Zakat (Kitab Al-Zakat)
- 1
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাঃ) খলীফা হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন আরবের কিছু গোত্র কুফরী করলো। ‘উমার (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি এ লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে, তার জান-মাল আমার থেকে নিরাপদ। তবে আইনের বিষয়টি ভিন্ন এবং তার প্রকৃত বিচার মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত’’। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ শপথ! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। সম্পদের হক/অধিকার হলো যাকাত। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে একটি রশি দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতো, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি বুঝতে পারলাম যে, মহান আল্লাহ আবূ বাকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য উম্মুখ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, এটাই হাক্ব ও সঠিক।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। কিন্তু তার উক্তি : (عقالاً) শায। মাহফূয হচ্ছে : (عناقاً)। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, রাবাহ ইবনু যায়িদ মা‘মার হতে, তিনি যুহরী হতে উল্লেখিত সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, উটের রশি। বর্ণনাকারী ইবনু ওয়াহাব ইউনুস সূত্রে বলেছেন, ছা্গল ছানা। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শু‘আইব ইবনু আবূ হামযাহ এবং মা‘মার ও যুবাইদী যুহরী হতে এ হাদীসে বলেছেন, ‘যদি তারা একটি বকরীর বাচ্চা দিতেও অস্বীকার করে’। আর আনবাসাহ ইউনুস হতে যুহরী সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বকরীর বাচ্চা। সহীহ : বুখারী, এবং তিনি বলেছেন, এটি (عقالاً) এর বর্ণনার চাইতে অধিক বিশুদ্ধ।
Book 9 · Hadith 1 · #1554 · Shadh, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7284، 7285) Sahih Muslim (20) - 2
। যুহরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) বলেছেন, মালের হাক্ব হচ্ছে যাকাত এবং তিনি রশির কথা উল্লেখ করেছেন।[1] সহীহ : কিন্তু হাদীসটি এ শব্দে শায।
Book 9 · Hadith 2 · #1555 · Shadh, Shadh, Sahih, Sahih Bukhari (7284، 7285) Sahih Muslim (20) - 3
। ‘আমর ইবনু ইয়াহইয়া আল-মাযিনী (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচটি উটের কমে যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়ার কমে যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 3 · #1556 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1447) Sahih Muslim (979) - 4
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই। এক ওয়াসাক হচ্ছে ষাট সা‘।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবুল বাখতারী (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে হাদীস শুনেননি।
Book 9 · Hadith 4 · #1557 · Daif, Daif, Daif, Daif - 5
। ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ওয়াসাক হচ্ছে ষাট সা‘। এটি আল-হাজ্জাজ কর্তৃক নির্ধারিত।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
Book 9 · Hadith 5 · #1558 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Daif - 6
। সুরাদ ইবনু আবুল মানাযিল (রহঃ) বলেন, আমি হাবীব আল-মালিকী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-কে বললো, হে আবূ নুজাইদ! আপনারা আমাদের কাছে এমন হাদীসও বর্ণনা করেন, যার কোনো বুনিয়াদ কুরআনে পাই না। এ কথা শুনে ‘ইমরান (রাঃ) অসন্তুষ্ট হয়ে লোকটিকে বললেন, তোমরা কি কুরআনের মধ্যে কোথাও পেয়েছো যে, প্রত্যেক চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিতে হবে, এত এত ছাগলে একটি ছাগল এত এত উটে একটি উট দিতে হবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তাহলে এটা তোমরা কোথায় পেয়েছ? মূলতঃ তোমরা এটা সাহাবীদের কাছ থেকে জেনেছো এবং আমরা পেয়েছি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। তিনি অনুরূপ আরো কিছু বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 6 · #1559 · Daif, Daif, Daif, Daif - 7
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত দিতে নির্দেশ করেছেন।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 7 · #1560 · Daif, Daif, Daif - 8
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। একদা এক মহিলা তার কন্যাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। তার কন্যার হাতে দু‘টি মোটা স্বর্ণের কঙ্কন ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু’টি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? বর্ণনাকারী বলেন, সে তৎক্ষণাত তা খুলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে রেখে দিয়ে বললো, এ দু‘টি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 8 · #1561 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 9
। উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বর্ণের অলংকার পরতাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি কান্য (সঞ্চিত সম্পদ) হিসেবে গণ্য হবে? তিনি বললেনঃ যে সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয় এবং তার যাকাত দেয়া হয়, তা ‘কানয’ নয়।[1] হাসান : এর কেবল মারফু অংশটুকু।
Book 9 · Hadith 9 · #1562 · Hasan, Hasan, Hasan Lighairihi, Daif - 10
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে আমার হাতে রূপার বড় আংটি দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উদ্দেশে সাজসজ্জার জন্য আমি এটা বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত দাও? আমি বললাম, না, অথবা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। তিনি বললেন, তোমাকে (জাহান্নামের) আগুনে নিয়ে যেতে এটাই যথেষ্ট।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 10 · #1563 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 11
। ‘উমার ইবনু ই‘য়ালা (রহঃ) হতে এ সূত্রেও আংটি সম্পর্কিত পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সুফয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এর যাকাত কিভাবে দিবে? তিনি বলেন, যাকাতের অন্যান্য মালের সাথে যোগ করে।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 11 · #1564 · Daif, Daif, Daif, Daif - 12
। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমি সুমামাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস (রাঃ) হতে একখানা কিতাব গ্রহণ করি। সুমামাহর ধারণা, আবূ বাকর (রাঃ) এটি আনাস (রাঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণকালে লিখেছিলেন এবং তাতে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মোহরাঙ্কিত ছিলো। তাতে লিখা ছিলোঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারয যাকাতের বিষয়ে মুসলিমদের উপর যা নির্ধারিত করেছেন এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর রসূলকে যা আদেশ করেছেন। কাজেই যেকোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হবে সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কারো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী দিতে হবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ (দুই বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ‘ইবনু লাবূন’ (তিন বছরের) উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি ‘বিনতু লাবূন’ (তিন বছর বয়সের উষ্ট্রী) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে একটি ‘হিক্কাহ’ (চার বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি ‘জাযাআহ্’ (পাঁচ বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দু‘টি ‘বিনতু লাবূন’ দিতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে একশত বিশ হলে দু’টি হিক্কাহ দিতে হবে। এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে ‘বিনতু লাবূন’ এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে ‘হিক্কাহ’ দিবে। যদি যাকাতযোগ্য বয়সের উট না থাকে, যেমন, কারো জাযাআহ্ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিক্কাহ আছে, তখন হিক্কাহ গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে সহজলভ্য হলে দু‘টি বকরী কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। একইভাবে কারো উপর হিক্কাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করতে হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিহরাম কিংবা দু‘টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিক্কাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং জাযাআহ আছে। তার থেকে সেটাই নিতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এখানে আমি আমার উস্তাদ মূসা ইবনু ইসমাঈল হতে আশানুরূপ আয়ত্ত করতে পারিনি। এখানেও যাকাতদাতা সহজলভ্য দু‘টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যার উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব কিন্তু সেটা তার কাছে নেই, বরং তার কাছে হিক্কাহ আছে। সেটাই তার কাছ থেকে নিতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ পর্যন্ত আমি সন্দিহান ছিলাম, পরবর্তীতে আমি পূর্ণ আস্থাশীল হই। অর্থাৎ তহশীলদার বিশ দিরহাম অথবা দু‘টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে ফেরত দিবে। যদি কারো উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয় এবং সেটা তার কাছে না থাকে, বরং বিনতু মাখাদ থাকে, তখন তার থেকে সেটাই গ্রহণ করবে এবং এর দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যদি কারো উপর বিনতু মাখাদ ওয়াজিব হয়, অথচ তা তার কাছে নেই, বরং তার নিকট আছে ইবনু লাবূন, তখন সেটাই গ্রহণ করবে এবং সাথে কিছুই দিতে হবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাকে কিছুই দিতে হবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা। স্বাধীনভাবে চরে বেড়ানো মেষ-বকরীর সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি বকরী দিতে হবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশো পর্যন্ত পৌঁছলে দু‘টি বকরী। বকরীর সংখ্যা দুইশো অতিক্রম করে তিনশো পর্যন্ত হলে তিনটি বকরী এবং তিনশো থেকে অধিক হলে প্রতি একশোটির জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা অন্ধ বকরী-ছাগল নেয়া হবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে পৃথক পৃথক মালকে যেন একত্র না করা হয় এবং একত্রে থাকা মালকে যেন পৃথক না করা হয়। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ হিসাবে বহন করবে। চরে বেড়ানো বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হলে কিছুই দিতে হবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশো নব্বই হলে কিছুই দিতে হবে না। হ্যাঁ, মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তাতে আপত্তি নেই।[1] সহীহ : বুখারী সংক্ষেপে।
Book 9 · Hadith 12 · #1565 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1448) - 13
। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত হিসেবে যে পত্র লিখেছেন তা কমকর্তাদের নিকট পৌছার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন। ফলে তা তাঁর তরবারির খাপের মধ্যেই থেকে যায়। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সে বিধান অনুযায়ী কাজ করেন। তাঁর পরে ‘উমার (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তদানুযায়ী কাজ করেন। তাতে লিখা ছিলঃ প্রত্যেক পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী, দশটির জন্য দু‘টি বকরী, পনেরটির জন্য তিনটি বকরী এবং বিশটির জন্য চারটি বকরী প্রদান করতে হবে। পঁচিশটির জন্য দিতে হবে একটি বিনতু মাখাদ এবং তা পঁয়ত্রিশটি পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত দিতে হবে একটি হিককাহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হবে, তখন পঁচাত্তর পর্যন্ত দিতে হবে একটি জাযাআহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হবে, তখন দু‘টি বিনতু লাবূন দিতে হবে। যখন এর থেকেও একটি বৃদ্ধি পাবে, তখন দু‘টি হিককাহ দিতে হবে, তা একশো বিশ পর্যন্ত। উটের সংখ্যা এর অধিক হলে প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি হিককাহ এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। ছাগলের ক্ষেত্রে প্রত্যেক চল্লিশটি ছাগলের জন্য একটি বকরী একশো বিশ পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বর্ধিত হলে দুইশো পর্যন্ত দু‘টি বকরী। দুই শতের অধিক হলে তিনশো পর্যন্ত তিনটি বকরী। ছাগলের সংখ্যা এর চাইতে অধিক হলে প্রত্যেক একশো’তে একটি বকরী দিতে হবে। ছাগলের সংখ্যা একশো না হলে কিছুই দিতে হবে না। যাকাত দেয়ার ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে ভিন্ন ভিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের উপর যে যাকাত ধার্য হবে, তা উভয়ে সমান হারে বহন করবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা দোষযুক্ত (পশু) গ্রহণ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যুহরী (রহঃ) বলেছেন, যাকাত আদায়কারীর উচিত হলো, যাকাত আদায়ের সময় সমস্ত বকরীগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করবে। এক ভাগ নিকৃষ্ট, এক ভাগ উৎকৃষ্ট এবং এক ভাগ মধ্যম। সুতরাং আদায়কারী ‘মধ্যম’ মানের পশুই নিবে। যুহরীর বর্ণনায় গরুর যাকাত সম্বন্ধে কিছুই উল্লেখ নেই।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 13 · #1566 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 14
