The Book of Mosques and Places of Prayer
- 1
আবূ কামিল আল জাহদারী, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আবূ যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! পৃথিবীতে কোন মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি (মাসজিদটি)। তিনি বললেন, আল মাসজিদুল আকসা বা বায়তুল মাকদিস। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এ দু'টি মসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (তিনি আরো বললেন) যে স্থানেই সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তুমি সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কারণ সে জায়গাটাও মাসজিদ। আবূ কামিল বর্ণিত হাদীসে আছে, তাই যেখানেই সালাতের সময় হবে তুমি সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কারণ সেটিও মাসজিদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১০৪২, ইসলামিক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 1 · #1039 - 2
আলী ইবনু হুজর আস সা’দী (রহঃ) ..... ইবরাহীম ইবনু ইয়াযীদ আত তায়মী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে "সাদ্দাহ" অর্থাৎ- মসজিদের দরজার বাইরে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনাতাম। আমি সাজদার আয়াত পড়লে তিনি তখন সিজদা করতেন। আমি তাকে বলতাম, আব্বাজান! আপনি রাস্তায় সিজদা করছেন? তিনি বলতেন, আমি আবূ যার কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পৃথিবীতে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম (সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল) আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন মসজিদ (নির্মিত হয়েছিল?) তিনি বললেন, মসজিদুল আকসা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এ দুটি মসজিদের (নির্মিত কাজের) মধ্যে কতদিনের ব্যবধান? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। এছাড়া গোটা পৃথিবীই তো মসজিদ। সুতরাং যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 2 · #1040 - 3
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা অন্য কোন নবীকে দেয়া হয়নি। প্রত্যেক নবীকে শুধু তার কওমের জন্য পাঠানো হতো। কিন্তু আমাকে সাদা ও কালো সবার জন্য নবী করে পাঠানো হয়েছে। আমার জন্য গনীমাত বা যুদ্ধলব্ধ অর্থ-সম্পদ হালাল করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার পূর্বে আর কারো (কোন নবীর) জন্য তা হালাল ছিল না। আমার জন্য গোটা পৃথিবী পাক-পবিত্র ও মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সালাতের সময় হলে যে কোন লোক যে কোন স্থানে সালাত আদায় করে নিতে পারে। আমাকে একমাসের পথের দূরত্ব পর্যন্ত অত্যন্ত শান শাওকাত সহকারে (শত্রুও অন্তর ভীতি দ্বারা) সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে শাফা'আতের সুযোগ দান করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৪ ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 3 · #1041 - 4
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আমাদেরকে জানিয়েছেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ... অতঃপর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 4 · #1042 - 5
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ)...... হুযায়ফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্য সব লোকের চেয়ে তিনটি বিষয়ে আমাদেরকে (উম্মাতে মুহাম্মাদীকে) মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাদের (সালাতের) কাতার বা সারি মালাকগণের (ফেরেশতাগণের) কাতার বা সারির মতো করা হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী আমাদের জন্য মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। আর পানি না পেলে পৃথিবীর মাটিকে আমাদের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি আরেকটি বিষয়ও উল্লেখ করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 5 · #1043 - 6
আবূ কুরায়ব মুহাম্মদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... হুযায়ফাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ..... এরপর এ কথা বলে তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 6 · #1044 - 7
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্য সব নবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনীমাতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্রতা হাসিলকার এবং মসজিদ করা হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য (নবী করে) পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 7 · #1045 - 8
আবুত ত্বহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডারের চাবিসমূহ এনে আমার হাতে দেয়া হলো। আবূ হুরায়রাহ ..... (এর ব্যাখ্যা করে) বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছেন আর তোমরা তা আহরণ* করে চলেছ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৪৯ ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 8 · #1046 - 9
হাজিব ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, অতঃপর ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 9 · #1047 - 10
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 10 · #1048 - 11
