Marriage
- 1
রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, কেউ যেন তাহার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
Book 28 · Hadith 1 · #1037 · Sahih - 2
রেওয়ায়ত ২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কেউ যেন তাহার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে (আল্লাহ সর্বজ্ঞ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বাণী, “কেউ যেন তাহার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।” ইহার ব্যাখ্যা এই— যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, মহিলাটি তার প্রস্তাবের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উভয়ে একটি নির্দিষ্ট মোহরের উপর ঐকমত্যে পৌছে। উভয়ে এই ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর রাযী হইয়াছে এবং উক্ত মহিলা তাহাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাবকারীর উপর শর্ত করিয়াছে। এমতাবস্থায় পুরুষের পক্ষে তাহার ভাইয়ের এই প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ। এক ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু উক্ত মহিলা তাহার এই প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করে নাই এবং তাহার দিকে আকৃষ্টও হয় নাই। এরূপ মহিলার বিবাহের জন্য কেউ প্রস্তাব দিবে না। এই হাদীসের অর্থ ইহা নহে। কারণ ইহাতে লোকের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টির দরজা উন্মুক্ত হইবে।
Book 28 · Hadith 2 · #1038 · Sahih - 3
রেওয়ায়ত ৩. “স্ত্রীলোকদের নিকট তোমরা ইঙ্গিতে বিবাহ প্রস্তাব করিলে অথবা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখিলে তোমাদের কোন পাপ নাই।” আল্লাহ জানেন যে, তোমরা তাহাদের সম্বন্ধে আলোচনা করিবে; কিন্তু বিধিমত কথাবার্তা ব্যতীত গোপনে তাহাদের নিকট কোন অঙ্গীকার করিও না। (বাকারাঃ ২৩৫) আবদুর রহমান ইবন কাসেম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিতেন, “আল্লাহ্ তা'আলার এই বাণীর ব্যাখ্যা এই — কোন পুরুষ কর্তৃক কোন মহিলাকে তার স্বামীর ওফাতের ইদ্দত পালনের সময়ে এইরূপ বলা – “তুমি আমার নিকট সম্মানিত,” “আমি তোমাকে পছন্দ করি” “আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই তোমার জন্য মঙ্গল ও জীবিকা প্রেরণ করিবেন।” আরও এই জাতীয় উক্তি।
Book 28 · Hadith 3 · #1039 · Maqtu Sahih - 4
রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ আইয়্যেম[1] তাহার ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার এবং কুমারীর বিবাহের ব্যাপারে তাহার অনুমতি লইতে হইবে। চুপ থাকাই হইতেছে তাহার অনুমতি।
Book 28 · Hadith 4 · #1040 · Sahih - 5
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ অভিভাবক বা উক্ত পরিবারের বুদ্ধিমান ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ব্যতীত কোন মহিলাকে যেন বিবাহ দেওয়া না হয় না।
Book 28 · Hadith 5 · #1041 · Mauquf Sahih - 6
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ও সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাহারা উভয়ে নিজেদের কুমারী কন্যাদিগকে তাহাদের অনুমতি না লইয়া বিবাহ দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুমারীদের বিবাহের ব্যাপারে আমাদের নিকটও ইহা পছন্দনীয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্বামীর গৃহে না আসা (স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করা) এবং তাহার যোগ্যতার যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কুমারী মেয়ে তাহার সম্পদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হয় না।
Book 28 · Hadith 6 · #1042 · Maqtu Daif - 7
রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাহারা সকলেই কুমারীর ব্যাপারে বলিতেন, তাহার পিতা তাহার অনুমতি না চাহিয়া তাহাকে বিবাহ দিলে সে বিবাহ প্রযোজ্য হইবে।
Book 28 · Hadith 7 · #1043 · Maqtu Daif - 8
রেওয়ায়ত ৮. সাহল ইবন সা'দ সায়িদী (রাঃ) হইতে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট একজন মহিলা আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমি আমার সত্তাকে আপনার জন্য হিবা (দান) করিলাম। ইহা বলার পর সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিল। অতঃপর এক ব্যক্তি দাঁড়াইয়া বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রয়োজন না থাকিলে এই মহিলাকে আমার সঙ্গে বিবাহ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, এই মহিলাকে মোহরানা বাবদ দিবার মতো তোমার কিছু আছে কি? লোকটি বলিল, আমার নিকট আমার এই তাহবন্দ (পরিচ্ছদ-লুঙ্গি অথবা পায়জামা) ব্যতীত আর কিছু নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমার এই তাহবন্দ উহাকে প্রদান করিলে তোমার নিকট কোন পরিচ্ছদ থাকিবে না। তাই তুমি অন্য কিছু তালাশ কর। সে ব্যক্তি বলিল, আমি কিছু পাইব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি একটি লোহার আংটিও পাও কিনা দেখ। সে তালাশ করিল। কিন্তু কিছুই পাইল না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেন, কুরআনের কিছু অংশ তোমার জানা আছে কি? সে সূরার নাম উল্লেখ করিয়া বলিল, অমুক অমুক সূরা আমার কণ্ঠস্থ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কুরআন শরীফের যে কয়টি সূরা তোমার কণ্ঠস্থ আছে সেইগুলির বিনিময়ে (সম্মানে) এই মহিলাকে আমি তোমার নিকট বিবাহ দিলাম।
Book 28 · Hadith 8 · #1044 · Sahih - 9
রেওয়ায়ত ৯. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত—উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন মহিলাকে বিবাহ করিল যেই মহিলার পাগলামি, কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ রহিয়াছে, উক্ত ব্যক্তি সেই মহিলার সাথে সহবাস করিলে সে মহিলা পূর্ণ মোহরানার হকদার হইবে এবং উক্ত মহিলার অভিভাবকের উপর সেই মোহরানার অর্থদণ্ড বর্তাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক, যে তাহাকে বিবাহ দিয়াছে তাহার পিতা বা ভাই অথবা এমন কোন আত্মীয় হয়, যে মহিলার রোগের খবর জানে, তবে তাহার স্বামীকে মোহরানার অর্থ ফেরত দিতে হইবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক তাহার চাচাত ভাই অথবা তাহার আযাদকৃত গোলাম অথবা তাহার গোত্রের অন্য কোন লোক হয়, যাহার সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সে তাহার রোগের খবর জানে না। তবে তাহার উপর অর্থদণ্ড বর্তাইবে না। উক্ত মহিলা মোহরানার নিম্নতম পরিমাণ অর্থ রাখিয়া মোহরানার অবশিষ্ট অংশ স্বামীকে ফেরত দিবে।
