Prayer (Kitab Al-Salat): Voluntary Prayers
- 1
। উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক বার রাক‘আত নফল সালাত আদায় করবে, এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর নির্মাণ করা হবে।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 1 · #1248 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (728) - 2
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নফল সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি আমার ঘরে যুহরের (ফারয সালাতের) পূর্বে চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন, অতঃপর বাইরে গিয়ে লোকরেদকে নিয়ে (ফরয) সালাত আদায় করেন। পুনরায় আমার ঘরে ফিরে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি লোকদেরকে নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর আমার ঘরে এসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। এছাড়া তিনি রাতে বিতর সহ নয় রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তিনি রাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে ক্বিরাআত পড়ার সময় ঐ অবস্থায়ই রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন আর বসাবস্থায় ক্বিরাআত পড়লে বসাবস্থায় থেকেই রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন। ফজর উদয় হলে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর বের হয়ে লোকদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 2 · #1249 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (730) - 3
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের (ফারয সালাতের) পূর্বে দু’ রাক‘আত ও পরে দু’ রাক‘আত, মাগরিবের পর দু’ রাক‘আত সালাত তাঁর ঘরে আদায় করতেন। তিনি ‘ইশার পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আর জুমু‘আহর (ফারয সালাতের) পরে ঘরে এসে দু’ রাক‘আত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী, মুসলিমে কেবল জুমু‘আহর পর দু’ রাক‘আত।
Book 5 · Hadith 3 · #1250 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (937) Sahih Muslim (882) - 4
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত ও ফজরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত কখনো ছাড়তেন না।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 5 · Hadith 4 · #1251 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1182) - 5
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাতের চেয়ে অধিক দৃঢ় প্রত্যয় অন্য কোন নফল সালাতে রাখেননি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 5 · #1252 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1169) Sahih Muslim (724) - 6
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত এতো সংক্ষেপে আদায় করতেন যে, আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি এ দু’ রাক‘আতে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করেছেন?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 6 · #1253 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1171) Sahih Muslim (724) - 7
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাতে) ‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’ এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 7 · #1254 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (726) - 8
। বিলাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের সালাতের সংবাদ দিতে আসলে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বিলালকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে তাকে তাতেই ব্যস্ত রাখলেন, এমতাবস্থায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারবার সংবাদ দেয়া সত্ত্বেও তিনি বাইরে আসলেন না। অতঃপর কিছক্ষণ পর বাইরে এসে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি তাঁকে জানালেন যে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) তাকে কোন এক কাজে ব্যস্ত রেখেছিলেন এবং তিনি-ও বাইরে আসতে যথেষ্ট দেরী করেছেন, এমতাবস্থায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। অতঃপর (বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ফজরের দু্’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করেছি। বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও আজ খুব ভোর করে ফেলেছেন। তিনি বললেনঃ আমি এর চেয়ে অধিক ভোর করলেও ঐ দু’ রাক‘আত আদায় করবো এবং তা উত্তম সুন্দরভাবে আদায় করবো।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 8 · #1255 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 9
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ফজরের দু’ রাক‘আত কখনো ত্যাগ করো না, যদিও তোমাদেরকে ঘোড়া পদদলিত করে।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 9 · #1256 · Daif, Daif, Daif, Daif - 10
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় ফজরের দু’ রাক‘আতে ‘‘আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইনা’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৩৬) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন। তিনি বলেন, তবে এ আয়াতটি প্রথম রাক‘আতে পাঠ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঠ করতেনঃ ‘‘আমান্না বিল্লাহি ওয়াশহাদ বিআন্না মুসলিমূন’’ (সূরাহ আলে-‘ইমরান : ৫২)।[1] সহীহ : মুসলিমে এ কথা বাদে : অধিকাংশ সময়।
Book 5 · Hadith 10 · #1257 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (727) - 11
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের দু’ রাক‘আতের প্রথম রাক‘আতে ‘‘কুল আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ‘আলাইনা’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান : ৮৪) তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন এ আয়াতঃ ‘‘রব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবা‘নার রসূলা ফাক্তুবনা মা‘আশ্ শাহিদীন’’ (সূরাহ আলে-‘ইমরান : ৫৩) অথবা ‘‘ইন্না আরসালনাকা বিলহাক্কি বাশীরাও ওয়া নাযীরা, ওয়ালা তুসআলু ‘আন আসহাবিল জাহীম’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১১৯)।[1] হাসান : বায়হাক্বী এটি বর্ণনা করেছেন তার এ কথাটি বাদে : অথবা ‘‘ইন্না আরসালনাকা বিলহাক্কি বাশীরাও ওয়া নাযীরা, ওয়ালা তুসআলু ‘আন আসহাবিল জাহীম’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ :)
Book 5 · Hadith 11 · #1258 · Hasan, Hasan, Daif - 12
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ফজরের পুর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায়ের পর যেন ডান কাতে শুয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়। মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাকে বললো, আমাদের কেউ যতক্ষণ ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম গ্রহণের সময়টুকুতে মসজিদে রওয়ানা হলে তাকি যথেষ্ট হবে না? ‘উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, তিনি উত্তরে বলেন, ‘না’। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমারের কাছে এ হাদীস পৌছলে তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নিজের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছেন। তখন কেউ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে জিজ্ঞেস করলো, তিনি যা বলেছেন আপনি তার কিছু অস্বীকার করেন? তিনি বলেন, না, তবে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, আর আমরা ভীরুতা ও নমনীয়তা প্রকাশ করছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু ‘উমারের উক্তিতে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, তারা ভুলে গেলে এবং আমি স্মরণে রাখলে আমার দোষ কোথায়?[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 12 · #1259 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 13
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শেষ রাতের সালাত শেষ করার পর আমাকে জাগ্রত দেখলে আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন। যদি আমি ঘুমিয়ে থাকতাম তাহলে তিনি আমাকে জাগিয়ে দিয়ে দু’ রাক‘আত আদায় করতেন। অতঃপর মুয়াযযিন আসা পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকতেন। মুয়াযযিন এসে ফজরের সালাতের সংবাদ দিলে তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত আদায় করে সালাতের জন্য বের হতেন।[1] সহীহ : কিন্তু হাদীসের ‘মুয়াযযিন আসার পর্যন্ত ডান কাতে শুয়ে থাকা’ কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ শেষ রাতের সালাত শেষ করার পরে।
Book 5 · Hadith 13 · #1260 · Shadh, Shadh, Sahih, Sahih Bukhari (1119) Sahih Muslim (743) - 14
। আবূ সালামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায়ের পর আমি ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও বিশ্রাম নিতেন। আর আমি জাগ্রত থাকলে তিনি আমার সাথে কথাবার্তা বলতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 14 · #1261 · Sahih, Sahih, Sahih - 15
। মুসলিম ইবনু আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাতের জন্য বের হলাম। তিনি কারোর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাতের জন্য আহবান করতেন অথবা তাঁর পা দিয়ে তাকে নাড়া দিতেন।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 15 · #1262 · Daif, Daif, Daif, Daif - 16
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তি আগমন করলো। সে প্রথমে দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায় করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাতে শরীক হলো। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ হে অমুক! তোমার একাকী আদায়কৃত ঐ দু’ রাক‘আত সালাত কিসের অথবা তুমি আমাদের সঙ্গে যা আদায় করেছো?[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 16 · #1263 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (712) - 17