আবুত তহির (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমাকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দান করা হয়েছে। আর একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধন-ভণ্ডারের চাবিসমূহ এনে আমার হাতে দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 11 · #1049 - 12
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাদ ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) বর্ণনা করেন। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করে আমাদের শুনালেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে সংক্ষিপ্ত ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 12 · #1050 - 13
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরাত করে মাদীনায় আগমন করলেন, মাদিনার উচ্চভূমিতে বানী 'আমর ইবনু আওফ গোত্রের এলাকায় অবতরণ করলেন, এবং সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বানী নাজ্জার গোত্রের লোকজনকে ডেকে পাঠালেন তারা সবাই (খোলা) তরবারিসহ আগমন করলো। হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমি যেন রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার সওয়ারী বা বাহনের উপর দেখতে পাচ্ছি। আবূ বাকর তার পিছনে বসে আছেন এবং বানী নাজারের লোকজন তাকে ঘিরে আছে। অবশেষে তিনি আবূ আইয়ুবের (আনসারী) বাড়ীর আঙ্গিনায় অবতরণ করলেন। বর্ণনাকারী আনাস বলেছেন, সালাতের সময় হলেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে নিতেন। এমনকি তিনি বকরীর খোয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। পরে তিনি মসজিদ নির্মাণ করতে আদিষ্ট হলে বানী নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্থানীয় লোকদের ডেকে পাঠালেন। তারা উপস্থিত হলে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এ বাগানটি অর্থের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি করো। তারা বললো না, আল্লাহর শপথ, আমরা আল্লাহর নিকট ছাড়া আপনার কাছে এর মূল্য দাবী করব না। আনাস বলেন, ঐ বাগানটিতে যা ছিল তা আমি বর্ণনা করছি, ঐ বাগানে ছিল খেজুর গাছ, মুশরিকদের কিছু কবর এবং কিছু ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তুপ। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হলো। তারা (কর্তিত) খেজুর গাছের গুড়িসমূহ কিবলার দিকে সারি করে রাখল এবং দরজার দু'পাশে পাথর স্থাপন করল। আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেছেন। এসব কাজ করার সময় তারা একসুরে কবিতা আবৃত্তি করছিল। আর তাদের সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একস্থানে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। তারা বলছিল, "হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কোন কল্যাণ নেই। তুমি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করো।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 13 · #1051 - 14
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণের পূর্বে বকরীর খোয়াড়েও সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 14 · #1052 - 15
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরে বর্ণিত হাদীসটির বিষয়বস্তুর অনুরূপ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 15 · #1053 - 16
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআন মাজীদের আয়াত “ওয়া হায়সু মা কুনতুম ফাওয়াল্লু উজুহাকুম শাত্বরাহ্” (অর্থাৎ- এখন যেখানেই তোমরা অবস্থান করো না কেন, ঐ (কা'বাহ ঘরের) দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা ষোল মাস যাবৎ বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের পর এ আয়াত অবতীর্ণ হলো। তখন সবার মধ্য হতে জনৈক ব্যক্তি উঠে রওয়ানা হলো। সে সালাতরত একদল আনসারের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তারা সবাই (সালাতরত অবস্থায়ই) মুখ ফিরিয়ে বায়তুল্লাহ বা কাবাহ ঘরের দিকে করে নিলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৫৭, ইসলামীক সেন্টারঃ)
Book 5 · Hadith 16 · #1054 - 17
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবূ বাকর ইবনু খল্লাদ (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আমরা বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে ষোল কিংবা সতের মাস পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। এরপর আমাদেরকে কা'বার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ- ষোল কিংবা সতের মাস পরে আমরা কা'বার দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের নির্দেশ লাভ করি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 17 · #1055 - 18
শায়বান ইবনু ফাররূখ, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কুবা নামক মসজিদে লোকজন ফজরের সালাত আদায় করছিল। ঠিক তখনই একজন আগন্তুক এসে তাদেরকে বলল, আজ রাতে কা'বার দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তাদের (মসজিদে কুবায় সালাত আদায়কারী মুসল্লীদের) মুখ ছিল শামের (বায়তুল মাকদিস বা মসজিদে আকসার, যা বর্তমানে ফিলিস্তনে অবস্থিত) দিকে। অতঃপর (সালাতরত অবস্থায়) তারা কা'বার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 18 · #1056 - 19