Book 28 · Hadith 9 · #1045 · Mauquf Sahih - 10
রেওয়ায়ত ১০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উবায়দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর কন্যা আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর পুত্রের স্ত্রী ছিলেন এবং তাহার মাতা ছিলেন যায়দ ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর কন্যা। তাহার সহিত তলব সহবাসের পূর্বে তাহার স্বামীর মৃত্যু হইল। অথচ তাহার মহর ধার্যকৃত ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাহার মাতা মোহরানা দাবি করিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন, তিনি মহর পাইবেন না। যদি তাহার পাওনা থাকিত, তবে আমরা অবশ্যই দিতাম এবং তাহার হক আদায় করিতে কোন প্রকার ক্রটি করিতাম না। কন্যার মাতা এই কথা মানিলেন না। যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) তাহাদের উভয়ের মীমাংসাকারী নিযুক্ত হইলেন। তিনি রায় দিলেন যে, কন্যা মোহরানা পাইবেন না। তিনি স্বামীর সম্পদে উত্তরাধিকারিণী হইবেন।
Book 28 · Hadith 10 · #1046 · Mauquf Sahih - 11
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাহার খিলাফতকালে জনৈক কর্মকর্তার নিকট এই মর্মে পত্র লিখিলেন যে, বিবাহ প্রদানকারী তিনি পিতা হউক বা অন্য কেহ স্বামীর নিকট হইতে কোন প্রকার উপঢৌকন বা সম্মানীর শর্ত করিয়া থাকিলে স্ত্রী দাবি করিলে সে উহা পাইবে। মালিক (রহঃ) সেই মহিলা সম্পর্কে বলেন, যে মহিলাকে তাহার পিতা বিবাহ দিয়াছে এবং কন্যার মোহরানাতে কন্যার পিতা নিজের জন্য কিছু উপঢৌকনের শর্ত করিয়াছে। তবে যেই সব শর্তে বিবাহ সংঘটিত হইয়াছে, সেই সব প্রাপ্য হইবে কন্যার, যদি সে দাবি করে। আর যদি তাহার স্বামী সহবাসের পূর্বে তাহাকে তালাক দেয় তবে শর্তকৃত উপঢৌকন হইতে স্বামী অর্ধেক পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রকে বিবাহ দেয়, যে পুত্র কোন সম্পদের মালিক নয়। বিবাহ অনুষ্ঠানে যদি সে পুত্র সম্পদের মালিক না থাকে তবে মহর ওয়াজিব হইবে তাহার পিতার উপর। আর যদি পুত্র সম্পদের মালিক থাকে তবে পিতা স্বয়ং মহর-এর দায়িত্ব গ্রহণ না করিয়া থাকে তবে পুত্রের সম্পদ হইতে মহর আদায় করিতে হইবে। কেননা পুত্র পিতার কর্তৃত্বাধীন থাকিলে এবং পুত্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক হইলে এই বিবাহ পুত্রের জন্য অপরিহার্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে তাহার কুমারী স্ত্রীকে তালাক দিল। কন্যার পিতা তাহার কন্যার অর্ধেক মহর মাফ করিয়া দিল। কন্যার পিতা যে পরিমাণ মহর মাফ করিয়া দিল সে পরিমাণ মহর না দেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উপরিউক্ত মাস'আলার দলীল এই যে, আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করিয়াছেন (إِلاَّ أَنْ يَعْفُونَ) “যদি না স্ত্রী মাফ করিয়া দেয়।” ইহাতে ঐ সকল স্ত্রীলোকের কথা বলা হইয়াছে যাহাঁদের সহিত তাহাদের স্বামীগণ সহবাস করিয়াছে। (أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ) অথবা যাহার হাতে বিবাহ বন্ধন রহিয়াছে সে মাফ করিয়া দেয়।[1] আয়াতে উল্লিখিত “যাহার হাতে বিবাহ বন্ধন রহিয়াছে” দ্বারা উদ্দেশ্য হইতেছে, কুমারী কন্যার পিতা এবং ক্রীতদাসীর মালিক যাহাদের হাতে বিবাহ বন্ধনের অধিকার রহিয়াছে।” মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমি এইরূপ শুনিয়াছি এবং আমাদের মদীনাবাসীর আমলও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা ইহুদী অথবা খ্রিস্টান স্বামীর বিবাহ বন্ধনে থাকিলে এবং ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা স্বামীর সহিত সহবাসের পূর্বে মুসলিম হইলে তবে মহর তাহদের প্রাপ্য হইবে না । মালিক (রহঃ) বলেনঃ দীনার-এর এক-চতুর্থাংশের কম পরিমাণ মহর-এর বিনিময়ে মহিলাকে বিবাহ দেওয়া আমি বৈধ মনে করি না। এই পরিমাণই হইতেছে সর্বনিম্ন পরিমাণ, যাহাতে চোরের হাত কাটা হয়।
Book 28 · Hadith 11 · #1047 · Maqtu Daif - 12
রেওয়ায়ত ১২. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ফায়সালা দিয়াছেন যে, কোন মহিলাকে কোন পুরুষ বিবাহ করিলে এবং বিবাহের পর (স্বামী-স্ত্রী গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর) পর্দা টাঙ্গান হইলে তবে স্বামীর উপর মহর ওয়াজিব হইবে।
Book 28 · Hadith 12 · #1048 · Mauquf Sahih - 13
রেওয়ায়ত ১৩. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিতেনঃ কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করার পর পর্দা টাঙ্গানো হইলে তাহার মহরানা ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন— কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত স্ত্রীর গৃহে মিলিত হইলে সঙ্গম সম্পর্কে স্বামীর কথাই সত্য বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি স্ত্রী স্বামীর গৃহে আগমন করে এবং মিলিত হয় সেই ক্ষেত্রে স্ত্রীর কথাই গ্রাহ্য করা হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, উহা হইতেছে স্পর্শ করার ব্যাপার স্বামী স্ত্রীর গৃহে তাহার সহিত মিলিত হইলে তবে স্ত্রী যদি বলে, “সে আমাকে স্পর্শ (সহবাস) করিয়াছে” আর স্বামী বলে, “আমি তাহাকে স্পর্শ করি নাই।” এমতাবস্থায় স্বামীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য হইবে। পক্ষান্তরে যদি স্ত্রী স্বামীর গৃহে মিলিত হয়, অতঃপর (সহবাসের ব্যাপারে) স্বামী দাবি করে, “আমি তাহাকে স্পর্শ করি নাই।” স্ত্রী দাবি করে, “আমাকে সে স্পর্শ করিয়াছে।” এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য হইবে।