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে উক্ত ফারয সালাত ছাড়া অন্য কোন সালাত আদায় করা যাবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 17 · #1264 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (710) - 18
। ক্বায়িস ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত আদায় করতে দেখে বললেনঃ ফজরের সালাত তো দু’ রাক‘আত। সে বললো, আমি তো ফজরের পূর্বের সেই দু’ রাক‘আত আদায় করিনি, সেটাই এখন আদায় করে নিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 18 · #1265 · Sahih, Sahih, Hasan - 19
। সুফয়ান (রহঃ) বলেন, ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) এ হাদীস সা‘দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সা‘দ এর দুই পুত্র ‘আবদ রাব্বিহী ও ইয়াহইয়া এ হাদীস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাদা যায়িদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছেন এবং ঘটনাটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট।[1] সহীহ: পূর্বেরটির কারণে। এবং তার উক্তিঃ (তাদের দাদা যায়িদ) কথাটি ভুল। সঠিক হচ্ছেঃ (তাদের দাদা ক্বায়িস)।
Book 5 · Hadith 19 · #1266 · Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 20
। আনবাসাহ ইবনু আবূ সুফয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত এবং পরে চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হবে।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আল-‘আলা ইবনুল হারিস ও সুলায়মান ইবনু মূসা (রহঃ) মাকহুল (রহঃ) হতে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
Book 5 · Hadith 20 · #1267 · Sahih, Sahih, Sahih - 21
। আবূ আইয়ূব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যুহরের পূর্বে এক সালামে চার রাক‘আত সালাত রয়েছে, এগুলোর জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেয়া হয়।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 21 · #1268 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Daif - 22
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করেন, যে ‘আসরের পূর্বে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 22 · #1269 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 23
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] হাসান, তবে (চার রাক‘আত) শব্দযোগে।
Book 5 · Hadith 23 · #1270 · Daif, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 24
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস, ‘আবদুর রহমান ইবনু আযহার ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সকলেই তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে প্রেরণ করেন। (তারা তাকে বললেন), আমাদের পক্ষ হতে ‘আয়িশাহকে সালাম জানাবে, তাঁকে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি, আপনি ঐ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে থাকেন। অথচ আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পড়তে নিষেধ করেছেন। (বর্ণনাকারী কুরাইব বলেন), অতঃপর আমি তাঁর কাছে যাই এবং তারা আমাকে যে সংবাদসহ পাঠিয়েছেন, তা পৌঁছাই। তিনি বললেন, এ বিষয়ে উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করো। তারপর আমি তাদের নিকট ফিরে এসে তার বক্তব্য তাদেরকে জানাই। তারা আমাকে পুনরায় উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট ‘আয়িশাহর অনুরূপ সংবাদসহ পাঠালেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’ রাক‘আত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, তা আমিও শুনেছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি তাকে এ দু’ রাক‘আত আদায় করতে দেখেছি। তবে তিনি এ দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন ‘আসরের (ফারয) সালাতের পরে। অতঃপর তিনি যখন আমার কাছে আসেন, তখন আনসারের বনি হারাম গোত্রীয় কতিপয় মহিলা আমার কাছে উপস্থিত ছিল। তিনি সে সময় তা আদায় করেছেন। আমি আমার এক দাসীকে তাঁর কাছে এ বলে প্রেরণ করি যে, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলবে, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সালামাহ (রাঃ) এ দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে আপনাকে নিষেধ করতে শুনেছেন। অথচ এখন তিনি দেখছেন যে, আপনি তা নিজেই আদায় করছেন। এ সময় তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলে তাঁর থেকে সরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, দাসী তাই করলো। তিনি তাকে হাত দ্বারা ইঙ্গিত করায় সে সরে দাঁড়িলো। অতঃপর তিনি সালাত শেষে বললেনঃ হে আবূ উমাইয়্যার কন্যা! তুমি আমাকে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো। ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রীয় কতিপয় লোক আমার নিকট আসার কারণে আমি যুহরের পরের দু’ রাক‘আত আদায় করতে পারিনি। এটা সেই দু’ রাক‘আত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 24 · #1271 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1233) Sahih Muslim (834) - 25
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের পর সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য সূর্য উঁচুতে থাকাবস্থায় আদায় করা যায়।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 25 · #1272 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 26
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর ও ‘আসর ব্যতীত প্রত্যেক ফারয সালাতের পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 26 · #1273 · Daif, Daif, Daif - 27
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় আল্লাহর প্রিয় লোক আমার কাছে সাক্ষ্য দেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ছিলেন তাদের একজন। মূলতঃ আমার নিকট ‘উমার (রাঃ) ছিলেন তাদের মধ্যকার অধিক আল্লাহর প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং ‘আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো সালাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 27 · #1274 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (581) Sahih Muslim (826) - 28
। ‘আমর ইবনু আনবাসাহ আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! রাতের কোন অংশ অধিক শ্রবণীয় (অর্থাৎ আল্লাহ দু‘আ বেশি কবুল করেন)? তিনি বলেনঃ রাতের শেষাংশ, এ সময় যতটুকু ইচ্ছা সালাত আদায় করবে। কেননা এ সময়ে মালায়িকাহ (ফিরিশতাগণ) এসে ফজরের সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সূর্য উঠা পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না তা এক কিংবা দুই তীর পরিমাণ উপরে উঠে। কারণ সূর্য উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে। আর কাফিররা এ সময় তার পূজা করে থাকে। এরপর তীরের ছায়া ঠিক থাকা (দ্বি প্রহরের পূর্ব) পর্যন্ত যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, এ সময়ের সালাত সম্পর্কে ফিরিশতাগণ সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় এবং তার সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয়। যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়বে তখন যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, কেননা ‘আসরের সালাত পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যকার সালাত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা তা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে অস্ত যায় এবং এ সময় কাফিররা তার উপাসনা করে থাকে। অতঃপর বর্ণনাকারী এ বিষয়ে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] আল-‘আব্বাস (রহঃ) বলেন, আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে আবূ সাল্লাম (রহঃ) আমার কাছে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আমি অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল করেছি, সেজন্যে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে তওবা করি। সহীহ : মুসলিম, এ বাক্য বাদে (جوف الليل)।
Book 5 · Hadith 28 · #1275 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 29
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুক্তদাস ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা আমাকে সুবহি সাদিকের পর সালাত আদায় করতে দেখে বললেন, হে ইয়াসার! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। ঠিক ঐ সময় আমরা এ সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেনঃ অবশ্যই তোমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয় যে, সুবহি সাদিকের পর (ফজরের) দু’ রাক‘আত সুন্নাত ব্যতীত তোমরা অন্য কোন সালাত আদায় করবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 29 · #1276 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 30
। আল-আসওয়াদ ও মাসরূক্ব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিনই আমার কাছে আসতেন, তখন তিনি ‘আসরের পর দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 30 · #1277 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (593) Sahih Muslim (835) - 31
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর মুক্তদাস যাকওয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ‘আসরের পরে সালাত আদায় করতেন, তবে লোকদেরকে নিষেধ করতেন এবং তিনি বিরতিহীনভাবে (বহুদিন) সওম পালন করতেন, কিন্তু অন্যদেরকে বিরতিহীনভাবে সওম পালনে নিষেধ করতেন।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 31 · #1278 · Daif, Daif, Daif - 32
। ‘আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করো। তিনি দু’ বার এরূপ বললেন। অতঃপর বললেন, যার ইচ্ছা হয়। এ আশংকায় যে, লোকেরা হয়ত এটাকে সুন্নাত (বা স্থায়ী নিয়ম) বানিয়ে নিবে।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 5 · Hadith 32 · #1279 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (563) - 33
