The Book of Prayers
- 1
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমরা মদীনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করতেন। এজন্যে কেউ আযান দিত না। একদিন ব্যাপারটি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তাদের একজন বলল, নাসারাদের নাকুসের অনুরূপ একটি নাকুস (ঘন্টা) ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলল, ইয়াহুদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার কর। উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমরা সালাতের জন্যে ডাকতে একটি লোক পাঠাও না কেন? রাসূলুল্লাহ বললেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হে বিলাল! উঠো এবং সালাতের জন্যে ডাক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 1 · #719 - 2
খালাফ ইবনু হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) কে আযানের শব্দ জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাতের শব্দ বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইয়াহইয়া তার বর্ণনায় ইবনু উলাইয়্যাহ এর সূত্রে বলেছেন, তিনি আইয়ূব এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেন, কিন্তু 'কাদ্কা- মাতিস্ সলা-হ্' শব্দটি ব্যতীত (এটি দু'বার বলবে) বাকী শব্দগুলো একবার করে বলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 2 · #720 - 3
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (লোকেদের) সালাতের সময় জানানোর উদ্দেশে একটা কিছু নির্দিষ্ট করার জন্যে সাহাবাগণ পরস্পর আলোচনা করলেন। তারা বললেন, আগুন জ্বালানো হোক অথবা নাকুস (ঘণ্টা) বাজানো হোক। বিলালকে আযানের শব্দগুলো দু’বার এবং ইকামাতের শব্দগুলো একবার করে উচ্চারণ করার নির্দেশ দেয়া হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 3 · #721 - 4
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... খালিদ আল হাযযা হতে উল্লেখিত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন লোকসংখ্যা বেড়ে গেল, সাহাবাগণ সালাতের সময় জানানোর একটি উপায় খুঁজে বের করার জন্যে পরস্পর আলোচনা করলেন ..... অতঃপর সাকাকী-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। এ বর্ণনায় أَنْ يُنَوِّرُوا نَارًا শব্দের পরিবর্তেأَنْ يُورُوا نَارًا শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে। (অর্থাৎ "আগুন জ্বালানো হোক" উভয় শব্দের অর্থ একই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 4 · #722 - 5
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) কে আযান জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাত বেজোড় সংখ্যায় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 5 · #723 - 6
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মালিক ইবনু আবদুল ওয়াহিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ মাহযুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এ আযান শিক্ষা দিয়েছেনঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান)। পাঠে (চারবার)। "আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই), "আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই)। "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল), "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ", "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ-" দু'বার। "হাইয়্যা আলাস সলা-হ" (সালাতের জন্যে এসো) দু'বার। "হাইয়্যা 'আলাল ফালা-হ" (কল্যাণের জন্যে এসো) দু'বার। ইসহাক তার বর্ণনায় আরো দুটি বাক্য উল্লেখ করেছেন, "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" এবং “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 6 · #724 - 7
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দু'জন মুওয়াযযিন ছিলঃ বিলাল (রাযিঃ) এবং অন্ধ আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 7 · #725 - 8
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকেও (উপরের হাদীসের) অবিকল বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 8 · #726 - 9
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু মাকতুম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মতিতে আযান দিতেন। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ৭৪৪)।
Book 4 · Hadith 9 · #727 - 10
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) এর উল্লিখিত সনদ পরম্পরায় হিশাম থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 10 · #728 - 11
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রভাতে শক্রর উপর আক্রমণ করতেন। তিনি আযানের শব্দ শুনার জন্যে কান পেতে অপেক্ষায় থাকতেন। তিনি আযান শুনতে পেলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন, অন্যথায় আক্রমণ করতেন। তিনি এক ব্যক্তিকে "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" বলতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তি মুসলিম। সে পুনরায় বলল, "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেলে। অতঃপর লোকটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলেন, সে মেষপালের রাখাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 11 · #729 - 12
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুওয়াযযিন যা বলে তোমরা তাই-ই বল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 12 · #730 - 13
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্যে আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা, ওয়াসীলাহ জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা করবে তার জন্যে (আমার) শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 13 · #731 - 14
ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন “আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। যখন মুওয়াযযিন বলে "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" এর জবাবে সেও বলেঃ "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ" এর জবাবে সে বলেঃ "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "হাইয়্যা আলাস সলা-হ" এর জবাবে সে বলেঃ “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "হাইয়্যা 'আলাল ফালা-হ" এর জবাবে সে বলেঃ “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ "আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার" এর জবাবে সে বলেঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" এর জবাবে সে বলেঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 14 · #732 - 15
মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মুওয়াযযিনের আযান শুনে যে ব্যক্তি বলে, "আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু, লা- শারীকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু, ওয়া রাসূলুহু, রাযীতু বিল্লা-হি রব্বান ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলান ওয়াবিল ইসলামী দীনন" তার গুনাহ মাফ করা হবে। কুতাইবাহ তার হাদীসে وَأَنَا শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 15 · #733 - 16
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান সালাতের আযানের শব্দ শুনে পালাতে পালাতে রাওহা পর্যন্ত চলে যায়। সুলাইমান (আমাশ) বলেন, আমি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ স্থানটি মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 17 · #734 - 17
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আমাশ হতে এ সনদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ নেই)
Book 4 · Hadith 18 · #735 - 18
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান যখন সালাতের আযান শুনতে পায় তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে যেন আযানের শব্দ তার কানে পৌঁছতে না পারে। মুওয়াযযিন যখন আযান শেষ করে তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীর) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। সে পুনরায় যখন ইকামাত শুনতে পায় আবার চলে যায় যেন এর শব্দ তার কানে না যেতে পারে। যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীদের অন্তরে) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 19 · #736 - 19
আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন আযান দেয় তখন শইতান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 20 · #737 - 20
উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিসতাম (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বানু হারিসাহ গোত্রের কাছে পাঠালেন। রাবী বলেন, আমার সাথে একটি বালক অথবা আমার এক সাথী ছিল। একটি বাগানের ভিতর থেকে তার নাম ধরে কে যেন তাকে ডাকল। আমার সাথী বাগানের মধ্যে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল, কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। আমি এ ঘটনা আমার পিতার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আমি যদি জানতে পারতাম যে তুমি এমন অবস্থার মুখামুখি হবে তবে তোমাকে পাঠাতাম না, কিন্তু যখন তুমি সেরূপ কোন শব্দ শুনতে পাও তখন সালাতের অনুরূপ আযান দিবে। কেননা আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয় শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 21 · #738 - 21
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয়, শয়তান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যেন আযানের শব্দ সে শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। ইকামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং সালাত আদায়কারীদের মনে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ কর, এটা স্মরণ কর। সে কথাগুলো সালাতের আগে তার স্মরণও ছিল না। শেষ পর্যন্ত সালাত আদায়কারী দ্বিধায় পড়ে যে, সে বলতেও পারে না যে, কত রাকাআত পড়ল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 22 · #739 - 22
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনার শেষের অংশ নিম্নরূপঃ এমনকি লোকের খেয়ালই থাকে না যে, সে কিভাবে সালাত শেষ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 23 · #740 - 23
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, 'আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখেছি- যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি রুকূ’তে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার সময়ও এরূপ করতেন। কিন্তু তিনি দুই সাজদার মাঝখানে হাত উঠাতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 24 · #741 - 24
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন নিজের দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, অতঃপর তাকবীর তাহরীমা বলতেন। তিনি রুকু’তে যাওয়ার সময় এবং রুকূ’ থেকে উঠার সময়ও কাঁধ পর্যন্ত দুই (আল্লাহু আকবার) হাত তুলতেন। কিন্তু সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি (এরূপ) করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 25 · #742 - 25
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কুহযায (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে ইবনু জুরায়জ (রহঃ) এর অবিকল বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, দুই হাত কাঁধ বরাবর উচু করতেন, অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীরে তাহরীমা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 26 · #743 - 26
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কিলাবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মালিক বিন হুওয়াইরিস (রাযিঃ) কে দেখলেন যে, তিনি যখন রুকু’তে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখনও উভয় হাত উত্তোলন করলেন এবং যখন রুকূ’ থেকে মাথা তুললেন তখনো হাত উত্তোলন করলেন। তিনি আরো বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 27 · #744 - 27
আবূ কালিম আল জাহদারী (রহঃ) ..... মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর বলতেন, কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন "সামি'আল্ল-হ লিমান হামিদাহ" বলতেন এবং অনুরূপ (কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন) করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 28 · #745 - 28
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কানের লতি বরাবর হাত তুলতে দেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 29 · #746 - 29
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) তাদের সালাত আদায় করে দেখাতেন। তিনি প্রতিবার ঝুঁকে পড়ার সময় এবং সোজা হওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। তিনি সালাত শেষে বলতেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সালাত আদায় করতে পারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 30 · #747 - 30
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ বাকর ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন 'আল্লাহু আকবার' বলে সালাত শুরু করতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকু’তে যেতেন। তিনি রুকু থেকে পিঠ সোজা করে দাঁড়ানাের সময় سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেন আল্লাহ তার কথা শুনে থাকেন) বলতেন। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আল্লাহ! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা) বলতেন। তিনি তাকবীর সিজদা থেকে মাথা তোলার সময়ও তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাক'আতে সালাত শেষ করা পর্যন্ত তিনি এরূপই করতেন। দ্বিতীয় রাকাআতে বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করতে পারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 31 · #748 - 31
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে সালাত শুরু করতেন। ..... উপরের (ইবনু খুরায়য-এর) হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ বর্ণনায় আবূ হুরাইরার কথা, "আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করতে পারি" কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 32 · #749 - 32
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। মারওয়ান যখন আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে মদীনায় খলীফা নিযুক্ত করলেন- তিনি যখন ফরয সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে শুরু করতেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। উক্ত হাদীসেই রয়েছে, তিনি সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে মসজিদে উপস্থিত লোকেদের দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ সালাত আদায় করতে পারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 33 · #750 - 33
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সালাতের মধ্যে যখনই ঝুঁকতেন অথবা উঠতেন তাকবীর বলতেন। আমরা বললাম, হে আবূ হুরাইরাহ! এটা কিসের তাকবীর? তিনি বললেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের তাকবীর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 34 · #751 - 34
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রতিবার উঠা-বসায় তাকবীর বলতেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 35 · #752 - 35
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মুতাররিফ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সাজদায় যেতেন আল্লাহু আকবার বলতেন, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখনও "আল্লাহু আকবার" বলতেন এবং দুই রাকাআত পূর্ণ করে (তাশাহুদ পড়ার পর) উঠার সময়ও 'আল্লাহু আকবার' বলতেন। আমরা যখন সালাত শেষ করলাম, ইমরান (রাযিঃ) আমার হাত ধরে বললেন, তিনি (আলী) আমাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করালেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বললেন, তিনি (‘আলী) আমাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 36 · #753 - 36
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (সালাতে) সূরাহ্ ফা-তিহাহ্ পাঠ করে না তার সালাতই হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 37 · #754 - 37
আবূ তাহির, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করে না তার সালাতই হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 38 · #755 - 38
আল হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে লোক উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করে না তার সালাতই হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 39 · #756 - 39
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং 'আবদ ইবনু হুমায়দ এর সূত্রে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন 'আবদুর রাযযাক। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মামার যুহরী হতে উক্তরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ নেই)
Book 4 · Hadith 40 · #757 - 40
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে উন্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করেনি তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেল, পূর্ণাঙ্গ হল না। এ কথাটা তিনবার বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করব তখন কী করব? তিনি বললেন, তোমরা চুপে চুপে তা পড়ে নাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমার এবং আমার বান্দার মাঝে আমি সালাতকে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি এবং আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। বান্দা যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য), আল্লাহ তা'আলা তখন বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ বান্দা আমার প্রশংসা করেছে, গুণগান করেছে। সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে আল্লাহ আরো বলেনঃ বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার উপর সমর্পণ করেছে। সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন। এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। (এখন) আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের আপনি নি'আমাত দান করেছেন, তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃ এসবই আমার বান্দার জন্যে এবং আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়। সুফইয়ান বলেন, আমি 'আলা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ইয়াকূবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে এ হাদীস বর্ণনা করে শুনান। এ সময় তিনি রোগশয্যায় ছিলেন এবং আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 41 · #758 - 41
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে সূরাহ ফা-তিহাহ্ পাঠ করল না … সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ। তাদের উভয়ের হাদীসে রয়েছে, মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি, এর অর্ধেক আমার এবং আর অর্ধেক আমার বান্দার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 42 · #759 - 42
আহমাদ ইবনু জা'ফার আল মাফিরী (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সালাত আদায় করল, কিন্তু তাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করল না- তার এ সালাত ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। তাদের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 43 · #760 - 43
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কুরআন পাঠ ছাড়া সালাতই হয় না। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সালাতে কিরাআত উচ্চস্বরে পাঠ করেছেন আমরাও তাতে তোমাদের জন্য উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করি। তিনি যে সালাতে চুপে চুপে কিরাআত পাঠ করেছেন আমরাও তাতে তোমাদের জন্য চুপে চুপে কিরাআত পাঠ করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 44 · #761 - 44
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, সালাতের প্রতি রাকাআতে কুরআন থেকে পাঠ হবে (আমরা পাঠ করি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সালাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করেছেন, আমরাও সে সালাতে তোমাদের শুনিয়ে কুরআন পাঠ করি এবং যে সালাতে চুপিসারে কুরআন পাঠ করেছেন সে সালাতে আমরাও চুপিসারে কুরআন পাঠ করি। একজন লোক তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি যদি সূরাহ ফা-তিহার বেশি না পড়ি তবে কি আমার সালাত যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, তুমি যদি সূরাহ ফাতিহার পর আরো আয়াত পাঠ কর তবে এটা তোমার জন্য কল্যাণকর আর যদি তুমি সূরাহ ফা-তিহাহ্ পাঠ করেই থেমে যাও তবে সেটাও তোমার জন্য যথেষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 45 · #762 - 45