Book 28 · Hadith 14 · #1049 · Maqtu Daif - 14
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম মাখযুমী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উম্মুল মু'মিনীন) উম্মে সালামাহ্ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন এবং উম্মে সালামাই [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রাত্রি যাপন করিয়া] ফজর করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ “তোমার স্বামীর নিকট তোমার মর্যাদা কম নহে। তুমি ইচ্ছা করিলে আমি তোমার নিকট এক সপ্তাহ অবস্থান করিব এবং অন্যান্য স্ত্রীর নিকটও এক এক সপ্তাহ করিয়া অবস্থান করিব। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর আমি তোমার নিকট তিনদিন অবস্থান করিব আর অন্যান্য স্ত্রীর নিকট পর্যায়ক্রমে অবস্থান করিব। উম্মে সালামাহ্ (রাঃ) বলিলেনঃ আমার নিকট তিনদিন অবস্থান করুন।
Book 28 · Hadith 15 · #1050 · Sahih - 15
রেওয়ায়ত ১৫. হুমাইদ তাবীল (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলিতেনঃ (অবস্থানের হক) কুমারীর জন্য সাত দিন, আর অকুমারীর জন্য তিন দিন। মালিক (রহঃ) বলেন, মদীনাবাসীদের আমলও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেন, নতুন স্ত্রী ব্যতীত যদি কোন ব্যক্তির স্ত্রী থাকে, তবে যে স্ত্রীকে (সদ্য) বিবাহ করিয়াছে সেই স্ত্রীর (নির্দিষ্ট বিশেষ) দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সেই উভয়ের মধ্যে সমান সমান পালা ভাগ করবে। আর (সদ্য) বিবাহিতা স্ত্রীর নিকট যে কয়দিন অবস্থান করিয়াছে পালা বন্টনের মধ্যে সেই দিনগুলি হিসাব করা হইবে না।
Book 28 · Hadith 16 · #1051 · Mauquf Sahih - 16
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, কোন স্ত্রীলোক স্বামীর উপর এই শর্ত আরোপ করিয়াছে যে, স্বামী তাহাকে নিজ শহর হইতে বাহির করিবে না। উত্তরে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব বললেনঃ স্বামী ইচ্ছা করিলে উহাকে তাহার শহরের বাহিরে নিতে পারিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত এই, যদি বিবাহ বন্ধন স্থির করার সময় পুরুষ মহিলার জন্য এই শর্ত মানিয়া লয়, “আমি তোমার উপর অন্য বিবাহ করিব না-এবং কোন ক্রীতদাসীও রাখিব না”-এইরূপ শর্ত অর্থহীন। কিন্তু এইরূপ করিলে স্ত্রীর তালাক এবং ক্রীতদাসীর আযাদ হওয়ার কথা যুক্ত করা হয়, তবে সেই শর্ত স্বামীর উপর ওয়াজিব হইবে এবং (শর্ত লঙ্ঘন করিলে) তালাক ও আযাদী প্রযোজ্য হইবে।
Book 28 · Hadith 17 · #1052 · Maqtu Daif - 17
রেওয়ায়ত ১৭. যুবাইর ইবন আবদুর রহমান ইবন যবীর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রিফা'আ ইবন সিমওয়াল (রহঃ) তাহার স্ত্রী তামীম বিনতে ওয়াহবকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সময়ে তিন তালাক দিলেন। অতঃপর তামীম আবদুর রহমান ইবন যীরকে বিবাহ করিলেন। কিন্তু তাহার সহিত মিলিত হইতে বিপত্তি ঘটিল যদ্দরুন আবদুর রহমান তাহাকে স্পর্শ করিতে পারিল না। তাই তিনি তামীমাকে ত্যাগ করিলেন। অতঃপর রিফা'আ তাহাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিলেন। এই রিফা'আ তাহার প্রথম স্বামী যিনি তাহাকে তালাক দিয়াছিলেন। রিফা'আ এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট উত্থাপন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামীমাকে বিবাহ করিতে তাহাকে নিষেধ করিলেন এবং বলিলেন لاَ تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ “(অন্য স্বামী) সহবাস না করা পর্যন্ত তামীমা তোমার জন্য হালাল হইবে না।”
Book 28 · Hadith 18 · #1053 · Sahih Lighairihi - 18
রেওয়ায়ত ১৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তাহার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়াছে। তারপর তাহাকে অন্য এক ব্যক্তি বিবাহ করিয়াছে। কিন্তু সে তাহাকে স্পর্শ (সহবাস) করার পূর্বেই তালাক দিয়াছে। এই অবস্থাতে প্রথম স্বামীর জন্য তাহাকে পুনরায় বিবাহ বৈধ হবে কি? আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ না, তাহাকে স্পর্শ (সহবাস) না করা পর্যন্ত বৈধ হবে না।
Book 28 · Hadith 19 · #1054 · Mauquf Sahih - 19
রেওয়ায়ত ১৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাশেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল, ইহার পর অন্য এক ব্যক্তি তাহাকে বিবাহ করিল। স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বেই সে ব্যক্তির মৃত্যু হইল। এইরূপ অবস্থাতে তাহার প্রথম স্বামীর পক্ষে তাহাকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হইবে কি? কাশেম ইবন মুহাম্মদ বলিলেনঃ প্রথম স্বামীর পক্ষে সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ পূর্ব স্বামী যে স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে সেই স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি বিবাহ করিবে তাহার সেই বিবাহ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইবে। এবং (হালাল করার নিয়ত ছাড়া) নূতনভাবে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিবে। কিন্তু (উপরিউক্ত অবৈধ বিবাহে) যদি সে স্ত্রীর সহিত সহবাস করিয়া থাকে তবে স্ত্রী মহর পাইবে।
Book 28 · Hadith 20 · #1055 · Maqtu Daif - 20
রেওয়ায়ত ২০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কোন নারীকে তাহার ফুফুর সহিত এবং কোন নারীকে তাহার খালার সহিত বিবাহে একত্র করা যাইবে না অর্থাৎ একই পুরুষ এইরূপ দুই নারীকে এক সঙ্গে দুই স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিবে না।
Book 28 · Hadith 21 · #1056 · Sahih - 21
রেওয়ায়ত ২১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন, কোন নারীকে তাহার ফুফু কিংবা খালার সঙ্গে একই পুরুষের স্ত্রী হইতে নিষেধ করিতে হইবে। আরো নিষেধ করা হইবে, কোন ব্যক্তিকে এমন দাসীর সহিত সহবাস করা হইতে, যে দাসীর গর্ভে অন্য পক্ষের সন্তান রহিয়াছে।
Book 28 · Hadith 22 · #1057 · Maqtu Sahih - 22
