Muwatta Malik

← Muwatta Malik

Shortening the Prayer

৯৫ হাদিস

  1. 1

    রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার তাবুক সফরকালে যোহর ও আসরের নামায একত্রে পড়িয়াছিলেন।

    Book 9 · Hadith 1 · #309 · Sahih
  2. 2

    রেওয়ায়ত ২. আবুত তুফায়েল আমির ইবন ওয়াসিলা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, মুআয ইবন জবল (রাঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ তাহারা তাবুকের যুদ্ধের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে বাহির হইলেন। (সেই সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িতেন। (মুআয) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন নামাযে দেরি করিলেন, অতঃপর তিনি আগমন করিলেন এবং যোহর ও আসর একত্রে পড়িলেন। আবার ভিতরে গেলেন, পুনরায় বাহির হইলেন, তারপর মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িলেন। অতঃপর বলিলেনঃ তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ তবুকের ঝর্ণার কাছে পৌছিয়া যাইবে। তোমরা দিনের প্রথমাংশেই সেইখানে পৌছিবে। যে অগ্রে সেই স্থানে পৌছে, আমি না আসা পর্যন্ত সেই ব্যক্তি যেন উহার সামান্যতম পানিও স্পর্শ না করে। অতঃপর আমরা সেখানে পৌছিলাম। কিন্তু আমাদের আগেভাগে সেখানে দুইজন লোক পৌছিয়া গিয়াছিল। আর ঝর্ণা হইতে অতি সামান্য পানি নির্গত হইতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তোমরা কি ইহার পানি হইতে কিছু স্পর্শ করিয়াছ? তাহারা উভয়ে হ্যাঁসূচক উত্তর দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে অনেক তিরস্কার করিলেন এবং আল্লাহর যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু তাহদের সম্পর্কে বলিলেন। তারপর তাহারা আঁজলা ভরিয়া অল্প অল্প করিয়া কিছু পানি কোন এক পাত্রে জমা করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পানিতে তাহার উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং সেই পানি ঝর্ণায় নিক্ষেপ করিলেন যদ্দরুন ঝর্ণ হইতে ফল্গুধারার মত অনেক পানি উঠিতে লাগিল। লোকজন ঝর্ণা হইতে পানি পান করিয়া তৃষ্ণা নিবারণ করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে মুআয, সম্ভবত তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করিবে এবং তুমি এ ঝর্ণার পানি দ্বারা এই স্থানের অনেক বাগবাগিচায় পূর্ণভাবে পানি সেচ হইতে দেখিবে।

    Book 9 · Hadith 2 · #310 · Sahih
  3. 3

    রেওয়ায়ত ৩. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি (কোন কারণবশত) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্রুত ভ্রমণ করিতে হইত, তবে তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 3 · #311 · Sahih
  4. 4

    রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, ভয়-ভীতিজনিত কোন কারণ ছাড়া এবং সফর ব্যতিরেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যোহর ও আসর একসঙ্গে এবং মাগরিব ও ইশা এক সঙ্গে পড়াইয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার মতে ইহা বৃষ্টির জন্য ছিল।

    Book 9 · Hadith 4 · #312 · Sahih
  5. 5

    রেওয়ায়ত ৫. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আমীরগণ বর্ষণকালে মাগরিব ও ইশার নামাযকে একত্রে পড়িলে আবদুল্লাহু ইবন উমর (রাঃ) তাহাদের সঙ্গে (উক্ত দুই ওয়াক্তের) নামায একত্রে পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 5 · #313 · Mauquf Sahih
  6. 6

    রেওয়ায়ত ৬. ইবন শিহাব (রহঃ) সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ সফরে যোহর ও আসরকে পর্যায়ক্রমে একত্রে পড়া যায় কিনা? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইহাতে কোন দোষ নাই, আরাফাতে লোকজনের নামাযের প্রতি (যাহা এক সঙ্গে পড়া হয়) তুমি কি লক্ষ কর নাই? আলী ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনে সফরের ইচ্ছা করিলে যোহর ও আসর একযোগে পড়িতেন। আর রাত্রে সফরের ইচ্ছা করিলে মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 7 · #314 · Sahih Lighairihi
  7. 7

    রেওয়ায়ত ৭. খালিদ ইবন আসীদ (রহঃ)-এর বংশের জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান। আমরা সালাতুল খওফ (ভয়জনিত অবস্থায় নামায) ও সালাতুল হাযর (মুকীম অবস্থায় নামায)-এর উল্লেখ কুরআনে পাই, কিন্তু সালাতুস সফর (সফরের নামাযের কথা তো কুরআনে) পাই না? আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আমার ভাতিজা আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের নিকট যখন মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করিয়াছেন, তখন আমরা কিছু জানিতাম না, ফলে আমরা তাহাকে যেরূপ করিতে দেখিয়াছি সেরূপ করিয়া থাকি।

    Book 9 · Hadith 8 · #315 · Sahih Lighairihi
  8. 8

    রেওয়ায়ত ৮. নবী করীম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, সফরে এবং হাযরে (মুকীম থাকাকালীন) দুই-দুই রাকাআতই ফরয করা হয়, অতঃপর সফরের নামায পূর্বাবস্থায় বাকি রাখা হয়, আবাসের নামাযে বৃদ্ধি করা হয়।

    Book 9 · Hadith 9 · #316 · Sahih
  9. 9

    রেওয়ায়ত ৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ আপনি আপনার পিতাকে সফরে মাগরিবের নামায সর্বাধিক কতটুকু বিলম্বে পড়িতে দেখিয়াছেন? তখন সালিম (রহঃ) বলিলেনঃ আমরা যখন যাতুল-জায়শ নামক স্থানে, তখন সূর্যস্ত হয়, তিনি মাগরিবের নামায আকীক নামক স্থানে গিয়া পড়িয়াছেন। (দুই স্থানের দূরত্ব ৭ মাইল)

    Book 9 · Hadith 10 · #317 · Mauquf Sahih
  10. 10

    রেওয়ায়ত ১০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বাহির হইলে যুলহুলায়ফা[1] নামক স্থানে নামায কসর পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 11 · #318 · Mauquf Sahih
  11. 11

    রেওয়ায়ত ১১. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা সওয়ারীতে আরোহণ করিয়া রীম[1] নামক স্থানে যান এবং তিনি এতটুকু পথ ভ্রমণে নামায কসর পড়িয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, উক্ত স্থানটির দূরত্ব অন্তত চার বরীদ[2] হইবে।

    Book 9 · Hadith 12 · #319 · Mauquf Sahih
  12. 12

    রেওয়ায়ত ১২. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সওয়ার হইয়া যাতুন-নুসুব (ذات النصب) নামক স্থানের দিকে গমন করিলেন। তিনি তাহার এই পরিমাণ যাত্রায় নামায কসর পড়িলেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, যাতুন-নুসুব ও মদীনার মধ্যে ব্যবধান হইল চার বরীদ।

    Book 9 · Hadith 13 · #320 · Mauquf Sahih
  13. 13

    রেওয়ায়ত ১৩. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) খায়বরের দিকে সফর করিতেন এবং নামায কসর পড়িতেন। সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পূর্ণ একদিনের সফরে কসর পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 15 · #321 · Mauquf Sahih
  14. 14

    রেওয়ায়ত ১৪. নাফি' (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে এক বরীদ সফর করিতেন কিন্তু নামায কসর পড়িতেন না।

