Prayer (Kitab Al-Salat): Detailed Rules of Law about the Prayer during Journey
- 1
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবাসে ও সফরে সালাত দুই দুই রাক‘আত করে ফারয করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সফরের সালাত ঠিক রাখা হয় এবং আবাসের সালাত বৃদ্ধি করা হয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 4 · Hadith 1 · #1196 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (350) Sahih Muslim (685) - 2
। ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার উবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আজকাল লোকেরা যে সালাত ক্বসর করে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? কেননা মহাপরাক্রশালী আল্লাহ বলেছেন, ‘‘যদি তোমরা কাফিরদের হামলার আশংকা করো তাহলে সালাত ক্বসর হিসেবে আদায় করতে পারো’’ (৪ : ১০১)। কিন্তু বর্তমানে আশংকা দূরীভূত হয়ে গেছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যে ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছো, আমিও তাতে আশ্চর্যবোধ করেছিলাম। অতঃপর আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছেনঃ এটি একটি সাদাকা, যা মহান আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর অনুদান গ্রহণ করো।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 2 · #1197 · Sahih, Sahih Muslim (686) - 3
। এ সানাদেও পুর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
Book 4 · Hadith 3 · #1198 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih - 4
। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াযীদ আল-হুনায়ী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে সালাত ক্বসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন মাইল বা তিন ফার্সাখ্ দূরত্বের সফরে বের হলে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 4 · #1199 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (691) - 5
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাদীনায় যুহরের সালাত চার রাক‘আত এবং যুল-হুলায়ফাতে ‘আসরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করেছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 4 · Hadith 5 · #1200 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1089) Sahih Muslim (690) - 6
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কোন বকরীর রাখাল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানকালে আযান দিয়ে সালাত আদায় করে তখন মহান আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলেনঃ (হে মালায়িকাহ)! তোমরা আমার বান্দার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আযান দিয়ে সালাত আদায় করছে। সে তো আমাকে ভয় করার কারণেই এরূপ করছে। কাজেই আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 6 · #1201 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 7
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে থাকাবস্থায় বলাবলি করতাম যে, সূর্য কি পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে কিনা? অথচ ঐ সময় তিনি সালাত আদায় করতেন। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা করতেন।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 7 · #1202 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 8
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন স্থানে (যুহরের সময়) যাত্রাবিরতী করলে যুহর সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সেখান থেকে পুনরায় রওয়ানা করতেন না। এক ব্যক্তি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, তখন যদি ঠিক দুপুর হয় তবুও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ঠিক দুপুর হলেও।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 8 · #1203 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 9
। আবুত-তুফাইল ‘আমির ইবনু ওয়াসিলাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) তাদেরকে অবহিত করেন যে, তাবুক যুদ্ধে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাত একত্রে এবং মাগরিব ও ‘ইশা সালাত একত্রে আদায় করেন। এদিন তিনি সালাত বিলম্বে আদায় করেন। (যুহর বিলম্ব করে) যুহর ও ‘আসর একত্রে আদায় করেন। অতঃপর তিনি আবার (তাঁবুতে) প্রবেশ করেন। তারপর বেরিয়ে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 9 · #1204 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (706) - 10
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) মাক্কাতে অবস্থানকালে তাঁর নিকট স্বীয় স্ত্রী সাফিয়্যাহর (রাঃ) মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছলে তিনি (মাদীনায়) রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে সূর্য অস্ত গিয়ে নক্ষত্রও প্রকাশিত হলো (অথচ তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন না)। অতঃপর তিনি বলেন, কোন সফরে দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’ ওয়াক্তের সালাত (মাগরিব ও ‘ইশা) একত্র করতেন। এ বলে তিনি তার সফর অব্যাহত রাখলেন। ইতিমধ্যে পশ্চিমাকাশের লালিমা দূরীভূত হলো। তারপর তিনি (বাহন থেকে) নামলেন এবং উভয় সালাত একত্রে আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী, মুসলিম তার সূত্রে মারফুভাবে।
