Prayer (Kitab Al-Salat): Detailed Injunctions about Witr
- 1
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে কুরআনের ধারকগণ! তোমরা বিতর সালাত আদায় করো। কেননা আল্লাহ বেজোড়, তাই তিনি বেজোড়কে ভালবাসেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 1 · #1414 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 2
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে মারফু‘ভাবে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে রয়েছেঃ এক বেদুঈন জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি বলেছেন? তিনি বললেন, এটা তোমার ও তোমার সাথীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 2 · #1415 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 3
। খারিজাহ ইবনু হুযাফা আল-আদাবী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেনঃ মহা মহীয়ান আল্লাহ তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত সালাত দিয়েছেন, সেটা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম। তা হলো বিতর। তোমাদের জন্য এ সালাত আদায়ের সময় হচ্ছে ‘ইশার সালাতের পর হতে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।[1] দুর্বল : মিশকাত (১২৬৭)।
Book 8 · Hadith 3 · #1416 · Daif, Daif, Daif - 4
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ বিতর সালাত সত্য। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বিতর সালাত সত্য। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বিতর সালাত সত্য। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়।[1] দুর্বল : মিশকাত (১২৭৮)।
Book 8 · Hadith 4 · #1417 · Daif, Daif, Daif - 5
। ইবনু মুহাইরীয (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। বনু কিনানাহর আল-মুখদাজী সিরিয়াতে আবূ মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, বিতর ওয়াজিব। মুখদাজী বলেন, আমি ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বললেন, আবূ মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফারয করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, আর অবহেলাহেতু এর কোনটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 5 · #1418 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 6
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁর দুই আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বলেনঃ দু’ দু’ রাক‘আত এবং রাতের শেষভাগে বিতর এক রাক‘আত।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 6 · #1419 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (749) - 7
। আবূ আইয়ূব আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর বিতর সালাত অপরিহার্য। সুতরাং কেউ ইচ্ছে হলে পাঁচ রাক‘আত আদায় করবে, কেউ তিন রাক‘আত আদায় করতে চাইলে সে তাই করবে এবং কেউ এক রাক‘আত বিতর আদায় করতে চাইলে সে এক রাক‘আত আদায় করবে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 7 · #1420 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 8
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে সূরাহ ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ‘লা’, ‘কুল ইয়া-আইয়্যুহাল কাফিরূন’ এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ আল্লাহুস সমাদ’ তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 8 · #1421 · Sahih, Sahih, Hasan - 9
। ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু জুরাইজ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বিতর সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সূরাহ তিলাওয়াত করতেন তা জিজ্ঞেস করি। এরপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তৃতীয় রাক‘আতে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’, ‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব’ এবং ‘কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন নাস’ সূরাহ তিনটি তিলাওয়াত করতেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 9 · #1422 · Sahih, Sahih, Daif - 10
। আবুল হাওরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কতগুলো বাক্য শিখিয়েছেন, যা আমি বিতর সালাতে পাঠ করে থাকি। তা হলোঃ "اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّمَا قْضَيْتَ؛ إِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ". অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন প্রদান করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সর্ব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সহিত সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যে সমস্ত মঙ্গলদায়ক জিনিস প্রদান করেছেন, সেগুলিকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল হতে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফয়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফয়সালা। তাই আপনার ফয়সালার উপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফয়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত”। ‘‘আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ‘তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউকদা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রববানা ওয়া তা‘আলাইতা।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 10 · #1423 · Sahih, Sahih, Sahih - 11
। আবূ ইসহাক হতে উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে বর্ণিত। তাতে শেষাংশে রয়েছেঃ এগুলো বিতরের কুনূতে বলেছেন। কিন্তু এ কথা উল্লেখ নেই যে, ‘আমি এগুলো বিতরে বলেছি।’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 11 · #1424 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 12
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিতর সালাত শেষে বলতেনঃ আল্লাহুমা ইন্নী আ‘উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমু‘আফাতিকা মিন ‘উকুবিকা ওয়া আ‘উযুবিকা মিনকা লা উহসী সানা ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা।’’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ হতে আশ্রয় চাই। আপনার শাস্তি হতে আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় চাই। আমি আপনার থেকে সর্বপ্রকারের আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারবো না, বরং তুমি আপনার নিজের যেরূপ প্রশংসা করেছেন, ঠিক সেরূপই’’। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হিশাম হাম্মাদের প্রাক্তন শায়খ এবং ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন হতে আমার কাছে এ হাদীস পৌঁছে যে, তার থেকে হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ছাড়া অন্য কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেননি। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে রুকূ‘র আগে কুনূত পাঠ করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে তার পিতা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে কুনূতের কথা এবং উবাইয়ের নাম উল্লেখ নেই। অনুরূপভাবে ‘আবদুল আ‘লা এবং মুহাম্মাদ ইবনু বিশর আল-আবদী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ হাদীসটি ঈসা ইবনু ইউনুসের সাথে কুফাতে শুনেছেন। তবে কুনূতের কথা উল্লেখ করেননি। একইভাবে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ এবং শু‘বাহ (রহঃ) ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এখানেও কুনূতের কথা উল্লেখ নেই। যুবাইদী সূত্রে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘র পূর্বে কুনূত পাঠ করেছেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এরূপও বর্ণিত হয়েছে যে, উবাই (রাঃ) রমাযানের অর্ধ মাস কুনূত পাঠ করতেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 12 · #1425 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 13
। মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার এক সাথীর সূত্রে বর্ণিত। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) রমাযানে তাদের ইমামতি করেছেন এবং রমাযানের শেষদিকে কুনূত পড়েছেন।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 13 · #1426 · Daif, Daif, Daif - 14
। হাসান বাসরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (তারাবীহ সালাতের জন্য) উবাই ইবনু কা‘বের পিছনে লোকদেরকে জামা‘আতবদ্ধ করলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে বিশ রাত সালাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি রমাযান মাসের অর্ধেক পর্যন্ত কুনূত পাঠ করেননি। অতঃপর যখন রমাযানের শেষ দশকে তিনি মাসজিদ ছেড়ে নিজ ঘরে সালাত আদায় করলেন। লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো, উবাই পালিয়ে গেছে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস এটাই প্রমাণ করে যে, কুনূত সংক্রান্ত যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তা অনির্ভরযোগ্য এবং উল্লেখিত হাদীসদ্বয় দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরে কুনূত পড়েছেন এ মর্মে উবাইর বর্ণনা দুর্বল।
Book 8 · Hadith 14 · #1427 · Daif, Daif, Daif, Daif - 15
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতের সালাম ফিরিয়ে বলতেনঃ সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 15 · #1428 · Sahih, Sahih, Sahih - 16