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু দীনার এর মাধ্যমে 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, লোকজন ফজরের সালাত আদায় করছিল। ঠিক তখন একজন সেখানে এসে হাজির হলো ... এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু রর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 19 · #1057 - 20
আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। তারপর এক সময় এ আয়াত অবতীর্ণ হলোقَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ "আমি বার বার তোমাকে আসমানের দিকে তাকানো দেখছিলাম। এখন আমি তোমাকে তোমার পছন্দনীয় কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। সুতরাং তুমি তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও"- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ১৩৩)। এরপর জনৈক ব্যক্তি ভোরবেলা বানী সালামাহ গোত্রের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করছিল। সে দেখতে পেলো তারা ফাজর সালাতের এক রাকাআত আদায় করেছে এবং দ্বিতীয় রাকাআতে রুকু’রত আছে। তখন সে ডেকে বলল, কিবলাহ কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। (এ কথা শুনার পর) তারা সালাতরত অবস্থায়ই (নতুন) কিবলার দিকে ঘুরে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 20 · #1058 - 21
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু স্ত্রী) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমন একটি গীর্জার বর্ণনা দিলো যার মধ্যে মূর্তি বা ছবি যা তারা হাবশায় দেখেছিলেন। তাদের কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা এরূপই করে থাকে। তাদের মধ্যেকার কোন নেক লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করে এবং তার মধ্যে ছবি বা মূর্তি স্থাপন করে। কিয়ামতের দিন এরা হবে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট সৃষ্টি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 21 · #1059 - 22
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পীড়িত তখন সাহাবীগণ তার কাছে কথা-বার্তা বললেন। তখন উম্মু সালামাহ ও উম্মু হাবীবাহ গীর্জার কথা বর্ণনা করলেন। এরপর বর্ণনাকার হাদীসটিতে পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 22 · #1060 - 23
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ আবিসিনিয়ায় (যা বর্তমানে ইথিওপিয়া) মারিয়াহ নামক যে এক রকম গীর্জা দেখেছিলেন তার আলোচনা করলেন। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী হাদীসটির অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 23 · #1061 - 24
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রোগ-শয্যায় বলেছিলেন, আল্লাহ ইয়াহুদ ও নাসারাদের (খৃষ্টানদের) প্রতি লা'নাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ যদি এরূপ করার আশঙ্কা না থাকতো তাহলে তাকে উন্মুক্ত স্থানে কবর দেয়া হত। কিন্তু যেহেতু তিনি আশংকা করতেন যে, তার কবরকে মাসজিদ বা সাজদার স্থান করা হতে পারে তাই উন্মুক্ত স্থানে কবর করতে দেননি। বরং আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কক্ষে তার কবর করা হয়েছে। তবে ইবনু আবূ শায়বাহ এর বর্ণিত হাদীসে فَلَوْلاَ ذَاكَ স্থানে وَلَوْلاَ ذَاكَ কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। আর তিনি ক্বলাত শব্দটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 24 · #1062 - 25
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নবীদের কবরকে মাসজিদ বা সাজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 25 · #1063 - 26
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদ ও নাসারাদের (খৃষ্টানদের) ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মাসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 26 · #1064 - 27
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়েই বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি চাদর টেনে টেনে মুখমণ্ডলের উপর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আবার যখন অস্বস্তিবোধ করছিলেন তখন তা সরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বলছিলেন ইয়াহুদ (ইয়াহুদী) ও নাসারাদের (খৃষ্টানদের) ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছে (অর্থাৎ সেখানে তারা সিজদা করে)। আর ইয়াহুদ ও নাসারাদের মতো না করতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বার বার হুশিয়ার করে দিচ্ছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 27 · #1065 - 28
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) [শব্দাবলী আবূ বাকর এর] ... জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে আমার কোন খলীল বা একান্ত বন্ধু থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে মুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ ইবরাহীমকে যেমন খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সে রকমভাবে আমাকেও খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে আবূ বকরকেই তা করতাম। সাবধান থেকো তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরসমূহকে মাসজিদ (সাজদার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান তোমরা কবরসমূহকে সাজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করে যাচ্ছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 28 · #1066 - 29