Book 4 · Hadith 10 · #1205 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 11
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে ছিলেন। (সাধারণত সফরকালে) যদি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার পর তিনি কোথাও রওয়ানা হতেন, তখন তিনি যুহর ও ‘আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং সূর্য ঢলার পূর্বে রওয়ানা হলে তিনি যুহরকে বিলম্বে আদায় করতেন আর ‘আসরকে প্রথম ওয়াক্তে পড়ে নিতেন। তিনি মাগরিবেও অনুরূপ করতেন। অর্থাৎ রওয়ানা হবার পূর্বে সূর্য ঢুবে গেলে মাগরিব ও ‘ইশা একত্র আদায় করতেন। আর সূর্য ডুবার পূর্বে রওয়ানা হলে মাগরিবকে বিলম্ব করে ‘ইশার সাথে একত্রে আদায় করতেন।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 11 · #1206 · Sahih, Sahih, Hasan - 12
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালে কেবলমাত্র একবারই মাগরিব ও ‘ইশার সালাতকে একত্র করেছেন (একাধিকবার নয়)।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস আইয়ূব হতে তিনি নাফি‘ হতে ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে ‘মওকূফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ যেদিন (তার স্ত্রী) সাফিয়্যাহর মৃত্যু সংবাদে ইবনু ‘উমার মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন শুধুমাত্র ঐ রাতেই নাফি’ (রহঃ) ইবনু ‘উমারকে দু’ সালাতকে একত্র করতে দেখেন, এছাড়া অন্য সময় নয়। অপরদিকে মাকহূল নাফি‘ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে একবার কিংবা দু‘বার এরূপ করতে দেখেছেন। মুনকার।
Book 4 · Hadith 12 · #1207 · Munkar, Munkar, Isnaad Hasan - 13
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, শত্রুর ভয় ও সফর ছাড়াই যুহর ও ‘আসরকে একত্রে এবং মাগরিব ও ‘ইশাকে একত্র করেছেন। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, সম্ভবতঃ বৃষ্টির কারণেই এমনটি করেছেন। কিন্ত কুররাহ ইবনু খালিদ হতে আবূ যুবাইর (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে, ‘আমরা তাবুক যুদ্ধের সফরে ছিলাম’।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 13 · #1208 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (705) - 14
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুর ভয় ও বৃষ্টির কারণ ছাড়াই মাদীনাতে যুহর ও ‘আসর এবং মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তাঁর উম্মাত যেন কোন অসুবিধায় না পড়ে সেজন্যই তিনি এরূপ করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 14 · #1209 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (705 After 706) - 15
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াক্বিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুয়াযযিন ‘আস-সালাত’ বললে তিনি বলেন, চলো, এগিয়ে চলো! ইতিমধ্যে লালিমা দূরীভূত হবার সময় হলে তিনি (বাহন থেকে) নেমে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে লালিমা দূরীভূত হবার পর ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সফরে দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে এরূপ করতেন, যেরূপ আমি করলাম। অতঃপর তিনি সেই দিন ও রাতের সফরে তিন দিনের পথ অতিক্রম করেন।[1] সহীহ : কিন্তু তার বক্তব্য, (লালিমা দূরীভূত হওয়ার সময়) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (লালিমা দূরীভূত হওেয়ার পর)।
Book 4 · Hadith 15 · #1210 · Shadh, Shadh, Isnaad Sahih - 16
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন লালিমা দূরীভূত হবার সময় হলো, তখন তিনি (বাহন থেকে) নেমে উভয় সালাতকে (মাগরিব ও ‘ইশা) একত্রে আদায় করলেন।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 16 · #1211 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 17
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আমাদেরকে নিয়ে আট রাক‘আত (অর্থাৎ যুহরের চার ও ‘আসরের চার) এবং সাত রাক‘আত (মাগরিবের তিন ও ‘ইশার চার) সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী সুলায়মান ও মুসাদ্দাদ তাঁদের বর্ণনায় ‘আমাদেরকে নিয়ে’ কথাটি বলেননি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) তাওয়ামাহর মুক্তদাস সলিহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সেদিন বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও সালাত একত্র করেছেন। সহীহ।
Book 4 · Hadith 17 · #1212 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (543) Sahih Muslim (705) - 18
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাতে অবস্থানকালে সূর্য ঢুবে গেলে ‘সারিফ’ নামক স্থানে উভয় সালাতকে (মাগরিব ও ‘ইশা) একত্রে আদায় করেছেন।[1] দুর্বল।
Book 4 · Hadith 18 · #1213 · Daif, Daif, Daif, Daif - 19
। হিশাম ইবনু সা‘দ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাহ ও সারিফ এর মধ্যকার দশ মাইলের ব্যবধান রয়েছে।[1] মাক্বতূ‘।
Book 4 · Hadith 19 · #1214 · Maqtu, Maqtu, Isnaad Sahih - 20