রেওয়ায়ত ২২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি একজন মহিলাকে বিবাহ করিয়াছে। অতঃপর তাহার সহিত সহবাস করার পূর্বে উহাকে তালাক দিয়াছে। উক্ত ব্যক্তির জন্য সেই মহিলার মাতাকে বিবাহ করা বৈধ হইবে কি? উত্তরে যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিলেনঃ না, বৈধ হইবে না। কারণ জননীর ব্যাপারে (কুরআনুল করীমে) কোন শর্ত আরোপ করা হয় নাই। বরং শর্ত রহিয়াছে স্ত্রীর সৎ কন্যাদের ব্যাপারে।
Book 28 · Hadith 23 · #1058 · Mauquf Daif - 23
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন নারীর সহিত ব্যভিচার করিয়াছে সেই কারণে সেই ব্যক্তির উপর (শরীয়তের বিধান মতে) শাস্তিও প্রয়োগ করা হইয়াছে। সেই ব্যক্তি সেই মহিলার কন্যাকে বিবাহ করিতে পারবে এবং সে ব্যক্তি যাহার সহিত ব্যভিচার করিয়াছে ইচ্ছা করিলে সে মহিলার সহিত তাহার পুত্রের বিবাহ দিতে পারিবে। ইহা এইজন্য যে, উক্ত ব্যক্তি এই মহিলার সহিত হারাম পন্থায় সহবাস করিয়াছে। আর আল্লাহ তা'আলা যে মহিলার কন্যার বিবাহকে হারাম করিয়াছেন তাহা হইল সেই মহিলা যাহার সহিত হালাল পন্থায় অথবা সন্দেহযুক্ত বিবাহ বন্ধনে মিলিত হইয়াছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ (وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ) যে সকল স্ত্রীলোককে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ বিবাহ করিয়াছে তোমরা সে সকল স্ত্রীলোকদের বিবাহ করিও না। (সূরা নিসাঃ ২২) মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে তাহার ইদ্দতের সময়ে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিল এবং তাহার সহিত সহবাসও করিল, তবে তাহার ছেলের জন্য সে মহিলাকে বিবাহ করা হারাম হইবে। ইহা এইজন্য যে, তাহার পিতা সেই মহিলাকে হালাল পন্থায় বিবাহ করিয়াছে যাহাতে তাহার উপর কোন প্রকার শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না। এই বিবাহে যে সন্তান জন্ম লাভ করবে সে সন্তানও তাহার পিতার বলিয়া গণ্য হইবে। যদ্রুপ পুত্রের জন্য উক্ত মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, যে মহিলার সহিত তাহার পিতা উহার ইদ্দতের সময় বিবাহ করিয়াছে ও তাহার সহিত সহবাস করিয়াছে, তদ্রুপ পিতার জন্যও উক্ত স্ত্রীলোকের কন্যাকে বিবাহ করা হারাম যে কন্যার মাতার সহিত সে সহবাস করিয়াছে।
Book 28 · Hadith 24 · #1059 · Mauquf Daif - 24
রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকাহ শিগারকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন। শিগার হইতেছে, কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে এই শর্তে অন্যের নিকট বিবাহ দিতেছে যে, কন্যার জামাতা ব্যক্তিটি তাহার আপন কন্যাকে ঐ ব্যক্তির নিকট (যাহার কন্যাকে সে নিজে বিবাহ করিয়াছে তাহার নিকট অর্থাৎ শশুরের নিকট) বিবাহ দিবে। আর এতদুভয়ের মধ্যে কোন মহরও ধার্য করা হয় নাই।
Book 28 · Hadith 25 · #1060 · Sahih - 25
রেওয়ায়ত ২৫. ইয়াযিদ ইবন জারিয়াহ আনসারী (রাঃ)-এর উভয় পুত্র আবদুর রহমান ও মুজাম্মি’ (রহঃ) হানসা বিনতে খিজাম (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন অকুমারী (সাইয়্যিবা) ছিলেন তখন তাহার পিতা তাহাকে বিবাহ দিলেন। তিনি এ বিবাহকে পছন্দ করিলেন না। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সমীপে আসিলেন (এবং তাহার অসন্তুষ্টির কথা জানাইলেন)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার এই বিবাহকে রদ করিয়া দিলেন।
Book 28 · Hadith 26 · #1061 · Sahih - 26
রেওয়ায়ত ২৬. আবূ যুবাইর মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এমন একটি বিবাহের ঘটনা উপস্থিত করা হইল, যে বিবাহে একজন পুরুষ ও একজন নারী ব্যতীত অন্য কোন সাক্ষী ছিল না। তিনি বলিলেনঃ ইহা গোপন বিবাহ। আমি ইহাকে জায়েয বলি না। যদি আমার এ সিদ্ধান্ত আমি পূর্বে প্রকাশ করিতাম তবে আমি তোমাকে শাস্তি (রজম) দিতাম।
Book 28 · Hadith 27 · #1062 · Mauquf Daif - 27
রেওয়ায়ত ২৭. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তুলায়হা আসদিয়া রুশাইদ ছকফী (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাহাকে তালাক দিলেন। তারপর তুলায়হা ইদ্দতের ভিতরে বিবাহ করিলেন। এই কারণে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহাকে এবং তাহার স্বামীকে কয়েকটি চাবুক মারিলেন এবং উভয়কে পৃথক করিয়া দিলেন। তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, যে স্ত্রীলোক ইদ্দতের ভিতর বিবাহ করিয়াছে, বিবাহকারী তাহার সেই স্বামী যদি তাহার সহিত সহবাস না করিয়া থাকে তবে উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। তারপর স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর পক্ষের অসম্পূর্ণ ইদ্দত পূর্ণ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী স্বাভাবিক নিয়মে বিবাহের প্রস্তাবকারীগণের মধ্যে একজন প্রস্তাবকারী হিসাবে গণ্য হইবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে তবে উভয়কে পৃথক করা হইবে। তারপর প্রথম স্বামীর (পক্ষের) অবশিষ্ট ইদ্দত পূর্ণ করিবে। আর তাহারা (দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রী) উভয়ে আর কখনো মিলিত হইতে পারিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সেই স্ত্রীলোক মহর-এর হকদার হইবে। কারণ তাহার সঙ্গে (বিবাহের মাধ্যমে) সহবাস করা হইয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সিদ্ধান্ত হইল, স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, এমন স্বাধীন নারী চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। আর তাহার হয়েযের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় গর্ভধারণের আশংকা দেখা দিলে সে নারী সন্দেহমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করিবে না।
Book 28 · Hadith 28 · #1063 · Mauquf Sahih - 28
রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তির নিকট আযাদ স্ত্রী ছিল, এমতাবস্থায় সে দাসীকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিল। উত্তরে তাহারা উভয়ে বলিলেন, আযাদ স্ত্রী[1] ও দাসীকে স্ত্রী হিসাবে একত্র করাকে আমরা পছন্দ করি না।