। সুফয়ান ইবনু হুসাইন (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে এ হাদীসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিনতু মাখাদ না থাকলে ইবনু লাবূন দিতে হবে। এ বর্ণনায় যুহরীর কথাটি উল্লেখ নেই।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 14 · #1567 · Sahih, Sahih, Sahih, Hasan - 15
। ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে ফরমান লিখিয়েছেন এটা সেই পান্ডুলিপি যা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর পরিবারে সংরক্ষিত আছে। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তা আমাকে পড়িয়েছেন এবং আমি তা হুবহু মুখস্ত করি। পরবর্তীতে তা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এবং সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে কপি করেন। তিনি বলেন, উটের সংখ্যা একশো একুশ থেকে একশো উনত্রিশ হলে তিনটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো ত্রিশ থেকে একশো ঊনচল্লিশ হলে দু‘টি বিনতু লাবূন ও একটি হিককাহ দিতে হবে। আর একশো চল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ হলে দু‘টি হিককাহ ও একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো পঞ্চাশ থেকে একশো উনষাট হলে দিতে হবে তিনটি হিক্কাহ। একশো ষাট থেকে একশো উনসত্তর পর্যন্ত তিনটি বিনতু লাবূন ও একটি হিক্কাহ দিতে হবে। একশো আশি থেকে একশো ঊননব্বই পর্যন্ত দু‘টি হিক্কাহ ও দুটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো নব্বই হলে তা থেকে একশো নিরানব্বই পর্যন্ত তিনটি হিক্কাহ ও একটি বিনতু লাবূন। দুইশো হলে চারটি হিককাহ অথবা পাঁচটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। এ উভয় বয়সের মধ্যে যেটাই পাওয়া যাবে সেটাই নেয়া হবে। আর চরে বেড়ানো ছাগল (এর যাকাত সম্বন্ধে) ইবনু শিহাব ইতিপূর্বে সুফয়ান ইবনু হুসাইনের হাদীসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, যাকাত বাবদ অতিবৃদ্ধ ও দোষযুক্ত বকরী নেয়া হবে না, এবং পুরুষ জাতীয় (পাঠা)-ও না। অবশ্য যাকাত আদায়কারী প্রয়োজনে নিতে চাইলে নিতে পারে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 15 · #1568 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 16
। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর উক্তিঃ ‘"একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকেও একত্র করা যাবে না"। এর ব্যাখ্যা হলো, দুই মালিকের পৃথক পৃথকভাবে চল্লিশটি ছাগল আছে। অতঃপর তাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হলে তারা উভয়ের পৃথক পৃথক ছাগলগুলোকে একত্র করে (তা যৌথ বলে দাবী করলো)। যাতে তাদের একটির অধিক বকরী দিতে না হয়। আর একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করার ব্যাখ্যা হলো, যেমন দু‘জন সমান অংশীদারের প্রত্যেকের একশো একটি ছাগল আছে। (হিসেব মতে, দুইশো দু’টিতে) যাকাত দিতে হয় তিনটি বকরী। কিন্তু যখন তাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হয় তখন তারা (একশো একটি করে) পৃথক করে ফেললো। ফলে উভয়কে একটি করে বকরী দিতে হলো। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, এর ব্যাখ্যা আমি এরূপই শুনেছি। [1] সহীহ মাক্বতূ‘।
Book 9 · Hadith 16 · #1569 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih - 17
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। যুহাইর (রহঃ) বলেন, আমার ধারনা, এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিম দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিবে এবং দুইশো দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন যাকাত নেই। আর দুইশো দিরহাম পূর্ণ হলে তাতে পাঁচ দিরহাম দিতে হবে এবং এর অতিরিক্ত হলে, উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী দিতে হবে। ছাগলের যাকাত হলো, প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বকরী। বকরীর সংখ্যা ঊনচল্লিশ হলে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছুই ওয়াজিব নয়। অতঃপর বকরীর হিসাব ও যাকাত যুহরীর বর্ণনানুযায়ী বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, গরুর যাকাত হচ্ছে, প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি বাছুর এবং চল্লিশটির জন্য পূর্ণ দুই বছরের একটি বাছুর। তবে কৃষিকাজে নিয়োজিত পশুর যাকাত নেই। উটের যাকাতও যুহরীর বর্ণনানুরূপ দিতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী এবং একটিও বর্ধিত হলে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতু মাখাদ দিতে হবে। বিনতু মাখাদ না থাকলে একটি ইবনু লাবূন দিবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী একটি হিককাহ দিতে হবে। অতঃপর যুহরীর হাদীসের বর্ণনানুরূপ। তিনি বলেনঃ যদি একটিও বর্ধিত হয় অর্থাৎ একানব্বই হয়, তা থেকে একশো বিশ পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী দু’টি হিককাহ দিবে। আর যাকাত দেয়ার ভয়ে একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকে একত্র করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ এবং দোষযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না এবং কোনো পাঠাও নেয়া যাবে না। তবে আদায়কারী নিতে চাইলে নিতে পারবে। শস্যের যাকাত হচ্ছে, ভুমি নদ-নদী অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে ‘উশর’ দিতে হবে (এক-দশমাংশ)। আর যেসব ভূমিতে পানিসেচ করতে হয় তাতে দিতে হবে বিশ ভাগের এক ভাগ। ‘আসিম ও হারিসের হাদীসে এটাও রয়েছে, যাকাত প্রতি বছরই দিতে হবে। যুহাইর বলেন, আমার ধারণা, প্রতি বছর একবার বলেছেন। ‘আসিমের হাদীসে রয়েছে, বিনতু মাখাদ ও ইবনু লাবূন না থাকলে দশ দিরহাম অথবা দু‘টি বকরী প্রদান করতে হবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 17 · #1570 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 18
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসের প্রথম দিকের কিছু অংশ বর্ণনার পর বলেন, তিনি বলেছেন, তোমার কাছে দুইশো দিরহাম থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশ দীনারের কমে যাকাত নেই। বিশ দীনারে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন, ‘‘উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে’’ এটা ‘আলীর (রাঃ) কথা নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তা আমার জানা নেই। আর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্পদেই যাকাত দিতে হয় না। ইবনু ওয়াহব বলেন, জারীর তার বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক বছর অতিবাহিত না হলে কোনো সম্পদেই যাকাত নেই।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 18 · #1571 · Sahih, Sahih, Daif - 19
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘোড়া ও গোলামের যাকাত মাফ করেছি। কিন্তু রৌপ্যের যাকাত প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম দিতে হবে এবং একশো নব্বই তোলা পর্যন্ত যাকাত নেই, যখন দুইশো পূর্ণ হবে তখন পাঁচ দিরহাম দিতে হবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 19 · #1572 · Sahih, Sahih, Daif - 20
। বাহয ইবনু হাকীম হতে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারণভূমিতে বিচরণশীল উটের চল্লিশটির জন্য একটি বিনতু লাবূন যাকাত দিতে হবে এবং একটি উটকেও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের উদ্দেশে দিবে, ইবনুল ‘আলা’ বলেন, ‘‘যে সওয়াবের জন্য দিবে, সে তাই পাবে। আর যে ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমি তা আদায় করবোই এবং (শাস্তিস্বরূপ) তার সম্পদের অর্ধেক নিবো। কেননা এটাই আমাদের মহান রবের হাক্ব। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার-পরিজনের জন্য এর থেকে সামান্য পরিমাণও নেই।’’[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 20 · #1573 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 21
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামান দেশে পাঠানোর সময় এ নির্দেশ দেন যে, গরুর (যাকাত) প্রতি ত্রিশটির জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি এড়ে বাছুর বা বকনা বাছুর এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক যিম্মী থেকে এক দীনার বা এর সম-মূল্যের কাপড়- যা ইয়ামেনে তৈরি হয় আদায় করতে হবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 21 · #1574 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 22
। মু‘আয (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
Book 9 · Hadith 22 · #1575 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 23
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামান দেশে প্রেরণ করেন... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে ইয়ামান দেশের তৈরি কাপড়ের কথা উল্লেখ করেননি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্কে কিছুই বলেননি।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 23 · #1576 · Sahih, Sahih, Daif - 24
। সুওয়াইদ ইবনু গাফালার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফর করেছি অথবা যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাকাত আদায়কারীর সঙ্গে সফর করেছেন তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (নিয়ম ছিলো) দু প্রদানকারী পশু নেয়া যাবে না। বিচ্ছিন্নকে একত্র করা এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এরপর লোকেরা তাদের পশুপালকে পানি পান করানোর জন্য কূপের কাছে নিয়ে এলে আদায়কারী পানির কূপের নিকট এসে বলতেন, তোমরা তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় করো’। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের এক ব্যক্তি একটি কূমাআ উষ্ট্রী নিয়ে এলো। আমি বললাম, হে আবূ সলিহ! কূমাআ কি? তিনি বললেন, উঁচু কুঁজবিশিষ্ট। বর্ণনাকারী বলেন, (আদায়কারী সেটা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে) যাকাতদাতা বললো, আমি আকাঙ্খা করেছি যে, আপনি আমার সর্বোৎকৃষ্ট উটটি গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আদায়কারী তা গ্রহণ না করায় সে ওটার চেয়ে নিকৃষ্ট মানের একটি উটে লাগাম ধরে নিয়ে এলো কিন্তু তিনি এটাও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ওটার চাইতে আরো নিকৃষ্ট মানের একটি উট লাগাম ধরে নিয়ে আসেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি তা গ্রহণে এজন্য ভয় করছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে একথা না বলেন যে, এ ব্যক্তি তার উটের উপর তোমাকে স্বাধীনতা দেয়ায় তুমি তার উত্তম সম্পদটিই নিয়ে এসেছো।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 24 · #1577 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 25
। সুয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকট আসলে আমি তার হাত ধরে মুসাফাহা করি। অতঃপর আমি তার কাছে যাকাত সম্পর্কিত যে নির্দেশনামা ছিলো তাতে এ বিষয়টি পাঠ করেছিঃ যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তবে তিনি এ কথা বর্ণনা করেননি যে, ‘দু দানকারী পশু’ (নেয়া যাবে না)।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 25 · #1578 · Hasan, Hasan, Daif - 26
। মুসলিম ইবনু শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, নাফি’ ইবনু আলকামাহ (রহঃ) আমার পিতাকে নিজ গোত্রপ্রধান নিযুক্ত করে তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা আমাকে তাদের এক গোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি সা‘র ইবনু দায়সাম নামক এক বৃদ্ধের কাছে এসে বললাম, আমার পিতা আমাকে আপনার কাছে যাকাত উসূল করতে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কিভাবে নিবে? আমি বললাম, আমরা বাছাই করবো, আমরা বকরীর বাঁট দেখে যাচাই করবো। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! আমি তোমাকে একটি হাদীস বলছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একদা আমি কোন এক উপত্যকায় আমার মেষপাল চরাচ্ছিলাম। এমন সময় দুইজন লোক একটি উটে চড়ে আমার নিকট এসে বললো, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি হিসাবে আপনার মেষপালের যাকাত উসূল করতে আপনার কাছে প্রেরিত হয়েছি। আমি বললাম, আমি কি প্রদান করবো? তারা বলেন, বকরী। সুতরাং আমি এমন একটি বিশেষ বকরী দেয়ার মনস্থ করলাম, সেটির বাট দুগ্ধে ভর্তি, খুব মোটাতাজা চর্বিওয়ালা। আমি তাদেরকে সেটা বের করে দিলে তারা বললেন, এটা তো জোড়াওয়ালা (বাচ্চাওয়ালা) বকরী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জোড়াওয়ালা বকরী নিতে বারণ করেছেন। আমি বললাম, তাহলে আপনারা কেমন বকরী নিবেন? তারা বললেন, এক বছর কিংবা দুই বছর বয়সী বকরী। তিনি বলেন, তখন আমি একটি ‘মু‘তাত্’ বকরীর দেয়ার মনস্থ করলাম। মু‘তাত্ ঐ বকরীকে বলে যা কোনো বাচ্চা দেয়নি, কিন্তু গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়েছে। সেটি এনে তাদেরকে দিলে তারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা এটি নিতে পারি। অতঃপর তারা বকরীটিকে তাদের উটের পিঠে তুলে নিয়ে চলে যান।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 26 · #1579 · Daif, Daif, Daif - 27