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। মুখতার ইবনু ফুলফুল (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদের সালাত আদায় করতে দেখেছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে দেখেছেন। তবে তিনি আমাদেরকে এ বিষয়ে কোন আদেশ বা নিষেধ করেননি।[1] সহীহ : মুসলিম, অনুরূপ বুখারী।
Book 5 · Hadith 33 · #1280 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (836) - 34
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে। প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে, যার ইচ্ছে হয় পড়তে পারে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 34 · #1281 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (624) Sahih Muslim (838) - 35
। তাঊস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে মাগরিবের পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমি কাউকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায়ের অনুমতি আছে।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 35 · #1282 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 36
। আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আদম সন্তানের শরীরের প্রতিটি অস্থি প্রতিদিন নিজের উপর সাদাকা ওয়াজিব করে। কারোর সাক্ষাতে তাকে সালাম দেয়া একটি সাদাকা। সৎ কাজের আদেশ একটি সাদাকা, অন্যায় হতে নিষেধ করা একটি সাদাকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্ত্ত সরিয়ে ফেলা একটি সাদাকা। পরিবার-পরিজনের দায়-দায়িত্ব বহন করা একটি সাদাকা। আর চাশতের দু’ রাক‘আত সালাত এসব কিছুর পরিপূরক হয়ে যাবে।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী ‘আববাদের বর্ণনাটি পরিপূর্ণ ও ক্রটিমুক্ত। অপর বর্ণনকারী মুসাদ্দাদ তার বর্ণনায় ‘‘সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় হতে নিষেধ’’ বাক্যটি উল্লেখ করেননি। তিনি তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, ‘‘এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অমুক অমুক কাজ।’’ ইবনু মানী‘ তার হাদীসে বৃদ্ধি করেছেন যে, লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূুল! আমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে যৌন-তৃপ্তি মিটাবে এটাও কি তার জন্য সাদাকা? তিনি বললেনঃ তোমার কি ধারণা, যদি সে তা অবৈধ স্থানে ব্যবহার করতো তবে কি সে গুনাহগার হতো না? সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 36 · #1283 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 37
। আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট অবস্থানকালে তিনি বলেছেন, প্রতিদিন তোমাদের প্রত্যেকের দেহের প্রতিটি অস্থি একটি সাদাকা ওয়াজিব করে। প্রত্যেক সালাত, প্রত্যেক সওম, প্রত্যেক হজ, প্রত্যেক তাসবীহ, প্রত্যেক তাকবীর এবং প্রত্যেক তাহমীদ তার জন্য সাদাকা স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ উত্তম কাজগুলোকে গণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেনঃ চাশতের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তা ঐগুলোর পরিপূরক হবে (অনুরূপ সওয়াব পাবে)।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 37 · #1284 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (720) - 38
। সাহল ইবনু মু‘আয ইবনু আনাস আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় শেষে চাশতের সালাত আদায় পর্যন্ত তার জায়গাতে বসে থাকলে এবং এ সময়ে উত্তম কথা ছাড়া অন্য কিছু না বললে তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হয়। যদিও গুনাহের পরিমাণ সমুদ্রের ফেনারাশির চেয়ে অধিক হয়।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 38 · #1285 · Daif, Daif, Daif, Daif - 39
। আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক সালাতের পরে আরেক সালাত যার মধ্যবর্তী সময়ে কোনো গুনাহ হয়নি, তা ইল্লীয়্যুনে (উচ্চ মর্যাদায়) লিপিবদ্ধ করা হয়।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 39 · #1286 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 40
। নু‘আইম ইবনু হাম্মার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তান! তোমার দিনের পূর্বাহ্নের মধ্যে চার রাক‘আত সালাত হতে আমাকে ত্যাগ করো না, তাহলে আমি আখিরাতে তোমার জন্য যথেষ্ট হবো।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 40 · #1287 · Sahih, Sahih, Sahih - 41
। আবূ ত্বালিবের কন্যা উম্মু হানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের দিন আট রাক‘আত চাশতের সালাত আদায় করেছেন। তিনি প্রতি দু’ রাক‘আতে সালাম ফিরিয়েছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আহমাদ ইবনু সলিহ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের দিন চাশতের সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনুস সারহ বলেন, উম্মু হানী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, কিন্তু এ হাদীসে চাশতের সালাতের উল্লেখ নেই। তবে তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 41 · #1288 · Daif, Daif, Daif, Hasan - 42
। ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া অন্য কেউ আমাদেরকে অবহিত করেননি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন। অবশ্য তিনি বর্ণনা করেছেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে গোসল করে আট রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। এরপর কেউই তাঁকে উক্ত সালাত আদায় করতে দেখেনি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 42 · #1289 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1103) Sahih Muslim (336 After 719) - 43
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি (একই রাক‘আতে) একাধিক সূরাহ একত্রে পাঠ করতেন? তিনি বললেন, (হ্যাঁ) তিনি মুফাসসাল হতে পাঠ করতেন। (অর্থাৎ সূরাহ হুজরাত হতে নাস পর্যন্ত কুরআনের শেষ দিকের সূরাহগুলো মিলিয়ে পড়তেন)।[1] সহীহ : মুসলিমে এর প্রথমাংশ।
Book 5 · Hadith 43 · #1290 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (717) - 44
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো চাশতের সালাত আদায় করেননি। তবে আমি তা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কাজকে যদিও প্রিয় মনে করতেন, কিন্তু তা এ আশংকায় বর্জন করতেন যে, লোকেরা তার উপর আমল করলে হয়ত তাদের উপর তা ফারয করে দেয়া হবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 44 · #1291 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1128) Sahih Muslim (718) - 45
। সিমাক (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্যে থাকতেন? তিনি বললেন, হাঁ, অধিক সময় তার সাহচর্যে ছিলাম। তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত ঐ স্থানেই বসে থাকতেন সেখানে তিনি ফজরের সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর সূর্যোদয় হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে যেতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 45 · #1292 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (670) - 46
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের এবং দিনের (নফল) সালাত দু’ রাক‘আত করে আদায় করতে হয়।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 46 · #1293 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 47
। আল-মুত্তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সালাত দু’ রাক‘আত দু’ রাক‘আত করে আদায় করতে হয়। প্রত্যেক দু’ রাক‘আতে তোমার তাশাহহুদ পড়তে হবে। অতঃপর তুমি তোমার বিপদাপদ ও দারিদ্রের কথা দু’ হাত উঠিয়ে দু‘আ করবে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি এরূপ করে না তার আচরণ হবে ক্রটিপূর্ণ।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ)-কে রাতে দু’ রাক‘আত করে সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে দু’ রাক‘আত আদায় করতে পারো, আবার ইচ্ছে হলে চার রাক‘আত করেও আদায় করতে পারো। দুর্বল।
Book 5 · Hadith 47 · #1294 · Daif, Daif, Daif, Daif - 48
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আব্বাস! হে আমার চাচা! আমি কি আপনাকে দান করবো না? আমি কি আপনাকে উপহার দিবো না? আমি কি আপনার দশটি মহৎ কাজ করে দিবো না? আপনি যখন সে কাজগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তখন আল্লাহ আপনার প্রথম ও শেষ, অতীত ও বর্তমান, ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃত, ছোট ও বড় এবং প্রকাশ্য ও গোপন সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। ঐ দশটি মহৎ কাজ হচ্ছেঃ আপনি চার রাক‘আতের ক্বিরাআত হতে অবসর হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বলবেন, ‘‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’’ পনের বার, অতঃপর রুকূ‘ করুন এবং রুকূ‘ অবস্থায় তা পাঠ করুন দশবার, আবার রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করুন দশবার, অতঃপর সিজদায় যান এবং সিজদা্ অবস্থায় তা পাঠ করুন দশবার, অতঃপর সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করুন দশবার। আবার সিজদা্ করুন, সেখানে তা পাঠ করুন দশবার। অতঃপর সিজদা্ হতে মাথা তুলে তা পাঠ করুন দশবার, এ নিয়মে প্রত্যেক রাক‘আতে তাসবীহর সংখ্যা হবে ৭৫ বার এবং তা করতে থাকুন পূর্ণ চার রাক‘আতে। (এতে পুরো সালাতে তাসবীহর সংখ্যা হবে তিন শত বার)। আপনার পক্ষে সম্ভব হলে উক্ত সালাত দৈনিক একবার আদায় করুন। অন্যথায় সপ্তাহে একবার, তাও সম্ভব না হলে মাসে একবার, এটাও সম্ভব না হলে বছরে একবার, যদি তাও না হয় তবে সারা জীবনে অন্তত একবার আদায় করুন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 48 · #1295 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 49