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিতর সালাত আদায় না করেই ঘুমায় অথবা আদায় করতে ভুলে যায়, পরে স্মরণ হওয়া মাত্রই সে যেন তা আদায় করে নেয়।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 16 · #1429 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 17
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করেছেন, যা আমি সফরে কিংবা বাড়িতে অবস্থানকালেও পরিহার করি না। তা হলোঃ চাশতের দু’ রাক‘আত সালাত, প্রতি মাসে তিন দিন (১৩, ১৪,ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিযের) সওম পালন এবং বিতর আদায় না করা পর্যন্ত না ঘুমানো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম, এ কথা বাদে : সফরে কিংবা বাড়িতেও নয়।
Book 8 · Hadith 17 · #1430 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 18
। আবূ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করেছেন যা আমি কখনো বর্জন করি না। তিনি আমাকে ওয়াসিয়াত করেছেন প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন করতে, বিতর সালাত আদায়ের পূর্বে নিদ্রায় না যেতে এবং বাড়িতে ও সফরে প্রত্যেক অবস্থায় চাশতের সালাত আদায় করতে।[1] সহীহ : তার এ কথা বাদে : মুকীম অবস্থায় এবং সফর অবস্থায়ও নয়।
Book 8 · Hadith 18 · #1431 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 19
। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ বিতর সালাত তুমি কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে বিতর আদায় করি। তিনি ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বিতর কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বললেন, আমি বিতর শেষ রাতে আদায় করি। অতঃপর তিনি আবূ বাকর (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং ‘উমার (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে শক্তভাবে ধারণ করেছে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 19 · #1432 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 20
। মাসরূক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত কোন সময়ে আদায় করতেন? তিনি বলেন, তিনি রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে এবং শেষভাগে- এগুলোর যে কোন সময়েই বিতর আদায় করেছেন। তবে তিনি ইন্তিকালের পূর্বে বিতর সালাত সাহারীর শেষ সময়ে আদায় করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 20 · #1433 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (745) - 21
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সুবহি সাদিকের আগেই বিতর আদায় করে নিবে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 21 · #1434 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 22
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়িস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি বিতর সালাত কখনো রাতের প্রথমাংশে আবার কখনো শেষাংশে আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ক্বিরাআত করেছেন? তিনি কি নিঃশব্দে পড়তেন নাকি সশব্দে? তিনি বলেন, তিনি কখনো আস্তে এবং কখনো জোরে- উভয়ভাবেই পড়েছেন। তিনি কখনো গোসল করে ঘুমিয়েছেন এবং কখনো অযু করে ঘুমিয়েছেন।[1] সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কুতাইবাহ ছাড়া অন্যরা ‘স্ত্রী সহবাসের গোসল’ বলেছেন।
Book 8 · Hadith 22 · #1435 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 23
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাতে পরিণত করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 23 · #1436 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (998) Sahih Muslim (751) - 24
। ক্বায়িস ইবনু ত্বালক্ব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রমাযান মাসে ত্বালক্ব ইবনু ‘আলী (রাঃ) আমাদের সাথে দেখা করতে এসে এখানে সন্ধ্যা অতিবাহিত করেন এবং এখানেই ইফতার করেন। অতঃপর রাতে আমাদেরকে নিয়ে তারাবীহ ও বিতর সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি নিজেদের মসজিদের গিয়ে তার সাথীদেরকে নিয়েও সালাত আদায় করেন। অতঃপর বিতর সালাতের জন্য এক ব্যক্তিকে সম্মুখে এগিয়ে দিয়ে বলেন, তোমার সাথীদেরকে বিতর পড়াও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ একই রাতে দুইবার বিতর হয় না।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 24 · #1437 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 25
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের নিকটবর্তী করবো। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) যুহর, ‘ইশা এবং ফজরের সালাতের শেষ রাক‘আতে দু‘আ কুনূত পাঠ করতেন। এতে মুমিনদের জন্য দু‘আ এবং কাফিরদের জন্য অভিসম্পাত করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 25 · #1438 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (797) Sahih Muslim (676) - 26
। আল-বারাআ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে দু‘আ কুনূত পাঠ করতেন। ইবনু মুয়াযের বর্ণনায় মাগরিবের সালাতেও কুনূত পড়ার কথা রয়েছে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 26 · #1439 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (678) - 27
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ‘ইশার সালাতে দু‘আ কুনূত পাঠ করেছেন। তিনি কুনূতে বলেছেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দিন! হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনি কঠোর হোন! হে আল্লাহ! তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দিন যেমন দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন ইউসুফ (আ)-এর যুগে।’’ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, একদিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর দুর্বল ও নির্যাতিত মুমিনদের জন্য দু‘আ না করায় আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ তুমি কি তাদেরকে (নির্যাতিত মুসলিমদের) দেখছো না যে, তারা মাদীনায় ফিরে এসেছে?[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারীতে এ কথা বাদে : ‘‘আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে...।’’
Book 8 · Hadith 27 · #1440 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (675) - 28
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো এক মাস যুহর, ‘আসর, মাগরিব, ‘ইশা ও ফজরের সালাতে শেষ রাক‘আতে ‘‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বলার পর কুনূত পাঠ করেছেন। এ সময় তিনি বনু সুলাইমের কয়েকটি গোত্র, যেমন রি‘ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যার উপর বদদু‘আ করেছেন এবং তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা আমীন আমীন বলেছেন।[1] হাসান।
Book 8 · Hadith 28 · #1441 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 29
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে কুনূত পড়েছেন কিনা এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, রুকূ‘র পূর্বে নাকি পরে? তিনি বলেন, রুকূ‘র পরে। মুসাদ্দাদ বলেন, ছোট কুনূত পড়েছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 29 · #1442 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1001) Sahih Muslim (677) - 30
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো এক মাস কুনূত পড়েছেন, অতঃপর তা ছেড়ে দিয়েছেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 30 · #1443 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (677) - 31
। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাত আদায়কারী এক সাহাবী আমাকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক‘আতে (রুকূ‘) হতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেছেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 31 · #1444 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 32
। যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে একটি হুজরাহ বানিয়ে নিলেন। রাতে সেখানে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করতো এবং তারা প্রতি রাতে সেখানে একত্র হতো। এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট (মসজিদে) না আসায় তারা গলা খাকাড়ি ও উচ্চস্বরে কথাবার্তা বললো, এমনকি তাঁর ঘরের দরজায় কংকর নিক্ষেপ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট মনে তাদের নিকট এসে বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের কি হলো যে, তোমরা (নফল সালাত জামা‘আতে আদায়ের জন্য) ব্যতিব্যস্ত হচ্ছো? আমি আশংকা করছি, তোমরা এভাবে এলে রাতের নফল সালাত তোমাদের উপর ফারয করা হতে পারে? কাজেই নফল সালাত তোমাদের নিজ নিজ ঘরে আদায় করা উচিত। কেননা ফারয সালাত ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির নফল সালাত নিজ ঘরে আদায় করাই উত্তম।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 32 · #1445 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6113) Sahih Muslim (781) - 33
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের কিছু সালাত নিজ নিজ ঘরে আদায় করবে এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। এটি গত হয়েছে (১০৪৩)।
Book 8 · Hadith 33 · #1446 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (432) Sahih Muslim (77) - 34