। যাকারিয়্যাহ ইবনু ইসহাক (রহঃ) হতে তার সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী মুসলিম ইবনু শু‘বাহ তার বর্ণনায় বলেন, শাফি‘ বলা হয় গর্ভবতী বকরীকে। দুর্বল। গাদিরাহ ক্বায়িসের ‘আবদুল্লাহ ইবনু মু‘আবিয়াহ আল-গাদিরী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করেছে সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। (এক) যে এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করে। (দুই) এ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। (তিন) যে স্বতঃস্ফূর্ত মনে নিঃসঙ্কোচে প্রতি বছর তার মালের যাকাত দেয়। বৃদ্ধ বয়সের, রোগগ্রস্ত, ক্রটিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট মাল যাকাত দেয় না, বরং মধ্যম মানের যাকাত দিয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ তোমাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ চান না এবং তোমাদের নিকৃষ্ট দেয়ারও নিদের্শ করেন না।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 27 · #1580 · Sahih, Daif, Sahih, Daif - 28
। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠালেন। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলে সে তার মাল (উট) একত্র করলো। আমি দেখলাম যে, তার উপর একটি বিনতু মাখাদ ফারয হয়েছে। সুতরাং আমি তাকে বললাম, একটি বিনতু মাখাদ দিন। কেননা তোমার যাকাত সেটাই। সে বললো, এর এতে দুগ্ধও নেই এবং এটি বাহনের উপযোগীও নয়, বরং এর পরিবর্তে আমার এই বড় মোটাতাজা যুবতী উটনী নিন। আমি বললাম, আমি এটা নিতে পারবো না, এরূপ নিতে আমাকে আদেশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমার নিকটেই আছেন। তুমি আমাকে যা বলেছো, তা ইচ্ছে হলে তাকে বলে দেখতে পারো। তিনি এটা গ্রহণ করলে আমি নিবো, আর প্রতাখ্যান করলে আমিও প্রত্যাখ্যান করবো। সে বললো, আমি তাই করবো। অতঃপর সে আমাকে নিয়ে উক্ত উষ্ট্রী সহ রওয়ানা হলো। অবশেষে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে উপস্থিত হই। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতিনিধি আমার কাছে আমার সম্পদের যাকাত নিতে এসেছে। আল্লাহর শপথ! এর পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং কিংবা তাঁর প্রতিনিধি কখনো আমার সম্পদের যাকাত নিতে আসেননি। কাজেই আমি আমার সমস্ত মাল তাঁর সম্মুখে একত্র করেছি। কিন্তু তিনি বলেন, আমার মালের উপর নাকি একটি মাখাদ ফারয। অথচ তাতে দুগ্ধও নেই বা আরোহণেরও অনুপযোগী। তাই আমি একটি বড় ও মোটাতাজা যুবতী উষ্ট্রী পেশ করেছি। কিন্তু তিনি এটা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। আর সেটি এটাই, আমি আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। হে আল্লাহর রসূল! এটা গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আদায়কারী যা বলেছে তাই তোমার উপর ফারয। তবে তুমি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত দিলে আল্লাহ তোমাকে এর প্রতিদান দিবেন এবং আমরাও সেটা তোমার থেকে গ্রহণ করলাম। সে বললো, এটাই সেই উষ্ট্রী, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, গ্রহণ করুন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করতে আদেশ দিলেন এবং তার ও তার সম্পদের বরকতের জন্য দু‘আ করলেন।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 28 · #1581 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 29
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূ‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বললেন, তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছো যারা আহলি কিতাব। তুমি (সর্বপ্রথম) তাদেরকে এ সাক্ষ্য দিতে আহবান করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মাদ) আল্লাহর রসূল। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তাদেরকে অবহিত করবে, আল্লাহ তাদের উপর তাদের মালের যাকাত প্রদান ফারয করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং তাদের গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। আর মযলুমের বদদু‘আকে ভয় করবে। কেননা তার দু‘আ ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 29 · #1582 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2448) Sahih Muslim (19) - 30
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকাত সংগ্রহে সীমালংঘনকারী ঐ ব্যক্তির মতই যে যাকাত দিতে অস্বীকার করে।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 30 · #1583 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif - 31
। বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। বর্ণনাকারী ইবনু ‘উবাইদ তার বর্ণনায় বলেন, আসলে তার নাম বাশীর ছিলো না, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম বাশীর রাখেন। তিনি বলেন, আমরা বললাম, যাকাত আদায়কারীরা আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন (ফারযের অধিক নিয়ে যান)। কাজেই তারা যে পরিমাণ মাল আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন ঐ পরিমাণ মাল কি আমরা গোপন করবো? তিনি বলেন, না।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 31 · #1584 · Daif, Daif, Daif - 32
। আইয়ূব (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের ভাবার্থ একই সানাদে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে রয়েছেঃ আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যাকাত আদায়কারীগণ সীমালঙ্ঘন করে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এটি ‘আবদুর রাযযাক্ব (রহঃ) মা‘মার হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন।
Book 9 · Hadith 32 · #1585 · Daif, Daif, Daif - 33
। ‘আবদুর রহমান ইবনু জাবির ইবনু আতীক (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় যাকাত আদায়কারী দল আসবে, যাদের আচরণে অসন্তুষ্ট হবে। তারা এলে তোমরা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং যা গ্রহণ করতে চায়, তাদের মাঝে তা উন্মুক্ত করে দিবে। তারা ন্যায়নীতি অনুসরণ করলে তাদের নিজেদের জন্যই কল্যাণকর হবে। আর যদি যুলুম করে তাহলে এর পাপ তাদেরই উপর বর্তাবে। তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট করবে, কেননা তোমাদের যাকাতের পরিপূর্ণতা তাদের সন্তুষ্টির মধ্যেই নিহিত। তাদের উচিত হলো, তারা যেন তোমাদের জন্য দু‘আ করে।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 33 · #1586 · Daif, Daif, Daif - 34
। জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কতিপয় বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, যাকাত আদায়কারীগণ আমাদের কাছে এসে আমাদের উপর যুলুম করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের যাকাত আদায়কারীদেরকে তোমরা সন্তুষ্ট রাখবে। তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের উপর যুলুম করলেও? তিনি বললেন, তোমাদের যাকাত আদায়কারীদেরকে সন্তুষ্ট রাখবে। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় এটাও আছেঃ যদিও তারা তোমাদের উপর যুলুম করে।[1] বর্ণনাকারী আবূ কামিল তার হাদীসে বলেন, জারীর (রাঃ) বলেছেন, আমি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একথা শুনেছি, তখন থেকে প্রত্যেক যাকাত আদায়কারী আমার উপর সন্তুষ্ট হয়েই ফিরেছেন। সহীহ।
Book 9 · Hadith 34 · #1587 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (989) - 35
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা ছিলেন গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান গ্রহণকারীদের একজন। কোন সম্প্রদায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার পিতা তাঁর কাছে তার সাদাকা নিয়ে এলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আবূ আওফার পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। باب تَفْسِيرِ أَسْنَانِ الإِبِلِ অনুচ্ছেদ-৮ : উটের বয়স সম্পর্কে قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُهُ مِنَ الرِّيَاشِيِّ، وَأَبِي، حَاتِمٍ وَغَيْرِهِمَا وَمِنْ كِتَابِ النَّضْرِ بْنِ شُمَيْلٍ وَمِنْ كِتَابِ أَبِي عُبَيْدٍ وَرُبَّمَا ذَكَرَ أَحَدُهُمُ الْكَلِمَةَ قَالُوا يُسَمَّى الْحُوَارَ ثُمَّ الْفَصِيلَ إِذَا فَصَلَ ثُمَّ تَكُونُ بِنْتَ مَخَاضٍ لِسَنَةٍ إِلَى تَمَامِ سَنَتَيْنِ فَإِذَا دَخَلَتْ فِي الثَّالِثَةِ فَهِيَ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِذَا تَمَّتْ لَهُ ثَلَاثُ سِنِينَ فَهُوَ حِقٌّ وَحِقَّةٌ إِلَى تَمَامِ أَرْبَعِ سِنِينَ لأَنَّهَا اسْتَحَقَّتْ أَنْ تُرْكَبَ وَيُحْمَلَ عَلَيْهَا الْفَحْلُ وَهِيَ تَلْقَحُ وَلَا يُلْقِحُ الذَّكَرُ حَتَّى يُثَنِّيَ وَيُقَالُ لِلْحِقَّةِ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ لأَنَّ الْفَحْلَ يَطْرُقُهَا إِلَى تَمَامِ أَرْبَعِ سِنِينَ فَإِذَا طَعَنَتْ فِي الْخَامِسَةِ فَهِيَ جَذَعَةٌ حَتَّى يَتِمَّ لَهَا خَمْسُ سِنِينَ فَإِذَا دَخَلَتْ فِي السَّادِسَةِ وَأَلْقَى ثَنِيَّتَهُ فَهُوَ حِينَئِذٍ ثَنِيٌّ حَتَّى يَسْتَكْمِلَ سِتًّا فَإِذَا طَعَنَ فِي السَّابِعَةِ سُمِّيَ الذَّكَرُ رَبَاعِيًّا وَالأُنْثَى رَبَاعِيَّةً إِلَى تَمَامِ السَّابِعَةِ فَإِذَا دَخَلَ فِي الثَّامِنَةِ وَأَلْقَى السِّنَّ السَّدِيسَ الَّذِي بَعْدَ الرَّبَاعِيَةِ فَهُوَ سَدِيسٌ وَسَدَسٌ إِلَى تَمَامِ الثَّامِنَةِ فَإِذَا دَخَلَ فِي التِّسْعِ وَطَلَعَ نَابُهُ فَهُوَ بَازِلٌ أَىْ بَزَلَ نَابُهُ - يَعْنِي طَلَعَ - حَتَّى يَدْخُلَ فِي الْعَاشِرَةِ فَهُوَ حِينَئِذٍ مُخْلِفٌ ثُمَّ لَيْسَ لَهُ اسْمٌ وَلَكِنْ يُقَالُ بَازِلُ عَامٍ وَبَازِلُ عَامَيْنِ وَمُخْلِفُ عَامٍ وَمُخْلِفُ عَامَيْنِ وَمُخْلِفُ ثَلَاثَةِ أَعْوَامٍ إِلَى خَمْسِ سِنِينَ وَالْخَلِفَةُ الْحَامِلُ . قَالَ أَبُو حَاتِمٍ وَالْجَذُوعَةُ وَقْتٌ مِنَ الزَّمَنِ لَيْسَ بِسِنٍّ وَفُصُولُ الأَسْنَانِ عِنْدَ طُلُوعِ سُهَيْلٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَنْشَدَنَا الرِّيَاشِيُّ إِذَا سُهَيْلٌ أَوَّلَ اللَّيْلِ طَلَعْ فَابْنُ اللَّبُونِ الْحِقُّ وَالْحِقُّ جَذَعْ لَمْ يَبْقَ مِنْ أَسْنَانِهَا غَيْرُ الْهُبَعْ وَالْهُبَعُ الَّذِي يُولَدُ فِي غَيْرِ حِينِهِ . ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি আর-রিয়াশী, আবূ হাতিম ও অন্যদের কাছে শুনেছি এবং নাদর ইবনু শুমাইল ও আবূ ‘উবাইদের কিতাবে দেখেছি। তাদের দু’ জনের একজন কর্তৃক আলোচ্য বিষয়টি উল্লেখ হয়েছে। তারা বলেছেন, গর্ভস্থ ভ্রুণের নাম ‘আল-হুয়ার’। নবজাত বাচ্চার নাম ‘আল-ফাসিল’। এক বছর হতে দু’ বছরে পদার্পণকারী হচ্ছে ‘বিনতু মাখাদ’। তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী ‘ইবনাতু লাবূন’। তিন বছর হতে চতুর্থ বছর পূর্ণ হলে ‘হিককাহ’। কারণ তখন তা আরোহণ এবং প্রজননের উপযোগী হয়। আর ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পুরুষ উট বালেগ হয় না। হিককহকে ‘ত্বরুক্বাতুল ফাহল’ বলার কারণ হলো পুরুষ উট তাকে পাল দেয়। চতুর্থ বছর শেষে পঞ্চম বছরে পদার্পনকারীকে ‘জাযাআহ’ বলে। ষষ্ঠ বছরে পদার্পন করলে এবং সামনে দুটি দাঁত পড়ে গেলে তা হয় ‘সানি’। এ নাম ষষ্ঠ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে। অতঃপর সপ্তম বছর হলে উটের নাম হয় ‘রুবাঈ’ এবং উষ্ট্রীর নাম হয় ‘রুবাঈয়াহ’, সপ্তম বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত এ নাম বহাল থাকে। অষ্টম বছরে প্রবেশ করলে তার রুবাঈ দাতের পাশের দাত সাদুখ পড়ে যায়। তাই তাকে সাদীস বলা হয়। অতঃপর নবম বছরে প্রবেশ করলে এবং পাশের ধারালো দাঁত প্রকাশ হলে এ দাঁত প্রকাশ হওয়ার কারণে তাকে বলা হয় ‘বাযিল’। সবশেষে দশম বছরে পদার্পন করলে তার নাম ‘মাখলাফ’। এরপর তার আর কোনো নাম নেই। অবশ্য (এরপর) এক বর্ষীয়া ‘বাযিল’, দুই বর্ষীয়া ‘বাযিল’ এবং এক বর্ষীয়া ‘মাখলাফ’, দুই বর্ষীয়া মাখলাফ এবং তিন বর্ষীয়া ‘মাখলাফ’ এভাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত। খুলফাহ হচ্ছে গর্ভধারী উষ্ট্রী। আবূ হাতিম (রহঃ) বলেন, ‘আল-জাযু‘আহ’ শব্দটি কালের একটি সময়কে বুঝায়, এর অর্থ দাঁত নয়। উটের বয়সের ব্যবধান ঘটে সুহাইল তারকার উদয়ের সাথে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কবি আর-রিয়াশী আমাদের নিকট তা কয়েক লাইন কবিতার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেনঃ ‘‘রাতের প্রথম প্রহরে যখন সুহাইল তারকা উদিত হয় তখন ইবনু লাবূন হয় হিককাহ আর হিককাহ হয় জাযাআহ। তারপর হুবা‘ ছাড়া উটের বয়স আর গণনা করা হয় না। সুহাইল তারকার উদয়ের সাথে জন্মগ্রহণকারী উটকে হুবা‘ বলা হয়।