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পাঠ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সালাতে আমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে তোমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করি। তিনি যে সালাতে আওয়াজ না করে চুপিসারে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে তোমাদের না শুনিয়ে নিম্নস্বরে কিরাআত পাঠ করি। যে ব্যক্তি সূরাহ ফাতিহাহ পাঠ করল তা তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আরো সূরাহ পাঠ করল, এটা তার জন্য বেশি ভাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 46 · #763 - 46
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, অতঃপর এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে এসে তাকে সালাম দিলে তিনি তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেনঃ যাও পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতোই সালাত আদায় করল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে তাকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ওয়া 'আলাইকাস সালাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ যাও তুমি পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তোমার সালাত আদায় হয়নি। তিনি পরপর তিনবার তাকে এ রকম নির্দেশ দিলেন। অতঃপর লোকটি বলল, সে সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন; আমি এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যখন সালাতে দাঁড়াও, তাকবীর বল, অতঃপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাজে সহজ মনে হয় তা থেকে পাঠ কর। অতঃপর রুকূ’তে যাও এবং শান্তভাবে রুকু’তে থাক। অতঃপর রুকূ’ থেকে সোজা মনে দাঁড়াও, অতঃপর সাজদায় যাও এবং সাজদার মধ্যে শান্তভাবে থাক, অতঃপর সিজদা থেকে উঠে আরামে বস। সমস্ত সালাত তুমি এভাবে আদায় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 47 · #764 - 47
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে। এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদের) এক প্রান্তে বসা ছিলেন, হাদীসের পরবর্তী অংশ পূর্বের হাদীসের মতোই। কিন্তু এ বর্ণনায় আরো আছেঃ তুমি যখন সালাত আদায় করার ইচ্ছা পোষণ কর তখন ভাল করে ওযু করে নাও। অতঃপর কিবলামুখী হও, অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার বল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 48 · #765 - 48
সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যুহর অথবা আসর এর সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে আমার পিছনে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى (সুরাহ আলা) পাঠ করেছ? এক ব্যক্তি বলল, আমি। এর মাধ্যমে কল্যাণই কামনা করেছিলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছ থেকে কুরআন ছিনিয়ে নিচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 49 · #766 - 49
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন। এক লোক তার পিছনে সূরাহ “সাব্বিহিসমা রাবিকাল আ'লা" পাঠ করল। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ কে সূরাহ পাঠ করেছে? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেনঃ আমি অনুসন্ধান করেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) পাঠ ছিনিয়ে নিচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 50 · #767 - 50
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) ছিনিয়ে নিচ্ছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 51 · #768 - 51
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর (রাযিঃ), 'উমার (রাযিঃ) ও উসমান (রাযিঃ) এর সাথে সালাত আদায় করেছি। আমি তাদের কাউকে “বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম" (সশব্দে) পড়তে শুনিনি (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 52 · #769 - 52
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি উপরের হাদীসটি আনাস (রাযিঃ) এর কাছে সরাসরি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরা তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদের এ হাদীস শুনান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 53 · #770 - 53
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী ..... 'আবদাহ থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু খাত্তাব এ কথাগুলি উচ্চস্বরে পড়েতেন অর্থাৎ "হে আল্লাহ! তোমারই পবিত্রতা বর্ণনা করি এবং তোমারই শুকর আদায় করি, তোমার নাম বড়ই বারাকাতপূর্ণ, তোমার মর্যাদা সর্বোচ্চ, তুমি ছাড়া আর কেউ মা'বূদ নেই।" কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) তাকে বলেছেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ), 'উমার (রাযিঃ), উসমান (রাযিঃ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তারা সকলে সালাতে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ দিয়ে শুরু করতেন। তারা কিরাআতের শুরুতেও بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ পড়তেন না, শেষেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 54 · #771 - 54
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান (রহঃ) ..... ইসহাক ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 55 · #772 - 55
‘আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ তার উপর অচৈতন্য ভাব চেপে বসল। অতঃপর তিনি মুচকি হেসে মাথা তুললেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কি? তিনি বললেনঃ এ মাত্র আমার উপর একটি সূরাহ অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি পাঠ করলেনঃ বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম'৷ নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে কাওসার দান করেছি। অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় কর এবং কুরবানী দাও। তোমার কুৎসা রটনাকারীরাই মূলত শিকড়কাটা, নির্মূল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান কাওসার কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা ঝর্ণা। আমার মহান প্রতিপালক আমাকে তা দেয়ার জন্য ওয়া'দা করেছেন। এর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে, আমার উম্মতের লোকেরা কিয়ামতের দিন এ হাওযের পানি পান করতে আসবে। এ হাওযে রয়েছে তারকার মত অসংখ্য পানপাত্র (গ্লাস)। এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। আমি তখন বলবঃ প্রভু! সে আমার উম্মতেরই লোক। আমাকে তখন বলা হবে, তুমি জান না, তোমার মৃত্যুর পর এরা কী অভিনব কাজ (বিদ'আত) করেছে। ইবনু হুজরের বর্ণনায় আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে আমাদের কাছে এসেছেন এবং আল্লাহ বলবেন, এ ব্যক্তি আপনার পরে বিদ'আত চালু করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 56 · #773 - 56
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু মুসহির বর্ণিত (উপরোল্লিখিত) হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অচেতন ভাব দেখা গেল। ..... ইবনু মুসহির এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, কাওসার একটি সুন্দর ঝর্ণার নাম। আমার প্রতিপালক জান্নাতের এ ঝর্ণাধারা আমাকে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। এ বর্ণনায় "তারকার মতো অসংখ্য পানপাত্রের' কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 57 · #774 - 57
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলেন, তিনি সালাত শুরু করার সময় দুই হাত তুললেন এবং তাকবীর বললেন। হাম্মামের বর্ণনায় আছে, তিনি দুই হাত কান পর্যন্ত উঠালেন; অতঃপর চাঁদরে ঢেকে নিলেন এবং ডান হাত বা হাতের উপর রাখলেন। তিনি যখন রুকু’তে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের করলেন, অতঃপর উভয় হাত উত্তোলন করলেন, অতঃপর তাকবীর বলে রুকু’তে গেলেন, তিনি যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বললেন দু'হাত উঠালেন। তিনি যখন সাজদায় গেলেন, দু' হাতের মাঝখানে সিজদা করলেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 58 · #775 - 58
যুহারর ইবনু হারব, উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করার সময় (বৈঠকে) বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেনঃ বস্তুত আল্লাহ নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলে, "আত্তাহিয়াতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত তাইয়িবা-তু আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকুহু আসসালা-মু 'আলাইনা- ওয়া'আলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন" অর্থাৎ "যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক।” যখন সে এ কথাগুলো বলে, তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌছে যায়, সে আসমানে বা জমিনেই থাক। (অতঃপর বলবে) "আশ্বহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসূলুহু" অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল।" অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দু'আ পড়তে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 59 · #776 - 59
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় "অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দু'আ পড়তে পারে" এ কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 60 · #777 - 60
আবদ ইবনু হুমায়দ এর সনদে মানসূর হতে একই হাদীস অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় শেষ অংশ হচ্ছেঃ অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দু’আ পড়তে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 61 · #778 - 61
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাতের মধ্যে বসতাম... মানসূরের হাদীসের অনুরূপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হলোঃ তারপর সে যে কোন দু'আ পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 62 · #779 - 62
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাত তার উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন, (অধস্তন রাবী আবদুল্লাহ ইবনু সাখবারাহ বলেন), অন্যান্যরা যেরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি (ইবনু মাসউদ) অনুরূপ তাশাহ্হুদের বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 63 · #780 - 63
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যা-তুল মুবা-রাকা-তুস্ সলাওয়া-তুত তাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হিস্ সালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান্ নাবিইয়্যু ওয়ারহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকা-তুহ আসসালা-মু 'আলাইনা ওয়া'আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন, আশ্হাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ। অর্থাৎ "যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা, প্রাচুর্য, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী। আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।" ইবনু রুমহ এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি যেভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 64 · #781 - 64
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন, সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 65 · #782 - 65
সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ কামিল আল জাহদারী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী (রহঃ) ... হিত্তান ইবনু আবদুল্লাহ আর রাকাশী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহ্হুদে বসলেন, জামা'আতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, সালাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে। রাবী বলেন, আবূ মূসা (রাযিঃ) সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নীরব থাকল। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, হে হিততান সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি (হিত্তান) বললেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্য রেগে যান কি-না! এমন সময় লোকেদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, আমি এরূপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবূ মূসা (রাযিঃ) বললেন, নিজেদের সালাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সালাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন “গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওয়ালায যোল্লীন" বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকু’তে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলবে, তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বলবে, আল্লাহ তোমাদের এ কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষায় বলছেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজদা থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সিজদা ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ আত্তাহিয়াতুত তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান নবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ আসসালামু 'আলাইনা- ওয়া'আলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।" অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর দাস ও তাঁর দূত।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 66 · #783 - 66
আবূ বাকর আবূ শাইবাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ….. কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রেও একই হাদীস বর্ণনা হয়েছে। জারীর সুলাইমানের সূত্রে কাতাদার এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় আরো আছে, ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাক। আবূ আওয়ানার সূত্রে কেবল আবূ কামিলের বর্ণনা ছাড়া আর কোন রাবীর বর্ণনায় এ কথাগুলো নেইঃ মহান আল্লাহ তার নবীর কণ্ঠে বলছেন, "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ"। আবূ ইসহাক বলেন, আবূ নাযর-এর বোনের ছেলে আবূ বকর বলেছেন, এ হাদীসটির সমালোচনা করা হলে ইমাম মুসলিম তাকে বললেন, সুলাইমানের চেয়েও কি বড় হাফিয কেউ আছে? আবূ বাকর তাকে বললেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এ বর্ণনা সম্পর্কে আপনার কী মত? তিনি বললেন, তার বর্ণনা সহীহ ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা চুপ থাক। ইমাম মুসলিম বলেন, এ হাদীস আমার মতে সহীহ। আবূ বাকর বললেন, তাহলে আপনার কিতাবে তা যোগ করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি যেটা সহীহ মনে করি শুধু তাই আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করা জরুরী মনে করি না। বরং যেসব হাদীস সহীহ বলে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি কেবল তাই আমার কিতাবে সংকলন করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 67 · #784 - 67
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষায় বলেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 68 · #785 - 68
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন সা'দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) এর বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। বাশীর ইবনু সা'দ (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আপনার উপর দুরূদ পাঠ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করব? রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আফসোস করে বললাম, সে যদি তাকে এ প্রশ্ন না করত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা বল- "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ফিল আলামীন। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ" অর্থাৎ "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করো— যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো— যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।" আর সালাম দেয়ার নিয়ম যা তোমরা ইতিপূর্বে জেনেছ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 69 · #786 - 69
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, আমরা বললাম, আমরা আপনাকে কিভাবে সালাম করব তা জানতে পেরেছি কিন্তু আপনার উপর কিভাবে দুরূদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমর বল, আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইত আলা- আ-লি ইবরহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা রা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- বা-রাকতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার বংশধরদের উপর ঐরূপ রহমত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম (আঃ) এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার বংশধরদের উপর ঐরূপ বারাকাত নাযিল কর যেমনটি করেছিলে ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 70 · #787 - 70
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হাকাম হতে এ সনদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু মিসআরের বর্ণনায় আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না' কথাটুকু নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 71 · #788 - 71
মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার (রহঃ) ..... হাকাম হতে এ সনদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে "ওয়া বা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন" উল্লেখ করেছেন এবং "আল্লাহুম্মা" শব্দের উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 72 · #789 - 72
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু নুমায়র ও আমর ইবনু সুলায়ম বলেন, আবূ হুমায়দ আস সাইদী আমাকে অবহিত করেছেন যে, তারা (সাহাবাগণ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার উপর কিভাবে দুরূদ পড়বো? তিনি বললেনঃ বল, "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা- সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা-বা-রকতা আলা- আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" অর্থাৎ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার বিবিগণ এবং তার বংশধরগণের প্রতি রহমত বর্ষণ কর, যেভাবে তুমি রহমত বর্ষণ করেছ ইবরাহীম (আঃ) এর পরিজনের প্রতি- তুমি বারাকাত নাযিল কর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার বিবিগণের প্রতি যেভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 73 · #790 - 73
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরূদ পড়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 74 · #791 - 74
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বল। কেননা যার এ কথা মালায়িকাদের (ফেরেশতাদের) কথার সাথে মিলে যাবে তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 75 · #792 - 75
কুতাইবা ইবনু সা'ঈদ (রহঃ) ...... এ সানাদেও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 76 · #793 - 76
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন "আ-মীন' বলে, তোমরাও তখন "আ-মীন' বল। কেননা যার "আ-মীন' বলা মালায়িকাদের (ফেরেশতাদের) "আ-মীন' বলার সাথে মিলে যাবে তার আগেকার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ইবনু শিহাব বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "আ-মীন' বলতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 77 · #794 - 77
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ..... উপরের (মালিকের) হাদীসের অবিকল। কিন্তু এ বর্ণনায় ইবনু শিহাবের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 78 · #795 - 78
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ সালাতে আ-মীন' বলল এবং আকাশমণ্ডলীর মালায়িকারাও (ফেরেশতারাও) "আ-মীন' বলল। একজনের "আ-মীন' এর সাথে আরেকজনের "আ-মীন মিলে গেল। তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 79 · #796 - 79
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ আল কানবী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন "আ-মীন' বলে এবং আকাশমণ্ডলীর মালায়িকারাও (ফেরেশতারাও) "আ-মীন' বলে। উভয়ের "আ-মীন যদি একই সাথে মিলে যায়, তবে আল্লাহ তার আগের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 80 · #797 - 80
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারী (ইমাম) যখন সালাতে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ বলে তখন তার পিছনের লোকেরাও (মুক্তাদীগণ) آمِينَ (আ-মীন) বলবে। তাদের এ কথা আকাশমণ্ডলীর অধিবাসী মালায়িকাদের কথার সাথে একত্রে উচ্চারিত হলে, তাদের (মুক্তাদী) পিছনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 82 · #798 - 81