Book 28 · Hadith 29 · #1064 · Mauquf Daif - 29
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী ও খ্ৰীষ্টান ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা হালাল নহে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা কিতাবে ইরশাদ করিয়োছেনঃ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ এবং মু'মিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের পূর্বে যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তাহদের সচ্চরিত্রা নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হইল (সূরা মায়িদাঃ ৫)। উহারা হইতেছেন ইহুদী ও খ্রিস্টান আযাদ মহিলাগণ ।” আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেনঃ وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ “তোমাদের মধ্যে কাহারও স্বাধীন ঈমানদার নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকিলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার নারী বিবাহ করিবে।” (সূরা নিসাঃ ২৫) ইহারা হইলেন মুমিনা ক্রীতদাসিগণ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে মু'মিন ক্রীতদাসিগণকেই আল্লাহ তা'আলা হালাল করিয়াছেন। যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে (ইহুদী ও খ্রিস্টান) তাহাদের ক্রীতদাসিগণকে (আল্লাহ তা'আলা) হালাল করেন নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী ও খ্রিস্টান ক্রীতদাসগণের খরিদসূত্রে মালিক হইলে তবে মালিকদের জন্য উহারা হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রয়সূত্রে মালিক হইলেও অগ্নিপূজারী দাসীর সহিত সহবাস করা হালাল নহে।
Book 28 · Hadith 30 · #1065 · Maqtu Sahih - 30
রেওয়ায়ত ৩০. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি দাসী স্ত্রীকে (তাহার স্ত্রী থাকা অবস্থায়) তিন তালাক প্রদান করে, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়া লয়; সেই দাসী সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না, যাবত সে দাসী (ইদ্দতের পর) অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে (অর্থাৎ প্রথমাবস্থায় অন্যের দাসী ও তাহার স্ত্রী ছিল, পরে সে তালাক দিয়া উহাকে ক্রয় করিয়া লইয়াছে)।
Book 28 · Hadith 31 · #1066 · Mauquf Sahih - 31
রেওয়ায়ত ৩১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি তাহার এক ক্রীতদাসের নিকট তাহার দাসীকে বিবাহ দিয়াছে। অতঃপর ক্রীতদাস (স্বামী) উহাকে তিন তালাক দিয়াছে। তারপর সেই দাসীকে তাহার কর্তা হিবা (দান) করিলেন তালাকদাতা ক্রীতদাসের নিকট। তবে দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার কারণে এই দাসী সেই ক্রীতদাসের জন্য হালাল হইবে কি? তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ না, যাবৎ স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে।
Book 28 · Hadith 32 · #1067 · Maqtu Daif - 32
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব যুহরী (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার অধীনে (বিবাহ সূত্রে) অন্যের ক্রীতদাসী ছিল, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়াছে (ক্রয় করার পূর্বে) সে উহাকে এক তালাক দিয়াছিল। (এখন তাহার জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হইবে কি?) ইবন শিহাব (রহঃ) বলিলেনঃ (মিলকে য়ামীন) ক্রয়ের মাধ্যমে দাস-দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার দ্বারা সেই দাসী উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি দিয়া থাকে তবে তাহার জন্য উক্ত দাসী মিলকে য়ামীনের দ্বারা হালাল হইবে না, যাবৎ সে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (অন্যের) ক্রীতদাসীকে বিবাহ করে এবং তাহার সন্তান জন্মে। অতঃপর সেই দাসীকে সে ক্রয় করে। সন্তান হওয়ার দারুন এই ক্রীতদাসী তাহার উম্মে ওয়ালাদ[1] হইবে না। কারণ সে অন্যের ক্রীতদাসী। তবে উহাকে ক্রয় করার পর তাহার (এই) মালিকের স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সেই ক্রীতদাসী সন্তান জন্ম দিলে উম্মে ওয়ালাদ হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত ক্রীতদাসকে ক্রয় করে এবং সেই দাসী তাহার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়। অতঃপর তাহারই স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সে সন্তান জন্ম দেয় তবে আমাদের মতে গর্ভ ধারণের কারণে এই দাসী উম্মে ওয়ালাদ বলিয়া গণ্য হইবে। আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
Book 28 · Hadith 33 · #1068 · Maqtu Sahih - 33
রেওয়ায়ত ৩৩. উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন স্ত্রীলোক ও তাহার কন্যা সম্পর্কে, যাহাদের উভয়কে ক্রয়সূত্রে মালিক হইয়া পর্যায়ক্রমে সহবাস করা হইয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, উভয়কে একত্র করিয়া সহবাস করাকে আমি পছন্দ করি না। তিনি এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
Book 28 · Hadith 34 · #1069 · Mauquf Sahih - 34
রেওয়ায়ত ৩৪. কাবীসা ইবন যুয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে এমন দুই বোন সম্পর্কে প্রশ্ন করিল, যে দুই বোনের ক্রয়সূত্রে (কেহ) মালিক হইয়াছে। এমতাবস্থায় উভয়ের সঙ্গ সংগত হওয়া যাইবে কি? উসমান (রাঃ) বলিলেনঃ উভয়ের সংগত হওয়া (কুরআনুল করীমের) এক আয়াত অনুযায়ী হালাল করা হইয়াছে। আবার অন্য আয়াত অনুযায়ী ইহাকে হারাম করা হইয়াছে। তাই আমি ইহাকে (দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়া) পছন্দ করি না। প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অন্য একজন সাহাবীর সঙ্গে সাক্ষাত হইল। তখন সে এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিল। তিনি বলিলেনঃ লোকের উপর যদি আমার অধিকার থাকিত তবে কাহাকেও এইরূপ করিতে পাইলে আমি তাহাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতাম! ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি এই সাহাবী আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যুবাইর ইবন আওয়াম (রাঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত তাহার নিকট পৌছিয়াছে।
