Muwatta Malik

← Muwatta Malik

Prayer in Congregation

৩৮ হাদিস

  1. 1

    রেওয়ায়ত ১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ একা নামায পড়া অপেক্ষা জামাআতে নামায পড়ায় সাতাইশ গুণ ফযীলত বেশি।

    Book 8 · Hadith 1 · #271 · Sahih
  2. 2

    রেওয়ায়ত ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের একজনের একা একা নামায পড়া হইতে জামা'আতে নামায পড়া পঁচিশ গুণ উত্তম।

    Book 8 · Hadith 2 · #272 · Sahih
  3. 3

    রেওয়ায়ত ৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমি মনস্থ করিয়াছি কিছু কাঠ যোগাড় করার নির্দেশ প্রদান করি। তারপর নামাযের জন্য আযান বলার হুকুম করি। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়া হউক। পরে কোন একজনকে (নামায়ে) ইমামতি করার জন্য ঠিক করিয়া দেই। তারপর যেসব লোক নামাযের জন্য বাহির হয় নাই তাহাদের নিকট যাই ও তাহাদের গৃহে আগুন ধরাইয়া দেই। আল্লাহর কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, যদি তাহদের এক ব্যক্তি জানিতে পারিত যে, ভাল মোটা হাড্ডি জুটিবে অথবা দুইটি ভাল ক্ষুর পাইবে তবে সে অবশ্য ইশার নামাযে হাজির হইত।

    Book 8 · Hadith 3 · #273 · Sahih
  4. 4

    রেওয়ায়ত ৪. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিয়াছেনঃ নামাযের মধ্যে তোমাদের গৃহের নামাযই উত্তম, কেবল ফরয নামায ব্যতীত।

    Book 8 · Hadith 4 · #274 · Mauquf Sahih
  5. 5

    রেওয়ায়ত ৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমাদের আর মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হইল ইশা ও ফজরের নামাযে উপস্থিত হওয়া। তাহারা ঐ দুই নামাযে হাজির হইতে পারে না অথবা অনুরূপ কোন বাক্য বলিয়াছেন।

    Book 8 · Hadith 5 · #275 · Sahih Lighairihi
  6. 6

    রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি যখন কোন পথ দিয়া যাইতেছিল, তখন পথিমধ্যে কাটাযুক্ত (বৃক্ষের) শাখা দেখিতে পাইয়া সে উহা অপসারিত করিল। আল্লাহ্ তা'আলা তাহার এই কার্য গ্রহণ করিলেন এবং তাহার গুনাহ্ মাফ করিয়া দিলেন। [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বলিয়াছেন, শহীদ পাঁচ প্রকারঃ (১) প্লেগাক্রান্ত (বা মহামারীতে মৃত), (২) পেটের পীড়ায় মৃত, (৩) যে পানিতে ডুবিয়া মরিয়াছে, (৪) ভূমিকম্পে কিছু চাপা পড়িয়া যাহার মৃত্যু হইয়াছে এবং (৫) আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি শহীদ হইয়াছেন।

    Book 8 · Hadith 6 · #276 · Sahih
  7. 7

    রেওয়ায়ত ৭. আবু বকর ইবন সুলায়মান ইবন আবি হাসমা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একদিন সুলায়মান ইবন আবি হাসমাকে ফজরের নামাযে উপস্থিত পান নাই। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বাজারের দিকে গমন করিলেন। আর সুলায়মানের বাসগৃহ বাজার ও মসজিদের মাঝপথে অবস্থিত। তিনি সুলায়মানের জননী শিফা’-এর নিকট গমন করিলেন। তারপর তাহাকে বলিলেনঃ আমি ফজরের নামাযে সুলায়মানকে দেখিলাম না যে? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ সে রাত্রে জাগ্রত থাকিয়া নামায পড়িয়াছিল, পরে ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। (ইহা শুনিয়া) উমর (রাঃ) বললেনঃ ফজরের নামাযের জামাআতে হাজির হওয়া আমার নিকট সারারাত (নফল) নামায পড়া হইতে পছন্দনীয়। আবদুর রহমান ইবন আবি আমরা আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত— উসমান ইবন আফফান (রাঃ) একবার ইশার নামাযে আসিলেন এবং মসজিদে অল্প মুসল্লি দেখিতে পাইলেন। তারপর তিনি অধিক লোক আসার অপেক্ষায় মসজিদের শেষভাগে শুইলেন। অত:পর তাহার নিকট ইবন আবি আমরা আসিলেন এবং তাহার কাছে বসিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি কে? তিনি পরিচয় দিলেন। আবার তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি কি পরিমাণ কুরআন কণ্ঠস্থ করিয়াছ? তিনি তাহা জানাইলেন। তারপর উসমান (রাঃ) বলিলেন, যে ব্যক্তি ইশার নামাযে উপস্থিত হয়, সে যেন অধরাত্রি নামায পড়িল, আর যে ফজরের নামায পড়িল সে যেন পূর্ণ রাত্রি নামায় পড়িল।