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তার শরীরের ডানপাশ আহত হল। আমরা তাকে দেখতে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। তিনি আমাদের নিয়ে বসে বসে সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার পিছনে বসে বসে সালাত আদায় করলাম। তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ ইমাম এজন্যই বানানো হয় যে, তার অনুসরণ করা হবে। অতএব সে যখন আল্লাহু আকবার বলে তোমরাও "আল্লাহু আকবার" বল। সে যখন সিজদা করে, তোমরাও সিজদা কর। সে যখন হাত উচু করে দাঁড়ায় তোমরাও হাত উঁচু করে দাঁড়াও। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে, তোমরা তখন "রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বল। সে যখন বসে সালাত আদায় করে (ইমামতি করে), তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 83 · #799 - 82
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হলেন। তিনি বসে বসে আমাদের সালাত আদায় করালেন। ...... অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 84 · #800 - 83
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তার শরীরের ডানপাশ আহত হল। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে, ইমাম যখন দাঁড়িয়ে পড়ে, তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 85 · #801 - 84
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ায় সওয়ার হলেন। তিনি এর পিঠ থেকে নিচে পড়ে গেলেন। ফলে তার শরীরের ডানপাশ আঘাতপ্রাপ্ত হল। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছেঃ সে (ইমাম) যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 86 · #802 - 85
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন। এতে তার শরীরের ডানপাশে আঘাত পেলেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় ইউনুস ও মালিকের বর্ধিত বর্ণনাটুকু নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 87 · #803 - 86
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ হলেন। সাহাবাদের কিছু সংখ্যক লোক তাকে দেখতে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে বসে সালাত আদায় করলেন। তারা তার সাথে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে শুরু করলে তিনি তাদেরকে ইশারায় বললেনঃ তোমরা বসে যাও। তারা বসে গেলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সে যখন রুকু’তে যাবে তোমরাও তখন রুকু’তে যাবে। সে যখন মাথা উঠাবে তোমরাও তখন মাথা উঠাবে। সে যখন বসে বসে সালাত আদায় করবে তোমরাও বসে বসে সালাত আদায় করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 88 · #804 - 87
আবূ রাবী' আয যাহরানী, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) হতে উপরোল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 89 · #805 - 88
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা তার পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) লোকদেরকে তার তাকবীর জোরে শুনিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে খেয়াল করে আমাদেরকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি আমাদের ইশারা করলেন। সেজন্য আমরা বসে গেলাম। আমরা তার সাথে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি বললেনঃ তোমরা পারস্য ও রোমের (সাম্রাজ্যের) লোকেদের মতোই করতে যাচ্ছিলে। তাদের বাদশারা বসে থাকে আর তারা দাঁড়িয়ে থাকে। তোমরা কখনো এমন করো না। সবসময় তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করবে। সে যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। সে যদি বসে সালাত আদায় করে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 90 · #806 - 89
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করালেন। আবূ বকর (রাযিঃ) তার পিছনেই ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাকবীর বললেন, আবূ বাকর আমাদেরকে শুনিয়ে জোরে তাকবীর বললেন। ..... হাদীসের অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 91 · #807 - 90
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ইমাম এজন্য নিযুক্ত করা হয় যে, তার অনুসরণ করা হবে, তোমরা কখনো তার উল্টো করো না। সে যখন আল্লাহু আকবার বলে, তোমরাও "আল্লাহু আকবার বলো। সে যখন রুকু করে, তোমরাও তখন রুকূ’ করো। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে তোমরাও তখন আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। সে যখন সাজদায় যায়, তোমরাও তখন সাজদায় যাও। সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 92 · #808 - 91
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছ থেকে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 93 · #809 - 92
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে (সালাতের) শিক্ষা দিয়ে বলতেনঃ ইমামের আগে কোন কাজ করে না। সে যখন ‘আল্লাহু আকবার বলে, তোমরা আল্লাহু আকবার বলো। সে যখন, “ওয়ালায যোয়া-ল্লীন বলে, তোমরাও তখন আ-মীন বলো। সে যখন রুকু’তে যায়, তোমরাও তখন রুকু’তে যাও। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরা তখন 'আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 94 · #810 - 93
কুতাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনায় ইমামের ‘ওয়ালায যোয়া-ল্লীন' বলার পর "আ-মীন' বলার কথা উল্লেখ নেই। তবে এতে আরো আছে, তোমরা ইমামের আগে হাত উঠাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 95 · #811 - 94
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম ঢাল স্বরূপ। সে যখন বসে বসে সালাত আদায় করে তোমরাও বসে বসে সালাত আদায় করো। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে তোমরা তখন 'আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। জমিনবাসীর কথা আকাশমণ্ডলীর (ফেরেশতার) কথার সঙ্গে একত্রে উচ্চারিত হলে আল্লাহ তার (বান্দার) পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 96 · #812 - 95
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম এজন্য নিয়োগ করা হয় যে, তার অনুসরণ করা হবে। সে যখন তাকবীর বলে- তোমরাও তাকবীর বলো। সে যখন সিজদা করে, তোমরাও সিজদা করো। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে- তোমরা তখন “আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বলো। সে যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো। সে যখন বসে সালাত আদায় করে তোমরাও সবাই মিলে বসে সালাত আদায় করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 97 · #813 - 96
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বললাম, আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর (মৃত্যুকালীন) রোগের অবস্থা বর্ণনা করবেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসুস্থতা বেড়ে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা সালাত আদায় করেছে কি? আমরা বললাম, না, আল্লাহর রাসুল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করলেন, অতঃপর উঠতে গিয়ে বেহুশ হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, না তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার জন্য পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করলেন। অতঃপর তিনি উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেনঃ আমার জন্য পাত্রে করে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযু করে উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনার অপেক্ষায় আছে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, লোকেরা ইশার সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অপেক্ষায় বসেছিল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ বকরের কাছে লোক পাঠালেন। সংবাদ বাহক (আবূ বকরের কাছে) এসে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) ছিলেন খুবই কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি বললেন, হে উমার! লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করো। উমর (রাযিঃ) বললেন, এজন্য আপনিই অধিক উপযুক্ত। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এ কয়দিন আবূ বকর (রাযিঃ) সালাত আদায় করালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুটা সুস্থ হলেন। তিনি দু'জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যুহরের সালাত আদায় করতে বের হলেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বাস (রাযিঃ)। ইতিমধ্যে আবূ বকর (রাযিঃ) লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করে দিয়েছিলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) তাঁকে আসতে দেখে পিছে সরে আসতে উদ্যত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারায় বললেনঃ পিছনে হটে এসো না। তিনি তাদের উভয়কে বললেন, আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাকে আবূ বকর (রাযিঃ)-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুকরণে সালাত আদায় করলেন এবং লোকেরা আবূ বাকর (রাযিঃ) এর অনুকরণে সালাত আদায় করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসেই সালাত আদায় করলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর কাছে গিয়ে তাকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসুখ সম্পর্কে আয়িশাহ (রাযিঃ) যা বলেছেন, আমি কি তা আপনার সামনে পেশ করব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, বলো। আমি তার কাছে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর দেয়া বিবরণ তুলে ধরলাম। তিনি সামান্যতমও দ্বিমত করলেন না। শুধু বললেন, "আব্বাস (রাযিঃ) এর সাথে যে অপর ব্যক্তি ছিল, তিনি কি তোমাকে তার নাম বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হচ্ছেন আলী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 98 · #814 - 97
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম মাইমূনাহ (রাযিঃ)-এর ঘরে রোগাক্রান্ত হন। তিনি সেবা-শুশ্ৰুষার জন্য তার [আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর] ঘরে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের স্ত্রীদের অনুমতি চাইলেন। তারা তাকে অনুমতি দিলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি এক হাত ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাঁধের উপর রেখে এবং অপর হাত অন্য এক ব্যক্তির কাঁধের উপর রেখে সামনে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে) গেলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর কাছে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি জানো, আয়িশাহ (রাযিঃ) যার নাম বলেননি তিনি কে? তিনি হলেন ‘আলী (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 99 · #815 - 98
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং উত্তরোত্তর তা বাড়তে থাকল, তিনি তার স্ত্রীদের কাছে সেবা শুশ্ৰুষার জন্য আমার ঘরে আসার এবং থাকার অনুমতি চইলেন। তারা তাকে অনুমতি দিলেন। তিনি আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) এবং অপর এক ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে মাটিতে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (মসজিদে সালাত আদায় করতে) গেলেন। উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর বর্ণনা ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট পেশ করলাম। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে বললেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) যে (দ্বিতীয়) ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি তুমি তাকে চিনতে পেরেছ কি? উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, না। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তিনি হলেন ‘আলী (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 100 · #816 - 99
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসুস্থকালীন অনুপস্থিতিতে আবূ বকর (রাযিঃ)-কে ইমাম নিযুক্ত করার ব্যাপারে] আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে বারবার কথা কাটাকাটি করেছি। কোন লোক অধিকাংশ সময় তার স্থলাভিষিক্ত হোক এ উদ্দেশে আমি কথা কাটাকাটি করিনি। আমার ধারণা ছিল যে, যে ব্যক্তি তার স্থলাভিষিক্ত হবে তাকে লোকেরা ভালবাসবে না এবং তাকে তারা অশুভ কুলক্ষণ বলে মনে করবে। সুতরাং আমি চেয়েছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ বকর (রাযিঃ)-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা থেকে যেন বিরত থাকেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 101 · #817 - 100
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ অবস্থায় আমার ঘরে এসে বললেনঃ আবূ বকরকে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর (রাযিঃ) হলেন কোমল হৃদয়ের লোক। কুরআন পাঠ করার সময় তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারবেন না। আপনি যদি আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমার আশঙ্কা ছিল, লোকেরা কুলক্ষণ মনে করবে যে, এ সে ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি দু'-তিনবার আমার কথার পুনরাবৃত্তি বললাম। কিন্তু তিনি আগের মতই বললেনঃ আবূ বকর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুক। তোমরা তো ইউসুফ (আঃ)-এর ঘটনার মহিলাদের মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 102 · #818 - 101
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... 'আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বিলাল (রাযিঃ) এসে তাকে সালাতের কথা জানালেন। তিনি বললেনঃ আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো। বর্ণনাকারী [আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর (রাযিঃ) কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবে লোকেদের (কিরাআত) শুনাতে পারবেন না। আপনি যদি 'উমার (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিতেন। বর্ণনাকারী 'আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি হাফসাহ (রাযিঃ) কে বললাম- তুমিও তাকে বলো। হাফসাহ্ তাকে বলল, 'আবূ বকর কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবে, লোকদের (কিরাআত) শুনাতে সক্ষম হবেন না। আপনি যদি 'উমার (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিতেন! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা তো দেখছি ইউসুফের সাখী মহিলাদের মতই। আবূ বাকরকে লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করতে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। বর্ণনাকারী ['আয়িশাহ (রাযিঃ)] বলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দু’ব্যক্তির কাধে ভর দিয়ে (মসজিদে) রওয়ানা হলেন। তার দু'পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মাটিতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি যখন মসজিদে ঢুকলেন আবূ বাকর (রাযিঃ) তার আগমন অনুভব করে পিছে সরে আসতে প্রস্তুত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারায় বললেনঃ নিজের স্থানে দাড়িয়ে থাকো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে আবূ বাকরের বাম পাশে বসলেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে বসে লোকেদের সালাত আদায় করালেন এবং আবূ বাকর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাতের সাথে অনুসরণ করলেন আর লোকেরা আবূ বাকরের সালাতের অনুসরণ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 103 · #819 - 102
মিনজাব ইবনু আল হারিস আত তামীমী ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আমাশ (রহঃ) হতে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক ও মিনজাবের বর্ণনায় আছেঃ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর মৃত্যুর রোগে আক্রান্ত হলেন।" ইবনু মুসহিরের বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিয়ে আসা হলো এবং তার (আবূ বাকরের) পাশে বসিয়ে দেয়া হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের সালাত আদায় করালেন এবং আবূ বাকর তাদেরকে তাকবীর শুনালেন। ঈসার বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসলেন এবং লোকেদের সালাত আদায় করালেন। আবূ বাকর তার পাশেই ছিলেন। আবূ বাকর লোকেদের মুকাব্বির হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 104 · #820 - 103
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অসুস্থাবস্থায় আবূ বকরকে লোকেদের সালাতের ইমামতি করার নির্দেশ দিলেন। এ সময় তিনি তাদের সালাত আদায় করাতেন। উরওয়াহ্ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। তিনি সালাত আদায় করার জন্য বের হলেন। তখন আবূ বকর (রাযিঃ) লোকেদের ইমামতি করছিলেন। আবূ বকর (রাযিঃ) তার আগমন বুঝতে পেরে পিছু হটতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারায় বললেনঃ যেভাবে আছ সেভাবেই থাকো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোজাসুজি আবূ বাকরের পাশে বসে গেলেন। সালাতের মধ্যে আবূ বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করলেন এবং লোকেরা আবূ বাকরের অনুসরণ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 105 · #821 - 104
আমর আন নাকিদ ও হাসান আল হুলওয়ানী এবং আবদ ইবনু হুমায়দ ... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রোগে ইন্তিকাল করেন তাতে রোগাক্রান্ত হওয়াকালীন সময়ে আবূ বাকর (রাযিঃ) তাদের সালাতের ইমামতি করতেন। সোমবার দিন যখন লোকেরা সালাতের লাইনে দাঁড়ানো ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ঘরের পর্দা সরিয়ে দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তার মুখমণ্ডল মুসহাফ তথা কুরআনের পাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসলেন। আমরা সালাতের মধ্যে থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমন অনুভব করে খুশীতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। আবূ বাকর (রাযিঃ) অনুমান করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের জন্য বের হচ্ছেন। তাই তিনি লাইনে মিলিত হওয়ার জন্য পিছনে সরে আসছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নিজের হুজরায়) প্রবেশ করে পর্দা ছেড়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঠিক এ দিন ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 106 · #822 - 105
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সোমবার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে শেষবারের মতো দেখেছি, যখন তিনি (জানালার) পর্দা সরিয়ে ছিলেন। এ মর্মে সালিহ-এর হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 107 · #823 - 106
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সোমবার দিন হলো, ..... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 108 · #824 - 107
মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন দিন যাবৎ আমাদের কাছে আসতে পারেননি। সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলো। আবূ বাকর (রাযিঃ) সামনে এগুতে যাচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের হুজরার পর্দা উঠাতে বলে তিনি নিজেই তা উঠিয়ে ফেললেন। আমাদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারা দেখা গেল। তিনি যখন আমাদের জন্য দেখা দিলেন, তার চেহারা এত সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, আমরা ইতোপূর্বে কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি। রাবী (আনাস) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের হাতের ইশারায় আবূ বকরকে সামনে এগিয়ে যেয়ে সালাত পড়াতে বললেন। অতঃপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্দা টেনে দিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি আর বাইরে বের হতে পারেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 109 · #825 - 108
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং তা দিন দিন বাড়তে লাগল। তিনি বললেনঃ আবূ বকর (রাযিঃ)-কে লোকেদের সালাতে ইমামাত করতে বলো। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রাযিঃ) নরম হৃদয়ের মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকদের সালাত পড়ানোর শক্তি তার নেই। তিনি বললেন, আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও, সে যেন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। তোমরা তো ইউসুফের ঘটনা সংক্রান্ত মহিলাদের মতই। রাবী বলেন, অতঃপর আবূ বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবিত থাকাবস্থায় তাদের সালাতে ইমামাত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 110 · #826 - 109