Book 28 · Hadith 35 · #1070 · Mauquf Sahih - 35
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তির নিকট এক ক্রীতদাসী আছে। সে উহার সহিত সংগত হইয়া থাকে। অতঃপর সেই দাসীর বোনের সহিত সংগত হইতে ইচ্ছা করিল। ইহা সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না যাবৎ ইহার বোন তাহার জন্য হারাম না হয়; (পূর্ববর্তী বোনকে) অন্যের নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে অথবা আযাদ করিয়া দিয়া অথবা এই ধরনের অন্য কোন উপায় কিংবা এই দাসীকে তাহার ক্রীতদাস অথবা অন্য কাহারও নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে।
Book 28 · Hadith 36 · #1071 · Sahih - 36
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। এবং বলিয়া দিলেন, তুমি ইহাকে স্পর্শ (সহবাস) করিও না। কারণ আমি উহার পর্দা উন্মোচন করিয়াছি (অর্থাৎ সহবাস করিয়াছি)। আবদুর রহমান ইবন মুজাববার[1] (রহঃ) বলেনঃ মালিক ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাহার এক পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন এবং তিনি পুত্রকে বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না, কারণ আমি উহার সাথে সংগত হওয়ার ইচ্ছা করিয়াছি। সুতরাং আমি তোমাকে উহার সহিত মিলিত হওয়ার অনুমতি দিতে পারি না।
Book 28 · Hadith 38 · #1072 · Maqtu Sahih - 37
রেওয়ায়ত ৩৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু নাহশল ইবন আসওয়াদ, কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ)-কে বলিলেন, আমার এক দাসীকে জ্যোৎস্না রাত্রিতে পরিচ্ছদ খোলা অবস্থায় দেখিয়াছি। সংগত হওয়ার উদ্দেশ্যে কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীর নিকট যেভাবে বসে আমিও উহার নিকট সেইরূপ বসিলাম। সে দাসী বলিল, আমি ঋতুমতী। ইহা শুনিয়া আমি তাহার সহিত সংগত হইলাম না। এখন আমি উহাকে সহবাসের জন্য আমার পুত্রকে দান করিতে পারি কিন্তু কাসেম তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
Book 28 · Hadith 39 · #1073 · Maqtu Sahih - 38
রেওয়ায়ত ৩৮. ইবরাহীম ইবন আবি 'আবলা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তাহার এক সঙ্গীকে একটি দাসী দান করিলেন। তারপর তাহার নিকট উহার অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলেন। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ[1] আমি উহা আমার পুত্রকে দান করিতে ইচ্ছা করিয়াছি। সে উহার সহিত এমন (অর্থাৎ সহবাস) করিবে। আবদুল মালিক বলিলেনঃ মারওয়ান তোমার তুলনায় অধিক সাবধানী ছিলেন। তিনি তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। অতঃপর বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না। কারণ, আমি উহার হাঁটু অনাবৃত অবস্থায় দেখিয়াছি।
Book 28 · Hadith 40 · #1074 · Maqtu Sahih - 39
রেওয়ায়ত ৩৯. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত (وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ) সাধ্বী রমণীগণ “ইহারা হইলেন ঐ সকল নারী যাহাদের স্বামী আছে।” ইহা দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যভিচারকে হারাম করিয়াছেন।
Book 28 · Hadith 41 · #1075 · Maqtu Sahih - 40
রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) ও কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করিলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করিলে ইহার দ্বারা সে মুহসান (محصن) বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পাইয়াছি তাহারা বলিতেন, ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান (محصن) করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসানা বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীন নারী ক্রীতদাসকে অদ্রুপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তাহার স্বামী যদি তাহাকে আযাদ করিয়া দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তাহার সহিত সহবাস করে তবে সে মুহসান (محصن) হইবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করিয়া দেয় তবে সে মুহসানা হইবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রহিয়াছে তাহার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাহাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করিবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাহাকে বিবাহ করিয়া তাহার সহিত সংগত হইলে সে মুহসানা (সধবা) হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তাহার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পূর্বে সে দাসত্ব হইতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার (সধবা) অন্তর্ভুক্ত হইবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং ইহার পর তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীন নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা, (সধবা) হইে।
Book 28 · Hadith 42 · #1076 · Maqtu Sahih - 41
রেওয়ায়ত ৪১. ‘আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বর দিবসে মুত'আ বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশত আহার করিতেও নিষেধ করিয়াছেন।
Book 28 · Hadith 43 · #1077 · Mauquf Sahih - 42
রেওয়ায়ত ৪২. খাওলা বিনত হাকিম (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেনঃ রবি'আ ইবন উমাইয়া (রাঃ) এক মুওয়াল্লাদা[1] নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিয়া ঘাবড়াইয়া গেলেন এবং আপন চাদর টানিতে টানিতে বাহির হইলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করিতাম তবে এই (মুত’আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করিতাম।
Book 28 · Hadith 44 · #1078 · Sahih - 43