Book 9 · Hadith 35 · #1588 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1497) Sahih Muslim (1078) - 36
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দূরে অবস্থান করে যাকাত আদায় করবে না এবং যাকাতের মালও দুরে সরিয়ে নিবে না। যাকাত দাতাদের বসতি থেকেই যাকাত আদায় করতে হবে।[1] হাসান সহীহ।
Book 9 · Hadith 36 · #1589 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Sahih Lighairihi, Isnaad Hasan - 37
। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘লা জালাবা ওয়া লা জানাবা’-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, চতুষ্পদ জন্তুর যাকাত তার অবস্থানস্থল থেকেই নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তা আদায়কারীর নিকট টেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ‘ওয়া লা জানাবা’-ও একইরূপ। মালের অধিকারী তা আদায়কারীর কাছে হাঁকিয়ে নিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতার নিকট থেকে দূরে অবস্থান করবে না, বরং, বরং মালের স্থানে থেকেই যাকাত নেয়া হবে।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
Book 9 · Hadith 37 · #1590 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Hasan - 38
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এক ব্যক্তিকে জিহাদের উদ্দেশ্যে একটি ঘোড়া দান করেন। পরে তিনি ঐ ঘোড়াটি বিক্রি হতে দেখে তা কেনার ইচ্ছা করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তুমি তা কিনবে না এবং তোমার সাদাকা তুমি ফিরিয়ে নিবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 38 · #1591 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2636) Sahih Muslim (1620) - 39
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া ও দাস-দাসীতে কোন যাকাত নেই। কিন্তু দাস-দাসীর পক্ষ হতে সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরাহ) দিতে হবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 39 · #1592 · Sahih, Sahih, Sahih - 40
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমদের উপর তার দাস-দাসী ও তার ঘোড়ার কোনো যাকাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 40 · #1593 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1463) Sahih Muslim (982) - 41
। সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ভূমি বৃষ্টি, নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় অথবা যে ভূমিতে তলদেশে থেকে আপনা আপনিই পানি সিঞ্চিত হয়, তাতে ‘উশর’ দেয়া ওয়াজিব (অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ যাকাত দিবে)। আর যে ভূমি উষ্ট্রী, বালতি কিংবা সেচ যন্ত্র দিয়ে সিঞ্চন করা হয়, তার যাকাত হলো, উশরের অর্ধেক (অর্থাৎ বিশ ভাগের এক ভাগ)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 41 · #1594 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1483) - 42
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ভূমি নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত হলো, এক-দশমাংশ। আর যে ভূমি উষ্ট্রী দ্বারা (অন্য উপায়ে) সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত বিশ ভাগের এক ভাগ।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 42 · #1595 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (981) - 43
। ওয়াকী’ (রহঃ) বলেন, কাবূস-কেই বা’ল ভূমি বলা হয়। যে ভূমিতে বৃষ্টির পানির সাহায্যে ফসল জন্মায়, তাই ‘কাবূস’। ইবনুল আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আদম (রহঃ) বলেছেন, আমি আবূ ইয়াস আল-আসাদীকে ‘বা‘ল’ (ভূমি) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত ভূমি এবং নাযর বিন শুমাইল বলেনঃ বা‘ল হল বৃষ্টির পানি।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
Book 9 · Hadith 43 · #1596 · Sahih Maqtu, Sahih Maqtu, Isnaad Sahih - 44
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে প্রেরণের সময় বললেন, ফসল থেকে ফসল, বকরীপাল থেকে বকরী, উটপাল থেকে উষ্ট্রী, গরুর পাল থেকে গাভী যাকাত বাবদ গ্রহণ করবে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি মিসরের একটি শসা মেপেছি তের বিঘত লম্বা এবং একটি তরমুজ বা লেবু দেখেছি, যা দুই টুকরা করে একটি উষ্ট্রীর উপর দু’টি বোঝার মত সমান ভারী অবস্থায় ছিল।
Book 9 · Hadith 44 · #1597 · Daif, Daif, Daif, Daif - 45
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা সূত্রে বর্ণিত। মুত্য়ান গোত্রের হিলাল নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মধুর ‘উশর’ নিয়ে এলেন এবং তাঁর নিকট ‘সালাবাহ্’ নামক একটি সমতলভূমি বন্দোবস্ত চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উক্ত ভূমিটি বন্দোবস্ত দিলেন। পরবর্তীতে যখন ‘উমার (রাঃ) খলীফা হন, তখন (এ এলাকার আমীর) সুফয়ান ইবনু ওয়াহাব ‘উমার ইবনুল খাত্তাবকে (রাঃ) ঐ ভূমির বিষয়ে চিঠি লিখে জানতে চাইলেন। উত্তরে ‘উমার (রাঃ) তাকে লিখেনঃ তিনি (হিলাল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মধুর যে ‘উশর’ দিতেন তিনি যদি তা তোমাকেও দেন তাহলে ‘সালাবা’ ওয়াদীতে তার বন্দোবস্ত বহাল রাখবে। অন্যথায় তা বনের মৌমাছি হিসেবে গণ্য হবে এবং যে কেউ তার মধু খেতে পারবে।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 45 · #1598 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 46
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। ‘শাবাবাহ’ হচ্ছে ফাহম গোত্রের উপগোত্র। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, (মধুর যাকাত হচ্ছে) প্রত্যেক দশ মশকের জন্য এক মশক। সুফয়ান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আস-সাকাফী তাদেরকে দু‘টি সমতলভূমি বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। তারা তাকে (মধুর) যাকাত সেভাবেই দিতেন যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতেন। তিনি তাদের দু‘টি সমভূমির বন্দোবস্ত বহাল রেখেছিলেন।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 46 · #1599 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 47
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। ফাহম গোত্রের উপগোত্র...অতঃপর মুগীরাহর হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, (মধুর যাকাত) দশ মশকে এক মশক দেয়া ওয়াজিব। তিনি আরো বলেন, সমভূমি দু‘টি তাদের মালিকানায় ছিল।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 47 · #1600 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 48
। আত্তাব ইবনু আসীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ হয় এবং আঙ্গুরের যাকাত গ্রহণ করবে কিশমিশ দ্বারা, যেমন পাকা খেজুরের যাকাত শুকনা খেজুর দ্বারা নেয়া হয়।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 48 · #1601 · Daif, Daif, Daif - 49
। ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত সানাদে এ হাদীসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 49 · #1602 · Daif, Daif, Daif - 50
। ‘আবদুর রহমান ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) আমাদের মাজলিসে এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ যখন অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করবে, তখন তা হতে এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিতে অসম্মত হলে এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অনুমানকারী ব্যবসার জন্য এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। দুর্বল।
Book 9 · Hadith 50 · #1603 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 51
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি খায়বারের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-কে খায়বারের ইহুদীদের কাছে প্রেরণ করলেন। তিনি গাছের খেজুরের পরিমাণ অনুমানে নির্ধারণ করতেন- যখন তা পুষ্ট হতো, তবে খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 51 · #1604 · Daif, Daif, Daif, Daif - 52
। আবূ উমামাহ ইবনু সাহল (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত হিসেবে জু‘রূর ও হুবাইক বর্ণের খেজুর গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, এগুলো মদীনার দু‘টি বিশেষ বর্ণের খেজুর।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 52 · #1605 · Sahih, Sahih, Daif - 53
। ‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন, তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিলো। মসজিদে আমাদের এক ব্যক্তি নিকৃষ্ট মানের এক গুচ্ছ খেজুর ঝুলিয়ে রেখেছিল। তিনি ঐ খেজুর গুচ্ছে লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলেনঃ এর সাদাকাহকারী ইচ্ছে করলে এর চাইতে উত্তমটি সাদাকা করতে পারতো। তিনি আরো বলেনঃ এর সাদাকাকারীকে কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট ফল খেতে হবে।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 53 · #1606 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 54
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকাতুল ফিতর ফারয করেছেন- অশ্লীল কথা ও বেহুদা কাজ হতে (রমাযানের) সওমকে পবিত্র করতে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য। যে ব্যক্তি (ঈদের) সালাতের পূর্বে তা আদায় করে সেটা কবুল সাদাকা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পরে আদায় করে, তা সাধারন দান হিসেবে গৃহীত হবে।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 54 · #1607 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 55
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেরা সালাতের উদ্দেশে (ঈদগাহে) যাওয়ার পূর্বেই আমাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নাফি’ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) ঈদের একদিন ও দুইদিন পূর্বেই তা আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম ইবনু ‘উমারের কর্ম বাদে। অনুরূপ বুখারীতে।
Book 9 · Hadith 55 · #1608 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1509) Sahih Muslim (986) - 56
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকাতুল ফিতর ফারয করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেন, ইমাম মালিক (রহঃ) তাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন যে, প্রত্যেক স্বাধীন অথবা গোলাম, পুরুষ কিংবা নারী নির্বিশেষে সকল মুসলিমের উপর মাথাপিছু এক সা‘ খেজুর বা যব রমাযানের ফিতরাহ ওয়াজিব।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 56 · #1609 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1504) Sahih Muslim (984) - 57
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর এক সা‘ ফারয করেছেন। অতঃপর মালিকের হাদীসের ভাবার্থ বর্ণনা করেন। তাতে এ কথাটিও আছেঃ ছোট এবং বড় সকলের পক্ষ হতেই। তিনি লোকদের (ঈদের) সালাতে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ‘আবদুল্লাহ আল-উমারী (রহঃ) নাফি‘ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ ‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর’। আল-জুমাহী ‘উবায়দুল্লাহ হতে, তিনি নাফি‘ হতে বর্ণনা করেছেন, তাতে ‘মুসলিমের পক্ষ হতে, কথাটি উল্লেখ নেই। সহীহ : বুখারী।
Book 9 · Hadith 57 · #1610 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1503) Sahih Muslim (984) - 58
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাধীন ও গোলাম, ছোট ও বড়- এদের উপর সাদাকাতুল ফিতর এক সা‘ ফারয করেছেন। বর্ণনাকারী মূসা ‘‘পুরুষ ও নারীর’’ কথাটি বৃদ্ধি করেছেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আইয়ূব ও ‘আবদুল্লাহ আল-‘উমারী তাদের হাদীসে নাফি‘ হতে ‘‘পুরুষ ও নারী’’ কথা বর্ণনা করেছেন। সহীহ।
Book 9 · Hadith 58 · #1611 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 59
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকেরা মাথাপিছু এক সা‘ যব কিংবা খেজুর অথবা খোসাবিহীন গম অথবা কিসমিস সাদাকাতুল ফিতর দিতো। নাফি‘ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে গম উৎপাদিত হলে ‘উমার (রাঃ) ঐ বস্তুগুলোর এক সা‘ এর স্থলে অর্ধ সা‘ গম নির্ধারণ করলেন।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 59 · #1612 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 60
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে লোকেরা (‘উমারের নিধারিত) অর্ধ সা‘ গম দিতে থাকলো। নাফি‘ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) নিজে খেজুর (ফিতরাহ) দিতেন। অতঃপর একবার মাদীনাতে খেজুরের আকাল হওয়ায় তিনি যব দিয়ে (ফিতরাহ) দেন।[1] সহীহ : বুখারী সংক্ষেপে।
Book 9 · Hadith 60 · #1613 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1511) Sahih Muslim (984) - 61