    Book 9 · Hadith 16 · #322 · Mauquf Sahih
  15. 15

    রেওয়ায়ত ১৫. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) মক্কা হইতে তায়েফ অথবা মক্কা হইতে উসফান বা মক্কা হইতে জিদ্দার সমান দূরত্বের স্থানে সফরে বাহির হইলে কসর পড়িতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, উক্ত পথের দূরত্ব চার বরীদ পরিমাণ। তিনি আরও বলিয়াছেন যে, নামায কসর পড়ার জন্য এতটুকু ব্যবধান বা দূরত্ব (مسافت) আমার নিকট পছন্দনীয়। মালিক (রহঃ) আরও বলেন, যে ব্যক্তি সফরের নিয়ত করে, সে যতক্ষণ নিজের পল্লীর গৃহাদি ছাড়িয়া না যাইবে, ততক্ষণ নামায কসর পড়িবে না। অনুরূপ ফেরার পথেও যতক্ষণ নিজ গ্রামের সর্বপ্রথম গৃহ বা উহার নিকটতম স্থান পর্যন্ত না পৌছিবে নামায পূর্ণ পড়িবে না।

    Book 9 · Hadith 17 · #323 · Mauquf Sahih
  16. 16

    রেওয়ায়ত ১৬. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলিতেনঃ আমি যতক্ষণ অবস্থান করার নিয়ত না করি ততক্ষণ মুসাফিরের মত নামায পড়িতে থাকি, যদিও বা এই অবস্থায় বার রাত্রি পর্যন্ত আবদ্ধ থাকি।

    Book 9 · Hadith 18 · #324 · Mauquf Sahih
  17. 17

    রেওয়ায়ত ১৭. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন উমর (রাঃ) মক্কায় দশ রাত্রি পর্যন্ত অবস্থান করিয়াছিলেন এবং নামায কসর পড়িয়াছিলেন। কেবল ইমামের সাথে নামায পড়িলে তখন ইমামের নামাযের মতই পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 19 · #325 · Mauquf Sahih
  18. 18

    রেওয়ায়ত ১৮. আতা খোরাসানী (রহঃ) সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি চারি রাত্রি পর্যন্ত ইকামতের নিয়ত করিবে মুসাফির হওয়া সত্ত্বেও সে নামায পূর্ণই পড়িবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা আমার পছন্দনীয় বটে। মালিক (রহঃ)-কে কয়েদীদের নামায সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলিলেনঃ মুকীমের মতই নামায পড়িবে, কিন্তু যদি সে মুসাফির হয় (তবে কসর পড়িবে)।

    Book 9 · Hadith 20 · #326 · Maqtu Sahih
  19. 19

    রেওয়ায়ত ১৯. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাহার পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যখন মক্কায় আসিতেন তখন তাহাদিগকে দুই রাকাআত নামায পড়াইতেন। (নামায শেষে) বলিতেনঃ হে মক্কাবাসীরা! তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ কর, কেননা আমরা মুসাফির। আসলাম তাহার পিতা হইতে, তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত বর্ণনা করিয়াছেন।

    Book 9 · Hadith 21 · #327 · Mauquf Sahih
  20. 20

    রেওয়ায়ত ২০. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইমামের ইকতিদা করিয়া নামায পড়িলে মিনাতে চারি রাকাআত পড়িতেন। আর একা পড়িলে তখন দুই রাকাআতই পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 23 · #328 · Mauquf Sahih
  21. 21

    রেওয়ায়ত ২১. ইবন শিহাব (রহঃ) সাফওয়ান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সাফওয়ান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবন সাফওয়ানকে দেখিতে আসিলেন যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আমাদের দুই রাকাআত নামায পড়াইলেন। অতঃপর তিনি প্রস্থান করিলেন আর আমরা নামায পূর্ণ করিলাম।

    Book 9 · Hadith 24 · #329 · Mauquf Sahih
  22. 22

    রেওয়ায়ত ২২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সফরে ফরয নামাযের সহিত অন্য কোন নামায পড়িতেন না, আগেও না, পরেও না। অবশ্য তিনি মধ্যরাত্রে মৃত্তিকার উপর নামায পড়িতেন, আর পড়িতেন তাহার উটের হাওদার উপর, উট যে দিকেই মুখ করিয়া থাকুক না কেন।

    Book 9 · Hadith 25 · #330 · Mauquf Sahih
  23. 23

    রেওয়ায়ত ২৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবন মুহাম্মদ, উরওয়াহ ইবন যুবায়র, আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ)- তাহারা সকলেই সফরে নফল নামায পড়িতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে সফরে নফল পড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিয়াছেনঃ দিনে হোক বা রাত্রে হোক, নফল নামায পড়াতে কোন ক্ষতি নাই। তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, কতিপয় আহলে ইলম সফরে নফল পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 26 · #331 · Maqtu Daif
  24. 24

    রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার নিকট নাফি' (রহঃ) হইতে রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার ছেলে উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ)-কে সফরে নফল পড়িতে দেখিতেন, অথচ তিনি নিষেধ করিতেন না।

    Book 9 · Hadith 27 · #332 · Mauquf Daif
  25. 25

    রেওয়ায়ত ২৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি গাধার উপর নামায পড়িতে দেখিয়াছি, তখন গাধাটির মুখ ছিল খায়বরের দিকে।

    Book 9 · Hadith 28 · #333 · Sahih
  26. 26

    রেওয়ায়ত ২৬. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে তাহার সওয়ারীর উপর নামায পড়িতেন সওয়ারী যে দিকেই মুখ করুক না কেন। আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার (রহঃ) বলিয়াছেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও তাহা করিতেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে সফরে গাধার পিঠে নামায পড়িতে দেখিয়ছি অথচ গাধটির মুখ কিবলার দিকে ছিল না, তিনি রুকূ-সিজদা করিতেন ইশারায়, তাহার ললাট কোন কিছুর উপর রাখিতেন না।

    Book 9 · Hadith 30 · #334 · Mauquf Sahih
  27. 27

    রেওয়ায়ত ২৭. আকীল ইবন আবি তালিব (রাঃ)-এর মাওলা আবূ মুররা (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, উম্মুহানী বিনত আবি তালিব (রাঃ) আবূ মুররার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট রাকাআত নামায পড়িয়াছেন। তখন তাহার পরিধানে (সর্বাঙ্গে জড়ানো অবস্থায়) একটি মাত্র কাপড় ছিল।

    Book 9 · Hadith 31 · #335 · Sahih
  28. 28

    রেওয়ায়ত ২৮. উম্মুহানী বিনতে আবি তালিব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের সালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে গমন করিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল করিতে দেখিলাম। তাহার কন্যা ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দিয়া তাহার জন্য পর্দা করিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ আমি গিয়া তাহার উদ্দেশ্যে আসসালামু আলাইকুম বললাম। তিনি ফরমাইলেন, ইনি কে? আমি বললামঃ আবু তালিবের কন্যা উম্মুহানী। তখন তিনি বললেনঃ উম্মুহনীর জন্য মারহাবা (খোশ আমদেদ)। তিনি যখন গোসল সমাপ্ত করিলেন, একটি মাত্র কাপড় জড়াইয়া আট রাকাআত নামায পড়িলেন। নামায হইতে প্রত্যাবর্তন করিলে আমি বলিলামঃ আমার ভাই আলী (রাঃ) বলিয়াছেন, সে এমন এক ব্যক্তিকে কতল করিবে, যাহাকে আমি আশ্রয় দিয়াছি। সে হইতেছে হুবায়রার সন্তান 'অমুক (তাবরানীর মতে সে হুবাইরার চাচাত ভাই)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে ‘উম্মুহানী, তুমি যাহাকে আশ্রয় দিয়াছ, আমিও তাহাকে আশ্রয় দিলাম। উম্মুহানী বলেন, সময়টি ছিল চাশতের।

