Wages (Kitab Al-Ijarah)
- 1
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আহলে সুফফার কতিপয় ব্যক্তিকে কুরআন পড়া ও লিখা শিখাতাম। তাদের একজন আমাকে উপহার হিসেবে একটি ধনুক পাঠালো। আমি বললাম, এটা কোনো সম্পদ নয়। আমি এটা দিয়ে আল্লাহর পথে তীর ছুঁড়বো। কিন্তু আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো। অতঃপর আমি তাঁর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এক লোক আমাকে একটি ধনুক উপহার দিয়েছে। আমি লোকদের সঙ্গে তাকেও লিখা এবং কুরআন শিখাতাম। ধনুকটা (মূল্যবান) সম্পদ নয়। আমি এটা দিয়ে আল্লাহর পথে (জিহাদে) তীর ছুঁড়বো। তিনি বলেনঃ তুমি যদি গলায় জাহান্নামের শিকল পরতে ভালোবাস, তাহলে তা গ্রহণ করো।
Book 24 · Hadith 1 · #3413 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 2
। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে প্রথম হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ। এ বর্ণনায় রয়েছেঃ আমি জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ এটাতো জ্বলন্ত অংগার, যা তুমি তোমার দু’ কাঁধে ঝুলিয়েছ।
Book 24 · Hadith 2 · #3414 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 3
। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী কোনো এক সফরে বের হলেন। তারা এক আরবের একটি জনপদে যাত্রাবিরতি করে সেখানকার লোকদের নিকট মেহমান হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকৃতি জানালো। বর্ণনাকারী বলেন, ঘটনাক্রমে এই জনপদের সর্দারকে (বিষাক্ত প্রাণী) দংশন করলো। তারা তাকে আরোগ্য করতে অনেক কিছুই করলো, কিন্তু কোনই কাজ হলো না। তাদের মধ্যে কেউ বললো, তোমরা যদি এখানে যাত্রাবিরতীকারী দলের কাছে যেতে! হয় তো তাদের কারো কাছে এমন কিছু থাকতে পারে যা তোমাদের সর্দারের উপকারে আসতে পারে। তাদের কতিপয় লোক এসে বললো, আমাদের সর্দারকে (বিষাক্ত প্রাণী) দংশন করেছে। তার আরোগ্যের জন্য ‘আমরা সব ধরণের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাইনি। তোমাদের কেউ কি ঝাড়ফুঁক জানে? দলের একজন বললেন, আমি ঝাড়ফুঁক জানি। কিন্তু ‘আমরা তোমাদের নিকট মেহমানদারী চেয়েছিলাম, তোমরা আমাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলে। কাজেই তোমরা আমাকে পারিশ্রমিক দিতে রাজী না হলে আমি ঝাড়ফুঁক করবো না। তারা তাকে কিছু বকরী পারিশ্রমিক দেয়ার চুক্তি করলো। তিনি রোগীর নিকট উপস্থিত হয়ে ‘উম্মুল কিতাব’ (সূরা ফাতিহা) পড়লেন এবং (দংশিত স্থানে) থুথু লাগিয়ে দিলেন। এতেই সে রোগমুক্ত হলো এমনভাবে যে, সে যেন বন্ধনযুক্ত হয়ে গেলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাদের চুক্তির শর্ত পূরণার্থে তাকে তার প্রাপ্য প্রদান করলো। সাহাবীগণ বললেন, এগুলো আমাদের মধ্যে বণ্টন করো। ঝাড়ফুঁককারী বললেন, এরূপ করো না, বরং ‘আমরা আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করে নেই। পরদিন সকালে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলেন এবং তাঁকে ঘটনাটি জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কিভাবে জানলে যে, এটা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা যায়? তোমরা ভালো কাজই করেছো। তোমাদের সাথে আমারও একটা ভাগ নির্ধারণ করো।
Book 24 · Hadith 3 · #3415 · Sahih, Sahih Bukhari (2276) Sahih Muslim (2201) - 4
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
Book 24 · Hadith 4 · #3416 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5007) Sahih Muslim (2201) - 5
। খারিজাহ ইবনুস সালাত (রহঃ) থেকে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি একটি জনপদ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সেখানকার কিছু লোক তার কাছে এসে বললো, আপনি এই ব্যক্তির (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কাছ থেকে কল্যাণ নিয়ে এসেছেন। কাজেই আমাদের এই ব্যক্তিকে একটু ঝাড়ফুঁক করে দিন। এ বলে তারা একটি পাগলকে বাঁধা অবস্থায় তার কাছে আনলো। তিনি তিন দিন সকাল-বিকাল সূরা ফাতিহা পড়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করলেন। তিনি যখনই পাঠ শেষ করতেন তখন থুথু জমা করে তার শরীরে নিক্ষেপ করতেন। অতঃপর লোকটি যেন বন্ধনমুক্ত হয়ে গেলো। তারা তাকে কিছু বিনিময় দিলো। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে ঘটনাটি জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যা পেয়েছো তা খাও। আমার জীবনের শপথ! কিছু লোক তা বাতিল মন্ত্র দ্বারা উপার্জন করে খায়। আর তুমি উপার্জন করেছো সত্য মন্ত্র দ্বারা।
Book 24 · Hadith 5 · #3417 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 6
। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রক্তমোক্ষণের উপার্জন নিকৃষ্ট, কুকুর বিক্রয়মূল্য নিকৃষ্ট এবং যেনাকারিনীর উপার্জনও নিকৃষ্ট।
Book 24 · Hadith 6 · #3418 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1568) - 7
। ইবনু মুহাইয়াসাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে রক্তমোক্ষণের পারিশ্রমিক গ্রহণ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। কিন্তু তিনি বারবার তাঁর কাছে আবেদন করতে থাকলেন এবং অনুমতি চাইতে থাকলেন। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে এ নির্দেশ দিলেনঃ ঐ উপার্জন দিয়ে তোমার উটের খাদ্য কিনবে এবং তোমার গোলামকে দিবে।
Book 24 · Hadith 7 · #3419 · Sahih, Sahih, Sahih - 8
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তমোক্ষণ করালেন। তিনি রক্তমোক্ষণকারীকে পারিশ্রমিক দিলেন। তিনি একে নিকৃষ্ট মনে করলে তাকে দান করতেন না।
Book 24 · Hadith 8 · #3420 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2279) - 9
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তাইবাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেহে শিংগা লাগান। তিনি তাকে এক সা‘ খেজুর দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তার মুনিবদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তার উপর ধার্যকৃত মুক্তিপণ সহজ করে দেয়।
Book 24 · Hadith 9 · #3421 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2102) Sahih Muslim (1577) - 10
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীর উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 10 · #3422 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2283) - 11
। তারিক ইবনু ‘আব্দুর রাহমান আল-কুরাশী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাফি ইবনু রিফা‘আহ (রাঃ) আনাসারদের এক সমাবেশে গিয়ে বললেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ আমাদেরকে (কিছু) নিষেধ করেছেন। এই বলে তিনি কিছু বিষয়ের উল্লেখ করলেন। তিনি দাসীর (গর্হিত) উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, তবে তাদের নিহ হাতের উপার্জন গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দেখালেন, (হাতের কাজ হলো) যেমন রুটি তৈরী করা, সূতা কাটা অথবা তুলা ধুনা করা ইত্যাদি।
Book 24 · Hadith 11 · #3423 · Hasan, Hasan, Hasan - 12
। রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীর উপার্জনের উৎস না জানা পর্যন্ত তার আয় ভোগ করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 12 · #3424 · Hasan, Hasan Lighairihi, Hasan - 13
। আবূ মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের বিক্রয়মূল্য যেনাকারিনীর আয় ও গণকের ভেট গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 13 · #3425 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5761) Sahih Muslim (1567) - 14
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ পশুর দ্বারা মাদী পশুকে সঙ্গম করিয়ে তার মজুরী গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 14 · #3426 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2284) - 15
। আল-আলা ইবনু ‘আব্দুর রাহমান (রহঃ) থেকে আবূ মাজিদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক যুবকের কান কেটে ফেলেছিলাম অথবা কেউ আমার কান কেটে ফেলেছিল। হজ (হজ্জ) উপলক্ষে আবূ বাকর (রাঃ) আমাদের এখানে এলে ‘আমরা তার নিকট একত্র হলাম। তিনি আমাদেরকে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এ অপরাধের জন্য কিসাস নেয়া যাবে। হাজ্জামকে ডেকে আনো, যাতে কিসাস গ্রহণ করতে পারে। অতঃপর আমার নিকট একজন হাজ্জামকে ডেকে আনা হলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি আমার খালাকে একটি গোলাম দান করেছিলাম। আমার আশা ছিলো, এতে তাঁর বরকত হবে। আমি তাকে বলেছিলাম, একে রক্তমোক্ষণকারী, স্বর্ণকার অথবা কসাইয়ের কাছে সোপর্দ করবেন না।
Book 24 · Hadith 15 · #3427 · Daif, Daif, Daif - 16
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
Book 24 · Hadith 16 · #3428 · Daif, Daif - 17
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
Book 24 · Hadith 17 · #3429 · Daif, Daif, Daif - 18
। সালিম (রহঃ) তার পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ কেউ গোলাম বিক্রি করলে ঐ গোলামের যদি কোনো মাল থাকে তাহলে উক্ত মাল বিক্রেতাই পাবে। তবে ক্রেতা (মালের) শর্ত করলে সে তা পাবে। আর কেউ খেজুর গাছ তা‘বীর করার পর বিক্রি করলে ঐ বাগানের বর্তমান ফল বিক্রেতা পাবে, তবে ক্রেতা নিজের জন্য শর্ত করলে ভিন্ন কথা।
Book 24 · Hadith 18 · #3430 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2379) Sahih Muslim (1543) - 19