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যতদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে ছিলেন, আমরা ফিতরাহ দিতাম- প্রত্যেক ছোট, বড়, স্বাধীন ও গোলামের পক্ষ হতে মাথাপিছু এক সা‘ খাদ্য অথবা এক সা‘ পনির অথবা এক সা‘ যব অথবা এক সা‘ খেজুর অথবা এক সা‘ কিসমিস। আমরা এ নিয়মেই ফিতরাহ দিয়ে আসছিলাম। অবশেষে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হজ্জ কিংবা ‘উমরাহ্ করতে এসে মিম্বারের আরোহন করে ভাষণ দানকালে লোকদেরকে বললেন, আমার মতে সিরিয়ার দুই মুদ্দ গম এক সা‘ খেজুরের সমান। ফলে লোকেরা তাই গ্রহণ করলো। কিন্তু আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি যত দিন বেঁচে থাকি সর্বদা এক সা‘ ফিতরাহই দিবো।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 61 · #1614 · Daif, Sahih, Sahih Bukhari (1505) Sahih Muslim (985) - 62
। মুসাদ্দাদ হতে ইসমাঈল সূত্রে বর্ণিত হাদীসে গমের কথাটি উল্লেখ নেই। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মু‘আবিয়াহ ইবনু হিশাম এ হাদীসে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে অর্ধ সা‘ গমের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এটা মু‘আবিয়াহ ইবনু হিশাম অথবা তার সূত্রে বর্ণনাকারীর অনুমান মাত্র।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 62 · #1615 · Daif, Daif, Daif - 63
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সর্বদা এক সা‘ ফিতরাহই দিবো। কেননা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক সা’ খেজুর বা এক সা’ যব কিংবা এক সা‘ কিসমিস দিতাম। এটা ইয়াহইয়া বর্ণিত হাদীস। সুফয়ান বর্ধিত করেনঃ অথবা এক সা’ আটা। ইমাম হামিদ (রহঃ) বলেন, মুহাদ্দিসগণ এ বাক্যটি গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে সুফয়ান এ কথাটি পরিহার করেছেন। দুর্বল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আসলে এ বর্ধিত কথাটি সুফয়ান ইবনু ‘উয়াইনার অনুমান।
Book 9 · Hadith 63 · #1616 · Daif, Daif, Daif - 64
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সু‘আইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছোট, বড়, স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ অথবা নারী প্রত্যেক দুইজনের উপর এক সা’ গম (ফিতরাহ) নির্ধারিত। আল্লাহ তোমাদের ধনীদেরকে এর দ্বারা পবিত্র করবেন এবং তোমাদের দরিদ্রদেরকে আল্লাহ তাদের দানের চাইতে অধিক দিবেন। সুলায়মান তার বর্ণনায় ‘ধনী ও দরিদ্র’ শব্দ বৃদ্ধি করেছেন।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 64 · #1617 · Daif, Daif, Daif, Daif - 65
। সা‘লাবাহ ইবনু সু‘আইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ভাষণ দানকালে নির্দেশ দিলেন, ফিতরাহ মাথাপিছু এক সা’ যব। ‘আলী ইবনুল হাসান তার বর্ণনায় বলেন, অথবা প্রতি দুইজনে এক সা‘ গম। অতঃপর উভয়ের বর্ণনা একই রকম, ‘প্রত্যেক ছোট, বড়, স্বাধীন এবং গোলামের পক্ষ হতে আদায় করতে হবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 65 · #1618 · Sahih, Sahih, Daif - 66
। ইবনু শিহাব বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সা‘লাবাহ ও আহমাদ ইবনু সলিহ তার সাথে আল-আদাবী অর্থাৎ আল-‘উযরী বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দুই দিন পূর্বে লোকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিলেন। অতঃপর মুকরীর (‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদের) হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 66 · #1619 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 67
। হাসান বসরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) রমাযানের শেষভাগে বাসরাহতে মিম্বারে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, তোমরা তোমাদের সওমের সাদাকা প্রদান করো। লোকেরা হয়ত বিষয়টি অবগত ছিল না। তিনি বললেন, এখানে মাদীনাহবাসী কেউ আছে কি? তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে গিয়ে তাদেরকে এ বিষয়ে শিক্ষা দাও। কেননা তারা (ফিতরাহ সম্পর্কে) অজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতরাহ নির্ধারণ করেছেন মাথাপিছু এক সা’ খেজুর বা যব বা অর্ধ সা’ গম স্বাধীন কিংবা গোলাম, পুরুষ অথবা নারী, ছোট অথবা বড়- সকলের পক্ষ হতে। পরবর্তীতে ‘আলী (রাঃ) বাসরাতে এসে জিনিসপত্রের দাম খুবই কম দেখে বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন। সুতরাং তোমরা প্রত্যেক বস্ত্ত হতে এক সা‘ প্রদান করো (এটাই ভাল হয়)। হুমাইদ আত-তাবীল (রহঃ) বলেন, হাসান বাসরীর মতে, কেবল সওম পালনকারীর উপর রমাযানের ফিতরাহ দেয়া ওয়াজিব। [1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 67 · #1620 · Daif, Daif, Daif - 68
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত আদায়ের জন্য ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রেরণ করলেন। (তিনি ফিরে এসে বললেন) ইবনু জামীল, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ ও ‘আব্বাস (রাঃ) যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনু জামীলের আপত্তি করার তেমন কোন কারণ নেই। ইতিপূর্বে সে গরীব ছিলো কিন্তু এখন মহান আল্লাহ তাকে ধনী বানিয়েছেন। আর খালিদের উপর তোমরা (যাকাত চেয়ে) যুলুম করেছো। কেননা সে তার লৌহবর্ম ও যুদ্ধ-সরঞ্জামাদি আল্লাহর পথে ওয়াকফ করে দিয়েছে। আর ‘আব্বাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা, তার যাকাত ও অনুরূপ খরচের ভার আমাকে বহন করতে হবে। অতঃপর তিনি বললেনঃ (হে ‘উমার!) তুমি কি জানো না, কোন ব্যক্তির চাচা পিতার সমতুল্য?[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারীতে তার এ কথা বাদেঃ ‘‘তুমি কি জানো না, কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য।’’ এবং তিনি বলেছেনঃ (فهي عليه صدقة و مثلها معها), আর এটাই প্রাধান্যযোগ্য।
Book 9 · Hadith 68 · #1621 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1468) Sahih Muslim (983) - 69
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগাম যাকাত দেয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 69 · #1622 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 70
। ইবরাহীম ইবনু ‘আত্বা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। যিয়াদ কিংবা অন্য কোনো শাসক ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-কে যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলে শাসক তাকে জিজ্ঞেস করেন, (যাকাতের) মাল কোথায়? তিনি বললেন, আপনি আমাকে যে মাল নিয়ে আসার জন্য পাঠিয়েছেন তা আমরা এমন স্থান হতে আদায় করেছি, যেখান থেকে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আদায় করতাম এবং তা এমন খাতে ব্যয় করেছি, যেখানে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ব্যয় করতাম।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 70 · #1623 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 71
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষা করে, সে কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডলে অসংখ্য যখম, নখের আঁচড় ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উপস্থিত হবে। কেউ জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! সম্পদশালী কে? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম অথবা এ মূল্যের স্বর্ণ (যার আছে)।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 71 · #1624 · Sahih, Sahih, Daif, Daif - 72
। ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বনী আসাদের এক ব্যক্তি সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও আমার পরিবার-পরিজন বাকী‘ আল-গারকাদ (কবরস্থানে) যাত্রাবিরতী করি। আমার স্ত্রী বললো, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে আমাদের আহারের জন্য কিছু খাবার চান। পরিবারের প্রত্যেকেই তাদের প্রয়োজন বর্ণনা করলো। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে দেখি, এক লোক তাঁর নিকট কিছু চাইছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, আমার কাছে তোমাকে দেয়ার মতো কিছু নাই। অতঃপর লোকটি রাগান্বিত অবস্থায় একথা বলতে বলতে চলে গেলো যে, আমার জীবনের শপথ! আপনি কেবল আপনার পছন্দের লোককেই দিয়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যক্তি আমার উপর এ জন্যই ক্ষুদ্ধ হয়েছে যে, আমি তাকে দিতে পারলাম না। তোমাদের যে কেউ ভিক্ষা করে, অথচ তার এক ‘উকিয়া বা তার সমপরিমাণ সম্পদ আছে, সে তো বিরক্ত করার জন্যই ভিক্ষা করে। আসাদী লোকটি বলেন, (আমি ভাবলাম) আমাদের একটি উষ্ট্রী আছে, যা উকিয়ার চাইতে উত্তম, এক উকিয়া হচ্ছে চল্লিশ দিরহাম। অতঃপর আমি তার কাছে কিছু না চেয়েই ফিরে আসি। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু যব ও কিশমিশ এলে তিনি তা থেকে আমাদেরকেও একভাগ দিলেন, অথবা বর্ণনাকার বলেছেনঃ এমনকি মহান আল্লাহ আমাদেরকে সম্পদশালী করেন।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 72 · #1625 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 73
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ভিক্ষা চায়, অথচ তার কাছে এক উকিয়া মূল্যের সম্পদ আছে, সে নিশ্চিত অসংগতভাবে ভিক্ষা চাইল। আমি (মনে মনে) বললাম, আমার ইয়াকুত নামক উষ্ট্রীটি তো এক ঊকিয়ার চেয়েও উত্তম। হিশাম বলেন, চল্লিশ দিরহামের চাইতে উত্তম। অতঃপর তার কাছে কিছু না চেয়েই আমি ফিরে আসি। হিশাম তার বর্ণনায় আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ঊকিয়া ছিল চল্লিশ দিরহামের সমান।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 73 · #1626 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 74
। সাহল ইবনুল হানযালিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উয়াইনাহ ইবনু হিসন ও আকরা‘ ইবনু হাবিস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে কিছু চাইলে তিনি তাদেরকে তা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে তা লিখার জন্য মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-কে আদেশ করেন। অতঃপর আকরা‘ নিদের্শনামা নিয়ে তা ভাঁজ করে নিজের পাগড়ীর ভেতর ঢুকিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু ‘উয়াইনাহ তার পত্রখানা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি চান যে, আমি ‘মুতালাম্মিসের’ মতো এমন একটি পত্র নিয়ে আমার সম্প্রদায়ের নিকট যাই যে, আমি নিজেও পত্রের বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ? মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তার বক্তব্য রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে, অথচ তার নিকট এ পরিমাণ সম্পদ আছে যা তাকে ভিক্ষা হতে বিরত রাখতে পারে তার এ কাজ কেবল আগুনই বৃদ্ধি করে। বর্ণনাকারী আন-নুফাইলীর অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ সে জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনের কয়লাই বৃদ্ধি করলো। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! কি পরিমাণ সম্পদ ভিক্ষা হতে বিরত রাখতে পারে? নুফাইলী অন্যত্র বর্ণনা করেন, কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে ভিক্ষা করা অনুচিত? তিনি বলেছেনঃ সকাল ও বিকাল খাওয়ার জন্য যথেষ্ট হয় এ পরিমণ সম্পদ থাকা। নুফাইলী অন্যত্র বর্ণনা করেন, একদিন ও একরাত অথবা বলেছেন, একরাত ও একদিন তৃপ্তি সহকারে খেতে যথেষ্ট হয় এ পরিমাণ সম্পদ।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমি এখানে যে শব্দগুলোর দিয়ে হাদীস বর্ণনা করেছি নুফাইলী আমাদেরকে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। সহীহ।
Book 9 · Hadith 74 · #1627 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 75
। যিয়াদ ইবনুল হারিস আস-সুদায়ী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করি। অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, এ সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, আমাকে সাদাকা দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ মহান আল্লাহ যাকাত বিতরণের ব্যাপারে কোনো নবী এবং অন্য কারোর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। বরং তিনি এ বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি তা আট ভাগে বিভক্ত করেছেন। সুতরাং যদি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও, তাহলে আমি তোমাকে তোমার প্রাপ্য প্রদান করবো।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 75 · #1628 · Daif, Daif, Daif, Daif - 76
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি একটি বা দু‘টি খেজুর অথবা এক বা দুই লোকমা খাবারের জন্য ঘুরে বেড়ায় সে প্রকৃত মিসকীন নয়। বরং প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি যে লোকদের নিকট চায় না এবং তারাও তার অবস্থা অবহিত নয় যে, তাকে কিছু দান করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 76 · #1629 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 77