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, একদা সূর্য ডুবল আর আমি তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর সাথে ছিলাম। আমরা (তখনও) পথ চলতে থাকলাম। যখন আমরা দেখলাম যে, সন্ধ্যা হয়ে গেছে তখন বললাম, আস-সালাত। কিন্তু তিনি পথ অতিক্রম করতেই থাকলেন। এমনকি লালিমা দূরীভূত হয়ে গেলো এবং নক্ষত্ররাজিও উদিত হলো। অতঃপর তিনি বাহন থেকে নামলেন দু’ ওয়াক্তের সালাত একত্রে আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, কোন সফরে তাঁর দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি এ সালাতকে এরূপে আদায় করেছেন। তিনি বলতেন, এই দুই সালাতকে রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হবার পর একত্র করা যায়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা লালিমা দূরীভূত হবার পরই দু’ সালাতকে একত্র করেছেন।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 20 · #1215 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 21
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলার পূর্বে রওয়ানা হলে যুহর সালাতকে ‘আসর পর্যন্ত বিলম্ব করতেন, অতঃপর বাহন থেকে নেমে উভয় সালাতকে একত্রে আদায় করতেন। অবশ্য তাঁর রওয়ানা হবার পূর্বে সূর্য ঢলে গেলে তিনি যুহর সালাত আদায় করার পর সওয়ার হতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুফাদ্দাল (রহঃ) মিসরের বিচারপতি ছিলেন এবং তাঁর দু‘আ কবুল হতো। আর তিনি ছিলেন ফাদালাহ (রাঃ) এর পুত্র।
Book 4 · Hadith 21 · #1216 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1112) Sahih Muslim (704) - 22
। উক্বায়িল (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি মাগরিবকে লালিমা দূরীভূত হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে নিয়ে মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 22 · #1217 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1112) Sahih Muslim (704) - 23
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের অভিযানে সূর্য হেলে পড়ার পুর্বে রওয়ানা হলে যুহরকে বিলম্বিত করে ‘আসরের সাথে মিলিয়ে উভয়টি একত্রে আদায় করতেন। আর সূর্য ঢলার পর রওয়ানা হলে যুহর ও ‘আসর একত্রে আদায়ের পর রওয়ানা হতেন। আর তিনি মাগরিবের পূর্বে রওয়ানা হলে মাগরিবকে বিলম্বিত করে তা ‘ইশার সাথে আদায় করতেন এবং মাগরিবের পরে রওয়ানা হলে ‘ইশাকে এগিয়ে নিয়ে তা মাগরিবের সাথে আদায় করতেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এককভাবে কুতাইবাহ ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 23 · #1218 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 24
। আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে বের হলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে শেষ ‘ইশার সালাতটি আদায় করলেন এবং দু’ রাক‘আতের এক রাক‘আতে সূরাহ ‘ওয়াত্তীন ওয়ায্যায়তুন’ পাঠ করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 4 · Hadith 24 · #1219 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (767) Sahih Muslim (464) - 25
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আঠারটি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফরসঙ্গী ছিলাম। আমি কখনো তাঁকে সূর্য হেলে যাবার পর যুহরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত বর্জন করতে দেখিনি।[1] দুর্বল।
Book 4 · Hadith 25 · #1220 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 26
। ঈসা ইবনু হাফস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক পথে ইবনু ‘উমার (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর মুখ ফিরিয়ে কিছু লোককে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করেন, এরা কি করছে? আমি বললাম, নফল সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন, (সফরে) নফল সালাত আদায় প্রয়োজন মনে করলে আমি (ফারয) সালাত পুরো (চার রাক‘আতই) আদায় করতাম। হে ভাতিজা! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করেছি। তিনি মহা মহীয়ান আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক‘আতের বেশি আদায় করেননি। আর আমি আবূ বাকর (রাঃ) এর সফরসঙ্গী হয়েছি। তিনিও মহা মহীয়ান আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক‘আতের অধিক আদায় করেননি। আমি ‘উমার (রাঃ) এর সফরসঙ্গী হয়েছি। তিনিও মহামহিম আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক‘আতের অধিক আদায় করেননি। পরে আমি ‘উসমান (রাঃ) এরও সফরসঙ্গী হয়েছি। তিনিও মহা মহীয়ান আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক‘আতের অধিক আদায় করেননি। কেননা মহা মহীয়ান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত আছে’’ (সূরাহ আল-আহযাব : ২১)।[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারী সংক্ষেপে।
Book 4 · Hadith 26 · #1221 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1102) Sahih Muslim (689) - 27
। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্তুযানে আরোহিত অবস্থায় যেকোন দিকে মুখ করে নফল সালাত আদায় করতেন। তিনি বাহনের উপর বিতর সালাতও আদায় করতেন, অবশ্য ফারয সালাত আদায় করতেন না।[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারী তা‘লীক্বভাবে।
