঃ)-ই আল্লাহ তা'আলার প্রিয় হিসেবে আবির্ভূত হন। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬০৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।

    Book 49 · Hadith 77 · #3628 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  78. 78

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা উমার (রাযিঃ)-এর মুখে ও হৃদয়ে সত্যকে স্থাপন করেছেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, জনগণের সম্মুখে কখনো কোন প্রসঙ্গ আবির্ভূত হলে লোকজনও তা সম্পর্কে মন্তব্য ব্যক্ত করত এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও অভিমত ব্যক্ত করতেন। দেখা যেত, উমর (রাযিঃ)-এর অভিমত এর সমর্থনে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১০৮)। এ অনুচ্ছেদে আল-ফাযল ইবনু আব্বাস, আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব। খারিজাহ ইবনু আবদুল্লাহ আল-আনসারী হলেন ইবনু সুলাইমান ইবনু যাইদ ইবনু সাবিত। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।

    Book 49 · Hadith 78 · #3629 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  79. 79

    ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “হে আল্লাহ আবূ জাহল ইবনু হিশাম অথবা উমার ইবনুল খাত্তাবের মারফত ইসলামকে শক্তিশালী কর"। রাবী বলেনঃ পরের দিন সকালে উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কুবুল করেন। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত (৬০৩৬) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। কিছু মুহাদ্দীস আন-নাযর আবূ উমারের সমালোচনা করেছেন। তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন।

    Book 49 · Hadith 79 · #3630 · Very Daif, Very Daif, Daif
  80. 80

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উমর (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরেই হে সর্বোত্তম মানুষ। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আপনি আমার প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করলেন। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবশ্যই বলতে শুনেছিঃ উমারের চাইতে অধিক ভালো কোন লোকের উপর দিয়ে সূর্য উঠেনি। মাওযু, যঈফা (১৩৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীসের সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 80 · #3631 · Mawdu, Mawdu, Daif
  81. 81

    । মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, আমি মনে করি না যে, এমন কোন ব্যক্তি আছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসেন অথচ আবূ বাকর ও উমর (রাযিঃ)-এর মর্যাদা খাটো করে দেখেন। সনদ সহীহ মাকতু'। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 81 · #3632 · Sahih Isnaad Maqtu, Sahih Isnaad Maqtu, Daif
  82. 82

    । উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমার ইবনুল খাত্তাবই নবী হত। হাসানঃ সহীহাহু (৩২৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মিশরাহ ইবনু আ-হান বর্ণিত হাদীস হিসাবে এটি অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 82 · #3633 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  83. 83

    । ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হয়েছে, তা হতে আমি পান করলাম এবং বাকি অংশটুকু উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কি ব্যাখ্যা করেন? তিনি বললেনঃ “জ্ঞান"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ২২৮৪ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 83 · #3634 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  84. 84

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মি'রাজের রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তাতে একখানা সোনার বালাখানা প্রত্যক্ষ করলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, এ বালাখানা কার? ফেরেশতারা বললেন, কুরাইশের এক যুবকের। আমি ধারণা করলাম, আমিই সেই যুবক। আমি প্রশ্ন করলামঃ কে সেই যুবক? ফেরেশতারা বললেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব। সহীহঃ সহীহাহ (১৪০৫, ১৪২৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 84 · #3635 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  85. 85

    । বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, এক দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযিঃ)-কে ডেকে বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জান্নাতে কি কারণে আমার আগে আগে থাকছঃ যখনই আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি সে সময়ই আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। গত রাতেও আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি এবং আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। আমি স্বর্ণনির্মিত একটি বর্গাকার সুউচ্চ প্রাসাদের নিকট এসে বললামঃ এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতারা বললেন, এটা আরবের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমি একজন আরব। সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, কুরাইশ বংশের এক লোকের। আমি বললামঃ আমি কুরাইশ বংশীয়, অতএব এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মাতের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমিই মুহাম্মাদ, সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, উমার ইবনুল খাত্তাবের। তারপর বিলাল (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো আমি আযান দিলেই দুই রাকাআত নামায আদায় করি এবং কখনো আমার উযূ ছুটে গেলেই আমি উযূ করি এবং মনে করি আল্লাহ তা'আলার নামে দুই রাকাআত নামায আদায় করা আমার কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দু'টি কারণেই (তোমার এ মর্যাদা)। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (১/৯৯)। এ অনুচ্ছেদে জাবির, মুআয ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের মাঝে আমি সোনার তৈরী একখানা প্রাসাদ দেখে বললাম, এ প্রাসাদটি কার? বলা হল, উমার ইবনুল খাত্তাবের। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ “গত রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি", এর অর্থ “আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি”। কোন কোন হাদীসে এ রকমই বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নবীদের স্বপ্নও ওয়াহী।

    Book 49 · Hadith 85 · #3636 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  86. 86

    । বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক যুদ্ধাভিযানে যান। তিনি ফিরে এলে এক কৃষ্ণবর্ণা মেয়ে এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানৎ করেছিলাম যে, আপনাকে আল্লাহ তা'আলা হিফাযাতে (সুস্থাবস্থায়) ফিরিয়ে আনলে আপনার সম্মুখে আমি দফ বাজাব এবং গান করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি সত্যিই যদি মানৎ করে থাক তবে দফ বাজাও, তা না হলে বাজিও না। সে দফ (এক মুখ খোলা ঢোল) বাজাতে লাগল। এই অবস্থায় সেখানে আবূ বাকর (রাযিঃ) এলেন এবং সে দফ বাজাতে থাকে, তারপর ‘আলী (রাযিঃ) এলেন এবং সে ওটা বাজাতে থাকে। তারপর উসমান (রাযিঃ) এলেন, সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। তারপর উমর (রাযিঃ) এসে প্রবেশ করলে সে দফটি তার নিতম্বের নীচে রেখে তার উপর অবস্থান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমার! তোমাকে দেখলে শাইতানও ভয় পায়। আমি উপবিষ্ট ছিলাম আর ঐ মেয়েটি দফ বাজাচ্ছিল। পরে আবূ বাকর এসে প্রবেশ করলে সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। তারপর ‘আলী প্রবেশ করলে সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। এরপর উসমান এসে প্রবেশ করলে তখনও সে তা বাজাতে থাকে। অবশেষে তুমি এসে যখন প্রবেশ করলে, হে উমার! সে সময় সে দফটি ফেলে দিল। সহীহঃ নাকুদুল কিত্তানী (৪৭-৪৮), সহীহাহ (২২৬১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং বুরাইদাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। এ অনুচ্ছেদে 'উমার, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস ও আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 86 · #3637 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  87. 87

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। সে সময় আমরা একটা সোরগোল ও শিশুদের হৈচৈ শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে দেখলেন, এক হাবশী নারী নেচেকুদে খেলা দেখাচ্ছে আর শিশুরা তার চারদিকে ভীড় জমিয়েছে। তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এসো এবং প্রত্যক্ষ কর। অতএব আমি গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাধের উপর আমার চিবুক রেখে তার খেলা প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম। আমার চিবুক ছিল তার মাথা ও কাধের মধ্যবর্তী জায়গায়। (কিছুক্ষণ পর) আমাকে তিনি বললেনঃ তুমি কি তৃপ্ত হওনি, তোমার কি তৃপ্তি পূর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, আমি না, না বলতে থাকলাম। আমার লক্ষ্য ছিল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটুকু খাতির করেন তা পর্যবেক্ষণ করা। ইত্যবসরে উমর (রাযিঃ) আবির্ভূত হন এবং মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত লোক তার কাছ হতে সটকে পড়ে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখলাম জিন ও মানববেশধারী শাইতানগুলো 'উমারকে দেখেই সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারপর আমি ফিরে এলাম। সহীহঃ মিশকাত (৬০৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 87 · #3638 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  88. 88

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্যই প্রথমে (কবর) বিদীর্ণ করা হবে, তারপর আবূ বাকরের, তারপর উমারের জন্য। তারপর আমি আল-বাকী’র কবরবাসীদের নিকট আসব এবং তাদেরকে আমার সাথে হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে। তারপর আমি মক্কাবাসীদের জন্য প্রতীক্ষা করব। পরিশেষে হারামাইন শরীফাইন (মক্কা ও মদীনা)-এর মধ্যবর্তী স্থানে আমাকে উঠানো হবে। যঈফ, যঈফা (২৯৪৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। (আমার মতে) আসিম ইবনু উমার হাফেজে হাদীস' নন।

    Book 49 · Hadith 88 · #3639 · Daif, Daif, Daif
  89. 89

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবেক উম্মাতদের মাঝে মুহাদ্দাস’ (তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সূক্ষ্মদশী লোক) আবির্ভাব হতেন। আমার উম্মাতের মাঝে কেউ মুহাদ্দাস হলে তা উমার ইবনুল খাত্তাবই। হাসান সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। ইবনু উয়াইনার অপর এক শাগরিদ সুফইয়ান ইবনু উয়াইনার সনদে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি বলেন, মুহাদ্দাসুন অর্থ মুফাহহামূন (আল্লাহ যাদেরকে ইসলামের পূর্ণ জ্ঞান দান করেন)।

    Book 49 · Hadith 89 · #3640 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  90. 90

    । আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের সামনে জান্নাতীদের একজন আবির্ভূত হবেন। ইত্যবসরে আবূ বাকর (রাঃ) আবির্ভূত হন। তিনি আবার বলেনঃ তোমাদের সামনে জান্নাতীদের একজন আবির্ভূত হবেন। ইত্যবসরে উমর (রাঃ) আবির্ভূত হন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৫) এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা ও জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।

    Book 49 · Hadith 90 · #3641 · Daif, Daif, Daif
  91. 91

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন এক লোক তার মেষ (বকরী) পাল চরাচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ এসে একটি বকরী ধরে ফেলে। তার মালিক এসে নেকড়ের কাছ থেকে বকরীটি ছিনিয়ে নিল। নেকড়ে বলল, হিংস্র জন্তুর দিনে (যেদিন মানুষ মারা যাবে এবং হিংস্র জন্তুরা বাকি থাকবে) তুমি কি করবে, যেদিন আমি ছাড়া এদের কোন রাখাল থাকবে না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি নিজে এবং আবূ বাকর ও উমার এতে (নেকড়ের মন্তব্যে) বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, সেই মজলিসে ঐ দিন তারা দু’জন হাযির ছিলেন না। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি ৩৬৭৭ নং হাদীসের পূর্ণাঙ্গরূপ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি সা'দ ইবনু ইবরাহীম (রাহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 91 · #3642 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  92. 92

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা পর্বতে ছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন আবূ বাকর, উমার, উসমান, ‘আলী, ত্বালহা ও আয-যুবাইর (রাযিঃ)। (তাদের পদতলের) পাথরটি নড়াচড়া করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্থির হয়ে থাক। কেননা তোমার উপর একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক অথবা একজন শহীদ রয়েছেন। সহীহঃ সহীহাহ (২/৫৬২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উসমান, সাঈদ ইবনু যাইদ, ইবনু আব্বাস, সাহল ইবনু সাদ, আনাস ইবনু মালিক ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 92 · #3643 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  93. 93

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ)-সহ উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। তাদেরকে নিয়ে পাহাড় কেঁপে উঠে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পদাঘাত করে) বললেনঃ হে উহুদ শান্ত হও। তোমার উপরে একজন নবী, একজন সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী) ও দু'জন শহীদ রয়েছেন। সহীহঃ সহীহাহ (৮৭৫), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 93 · #3644 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  94. 94

    । তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর একজন করে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে। জান্নাতে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবেন উসমান (রাঃ)। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১০৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এর সনদসূত্র তেমন সুদৃঢ় নয় এবং এটি মুনকাতে হাদীস।

    Book 49 · Hadith 94 · #3645 · Daif, Daif, Daif
  95. 95

    । আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন উসমান (রাযিঃ) বিদ্রোহীদের মাধ্যমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন, সে সময় তিনি তার ঘরের উপরিতলে (ছাদে) উঠলেন, তারপর বললেন, আজ আল্লাহর কসম করে আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি তোমরা কি অবহিত আছ যে, হেরা পর্বত কম্পিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ হে হেরা! শান্ত হয়ে যাও, কেননা তোমার উপর রয়েছেন একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক কিংবা একজন শহীদ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় বললেন, আমি আল্লাহ তা'আলার নামে কসম করে তোমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসরা বাহিনীর (তাবুকের যুদ্ধের) জন্য বলেছিলেনঃ কে একটা পছন্দনীয় বা কবুল হওয়ার যোগ্য (অধিক পরিমাণের) খরচ দিতে তৈরী আছে? সে সময় লোকেরা চরম আর্থিক সংকট ও কঠিন পরিস্থিতির মুকাবিলা করছিল। অতএব সেই বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যয় আমিই বহন করেছি। লোকেরা বলল, হ্যাঁ। আবার আরও মনে করিয়ে দিতে চাই, তোমরা কি জ্ঞাত আছ যে, রুমা কূপের পানি কেউই ক্রয় করা ব্যতীত পান করতে পারত না? সেই কূপ আমি ক্রয় করে ধনী, দরিদ্র ও মুসাফিরদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি। লোকেরা বলল, ইয়া আল্লাহ! হ্যাঁ (আমরা জানি)। তিনি তার আরো কিছু (জনহিতকর) সমাজকল্যাণমূলক কথা মনে করিয়ে দেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 95 · #3646 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  96. 96

    । আবদুর রহমান ইবনু খাববাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসাধারণকে জাইণ্ডল উসরাত অর্থাৎ তাবুকের সামরিক অভিযানে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য উৎসাহিত করছিলেন, তখন আমি সেখানে হাযির ছিলাম। উসমান (রাঃ) দাড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি সুসজ্জিত এক শত উট (গদি-পালানসহ) আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার যুদ্ধের (আর্থিক খরচ বহনের উদ্দেশ্যে) লোকদেরকে উৎসাহিত করলেন। উসমান (রাঃ) দাড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল। গদি-পালানসহ আমি দুই শত উট আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করলাম। তিনি আবারও লোকদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করেন। উসমান (রাঃ) দাড়িয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি গদি-পালানসহ তিন শত উট আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় দান করলাম। রাবী আবদুর রহমান (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের উপর হতে এ কথা বলতে বলতে নামতে দেখছি- আজকের পর হতে উসমান যাই করুক তার জন্য তাকে কৈফিয়াত দিতে হবে না। আজকের পর হতে উসমান যাই করুক তার জন্য তাকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। যঈফ, মিশকাত (৬০৬৩) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র আস-সাকান ইবনুল মুগীরাহর সূত্রেই হাদীসটি জানতে পেরেছি। এ অনুচ্ছেদে আবদুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 96 · #3647 · Daif, Daif, Daif
  97. 97

    । 'আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) এক হাজার দীনারসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলেন। বর্ণনাকারী আল-হাসান ইবনু ওয়াকি' (রহঃ) বলেন, আমার কিতাবের (পাণ্ডুলিপির) অন্য জায়গায় আছে, তিনি তার জামার হাতার মধ্যে করে সেগুলো নিয়ে আসেন যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মুদ্রগুলো তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে ঢেলে দেন। আবদুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি সেগুলো তার কোলে ওলট-পালট করতে করতে বলতে শুনলামঃ আজকের পর হতে উসমান যে কার্যকলাপই করুক তা তার কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। তিনি কথাটি দু'বার বললেন। হাসানঃ মিশকাত (৬০৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 97 · #3648 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  98. 98

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লোকদেরকে) স্বতস্ফূর্তভাবে আনুগত্যের শপথ (বাইআতুর রিদওয়ান) করার হুকুম দেন তখন উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে মক্কার বাসিন্দাদের নিকট গিয়েছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ লোকেরা আনুগত্যের শপথ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উসমান আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রয়োজনীয় কাজে গেছে। তারপর তিনি নিজের এক হাত অপর হাতের উপর রাখেন (উসমানের বাইআতস্বরূপ)। রাবী বলেনঃ উসমান (রাঃ)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতখানা লোকদের নিজেদের জন্য তাদের হাতের চাইতে বেশি ভাল ছিল। যঈফ, মিশকাত (৬০৬৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 98 · #3649 · Daif, Daif, Daif
  99. 99

    । সুমামাহ্ ইবনু হাযন আল-কুশাইরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন উসমান (রাযিঃ) (তার) ঘরের ছাদে উঠেন (বিদ্রোহীদের শান্ত করার জন্য) সে সময় আমি সেই গৃহে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের যে দুই সহকর্মী তোমাদেরকে আমার বিপক্ষে উপস্থিত করেছে আমার সম্মুখে তাদেরকে উপস্থিত কর। বর্ণনাকারী বলেন, তাদেরকে আনা হল, যেন দুটি উট অথবা দুটি গাধা (অর্থাৎ মোটাতাজা)। বর্ণনাকারী বলেন, উপর হতে উসমান (রাযিঃ) তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং দ্বীন ইসলামের কসম দিয়ে প্রশ্ন করছি, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরাত করে) মাদীনায় এলেন এবং রূমার কূপ ছাড়া এখানে অন্য কোথায়ও মিষ্টি পানির বন্দোবস্ত ছিল না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক রূমার কূপটি ক্রয় করে মুসলিম সর্বস্তরের জন্য ওয়াকফ করে দিবে সে জান্নাতে তার তুলনায় বেশি উত্তম প্রতিদান পাবে। তারপর আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে তা ক্রয় করি (এবং উৎসর্গ করে দেই)। অথচ আজ আমাকে সেই কূপের পানি পান করতে তোমরা বাধা দিচ্ছ, এমনকি আজ আমি সাগরের (লোনা) পানি পান করছি। লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, সত্য। তিনি পুনরায় বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলা এবং দ্বীন ইসলামের কসম দিয়ে প্রশ্ন করছি, তোমরা কি জান যে, মসজিদে নববী মুসল্লীদের জন্য একেবারে ক্ষুদ্র ছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক অমুক গোত্রের জমিখণ্ড ক্রয় করে মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে, তার প্রতিদানে সে জান্নাতের মাঝে এর তুলনায় উত্তম প্রতিদান পাবে। আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে তা ক্রয় করে মসজিদের সাথে সংযুক্ত করেছি আর আজকে তোমরা আমাকে সেখানে দুই রাকাআত নামায আদায় করতে বাধা দিচ্ছ। তারা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ (তা সত্য)। তিনি বললেন, তোমরা কি জান যে, আমি আমার মূল সম্পত্তি দিয়ে জাইশে উসরাত (তাবুকের যুদ্ধের সৈন্যদের) যুদ্ধ সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করেছি? লোকেরা বলল, হে আল্লাহ সাক্ষী, হ্যাঁ, সত্য। তারপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও দ্বীন ইসলামের শপথ দিয়ে প্রশ্ন করছি, তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার সাবীর পর্বতের উপর ছিলেন এবং তার সাথে ছিলেন আবূ বাকর, উমার ও আমি? পর্বত (আনন্দে) কম্পিত হয়, ফলে তা হতে পাথরও খসে নীচে পড়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়কে পদাঘাত করে বললেনঃ হে সাবীর! শান্ত ও স্থির হয়ে যাও। কেননা তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী) ও দু'জন শহীদ অবস্থানরত রয়েছেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহ! হ্যাঁ, সত্য। বর্ণনাকারী বলেন, উসমান (রাযিঃ) তাকবীর ধ্বনি দিয়ে বললেন, কাবার প্রভুর কসম! তোমরা আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছ। আমি নিশ্চিত শহীদ। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেন। হাসানঃ ইরওয়াহ (১৫৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। উসমান (রাযিঃ) হতে এ হাদীস অন্যসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 99 · #3650 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  100. 100

    । আবূল আশ'আস আস-সান'আনী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, [উসমান (রাযিঃ) শহীদ হলে] সিরিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বক্তা (ঐ বিষয়ে) বক্তব্য রাখেন। তাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবীও ছিলেন। তাদের মাঝে হতে সর্বশেষে মুররাহ ইবনু কাব (রাযিঃ) বক্তৃতা দিতে দাঁড়ান। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক একটি হাদীস না শুনে থাকলে আমি বক্তৃতা দিতে দাড়াতাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝগড়া-বিবাদের কথা উল্লেখ করেন এবং শীঘ্রই তা সংঘটিত হবে বলে ইঙ্গিত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় এক ব্যক্তি কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল আবূত করে সেখান দিয়ে অতিক্রম করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাকে ইঙ্গিত করে) বললেনঃ এ লোকটি ঐ সময় সৎপথে দণ্ডায়মান থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি উঠে তার নিকটে গিয়ে দেখি, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)। তারপর আমি তাকে সহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে প্রশ্ন করলাম, ইনিই কি সেই (সৎপথপ্রাপ্ত) লোক? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালাহ্ ও কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 100 · #3651 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  101. 101

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উসমান! আল্লাহ তা'আলা হয়ত তোমাকে একটি জামা পরিধান করাবেন (খিলাফত দান করবেন)। তোমার হতে লোকেরা তা খুলে নিতে চাইলে তুমি তাদের দাবিতে তা ত্যাগ করবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১২)। এ হাদীসে দীর্ঘ ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 101 · #3652 · Sahih, Sahih, Sahih
  102. 102

    । উসমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মাওহিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এক মিসরবাসী বাইতুল্লাহর হাজ্জ আদায় করে। সে একদল লোককে বসা দেখে বলে, এরা কারা? লোকেরা বলল, এরা কুরাইশ বংশীয়। সে পুনরায় বলে, এই বয়স্ক (শায়খ) লোকটি কে? লোকেরা বলল, ইবনু উমর (রাযিঃ)। সে সময় সে তার নিকটে এসে বলল, আপনাকে আমি কয়েকটি বিষয় প্রশ্ন করব। অতএব আপনি আমাকে (তা) বলুন। আমি এ বাইতুল্লাহর মর্যাদার শপথ দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি অবহিত আছেন যে, উসমান (রাযিঃ) উহুদ যুদ্ধের দিন (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) পলায়ন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে আবার বলল, আপনি কি জানেন, তিনি (হুদাইবিয়ায় অনুষ্ঠিত) বাই’আতুর রিযওয়ানে অনুপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে পুনরায়ও বলল, আপনি কি অবহিত আছেন যে, তিনি বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে উপস্থিত হননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আল্লাহু আকবার। তারপর ইবনু উমার (রাযিঃ) তাকে বললেন, এবার এসো। যেসব বিষয়ে তুমি প্রশ্ন করেছ তা তোমাকে আমি সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেই। উহুদের দিন তার পলায়নের ঘটনা প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তার ঐ ব্যাপারটা ইতোমধ্যেই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে মাফ করেছেন। তারপর বদরের যুদ্ধে তার অনুপস্থিতির কারণ এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে (রুকাইয়াহ্) তার সহধর্মিণী ছিলেন (এবং সে সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যে লোক বদরের যুদ্ধে যোগদান করেছে তার সমপরিমাণ সাওয়াব ও গানীমাত তুমি পাবে। আর তিনি রুকাইয়ার দেখাশুনা করার জন্য তাকে মাদীনাতে থাকারই নির্দেশ দিলেন। আর বাই’আতে রিদওয়ানে তার অনুপস্থিতির কারণ এই যে, মাক্কাবাসীদের কাছে উসমান (রাযিঃ)-এর চাইতে বেশি মর্যাদাবান কোন মুসলিম লোক (হুদাইবিয়ায়) উপস্থিত থাকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার পরিবর্তে) তাকেই প্রেরণ করতেন। তা না থাকাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান (রাযিঃ)-কেই (মাক্কায়) প্রেরণ করলেন। আর উসমান (রাযিঃ)-এর মক্কার অভিমুখে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর বাই’আতুর রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, (বাই’আতঅনুষ্ঠানকালে)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাতের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটা উসমানের হাত। তারপর তিনি ঐ হাতটি তার অন্য হাতের উপর স্থাপন করে বললেনঃ এটি উসমানের (বাই’আত) তারপর ইবনু উমার (রাযিঃ) লোকটিকে বললেন, এবার তুমি এ ব্যাখ্যা সঙ্গে নিয়ে যাও। সহীহঃ বুখারী (৯৬৯৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 102 · #3653 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  103. 103

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই আমরা আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ)-কে গণ্যমান্য লোক বলতাম। সহীহঃ মিশকাত (৬০৭৬), বুখারী (৩৬৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস উবাইদুল্লাহ ইবনু উমারের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব গণ্য হয়েছে। উক্ত হাদীস ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে অন্যসূত্রেও বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 103 · #3654 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  104. 104

    । ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝগড়ার কথা উল্লেখ করে বলেনঃ সে অর্থাৎ উসমান ইবনু আফফান সেই ঝগড়ায় অন্যায়ভাবে নিহত হবে। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 104 · #3655 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Daif
  105. 105

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক লোকের মরদেহ তার জানাযার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আনা হয়। কিন্তু তিনি তার জানাযার নামায আদায় করলেন না। তাকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এই লোকের পূর্বে আপনাকে আর কারো জানাযা আদায় করা হতে বিরত থাকতে দেখিনি। তিনি বললেনঃ এ লোকটি উসমানের প্রতি হিংসা পোষণ করত, তাই আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি নারাজ হয়েছেন। মাওযু, যঈফা (১৯৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এই মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ হলেন মায়মূন ইবনু মিহরানের শিষ্য এবং তিনি হাদীস শাস্ত্রে অত্যাধিক দুর্বল। আর মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ, যিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর শিষ্য, বসরার অধিবাসী, নির্ভরযোগ্য রাবী এবং তার উপনাম আবূল হারিস। আর মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ আল-আলহানী হলেন আবূ উমামা (রাঃ)-এর শিষ্য, তিনিও নির্ভরযোগ্য রাবী। তিনি সিরিয়ার বাসিন্দা এবং তার আরেক নাম আবূ সুফিয়ান।

    Book 49 · Hadith 105 · #3656 · Mawdu, Mawdu, Daif
  106. 106

    । আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। তিনি এক আনসারীর বাগিচায় ঢুকে তার প্রকৃতিক প্রয়োজন সারেন, তারপর আমাকে বললেনঃ হে আবূ মূসা দরজায় যাও, যাতে বিনা অনুমতিতে কেউ আমার নিকট প্রবেশ করতে না পারে। এক লোক এসে দরজায় আঘাত করলে আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি আবূ বাকর। সে সময় আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে আবূ বাকর অনুমতিপ্রার্থী। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুখবর দাও। অতএব তিনি প্রবেশ করলেন এবং আমি তাকে জান্নাতের সুখবর জানালাম। তারপর এক লোক এসে দরজায় আঘাত করলে আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বলেন, উমার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে উমার আপনার অনুমতি চায়। তিনি বললেনঃ তাকে দরজা খুলে দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। অতএব আমি দরজা খুলে দিলে তিনি প্রবেশ করেন এবং তাকেও আমি জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক লোক এসে দরজায় আঘাত করলে আমি বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, উসমান। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে উসমান অনুমতিপ্রার্থী। তিনি বললেনঃ তাকে দরজা খুলে দাও এবং তার উপর কঠিন বিপদ আসবে এ কথা বলে তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ জানাও। সহীহঃ সহীহ আদাবুল মুফরাদ, বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস আবূ উসমান আন-নাহদী হতে একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 106 · #3657 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  107. 107

    । আবূ সাহলাহ্ (রহঃ) বলেন, উসমান (রাযিঃ) নিজগৃহে অবরুদ্ধ থাকাকালে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি ওয়াদা (উপদেশ) দিয়েছেন। সুতরাং আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করব। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদের সনদে অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 107 · #3658 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  108. 108

    । ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবী তলিব (রাযিঃ)-কে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি সেনাদলের একটি খণ্ডাংশের (সারিয়্যা) পরিদর্শনে যান এবং এক যুদ্ধবন্দিনীর সঙ্গে মিলিত হন। কিন্তু তার সাথীরা তার এ কাজ পছন্দ করলেন না। অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারজন সাহাবী শপথ করে বললেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখা পাব, তাকে তখন আলীর কার্যকলাপ প্রসঙ্গে জানাব। মুসলিমদের নিয়ম ছিল যে, তারা কোন সফর বা অভিযান শেষে ফিরে এসে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে সালাম করতেন, তারপর নিজ নিজ গৃহে ফিরে যেতেন। সুতরাং উক্ত সেনাদল ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম জানায় এবং চার সাহাবীর একজন দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লক্ষ্য করুন, আলী ইবনু আবী তলিব এই এই করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পূর্বোক্ত ব্যক্তির মতো বক্তব্য পেশ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হতেও মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এবার তৃতীয়জন দাঁড়িয়ে পূর্বোক্তজনের একই রকম বক্তব্য পেশ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হতেও মুখ ফিরিয়ে নেন। অবশেষে চতুৰ্থজন দাড়িয়ে পূর্বোক্তদের একই রকম বক্তব্য পেশ করেন। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব নিয়ে তাদের দিকে মনোনিবেশ করে বললেনঃ কি বলতে চাও? তোমরা ‘আলী প্রসঙ্গে কি বলতে চাও? ‘আলী প্রসঙ্গে তোমরা কি বলতে চাও? (বংশ, বৈবাহিক সম্পর্ক, অগ্রগণ্যতা, ভালবাসা ইত্যাদি প্রসঙ্গে) আলী আমার হতে এবং আমি আলী (রাযিঃ) হতে। আমার পরে সে-ই হবে সমস্ত মুমিনের সঙ্গী ও পৃষ্ঠপোষক। সহীহঃ সহীহাহ (২২২৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র জাফর ইবনু সুলাইমানের সনদে অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 108 · #3659 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  109. 109

    । আবূ সারীহাহ অথবা যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যার সাথী বা পৃষ্ঠপোষক, আলীও তার সাথী বা পৃষ্ঠপোষক। সহীহঃ সহীহাহ (১৭৫০), রাওযুন নায়ীর (১৭১), মিশকাত (৬০৮২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস শুবাহ আবূ আবদুল্লাহ মাইমূন হতে, তিনি যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ সারীহাহ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী হুযইফাহ ইবনু আসীদ আল-গিফারী (রাযিঃ)।

    Book 49 · Hadith 109 · #3660 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  110. 110

    । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আবূ বাকরের দারুল হিজরাতে (মাদীনায়) নিয়ে এসেছেন এবং নিজের মাল দিয়ে বিলালকে গোলাম হতে আযাদ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা উমারকে দয়া করুন। অপ্রিয় হলেও তিনি হাক (সত্য) কথা বলেন। তার সত্য ভাষণই তাকে সঙ্গহীন করেছেন। আল্লাহ তা'আলা উসমানের প্রতি দয়া করুন। সে এত অধিক লাজুক যে, ফিরিশতারা পর্যন্ত তাকে দেখে লজ্জাবোধ (সম্মান) করেন। আল্লাহ তা'আলা আলীকে দয়া করুন। হে আল্লাহ! সে যেখানেই থাকুক, সত্যকে তার চিরসার্থী করুন। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (২০৯৪), মিশকাত (৬১২৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। মুখতার ইবনু নাফি’ বাসরার শাইখ, অনেক অপরিচিত বিষয় তিনি বর্ণনা করেন, আবূ হাইয়্যান আত-তাইনীর নাম ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ কূফার অধিবাসী নির্ভরযোগ্য রাবী।

    Book 49 · Hadith 110 · #3661 · Very Daif, Very Daif, Daif
  111. 111

    । রিবঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) কূফার মুক্তাঙ্গনে (আর-রাহবায়) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ হুদাইবিয়ার দিন মুশরিকদের ক'জন লোক আমাদের নিকটে আসে। তাদের মধ্যে সুহাইল ইবনু আমরসহ আরো ক'জন গণ্যমান্য মুশরিক ছিল। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সন্তান-সন্তুতি, ভাই ও ক্রীতদাসসহ কিছু সংখ্যক লোক আপনার নিকট এসে পরেছে। ধর্ম সম্পর্কে তারা মূৰ্খ এবং তারা আমাদের ভূসম্পত্তি ও ক্ষেত-খামার হতে পালিয়ে এসেছে। অতএব আপনি তাদেরকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিন। যদিও তাদের ধর্মের বিষয়ে তেমন জ্ঞান নেই, তাই আমরা তাদেরকে বুঝাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে কুরাইশের লোকেরা! তোমরা এরকম কর্মকাণ্ড হতে বিরত হও। অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বিরুদ্ধে এমন লোকদের পাঠাবেন, যারা তোমাদের ঘাড়ে দীনের তরবারী দিয়ে আঘাত করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরগুলোকে ঈমানের ব্যাপারে পরীক্ষা করে নিয়েছেন। তখন মুসলিমরা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে সেই ব্যক্তি? আবূ বাকর (রাঃ)-ও বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কে সেই ব্যক্তি? উমার (রাঃ)-ও বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে সেই লোক? তিনি বললেনঃ সে একজন জুতা সেলাইকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে তার জুতাটা সেলাই করতে দিয়েছিলেন। রাবী বলেনঃ আলী (রাঃ) আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার থাকার জায়গা নির্ধারণ করল। সনদ দুর্বল, তবে হাদীসের শেষাংশ সহীহ মুতাওয়াতির, দেখুন হাদীস নং (২৬৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধু আলী (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। তিরমিয়ী জারুদ হতে ওয়াকীর সূত্রে বলেনঃ রিবঈ ইবনু হিরাশ ইসলামের মধ্যে কোন মিথ্যা কথা বলেননি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আব্দুল্লাহ ইবনু আবীল আসওয়াদ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ মানসূর ইবনুল মু'তামির কূফাবাসীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্থ রাবী।

    Book 49 · Hadith 111 · #3662 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Hasan Sahih, Daif
  112. 112

    । আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাযিঃ)-কে বললেনঃ তুমি আমা হতে, আর আমিও তোমা হতে। অর্থাৎ আমরা পরস্পরে অভিন্ন পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সহীহঃ সহীহাহ (৩/১৭৮), সহীহ আল-জামি' (১৪৮৫)। এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 112 · #3663 · Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  113. 113

    । আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চার ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম করেছেন এবং তিনি আমাকে এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনিও তাদের ভালোবাসেন। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে তাদের নামগুলো বলুন। তিনি বললেনঃ আলীও তাদের একজন। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (অবশিষ্ট তিনজন হলেন) আবূ যার, মিকদাদ ও সালমান (রাঃ)। তাদেরকে ভালোবাসতে তিনি আমাকে আদেশ করেছেন এবং তিনি আমাকে এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনিও তাদেরকে ভালোবাসেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু শারীকের রিওয়ায়াত হিসেবেই এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 115 · #3664 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  114. 114

    । হুবশী ইবনু জুনাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আলী আমার হতে এবং আমি আলী হতে। আমার কোন কাজ থাকলে আমি নিজেই সম্পন্ন করি অথবা আমার পক্ষ হতে তা আলীই সম্পন্ন করে। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (১১৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 116 · #3665 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  115. 115

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের মধ্যে ভায়ের সম্পর্ক সৃষ্টি করলেন। তারপর আলী (রাঃ) কান্না ভেজা চোখে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার সাহাবীদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন, অথচ আমাকে কারো সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ দুনিয়া ও পরকালে তুমি আমারই ভাই। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে যাইদ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 117 · #3666 · Daif, Daif, Daif
  116. 116

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাখির ভুনা গোশত হাযির ছিল। তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তোমার সৃষ্টির মধ্যে তোমার নিকট সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার সাথে এই পাখির গোশত খাওয়ার জন্য হাযির করে দাও। ইত্যবসরে আলী (রাঃ) এসে হাযির হন এবং তার সাথে খাবার খান। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে আস-সুদীর রিওয়ায়াত হতে এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীস অন্যভাবেও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। আস-সুদীর নাম ইসমাঈল ইবনু আবদুর রহমান। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর দেখা পেয়েছেন এবং হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ)-কে দেখেছেন। শুবা, সুফিয়ান সাওরী, যাইদাহ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আলকাত্তান প্রমুখ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

    Book 49 · Hadith 118 · #3667 · Daif, Daif, Hasan
  117. 117

    । আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু হিন্দ আল-জামালী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেনঃ আমি যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু চেয়েছি তখনই তিনি আমাকে দিয়েছেন এবং যখন নিশ্চুপ থেকেছি তখনও আমাকেই প্রথম দিয়েছেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং আলোচ্য সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 119 · #3668 · Daif, Daif
  118. 118

    । আমির ইবনু সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে তার পিতার সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আবিয়াহ ইবনু আবী সুফইয়ান (রাযিঃ) সা'দ (রাযিঃ)-কে আমীর নিযুক্ত করে বললেন, আবূ তুরাবকে গালি দিতে তোমায় বাধা দিল কিসে? সা'দ (রাযিঃ) বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তিনটি কথা মনে রাখব, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে সময় পর্যন্ত আমি তাকে গালমন্দ করব না। ঐগুলোর একটি কথাও আমার নিকটে লাল রংয়ের উট লাভের তুলনায় বেশি প্রিয়। (এক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি আলী (রাযিঃ)-এর লক্ষ্যে একটি কথা বলতে শুনেছি, যে সময় তিনি তাকে মাদীনায় তার জায়গায় নিয়োগ করে কোন এক যুদ্ধাভিযানে যান। সে সময় আলী (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে কি রেখে যাচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ‘আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারূন (আঃ)-এর মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরবর্তীতে কোন নবী নেই। (দুই) আমি খাইবারের (যুদ্ধাভিযানের) দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এমন এক লোকের হাতে আমি (যুদ্ধের) পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলও তাকে মুহাব্বাত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রত্যেকে তা লাভের আশায় অপেক্ষা করতে থাকলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা আলীকে আমার নিকটে ডেকে আন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার কাছে এসে হাযির হন, তখন তার চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দুই চোখে স্বীয় মুখ নিঃসৃত লালা লাগিয়ে দেন এবং তার হাতে পতাকা অৰ্পণ করেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে বিজয়ী করলেন। (তিন) এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) আমরা আহবান করি আমাদের পুত্রদেরকে ও তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে....."— (সূরা আ-লি ইমরান ৬১)। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকেন (এবং তাদেরকে নিয়ে খোলা ময়দানে গিয়ে) বললেনঃ হে আল্লাহ! এরা সকলে আমার পরিবার-পরিজন। সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৭/১২০)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 121 · #3669 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  119. 119

    । আল-বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'টি সামরিক বাহিনী প্রেরণ করলেন এবং একদলের সেনাপতি বানালেন আলী (রাঃ)-কে এবং অপর দলের অধিনায়ক বানালেন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)-কে। তিনি আরো বলেনঃ যখন যুদ্ধ শুরু হবে তখন আলী হবে (সমগ্র বাহিনীর) প্রধান সেনাপতি। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) একটি দুর্গ জয় করেন এবং সেখান হতে একটি যুদ্ধবন্দিনী নিয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে খালিদ (রাঃ) এক চিঠি লিখে আমার মাধ্যমে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে পাঠান যাতে তিনি আলী (রাঃ)-এর দোষ চর্চা করেন। রাবী বলেন, আমি চিঠি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হলাম। তিনি চিঠি পড়ার পর তার (মুখমণ্ডলের) রং বিবর্ণ হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেনঃ তুমি এমন লোক প্রসঙ্গে কি ভাবো যে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলও যাকে ভালোবাসেন? রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তোষ ও তার রাসূলের অসন্তোষ হতে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় চাই। আমি একজন বার্তাবাহক মাত্র। (এ কথায়) তিনি নীরব হন। সনদ দুর্বল। ১৬৮৭ নং হাদীসে পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 122 · #3670 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  120. 120

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ তাইফ অভিযানের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে নিকটে ডেকে তার সাথে চুপিচুপি কথাবার্তা বললেন। জনসাধারণ বলল, তিনি তার চাচাত ভাইয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ চুপিসারে কথাবার্তা বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তার সাথে চুপিসারে কথা বলিনি, বরং আল্লাহ্ তা'আলাই তার সাথে চুপিসারে কথা বলেছেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৮), যঈফা (৩০৮৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আল-আজলাহ-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। ইবনুল ফুযাইল ব্যতীত অন্য রাবীও আল-আজলাহ হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। "আল্লাহ্ তা'আলাই চুপিসারে তার সাথে কথা বলেছেন” বাক্যের মর্মার্থ এই যে, তার সাথে চুপিসারে কথা বলার জন্য আল্লাহ তা'আলাই আমাকে হুকুম করেছেন।

    Book 49 · Hadith 123 · #3671 · Daif, Daif, Daif
  121. 121

    । আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ হে আলী! তুমি ও আমি ছাড়া আর কারো জন্য এ মসজিদে নাপাক হওয়া বৈধ নয়। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৯) যঈফা (৪৯৭৩) আলী ইবনুল মুনযির বলেন, আমি যিরার ইবনু সুরাদকে প্রশ্ন করলাম, এ হাদীসের মর্মার্থ কি? তিনি বলেন, তুমি ও আমি ছাড়া নাপাক অবস্থায় এ মসজিদের মধ্য দিয়ে হাটাচলা করা অন্য কারো জন্য জায়িজ নয়। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আলোচিত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) এ হাদীস আমার নিকট শুনেছেন এবং তিনি এটিকে গারীব বলে মত দিয়েছেন।

    Book 49 · Hadith 124 · #3672 · Daif, Daif, Daif
  122. 122

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাবুওয়াত পেয়েছেন সোমবার এবং আলী (রাঃ) নামায আদায় করেন মঙ্গলবার। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুসলিম আল-আওয়ারের সূত্রেই এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। আর মুসলিম আল-আওয়ার হাদীসবিশেষজ্ঞদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। উক্ত হাদীস মুসলিম হতে, তিনি হাববাহ হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে এ সূত্রেও একই রকম বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 125 · #3673 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  123. 123

    । সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আমার নিকট তুমি মর্যাদায় মূসা (আঃ)-এর ক্ষেত্রে হারূন স্থানীয়। তবে আমার পরে নবী নেই। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২১), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ! এ হাদীস সাদ (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব বলা হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 128 · #3674 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  124. 124

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) আলী (রাযিঃ)-এর দ্বার ছাড়া সকল দ্বার বন্ধ করে দেয়ার হুকুম দিয়েছেন। সহীহঃ যঈফাহ (৪৯৩২, ৪৯৫১) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র শুবাহ হতে উক্ত সনদে এভাবেই জানতে পেরেছি।

    Book 49 · Hadith 129 · #3675 · Sahih, Daif, Hasan
  125. 125

    । আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের হাত ধরে বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে এবং এ দু’জন ও তাদের পিতা-মাতাকে ভালোবাসে, সে কিয়ামতের দিন আমার সাথে একই মর্যাদায় থাকবে। যঈফ, যঈফা (৩১২২), তাখরীজুল মুখতারাহ (৩৯২-৩৯৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা জাফর ইবনু মুহাম্মাদ হতে শুধুমাত্র এই সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 130 · #3676 · Daif, Daif, Daif
  126. 126

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (ইসলাম গ্রহণ করে) আলী (রাযিঃ)-ই সর্বপ্রথম নামায আদায় করেন। সহীহঃ যঈফাহ (৪৯৩২) নং হাদীসের অধীনে, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র শুবাহ হতে, আবূ বালজের সনদে বর্ণিত মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদের হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে এটি অবগত হয়েছি। আবূ বালজেব নাম ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, কে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন? কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, বয়স্ক পুরুষদের মাঝে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ)। আলী (রাযিঃ) আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর মহিলাদের মাঝে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন উম্মুল মু'মিনীন খাদীজাহ্ (রাযিঃ)।

    Book 49 · Hadith 131 · #3677 · Sahih, Daif, Hasan
  127. 127

    । যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম ‘আলী (রাযিঃ)-ই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আমর ইবনু মুররাহ বলেন, আমি এ কথাটি ইবরাহীম নাখঈর কাছে উল্লেখ করলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, সর্বপ্রথম আবূ বকর (রাযিঃ)-ই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সহীহঃ যঈফাহ (৪১৩৯) নং হাদীসের অধীনে। নাখা'ঈর বর্ণনাটি মাকতু"। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হামযার নাম ত্বালহা ইবনু ইয়াযীদ।

    Book 49 · Hadith 132 · #3678 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  128. 128

    । আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, উম্মী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ ওসিয়াত করেন যে, মুমিনরাই তোমাকে ভালবাসবে এবং মুনাফিকরাই তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে। আদী ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যুগের জন্য দু'আ করেছেন, আমি সে যুগেরই অন্তর্ভুক্ত। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১১৪), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 133 · #3679 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  129. 129

    । উম্মু আতিয়া (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনা বাহিনী প্রেরণ করেন, তাদের সঙ্গে আলী (রাঃ)-ও ছিলেন। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দুই হাত উপরে তুলে বলতে শুনলামঃ ইয়া আল্লাহ আলীকে না দেখিয়ে আমাকে মৃত্যু দান করো না। যঈফ, মিশকাত (৬০৯০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 134 · #3680 · Daif, Daif, Daif
  130. 130