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ...পূবোর্ক্ত হাদীসের অনুরূপ। প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে। মুসাদ্দাদ আরো বলেন, তার নিকট নিজেকে অভাবমুক্ত রাখার মত সম্পদ নেই, তা সত্ত্বেও সে চায় না, এবং লোকেরাও তার অভাব সম্পর্কে অবহিত নয় যে, তাকে কিছু দান করবে। বস্ত্তত এমন ব্যক্তি নিঃস্ব।[1] সহীহ : তার একথা বাদে ‘‘এমন ব্যক্তি নিঃস্ব।’’ কেননা তা মাক্বতু‘ এবং যুহরীর উক্তি; বুখারী ও মুসলিম। মুসাদ্দাদ তার বর্ণনায় ‘‘এ ব্যক্তিই মুতা‘আফফিফ যে চেয়ে বেড়ায় না।’’ এ বাক্যটি উল্লেখ করেননি ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সাওর ও ‘আবদুর রাযযাক্ব, মা‘মার হতে বর্ণনা করেন যে, ‘আল-মাহরূম’ শব্দটি যুহরীর উক্তি এবং সেটাই অধিক বিশুদ্ধ।
Book 9 · Hadith 77 · #1630 · Maqtu, Maqtu, Daif - 78
। ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আদী ইবনুল খিয়ার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দেন যে, তারা বিদায় হাজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদাকা বিতরণ করছিলেন। তারা উভয়ে তাঁর কাছে যাকাত হতে কিছু চাইলেন। তিনি আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে আবার চোখ নামালেন। তিনি দেখলেন, তারা উভয়েই স্বাস্থ্যবান। তিনি বললেনঃ তোমরা চাইলে আমি তোমাদেরকে দিবো, কিন্তু এতে ধনী ও কর্মক্ষম ব্যক্তির অংশ নেই।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 78 · #1631 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 79
। ‘আবদু্ল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনী এবং সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য যাকাত হালাল নয়। [1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শু‘বাহ (রহঃ) সা‘দ হতে বর্ণনা করেন যে, কর্মক্ষম শক্তিশালী ব্যক্তি। সহীহ।
Book 9 · Hadith 79 · #1632 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 80
। ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধনীর জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল নয়। তবে পাঁচ শ্রেনীর ধনীর জন্য তা জায়িযঃ (১) আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি (২) যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (৩) ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি (৪) কোন ধনী ব্যক্তির দরিদ্রের প্রাপ্ত যাকাতের মাল নিজ অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা (৫) মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত হতে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দেয়া।[1] সহীহ : পরবর্তী হাদীসের কারণে।
Book 9 · Hadith 80 · #1633 · Sahih, Sahih Lighairihi, Sahih, Sahih - 81
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ... পুর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ ভাবার্থ বর্ণিত।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 81 · #1634 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 82
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত নেয়া হালাল নয়। তবে সে আল্লাহর পথে জিহাদেরত থাকলে অথবা মুসাফির হলে অথবা দরিদ্র প্রতিবেশী প্রাপ্ত যাকাত হতে তাকে উপঢৌকনস্বরূপ কিছু দিলে অথবা তোমাকে দাওয়াত করে খাওয়ালে তা বৈধ।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 82 · #1635 · Daif, Daif, Daif, Daif - 83
। বুশাইর ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) নামক এক আনসারী তাকে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দিয়াত হিসেবে একশো যাকাতের উট দান করেছেন। অর্থাৎ সেই আনসারীর দিয়াত যিনি খায়বারে নিহত হয়েছিলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম দীর্ঘভাবে। সামনে তা আসছে (৪৫২০ নং হাদীসে)।
Book 9 · Hadith 83 · #1636 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 84
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ভিক্ষাবৃত্তি হচ্ছে ক্ষতবিক্ষতকারী। মানুষ এর দ্বারা স্বীয় মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। কাজেই যার ইচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তি করে স্বীয় মুখকে ক্ষতবিক্ষত রাখুক। আর যে ইচ্ছে তা পরিহার করুক। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চাওয়া কিংবা নিরুপায় হয়ে কিছু চাওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 84 · #1637 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 85
। ক্বাবীসাহ ইবনু মুখারিক আল-হিলালী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি অন্যের ঋণের জামিনদার হলাম। পরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলে তিনি বললেনঃ হে ক্বাবীসাহ! আমাদের কাছে যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। আমরা তা থেকে তোমাকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দিবো। পরে তিনি বললেন, হে ক্বাবীসাহ! তিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য সওয়াল করা বৈধ নয়। (১) যে ব্যক্তি কোন ঋণের জামিনদার হয়েছে ঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত তার জন্য সওয়াল করা হালাল, পরিশোধ হয়ে গেলে সে বিরত থাকবে। (২) যে ব্যক্তির সমস্ত মাল আকস্মিক দুর্ঘটানায় ধ্বংস হয়ে গেছে, তার জীবন ধারণের পরিমাণ সম্পদ পাওয়া পর্যন্ত তার জন্য সওয়াল করা হালাল। (৩) যে ব্যক্তি দুর্ভিক্ষ কবলিত, এমনকি তার গোত্র-সমাজের তিনজন বিবেচক ও সুধী ব্যক্তি বলে যে, অমুক ব্যক্তি দুর্ভিক্ষ পীড়িত। তখন জীবন ধারণের পরিমাণ সম্পদ পাওয়া পর্যন্ত তার জন্য সওয়াল করা বৈধ, এরপর তা থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর বলেন, হে ক্বাবীসাহ! এ তিন প্রকারের লোক ছাড়া অন্যদের জন্য সওয়াল করা হারাম এবং কেউ করলে সে হারাম ভক্ষণ করলো।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 85 · #1638 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1044) - 86
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক আনসারী ব্যক্তি এসে ভিক্ষা চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ঘরে কিছু আছে কি? সে বললো, একটি কম্বল আছে, যার কিছু অংশ আমরা পরিধান করি এবং কিছু অংশ বিছাই। একটি পাত্রও আছে, তাতে আমরা পানি পান করি। তিনি বললেন, সেগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো, লোকটি তা নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হাতে নিয়ে বললেনঃ এ দুটি বস্তু কে কিনবে? এক ব্যক্তি বললো, আমি এগুলো এক দিরহামে নিবো। তিনি দুইবার অথবা তিনবার বললেনঃ কেউ এর অধিক মূল্য দিবে কি? আরেকজন বললো, আমি দুই দিরহামে নিতে পারি। তিনি ঐ ব্যক্তিকে তা প্রদান করে দিরহাম দু‘টি নিলেন এবং ঐ আনসারীকে তা প্রদান করে বললেনঃ এক দিরহামে খাবার কিনে পরিবার-পরিজনকে দাও এবং আরেক দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার কাছে নিয়ে এসো। লোকটি তাই করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বহস্তে তাতে একটি হাতল লাগিয়ে দিয়ে বললেনঃ যাও, তুমি কাঠ কেটে এনে বিক্রি করো। পনের দিন যেন আমি আর তোমাকে না দেখি। লোকটি চলে গিয়ে কাঠ কেটে বিক্রি করতে লাগলো। অতঃপর সে আসলো, তখন তার নিকট দশ দিরহাম ছিলো। সে এর থেকে কিছু দিয়ে কাপড় এবং কিছু দিয়ে খাবার কিনলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ভিক্ষা করে বেড়ানোর চেয়ে এ কাজ তোমার জন্য অধিক উত্তম। কেননা ভিক্ষার কারণে কিয়ামতের দিন তোমার মুখমন্ডলে একটি বিশ্রি কালো দাগ থাকতো। ভিক্ষা করা তিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারোর জন্য বৈধ নয়। (১) ধুলা-মলিন নিঃস্ব ভিক্ষুকের জন্য; (২) ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি; (৩) যার উপর রক্তপণ আছে, অথচ সে তা পরিশোধ করতে অক্ষম।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 86 · #1639 · Daif, Daif, Daif, Isnaad Hasan - 87
। ‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাতজন অথবা আটজন অথবা নয়জন রসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বাই‘আত গ্রহণ করবে না? অথচ আমরা কয়েকদিন আগেই বাই‘আত নিয়েছি, তাই আমরা বললাম, আমরা তো আপনার কাছে বাই‘আত হয়েছি। এমনকি তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। অতঃপর আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করে বাই‘আত গ্রহণ করলাম। একজন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তো বাই‘আত করেছি, তাহলে এখন আবার কিসের উপর বাই‘আত হবো? তিনি বললেনঃ তোমরা এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং আমীরের কথা শুনবে ও তার আনুগত্য করবে। তিনি সংক্ষেপে নিচু স্বরে বললেনঃ মানুষের কাছে কিছু সওয়াল করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এদের কেউই (সফরে) একটি ছড়ি নীচে পড়ে গেলেও অন্যকে তা তুলে দিতে অনুরোধ করেননি।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 87 · #1640 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1043) - 88
। সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে নিশ্চয়তা দিবে যে, সে অন্যের কাছে কিছু চাইবে না, তাহলে আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার হবো। সাওবান (রাঃ) বলেন, আমি। এরপর তিনি কারো কাছে কিছু সওয়াল করেননি।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 88 · #1641 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 89
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কতিপয় আনসারী কিছু চাইলে তিনি তাদেরকে দান করলেন, তারা পুনরায় চাইলে তিনি তাদেরকে পুনরায় দান করলেন। এভাবে দান করতে করতে তাঁর সম্পদ শেষ হয়ে গেলো। তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে সম্পদ থাকলে আমি তোমাদেরকে না দিয়ে তা জমা করে রাখি না। কেউ সওয়াল থেকে পবিত্র থাকতে চাইলে আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী রাখেন এবং যে ধৈর্য ধারণ করতে চায়, আল্লাহ তাকে তাই দান করেন। ধৈর্য্যের চেয়ে অধিক ব্যাপক কিছু দান করা হয়নি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 89 · #1642 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1469) Sahih Muslim (1053) - 90
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুর্ভিক্ষে পড়ে মানুষের দুয়ারে দুয়াতে চেয়ে বেড়ায়, তার ক্ষুধা কখনো বন্ধ হবে না। আর যে আল্লাহর স্মরণাপন্ন হয়েছে শিঘ্রই মহান আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করবেন, হয়ত দ্রুত মৃত্যুর দ্বারা অথবা সম্পদশালী বানিয়ে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 90 · #1643 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 91
। ইবনুল ফিরাসী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকদের কাছে কিছু চাইতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। যদি তোমাকে চাইতেই হয় তাহলে নেককার লোকদের কাছে চাও।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 91 · #1644 · Daif, Daif, Daif, Daif - 92
। ইবনুস সাঈদী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) আমাকে যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত করেন। আমি তা আদায়ের পর তার নিকট পৌঁছিয়ে দিলে তিনি আমার কাজের পারিশ্রমিক প্রদানের নিদের্শ দেন। আমি বললাম, আমি এ কাজ আল্লাহর ওয়াস্তে করেছি, তাই এর বিনিময় আল্লাহর কাছেই চাই। তিনি বললেন, তোমাকে যা দেয়া হয় গ্রহণ করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় এ কাজ করেছিলাম। তিনি আমাকে পারিশ্রমিক দিলে আমিও তোমার মত বলেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ চাওয়া ছাড়াই তোমাকে যা কিছু দেয়া হয় তা খাও এবং সাদাকা করো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 92 · #1645 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (7163) Sahih Muslim (1045) - 93
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে যাকাত গ্রহণ, তা থেকে বিরত থাকা এবং ভিক্ষা সম্পর্কে উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম বলেছেন। উপরের হাত হলো দাতার হাত এবং ভিক্ষার হাত হলো নীচের হাত।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, নাফি‘ হতে আইয়ূব সূত্রে বর্ণিত হাদীসে মতভেদ আছে। ‘আবদুল ওয়ারিস বলেন, এমন হাতই উপরের হাত যা ভিক্ষা হতে বিরত থাকে এবং অনেকেই হাম্মাদ ইবনু যায়িদ হতে আইয়ূব সূত্রে বলেছেন, দানকারীর হাতই উপরের হাত। আরেক বর্ণনাকারী বলেন, (তা হচ্ছে) ভিক্ষা হতে বিরত হাত। সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। এছাড়া তার ‘‘ভিক্ষা হতে বিরত হাত।’’ কথাটি শায।
Book 9 · Hadith 93 · #1646 · Shadh, Shadh, Sahih, Sahih Bukhari (1429) Sahih Muslim (1033) - 94
। মালিক ইবনু নাদলাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (দানের) হাত তিন প্রকার। (১) আল্লাহর হাত সবার উপরে (২) অতঃপর দানকারীর হাত (৩) এবং ভিক্ষার হাত সবার নীচে। কাজেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ দান করো এবং প্রবৃত্তির কাছে অক্ষম হয়ো না।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 94 · #1647 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 95