    Book 8 · Hadith 8 · #277 · Mauquf Sahih
  8. 8

    রেওয়ায়ত ৮. বুসূর ইবন মিহজন (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মজলিসে ছিলেন। তখন নামাযের আযান দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিস হইতে উঠিলেন এবং নামায পড়িলেন। (নামাযের পর) পুনরায় মজলিসে প্রত্যাবর্তন করিলেন। মিহজন (কিন্তু) তাহার স্থানে বসা রহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে প্রশ্ন করিলেনঃ লোকের সাথে নামায পড়িতে তোমাকে কোন জিনিস বারণ করিল? তুমি কি মুসলিম নও? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (আমি মুসলিম), তবে আমি আমার ঘরে নামায পড়িয়া আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তুমি নামায (ঘরে) পড়িয়া থাকিলেও যখন (মসজিদে) আস তখন পুনরায় লোকের সাথে নামায পড়িবে।

    Book 8 · Hadith 9 · #278 · Hasan Lighairihi
  9. 9

    রেওয়ায়ত ৯. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করিলঃ আমি ঘরে নামায পড়ি, যদি পরে ইমামের সহিত নামায পাই, তবে কি আমি পুনরায় তাহার সহিত নামায পড়িব? (জবাবে) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ। সেই ব্যক্তি বলিলঃ কোন নামাযকে আমি (ফরয) গণ্য করিব? ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ উহা কি আমার বলার বিষয়? সে হইল আল্লাহর ব্যাপার, তিনি যে নামাযকে (ফরয) গণ্য করিতে পারেন।

    Book 8 · Hadith 10 · #279 · Mauquf Sahih
  10. 10

    রেওয়ায়ত ১০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি ঘরে নামায পড়ি, মসজিদে আসিয়া পরে যদি ইমামকে নামাযে পাই তবে আমি কি তাহার সহিত নামায পড়িব? সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। সেই ব্যক্তি তাহার নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ উভয় নামাযের কোনটিকে আমি (ফরয) নামায গণ্য করি? সাঈদ (রহঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তাহা কি তুমি করিবে? উহা তো আল্লাহর কাজ।

    Book 8 · Hadith 11 · #280 · Maqtu Sahih
  11. 11

    রেওয়ায়ত ১১. বনু আসাদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবূ আইয়ুব আনুসারী (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, আমি আমার ঘরে নামায পড়ি, তারপর মসজিদে আসি, তখন যদি ইমামকে নামাযে পাই তবে কি আমি তাহার সহিত নামায পড়িব? আবু আইয়ূব (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি তাহার সহিত নামায পড়, কেননা যে ব্যক্তি এইরূপ করিবে সে জামাআতের সওয়াব অথবা জামাআতের তুল্য সওয়াব পাইবে।

    Book 8 · Hadith 12 · #281 · Mauquf Daif
  12. 12

    রেওয়ায়ত ১২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিব এবং ফজরের নামায পড়ে, অতঃপর ঐ নামাযদ্বয় ইমামের সাথে পায়, তবে সেই নামায (ইমামের সঙ্গে) পুনরায় তাহাকে পড়িতে হইবে না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি নামায ঘরে পড়িয়াছে, তাহার ইমামের সহিত (পুনরায়) নামায পড়াতে কোন ক্ষতি নাই। তবে মাগরিবের নামায ইহার ব্যতিক্রম, কারণ মাগরিবের নামায পুনরায় পড়িলে জোড় নামায হইয়া যাইবে।