। আবুল জাওযা’ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তাদের ধারণা, তিনি হচ্ছেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)। তিনি বলেছেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি আগামীকাল ভোরে আমার কাছে আসবে, আমি তোমাকে কিছু দান করবো, আমি তোমাকে দিবো, আমি তোমাকে উপঢৌকন প্রদান করবো। আমি ধারণা করলাম, তিনি আমাকে কোন জিনিস দিবেন। (অতঃপর পরদিন তাঁর নিকটে আসলে) তিনি বললেনঃ ‘‘দুপুরে সূর্য হেলে পড়লে তুমি দাঁড়িয়ে চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে’’। অতঃপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বললেনঃ অতঃপর দ্বিতীয় সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বে দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আলহামদুলিল্লাহ, দশবার আল্লাহু আকবার এবং দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে। এভাবে তুমি চার রাক‘আত আদায় করবে। তিনি বললেনঃ তুমি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহগার হয়ে থাকলেও এ বিনিময়ে তোমাকে ক্ষমা করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমি ঐ সময়ে এ সালাত আদায় করতে না পারলে? তিনি বললেনঃ রাত ও দিনের যে কোন সময়ে সুযোগ পেলেই তা আদায় করে নিবে।[1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) এ হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমরের (রাঃ) মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। অন্য সানাদে এটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
Book 5 · Hadith 49 · #1296 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Daif, Daif - 50
। ‘উরওয়াহ ইবনু রুওয়াইম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী (রাঃ) আমাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফারকে উপরোক্ত হাদীসটি বলেছেন। অতঃপর উপরোক্ত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি প্রথম রাক‘আতের দ্বিতীয় সিজদায় তাই বলেছেন, যেরূপ মাহদী ইবনু মাইমূনের হাদীসে রয়েছে।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 50 · #1297 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 51
। সা‘দ ইবনু ইসহাক ইবনু কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ‘আবদুল আশহালের মসজিদে এসে সেখানে মাগরিবের সালাত আদায়ের পর দেখলেন, সালাত শেষে লোকেরা সেখানেই (সুন্নাত) সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বললেনঃ এটাতো ঘরের সালাত।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 51 · #1298 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan - 52
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের ফারয সালাতের পর দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাতের ক্বিরাআত এতো দীর্ঘ করতেন যে, মসজিদের লোকজন চলে যেতো।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 52 · #1299 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 53
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে এ হাদীসের ভাবার্থ মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 53 · #1300 · Daif, Daif, Hasan, Hasan - 54
। শুরাইহ ইবনু হানী (রহঃ) হতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (শুরাইহ) বলেন, আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার ফারয সালাত আদায়ের পর আমার ঘরে আসলে অবশ্যই চার কিংবা ছয় রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। একদা রাতে আমাদের এখানে বৃষ্টি হওয়ায় আমরা তাঁর জন্য চামড়া বিছিয়ে দেই। আমি যেন এখন চাক্ষুস দেখছি যে, খেজুর পাতার চালনির ছিদ্র দিয়ে পানি গড়ে পড়ছে। আমি তাঁকে কখনো কোনো কাপড় দিয়ে মাটি হতে রক্ষা করতে দেখিনি।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 54 · #1301 · Daif, Daif, Daif, Daif - 55
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি সূরাহ মুযযাম্মিল সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর বাণীঃ ‘‘কুমিল লায়লাহ ইল্লা ক্বালীলান নিসফাহু’’ (অর্থঃ আপনি রাতের কিছু অংশ ব্যতীত সারা রাত আল্লাহর ‘ইবাদাতে দাঁড়িয়ে থাকুন)। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াতটি এ নির্দেশকে রহিত করেঃ ‘‘আলিমা আন লান তুহসূহু ফাতাবা ‘আলাইকুম ফাক্বরাউ মা তাইয়াস্সারা মিনাল কুরআন।’’ (অর্থঃ তিনি খুব ভাল করেই জানেন যে, তা করা তোমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা কুরআনের যতটুকু পাঠ করা সম্ভব ততটুকুই পড়ো) এবং রাতের প্রথমাংশ। তাদের সালাত রাতের প্রথমভাগেই হয়ে থাকতো। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কাজেই আল্লাহ তোমাদের উপর যেটুকু রাতের ইবাদত ফারয করেছেন তা সঠিকভাবে আদায় করো। কেননা মানুষ ঘুমিয়ে গেলে কখন সে জাগ্রত হবে তা বলতে পারে না। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘ আকওয়ামু কীলা’’ -অর্থ হচ্ছে কুরআনকে অনুধাবন করার অধিক যোগ্য। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘ইন্না লাকা ফিন নাহারি সাবহান তাবীলা’’ এর অর্থ হচ্ছে, আপনি দিনের বেলায় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 55 · #1302 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 56
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরাহ মুযযাম্মিলের প্রথমাংশ অবতীর্ণ হলে মুসলিমরা রমাযান মাসের ন্যায় রাতে দীর্ঘ ক্বিয়াম (সালাত আদায়) করতে লাগলেন। অতঃপর এ সূরাহর শেষাংশ অবতীর্ণ হয়। এ সূরাহর প্রথম ও শেষাংশ অবতীর্ণের মধ্যে এক বছরের ব্যবধান ছিল।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 56 · #1303 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 57
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার মাথার পিছনে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রতিটি গিরা দেয়ার সময় বলে, আরো ঘুমাও, রাত এখনো অনেক বাকী। যদি ঐ ব্যক্তি সজাগ হয়ে আল্লাহর যিকির করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। যদি সে অযু করে তাহলে আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং যদি সে সালাত আদায় করে, তাহলে শেষ গিরাও খুলে যায়। ফলে ঐ ব্যক্তি সতেজ ও উৎফুলতা নিয়ে সকাল করে। (আর এরূপ না করে ঘুমিয়ে থাকলে) সে অলসতা ও মন্দ মন নিয়ে সকাল করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 57 · #1304 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1142) Sahih Muslim (776) - 58
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বায়িস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, তুমি রাতের ক্বিয়াম ছেড়ে দিবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো একে পরিত্যাগ করতেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ হলে কিংবা অলসতা বোধ করলে বসে সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 58 · #1305 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 59
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন যে রাতে সজাগ হয়ে নিজে সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও সজাগ করে। স্ত্রী উঠতে না চাইলে সে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটায়।[1] হাসান সহীহ।
Book 5 · Hadith 59 · #1306 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 60
। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি রাতের বেলায় স্বীয় স্ত্রীকে সজাগ করে উভয়ে কিংবা প্রত্যেকে দু’ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণকারী ও স্মরণকাণীর তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু কাসীর এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাননি এবং তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি বরং বলেছেন, এটি আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর নিজস্ব বক্তব্য।
Book 5 · Hadith 60 · #1307 · Sahih, Sahih, Daif - 61
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কারো ঝিমনি এলে ঝিমনি দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন অবশ্যই শুয়ে থাকে। কেননা কেউ ঘুমের ঘোরে সালাত আদায় করলে হয়ত সে নিজের ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে নিজেকে গালি দিবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 61 · #1308 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (212) Sahih Muslim (786) - 62
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ (ঘুমের ঘোরে) রাতের সালাতে দন্ডায়মান হলে কুরআন স্বাভাবিকভাবে তার মুখ থেকে বের হয় না, এবং সে কি তিলাওয়াত করছে তাও বুঝতে পারে না। কাজেই এরূপ অবস্থায় সে যেন অবশ্যই ঘুমিয়ে পড়ে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 62 · #1309 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (787) - 63
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দু‘টি খুটির মাঝে রশি বাধা দেখে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ রশিটি কিসের? বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এটা হামনাহ বিনতু জাহশের রশি, তিনি রাতে সালাত আদায়কালে ক্লান্তিবোধ হলে এ রশিতে নিজেকে আটকে রাখেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উচিত সামর্থ অনুযায়ী সালাত আদায় করা, যখন ক্লান্তিবোধ করবে তখন সালাত ছেড়ে বসে যাবে। যিয়াদের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কি? লোকেরা বললো, এটা যাইনাবের রশি, তিনি সালাত আদায়কালে ক্লান্তি বা অলসতাবোধ করলে এতে ঝুলে থাকেন। তিনি বললেনঃ এটা খুলে ফেলো। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের আনন্দের সাথে সালাত আদায় করা উচিত, যখন ক্লান্তি কিংবা অলসতাবোধ করবে তখন সালাত ছেড়ে বসে পড়বে।[1] সহীহ, হামনাহ’ শব্দ উল্লেখ বাদে : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 63 · #1310 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1150) Sahih Muslim (784) - 64