    Book 9 · Hadith 32 · #336 · Sahih
  29. 29

    রেওয়ায়ত ২৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও চাশতের নামায পড়িতে দেখি নাই, আমি কিন্তু চাশতের নামায পড়ি। ব্যাপার হইল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক আমলকে পছন্দ করা সত্ত্বেও বর্জন করিতেন এই ভয়ে যে, লোকেরা তাহার উপর আমল করিতে থাকিবে, পরে তাহা ফরয হইয়া যাইবে।

    Book 9 · Hadith 33 · #337 · Sahih
  30. 30

    রেওয়ায়ত ৩০. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করা হইয়াছে যে, তিনি চাশতের নামায আট রাকাআত পড়িতেন ও বলিতেনঃ আমার মা-বাবাকে জিন্দা করিয়া পাঠানো হইলেও আমি এই আট রাকাআতকে ছাড়িব না।

    Book 9 · Hadith 34 · #338 · Mauquf Daif
  31. 31

    রেওয়ায়ত ৩১. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নানী মুলায়কা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খানার দাওয়াত করিয়াছিলেন। তিনি তাহা হইতে আহার করিলেন, তারপর ফরমাইলেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের জন্য (খায়র ও বরকতের উদ্দেশ্যে) নামায পড়িব। আনাস (রাঃ) বলিলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই-এর দিকে গেলাম, যাহা দীর্ঘদিন ব্যবহারের দরুন একেবারে কাল হইয়া গিয়াছিল। আমি উহাতে পানি ছিটাইয়া উহা পরিষ্কার করিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াইলেন। আমি এবং ইয়াতিম তাহার পিছনের সারিতে দাঁড়াইলাম। আর বৃদ্ধ (নানী) দাঁড়াইলেন আমাদের পিছনের সারিতে। তিনি আমাদের জন্য (দু'আর উদ্দেশ্যে) দুই রাকাআত নামায পড়িলেন; অতঃপর আমাদের গৃহ ত্যাগ করিলেন।

    Book 9 · Hadith 35 · #339 · Sahih
  32. 32

    রেওয়ায়ত ৩২. উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন— তিনি বলিয়াছেন, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিলাম, সময়টা ছিল দুপুর। আমি তখন তাহাকে নফল নামায অবস্থায় পাইলাম, তাই আমি তাহার পিছনে দাঁড়াইলাম। তারপর তিনি আমাকে নিকটে আনিলেন এবং তাহার ডান পার্শ্বে তাহার বরাবর আমাকে দাঁড় করাইলেন। তারপর (يرفأ) ইয়ারফা (উমরের খাদেম) আসিলে আমি পিছনে সরিয়া আসিলাম। তারপর আমরা উভয়েই তাহার পিছনে কাতার করিয়া দাঁড়াইলাম।

    Book 9 · Hadith 36 · #340 · Mauquf Sahih
  33. 33

    রেওয়ায়ত ৩৩. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তোমরা কেউ নামায পড়, তবে সে সময় তাহার সামনে দিয়া কাহাকেও হাটিতে দিবে না বরং যথাসাধ্য তাহাকে বারণ করবে। এতদসত্ত্বেও যদি সে বিরত না হয়, তবে শক্তি প্রয়োগ করবে। কেননা সে অবশ্যই দুষ্ট লোক।

    Book 9 · Hadith 37 · #341 · Sahih
  34. 34

    রেওয়ায়ত ৩৪. বুসর ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যায়দ ইবন খালিদ জুহনী (রাঃ) তাহাকে আবু জুহায়ম (রাঃ)-এর নিকট ইহা জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্যে পাঠাইলেন যে, তিনি মুসল্লির সামনে দিয়া চলাচলকারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে কি শুনিয়াছেন। আবু জুহায়ম (রাঃ) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যদি মুসল্লি ব্যক্তির সম্মুখ দিয়া চলাচলকারী জানিত যে, ইহার জন্য তাহার কি পরিণাম হইবে, তবে সে নিশ্চিত মনে করিত যে, মুসল্লি ব্যক্তির সামনে দিয়া চলাচল করা অপেক্ষা তাহার পক্ষে সঠিকভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা অধিক শ্রেয়। আবু নাযর বলেনঃ আমি বলিতে পারিতেছি না, তিনি চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বৎসর বলিয়াছিলেন।

    Book 9 · Hadith 38 · #342 · Sahih
  35. 35

    রেওয়ায়ত ৩৫. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাব-এ আহবার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মুসল্লির সামনে দিয়া চলাচলকারী যদি জানিত যে, তার পরিণাম কি, তবে সামনে দিয়া হাটিয়া যাওয়ার চাইতে মাটিতে বসিয়া যাওয়া তাহার পক্ষে উত্তম হইত।

    Book 9 · Hadith 39 · #343 · Maqtu Sahih
  36. 36

    রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মেয়েরা যখন নামায পড়ে তখন তাহাদের সম্মুখ দিয়া চলাকে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) অপছন্দ করিতেন না।

    Book 9 · Hadith 40 · #344 · Mauquf Sahih
  37. 37

    রেওয়ায়ত ৩৭. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) (তিনি নিজে) কাহারও সম্মুখ দিয়া চলাচল করিতেন না এবং অন্য কাহাকেও তাহার সামনে দিয়া চলিতে দিতেন না।

    Book 9 · Hadith 41 · #345 · Mauquf Sahih
  38. 38

    রেওয়ায়ত ৩৮. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি একটি গাধীর উপর সওয়ার হইয়া আসিলাম। আমি সেই সময় সাবালগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে উপনীত হইয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মিনাতে লোকদের নামায পড়াইতেছিলেন। আমি কোন একটি কাতারের মাঝ দিয়া চলিলাম, তারপর (সওয়ারী হইতে) অবতরণ করিয়া গাধীকে চরিবার জন্য ছাড়িয়া দিলাম এবং আমি কাতারে শামিল হইলাম। ইহার জন্য আমাকে কেউ কোন তিরস্কার করেন নাই।

    Book 9 · Hadith 42 · #346 · Sahih
  39. 39

    রেওয়ায়ত ৩৯. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নামায কায়েম আছে, এমন অবস্থায় সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) কোন কোন সময় কাতারের মাঝ দিয়া চলাচল করিতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যদি নামায আদায় হইয়া যায় এবং ইমাম নিয়ত করিয়া ফেলেন, তখন কোন ব্যক্তি কাতারের মাঝ দিয়া ব্যতীত অন্য কোন রাস্তায় মসজিদে প্রবেশ করিতে (নামাযে শামিল হওয়ার জন্য) না পারিলে, তাহার জন্য এ ব্যাপারে (কাতারের মধ্য দিয়া প্রবেশ করার) অবকাশ আছে বলিয়া আমি মনে করি।

    Book 9 · Hadith 43 · #347 · Mauquf Daif
  40. 40

    রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মুসল্লির সম্মুখ দিয়া যাহা কিছু চলাচল করে, তাহা নামায নষ্ট করে না। এইরূপ বলিয়াছেন আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ)। সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ মুসল্লির সামনে দিয়া যাহা কিছু চলাচল করে উহার কোনটাই নামাযকে নষ্ট করে না।