    Book 8 · Hadith 13 · #282 · Sahih
  13. 13

    রেওয়ায়ত ১৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেহ (ইমাম নিযুক্ত হইয়া) লোকদের নামায পড়াইলে, সে যেন নামায সংক্ষিপ্ত পড়ে, কেননা তাহাদের মধ্যে আছে রুগ্ন, দুর্বল ও বৃদ্ধ ব্যক্তি। আর কেহ একা নামায পড়িলে সে যত ইচ্ছা লম্বা করিতে পারিবে।

    Book 8 · Hadith 14 · #283 · Sahih
  14. 14

    রেওয়ায়ত ১৪. নাফি (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি (পাঞ্জেগানা) নামাযসমূহের কোন এক নামাযে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর পশ্চাতে দাঁড়াইয়াছিলাম। তাহার সহিত আমি ভিন্ন আর কেহ ছিল না। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পিছনে হাত বাড়াইয়া আমাকে ধরিয়া ডান পার্শ্বে তাহার বরাবরে দাঁড় করাইয়া দিলেন।

    Book 8 · Hadith 15 · #284 · Mauquf Sahih
  15. 15

    রেওয়ায়ত ১৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি ‘আকিক’ নামক স্থানে লোকের ইমামতি করিত। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) লোক প্রেরণ করিয়া তাহাকে ইমামতি করিতে নিষেধ করিলেন। মালিক (রহঃ) বললেনঃ তাহাকে তিনি নিষেধ করিয়াছেন এই কারণে যে, তাহার পিতার পরিচয় ছিল না।

    Book 8 · Hadith 16 · #285 · Maqtu Sahih
  16. 16

    রেওয়ায়ত ১৬. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঘোড়ায় আরোহণ করিয়াছিলেন। অতঃপর ঘোড়া হইতে পড়িয়া তাহার ডান পার্শ্বের (কিছু অংশ) ছড়িয়া গিয়াছিল। ফলে (পাঞ্জেগানা) নামাযসমূহের কোন এক নামায তিনি বসিয়া পড়িয়াছেন। আমরাও তাহার পিছনে বসিয়া নামায পড়িলাম। নামায শেষে তিনি বলিলেনঃ অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হইয়াছে। কাজেই ইমাম দাঁড়াইয়া নামায পড়িলে তোমরাও দাঁড়াইয়া নামায পড়, ইমাম রুকুতে গেলে তোমরাও রুকুতে যাও, ইমাম মাথা উঠাইলে তোমরাও মাথা তোল। ইমাম যখন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) বলেন, তোমরা বল (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) আর ইমাম বসিয়া নামায পড়িলে তোমরা সকলেই বসিয়া নামায পড়।

    Book 8 · Hadith 17 · #286 · Sahih
  17. 17

    রেওয়ায়ত ১৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বসিয়া নামায করিলেন। যখন (নামায সমাপ্ত করিয়া) ফিরিলেন তিনি বলিলেনঃ ইমাম অবশ্য অনুসরণ করার জন্যই নিযুক্ত করা হইয়াছে। তাই ইমাম রুকূ করিলে তোমাও রুকূ কর, ইমাম উঠিলে তোমরাও উঠ, আর ইমাম বসিয়া নামায পড়িলে তোমরাও সকলে বসিয়া নামায পড়।

    Book 8 · Hadith 18 · #287 · Sahih
  18. 18

    রেওয়ায়ত ১৮. উরওয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার অসুস্থাবস্থায় ঘর হইতে বাহির হইলেন এবং মসজিদে আগমন করিলেন। আবু বকর (রাঃ)-কে লোকের ইমামতি করিতে দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়া আবূ বকর (রাঃ) পিছু হটতে চেষ্টা করিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার প্রতি ইশারা করিলেন- তুমি যেইভাবে আছ সেইভাবে থাক। অতঃপর তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর পার্শ্বে বসিলেন। আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নামাযকে অনুসরণ করিয়া নামায পড়িতেছিলেন, আর অন্য মুসল্লিগণ নামায পড়িতেছিলেন আবু বকর (রাঃ)-এর নামাযকে অনুসরণ করিয়া।

    Book 8 · Hadith 19 · #288 · Sahih
  19. 19

    রেওয়ায়ত ১৯. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কাহারও নামায যাহা সে বসা অবস্থায় পড়িয়াছে (সওয়াবের বেলায়) তাহার দাঁড়াইয়া পড়া নামাযের অর্ধেকের সমতুল্য।