Book 4 · Hadith 27 · #1222 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1098) Sahih Muslim (700) - 28
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে নফল সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে স্বীয় উষ্ট্রীকে কিবলামুখী করে নিয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর সওয়ারীর মুখ যেদিকেই হতো সেদিকে ফিরেই সালাত আদায় করতেন।[1] হাসান।
Book 4 · Hadith 28 · #1223 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 29
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধার পিঠে সালাত আদায় করতে দেখেছি। এ সময় গাধার মুখ খায়বারের দিকে ছিলো (অর্থাৎ কিবলার বিপরীতে)।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 29 · #1224 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (700) - 30
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখি, তিনি সওয়ারীর উপর পূর্ব দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন আর তাঁর রুকূ‘র চেয়ে সিজদাতে (মাথা) অধিক নত ছিল।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 30 · #1225 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (540) - 31
। ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ্ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, নারীদের কি জন্তুর উপর সালাত আদায়ের অনুমতি রয়েছে? তিনি বললেন, সুবিধা কিংবা অসুবিধা কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য এর অনুমতি নেই। মুহাম্মাদ ইবনু শু‘আইব (রহঃ) বলেন, এ বিধান ফারয সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 31 · #1226 · Sahih, Sahih, Hasan - 32
। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং মাক্কাহ বিজয়ের দিনেও তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি মাক্কায় আঠার দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি (ফারয) সালাত দু’ রাক্‘আত আদায় করেন এবং বলেনঃ হে শহরবাসী! তোমরা চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে। কেননা আমরা মুসাফির সম্প্রদায় (তাই চার রাক‘আতের স্থলে দু’ রাকআত আদায় করেছি)।[1] দুর্বল।
Book 4 · Hadith 32 · #1227 · Daif, Daif, Daif - 33
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় সতের দিন অবস্থানকালে সালাতকে ক্বসর করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কোন ব্যক্তি কোথাও সতের দিন অবস্থান করলে তাকে সালাত ক্বসর করতে হবে। এর চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করলে, সে সালাত পুরো আদায় করবে।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঊনিশ দিন অবস্থান করেছেন। সহীহ : বুখারী এ শব্দে : (ঊনিশ দিন ...) আর এটাই অধিক গ্রহণযোগ্য।
Book 4 · Hadith 33 · #1228 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1080) - 34
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের বছরে সেখানে পনের দিন অবস্থান করেন এবং এ সময় তিনি সালাত ক্বসর করেন।[1] দুর্বল মুনকার। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) হাদীসটি ইবনু ইসহাক সূত্রেও বর্নিত হয়েছে, তাতে বর্ণনাকারীগণ ইবনু ‘আব্বাসের নাম উল্লেখ করেননি।
Book 4 · Hadith 34 · #1229 · Daif Munkar, Daif Munkar, Sahih - 35
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় সতের দিন অবস্থানকালে (ফারয সালাত চার রাক‘আতের স্থলে) দু’ রাক‘আত করে সালাত আদায় করেন।[1] দুর্বল মুনকার। সহীহ হচ্ছে ঊনিশ দিন।
Book 4 · Hadith 35 · #1230 · Daif Munkar, Daif Munkar, Daif, Sahih - 36
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাদীনাহ হতে মাক্কাতে রওয়ানা হলাম। আমরা মাদীনাতে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তিনি দু’ রাক‘আত করে সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কি সেখানে কিছু কাল অবস্থান করেছেন? তিনি বললেন, আমরা দশদিন অবস্থান করেছিলাম।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 4 · Hadith 36 · #1231 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1081) Sahih Muslim (693) - 37
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘উমার ইবনু ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রহঃ) হতে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। ‘আলী (রাঃ) সফরকালে সূর্যাস্তের পরও চলা অব্যাহত রাখতেন। অবশেষে অন্ধকার ঘনিয়ে এলে বাহন থেকে নেমে মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। তারপর রাতের খাবার চেয়ে নিয়ে তা খাওয়ার পর ‘ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আবার রওয়ানা দিতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘উমার ইবনু ‘আলীর সূত্রে ‘উসমান বলেন, আমি আবূ দাউদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, উসামাহ ইবনু যায়িদ, হাফস ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ অর্থাৎ আনাস ইবন মালিকের পুত্র হতে বর্ণনা করেন, আনাস (রাঃ) পশ্চিমাকাশের লালিমা দূরীভূত হবার পর উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।[1] সহীহ। যুহরী হতে আনাস (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ মারফূ‘ বর্ণনা রয়েছে।