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী আল-খাস‘আমী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বোত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন সাদাকা উত্তম? তিনি বলেনঃ নিজ শ্রমে উপার্জিত সামান্য সম্পদ হতে যে দান করা হয় সেটা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হিজরাত উত্তম? তিনি বলেনঃ আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু হতে দূরে থাকা। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ধরনের হত্যা মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি (যুদ্ধের ময়দানে) নিজের ঘোড়া সহ নিহত হয়।[1] সহীহ : এ শব্দে (কোন সালাত?)।
Book 8 · Hadith 34 · #1447 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 35
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে দয়া করুন, যে রাতে উঠে নিজেও সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও সালাত আদায় করে। সে উঠতে না চাইলে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ এমন নারীর প্রতিও অনুগ্রহ করুন, যে রাতে উঠে নিজে সালাত আদায় করে এবং তার স্বামীকেও জাগায়। সে উঠতে না চাইলে তার মুখন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়।[1] হাসান সহীহ।
Book 8 · Hadith 35 · #1448 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 36
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে নিজে সজাগ হলো এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দিলো। অতঃপর উভয়েই একত্রে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলো। তাদের দু’জনকেই (আল্লাহর) অধিক যিকিরকারী ও যিকিরকারিণীর তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।[1] সহীহ
Book 8 · Hadith 36 · #1449 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 37
। ‘উসমান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে ব্যক্তি কুরআন নিজে শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 8 · Hadith 37 · #1450 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5027) - 38
। সাহল ইবনু মু‘আয আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তদনুযায়ী আমল করে, ক্বিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন মুকুট পরানো হবে যার আলো সূর্যের আলোর চাইতেও উজ্জল হবে। ধরে নাও, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কিরূপ হবে?)। তাহলে যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হবে, তোমরা কি তা ধারণা করতে পার![1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 38 · #1451 · Daif, Daif, Daif, Daif - 39
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ফিরিশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুন সওয়াব।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 39 · #1452 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4937) Sahih Muslim (897) - 40
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরে তা নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, তাদেরকে রহমত ঢেকে নেয়, ফিরিশতাগণ তাদেরকে ঘিরে রাখে, এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশতাদের কাছে তাদের প্রশংসা করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 40 · #1453 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2699) - 41
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা সুফফাতে (মসজিদে নাববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করবে যে, ভোরে বুতহান অথবা আক্বীক্ব উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে আল্লাহর সাথে কোনরূপ অন্যায় না করে ও আত্মীয়তা ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উজ্জল বর্ণের সুন্দর দু‘টি উটনী নিয়ে আসবে? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সবাই। তিনি বললেনঃ অবশ্য তোমাদের কেউ ভোরে মসজিদে এসে আল্লাহর কিতাব হতে দু‘টি আয়াত শিক্ষা করলে এরূপ দু‘টি উটনীর চেয়েও উত্তম এবং তিনটি আয়াত শিক্ষা করলে তিনটি উটের চেয়ে উত্তম হবে। আয়াতের সংখ্যা যত বেশী হবে তা তত সংখ্যক উটের চেয়ে উত্তম হবে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 41 · #1454 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (803) - 42
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরাহ ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন’’ হচ্ছে উম্মুল কিতাব, উম্মুল কুরআন এবং বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 42 · #1455 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4704) - 43
। আবূ সাঈদ ইবনুল মু‘আল্লা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি সালাতে রত থাকাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ডাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সালাত আদায় শেষে তাঁর নিকট এলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমার ডাকে সাড়া দিতে কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে? তিনি বললেন, আমি সালাতে রত ছিলাম। তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ কি বলেননিঃ ‘‘হে মুমিনগণ! যখন আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকে যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে। (সূরাহ আল-আনফাল : ২৪) আমি মাসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের অত্যধিক মর্যাদা সম্পন্ন একটি সূরাহ শিক্ষা দিবো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার কথাটি স্মরণ রাখবো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন’’, এটি হচ্ছে সাত আয়াতবিশিষ্ট সূরাহ। আমাকে এটি এবং কুরআনুল ‘আযীম প্রদান করা হয়েছে।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 8 · Hadith 43 · #1456 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (4474) - 44
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাব‘উ মাসানী (সাত আয়াতবিশিষ্ট) নামক দীর্ঘ সূরাহ দেয়া হয়েছে এবং মূসা (আ)-কে দেয়া হয়েছিল ছয়টি। অতঃপর তিনি তাওরাতের লিখিত ফলকগুলো ছুড়ে ফেলায় দু‘টি উঠিয়ে নেয়া হয় এবং চারটি অবশিষ্ট থাকে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 44 · #1457 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Daif - 45
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি আবার বলেন, হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, ‘‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’’ (আয়াতুল কুরসী)। তখন তিনি আমার বুকে (হালকা) আঘাত করে বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান আনন্দদায়ক হোক।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 45 · #1458 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (810) - 46
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে বারবার সূরাহ ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতে শুনে ঘটনাটি ভোর বেলায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট এসে উল্লেখ করলো। লোকটি যেন এ সূরাহ বারবার পাঠ করাকে তুচ্ছ মনে করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! এ সূরাহটি পুরো কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 8 · Hadith 46 · #1459 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5013) - 47
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রীর লাগাম ধরে টেনে নিয়ে যেতাম। একদা তিনি আমাকে বললেনঃ হে ‘উক্ববাহ! আমি কি তোমাকে পঠিতব্য দু‘টি সূরাহ শিক্ষা দিবো না? অতঃপর তিনি আমাকে সূরাহ ‘কুল আ‘ঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব এবং কুল আ‘ঊযু বিরব্বিন নাস’ শিখালেন। এতে তিনি আমাকে তেমন খুশী হতে দেখেননি। অতঃপর তিনি সালাতের জন্য অবতরণ করে লোকদেরকে নিয়ে ফজর সালাতে এ দু’টি সূরাহ পাঠ করলেন। সালাত শেষে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ কেমন দেখলে, হে ‘উক্ববাহ![1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 47 · #1460 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 48
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আল-জুহফা ও আল-আবওয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সফরকালে আমরা হঠাৎ প্রবল বাতাস ও ঘোর অন্ধকারের কবলে পড়ি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কুল আ‘ঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব এবং কুল আ‘ঊযু বিরব্বিন নাস’ সূরাহ দু’টি পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং বললেনঃ হে ‘উকবাহ! এ সূরাহ দু’টি দ্বারা পানাহ চাও। কেননা পানাহ চাওয়ার জন্য এরূপ সূরাহ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু’টি সূরাহ দ্বারা সালাতের ইমামতি করতেও শুনেছি।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 48 · #1461 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 49
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতে) কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কুরআন পাঠ করতে করতে উপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হবে।[1] হাসান সহীহ।
Book 8 · Hadith 49 · #1462 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 50
। ক্বাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্বিরাআত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি যেখানে যতটুকু দীর্ঘ করা প্রয়োজন, সেখানে ততটুকু দীর্ঘ করে টেনে পাঠ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 8 · Hadith 50 · #1463 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5045) - 51