    Book 8 · Hadith 20 · #289 · Sahih
  20. 20

    রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) বর্ণনা করেন- আমরা যখন মদীনায় আসিলাম তখন মদীনার মহামারীরূপী প্রচণ্ড জ্বর আমাদেরও আক্রমণ করিয়া বসিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিকট আগমন করিলেন, তখন তাহারা (সাহাবীগণ) তাহদের নফল নামায বসিয়া পড়িতেছিলেন। (ইহা দেখিয়া) তিনি ইরশাদ করিলেনঃ বসিয়া নামায আদায়কারীর নামায (সওয়াবের বেলায়) দাঁড়াইয়া আদায়কারীর নামাযের অর্ধেকের মত।

    Book 8 · Hadith 21 · #290 · Daif
  21. 21

    রেওয়ায়ত ২১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও নফল নামায বসিয়া পড়িতে দেখি নাই। কিন্তু তাহার ওফাতের মাত্র এক বৎসর পূর্ব হইতে তিনি নফল নামায বসিয়া পড়িতেন এবং তরতীবের (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে পাঠ করা) সাথে সূরা তিলাওয়াত করিতেন। ফলে (পঠিত) সূরা অনেক বড় মনে হইত সেই সূরা হইতে যেই সূরা (প্রকৃতপক্ষে) এই সূরা হইতে লম্বা।

    Book 8 · Hadith 22 · #291 · Sahih
  22. 22

    রেওয়ায়ত ২২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ বয়স বেশি না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রির নামায (তাহাজ্জুদ) বসিয়া পড়িতে দেখেন নাই। (বয়ঃবৃদ্ধির পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়া নামায পড়িতেন। তবে যখন রুকু করিতে মনস্থ করিতেন, তখন দাঁড়াইয়া যাইতেন এবং তারপর অন্তত ত্রিশ-চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করিতেন, তারপর রুকূ করিতেন।

    Book 8 · Hadith 23 · #292 · Sahih
  23. 23

    রেওয়ায়ত ২৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়া নামায পড়িতেন। তিনি বসা অবস্থায়ই কিরাআত (কুরআন পাঠ) করিতেন। যখন তাহার ত্রিশ-চল্লিশ আয়াতের মত পড়া অবশিষ্ট থাকিত তখন তিনি দাঁড়াইয়া যাইতেন, তারপর দাঁড়ানো অবস্থায়ই কিরাআত পাঠ করিতেন, অতঃপর রুকু ও সিজদা করিতেন। দ্বিতীয় রাকাআতেও তিনি অনুরূপ করিতেন।

    Book 8 · Hadith 24 · #293 · Sahih
  24. 24

    রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলেন- তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উরওয়া ইবন যুবায়র (রাঃ) ও সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) তাহারা উভয়েই নফল নামায বসিয়া পড়িতেন ‘ইহতিবা’ এর অবস্থায়। (ইহতিবা হইল দুই হাঁটুকে পেটের সঙ্গে লাগাইয়া হাত দ্বারা বেড়ি করিয়া বসা।)

    Book 8 · Hadith 25 · #294 · Maqtu Sahih
  25. 25

    রেওয়ায়ত ২৫. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর মাওলা (مولى) আবূ ইউনুস বর্ণনা করেন, আমাকে আয়েশা (রাঃ) তাহার জন্য একটি (مصحف) মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) লিখিবার নির্দেশ দিলেন। ইহাও বললেনঃ যখন তুমি (‏حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ‏) এই আয়াতে পৌছ, তখন আমাকে অবহিত করবে। আমি যখন উক্ত আয়াতে পৌছিলাম, উহাকে খবর দিলাম। তিনি তারপর এইভাবে লিখাইলেনঃ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে শুনিয়াছি।

    Book 8 · Hadith 26 · #295 · Sahih
  26. 26

    রেওয়ায়ত ২৬. আমর ইবন নাফি’ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি হাফসা (রাঃ)-এর জন্য মুসহাফ (কুরআন পাক) লিখিতাম, তিনি আমাকে বলিলেন, যখন তুমি (‏حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) এই আয়াতে পৌছ, তখন আমাকে খবর দিও। আমি ঐ আয়াতে পৌছিলে তাহাকে জানাইলাম; তখন তিনি আমার দ্বারা (এইরূপ) লিখাইলেনঃ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ)

    Book 8 · Hadith 27 · #296 · Mauquf Hasan
  27. 27

    রেওয়ায়ত ২৭. ইবন ইয়ারবু মাখযুমী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামায) হইল যোহরের নামায।