। নাফি (রহঃ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু গোলামের ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। নাফি‘ (রহঃ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু খেজুর বাগান সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যুহরী ও নাফি‘ (রহঃ) চারটি হাদীস বর্ণনায় পরস্পর মতভেদ করেছেন। উপরের হাদীসটি সেগুলোর একটি।
Book 24 · Hadith 19 · #3431 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2379) Sahih Muslim (1543) - 20
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন গোলাম বিক্রয় করে যার কিছু মাল আছে, তাহলে ঐ মাল বিক্রেতা পাবে। কিন্তু ক্রেতা যদি নিজের জন্য শর্ত করে তাহলে ভিন্ন কথা।
Book 24 · Hadith 20 · #3432 · Sahih, Sahih, Sahih - 21
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের সময় নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের কথা না বলে। পণ্যদ্রব্য বাজারে উপস্থিত করার আগে তোমরা অগ্রগামী হয়ে তা কিনতে যাবে না।
Book 24 · Hadith 21 · #3433 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2139، 2165) Sahih Muslim (1412 After 1514) - 22
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে বাজারে পন্যদ্রব্য নিয়ে আসা ব্যক্তিদের সাথে মিলিত হতে নিষেধ করেছেন। কোনো ক্রেতা যদি এগিয়ে গিয়ে তার সাথে মিলিত হয়ে কিছু কিনে তাহলে বিক্রেতা বাজারে পৌঁছার পর (বিক্রয় প্রত্যাখ্যানে) সুযোগ পাবে।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সুফিয়ান (রহঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এই বলে অপরের বিক্রয়ের উপর বিক্রয় না করে যে, আমার কাছে এর চেয়ে ভালো পণ্য মাত্র দশ টাকায় (অর্থাৎ কম দামে) পাবে।
Book 24 · Hadith 22 · #3434 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 23
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ধোঁকাপূর্ণ দালালী করো না।
Book 24 · Hadith 23 · #3435 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2140) Sahih Muslim (1413) - 24
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহুরে লোককে গ্রাম্য লোকের পণ্রদ্রব্য বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, শহুরে লোক গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রি না করে দেয়ার অর্থ কি? তিনি বললেনঃ সে তার দালাল না হওয়া।
Book 24 · Hadith 24 · #3436 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2158) Sahih Muslim (1521) - 25
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি না করে, যদিও সে তার ভাই অথবা পিতা হয়। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে আরেক বর্ণনায় রয়েছেঃ লোকেরা বলে থাকে, ‘‘শহরবাসী গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রয় করবে না’’ এটি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য। অর্থাৎ তার পক্ষ হয়ে কিছু বিক্রিও করবে না এবং কিনবেও না।
Book 24 · Hadith 25 · #3437 · Sahih, Sahih, Sahih - 26
। সালিম আল-মাক্কী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক বেদুঈন তাকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তার দুধের উষ্ট্রী নিয়ে তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট অবতরণ করেন। তখন তিনি (তালহা) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘‘শহরবাসীকে গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি করে দিতে নিষেধ করেছেন।’’ বরং তুমি বাজারে গিয়ে দেখো, তোমার পণ্য কে কিনতে চায়। তারপর আমার সঙ্গে পরামর্শ করবে, আমি হয় তো তোমাকে অনুমতি দিবো কিংবা নিষেধ করবো।
Book 24 · Hadith 26 · #3438 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 27
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে পণ্য বিক্রি করবে না। তোমরা লোকদেরকে ছেড়ে দাও। মহান আল্লাহ এক দলের মাধ্যমে অপর দলের রিযিকের ব্যবস্থা করেন।
Book 24 · Hadith 27 · #3439 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1522) - 28
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসে, তোমরা তাদের পণ্য ক্রয়ের জন্য এগিয়ে তাদের সাথে মিলিত হবে না। একজনের পক্ষ থেকে ক্রয়-বিক্রয়ের আলাপের সময় অন্যজন তা ক্রয়ের আলোচনা করবে না। উট-বকরীর স্তনে দুধ জমা করে রাখা যাবে না। এরূপ করার পর কেউ তা কিনলে দুধ দোহনের পর তার জন্য এখতিয়ার থাকবে। ইচ্ছা হলে সে ক্রয় বহাল রাখবে নতুবা ক্রয় ভঙ্গ করে তা ফেরত দিবে এবং (দুধপানের বিনিময় বাবদ) এক সা‘ খেজুর দিবে।
Book 24 · Hadith 28 · #3440 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2150) Sahih Muslim (1515) - 29
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি স্তন ফুলানো বকরী কিনবে তার জন্য তিন দিন পর্যন্ত অবকাশ থাকবে। ইচ্ছা করলে সে তা ফেরত দিবে। (ফেরতের সময়) সাথে এক সা‘ খাদ্যদ্রব্যও দিবে, তবে উন্নত মানের গম দিবে না।
Book 24 · Hadith 29 · #3441 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1524) - 30
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ স্তন ফুলানো বকরী কিনলে তার দুধ দোহন করে দেখে নিবে। তারপর পছন্দ হলে সে তা রেখে দিবে, আর পছন্দ না হলে ফেরত দিতে পারবে। তবে দুধ দোহনের বিনিময়ে সাথে এক সা‘ খেজুরও দিতে হবে।
Book 24 · Hadith 30 · #3442 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2151) - 31
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্তন ফুলানো পশু ক্রয় করে তার জন্য তিন দিনের অবকাশ থাকে। সে তা ফেরত দিলে সাথে দোহনকৃত দুধের পরিমাণ অনুযায়ী অথবা তার দ্বিগুণ গম দিবে।
Book 24 · Hadith 31 · #3443 · Daif, Daif, Daif, Daif - 32
। ‘আদী ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর এক পুত্র মা‘মার ইবনু আবূ মা‘মার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জঘণ্য অপরাধী ছাড়া কেউই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি (মূল্য বৃদ্ধির আশায়) গুদামজাত করে না। আমি (মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-কে বলি, আপনি তো গুদামজাত করেন। তিনি বলেন, মা‘মারও গুদামজাত করতেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, (কোন বস্তু) গুদামজাত করা নিষেধ? তিনি বললেন, মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আওযাঈ‘ (রহঃ) বললেন, গুদামজাতকারী হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে বাজারজাত করার পথে প্রতিবন্ধক হয়।
Book 24 · Hadith 32 · #3444 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1605) - 33
। কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন খেজুর গুদামজাত করা নিষেধ নয়। ইবনুল মুসান্না (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু ফাইয়্যাদ স্বীয় বর্ণনায় হাসান বাসরীকে যুক্ত করেছেণ। ‘আমরা তাকে বললাম, আপনি হাসানের বরাত দিবেন না (কারণ হাসান এটা বর্ণনা করেননি) ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) খেজুরের আঁটি, পশুখাদ্য ও তৈলবীজ গুদামজাত করতেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু ইউনুসের কাছে শুনেছি, আমি সুফিয়ানকে পশুখাদ্য গুদামজাত করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী লোকেরা গুদামজাত করাকে মাকরূহ জানতেন। আমি (আহমাদ) আবূ বাকর ইবনুল আয়্যাশকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটা গুদামজাত করাতে দোষ নেই।
Book 24 · Hadith 33 · #3445 · Daif Isnaad Maqtu, Daif Isnaad Maqtu, Maqtu, Daif - 34
। আলকামাহ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত মুদ্রা বিশেষ কোনো ত্রুটি ছাড়া ভাঙ্গতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 34 · #3446 · Daif, Daif, Daif, Daif - 35
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেনঃ বরং আমি দু‘আ করবো। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করুন। তিনি বললেনঃ বরং আল্লাহই (জিনিসের দাম) কমান-বাড়ান। আমি আশা করি যে, আমি যেন আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হই, আমার বিরুদ্ধে কারো প্রতি জুলুমের কোনো অভিযোগ থাকবে না।
Book 24 · Hadith 35 · #3447 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 36
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। আপনি আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহই মূল্যের গতি নির্ধারণকারী, তিনিই তা কমান ও বৃদ্ধি করেন এবং একমাত্র তিনিই রিযিকদাতা। আমি এই আশা করি যে, আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবো যেন আমার উপর কারো জীবন বা সম্পদের উপর জুলুম করার কোনোরূপ অভিযোগ না থাকে।
Book 24 · Hadith 36 · #3448 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 37
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কিভাবে বিক্রি করছো? তখন সে তাঁকে এ সম্পর্কে জানালো। ইতিমধ্যে তিনি এ মর্মে ওয়াহী প্রাপ্ত হলেনঃ আপনি আপনার হাত শস্যের স্তূপের ভেতরে ঢুকান। তিনি স্তূপের ভেতরে তাঁর হাত ঢুকিয়ে অনুভব করলেন যে, তার ভেতরের অংশ ভিজা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি প্রতারণা করে তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
Book 24 · Hadith 37 · #3449 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 38