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ আস্ সাইদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বানী 'আমর ইবনু আওফ গোত্রের মধ্যে (তাদের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। সালাতের সময় হয়ে আসলো। মুয়াযযিন এসে আবূ বকর (রাযিঃ)-কে বলল, আপনি কি লোকেদের সালাত আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামাত দেই। তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) সালাত আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে গেলেন। তখন লোকেরা সালাত আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবূ বাকর (রাযিঃ) সালাতরত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশী তালি বাজাতে লাগল, তিনি এদিকে ফিরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো। আবূ বকর (রাযিঃ) তার দু'হাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর আবূ বকর (রাযিঃ) পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করালেন। সালাত সমাপ্ত করে তিনি বললেন, হে আবূ বাকর! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপস্থিতিতে আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য সালাতে ইমামাত করা কক্ষনো মানায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সালাতে কোন কিছু ঘটলে সে সুবহানাল্লাহ' বলবে। সে যখন সুবহানাল্লাহ বলল তখনই ইমামের কিছু আকর্ষণ করা হলো মহিলারাই কেবল তাসফীহ (হাততালি) দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 111 · #827 - 110
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে মালিক-এর সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রের শেষের বর্ণনাটুকু হচ্ছেঃ 'আবূ বকর (রাযিঃ) উভয় হাত উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর উল্টো হয়ে পিছে চলে আসলেন এবং লাইনে শামিল হলেন' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 112 · #828 - 111
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বাযী (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ আস সাইদী (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বানী 'আমর ইবনু আওফ গোত্রের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করতে গেলেন। ..... পরবর্তী বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পিছনের লাইন ভেঙ্গে সামনের লাইনে আসলেন। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) উল্টো পিঠে পিছনে চলে আসলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 113 · #829 - 112
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুগীরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতের আগে পায়খানায় গেলেন এবং আমি তার সাথে পানির পাত্র নিয়ে গেলাম, তিনি যখন পায়খানা থেকে ফিরে আমার কাছে আসলেন, আমি তার উভয় হাতে পাত্র থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি তার উভয় হাত তিনবার ধুলেন। অতঃপর তিনি মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর জুব্বার হাতা উপরের দিকে উঠিয়ে তার মধ্য থেকে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার হাতা অপ্রশস্ত থাকায় তা সম্ভব হলো না। তিনি নিজের উভয় হাত জুব্বার ভিতরে টেনে নিয়ে তা জুব্বার নীচের দিক দিয়ে বাইরে বের করলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর মোজার উপর মাসাহ করলেন। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। মুগীরাহ (রাযিঃ) বলেন, আমিও তার সাথে সাথে অগ্রসর হলাম। আমরা পৌছে দেখলাম, লোকেরা আবদুর রহমান ইবনু আওফকে সামনে দিয়ে (তাকে ইমাম বানিয়ে) সালাত আদায় করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাকাআত পেলেন। তা তিনি তাদের সাথে জামাআতে আদায় করলেন। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) সালাম ফিরানোর পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অবশিষ্ট সালাত পূর্ণ করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। তারা অত্যধিক পরিমাণে তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম শেষ করে তাদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা সঠিক কাজ করেছ। তিনি খুশীর সাথে বললেনঃ তোমরা নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 114 · #830 - 113
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... হামযাহ ইবনু মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে আব্বাদ (রাযিঃ)-এর হাদীদের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুগীরাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি আবদু রহমান ইবনু ‘আওফকে পিছনে সরিয়ে আনার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 115 · #831 - 114
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ‘আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং মহিলাদের জন্য তাসফীক (হাততালি)। হারমালাহ্ তার বর্ণনায় আরো বলেছেন, ইবনু শিহাব বলেছেন, আমি কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ আলিমকে দেখেছি তারা তাসবীহ বলতেন এবং ইশারা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 116 · #832 - 115
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 117 · #833 - 116
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এ সূত্রেও পূর্বের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রেفِي الصَّلاَةِ “সালাতের মধ্যে" কথাটুকু উল্লেখ আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 118 · #834 - 117
আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা আল হামদানী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শেষ করে পিছনে ফিরে বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তি! তুমি কি সুষ্ঠুভাবে তোমার সালাত আদায় করবে না? সালাত আদায়কারী কিভাবে তার সালাত আদায় করে তা কি সে দেখে না? কেননা, সে নিজের উপকারের জন্যই সালাত আদায় করে। আল্লাহর শপথ আমি সামনের দিকে যেভাবে দেখতে পাই পিছনেও সে মতই দেখতে পাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 119 · #835 - 118
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি মনে করছ আমি শুধু আমার কিবলামুখী হয়ে আছি? আল্লাহর শপথ! তোমাদের রুকু’-সিজদা কিছুই আমার কাছে গোপন নয়। আমি আমার পিছন থেকেও তোমাদের দেখতে পাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 120 · #836 - 119
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা রুকু’-সিজদা ঠিকভাবে আদায় করো। আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখি। আবার কখনো তিনি বলেছেনঃ তোমরা যখন রুকু’-সিজদা করো, আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 121 · #837 - 120
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ রুকু’-সিজদা ঠিকভাবে আদায় করো। আল্লাহর শপথ! তোমরা যখনই রুকু’-সিজদা করো, আমি আমার পিছন থেকে তোমাদের দেখতে পাই। সাঈদের বর্ণনায় আছেঃ যখন তোমরা রুকু ও সিজদা করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 122 · #838 - 121
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করালেন। তিনি সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে বলেনঃ হে লোকেরা! আমি তোমাদের ইমাম। অতএব, তোমরা আমার আগে রুকু’-সাজদায়, উঠা-বসা করবে না অতঃপর তিনি বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! আমি যা দেখতে পাই, তোমরাও যদি তা দেখতে পেতে তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি দেখতে পান? তিনি বললেনঃ আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখতে পাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 123 · #839 - 122
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে وَلاَ بِالاِنْصِرَافِ কথাটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 124 · #840 - 123
খালাফ ইবনু হিশাম, আবূ রাবী' আয যাহরানী ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (রুকু’-সিজদা থেকে) ইমামের আগে মাথা উঠায় তার কী (এ কাজের জন্য) ভয় হয় না যে, আল্লাহ তার মাথা গাধার মাথার মতো করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 125 · #841 - 124
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে ইমামের আগে মাথা তোলে, আল্লাহ তার আকৃতিকে গাধার আকৃতির মতো করে দিবেন- এ ব্যাপারে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করছে নাকি? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 126 · #842 - 125
আবদুর রহমান ইবনু সাল্লাম আল জুমাহী, আবদুর রাহমান ইবনু রাবী' ইবনু মুসলিম ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয, আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে রাবী' ইবনু মুসলিম-এর বর্ণনায় এ হাদীসের শেষের অংশ নিম্নরূপঃ আল্লাহ তার মুখমণ্ডল গাধার মুখমণ্ডলের মতোই করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 127 · #843 - 126
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যেসব লোক সালাতের মধ্যে আকাশের দিকে তাকায় তাদের এমন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 128 · #844 - 127
আবূ তাহির ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ লোকেদের উচিত, তারা যেন সালাতের মধ্যে দু'আর সময় আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 129 · #845 - 128
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের হাত উঠাতে দেখি কেন? মনে হয় যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। ধীরস্থিরভাবে সালাত আদায় করো, নড়াচড়া করো না। রাবী বলেন, তিনি আরেক দিন বের হয়ে আমাদের গোলাকারে দেখে বললেনঃ আমি তোমাদের পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন দেখছি কেন? রাবী বলেন, তিনি পুনরায় বের হয়ে এসে বললেনঃ মালায়িকারা (ফেরেশতারা) যেভাবে তাদের প্রতিপালকের সামনে লাইন বেঁধে দাড়ায় তোমরা কি সেভাবে লাইন বাধবে না? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে কাতারবন্দী হন? তিনি বললেনঃ তারা প্রথম লাইন (আগে) পূর্ণ করে এবং পরস্পরের সাথে মিলে দাঁড়ায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 130 · #846 - 129
আবূ সাঈদ আশাজ্জ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সনদেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 131 · #847 - 130
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতাম তখন, 'আসসালা-মু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ' 'আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ' বলে সালাত শেষ করতাম। তিনি (জাবির) হাত দিয়ে উভয় দিকে ইশারা করে দেখালেন। (অর্থাৎ- সালামের সাথে সাথে হাতে ইশারাও করা হত)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা (সালামের সময়) দুষ্ট ঘোড়ার লেজ ঘুরানোর মতো দু'হাত দিয়ে ইশারা করো কেন? তোমরা উরুর উপর হাত রেখে ডানে-বায়ে মুখ ফিরিয়ে তোমাদের ভাইদের সালাম দিবে। এরূপ করাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 132 · #848 - 131
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছি। আমরা যখন সালাম ফিরাতাম হাত দিয়ে ইশারা করে বলতাম, আসসালা-মু আলাইকুম, আসসালা-মু 'আলাইকুম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেনঃ কি ব্যাপার তোমরা হাত দিয়ে ইশারা করছ, মনে হচ্ছে যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। তোমাদের কেউ যখন সালাম করে সে যেন তার সাথের লোকের দিকে ফিরে সালাম করে এবং হাত দিয়ে ইশারা না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 133 · #849 - 132
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের সময় আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেনঃ তোমরা সোজাসুজি দাঁড়াও এবং আগে পিছে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে দাঁড়িও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তর মতভেদে লিপ্ত হয়ে পড়বে। বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে। অতঃপর এ গুণে যারা তাদের নিকটবর্তী তারা পর্যায়ক্রমে এদের কাছাকাছি দাঁড়াবে। আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, কিন্তু আজকাল তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ-বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 134 · #850 - 133
ইসহাক, ইবনু খাশরাম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু উয়াইনাহ হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 135 · #851 - 134
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী ও সালিহ ইবনু হাতিম ইবনু ওয়ারদান (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ও জ্ঞানী লোকেরা আমার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাদের কাছাকাছি যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা দাঁড়াবে। তিনি এ কথা তিনবার বলেছেন। সাবধান! তোমরা (মসজিদে) বাজারের মতো শোরগোল করবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 136 · #852 - 135
–(১২৪/৪৩৩) মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সালাতের লাইনগুলো সোজা কর। কেননা লাইন সোজা করা সালাত পুরোপুরিভাবে আদায় করার অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 137 · #853 - 136
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা সালাতের লাইন পূর্ণ কর। আমি আমার পিছন দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 138 · #854 - 137
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সালাতের লাইন সোজা করো। কেননা সঠিকভাবে লাইন সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 139 · #855 - 138
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা (সালাতে) নিজেদের লাইনগুলো অবশ্যই সোজা করে (দাঁড়াবে) সাজাবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখ-মণ্ডলকে বিকৃত করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 140 · #856 - 139
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের (সালাতের) লাইনগুলো সোজা করে দিতেন, মনে হত তিনি যেন কামানের কাঠ সোজা করছেন। যতক্ষণ না বুঝতে পারতেন যে, আমরা তার থেকে পুরোপুরি বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। অতঃপর তিনি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলতে যাবেন, এমন সময় দেখলেন এক ব্যক্তি কাতার থেকে সামনে এগিয়ে আছে, তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর বান্দাগণ তোমাদের লাইন সোজা কর, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মুখ-মণ্ডল বিকৃত করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 141 · #857 - 140
হাসান ইবনু রাবী' (রহঃ), আবূ বাকর ইবনু শইবাহ্ (রহঃ) ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ ‘আওয়ানাহ্ (রহঃ) হতে এ সনদে উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 142 · #858 - 141
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আযান দেয়া এবং প্রথম লাইনে দাঁড়ানোর মধ্যে যে কি মর্যাদা রয়েছে তা যদি মানুষ জানতে পারত, তবে তা পাবার জন্য তারা প্রয়োজনবোধে লটারী করত। দুপুরের সালাতের যে মর্যাদা রয়েছে তা যদি তারা জানতে পারত, তবে তারা এটা লাভ করার প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। ইশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে (তাদের জন্য) কি মর্যাদা রয়েছে তা যদি জানতে পারত তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এসে সালাতে উপস্থিত হত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 143 · #859 - 142
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কতিপয় সাহাবাকে প্রায়ই পিছনের লাইনে দাঁড়াতে দেখেন। তিনি তাদের বললেনঃ তোমরা সামনে এগিয়ে এসে আমার পিছনে অনুসরণ কর। তাহলে তোমাদের পূর্ববর্তীরা তোমাদের পিছনে অনুসরণ করবে। একদল লোক সবসময় দেরি করে এসে পিছনে দাঁড়ায়। আল্লাহর তাদেরকে (নিজের রহমত থেকে) পিছনে রাখবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 144 · #860 - 143
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল লোককে মসজিদে পিছনের দিকে বসে থাকতে দেখলেন ..... অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 145 · #861 - 144
ইবরাহীম ইবনু দীনার ও মুহাম্মাদ ইবনু হারব আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যদি জানতে অথবা তারা যদি জানত যে, সামনের লাইনে দাঁড়ানো কত কল্যাণকর; তাহলে তারা এটা লাভ করার জন্য লটারী করত। ইবনু হারব-এর বর্ণনায় প্রথম লাইনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে আরো আছেঃ তারা এ লাইনে স্থান লাভ করার জন্য লটারী করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 146 · #862 - 145
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের জন্য প্রথম লাইন উত্তম এবং শেষের লাইন মন্দ। মহিলাদের জন্য শেষের লাইন উত্তম এবং প্রথম লাইন মন্দ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 147 · #863 - 146
কুতাইবাহ ইবনু সা'ঈদ (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 148 · #864 - 147
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে পুরুষদেরকে তাদের লুঙ্গি খাটো হওয়ার কারণে বালকদের মতো কাঁধের সাথে গিট দিয়ে তহবন্দ গলায় বেঁধে পরিধান করতে দেখেছি। এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে নারী সমাজ! পুরুষদের মাথা উঠানোর আগে তোমরা মাথা উঠাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 149 · #865 - 148
আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... সলিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো স্ত্রী তার স্বামীর কাছে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে সে যেন তাকে নিষেধ না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 150 · #866 - 149
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের স্ত্রীরা মসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদের বাধা দিও না। রাবী (সালিম) বলেন, বিলাল ইবনু আবদুল্লাহ বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। রাবী (সালিম) বলেন, আবদুল্লাহ (রাযিঃ) তার দিকে ফিরে তাকে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করলেন। আমি তাকে এর আগে কখনো এভাবে গালিগালাজ করতে শুনিনি। তিনি আরো বলেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 151 · #867 - 150
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর বাদীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 152 · #868 - 151
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মহিলারা মসজিদে যাওয়ার জন্য তোমাদের কাছে অনুমতি চাইলে তাদেরকে অনুমতি দিও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 153 · #869 - 152
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা মসজিদে যেতে বাধা দিও না। আবদুল্লাহ ইবনু উমারের (রাযিঃ) এক ছেলে (বিলাল) বলল, আমরা তাদেরকে বের হতে দিব না। কেননা লোকেরা এটাকে ফ্যাসাদের রূপ দিবে। রাবী বলেন, ইবনু উমর (রাযিঃ) তাকে ধমক দিয়ে বললেন, আমি বলছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা তাদেরকে (বাইরে যেতে) ছেড়ে দিব না! (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 154 · #870 - 153
‘আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... আল আ'মাশ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 155 · #871 - 154
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদেরকে রাতের বেলা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিও। আবদুল্লাহ ইবনু উমারের ছেলে ওয়াকিদ তাকে (পিতাকে) বলল, এ সুযোগকে তারা বিপর্যয়ের কারণে পরিণত করবে। রাবী বলেন, এ কথা শুনামাত্র তিনি (ইবনু উমার) ওয়াকিদ এর বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস (নির্দেশ) বলছি, আর তুমি বলছ- না! (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 156 · #872 - 155
হারূন ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... বিলাল ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অধিকারে তোমরা বাধা দিও না। তারা যদি তোমাদের নিকট অনুমতি চায়। বিলাল বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। ইবনু উমার উত্তরে বললেনঃ আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ তাদেরকে অবশ্যই বাধা দিব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 157 · #873 - 156
হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... সাকীফ গোত্রের যাইনাব আস্ সাকাফিয়্যাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের (মহিলাদের) কেউ যখন ইশার সালাতে শামিল হতে চায়, ঐ রাতে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 158 · #874 - 157
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহর স্ত্রী যাইনাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমাদের কোন মহিলা যখন মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে (আসে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 159 · #875 - 158
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন স্ত্রীলোক সুগন্ধি দ্রব্যের ধোয়া গ্রহণ করে, সে যেন আমাদের সাথে ইশার সালাতে শামিল না হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 160 · #876 - 159