    । যুবাইর ইবনুল আওওয়াম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- উহুদের যুদ্ধের দিন দুটি লৌহবর্ম পরা ছিলেন। (যুদ্ধে আহত হওয়ার পর) তিনি একটি পাথরের উপর উঠতে চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি (উঠতে) পারলেন না। তিনি তালহা (রাযিঃ)-কে তার নীচে বসিয়ে তার কাঁধে চড়ে পাথরের উপর উঠে অবস্থান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ তালহা (তার জন্য জান্নাত) অনিবার্য করে নিয়েছে। হাসানঃ ১৬৯২ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 135 · #3681 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Hasan
  131. 131

    । জাবির ইবনু আবূদিল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ যদি কেউ পৃথিবীর বুকে চলাচলরত কোন শহীদ লোককে দেখে খুশী হতে চায়, তবে সে যেন তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহর প্রতি দৃষ্টি দেয়। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র আস-সালতু ইবনু দীনানের সনদে অবগত হয়েছি। কিছু হাদীসবিদ আস-সালত ইবনু দীনার এবং সালিহ ইবনু মূসার সমালোচনা করেছেন এবং উভয়ের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 136 · #3682 · Sahih, Sahih, Daif
  132. 132

    । মূসা ইবনু তালহা (রহঃ) বলেন, আমি মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-এর কাছে প্রবেশ করলে তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি সুখবর দিব না? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যারা নিজেদের ওয়াদা সম্পূর্ণ করেছে ত্বালহ তাদের অন্তর্ভুক্ত। হাসানঃ এটা ৩২০২ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কেননা এ হাদীস মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতে আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সূত্রেই অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 137 · #3683 · Hasan, Hasan, Daif
  133. 133

    । আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার কান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে বলতে শুনেছেঃ তালহা ও যুবাইর দু’জনই জান্নাতে আমার প্রতিবেশী। যঈফ, মিশকাত (৬১১৪), যঈফা (২৩১১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 138 · #3684 · Daif, Daif, Daif
  134. 134

    । তালহা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এক মূৰ্খ বেদুঈনকে বলেন, তুমি আল্লাহ তা'আলার নবীকে প্রশ্ন কর, তিনি কে যে লোক নিজের ওয়াদা পূর্ণ করেছেন? সাহাবীগণ তাকে কিছু প্রশ্ন করতে দুঃসাহস করতেন না। তারা তাকে শ্রদ্ধা করতেন এবং তার মর্যাদাবোধে তারা আকৃষ্ট ছিলেন। অতএব তাকে বেদুঈন প্রশ্ন করলে তিনি তার হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। সে পুনরায়ও প্রশ্ন করলে এবারও তিনি তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। (ত্বালহা বলেন) তারপর আমি সবুজ পোশাক পরিধান করা অবস্থায় মসজিদের দরজা দিয়ে উপস্থিত হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখেই বললেনঃ “কোন লোক তার ওয়াদা পূরণ করেছে" এই প্রশ্নকারী কোথায়? বেদুঈন বলল, এই যে আমি, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে ইশারা করে বললেনঃ যারা নিজেদের ওয়াদা পূর্ণ করেছে এই লোক তাদের অন্তর্ভুক্ত। হাসান সহীহঃ এটা ৩২০৩ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র আবূ কুরাইব হতে, ইউনুস ইবনু বুকাইরের সনদেই অবগত হয়েছি। একাধিক শীর্ষস্থানীয় হাদীস বিশেষজ্ঞ এ হাদীস আবূ কুরাইবের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীস আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারীকে আবূ কুরাইবের সনদে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি এবং তিনি তার কিতাবুল ফাওয়াইদ শীর্ষক গ্রন্থে এ হাদীসটি স্থান দিয়েছেন।

    Book 49 · Hadith 139 · #3685 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Hasan
  135. 135

    । আয-যুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইযার যুদ্ধের দিন আমার লক্ষ্যে একত্রে তার বাবা-মার উল্লেখ করে বলেনঃ আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 140 · #3686 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  136. 136

    । আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (নিষ্ঠাবান সাহায্যকারী) ছিলেন। আর আমার হাওয়ারী হল আয-যুবাইর ইবনুল আওওয়াম। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাওয়ারী’ শব্দের অর্থ সাহায্যকারী।

    Book 49 · Hadith 141 · #3687 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  137. 137

    । জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (একনিষ্ঠ সাহায্যকারী) ছিল। আর আমার হাওয়ারী হল আয-যুবাইর ইবনুল আওওয়াম। আবূ নু'আইমের রিওয়ায়াতে আরো আছেঃ (এ কথা তিনি) আহযাবের দিন (খন্দকের যুদ্ধের) দিন বলেন। তিনি বললেনঃ আমাকে কুরাইশদের (কাফিরদের) সংবাদ কে সংগ্রহ করে দিতে পারে? আয-যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, আমি। উক্ত কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেন এবং আয-যুবাইর (রাযিঃ)-ও (তিনবারই) বললেন, আমি। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 142 · #3688 · Hasan Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  138. 138

    । হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আয-যুবাইর (রাযিঃ) উষ্ট্রীয় যুদ্ধের দিন সকালে নিজ পুত্র আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, বৎস! আমার শরীরে এমন কোন অঙ্গ নেই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জিহাদে) ক্ষত-বিক্ষত হয়নি, এমনকি আমার লজ্জাস্থানও (ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে)। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং হাম্মাদ ইবনু যাইদের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।

    Book 49 · Hadith 143 · #3689 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Daif
  139. 139

    । আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তলহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ জান্নাতী, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস জান্নাতী, সাঈদ জান্নাতী এবং আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ জান্নাতী। সহীহঃ মিশকাত (৬১১), তাখরীজ ত্বাহাতীয়াহ (৭২৮)। আবু মুস'আব আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আব্দুর রাহমান ইবনু হুমাইদ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই সনদে 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই। এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনু হুমাইদ-তার পিতা হতে, তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণিত হয়েছে। এ সনদে বর্ণিত হাদীসটি প্রথমোক্ত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 144 · #3690 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  140. 140

    । সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি একদল লোকদের মাঝে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশজন লোক জান্নাতী। (তারা হলেন) আবূ বাকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী এবং আলী, উসমান, যুবাইর, ত্বালহা, আবদুর রহমান, আবূ উবাইদাহ ও সা'দ ইবনু আবী ওয়াককাস (রাযিঃ)। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি উক্ত নয়জনকে গণনা করেন এবং দশম লোক প্রসঙ্গে নীরব থাকেন। সে সময় লোকেরা বলল, হে আবূল আওওয়ার! আপনাকে আমরা আল্লাহর নামে কসম দিয়ে বলছি, দশম লোক কে? তিনি বলেন, তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে কসম দিয়ে প্রশ্ন করেছ। আবূল আওয়ার জান্নাতী। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৩৩)। আবূ ঈসা বলেন, আবূল আওয়ার হলেন সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাযিঃ)। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী)-কে আমি বলতে শুনেছি, এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসের চাইতে বেশি বিশুদ্ধ।

    Book 49 · Hadith 145 · #3691 · Sahih, Sahih, Sahih
  141. 141

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার স্ত্রীদের) বলতেনঃ আমার (মৃত্যুর) পরে তোমাদের পরিস্থিতি (ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা) যে কি হবে তা সম্পর্কে আমি চিন্তিত (কারণ তোমাদের জন্য কোন উত্তরাধিকার স্বত্ব রেখে যাইনি)। ধৈর্য ধারণকারী ও সহিষ্ণুতা অনুরাগী ব্যক্তি ছাড়া তোমাদের অধিকারের প্রতি কেউ ভ্রুক্ষেপ করবে না। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, পরবর্তী সময়ে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা যেন তোমার বাবাকে অর্থাৎ ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাযিঃ)-কে জান্নাতের সালসাবীল নামক ঝর্ণার পানি পান করান। কেননা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের জন্য যে সম্পদ নিয়োগের মাধ্যমে তার সম্পত্তি তাদের সেবায় নিয়োজিত করেন পরবর্তীকালে তা চল্লিশ হাজার (দিনার মূল্যে) বিক্রয় করা হয়। হাসানঃ মিশকাত (৬১২১, ৬১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 146 · #3692 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  142. 142

    । আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) তার একটি বাগিচা উম্মুহাতুল মু'মিনীনদের জন্য উৎসর্গ করেন তা চার লক্ষ দিরহাম মূল্যে বিক্রয় করা হয়। সনদ হাসানঃ পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 147 · #3693 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan
  143. 143

    । সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ। আপনার নিকট সা'দ দু'আ করলে তা গ্রহণ করুন"। সহীহঃ মিশকাত (৬১১৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস ইসমাঈল-এর বরাতে কাইস (রহঃ)-এর সনদেও বর্ণিত আছে। তাতে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “হে আল্লাহ! আপনার নিকট সাদ দুআ করলে তা গ্রহণ করুন”। এ রিওয়ায়াতটি অনেক বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 148 · #3694 · Sahih, Sahih, Daif
  144. 144

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সা'দ (রাযিঃ) এসে হাযির হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনি আমার মামা। কেউ আমাকে দেখাক তো তার মামাকে (যে আমার মামার সমপর্যায়ের হতে পারে)। সহীহঃ মিশকাত (৬১১৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মুজালিদের হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে এটা অবগত হয়েছি। সা'দ (রাযিঃ) ছিলেন বনু যুহরার লোক এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আম্মাও ছিলেন বনু যুহুরার সদস্যা। এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইনি আমার মামা।

    Book 49 · Hadith 149 · #3695 · Sahih, Sahih, Daif
  145. 145

    । আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাঃ) ছাড়া অন্য কারো জন্য নিজের পিতা-মাতাকে একত্র করেননি। তিনি উহুদের যুদ্ধের দিন তাকে বলেনঃ আমার আব্বা-আম্মা তোমার জন্য কুরবান হোক। হে নব যুবক! (শক্রর প্রতি) তীর নিক্ষেপ কর। “হে নও জোয়ান” এ শব্দটি মুনকার ২৮২০ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। বহু রাবী এ হাদীস ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাঈয়্যাব হতে, তিনি সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 150 · #3696 · Munkar, Munkar, Sahih
  146. 146

    । সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার লক্ষ্যে তাঁর বাবা মাকে একত্রে কুরবান করেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, (২৮৩০) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনুল হাদ হতে আলী (রাযিঃ)-এর বরাতেও এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 151 · #3697 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  147. 147

    । আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ছাড়া আর কারো লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার বাবা-মাকে একসাথে কুরবান করতে শুনিনি। উহুদের যুদ্ধের দিন আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ হে সাদ! তীর নিক্ষেপ কর। তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, (২৮২৮) নং হাদীস পূর্বেও উল্লিখিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 152 · #3698 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  148. 148

    । আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমন করার পর কেন যেন রাতে নিদ্রা যাপন করতে পারলেন না। তিনি (মনে মনে) বললেনঃ আহা! যদি কোন সৎকর্মপরায়ণ লোক আজকের রাতটুকু আমাকে পাহারা দিত। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা এই চিন্তায় ছিলাম, তখনই অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কে? উত্তর এল, আমি সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি কারণে এসেছ? সা'দ (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমার মনে শংকা জাগ্রত হওয়ায় আমি তাকে পাহারা দিতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু'আ করেন, তারপর ঘুমিয়ে যান। সহীহঃ সহীহুল আদাবুল মুফরাদ (৬২২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 153 · #3699 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  149. 149

    । সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নয়জন লোক প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। যদি আমি দশম ব্যক্তি প্রসঙ্গেও সাক্ষ্য দেই তবে তাতেও আমি পাপী হব না। প্রশ্ন করা হল, তা কিভাবে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা হেরা পর্বতের উপর অবস্থানরত ছিলাম। (হেরা কেঁপে উঠলে) তিনি বললেনঃ হেরা শান্ত হও। অবশ্যই তোমার উপরে একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী) অথবা একজন শহীদ আছেন। বলা হল, তারা কারা তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, উমার, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, সা’দ ও আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)। তাকে প্রশ্ন করা হল, দশম লোকটি কে? তিনি বললেন, আমি। সহীহঃ (৩৭৪৮) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ)-এর বরাতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আহমাদ ইবনু মানী'-হাজ্জাজ ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি শু’বাহ হতে, তিনি তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে উক্ত মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ শেষের সনদের হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 154 · #3700 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  150. 150

    ‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আব্বাস (রাযিঃ) প্রসঙ্গে উমার (রাযিঃ)-কে বলেনঃ কোন লোকের চাচা তার পিতৃ সমতুল্য। আল-আব্বাস (রাযিঃ)-এর যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে উমর (রাযিঃ) কিছু বলেছিলেন। সহীহঃ ইরওয়া (৩/৩৪৮-৩৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 159 · #3701 · Sahih Lighairihi, Sahih, Sahih
  151. 151

    । আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-আব্বাস হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা। আর চাচা হল পিতৃ সমতুল্য। সহীহঃ সহীহাহ (৮০৬),সহীহ আবূ দাউদ (১৪৩৫), ইরওয়া (৩/৩৪৮-৩৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু আবূয যিনাদের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্তভাবে অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 160 · #3702 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  152. 152

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আব্বাস (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আগামী সোমবার প্রভাতে আপনি আমার কাছে আসবেন এবং আপনার সন্তানদেরকেও সাথে নিয়ে আসবেন। আপনার জন্য এবং আপনার সন্তানদের জন্য আমি একটি দুআ করব, যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আপনাকেও উপকৃত করবেন এবং আপনার সন্তানদেরও। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, প্রভাতে তিনি গেলেন এবং তার সঙ্গে আমরাও গেলাম। তিনি আমাদের শরীরে একখানা চাদর জড়িয়ে দিলেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ আল-“আব্বাস ও তার সন্তানদের বাহির ও ভিতর উভয় দিক এমনভাবে ক্ষমা করে দিন যার পর তাদের আর কোন অপরাধ বাকি না থাকে। হে আল্লাহ! তাকে তার সন্তানদের ব্যাপারে হিফাযাত করুন"। হাসানঃ মিশকাত (৬১৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 161 · #3703 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  153. 153

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি (স্বপ্নে) জাফারকে জান্নাতের মধ্যে ফেরেশতাদের সঙ্গে উড়ে বেড়াতে দেখেছি। সহীহঃ সহীহাহ (১২২৬), মিশকাত (৬১৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু জাফরের সনদে জানতে পেরেছি। ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন প্রমুখ তাকে যঈফ বলেছেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু জাফার হলেন ‘আলী ইবনুল মাদীনীর বাবা। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 162 · #3704 · Sahih, Sahih, Hasan
  154. 154

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর জাফার (রাযিঃ)-এর চেয়ে উত্তম কোন লোক জুতা পরিধান করেনি, জন্তুযানে আরোহণ করেনি, উটের হাওদায় উঠেনি। সনদ সহীহ, মাওকুফ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আল-কাওর অর্থ- হাওদা।

    Book 49 · Hadith 163 · #3705 · Sahih Isnaad Mauquf, Sahih Isnaad Mauquf, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  155. 155

    । আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফার ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তুমি দৈহিক গঠনে ও স্বভাব-চরিত্রে আমার মতো। এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী উবাই হতে, তিনি ইসরাঈল হতে ..... অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 164 · #3706 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  156. 156

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, অন্যের চেয়ে ভালোভাবে কুরআনের আয়াতের তাৎপর্য আমার জানা থাকা সত্ত্বেও আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে কোন সাহাবীর নিকট তার তাৎপর্য জানতে চাইতাম এ উদ্দেশ্যে যাতে তিনি আমাকে (তার বাড়িতে নিয়ে) কিছু খাওয়ান। আমি জাফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেই তিনি আমাকে জবাব না দিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যেতেন, তারপর তার স্ত্রীকে বলতেন, হে আসমা! আমাদেরকে খানা খাওয়াও। তার স্ত্রী আমাদেরকে খানা খাওয়ানোর পর তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেন। জাফর (রাঃ) ছিলেন দরিদ্র্য বৎসল এবং তিনি তাদের সাথে উঠা-বসা করতেন, তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতেন এবং তারাও তার সাথে কথাবার্তা বলত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবূল মাসাকীন (গারীবদের পিতা) উপনামে আখ্যায়িত করেন। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত তাহকীক ছানী (৬১৫২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূ ইসহাক আল-মাখযুমী হলেন ইবরাহীম ইবনুল ফাযল আল-মাদীনী। কোন কোন হাদীসবিশেষজ্ঞ তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি অনেক গারীব হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 165 · #3707 · Very Daif, Very Daif, Daif
  157. 157

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাফর ইবনু আবী তালিবকে আবূল মাসাকীন বলে সম্বোধন করতাম, আমরা যখন তার নিকট আগমন করতাম। উপস্থিত যা থাকত তাই আমাদের সামনে নিয়ে আসত, একদিন আমরা তার নিকট আগমন করলে তিনি কিছুই পেলেন না, ফলে তিনি একটি মধুর মটকা নিয়ে এলেন এবং তা ভেঙ্গে ফেললেন, তারপর আমরা চেটে চেটে খেতে থাকলাম। আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরা হতে সালামার সূত্রে বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান গারীর। যঈফ , যঈফ ইবনু মাজাহ

    Book 49 · Hadith 166 · #3708 · Daif
  158. 158

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন (রাযিঃ) প্রত্যেকেই জান্নাতী যুবকদের সরদার। সহীহঃ সহীহাহ (৭৯৬) সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী’-জারীর ও মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে, তিনি ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আবী নুম হলেন আবদুর রহমান ইবনু আবী নুম আল-বাজালী, কুফার অধিবাসী। তার উপনাম আবূল হাকাম।

    Book 49 · Hadith 167 · #3709 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  159. 159

    । উসামাহ্ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) বলেন, এক রাতে আমার কোন দরকারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে, একটা কিছু তার পিঠে জড়ানো ছিল যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার দরকার সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কি? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উম্মুক্ত করলে দেখা গেল তার দুই কোলে হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)। তিনি বললেনঃ এরা দু’জন আমার পুত্র এবং আমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দু’জনকে মুহাব্বাত করি। সুতরাং তুমি তাদেরকে মুহাব্বাত কর এবং যে ব্যক্তি এদেরকে মুহাব্বাত করবে, তুমি তাদেরকেও মুহাব্বাত কর। হাসানঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 168 · #3710 · Hasan, Hasan, Hasan, Sahih
  160. 160

    । আবদুর রহমান ইবনু আবী নুম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে এক ইরাকবাসী মাছির রক্ত কাপড়ে লাগলে তার বিধান প্রসঙ্গে ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর কাছে জানতে চায়। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য কর, সে মাছির রক্ত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করছে। অথচ তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্রকে (নাতি হুসাইন) হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন দু'জন এই পৃথিবীতে আমার দুটি সুগন্ধময় ফুল। সহীহঃ মিশকাত (৬১৫৫), সহীহাহ (৫৬৪), বুখারী সংক্ষিপ্তভাবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। শু'বাহ (রাহঃ) এ হাদীস মাহদী ইবনু মাইমূন হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবী ইয়াকুবের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 169 · #3711 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  161. 161

    । সালমা (আল-বাকরিয়া) (রহঃ) বলেন, আমি উম্মু সালামা (রাঃ)-এর নিকট গিয়েছিলাম, তখন তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তার মাথায় ও দাড়িতে ধুলা জড়িয়ে আছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি এইমাত্র হুসাইনের নিহত হওয়ার জায়গায় হাযির হয়েছি। যঈফ, মিশকাত (৬১৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।

    Book 49 · Hadith 170 · #3712 · Daif, Daif, Daif
  162. 162

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, আপনার আহলে বাইত-এর সদস্যগণের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেনঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন। তিনি ফাতিমা (রাঃ)-কে বলতেনঃ আমার দুই সন্তানকে আমার কাছে ডাক। তিনি তাদের ঘ্রাণ নিতেন এবং নিজের বুকের সাথে লাগাতেন। যঈফ, মিশকাত (৬১৫৮) আবূ ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।

    Book 49 · Hadith 171 · #3713 · Daif, Daif, Hasan, Daif
  163. 163

    । আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে নাববীর) মিম্বারে উঠে বললেনঃ আমার এ পুত্র (হাসান) নেতা হবে এবং আল্লাহ তা'আলা তার মাধ্যমে (মুসলিমদের) দু'টি বিবদমান দলের মাঝে সমঝোতা স্থাপন করাবেন। সহীহঃ রাওযুল নামীর (৯২৩), ইরওয়া (১৫৯৭), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। “এই পুত্র" দিয়ে আল-হাসান ইবনু আলী (রাযিঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 172 · #3714 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  164. 164

    । আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতা বুরাইদাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) লাল বর্ণের জামা পরিহিত অবস্থায় (শিশু হওয়ার কারণে) আছাড় খেতে খেতে হেঁটে আসেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার হতে নেমে তাদের দু’জনকে তুলে এনে নিজের সম্মুখে বসান, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন, “তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তো পরীক্ষা বিশেষ”— (সূরা তাগাবুন ১৫)। আমি তাকিয়ে দেখলাম এই শিশু দুটি আছাড় খেতে খেতে হেঁটে আসছে। আমি আর সহ্য করতে পারলাম না, এমনকি আমার বক্তৃতা বন্ধ করে তাদেরকে তুলে নিতে বাধ্য হলাম। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৬০০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র আল-হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ-এর বর্ণনার প্রেক্ষিতেই এটি অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 173 · #3715 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  165. 165

    । ইয়া'লা ইবনু মুররাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হুসাইন আমার হতে এবং আমি হুসাইন হতে। যে লোক হুসাইনকে মুহাব্বাত করে, আল্লাহ তাকে মুহাব্বাত করেন। নাতিগণের মাঝে একজন হল হুসাইন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (১৪৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র 'আবদুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনু খুসাইমের সূত্রেই জেনেছি। একাধিক বর্ণনাকারী এটি 'আবদুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনু খুসাইম হতে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 174 · #3716 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  166. 166

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন লোকদের মাঝে দৈহিক কাঠামোয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আল-হাসান ইবনু আলীর তুলনায় বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিল না। সহীহঃ বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 175 · #3717 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  167. 167

    । আবূ জুহাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি দেখেছি। আল-হাসান ইবনু আলী ছিলেন (দৈহিক কাঠামোয়) তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। পূর্বে (২৬৭৬) নং হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাকর আস-সিদ্দীক, ইবনু আব্বাস ও ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 176 · #3718 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  168. 168