। ইয়াহইয়া (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুফিয়ান সাওরী (রাঃ) ‘লাইসা মিন্না’-এর ব্যাখ্যা ‘আমাদের মতো নয়’ করাকে অপছন্দ করতেন।
Book 24 · Hadith 38 · #3450 · Sahih Isnaad Maqtu, Sahih Isnaad Maqtu, Isnaad Sahih - 39
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য সুযোগ থাকে। তবে ‘সুযোগ থাকার’ শর্ত রাখা হলে ভিন্ন কথা।
Book 24 · Hadith 39 · #3451 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2111) Sahih Muslim (1531) - 40
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেনঃ অথবা উভয়ের একজন অন্যজনকে এরূপ বলা হয়, বিক্রয় কার্য চূড়ান্ত করুন।
Book 24 · Hadith 40 · #3452 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2109) Sahih Muslim (1531) - 41
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর্ব পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য (ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যানের) অবকাশ থাকে, তবে পরবর্তীতেও এ অবকাশ বহাল রাখলে ভিন্ন কথা। আর ক্রেতা বা বিক্রেতার একজন অপরজন থেকে (বিক্রয় প্রত্যাখ্যান হওয়ার আশংকায়) দ্রুত পৃথক হওয়া উচিত নয়।
Book 24 · Hadith 41 · #3453 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 42
। আবুল ওয়াদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কোনো একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ‘আমরা এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করি। তখন আমাদের একজন একটি গোলামের বিনিময়ে একটি ঘোড়া বিক্রি করে। অতঃপর তারা (ক্রেতা-বিক্রেতা) উভয়ে অবশিষ্ট দিন ও রাত একত্রে অবস্থান করে। অতঃপর পরদিন সকালে বিদায়ের পালা আসলে ক্রেতা তার ঘোড়ার পিঠে জিন বাঁধতে শুরু করলো। এমন সময় বিক্রেতা লজ্জিত অবস্থায় ক্রেতার নিকট এসে চুক্তি বাতিল করে ঘোড়া ফেরত দেয়ার জন্য অনুরোধ করলো। কিন্তু ক্রেতা তাকে ঘোড়া ফেরত দিতে অস্বীকার করায় বিক্রেতা বললো, তোমার ও আমার মধ্যকার বিবাদ নিষ্পত্তি করে দিবেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবূ বারযা (রাঃ)। তারা উভয়ে তাকে ঘটনাটি জানালে তিনি তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালার অনুরূপ সিদ্ধান্ত দিবো, তোমরা কি এতে রাজি আছো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য অবকাশ থাকে। হিশাম ইবনু হাসসান (রহঃ) বলেন, জামীল (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, আবূ বারযা (রাঃ) বললেন, আমি দেখছি তোমরা এখনো বিচ্ছিন্ন হওনি।
Book 24 · Hadith 42 · #3454 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 43
। ইয়াহইয়াহ ইবনু আইয়ূব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যুর‘আহ (রহঃ) কারো নিকট কিছু বিক্রি করলে তাকে অবকাশ দিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনিও বলতেন, আমাকেও অবকাশ দিবে। তিনি বলতেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে যেন পরস্পরের সম্মতি ছাড়া একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়।
Book 24 · Hadith 43 · #3455 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 44
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পরস্পর পৃথক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য (ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান) অবকাশ থাকে। তারা সততার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করলে এবং বিক্রিত মালের দোষ-ত্রুটির প্রকাশ করলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত হবে। আর তারা যদি মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং বিক্রিত বস্তুর দোষ গোপন করে তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত দূর হয়ে যাবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু আবূ ‘আরূবাহ ও হাম্মাদ এ হাদীসটি এভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে হাম্মাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ পরস্পর পৃথক না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য অবকাশ থাকে। তিনি কথাটি তিনবার বলেন।
Book 24 · Hadith 44 · #3456 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2079) Sahih Muslim (1532) - 45
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের (অনুরোধে তার) সাথে সম্পাদিত ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি বাতিল করবে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
Book 24 · Hadith 45 · #3457 · Sahih, Sahih, Daif - 46
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একই দ্রব্য বিক্রয়ে দু’ রকম নিয়ম রাখে তাকে দু’ মূলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যই গ্রহণ করতে হবে, নতুবা তা হবে সুদ।
Book 24 · Hadith 46 · #3458 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 47
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা ঈনা[1] পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিবেন। তোমরা তোমাদের দ্বীনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান থেকে মুক্তি দিবেন না।
Book 24 · Hadith 47 · #3459 · Sahih, Sahih, Daif - 48
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন তখন সেখানকার লোকেরা এক, দুই অথবা তিন বছরের মেয়াদে খেজুর অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ অগ্রিম খেজুর ক্রয়-বিক্রয় করলে তাকে তা নির্দিষ্ট পরিমাপে, নির্দিষ্ট ওজনে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে করতে হবে।
Book 24 · Hadith 48 · #3460 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2240) Sahih Muslim (1604) - 49
। মুহাম্মাদ অথবা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুজালিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পর্কে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ও আবূ বুরদার (রাঃ) মতভেদ করেন। তারা আমাকে ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর যুগে গম, বার্লি, খেজুর এবং কিসমিস অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতাম। ইবনু কাসীরের বর্ণনায় রয়েছেঃ এমন লোকদের নিকট থেকে অগ্রিম ক্রয় করা হতো যাদের কাছে এগুলো বর্তমান থাকতো না। এরপর তারা (হাফস ইবনু ‘উমার ও ইবনু কাসীর) একইরূপ বর্ণনা করেন। অতঃপর আমি ইবনু আবযাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনিও একই কথা বলেছেন।
Book 24 · Hadith 49 · #3461 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2243) - 50
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুজালিদ (রহঃ) অথবা ইবনু আবুল মুজালিদ (রহঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণিত। তিনি (ইবনু আবূ আওফা) বলেন, এমন লোকদের কাছ থেকে অগ্রিম ক্রয় করতাম যাদের কাছে এগুলো বর্তমান থাকতো না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সঠিক হলো ইবনু আবুল মুজালিদ নামটি। শু‘বাহ তার বর্ণনায় ভুল করেছেন।
Book 24 · Hadith 50 · #3462 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 51
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আওফা আল-আসলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সিরিয়ার যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন সেখানকার কৃষকরা আমাদের কাছে আসলো। ‘আমরা তাদের থেকে গম এবং যাইতূন নির্ধারিত দামে ও নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রিম কিনতাম। তাকে বলা হলো, আপনারা কি এমন লোকের কাছ থেকে অগ্রিম কিনতেন যার কাছে তা বর্তমান থাকতো? তিনি বলেন, তাদের নিকট ঐ বস্তু আছে কি না তা ‘আমরা জিজ্ঞেস করতাম না।
Book 24 · Hadith 51 · #3463 · Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Sahih - 52
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির একটি গাছের খেজুর অগ্রিম কিনলো। কিন্তু ঐ বছর কোনো ফল ধরলো না। তারা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনি বললেনঃ তুমি কিসের বিনিময়ে তার মাল (নিজের জন্য) বৈধ মনে করলে? তার মাল তাকে ফেরত দাও। অতঃপর তিনি বললেনঃ গাছের খেজুর পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তার অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করবে না।
Book 24 · Hadith 52 · #3464 · Daif, Daif, Daif, Daif - 53
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো বস্তু অগ্রিম কিনেছে, সে যেন ঐ বস্তুকে (হস্তগত করার পূর্বে) অন্যের নিকট হস্তান্তর না করে।
Book 24 · Hadith 53 · #3465 · Daif, Daif, Daif, Daif - 54
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি (বাগানের) ফল কিনে লোকসানে পড়ে খুব ঋণগ্রস্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে সাদাকাহ প্রদান করো। লোকেরা সাদাকাহ দিলো কিন্তু তা তার ঋণ পরিশোধ সমপরিমাণ হলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (হে পাওনাদার) যা পেয়েছো তা নিয়ে যাও, এর অতিরিক্ত আর পাবে না।
Book 24 · Hadith 54 · #3466 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1556) - 55
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যদি তোমার কোনো ভাইয়ের কাছে বাগানের খেজুর বিক্রি করো এবং তা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার কাছ থেকে কোনো মূল্য গ্রহণ তোমার জন্য বৈধ নয়। তুমি কিসের বিনিময়ে তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে মূল্য গ্রহণ করবে?
