The Office of the Judge (Kitab Al-Aqdiyah)
- 1
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিকে বিচারকের পদে নিযুক্ত করা হলো, সে যেন বিনা ছুরিতে যাবাহ হলো।
Book 25 · Hadith 1 · #3568 · Sahih, Sahih, Hasan - 2
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তিকে জনগণের বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন বিনা ছুরিতে যাবাহ করা হলো।
Book 25 · Hadith 2 · #3569 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 3
। ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতী এবং অপর দু’ প্রকার বিচারক জাহান্নামী। জান্নাতী বিচারক হলো, যে সত্যকে বুঝে তদনুযায়ী ফায়সালা দেয়। আর যে বিচারক সত্যকে জানার পর স্বীয় বিচারে জুলুম করে সে জাহান্নামী এবং যে বিচারক প্রসূত ফায়সালা দেয় সেও জাহান্নামী।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ বিষয়ে উপরোক্ত হাদীসটি অধিক সহীহ, অর্থাৎ ইবনু বুরায়দাহর হাদীস-বিচারক তিন শ্রেণীর।
Book 25 · Hadith 3 · #3570 · Sahih, Sahih, Daif - 4
। ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরেছেনঃ কোন বিচারক বিচারকালে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত দিয়ে যদি সে সঠিক সিদ্ধান্ত দেয় তার জন্য দু’টি সওয়াব রয়েছে। পক্ষান্তরে বিচারক যদি চিন্তা-ভাবনার পর ভুল সিদ্ধান্ত দেয় তাহলে তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে।
Book 25 · Hadith 4 · #3571 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7352) Sahih Muslim (1716) - 5
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিচারক পদ চায় এবং তা পেয়েও যায়। অতঃপর তার ন্যায়পরায়ণতা যুলুমকে পরাজিত করে তাহলে সে জান্নাতী। আর যে ব্যক্তির যুলুম ইনসাফের উপর প্রাধান্য পাবে সে হবে জাহান্নামী।[1] দুর্বল: যঈফাহ (১১৮৬), মিশকাত
Book 25 · Hadith 5 · #3572 · Daif, Daif, Daif - 6
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান মোতাবেক বিচার ফায়সালা করে না, তারা কাফির... তারাই ফাসিক’’ (সূরা মায়িদাহঃ ৪৫-৪৭) পর্যন্ত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এ তিনটি আয়াত ইয়াহুদীদের সম্পর্কে, বিশেষ করে বনু কুরাইযাহ ও বনূ নাযীর গোত্রকে লক্ষ্য করে অবতীর্ণ হয়েছে।[1] সনদ হাসান সহীহ।
Book 25 · Hadith 6 · #3573 · Hasan Sahih Isnaad, Hasan Sahih Isnaad, Isnaad Hasan - 7
। আব্দুর রাহমান ইবনু বিশর আল-আযরাক আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কিনদার দু’ ব্যক্তির ঝগড়ারত অবস্থায় এসে উপস্থিত হলো। এ সময় আবূ মাসঊদ (রাঃ) এক বৈঠকে বসা ছিলেন। তারা উভয়ে বললো, আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়ার মত কেউ আছে কি? বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যক্তি বললো, আমি। আবূ মাসঊদ (রাঃ) এক মুষ্টি কংকর তুলে তার দিকে ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন, থামো! বিচারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করা নিন্দনীয়।[1] সনদ দুর্বল।
Book 25 · Hadith 7 · #3574 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 8
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি বিচারকের পদ চায় এবং এজন্য সাহায্য প্রার্থনা করে, তাকে তার নিজের উপর ছেড়ে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি বিচারক পদের জন্য লালায়িত হন এবং তা পাওয়ার জন্য কারো সাহায্য প্রার্থনা করে না, তাহলে আল্লাহ তাকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার ব্যাপারে একজন ফিরিশতা পাঠিয়ে সাহায্য করেন।[1] দুর্বল।
Book 25 · Hadith 8 · #3575 · Daif, Daif, Daif, Daif - 9
। আবূ মূসা (রাঃ) বর্ণনা করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা কখনো আমাদের কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ করবো না যে উক্ত পদের জন্য লালায়িত হয়।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 9 · #3576 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6923) Sahih Muslim (1824) - 10
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতাকে অভিসম্পাত করেছেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 10 · #3577 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 11
। আদী ইবনু উমাইরাহ আল-কিন্দা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তিকে আমাদের সরকারী কোন পদে নিয়োগ করার পর সে যদি আমাদের তহবিল থেকে একটি সূঁই কিংবা তার অধিক আত্মসাৎ করে তবে সে খেয়ানতকারী। কিয়ামতের দিন সে তার এই খেয়ানাতের বোঝা নিয়ে উপস্থিত হবে। তখন কালো বর্ণের জনৈক আনসার ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি যেন তাকে দেখছি। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আপনি নিয়ে নিন। তিনি বললেনঃ তুমি কি বললে? সে বললো, আমি আপনাকে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ আমি বলেছি, যাকে আমরা কোন দায়িত্ব দিয়েছি, সে কম-বেশি যা কিছুই আদায় করে আনবে তা জমা দিবে। তা থেকে তাকে যা প্রদান করা হবে সে তা নিবে, আর তাকে যা থেকে বিরত থাকতে বলা হবে সে তা থেকে বিরত থাকবে।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 11 · #3578 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1833) - 12