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঘুমের কারণে রাতের বেলায় তাসবীহ বা কুরআন পূর্ণরূপে পড়তে না পারায় তা ফজর ও যুহরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে পাঠ করে নিয়েছে, এর বিনিময়ে তার জন্য ঐরূপ সওয়াব লিখা হয়, যেন সে রাতেই তা পাঠ করেছে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 64 · #1311 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (747) - 65
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের ইচ্ছা করা সত্ত্বেও ঘুম তাকে পরাভূত করে দিলো, তার আমলনামায় রাতে সালাত আদায়ের সওয়াবই লিখা হবে। তার জন্য ঘুম সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 65 · #1312 · Sahih, Sahih, Sahih - 66
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাদের মহা মহীয়ান রবব প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করে বলেন, আছে কেউ আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো? আছে কেউ আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করবো? আছে কি কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 66 · #1313 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1145) Sahih Muslim (758) - 67
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহা মহীয়ান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতে সজাগ করতেন এবং তিনি সাহরীর সময়ে তাঁর নফল সালাত, তাসবীহ ইত্যাদি আদায় করতেন।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 67 · #1314 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 68
। মাসরূক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে বলি, তিনি কোন সময় সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, তিনি মোরগের ডাক শুনে উঠে সালাতে দাঁড়াতেন।[1] সহীহ: বুখারী ও মুসলিম এ শব্দেঃ ( الصارخ)।
Book 5 · Hadith 68 · #1315 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1132) Sahih Muslim (741) - 69
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট যখনই ভোর করেছেন, (আমি তাকে) নিদ্রাবস্থায় পেয়েছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 69 · #1316 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1133) Sahih Muslim (742) - 70
। হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে সালাত আদায় করতেন।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 70 · #1317 · Hasan, Hasan, Daif - 71
। রবী‘আহ ইবনু কা‘ব আল-আসলামী (রাঃ) বলেন, যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করতাম, তখন তাঁর অযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ করে দিতাম। তিনি বললেনঃ তুমি আমার কাছে কিছূ চাও। আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সান্নিধ্যে থাকতে চাই। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ আরো কিছু? আমি বললাম, এটাই যথেষ্ট। তিনি বললেনঃ তাহলে অধিক পরিমাণে সিজদা্ করে এ কাজে আমাকে সাহায্য করো।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 71 · #1318 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (489) - 72
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা (মুমিনরা) স্বীয় পিঠ হতে বিছানা ত্যাগ করে তাদের রব্বকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকে, আর আমরা তাদেরকে যা কিছু রিযিক্ব দিয়েছি তা হতে খরচ করে’’ (সূরাহ আস্-সিজদা : ১৬)। তিনি বলেন, এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তারা (সাহাবীগণ) মাগরিব এবং ‘ইশার মধ্যবর্তী সময় জেগে থেকে সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান বাসরী বলেছেন, এ আয়াতের অর্থ হলো, রাত জেগে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকা।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 72 · #1319 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 73
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা রাতের সামান্য সময় ঘুমে কাটাতো’’ (সূরাহ আয-যারি‘আত : ১৭)। তিনি বলেন, এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, সাহাবীগণ মাগরিব ও ‘ইশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করতেন। ইয়াহইয়া তার বর্ণনায় এটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, ‘‘তাতাজাফা জুনূবুহুম’’-এর অর্থও অনুরূপ।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 73 · #1320 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 74
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে সে যেন প্রথমে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়।[1] দুর্বল, সহীহ হচ্ছে এটি তার মাওকূফ বর্ণনা। যা এর পরের হাদীসে রয়েছে।
Book 5 · Hadith 74 · #1321 · Daif, Daif, Sahih Muquf, Sahih Muslim (768) - 75
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে এতে রয়েছে, এরপর যত ইচ্ছা দীর্ঘ করবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, যুহাইর ইবনু মু‘আবিয়াহ, আইয়ূব, ইবনু ‘আওন ও একদল হিশাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তারা এটি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনু ‘আওন মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন সূত্রে বর্ণনা করেন যে, প্রথম দু’ রাক‘আতের ক্বিরাআত ছোট করবে।[1] সহীহ মাওকূফ।
Book 5 · Hadith 75 · #1322 · Sahih Muquf, Sahih Muquf, Sahih - 76
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী আল-খাস‘আমী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সবচেয়ে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা।[1] সহীহ : এ শব্দে : কোন সালাত?।
Book 5 · Hadith 76 · #1323 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 77
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। একদা কতিপয় লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাতের সালাত হচ্ছে দু’ দু’ রাক‘আত করে। তোমাদের কেউ সুবহি সাদিকের আশংকা করলে পূর্বে যেটুকু সালাত আদায় করেছে তা বিতর (বেজোড়) করতে এক রাক‘আত সালাত আদায় করে নিবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 77 · #1324 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (990) Sahih Muslim (749) - 78
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘরে সালাত আদায়কালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্বিরাআত এতো স্পষ্ট হতো যে, হুজরাহতে অবস্থানকারীরা তা শুনতে পেতো।[1] হাসান সহীহ।
Book 5 · Hadith 78 · #1325 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 79
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাতে ক্বিরাআত কখনো সশব্দে আবার কখনো নিঃশব্দে পড়তেন।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 79 · #1326 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 80
। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আবূ বাকর (রাঃ)-কে নিঃশব্দে ক্বিরাআত পড়তে দেখলেন। অতঃপর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সশব্দে ক্বিরাআত পড়তে দেখলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একত্র হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ বাকর! আমি তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, তুমি নিঃশব্দে ক্বিরাআত পড়ছিলে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাঁকেই শুনাচ্ছিলাম যাঁর সাথে চুপিসারে কথা বলছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি ‘উমার (রাঃ)-কে বললেনঃ আমি তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, তুমি সশব্দে ক্বিরাআত পড়ছিলে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাতে এবং শয়তানকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিলাম। হাসান বাসরী (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বাকর! তোমার ক্বিরাআত একটু শব্দ করে পড়বে এবং ‘উমারকে বললেনঃ তোমার ক্বিরাআত একটু নিচু স্বরে পড়বে।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 80 · #1327 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 81
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরোক্ত ঘটনা অনুরূপ বর্ণিত। তবে তাতে এটা উল্লেখ নেইঃ ‘‘তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি একটু উচ্চস্বরে পড়বে এবং ‘উমার (রাঃ)-কে বলেন তুমি একটু নিচু স্বরে পড়বে।’’ এ বর্ণনায় রয়েছেঃ হে বিলাল! আমি তোমার আওয়াজ শুনেছি, তুমি এই এই সূরাহ হতে তিলাওয়াত করেছিলে। বিলাল বললেন, খুবই উত্তম বাক্য, আল্লাহ একটিকে অন্যটির সাথে সুন্দরভাবে সুজজ্জিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সবাই সঠিক কাজ করেছো।[1] হাসান।
Book 5 · Hadith 81 · #1328 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 82
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক রাতে জনৈক ব্যক্তি সালাতে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর ভোর হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ অমুকের প্রতি দয়া করুন। আজ রাতে সে আমাকে কতিপয় আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি বাদ দিয়েছিলাম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হারূন আন-নাহবী হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে বর্ণনা করেন যে, তা ছিলো সূরাহ আল ‘ইমরানের এ আয়াতটিঃ ‘‘ওয়াকাআইয়্যিম মিন নাবিয়্যীন।’’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 82 · #1329 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 83
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ই‘তিকাফ কালে সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে ক্বিরাআত পড়তে শুনে পর্দা সরিয়ে বললেনঃ জেনে রাখো! তোমাদের প্রত্যেকেই স্বীয় রব্বের সাথে চুপিসারে আলাপে রত আছো। কাজেই তোমরা পরস্পরকে কষ্ট দিও না এবং পরস্পরের সামনে ক্বিরাআতে বা সালাতে আওয়ায উঁচু করো না।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 83 · #1330 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 84