Book 4 · Hadith 37 · #1232 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 38
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূকে বিশ দিন অবস্থানকালে সালাত ক্বসর করেছেন।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 38 · #1233 · Sahih, Sahih, Daif - 39
সালাতুল খাওফ (ভয়কালীন সালাত) প্রসঙ্গে مَنْ رَأَى أَنْ يُصَلِّيَ بِهِمْ وَهُمْ صَفَّانِ فَيُكَبِّرُ بِهِمْ جَمِيعًا، ثُمَّ يَرْكَعُ بِهِمْ جَمِيعًا، ثُمَّ يَسْجُدُ الإِمَامُ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَالآخَرُونَ قِيَامٌ يَحْرُسُونَهُمْ، فَإِذَا قَامُوا سَجَدَ الآخَرُونَ الَّذِينَ كَانُوا خَلْفَهُمْ، ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ إِلَى مَقَامِ الآخَرِينَ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الأَخِيرُ إِلَى مَقَامِهِمْ، ثُمَّ يَرْكَعُ الإِمَامُ وَيَرْكَعُونَ جَمِيعًا، ثُمَّ يَسْجُدُ وَيَسْجُدُ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ، وَالآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ، فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ سَجَدَ الآخَرُونَ ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : هَذَا قَوْلُ سُفْيَانَ কারো মতে, এ সালাতের পদ্ধতি হচ্ছেঃ ইমাম সকলকে দুই কাতারে ভাগ করে সালাত আরম্ভ করবেন। তারপর তিনি সবাইকে নিয়ে তাকবীর বলবেন, অতঃপর রুকূ‘ করবেন। অতঃপর ইমাম তার নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে সিজদা্ করবেন, তখন দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা তাদেরকে পাহারা দিবে। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকেরা উঠে দাঁড়ালে দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা সিজদা্ করবে, যারা তাদের পিছনে ছিল। অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী কাতারের লোকেরা পিছনে সরে সেই স্থানে যাবে যেখানে দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা দাঁড়িয়েছে। এ সময় পিছনের কাতারের লোকেরা প্রথম কাতারের লোকদের স্থানে আসবে। এরপর সকলে একত্রে রুকূ‘ করবে। অতঃপর ইমাম তার নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে সিজদা্ করবেন। তখন অপর দল তাদেরকে পাহারা দিবে। অতঃপর ইমাম ও তার নিকটবর্তী কাতার বসলে অন্য কাতার সিজদা্ করবে। অতঃপর সকলে একত্রে বসে একসঙ্গে সালাম ফিরাবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘সালাতুল খাওফ’ এ পদ্ধতিতে আদায় করা সুফয়ান সওরীর অভিমত। ১২৩৬। আবূ ‘আইয়াশ আয-যুরাক্বী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ‘উসফান নামক স্থানে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ মুশরিকদের সেনাধিনায়ক ছিলেন। আমরা যুহরের সালাত আদায় করলে মুশরিকরা পরস্পর বলাবলি করলো, নিশ্চয় আমরা ধোঁকার মধ্যে আছি, আমরা তো একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি। তাদের সালাতরত অবস্থায় আক্রমণ করতে পারলে তো (আমাদের নিশ্চিত বিজয়)। এমন সময় যুহর ও ‘আসর সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত ক্বসর সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হয়। কাজেই ‘আসরের ওয়াক্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে সালাতে দাঁড়ান। তখন মুশরিকরা তাঁর সম্মুখে অবস্থান করছিল। (মুসলিমদের) এক জামা‘আত কাতারবদ্ধভাবে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে দাঁড়ালো, এবং তার পিছনে দাঁড়ালো দ্বিতীয় কাতার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করলে তারাও একসাথে রুকূ‘ করলো। অতঃপর তিনি সিজদা্ করলে যে কাতার তাঁর কাছাকাছি ছিল, তারাও সিজদা্ করলো, আর পিছনের কাতার এদেরকে পাহারা দিতে লাগলো। যখন প্রথম কাতার দু‘টি সিজদা্ করে দাঁড়ালো তখন তাদের পিছনের কাতারের লোকেরা সিজদা্ করলো। এ পর্যন্ত প্রত্যেক কাতারের লোকদের একটি রুকূ‘ ও দু‘টি করে সিজদা্ পূর্ণ হলো। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকেরা দ্বিতীয় কাতারে সরে এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করলে সকলে একত্রে রুকূ‘ করলো এবং পিছনের কাতারের লোকেরা তাদেরকে পাহারা দিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর কাছাকাছি কাতারের লোকেরা বসলেন, তখন দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা সিজদা্ করলো। অতঃপর তারা সবাই বসে পড়লো, এরপর তিনি সবাইকে নিয়ে একত্রে সালাম ফিরালেন। এভাবে তিনি ‘উসফান নামক স্থানে সালাত আদায় করলেন। আর এটা ছিল বনূ সুলাইম গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানকালে তাঁর সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আইয়ূব বর্ণনা করেন, হিশাম আবুয যুবাইর হতে জাবির সূত্রে এরূপ অর্থের হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। সহীহ : মুসলিম। অনুরূপ বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনু হুসাইন, ‘ইকরিমাহ হতে ইবনু ‘আব্বাস সূত্রে। হাসান সহীহ। অনুরূপভাবে ‘আবদুল মালিক ‘আত্বা হতে জাবির সূত্রে। একইভাবে ক্বাতাদাহ, হাসান হতে হিত্তান সূত্রে আবূ মূসার কর্মমূলক বর্ণনা। সহীহ : মুসলিম। অনুরূপভাবে ‘ইকরিমা ইবনু খালিদ বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে। আমি এটি পাইনি। একইভাবে হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ তার পিতা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে। সহীহ মুরসাল। এ নিয়মে সালাতুল খাওফ আদায় করা সুফয়ান সাওরীর অভিমত।