। ইয়া‘লা ইবনু মামলাক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত ও ক্বিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তাঁর সালাত সম্পর্কে জেনে তোমাদের কি দরকার? তিনি সালাত আদায় করতেন এবং সালাত আদায়ের সমপরিমান সময় ঘুমাতেন, আবার যেটুকু সময় ঘুমাতেন সে পরিমাণ সময় সালাত আদায় করতেন। আবারো সালাত আদায়ের সমপরিমান সময় ঘুমাতেন। এভাবেই ভোর হয়ে যেতো। তিনি তাঁর ক্বিরাআতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ক্বিরাআতে এক একটি হরফ স্পষ্ট উচ্চারণ করতেন।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 51 · #1464 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 52
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাক্কাহ বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় সূরাহ ‘আল-ফাতহ্’ পাঠ করতে শুনেছি এবং প্রতিটি আয়াত পুনরাবৃত্তিসহ।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 52 · #1465 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7540) Sahih Muslim (794) - 53
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সুললিত কণ্ঠে কুরআনকে সুসজ্জিত করে পাঠ করা।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 53 · #1466 · Sahih, Sahih, Sahih - 54
। আবুল ওয়ালীদ, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইয়াযীদ ইবনু খালিদ হতে পুর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মধুর সূরে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 54 · #1467 · Sahih, Sahih - 55
। সা‘দ (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
Book 8 · Hadith 55 · #1468 · Daif, Sahih, Sahih, Sahih - 56
। ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, একদা আবূ লুবাবাহ (রাঃ) আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে আমরা তার অনুসরণ করি। যখন তিনি তার ঘরে ঢুকলেন, আমরাও তাতে ঢুকে পড়ি এবং দেখি, তিনি এমন লোক যার ঘরটি একেবারে জীর্ণ-শীর্ণ এবং অবস্থাও অসচ্ছল। আমি তাকে বলতে শুনি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে কুরআনকে মধুর সূরে পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনু আবূ মুলায়কাহকে বলি, হে আবূ মুহাম্মাদ! যদি কারো স্বরই শ্রুতিমধুর না হয়? তিনি বললেন, সাধ্যমত সুন্দরভাবে পড়ার চেষ্টা করবে।[1] হাসান সহীহ।
Book 8 · Hadith 56 · #1469 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 57
। ওয়াকী‘ ও ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহঃ) বলেন, ‘মান লাম ইতাগান্না’ এর অর্থ হচ্ছে ‘মধুর সূরে স্পষ্ট আওয়াযে কুরআন পড়ার চেষ্টা করা।[1] সহীহ মাক্বতূ‘ : বুখারী।
Book 8 · Hadith 57 · #1470 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih - 58
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ অন্য কিছু এতো মনোযোগ দিয়ে শুনেন না, যেভাবে তিনি নবীর সুমধুর কন্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণে কুরআন পাঠ শুনেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 58 · #1471 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7544) Sahih Muslim (792) - 59
। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ (মুখস্ত) করার পর তা ভুলে যায়, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে পঙ্গু অবস্থায় (বা খালি হাতে) সাক্ষাত করবে।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 59 · #1472 · Daif, Daif, Daif, Daif - 60
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযামকে সূরাহ আল-ফুরক্বান আমার পড়ার নিয়মের ব্যতিক্রম পড়তে শুনেছি। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে আমাকে তা পড়িয়েছেন। আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়তে চাইলাম। কিন্তু আমি তাকে পড়া শেষ করতে সুযোগ দিলাম। তার সালাত শেষ হলে আমি আমার চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে তাকে টেনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাকে সূরাহ আল-ফুরক্বান পড়তে শুনেছি আপনি আমাকে যেভাবে পড়িয়েছেন তার বিপরীতভাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আচ্ছা পাঠ করো তো! তখন সে ঐরূপে পড়লো যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ আচ্ছা তুমি পড়ো তো। তখন আমিও পাঠ করলাম। তিনি বললেনঃ এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং যেভাবে পড়তে সহজ হয় পড়ো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 60 · #1473 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2419) Sahih Muslim (818) - 61
। মা‘মার (রহঃ) বলেন, ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেছেন, উল্লেখিত বর্ণের পার্থক্য এক একটি বর্ণে সীমিত (অর্থাৎ তা কেবল আক্ষরিক পার্থক্য), এখানে হালাল-হারাম সম্পর্কে কোন বিভেদ নেই।[1] সহীহ মাক্বতূ‘ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 61 · #1474 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Sahih, Isnaad Sahih - 62
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে উবাই! আমাকে কুরআন শিখানো হয়েছে। আমাকে বলা হলো, এক হরফে নাকি দু’ হরফে? তখন আমার সঙ্গী ফিরিশতা বললেন, বলুন, দু’ হরফে। আমি বললাম, দু’ হরফে। অতঃপর আমাকে বলা হলো, দু’ হরফে নাকি তিন হরফে? আমার সঙ্গী ফিরিশতা বললেন, বলুন, তিন হরফে। তখন আমি বললামঃ আমি তিন হরফে (রীতিতে) পাঠ করতে চাই। এভাবে পর্যায়ক্রমে সাত হরফে পৌঁছে। অতঃপর ফিরিশতা বললেন, এর যে কোনো রীতিতে পাঠ করা মুর্খতার নিরাময় এবং সালাতের জন্য যথেষ্ট। অতঃপর বললেন, আপনি সামী‘আন, ‘আলীমান, ‘আযীযান, হাকীমান-এর স্থলে অন্য কোনো সিফাত পরিবর্তন করে পাঠ করলে দোষ নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত ‘আযাবের আয়াতকে রহমত দিয়ে এবং রহমতের আয়াতকে ‘আযাবের আয়াত দিয়ে পরিবর্তন না করা হয়।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 62 · #1475 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 63
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু গিফারের কূপ বা ঝর্ণার নিকট অবস্থানকালে জিবরাঈল (আ) এসে বললেন, আল্লাহ আপনার উম্মাতকে এক হরফে (রীতিতে) কুরআন পড়ানোর জন্য আপনাকে আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে তাঁর ক্ষমা ও উদারতা কামনা করি যে, আমার উম্মাত (ভাষা ও আঞ্চলিকতার বিভিন্নতার দরুন) এই এক হরফে পাঠ করতে সক্ষম হবে না। অতঃপর জিবরাঈল দ্বিতীয়বার এসে আগের মতই বললেন। অবশেষে সাত হরফ পর্যন্ত পৌঁছে বললেন, আল্লাহ আপনার উম্মাতকে সাত হরফে কুরআন পড়াতে আপনাকে আদেশ করেছেন। আপনার উম্মাত এর যে কোনো হরফে পড়লেই তাদের পড়া নির্ভুল হবে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 63 · #1476 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (821) - 64
। নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু‘আও একটি ‘ইবাদাত। তোমাদের রব বলেছেনঃ ‘‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো’’ (সূরাহ আল-মু’মিন : ৬০)।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 64 · #1477 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 65
। সা‘দ (রাঃ) এর এক পুত্রের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার আব্বা আমাকে বলতে শুনলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত, তার সমস্ত নিয়ামাত ও আনন্দদায়ক বস্ত্ত চাই এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আগুন হতে ও তথাকার শক্ত শিকল ও হাতকড়া বেড়ী হতে, এবং ইত্যাদি।’ তিনি বললেন, হে আমার পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শীঘ্রই এমন জাতির আবির্ভাব হবে যারা দু‘আর মধ্যে সীমালঙ্ঘন করবে। সাবধান! তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ো না। তোমাকে জান্নাত দেয়া হলে সমগ্র জান্নাত ও তার যাবতীয় কল্যণকর সম্পদও তোমাকে দেয়া হবে। আর যদি জাহান্নামের আগুন হতে রেহাই পাও তাহলে তথাকার যাবতীয় অমঙ্গল ও কষ্টদায়ক সব কিছু হতেই রেহাই পাবে।[1] হাসান সহীহ : অনুরূপ গত হয়েছে (৯৬৫)।
Book 8 · Hadith 65 · #1478 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Daif - 66
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ফাদালাহ ইবনু ‘উবাইদ (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাতের মধ্যে দু‘আকালে আল্লাহর বড়ত্ব ও গুণাবলী বর্ণনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরূদ পাঠ করতে শুনলেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে। অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে অথবা অন্য কাউকে বললেনঃ তোমাদের কেউ সালাত আদায়কালে যেন সর্বপ্রথম তার প্রভূর মহত্ব ও প্রশংসা বর্ণনা করে এবং পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূপ পাঠ করে, অতঃপর ইচ্ছানুযায়ী দু‘আ করে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 66 · #1479 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 67
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ বাক্যে দু‘আ করা পছন্দ করতেন (যে দু‘আয় দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কথা থাকে), এছাড়া অন্যান্য দু‘আ ত্যাগ করতেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 67 · #1480 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 68