রেওয়ায়ত ৪৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করিতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রহিয়াছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তাহার বিবাহ বৈধ হইবে। আর যদি মালিক তাহার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাহাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তাহার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করিয়া থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তাহার মালিক হয় অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তাহার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তাহার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাহাদের বিবাহ ভঙ্গ হইয়া যাইবে। আর যদি তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাহাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করিয়া দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তাহার মালিক হইয়াছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রহিয়াছে, তবে তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে পারবে না (অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করিতে হইবে)।
Book 28 · Hadith 45 · #1079 · Maqtu Sahih - 44
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে স্ত্রীলোকেরা তাহদের নিজের শহরে থাকিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিতেন। তাহারা মদীনার দিকে হিজরত করিতে পারিতেন না। তাহারা মুসলিম হইতেন অথচ তাহাদের স্বামীগণ কাফের রহিয়াছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবন মুগীরার কন্যা। তিনি সফওয়ান ইবন উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলিম হইলেন। আর তাহার স্বামী সফওয়ান ইবন উমাইয়া ইসলাম কবুল না করিয়া পলায়ন করিল। সফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবন উমায়রকে প্রেরণ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান করিলেন এবং তাহার নিকট আসিতে বলিলেন, যদি সে খুশীতে মুসলিম হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হইবে, নতুবা তাহাকে দুই মাস সময় দেওয়া হইবে। সফওয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের চাদর লইয়া আগমন করিল এবং লোকসম্মুখে চিৎকার করিয়া বলিল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবন উমায়র, সে আপনার চাদর লইয়া আমার নিকট গিয়াছিল এবং সে বলিয়াছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসিতে আহবান জানাইয়াছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলিম হই, উহা গ্রহণ করা হইবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আবূ ওহাব (ইহা সফওয়ানের কুনিয়ত), তুমি (উটের পিঠ হইতে) অবতরণ কর। সফওয়ান বলিল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করিবেন (ইহা সত্য কিনা)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ বরং তোমাকে চার মাস সময় দেওয়া হইবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে (অভিযানে) বাহির হইলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করিলেন তাহার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি (আরিয়ত) ধার স্বরূপ দেওয়ার জন্য। সফওয়ান বলিল, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেনঃ (বাধ্যতামূলক নহে) বরং খুশীতে। সে তাহার নিকট যাহা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিল। অতঃপর (মক্কা হইতে) হুনায়ন-এর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বাহির হইল। সে তখনও কাফের। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হইল, সে তখনও কাফের আর তার স্ত্রী মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ান ও তাহার স্ত্রীকে পৃথক করেন নাই। পরে সফওয়ান মুসলিম হইলেন। তাহার স্ত্রীকে তাহার নিকট রাখা হইল সেই (আগের) বিবাহে।
Book 28 · Hadith 46 · #1080 · Daif - 45
রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ সফওয়ানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তাহার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্তত এক মাসের। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাহার রাসূলের দিকে হিজরত করিলে এবং তাহার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফরে থাকিলে তবে তাহার হিজরত তাহার ও তাহার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করিবে। তবে যদি তাঁহার স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে (এমতাবস্থায় স্ত্রী তাহারই থাকিবে)।
Book 28 · Hadith 47 · #1081 · Daif - 46
রেওয়ায়ত ৪৬. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হারিস ইবন হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবন আবু জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। তাহার স্বামী ইকরামা ইবন আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ না করিয়া পলায়ন করিয়া ইয়ামনের দিকে চলিয়া যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়া তাহার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান জানান। ইকরামা ইসলাম কবুল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে দেখিয়া আনন্দে এত দ্রুত উঠিলেন যে, তাহার পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রহিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকরামার বায়’আত গ্রহণ করিলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করিলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহবান করিলে সে যদি মুসলিম না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হইয়া যাইবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিতেছেনঃ (وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ) তোমরা অবিশ্বাসী নারদিগের সহিত দম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না।” (সূরা মুমতাহিনাঃ)
Book 28 · Hadith 48 · #1082 · Daif - 47