Book 24 · Hadith 55 · #3467 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1554) - 56
। ‘আতা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘জায়িহাহ’ বলা হয় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে যাতে প্রকাশ্য ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। যেমন অতিবৃষ্টি, তুষারপাত, পঙ্গপালের আক্রমণ, ঝড়, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
Book 24 · Hadith 56 · #3468 · Hasan Maqtu, Hasan Maqtu, Maqtu, Isnaad Hasan - 57
। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মূলধনের এক-তৃতীয়াংশের কম বিনষ্ট হলে তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ গণ্য নয়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, এটাই মুসলিমদের প্রচলিত নিয়ম।
Book 24 · Hadith 57 · #3469 · Hasan Maqtu, Hasan Maqtu, Maqtu, Isnaad Hasan - 58
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতিরিক্ত পানি থেকে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। কেননা এতে ঘাস (বাঁচিয়ে রাখাকেই) বাধা দেয়া হবে।
Book 24 · Hadith 58 · #3470 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 59
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তিন ধরণের লোকের সাথে মহান আল্লাহ কথা বলবেন না- (১) যে ব্যক্তি তার কাছে রক্ষিত অতিরিক্ত পানি থেকে পথিক ব্যক্তিকে বাঁধা দেয়; (২) যে ব্যক্তি আসরের পর কোনো জিনিসের মূল্য নিয়ে মিথ্যা শপথ করে এবং (৩) যে ব্যক্তি ইমামের কাছে বাই‘আত গ্রহণ করে। এরপর ইমাম তাকে পার্থিব স্বার্থ দান করলে সে তার আনুগত্য করে, আর স্বার্থ হাসিল না হলে আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করে।
Book 24 · Hadith 59 · #3471 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2672) Sahih Muslim (108) - 60
। আল আ‘মাশ (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত। এই আরো রয়েছেঃ (আল্লাহ) তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে নির্মম শাস্তি। আর মালের উপর কসম খাওয়ার অর্থ হলো এরূপ বলাঃ আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, এ মাল এতো এতো দামে কিনতে চেয়েছিল। এ কথা শুনে বর্তমান ক্রেতা বিশ্বাস করে তার নির্ধারিত মূল্যে তা কিনে নিলো।
Book 24 · Hadith 60 · #3472 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2672) Sahih Muslim (108) - 61
। বুহাইসাহ নাম্নী নামক জনৈক মহিলা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চেয়ে তাঁর শরীরের জামার ভেতর মুখ ঢুকিয়ে তাকে চুমু দিলেন এবং জড়িয়ে ধরলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর নবী! কোনো জিনিস থেকে বাধা দেয়া হালাল নয়? তিনি বললেনঃ ‘পানি।’ তিনি আবার বললেন, হে আল্লাহর নবী! কোনো জিনিস থেকে বাধা দেয়া হালাল নয়? তিনি বললেনঃ ‘লবণ।’ তিনি আবার বললেন, হে আল্লাহর নবী! কোনো জিনিস দেয়া থেকে নিষেধ করা যায় না? তিনি বললেনঃ তুমি যতো ভালো কাজ করবে তোমার ততোই মঙ্গলজনক হবে।
Book 24 · Hadith 61 · #3473 · Daif, Daif, Daif, Daif - 62
। আবূ খিদাশ (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক মুহাজির সাহাবীর কাছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তিনবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ মুসলিমরা তিনটি জিনিসে সমানভাবে অংশীদারঃ পানি, ঘাস ও আগুন।
Book 24 · Hadith 62 · #3474 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 63
। ইয়াস ইবনু আবদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 63 · #3475 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 64
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয় মূল্য গ্রহণ করতে নিষিদ্ধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 64 · #3476 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih - 65
। জাবির (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়ালের বিক্রয় মূল্য (গ্রহন করতে) নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 65 · #3477 · Sahih, Sahih, Sahih - 66
। আবূ মাস‘ঊদ আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর বিক্রয় মূল্য, ব্যভিচারের মাধ্যমে অর্জিত আয় এবং গণকের ভেট নিষিদ্ধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 66 · #3478 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5761) Sahih Muslim (1567) - 67
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য নিষিদ্ধ করেছেণ। কেউ কুকুরের মূল্য চাইতে এলে মাটি দিয়ে তার হাতের মুষ্টি ভরে দিবে।
Book 24 · Hadith 67 · #3479 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Isnaad Sahih - 68
। আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তার পিতা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 68 · #3480 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 69
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুকুরের বিক্রয় মূল্য, গণকের ভেট এবং ব্যভিচারের মাধ্যমে আয় ভক্ষণ করা হালাল নয়।
Book 24 · Hadith 69 · #3481 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 70
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মদ ও মদের মূল্য হারাম করেছেন, মৃত জন্তু ও এর মূল্য হারাম করেছেন এবং শূকর ও এর মূল্য হারাম করেছেন।
Book 24 · Hadith 70 · #3482 · Sahih Hadith, Sahih, Isnaad Sahih - 71
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মক্কা বিজয়ের বছর সেখানে অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মদ, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তির ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি নৌকায় লাগানো হয়, চামড়া বস্তুতে ব্যবহার করা হয় এবং লোকজন এর দ্বারা বাতি জ্বালায়। এর ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? তিনি বলেনঃ না, এগুলো হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন! মহান আল্লাহ যখন তাদের জন্য চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা চর্বি গলিয়ে বিক্রি করলো এবং এর মূল্য ভক্ষণ করলো।
Book 24 · Hadith 71 · #3483 · Sahih, Sahih Bukhari (2236) Sahih Muslim (1581) - 72
। ইয়াযীদ বিনু আবূ হাবীব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আতা (রহঃ) জাবির (রাঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস আমাকে লিখে পাঠালেন। তিনি তাতে ‘এটি হারাম’ কথাটুকু উল্লেখ করেননি।
Book 24 · Hadith 72 · #3484 · Daif, Sahih, Sahih Bukhari (2236) Sahih Muslim (1581) - 73
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কা‘বার রুকনের নিকট বসে থাকতে দেখি। ইবনু আব্বাস বলেন, তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন এবং তিনবার বললেনঃ মহান আল্লাহ ইয়াহুদীদের অভিশপ্ত করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য চর্বি হারাম করেছিলেন। কিন্তু তারা তা বিক্রি করে এর মূল্য ভক্ষণ করতো। অথচ আল্লাহ যখন কোনো জাতির কোনো বস্তু খাওয়া হারাম করেন তখন তার মূল্যও হারাম করেন। খালিদ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ বর্ণিত হাদীসে ‘‘আমি তাঁকে দেখেছি’’ কথাটি উল্লেখ নেই। তিনি বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন।
Book 24 · Hadith 73 · #3485 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 74
। মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদ বিক্রি করলো, সে যেন (খাওয়ার জন্য) শূকরের গোশত প্রস্তুত করলো।
Book 24 · Hadith 74 · #3486 · Daif, Daif, Daif, Daif - 75
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূরা বাকারাহর শেষের দিকের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এসে আমাদেরকে তা পড়ে শুনালেন। তিনি বললেনঃ মদের ব্যবসা হারাম করা হয়েছে।
Book 24 · Hadith 75 · #3487 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2226) Sahih Muslim (1580) - 76
। আ‘মাশ (রহঃ) তার নিজস্ব সনদে একই অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, (সূরা বাকারাহর) শেষের আয়াতগুলো সুদ (হারাম) সম্পর্কিত।
Book 24 · Hadith 76 · #3488 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1580) - 77
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ খাদ্যশস্য ক্রয় করলে তার হস্তগত না করার পর্যন্ত পুনরায় বিক্রি করবে না।
Book 24 · Hadith 77 · #3489 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2136) Sahih Muslim (1526) - 78
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে খাদ্যশস্য কিনতাম। আমাদের নিকট লোক পাঠানো হতো যিনি আমাদেরকে আদেশ করতেনঃ পুনরায় বিক্রি করার পূর্বে যে স্থানে ‘আমরা তা কিনেছি সেখান থেকে তা অন্যত্র সরিয়ে নিবে।
Book 24 · Hadith 78 · #3490 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1527) - 79
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বাজারের একটি উঁচু জায়গায় স্তূপ করে খাদ্যশস্য কিনতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রয়কৃত বস্তু অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেন।
Book 24 · Hadith 79 · #3491 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1526) - 80