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে, হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমার প্রতি অনুগ্রহ করো। বরং যা চাওয়ার দৃঢ়তার সাথে চাইবে। কেননা তাঁর উপর কারোর প্রভাব চলে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 68 · #1481 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6339) - 69
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের দু‘আ কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে এবং বলে, আমি তো দু‘আ করেছি, অথচ কবুল হয়নি?[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 69 · #1482 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6340) Sahih Muslim (2735) - 70
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরের দেয়ালগুলো পর্দায় আবৃত করো না। যে ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে তার ভাইয়ের চিঠিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো, সে যেন জাহান্নামের আগুনের দিকে তাকালো। তোমরা হাতের পৃষ্ঠের দ্বারা নয় বরং হাতের তালুর দ্বারা আল্লাহর কাছে চাইবে। অতঃপর দু‘আ শেষে তোমাদের হাতের তালু দিয়ে নিজের চেহারা মুছবে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব হতে বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর সবগুলো সূত্রই নিকৃষ্ট। তবে এ সূত্রের বর্ণনাটি ভালো, কিন্তু এটাও দুর্বল।
Book 8 · Hadith 70 · #1483 · Daif, Daif, Daif, Daif - 71
। মালিক ইবনু ইয়াসার আস-সাকূনী আল-‘আওফী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট দু‘আর সময় হাতের তালুকে সম্মুখে রেখে দু‘আ করবে, হাতের পৃষ্ঠ দিয়ে নয়।[1] হাসান সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সুলায়মান ইবনু ‘আবদুল হামীদ (রহঃ) বলেন, আমাদের মতে মালিক ইবনু ইয়াসার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য পেয়েছেন।
Book 8 · Hadith 71 · #1484 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 72
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো তাঁর দু’ হাতের তালু দ্বারা এবং কখনো দু’ হাতে পৃষ্ঠ দ্বারা দু’ভাবেই দু‘আ করতে দেখেছি।[1] সহীহ : এ শব্দে :(جعل ظاهر كفيه مما يلي وجهه، و باطنهما مما يلي الأرض)
Book 8 · Hadith 72 · #1485 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 73
। সালমান ফারসী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় তোমাদের রবব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। বান্দাহ দু’ হাত তুলে তাঁর নিকট চাইলে তিনি খালি হাত ফেরত দিতে লজ্জবোধ করেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 73 · #1486 · Sahih, Sahih, Hasan - 74
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুমি উভয় হাতকে তোমার কাঁধ বরাবর বা অনুরূপ উঁচু করে দু‘আ করবে এবং ইস্তিগফারের সময় এক আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করবে এবং দু‘আতে কাকুতি মিনতির সময় দু’ হাত প্রসারিত করবে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 74 · #1487 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Hasan - 75
। ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মা‘বাদ ইবনু ‘আব্বাস (রহঃ) হতে এ হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কাকুতি মিনতির প্রার্থনা এরূপঃ দু’ হাতের পৃষ্ঠকে চেহারার কাছাকাছি নিয়ে যাবে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 75 · #1488 · Sahih, Sahih, Sahih Muquf, Hasan - 76
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 76 · #1489 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 77
। আস-সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আর সময় দু’ হাত উপরে উঠাতেন এবং দু’ হাত দিয়ে স্বীয় মুখমন্ডল মুছতেন।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 77 · #1490 · Daif, Daif, Daif, Daif - 78
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি একক, তুমি ঐ সত্তা যে, তুমি কারো হতে জন্ম নাওনি এবং কাউকে জন্মও দাওনি, কেউই তোমার সমকক্ষ নয়’’। তিনি বললেনঃ তুমি এমন নামে আল্লাহর কাছে চেয়েছো, যে নামে চাওয়া হলে তিনি দান করেন এবং যে নামে ডাকা হলে সাড়া দেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 78 · #1491 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 79
। মালিক ইবনু মিগওয়াল (রহঃ) এ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর ইসমে আযম দ্বারাই প্রার্থনা করেছো।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 79 · #1492 · Sahih, Sahih, Sahih - 80
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসা ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি সালাত আদায় করে এই বলে দু‘আ করলোঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তুমিই তো সকল প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি দয়াশীল। তুমিই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা! হে মহান সম্রাট ও সবোর্চ্চ মর্যাদার অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী’’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ ব্যক্তি ইসমে আযম দ্বারা দু‘আ করেছে, যে নামে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যে নামে তাঁর নিকট চাওয়া হলে তিনি দান করেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 80 · #1493 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 81
। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসমে আযম এ দু’টি আয়াতে রয়েছে- (এক) তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই, তিনি অতি দয়ালূ মেহেরবান (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ১৬৩)। (দুই) সূরাহ আলে-‘ইমরানের প্রথমাংশ, আলিফ-লাম-মীম, তিনিই সেই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী।[1] হাসান।
Book 8 · Hadith 81 · #1494 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 82
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তার একখানা চাদর চুরি হয়ে যায়। তিনি চোরকে বদ্দু‘আ করতে শুরু করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার পাপকে হালকা করো না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘লা তুসাববিখী’ এর অর্থ হচ্ছে, হালকা করো না।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 82 · #1495 · Daif, Daif, Daif, Daif - 83
। ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমরাহ করতে যাবার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিয়ে বললেনঃ হে আমার ছোট ভাই! তোমার দু‘আয় আমাদেরকে যেন ভুলো না। পরবর্তীতে ‘উমার (রাঃ) বলেন, তাঁর এ একটি শব্দ আমাকে এতোটা আনন্দ দিয়েছে যে, এর বিনিময়ে সমগ্র দুনিয়ার সম্পদও আমাকে এতোটা আনন্দিত করতে পারতো না। শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমি মাদীনায় ‘আসিমের সাথে দেখা করলে তিনি আমাকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনি ‘আমাদেরকে ভুলো না’ এর স্থলে ‘আমাদেরকেও শরীক করো’ বলেছেন।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 83 · #1496 · Daif, Daif, Daif - 84
। সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি দু’ আঙ্গুল উঠিয়ে দু‘আ করছিলাম, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃ এক আঙ্গুল দিয়ে দু‘আ করো এবং তিনি তর্জনী (শাহাদাত আঙ্গুল) দ্বারা ইশারা করলেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 84 · #1497 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 85
। ‘আয়িশাহ বিনতু সা‘দ (রাঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক মহিলার কাছে গিয়ে তার সম্মুখে খেজুর বিচি অথবা কংকর দেখতে পেলেন। মহিলাটি ওগুলোর সাহায্যে তাসবীহ পাঠ করছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে অধিক সহজ ও উত্তম পদ্ধতি জানাবো না! ‘‘আকাশের সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ সুবহানাল্লাহ এবং যমীনের সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ সুবহানাল্লাহ। আকাশ ও যমীনের মাঝে যা কিছু রয়েছে সে পরিমাণ সুবহানাল্লাহ এবং অনুরূপ সংখ্যক আল্লাহু আকবার, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’’[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 85 · #1498 · Daif, Daif, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan - 86
। ইউসায়রাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ তোমরা তাকবীর, তাকদীস এবং তাহলীল এগুলো খুব ভালভাবে স্মরণে রাখবে এবং এগুলোকে আঙ্গুলে গুনে রাখবে। কেননা আঙ্গুলগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এগুলোও সেদিন (কিয়ামতের দিন) কথা বলবে।[1] হাসান।
Book 8 · Hadith 86 · #1499 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 87
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আঙ্গুলে গুনে গুনে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছি। ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 87 · #1500 · Sahih, Sahih, Daif - 88