    Book 8 · Hadith 28 · #297 · Mauquf Sahih
  28. 28

    রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেনঃ সালাতুল উসতা হইল ফজরের নামায। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এ বিষয়ে অন্যান্য উক্তির মধ্যে আমার নিকট আলী ইবন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তিই পছন্দনীয়।

    Book 8 · Hadith 29 · #298 · Mauquf Daif
  29. 29

    রেওয়ায়ত ২৯. উমর ইবন আবি সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উম্মু সালমা (রাঃ)-এর ঘরে এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িতে দেখিয়াছেন, তিনি তখন চাদরের বাম প্রান্তকে বাম বগলের নিচের দিক দিয়া উঠাইয়া ডান কাধের উপর রাখিতেন এবং চাদরের ডান প্রান্তকে ডান বগলের নিচের দিকে দিয়া উঠাইয়া বাম কাধের উপর রাখিতেন, তাহাতে চাদরের দুই প্রান্ত দুই কাঁধের উপর পড়িয়া থাকিত।

    Book 8 · Hadith 30 · #299 · Sahih
  30. 30

    রেওয়ায়ত ৩০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক প্রশ্নকারী এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়া যায় কিনা সেই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করিয়াছিল; রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উত্তরে) বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দুইটি করিয়া কাপড় আছে?

    Book 8 · Hadith 31 · #300 · Sahih
  31. 31

    রেওয়ায়ত ৩১. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছেঃ কোন ব্যক্তি এক কাপড়ে নামায পড়িতে পারে কি? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ হ্যাঁ। আবার তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ আপনি কি ইহা করেন? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমি এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়ি, অথচ আমার অনেক কাপড় আলনায় রাখা থাকে।

    Book 8 · Hadith 32 · #301 · Mauquf Sahih
  32. 32

    রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, জাবির ইন আবদুল্লাহ (রাঃ) এককাপড়ে নামায পড়িতেন।

    Book 8 · Hadith 33 · #302 · Mauquf Sahih
  33. 33

    রেওয়ায়ত ৩৩. রবী’আ ইবন আবি আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম একটি মাত্র কোর্তা পরিধান করিয়া নামায পড়িতেন।

    Book 8 · Hadith 34 · #303 · Maqtu Sahih
  34. 34

    রেওয়ায়ত ৩৪. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ দুই কাপড় যাহার না থাকে সে এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িবে এবং উপরে-নিচে মুড়ি দিয়া লইবে। আর কাপড় ছোট হইলে লুঙ্গির মত পরিধান করিবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এক কোর্তা পরিধান করিয়া নামায পড়ে, তাহার জন্য আমার মতে ইহা ভাল যে, তাহার উভয় গর্দানে কোন কাপড় অথবা পাগড়ির কিছু অংশ রাখিয়া দিবে।

    Book 8 · Hadith 35 · #304 · Sahih Lighairihi
  35. 35

    রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) কামিজ ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িতেন।

    Book 8 · Hadith 36 · #305 · Mauquf Sahih
  36. 36

    রেওয়ায়ত ৩৬. মুহাম্মদ ইবন যায়দের মাতা (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ মেয়েরা কি কি কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িবে? তিনি বলিয়াছেনঃ যাহা উভয় পায়ের উপরিভাগ আবৃত করিয়া ফেলে, এইরূপ পূর্ণ জামা ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িবে।

    Book 8 · Hadith 37 · #306 · Mauquf Daif
  37. 37

    রেওয়ায়ত ৩৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর পালক সন্তান উবায়দুল্লাহ খাওলানী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, মায়মুনা (রাঃ) জামা ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িতেন। অথচ তাহার গায়ে ইযার থাকিত না।

    Book 8 · Hadith 38 · #307 · Mauquf Sahih
  38. 38

    রেওয়ায়ত ৩৮. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তাহার নিকট জনৈক মহিলা এই মর্মে ফতওয়া জিজ্ঞাসা করিলঃ যদি কোমরবন্দ বাঁধিতে অসুবিধা হয়, তবে আমি শুধু জামা ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যদি জামা পূর্ণাঙ্গ হয় (অর্থাৎ পা ঢাকিয়া লয়)।

    Book 8 · Hadith 39 · #308 · Maqtu Sahih
সব বিষয় · Muwatta Malik