Book 4 · Hadith 39 · #1234 · Hasan Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Sahih - 40
। সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। তিনি তাঁর পিছনে সাহাবীদেরকে দুই কাতারে দাঁড় করান। অতঃপর তাঁর কাছাকাছি কাতারের লোকদের নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর তাঁর কাছাকাছি কাতারের লোকেরা নিজেরাই বাকী এক রাক‘আত আদায় করে নেন কিন্তু তিনি যথারীতি দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর যারা পিছনের (দ্বিতীয়) কাতারে ছিল তারা সম্মুখে আসলো এবং যারা সম্মুখে ছিল তারা পিছনে চলে গেল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে রইলেন আর পিছনের লোকেরা বাকী এক রাক‘আত পূর্ণ করলো। সবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 4 · Hadith 40 · #1235 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4131) Sahih Muslim (841) - 41
। সলিহ ইবনু খাওয়াত (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ঐ ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন, যিনি যাতুর-রিক্বার অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। (তাদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি এরূপ ছিল যে), একদল তার সাথে কাতারবদ্ধ হলো এবং একদল শত্রুর মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে রইল। (প্রথমে) তিনি তাঁর নিকটবর্তী সাথীদেরকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করে স্থীরভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। আর লোকেরা বাকী (এক রাক‘আত সালাত) নিজেরা আদায় করে দুশমনের মোকাবিলায় চলে গেলেন। অতঃপর (সালাতের জন্য) দ্বিতীয় দলটি তাঁর পিছনে এসে দাঁড়ালে তিনি তাদেরকে নিয়ে তাঁর অবশিষ্ট এক রাক‘আত আদায় করে বসে রইলেন। তখন তারা তাদের দ্বিতীয় রাক‘আত নিজেরাই আদায় করে নিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাম ফিরালেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ‘‘সালাতুল খাওফ’’ আদায় সম্পর্কে যে কয়টি পদ্ধতির কথা বর্ণিত আছে এবং আমি শুনেছি, তন্মধ্যে ইয়াযীদ ইবনু রূমানের এ হাদীসটি আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
Book 4 · Hadith 41 · #1236 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4129) Sahih Muslim (842) - 42
। সলিহ ইবনু খাওয়াত আল-আনসারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তার কাছে সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ আল-আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, সালাতুল খাওফে ইমাম দাঁড়াবে এবং তাঁর সাথে দাঁড়াবে সঙ্গীদের একাংশ এবং আরেক অংশ শত্রুর মোকাবিলায় নিয়োজিত থাকবে। ইমাম তাঁর নিকটবর্তী সাথীদের নিয়ে এক রাক‘আত সালাত রুকূ‘ ও সিজদা্ সহ আদায় করে স্থীরভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন। এ সময় সাথীরা নিজ নিজ অবশিষ্ট এক রাক‘আত পূরণ করে নিবে এবং ইমামের দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায়ই তারা সালাম ফিরিয়ে শত্রুর মুকাবিলায় চলে যাবে। অতঃপর সাথীদের দ্বিতীয় অংশ যারা সালাত আদায় করেনি তারা সম্মুখে এগিয়ে এসে তাকবীর বলে ইমামের পিছনে দাঁড়াবে। তাদেরকে নিয়ে ইমাম রুকূ‘ ও সিজদা্ করে সালাম ফিরাবেন, কিন্তু লোকেরা দাঁড়িয়ে তাদের নিজ নিজ বাকী রাক‘আত পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে।[1] সহীহ : বুখারী, দুই স্থানে সালাম ফিরানোর কথাটি বাদে। কেননা তা মাওকুফ। আর এর পূর্বেরটি মারফূ‘। তাতে কেবল দ্বিতীয় দলের সাথে ইমামের সালাম ফিরানোর কথা আছে। এটাই অধিক বিশুদ্ধ।
Book 4 · Hadith 42 · #1237 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4129) Sahih Muslim (842) - 43
। মারওয়ান ইবনুল হাকাম সূত্রে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ‘সালাতুল খাওফ’ আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, মারওয়ান জিজ্ঞেস করেন, কখন? আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, ‘নাজদ’ অভিযানের বছর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসর সালাতের জন্য দাঁড়ালে এক দল তাঁর সাথে দাঁড়ালো। আর অপর দল দাঁড়ালো শত্রুর মুকাবিলায়। এদের পৃষ্ঠ ছিল ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিকে। যারা তাঁর সাথে ছিলেন এবং যারা শত্রুর মুকাবিলায় ছিলেন সকলেই একত্রে তাকবীর বললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকটবর্তী লোকদের নিয়ে রুকূ‘ করলেন। দ্বিতীয় দলটি শত্রুর মুকাবিলায় দাঁড়িয়ে রইলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালে তার নিকটবর্তী দলটিও উঠে দাঁড়ালো। অতঃপর তারা গিয়ে শত্রুর মুকাবিলায় দন্ডায়মান হলে শত্রুর মুকাবিলায় দন্ডায়মান থাকা দলটি সম্মুখে এগিয়ে এসে রুকূ‘ ও সিজদা্ করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। অতঃপর তারা (প্রথম রাক‘আত হতে) উঠে দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক‘আতের রুকূ‘ করেন এবং তারাও তাঁর সাথে রুকূ‘ ও সিজদা্ করলো। অতঃপর শত্রুর মুকাবিলায় দন্ডায়মান দলটি সামনে অগ্রসর হয়ে রুকূ‘ ও সিজদা্ করে এক রাক‘আত আদায় করলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থিরভাবে বসেই রইলেন এবং তারাও তাঁর সাথে ছিলো। অতঃপর সালাম ফিরানোর সময় হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরালেন এবং তারা সবাই সালাম ফিরালো। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত হলো দু’ রাক‘আত। আর উভয় দলের প্রত্যেকের সালাত হলো (জাম‘আতের সাথে) এক রাক‘আত।[1] সহীহ।