। আবূ রাফি‘ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাখযূম গোত্রের এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের উদ্দেশে প্রেরণ করলে তিনি আবূ রাফি‘ (রাঃ)-কে বলেন, তুমি আমার সাথে গেলে তুমিও তা থেকে কিছু পাবে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নিবো। অতঃপর তিনি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কোন সম্প্রদায়ের মুক্তদাস তাদেরই একজন। আর আমাদের জন্য যাকাত হালাল নয়।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 95 · #1648 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 96
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তায় পড়ে থাকা একটি খেজুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি শুধু এ কারণেই তুলে নেননি যে, হয়ত ওটা যাকাতের (খেজুর)।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 96 · #1649 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - 97
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথে একটি খেজুর পেয়ে বলেনঃ আমি এটি যাকাতের খেজুর হওয়ার আশংকা না করলে এটি খেতাম।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 97 · #1650 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2055) Sahih Muslim (1071) - 98
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি উটের জন্য প্রেরণ করেন- যা তিনি তাকে যাকাতের মাল হতে দান করেছিলেন।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 98 · #1651 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 99
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত। তাতে এ কথাটি অতিরিক্ত আছেঃ আমার পিতা তা পরিবর্তন করে নিয়েছেন।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 99 · #1652 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 100
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে গোশত পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কি ধরনের গোশত? লোকেরা বললো, এটা বারীরাহকে সাদাকা দেয়া হয়েছিলো। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সাদাকা, কিন্তু আমাদের জন্য উপঢৌকন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 100 · #1653 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1495) Sahih Muslim (1074) - 101
। বুরাইদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি ঐ দাসীটি রেখে মারা গেছেন। তিনি বললেনঃ তুমি দানের সওয়াব পেয়েছো এবং সে উত্তরাধিকার সূত্রে তোমার কাছে ফিরে এসেছে।[1] সহীহ : মুসলিম।قضيتين أخريين অতিরিক্ত যোগে। যেমন সামনে আসছে হাদীস (২৮৭৭ নং)।
Book 9 · Hadith 101 · #1654 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim (1149) - 102
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ‘মাঊন’ গণ্য করতাম বালতি, হাঁড়ি-পাতিল ইত্যাদি ছোট-খাটো বস্তু ধারে আদান-প্রদান করাকে।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 102 · #1655 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan - 103
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ধনী ব্যক্তি তার হাক্ব (যাকাত) আদায় না করলে কিয়ামতের দিন সোনা ও রূপা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তার ললাটে, তার পার্শ্বদেশে ও তার পৃষ্ঠদেশে সেঁক দেয়া হবে। এমন শাস্তি অব্যাহত থাকবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করার দিন পর্যন্ত, যে দিন হবে তোমাদের গণনা অনুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। এরপর সে নিজের গন্তব্যস্থান চাক্ষুস দেখবে, জান্নাত অথবা জাহান্নাম। আর যে মেষপালের মালিক তার যাকাত দেয় না কিয়ামতের দিন সেগুলো পূর্বের চেয়েও সংখ্যায় অধিক ও মোটা-তাজা অবস্থায় উপস্থিত হবে এবং তাকে শিং দিয়ে গুঁতা মারবে ও খুর দিয়ে দলিত করবে। ওসবের কোনোটিই বাঁকা শিংবিশিষ্ট বা শিংবিহীন হবে না। যখন সর্বশেষ জানোয়ারটি তাকে দলিত করে চলে যাবে, তখন প্রথমটিকে আবার তার কাছে আনা হবে। এরূপ চলতে থাকবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করার দিন পর্যন্ত, যে দিনটি হবে তোমাদের হিসাব মতে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। এরপর সে তার গন্তব্যস্থান প্রত্যক্ষ করবে, জান্নাত অথবা জাহান্নাম। আর যে উটের মালিক উটের যাকাত প্রদান করে না কিয়ামতের দিন ঐ উট পূর্বের চাইতেও সংখ্যায় অধিক ও মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। তাকে এক বিশাল সমভূমিতে উপুড় করে শোয়ানো হবে এবং পশুগুলো তাকে খুর দিয়ে দলন করতে থাকবে। সর্বশেষ পশুটি তাকে অতিক্রম করার পর প্রথমটিকে পুনরায় তার কাছে ফিরে আনা হবে। এরূপ চলতে থাকবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে ফায়সালা করার দিন পর্যন্ত, যেদিন হবে তোমাদের গণনা অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর সে তার গন্তব্যস্থল প্রত্যক্ষ করবে, হয়তো জান্নাত অথবা জাহান্নাম।[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারী সংক্ষেপে।
Book 9 · Hadith 103 · #1656 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (987) - 104
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাতে উটের ব্যাপারে উল্লেখ রয়েছেঃ যে ব্যক্তি তার হাক্ব আদায় করে না। এর হাক্ব হচ্ছে, পানি পান করার দিন তার দুধ দোহন করা।[1] সহীহ : মুসলিম। বুখারী সংক্ষেপে।
Book 9 · Hadith 104 · #1657 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2371) Sahih Muslim (987) - 105
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপই বলতে শুনেছি। বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, উটের হাক্ব কি? তিনি বললেন, উত্তমটি দান করা, অধিক দুগ্ধবতী দান করা, তার পৃষ্ঠে আরোহণ করতে দেয়া, পুরুষ উট দ্বারা প্রজনন করতে দেয়া এবং দুধ (অভাবীদের) পান করতে দেয়া।[1] হাসান, পরবর্তী হাদীসের কারণে।
Book 9 · Hadith 105 · #1658 · Hasan, Hasan Lighairihi, Isnaad Hasan - 106
। ‘উবাইদ ইবনু ‘উমাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রসূল! উটের হাক্ব কি? অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছেঃ তার দুধ ধার দেয়া।[1] সহীহ : মুসলিম। জাবির হতে।
Book 9 · Hadith 106 · #1659 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim (988) - 107
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদের্শ দিয়েছেন ‘দশ ওয়াসাক্ব খেজুর কাটলে এক কাঁদি খেজুর মিসকীনদের জন্য মসজিদে ঝুলিয়ে রাখবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 107 · #1660 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 108
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার উটে আরোহণ করে সেটিকে ডানে-বামে হাঁকাতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার অতিরিক্ত সওয়ারী আছে সে যেন তা যার কোনো সওয়ারী নেই তাকে দান করে এবং যার অতিরিক্ত পাথেয় আছে, সে যেন তা এমন ব্যক্তিকে দান করে যার পাথেয় নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদের ধারণা হলো যে, আমাদের অতিরিক্ত সম্পদ রাখার কোন অধিকার নেই।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 108 · #1661 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (1728) - 109
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘যারা সোনা-রূপা সঞ্চিত করে রাখে...’’ (সূরাহ আত-তওবা : ৩৪), মুসলিমদের উপর তা ভারী মনে হলো। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমিই তোমাদের পক্ষ হতে এর সূষ্ঠু সমাধান নিয়ে আসবো। অতঃপর তিনি গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী! এ আয়াতটি আপনার সঙ্গীদের উপর কষ্টকর অনুভূত হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদের অতিরিক্ত মাল পবিত্র করার জন্যই যাকাত ফারয করেছেন। আর তিনি উত্তরাধিকারীর ব্যবস্থা ফারয করেছেন এজন্যই যেন তা তোমাদের পরবর্তীদের জন্য থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ সম্পর্কে অবহিত করবো না? তা হলো, নেককার স্ত্রী। সে তার স্ত্রীর দিকে তাকালে সে তাকে আনন্দ দেয় এবং তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা মেনে নেয় এবং সে যখন তার থেকে অনুপস্থিত থাকে, তখন সে তার সতীত্ব ও তার সম্পদের হিফাযাত করে।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 109 · #1662 · Daif, Daif, Daif - 110
। হুসাইন ইবনু ‘আলী রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (তোমাদের সম্পদে) যাঞ্চাকারীর অধিকার রয়েছে, যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 110 · #1663 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 111
। ‘আলী (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 111 · #1664 · Daif, Daif, Hasan, Hasan - 112
। উম্মু বুজাইদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাই‘আত গ্রহণকারিণীদের একজন। তিনি তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনার প্রতি অনুগ্রহ করুন। মিসকীন আমার দরজায় এসে দাড়ায়, কিন্তু তাকে দেয়ার মতো কিছুই আমি পাই না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তাকে দেয়ার মতো কিছু না পেলে অন্তত রান্না করা পশুর একখানা পায়া হলেও তার হাতে তুলে দাও।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 112 · #1665 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 113
। আসমা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়) আমার মা-যিনি ইললাম বিদ্বেষী ও কুরাইশদের ধর্মাবলম্বী ছিলেন, তিনি সদ্ব্যবহার পাবার আশায় আমার নিকট আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন, অথচ তিনি ইসলাম বিদ্বেষী মুশরিকা। আমি কি তার সাথে সদাচরণ করবো? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মায়ের সাথে অবশ্যই সদাচরণ করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 113 · #1666 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2620) Sahih Muslim (1003) - 114
। বুহায়সাহ (রহঃ) তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (শরীরে চুমু দেয়ার) অনুমতি চাইলেন। অতঃপর তিনি তাঁর জামার ভেতরে প্রবেশ করে চুমা দিতে লাগলেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন বস্তু চাইলে নিষেধ করা হালাল নয়? তিনি বললেনঃ পানি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন বস্তু চাইলে নিষেধ করা হালাল নয়? তিনি বললেনঃ লবণ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কোন বস্তু চাইলে নিষেধ করা হালাল নয়? তিনি বললেনঃ তোমার কোন ভালো কাজ করাটাই তোমার জন্য কল্যাণকর।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 114 · #1667 · Daif, Daif, Daif - 115
। ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে আজ মিসকীনকে আহার করিয়েছে? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি মসজিদে ঢুকেই এক ভিক্ষুকের সাক্ষাত পেলাম। আমি ‘আবদুর রহমানের হাতে এক টুকরা রুটি পেয়ে তার থেকে সেটা নিয়ে ভিক্ষুককে দান করলাম।[1] দুর্বল : তবে ভিক্ষুকের ঘটনা বাদে সহীহ।
Book 9 · Hadith 115 · #1668 · Daif, Daif, Daif - 116
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নামের দোহাই দিয়ে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু চাওয়া উচিৎ নয়।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 116 · #1669 · Daif, Daif, Daif, Daif - 117
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে নিরাপত্তা চায়, তাকে নিরাপত্তা দাও। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে ভিক্ষা চায়, তাকে দাও। যে ব্যক্তি তোমাদেরকে দাওয়াত করে তার ডাকে সাড়া দাও। যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে তোমরা তার উত্তম প্রতিদান দাও। প্রতিদান দেয়ার মতো কিছু না পেলে তার জন্য দু‘আ করতে থাকো, যতক্ষণ না তোমরা অনুধাবন করতে পারো যে, তোমরা তার প্রতিদান দিতে পেরেছো।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 117 · #1670 · Sahih, Sahih, Sahih, Daif - 118
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবস্থানকালে এক ব্যক্তি একটি ডিম পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ স্বর্ণ খনি থেকে পেয়েছি, এটি দান হিসেবে গ্রহণ করুন। এছাড়া আমার আর কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুখ ফিরিয়ে নিলে লোকটি তাঁর ডান পাশে এসে আগের মতই বললো। এরপর সে তাঁর বাম পাশে এসেও তাই বললো। আর তিনিও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অবশেষে সে তাঁর পিছনে এসে অনুরূপ বললে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে এমন জোরে তার দিকে ছুড়ে মারলেন যে, তার শরীরে লাগলে সে অবশ্যই যখম বা আহত হতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কেউ তার সমস্ত মাল আমার কাছে নিয়ে এসে বলে, এটা সাদাকা। পরে সে (সম্বলহীন হয়ে) লোকের কাছে ভিক্ষা করে বেড়ায়। বস্ত্তত সর্বোত্তম সাদাকা সেটাই যা অভাবমুক্ত থেকে দান করা হয়।[1] দুর্বল : তবে হাদীসের এ বাক্যটি সহীহ- ‘‘সর্বোত্তম সাদাকা সেটাই যা অভাবমুক্ত থেকে দান করা হয়।’’