    Book 9 · Hadith 44 · #348 · Mauquf Sahih
  41. 41

    রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উটের পিঠের হাড় দ্বারা সুতরা করিতেন। হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি সুতরা সামনে না করিয়া মরুভূমিতে নামায পড়িতেন। (কারণ সেখানে লোকজনের চলাচল তেমন ছিল না।)

    Book 9 · Hadith 47 · #349 · Mauquf Sahih
  42. 42

    রেওয়ায়ত ৪২. আবু জাফর কারী (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি সিজদার জন্য যখন নত হইতেন, তখন তাহার কপাল রাখার স্থান হইতে খুব হালকাভাবে হাত বুলাইয়া কাঁকর সরাইতেন।

    Book 9 · Hadith 48 · #350 · Mauquf Sahih
  43. 43

    রেওয়ায়ত ৪৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবু যর (রাঃ) বলিতেনঃ কাঁকর সরাইবার জন্য মাত্র একবার হাত বুলানো যায়। তবে উহা হইতে বিরত থাকাটা লাল বর্ণের উট অপেক্ষাও উত্তম।

    Book 9 · Hadith 49 · #351 · Mauquf Daif
  44. 44

    রেওয়ায়ত ৪৪. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) সফ (কাতারসমূহ) বরাবর করার নির্দেশ দিতেন। যখন এই কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা তাহার নিকট আসিত এবং সফসমূহ বরাবর হইয়াছে বলিয়া তাহাকে জানাইত, তখন তিনি তকবীর বলিতেন।

    Book 9 · Hadith 50 · #352 · Mauquf Sahih
  45. 45

    রেওয়ায়ত ৪৫. আবূ সুহায়ল ইবন মালিক (রহঃ) তাহার পিতা মালিক ইবন আবি আমির ইয়াসাহাবী হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। অতঃপর নামাযের ইকামত আরম্ভ হইল, আমি তখন তাহার সাথে আমার জন্য ভাতা নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে আলাপ করিতেছিলাম। আমি বিরতি ছাড়াই তাহার সাথে আলাপরত ছিলাম। তিনি তাহার উভয় জুতার সাহায্যে কাকর (সরাইয়া) জায়গা সমান করিতেছিলেন। এমন সময় কতিপয় লোক তাহার নিকট আসিলেন, যাহাদিগকে তিনি সফ বরাবর করার কাজে নিযুক্ত করিয়াছিলেন এবং তাঁহাকে জানাইলেন যে, সফসমূহ বরাবর হইয়াছে। তিনি আমাকে বললেন, কাতারে বরাবর হইয়া দাঁড়াইয়া যাও। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলিলেন।

    Book 9 · Hadith 51 · #353 · Mauquf Sahih
  46. 46

    রেওয়ায়ত ৪৬. আবদুল করীম ইবন আবুল মুখারিক (রহঃ) বলিয়াছেন, নবুয়তের কালাম হইতেছে এই কালাম, যখন তুমি লজ্জা পরিহার কর, তবে তুমি যাহা ইচ্ছা তাহা করিতে পার। নামাযে উভয় হাতের একটিকে অপরটির উপর রাখা (এইভাবে) যে, ডান হাত বাম হাতের উপর রাখিবে, ইফতারে ত্বরা করা ও সাহরী (খাওয়া)-তে বিলম্ব করা।

    Book 9 · Hadith 52 · #354 · Maqtu Sahih
  47. 47

    রেওয়ায়ত ৪৭. সাহল ইবন সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, লোকদিগকে নির্দেশ প্রদান করা হইত যেন নামাযে প্রত্যেকে তাহার ডান হাত বাম হাতের কজির উপর রাখে। আবু হাযিম (রহঃ) বলেনঃ আমি জানি যে, তিনি এই বাক্যের সনদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছাইতেন।

    Book 9 · Hadith 53 · #355 · Sahih
  48. 48

    রেওয়ায়ত ৪৮. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কোন নামাযেই কুনূত পাঠ করিতেন না।

    Book 9 · Hadith 54 · #356 · Mauquf Sahih
  49. 49

    রেওয়ায়ত ৪৯. আবদুল্লাহ ইবন আরকাম (রাঃ) তাহার সহচরদের ইমামতি করিতেন। একদিন নামায শুরু হইল। সেই মুহুর্তে তিনি স্বীয় প্রয়োজন সারার উদ্দেশ্যে বাহিরে গমন করিলেন। অনন্তর (তথা হইতে) ফিরিলেন। তারপর তিনি বলিলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফরমাইতে শুনিয়াছিঃ তোমাদের কেউ (পায়খানা-পেশাবের জন্য) ঢালু জায়গায় যাওয়ার মনস্থ করিলে তবে নামাযের পূর্বে উহা সারিয়া নিবে।

    Book 9 · Hadith 55 · #357 · Sahih
  50. 50

    রেওয়ায়ত ৫০. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এমন সময় কখনও নামায না পড়ে, যখন (পায়খানা-প্রস্রাবের বেগবশত) তাহার পাছাদ্বয় মিলাইয়া (চাপ দিয়া) রাখে।

    Book 9 · Hadith 56 · #358 · Mauquf Daif
  51. 51

    রেওয়ায়ত ৫১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তি যে মুসল্লায় নামায পড়িয়াছে, সে মুসল্লায় যতক্ষণ বসা থাকে এবং ওযু টুটিয়া যায় মত কোন কাজ না করে ততক্ষণ ফেরেশতাগণ এই বলিয়া তাহার জন্য দোআ করিতে থাকেনঃ (اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ) অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার এই বান্দার গুনাহ্ মাফ কর, হে আল্লাহ! তোমার এই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ কর। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ হাদীসে বর্ণিত (مَا لَمْ يُحْدِثِ) মা-লাম য়ুহদিস বাক্যটির অর্থ আমার মতে, (মুসল্লি কর্তৃক) এমন কোন কাজ করা যাহাতে ওযু ভাঙিয়া যায়, ইহা অন্যকিছু নহে।

    Book 9 · Hadith 57 · #359 · Sahih
  52. 52

    রেওয়ায়ত ৫২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তি, যতক্ষণ নামায তাহাকে আবদ্ধ রাখিবে- নামায ছাড়া অন্য কোন বস্তু স্বীয় পরিবারবর্গের দিকে ফিরিয়া যাইতে তাহাকে বাধা প্রদান করে নাই, ততক্ষণ সে নামাযে থাকিবে।

    Book 9 · Hadith 58 · #360 · Sahih
  53. 53

    রেওয়ায়ত ৫৩. আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে মসজিদের দিকে গমন করে এবং সে মসজিদে কোন ভাল কথা শিক্ষা করার জন্য অথবা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই গমন করে, সে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবে আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মত (গণ্য) হইয়া, এমন মুজাহিদ যে গনীমতের মালসহকারে (গৃহে) ফিরিয়াছে।

    Book 9 · Hadith 59 · #361 · Maqtu Sahih
  54. 54

    রেওয়ায়ত ৫৪. নুয়ায়ম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ তোমাদের একজন যখন নামায পড়ে, তারপর জায়নামাযে বসা থাকে, তবে ফেরেশতারা তাহার জন্য اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ (হে আল্লাহ ইহাকে ক্ষমা কর) اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ (হে আল্লাহ ইহাকে দয়া কর) বলিয়া দোআ করিতে থাকেন। অতঃপর সে যদি জায়নামায হইতে দাঁড়াইয়া যায় কিন্তু নামাযের অপেক্ষায় বসিয়া থাকে, তবে সে যেন নামাযেই রহিয়াছে।