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ আল খাওলানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) যে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাসজিদ নির্মাণ করলেন এবং এ কারণে লোকজন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলো তখন উবায়দুল্লাহ খাওলানী উসমানকে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছ। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে মসজিদ নিৰ্মাণ করে। হাদীস বর্ণনাকারী বুকায়র বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন এর মাধ্যমে (মাসজিদ নির্মাণ) যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা করে তাহলে মহান আল্লাহ তা'আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইবনু ঈসা তার বর্ণনায় (জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 29 · #1067 - 30
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ... মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) মাসজিদ নির্মাণ করতে মনস্থ করলে লোকজন তা করা পছন্দ করলো না। বরং মাসজিদ যেমন আছে তেমন রেখে দেয়াই তারা ভাল মনে করলো। তখন উসমান বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে কেউ মাসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তা'আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ একখানা ঘর তৈরি করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 30 · #1068 - 31
মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা আল হামদানী আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আসওয়াদ ও আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা (উভয়ে) বলেছেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর বাড়ীতে তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এসব আমীর-উমারাহ এবং তাদের অনুসারীগণ যারা তোমাদের পেছনে রয়েছে তারা কি সালাত আদায় করেছে? জবাবে আমরা বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে উঠে সালাত আদায় করে নাও। (কারণ সালাতের সময় হয়ে গিয়েছে)। কিন্তু তিনি আমাদেরকে আযান কিংবা ইকামাত দিতে বললেন না*। বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, সালাত আদায়ের জন্য আমরা তার পিছনে দাঁড়াতে গেলে তিনি আমাদের একজনকে ধরে তার ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং অপরজনকে বা পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন**। তিনি রুকূ’তে গেলে আমরাও রুকূ’তে গিয়ে হাঁটুর উপর আমাদের হাত রাখলাম। তখন তিনি আমাদের হাত ধরলেন এবং হাতের দু' তালু একত্রিত করে দু' উরুর মধ্যখানে স্থাপন করলেন। পরে সালাত শেষে বললেন, অচিরেই এমন সব আমীর-উমারাহ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটবে যারা সময়মত সালাত না পড়ে বিলম্ব করবে এবং সালাতের সময় এত সংকীর্ণ করে ফেলবে যে, সূর্য অস্তমিত প্রায় হয়ে যাবে। তাদেরকে এরূপ করতে দেখলে তোমরা সময়মত সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে পুনরায় নাফল হিসেবে পড়ে নিবে (ইমামকে মাঝখানে রেখে)। তিনের অধিকজন থাকলে একজন ইমাম হবে (সামনে দাঁড়াবে) আর রুকূ’ করার সময় দু হাত উরুর উপর রেখে রুকূ’তে যাবে এবং উভয় (হাতের) তালু একত্রিত করে দু' উরুর মাঝখানে রাখবে। (এসব কথা বলার পর তিনি বললেন, এ মুহুর্তে) আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক হাতের অঙ্গুলি অপর হাতের অঙ্গুলিতে ঢুকাতে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি তা তাদেরকে দেখালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 31 · #1069 - 32
মিনজাব ইবনুল হারিস আত তামীমী, উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) আলকামাহ ও আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা (উভয়ে) আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) এর কাছে গেলেন। এরপর তারা মু'আবিয়াহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে ইবনু মুসহির ও জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরস্পর বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রাখা আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি রুকূ’ অবস্থায় আছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 32 · #1070 - 33
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) আলকামাহ ও আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা (আলকমাহ ও আসওয়াদ) এক সময়ে আবদুল্লাহর কাছে গেলে 'আবদুল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, যারা (আমীর-উমারাগণ) থেকে গেল তারা কি সালাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি (আবদুল্লাহ) তাদের দু'জনের মাঝখানে দাঁড়ালেন। তখন তিনি তাদের দু'জনের একজনকে ডানে এবং অপরজনকে বামে দাঁড় করালেন। এরপর আমরা (তার সাথে) রুকূ’ করলাম। এতে তিনি আমাদের হাত আমাদের হাঁটুর উপর রাখলেন। তিনি আমাদের হাত ধরে তা পরস্পর মিলিয়ে (একত্রিত করে) দিয়ে দু’উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 33 · #1071 - 34