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাপে খাদ্যশস্য কেনার পর তা হস্তগত করার পূর্বে পুনরায় বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 80 · #3492 · Sahih, Sahih, Daif - 81
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ খাদ্যবস্তু কিনে তা পরিমাপ করার পূর্বে যেন পুনরায় বিক্রি না করে। বর্ণনাকারী আবূ বাকরের বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ তিনি (তাউসের পিতা) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তা কেন? তিনি বলেন, তুমি দেখছো না! তারা সোনার (দীনারের) বিনিময়ে খাদ্যশস্য বিক্রি করতো, অথচ ঐ খাদ্যশস্য বিক্রেতার দখলেই আছে।
Book 24 · Hadith 81 · #3493 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1525) - 82
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন খাদ্যশস্য কিনে তা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি না করে। মুসাদ্দাদ অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আমার মতে প্রত্যেক জিনিসের ক্ষেত্রেই খাদ্যদ্রব্যের অনুরূপ হুকুম।
Book 24 · Hadith 82 · #3494 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2135) Sahih Muslim (1525) - 83
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাদ্যশস্যের স্তূপ ক্রয় করে তা নিজের গন্তব্য স্থানে পৌঁছানোর আগে বিক্রির অপরাধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লোকদেরকে মারধোর করা হতো।
Book 24 · Hadith 83 · #3495 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6852) Sahih Muslim (1527) - 84
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বাজারে গিয়ে যাইতুন কিনলাম। তা আমার হস্তগত হলে এক ব্যক্তি এসে আমাকে এর একটা ভালো মুনাফা দিতে চাইলো। আমি তাকে যাইতূন প্রদানের ইচ্ছা করলে পেছন থেকে এক ব্যক্তি আমার বাহু ধরলেন। তাকিয়ে দেখি, যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ)। তিনি বললেন, যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে বিক্রি করবেন না, আপনার স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করুন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ীদেরকে পণ্যদ্রব্য ক্রয়ের পর নিজের জায়গায় স্থানান্তরিত করার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
Book 24 · Hadith 84 · #3496 · Hasan, Hasan Lighairihi, Hasan, Isnaad Hasan - 85
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক লোক অভিযোগ করলো যে, সে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় প্রতারিত হয়। তিনি তাকে বললেনঃ যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে তখন বলবে, ‘ধোঁকাবাজি করা চলবে না।’ অতঃপর লোকটি যখন ক্রয়-বিক্রয় করলো তখন বলতো, ‘যেন ধোঁকাবাজি না করা হয়।’
Book 24 · Hadith 85 · #3497 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2117) Sahih Muslim (1533) - 86
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তির জ্ঞান-বুদ্ধি কম থাকায় ক্রয়-বিক্রয়ে ঠকে যেতো। তার পরিবারের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে অভিযোগ করলো, হে আল্লাহর নবী! অমুককে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দিন। কারণ এ বিষয়ে তার জ্ঞানবুদ্ধি কম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে এনে ক্রয়-বিক্রয়ে জড়াতে নিষেধ করলেন। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ক্রয়-বিক্রয় থেকে আমি ধৈর্য ধরতে পারবো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি ক্রয় বিক্রয় ছাড়তে না পারো তাহলে লেনদেন করার সময় বলবে, মূল্য দাও, পণ্য নাও, খবরদার! ধোঁকাবাজি করা চলবে না।
Book 24 · Hadith 86 · #3498 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 87
। ‘আমর ইবনু শুআইব তার পিতা থেকে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরবান পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। আমার মতে এ ধরণের পদ্ধতি নিম্নরূপঃ কেউ একটি গোলাম কিনলো অথবা পশু ভাড়া করলো, তারপর বললো, আমি তোমাকে এই শর্তে একটি দীনার (বায়না) দিলাম যে, যদি আমি গোলাম ক্রয় না করি অথবা পশু ভাড়া না নেই তাহলে এই দীনার তোমার।
Book 24 · Hadith 87 · #3499 · Daif, Daif, Hasan - 88
। হাকিম ইবনু হিযাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি আমার নিকট এসে এমন জিনিস কিনতে চায় যা আমার কাছে নেই। আমি কি বাজার থেকে তার জন্য ঐ জিনিস কিনে আনবো? তিনি বলেনঃ তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না।
Book 24 · Hadith 88 · #3500 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 89
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিক্রয়ের সাথে ঋণের শর্ত যোগ করা, একই লেনদেনে দু’ রকম শর্ত নির্ধারণ করা, যিম্মাদারী ছাড়া কোনো বস্তু থেকে মুনাফা গ্রহণ করা এবং যা তোমার কাছে নেই তা বিক্রি করা জায়িয নয়।
Book 24 · Hadith 89 · #3501 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 90
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার উট বিক্রি করি এই শর্তে যে, আমি তাতে আরোহণ করে বাড়ি পৌঁছবো। অতঃপর বর্ণনাকারী অবশিষ্ট ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কি মনে করছো, আমি তোমার উটটি কিনতে বিলম্ব করছি, এ জন্য যে, তোমার কাছ থেকে তা (কম দামে) নিবো? যাও! তুমি তোমার উট এবং সাথে এর মূল্যও নিয়ে যাও। তুমি দু’টোই নাও।
Book 24 · Hadith 90 · #3502 · Sahih Hadith, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2718) Sahih Muslim (715 After 1599) - 91
। উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিক্রয়ের পর দাস অথবা দাসীর মধ্যে দোষ পরিলক্ষিত হলে বিক্রেতা তিনদিন পর্যন্ত দায়ী থাকবে।
Book 24 · Hadith 91 · #3503 · Daif, Daif, Daif - 92
। কাতাদাহ (রহঃ) তার সনদে একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বর্ণনা করেন, ক্রেতা তিনদিনের মধ্যে কোনো দোষ দেখতে পেলে বিনা প্রমাণে ফেরত দিতে পারবে। আর তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ত্রুটি দেখতে পেলে ক্রেতাকে প্রমাণ দিতে হবে যে, তার ক্রয়ের সময়ই এই দোষ বিদ্যামান ছিলো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এটা কাতাদাহর নিজস্ব ব্যাখ্যা।
Book 24 · Hadith 92 · #3504 · Daif, Daif, Daif, Daif - 93
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফা ঝুকির অনুগামী।
Book 24 · Hadith 93 · #3505 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 94
। মাখলাদ ইবনু কুফাক আল গিফারী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং কতিপয় লোকের যৌথ মালিকানায় একটি গোলাম ছিলো। কতিপয়ের অংশীদারের অনুপস্থিতিতে আমি তাকে কাজে নিয়োগ করলে সে আমার জন্য কিছু উপার্জন করে আনলো। আমার এক অংশীদার এই আয়ে তার অংশ দাবী করে কোনো এক বিচারকের কাছে মোকাদ্দমা দায়ের করলো। বিচারক আমাকে অংশীদারের অংশ ফেরত দিতে নির্দেশ দিলেন। আমি উরওয়াহ ইবনুয যুবায়রের কাছে এসে বিষয়টি জানালাম। উরওয়াহ বিচারকের কাছে এসে তাকে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালা শুনালেনঃ মুনাফা ঝুকির সাথে সম্পৃক্ত।
Book 24 · Hadith 94 · #3506 · Hasan, Hasan, Hasan - 95
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি একটি কৃতদাস কিনলো। আল্লাহ যতদিন চাইলেন গোলামটি তার কাছেই থাকলো। অতঃপর সে তার মধ্যে দোষ দেখতে পেলো। তখন লোকটি বিক্রেতার বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অভিযোগ পেশ করলো। তিনি গোলামটি বিক্রেতাকে ফেরত দিলেন। বিক্রেতা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার গোলাম এতদিনে যা উপার্জন করেছে (তা কি হবে)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুনাফা ঝুকির সাথে সম্পৃক্ত। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসের সনদ তেমন নির্ভরযোগ্য নয়।
Book 24 · Hadith 95 · #3507 · Hasan, Hasan Lighairihi, Hasan Sahih, Daif - 96
। ‘আব্দুর রাহমান ইবনু কায়িস ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল আশ‘আস (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (কায়িস) বলেন, আশ‘আস (রাঃ) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছ থেকে বিশ হাজার দিরহামে কয়েকটি গোলাম কিনলেন। এগুলো তিনি পেয়েছিলেন গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ থেকে। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) তার কাছে দাম চেয়ে পাঠালেন। তিনি বললেন, আমি দশ হাজার দিরহামে কিনেছি। ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেনঃ তুমি এমন কোনো ব্যক্তিকে বেছে নাও, যিনি আমার ও তোমার মাঝে মধ্যস্ততা করবে। ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতভেদ হলে যদি এ ব্যাপারে কারো কাছে কোনো প্রমাণ না থাকে তাহলে পণ্যের মালিকের কথা গ্রহণযোগ্য হবে কিংবা উভয়েই চুক্তি বাতিল করবে।
Book 24 · Hadith 96 · #3508 · Sahih, Sahih, Hasan - 97
। আল-কাসিম ইবনু ‘আব্দুর রাহমান (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) আশ‘আস ইবনু কায়িস (রাঃ)-এর কাছে কিছু গোলাম বিক্রি করেন। অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে কিছু কম-বেশী আছে।