Book 9 · Hadith 118 · #1671 · Daif, Daif, Daif - 119
। ইবনু ইসহাক (রহঃ) হতে উল্লেখিত সানাদে অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছেঃ ‘তুমি তোমার মাল নিয়ে যাও, আমাদের এর কোনই প্রয়োজন নেই’।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 119 · #1672 · Daif, Daif, Daif - 120
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে বস্ত্র দানের আদেশ করেন। তখন লোকেরা বস্ত্র দান করলো। তিনি ঐ ব্যক্তিকে তা থেকে দু’টি কাপড় দেয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি আবারো দান করতে উৎসাহিত করলে ঐ ব্যক্তি তার দু’টি কাপড়ের একটি কাপড় দান করায় তিনি তাকে ধমক দিয়ে বললেনঃ তোমর কাপড় নিয়ে যাও।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 120 · #1673 · Hasan, Hasan, Hasan - 121
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান করা হয় সেটাই সর্বোত্তম দান। দান আরম্ভ করবে তোমার পোষ্যদের থেকে।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 9 · Hadith 121 · #1674 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5355) - 122
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন ধরনের দান অতি উত্তম? তিনি বললেনঃ সামান্য সম্পদের মালিক নিজ সামর্থ্যানুযায়ী যা দান করে এবং নিজের পোষ্যদের থেকেই দান করা আরম্ভ করো।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 122 · #1675 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 123
। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদাকা করার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে সেদিন আমার কাছে মালও ছিলো। আমি (মনে মনে) বললাম, আজ আমি আবূ বাকর (রাঃ) এর অগ্রগামী হবো, যদিও আমি কোন দিন দানে তার অগ্রগামী হতে পারিনি। কাজেই আমি আমার অর্ধেক মাল নিয়ে উপস্থিত হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ পরিবারের জন্য কি অবশিষ্ট রেখে এসেছো? আমি বললাম, এর সম-পরিমান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আর আবূ বাকর (রাঃ) তার সমস্ত মাল নিয়ে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ পরিবারের জন্য কি অবশিষ্ট রেখে এসেছো? তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে রেখে এসেছি। তখন আমি (‘উমার) বললাম, আমি কখনো কোনো বিষয়েই আপনাকে অতিক্রম করতে পারবো না।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 123 · #1676 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 124
। সাঈদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আপনার কাছে কোন সাদাকা অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেনঃ পানি (পান করানো)।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 124 · #1677 · Hasan, Daif - 125
। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।
Book 9 · Hadith 125 · #1678 · Daif, Hasan, Hasan, Daif - 126
। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সা‘দ মৃত্যুবরণ করেছেন (তার পক্ষ হতে) কোন সাদাকা সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেনঃ পানি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সা‘দ) একটি কূপ খনন করে বললেন, এটা উম্মু সা‘দের (কল্যানের) জন্য ওয়াকফ।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 126 · #1679 · Hasan, Hasan, Daif, Daif - 127
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম কোন বস্ত্রহীন মুসলিমকে কাপড় পরাবে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ পোশাক পরাবেন। যে মুসলিম কোন অভূক্ত মুসলিমকে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল-ফলাদি খাওয়াবেন। আর যে মুসলিম কোন পিপাসু মুসলিমকে পানি পান করাবে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সীলমোহরকৃত বিশুদ্ধ পানীয় পান করাবেন।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 127 · #1680 · Daif, Daif, Daif - 128
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চল্লিশটি বৈশিষ্টপূর্ণ কাজের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে (দুধ পানের জন্য) কাউকে দুগ্ধবতী বকরী দান করা। যে ব্যক্তি নেকীর আশায় এবং অঙ্গীকারের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এ চল্লিশটি কাজের যে কোনো একটি করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাসসান (রহঃ) বলেন, দুগ্ধবতী বকরী ছাড়া (অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে) সালামের জবাব দেয়া, হাঁচির জবাব দেয়া এবং রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত আমরা পনেরটি কাজ পর্যন্তও পৌঁছাতে পারিনি। সহীহ : বুখারী।
Book 9 · Hadith 128 · #1681 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2631) - 129
। আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষ সেই ব্যক্তি যে নির্দেশ মতো সন্তুষ্টচিত্তে পরিপূর্ণভাবে কাজ সম্পন্ন করে, এমনকি যাকে যা দান করতে বলা হয় তাকে তাই দান করে, সে দুই দানকারীর একজন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 129 · #1682 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1438) Sahih Muslim (1023) - 130
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো স্ত্রী স্বামীর ঘর থেকে নষ্টের উদ্দেশ্য না রেখে কিছু দান করে, তবে সে দানের কারণে সওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও অনুরূপ সওয়াব পাবে উপার্জন করার কারণে। রক্ষণাবেক্ষণকারীও অনুরূপ সওয়াব পাবে। কিন্তু এতে কারোর সওয়াবে অন্যের কারণে ঘাটতি হবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 130 · #1683 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (1425) Sahih Muslim (1024) - 131
। সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মহিলারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাই‘আত হন তখন তাদের মধ্যে এক স্থুলদেহী মহিলাও ছিলো, সম্ভবত মহিলাটি মুদার গোত্রীয়। তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আমাদের পিতা, পুত্রের উপর নির্ভরশীল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা হাদীসে এটাও আছেঃ এবং আমাদের স্বামীদের উপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় তাদের ধন-সম্পদে আমাদের কি পরিমাণ অধিকার আছে? তিনি বললেনঃ তোমরা যা (রাতাব হিসেবে) খাও এবং দান করো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আর-রাতাব’ হচ্ছে রুটি, তরি-তরকারি ও তাজা খেজুর।[1] দুর্বল।
Book 9 · Hadith 131 · #1684 · Daif, Daif, Daif - 132
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্ত্রী বিনা অনুমতিতে তার স্বামীর উপার্জিত সম্পদ হতে দান করলে অর্ধেক সওয়াব পাবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 132 · #1685 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5360) Sahih Muslim (1026) - 133
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে এমন নারী সম্পর্কে বর্ণিত, যিনি তার স্বামীর ঘর থেকে দান করে থাকেন। তিনি বলেছেন, (দান করা) বৈধ নয়, তবে স্বামী তাকে যা খোরাকী দিয়েছে, তা থেকে করতে পারবে, আর এতে ঊভয়েই সওয়াব পাবে। স্বামীর বিনা অনুমতিতে তার সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান-খয়রাত করা বৈধ নয়।[1] সহীহ মাওকুফ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস হাম্মাদের হাদীসকে দুর্বল করে।
Book 9 · Hadith 133 · #1686 · Sahih Muquf, Sahih Muquf, Isnaad Hasan - 134
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তোমরা তোমাদের ভালোবাসার বস্ত্ত ব্যয় না করা পর্যন্ত কখনো পুণ্য লাভ করবে না’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান : ৯২), তখন আবূ ত্বালহাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনে হচ্ছে, আমাদের রব্ব আমাদের সম্পদের অংশ চান। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আরীহাতে অবস্থিত আমার ভূমিটি আল্লাহর উদ্দেশে দান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি তা তোমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দেরকে দাও। অতঃপর তিনি তা হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) এর মধ্যে বন্টন করে দিলেন।[1] সহীহ : মুসলিম, অনুরূপ বুখারী।
Book 9 · Hadith 134 · #1687 · Maqtu, Sahih, Sahih, Sahih Muslim (998) - 135
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মায়মূনাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি দাসী ছিলো, তাকে আমি মুক্ত করে দেই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলে আমি তাঁকে বিষয়টি জানাই। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে এর সওয়াব দিন। কিন্তু যদি তুমি তা তোমার মাতুল গোষ্ঠীকে দান করতে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ সওয়াব পেতে।[1] সহীহ : মুসলিম।
Book 9 · Hadith 135 · #1688 · Sahih, Sahih, Sahih - 136
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দান করার নির্দেশ দিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার একটি দীনার আছে। তিনি বললেনঃ তুমি তা নিজের জন্য ব্যয় করো। সে বললো, আমার আরো একটি আছে। তিনি বললেনঃ তোমার স্ত্রীর জন্য খরচ করো। সে বললো, আমার আরো একটি আছে। তিনি বললেনঃ তোমার খাদিমের জন্য সাদাকা করো। সে বললো, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। তিনি বললেনঃ তুমিই ভালো জানো (তা কিসে ব্যয় করবে)।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 136 · #1689 · Hasan, Hasan, Hasan - 137
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ পাপী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার উপর নির্ভরশীলদের রিযিক্ব নষ্ট করে।[1] হাসান।
Book 9 · Hadith 137 · #1690 · Hasan, Hasan, Sahih, Sahih - 138
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বীয় রিযিক্ব বৃদ্ধি ও দীর্ঘজীবী হতে চায় সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 138 · #1691 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (2067) Sahih Muslim (2557) - 139
। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ বলেছেন, আমিই রহমান (দয়ালু), আত্মীয়তার বন্ধন হচ্ছে রহিম, যা আমি আমার নাম থেকে নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আত্মীয়দেরকে সংযুক্ত রাখবে আমিও তাকে সংযুক্ত রাখবো এবং যে তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে আমিও তার থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করব।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 139 · #1692 · Sahih, Sahih - 140
। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন ... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
Book 9 · Hadith 140 · #1693 · Daif, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 141
। জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 141 · #1694 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5984) Sahih Muslim (2556) - 142
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী ঐ ব্যক্তি নয়, যে বরাবর ব্যবহার করে। বরং প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী ঐ ব্যক্তি, যার আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা পুনঃস্থাপন করে।[1] সহীহ : বুখারী।
Book 9 · Hadith 142 · #1695 · Sahih, Sahih, Sahih Bukhari (5991) - 143
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদেরকে কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে তারা কৃপণতা করেছে, তাদেরকে আত্মীয়তা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে, তখন তারা তাই করেছে এবং তাদেরকে পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 143 · #1696 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 144
। আসমা বিনতু আবূ বাকর রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! (আমার স্বামী) যুবাইর (রাঃ) ঘরে যা উপার্জন করে নিয়ে আসেন তা ছাড়া অন্য কোনো মাল আমার নেই। সুতরাং আমি কি তা থেকে সাদাকা করতে পারি? তিনি বললেনঃ সাদাকা করো, ধরে রেখো না, তাহলে তোমার (রিযিক্ব) ধরে রাখা হবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
Book 9 · Hadith 144 · #1697 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 145
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি কতিপয় মিসকীন সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অন্য আরেকজনের বর্ণনায় আছে অথবা কতিপয় মিসকীনকে সাদাকা করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ দান-খয়রাত করো এবং তা গুনে রেখো না। তাহলে তোমাকেও না দিয়ে রেখে দেয়া হবে।[1] সহীহ।
Book 9 · Hadith 145 · #1698 · Sahih, Sahih, Sahih, Isnaad Sahih