Book 4 · Hadith 43 · #1238 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 44
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ‘নাজদ’ অভিযানে বের হই। আমরা যখন যাতুর-রিকা স্থানের নাখল উপত্যকায় পৌঁছি, তখন গাতাফান গোত্রের একদল লোকের সাথে আমাদের যুদ্ধ হয়।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসের ভাব ও অর্থ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী হায়ওয়া যে শব্দে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন পূর্বোল্লিখিত বর্ণনাকারীর শব্দ এর ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, তিনি যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে রুকূ‘ ও সিজদা্ করেন। অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, তারা সিজদা্ হতে উঠে দাঁড়িয়ে পিছনের দিকে সরে গিয়ে তাদের সাথীদের স্থানে দন্ডায়মান হলো। তবে এ হাদীসে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হর দিক পিছনে থাকার কথা উল্লেখ নেই। সহীহ।
Book 4 · Hadith 44 · #1239 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 45
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে ঘটনাটি এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তাকবীর বলার সাথে সাথে তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকজনও তাকবীর বললো। অতঃপর তিনি রুকূ‘ করলে তারাও রুকূ‘ করলো। এরপর তিনি সিজদা্ করলে তারাও সিজদা্ করলো, পরে তিনি মাথা উঠালে তারাও মাথা উঠালো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থির হয়ে বসে থাকলেন, তবে লোকেরা নিজ নিজ দ্বিতীয় রাক‘আত আদায় করে নিল। অতঃপর তারা দাঁড়িয়ে পিছনের দিকে সরে গিয়ে দ্বিতীয় দলটির পিছনে অবস্থান করলো। তারপর দ্বিতীয় দলটি সামনে এসে তাকবীর বলে স্ব স্ব সালাতের রুকূ‘ পর্যন্ত শেষ করলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্ করলে তারাও তাঁর সাথে সিজদা্ করলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ান। আর এ সময় লোকেরা নিজ নিজ দ্বিতীয় রাক‘আত সমাপ্ত করলো। অতঃপর উভয় দল একত্রে উঠে দাঁড়ালো এবং তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সালাত আদায় করলো। তারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সাথে রুকূ‘ এবং সিজদা্ আদায় করলো। এরপর তিনি দ্বিতীয় সিজদা্ করলে লোকেরাও তাঁর সাথে খুবই তাড়াতাড়ি সিজদা্ করলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা সালাম ফিরালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে দাঁড়ালেন। এভাবে লোকজন তাঁর সাথে পুরো সালাতে অংশগ্রহণ করে।[1] হাসান।
Book 4 · Hadith 45 · #1240 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 46
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ দলের এক দলকে সঙ্গে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করেন। এ সময় অপর দলটি শত্রুর মুকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকলো। অতঃপর তারা দ্বিতীয় দলের অবস্থানে গিয়ে দাঁড়ালে দ্বিতীয় দলটি (সামনের কাতারে) আসলো। এ সময় তিনি তাদেরকে নিয়ে তাঁর দ্বিতীয় রাক‘আতটি আদায় করে একাই সালাম ফিরালেন, অতঃপর প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজেরাই নিজ নিজ অবশিষ্ট এক রাক‘আত সালাত পূর্ণ করলো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন নাফি‘ ও খালিদ ইবনু মা‘দান ইবনু ‘উমার হতে মারফূ‘ভাবে। ইবনু ‘আব্বাস সূত্রে মাসরূক এবং ইউসূফ ইবনু মিহরানের উক্তিও তাই। ইউনূস- হাসান হতে আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
Book 4 · Hadith 46 · #1241 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4133) Sahih Muslim (839) - 47
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। এ সময় লোকজন দুই কাতারে দাঁড়ালা। এক কাতার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে অবস্থান করলো এবং অপর কাতার শত্রুর মুকাবিলায় দাঁড়ালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকতবর্তী সাথীদের নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এরপর অপর কাতারের লোকেরা এসে (প্রথম সারির লোকদের) স্থানে দাঁড়ালো এবং (প্রথম কাতারের লোকেরা) শত্রুর মুকাবিলায় দাঁড়ালো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করে একাই সালাম ফিরালেন। এ সময় তারা উঠে দাঁড়িয়ে নিজস্বভাবে এক রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে (শত্রুর মুকাবিলায় অবস্থানকারীদের) স্থানে অবস্থান নিলো এবং তারা এসে নিজস্বভাবে এক রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরালো।[1] দুর্বল।
Book 4 · Hadith 47 · #1242 · Daif, Daif, Daif - 48