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, আমি ইবনু যিয়াদের নিকট হাযির ছিলাম। সে সময় আল-হুসাইন (রাযিঃ)-এর শির (কারবালা হতে) এনে হাযির করা হল। সে তার নাকে ছড়ি মারতে মারতে (ব্যঙ্গোক্তি করে) বলতে লাগল, এর ন্যায় সুশ্ৰী আমি কাউকে তো দেখিনি! বৰ্ণনাকারী বলেন, সে সময় আমি বললাম, সতর্ক হও! লোকদের মাঝে (দৈহিক কাঠামোয়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আল-হুসাইন ইবনু আলীর তুলনায় বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিল না। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৭০), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 177 · #3719 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  169. 169

    । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুক হতে মাথা পর্যন্ত অংশের সাথে আল-হাসানের শরীরের সাদৃশ্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুক হতে পা পর্যন্ত নীচের অংশের সাথে আল-হুসাইনের শরীরের সাদৃশ্য ছিল। যঈফ, মিশকাত (৬১৬১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 178 · #3720 · Daif, Daif, Hasan, Daif
  170. 170

    । উমারাহ ইবনু উমাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ ও তার সাথীদের ছিন্ন মস্তক এনে কূফার আর-রাহবা নামক জায়গায় মসজিদে স্তুপিকৃত করা হলে আমি সেখানে গেলাম। সে সময় লোকেরা এসে গেছে, এসে গেছে বলে চেচামেচি করতে লাগল। দেখা গেল একটি সাপ এসে ঐসব মাথাসমূহের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছিল। এমনকি সাপটি উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদের নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করল, তারপর বের হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। লোকেরা আবারও চীৎকার করে বলতে লাগলো, এসে গেছে এসে গেছে। এরূপে সাপটি দু’বার অথবা তিনবার এসে তার নাকের ছিদ্রে ঢুকে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর বের হয়ে যায়। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 179 · #3721 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan Sahih, Daif
  171. 171

    । হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার মা আমাকে প্রশ্ন করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তুমি কখন যাবে? আমি বললাম, আমি এতদিন হতে তার নিকট উপস্থিত পরিত্যাগ করেছি। এতে তিনি আমার উপর নারাজ হন। আমি তাকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমাকে মাগরিবের নামায আদায় করতে ছেড়ে দিন। তাহলে আমি তার কাছে আমার ও আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করব। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমি হাযির হয়ে তার সাথে মাগরিবের নামায আদায় করলাম। তারপর তিনি নফল নামায আদায় করতে থাকলেন, অবশেষে তিনি এশার নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি বাড়ির দিকে যাত্রা করলেন এবং আমি তার পিছু পিছু গেলাম। তিনি আমার আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি কে, হুযাইফাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমার কি দরকার, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে এবং তোমার মাকে ক্ষমা করুন। তিনি বললেনঃ একজন ফেরেশতা যিনি আজকের এ রাতের আগে কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। তিনি আমাকে সালাম করার জন্য এবং আমার জন্য এ সুখবর বয়ে আনার জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে অনুমতি চেয়েছেনঃ ফাতিমাহ জান্নাতের নারীদের নেত্রী এবং হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২০৫, ২০৬), মিশকাত (২১৬২), সহীহাহ (২৭৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র ইসরাঈলের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতেই জানতে পেরেছি।

    Book 49 · Hadith 180 · #3722 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  172. 172

    । আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনকে দেখে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি এ দু’জনকে মুহাব্বাত করি, সুতরাং তুমিও তাদেরকে মুহাব্বাত কর। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৮৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 181 · #3723 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  173. 173

    । আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আলীর পুত্র হাসানকে তার কাধে তুলে নিয়ে আমি বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! একে আমি মুহাব্বাত করি, অতএব তাকে তুমিও মুহাব্বাত কর। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৮৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটা ফুযাইল ইবনু মারযুক (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 182 · #3724 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  174. 174

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আলীর ছেলে হাসানকে স্বীয় কাধে বহন করছিলেন। এক লোক বলেন, হে বালক! কতই না উত্তম বাহনে তুমি আরোহণ করেছ (তার মন্তব্য শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে কতই না উত্তম আরোহী। যঈফ, মিশকাত (৬১৬৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। হাদীসের কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম যামআ ইবনু সালিহকে তার স্মৃতিশক্তির কারণে যঈফ বলেছেন।

    Book 49 · Hadith 183 · #3725 · Daif, Daif, Daif, Daif
  175. 175

    । আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকে সাতজন করে প্রতিনিধি দান করা হয়েছে এবং আমাকে দান করা হয়েছে চৌদ্দজন। আমরা বললাম, তারা কারা? তিনি বললেনঃ আমি (আলী), আমার দুই পুত্র (হাসান ও হুসাইন), জাফর, হামযা, আবূ বাকর, উমার, মুসআব ইবনু ইবনু মাসউদ (রাঃ)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬২৪৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীস আলী (রাঃ) হতে মাওকৃফরূপেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 184 · #3726 · Daif, Daif, Daif
  176. 176

    । জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার বিদায় হজ্জে আরাফার দিন তার কাসওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় বক্তৃতা দিতে দেখেছি এবং তাকে বলতে শুনেছিঃ হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম, তোমরা তা ধারণ বা অনুসরণ করলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে নাঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব (আল-কুরআন) এবং আমার ইতরাত অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৪৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ যার, আবূ সাঈদ, যাইদ ইবনু আরকাম ও হুযইফাহ ইবনু উসাইদ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। যাইদ ইবনুল হাসান হতে সাঈদ ইবনু সুলাইমান ও একাধিক বিশেষজ্ঞ আলিম হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 185 · #3727 · Sahih, Sahih, Hasan, Daif
  177. 177

    । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোষ্য উমার ইবনু আবী সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর ঘরে এ আয়াত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে নবীর পরিবার। আল্লাহ তা'আলা তো চান তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাব ৩৩)। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকেন এবং তাদেরকে একখানা চাদরে আবূত করেন। তার পেছনে আলী (রাযিঃ) ছিলেন। তিনি তাকেও চাদরে ঢেকে নেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত। অতএব তুমি তাদের হতে অপবিত্রতা অপসারণ করে দাও এবং তাদেরকে উত্তমভাবে পবিত্র কর”। সে সময় উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত কি? তিনি বললেনঃ তুমি স্বস্থানে আছ এবং তুমি কল্যাণের মাঝেই আছ। সহীহঃ ৩২০৫ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ, মাকিল ইবনু ইয়াসার, আবূল হামরা ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 186 · #3728 · Sahih, Sahih, Sahih
  178. 178

    । যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম যা তোমরা শক্তরূপে ধারণ (অনুসরণ) করলে আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার একটি অন্যটির তুলনায় বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব যা আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত দীর্ঘ এক রশি এবং আমার পরিবার অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও আলাদা হবে না কাওসার নামক ঝর্ণায় আমার সঙ্গে একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব তোমরা লক্ষ্য কর আমার পরে দু'জনের সঙ্গে তোমরা কিভাবে আচরণ কর। সহীহঃ মিশকাত (৬১৪৪), রাওযুন নায়ীর (৯৭৭, ৯৭৮), সহীহাহ (৪/৩৫৬-৩৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 187 · #3729 · Sahih, Sahih, Daif
  179. 179

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে মহব্বত কর। কেননা তিনি তোমাদেরকে তার নিয়ামাতরাজি খাবার খাওয়াচ্ছেন। আর আল্লাহ্ তা'আলার মহব্বতে তোমরা আমাকেও মহব্বত এবং আমার মহব্বতে আমার আহলে বাইতকেও মহব্বত কর। যঈফ, তাখরীজ ফিকহিস সীরাহ (২৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 188 · #3730 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  180. 180

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উন্মাতের মাঝে আবূ বাকর আমার প্রতি সবচাইতে বেশী দয়ালু। আল্লাহ তা'আলার বিধান প্রয়োগে উমার তাদের মাঝে সবচাইতে বেশী কঠোর। তাদের মাঝে উসমান ইবনু আফফান সবচাইতে বেশী লাজুক। তাদের মাঝে হালাল ও হারাম প্রসঙ্গে মুআয ইবনু জাবাল সবচাইতে বেশী ওয়াকিফহাল। তাদের মাঝে ফারায়িয (উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বিধান) সম্বন্ধে যাইদ ইবনু সাবিত সবচাইতে বেশী অভিজ্ঞ। তাদের মধ্যে অধিক উত্তমরূপে কুরআন মাজীদ পাঠকারী উবাই ইবনু কাব। আর প্রত্যেক উম্মাতের একজন সবচাইতে বেশী বিশ্বস্ত লোক থাকে। এ উম্মাতের সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই কাতাদাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে জেনেছি। এ হাদীস আবূ কিলাবাহ আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ কিলাবার হাদীসই বেশী প্রসিদ্ধ।

    Book 49 · Hadith 189 · #3731 · Sahih, Sahih, Sahih
  181. 181

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে আবূ বাকর (রাযিঃ) হলেন আমার উম্মাতের প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান প্রয়োগে সর্বাধিক কঠোর হলেন উমার, তাদের মাঝে সর্বাধিক লজ্জাশীল হলেন উসমান, তাদের মাঝে সর্বাধিক উত্তম কুরআন পাঠকারী হলেন উবাই ইবনু কাব, তাদের মাঝে ফারাইয সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত হলেন যাইদ ইবনু সাবিত এবং তাদের মাঝে হালাল-হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত হলেন মুআয ইবনু জাবাল, সাবধান প্রত্যেক উন্মাতের মাঝেই একজন সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক আছে। আমার উম্মাতের মাঝে সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক হলেন আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 190 · #3732 · Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  182. 182

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম দিয়েছেন আমি তোমাকে যেন “লাম ইয়াকুনিল্লায়ীনা কাফারূ" সূরাটি পাঠ করে শুনাই। উবাই (রাযিঃ) প্রশ্ন করলেন, তিনি কি আমার নামোল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এতে উবাই (রাযিঃ) কেঁদে ফেলেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৯০৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী : আমাকে বললেনঃ ..... অতঃপর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

    Book 49 · Hadith 191 · #3733 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  183. 183

    । উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে আপনার নিকট কুরআন পাঠ করতে আদেশ করেছেন, অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, “আহলে কিতাবদের মাঝে কাফির নয়" আর তাতে পাঠ করলেন "আল্লাহর নিকট দ্বীনদার লোক হলেন একনিষ্ঠ মুসলিম ব্যক্তি। ইয়াহুদীরাও নয় নাসূরানীরাও নয়। যে ব্যক্তি ভাল আমল করবেন তিনি তা অস্বীকার করবেন না। তিনি আরও পাঠ করলেন, ইবনু আদমের নিকট যদি এক উপত্যকা সম্পদ থাকে তাহলে সে দ্বিতীয় উপত্যকা কামনা করবে, আর যদি দ্বিতীয় উপত্যকা থাকে, তাহলে সে তৃতীয় উপত্যকা কামনা করে। মাটি ব্যতীত আর কিছুতেই ইবনু আদমের পেট ভরবে না। যে তওবা করবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে। তিনি উবাই ইবনু কা'ব হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা'বকে বললেন, আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন যেন আপনার নিকট কুরআন পাঠ করি। কাতাদাহ্ আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে আপনার নিকট কুরআন পাঠ করতে আদেশ করেছেন।

    Book 49 · Hadith 192 · #3734 · Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  184. 184

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যমানায় চারজন ব্যক্তি কুরআন সংকলন করেন, তারা সকলেই আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেনঃ উবাই ইবনু কাব, মুআয ইবনু জাবাল, যাইদ ইবনু সাবিত ও আবূ যাইদ (রাযিঃ)। আমি (কাতাদাহ্) আনাস (রাযিঃ)-কে বললাম, আবূ যাইদ কে? তিনি বললেন, আমার একজন চাচা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 193 · #3735 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  185. 185

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর কতই না ভাল, উমার কতই না ভাল, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ কতই না ভাল, উসাইদ ইবনু হুযাইর কতই না ভাল, সাবিত ইবনু কাইস ইবনু শামমাস কতই না ভাল, মু'আয ইবনু জাবাল কতই না ভাল এবং মুআয ইবনু আমর ইবনুল জামূহ কতই না ভাল। সহীহঃ হাদীসের প্রথমাংশ (৩৫১২) নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধুমাত্র সুহাইলের হাদীস হিসেবে এটি অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 194 · #3736 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  186. 186

    । হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাজরানবাসীদের নেতা ও তার নায়েব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলে, আমাদের সঙ্গে আপনার বিশ্বস্ত লোককে প্রেরণ করেন। তিনি বললেনঃ আমি শীঘ্রই তোমাদের সঙ্গে একজন বিশ্বস্ত লোককেই প্রেরণ করব যিনি প্রকৃতই বিশ্বস্ত। লোকেরা এই সেবা আঞ্জাম দেয়ার আশা করতে থাকে। তিনি আবূ উবাইদাহ (রাযিঃ)-কে প্রেরণ করেন। অধঃস্তন বর্ণনাকারী আবূ ইসহাক যখনই সিলাহ হতে উক্ত হাদীস রিওয়ায়াত করতেন সে সময় বলতেন, আমি এ হাদীস সিলাহ হতে প্রায় ষাট বছর আগে শুনেছি। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১২৩), বুখারী ও মুসলিম, দেখুন সহীহাহ (১৯৬৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস ইবনু উমার ও আনাস (রাযিঃ) হতে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ “প্রত্যেক উম্মাতেরই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে। এ উন্মাতের বিশ্বস্ত লোক হল আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।” মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার সালম ইবনু কুতাইবাইহ ও আবূ দাউদ হতে, তারা শুবাহ হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, হুযইফাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন, সিলাহ্ ইবনু যুফারের হৃদয় স্বর্ণের মত। সনদ সহীহ, মাওকুফ।

    Book 49 · Hadith 195 · #3737 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  187. 187

    আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত তিনজন লোকের জন্য খুবই আগ্রহীঃ আলী, আম্মার ও সালমান (রাঃ)। যঈফ, যঈফা (২৩২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু হাসান ইবনু সালিহ্-এর সূত্রেই জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 196 · #3738 · Daif, Daif, Hasan, Daif
  188. 188

    । আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাযিঃ) এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দেখার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে আসার অনুমতি দাও। স্বাগতম পবিত্র সত্তা ও পবিত্র স্বভাবের ব্যক্তিকে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 197 · #3739 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  189. 189

    । আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখনই আম্মারকে দু’টি বিষয়ের মাঝে একটি গ্রহণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে সে সময় সে প্রত্যেকটির মাঝে সর্বোত্তমটিকে (অপেক্ষাকৃত মজবুতটিকে) এখতিয়ার করেছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কেননা আবদুল আযীয ইবনু সিয়াহ-এর রিওয়ায়াত ছাড়া আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে অবহিত নই। তিনি হলেন কুফার শাইখ। লোকেরা তার নিকট হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছে। তার এক পুত্র ছিল, যিনি ইয়াযীদ ইবনু আবদুল আযীয নামে পরিচিত এবং যিনি সিকাহ বর্ণনাকারী ছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু আদম তার সনদে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। হুযইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমরা বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ আমার জানা নেই, আর কত দিন আমি তোমাদের মাঝে জীবিত থাকব। সুতরাং তোমরা আমার পরের দু'জন লোকের অনুসরণ কর এবং তিনি আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ)-এর দিকে ইশারা করেন। আর তোমরা আম্মারের অনুসৃত পন্থা অনুসরণ কর এবং যে হাদীস ইবনু মাসউদ তোমাদের কাছে রিওয়ায়াত করে তা বিশ্বাস কর। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস ইবরাহীম ইবনু সা'দ সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে, তিনি রিবঈর মুক্তদাস হিলাল হতে, তিনি রিবাঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। রিবঈ ইবনু হিরাশ হতে, তিনি হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 198 · #3740 · Sahih, Sahih
  190. 190

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আম্মার! সুখবর গ্রহণ কর, বিদ্রোহী দলটি তোমাকে হত্যা করবে। সহীহঃ সহীহাহু (৭১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূল ইয়াসার ও হুযইফাহ্ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান, সহীহ এবং আ'লা ইবনু আবদুর রহমানের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।

    Book 49 · Hadith 200 · #3741 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  191. 191

    । 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আবূ যার হতে বেশি সত্যবাদী কাউকে আকাশ ছায়া দান করেনি এবং মাটি ও তার বুকে বহন করেনি। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা ও আবূ যার (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 201 · #3742 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  192. 192

    । আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ বাচনিক সত্যবাদিতায় ও সত্য প্রকাশে আবূ যারের তুলনায় উত্তম কাউকে আকাশ ছায়াদান করেনি এবং দুনিয়া তার বুকে আরোহন করেনি। সে ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম অনুরূপ। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হিংসুটে লোকের মত বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এটা তাকে জানাবোনা? (তাকে জানানো হবে)? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তোমরা তাকে জানিয়ে দাও। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬২৩০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। কিছু রাবী এ হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ .... “বৈরাগ্য সাধনায় পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী আবূ যার হলেন ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম অনুরূপ”।

    Book 49 · Hadith 202 · #3743 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  193. 193

    । আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর ভাতিজা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উসমান (রাঃ)-কে যখন মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয় তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার নিকট তার নিরাপত্তার জন্য আসেন। উসমান (রাঃ) তাকে বলেন, আপনি কেন এসেছেন? তিনি বললেন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি। উসমান (রাঃ) বললেন, তাহলে আপনি বাইরে বিদ্রোহীদের নিকট যান এবং তাদেরকে আমার নিকট হতে সরিয়ে দিন। আপনার বাড়ির ভেতরে থাকার চাইতে বাইরে থাকাই আমার জন্য উপকারী। অতএব আবদুল্লাহ (রাঃ) বাইরে লোকদের নিকট গিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে লোকেরা! জাহিলী যুগে আমার অমুক নাম ছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। আমার সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবে কয়েকটি আয়াতও অবতীর্ণ হয়। আমার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়ঃ “এবং বনী ইসরাঈলের একজন এর মতই কিতাব প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং এতে ঈমান এনেছে, অথচ তোমরা অহংকার করছ। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না" (সূরাঃ আল-আহকাফ- ১০)। আরো অবতীর্ণ হয়ঃ “আপনি বলুন, আমার ও তোমাদের মাঝে আল্লাহ্ তা'আলার সাক্ষ্য এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে তার সাক্ষ্যই যথেষ্ট" (সূরাঃ রাদ- ৪৩)। তোমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার একখানা কোষবদ্ধ তলোয়ার আছে। আর তোমাদের এই যে শহরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরাত করে) আসেন, এখানের ফিরিশতারা তোমাদের প্রতিবেশী। অতএব তোমরা এই ব্যক্তিকে হত্যা করার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আল্লাহর কসম! যদি ফিরিশতারা তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার যে তলোয়ার তোমাদের হতে কোষবদ্ধ আছে তা কোষমুক্ত হলে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোষবদ্ধ হবে না। বিদ্রোহীরা বলল, তোমরা এই ইয়াহুদীকেও হত্যা কর এবং উসমানকেও হত্যা কর। সনদ দুর্বল। ৩০৯৮ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা আমরা শুধু আবদুল মালিক ইবনু উমাইরের রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। শুআইব ইবনু সাফওয়ান এ হাদীস আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ উমার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম-তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে।

    Book 49 · Hadith 203 · #3744 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  194. 194

    । ইয়াযীদ ইবনু উমাইরাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ)-এর মৃত্যু উপস্থিত হলে তাকে বলা হল, হে আবদুর রহমানের বাবা! আমাদেরকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে বসাও। তিনি বললেন, ইলম ও ঈমান নিজস্ব জায়গায়ই বিদ্যমান আছে, যে তা অন্বেষণ করবে সে তা লাভ করবে। তিনি তিনবার এ কথা বললেন। তোমরা চার লোকের নিকট ইলম অনুসন্ধান করঃ উয়াইমির আবূদ দারদা (রাযিঃ)-এর নিকট, সালমান ফারসী (রাযিঃ)-এর নিকট, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর নিকট এবং আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাযিঃ)-এর নিকট। শেষোক্তজন প্রথমে ইয়াহুদী ধর্মাবলম্বী ছিলেন, পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তার প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ ইবনু সালাম জান্নাতের দশজনের মাঝে দশম লোক। সহীহঃ মিশকাত (৬২৩১)। এ অনুচ্ছেদে সা'দ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 204 · #3745 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  195. 195

    । ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে তোমরা আমার সাহাবীদের মাঝে আবূ বাকর ও উমারের অনুসরণ কর এবং আম্মারের অনুসৃত পথ অবলম্বন কর আর ইবনু মাসউদের ওয়াসীয়াত শক্তভাবে ধারণ কর। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে ইবনু মাসউদের হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব। কেননা এ হাদীস আমরা শুধু ইয়াহইয়া ইবনু সালামাহ ইবনু কুহাইলের রিওয়ায়াত হিসেবে জানতে পেরেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সালামাহ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আবূয যারা নামে দুই লোক রয়েছেন। তাদের একজনের নাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানী এবং অন্যজন যার হতে শুবাহ ও সাওরী হাদীস রিওয়ায়াত করেন। ইবনু উয়াইনাহর নাম 'আমর ইবনু 'আমর। তিনি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর শীষ্য আবূল আহওয়াসের ভাইয়ের ছেলে।

    Book 49 · Hadith 205 · #3746 · Sahih, Sahih, Hasan
  196. 196

    । আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) বলেন, আমি ও আমার সহোদর ইয়ামান হতে (মাদীনায়) আসা মাত্র আমরা ধারণা করতাম যে, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের একজন সদস্য। কেননা আমরা তাকে ও তার মাতাকে প্রায়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসা-যাওয়া করতে দেখতাম। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি এই সনদ সূত্রে হাসান সহীহ গারীব। সুফইয়ান সাওরীও হাদীসটি আবূ ইসহাকের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 206 · #3747 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  197. 197

    । আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)-এর কাছে এসে বললাম, আপনি আমাদেরকে এরূপ একজন ব্যক্তির সন্ধান দিন, যিনি আচার-আচরণে অপরদের চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশি কাছের, যাতে আমরা তার নিকট দ্বীন শিখতে পারি এবং হাদীস শুনতে পারি। হুজাইফাহ (রাযিঃ) বলেন, আচার-আচরণে ও চাল-চলনে ব্যক্তিদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক বেশি নিকটবর্তী হলেন ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)। তিনি আমাদের মাঝ হতে অন্তরাল হয়ে তার ঘরে অবস্থান করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশ্বস্ত সাহাবীগণ ভালভাবে অবগত আছেন যে, ইবনু উম্মু আবদ (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) তাদের প্রত্যেকের তুলনায় আল্লাহ তা’আলার বেশি নৈকট্যলাভকারী। সহীহঃ তা’লীকাত আল-হাসসান (৭০২৩), বুখারী সংক্ষিপ্তাকারে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 207 · #3748 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  198. 198

    । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি তাদের কাউকে পরামর্শ ছাড়া দলনেতা নিযুক্ত করতাম, তাহলে ইবনু উম্মি আবদকে দলনেতা নিযুক্ত করতাম। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৩৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হারিস হতে আলী (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 208 · #3749 · Daif, Daif, Daif
  199. 199

    । আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি পরামর্শ ছাড়া কাউকে নেতার পদ দিলে ইবনু উম্মি আবদকেই নেতার পদ দিতাম। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস

    Book 49 · Hadith 209 · #3750 · Daif, Daif, Daif
  200. 200

    । আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চার লোকের কাছ হতে কুরআন শিক্ষা করঃ ইবনু মাসউদ, উবাই ইবনু কাব, মু'আয ইবনু জাবাল ও হুযাইফাহর মুক্ত দাস সালিম হতে। সহীহঃ সহীহাহ (১৮২৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 210 · #3751 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  201. 201

    । খাঈসামাহ্ ইবনু আবূ সাবরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মাদীনায় এসে আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করলাম যে, তিনি যেন আমাকে একজন সৎকর্মপরায়ণ সঙ্গী জুটিয়ে দেন। অতএব তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-কে আমার ভাগ্যে জুটিয়ে দিলেন। তার পাশে বসে আমি তাকে বললাম, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমাকে একজন সৎকসর্মপরায়ণ সঙ্গী মিলিয়ে দেন। অতএব আপনি আমার জন্য সহজলভ্য হয়েছেন। তিনি (আমাকে) প্রশ্ন করেন, তুমি এসেছ কোথা হতে? আমি বললাম, আমি কুফার অধিবাসী। আমি মঙ্গলের সন্ধানে এসেছি এবং তাই খোজ করছি। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কি সাদ ইবনু মালিক (রাযিঃ), যার দুআ কবুল হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর পানি ও জুতা বহনকারী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্যের খাজাঞ্চী হুযাইফাহ্ (রাযিঃ), আম্মার (রাযিঃ) যাকে আল্লাহ তার নবীর ভাষায় শাইতানের আক্রমণ হতে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং দুই কিতাবধারী সালমান (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ বিদ্যমান নেই? কাতাদাহ (রাহঃ) বলেন, দুই কিতাব হল ইনজীল ও কুরআন। সহীহঃ বুখারী (৩৭৪২, ৩৭৪৩) হুযাইফাহ হতে, এ হাদীসদ্বয়ে সালমানের উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। খাঈসামাহ হলেন আবদুর রহমান ইবনু আবী সাবরার পুত্র। তাকে তার দাদার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 211 · #3752 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif
  202. 202

    । হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি কাউকে খালীফা (স্থলাভিসিক্ত) নিযুক্ত করে যেতেন। তিনি বললেনঃ আমি কাউকে তোমাদের খালীফা নিযুক্ত করে গেলে এবং তোমরা তার অবাধ্যাচারী হলে তোমাদেরকে সাজা দেয়া হবে। সুতরাং হুযাইফা (রাঃ) তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করে তাকে সত্য বলে গ্রহণ কর এবং ইবনু মাসউদ (রাঃ) তোমাদেরকে যা কিছু পাঠ করায় তা পাঠ করে নাও। যঈফ, মিশকাত (৬২৩২) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রাহমান বলেন, আমি ইসহাক ইবনু ঈসাকে বললাম, লোকেরা বলেন, এ হাদীস আবূ ওয়াইল হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, না, বরং তা ইনশাআল্লাহ যাযান থেকে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এটি শারীকের বর্ণিত হাদীস

    Book 49 · Hadith 212 · #3753 · Daif, Daif, Daif
  203. 203

    । উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি উসামা (রাঃ)-এর মাহিনা নির্ধারণ করলেন তিন হাজার পাঁচ শত দিরহাম এবং আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর মাহিনী নির্ধারণ করলেন তিন হাজার। সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তার পিতাকে বললেন, আপনি উসামাকে কেন আমার উপর স্থান দিলেন? আল্লাহর কসম! সে কোন যুদ্ধে আমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। উমার (রাঃ) বললেন, তোমার পিতার চাইতে (তার পিতা) যাইদ (রাঃ) ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশি প্রিয়পাত্র। আর তোমার চাইতে উসামা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশি পছন্দনীয় ব্যক্তি। তাই আমি আমার পছন্দনীয় ব্যক্তির উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। যঈফ, মিশকাত (৬১৬৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 213 · #3754 · Daif, Daif, Hasan, Hasan
  204. 204

    । সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা যাইদ (রাযিঃ)-কে যাইদ ইবনু হারিসাহ না বলে বরং যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে সম্বোধন করতাম। অবশেষে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাকো, এটাই আল্লাহ তা'আলার দৃষ্টিতে বেশি ন্যায়সঙ্গত”– (সূরা আহযাব ৫)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি ৩২০৯ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 214 · #3755 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  205. 205

    । যাইদ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ)-এর সহোদর জাবালাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সহোদর যাইদকে আমার সাথে পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেন, এই তো সে হাযির। সে যদি তোমার সঙ্গে চলে যেতে চায়, তাকে আমি বাধা দিব না। যাইদ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করব না। বর্ণনাকারী (জাবালাহ্) বলেন, আমি দেখলাম আমার সিদ্ধান্তের তুলনায় আমার ভাইয়ের সিদ্ধান্তই বেশি উত্তম। হাসানঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৬৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র ইবনুর রুমী হতে ‘আলী ইবনু মুসহির-এর সনদেই অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 215 · #3756 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  206. 206

    । ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন এক যুদ্ধাভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সামরিক বাহিনী পাঠান এবং উসামাহ ইবনু যাইদ (রাযিঃ)-কে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। কিছু লোক উসামাহর নেতৃত্বের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করে। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আজ তোমরা উসামাহর নেতৃত্বের ব্যাপারে বিরূপ সমালোচনা করে থাক, তবে ইতোপূর্বে তোমরা তার বাবার নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও বিরূপ সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই সে নেতৃত্বের বেশি যোগ্য ছিল এবং সমস্ত লোকের মাঝে আমার সবচাইতে বেশি পছন্দনীয় ছিল। আর তার পরে তার ছেলেও আমার কাছে সবার তুলনায় বেশি প্রিয়। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আলী ইবনু হুজর-ইসমাঈল ইবনু জাফার হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 216 · #3757 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  207. 207

    । মুহাম্মাদ ইবনু উসামাহ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি ও আরো কিছু লোক মাদীনায় গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমি প্রবেশ করলাম। তিনি নীরব ছিলেন এবং কোন কথা বলেননি। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত দুখানা আমার শরীরের উপর রাখতেন এবং তা উত্তোলন করতেন। তাতে আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি আমার জন্য দুআ করছেন। হাসানঃ মিশকাত (৬১৬৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 217 · #3758 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  208. 208

    । উম্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহর নাকের শ্লেমা মুছে দেয়ার ইচ্ছা করলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমাকে অনুমতি দিন আমিই তা মুছে দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি তাকে মুহাব্বাত করবে, কেননা আমি তাকে মুহাব্বাত করি। সহীহঃ মিশকাত (৬১৬৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 218 · #3759 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  209. 209

    । উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসে থাকাকালীন সময়ে আলী ও আব্বাস (রাঃ) হাযির হয়ে সম্মতি চেয়ে বলেন, হে উসামা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমাদের ঢোকার অনুমতি চাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আলী ও আব্বাস (রাঃ) প্রবেশের অনুমতিপ্রার্থী। তিনি বললেনঃ তুমি কি জান, তারা কেন এসেছে? আমি বললাম, না, আমি জানি না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জানি। তাদেরকে সম্মতি দিলেন। তারা দুজনে ভেতরে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট এ কথা জানতে এসেছি যে, আপনার পরিজনদের মধ্যে কে আপনার বেশি আদরের? তিনি বললেনঃ ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ। তারা বললেন, আমরা আপনার পরিজন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে আসিনি। তিনি বললেন, আমার পরিজনদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আমার বেশি আদরের যার প্রতি আল্লাহ তা'আলাও দয়া করেছেন এবং আমিও দয়া করেছি অর্থাৎ উসামা ইবনু যাইদ। তারা আবার প্রশ্ন করেন, তারপর কে? তিনি বললেনঃ তারপর আলী ইবনু আবূ তালিব। আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আপনার চাচাকে সবার শেষ ভাগে রাখলেন? তিনি বললেনঃ হিজরাতের কারণে আলী আপনাকে ছেড়ে গেছে। যঈফ, মিশকাত (৬১৬৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 219 · #3760 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan
  210. 210

    । জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি তার নিকট প্রবেশে বাধা প্রদান করেননি এবং আমাকে যখনই দেখেছেন তখনই হেসে দিয়েছেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 220 · #3761 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  211. 211

    । জারীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার ঘরে প্রবেশ করতে কখনো বাধা দেননি এবং তিনি যখনই আমাকে দেখেছেন তখনই মুচকি হেসেছেন। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। অত্র হাদীসে বর্ণিত শব্দাবলী অধিক প্রণিধানযোগ্য। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 221 · #3762 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  212. 212

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি জিবরীল আলাইহিস সালামকে দু’বার দেখেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু’বার দু’আ করেছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি মুরসাল। আবূ জাহযাম (রাহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর দেখা পাননি তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু আব্বাসের সূত্রে ইবনু আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন এবং তার নাম মূসা ইবনু সালিম।

    Book 49 · Hadith 222 · #3763 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  213. 213

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'বার দু'আ করেছেন। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (৩৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আতার বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সনদে গারীব। হাদীসটি ইকরিমাহও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 223 · #3764 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  214. 214

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার বুকে চেপে ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ! তাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দান করুন। সহীহঃ প্রাগুক্ত, বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 224 · #3765 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  215. 215

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখি যে, আমার হাতে একখণ্ড রেশমী কাপড়। আমি জান্নাতের যে দিকেই ইশারা করি সেটি আমাকে সেদিকেই উড়িয়ে নিয়ে যায়। আমি ঘটনাটি হাফসা (রাযিঃ)-এর কাছে বর্ণনা করি। হাফসাহ (রাযিঃ) তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানান। তিনি বলেনঃ তোমার ভাই নিশ্চয়ই একজন সৎলোক অথবা বলেছেন, নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ একজন সৎলোক। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 225 · #3766 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  216. 216

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাযিঃ)-এর ঘরে প্রদীপ জ্বলতে দেখে বললেনঃ হে আয়িশাহ আমার মনে হয় আসমা সন্তান প্রসব করেছে। তোমরা তার নাম রেখ না, আমিই তার নাম রাখব। অতএব তিনি তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ এবং একটি খেজুর চর্বন করে তা নিজ হাতে তার মুখে দেন। হাসানঃ বুখারী (৩৯০৯, ৩৯১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 226 · #3767 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  217. 217

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদের এখান দিয়ে) যাচ্ছিলেন এবং আমার মা উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) তার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, এই যে (আমার পুত্র) উনাইস। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি দুআ করেন। অবশ্য এর মাঝে দুটি আমি দুনিয়াতেই লাভ করেছি এবং তৃতীয়টি আখিরাতে পাওয়ার আশা করি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপর্যুক্ত সনদে গারীব। অবশ্য এ হাদীস আনাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সনদে বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 227 · #3768 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  218. 218

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই আমাকে বলতেনঃ হে দুই কানের অধিকারী। আবূ উসামাহ বলেন, অর্থাৎ তার সাথে তিনি (এ কথা বলে) রসিকতা করতেন। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।

    Book 49 · Hadith 228 · #3769 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  219. 219

    । উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আনাস ইবনু মালিক আপনার সেবক, আল্লাহ তা'আলার নিকট তার জন্য দু'আ করুন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আনাসের ধন-মাল ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দাও এবং তুমি তাকে যা কিছু দিয়েছ তাতে বারাকাত দান কর। সহীহঃ সহীহাহ (২২৪৬), তাখরাজ মুশকিলাতুল ফাকর (১২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 229 · #3770 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  220. 220

    । আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সবজির নামানুসারে আমার উপনাম রাখেন, সে সবজি তুলে আনতাম। যইফ, মিশকাত ৪৭৭৩, তাহকীক সানী আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। শুধু জাবির আল-জুকী হতে আবূ নাসর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত হিসেবে আমরা এ হাদীস জেনেছি। আবূ নাসর হলেন খাইসামা ইবনু আবূ খাইসামা আল-বাসরী, তিনি আনাস (রাঃ) হতে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন।।

    Book 49 · Hadith 230 · #3771 · Daif, Daif, Daif
  221. 221

    । সাবিত আল বুনানী (রাহঃ) বলেনঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আমাকে বললেন, হে সাবিত। আমার হতে (হাদীস) সংগ্রহ কর। যেহেতু আমার তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য কারো নিকট হতে কিছু (হাদীস) সঞ্চয়ন করতে পারবে না। কারণ আমি তা সঞ্চয়ন করেছি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সংগ্রহ করেছেন জিবরীল আলাইহিস সালাম হতে এবং জিবরীল আলাইহিস সালাম তা সঞ্চয়ন করেছেন আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু যাইদ ইবনুল হুবাবের সূত্রেই এই হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 231 · #3772 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  222. 222

    । আবূ কুরাইব-যাইদ ইবনুল হুবাব হতে, তিনি মাইমূন আবূ আবদুল্লাহ হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব বর্ণিত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে এ সূত্রে এ কথার উল্লেখ নেই .... “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল আলাইহিস সালাম হতে তা গ্রহণ করেছেন”। দেখুন পূর্বের হাদীস

    Book 49 · Hadith 232 · #3773 · Daif
  223. 223

    । আবূ খালদাহ (রহঃ) বলেন, আবূল আলিয়াহ্ (রহঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, আনাস (রাযিঃ) কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস শুনেছেন? আবূল আলিয়াহ্ (অবাক হয়ে) বলেন, তিনি তো একাধারে দশ বছর তার সেবা করেছেন এবং তার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেছেন। তার একটি বাগান ছিল যাতে বছরে দু'বার ফল ধরত। ঐ বাগানে একটি ফুলগাছ ছিল যা হতে কস্তুরির ঘ্ৰাণ আসত। সহীহঃ সহীহাহ (২২৪১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবূ খালদার নাম খালিদ ইবনু দীনার এবং তিনি হাদীস বিশারদদের মতে নির্ভরযোগ্য। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তার নিকট হতে হাদীসও রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 233 · #3774 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  224. 224

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তার সম্মুখে আমার কাপড় (চাদরখানা) বিছিয়ে দিলাম। তারপর কাপড়খানা তুলে জড়ো করে তিনি আমার বুকের উপর রাখলেন। এরপর হতে আমি আর কোন কিছুই ভুলিনি। সনদ হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 234 · #3775 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan
  225. 225

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছ হতে আমি যা কিছু শ্রবণ করি তা মনে রাখতে পারি না। তিনি বললেনঃ তোমার চাদরখানা বিছাও। অতএব আমি তা বিছালাম। তারপর তিনি বহু হাদীস রিওয়ায়াত করলেন যা আমি কখনো তুলিনি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 235 · #3776 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  226. 226

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-কে তিনি বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ্! আপনি আমাদের চেয়ে বেশি সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছাকাছি কাটিয়েছেন এবং আমাদের তুলনায় তার বেশি হাদীস মুখস্থ করেছেন। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 236 · #3777 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Isnaad Sahih
  227. 227

    । মালিক ইবনু আবূ আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ মুহাম্মাদ! ঐ ইয়ামানী লোকটি অর্থাৎ আবূ হুরাইরা (রাঃ) প্রসঙ্গে আপনার কি বক্তব্য? তিনি কি আপনাদের চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস অনেক বেশি জানেন? তার নিকট আমরা এমন কিছু হাদীস শুনি যা আপনাদের নিকট শুনতে পাই না। অথবা তিনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাতে এমন কথা বলেন যা প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেননি? তালহা (রাঃ) বললেন, বস্তুত তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস শুনেছেন যা আমরা শুনতে পারিনি। তার কারণ এই যে, তিনি ছিলেন একজন গারীব লোক, তার কিছুই ছিল না। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অতিথি। তার হাত থাকত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের সাথে (অর্থাৎ সব সময় তার সঙ্গে থাকতেন)। আর আমরা ছিলাম বাড়ি-ঘর ও পরিবার-পরিজনসহ ধনবান। তাই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমাতে হাযির হওয়ার সুযোগ পেতাম দিনের দুই ভাগে (সকাল ও সন্ধ্যায়)। তাই নিঃসন্দেহে তিনি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শুনেছেন, যা আমরা শুনিনি। আর তুমি এমন একজন সৎ লোকও খুঁজে পাবে না যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাতে এমন কথা বলবেন, যা সত্যিকার আর্থে তিনি বলেননি। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। অবশ্য ইউসুফ ইবনু বুকাইর প্রমুখগণ এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 237 · #3778 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  228. 228

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করেনঃ তুমি কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম, দাওস গোত্রীয়। তিনি বললেনঃ আমি জ্ঞাত ছিলাম না যে, দাওস গোত্রে কোন উত্তম ব্যক্তি আছে। সহীহঃ সহীহাহ (২৯৩৬)। তাইসীরুল ইনতিফা মুহাজির ইবনু মাখলাদ হতে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ খালদাহর নাম খালিদ ইবনু দীনার এবং আবূ আলিয়্যার নাম রুফাই।

    Book 49 · Hadith 238 · #3779 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  229. 229

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কয়েকটি খেজুরসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ খেজুরগুলোতে বারাকাত হওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট দুআ করুন। তিনি খেজুরগুলো জড়ো করলেন, তারপর আমার জন্য খেজুরগুলোয় বারাকাত হওয়ার দু'আ করলেন, তারপর আমাকে বললেনঃ এগুলো নাও এবং তোমার এই থলেতে রাখ। আর যখনই তা হতে তুমি কিছু খেজুর নিতে চাও, সে সময় থলের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে নিবে এবং কখনও থলেটি ঝেড়ে ফেল না। এরপর আমি উক্ত থলে হতে এত এত ওয়াসাক খেজুর আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় দান করেছি। আর এ হতে আমরা নিজেরাও খেতাম এবং অন্যকেও খাওয়াতাম। থলেটি আমার কোমর হতে কখনো আলাদা হয়নি। অবশেষে উসমান (রাযিঃ) যে দিন শাহাদাত বরণ করেন সেদিন আমার (কোমর) হতে থলেটি পড়ে যায়। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীসটি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে অন্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 239 · #3780 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan
  230. 230

    । আবদুল্লাহ ইবনু রাফি' (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, আবূ হুরাইরাহ (বিড়ালের বাপ) আপনার ডাকনাম হল কেন? তিনি বললেন, তুমি আমাকে কি ভয় পাও? আমি বললাম, হ্যাঁ আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আপনাকে আমি ভয় করি। তিনি বললেন, আমি আমার পরিবারের মেষপাল চড়াতাম এবং আমার একটি ছোট বিড়াল ছিল। রাতের বেলা আমি এটিকে একটি গাছে বসিয়ে রাখতাম। আর দিন হলে আমি এটাকে আমার সঙ্গে নিয়ে যেতাম এবং এর সাথে খেলা করতাম। তাই লোকেরা আমাকে আবূ হুরাইরাহ ডাকনাম দেয়। সনদ হাসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 240 · #3781 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan
  231. 231

    । আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) ছাড়া আর কেউ আমার চেয়ে অধিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস রিওয়ায়াত করেনি। কেননা তিনি (হাদীস) লিখে রাখতেন কিন্তু আমি লিখতাম না। সহীহঃ বুখারী (২৬৬৮) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 241 · #3782 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  232. 232

    । আবদুর রহমান ইবনু আবী উমাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু'আবিয়া (রাযিঃ)-এর জন্য দু'আ করেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তাকে পথপ্রদর্শক ও হেদায়াতপ্রাপ্ত বানাও এবং তার মাধ্যমে (মানুষকে) সৎপথ দেখাও। সহীহঃ মিশকাত (৬২৩), সহীহাহ (১৯৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 242 · #3783 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  233. 233

    । আবূ ইদরীস আল-খাওলানী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) যখন উমাইর ইবনু সা'দ (রাযিঃ)-কে পদচ্যুত করে সে পদে মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-কে হিমসের গভর্নর নিযুক্ত করলেন তখন লোকেরা বলল, তিনি উমাইরকে পদচ্যুত করে সেই পদে মু'আবিয়াহকে শাসক নিযুক্ত করেছেন। উমাইর (রাযিঃ) বলেন, তোমরা মু'আবিয়াহকে ভালভাবে স্মরণ কর। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ হে আল্লাহ! তুমি তার মাধ্যমে (লোকদের) পথ দেখাও। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব। আমর ইবনু ওয়াকিদকে দুর্বল মনে করা হয়।

    Book 49 · Hadith 243 · #3784 · Sahih Lighairihi, Sahih, Daif, Daif
  234. 234

    । উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা ইসলাম কবুল করেছে আর আমর ইবনুল আস বিশ্বাস স্থাপন করেছে। হাসানঃ সহীহাহ (১১৫), মিশকাত (৬২৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র ইবনু লাহী আহর বরাতে মিশরাহ হতে জানতে পেরেছি। এর সনদসূত্র খুব একটা মযবুত নয়।

    Book 49 · Hadith 244 · #3785 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  235. 235

    । তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমর ইবনু আস কুরাইশদের অধিক ভালো ব্যক্তিদের দলভুক্ত। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ আমরা এ হাদীস শুধু নাফি ইবনু উমার আল-জুমাহীর বর্ণনা হতেই জেনেছি। নাফি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী। কিন্তু হাদীসটির সনদসূত্র মুত্তাসিল (সংযুক্ত) নয়। ইবনু আবূ মুলাইকা (রাহঃ) তালহা (রাঃ)-এর দেখা পাননি।

    Book 49 · Hadith 245 · #3786 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  236. 236

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমরা এক মানযিলে যাত্রাবিরতি করলাম। আমাদের সম্মুখ দিয়ে লোকেরা চলাফেরা করতে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করতে থাকলেনঃ হে আবূ হুরাইরাহ্! ইনি কে? আমি বলতাম, অমুক। তখন তিনি বলতেন, আল্লাহ তা'আলার এ বান্দা খুব ভাল লোক। আবার এক ব্যক্তি গেলে তিনি প্রশ্ন করতেনঃ ইনি কে? আমি বলতাম, অমুক। তখন তিনি বলতেনঃ আল্লাহ তা'আলার এ বান্দা খুব মন্দ ব্যক্তি। অবশেষে সেখান দিয়ে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ অতিক্রম করলে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এ লোকটি কে? আমি বললাম, ইনি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার এ বান্দা খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ খুব ভাল ব্যক্তি। ইনি আল্লাহ তা'আলার তরবারিগুলোর মাঝের একখানা তরবারি। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬২৫৩), সহীহাহ (১২৩৭, ১৮২৬), আহকামুল জানায়িয (১৬৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে যাইদ ইবনু আসলাম হাদীস শুনেছে বলে আমাদের জানা নেই। আমার মতে এটি মুরসাল হাদীস। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাকর আস-সিদ্দীক (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 246 · #3787 · Sahih, Sahih, Hasan
  237. 237

    । আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একখানা রেশমী কাপড় উপহার দেয়া হয়। সাহাবীগণ তার কোমলতায় বিস্মিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এটা দেখে অবাক হচ্ছ। অথচ জান্নাতে সাদ ইবনু মু'আযির রুমাল-এর তুলনায় আরো অনেক উন্নতমানের হবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 247 · #3788 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  238. 238

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি সা'দ ইবনু মু'আযের লাশ সম্মুখে রেখে বলতে শুনেছিঃ দয়াময় আল্লাহর আরশ তার জন্য নড়ে উঠেছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৮), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে উসাইদ ইবনু হুযাইর, আবূ সাঈদ ও রুমাঈসাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 248 · #3789 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  239. 239

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন সা'দ ইবনু মু'আযের জানাযা (লাশ) বয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সে সময় মুনাফিকরা বলে, কতই না হালকা তার মৃতদেহটি৷ তাদের এমন মন্তব্যের কারণ ছিল বানু কুরাইযা প্রসঙ্গে তার ফাঈসালা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই ফেরেশতারা তার জানাযা (লাশ) বহন করতেছিলেন (তাই হালকা মনে হচ্ছিল)। সহীহঃ মিশকাত (৬২২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 249 · #3790 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  240. 240

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কাইস ইবনু সা'দ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য শাসকের দেহরক্ষীর মত ছিলেন। (অধঃস্তন বর্ণনাকারী) মুহাম্মাদ ইবনু আবী আবদিল্লাহ আল-আনসারী বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক কাজ সমাধা করতেন। সহীহঃ বুখারী (৭১৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু আনসারীর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া-মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আল-আনসারীর সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে এই সনদে আনসারীর বক্তব্য উল্লেখ করেননি।

    Book 49 · Hadith 250 · #3791 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari
  241. 241

    । জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসেছেন খচ্চরে কিংবা তুর্কি ঘোড়ায় চড়ে নয় (বরং পায়ে হেঁটে)। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (২৯১), বুখারী অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 251 · #3792 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  242. 242

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের রাতে আমার জন্য পঁচিশবার ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যঈফ, মিশকাত (৬২৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। উটের রাত প্রসঙ্গে জাবির (রাঃ) হতে কয়েকটি সনদে হাদীস বর্ণিত আছে যে, এক ভ্রমণে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই শর্তে তার উটটি বিক্রয় করেন যে, তিনি এতে আরোহন করে মাদীনায় পৌছবেন। জাবির (রাঃ) প্রায়ই বলতেন, যে রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উটটি বিক্রয় করি, সে রাতে তিনি আমার জন্য পঁচিশবার ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জাবির (রাঃ)-এর পিতা আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু হারাম (রাঃ) উহুদের দিন শহীদ হন এবং ক'জন ছোট ছোট কন্যা সন্তান রেখে যান। জাবির তাদের লালন-পালন করতেন এবং তাদের জন্য খরচ করতেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে ভাল আচরণ করতেন এবং তার প্রতি দয়া দেখাতেন। জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে এরকমই বিবৃতি ব্যক্ত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 252 · #3793 · Daif, Daif, Daif
  243. 243

    । খাব্বাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশেই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হিজরত করি। সুতরাং এর পুরস্কার আল্লাহ তা'আলার কাছেই আমাদের প্রাপ্য। আমাদের মাঝে কেউ এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন যে, তিনি তার পুরস্কার কিছুই (পৃথিবীতে) ভোগ করতে পারেননি। আবার আমাদের মাঝে কারো ফল পেকেছে এবং তিনি তা (পৃথিবীতে) ভোগ করছেন। আর মুসআব ইবনু উমাইর (রাযিঃ) মাত্র একখানা কাপড় ছাড়া আর কোন সম্পদই রেখে যাননি। (তার মৃত্যুর পর) লোকেরা ঐ কাপড়খানা দিয়ে তার মাথা ঢাকলে তার পা দুটি বের হয়ে যেত, আবার তা দিয়ে তার পা দু'টি ঢেকে দিলে তার মাথাটি অনাবৃত হয়ে যেত। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাপড়টি দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং তার পায়ের উপর ইযখির ঘাস বিছিয়ে দাও। সহীহঃ আহকামুল জানায়িয (৫৭, ৫৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হান্নাদ-ইবনু ইদরীস হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবূ ওয়ায়িল শাকীক ইবনু সালামাহ হতে, তিনি খাব্বাব ইবনুল আরাত্তি (রাযিঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 253 · #3794 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  244. 244

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাথায় উস্কুখুস্কু চুল ও দেহে ধূলিমলিন দু’খানা পুরাতন কাপড় পরিহিত এরূপ অনেক ব্যক্তি রয়েছে যার প্রতি লোকেরা দৃষ্টিপাত করে না। অথচ সে আল্লাহর নামে শপথ করে ওয়াদা করলে তিনি তা সত্যে পরিণত করেন। আল-বারাআ ইবনু মালিক তাদের দলভুক্ত। সহীহঃ মিশকাত (৬২৩৯), তাখরাজুল মুশকিলাহ (১২৫)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি এ সনদে হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 254 · #3795 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  245. 245

    । আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ মূসা তোমাকে দাউদ (আঃ)-এর পরিবারের সুমধুর কণ্ঠস্বরসমূহের মাঝের একটি সুর দান করা হয়েছে। সহীহঃ বুখারী (৫০৪৮), মুসলিম (২/১৯৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ অনুচ্ছেদে বুরাইদাহ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 255 · #3796 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  246. 246

    । সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে ছিলাম। তিনি পরিখা খনন করছিলেন, আর আমরা মাটি সরাচ্ছিলাম। আমাদের পাশ দিয়ে তিনি চলাচল করতেন আর বলতেনঃ “হে আল্লাহ পরকালের ভোগবিলাসই আসল (স্থায়ী)। অতএব তুমি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করে দাও”। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবূ হাযিমের নাম সালামাহ্ ইবনু দীনার আল-আ'রাজ আয-যাহিদ। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 256 · #3797 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  247. 247

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পরিখা খননকালে ছন্দাকারে) বলতেনঃ “হে আল্লাহ! পরকালের সুখ শান্তিই হচ্ছে প্রকৃত সুখ-শান্তি। সুতরাং তুমি আনসার ও মুহাজিরদেরকে মর্যাদা দান কর”। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আনাস (রাযিঃ) হতে অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 257 · #3798 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  248. 248

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ জাহান্নামের আগুন এমন মুসলিম লোককে ছুবে না যে আমাকে দেখেছে অথবা আমার দর্শনলাভকারীকে দেখেছে। তালহা ইবনু খিরাশ বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে দেখেছি। মূসা ইবনু ইবরাহীম বলেন, আমি তালহা ইবনু খিরাশকে দেখেছি। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব বলেন, মূসা ইবনু ইবরাহীম আমাকে বলেছেন, ‘তুমি অবশ্যই আমাকে দেখেছ (আমার সান্নিধ্য লাভ করেছ)। সুতরাং আমরা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট নাজাতের আশা রাখি। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬০০৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু মূসা ইবনু ইবরাহীম আল-আনসারীর সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আলী ইবনু মাদীনী প্রমুখ হাদীসবেত্তাগণ মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 258 · #3799 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan
  249. 249

    আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার যুগের ব্যক্তিরাই উত্তম। তারপর তাদের পরবর্তীগণ, তারপর তার পরবর্তীগণ। তারপর এরূপ ব্যক্তিদের আগমন ঘটবে, যারা সাক্ষী দেবার আগে শপথ করবে অথবা শপথের আগে সাক্ষ্য দিবে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (২৩৬২), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে 'উমার, ইমরান ইবনু হুসাইন ও বুরাইদাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 259 · #3800 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  250. 250

    । জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব ব্যক্তি (হুদাইবিয়ার প্রান্তরে) গাছের নীচে শপথ গ্রহণ করেছে তাদের কেউই জাহান্নামে যাবে না। সহীহঃ যিলালুল জান্নাত (৮৬০), সহীহাহ (২১৬০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 260 · #3801 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  251. 251

    । আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের তোমরা গালি দিও না। যার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার শপথ! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও দান-খাইরাত করে তবে তা তাদের কারো এক মুদ বা অর্ধ মুদ দান-খাইরাতের সমান মর্যাদা সম্পন্ন হবে না। সহীহঃ আয-যিলাল (৯৮৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নাসীফাহু' শব্দের অর্থ অর্ধ মুদ। আল-হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল- তিনি হাদীস শাস্ত্রে হাফিয ছিলেন- আবূ মু'আবিয়াহ হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 261 · #3802 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  252. 252

    । আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হুঁশিয়ার! আমার সাহাবীদের বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আমার পরে তোমরা তাদেরকে (গালি ও বিদ্রুপের) লক্ষ্যবস্তু বানিও না। যেহেতু যে ব্যক্তি তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার খাতিরেই তাদেরকে ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি শক্রতা ও হিংসা পোষণ করল, সে আমার প্রতি শক্রতা ও হিংসাবশেই তাদের প্রতি শক্ৰতা ও হিংসা পোষণ করল। যে ব্যক্তি তাদেরকে কষ্ট দিল, সে আমাকেই কষ্ট দিল। যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহ তা’আলাকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহ তা'আলাকে কষ্ট দিল, শীঘ্রই আল্লাহ তা'আলা তাকে পাকড়াও করবেন। যঈফ, তাখরীজুত তাহাবিয়া (৪৭১), যঈফা (২৯০১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 262 · #3803 · Daif, Daif, Daif
  253. 253

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে লোক (হুদাইবিয়ায়) বৃক্ষের নীচে বাইয়াত (রিদওয়ান) করেছে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে, লাল বর্ণের উটের মালিক ছাড়া। যঈফ, সহীহা (২১৬০) নং হাদীসের অধীন আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 263 · #3804 · Daif, Daif, Daif
  254. 254

    । জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাতিব ইবনু আবী বালতা'আহ (রাযিঃ)-এর এক ক্রীতদাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে তার বিরুদ্ধে নালিশ করে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় সে জাহান্নামে যাবে। তিনি বললেনঃ তুমি মিথ্যা বলেছ, সে কখনও জাহান্নামে যাবে না। কেননা সে বদরের যুদ্ধে এবং হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে। সহীহঃ মুসলিম (৭/১৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 264 · #3805 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  255. 255

    । আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বুরাইদা (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের মধ্যে কেউ যে অঞ্চলেই মারা যাবে সে কিয়ামতের দিন সেখানকার মানুষের নেতা ও নূর (জ্যোতি) হয়ে উঠবে। যঈফ, যঈফা (৪৪৬৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিম-আবূ তাইবা-ইবনু বুরাইদা হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 265 · #3806 · Daif, Daif, Daif
  256. 256

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা আমার সাহাবীদের গালি দেয় তাদের দেখলে তোমরা বলবে, তোদের দুষ্কর্মের উপর আল্লাহ্ তা'আলার অভিসম্পাত। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬০০৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি মুনকার। আমরা এটি উবাইদুল্লাহ ইবনু উমারের হাদীস হিসাবে এই রিওয়ায়াত ব্যতীত অন্য কোনভাবে জানতে পারিনি। নাযর ইবনু হাম্মাদ এবং সাইফ ইবনু উমার এই রাবীদ্বয় অপরিচিত।

    Book 49 · Hadith 266 · #3807 · Very Daif, Very Daif, Daif
  257. 257

    । আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ হিশাম ইবনুল মুগীরাহ গোত্রের লোকেরা আলী ইবনু আবী তলিবের নিকট তাদের মেয়ে বিবাহ দেয়ার প্রসঙ্গে আমার নিকটে সম্মতি চেয়েছে। কিন্তু আমি অনুমতি দিব না, অনুমতি দিব না, অনুমতি দিব না। তবে আলী ইবনু আবী তলিব ইচ্ছা করলে আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের মেয়ে বিবাহ করতে পারে। ফাতিমাহ হচ্ছে আমার শরীরের অংশ। তার কাছে যা খারাপ লাগে আমার নিকটও তা খারাপ লাগে, যা তার জন্য কষ্টদায়ক, তা আমার জন্যও কষ্টদায়ক। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৯৯৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। লাইসের হাদীসের অনুরূপ হাদীস 'আমর ইবনু দীনার, ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ হতে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 267 · #3808 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  258. 258

    । বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ নারীদের মধ্যে ফাতিমা (রাঃ) এবং পুরুষদের মধ্যে আলী (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সবচাইতে প্রিয়। ইবরাহীম (রাহঃ) বলেন, অর্থাৎ তার পরিবারস্থ লোকদের মধ্যে। মুনকার, নাকদুল কাত্তানীঃ ২৯১ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই হাদীসটি জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 268 · #3809 · Munkar, Munkar, Daif
  259. 259

    । আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আলী (রাযিঃ) আবূ জাহলের কন্যাকে বিয়ে করার আলোচনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেনঃ প্রকৃতপক্ষে ফাতিমাহ আমার শরীরের একটি অংশ। যা তাকে কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়, যা তাকে ক্লান্ত করে তা আমাকেও ক্লান্ত করে। সহীহঃ ইরওয়া (৮/২৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ রকমই বলেছেন আইউব-ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) হতে। একাধিক বর্ণনাকারী ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত ইবনু আবী মুলাইকাহ তাদের উভয়ের (ইবনুয যুবাইর ও মিসওয়ার) সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 269 · #3810 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  260. 260

    । যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ তোমরা যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে আমিও তাদের বিপক্ষে লড়াই করব এবং তোমরা যাদের সাথে শান্তি স্থাপন করবে আমিও তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করব। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আলোচ্য সূত্রেই জেনেছি। উম্মু সালামা (রাঃ)-এর মুক্তদাস সুবাইহ তেমন সুপরিচিত লোক নন।

    Book 49 · Hadith 270 · #3811 · Daif, Daif, Daif
  261. 261

    । উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান, হুসাইন, আলী ও ফাতিমাহ (রাযিঃ)-কে একখানা চাদরে ঢেকে বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার পরিবার-পরিজন এবং আমার একান্ত আপনজন। সুতরাং তাদের হতে তুমি অপবিত্রতা দূরে সরিয়ে দাও এবং তাদেরকে উত্তমরূপে পবিত্র কর”। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি মঙ্গলের কাছে আছ। সহীহঃ পূর্বে বর্ণিত (৩২০৫) নং হাদীসের সহায়তায়। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সব হাদীসের মাঝে এটাই সবচেয়ে ভাল। এ অনুচ্ছেদে উমার ইবনু আবী সালামাহ, আনাস ইবনু মালিক, আবূল হামরা, মাকিল ইবনু ইয়াসার ও আয়িশাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 271 · #3812 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  262. 262

    । উম্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উঠা-বসা, আচার-অভ্যাস ও চালচলনের সাথে তার কন্যা ফাতিমাহ (রাযিঃ)-এর অপেক্ষা বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেন, ফাতিমাহ্ (রাযিঃ) যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসতেন তিনি তখনই তার নিকট উঠে যেতেন, তাকে চুমু দিতেন এবং নিজের স্থানে বসাতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে গেলে তিনিও নিজের জায়গা হতে উঠে তাকে (পিতাকে) চুমা দিতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত্যুশয্যায়) অসুস্থ হয়ে পড়লে তার নিকট এসে ফাতিমাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখের উপর ঝুঁকে পড়েন এবং তাকে চুমু দেন, তারপর মাথা তুলে কাঁদেন। আবার তিনি তার মুখের উপর ঝুঁকে পড়েন, তারপর মাথা তুলে হাসেন। আমি (আয়িশাহ) বললাম, আমি অবশ্যই জানি যে, তিনি নিশ্চয়ই আমাদের নারীদের মাঝে সর্বাধিক বুদ্ধিমতী, কিন্তু (তার হাসি দেখে ভাবলাম) অন্যান্য নারীর মত সে একজন নারীই। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলে তাকে আমি প্রশ্ন করলাম, কি ব্যাপার! আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখের উপর ঝুঁকে পড়লেন, তারপর মাথা তুলে কাঁদলেন, আবার ঝুঁকে পড়লেন, তারপর মাথা তুলে হাসলেন। আপনি কি কারণে এরূপ করলেন? ফাতিমাহ (রাযিঃ) বললেন, তার জীবদ্দশায় আমি কথাটি গোপন রেখেছি (কারণ তিনি গোপন কথা প্রকাশ করা সঙ্গত মনে করতেন না)। আমাকে তিনি জানান যে, এই অসুখেই তিনি ইন্তিকাল করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে জানান যে, তার পরিবারস্থ লোকদের মাঝে সবার পূর্বে আমিই তার সঙ্গে একত্রিত হব। তাই আমি হেসেছি। সহীহঃ নাকদুল কিত্তানী (৪৪-৪৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উক্ত সনদে গারীব। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 272 · #3813 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  263. 263

    । উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে ডেকে তার সাথে চুপিসারে কিছু কথা বলেন। এতে ফাতিমা কেঁদে ফেলেন। তারপর তিনি কিছু কথা বললে ফাতিমা হাসেন। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পরে আমি ফাতিমাকে তার হাসি-কান্নার কারণ প্রশ্ন করি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অবহিত করেন যে, অচিরেই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, মারইয়াম বিনতু ইমরান ব্যতীত আমি জান্নাতের নারীদের নেত্রী হব, তাই আমি হেসেছি। সহীহঃ মিশকাত (৬১৮৪), সহীহাহ (২/৪৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 273 · #3814 · Hasan, Isnaad Hasan
  264. 264

    । জুমায়্যি ইবনু উমাইর আত-তাইনী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আমার ফুফুর সাথে আইশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তাকে প্রশ্ন করা হল, কোন লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ফাতিমা (রাঃ)। আবার প্রশ্ন করা হল, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তার স্বামী এবং তিনি ছিলেন বেশি পরিমাণে রোযা পালনকারী এবং বেশি পরিমাণে (রাতে) নামায আদায়কারী। মুনকার, নাকদুল কাত্তানী (২০ পৃঃ) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূল জাহহাফের নাম দাউদ ইবনু আবী আউফ। সুফিয়ান সাওরী আবূল জাহহারের নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি সন্তুষজনক ব্যক্তি ছিলেন।

    Book 49 · Hadith 274 · #3815 · Munkar, Munkar, Daif
  265. 265

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, খাদীজাহ্ (রাযিঃ)-এর প্রতি আমি যতটা ঈর্ষা পোষণ করতাম অপর কোন নারীর প্রতি আমি ততটা ঈর্ষা পোষণ করিনি। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজার মৃত্যুবরণের পরই আমাকে বিয়ে করেছেন। আর ঈর্ষার কারণ এই ছিল যে, তিনি তার (খাদীজার) জন্য জান্নাতে এমন একটা মনি-মুক্তা খচিত সুরম্য প্রাসাদের সুখবর দিয়েছেন যাতে না আছে কোন হৈ-হুল্লোড় আর না আছে কোন কষ্টক্লেশ। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মিন কাসাবিন অর্থ- মুক্তার ইট পাথর।

    Book 49 · Hadith 276 · #3816 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  266. 266

    । আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ খাদীজাহ বিনতু খুয়াইলিদ হলেন এই উন্মাতের নারীদের মাঝে শ্রেষ্ঠা। আর মারইয়াম বিনতু ইমরান ছিলেন (তৎকালীন উম্মাতের) নারীদের মাঝে শ্রেষ্ঠা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আনাস, ইবনু আব্বাস ও আয়িশাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 277 · #3817 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  267. 267

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সারা বিশ্বের নারীদের মধ্যে মারিয়াম বিনতু ইমরান, খাদীজাহ্ বিনতু খুয়াইলিদ, ফাতিমাহ বিনতু মুহাম্মাদ এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়াহ তোমার জন্য যথেষ্ট। সহীহঃ মিশকাত (৬১৮১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 278 · #3818 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan
  268. 268

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা তাদের উপটৌকন প্রদানের জন্য আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর পালার দিনের অপেক্ষায় থাকত (যে দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থাকেন)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার সতীনেরা উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর কাছে মিলিত হয়ে বলেন, হে উম্মু সালামাহ! লোকেরা তাদের উপটৌকন আয়িশাহর পালার দিনে পেশ করার অপেক্ষায় থাকে। অথচ আমাদেরও কল্যাণ লাভের আকাংখা আছে, যেমন আয়িশাহর আছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আপনি বলুন, তিনি যেন লোকদের বলেন যে, তিনি যেখানেই থাকুন তারা যেন তাদের উপঢৌকন সেখানে পাঠিয়ে দেয়। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বিষয়টি জানালে তিনি কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তিনি পুনরায় আগমন করার পর উম্মু সালামাহ্ বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সতীনেরা আলোচনা করেছে যে, লোকেরা তাদের উপটৌকন আয়িশাহর জন্য নির্দিষ্ট দিনে আপনার নিকট পাঠিয়ে থাকে। সুতরাং আপনি তাদেরকে হুকুম করুন যে, আপনি যেখানেই থাকুন তারা যেন তাদের উপঢৌকন পাঠাতে থাকে। তিনি প্রসঙ্গটি তৃতীয়বার বললে তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামাহ! তুমি আয়িশাহর বিষয়ে আমাকে ব্যথিত করো না। কেননা আয়িশাহ ছাড়া তোমাদের মাঝে অপর কারো লেপের নীচে থাকা অবস্থায় আমার নিকট ওয়াহী আসেনি। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস কেউ কেউ হাম্মাদ ইবনু জাইদ হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীস হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তিনি আওফ ইবনু হারিস হতে তিনি রুমাঈসাহ হতে, তিনি উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে এই সনদে আংশিক বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে বিভিন্নরূপ মতপার্থক্য আছে। সুলাইমান ইবনু বিলাল (রাহঃ) হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে, এই সুত্রে হাম্মাদ ইবনু যাইদের হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 279 · #3819 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  269. 269