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়াহ (রাঃ) এর কাছ থেকে বেরিয়ে এলেন। ইতিপূর্বে তার নাম ছিলো বাররাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ নাম পরিবর্তন করেন। তিনি তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও মুসাল্লায় বসে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেন এবং ফিরে এসেও তাকে ঐ মুসাল্লায় বসে থাকতে দেখেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তখন থেকে একটানা এ মুসাল্লায় বসে রয়েছো? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি তিনবার চারটি কালেমা পড়েছি; এ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তুমি যা কিছু পাঠ করেছো, উভয়টি ওজন হলে আমার ঐ চারটি কালেমা ওজনে ভারী হবে। তা হচ্ছেঃ ‘‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি ‘আদাদা খালক্বিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’’[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 88 · #1501 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2726) - 89
। আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ যার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! ধনীরা তো সওয়াবে অগ্রগামী হয়ে যাচ্ছে। আমরা যেমন সালাত আদায় করি, তেমন তারাও সালাত আদায় করে, আমরা যেমন সওম পালন করি, তারাও তেমন সওম পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ দান-খয়রাত করে। (দান খয়রাতের জন্য) আমাদের তো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ যার! আমি কি তোমাকে এমন দুটি বাক্য শিক্ষা দিবো না যা পাঠ করলে তুমি তোমার চেয়ে অগ্রগামীদের সমপর্যায় হতে পারবে এবং তোমার পিছনের লোকেরাও তোমাকে অতিক্রম করতে পারবে না? তবে তার কথা ভিন্ন যে তোমার মতো আমল করে। তিনি বললেন, হ্যাঁ, নিশ্চয়। তিনি বললেনঃ তুমি প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশবার ‘আল্লাহু আকবার’, তেত্রিশবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’, তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং শেষে একবার ‘‘লা ’ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’’ বলবে। কেউ এ দু‘আ পড়লে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা হবে।[1] সহীহ : কিন্তু : ‘‘কেউ এ দু‘আ পড়লে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা হবে।’’ তার এ কথাটুকু মুদরাজ।
Book 8 · Hadith 89 · #1502 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 90
। মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফিরানোর পর কোন দু‘আ পাঠ করতেন তা জানার জন্য মু‘আবিয়াহ (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহর কাছে পত্র লিখলেন। অতঃপর মুগীরাহ (রাঃ) মু‘আবিয়াহর (রাঃ) নিকট পত্রের জবাব লিখে পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘ত্বায়তা ওয়ালা মু‘ত্বি‘আ লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দু মিনকাল জাদ্দ।’’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 90 · #1503 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (844) Sahih Muslim (593) - 91
। আবুয-যুবাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারয সালাত শেষে বলতেনঃ ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ দীন ওয়ালাও কারিহাল কাফিরুন। আহলুন নি‘আমি ওয়াল ফাদলি, ওয়াস সানায়িল হুসনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ দীন ওয়ালাও কারিহাল কাফিরুন।’’[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 91 · #1504 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (594) - 92
। আবুয-যুবাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) প্রত্যেক ফারয সালাতের পর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করতেন। অতঃপর উপরোক্ত দু‘আর অনুরূপ। তিনি আরো বৃদ্ধি করেনঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহুু লাহুন নি‘মাতু..।’’ অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 92 · #1505 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 93
। যায়িদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। বর্ণনাকারী সুলায়মানের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফারয সালাতের পর বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এবং প্রত্যেক বস্তুর রব্ব। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আপনার বান্দাহ ও রসূল। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এবং প্রত্যেক বস্তুর রব্ব! আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতি মুহুর্তে আপনার অকৃত্রিম ‘ইবাদাতকারী বানিয়ে দিন। হে মহান পরাক্রমশালী ও সম্মানের অধিকারী! আমার ফরিয়াদ শুনুন, আমার দু‘আ কবুল করুন। আল্লাহ মহান, আপনি সবচেয়ে মহান। হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের নূর। সুলায়মান ইবনু দাউদ বলেছেন, আপনিই আকাশ ও যমীনের রব্ব! হে আল্লাহ! আপনি মহান, অতি মহান। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম অভিভাবক। হে আল্লাহ! আপনি মহান! অতি মহান।’’[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 93 · #1506 · Daif, Daif, Daif, Daif - 94
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ আল্লাহুম্মাগ ফিরলী মা ক্বাদ্দামতু ওয়ামা আখখারতু ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আ‘লানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আ‘লামু বিহি মিন্নী আনতাল মুক্বাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুয়াখখিরু লা ইলাহা ইল্লা আনতা।’’ অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন যা কিছু আমি পূর্বে ও পরে করেছি, গোপনে, প্রকাশ্যে ও সীমালঙ্ঘন করেছি, এবং যা আমার চেয়ে আপনি অধিক জ্ঞাত। আপনিই আদি ও অন্ত। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 94 · #1507 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 95
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করতেনঃ ‘‘হে আমার রব্ব! আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন না। শত্রুর প্রতারণার বিরুদ্ধে আমাকে জবাব দেয়ার তাওফীক দিন, তবে তাকে আমার উপর প্রতারক বানাবেন না। আমাকে কল্যাণের পথ দেখান, অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছার পথকে আমার জন্য সহজ করুন, যে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করুন, হে আল্লাহ! আমাকে আপনার কৃতজ্ঞ ও স্মরণকারী, ভীত ও আনুগত্যকারী, আপনার প্রতি আস্থাশীল ও আপনার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানিয়ে দিন। হে রব্ব! আমার তওবা কবুল করুন, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে পরিস্কার করুন, আমার ডাকে সারা দিন, আমার ঈমান ও ‘আমলের প্রমাণে আমাকে কবরে ফিরিশতাদের প্রশ্নে স্থির রাখুন, আমার অন্তরকে সরল পথের অনুসারী করুন, আমার জিহ্বাকে সদা সত্য বলার তাওফীক দিন এবং আমার অন্তরকে হিংসা-বিদ্বেষ ও যাবতীয় দোষ হতে মুক্ত রাখুন।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 95 · #1508 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 96
। সুফয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আমর ইবনু মুররাহকে উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি ‘ওয়া ইয়াসসিরিল হুদা ইলাইয়্যা’ বলেছেন, কিন্তু ‘হুদায়া’ বলেননি।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 96 · #1509 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 97
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম।’’[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সুফয়ান (রহঃ) ‘আমর ইবনু মুররাহ হতে আঠারটি হাদীস শুনেছেন, এ হাদীস সেগুলোরই একটি। সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 97 · #1510 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (592) - 98
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে তিনবার ‘ইস্তিগফার’ পাঠ করতেন। অতঃপর সাওবান (রাঃ) ‘আল্লাহুম্মা’ হতে... ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসের ভাবার্থ বর্ণনা করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 98 · #1511 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (591) - 99
। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গুনাহ করার পরপরই ক্ষমা চায়, সে বারবার গুনাহকারী গণ্য হবে না। যদিও সে দৈনিক সত্তর বার ঐ পাপে লিপ্ত হয়।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 99 · #1512 · Daif, Daif, Hasan, Hasan - 100
। আগার আল-মুযানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কখনো কখনো আমার হৃৎপিন্ডের উপরও আবরণ পড়ে। তাই আমি দৈনিক একশো বার ক্ষমা চাই।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 100 · #1513 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2702) - 101
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে একশো বার এ দু‘আ পাঠ করেছেন এবং আমরা তা গণনা করেছিঃ ‘‘রব্বিগফিরলী ওয়াতুব ‘আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত্ তাওয়াবুর রহীম।’’ প্রভূ হে! আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার তওবা কবুল করে নাও, তুমিই তওবা কবুলকারী ও দয়ালু।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 101 · #1514 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 102