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামেনে বিচারক হিসাবে প্রেরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে বিচারক করে ইয়ামেনে পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি একজন নব যুবক, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেনঃ আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমার অন্তরকে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পথ দেখাবেন এবং তোমার কথাকে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। যখন তোমার সামনে বাদী-বিবাদী বসবে তখন তুমি যেভাবে এক পক্ষের বক্তব্য শুনবে অনুরূপভাবে অপর পক্ষের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিবে না। এতে তোমার সামনে মোকদ্দমার আসল সত্য প্রকাশিত হবে। আলী (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সন্দেহ পতিত হইনি।[1] হাসান।
Book 25 · Hadith 12 · #3579 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 13
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তো একজন মানুষ। তোমরা আমার নিকট তোমাদের মোকদ্দমা পেশ করে থাকো। হয় তো তোমাদের এক পক্ষ অপর পক্ষের চেয়ে অধিক বাকপটুতার সাথে নিজেদের যুক্তি-প্রমাণ পেশ করে থাকো। ফলে আমি তার বিবরণ অনুসারে তার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকি। এভাবে আমি যদি তাদের কোন ভাইয়ের হক থেকে কিছু অংশ তাকে দেয়ার দেই তবে সে যেন তা কখনো গ্রহণ না করে। কারণ আমি তাকে এভাবে আগুনের একটি টুকরাই দিলাম।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 13 · #3580 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6967) Sahih Muslim (1713) - 14
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দু’ জন লোক তাদের মীরাস সম্পর্কিত বিবাদ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। মৌখিক দাবি ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ ... অতঃপর উপরের হাদীসের অনুরূপ। একথা শুনে তারা দু’ জনে কাঁদতে লাগলো এবং পরস্পরকে বলতে লাগলো, আমার প্রাপ্য তোমার জন্য ছেড়ে দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে বললেনঃ তোমরা যেহেতু এরূপ করছো তখন একটা কাজ করো। বিতর্কিত জিনিসটি উভয়ে ভাগ করে নাও, যা নষ্ট হয়েছে তা অনুমান করো। অতঃপর বিবেচনা করে যার যা প্রাপ্য তাকে তা দিয়ে দাও।[1] দুর্বল।
Book 25 · Hadith 14 · #3581 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 15
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন, দু’ জন লোক তাদের মীরাস ও কিছু পুরানো আসবাব নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাদের বিবাদের মীমাংসা করবো আমার নিজের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, যে বিষয়ে আমার উপর কিছু অবতীর্ণ হয়নি।[1] দুর্বল।
Book 25 · Hadith 15 · #3582 · Daif, Daif, Hasan, Hasan - 16
। ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বললেন, হে জনসমাজ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা নির্ভুল। কেননা মহান আল্লাহ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছিয়ে দিতেন। কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে ধারণা ও শ্রমের পর্যায়ভুক্ত।[1] দুর্বল মাকতু।
Book 25 · Hadith 16 · #3583 · Daif Maqtu, Daif Maqtu, Daif - 17
। আবূ উসমান আম-শামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আমার (আবূ উসমান) মতে হুরাইয ইবনু উসমানের চেয়ে কোন শামবাসীই অধিক উত্তম নয়।[1] সহীহ মাকতু।
Book 25 · Hadith 17 · #3584 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih - 18
। আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, বাদী-বিবাদী উভয়ে বিচারকের সামনে বসবে। সনদ দুর্বলঃ মিশকাত (৩৭৮৬)।
Book 25 · Hadith 18 · #3585 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Daif - 19
। আবূ বাকরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার পুত্র আব্দুর রাহমানকে এ মর্মে লিখলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দু’ পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্ত না দেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 19 · #3586 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7158) Sahih Muslim (1717) - 20
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা (ইয়াহুদীরা) তোমার নিকট এলে তোমার এখতিয়ার রয়েছে তাদের বিচার মীমাংসা করার অথবা তাদেরকে উপেক্ষা করার (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪২)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আলোচ্য আয়াত এ আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছেঃ ‘‘অতএব আপনি আল্লাহর অবতীর্ণ করা আইন মোতাবেক লোকদের যাবতীয় বিষয়ে ফায়সালা করুন।’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪৮)।[1] সনদ হাসান।
Book 25 · Hadith 20 · #3587 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Isnaad Hasan - 21
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তারা যদি আপনার নিকট (নিজেদের মোকদ্দমা নিয়ে), আসে, তাহলে আপনার এখতিয়ার রয়েছে তাদের বিচার করার অথবা তাদেরকে উপেক্ষা করার। যদি আপনি (বিচার করতে) অস্বীকার করেন তবে তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর বিচার করলে ইনসাফের সাথেই করবেন। কেননা আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালবাসেন’’ (সূরা আল মায়িদাহঃ ৪২) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, বনী নাযীরের এক ব্যক্তি বনী কুরাইযাহর এক লোককে হত্যা করলে তারা দিয়াতের অর্ধেক পরিশোধ করতো। পক্ষান্তরে বনী কুরাইযাহ বনী নাযীরের কাউকে হত্যা করলে তাদেরকে পূর্ণ দিয়াত দিতে হতো। উক্ত আয়াত অবর্তীণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে সমতা প্রতিষ্ঠা করলেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 25 · Hadith 21 · #3588 · Hasan Sahih Isnaad, Hasan Sahih Isnaad, Daif - 22