Book 24 · Hadith 97 · #3509 · Sahih, Sahih, Hasan - 98
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক শরীকানা সম্পদে শুফ‘আর অধিকার আছে। চাই তা বাড়ি হোক কিংবা বাগান। অন্যান্য শরীকদের না জানিয়ে তা বিক্রি করা উচিত নয়। কেউ যদি শরীককে না জানিয়ে বিক্রি করে তাহলে অপর শরীকদের শুফ‘আর অধিকারী হবে। অবশ্য সে বিক্রিতে সম্মতি দিলে ভিন্ন কথা।
Book 24 · Hadith 98 · #3510 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1608) - 99
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সম্পত্তিতে শুফ‘আর ব্যবস্থা রেখেছেন যা এখনো বণ্টন করা হয়নি। সীমানা চিহ্নিত হয়ে গেলে এবং পৃথক রাস্তা করা হলে আর শুফ‘আর অধিকার থাকে না।
Book 24 · Hadith 99 · #3511 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6976) - 100
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন যমীন ভাগ করা হয়ে যায় এবং সীমানা নির্ধারণ করা হয়ে যায়, তখন আর শুফ‘আর অধিকার থাকে না।
Book 24 · Hadith 100 · #3512 · Sahih, Sahih, Hasan - 101
। আবূ রাফি‘ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ প্রতিবেশী তার নৈকট্যের কারণে শুফ‘আর অধিক হকদার।
Book 24 · Hadith 101 · #3513 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6977) - 102
। সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘরের নিকটবর্তী প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর ঘর ও জমি কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
Book 24 · Hadith 102 · #3514 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 103
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর শুফ‘আর বেশী হকদার। সে অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
Book 24 · Hadith 103 · #3515 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 104
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি কেউ দেউলিয়া হয়ে যায় তাহলে যে ব্যক্তি তার কাছে নিজের মাল অক্ষত অবস্থায় পাবে সেই ঐ মালের অধিক হকদার হবে। অন্যান্য পাওনাদারের তুলনায়।
Book 24 · Hadith 104 · #3516 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2402) Sahih Muslim (1559) - 105
। আবু বাকর ইবনু ‘আব্দুর রাহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি মাল বিক্রি করার পর যদি ক্রেতা দেউলিয়া হয়ে যায় এবং বিক্রেতা তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে না পারে তাহলে সে তার বিক্রিত পণ্য ক্রেতার নিকট অক্ষত অবস্থায় পেলে সেই হবে ঐ মালের অধিক হকদার। ক্রেতা মারা গেলে বিক্রেতা অন্যন্যা পাওনাদারের মতই একজন পাওনাদার গণ্য হবে।
Book 24 · Hadith 105 · #3517 · Sahih, Sahih, Sahih - 106
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। এতে রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ক্রেতা পণ্যের মূল্য কিছু পরিশোধ করে থাকে তাহলে বিক্রেতা তার অবশিষ্ট পাওনার ক্ষেত্রে অন্যান্য পাওনাদারের মতই একজন পাওনাদার গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার কাছে বিক্রেতার মাল অক্ষত রয়েছে। তাহলে বিক্রেতা তার কাছে কিছুটা মূল্য পেয়ে থাকুক বা না থাকুক, উভয় অবস্থায়েই সে অন্যান্য পাওনাদারের মতই গণ্য হবে।
Book 24 · Hadith 106 · #3518 · Sahih, Sahih, Sahih - 107
। আবূ বাকর ইবনু ‘আব্দুর রাহমান ইবনুল ইবনু হিশাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতঃপর মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছেঃ সে মূল্যের কিছু অংশ পরিশোধ করে থাকলে বিক্রেতা অপরাপর পাওনাদারের মতই একজন পাওনাদার গণ্য হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মালিক বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর সহীহ।
Book 24 · Hadith 107 · #3519 · Sahih, Sahih, Sahih - 108
। ‘উমার ইবনু খালদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আমরা আমাদের এক দেউলিয়া সাথীর মোকদ্দমা নিয়ে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি তোমাদের অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ ফায়সালা প্রদান করবো। তা হলোঃ কেউ দেউলিয়া হয়ে গেলে অথবা মারা গেলে পাওনাদার যদি তার মাল ঐ ব্যক্তির কাছে অক্ষত অবস্থায় পায় তাহলে মালিকই ঐ মালের অধিক হকদার।
Book 24 · Hadith 108 · #3520 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 109
। আবান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আমির আশ-শা‘বী (রহঃ) তার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পশুকে মালিক খাওয়াতে অক্ষম হয়ে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিলো। এখন যে ব্যক্তি পশুটি কুড়িয়ে নিয়ে সেবা-যত্ন করে সুস্থ-সবল করে তুলবে সেই হবে পশুটির মালিক। আবানের হাদীসে রয়েছেঃ ‘উবাইদুল্লাহ (রহঃ) ‘আমির আশ-শা‘বী (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এ হাদীস কার থেকে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাধিক সাহাবীর কাছ থেকে শুনেছি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এটি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীস এবং এটি অধিক স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ।
Book 24 · Hadith 109 · #3521 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 110
। আশ-শা‘বী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি তার কোনো পশুকে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অবস্থায় পরিত্যাগ করলে যে ব্যক্তি এটাকে তুলে নিয়ে সেবা-যত্নের মাধ্যমে সুস্থ-সবল করে তুলবে সে-ই হবে এর মালিক।
Book 24 · Hadith 110 · #3522 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 111
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুবর্তী পশু বন্ধক রাখা হলে তাকে খাদ্য খাওয়ানোর বিনিময়ে তার দুধ দোহন করা যাবে। আরোহণের পশু বন্ধক রাখা হলে তাকে ঘাস খাওয়ানোর বিনিময়ে তাতে আরোহণ করা যাবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমাদের মতে হাদীসটি সহীহ।
Book 24 · Hadith 111 · #3523 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2512) - 112
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর আমাদের অবহিত করুন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাদের মুখমন্ডল যেমন নূর এবং তারা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তারা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’’(সূরা ইউনুসঃ)
Book 24 · Hadith 112 · #3524 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 113
। ‘উমারাহ ইবনু উমাইর (রহঃ) তার ফুফুর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার প্রতিপালনে একটি ইয়াতীম রয়েছে। আমি কি তার মাল থেকে খেতে পারি? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্য সর্বোত্তম খাদ্য। তার সন্তানও তার উপার্জন বিশেষ।
Book 24 · Hadith 113 · #3525 · Sahih, Sahih, Sahih - 114
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির সন্তান তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত বরং তার সর্বোত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তাদের সম্পদ থেকে ভোগ করতে পারো।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবনু আবূ সুলায়মানের বর্ণনায় রয়েছেঃ তোমরা মুখাপেক্ষী হয়ে পড়লে খাবে। এ কথাটুকু প্রত্যাখ্যাত।
Book 24 · Hadith 114 · #3526 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 115
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদও আছে সন্তানও আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি বলেনঃ তুমি এবং তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার। তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য সর্বোত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন খাবে।
Book 24 · Hadith 115 · #3527 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 116
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্য কারো কাছে নিজের মাল অক্ষত অবস্থায় পেয়েছে সে তার অধিক হকদার। ক্রেতা তো মালের বিক্রেতাকেই ধরবে।
Book 24 · Hadith 116 · #3528 · Daif, Daif, Daif - 117
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর মা হিন্দা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক। তিনি আমার ও আমার সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ খরচ দেন না। আমি তার মাল থেকে খরচের জন্য কিছু নিলে অন্যায় হবে কি? তিনি বললেন, তোমরা ও তোমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হয় এরূপ পরিমাণ মাল ন্যায়সঙ্গতভাবে নিতে পারো।
Book 24 · Hadith 117 · #3529 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2211) Sahih Muslim (1714) - 118
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হিন্দা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক। আমি যদি তার বিনা অনুমতিতে তার মাল থেকে তার সন্তানদের জন্য খরচ করি তাহলে আমার অন্যায় হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাদের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে খরচ করলে অন্যায় হবে না।