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস বিলাল ইবনু ইয়াসার ইবনু যায়িদ (রাঃ) বলেন, আমি আমার আব্বাকে আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি এই দু‘আ পাঠ করবেঃ আসতাগফিরুল্লাহ আল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্রূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’ সে জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করলেও তাকে ক্ষমা করা হবে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 102 · #1515 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Hasan - 103
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি নিয়মিত ইসতিগফার পড়লে আল্লাহ তাকে প্রত্যেক বিপদ হতে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন, সকল দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক্ব দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 103 · #1516 · Daif, Daif, Daif, Daif - 104
। ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু সুহাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ক্বাতাদাহ (রহঃ) আনাস (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় কোন দু‘আ পাঠ করতেন তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দু‘আ পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা ‘আযাবান নারি।’’ যিয়াদের বর্ণনায় এটাও রয়েছে যে, আনাস (রাঃ) কেবল একটি দু‘আ দিয়ে মুনাজাতের ইচ্ছা করলে এটিই পাঠ করতেন, আর একাধিক দু‘আ পড়তে চাইলেও তাতে এ দু‘আ শামিল করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 104 · #1517 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6389) Sahih Muslim (2690) - 105
। আবূ উমামাহ ইবনু সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে আল্লাহর নিকট শাহাদাত চায়, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদা দিবেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 105 · #1518 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1909) - 106
। আসমা ইবনুল হাকাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এমন এক ব্যক্তি, যখন আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কোনো হাদীস শুনি, তখন তার মাধ্যমে মহান আল্লাহ যতটুকু চান কল্যাণ লাভ করি। কিন্তু যদি তাঁর কোন সাহাবী আমাকে হাদীস বর্ণনা করেন, আমি তাকে (সত্যতা যাচাইয়ের জন্য) শপথ করাতাম। তিনি শপথ করলে আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে একটি হাদীস বর্ণনা করলেন, মুলতঃ তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কোনো বান্দা কোনরূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অযু করে দাঁড়িয়ে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। অতঃপর তিনি প্রমাণ হিসেবে এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ ‘‘এবং যখন তারা কোনো অন্যায় কাজ করে কিংবা নিজেদের উপর অত্যাচার করে.....আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরাহ আলে ‘ইমরান : ১৩৫)।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 106 · #1519 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 107
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, হে মু‘আয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর এ দু‘আটি কখনো পরিহার করবে নাঃ ‘‘আল্লাহুম্মা আঈন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিকা’’ (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ‘ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)। অতঃপর মু‘আয (রাঃ) আস-সুনাবিহী (রহঃ)-কে এবং আস-সুনাবিহী ‘আবদুর রহমানকে এরূপ দু‘আ করার ওয়াসিয়াত করেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 107 · #1520 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 108
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক সালাতের পর ‘কুল আ‘ঊযু বি-রব্বিল ফালাক্ব ও কুল আ‘ঊযু বি-রব্বিন্ নাস’ সূরাহ দুটি পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 108 · #1521 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 109
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার দু‘আ পাঠ করা এবং তিনবার ক্ষমা চাওয়া পছন্দ করতেন।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 109 · #1522 · Daif, Daif, Daif - 110
। আসমা বিনতু উমাইস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিবো না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করবে? তা হচ্ছেঃ ‘‘আল্লাহু আল্লাহু রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান’’ (অর্থঃ আল্লাহ! আল্লাহ! আমার রব্ব! তাঁর সাথে আমি কাউকে শরীক করি না)।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 110 · #1523 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 111
। আবূ ‘উসমান আন-নাহদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলে লোকেরা উচ্চস্বরে তাকবীর বললো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তো কোনো বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না, যাকে তোমরা ডাকছো তিনি তোমাদের বাহনের ঘাড়ের চাইতেও অতি নিকটে আছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ মূসা! আমি কি তোমাকে আল্লাহর ধন-ভান্ডারসমূহ হতে একটি ভান্ডারের খোঁজ দিবো না? আমি বললাম, সেটা কি? তিনি বললেনঃ ‘‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’’[1] সহীহ; বুখারী ও মুসলিম এ কথাটি বাদে : ‘‘তোমরা যাকে ডাকছো তিনি তোমাদের বাহনের ঘাড়ের চাইতেও অতি নিকটে আছেন।’’ কেননা এ অংশটুকু মুনকার।
Book 8 · Hadith 111 · #1524 · Daif, Munkar, Sahih, Sahih - 112
। আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তারা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে পাহাড়ী পথে এক টিলার চূড়ায় আরোহণকালে এক ব্যক্তি উচ্চস্বরে বললো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়িস.. এরপর অবশিষ্ট অংশ পূর্ববতী হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ : বুখারী মুসলিম।
Book 8 · Hadith 112 · #1525 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6610) Sahih Muslim (2704) - 113
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে তিনি বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের নফসের প্রতি সদয় হও।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 113 · #1526 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6206) Sahih Muslim (2704) - 114
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে, আমি আল্লাহকে রব্ব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 114 · #1527 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 115
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ আমার উপর একবার দরূদ পড়লে আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 115 · #1528 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (408) - 116
। আওস ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিনগুলোর মধ্যে জুমু‘আহর দিনটি উৎকৃষ্ট। কাজেই এ দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশী পরিমাণে দরূদ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের দরূদ আপনার কাছে কিভাবে উপস্থিত করা হবে অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বললো, আপনি তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ নবীদের দেহকে মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 116 · #1529 · Sahih, Sahih, Sahih Lighairihi, Daif - 117
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজেদেরকে বদ্দু‘আ করো না, তোমাদের সন্তানদের বদ্দু‘আ করো না, তোমাদের খাদিমদের বদ্দু‘আ করো না এবং তোমাদের ধন-সম্পদের উপরও বদ্দু‘আ করো না। কেননা ঐ সময়টি আল্লাহর পক্ষ হতে কবুলের মুহূর্তও হতে পারে, ফলে তা কবুল হয়ে যাবে।[1] সহীহ : মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি মুত্তাসিল। ‘উবাদাহ ইবনুল ওয়ালীদ ইবনু ‘উবাদাহ (রহঃ) জাবির (রাঃ) এর সাক্ষাত পেয়েছেন।
Book 8 · Hadith 117 · #1530 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 118
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললো, আপনি আমার ও আমার স্বামীর জন্য দু‘আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার উপর ও তোমার স্বামীর উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 118 · #1531 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 119
। আবুদ দারদা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু‘আ করে, তখন ফিরিশতাগণ বলেন, আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হবে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 119 · #1532 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2732) - 120
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অনুপস্থিত ব্যক্তিদের পরস্পরের জন্য দু‘আ অতি দ্রুত কবুল হয়।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 120 · #1533 · Daif, Daif, Daif - 121
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির দু‘আ নিঃসন্দেহে কবুল হয়ঃ (এক) পিতা-মাতার দু‘আ, (দুই) মুসাফিরের দু‘আ, (তিন) মজলুমের দু‘আ।[1] হাসান।
Book 8 · Hadith 121 · #1534 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan - 122
। আবূ বুরদা ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তার পিতা তাকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করলে বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় তোমাকে যথেষ্ট ভাবছি এবং তাদের অনিষ্ট হতে তোমার কাছে আশ্রয় চাইছি।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 122 · #1535 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 123