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) কতিপয় সঙ্গীর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে ইয়ামেনে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন তখন বললেনঃ তোমার নিকট যখন কোন মোকদ্দমা আনা হবে, তখন তুমি কিসের ভিত্তিতে এর ফায়সালা করবে? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব মোতাবেক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যদি আল্লাহর কিতাবে এর কোন ফায়সালা না পাও? মু‘আয (রাঃ) বললেন, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত এবং আল্লাহর কিতাবে এর ফায়সালা না পাও? মু‘আয বললেন, তাহলে আমি ইজতিহাদ করবো এবং অলসতা করবো না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আযের বুকে হাত মেরে বললেনঃ সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধিকে আল্লাহর রাসূলের মনঃপুত কাজ করার তৌফিক দিয়েছেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৩৭৩৭)।
Book 25 · Hadith 22 · #3589 · Daif, Daif - 23
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে ইয়ামেনে প্রেরণ করলেন... অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
Book 25 · Hadith 23 · #3590 · Daif, Daif - 24
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম সমাজে পরস্পরের মধ্যে সন্ধি স্থাপন বৈধ। ইমাম আহমাদের বর্ণানয় রয়েছেঃ তবে এমন সন্ধি বৈধ নয় যা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করে। সুলাইমান ইবনু দাঊদের বর্ণনায় রয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিমরা নিজেদের (চুক্তিপত্রের) শর্তসমূহ পালন করতে বাধ্য।[1] হাসান সহীহ।
Book 25 · Hadith 24 · #3591 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 25
। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদে নাববীর মধ্যে ইবনু আবূ হাদরাদকে তার দেয়া ঋণ পরিশোধ করতে তাগাদা দিলেন। এ সময় উভয়ের কণ্ঠস্বর উঁচু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ঘর থেকে এগিয়ে এলেন এবং দরজার পর্দা উঠিয়ে তিনি কা‘ব ইবনু মালিককে ডেকে বললেনঃ হে কা‘ব! তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত। তিনি কা‘বকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমার প্রাপ্য ঋনের অর্ধেক ছেড়ে দাও। কা‘ব বললেন, আমি তাই করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঋণ গ্রহীতাকে) বললেনঃ উঠো এবং অবশিষ্ট ঋণ পরিশোধ কর।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 25 · #3592 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (471) Sahih Muslim (1558) - 26
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে উত্তম সাক্ষী সম্পর্কে জানাবো না? যে ব্যক্তি সাক্ষী খোঁজার আগেই সাক্ষী দেয় অথবা নিজের সাক্ষ্য সম্পর্কে জানায়, সেই উত্তম সাক্ষী। বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর সন্দিহান যে, তার পিতা শব্দদ্বয়ের কোনটি বলেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় কিন্তু জানে না যে, এতে কার উপকার হচ্ছে। হামদানী বলেন, শাসককে জানানো তার কর্তব্য। ইবনুস সারহ বলেন, সে শাসককে জানাবে।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 26 · #3593 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1719) - 27
। ইয়াহইয়া ইবনু রাশিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর অপেক্ষায় বসে রইলাম। তিনি বেরিয়ে এসে আমাদের নিকট বসলেন এবং বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যার সুপারিশ আল্লাহর নির্ধারিত কোন হাদ্দ বাস্তবায়িত করার পথে বাধা সৃষ্টি করে, সে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যে ব্যক্তি জেনে বুঝে মিথ্যা মামলা দেয়, সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত আল্লাহর অসন্তুষ্টি দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। যে ব্যক্তি কোন ঈমানদারের এমন দোষ বলে বেড়ায় যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামীদের আবর্জনার মধ্যে বসবাস করাবেন। অতএব তাকে শীঘ্রই তার কথা থেকে তওবা এবং ত্যাগ করা উচিত।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 27 · #3594 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 28
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিবাদে অন্যায়মূলক সাহায্য করলো সে আল্লাহর গযবে পতিত হলো।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া (২৩১৮)।
Book 25 · Hadith 28 · #3595 · Daif, Daif, Hasan - 29
। খুরাইম ইবনু ফাতিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি দাঁড়িয়ে তিনবার বললেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য। অতঃপর তিনি কুরআনের আয়াত পড়লেনঃ ‘‘অতএব তোমরা মূর্তির কদর্যতা থেকে দূরে থাকো, মিথ্যা কথা পরিহার করো, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও। তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।’’ (সূরা হাজ্জঃ ৩০-৩১)।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৩৭৭৯)।