    Book 9 · Hadith 60 · #362 · Mauquf Sahih
  55. 55

    রেওয়ায়ত ৫৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ আমি কি তোমাদের খবর দিব না ঐ বস্তুর, যেই বস্তু দ্বারা আল্লাহ্ (বান্দার) গুনাহসমূহ মুছিয়া দেন এবং উহা দ্বারা তাহার অনেক মর্তবা বুলন্দ করিয়া দেন? (তাহা হইতেছে এই) পূর্ণরূপে ওযু করা কষ্টবোধের সময়, মসজিদের দিকে নামাযের উদ্দেশ্যে গমনাগমন এবং এক নামাযের পর আর এক নামাযের অপেক্ষায় থাকা। আর ইহাই (হইল) রিবাত (رباط), ইহাই রিবাত, ইহাই রিবাত (সীমান্ত প্রহরায় সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকা।)

    Book 9 · Hadith 61 · #363 · Sahih
  56. 56

    রেওয়ায়ত ৫৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ বলা হয়, আযানের পর একমাত্র মুনাফিক ব্যতীত কোন ব্যক্তি মসজিদ হইতে বাহির হয় না, অবশ্য যে ব্যক্তি পুনরায় ফিরিয়া আসার ইচ্ছা রাখে (সে বাহির হইতে পারে)।

    Book 9 · Hadith 62 · #364 · Maqtu Daif
  57. 57

    রেওয়ায়ত ৫৭. আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করিলে সে যেন বসার পূর্বে দুই রাকাআত নামায পড়িয়া লয়।

    Book 9 · Hadith 63 · #365 · Sahih
  58. 58

    রেওয়ায়ত ৫৮. উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) কর্তৃক আজাদকৃত ক্রীতদাস আবুন নাযর (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবুন নাযর বলেন, আবু সালমা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ আমি তোমার মনিবকে অর্থাৎ আজাদীদাতাকে কখনও দেখি নাই যে, তিনি মসজিদে আসিয়া (বসার পূর্বে) নামায অর্থাৎ (তাহিয়াতুল মসজিদ) না পড়িয়া বসিয়াছেন। আবুন নাযর (রহঃ) বলেন, তিনি উমর ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ)-কে অভিযোগস্বরূপ ইহা বলিয়াছেন, কারণ তিনি মসজিদে প্রবেশ করিয়া নামাযের পূর্বে বসিয়া যাইতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এইরূপ করা ভাল, তবে ওয়াজিব নহে।

    Book 9 · Hadith 64 · #366 · Maqtu Sahih
  59. 59

    রেওয়ায়ত ৫৯. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সিজদায় যে স্থানে তাহার মুখমণ্ডল রাখিতেন, সেই স্থানেই (অর্থাৎ উহার পার্শ্বে) তাহার উভয় হাতের তালু রাখিতেন। নাফি' (রহঃ) বলেনঃ আমি তাহাকে দেখিয়াছি, তিনি অতি শীতের সময়ও তাহার হস্তদ্বয় জুব্‌বা (লম্বা পোশাক বিশেষ) হইতে বাহির করিয়া কঙ্করময় ভূমিতে রাখতেন।

    Book 9 · Hadith 65 · #367 · Mauquf Sahih
  60. 60

    রেওয়ায়ত ৬০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ যে ব্যক্তি তাহার ললাট যমীনে রাখে, সে যেন তাহার হস্তদ্বয়ও সেই জায়গায় রাখে, যেই জায়গায় ললাট রাখিয়াছে। অতঃপর যখন (সিজদা হইতে) ললাট উঠায় তখন যেন উভয় হস্তকে উঠাইয়া লয়। কারণ মুখমণ্ডল যেমন সিজদা করে, হস্তদয়ও তেমনিভাবে সিজদা করে।

    Book 9 · Hadith 66 · #368 · Mauquf Sahih
  61. 61

    রেওয়ায়ত ৬১. সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী 'আমর ইবন আউফ কাবীলার দিকে তাহাদের একটি বিষয় মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে গমন করেন, তখন নামাযের সময় উপস্থিত হয়। মুয়াযযিন আবু বকর (রাঃ)-এর খিদমতে আসিয়া বলিলেনঃ আপনি নামাযে লোকের ইমামতি করিতে সম্মত আছেন কি? তাহা হইলে আমি ইকামত বলিতাম। আবু বকর (রাঃ) -এ (আচ্ছা) বলিয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিলেন। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) নামায পড়াইলেন। লোকজন যখন নামাযে, তখন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তশরীফ আনিলেন। তিনি কাতারে ফাঁক করিয়া একেবারে প্রথম কাতারে গিয়া দাঁড়াইলেন। ইহাতে লোকেরা তালি দিতে আরম্ভ করিলেন। আবু বকর (রাঃ) (তাহার অভ্যাস ছিল) নামাযে অন্যদিকে মনোযোগ দিতেন না। কিন্তু যখন লোকদের তালি দেওয়া বাড়িয়া গেল, তখন তিনি পিছনের দিকে ফিরিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিতে পাইলেন। তারপর আবু বকর (রাঃ) পিছনে হটিতে চাহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাহাকে নির্দেশ দিলেনঃ আপন জায়গায় স্থির থাক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইমামতিতে বহাল থাকার নির্দেশ দিলেন বলিয়া আবু বকর (রাঃ) স্বীয় হস্তদ্বয় উঠাইয়া আল্লাহর হামদ বা শুকরিয়া আদায় করিলেন। অতঃপর পিছনে সরিয়া সফের বরাবরে আসিয়া দাঁড়াইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে বাড়িয়া নামায পড়াইলেন। নামায সমাপ্ত করার পর তিনি বলিলেনঃ হে আবু বকর! তোমাকে যখন আমি নির্দেশ দিলাম, তখন (ইমামতিতে) স্থির থাকিতে তোমাকে কোন্‌ জিনিস বাধা প্রদান করিল? (উত্তরে) আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে (উপস্থিতিতে) আবূ কোহাফার সন্তানের জন্য নামাযের ইমামতি করা সাজে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি তোমাদিগকে অনেক হাততালি দিতে দেখিয়া অবাক হইয়াছি। কাহারও নামাযে কোন বিষয়ে প্রয়োজন দেখা দিলে সে যেন তসবীহ (সুবহানাল্লাহ) উচ্চারণ করে। কেননা সে তসবীহ উচ্চারণ করিলেই তাহার দিকে মনোযোগ দেওয়া হইবে। হাততালি দেওয়া অবশ্য নারীর জন্য।

    Book 9 · Hadith 67 · #369 · Sahih
  62. 62

    রেওয়ায়ত ৬২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) নামাযে অন্য দিকে ফিরিয়া দেখিতেন না।

    Book 9 · Hadith 68 · #370 · Mauquf Sahih
  63. 63

    রেওয়ায়ত ৬৩. আবু জাফর কারী (রহঃ) বলেনঃ (এমনও হইত) আমি নামায পড়িতেছি, আর আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আমার পশ্চাতে (আসিয়া দাঁড়াইয়াছেন), অথচ আমি খবর রাখি না। পরে আমি ফিরিয়া দেখিলে তিনি আমাকে ইশারা করিলেন (আমাকে ইঙ্গিতে ফিরিয়া না দেখিতে বলিলেন।)

    Book 9 · Hadith 69 · #371 · Mauquf Sahih
  64. 64

    রেওয়ায়ত ৬৪. আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (রাঃ) বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) (একবার) মসজিদে প্রবেশ করিলেন এবং লোকজনকে রুকূতে পাইলেন। তিনিও রুকু করিলেন; অতঃপর (সেই অবস্থায়ই) আস্তে আস্তে চলিতে চলিতে সফ' বা কাতার পর্যন্ত পৌছিলেন।