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) [শব্দাবলী কুতায়বাহ-এর] ...... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ঐ সময় (পিতার সাথে সালাত আদায়ের সময়) আমি আমার হাত দুটি দু' হাঁটুর মাঝখানে রাখলে আমার পিতা আমাকে বললেন, তোমার হাত দুটি হাঁটুর উপর রাখো। কিন্তু আবারও ঐ রকম করলে তিনি আমার হাত দু'টি ধরে বললেন, আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাতের তালু হাটুর উপরে রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 34 · #1072 - 35
খালাফ ইবনু হিশাম, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ ইয়া'ফুর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ একই সানাদে (উপরে বর্ণিত হাদীসটি) "ফানুহীনা আনহু" পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়েই এর (ফানুহীনা আনহু) পরবর্তী অংশটুকু বর্ণনা করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 35 · #1073 - 36
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক সময়ে সালাত আদায় করতে) আমি রুকূ’তে গিয়ে হাত দু'টি একত্রে মিলিয়ে দু' উরুর মাঝে রাখলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন, আমরাও এরূপ করতাম। কিন্তু এরপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখতে আদেশ করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 36 · #1074 - 37
হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। রুকূ’তে গিয়ে আমি এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অন্য হাতের আঙ্গলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে হাত দু'টি হাঁটুর মাঝে রাখলে তিনি আমার হাতে মৃদু আঘাত করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, প্রথমে আমরা এরূপই করতাম। কিন্তু পরে আমাদেরকে হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 37 · #1075 - 38
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ), হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে দু' পায়ের উপর নিতম্ব রেখে বসা (ইক'আ করা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরূপ করা তো সুন্নাত। (এ কথা শুনে) আমি তাকে বললাম, এভাবে বসা তো মানুষের জন্য কষ্টকর। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বললেন, এটা তো বরং তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 38 · #1076 - 39
আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনুস্ সাব্বাহ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে (সালাত আদায়কারীদের মধ্যে) কোন একজন লোক হাচি দিলে (জবাবে) আমি "ইয়ারহামুকাল্প-হ" (অর্থাৎ- আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন) বললাম। এতে সবাই রুষ্ট দৃষ্টিতে আমার প্রতি তাকাতে থাকল। তা দেখে আমি বললামঃ আমার মা আমার বিয়োগ ব্যথায় কাতর হোক। (অর্থাৎ এভাবে আমি নিজেকে ভৎসনা করলাম)। কি ব্যাপার! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ যে? তখন তারা নিজ নিজ উরুতে হাত চাপড়াতে থাকল। (আমার খুব রাগ হওয়া সত্ত্বেও) আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চায় তখন আমি চুপ করে রইলাম। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলে আমি তাকে সবকিছু বললাম। আমার পিতা ও মাতা তার জন্য কুরবান হোক। আমি ইতোপূর্বে বা এর পরে আর কখনো অন্য কোন শিক্ষককে তার চেয়ে উত্তম পন্থায় শিক্ষা দিতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি আমাকে ধমকালেন না বা মারলেন না কিংবা বকাঝকাও করলেন না। বরং বললেনঃ সালাতের মধ্যে কথাবার্তা ধরনের কিছু বলা যথোচিত নয়। বরং প্রয়োজনবশতঃ তাসবীহ, তাকবীর বা কুরআন পাঠ করতে হবে অথবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি সবেমাত্র জাহিলিয়াত বর্জন করেছি এবং এরপর আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছে। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কথায় বিশ্বাস করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (এ কথা শুনে) বললেনঃ তুমি গণকদের কাছে যেয়ো না। সে বললঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা শুভ-অশুভ লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে। তিনি বললেনঃ এটা তাদের হৃদয়ের বদ্ধমূল বিশ্বাস। এটি তাদেরকে (ভাল কাজ করতে) বাধা না দেয়। হাদীস বর্ণনাকারী সাববাহ বলেছেন, তা যেন তোমাকে বাধা না দেয়। লোকটি বর্ণনা করেছেন- আমি আবারও বললামঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করে থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একজন নবী এভাবে রেখা টানতেন। সুতরাং কারো রেখা যদি (নবীর রেখার) অনুরূপ হয় তাহলে তা ঠিক হবে*। বর্ণনাকারী মুআবিয়াহ বলেন, আমার এক দাসী ছিল সে উহুদ ও জাওওয়ানিয়াহ এলাকায় আমার বকরীপাল চরাত। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরী পাল থেকে বাঘে একটি বকরি নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মতো একজন মানুষ। তাদের মতো আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে (দাসী) মুক্ত করে দিব? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ (বলো তো) আল্লাহ কোথায়? সে বলল-আকাশে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (বলো তো) আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মু'মিনাহ নারী। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 39 · #1077 - 40