Book 25 · Hadith 29 · #3596 · Daif, Daif, Daif - 30
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খিয়ানতকারী ও খিয়ানতকারীনীর সাক্ষ্য এবং নিজের ভাইয়ের সাথে শত্রুতা পোষণকারীর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কোন পরিবারের অধীনস্থ খাদেম ও আশ্রিত ব্যক্তির সাক্ষ্যও বর্জন করেছেন, তবে অন্যের পক্ষে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য বলেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, গিম্র অর্থ হলো শত্রুতা, কানি‘ অর্থ আশ্রিতজন, অধীনস্থ, বিশেষ ভৃত্যের মতো।[1] হাসান।
Book 25 · Hadith 30 · #3597 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 31
। সুলাইমান ইবনু মূসা থেকে আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ)-এর মাধ্যমে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খিয়ানাতকারী ও খিয়ানাতকারিনী, ব্যভিচারী ও ব্যভিচারীনী এবং কোন মুসলিম ভাইয়ের প্রতি হিংসা পোষণকারীর সাক্ষ্য বৈধ নয়।[1] হাসান।
Book 25 · Hadith 31 · #3598 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan - 32
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ শহরে বসবাসকারী লোকের জন্য জঙ্গলে, গ্রামে বা মরুভূমিতে বসবাসকারী লোকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 32 · #3599 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 33
। ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উকবাহ ইবনুল হারিস আমাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমার এক বন্ধু হাদীসটি ‘উকবাহ সূত্রে আমাকে বলেছেন। আমার বন্ধুর মাধ্যমে পাওয়া হাদীসটি আমি ভালভাবে মনে রেখেছি। ‘উকবাহ (রাঃ) বলেন, আবূ ইহাবের মেয়ে উম্মু ইয়াহইয়াকে আমি বিয়ে করি। একটি কালো মহিলা আমাদের নিকট এসে বললো, সে আমাদের উভয়কে দুধ পান করিয়েছেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে এ কথা অবহিত করলাম। কিন্তু তিনি আমার কথায় গুরুত্ব দিলেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে মিথ্যাবাদিনী। তিনি বললেনঃ তুমি তা কিভাবে জানলে? সে তো যা বলার বলেছে। তুমি তোমার স্ত্রীকে ত্যাগ করো।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 33 · #3600 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5104) - 34
। ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উবাইদ ইবনু আবূ মারইয়াম থেকে উকবাহ ইবনুল হারিসের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন...। আমি এটি সহীহ এবং যঈফে পাইনি।
Book 25 · Hadith 34 · #3601 · Daif, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 35
। আশ শা‘বী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। দাকূকাহ নামক শহরে এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু আসন্ন হলো। সে তার কৃত ওয়াসিয়াতের সাক্ষী রাখতে কোন মুসলিম না পেয়ে দু’ জন আহলে কিতাবকে সাক্ষী করে গেলো। তারা উভয়ে কুফায় এসে আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে তার ওয়াসিয়াত সম্পর্কে জানালো এবং তার পরিত্যক্ত সম্পদও পেশ করলো। আল-আশ‘আরী (রাঃ) বললেন, বিষয়টি এমন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ঘটেছিল। তিনি উভয়কে ‘আসর সালাতের পর আল্লাহর নামে শপথ করালেন। তারা উভয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে বললো, তারা খেয়ানত করেনি, মিথ্যা বলেনি, কিছু রদবদল করেনি, কিছু গোপন করেনি এবং কোনরূপ পরিবর্তন করেনি। এটাই ছিলো তার ওয়াসিয়াত এবং এ হলো তার পরিত্যক্ত সম্পদ। ফলে তিনি তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন।[1] সনদ সহীহ, যদি শা‘বী হাদীসটি আবূ মূসা থেকে শুনে থাকেন।
Book 25 · Hadith 35 · #3602 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Daif - 36
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহম গোত্রের এক লোক তামীম আদ-দারী ও ‘আদী ইবনু বাদ্দার সাথে বের হলো। সাহম গোত্রের লোকটি এমন স্থানে মারা গেলো যেখানে কোন মুসলিমের বসতি ছিলো না। তার সঙ্গীদ্বয় যখন তার পরিত্যক্ত মালামাল নিয়ে ফিরে আসলো, দেখা গেলো স্বর্ণের কারুকার্য খচিত একটি রূপার পেয়ালা হারিয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে শপথ করালেন। পাত্রটি পরে মক্কাতে পাওয়া গেলো। তারা (পাত্রের প্রাপক) বললো, আমরা এটা তামীম ও ‘আদীর কাছ থেকে কিনেছি। অতঃপর মৃত সাহমীর দু’ জন উত্তরাধিকারী দাঁড়িয়ে শপথ করে বললো, আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যর চেয়ে অধিক সত্য। আমাদের সাথী এ পাত্রটির মালিক ছিলো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাদের প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে...’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ১০৬-৮)।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 36 · #3603 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2780) - 37