    Book 9 · Hadith 70 · #372 · Mauquf Sahih
  65. 65

    রেওয়ায়ত ৬৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) রুকূতে আস্তে আস্তে হাঁটিতেন।

    Book 9 · Hadith 71 · #373 · Mauquf Sahih
  66. 66

    রেওয়ায়ত ৬৬. আমর ইবন সুলায়ম যুরাকী (রহঃ) বলেনঃ আবু হুমায়দ সাঈদী (রাঃ) তাঁহাকে বলিয়াছেন, তাহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার উপর দরূদ কিরূপে পাঠ করিব? তিনি বলিলেনঃ তোমরা এইরূপ বলিবেঃ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

    Book 9 · Hadith 72 · #374 · Sahih
  67. 67

    রেওয়ায়ত ৬৭. আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, সা’দ ইবন উবাদা (রাঃ)-এর মজলিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট শুভাগমন করিলেন। বশীর ইবন সা'দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ আমাদের প্রতি নির্দেশ দিয়াছেন আপনার উপর দরূদ পাঠ করার জন্য। আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করিব? আবু মাসউদ আনসারী বলেন, এই প্রশ্ন শোনার পর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব রহিলেন। এমন কি (তাহার নীরবতা দেখিয়া) আকাঙ্ক্ষা করিলাম, যদি প্রশ্নকারী প্রশ্ন না-ই করিত (তাহা হইলে ভাল হইত) অতঃপর তিনি বলিলেন, এইরূপ বল- اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (ইহা হইতেছে সালাত বা দরূদ) আর সালাম যেইরূপ তোমরা অবগত হইয়াছ।

    Book 9 · Hadith 73 · #375 · Mauquf Sahih
  68. 68

    রেওয়ায়ত ৬৮. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কবরের পাশে দাঁড়াইতেন, তারপর তাহার উপর দরূদ পাঠ করিতেন এবং আবূ বকর ও উমর (রাঃ)-এর জন্য দোআ করিতেন।

    Book 9 · Hadith 74 · #376 · Mauquf Sahih
  69. 69

    রেওয়ায়ত ৬৯. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ গৃহে নামায পড়িতেন, যোহরের পূর্বে দুই রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত এবং মাগরিবের পর দুই রাকাআত। আর ইশার পর পড়িতেন দুই রাকাআত। আর জুম'আর পর তিনি গৃহে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত নামায পড়িতেন না। (গৃহে ফিরিলে) অতঃপর দুই রাকাআত পড়িতেন।

    Book 9 · Hadith 75 · #377 · Sahih
  70. 70

    রেওয়ায়ত ৭০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমরা কি ধারণা কর যে, আমার কিবলা শুধু এই স্থানেই (আমি শুধু সামনের দিকেই দেখি, যেদিকে আমার কিবলা)? আল্লাহর কসম, তোমাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ এবং তোমাদের রুকু (কোনটাই) আমার নিকট গোপন নহে। অবশ্যই আমি আমার পশ্চাৎ দিক হইতেও তোমাদিগকে দেখি।

    Book 9 · Hadith 76 · #378 · Sahih
  71. 71

    রেওয়ায়ত ৭১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে এবং সওয়ার হইয়া কুবা'তে তশরীফ আনিতেন।

    Book 9 · Hadith 77 · #379 · Sahih
  72. 72

    রেওয়ায়ত ৭২. নুমান ইবন মুররা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ শারাবী, চোর এবং ব্যভিচারী সম্পর্কে তোমাদের কি মত? আর এই প্রশ্ন করা হয় ইহাদের সম্পর্কে কোন হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে। তাহারা উত্তর দিলেন, আল্লাহ্ ও তাহার রাসূল অধিক জ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেনঃ ইহা ঘৃণ্য ও জঘন্য পাপ কাজ, এই সবের সাজা রহিয়াছে। আর যে ব্যক্তি নিজের নামায চুরি করে, সেই চুরি হইতেছে সর্বাপেক্ষ বড় চুরি। তাহারা (সাহাবীগণ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপন নামায চুরি করে কিরূপে। তিনি বলিলেনঃ সে নামাযের রুকু এবং সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করে না।

    Book 9 · Hadith 78 · #380 · Sahih Lighairihi
  73. 73

    রেওয়ায়ত ৭৩. উরওয়াহ ইবনুয যুবায়র (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কিছু নামায ঘরে আদায় করিও।

    Book 9 · Hadith 79 · #381 · Sahih Lighairihi
  74. 74

    রেওয়ায়ত ৭৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ রুগ্ন ব্যক্তি সিজদা করিতে না পারিলে মাথা দ্বারা শুধু ইশারাই করবে, আর কপালের দিকে কোন বস্তু উত্তোলন করবে না।

    Book 9 · Hadith 80 · #382 · Mauquf Sahih
  75. 75

    রেওয়ায়ত ৭৫. রবী’আ ইবন আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, লোকজন নামায সমাপ্ত করিয়াছেন, এই অবস্থায় আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মসজিদে পৌছিলে তিনি ফরয নামায আরম্ভ করিতেন এবং উহার পূর্বে অন্য কোন নামায পড়িতেন না।

    Book 9 · Hadith 81 · #383 · Mauquf Sahih Lighairihi
  76. 76

    রেওয়ায়ত ৭৬. নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একবার এক ব্যক্তির নিকট দিয়া যাইতেছিলেন। সেই ব্যক্তি নামায পড়িতেছিল। তিনি সেই ব্যক্তিকে সালাম করিলেন। সেই ব্যক্তি وعليكم السلام ورحمة الله বাক্য দ্বারা সালামের উত্তর দিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার নিকট প্রত্যাগমন করিয়া বলিলেনঃ নামাযরত অবস্থায় যদি তোমাদের কাহাকেও সালাম করা হয়, তবে সে সালাম করিবে না বরং হাতের ইশারায় উত্তর দিবে।

    Book 9 · Hadith 82 · #384 · Mauquf Sahih
  77. 77

    রেওয়ায়ত ৭৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি কোন নামায ভুলিয়া যায়, তারপর সেই নামাযের কথা আর স্মরণ হয় নাই, কিন্তু স্মরণ হইয়াছে এমন সময় যখন ইমামের সাথে, তবে ইমাম সালাম ফিরাইলে পর সে (প্রথমে) যে নামায ভুলিয়াছে উহা পড়িয়া লইবে, তারপর অন্য নামায (যাহা ইমামের সহিত পড়িয়াছিল) পড়িবে।

    Book 9 · Hadith 83 · #385 · Mauquf Sahih
  78. 78

    রেওয়ায়ত ৭৮. ওয়াসি ইবন হারবান (রহঃ) বলেনঃ আমি নামায পড়িতেছিলাম, তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কিবলার প্রাচীরের সহিত পিঠ লাগাইয়া বসা ছিলেন। আমি নামায সমাপ্ত করার পর তাহার নিকট গেলাম, আমার বাম দিকে ফিরিয়া। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তোমাকে ডানদিক হইয়া ফিরিতে কিসে বাধা দিল? ওয়াসি’ (রহঃ) উত্তরে বলিলেনঃ আমি আপনাকে আমার বাম দিকে বসা দেখিয়া আপনার দিকে ফিরিলাম। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি ঠিক করিয়াছ। হয়ত এক ব্যক্তি বলিবেঃ তুমি ডান দিক হইয়া ফির। অতঃপর তুমি যখন নামায পড়, যেদিক দিয়া তোমার ইচ্ছা হয় সেইদিক দিয়া ফিরিও, ডানদিক দিয়া হউক বা বামদিক দিয়া।