রেওয়ায়ত ৪৭. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমীপে আবদুর রহমান ইবন আউফ ইবন আউফ (রাঃ) উপস্থিত হইলেন। তাহার (দেহে ও বস্ত্রে) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি দ্রব্যের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ তাহাকে জানাইলেন তিনি জনৈক আনসার মেয়েলোককে বিবাহ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি উহাকে কত মহর প্রদান করিয়াছ ? তিনি বলিলেনঃ এক নাওয়া (نَوَاةٍ) খেজুরের বীচি পরিমাণ স্বর্ণ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ওয়ালীমা[1] কর একটি বকরী দিয়া হইলেও।
Book 28 · Hadith 49 · #1083 · Sahih - 48
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এমনও) ওয়ালীমা করিতেন যে, তাহাতে রুটি ও গোশত থাকিত না।
Book 28 · Hadith 50 · #1084 · Sahih - 49
রেওয়ায়ত ৪৯. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কাউকে ওয়ালীমায় দাওয়াত করা হইলে সে যেন উহাতে অংশগ্রহণ করে।
Book 28 · Hadith 51 · #1085 · Sahih - 50
রেওয়ায়ত ৫০. আ'রাজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিতেন, সর্বাপেক্ষা মন্দ আহার হইতেছে সেই ওয়ালীমার আহার, যেই ওয়ালীমাতে ধনী লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং মিসকিনদিগকে দাওয়াত হইতে বাদ দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করে না, সে অবশ্য আল্লাহ এবং তাহার রাসূলের নাফরমানী[1] করিল।
Book 28 · Hadith 52 · #1086 · Mauquf Sahih - 51
রেওয়ায়ত ৫১. ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি তালহা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, জনৈক দরজী এক প্রকারের খাদ্য প্রস্তুত করিয়া উহা আহারের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত করিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ সেই দাওয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আমিও গিয়াছিলাম। তাহার নিকট পেশ করা হইল যবের রুটি ও ঝোল, যাহাতে কদু ছিল। আনাস বলেনঃ আমি পেয়ালার আশপাশ হইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কদু অনুসন্ধান করিতে দেখিলাম। সেই দিন হইতে আমি সর্বদা কদু পছন্দ করি।
Book 28 · Hadith 53 · #1087 · Sahih - 52
রেওয়ায়ত ৫২. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করিলে অথবা দাসী ক্রয় করিলে তবে উহার ললাট (কপালের উপরের চুল) ধরিয়া বরকতের দোয়া করিবে। আর উট ক্রয় করিলে তবে উহার কোহান (উটের পিঠের কুঁজ)-এর উপরিভাগ ধরিয়া অভিশপ্ত শয়তান হইতে আল্লাহর আশ্রয় চাহিবে।
Book 28 · Hadith 54 · #1088 · Sahih Lighairihi - 53
রেওয়ায়ত ৫৩. আবুয-যুবায়র মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি অন্য এক লোকের নিকট ভগ্নীর বিবাহের পয়গাম দিয়াছে। সেই ব্যক্তির নিকট কেহ উল্লেখ করিল যে, উক্ত স্ত্রীলোকে ব্যভিচার করিয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এই সংবাদ পৌছিলে তিনি সেই লোককে মারিলেন অথবা মারিতে উদ্যত হইলেন। অতঃপর বলিলেনঃ তোমার এই খবর বলার কি প্রয়োজন ছিল?
Book 28 · Hadith 55 · #1089 · Sahih Lighairihi - 54
রেওয়ায়ত ৫৪. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসেম ইবন মুহাম্মদ এবং উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তির চারজন স্ত্রী রহিয়াছে এবং সে উহাদের একজনকে তালাক আল-বাত্তা (তিন তালাক) প্রদান করিয়াছে, এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি ইচ্ছা করিলে বিবাহ করিতে পারিবে। (তালাকপ্রাপ্তা) স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করিবে না।
Book 28 · Hadith 56 · #1090 · Maqtu Sahih - 55
রেওয়ায়ত ৫৫. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসেম ইবন মুহাম্মদ এবং উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) তাহারা উভয়ে ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিকের নিকট যে বৎসর তিনি মদীনাতে আগমন করিয়াছিলেন সেই বৎসর অনুরূপ ফতওয়া দিয়াছেন। তবে কাসেম ইবন মুহাম্মদ এই প্রসঙ্গে স্ত্রীকে (একত্রে না দিয়া) বিভিন্ন মজলিসে তিন তালাক দেওয়ার কথা তাহার নিকট উল্লেখ করিয়াছেন।
Book 28 · Hadith 57 · #1091 · Maqtu Sahih - 56
রেওয়ায়ত ৫৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেন, তিন (প্রকার) বস্তুতে বিদ্রুপ নাই- (১) নিকাহ (২) তালাক (৩) মুক্তি প্রদান।
Book 28 · Hadith 58 · #1092 · Maqtu Sahih - 57
রেওয়ায়ত ৫৭. রাফি ইবন খাদীজ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারীর কন্যাকে বিবাহ করেন। সে তাহার স্ত্রীরূপে থাকিতেই বৃদ্ধা হয়। রাফি' সেই বৃদ্ধা স্ত্রীর বর্তমানে আর একজন যুবতীকে বিবাহ করেন এবং পূর্ব স্ত্রী অপেক্ষা যুবতী স্ত্রীর দিকে অধিক ঝুঁকিয়া পড়েন। বয়োপ্রাপ্ত স্ত্রী তাহার নিকট তালাক কামনা করেন আল্লাহর কসম দিয়া। তিনি স্ত্রীকে এক তালাক দিলেন। অতঃপর তাহাকে অবকাশ দিয়া রাখিলেন। যখন ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার সময় সন্নিকট হইল তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিলেন। কিন্তু তিনি পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে আকৃষ্ট হইয়া পড়িলেন। ফলে (প্রথম) স্ত্রী কসম দিয়া তালাক কামনা করেন। আবার তাহাকে এক তালাক দিলেন। ইদ্দত যাওয়ার পূর্বে আবার প্রত্যাবর্তন করিলেন (অর্থাৎ পুনরায় স্ত্রীর মতো গ্রহণ করিলেন)। অতঃপর পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে বেশি ঝুঁকিয়া পড়েন। ফলে প্রথমা স্ত্রী আল্লাহর কসম দিয়া আবার তালাক কামনা করে। তখন তিনি বলিলেনঃ চিন্তা করিয়া দেখ, এখন মাত্র আর এক তালাক অবশিষ্ট আছে। যুবতী স্ত্রীর দিকে মনোযোগ বেশি থাকিবে তাহা তুমি লক্ষ্য করিয়াছ। এই অবস্থার উপর ইচ্ছা করিলে থাকিতে পার। আর ইচ্ছা হইলে বিবাহ বিচ্ছেদও করিতে পার। স্ত্রী উত্তর দিল, আমাকে এইভাবেই থাকিতে দাও; ফলে তাহাকে এইরূপে রাখা হয়। রাফি' উহাতে কোন ক্ষতি মনে করিতেন না। যখন (স্ত্রী) স্বেচ্ছায় এই অবস্থায় থাকিতে রাযী হয়।
Book 28 · Hadith 59 · #1093 · Mauquf Daif