। উমারাহ ইবনু খুযাইমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তার চাচা তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনের কাছ থেকে একটি ঘোড়া কিনলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঘোড়ার দাম নেয়ার জন্য তাঁর পিছে পিছে আসতে বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত চলতে লাগলেন। তাতে বেদুঈন পিছে পড়ে গেলো। তখন কতিপয় ব্যক্তি বেদুঈনের সামনে এসে দরদাম করতে শুরু করলো। তারা জানতো না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা কিনেছেন। বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে বললো, যদি আপনি কিনতে চান তবে কিনুন, নতুবা আমি এটা বিক্রি করে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেদুঈনের ডাক শুনে দাঁড়ালেন। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমার কাছ থেকে এটা ক্রয় করিনি? বেদুঈন বললো, আল্লাহর কসম! না, আমি আপনার নিকট তা বিক্রি করিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, আমি কিছুক্ষণ আগেই তোমার কাছ থেকে এটা কিনেছি। বেদুঈন বলতে লাগলো, তাহলে সাক্ষী পেশ করুন। তখন খুযাইমাহ ইবনু সাবিত (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তুমি এটা তাঁর নিকট বিক্রি করেছো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযাইমাহকে বললেনঃ তুমি কী সাক্ষ্য দিচ্ছো? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কথার সত্যতার অনুকূলে সাক্ষ্য দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযাইমাহর একার সাক্ষ্য দু’ জনের সাক্ষ্যের সমান গণ্য করলেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 37 · #3604 · Sahih, Sahih, Sahih - 38
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শপথ এবং একজনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 38 · #3605 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1712) - 39
। ‘আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। সালামাহ তার হাদীসে বলেন, আমর (রহঃ) বলেছেন, তা ছিলো অধিকারস্বত্ব সম্পর্কিত বিষয়।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 39 · #3606 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Sahih - 40
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাক্ষী এবং শপথের ভিত্তিতে ফায়সালা দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 40 · #3607 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 41
। রবী‘আহ (রহঃ) থেকে আবূ মুস‘আব সূত্রে উপরোল্লেখিত হাদীস বর্ণিত।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 41 · #3608 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 42
। যাবীব আল-আনবারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনবার গোত্রের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য প্রেরণ কররেন। তারা তাদেরকে তায়েফের কাছে রুকবাহ নামক জায়গায় গ্রেপ্তার করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এলো। আমি সকলের আগেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলাম। আমি বললাম, আসসালামু ‘আলাইকুম ইয়া নাবিয়্যাল্লাহি ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমাদের নিকট আপনার সৈন্যবাহিনী গিয়েছে এবং তারা আমাদেরকে ধরে নিয়ে এসেছে। অথচ আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং আমাদের পশুগুলোর কান চিরে ফেলেছি। যখন আনবার গোত্রের লোকেরা এসে পৌঁছলো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমরা এ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে ইসলাম কবূল করেছো এর কোনো প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেনঃ কে তোমার সাক্ষী? আমি বললাম, আনবার গোত্রের সামুরাহ এবং অন্য একজন, তার নামও তাঁকে বললাম। অতঃপর লোকটি সাক্ষ্য দিলো। সামুরাহ সাক্ষ্য দিতে চাইলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে সম্মত নয়। এখন তুমি কি তোমার অপর সাক্ষীর সাথে শপথ করবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে শপথ করালেন। আমি আল্লাহর নামে কসম করলাম, আমরা অমুক অমুক দিন ইসলাম কবূল করেছি এবং আমাদের পশুগুলোর কান চিরে ফেলেছি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈনিকদের বললেনঃ যাও, তোমরা অর্ধেক সম্পদ রাখো এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের গায়ে হাত দিও না। মহান আল্লাহ যদি মুজাহিদদের আমল নিষ্ফল হওয়া অপছন্দ না করতেন তবে আমি তোমাদের এক গাছি রশিও রেখে দিতাম না। যাবীর (রহঃ) বলেন, আমার মা আমাকে ডেতে বললেন, এ লোকটি (সৈন্য) আমার বিছানা নিয়ে গেছে। আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি জানালাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তাকে ধরে আনো। আমি তার ঘাড়ে আমার কাপড় জড়িয়ে তাকে ধরে নিয়ে এলাম এবং তার পাশে একই স্থানে দাঁড়ালাম। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমাদের দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে বললেন, তোমার বন্দীর ব্যাপারে কী করতে চাও? আমি আমার হাত থেকে তাকে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, অতঃপর লোকটিকে বললেনঃ এর মায়ের কাছ থেকে তুমি যে বিছানা নিয়ে এসেছো তা একে ফিরিয়ে দাও। সে বললো, হে আল্লাহর নবী! তা আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটির তরবারি খুলে নিয়ে তা আমাকে দিলেন, অতঃপর লোকটিকে বললেনঃ যাও, তাকে কয়েক সা‘ খাদ্যদ্রব্য প্রদান করো। সুতরাং সে আমাকে কয়েক সা‘ বার্লি দিলো।[1] দুর্বলঃ যঈফাহ (৫৭৩১)।
Book 25 · Hadith 42 · #3609 · Daif, Daif, Daif, Daif - 43
। আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। দু’ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি উট বা একটি পশুর দাবি পেশ করলো। তাদের উভয়েরই কোনো প্রমাণ ছিলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুটি উভয়কে দান করলেন।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া (২৬৫৬)।
Book 25 · Hadith 43 · #3610 · Daif, Daif, Hasan - 44