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কানাব (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান-এর কন্যা আমরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন। মহিলারা (সাজসজ্জার যেসব) নতুন পন্থা বের করে নিয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলো দেখলে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের মতো তাদেরকেও মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেন, আমি আমরাহকে জিজ্ঞেস করলাম, ইসরাঈল বংশের মহিলাদের কি মসজিদে আসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 161 · #877 - 160
মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না, আমর আন নাকিদ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) এর উল্লেখিত সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 162 · #878 - 161
আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনুস্ সাব্বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলার বাণী- “নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং খুব নীচুস্বরেও পড়বে না, (এর মাঝামাঝি আওয়াজে পড়বে)"— (সূরাহ বনী ইসরাঈল/ইসরা ১৭ঃ ১১০)। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় (লোকচক্ষুর অন্তরালে) গোপন জীবন-যাপন করছিলেন। অতঃপর তিনি সাহাবাদের নিয়ে যখন সালাত আদায় করতেন উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা যখন তা শুনতে পেত তারা কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং এটা নিয়ে আগমনকারীকে গালি দিত। মহান আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেনঃ "তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করো না।" তাহলে মুশরিকরা তোমার কিরাআত শুনে ফেলবে। “আর নীচু স্বরেও পাঠ করবে না”— তাহলে তোমার সাহাবারা তোমার কুরআন পাঠ শুনতে পাবে না। অবশ্য উচ্চস্বরেও পাঠ করবে না, বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি আওয়াজে পাঠ করবে। অর্থাৎ- উচ্চৈঃস্বর ও নিম্নস্বরের মাঝামাঝি স্বরে পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 163 · #879 - 162
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী- “নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং নীচুস্বরেও পড়বে না"- এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দু'আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (অর্থাৎ- দু'আ খুব উচ্চস্বরেও করবে না এবং খুব নিম্নস্বরেও করবে না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 164 · #880 - 163
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ)-এর সূত্রে উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 165 · #881 - 164
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণী- "তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওয়াহী আবূত্তি করবেন না"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিবরীল (আঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ করতেন তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা ও ঠোট নাড়তেন। এটা তার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ত। তার অবস্থা থেকেই এটা বুঝা যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “এ ওয়াহী খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়া আমারই দায়িত্ব"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। অর্থাৎ- এটা তোমার অন্তরে পুঞ্জিভূত করে দেয়া এবং তোমাকে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো”— (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। অর্থাৎ- এ ওয়াহী আমি অবতীর্ণ করছি, তুমি তা মনোযোগ সহকারে শুন। এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব। "তোমার মুখ দিয়ে তা বলানো আমার দায়িত্ব"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৯)। এরপর থেকে যখন জিবরীল (আঃ) তার কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতেন, তিনি মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মহান আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 166 · #882 - 165
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ "এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না” – (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তিনি তা আয়ত্ব করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে তার ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার ঠোট নাড়ালেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) যেভাবে ঠোট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি সাঈদ (রহঃ) নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করলেনঃ “এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহবা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার" - (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। অর্থাৎ- তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। অর্থাৎ- "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তার অনুসরণ করতে থাকো" – (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো এবং চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।” এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) ওয়াহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল (আঃ) চলে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পাঠ হুবহু পড়তেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 167 · #883 - 166
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার একদল সাহাবাকে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওনা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শয়তানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা (জ্বলন্ত আগুনের টুকরা) নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। এদের মধ্যে একদল তিহামাহ প্রদেশের পথ ধরে উকায বাজারের উদ্দেশে বের হলো। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাখলাহ নামক স্থানে তার সাহাবাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলল, আমাদের এবং আসমানের খবরাদির মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, 'হে আমাদের জাতির লোকেরা! "আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ (কুরআন) শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শারীক করব না”— (সূরাহ জিন ৭২ঃ ১-২)। এ ঘটনার পর আল্লাহ তা'আলা তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ "বলো আমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে....."— (সূরাহ জিন ৭২ঃ ১) নাযিল করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 168 · #884 - 167
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি "আলকামাকে প্রশ্ন করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে ইবনু মাসউদ (রাঃ) কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলেন? রাবী বলেন, "আলকামাহ (রহঃ) বললেন, আমি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আপনাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ না, তবে আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা পাহাড়ের উপত্যকায় এবং গিরিপথে তাকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। আমরা মনে করলাম, হয় জিনেরা তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে অথবা কেউ তাকে গোপনে মেরে ফেলেছে। রাবী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, এ রাতটি আমাদের জন্য এতই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে, মনে হয় কোন জাতির উপর এমন রাত কখনো আসেনি। যখন ভোর হলো, আমরা তাকে হেরা পর্বতের দিক থেকে আসতে দেখলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেললাম এবং অনেক খোজাখুজি করেও আপনার কোন সন্ধান পেলাম না। তাই সারারাত আমরা চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি। মনে হয় এরূপ দুর্ভাগ্যজনক রাত কোন জাতির উপর আসেনি। তিনি বলেনঃ জিনদের পক্ষ থেকে এক আহবানকারী আমাকে নিতে আসে। আমি তার সাথে চলে গেলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম। রাবী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন নিদর্শন এবং আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তার কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা করল। তিনি বললেন, যে জন্তু আল্লাহর নামে যাবাহ করা হয়েছে তার হাড় তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হাতের স্পর্শে তা পুনরায় গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাদ্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমাদের) বললেনঃ এ দু’টাে জিনিস দিয়ে শৌচকার্য করো না। কেননা এ দু'টাে তোমাদের ভাইদের (জিনদের) খাদ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 169 · #885 - 168
শা'বী (রহঃ) বলেন, এরা তার কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন করে। এরা জায়ীরাতুল আরবের জ্বিন ছিল। শা'বীর এ বর্ণনা পর্যন্ত হাদীস শেষ হয়েছে। আবদুল্লাহর হাদীস থেকে এ সূত্রে বর্ণনা কিছুটা ব্যাপক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 170 · #886 - 169
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ সূত্রে "তাদের আগুনের চিহ্ন" বক্তব্য পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং এর পরের অংশ উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 171 · #887 - 170
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম না। আফসোস! আমি যদি তার সাথে থাকতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 172 · #888 - 171
সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদ আল জারমী ও উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... মা'ন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি মাসরূককে জিজ্ঞেস করলাম, জিনের রাত, কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জানিয়ে দিল যে, তারা এসে তার কুরআন পাঠ শুনছে? মাসরূক বলেছেন, আমাকে তোমার পিতা অর্থাৎ- ইবনু মাসউদ বলেছেন যে, গাছই তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জানিয়ে দিয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 173 · #889 - 172
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না আল আনায়ী (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যুহর ও আসরের প্রথম দুরাকাআতে সূরাহ আল ফাতিহাহ এবং এর সাথে আরো দুটি সূরাহ পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। তিনি যুহরের প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআত সংক্ষিপ্ত করতেন। ফজরের সালাতেও তিনি এরূপ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 174 · #890 - 173
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের দুরাকাআতে সূরাহ্ আল ফাতিহার সাথে একটি করে সূরাহ পাঠ করতেন। তিনি কখনো কখনো আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। আর শেষের দুরাকাআত তিনি কেবল সূরাহ ফাতিহাই পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 175 · #891 - 174
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহর ও আসরের সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কিয়ামের (দাঁড়ানোর) পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা করতাম। যুহরের প্রথম দুরাকাআতে তার কিয়ামের পরিমাণ ছিল সূরাহ "আলিফ, লাম, মীম, তানযীলুল সিজদা" পাঠ করার পরিমাণ সময়। তার পরবর্তী দু'রাক’আত আমরা তার কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি ঐ সূরার অর্ধেক পাঠ করার পরিমাণ সময়। আমরা আসরের দু'রাকাআতে তার কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি যুহরের শেষের দুরাকাআত তার কিয়ামের পরিমাণ সময়। আর আসরের শেষ দুরাকাআত তার কিয়ামের পরিমাণ ছিল— প্রথম দুরাকাআতের অর্ধেক পরিমাণ সময়। আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ তার বর্ণনায় সূরাহু "আলিফ লাম মীম তানযীলের" উল্লেখ করেননি। তিনি কিয়ামের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাণ সময় উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 176 · #892 - 175
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের প্রথম দুরাকাআতে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন এবং শেষের দুরাকাআতের প্রতি রাকাআতে পনের আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি (আবূ সাঈদ) বলেছেন, এর অর্ধেক পরিমাণ। তিনি ‘আসরের প্রথম দু'রাকাআতের প্রতি রাকাআতে পনের আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন এবং শেষের দু'রাকাআতে এর অর্ধেক পরিমাণ পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 177 · #893 - 176
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুফার অধিবাসীরা (তাদের গভর্নর) সা'দ (রাযিঃ)-এর বিরুদ্ধে তার সালাত সম্পর্কে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর কাছে অভিযোগ করল। উমার (রাযিঃ) তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তার দরবারে উপস্থিত হলেন। উমার (রাযিঃ) তার সালাত সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ তাকে শুনালেন। সা'দ (রাযিঃ) বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করি। এতে কোনরূপ ত্রুটি করি না। আমি প্রথম দুরাকাআত দীর্ঘ করি এবং শেষের দুরাকাআত সংক্ষিপ্ত করি। উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আবূ ইসহাক (সাদ) এটাই তোমার কাছে আশা করি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 178 · #894 - 177
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবদুল মালিক ইবনু উমায়র (রাযিঃ) এর সূত্রে এ সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 179 · #895 - 178
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরার কাছে শুনেছি, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) সা'দকে বললেন, তারা তোমার বিরুদ্ধে সব ব্যাপারেই অভিযোগ এনেছে; এমনকি সালাতের ব্যাপারেও। সা'দ (রাযিঃ) বললেন, আমি তো প্রথম দুরাকাআত লম্বা করে থাকি এবং পরবর্তী দুরাকাআত সংক্ষেপ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত আদায়ের নিয়ম অনুসরণ করতে আমি মোটেও ত্রুটি করি না। 'উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমার কাছে এটাই আশা করি। অথবা তিনি বলেছেন, তোমার সম্পর্কে আমার এটাই ধারণা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 180 · #896 - 179
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরো আছে, “সা'দ (রাযিঃ) বললেন, বেদুঈনরা আমাকে সালাত শিখাতে চায়?” (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 181 · #897 - 180
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুহরের সালাত শুরু হয়ে যেত। অতঃপর কোন ব্যক্তি প্রয়োজন (প্ৰস্ৰাব-পায়খানা) পূরণের জন্য বাকী নামক স্থানে যেত। সে নিজের প্রয়োজন সেরে ওযু করে এসে দেখত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো প্রথম রাকাআতেই আছেন। তিনি সালাত এতটা লম্বা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 182 · #898 - 181
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... কাযআহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরীর কাছে আসলাম, এ সময় তার কাছে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। তারা তার কাছ থেকে চলে গেলে আমি তাকে বললাম, তারা আপনার কাছে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তা জিজ্ঞেস করব না। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, এটা জানার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই। (কেননা, তুমি তার মতো সালাত পড়তে সক্ষম হবে না)। তিনি পুনর্বার তাই জানতে চাইলেন। তখন আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বললেন, যুহরের সালাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর আমাদের কোন ব্যক্তি বাকী' নামক স্থানে যেত। সে নিজের প্রয়োজন সেরে নিজ বাড়ীতে এসে ওযু করে পুনরায় মসজিদে যেত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনো প্রথম রাকআতেই থাকতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 183 · #899 - 182
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে মক্কায় ভোরের (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। তিনি সূরাহ আল মু'মিনূন পড়া শুরু করলেন। তিনি তা পড়তে পড়তে মূসা ও হারূন (আঃ) অথবা ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা সম্পর্কিত আয়াতে পৌছে গেলেন। (এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ সন্দেহে পড়ে গেছেন অথবা রাবীদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে)। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাশি আসলে তিনি রুকূ’তে চলে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনু সায়িবও সালাতে উপস্থিত ছিলেন। আবদুর রাযযাকের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি কিরাআত পাঠ থামিয়ে দিয়ে রুকু’তে চলে গেলেন। তিনি তার বর্ণনায় 'আবদুল্লাহ ইবনু "আমরের নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ইবনুল আস এর নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 184 · #900 - 183
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... 'আমর ইবনু হুরায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ফজরের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে "ওয়াল লাইলি ইযা- 'আস'আসা' অর্থাৎ- "শপথ রাতের যখন সে চলে যেতে থাকে"- (সূরাহ আত তাকবীর ৮১ঃ ১৭) পাঠ করতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 185 · #901 - 184
আবূ কামিল আল জাহদারী, ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... কুতবাহ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালাত আদায় করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করিয়েছেন। তিনি "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ" অর্থাৎ- "কাফ, সম্মানিত কুরআনের শপথ”- (সূরাহ কাফ ৫০ঃ ১) পাঠ করলেন। তিনি “ওয়ান নাখলা বা-সিকা-তিন" অর্থাৎ- "লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ..."— (সূরাহ কাফ ৫০ঃ ১০) পর্যন্ত পাঠ করলেন। রাবী বলেন, আমিও তা পাঠ করলাম কিন্তু এর তাৎপর্য বুঝতে পারলাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 186 · #902 - 185
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... কুতবাহ ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ফজরের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে "ওয়ান নাখলা বা-সিকা-তিন লাহা- তাল-উন নাযীদ” অর্থাৎ- "লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর"- (সূরাহ কাফ ৫০ঃ ১০) পাঠ করতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 187 · #903 - 186
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... যিয়াদ ইবনু ইলাকাহ হতে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (চাচা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথম রাকাআতে "ওয়ান নাখলা বা-সিকা-তিন লাহা- তালাউন নাযীদ"- (সূরাহ কাফ ৫০ঃ ১০) পাঠ করলেন। কখনো তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরাহ কাফ পাঠ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 188 · #904 - 187
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে "কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ"- (সূরাহ কাফ ৫০ঃ ১) পাঠ করতেন। এরপরে তার সালাতগুলো সংক্ষিপ্তাকারের ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 189 · #905 - 188
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। আমি জাবির ইবনু সামুরাহ এর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, তিনি হালকাভাবে সালাত আদায় করতেন। ঐসব লোকের মতো (বড় বড় সূরাহ দিয়ে) সালাত আদায় করতেন না। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে সূরাহ কাফ বা এ আকারের সূরাহ পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 190 · #906 - 189
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতে "ওয়াল লাইলি ইযা- ইয়াগশা-" (সূরাহ আল লায়ল ৯২ঃ ১) পাঠ করতেন এবং আসরের সালাতেও অনুরূপ কোন সূরাহ পাঠ করতেন। ফজরের সালাতে তিনি এর চেয়ে দীর্ঘ সূরাহ পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 191 · #907 - 190
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের সালাতে "সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ'লা" অর্থাৎ- “তুমি তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামের ঘোষণা কর"- (সূরাহ আ'লা ৮৭ঃ ১) পাঠ করতেন এবং ভোরের (ফজরের) সালাতে এর চেয়ে লম্বা সূরাহ পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 192 · #908 - 191
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ বারযাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোরের (ফজরের) সালাতে ষাট থেকে একশ' আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 193 · #909 - 192
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ বারযাহ আল আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 194 · #910 - 193