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উচ্চস্বরে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মতো এবং নিঃশব্দে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মতো।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 84 · #1331 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 85
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে দশ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং বিতর পড়তেন এক রাক‘আত। অতঃপর ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন, এ নিয়ে সর্বমোট তের রাক‘আত হতো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 85 · #1332 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1140) Sahih Muslim (738) - 86
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তন্মধ্যে বিতর হতো এক রাক‘আত। অতঃপর সালাত শেষে তিনি ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 86 · #1333 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (736) - 87
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাতের পর থেকে সুবহি সাদিক পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী সময়ে এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, প্রত্যেক দু’ রাক‘আতে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করতেন। তিনি এতো দীর্ঘক্ষণ সিজদায় অবস্থান করতেন যে, তাঁর মাথা উঠানোর পূর্বে তোমাদের কেউ আনুমানিক পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারতে। মুয়াযযিন ফজরের (প্রথম) আযান শেষ করলে তিনি উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর মুয়াযযিন (জামা‘আতের সংবাদ দেয়ার জন্য) পুনরায় আসা পর্যন্ত তিনি ডান পাশের পাজরের উপর ভর করে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 87 · #1334 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 88
। ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ সানাদ ও অর্থের হাদীস বর্ণিত। সুলায়মান ইবনু দাউদ বলেন, তিনি বিতর করতেন এক রাক‘আত। তিনি এতো দীর্ঘক্ষণ সিজদায় অবস্থান করতেন যে, তার মাথা উঠানোর পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমান তিলাওয়াত করতে পারতে। যখন মুয়াযযিন ফজরের আযান শেষ করতো এবং সুবহি সাদিক উদ্ভাসিত হতো, ... অতঃপর উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ। সুলায়মান বলেন, তাদের একজনের বর্ণনায় অন্যজন হতে কিছু কম-বেশি আছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 88 · #1335 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (736) - 89
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তন্মধ্যে তিনি পাঁচ রাক‘আত বিতর আদায় করতেন, এ পাঁচ রাক‘আতে কেবল শেষ বৈঠক ছাড়া মাঝখানে বসতেন না, অতঃপর সালাম ফিরাতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 89 · #1336 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (737) - 90
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর ফজর সালাতের আযান শুনতে পেলে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) আদায় করতেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 90 · #1337 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1170) - 91
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তন্মধ্যে আট রাক‘আত (তাহাজ্জুদ), অতঃপর বিতর সালাত পড়তেন। এরপর তিনি আবার সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী মুসলিম ইবনু ইবরাহীম বলেন, বিতর সালাতের পর তিনি বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তবে রুকূ‘র ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে রুকূ‘ করতেন এবং ফজরের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 91 · #1338 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (738) - 92
। আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, রমাযান ও রমাযান ছাড়া অন্য সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, রমাযান ও রমাযান ছাড়া অন্য সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাক‘আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে চার রাক‘আত আদায় করতেন, খুবই সুন্দর ও দীর্ঘায়িত করে। অতঃপর চার রাক‘আত, তাও এতো সুন্দর ও দীর্ঘায়িত হতো যে, তা আর জিজ্ঞেস করো না। সর্বশেষে (বিতর আদায় করতেন) তিন রাক‘আত। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতর সালাতের পূর্বে ঘুমান? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’ চোখ ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর জাগ্রত থাকে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 92 · #1339 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1147) Sahih Muslim (737) - 93
। সা‘দ ইবনু হিশাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার উদ্দেশে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মাদীনায় আমার যে ভূমি রয়েছে তা বিক্রি করে যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করার জন্য (বাসরাহ থেকে) মাদীনায় আসলাম। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর সঙ্গে আমার সাক্ষাত হলে তারা বললেন, আমাদের মধ্যকার ছয় ব্যক্তির একটি দল এরূপ ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে বলেনঃ ‘‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মাঝেই উত্তম আদর্শ নিহিত আছে’’। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর নিকট গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে যিনি অধিক অভিজ্ঞ আমি তোমাকে তার সন্ধান দিচ্ছি। তুমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট যাও। কাজেই আমি তার নিকট যাই এবং হাকীম ইবনু আফলাহকেও যাবার জন্য অনুরোধ করি, কিন্তু তিনি অস্বীকার করায় আমি তাকে শপথ দিয়ে অনুরোধ করলে তিনি আমার সঙ্গে রওয়ানা হন। আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, কে? তিনি বলেন, হাকীম ইবনু আফলাহ। তিনি বলেন, তোমার সাথে কে? তিনি বললেন, সা‘দ ইবনু হিশাম। তিনি বললেন, উহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়া হিশাম ইবনু ‘আমির? হাকীম ইবনু আফলাহ বলেন, আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, ‘আমির তো অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। তিনি বলেন, হে উম্মুল মু‘মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কি কুরআন পড়ো না? গোটা কুরআনই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমাকে রাতের ক্বিয়াম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনের ‘‘ইয়াআইয়্যুহাল মুযযাম্মিল’’ সূরাহ পাঠ করনি? তিনি বলেন, আমি বললাম, হাঁ, পাঠ করেছি। তিনি বললেন, এ সূরাহর প্রথমাংশ অবতীর্ণ হবার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ এতো বেশি ‘ক্বিয়ামুল লাইল’ করতেন যে, তাদের পা ফুলে যেতো। অতঃপর এ সূরাহর শেষাংশ অবতীর্ণ হলে ‘কিয়ামুল লাইল’ ফারয হতে নফল হিসেবে পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তিনি আট রাক‘আত বিতর করতেন এবং তাতে কেবল অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আরো এক রাক‘আত পড়তেন এবং এই অষ্টম ও নবম রাক‘আত ছাড়া কোথাও বসতেন না। তিনি নবম রাক‘আতে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসে বসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। হে আমার বৎস! এ এগার রাক‘আতই ছিল তাঁর রাতের সালাত। অতঃপর বার্ধক্যের কারণে তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেলে তিনি সাত রাক‘আত বিতর করতেন এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম রাক‘আত ছাড়া বসতেন না, আর সালাম ফিরাতেন সপ্তম রাক‘আতে। অতঃপর বসে বসে দু’ রাক‘আত নফল সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! এ নয় রাক‘আতই ছিল রাতের সালাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সারারাত ভোর পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না, এক রাতে গোটা কুরআন খতম করতেন না এবং রমাযান মাস ছাড়া পুরো এক মাস সওম পালন করতেন না। তিনি কোনো সালাত আরম্ভ করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন। ঘুমের কারণে রাতে জাগ্রত হতে না পারলে তিনি দিনের বেলা বারো রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর কাছে এসে এগুলো বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এটাই হচ্ছে প্রকৃত হাদীস। আমি যদি ‘আয়িশাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতাম তাহলে আমি এসে এ হাদীস আলোচনা করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমি যদি জানতাম যে, আপনি তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন না, তাহলে আমি হাদীসটি আপনার কাছে বর্ণনা করতাম না।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 93 · #1340 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (746) - 94
। ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তাতে কেবল অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। তিনি বসে আল্লাহর জিকির করতেন, দু‘আ করতেন, অতঃপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর এক রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! এটাই তাঁর আদায়কৃত মোট এগার রাক‘আত সালাত। অবশ্য বয়োবৃদ্ধির কারণে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর ভারী হয়ে যায় তখন তিনি সাত রাক‘আত বিতর আদায় করতেন। অতঃপর সালামের পর বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 94 · #1341 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 95
। সাঈদ (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, আমরা শুনতে পেতাম। যেমনটি রয়েছে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এর বর্ণনায়।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 95 · #1342 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 96