। সাঈদ (রহঃ) সূত্রে এ সনদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত।
Book 25 · Hadith 44 · #3611 · Hasan - 45
। কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। দু’ ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একই উটের মালিকানা দাবি করলো। উভয়ে দু’ জন করে সাক্ষীও পেশ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটটি উভয়ের মধ্যে সমানভাগে বণ্টন করলেন।[1] দুর্বলঃ মিশকাত
Book 25 · Hadith 45 · #3612 · Daif, Daif, Hasan - 46
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা দু’ ব্যক্তি একটি জিনিসের মালিকানার দাবি নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের বিবাদ পেশ করলো। তাদের উভয়েরই কোনো প্রমাণ ছিলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লটারীর মাধ্যমে নির্ধারণ করো কে কসম করবে, চাই তারা এটা পছন্দ করুক বা না করুন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 46 · #3613 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 47
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (বাদী-বিবাদী) উভয়েই কসম করা অপছন্দ বা পছন্দ করলে উভয়ের মধ্যে কে কসম করবে তা লটারীর মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 47 · #3614 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 48
। সাঈদ ইবনু আবূ আরূবাহ (রহঃ) থেকে ইবনু মিনহালের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, বিবাদটি ছিলো একটি পশুকে কেন্দ্র করে। বাদী-বিবাদী উভয়েরই কোন সাক্ষী ছিলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ কে করবে তা লটারীর মাধ্যমে নির্ধারণের আদেশ দিলেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 48 · #3615 · Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih, Daif - 49
। ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে লিখে পাঠালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাদীকে কসম খাওয়ানোর আদেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 49 · #3616 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2514، 1711) - 50
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে শপথ করানোর সময় বললেনঃ সেই আল্লাহর শপথ করো যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তোমার নিকট বাদীর কোনো পাওনা নেই। তিনি বিবাদীকে এ শপথ করিয়েছিলেন।[1] সনদ দুর্বলঃ মিশকাত (৩৭৭৪)।
Book 25 · Hadith 50 · #3617 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif, Hasan - 51
। আল-আশ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং এক ইয়াহুদী এক খন্ড জমির মালিক ছিলাম। সে আমার মালিকানা অস্বীকার করলে আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে যাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার কি সাক্ষী আছে? আমি বললাম, না। তিনি ইয়াহুদীকে বললেনঃ কসম খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে যখনই শপথ করবে, আমি আমার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবো। অতঃপর মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ও নিজেদের শপথসমূহ সামান্য মূল্যে বিক্রি করে, আর পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকিয়ে দেখবেন না, আর তাদেরকে পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য কঠিন ও পীড়াদায়ক শাস্তি রয়েছে।’’ (সূরা আল-ইমরানঃ ৭৭)[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 51 · #3618 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2616، 2617) Sahih Muslim (138) - 52
। আল-আশ‘আস ইবনু কায়িস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কিনদা এলাকার জনৈক ব্যক্তি ও হাদরামওতের এক লোক ইয়ামেন থেকে জমি সংক্রান্ত ঝগড়া নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তার পিতা আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছিলো, বর্তমানে তা তার দখলে রয়েছে। তিনি বললেনঃ তোমার কোনো সাক্ষী আছে কি? হাদরামী বললো, না। কিন্তু আমি তাকে শপথ করে বলতে পারি, আল্লাহ জানেন যে, তা আমার জমি এবং তার পিতা আমার এই জমিটা জবরদখল করে নিয়েছে- তাও সে অবহিত আছে। অতঃপর কিনদী শপথ করার জন্য তৈরী হলো। এভাবে হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 52 · #3619 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 53
। আলকামাহ ইবনু ওয়াইল (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হাদরামাওতের এক লোক ও কিনদার এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ লোক আমার পিতার এক খন্ড জমি জবরদখল করে নিয়েছে। কিনদী বললো, এটা আমার জমি, আমার হাতে আছে এবং আমিই তা চাষাবাদ করে আসছি, এর উপর তার কোনো অধিকার নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদরামীকে বললেনঃ তোমার কি কোনো সাক্ষী আছে? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তবে তোমাকে তার শপথের উপর নির্ভর করতে হবে। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো এক পাপাচরী, কি শপথ করছে তা পরোয়া করবে না এবং কোনো কিছু থেকেই সে বিরত হয় না। তিনি বললেনঃ তোমার কিছুই করার নেই, তোমাকে তার শপথের উপরই নির্ভর করতে হবে।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 53 · #3620 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (139) - 54