    Book 9 · Hadith 84 · #386 · Mauquf Sahih
  79. 79

    রেওয়ায়ত ৭৯. জনৈক মুহাজির আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেনঃ আমি উটের বিশ্রামাগারে (যাহা সাধারণত পানির নিকট হয়) নামায পড়িতে পারি কি? তিনি বলিলেন, না, তবে ছাগলের বসার স্থানে নামায পড়িতে পার।

    Book 9 · Hadith 85 · #387 · Mauquf Daif
  80. 80

    রেওয়ায়ত ৮০. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন- সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কোন নামায এরূপ যাহার প্রতি রাকাআতে বসিতে হয়? অতঃপর (উত্তরে) সাঈদ বলিলেনঃ উহা মাগরিবের নামায, যখন তোমার উহা হইতে এক রাকাআত ছুটিয়া যায় অর্থাৎ ইমামের সঙ্গে এক রাকাআত না পাইলে তাহাকে সেই রাক’আত আদায় করিতে হইবে, তখন প্রতি রাকাআতেই বসিতে হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সব নামাযেই এইরূপ নিয়ম।

    Book 9 · Hadith 86 · #388 · Maqtu Sahih
  81. 81

    রেওয়ায়ত ৮১. আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার কন্যা যয়নব (রাঃ)-এর মেয়ে উমামাকে উঠাইয়া নামায পড়িতেন। উমামার পিতা হইতেছেন আবুল আস ইবন রবিআ ইবন আবদ শামস। হযরত গ্ৰ সিজদা করার সময় তাহাকে রাখিয়া দিতেন, আবার উঠার সময় তাহাকে উঠাইয়া নিতেন।

    Book 9 · Hadith 87 · #389 · Sahih
  82. 82

    রেওয়ায়ত ৮২. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের মধ্যে ফেরেশতাগণ পালাবদল করিয়া আসা-যাওয়া করেন। একদল ফেরেশতা রাত্রে এবং আর একদল দিনে, আর আসর ও ফজরের নামাযে তাহারা একত্র হন। অতঃপর যাহারা রাত্রে তোমাদের মধ্যে ছিলেন, তাহারা উর্ধ্বলোকে চলিয়া যান। আল্লাহ্ তা'আলা আপন বান্দাদের অবস্থা অধিক জ্ঞাত, তবুও তিনি ফেরেশতাগণকে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা আমার বান্দাগণকে কি অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছ? উত্তরে ফেরেশতাগণ বলেন, আমরা তাহাদিগকে নামাযরত অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছি এবং আমরা যখন তাঁহাদের নিকট গমন করিয়াছিলাম তখনও তাহারা নামাযে রত ছিলেন।

    Book 9 · Hadith 88 · #390 · Mauquf Sahih
  83. 83

    রেওয়ায়ত ৮৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আবু বকরকে বলিয়া দাও, তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু বকর আপনার স্থানে দাঁড়াইলে কান্নার জন্য লোকে তাহার আওয়াযই শুনিতে পাইবে না। কাজেই আপনি লোকের ইমামতি করার জন্য উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ প্রদান করুন। তিনি বলিলেনঃ আবু বকরকে বলিয়া দাও তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি হাফসাকে বলিলাম তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বল, আবু বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াইবেন, কান্নার জন্য লোকে তাহার আওয়ায শুনিতে পাইবে না, কাজেই লোকের ইমামতি করার জন্য উমর (রাঃ)-কে বলুন। হাফসা (রাঃ) উহা করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার উত্তরে বলিলেনঃ তোমরা অবশ্যই ইউসুফ (আঃ)-এর সঙ্গিনী নারীদের মত। আবু বকরকেই বলিয়া দাও, তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। (এই উত্তর শুনিয়া) হাফসা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেনঃ আমি তোমার নিকট হইতে কোন মঙ্গল লাভ করি নাই।

    Book 9 · Hadith 89 · #391 · Sahih
  84. 84

    রেওয়ায়ত ৮৪. উবায়দুল্লাহ ইবন আদী ইবন খিয়ার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকের (সাহাবীগণের) মধ্যে বিরাজমান ছিলেন। এমন সময় একজন লোক তাহার খিদমতে উপস্থিত হইলেন এবং তাহার সহিত চুপে চুপে কথা বললেন। সেই ব্যক্তি চুপে চুপে কি যে বললেন তাহা আমরা জানিতে পারিলাম না। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু উচ্চস্বরে আলাপ করিতে আরম্ভ করিলেন, তখন আমরা জানিতে পারিলাম যে উক্ত ব্যক্তি মুনাফিকদের মধ্য হইতে জনৈক মুনাফিককে কতল করার অনুমতি প্রার্থনা করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু জোরে কথা বলিতে আরম্ভ করিলেন এবং আগন্তুককে প্রশ্ন করিলেনঃ সেই মুনাফিক ব্যক্তিটি কি এই কথার সাক্ষ্য দেয় নাই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল? সেই ব্যক্তি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু তাহার শাহাদত বিশ্বাসযোগ্য নহে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেনঃ সে কি নামায পড়ে না? আগন্তুক বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তাহার নামায নির্ভরযোগ্য নহে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহারাই সেই লোক, যাহাদের (হত্যা করা) হইতে আল্লাহ আমাকে বিরত রাখিয়াছেন।

    Book 9 · Hadith 90 · #392 · Sahih
  85. 85

    রেওয়ায়ত ৮৫. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ হে আল্লাহ্! আমার কবরকে পূজ্য মূর্তি বানাইও না। সেই সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহর ক্ষোভ প্রবল হইয়াছে, যে সম্প্রদায় তাহাদের নবীগণের কবরকে মসজিদ বা সিজদার জায়গা বানাইয়া লইয়াছে।

    Book 9 · Hadith 91 · #393 · Sahih Lighairihi
  86. 86

    রেওয়ায়ত ৮৬. মাহমুদ ইবন লবীদ আনসারী (রহঃ) বলেনঃ উতবান ইবন মালিক (রাঃ) আপন সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করিতেন, তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আরজ করিলেনঃ আমাকে অনেক সময় অন্ধকার, বৃষ্টি ও স্রোতের সম্মুখীন হইতে হয়, আর আমি হইলাম দুর্বল দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন লোক, তাই হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার গৃহের কোন স্থানে নামায পড়ুন, আমি উহাকে নামাযের স্থান নির্ধারণ করিব। তাহার আবেদন রক্ষার্থে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার গৃহে পদার্পণ করিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, কোন স্থানে নামায পড়া তুমি পছন্দ কর। তিনি ইশারায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি নির্দিষ্ট স্থান তাহার গৃহ হইতে দেখাইলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই স্থানে নামায পড়িলেন।

    Book 9 · Hadith 92 · #394 · Hasan
  87. 87

    রেওয়ায়ত ৮৭. আব্বাদ ইবন তামীম (রহঃ) তাহার চাচা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে চিৎ হইয়া শায়িত দেখিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পা অপর পায়ের উপর রাখিয়াছিলেন। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব ও উসমান ইবন আফফান (রাঃ) উভয়ে অনুরূপ করিতেন।