Book 24 · Hadith 118 · #3530 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1714) - 119
। ইউসুফ ইবনু মাল-মাক্কী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির প্রতিপালনে কিছু ইয়াতীম ছিলো। সে তাদের ভরণপোষণের খরচ বহন করতো। আমি এর হিসাব লিখে রাখতাম। একদা ইয়াতীমরা তাকে এক হাজার দিরহামের ভুল হিসাব দিলে সে তাদের তা প্রদান করলো। কিন্তু পরে আমি হিসাব করে ঐ পরিমাণ মাল ইয়াতীমদের মালের মধ্যে পেলাম। আমি বললাম, তারা তোমার কাছ থেকে ভুল হিসাব দিয়ে যে এক হাজার দিরহাম নিয়েছে তা ফেরত নাও। সে বললো, না আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি তোমার কাছে কিছু আমানত রেখেছে তাকে তা ফেরত দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার সাথে খিয়ানাত করেছে তুমি তার সাথে খিয়ানাত করো না।
Book 24 · Hadith 119 · #3531 · Sahih, Sahih, Daif - 120
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ তোমার কাছে আমানাত রাখলে তা তাকে ফেরত দাও। যে ব্যক্তি তোমার সাথে খিয়ানাত করেছে তুমি তার সাথে খিয়ানাত করো না।
Book 24 · Hadith 120 · #3532 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif, Daif - 121
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপহার গ্রহণ করতেন এবং তিনি এর পরিবর্তে অন্যকেও (উপহার) দিতেন।
Book 24 · Hadith 121 · #3533 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2585) - 122
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আজকের দিনের পর থেকে আমি কুরাইশ মুহাজির, আনসার এবং দাওস অথবা সাক্বীফ গোত্রের লোক ছাড়া অন্য কারো উপঢৌকন নিবো না।
Book 24 · Hadith 122 · #3534 · Sahih, Sahih, Sahih - 123
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দান করার পর ফেরত নেয়, তার উদাহরণ হচ্ছেঃ যে ব্যক্তি বমি করে তা পুনরায় ভক্ষণ করে। হাম্মাম (রহঃ) বলেন, কাতাদাহ (রহঃ) বলেছেন, ‘আমরা বমিকে হারাম মনে করি।
Book 24 · Hadith 123 · #3535 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2621) Sahih Muslim (1622) - 124
। ইবনু ‘উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোনো ব্যক্তির জন্যই (কাউকে কিছু) দেয়ার বা দান করার পর তা ফেরত নেয়া হালাল নয়। তবে পিতা পুত্রকে কিছু দান করার পর তা ফেরত নিতে পারবে। যে ব্যক্তি দান করার পর তা ফেরত নেয়, সে এমন কুকুরের মতো, যে পেট ভরে খাওয়ার পর বমি করে পুনরায় তা খায়।
Book 24 · Hadith 124 · #3536 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 125
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তির নিজের দান করা বস্তু ফেরত নেয় সে এমন কুকুরের মতো, যে বমি করে পুনরায় তা ভক্ষণ করে। দাতা দানকৃত বস্তু ফেরত চাইলে গ্রহীতা খতিয়ে দেখবে এবং জেনে নিবে, সে কি জন্য তার দানকৃত বস্তু ফেরত চাইছে। কারণ জানা গেলে তা ফেরত দিবে।
Book 24 · Hadith 125 · #3537 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 126
। আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোনো ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের জন্য কোনো বিষয়ে সুপারিশ করার কারণে যদি সে তাকে কিছু উপহার দেয় এবং সে তা গ্রহণ করে তাহলে সে সুদের একটি বড় দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো।
Book 24 · Hadith 126 · #3538 · Hasan, Hasan, Daif - 127
। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে অতিরিক্ত কিছু দিলেন। এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী ইবনু সালিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি তাকে একটি গোলাম দান করেন। বর্ণনাকারী (নু‘মান) বলেন, আমার মা ‘আমরাহ বিনতু রাওয়াহা (রাঃ) আমার পিতাকে বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাঁকে এ বিষয়ে সাক্ষী রাখুন। তিনি (পিতা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, আমি আমার ছেলে নু‘মানকে কিছু উপহার দিয়েছি। এ ব্যাপারে আপনাকে সাক্ষী রাখার জন্য ‘আমরাহ আমাকে অনুরোধ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেন, সে ছাড়াও তোমার আরো সন্তান আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি তোমার প্রত্যেক সন্তানকে অনুরূপ দিয়েছো, যেমন নু‘মানকে দিয়েছো? তিনি বললেন, না। কতিপয় মুহাদ্দিসের বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এটা অন্যায় কাজ।’’ আর কতিপয় মুহাদ্দিস বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এতো নীতি বিরোধী কাজ।’’ সুতরাং আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে সাক্ষী রাখো। মুগীরাহ (রাঃ) তার বর্ণিত হাদীসের উল্লেখ করেন, ‘‘তোমার সব সন্তানই সমান সৌভাগ্যবান হোক, এতে তুমি কি খুশি হবে না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে এর সাক্ষী রাখো।’’ মুজালিদ তার বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ‘‘তোমার উপর তাদের হক রয়েছে যে, তুমি তাদের সাথে সমান ব্যবহার করবে এবং তাদের প্রতি ইনসাফ করবে। যেমন অধিকার রয়েছে তাদের উপর তোমার; তারা সবাই তোমার সাথে সদ্ব্যবহার করুক।’’ ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যুহরীর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, কতিপয় বর্ণনাকারী ‘‘তোমার সন্তান’’ শব্দ বর্ণনা করেছেন। ইবনু খালিদ (রহঃ) বলেন, শা‘বীর বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ ‘‘সে ছাড়া তোমার আরো সন্তান আছে কি?’’ আবুদ দুহা (রহঃ) নু‘মান ইবনু বাশীর সূত্রে বর্ণিত হাদীসে বলেন, (সে ব্যতীত তোমার কি আরো সন্তান আছে)?’’
Book 24 · Hadith 127 · #3539 · Sahih, Sahih, Daif - 128
। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার পিতা তাকে একটি গোলাম দান করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নু‘মানকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এটি কার গোলাম? তিনি বললেন, আমার গোলাম, আমার পিতা আমাকে দান করেছেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ সে তোমার মতো তোমার অন্য ভাইদেরকেও কি দিয়েছে? নু‘মান বললেন, না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটি ফেরত দাও।
Book 24 · Hadith 128 · #3540 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1623) - 129
। নু‘মান ইবনু বশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের সাথে সমান আচরণ করো; তোমাদের সন্তানদের সাথে ইনসাফ করো।
Book 24 · Hadith 129 · #3541 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 130
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বাশীর (রাঃ)-এর স্ত্রী তাকে বলেন, আপনার গোলামটি আমার ছেলেক দিয়ে দিন এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাক্ষী রাখুন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, অমুকের কণ্যা (আমার স্ত্রী) আপনার কাছে আবেদন করেছে, আমি যেন তার ছেলেকে আমার গোলামটি দান করি। সে আমাকে এটাও বলেছে যে, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাক্ষী রাখুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার আরো ভাই আছে কি? বাশীর বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাকে যেরূপ দান করেছো অন্যদেরও কি সেরূপ দিয়েছো? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ এটা উচিত নয়। আমি সত্য ব্যতীত অন্য কিছুর সাক্ষী হই না।
Book 24 · Hadith 130 · #3542 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1624) - 131
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামী যদি স্ত্রীর সতীত্বের হিফাযাতকারী হয় তাহলে কোনো স্ত্রীর পক্ষে (স্বামীর বিনা অনুমতিতে) তার মাল থেকে ব্যয় করা জায়িয নয়।
Book 24 · Hadith 131 · #3543 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 132
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর বিনা অনুমতিতে কোনো স্ত্রীর পক্ষে (তার মাল থেকে) কিছু দান করা জায়িয নয়।
Book 24 · Hadith 132 · #3544 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Hasan - 133
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সারা জীবনের জন্য কাউকে কিছু দান করা জায়িয।
Book 24 · Hadith 133 · #3545 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2626) Sahih Muslim (1626) - 134
। সামুরাহ (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
Book 24 · Hadith 134 · #3546 · Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih - 135
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ সারা জীবনের জন্য প্রদত্ত বস্তু তাই প্রাপ্য যাকে তা দেয়া হয়।
Book 24 · Hadith 135 · #3547 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2625) Sahih Muslim (1625) - 136
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাকে সারা জীবনের জন্য কিছু দেয়া হয় তার মালিক সে-ই। তার অবর্তমানে যারা তার উত্তরাধিকারী হয় তারা এর উত্তরাধিকারী হবে।
Book 24 · Hadith 136 · #3548 · Sahih, Sahih, Sahih - 137
। জাবির (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
Book 24 · Hadith 137 · #3549 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih - 138