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীদেরকে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি মূসা (আঃ)-এর উপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন! তোমরা ব্যভিচারীর জন্য তাওরাতে কী ধরণের শাস্তির উল্লেখ দেখতে পাও? পুরো হাদীসটি রজম সংক্রান্ত ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া
Book 25 · Hadith 54 · #3621 · Daif, Daif, Daif - 55
। আয-যুহরী (রহঃ) থেকে এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে রয়েছেঃ মুযাইনাহ গোত্রের এক লোক যিনি জ্ঞানের অনুসরণ করেন এবং তার স্মৃতিশক্তি থেকে বলেন যে, সাঈদ ইবনুল মুসাইয্যাব (রহঃ) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] দুর্বল।
Book 25 · Hadith 55 · #3622 · Daif, Daif, Daif - 56
। ‘ইকরিমাহ সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সূরিয়াকে বললেনঃ ঐ আল্লাহর কসম করে তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যিনি ফেরাউন বাহিনীর অত্যাচার থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়েছেন, সাগর পার করে দিয়েছেন, তোমাদের উপর মেঘমালার ছায়াদান করেছেন, ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নামক খাদ্য অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমাদের উপর মূসা (আঃ)-এর মাধ্যমে তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন! বলো, তোমরা কি তোমাদের সেই কিতাবে রজমের শাস্তির আদেশ দেখতে পাও? ইবনু সূরিয়া বললো, আপনি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের বরাত দিয়েছেন। আপনার প্রশ্নের মিথ্যা উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 56 · #3623 · Sahih, Sahih, Daif - 57
। ‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ ব্যক্তির মাঝে ফায়সালা দিলেন। যার বিপক্ষে ফায়সালা দেয়া হলো সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাওয়ার সময় বললোঃ ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বোকামীর জন্য তিরস্কার করেন। কিন্তু তোমার তো চতুর হওয়া উচিত। যদি কোনো কারণে তুমি পরাজিত হতে তখন বলতে, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক।[1] দুর্বল।
Book 25 · Hadith 57 · #3624 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 58
। ‘আমর ইবনুশ শারীদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সচ্ছল ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ না করলে তার মান-সম্মানের উপর হস্তক্ষেপ করা যায় এবং তাকে শাস্তি দেয়া যায়। ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হলো, তার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা বৈধ এবং অর্থ তাকে আটক করা যাবে।[1] হাসান।
Book 25 · Hadith 58 · #3625 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 59
। হিরমাস ইবনু হাবীব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার এক ঋণগ্রহীতাকে নিয়ে এলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি তার পিছনে লেগে থাকো। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে তামীম গোত্রের সরদার! তোমার কয়েদীকে তুমি কি করতে চাও।[1] দুর্বল।
Book 25 · Hadith 59 · #3626 · Daif, Daif, Daif, Daif - 60
। বাহয ইবনু হাকীম (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অনুমানের ভিত্তিতে আটক করেছিলেন।[1] হাসান।
Book 25 · Hadith 60 · #3627 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 61
। বাহয ইবনু হাকীম থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি অর্থাৎ ইবনু কুদামাহর বর্ণনা মোতাবেক বাহয ইবনু হাকীমের দাদার ভাই বা তার চাচা, আর মু‘আম্মালের বর্ণনা মোতাবেক বাহযের দাদা মু‘আবিয়াহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুৎবা প্রদানের সময় তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, পুলিশ আমার প্রতিবেশীকে কেন আটক রেখেছে? কথাটা তিনি দু’ বার বললেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ বারই তার কথায় ভ্রূক্ষেপ করলেন না। অতঃপর তিনি কিছু একটা বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার প্রতিবেশীকে ছেড়ে দাও।[1] সনদ হাসান।
Book 25 · Hadith 61 · #3628 · Hasan Isnaad, Hasan Isnaad, Hasan, Isnaad Hasan - 62
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। বর্ণনাকারী আবূ নু‘আইম (রহঃ) জাবির (রাঃ)-কে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন। জাবির বলেছেন, আমি খায়বার এলাকায় যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। অতএব আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তাঁকে সালাম দিয়ে বললাম, আমি খায়বারে যেতে চাই। তিনি বললেনঃ যখন তুমি আমার প্রতিনিধির নিকট আসবে তখন তার কাছ থেকে পনোরো ওয়াসক নিবে। সে তোমার নিকট এর প্রমাণ চাইলে তুমি তার কণ্ঠনালীতে হাত রাখবে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (২৯৩৫)।
Book 25 · Hadith 62 · #3629 · Daif, Daif, Daif, Daif - 63
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা রাস্তা নিয়ে মতভেদ করলে তা সাত গজ পরিমাণ চ্যাপ্টা করো।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 63 · #3630 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 64