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, জিবরীল (আঃ) একখানা সবুজ রংয়ের রেশমী কাপড়ে তার (‘আয়িশাহর) প্রতিচ্ছবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এসে বলেন, ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী। সহীহঃ বুখারী (৫১২৫, ৭০১১, ৭০১২), মুসলিম (৭/১৩৪), অনুরূপ আখিরাত শব্দ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আলকামার রিওয়ায়াত ছাড়া অপর কোনভাবে আমরা হাদীসটি প্রসঙ্গে জানি না। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী এ হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আলকামাহ হতে উক্ত সনদে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তাতে আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। আবূ উসামাহ-হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে উক্ত হাদীসের আংশিক রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 280 · #3820 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  270. 270

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আয়িশাহ! এই যে জিবরীল (আঃ), তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি বললাম, তার প্রতিও সালাম, আল্লাহ তা'আলার রহমত ও কল্যাণ বর্ষিত হোক। যা আপনি দেখেন আমরা তা দেখতে পাই না। সহীহঃ যঈফাহ (৫৪৩৩) নং হাদীসের অধীনে, বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 281 · #3821 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  271. 271

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি বললাম, তার উপরও শান্তি ও আল্লাহ তা'আলার রহমত বর্ষিত হোক। সহীহঃ ২৬৯৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 282 · #3822 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  272. 272

    । আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের– নিকট কোন হাদীসের অর্থ বুঝা কষ্টসাধ্য হলে আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করে তার নিকট এর সঠিক জ্ঞাত লাভ করেছি। সহীহঃ মিশকাত (৬১৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 283 · #3823 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  273. 273

    । মূসা ইবনু ত্বালহা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর তুলনায় বেশি বিশুদ্ধভাষী আমি আর কাউকে দেখিনি। সহীহঃ মিশকাত (৬১৮৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 284 · #3824 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif
  274. 274

    । আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেন। আমর (রাযিঃ) বলেন ,আমি তার নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট কোন লোক সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন, আয়িশাহ। আমি বললাম, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তার বাবা। সহীহঃ আত-তা’লীক 'আলা আল-ইহসান (৪৫২৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 285 · #3825 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  275. 275

    । আমর ইবনুল ‘আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় কোন ব্যক্তি? তিনি বললেনঃ আয়িশাহ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তার পিতা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং ইসমাঈল-কাইস হতে এই সনদে বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব।

    Book 49 · Hadith 286 · #3826 · Sahih, Sahih
  276. 276

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাবতীয় খাদ্যের উপর যেরূপ সারীদের (শোরবাতে ভেজানো রুটি) মর্যাদা, সকল স্ত্রীলোকের উপর তেমন আয়িশাহর মর্যাদা। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩২৮১), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ ও আবূ মূসা (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মামার হলেন আবূ তুওয়ালা আল-আনসারী, মাদীনার অধিবাসী এবং নির্ভরশীল বর্ণনকারী। মালিক ইবনু আনাস তার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 287 · #3827 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  277. 277

    । আমর ইবনু গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-এর নিকটে বসে আইশা (রাঃ) প্রসঙ্গে কিছু বিরুপ মন্তব্য করলে আম্মার (রাঃ) বলেনঃ দূর হও পাপিষ্ঠ এখান থেকে! তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তমাকে কষ্ট দিচ্ছ। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 288 · #3828 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  278. 278

    । আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাযিঃ) বলেন, তিনি (আয়িশাহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী দুনিয়াতে এবং আখিরাতেও। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ, দেখুন হাদীস নং (৩৮৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আলী (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 289 · #3829 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  279. 279

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! লোকের মাঝে কে আপনার সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন, আয়িশাহ। পুনরায় প্রশ্ন করা হল, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তার পিতা। সহীহঃ তা’লীক 'আলা আল-ইহসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আনাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সনদে গারীব।

    Book 49 · Hadith 290 · #3830 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  280. 280

    । ইকরিমাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-কে ফজর নামাযের পর বলা হল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অমুক স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিজদা্য় পড়ে গেলেন। তাকে বলা হল, আপনি এ সময সিজদা করলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননিঃ তোমরা যখন কোন নিদর্শন দেখ, সে সময় সিজদা কর? অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের দুনিয়া হতে বিদায়ের চেয়ে বড় নিদর্শন আর কি আছে? হাসানঃ সহীহ আবূ দাউদ (১০৮১), মিশকাত (১৪৯১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদসূত্রে হাদীসটি অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 291 · #3831 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  281. 281

    । সফিয়্যা বিনতু হুয়াই (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, হাফসা ও আইশা (রাঃ) হতে আমার সম্পর্কে কিছু কথা আমার নিকট পৌছল। ঐ বিষয়টি আমি তার নিকট উল্লেখ করলাম, তিনি বললেনঃ তুমি একথা কেন বললেনা যে, তোমরা আমার চেয়ে কিভাবে উত্তম হতে পার? বাস্তব অবস্থা হল, আমার স্বামী মুহাম্মাদ, পিতা হারুন আর চাচা হল মূসা আলাইহিস সালাম সফিয়্যার নিকট যে কথা পৌছেছিল তা এই যে, তারা বলেছিল আমরা তার চেয়ে সম্মানিত, কেননা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আবার তার চাচাত বোন। সনদ দুর্বল, দেখুন আর রাদ্দু আলাল হাবাশী, হাদীস নং ৩৩৮৫, পৃঃ (৩৫-৩৮) এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র হাশিম আল কুফীর সূত্রেই সুফিয়া (রাঃ)-এর হাদীসটি জেনেছি। এর সনদ সূত্র মযবুত নয়।

    Book 49 · Hadith 292 · #3832 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  282. 282

    । উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, মাক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহকে ডেকে তার সাথে গোপনে কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমাহ কেঁদে ফেললেন। তারপর তিনি কিছু কথা বললে ফাতিমাহ হাসলেন। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি ফাতিমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পরে তার হাসি-কান্নার কারণ জানতে চাই। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানান যে, খুব তাড়াতাড়ি তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে জানান যে, মারইয়াম বিনতু ইমরান ছাড়া জান্নাতের নারীদের নেত্রী হব, তাই আমি হেসেছি। সহীহঃ ৩৮৭৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপর্যুক্ত সনদে গারীব।

    Book 49 · Hadith 293 · #3833 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  283. 283

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ (রাযিঃ)-এর কানে পৌছে যে, হাফসাহ (রাযিঃ) তাকে ইয়াহুদীর মেয়ে বলে ঠাট্টা করেছেন। তাই তিনি কাঁদছিলেন। তার ক্ৰন্দনরত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, হাফসাহ আমাকে ইয়াহূদীর মেয়ে বলে তিরস্কার করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই তুমি একজন নবীর কন্য, তোমার চাচা অবশ্যই একজন নবী এবং তুমি একজন নবীর সহধর্মিণী। অতএব কিভাবে হাফসাহ তোমার উপরে অহংকার করতে পারে? তারপর তিনি বললেনঃ হে হাফসাহ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। সহীহঃ মিশকাত (৬১৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 294 · #3834 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  284. 284

    । আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে সে-ই ভাল যে তার পরিবারের নিকট ভাল। আর আমি আমার পরিবারের নিকট তোমাদের চাইতে উত্তম। আর তোমাদের কোন সঙ্গী মৃত্যুবরণ করলে তার সমালোচনা পরিত্যাগ করো। সহীহঃ সহীহাহ (২৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, সাওরীর হাদীস হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। খুব কম সংখ্যক লোকই এটি সাওরী হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হিশাম ইবনু উরওয়াহ-তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে মুরসালরূপেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 295 · #3835 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  285. 285

    । আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সাহাবীগণের কেউ যেন তাদের অপরজনের কোন খারাপ কথা আমার নিকটে না পৌছায়। যেহেতু আমি তাদের সাথে পরিষ্কার ও উদার মন নিয়েই দেখা করতে ভালোবাসী। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে কিছু সম্পদ আসলে তিনি (জনতার মধ্যে) তা বিতরণ করেন। আমি একই সাথে বসে থাকা দুই ব্যক্তির নিকট গেলাম, তারা বলছিল, আল্লাহর শপথ মুহাম্মাদ এই যে বিলি-বন্টন করলেন তাতে আল্লাহ্ তা'আলার তুষ্টি লাভের ইচ্ছাই তার ছিল না এবং পরকালের বাসস্থান (জান্নাত) অর্জনেরও নয়। কথাটি শুনে আমি মনে রাখলাম এবং ফিরে এসে তাকে জানালাম। এতে তার মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করল এবং তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে ছেড়ে দাও। মূসা আলাইহিস সালামকে এর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরেছেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। এর সনদে এক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 296 · #3836 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif
  286. 286

    । মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ-উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা হতে, তিনি হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ হতে, হতে, তিনি যাইদ ইবনু যাইদা হতে, তিনি ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কেউ যেন তাদের অপরজনের খারাপ কথা আমার নিকট না পৌছায়। যঈফ, মিশকাত

    Book 49 · Hadith 297 · #3837 · Daif
  287. 287

    । উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম করেছেন যে, আমি যেন তোমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাই। তিনি তাকে “লাম ইয়াকুনিল্লাষীনা কাফারু" সূরাটি পাঠ করে শুনান। তাতে তিনি এও পাঠ করেন যে, আল্লাহ তা'আলার কাছে আত্মসমর্পণের একনিষ্ঠ ভাবধারাপূর্ণ দীনই গ্রহণযোগ্য, ইয়াহুদীবাদ, খৃষ্টবাদ বা মাজুসীবাদ (অগ্নি উপাসনা) নয়। কেউ সৎকর্ম করলে তা কখনো প্রত্যাখ্যান করা হবে না (প্রতিদান দেয়া হবে)। তারপর তিনি তাকে আরো তিলাওয়াত করে শুনানঃ কোন আদম সন্তান এক উপত্যকাপূর্ণ সম্পদের অধিকারী হয়ে গেলে সে তার কাছে দ্বিতীয় উপত্যকা ভর্তি সম্পদের আকাঙ্ক্ষা করবে। তার দ্বিতীয় উপত্যকা ভর্তি সম্পদ হয়ে গেলে সে তার নিকট তৃতীয় উপত্যক ভর্তি সম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা করবে। ইবনু আদমের উদর মাটি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ভর্তি হবে না। কেউ তওবা করলে আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করেন। হাসানঃ তাখরাজুল মুশকিলাহ (১৪), সহীহাহ (২৯০৮)। লাও আন্না ..... শেষ পর্যন্ত সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। অন্যসূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাহঃ) তার বাবা হতে, তিনি উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ)-কে বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাই।” কাত্বাদাহ (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই (রাযিঃ)-কে বললেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আমি তোমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাই”।

    Book 49 · Hadith 298 · #3838 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Hasan
  288. 288

    । উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দীন ইসলামে হিজরাত না থাকত তাহলে আমি আনসারদের একজনই হতাম। হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১৭৬৮), বুখারী ও মুসলিম।

    Book 49 · Hadith 299 · #3839 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  289. 289

    । আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন অথবা তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের প্রসঙ্গে বলেছেনঃ মু'মিন মাত্রই তাদেরকে ভালবাসে এবং মুনাফিক মাত্রই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। যে লোক তাদেরকে ভালবাসে, আল্লাহ তা'আলাও তাদের ভালবাসেন। আর যে লোক তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, আল্লাহও তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। শুবাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আদী ইবনু সাবিতকে প্রশ্ন করলাম, আপনি হাদীসটি সরাসরি আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, তিনিই তো আমার কাছে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৬৩), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। তিনি আরো বলেন, একই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যদি আনসারগণ কোন গিরিসংকটে বা গিরিখাদে প্রবেশ করে তবে অবশ্য আমিও আনসারদের সাথেই থাকব। হাসান সহীহঃ প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

    Book 49 · Hadith 300 · #3840 · Sahih, Sahih - Agreed Upon
  290. 290

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের কিছু সংখ্যক লোককে একত্রিত করে বললেনঃ তোমাদের মাঝে তোমাদের আনসারদের ব্যতীত অপর কেউ আছে কি? তারা বললেন, না, তবে আমাদের এক ভাগ্নে আছে। তিনি বললেনঃ সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদের অন্তর্ভুক্ত। তারপর তিনি বললেনঃ সবেমাত্র কুরাইশরা জাহিলিয়াত ত্যাগ করে মুসলিম হয়েছে এবং তারা বিপদে পতিত। তাই তাদের ভগ্নহৃদয়ে আমি কিছুটা সহানুভূতির ছোয়া লাগাতে চাই এবং তাদের মনজয় করতে চাই (কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিয়ে)। তোমরা কি খুশি নও যে, লোকেরা দুনিয়া (মাল) নিয়ে বাড়ি ফিরবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবে? তারা বললেন, হ্যাঁ। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি লোকেরা কোন গিরিপথ বা গিরিখাদ পার করে এবং আনসাররা যদি অন্য কোন গিরিসংকট বা গিরিখাদে চলে, তবে আমি আনসারদের গিরিসংকট বা গিরিখাদেই একসঙ্গে চলব। সহীহঃ সহীহাহ (১৭৭৬), রাওযুন নায়ীর (৯৬১), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 301 · #3841 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  291. 291

    । যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-হাররার দিন আনাস (রাযিঃ)-এর পরিবার ও তার চাচার পরিবার যে নির্যাতনের শিকার হয় তাতে শোক প্রকাশ করে তিনি (যাইদ) আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর কাছে একখানা শোকবার্তা লিখে প্রেরণ করেন। তিনি তাকে লিখেন, আপনাকে আমি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে একটি সুখবর দিচ্ছি। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! তুমি আনসারদেরকে ক্ষমা করে দাও, তাদের সন্তানদেরও এবং তাদের সন্তানদের সন্তানদেরকেও”। সহীহঃ বুখারী (৪৯০৬), মুসলিম মারফু" অংশ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কাতাদাহ্ (রহঃ) হাদীসটি নাযর ইবনু আনাস হতে, তিনি যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 302 · #3842 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  292. 292

    । আবূ তালহা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি তোমার জাতির লোকদেরকে আমার সালাম পৌছাও। আমার জানামতে তারা সংযমী ও ধৈর্যশীল। যঈফ, মিশকাত (৬২৪২), হাদীসটির ২য় অংশ সহীহ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 303 · #3843 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Daif
  293. 293

    । আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হুঁশিয়ার! আমার আহলে বাইত হল আমার আশ্ৰয়স্থল, যেখানে আমি ফিরে আসি। আর আমার গোপনীয়তার রক্ষক হল আনসারগণ। সুতরাং তোমরা তাদের ভুল-ভ্রান্তি মাফ কর এবং তাদের শিষ্টাচার গ্রহণ কর। “আহলে বাইত” উল্লিখিত অংশটুকু মুনকার, মিশকাত (৬২৪০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 304 · #3844 · Munkar, Daif, Daif
  294. 294

    । মুহাম্মাদ ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ কুরাইশদেরকে অপদস্ত করার ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে অপদগ্ৰস্ত করবেন। সহীহঃ সহীহাহ (১১৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ সনদ সূত্রে হাদীসটি গারীব। আবদ ইবনু হুমাইদ-ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু সা'দ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি সালিহ ইবনু কাঈসান হতে, তিনি ইবনু শিহাব (রাহঃ) হতে উক্ত সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 305 · #3845 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  295. 295

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে এরূপ কোন লোক কখনো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে না। সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১২৩৪), মুসলিম আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 306 · #3846 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  296. 296

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারগণ আমার গোপনীয়তার রক্ষক ও আমানতদার। শীঘ্রই জনসংখ্যা বেড়ে যাবে কিন্তু আনসারদের সংখ্যা কমে যাবে। অতএব তোমরা তাদের সদাচার গ্রহণ কর এবং তাদের ক্রটি-বিচ্যুতি পরিত্যাগ কর। সহীহঃ বুখারী (৩৮০১), মুসলিম (৭/১৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 307 · #3847 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  297. 297

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! প্রথমে আপনি কুরাইশদেরকে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন; অতএব পরে তাদেরকে দান ও অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করান"। হাসান সহীহঃ যঈফাহ (৩৯৮) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাক-ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-উমাবী হতে, তিনি আমাশ (রাহঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 308 · #3848 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  298. 298

    । আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আনসারদের মাফ করে দাও, আনসারদের সন্তানদেরকেও, আনসারদের সন্তানদের সন্তানদেরকেও এবং আনসারদের নারীদেরকেও”। সহীহঃ মুসলিম (৭/১৭৩-১৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 309 · #3849 · Sahih, Sahih, Daif
  299. 299

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কি আনসারদের ঘরগুলোর মাঝে শ্রেষ্ঠ ঘর অথবা আনাসরদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি প্রসঙ্গে জানাব না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আনসারদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হল বানু নাজ্জার, তারপর তাদের নিকটতর যারা অর্থাৎ বানু 'আবদুল আশহাল, তারপর তাদের নিকটতম যারা অর্থাৎ বানুল হারিস ইবনুল খাযরাজ, তারপর তাদের কাছের যারা অর্থাৎ বানু সাইদাহ্। এরপর তিনি দুই হাতে ইশারা করে তাদের আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করলেন, তারপর হাত দু’খানা এমনভাবে প্রসারিত করলেন যেমন কেউ তার হাত দিয়ে কিছু নিক্ষেপ করল। অতঃপর তিনি বললেনঃ আনসারদের সব ঘরই উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আর এ হাদীস আনাস (রাযিঃ) হতে, আবূ উসাইদ আস-সাঈদী (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 310 · #3850 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  300. 300

    । আবূ উসাইদ আস-সাঈদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারদের ঘরগুলোর মাঝে ভাল হল বানু নাজ্জারের ঘরগুলো, তারপর বানু আবদুল আশহলের ঘরগুলো, তারপর ইবনুল হারিস ইবনুল খাযরাজ, তারপর বনু সাইদাহ। আনসারদের প্রত্যেক পরিবারের মাঝেই মঙ্গল রয়েছে। সা'দ (রাযিঃ) বলেন, আমি দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের গোত্রের উপর অন্যান্য আনসার পরিবারকে মর্যাদা দিয়েছেন। সে সময় তাকে বলা হল, তিনি তোমাদেরকে তো অনেকের উপরই মর্যাদা দিয়েছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ উসাইদ আস-সাঈদী (রাযিঃ)-এর নাম মালিক ইবনু রাবী'আহ। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। মা'মার যুহরী হতে তিনি আবূ সালামাহ হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে বর্ণনা করেছেন।

    Book 49 · Hadith 311 · #3851 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  301. 301

    । জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারদের ঘরগুলোর মাঝে বানু নাজ্জারই সবচাইতে ভাল। সহীহঃ পূর্বের হাদীসের সহায়তায়। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি এই সূত্রে গারীব।

    Book 49 · Hadith 312 · #3852 · Sahih Lighairihi, Sahih, Sahih
  302. 302

    । জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারদের মাঝে বানু আবদুল আশহালই ভাল। এক হাদীসের পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে গারীব।

    Book 49 · Hadith 313 · #3853 · Sahih Lighairihi, Sahih, Sahih
  303. 303

    । আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। অবশেষে যখন আমরা সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ)-এর বসতি এলাকা হাররাতুস-সুকইয়া'-তে পৌছলাম, সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার জন্য উযূর পানি নিয়ে এসো। তিনি উযূ করলেন, তারপর ক্বিলামুখী হয়ে দাড়িয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) তোমার বান্দা ও অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। মাক্কাবাসীদের জন্য তিনি বারাকাতের দু'আ করেছেন। আর আমিও তোমার বান্দা ও রাসূল। আমি মাদীনাবাসীদের জন্য তোমার নিকট দু'আ করছি যে, তুমি মাক্কাবাসীদের জন্য যে পরিমাণ বারাকাত দান করেছ, মাদীনাবাসীদের মুদ ও সা’-এ তার দ্বিগুণ বারাকাত দান কর এবং এক বারাকাতের সঙ্গে দুটি বারাকাত দান কর। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/১৪৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 314 · #3854 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  304. 304

    । আলী ইবনু আবী তলিব ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা প্রত্যেকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মাঝের জায়গা জান্নাতের বাগিচাগুলোর মধ্যকার একটি বাগিচা। হাসান সহীহঃ যিলালুল জান্নাত (৭৩১), রাওযুন নায়ীর (১১১৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে আলী (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 315 · #3855 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  305. 305

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মাঝের জায়গা জান্নাতের বাগিচাগুলোর মধ্যকার একটি বাগিচা। হাসান সহীহঃ যিলালুল জান্নাত (৭৩১), রাওযুন নায়ীর (১১১৫), বুখারী ও মুসলিম। একই সনদসূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার এই মসজিদে এক রাকাআত নামায মাসজিদুল হারাম ছাড়া আর অন্য কোন মসজিদে এক হাজার রাকাআত নামায অপেক্ষা ভাল। হাসান সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৪০৪, ১৪০৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 316 · #3856 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Sahih
  306. 306

    । ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ মদীনাতে মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম হলে সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। কারণ যে ব্যক্তি সেখানে মৃত্যুবরণ করবে আমি তার জন্য সুপারিশ করব। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩১১২)। এ অনুচ্ছেদে সুবাই'আহ বিনতুল হারিস আল-আসলামিয়্যাহ্ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আইয়ুব আস-সাখতিয়ানীর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।

    Book 49 · Hadith 317 · #3857 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  307. 307

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার এক মুক্ত দাসী এসে তাকে বললেন, আমার জন্য দিনাতিপাত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি ইরাকের দিকে যেতে চাই। তিনি বললেন, তবে তুমি সিরিয়ার দিকে যাবার মনস্থ করলে না কেন? সেটা তো হাশরের মাঠ। তিনি আরও বললেন, আরে নির্বোধ? ধৈর্যধারণ কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ যে লোক মাদীনার কষ্ট-কাঠিন্য ও দুভিক্ষে ধৈর্যধারণ করে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী হব এবং সুপারিশকারী হব। সহীহঃ তাখরাজু ফিকহিস সীরাহ (১৮৪), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ, সুফইয়ান ইবনু আবী যুহাইর ও সুবাই’আহ আল-আসলামিয়্যাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উবাইদুল্লাহর বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব।

    Book 49 · Hadith 318 · #3858 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  308. 308

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলামী শহরগুলোর মধ্যে সবশেষে জনমানবশূন্য হবে মাদীনা। যঈফ, যঈফা (১৩০০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু জুনাদা হতে হিশামের সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 319 · #3859 · Daif, Daif, Daif
  309. 309

    । জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ইসলামের উপর বাই’আত হয়। মাদীনার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে বলে, আমার বাই’আত প্রত্যাহার করুন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন। অতএব সে চলে গেল। বেদুঈন পুনরায় এসে বলল, আমার বাই’আত প্রত্যাহার করুন। এবারও তিনি অস্বীকার করেন। ফলে বেদুঈন চলে গেল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মাদীনা হল কামারের হাপরের মত, যা তার ময়লা দূর করে এবং পবিত্রতাকে খাটি করে। সহীহঃ সহীহাহ (২১৭), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 320 · #3860 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  310. 310