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষাদানের ন্যায় ইসতিখারাও শিক্ষা দিতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে বলতেনঃ তোমাদের কেউ কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজের মনস্থ করলে সে যেন ফারয ছাড়া দু’ রাক‘আত নফল সালাত আদায় করে এবং বলেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইসতিখারা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আমি শক্তি কামনা করি। আমি আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করি। আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সবকিছুতেই অবগত, আমি অজ্ঞ। আপনিই অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার এ কাজ (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের নাম বলবে) আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন, পরকাল এবং সর্বোপরি আমার পরিণামে কল্যাণকর হলে তা আমাকে হাসিল করার শক্তি দিন, আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার জন্য তাতে বরকত দিন। আর আপনার অবগতিতে সেটা আমার জন্য প্রথমে উল্লিখিত কাজসমূহে অকল্যাণকর হলে আমাকে তা থেকে দূরে রাখুন এবং সেটিকেও আমার থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর আমাকে তাই হাসিল করার শক্তি দিন, তা যেখানেই থাক না কেন। অতঃপর আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট থাকুন, অথবা বলেছেন, অবিলম্বে কিংবা দেরীতে। সহীহ : বুখারী। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, ইবনু মাসলাম ও ইবনু ঈসা (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রাঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
Book 8 · Hadith 123 · #1536 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1162) - 124
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি বস্তু হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেনঃ ভীরুতা, কৃপণতা, বয়োবৃদ্ধি জনিত দূরাবস্থা, অন্তরের ফিতনাহ এবং কবরের শাস্তি হতে।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 124 · #1537 · Daif, Daif, Daif - 125
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপনতা ও বার্ধক্য হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি হতে এবং আশ্রয় চাই জীবন ও মরণের বিপদাপদ হতে।’’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 125 · #1538 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2823) Sahih Muslim (2706) - 126
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমাত করতাম। আমি তাঁকে অধিকাংশ সময় বলতে শুনেছিঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা, দুঃখ-বেদনা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের নির্যাতন হতে আপনার কাছে আশ্রয় চাই’’।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 8 · Hadith 126 · #1539 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6369) - 127
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিচের দু‘আটি এমনভাবে শিখাতেন, যেমনভাবে তাদেরকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব হতে আশ্রয় চাই, কবরের আযাব হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনাহ হতে এবং আশ্রয় চাই জীবন ও মরণের বিপদাপদ হতে।’’[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 127 · #1540 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (590) - 128
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্যগুলো দিয়ে দু‘আ করতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের পরীক্ষা, আগুনের আযাব এবং প্রাচুর্য ও দারিদ্রের মধ্যে নিহিত অকল্যাণ হতে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 8 · Hadith 128 · #1541 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (6368) Sahih Muslim (589 After 2705) - 129
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি দরিদ্রতা হতে, আপনার কম দয়া হতে এবং অসম্মানী হতে। আমি আপনার কাছে আরো আশ্রয় চাইছি যুলুম করা অথবা অত্যাচারিত হওয়া হতে।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 129 · #1542 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 130
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিভিন্ন দু‘আর মধ্যে এটাও অন্যতমঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নিয়ামাতে বিলুপ্তি, আপনার অনুকম্পার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সমস্ত ক্রোধ হতে।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 130 · #1543 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2739) - 131
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে দু‘আ করতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ঝগড়া-বিবাদ, মুনাফেকী ও দুশ্চরিত্রতা থেকে আশ্রয় চাই।’’[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 131 · #1544 · Daif, Daif, Daif - 132
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা হতে আশ্রয় চাই, কারণ তা নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই খিয়ানাত করা হতে, কেননা তা খুবই নিকৃষ্ট বন্ধু।’’[1] হাসান।
Book 8 · Hadith 132 · #1545 · Hasan, Hasan, Daif - 133
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চারটি বস্তু হতে আশ্রয় চাইঃ এমন জ্ঞান যা উপকারে আসে না, এমন হৃদয় যা ভীত হয় না, এমন আত্মা যা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দু‘আ যা কবুল হয় না।’’[1] সহীহ : মুসলিম, যায়দ ইবনু আরক্বাম হতে।
Book 8 · Hadith 133 · #1546 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 134
। আবুল মু‘তামির (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এমন সালাত হতে যা উপকার দেয় না।’’ এছাড়া অন্য দু‘আও উল্লেখ করেন।[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 134 · #1547 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 135
। ফারওয়াহ ইবনু নাওফাল আল-আশজাঈ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দু‘আ পড়তেন তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আমার কর্মের অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই, যা আমি করেছি এবং যা এখনও করি নাই।’’[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 8 · Hadith 135 · #1548 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (2716) - 136
। আবূ আহমাদ শাকাল ইবনু হুমাইদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দু‘আ শিক্ষা দিন। তিনি বললেনঃ তুমি বলোঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কানের অশ্লীল শ্রবণ, চোখের কুদৃষ্টি, জিহ্বার কুবাক্য, অন্তরের কপটতা ও কামনার অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 136 · #1549 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 137
। আবুল ইয়াসার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দু‘আ করতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ হতে, আমি আপনার নিকট হতে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ হতে এবং অতি বার্ধক্য হতে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব হতে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হতে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ হতে।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 137 · #1550 · Sahih, Sahih, Hasan - 138
। আবুল ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে (পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ) বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছেঃ ‘‘দুশ্চিন্তা হতে আশ্রয় চাই।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 138 · #1551 · Sahih, Sahih, Hasan - 139
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সমস্ত দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।’’[1] সহীহ।
Book 8 · Hadith 139 · #1552 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 140
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবূ উমামাহ নামক এক আনসারী সাহাবীকে দেখতে পেয়ে তাকে বললেনঃ হে আবূ উমামাহ! কি ব্যাপার! আমি তোমাকে সালাতের ওয়াক্ত ছাড়া মসজিদে বসে থাকতে দেখছি? তিনি বললেন, সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝার কারণে হে আল্লাহর রসুল! তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিবো না, তুমি তা বললে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দুর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দিবেন? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেনঃ তুমি সকাল-সন্ধ্যায় বলবেঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা হতে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পন্য হতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হতে’’। আবূ উমামাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। ফলে মহান আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করলেন এবং আমার ঋণ পরিশোধের ব্যাবস্থাও করে দিলেন।[1] দুর্বল।
Book 8 · Hadith 140 · #1553 · Daif, Daif, Daif, Daif