। সাঈদ (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। ইবনু বাশশারও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের অনুরূপ বলেছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 96 · #1343 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 97
। যুরারাহ ইবনু আওফা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্য রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তিনি ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে স্বীয় বিছানায় ঘুমিয়ে পড়তেন। এ সময় অযুর পানি ও মিসওয়াক তাঁর কাছেই থাকতো। অতঃপর মহান আল্লাহ রাতে যখন সজাগ করার তাঁকে সজাগ করতেন। তিনি মিসওয়াক ও উত্তমরূপে অযু করে তাঁর মুসল্লায় দাঁড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তাতে সূরাহ ফাতিহা, কুরআনের অন্য সূরাহ এবং আল্লাহ যা চাইতেন তা পাঠ করতেন। তিনি এতে মাঝখানে না বসে কেবলমাত্র অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন এবং সালাম না ফিরিয়ে নবম রাক‘আতে দাঁড়িয়ে ক্বিরাআত পড়তেন। অতঃপর (শেষ বৈঠকে) বসে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দু‘আ করতেন, তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন। সবশেষে তিনি এতো জোরে সালাম ফিরাতেন যে, সালামের আওয়াজে ঘরের লোকেরা জাগ্রত হবার উপক্রম হতো। অতঃপর তিনি (বসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তাতে) বসেই সূরাহ ফাতিহা পাঠ ও রুকূ‘ করতেন। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় রাক‘আতেও বসাবস্থায় রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দু‘আ করে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীর ভারী হওয়া পর্যন্ত এভাবেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর (শরীর ভারী হয়ে গলে) তিনি নয় রাক‘আত থেকে দুই কমিয়ে ছয় রাক‘আত (এবং এক যোগ করে) সাত রাক‘আত আদায় করেন এবং দু’ রাক‘আত বসাবস্থায় আদায় করতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এভাবেই সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ, চার রাক‘আত কথাটি বাদে। সংরক্ষিত হচ্ছে ‘আয়িশাহ সূত্রে দু’ রাকআত।
Book 5 · Hadith 97 · #1344 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 98
। বাহয ইবনু হাকীম (রাঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি ‘ইশার সালাত আদায়ের পর স্বীয় বিছানায় বিশ্রাম নিতেন। এতে চার রাক‘আতের কথা উল্লেখ নেই। অতঃপর পুরো হাদীস বর্ণনা করেন। এতে রয়েছে, অতঃপর তিনি আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। ক্বিরাআত, রুকূ‘ ও সিজদা্ এগুলো পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান ছিলো সমপরিমাণ এবং তিনি এ সালাতে কেবলমাত্র অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করতেন। সবশেষে এমনভাবে উচ্চস্বরে সালাম বলতেন যে, আওয়াজ আমাদের নিদ্রা ভঙ্গ করে দিতো। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 98 · #1345 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 99
। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন, তিনি লোকদেরকে নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় শেষে ঘরে ফিরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। এরপর ঘুমের জন্য স্বীয় বিছানায় চলে যেতেন। অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ‘‘ক্বিরাআত, রুকূ‘ ও সিজদাতে সমতা রক্ষা করা এবং তাঁর উচ্চস্বরে সালাম উচ্চারণ আমাদেরকে ঘুম থেকে সজাগ করতো’’ এ বাক্য উল্লেখ নেই।[1] সহীহ, চার রাক‘আত কথাটি বাদে। মাহফূয হচ্ছে দু’ রাক‘আত।
Book 5 · Hadith 99 · #1346 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 100
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 100 · #1347 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 101
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং নবম রাক‘আতে বিতর অথবা তিনি অনুরূপ বলেছেন। তিনি বসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত সালাত আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন।[1] হাসান সহীহ।
Book 5 · Hadith 101 · #1348 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 102
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত নয় রাক‘আত আদায় করতেন। পরবর্তীতে (শেষ বয়সের দিকে) তিনি সাত রাক‘আত বিতর সালাত আদায় করেন এবং বিতরের পর বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তাতে ক্বিরাআত পাঠ করেছেন এবং রুকূ‘র সময় দাঁড়িয়ে রুকূ‘ করেছেন, অতঃপর সিজদা্ করেছেন। হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দুটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিত্বী (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর হতে। তাতে রয়েছে, ‘আলকামাহ ইবনু ওয়াক্কাস বলেন, হে আম্মাজান! তিনি ঐ দু’ রাক‘আত কিভাবে আদায় করেছেন? অতঃপর হাদীসের ভাবার্থ উল্লেখ করেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 102 · #1349 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih Muslim (731) - 103
। হিশাম ইবনু সা‘দ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদীনায় এসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর নিজের বিছানায় এসে ঘুমাতেন। অতঃপর মাঝ রাতে উঠে নিজের প্রয়োজন সেরে অযুর পানি নিয়ে অযু করে মসজিদে গিয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমার ধারণা, তিনি ক্বিরাআত, রুকূ‘ ও সাজদার মধ্যে সমতা বজায় রাখতেন। তারপর এক রাক‘আত বিতর করতেন। সবশেষে বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বিশ্রাম নিতেন। অতঃপর কখনো বিলাল এসে তাকে সালাতের সংবাদ দিতেন। কখনো তিনি আবার হালকা ঘুমিয়ে পড়েছেন কিনা, এ নিয়ে আমার সংশয় হতো। অতঃপর তাঁকে আবারো সালাতের জন্য ডাকা হতো। এ ছিল বয়োবৃদ্ধ বা শরীর ভারী হওয়া পর্যন্ত তাঁর রাতের সালাত। অতঃপর ‘আয়িশাহ তাঁর শরীর ভারী হওয়া সম্পর্কিত আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী যা উল্লেখ করার করেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 103 · #1350 · Sahih, Sahih, Daif - 104
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঘুমালেন। অতঃপর তিনি দেখলেন যে, তিনি ঘুম থেকে জেগে মিসওয়াক করে অযু সেরে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘ইন্না ফি খালক্বিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি’’ সূরাহ আল ‘ইমরানের শেষ আয়াত পর্যন্ত। তারপর উঠে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। সালাতের ক্বিয়াম, রুকূ‘ ও সিজদা্ খুব দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি নাক ডেকে ঘুমাতে লাগলেন। এরূপে তিনবারে ছয় রাক‘আত আদায় করলেন এবং প্রতিবারই মিসওয়াক করে অযু সেরে উক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন। সবশেষে বিতর পড়লেন। বর্ণনাকারী ‘উসমান বলেন, তিনি বিতর সালাত তিন রাক‘আত আদায় করেছেন। অতঃপর মুয়াযযিন এলে তিনি মসজিদে চলে গেলেন। ইবনু ঈসা বলেন, তিনি বিতর করলেন, অতঃপর ফজরের আবির্ভাব হলে বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের সংবাদ দিলেন। তিনি ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায়ের পর মসজিদে যান এবং এ দু‘আ পাঠ করেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জবানে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, নূর দান করো আমার পেছন ও সম্মুখভাগে এবং আমার উপরে ও নীচে। হে আল্লাহ! আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান করো’’।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 104 · #1351 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 105
। হুসাইন (রহঃ) হতে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে রয়েছেঃ ‘‘আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান করো’’। সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ খালিদ আদ-দালানী (রহঃ) হাবীব (রহঃ) হতে এবং সালামাহ ইবনু কুহাইল (রহঃ) আবূ রিশদীন ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 105 · #1352 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 106
। আল-ফাদল ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বচক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি অবলোকনের উদ্দেশে আমি একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে উঠে অযু করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তাঁর দাঁড়ানোর দীর্ঘতা ছিল তাঁর রুকূ‘র সমান এবং তাঁর রুকূ‘র দীর্ঘতা ছিলো তাঁর সাজদার সমান। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে আবার সজাগ হয়ে অযু ও মিসওয়াক করে সূরাহ আল ‘ইমরান হতে এ পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘ইন্না ফি খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান নাহারি’’। এরূপে তিনি দশ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং শেষে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করলেন। এ সময় মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বসে থাকলেন। অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করলেন।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু বাশশার বর্ণিত এ হাদীসটির কিছু অংশ আমার নিকট অস্পষ্ট।
Book 5 · Hadith 106 · #1353 · Daif, Daif, Daif - 107
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি আমার খালা মায়মূনাহর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা নিকট অবস্থান করি। সন্ধ্যার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বালকটি কি সালাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি উঠে অযু করে বিতর সহ সাত বা পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি কেবল শেষ রাক‘আতেই সালাম ফিরান।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 107 · #1354 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (117) - 108