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সারা জীবনের জন্য কাউকে কিছু দান করে বলে, তাকে এবং তার উত্তরাধিকারীকে জীবনস্বত্ব দেয়া হলো। তাহলে এই জবনস্বত্ব মালিক সে এবং তার ওয়ারিসরা হবে, যা কখনো গ্রহীতার কাছ থেকে দাতার নিকট ফিরে আসবে না। কারণ সে এমনভাবে দান করেছে, যাতে উত্তরাধিকারস্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
Book 24 · Hadith 138 · #3550 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1625) - 139
। ইবনু শিহাব তার সনদ পরম্পরায় উপরের হাদীস অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
Book 24 · Hadith 139 · #3551 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih - 140
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ জীবনস্বত্ব দানের অনুমতি দিয়েছেন তা হলো, দাতা এরূপ বলবেঃ এটা তোমার জন্য এবং তোমার ওয়ারিসদের জন্য। কিন্তু সে যদি তা না বলে এটা বলেঃ ‘যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন এটা তোমার জন্য।’’ এ অবস্থায় (গ্রহীতার মৃত্যুর পর) ঐ দান দাতার নিকট ফেরত আসবে।
Book 24 · Hadith 140 · #3552 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1625) - 141
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা পুনরায় ফেরত পাবার আশায় এরূপ (বলে) দান করবে না যে, যদি আমি আগে মরে যাই তবে এটা তোমার; আর যদি তুমি আগে মরে যাও তবে এটা আমার। অথবা যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে এটা তোমার। যাকে রুকবা অথবা জীবনস্বত্ব দান করা হয় সেটা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য হয়ে যায়।
Book 24 · Hadith 141 · #3553 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1625) - 142
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী মহিলাকে তার পুত্র কর্তৃক দান করা একটি খেজুর বাগান সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছিলেন। অতঃপর মহিলাটি মারা গেলে তার ছেলে বললো, আমি তাকে তার জীবিত থাকাকালীন সময়ের জন্যই দান করেছিলাম। ছেলেটির আরো কয়েকটি ভাই ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জীবিত ও মৃত্যু উভয় অবস্থায়ই বাগানটি তার হয়ে গেছে। ছেলেটি বললো, বাগানটি আমি তাকে সাদাকাহ স্বরূপ দিয়েছিলাম। তিনি বললেনঃ তাহলে তো এটা তোমার থেকে দূরে সরে গেছে।
Book 24 · Hadith 142 · #3554 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 143
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে জীবনস্বত্ব দেয়া হয় সেটা তারই হয়ে যায়। রুকবা যাকে দেয়া সে-ই হয় এর স্বতাধিকারী।
Book 24 · Hadith 143 · #3555 · Sahih, Sahih, Sahih - 144
। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ কাউকে জীবনস্বত্বরূপে কিছু দান করে তাহলে যাকে তা দান করা হয়েছে সে-ই হবে জীবনে-মরণে এর স্বতাধিকারী। তোমরা রুকবা করো না। কেউ রুকবা করলে তা গ্রহীতার মালিকানায় চলে যায়।
Book 24 · Hadith 144 · #3556 · Hasan Sahih Isnaad, Hasan Sahih Isnaad, Hasan, Isnaad Sahih - 145
। মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জীবনস্বত্ব হলোঃ কোনো ব্যক্তি কাউকে বললো, যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে এটা তোমার। দাতা এরূপ বললে এটা গ্রহীতার হয়ে যাবে এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিসরা এর স্বতাধিকার হবে। আর রুকবা হলোঃ কোনো ব্যক্তির এরূপ বলা, যদি আমি আগে মারা যাই তবে এটা তোমার; আর যদি তুমি আগে মারা যাও তবে এটা আমার।
Book 24 · Hadith 145 · #3557 · Sahih Isnaad Maqtu, Sahih Isnaad Maqtu, Isnaad Hasan - 146
। সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাত দিয়ে গৃহীত জিনিস (ধার) গ্রহণকারী তা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তার যামিন থাকবে। বর্ণনাকারী হাসান (রহঃ) পরবর্তীকালের এ হাদীসটি ভুলে যান। অতঃপর বলেন, ধার গ্রহীতা আমানতদার। সুতরাং তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
Book 24 · Hadith 146 · #3558 · Daif, Daif, Daif - 147
। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। হুনাইনের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার লৌহবর্মসমূহ ধার হিসেবে গ্রহণ করলে সাফওয়ান বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি জোরপূর্বক নিলেন? তিনি বললেনঃ না, বরং ধার হিসেবে, এর কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
Book 24 · Hadith 147 · #3559 · Sahih, Sahih, Daif - 148
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাফওয়ান এর পরিবারের কিছু ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সাফওয়ান! তোমার নিকট যুদ্ধাস্ত্র আছে কি? সে বললো, ধার চাচ্ছেন না জোরপূর্বক নিবেন? তিনি বললেনঃ না, বরং ধার হিসেবে। সাফওয়ান তাঁকে তিরিশ থেকে চল্লিশটি লৌহবর্ম ধার দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করলেন। মুশরিকরা পরাজিত হলে সাফওয়ানের লৌহবর্মগুলো একত্র করে দেখা গেলো, কয়েকটি বর্ম হারিয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ানকে বললেনঃ ‘আমরা তোমার কয়েকটি বর্ম হারিয়ে ফেলেছি। ‘আমরা তোমাকে এর ক্ষতিপূরণ দিবো কি? সে বললো, না, হে আল্লাহর রাসূল! কারণ তখন আমার মনের অবস্থা যেমন ছিলো আজ তেমন নেই। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি ইসলাম কবূলের আগে এগুলো ধার দিয়েছিলেন, পরে ইসলাম কবূল করেন।
Book 24 · Hadith 148 · #3560 · Sahih, Daif - 149
। সাফওয়ানের পরিবারের লোকদের সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধার হিসেবে ... অতঃপর উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
Book 24 · Hadith 149 · #3561 · Daif, Sahih, Daif - 150
। আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করেছেন। কাজেই উত্তরাধিকারীদের জন্য কোনো ওয়াসিয়াত নেই। স্বামীর বিনা অনুমতিতে কোনো স্ত্রী তার ঘরের কিছু খরচ করবে না। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! খাদ্যদ্রব্যও নয়? তিনি বললেনঃ এটা তো আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ। অতঃপর তিনি বললেনঃ ধারকৃত বস্তু ফেরত দিতে হবে; দুগ্ধবতী পশুর দুধ পান শেষ হলে তা ফেরত দিতে হবে; ঋণ পরিশোধ করতে হবে এবং জামিনদার দায়বদ্ধ থাকবে।
Book 24 · Hadith 150 · #3562 · Sahih, Sahih, Hasan - 151
। সাফওয়ান ইবনু ইয়া‘লা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যখন আমার বার্তাবাহকরা তোমার নিকট আসবে, তাদেরকে তিরিশটি লৌহবর্ম ও তিরিশটি উট প্রদান করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি ক্ষতিপূরণ শর্তে ধার দেয়া নাকি ফেরত দেয়ার শর্তে ধার? তিনি বলেনঃ বরং ফেরত দেয়ার শর্তে।
Book 24 · Hadith 151 · #3563 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 152
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক স্ত্রীর ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় উম্মাহাতুল মু‘মিনীন রাসূলের জনৈক স্ত্রী তার খাদেমকে দিয়ে এক পেয়ালা খাবার পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ঘরে ছিলেন] সেই স্ত্রী (রাগান্বিত হয়ে) পেয়ালাটি হাতের দ্বারা আঘাত করে ভেঙ্গে ফেলেন। ইবনুল মুসান্না বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাঙ্গা টুকরা দু’টো উঠিয়ে নিয়ে একটিকে অপরটির সাথে জোড়া দিলেন এবং পড়ে যাওয়া খাবারগুলো উঠাতে লাগলেন এবং বললেনঃ তোমাদের মায়ের আত্মমর্যাদাবোধ জেগেছে (রাগ হয়েছে)। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় রয়েছেঃ তোমরা এগুলো খাও। তাদের খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি খাদেমসহ পেয়ালাটি আটকিয়ে রাখলেন। অতঃপর অক্ষত পেয়ালাটি তিনি খাদেমের হাতে তুলে দিলেন আর ভাঙ্গা পেয়ালাটি তাঁর ঘরে রেখে দিলেন।
Book 24 · Hadith 152 · #3564 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2481) - 153
। জাসরাহ বিনতু দাজাজাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সাফিয়্যাহর মতো সুস্বাদু খাবার রান্না করতে কাউকে আমি দেখিনি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাবার তৈরী করে পাঠালেন। এতে রাগান্বিত হয়ে আমি খাবারের পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলি। অতঃপর আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কৃতকর্মের কাফফারাহ কি? তিনি বলেনঃ অনুরূপ একটি পাত্র ও খাবারের বিনিময়ে অনুরূপ খাবার।
Book 24 · Hadith 153 · #3565 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 154
। হারাম ইবনু মুহাইয়্যাসা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা আল-বারাআত ইবনু আযিব (রাঃ)-এর উষ্ট্রী জনৈক ব্যক্তির বাগানে ঢুকে এর ফসল নষ্ট করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দিলেনঃ দিনের বেলায় বাগানের মালিক বাগানের হিফাযাত করবে এবং রাতের বেলায় পশুর মালিক পশুর হিফাযাত করবে।
Book 24 · Hadith 154 · #3566 · Sahih, Sahih, Daif - 155
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার একটি মোটাতাজা উষ্ট্রী ছিলো। যা একটি বাগানে প্রবেশ করে এর ক্ষতিসাধন করে। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিলেনঃ বাগানের মালিক দিবের বেলা বাগানের হিফাযাত করবে। আর পশুর মালিক রাতের বেলা পশুর হিফাযাত করবে। সুতরাং রাতের বেলা পশু কোনো ক্ষতিসাধন করলে তার ক্ষতিপূরণ দিবে পশুর মালিক।
Book 24 · Hadith 155 · #3567 · Sahih, Sahih, Daif, Daif