    Book 9 · Hadith 93 · #395 · Sahih
  88. 88

    রেওয়ায়ত ৮৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে সম্বোধন করিয়া বলিয়াছেনঃ তুমি এমন এক যুগে বাস করিতেছ, যে যুগে ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ অনেক আলিম রহিয়াছেন, কারী আছেন কম (অর্থাৎ আমল ও জ্ঞান ছাড়া কেবল কুরআন পাঠকারীদের সংখ্যা অতি অল্প)। এই যুগে কুরআনের আদেশ নিষেধ প্রভৃতি হিফাযত করা হয়, শব্দের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয় কম, ভিক্ষুকের সংখ্যা কম, দাতার সংখ্যা বেশি, নামায পড়েন দীর্ঘ আর খুতবা পাঠ করেন ছোট। সে যুগে প্রবৃত্তি বা খাহেশাতের তাবেদারীর পূর্বে তাহারা আমল আরম্ভ করিয়া দেন। অদূর ভবিষ্যতে মানুষের উপর এমন এক যুগ আসিবে, সে যুগে ফুকাহা (বিজ্ঞ) উলামা হইবেন অল্প। কারিগণ হইবেন অনেক, কুরআনের শব্দসমূহের হিফাযত করা হইবে, অপরদিকে আহকামে কুরআনকে বরবাদ করা হইবে (আমলের প্রতি নযর দিবে কম)। سائل বা ভিক্ষুক হইবে অনেক, দাতার সংখ্যা হইবে অল্প। খুতবা লম্বা প্রদান করিবে আর নামায পড়িবে মুখতাসার, আমলের নয়, খাহেশাত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হইবে।

    Book 9 · Hadith 95 · #396 · Mauquf Sahih
  89. 89

    রেওয়ায়ত ৮৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, বান্দার আমল হইতে সর্বপ্রথম যে আমলের প্রতি নযর করা হইবে, উহা হইতেছে নামায, অতঃপর তাহার নামায যদি কবুল করা হয়, তবে অন্যান্য আমলের প্রতি নযর দেয়া হইবে। আর যদি নামায তাহার গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে তাহার আমলের কোন কিছুর প্রতি নযর দেওয়া হইবে না।

    Book 9 · Hadith 96 · #397 · Maqtu Daif
  90. 90

    রেওয়ায়ত ৯০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সেই আমল ছিল সর্বাধিক প্রিয়, যে আমল উহার সম্পাদনকারী সর্বদা সম্পাদন করিয়া থাকে।

    Book 9 · Hadith 97 · #398 · Sahih
  91. 91

    রেওয়ায়ত ৯১. সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেনঃ দুইজন লোক পরস্পর ভাই ভাই, (ঘটনাক্রমে) তাঁহাদের মধ্যে এক ভাই মৃত্যুবরণ করেন অপর ভাইয়ের চল্লিশ রাত্রি পূর্বে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে প্রথম (মৃত্যুবরণকারী) ভাইয়ের ফযীলত আলোচিত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ দ্বিতীয় ভাই কি মুসলিম ছিলেন না? (উপস্থিত) সাহাবীগণ বলিলেনঃ হ্যা (তিনিও মুসলিম ছিলেন), ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আর তিনি মন্দলোক ছিলেন না। (ইহা শ্রবণ করার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমরা জান না, তাহার নামায তাহাকে কোন স্তরে পৌছাইয়াছে। অবশ্য নামাযের দৃষ্টান্ত হইল তোমাদের একজনের দ্বারে অবস্থিত গভীর, পরিপূর্ণ সুমিষ্ট পানির নহরের মত। উক্ত নহরে দৈনিক পাঁচবার যে অবগাহন করে ইহাতে তোমার কি ধারণা, তাহার দেহে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকিবে? অবশ্য তোমরা জান না যে, তাহার নামায তাহাকে মর্যাদার কোন স্তরে নিয়া পৌছাইয়াছে।

    Book 9 · Hadith 98 · #399 · Sahih
  92. 92

    রেওয়ায়ত ৯২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর (অভ্যাস ছিল) মসজিদে ক্রয়-বিক্রয়কারী কোন ব্যাক্তি তাহার নিকট দিয়া গমন করিলে সেই ব্যক্তিকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিতেনঃ তোমার সঙ্গে কি এবং তোমার উদ্দেশ্য কি? যদি সে তাহার নিকট বলিত যে, সে উহা বিক্রয় করিতে চায়, তবে তিনি বলিতেনঃ তুমি দুনিয়ার বাজারে গমন কর, কারণ এইটি হইল আখিরাতের বাজার।

    Book 9 · Hadith 99 · #400 · Maqtu Daif
  93. 93

    রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) মসজিদের পার্শ্বে একটি চত্বর তৈয়ার করিয়াছিলেন, যাহাকে বলা হইত বুতায়হা (بطيحاء)। তিনি ঘোষণা করিয়া দিয়াছিলেন, যে ব্যক্তি অনর্থক কথা বলিতে অথবা কবিতা আবৃত্তি করিতে অথবা উচ্চস্বরে কথা বলিতে চায়, সে যেন সেই চত্বরে চলিয়া যায়।

    Book 9 · Hadith 100 · #401 · Mauquf Daif
  94. 94

    রেওয়ায়ত ৯৪. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, একজন নযদবাসী লোক এলোমেলো কেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসিলেন। আমরা তাহার স্বরের গুঞ্জন শুনিতেছিলাম। কিন্তু তিনি কি বলিতেছিলেন তাহা বুঝা যাইতেছিল না। আবশেষে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অতি নিকটে আসিলেন। তখন তিনি ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করিতেছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহার প্রশ্নের উত্তরে) বলিলেনঃ দিন-রাতে পাঁচবার নামায। সে বলিলঃ ইহা ছাড়া আমার উপর আর কোন কিছু (নামায) আছে কি? তিনি বলিলেনঃ না, অবশ্য তুমি যদি স্বেচ্ছায় (নফল) পড়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এবং রমযান মাসের রোযা। সে বলিলঃ ইহা ছাড়া আমার উপর (আর কোন রোযা) আছে কি? তিনি বলিলেনঃ না, অবশ্য তুমি যদি স্বেচ্ছায় রাখ। তালহা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের উল্লেখ করিয়াছেন। সেই ব্যক্তি বলিলঃ ইহা ছাড়া আমার উপর আর কোন কিছু আছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ না, তবে যদি তুমি নফলরূপে দাও। তালহা (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর সেই ব্যক্তি এই বলিতে বলিতে ফিরিয়া গেলঃ কসম আল্লাহর আমি ইহার উপর বেশিও করিব না এবং ইহা হইতে কমও করিব না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এই ব্যক্তি সফলকাম হইল, যদি সে সত্য বলিয়া থাকে।

    Book 9 · Hadith 101 · #402 · Sahih
  95. 95

    রেওয়ায়ত ৯৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের একজন যখন ঘুমায়, তখন শয়তান তাহার ঘাড়ে তিনটি গিট লাগায়। প্রতিটি গিটের স্থলে সে এই বলিয়া মন্ত্রণা দেয় তোমার জন্য দীর্ঘ রাত্রি রহিয়াছে, তাই ঘুমাইতে থাক। যদি সে ব্যক্তি জাগ্রত হয় এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তবে একটি গিট খুলিয়া যায়, অতঃপর সে যদি ওযু করে তবে আর একটি গিট খুলিয়া যায়, তারপর সে যদি নামায পড়ে আর একটি গিট খুলিয়া যায়, ফলে সে প্রভাত করে উৎফুল্ল ও কলুষমুক্ত আত্মা লইয়া। অন্যথায় সে প্রভাত করে কলুষিত আত্মা লইয়া অলসতা সহকারে।

    Book 9 · Hadith 102 · #403 · Sahih
সব বিষয় · Muwatta Malik