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি আমার খালা মায়মূনাহ বিনতুল হারিসের ঘরে অবস্থান করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ের পর ঘরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার উঠে সালাত আদায় করতে লাগলেন, তখন আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন এবং তিনি পাঁচ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি আবার ঘুমালেন; এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। অতঃপর আবার উঠে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর (ঘর থেকে) বের হয়ে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 108 · #1355 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (117) - 109
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা তাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি উঠে দু’ দু’ রাক‘আত করে আট রাক‘আত সালাত আদায়ের পর পাঁচ রাক‘আত বিতর করেন এবং তিনি এ রাক‘আতগুলোর মাঝে বসেননি।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 109 · #1356 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 110
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বের দু’ রাক‘আতসহ সর্বমোট তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। দু’ দু’ রাক‘আত করে ছয় রাক‘আত এবং বিতর পাঁচ রাক‘আত, এর সর্বশেষ রাক‘আত ছাড়া তিনি মাঝখানে বসতেন না।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 110 · #1357 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 111
। ‘উরওয়াহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সহ রাতে সর্বমোট তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 111 · #1358 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (737) - 112
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ের (অনেকক্ষণ) পরে দাঁড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করেন এবং দু’ আযানের (ফজরের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের) মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি কখনো এ দু’ রাক‘আত ছেড়ে দেননি। জা‘ফর ইবনু মুসাফিরের বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি দু’ আযানের মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত বসে আদায় করেছেন।[1] সহীহ : তার একথাটি বাদেঃ দুই আযানের মাঝে। সংরক্ষিত হচ্ছেঃ বিতরের পরে।
Book 5 · Hadith 112 · #1359 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1159) - 113
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বায়িস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন অথবা তিন রাক‘আত বিতর পড়তেন। তিনি সাত রাক‘আতের কম এবং তের রাক‘আতের অধিক বিতর করতেন না।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আহমাদের বর্ণনায় (রহঃ) ছয় ও তিন রাক‘আতের কথা উল্লেখ নেই।
Book 5 · Hadith 113 · #1360 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 114
। আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। পরবর্তীতে তিনি দু’ রাক‘আত বাদ দিয়ে এগার রাক‘আত আদায় করেছেন। অতঃপর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি রাতে নয় রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। বিতর হতো তাঁর রাতের শেষ সালাত।[1] দুর্বল।
Book 5 · Hadith 114 · #1361 · Daif, Daif, Daif - 115
। মাখরামাহ ইবনু সুলায়মান (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তাকে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি বলেছেন, একদা আমি মায়মূনাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমার ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করি। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর জেগে উঠে পানির মশকের নিকট গিয়ে অযু করলেন। আমিও তাঁর সাথে অযু করলাম। তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি আমাকে টেনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি আমার মাথার উপর তাঁর হাত রাখলেন, যেন তিনি আমার কান স্পর্শ করে আমাকে সজাগ করছেন। অতঃপর তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। প্রতি রাক‘আতে তিনি সূরাহ ফাতিহা পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আবার সালাত আদায় করলেন। শেষ পর্যন্ত বিতর সহ মোট এগার রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এরপর ঘুমালেন। অতঃপর বিলাল এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! সালাত। তখন তিনি উঠে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায়ের পর লোকদেকে নিয়ে ফারয সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 115 · #1362 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (992) Sahih Muslim (763) - 116
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকট এক রাত অতিবাহিত করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। তিনি তের রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, তাতে ফজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাতও ছিল। আমি অনুমান করলাম, তাঁর প্রতি রাক‘আতে দাঁড়ানোর সময়টুকু ছিল ‘‘ইয়া আইয়্যূহাল মুয্যাম্মিল’’ সূরাহ পাঠের সময়ের অনুরূপ। বর্ণনাকারী নূহ্ ইবনু হাবীব, তন্মধ্যে ফজরের দু’ রাক‘আতও ছিল’ এ কথাটি বলেননি।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 116 · #1363 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 117
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত স্বচক্ষে দেখার সংকল্প করলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর ঘরের চৌকাঠ বা তাঁবুর দরজাতে মাথা রেখে শুয়ে থাকলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত আদায় করলেন খুবই দীর্ঘভাবে। অতঃপর আরো দু’ রাক‘আত। তবে এর দীর্ঘতা পূর্বের দু‘ রাক‘আতের চেয়ে কম। অতঃপর দু’ রাক‘আত পড়লেন, এটা পূর্বের দু‘ রাক‘আতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিলো। অতঃপর আরো দু’ রাক‘আত আদায় করলেন পূর্বেরটির চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে। অতঃপর বিতর আদায় করলেন। এ নিয়ে সর্বমোট তের রাক‘আত সালাত।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 5 · Hadith 117 · #1364 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (765) - 118
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমার মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা তাকে বর্ণনা করেছেন যে, এক রাত তিনি তার খালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মায়মূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করেন। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি ঘুমিয়ে পড়ি আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী লম্বালম্বী ঘুমালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর রাতের অর্ধেক অথবা সামান্য অতিবাহিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হাত দিয়ে নিজের মুখমন্ডল হতে ঘুমের রেশ মুছতে মুছতে উঠে বসেন এবং সূরাহ আলে ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর পানির একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গিয়ে তা থেকে পানি নিয়ে খুব ভালভাবে অযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যা যা করেছেন তা করলাম এবং তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রেখে আমার কান ধরে টানলেন। অতঃপর তিনি দু’ রাক‘আত, দু’ রাক‘আত, অতঃপর দু’ রাক্‘আত, দু’ রাক‘আত, আবার দু’ রাক‘আত এবং আবার দুই রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী আল-কা‘নবী বলেন, তিনি এভাবে ছয়বার আদায় করেন। অতঃপর বিতর করে বিশ্রাম নেন। অবশেষে মুয়াযযিন এলে তিনি উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে বের হলেন এবং (মসজিদে গিয়ে) ফজরের সালাত আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 118 · #1365 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (992) Sahih Muslim (763) - 119
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাধ্যানুযায়ী (নিয়মিতভাবে) আমল করবে। কেননা তোমরা বিরক্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ প্রতিদান দেয়া বন্ধ করেন না। মহান আল্লাহ ঐ আমলকে ভালবাসেন যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন আমল করলে তা নিয়মিতভাবে করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 119 · #1366 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5861) Sahih Muslim (782) - 120
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ‘উসমান! তুমি কি আমার সুন্নাতকে এড়িয়ে চলছো? তিনি বললেন, না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রসূল! বরং আমি আপনার সুন্নাতেরই প্রত্যাশী। তিনি বললেনঃ আমি (রাতে) ঘুমাই এবং সালাতও আদায় করি, সওম পালন করি এবং ইফতারও করি এবং নারীদেরকে বিবাহও করি। হে উসমান! আল্লাহকে ভয় করো! কেননা তোমার প্রতি তোমার পরিবারের হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে এবং তোমার নিজের শরীরেও হক আছে। কাজেই তুমি সওম পালন করবে এবং ইফতারও করবে, সালাত আদায় করবে এবং নিদ্রায়ও যাবে।[1] সহীহ।
Book 5 · Hadith 120 · #1367 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 121
। আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তিনি ‘ইবাদাতের জন্য কোনো বিশেষ দিনকে নির্ধারণ করতেন কিনা? তিনি বললেন, না। তিনি প্রতিটি আমল নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতে সক্ষম ছিলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি সেরূপ করতে সক্ষম?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 5 · Hadith 121 · #1368 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6466) Sahih Muslim (783)