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার অপর ভাইয়ের নিকট তার দেয়ালের সাথে খুঁটি গাড়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে সে যেন তাকে নিষেধ না করে। এ হাদীস শুনে লোকেরা ঘাড় নীচু করলো। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, কী ব্যাপার! তোমরা এ হাদীস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছো? আমি তোমাদের জন্য এ হাদীস শিরোধার্য করে দিবো।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 64 · #3631 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih Bukhari (2463) Sahih Muslim (1609) - 65
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথী আবূ সিরমাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ অপরের ক্ষতি করলে আল্লাহ তার ক্ষতিসাধন করবেন। কেউ অযৌক্তিকভাবে কারো বিরোধিতা করলে আল্লাহ তার বিরোধী হবেন।[1] হাসান।
Book 25 · Hadith 65 · #3632 · Hasan, Hasan, Daif - 66
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈক আনসারীর বাগানে তার কিছু খেজুর গাছ ছিলো। আনসারী তার পরিবারসহ এখানে বাস করতেন। সামুরাহ (রাঃ) বাগানে আসা-যাওয়া করতেন। এতে আনসারী অসুবিধাবোধ করতেন। তিনি তার খেজুর গাছগুলো ক্রয় করতে চাইলেন, কিন্তু সামুরাহ (রাঃ) এতে সম্মত হলেন না। আনসারী তাকে এটা বদল করার জন্য প্রস্তাব দিলেন, কিন্তু তিনি এ প্রস্তাবেও সম্মত হলেন না। আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে ঘটনাটি জানালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে এনে এটা বিক্রি করে দেয়ার কথা বললেন, কিন্তু তিনি সম্মত হলেন না। তিনি এটা বদল করার প্রস্তাব দিলেন, সামুরাহ তাও মানলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে এটা দান করো। তিনি তাকে উৎসাহিত করে বললেনঃ তোমার জন্য এই এই জিনিস রয়েছে। কিন্তু তাতেও তিনি সম্মত হলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কষ্টদানকারী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীকে বললেনঃ যাও, তুমি তার খেজুর গাছগুলো উপড়ে ফেলে দাও।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৩০০৬)।
Book 25 · Hadith 66 · #3633 · Daif, Daif, Daif, Daif - 67
। আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। হাররা নামক স্থান থেকে প্রবাহিত পানির বণ্টন নিয়ে যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে এক ব্যক্তির বিবাদ হলো। আনসারী লোকটি বললো, পানিকে প্রবাহিত হয়ে আসতে দাও। কিন্তু যুবায়র (রাঃ) এতে সম্মত হলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র (রাঃ)-কে বললেনঃ হে যুবায়র! তোমার জমিতে পানি দাও; অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর জমির দিকে তা ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথায় আনসারী রাগান্বিত হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই সেজন্য পক্ষপাতিত করছেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। তিনি বললেনঃ তোমার জমিতে পানি দাও, অতঃপর তা আটকে রাখো যাতে আইল পর্যন্ত পৌঁছে। যুবায়র (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমার মতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ ‘‘না, হে মুহাম্মাদ! আপনার রবের কসম, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ তারা তাদের পারস্পারিক বিবাদে আপনাকে বিচারপতিরূপে মেনে না নিবে। অতঃপর আপনি ফায়সালা করবেন, সে সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কোনরূপ কুণ্ঠাবোধ করবে না; বরং তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সোপর্দ করবে।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৬৫)।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 67 · #3634 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2359، 2360) Sahih Muslim (2357) - 68
। সা‘লাবা ইবনু আবূ মালিক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার মুরুব্বীদের আলৈাচনা করতে শুনেছেন, কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তির ইয়াহুদী বনী কুরাইযাহর পানির সাথে অংশীদার ছিলো। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মাহযূর মাঠ থেকে প্রবাহিত পানি সম্পর্কে অভিযোগ করলো, যাতে বৃষ্টির পানি এসে জমা হতো। এর পানি সবাই বণ্টনকরে নিয়ে যেতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যে ফায়সালা দিলেনঃ প্রথম ব্যক্তি পায়ের গোছা পর্যন্ত জমিতে পানি জমা করবে। অতঃপর উচ্চ ভূমির মালিক নিম্ন ভূমির মালিকের দিকে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 68 · #3635 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 69
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহযূর মাঠের পানি সম্পর্কে এই ফায়সালা দিয়েছেনঃ পায়ের গোছা ডুবে যাওয়ার পরিমাণ হওয়া পর্যন্ত এর পানি আটকিয়ে রাখা যাবে। অতঃপর উচ্চ ভূমির মালিক নিম্ন ভূমির মালিকের দিকে পানি ছেড়ে দিবে।[1] হাসান সহীহ।
Book 25 · Hadith 69 · #3636 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 70
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি খেজুর গাছের পরিধি সম্পর্কিত ঝগড়া নিয়ে হাযির হলো। এক বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি তা পরিমপ করার আদেশ দিলেন। তদনুযায়ী মাপা হলো এবং পরিমাণে সাত গজ হলো। অপর বর্ণনা মোতাবেক এর পরিমাণ হলো পাঁচ গজ। তিনি তদনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিলেন। ‘আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ খেজুর গাছের একটি ডাল দিয়ে মাপার আদেশ দিলে তা দিয়ে মাপা হয়।[1] সহীহ।
Book 25 · Hadith 70 · #3637 · Daif, Sahih, Isnaad Hasan