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মাদীনায় আমি যদি হরিণকে চরে বেড়াতে দেখি, তবে সেটাকে ভয় দেখাব না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার দুই কংকরময় এলাকার মধ্যবর্তী জায়গা হারাম। সহীহঃ বুখারী (১৮৭৩), মুসলিম (৪/১১৬)। এ অনুচ্ছেদে সা'দ, আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ, আনাস, আবূ আইউব, যাইদ ইবনু সাবিত, রাফি ইবনু খাদীজ, জাবির ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 321 · #3861 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  311. 311

    । আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, উহুদ পাহাড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বললেনঃ এ পাহাড় আমাদেরকে মুহাব্বাত করে এবং আমরাও তাকে মুহাব্বাত করি। হে আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) নিশ্চয়ই মাক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন, আর আমি দুই কংকরময় এলাকার মধ্যবর্তী জায়গাটিকে হারাম ঘোষণা করলাম। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 322 · #3862 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  312. 312

    । জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা আমার নিকটে ওয়াহী পাঠান যে, এ তিনটি জায়গার যেটিতেই তুমি যাবে, সেটিই হবে তোমার হিজরাতের জায়গাঃ মাদীনা অথবা বাহরাইন অথবা কিন্নাসরীন। মাওযু, আর-রাদু আলাল কাত্তানী, হাদীস নং (১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ফাযল ইবনু মূসার রিওয়ায়াত হিসেবে এটি জেনেছি। আবূ আমির এ হাদীস বর্ণনায় একাকী।

    Book 49 · Hadith 323 · #3863 · Mawdu, Mawdu, Daif
  313. 313

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ মাদীনায় দুর্ভিক্ষ ও কষ্ট-কাঠিন্য সহ্য করলে কিয়ামতের দিন তার জন্য আমি অবশ্যই সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব। সহীহঃ তাখরীজ ফিকহিস সীরাহ (১৮৪), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ, সুফইয়ান ইবনু আবী যুহাইর ও সুবাই’আহ আল-আসলামিয়্যাহ (রাযিঃ) কর্তৃক হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। সালিহ ইবনু আবী সালিহ হলেন সুহাইল ইবনু আবী সালিহের ভাই।

    Book 49 · Hadith 324 · #3864 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  314. 314

    । আবদুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু হামরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি মাক্কার একটি ক্ষুদ্র টিলার উপর দণ্ডায়মানরত দেখলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার সকল ভূমির মাঝে সর্বোত্তম এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট তুমিই সবচেয়ে প্রিয়ভূমি। আমাকে যদি তোমার বুক হতে (জোরপূর্বক) বিতাড়িত না করা হত তবে আমি কখনও (তোমায় ছেড়ে) চলে যেতাম না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩১০৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এ হাদীস ইউনুস যুহরী হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রাহঃ) আবূ সালামাহ্ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে এটি রিওয়ায়াত করেছেন। আমার মতে আবূ সালামার বরাতে আব্দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু হামরার সনদে যুহরী হতে বর্ণিত অনেক বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 325 · #3865 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  315. 315

    । ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কা ভূমিকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ কতই না পবিত্র ও উত্তম শহর তুমি এবং আমার নিকট তুমি কতই না প্রিয়। আমার স্বজাতি যদি তোমার হতে আমাকে বিতাড়িত না করত তবে আমি তোমাকে ব্যতীত অন্য কোথাও বসবাস করতাম না। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৭২৪)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 326 · #3866 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan
  316. 316

    । সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে সালমান! আমার প্রতি হিংসা করো না, তাহলে তুমি তোমার দীনকে টুকরো করে ফেলবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার প্রতি কি করে হিংসা পোষণ করতে পারি, অথচ আল্লাহ তা'আলা আপনার মাধ্যমেই আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আরবের প্রতি হিংসা পোষণ করাই হচ্ছে আমার প্রতি হিংসা পোষণ। যঈফ, যঈফা (২০২০), মিশকাত (৫৯৮৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আবূ বদর শুজা ইবনুল ওয়ালীদের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি আবূ যাবইয়ান সালমানের সাক্ষাৎ পান নাই। সালমান (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর পূর্বেই ইন্তিকাল করেছেন।

    Book 49 · Hadith 327 · #3867 · Daif, Daif, Daif
  317. 317

    । উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আরবদের সাথে ঠকবাজী করবে সে আমার শাফাআতের সীমায় প্রবেশ করবে না এবং সে আমার ভালোবাসাও অর্জন করতে পারবে না। মাওযূ, যঈফা (৫৪৫), মিশকাত (৫৯৯০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হুসাইন-ইবনু উমার আল-আহমাসী হতে মুখারিক সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। হুসাইন মুহাদ্দীসগণের মতে তেমন মজবুত রাবী নন।

    Book 49 · Hadith 328 · #3868 · Mawdu, Mawdu, Daif
  318. 318

    । মুহাম্মাদ ইবনু আবূ রাযীন (রাহঃ) হতে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উম্মুল হাররের অবস্থা এই ছিল যে, আরবের কোন লোক ইন্তিকাল করলে তিনি তাতে গভীরভাবে শোকাভিভূত হতেন। তাকে বলা হল, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আরবের কোন লোক ইন্তিকাল করলে আপনি তাতে গভীরভাবে শোকাভিভূত হন। তিনি বললেন, আমি আমার মনিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরবের লোকদের মৃত্যু হচ্ছে কিয়ামত কাছাকাছি হওয়ার লক্ষণ। যঈফ, যঈফা (৪৫১৫) মুহাম্মাদ ইবনু আবী রাযীন বলেনঃ উম্মুল হারীরের মনিব হলেন তালহা ইবনু মালিক। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু সুলাইমান ইবনু হারবের রিওয়ায়াত হিসেবে এটি জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 329 · #3869 · Daif, Daif, Daif
  319. 319

    । জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি উম্মু শারীক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা দাজ্জালের ভয়ে পলায়ন করবে, অবশেষে তারা পাহাড় পর্বতে গিয়ে আশ্রয় নিবে। উম্মু শারীক প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে সময় আরবরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ সে সময় তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য হবে। সহীহঃ সহীহাহ (৩০৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 330 · #3870 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  320. 320

    । সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাম হল আরবদের আদিপিতা, ইয়াফিস হল রূমীদের (তুর্কীদের) আদিপিতা এবং হাম হল আবিসিনীয়দের আদিপিতা। যইফ, যঈফা (৩৬৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। ইয়াফিস, ইয়াফিত ও ইয়াফাস ইত্যাদি উচ্চারণও আছে।

    Book 49 · Hadith 331 · #3871 · Daif, Daif, Daif
  321. 321

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে অনারবদের উল্লেখ করা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তাদেরকে অথবা তাদের কিছুকে তোমাদের চেয়ে অথবা তোমাদের কিছুর চেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করি। যঈফ, মিশকাত (৬২৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ বাকর ইবনু আইয়াশের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। সালিহ হলেন মিহরানের পুত্র, আমর ইবনু হুরাইসের আযাদ গোলাম।

    Book 49 · Hadith 332 · #3872 · Daif, Daif, Daif
  322. 322

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমরা উপস্থিত ছিলাম। সে সময় সূরা আল-জুমুআহ অবতীর্ণ হয় এবং তিনি তা পাঠ করেন। তিনি ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিমি” (এবং তাদের অন্যেরাযারা এখনও তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়নি) পর্যন্ত পৌছলে এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এসব লোক কারা, এখনো যারা আমাদের সঙ্গে একত্রিত হয়নি? তিনি তাকে কিছুই বললেন না। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, সালমান আল-ফারিসী (রাযিঃ) আমাদের মধ্যে হাযির ছিলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতখানা সালমান (রাযিঃ)-এর উপর রেখে বললেনঃ সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! সুরাইয়্যাহ্ তারকায় ঈমান থাকলেও এদের (অনারবদের) কিছু লোক তা নিয়ে আসবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটা ৩৩১০ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। আবূল গাইস এর নাম সালিম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুতী এর মুক্তদাস মাদীনার অধিবাসী।

    Book 49 · Hadith 333 · #3873 · Sahih, Sahih, Sahih
  323. 323

    । যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামান দেশের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহ! তাদের মন (আমাদের দিকে) ফিরিয়ে দিন এবং আমাদের সা ও মুদ-এ বারাকাত দান করুন”। হাসান সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬২৬৩), ইরওয়া (৪/১৭৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইমরান আল-কাত্তানের সনদেই হাদীসটি জানতে পেরেছি।

    Book 49 · Hadith 334 · #3874 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Hasan
  324. 324

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসী এসেছে। তারা খুব নরম মন ও কোমল হৃদয়ের লোক। ঈমান ইয়ামান হতে এসেছে এবং প্রজ্ঞাও ইয়ামান হতে এসেছে। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (১০৩৪), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস ও ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 335 · #3875 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  325. 325

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাজত্ব কুরাইশদের মাঝে, বিচার-বিধান আনসারদের মধ্যে, (সুমধুর সুরে) আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানতদারি আযদ অর্থাৎ ইয়ামানবাসীদের মাঝে। সহীহঃ সহীহাহ (১০৮৩)। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি মু’আবিয়াহ ইবনু সালিহ হতে, তিনি আবূ মারইয়াম আল-আনসারী হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়। এ হাদীস যাইদ ইবনু হুবাবের বর্ণিত হাদীসটির তুলনায় অনেক বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 336 · #3876 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  326. 326

    । আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল আযদ (ইয়ামানীরা) হল দুনিয়ার বুকে আল্লাহর সহায়তাকারী। লোকেরা তাদেরকে দাবিয়ে রাখতে চাইবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তা হতে দিবেন না, বরং তিনি তাদেরকে সমুন্নত করবেন। মানুষের সামনে অবশ্যই এমন এক যামানা আসবে, যখন কোন ব্যক্তি বলবে, হায় যদি আমার পিতা ইয়ামানী (আযদী) হতেন? হায়, যদি আমার মাতা ইয়ামানী (আযদী) গোত্রীয় হতেন? যঈফ, যঈফা (২৪৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই হাদীসটি প্রসঙ্গে জেনেছি। আনাস (রাঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীসটি মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত আছে। আমাদের মতে মাওকুফ বর্ণনাটিই অনেক বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 337 · #3877 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  327. 327

    । গাইলান ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমরা আযদ গোত্রভুক্ত না হলে উত্তম মানুষই হতাম না। সনদ সহীহঃ মাওকুফ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 338 · #3878 · Sahih Isnaad Mauquf, Sahih Isnaad Mauquf, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  328. 328

    । আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে হাযির থাকা অবস্থায় তার নিকটে এক লোক আসে। আমার ধারণা লোকটি কাইস গোত্রীয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হিমইয়ার গোত্রকে অভিসম্পাত করুন। তিনি তার হতে অন্য দিকে মুখ সরিয়ে নেন। সে অপর পাশ দিয়ে এলে তিনি এবারও তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। আবার সে অপর পাশ দিয়ে এলে তিনি এবারও তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। লোকটি অপর পাশ দিয়ে এলে এবারও তিনি তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হিমূইয়ার গোত্রের প্রতি আল্লাহ তা'আলা দয়া করুন, তাদের মুখে সালাম (শান্তি), তাদের হাতে খাদ্যসম্ভার এবং তারা নিরাপত্তা ও ঈমানের ধারক। মাওযু, যঈফা (৩৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবদুর রাযযাকের সূত্রে উপরোক্তভাবে এ হাদীস জেনেছি। আর মীনাআর কাছ হতে বেশিরভাগ মুনকার হাদীস বর্ণিত হয়ে থাকে।

    Book 49 · Hadith 339 · #3879 · Mawdu, Mawdu, Daif
  329. 329

    । আবূ আইউব আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারগণ এবং মুযাইনাহ্, জুহাইনাহ, আশজা', গিফার গোত্রগুলো ও বানু আবদুদ দার-এর লোকেরা আমার সঙ্গী ও সাহায্যকারী। আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী সঙ্গী নেই। আল্লাহ ও তার রাসূলই তাদের সাহায্যকারী সঙ্গী বা সাথী। সহীহঃ মুসলিম (৭/১৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 340 · #3880 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  330. 330

    । ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ হিফাযাতে রাখুন। গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্যাচরণ করেছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 341 · #3881 · Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  331. 331

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সাকীফ সম্প্রদায়ের তীরগুলো আমাদেরকে ছিন্নভিন্ন করেছে। সুতরাং আপনি তাদের বদদু'আ করুন! তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! সাকীফ সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করুন। যঈফ, মিশকাত (৫৯৮৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 49 · Hadith 342 · #3882 · Daif, Daif, Daif
  332. 332

    । ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি গোত্রের প্রতি মন্দ মনোভাব রেখে মারা যানঃ বানু সাকীফ, বানু হানীফা ও বানু উমাইয়্যা। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।

    Book 49 · Hadith 343 · #3883 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Hasan, Daif
  333. 333

    ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাকীফ গোত্রে এক চরম মিথ্যাবাদী ও এক নরঘাতকের সৃষ্টি হবে। সহীহঃ মুসলিম (২১২৩) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। 'আবদুর রহমান ইবনু ওয়াকিদ আবূ মুসলিম শারীক (রহঃ)-এর সনদে উপরের হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু উসম-এর উপনাম আবূ উলওয়ান, তিনি কুফার অধিবাসী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র শারীকের সনদে অবগত হয়েছি। শারীক (রাহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আসিম। ইসরাঈলও এই শাইখ হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু ইসমাহ। এ অনুচ্ছেদে আসমা বিনতু আবী বাকর (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 344 · #3884 · Sahih, Sahih, Sahih
  334. 334

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক বেদুঈন একটি জোয়ান উষ্ট্রী উপহার দেয়। তিনি তার বিনিময়ে তাকে ছয়টি জোয়ান উষ্ট্রী দেন। কিন্তু লোকটি তারপরও আখুশি থাকে। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলে তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করার পর বলেনঃ অমুক লোক আমাকে একটি উষ্ট্রী উপটৌকন দিলে আমি এর বিনিময়ে তাকে ছয়টি উষ্ট্রী প্রদান করি। তারপরও সে অখুশি। অতএব আমি প্রতিজ্ঞা করলাম যে, আমি কুরাইশী অথবা আনসারী অথবা সাকাফী অথবা দাওসীদের ছাড়া আর কারো নিকট হতে উপটৌকন কবুল করব না। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৩০২২), সহীহাহ (১৬৮৪)। এ হাদীসে আরো বেশি বক্তব্য আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ ইবনু হারূন (রহঃ) আইউব-আবূল আলা হতে বর্ণনা করেন। তিনি হলেন আইউব ইবনু মিসকীন। তিনি ইবনু আবী মিসকীন বলেও পরিচিত। সম্ভবতঃ এই হাদীস যা আইউব হতে, সাঈদ আল-মাকবুরীর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি হলেন আইউব আবূল আ'লা।

    Book 49 · Hadith 345 · #3885 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan
  335. 335

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ফাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি গাবা নামক জায়গায় প্রাপ্ত তার উটপাল হতে একটি উস্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপটৌকন দেয়। তিনি এর বিনিময়ে তাকে কিছু দান করেন। কিন্তু সে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ আরবের কোন এক লোক আমাকে কিছু উপহার দিলে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে কিছু দান করি। কিন্তু সে তাতে অখুশি প্রকাশ করে। এমনকি এ ব্যাপারে সে আমার উপর অখুশিই হয়ে যায়। আল্লাহর কসম! এরপর হতে আমি আর কুরাইশী কিংবা আনসারী কিংবা সাকাফী কিংবা দাওসী লোক ছাড়া আরবের আর কোন লোকের উপহার গ্রহণ করব না। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এটা ইয়াযীদ ইবনু হারূনের বর্ণিত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।

    Book 49 · Hadith 346 · #3886 · Sahih, Sahih, Hasan
  336. 336

    । আমির ইবনু আবূ আমির আল-আশআরী (রাঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসাদ গোত্র ও আশআরী গোত্র কত ভাল! তারা যুদ্ধের মাঠ হতে পালায় না এবং গানীমাতের মাল আত্মসাৎ করে না। কাজেই তারা আমার হতে এবং আমি তাদের হতে। আমির (রাহঃ) বলেন, আমি উক্ত হাদীস মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, এইরূপ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেননি, বরং বলেছেনঃ তারা আমার হতে এবং আমারই। আমির (রাহঃ) বলেন, আমার পিতা আমাকে এরকম বলেননি, বরং তিনি আমাকে বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তারা আমার হতে এবং আমি তাদের হতে। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, তুমি তোমার পিতার বর্ণিত হাদীস বেশি জান। যঈফ, যঈফা (৪৬৯২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু ওয়াহব ইবনু জারীরের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। কথিত আছে যে, আসাদ সম্প্রদায় ও আযদ সম্প্রদায় একই।

    Book 49 · Hadith 347 · #3887 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  337. 337

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা হিফাযাতে রাখুন, গিফার গোত্রকে আল্লাহ মাফ করুন। সহীহঃ বুখারী (হাঃ ১০০৬, ৩৫১৩, ৩৫১৪), মুসলিম (হাঃ ৭/১৭৭, ১৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ যার, আবূ বারযা আল-আসলামী, বুরাইদা ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 49 · Hadith 348 · #3888 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  338. 338

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! গিফার, আসলাম ও মুযাইনাহ গোত্র এবং যারা জুহাইনাহ গোত্রীয় এবং মুযাইনাহ গোত্রীয়, তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার কাছে অবশ্যই আসাদ, তাঈ ও গাতাফান গোত্রের তুলনায় ভাল বিবেচিত হবে। সহীহঃ সহীহাহ (৩২১২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 350 · #3889 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  339. 339

    । ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তামীম গোত্রের প্রতিনিধিদলরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাজলিসে হাযির হলে তিনি বলেনঃ হে বানু তামীম! সুখবর গ্রহণ কর। তারা বলল, আপনি আমাদের সুখবর দিয়েছেন, তাই আমাদেরকে কিছু দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যায়। তারপর ইয়ামান দেশীয় এক প্রতিনিধিদল আগমন করলে তিনি বলেনঃ তোমরা সুখবর কবুল কর, যা তামীম গোত্র গ্রহণ করেনি। তারা বলল, অবশ্যই আমরা তা গ্রহণ করলাম। সহীহঃ সহীহাহ (৩২১২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 351 · #3890 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  340. 340

    । আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসলাম, গিফার ও মুযাইনাহ গোত্রসমূহ তামীম, আসাদ, গাতাফান ও আমির ইবনু সাসা'আহ গোত্রসমূহ হতে ভাল। তিনি উচ্চস্বরে কথাটি বললেন। লোকেরা বলেনঃ ঐ গোত্রের লোকগুলো তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হল। তিনি বলেনঃ ঐ গোত্রগুলোর ব্যক্তিগুলো এসব গোত্রের লোকদের চেয়ে অধিক ভাল। সহীহঃ বুখারী (৩৫১৬), মুসলিম (৭/১৭৯-১৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 49 · Hadith 352 · #3891 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  341. 341

    । ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের শামদেশে বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের ইয়ামানদেশে বারাকাত দান করুন। লোকেরা বলল, আমাদের নাজদের জন্যও (দুআ করুন)। তিনি পুনরায় বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সিরিয়ায় বারাকাত দান করুন, আমাদের ইয়ামানদেশে বারাকাত দান করুন। এবারও লোকেরা বলল, আমাদের নাজদের জন্যও (দু’আ করুন)। তিনি বললেনঃ সেখানে ভূমিকম্প, বিশৃঙ্খলা বা বিপর্যয় রয়েছে অথবা তিনি বলেছেনঃ সেখান হতেই শাইতানের শিং আবির্ভাব হবে। সহীহ তাখরাজ ফাযায়িলিশ শাম (৮), সহীহাহ (২২৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু ‘আওনের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। হাদীসটি সালিম ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু উমার-তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত হয়েছে।

    Book 49 · Hadith 353 · #3892 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  342. 342

    । যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে চামড়ার উপর হতে কুরআন সংকলন করছিলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সিরিয়ার জন্য মঙ্গল। আমরা বললাম, তা কেন হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ কেননা দয়াময় রহমানের ফেরেশতাগণ তার উপর নিজেদের ডানা বিস্তার করে রেখেছেন। সহীহঃ ফাযায়িলিশ শাম (১), মিশকাত (৬৬২৪), সহীহাহ (৫০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইয়াহইয়া ইবনু আইউবের সনদে হাদীসটি অবগত হয়েছি।

    Book 49 · Hadith 354 · #3893 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  343. 343

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সমস্ত সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ে গর্ব করে, তারা যেন অবশ্যই তা হতে বিরত থাকে। কেননা তারা জাহান্নামের কয়লায় পরিণত হয়েছে। নতুবা তারা আল্লাহ তা'আলার দরবারে গোবরে পোকার তুলনায় বেশি অপমানিত হবে, যা নিজের নাক দিয়ে গোবরের ঘুটা তৈরী করে। তোমাদের হতে আল্লাহ তা'আলা জাহিলী যুগের গর্ব-অহংকার ও পূর্বপুরুষদের নিয়ে আত্মগৰ্ব প্রকাশ দূরীভূত করেছেন। এখন সে মু'মিন-মুত্তাকী অথবা পাপাত্মা-দূরাচার। সমস্ত মানুষ আদম (আঃ)-এর সন্তান। আর আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি হতে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (৪/২১, ৩৩, ৩৪), গাইয়াতুল মারাম (৩১২)। এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।

    Book 49 · Hadith 355 · #3894 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  344. 344

    । আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা জাহিলী যুগের গর্ব-অহংকার ও পূর্বপুরুষদের নিয়ে আভিজাত্যের অহংকার তোমাদের হতে অপসারণ করেছেন। এখন কোন লোক হয় খোদাভীরু মু’মিন কিংবা বদ-নাসীব পাপী। মানুষ আদমের সন্তান, আর আদম (আঃ) মাটি হতে সৃষ্টি। হাসানঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমার দৃষ্টিতে এ হাদীসটি প্রথমোক্ত হাদীসের চেয়ে বেশী সহীহ। সাঈদ আল-মাকুবুরী (রহঃ) আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস শুনেছেন। তিনি তার পিতার সনদে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বহু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। এ হাদীস সুফইয়ান সাওরী প্রমুখ হিশাম ইবনু সা'দ হতে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে আবূ আমির হতে হিশামের সনদে বর্ণিত হাদীসের একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।

    Book 49 · Hadith 356 · #3895 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih
সব বিষয় · Jami At Tirmidhi