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মুল ফাযল বিনতু হারিস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-কে "ওয়াল মুরসালা-তি উরফান" (সূরাহ মুরসালাত) পাঠ করতে শুনলেন। তিনি (উম্মু ফাযল) বললেন, হে বৎস! তুমি এ সূরাহ পাঠ করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে সর্বশেষ যে সূরাটি শুনেছি তা ছিল এ সূরাহ (সূরাহ মুরসালাত)। তিনি এটা মাগরিবের সালাতে পড়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 195 · #911 - 194
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সালিহ এর বর্ণনায় আরো অতিরিক্ত আছেঃ “এরপর ওফাত পর্যন্ত তিনি সাহাবাদের নিয়ে আর সালাত আদায়ের সুযোগ পাননি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 196 · #912 - 195
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু জুবায়র ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি (জুবায়র) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ আত তুর পাঠ করতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 197 · #913 - 196
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহারর ইবনু হারব, হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 198 · #914 - 197
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক সফরে থাকাকালীন ইশার সালাত আদায় করলেন এবং প্রথম দু'রাকাআতের এক রাকাআতে "ওয়াত্তীনি ওয়ায় যাইতুন" (সূরাহ আত তীন) পাঠ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 199 · #915 - 198
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আবিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলাম। তিনি তাতে সূরাহ আত তীন পাঠ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 200 · #916 - 199
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ইশার সালাতে সূরাহ আত তীন পাঠ করতে শুনেছি। আমি তার মতো সুললিত কণ্ঠস্বর আর কারো কাছে শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 201 · #917 - 200
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমাম হলেন। তিনি সূরাহ আল বাকারাহ পড়া শুরু করলেন। এক ব্যক্তি এতে বিরক্ত হয়ে পড়ল। সে সালাম ফিরিয়ে একাকি সালাত আদায় করে চলে গেল। লোকেরা তাকে বলল, হে অমুক তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলল, আল্লাহর শপথ আমি মুনাফিক হয়ে যাইনি। আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাব এবং তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করব। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা উট চালক, দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করি। আর মু'আয (রাযিঃ) আপনার সাথে ইশার সালাত আদায় করে ফিরে এসে আমাদের ইমামতি করলেন এবং সালাতে সূরাহ আল বাকারাহ পড়া শুরু করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুআয এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হে মুআয! তমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি এ রকম এ রকম সূরাহ পাঠ করবে। সুফইয়ান বলেন, আমি 'আমরকে বললাম, আবূ যুবায়র জাবির এর সূত্রে আমাদের বলেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি সূরাহ আশ শামস সূরাহ আয যুহা সূরাহ আল লায়ল এবং সূরাহ আল আ'লা পাঠ করবে। আমুর বললেন, হ্যাঁ, এ ধরনের সূরাই পাঠ করার কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 202 · #918 - 201
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল আল আনসারী (রাযিঃ) তার গোত্রের লোকেদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন। তিনি কিরাআত দীর্ঘায়িত করলেন। ফলে আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি (সালাত ছেড়ে দিয়ে) চলে গেল এবং একাকী সালাত আদায় করল। তার সম্পর্কে মুআযকে অবহিত করা হলে তিনি বললেন, সে তো মুনাফিক। লোকটি যখন এ কথা জানল- সে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেল এবং মুআয (রাযিঃ) যা বলেছেন তা তাকে জানাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ হে মুআয! তুমি কি ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী হতে চাও? তুমি যখন লোকেদের ইমামতি করবে তখন সূরাহ আশ শামস, সূরাহ আল আ'লা, সূরাহ ‘আলাক এবং সূরাহ আল লায়ল পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 203 · #919 - 202
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদেরকে নিয়ে পুনরায় ঐ সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 204 · #920 - 203
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'আয (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি নিজ গোত্রের মসজিদে ফিরে এসে তাদেরকে নিয়ে পুনরায় সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 205 · #921 - 204
ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, অমুক লোকের কারণে আমি ফজরের সালাতে দেরীতে উপস্থিত হই। কারণ সে খুব লম্বা কিরাআত পাঠ করে। (রাবী বলেন) আমি সেদিনকার মতো আর কোন দিনের ওয়াজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এতোটা গোস্সা হতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে জনগণ! তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মানুষকে ভাগিয়ে দেয়। তোমাদের যে কেউ ইমামতি করে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোকও রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 206 · #922 - 205
আবূ বকর ইবনু শাইবাহ, ইবনু নুমায়র ও ইবনু আবূ 'আমর (রহঃ) ..... ইসমাঈল (রহঃ) এর সূত্রে উপরের সনদে হুশায়ম এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 207 · #923 - 206
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকেদের ইমামতি করে- সে যেন সালাত হালকা এবং সংক্ষেপ কর। কেননা তাদের মধ্যে বালক, বৃদ্ধ, দুর্বল এবং রুগ্ন ব্যক্তিরাও রয়েছে। সে যখন একাকি সালাত আদায় করবে, তখন যত ইচ্ছা দীর্ঘ সূরাহ পড়তে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 208 · #924 - 207
ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করলেন। এগুলোর মধ্যে একটি হাদীস এই- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি লোকেদের সালাতে ইমামতি করতে দাঁড়ালে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে যেমন বৃদ্ধরা রয়েছে তেমন দুর্বলরাও রয়েছে। যখন সে একাকি সালাত আদায় করে তখন নিজ ইচ্ছামত তার সালাত দীর্ঘ করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 209 · #925 - 208
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে সে যেন তা সংক্ষিপ্ত করে। কেননা এসব লোকের মধ্যে দুর্বল, রুগ্ন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যস্ত লোকও থাকতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 210 · #926 - 209
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় রুগ্নের পরিবর্তে বৃদ্ধের উল্লেখ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 211 · #927 - 210
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আবূল আস সাকাকী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তুমি তোমাদের গোত্রের লোকেদের সালাতে ইমামতি কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার অন্তরে কিছু একটা অনুভব করি। তিনি আমাকে বললেন, নিকটে আসো। তিনি আমাকে তার সামনে বসালেন। অতঃপর আমার বুকের মাঝখানে তার হাত রাখলেন। তিনি পুনরায় বললেন, ঘুরে বসো। তিনি আমার পিছে কাঁধ বরাবর হাত রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি তোমার গোত্রের লোকেদের ইমামতি করো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে বৃদ্ধ, অসুস্থ, দুর্বল এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোক রয়েছে। তোমাদের কেউ যখন একাকি সালাত আদায় করবে, সে তখন নিজ ইচ্ছামত সালাত আদায় করতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 212 · #928 - 211
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... উসমান ইবনু আবূল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সর্বশেষ নির্দেশ ছিলঃ তুমি যখন কোন সম্প্রদায়ের ইমামাত করবে তখন তাদের সালাত সংক্ষিপ্ত করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 213 · #929 - 212
খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংক্ষিপ্ত অথচ পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 214 · #930 - 213
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত ছিল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 215 · #931 - 214
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে যত সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় করেছি- এরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কখনো কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 216 · #932 - 215
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতরত অবস্থায় মায়ের সাথে আসা শিশুর কান্না শুনতে পেলে হালকা বা ছোটখাট সূরাহ দিয়ে সালাত শেষ করে দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 217 · #933 - 216
মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল আয যারীর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমি সালাত শুরু করে তা দীর্ঘ করার ইচ্ছা করি। এমতাবস্থায় আমি শিশুর কান্না শুনতে পাই। আমি তখন তার মায়ের অস্থিরতার কথা চিন্তা করে সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 218 · #934 - 217
হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী ও আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... বারা ইবনু আবিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে তার সালাত আদায় করার নিয়ম-কানুন ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। তার দাঁড়ানো (কিয়াম), তার রুকূ’ এবং রুকূ’ থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তার সিজদা্ এবং দু'সাজদার মাঝে তার বসা, অতঃপর তার দ্বিতীয় সিজদা, তার সালাম ফিরানো এবং সালাম ও সালাত শেষ করে চলে যাওয়ার মাঝখানে বসা- এর সবই প্রায় সমান (ব্যবধান) পেয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 219 · #935 - 218
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল 'আম্বারী (রহঃ) ..... হাকাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আশ'আস এর সময়ে এক ব্যক্তি কুফাবাসীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। হাকাম তার নাম উল্লেখ করেছেন (মাতার ইবনু নাজিয়াহ)। সে আবূ উবাইদাহ ইবনু আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) কে লোকেদের সালাতে ইমামতি করার হুকুম দিলেন। তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে একটি দু’আ পড়ার পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। দু’আটি হচ্ছেঃ আল্লা-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা-শিতা মিন শাইয়িন বাদু আহলাস্ সান-য়ি ওয়াল মাজদি লা- মা-নি’আ লিমা- আতাইতা ওয়ালা- মুতিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ান্ফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ। অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী। আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই এবং কোনও সম্পদশালীকেই তার সম্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।" হাকাম বলেন, অতঃপর আমি এটা আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলার কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আমি বারা ইবনু আযিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাত ছিলঃ তিনি রুকু’তে যেতেন, রুকু থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতেন, সিজদা করতেন এবং দু'সাজদার মাঝখানে বিরতি দিতেন- এসবগুলোর সময়ের পরিমাণ প্রায় একই ছিল। শু'বাহ বলেন, আমি এটা আমর ইবনু মুররাকে বললাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু আবূ লাইলাকে দেখেছি। কিন্তু তার সালাত তো এরূপ ছিল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 220 · #936 - 219
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... হাকাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। মাতার ইবনু নাজিয়াহ যখন কুফার উপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল, আবূ উবাইদাকে লোকেদের সালাতে ইমামতি করার নির্দেশ দিল। অবশিষ্ট হাদীস পূর্ববৎ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 221 · #937 - 220
খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে সালাত আদায় করেছেন- আমি তোমাদের নিয়ে অনুরূপভাবে সালাত আদায় করতে মোটেই ত্রুটি করব না। অধস্তন রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) একটি কাজ করতেন যা আমি তোমাদেরকে করতে দেখি না। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। এমনকি কেউ (মনে মনে) বলত, তিনি (সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। তিনি সিজদা্ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে বসে যেতেন, এমনকি কেউ (মনে মনে) বলত, তিনি (দ্বিতীয় সিজদা করতে) ভুলে গেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 222 · #938 - 221
আবূ বকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে যেরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সালাত আদায় করেছি অনুরূপ আর কারো পিছনে আদায় করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাতের (রুকনগুলোর সময়ের) পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি ছিল। আবূ বাকর (রাযিঃ) এর সালাতের (রুকনগুলোও) পরস্পর কাছাকাছি ছিল। উমার ইবনুল খাত্তাব তার সময়ে ফজরের সালাত দীর্ঘ করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে দাঁড়িয়ে যেতেন- এমনকি আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি সাজদায় যেতেন। দু'সাজদার মাঝখানে তিনি এতক্ষণ বসতেন যে, আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (পরবর্তী সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 223 · #939 - 222
আহমাদ ইবনু ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে বারা (রাযিঃ) এ হাদীস বলেছেন। তিনি মিথ্যাবাদী নন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ’ থেকে মাথা তোলার পর আমি কাউকে (সাজদায় যাওয়ার জন্য) পিঠ বাকা করতে দেখিনি, যে পর্যন্ত না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের কপাল মাটিতে রাখতেন। অতঃপর সবাই সাজদায় লুটিয়ে পড়ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 224 · #940 - 223
আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ আল বাহিলী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে বারা (রাযিঃ) এ হাদীস বলেছেন। তিনি মিথ্যাবাদী নন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলতেন- আমাদের কেউই (সাজদায় যাওয়ার জন্য) পিঠ বাঁকা করত না যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদায় না যেতেন। তার পরে আমরা সাজদায় যেতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 225 · #941 - 224
মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাহম আল আন্তাকী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, আমাদেরকে বারা (রাযিঃ) বলেছেন, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন রুকু’তে যেতেন, তারাও রুকু’তে যেতেন। তিনি রুকূ’ থেকে মাথা তোলার সময় "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলতেন। আমরা দাঁড়িয়ে থাকতাম, এমনকি যখন দেখতাম তিনি তার কপাল মাটিতে রেখেছেন তখন আমরা তার অনুসরণ করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 226 · #942 - 225
যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করতাম। আমরা যতক্ষণ তাকে সাজদায় পৌছতে না দেখতাম, ততক্ষণ আমাদের কেউ নিজের পিঠ বাকা করতাম না। যুহায়র বলেন, আমাদেরকে সুফইয়ান বলেছেন, এমনকি যখন আমরা তাকে সাজদারত অবস্থায় দেখতাম' (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 227 · #943 - 226
মুহরিয ইবনু ‘আওন ইবনু আবূ আওন (রহঃ) ..... 'আমর ইবনু হুৱায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করলাম। আমি তাকে فَلاَ أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ * الْجَوَارِ الْكُنَّسِ আমি শপথ করি পশ্চাদপসরণকারী নক্ষত্রের, যা প্রত্যাগমন করে ও দৃশ্য হয়"- (সুরাহ আত-তাকবীরঃ ১৫-১৬) পাঠ করতে শুনলাম। তিনি সম্পূর্ণভাবে সাজদায় না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ নিজের পিঠ বাকা করত না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 228 · #944 - 227
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আবূ আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন্ শাইয়িন বাদু।" অর্থাৎ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৪৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 229 · #945 - 228
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রুকু থেকে উঠে) এ দু'আ পড়তেন। "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্দু মিল্আস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলআ মা- শি'ত মিন শাইয়িন বাদু।" অর্থাৎ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 230 · #946 - 229
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেনঃ "আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু মিলআস সামা-য়ি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিলুআ মা- শিতা মিন শাইয়িন বাদু, আল্লাহুম্মা তাহহিরনী বিস্সালজি ওয়াল বারাদ ওয়াল মা-য়িল বা-রিদি, আল্লাহুম্মা তাহহিরনী মিনায্ যুনুবি ওয়াল খাতা-য়া- কামা- ইউনাক্কাস সাওবুল আব্ইয়াযু মিনাল ওয়াসাখ।" অর্থাৎ "হে আল্লাহ! তোমার জন্য ঐ পরিমাণ প্রশংসা- যা আসমান ও জমিনকে পরিপূর্ণ করে দেয়। অতঃপর তুমি যা চাও তা দিয়ে পরিপূর্ণ করো। হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, কুয়াশা এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পাকপবিত্র করে দাও। হে আল্লাহ! সাদা কাপড় যেভাবে ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে ধবধবে সাদা হয়ে যায়, আমাকেও তদ্রুপ যাবতীয় গুনাহ থেকে পবিত্র করে দাও।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 231 · #947 - 230
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) এর সূত্রে মুআয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুআয-এর বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ "সাদা কাপড় যেভাবে ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়।” ইয়াযীদের বর্ণনায় الدَّرَنِ শব্দের পরিবর্তেالدَّنَسِ শব্দের উল্লেখ রয়েছে (অর্থ একই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 232 · #948 - 231
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রুকু’ থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ “রব্বানা- লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন্ শাইয়িন বাদু আহলাস সান-য়ি ওয়াল মাজদি আহাক্কু মা-কা-লাল আবদু ওয়া কুল্লুনা- লাকা ‘আবদুন, আল্লাহুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আতাইতা ওয়ালা- মুতিয়া লিমামানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদি মিন্কাল জাদ।" অর্থাৎ "আমাদের প্রতিপালক তুমি আসমান-জমিন সম পরিপূর্ণ প্রশংসার অধিকারী, অতঃপর তুমি যা চাও তাও পূর্ণ করে প্রশংসা। তুমি প্রশংসা ও সম্মানের অধিকারী। তোমার প্রশংসায় বান্দা যা কিছু বলে তুমি তার চাইতে বেশি হকদার। আমরা সবাই তোমার বান্দা; হে আল্লাহ! তুমি যা দান করো তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কারো নেই এবং তুমি যা দেয়া বন্ধ করো, তা দান করার শক্তি কারো নেই। ধনবানের ধন তোমার সামনে কোন কাজে আসে না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 233 · #949 - 232
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদু মিল্আস্ সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামা- বাইনাহুমা ওয়ামিলআ মা- শিতা মিন শাইয়িন বাদু আহলাস সান-য়ি ওয়াল মাজদি লা- মা-নিআ লিমা- আতাইতা ওয়ালা- মুতিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদি মিনকাল জাদ।" অর্থাৎ "আমাদের প্রতিপালক তুমি আসমান-জমিন সম পরিপূর্ণ প্রশংসার অধিকারী, অতপর তুমি যা চাও তাও পূর্ণ করে প্রশংসার অধিকার। তুমি প্রশংসা ও সম্মানের অধিকারী। (হে আল্লাহ!) তুমি যাকে দান করো তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কারো নেই এবং তুমি যাকে দেয়া বন্ধ করো, তাকে দান করার শক্তি কারো নেই। চেষ্টা সাধনাকারীর প্রচেষ্টা তোমার সামনে কোন কাজে আসে না"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 234 · #950 - 233
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ হাদীস وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের পরবর্তী অংশ এ সুত্রে বর্ণিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 235 · #951 - 234
সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন সময়ে) হুজরার পর্দা তুলে দিলেন। লোকেরা এ সময় আবূ বাকরের পিছনে সালাতের কাতারে দাঁড়ানো ছিল। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আর নুবুওয়াতের ধারা অবশিষ্ট থাকবে না। তবে মুসলিমরা সত্যস্বপ্ন দেখবে অথবা তাদের দেখানো হবে। সাবধান! আমাকে নিষেধ করা হয়েছে আমি যেন রুকু বা সাজদারত অবস্থায় কুরআন পাঠ না করি। তোমরা রুকু অবস্থায় মহান প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত বর্ণনা করবে এবং সাজদারত অবস্থায় অধিক দু’আ পড়ার চেষ্টা করবে, কেননা তোমাদের দু'আ কবুল হওয়ার উপযোগী। হাদীসটি আবূ বকর (রহঃ) حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ বলে রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 236 · #952 - 235
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ কক্ষের পর্দা সরিয়ে দিলেন এ সময় তিনি মৃত্যু শয্যায় ছিলেন। তার মাথা (কাপড় দিয়ে) বাধা ছিল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌছে দিয়েছি? এ কথা তিনি তিনবার বললেন। নুবুওয়াতের সুসংবাদ (ধারা) আর অবশিষ্ট থাকবে না। তবে ভাল স্বপ্ন অবশিষ্ট থাকবে। নেক বান্দারা তা দেখবে অথবা তাদেরকে দেখানো হবে। হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা সুফইয়ানের বর্ণনার অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 237 · #953 - 236
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... 'আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে রুকূ’ বা সাজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 238 · #954 - 237
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে রুকূ’ এবং সাজদারত অবস্থায় কুরআনের আয়াত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 239 · #955 - 238
আবূ বকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে রুকু’-সাজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। আমি বলছি না "তিনি তোমাদের নিষেধ করেছেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 240 · #956 - 239
যুহারর ইবনু হারব ও ইসহাক (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে রুকু’-সাজদার কিরাআত পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 241 · #957 - 240
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ঈসা ইবনু হাম্মদ আল মিসরী, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ, আল মুকাদ্দামী, হারূন ইবনু সাঈদ আল লাইলী, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও কুতাইবাহ ইবনু হুজর এবং হান্নাদ ইবনু আস্ সারী (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে রুকু অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করেছেন। উল্লেখিত সব রাবীই রুকুর কথা বলেছেন। তারা নিজ নিজ বর্ণনায় 'সাজদার মধ্যে কুরআন পাঠ করা নিষেধ' এরূপ কথা উল্লেখ করেননি; যেমন- যুহরী, যায়দ ইবনু আসলাম, ওয়ালীদ ইবনু কাসীর এবং দাউদ ইবনু কায়স নিজেদের বর্ণনায় এ নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 242 · #958 - 241
কুতাইবাহ (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে ‘সাজদায় কুরআন পাঠ করা নিষেধ' এ কথার উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 243 · #959 - 242
আমর ইবনু 'আলী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে আমি যেন রুকূর মধ্যে কুরআন পাঠ না করি। এ সূত্রে ‘আলীর নাম উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 244 · #960 - 243
হারূন ইবনু মা’রূফ ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ বান্দার সিজদারত অবস্থায়ই তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ লাভের সর্বোত্তম অবস্থা (বা মুহুর্ত)। অতএব তোমরা অধিক পরিমাণে দু'আ পড়ো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 245 · #961 - 244
আবূ তাহির ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদায় গিয়ে বলতেনঃ "আল্লাহুম্মাগ ফিরলী যামবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়াজিল্লাহু ওয়া আওওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু ওয়া আলা-নিয়াতাহু ওয়া সিররাহু।" অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 246 · #962 - 245
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু’-সাজদায় এ দু'আ অধিক পরিমাণে পাঠ করতেন : “সুবহ-নাকা আল্লহুম্মা রব্বানা- ওয়াবি হামদিকা আল্লাহুম্মাগ ফিরলী”। অর্থাৎ "হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।” তিনি কুরআনের উপর 'আমল করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 247 · #963 - 246
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ইন্তিকালের পূর্বে এ দু'আটি খুব বেশি মাত্রায় পাঠ করতেনঃ "সুবহানাকা ওয়াবি হামদিকা আস্তাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলায়ক"। অর্থাৎ "মহান পবিত্র আল্লাহ, সকল প্রশংসা প্রাপ্য একমাত্র তিনি, আমি তোমার নিকট সকল পাপের ক্ষমা চাচ্ছি ও তওবা করছি।” রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে যে এসব নতুন বাক্য পড়তে দেখছি- এগুলো কী? তিনি বললেনঃ আমার উন্মাতের মধ্যে আমার জন্য একটি চিহ্ন বা নিদর্শন রাখা হয়েছে। যখন আমি তা দেখি তখন এগুলো বলতে থাকি। আমি দেখেছিঃ “ইযা-জা-আ নাসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ" সূরার শেষ পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 248 · #964 - 247
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "ইযা- জাআ নসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ" (সূরাহু আন নাসর) নাযিল হওয়ার পর থেকে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ দু'আ পাঠ করা ব্যতিরেকে কোন সালাত আদায় করতে দেখিনি। অথবা তিনি সেখানে (সালাতে) বলতেনঃ "সুবহা-নাকা রব্বী ওয়াবি হামদিকা আল্লাহুম্মাগ ফিরলী”। অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক আপনার জন্যই সকল পবিত্রতা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 249 · #965 - 248
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক সংখ্যায় এ দু'আ পড়তেনঃ “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হাম্দিহী আস্তাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। অর্থাৎ "মহান পবিত্র আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি তার কাছে তওবা করছি, অনুতপ্ত হচ্ছি।” রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে অধিক সংখ্যায় এ কথা বলতে দেখছিঃ “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী আস্তাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ আমার মহান প্রতিপালক আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমি অচিরেই আমার উন্মাতের মধ্যে একটি নিদর্শন দেখতে পাব। যখন আমি সে আলামাত দেখতে পাই তখন অধিক সংখ্যায় এ দু'আ পাঠ করতে থাকিঃ "সুবহানাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী আসতাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি"। সে নিদর্শন সম্ভবত এই “ইযা- জা-আ নসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ .....”। অর্থাৎ “যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে এবং বিজয় লাভ হবে (অর্থাৎ- মক্কা বিজয়), তুমি দেখত পাবে, দলে দলে লোক আল্লাহর দীনে প্রবেশ করছে; তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসা সহকারে তার তাসবীহ করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে তিনি খুবই তওবা গ্রহণকারী"- (সূরাহ আন নাসর)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 250 · #966 - 249
হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়য (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রুকু’তে কি পড়েন? তিনি বলেন, "সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা"। অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমরা তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই।" কেননা ইবনু আবূ মুলাইকাহ আমাকে আয়িশার সূত্রে অবহিত করছেন যে, তিনি ['আয়িশাহ (রাযিঃ)] বলেছেন, একরাতে আমি ঘুম থেকে জেগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আমার কাছে পেলাম না। আমি ধারণা করলাম, তিনি হয়ত তার অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। আমি তার খোঁজে বের হলাম, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসলাম। দেখি, তিনি রুকু' অথবা (রাবীর সন্দেহ) সাজদায় আছেন এবং বলছেনঃ "সুবহ-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা"। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি কি ধারণায় নিমজ্জিত হয়েছি, আর আপনি কি কাজে মগ্ন আছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 251 · #967 - 250
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বিছানায় পেলাম না। আমি তাকে খোঁজ করতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তার উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সাজদায় ছিলেন এবং তার পা দু’টো দাঁড় করানো ছিল। এ অবস্থায় তিনি বলেছেনঃ "আল্লাহুম্মা আউযু বিরিযা-কা মিন সাখাতিকা ওয়াবি মু'আ-ফা-তিক মিন উকবাতিকা ওয়া আউয়ুবিকা মিনকা লা- উহসি সানা-আন আলাইকা আনত কামা- আসনাইত আলা- নাফসিকা।” অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চায়। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 252 · #968 - 251
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ ও সাজদায় এ দু'আ পড়তেনঃ “সুব্বুহুন কুদদূসুন্ন রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়ার রূহু"। অর্থাৎ "সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 253 · #969 - 252
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 254 · #970 - 253
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মা'দান ইবনু তালহাহ আল ইয়ামারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম আমি বললাম, আমাকে একটি কাজের কথা বলে দিন যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর প্রিয়তম ও পছন্দনীয় কাজের কথা জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন। আমি পুনর্বার জিজ্ঞেস করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কেননা তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন। মাদান বলেন, অতঃপর আমি আবূ দারদাহ (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম সাওবান (রাযিঃ) আমাকে যা বলেছেন, তিনিও তাই বললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 255 · #971 - 254
হাকাম ইবনু মূসা আবূ সালিহ (রহঃ) ..... রাবী'আহ ইবনু কাব আল আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করছিলাম। আমি তার ওযুর পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। তিনি আমাকে বললেনঃ কিছু চাও! আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এছাড়া আরো কিছু আছে কি? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 256 · #972 - 255
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাতটি হাড়ের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং মাথার চুল ও কাপড় ধরে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসের এ বর্ণনাটি ইয়াহইয়ার। আবূ রাবী' তার বর্ণনায় বলেন, সাতটি হাড়ের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড় আটকিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। (সাতটি হাড় বা অঙ্গ হচ্ছে-) দু'হাতের তালু, দু'হাটু, দু’পা এবং কপাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 257 · #973 - 256
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড়গুলোকে ঠেকিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 258 · #974 - 257
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং চুল ও কাপড়গুলোকে গুটানো থেকে বারণ করা হয় (সালাতরত অবস্থায়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 259 · #975 - 258
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কপাল- এ বলে তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন; দু'হাত দু’পা (দু’হাঁটু) এবং দু'পায়ের পার্শ্বদেশ (পায়ের আঙ্গুলসমূহ)। আমি (অর্থাৎ- আমরা) যেন (সাজদার সময়) চুল ও কাপড় ধরে না রাখি এ নির্দেশও দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 260 · #976 - 259
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমাকে সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এ সময়ে চুল ও পরিধেয় বস্ত্র না গুটাতে নিষেধ করা হয়েছে। অঙ্গগুলো হচ্ছে, কপাল ও নাক, উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের পাতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 261 · #977 - 260
কুতাইবাহ বিন সাঈদ (রহঃ) ..... আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ বান্দা যখন সিজদা করে তখন তার সাথে তার সাতটি অঙ্গ সিজদা করে- তার মুখমণ্ডল, তার দু'হাতের পাতা, তার দু'হাঁটু এবং দু'পায়ের পাতা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নেই, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 262 · #978 - 261
আমর ইবনু সাওওয়াদ আল আমির (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু হারিসকে তার মাথার চুল পিছন দিকে বেঁধে রেখে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তা খুলে দিলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু হারিস (রাযিঃ) সালাত শেষ করে ইবনু আব্বাসের দিকে ফিরে বললেন, কি ব্যাপার আপনি আমার চুল এরূপ করে দিলেন। তিনি (ইবনু আব্বাস) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনছিঃ এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হচ্ছে- যে ব্যক্তি পিছন দিকে হাত বাধা অবস্থায় সালাত আদায় করে তার মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 263 · #979 - 262
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাজদার মধ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভারসাম্য বজায় রেখে (ঠিকভাবে) সিজদা করো। তোমাদের কেউ যেন নিজের বাহুদ্বয় কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 264 · #980 - 263
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু জাফরের বর্ণনায় রয়েছেঃ “তোমাদের কেউ যেন সাজদার সময় তার বাহুদ্বয়কে কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 265 · #981 - 264
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি সিজদা করো তোমার হাতের তালু মাটিতে রাখো এবং উভয় কনুই উচু করে রাখো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 266 · #982 - 265
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহাইনাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করার সময় দু’হাত (পাজর থেকে) এমনভাবে ফাঁকা রাখতেন যে, তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 267 · #983 - 266
আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... জাফার ইবনু রাবী'আহ (রহঃ) হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে আমর ইবনু হারিস এর বর্ণনায় নিম্নরূপঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহু প্রসারিত করে রাখতেন। এর ফলে তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। লায়স-এর বর্ণনায় নিম্নরূপঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদা করতেন, উভয় বাহু পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখতেন। এমনকি আমি (আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহাইনাহ) তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 268 · #984 - 267
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... মাইমূনাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদা করতেন, কোন মেষ শাবক ইচ্ছা করলে তার বাহুর ফাঁক দিয়ে চলে যেতে পারত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 269 · #985 - 268
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্যালী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমুনাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদা করতেন, দু’বাহু এমনভাবে (পাঁজর থেকে) ফাঁকা রাখতেন যে, তার পিছন থেকে তার বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। তিনি যখন বসতেন, বাম উরুর উপর শান্তভাবে বসতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 270 · #986 - 269
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... (উম্মুল মু'মিনীন) মাইমুনাহ বিনতু হারিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদা করতেন, বাহুদ্বয় (পাঁজর থেকে) ফাঁকা রাখতেন। এমনকি তার পিছনের ব্যক্তিটি তার বগলের শুভ্রতা দেখতে পেত। ওয়াকী (রহঃ) বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযিঃ) ঔজ্জ্বল্য দ্বারা 'শুভ্রতা' বুঝিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 271 · #987 - 270
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং সূরাহ আল ফা-তিহাহ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। তিনি যখন রুকু করতেন, ঘাড় থেকে মাথা নীচুও করতেন না, উপরেও উচু করে রাখতেন না বরং একই সমতলে রাখতেন। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদা করতেন না। তিনি (প্রথম) সিজদা থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত (দ্বিতীয়) সাজদায় যেতেন না। তিনি প্রতি দুরাকাআত অন্তর "আত্তাহিয়াতু" পাঠ করতেন। তিনি বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের বসা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি পুরুষ লোকেদেরকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় দু'হাত মাটিতে ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি ঘোষণা করতেন। ইবনু নুমায়র থেকে আবূ খালিদ-এর সূত্রে বর্ণিত আছেঃ তিনি শয়তানের মতো* বসতে নিষেধ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 272 · #988 - 271
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... মূসা ইবনু তালহা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি নিজের সামনে হাওদার (উটের পিঠে আসনের পিছভাগে দাঁড় করা) কাঠের ন্যায় কিছু রেখে দিয়ে নিশ্চিন্তে সালাত আদায় করতে পারে। এ সুতরার পিছন দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে সেদিকে তাকে ভ্রক্ষেপ করতে হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 273 · #989 - 272
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... মূসা ইবনু তালহাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত আদায় করতাম আর এমন সময় আমাদের সামনে দিয়ে জীবজন্তু চলাফেরা করত। এ ব্যাপারটি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে উত্থাপন করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কারো সামনে হাওদার পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু দাঁড় করানো থাকলে, তার সামনে দিয়ে কোন কিছু যাতায়াত করলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। ইবনু নুমায়র-এর বর্ণনায় আছেঃ তার সামনে দিয়ে যে লোকই অতিক্রম করুক তাতে কোন ক্ষতি হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 274 · #990 - 273
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সালাত আদায়কারীর সামনে সুতরাহ রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ হাওদার পিছনের খুঁটির মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 275 · #991 - 274
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সালাত আদায়কারীর সামনের সুতরাহ (আড়াল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেনঃ হাওদার পিছনের খুঁটির ন্যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 276 · #992 - 275
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঈদের সালাত আদায় করতে বের হতেন, একটি বর্শা সাথে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। এটা তার সামনে দাঁড় করে রাখা হত এবং তিনি এর দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। উপস্থিত লোকেরা তার পিছনে থাকত। তিনি সফরে থাকাকালীন সময়েও এমন করতেন। তার পরবর্তী সময়ের শাসকগণও এটাকে সুতরাহ্ হিসেবে ব্যবহার করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 277 · #993 - 276
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ...... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামনের দিকে আনাযাহ (বর্শা) পুঁতে দিতেন। অধস্তন রাবী আবূ বাকর এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি বল্লম পুঁতে দিতেন এবং সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। আবূ শাইবাহ বলেন, উবাইদুল্লাহ বলেছেন, এটা ছিল বর্শা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৭ ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 278 · #994 - 277
আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উট আড়াআড়ি করে বসাতেন। অতঃপর তা সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 279 · #995 - 278
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাহনকে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। ইবনু নুমায়র এর বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সফরে থাকাকালীন সময়ে) তার উট সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 280 · #996 - 279
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (জুহাইফাহ) বলেন, আমি মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম। তিনি তখন আব্তাহ (মুহাসসাব) নামক স্থানে লাল চামড়ার তৈরি একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, বিলাল (রাযিঃ) তার উয়ুর পানি নিয়ে আসলেন। কেউ পানি পেল, কেউ পেল না- সে অন্যের কাছ থেকে সামান্য নিয়ে নিল*। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে আসলেন। তার গায়ে লাল রং এর চাঁদর শোভা পাচ্ছিল। আমি যেন তার পায়ের গোছার শুভ্রতা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি ওযু করলেন এবং বিলাল (রাযিঃ) আযান দিলেন। আমি তার (বিলালের) অনুসরণ করে এদিকে-ওদিক মুখ ঘুরাতে লাগলাম। সে ডানে বায়ে মুখ ঘুরিয়ে "হাইয়্যা আলাস সলাহ" ও "হাইয়্যা 'আলাল ফালাহ" বলল। রাবী বলেন, অতঃপর একটি বর্শা দাঁড় করিয়ে পুতে দেয়া হলো। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে যুহরের দু'রাকাআত (ফরয) সালাত আদায় করলেন। তার (সুত্রার) সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর ইত্যাদি যাচ্ছিল কিন্তু তিনি বাধা দিলেন না। অতঃপর তিনি 'আসরের ফরয সালাতও দু'রাকাআত পড়লেন। মদীনায় ফিরে আসার সময় পর্যন্ত তিনি এভাবে দু'রাকাআত করে সালাত আদায় করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 281 · #997 - 280
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লাল চামড়ার তৈরি তাবুর মধ্যে দেখতে পেলেন। আমি (আবূ জুহাইফাহ) বিলালকে তার ওযুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বের হয়ে আসতে দেখলাম। যারা তা পেল তারা নিজেদের শরীরে তা মাখল। আর যারা তা পায়নি তারা নিজেদের সাথীদের ভেজা হাতের স্পর্শ লাভ করল। অতঃপর আমি দেখলাম, বিলাল একটি বর্শা বের করে এনে তা মাটিতে পুঁতে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাল এক জোড়া চাঁদর পরিধান করে তা পায়ের গোছা পর্যন্ত উচু করে বের হলেন। অতঃপর তিনি বর্শাটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু'রাকাআত ফরয সালাত আদায় করলেন। আমি বর্শার বহিরাংশ দিয়ে মানুষ এবং চতুষ্পদ জন্তু অতিক্রম করতে দেখলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 282 · #998 - 281
ইসহাক ইবনু মানসূর, আবদ ইবনু হুমায়দ ও কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু মিগওয়াল-এর বর্ণনায় আছেঃ যখন দুপুর হলো, বিলাল (রাযিঃ) এসে সালাতের জন্য আযান দিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 283 · #999 - 282
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ বিন বাশশার (রহঃ) ..... আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুপুর বেলা (তাবু থেকে বের হয়ে) মাঠের দিকে গেলেন, অতঃপর ওযু করলেন। অতঃপর তিনি যুহরের সময়ের দু'রাকাআত এবং আসরের সময়েরও দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তার সামনে একটি বর্শা ছিল। শু'বাহ বলেন, ‘আওন তার পিতা আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে আরো বর্ণনা করেছেন যে, বর্শার অপরদিক দিয়ে মহিলা এবং গাধা অতিক্রম করছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 284 · #1000 - 283
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রে উপরোল্লিখিত সূত্রদ্বয়ের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাকাম-এর বর্ণনায় আরো আছেঃ লোকেরা তার ওযুর অবশিষ্ট পানি (গায়ে মাখার জন্য বারাকাত স্বরূপ) নিতে লাগল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 285 · #1001 - 284
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে (মিনায়) আসলাম। এ সময় আমি বয়ঃপ্রাপ্তির কাছাকাছি বয়সের ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন মিনায় লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি লাইনের সামনে দিয়ে চলে গেলাম। গাধার পিঠ থেকে নেমে এটাকে চরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দিলাম এবং আমি লাইনের মধ্যে ঢুকে পড়লাম*।এ ব্যাপারে আমাকে কেউ বাধা দেয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 286 · #1002 - 285
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি একটি গাধায় সওয়ার হয়ে (মিনায়) আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সময় মিনায় লোকেদের নিয়ে সালাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। এটা বিদায় হাজ্জের সময়কার ঘটনা। গাধাটি কোন কোন লাইনের সামনে দিয়ে চলাফেরা করছিল। তিনি এর পিঠ থেকে নেমে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 287 · #1003 - 286
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সনদে উপরের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে বলা হয়েছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফাতের ময়দানে সালাতে রত ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 288 · #1004 - 287
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে এ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে মিনা বা 'আরাফাহ কোনটিরই নাম উল্লেখ নেই। এতে বলা হয়েছে এ ঘটনাটি বিদায় হজ্জের সময়কার অথবা মক্কা বিজয়ের সময়কার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 289 · #1005 - 288
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন (একাকি) সালাত আদায় করে সে যেন নিজের সামনে দিয়ে কাউকে চলাচল করতে না দেয়। সে সাধ্যমত তাকে বাধা দিবে। অতিক্রমকারী যদি এ থেকে বিরত হতে না চায় তবে সে (সালাত আদায়কারী) যেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০০৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 290 · #1006 - 289
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু হিলাল অর্থাৎ- হুমায়দ (বাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক সাখী কোন একটি ব্যাপারে আলাপ রত ছিলাম। এমন সময় আবূ সালিহ "আস সাম্মান" বলে উঠলেন, আমি আবূ সাঈদ-এর কাছে যা শুনেছি এবং দেখেছি তা তোমাকে বলছি। এক জুমু'আর দিন আমি আবূ সাঈদ-এর সাথে ছিলাম। তিনি একটি জিনিস সামনে রেখে লোকেদের আড়াল করে সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় আবূ মু'আয়ত গোত্রের একটি যুবক সেখানে এসে উপস্থিত হলো। সে আবূ সাঈদ এর সামনে দিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করল। তিনি তার গলা ধরে ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু যুবকটি আবূ সাঈদ এর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। সে পুনরায় তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করল। তিনি পূর্বের চেয়ে অধিক জোরে গলা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিলেন। সে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে গেল। ইতিমধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে গেল। সে বের হয়ে সরাসরি মারওয়ানের কাছে উপস্থিত হয়ে (তার বিরুদ্ধে) অভিযোগ দায়ের করল। রাবী বলেন, ইতিমধ্যে আবূ সাঈদও মারওয়ানের কাছে এসে উপস্থিত হলেন। মারওয়ান তাকে লক্ষ্য করে বলল, আপনার এবং আপনার ভাতিজার মধ্যে কি ঘটেছে? সে এসে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) উত্তরে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ যখন কোন কিছু দিয়ে লোকেদের আড়াল করে সালাত আদায় করে; এমতাবস্থায় যদি কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় সে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। যদি সে বিরত হতে অস্বীকার করে তবে সে (সালাত আদায়কারী) যেন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 291 · #1007 - 290
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদর কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন নিজের সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। যদি সে বিরত না হয়, তবে (সালাত আদায়কারী) তার (অতিক্রমকারীর) বিরুদ্ধে (লড়াই করবে) অস্ত্র ধারণ করবে। কেননা তার সাথে শয়তান রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 292 · #1008 - 291
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 293 · #1009 - 292
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... বুসর ইবনু সা’ঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী তাকে আবূ জুহায়ম এর কাছে পাঠালেন। উদ্দেশ্য সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যা শুনেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা। আবূ জুহায়ম বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে চলাচলকারী যদি জানত সে কত বড় পাপ করছে; তাহলে সে তার সামনে দিয়ে চলাচল করার পরিবর্তে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা নিজের জন্য ভাল মনে করত। আবূ নাযর বলেন, তিনি কি চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর বলেছেন- তা আমার জানা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 294 · #1010 - 293
আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ইবনু হাইয়্যান আল আবদী (রহঃ) ..... জুহায়ম আল আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এ সূত্রেও মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 295 · #1011 - 294
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... সাহল ইবনু সা’দ আস্ সাইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাতের স্থান এবং (তার সামনের) দেয়ালের মাঝখান একটি ছাগল চলাচল করার পরিমাণ প্রশস্ত ছিল। (অর্থাৎ- তিনি সুতরাহ এর খুব কাছাকাছি দাঁড়াতেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 296 · #1012 - 295
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "মাসহ(মাসেহ)াফ" এর নিকটবর্তী স্থানটি খুঁজতেন। তিনি (সালামাহ) উল্লেখ করেছেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ স্থানটি (সালাতের জন্য) নির্দিষ্ট করে নিয়েছিলেন। এ স্থানটি ছিল মিম্বার এবং কিবলার মাঝখানে। স্থানটি একটি ছাগল চলাচল করার পরিমাণ প্রশস্ত ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 297 · #1013 - 296
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবায়দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) "মুসহাফ" এর নিকটবর্তী স্তম্ভ সংলগ্ন জায়গাটি খুঁজে সেখানে সালাত আদায় করতেন। আমি তাকে বললাম, হে মুসলিমের পিতা; আমি আপনাকে এ খুঁটি সংলগ্ন জায়গাটি খুঁজে সেখানে সালাত আদায় করতে দেখছি। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ খুঁটির সাথে সংলগ্ন স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 298 · #1014 - 297
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, সে যেন হাওদার খুঁটির ন্যায় একটি কাঠি তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। যদি সে তার সামনে হাওদার পিছনের খুঁটির ন্যায় একটি কাঠি দাঁড় না করায়- এমতাবস্থায় তার সামনে দিয়ে গাধা, মহিলা এবং কালো কুকুর চলাচল করলে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। ['আবদুল্লাহ ইবনু সীমিত (রাযিঃ) বলেন] আমি বললাম, হে আবূ যার (রাযিঃ) কালো কুকুরের কি অপরাধ, অথচ লাল ও হলুদ বর্ণের কুকুরও তা রয়েছে? তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করেছ, আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ রকম প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছেনঃ কালো কুকুর হলো একটি শয়তান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 299 · #1015 - 298
শাইবান ইবনু ফাররূখ, মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং ইউসুফ ইবনু হাম্মদ আল মানী (রহঃ) ... হুমায়দ ইবনু হিলাল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইউনুস কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 300 · #1016 - 299
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল মাখযুমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে নারী, গাধা এবং কুকুরের চলাচল সালাত নষ্ট করে দেয়। সালাত আদায়কারীর সামনে হাওদার পিছনের খুঁটির ন্যায় কিছু (সুতরাহ) থাকলে সালাত নষ্ট হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 301 · #1017 - 300
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রি বেলায় সালাত আদায় করতেন। আমি তার এবং কিবলার মাঝামাঝি জানাযার মতো আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 302 · #1018 - 301
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... 'আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রাত্রে সালাত আদায় করতেন। আমি তার এবং কিবলার মাঝে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন বিতর সালাত আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন আমাকে জাগাতেন। অতঃপর আমিও বিতর সালাত আদায় করে নিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 303 · #1019 - 302
আমর ইবনু আলী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, কিসে সালাত নষ্ট হয়? রাবী বলেন, আমরা বললাম, স্ত্রীলোক এবং গাধার কারণে সালাত নষ্ট হয়। তিনি বললেন, তাহলে স্ত্রীলোক একটি অশুভ প্রাণী! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে জানাযার মতো আড়াআড়ি হয়ে শুয়ে থাকতাম, আর তিনি সালাত আদায় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 304 · #1020 - 303
আমর আন নাকিদ, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও উমার ইবনু হাফস্ ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... আল আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (মাসরূক) বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর সম্মুখে সালাত বিনষ্টকারী জিনিস যেমন কুকুর, গাধা এবং মহিলাদের কথা উল্লেখ করা হলো। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, তোমরা তো আমাদেরকে গাধা এবং কুকুরের সমতুল্য করে দিলে। আল্লাহর শপথ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। আমি বিছানার উপর তার এবং কিবলার মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। আমার উঠার প্রয়োজন দেখা দিলে (শোয়া থেকে উঠে) তার সামনে বসে থাকা এবং এভাবে তাকে কষ্ট দেয়া আমার কাছে খারাপ লাগত। তাই আমি খাটের পায়ের দিক দিয়ে ঘেসে ঘেসে নেমে বের হয়ে যেতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 305 · #1021 - 304
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) .... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার সাথে তুলনা করলে। আমি খাটের উপর শুয়ে থাকতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে খাটের উপর দাঁড়িয়ে যেতেন, অতঃপর সালাত শুরু করে দিতেন। আমার উঠবার প্রয়োজন দেখা দিলে শোয়া থেকে উঠে তার সামনে বসে থেকে তাকে কষ্ট দেয়া আমার কাছে খারাপ লাগত। তাই আমি খাটের পায়ের দিকে ঘেসে ঘেসে আসতাম, অতঃপর লেপের মধ্য থেকে বেরিয়ে যেতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 306 · #1022 - 305
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে শুয়ে থাকতাম। আমার পা দুটি কিবলার দিকে থাকত। তিনি যখন সিজদা করতেন, আমাকে ইঙ্গিত দিতেন এবং আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম। যখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন, আমি আবার পা বিছিয়ে দিতাম। এ সময় ঘরে বাতি থাকত না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 307 · #1023 - 306
ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী মাইমূনাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করতেন, আর আমি তার পাশেই সোজা হয়ে শুয়ে থাকতাম। আমি তখন হায়িয (মাসিক ঋতু) অবস্থায় ছিলাম। কখনো কখনো সিজদা করার সময় তার কাপড় আমার গায়ে এসে পড়ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 308 · #1024 - 307
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রিতে সালাত আদায় করতেন। আমি তার পাশে শুয়ে থাকতাম। আমি এ সময় ঋতুবতী ছিলাম। আমার গায়ে চাঁদর ছিল, এর কোন কোন অংশ তার পার্শ্বদেশে ঠেকে যেত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 309 · #1025 - 308
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দু'টো করে কাপড় আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 310 · #1026 - 309
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আবদ আল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 311 · #1027 - 310
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে উদ্দেশ্য করে বলল, আমাদের কোন ব্যক্তি একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করতে পারে কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে দু'টি করে কাপড় সংগ্রহ করার সামর্থ্য রাখে কি? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 312 · #1028 - 311
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ‘আমর ইবনু নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন এক কাপড় পরে এমন অবস্থায় সালাত না পড়ে যে, তার কাঁধে ঐ কাপড়ের কোন অংশ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 313 · #1029 - 312
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... উমার ইবনু আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একটি কাপড়* পরে উম্মু সালামার ঘরে সালাত আদায় করতে দেখেছি। কাপড়ের দু'দিক তার কাঁধের উপর রাখা ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 314 · #1030 - 313
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) হতে বণিত। তিনি তার বর্ণনায় مُشْتَمِلاً শব্দের পরিবর্তে مُتَوَشِّحًا শব্দের উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 315 · #1031 - 314
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে উম্মু সালামার ঘরে একটি কাপড় পড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি এর দু'দিক দু'বিপরীত কাঁধে রেখেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 316 · #1032 - 315
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ..... উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একটি মাত্র কাপড় পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি। এর দু'কিনারা দু’কাঁধের উপর দিয়ে সামনে টেনে এনে বুকের উপর গিট দিয়েছেন। ঈসা ইবনু হাম্মাদের বর্ণনায় কাঁধের উপর বেঁধেছেন বলে অতিরিক্ত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 317 · #1033 - 316
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একটি কাপড় পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি কাপড়টির দু'মাথা পিছন দিক থেকে দু’কাঁধের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে এনে বুকের উপর বেঁধেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 318 · #1034 - 317
মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... সুফইয়ান (রহঃ) হতে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবনু নুমায়র এর বর্ণনায় আছেঃ আমি (জাবির) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রবেশ করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 319 · #1035 - 318
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র আল মাক্কী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে একটি কাপড়ে জড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। অথচ তার কাছে আরো কাপড় বর্তমান ছিল। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এমনটি করতে দেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 320 · #1036 - 319
আমর আন্ নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেছেন, একদিন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আগমন করলেন। তিনি বলেন, আমি তাকে একটি চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতে এবং সিজদা করতে দেখলাম। তিনি আরো বলেন, আমি একটি কাপড় দ্বারা জড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 321 · #1037 - 320
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আল আমাশ হতে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় আছে, কাপড়ের দু'কিনারা দু’কাঁধের উপর ছিল। আবূ বাকর ও সুওয়াইদ এর বর্ণনায় আছে, তিনি ডান কাঁধের কাপড় বাম হাতের নীচে এবং বাম কাঁধের কাপড় ডান হাতের নীচে দিয়ে নিয়ে পরে একত্র করে বুকের উপর বেঁধেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
Book 4 · Hadith 322 · #1038