। খুসাইফ (রাঃ) হতে এ সানাদে উপরোক্ত হা্দীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য তাকবীর বললে উভয় দলই তাকবীর বললো। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসের এরূপ ভাবার্থ ইমাম সাওরীও ‘খুসাইফ’ হতে বর্ণনা করেছেন এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) এভাবে সালাত আদায় করেছেন। তবে উক্ত হাদীসে রয়েছে, তিনি যে দলটির সাথে এক রাক‘আত আদায় করে সলাম ফিরালে তারা তাদের দ্বিতীয় কাতারের সাথীদের স্থানে চলে যান এবং তারা এসে নিজেরাই নিজ নিজ এক রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর তারা আবার এদের স্থানে প্রত্যাবর্তন করে নিজস্বভাবে বাকী এক রাক‘আত আদায় করেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসলিম ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি ‘আবদুস সমাদ ইবনু হাবীব হতে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা আমাকে অবহিত করেন যে, তারা ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) এর সাথে ‘কাবুল’ (পারস্য) অভিযানে ছিলেন। তখন তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। দুর্বল।
Book 4 · Hadith 48 · #1243 · Daif, Daif, Daif - 49
। সা‘লাবাহ ইবনু যাহদাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাঈদ ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর সাথে ‘তাবারিস্তান’ অভিযানে ছিলাম। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের মধ্যে এমন কে আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ‘সালাতুল খাওফ’ আদায় করেছেন? হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আমি। অতঃপর তিনি একদলকে নিয়ে এক রাক‘আত এবং আরেক দলকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করেন। এ সময় তারা (মুক্তাদীরা) অবশিষ্ট (এক রাক‘আত) সালাত পূরণ করেনি।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ও মুজাহিদ- ইবনু ‘আব্বাস হতে মারফূ‘ভাবে এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক- আবূ হুরাইরাহ হতে মারফূ‘ভাবে, এবং ইয়াযীদ আল-ফাক্বীর ও তাবিঈ আবূ মূসা- জাবির হতে মারফূ‘ভাবে। অনুরূপভাবে সিমাক আল-হানাফী (রহঃ) ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে। কতিপয় বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনু ফাক্বীরের হাদীসে বলেন, তারা বাকী এক রাক‘আত পূর্ণ করে নেয়। অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। তিনি বলেন, সকল লোকের জন্য ছিল এক রাক‘আত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য ছিল দু’ রাক‘আত। সহীহ।
Book 4 · Hadith 49 · #1244 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 50
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহা মহীয়ান আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জবানীতে সালাত ফারয করেছেন, বাসস্থানে থাকাকালে চার রাক‘আত, সফর অবস্থায় দু’ রাক‘আত এবং ভয়-ভীতির সময় (যুদ্ধে) এক রাক‘আত।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 4 · Hadith 50 · #1245 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (687) - 51
। আবূ বাকরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়-ভীতির সময় যুহরের সালাত আদায় করেছেন। এ সময় লোকজনের কিছু সংখ্যক তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয় এবং কিছু সংখ্যক কাতারবদ্ধ হয় শত্রুর মুকাবিলায়। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরান। তাঁর সঙ্গে সালাত আদায়কারীরা সরে গিয়ে (পিছনের) সঙ্গীদের স্থানে গিয়ে দাঁড়ালো এবং তারা এসে দাঁড়ালো তাঁর পিছনে। তিনি তাদেরকে নিয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হলো চার রাক‘আত এবং তাঁর সাহাবীদের হলো দু’ দু’ রাক‘আত। হাসান বাসরী (রহঃ) এরূপই ফাতাওয়াহ দিতেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এরূপে মাগরিবের সালাতে ইমামের হবে ছয় রাক‘আত এবং অন্যদের হবে তিন তিন রাক‘আত।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর, আবূ সালামাহ হতে জাবির থেকে মারফূ‘ভাবে। অনুরূপ বলেছেন সুলায়মান ইয়াশকুরী, জাবির হতে মারফূ‘ভাবে।
Book 4 · Hadith 51 · #1246 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 52
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে খালিদ ইবনু সুফয়ান আল-হুযালীকে হত্যা করার জন্য উরানাহ ও ‘আরাফাতের নিকটে পাঠলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তার সন্ধান পেলাম ‘আসর সালাতের ওয়াক্তে। আমি আশংকা করলাম, আমার এবং তার মধ্যে যদি এখনই সংঘর্ষ বেঁধে যায় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে আমার সালাত বিলম্ব হবে। কাজেই আমি হাঁটতে থাকলাম এবং তার দিকে মুখ করে ইশারায় সালাত আদায় করতে থাকলাম। আমি তার নিকটবর্তী হলে সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কে? আমি বললাম, আরবের এক ব্যক্তি। আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে সৈন্য সমাবেশ করছো? সুতরাং আমি এজন্যই তোমার কাছে এসেছি। সে বললো, আমি এরূপই করছি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি তার সঙ্গে হাঁটতে থাকলাম এবং সুযোগ বুঝে আমার তরবারি দিয়ে তার উপরে আঘাত হানলাম। অবশেষে সে ঠান্ডা হয়ে গেলো (অর্থাৎ মৃত্যু বরণ করলো)।[1] দুর্বল।
Book 4 · Hadith 52 · #1247 · Daif, Daif, Hasan, Hasan