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 40 · #1078 - 41
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সালাত আদায় করতেন সে অবস্থায় আমরা তাকে সালাম দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জবাব দিতেন। কিন্তু (হাবশায় হিজরাতের পর) নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম দিলে তিনি তার জবাব দিলেন না। তখন (সালাত শেষে) আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি সালাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। (কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সালাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 41 · #1079 - 42
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আমাশ (রহঃ) এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 42 · #1080 - 43
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাতরত অবস্থায় কথা বলতাম। লোকে সালাতরত অবস্থায় তার পাশে (সালাতে) দাঁড়ানো অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলত। এরপর আয়াত অবতীর্ণ হলোঃوَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ "আর তোমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত ও একনিষ্ঠ হয়ে দাড়াও" (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৩৮)। এ হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে সালাতের মধ্যে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হলো এবং কথা বলতে নিষেধ করা হলো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 43 · #1081 - 44
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 44 · #1082 - 45
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম সওয়ারীতে আরোহণ করে (নফল সালাত আদায়রত) অতিক্রম করেছেন। কুতায়বাহ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করছিলেন। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি (ফিরে আসার পর ঐ অবস্থায়) তাকে সালাম দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ইশারা করলেন (ইশারা দ্বারা সালামের জবাব দিলেন)। সালাত শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছ। তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। ঐ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 45 · #1083 - 46
আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী মুস্তালিক গোত্রের দিকে যাওয়ার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উটের পিঠে বসে সালাত আদায় করছেন। আমি তাকে বললাম (অর্থাৎ- যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে) কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী যুহায়র ইবনু হারব তার হাত দিয়ে ইশারা করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে ইশারা করেছিলেন তা দেখালেন। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি তখন শুনছিলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু পড়ছেন এবং মাথা দ্বারা ইশারা করছেন। সালাত শেষ হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি তোমাকে যে জন্য পাঠিয়েছিলাম তার কি করেছ? আমি শুধু এ কারণে তোমার সাথে কথা বলিনি যে, আমি তখন সালাত আদায় করছিলাম। হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) বলেনঃ কথাগুলো বলার সময় আবূ যুবায়র কা'বার দিকে মুখ করে বসে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি (আবুয যুবায়র) হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাচ্ছিলেন তখন কা'বার দিকে মুখ না করে বানী মুস্তালিকের দিকে মুখ করে বলছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 46 · #1084 - 47
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন আমি ফিরে এসে দেখতে পেলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীর পিছে বসে কিবলাহ ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। আমি তাকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সালামের কোন জওয়াব দিলেন না। সালাত শেষ করে বললেনঃ আমি সালাত আদায় করেছিলাম তাই তোমার সালামের কোন জবাব দিতে পারিনি। এছাড়া আর কিছুই আমাকে তোমার সালামের জওয়াব দেয়া থেকে বিরত রাখেনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 47 · #1085 - 48
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সময়ে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 48 · #1086 - 49
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সালাত নষ্ট করার জন্য আমার ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছা হলো তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হলে আমার ভাই নবী সুলায়মানের দুয়া'র কথা তিনি (আঃ) দুয়া করেছিলেন رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي হে প্রভু, তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করে যা আমার পরে আর কারো জন্য যেন না হয়"- (সূরাহ সোয়াদ ৩৮ঃ ৩৫)। (অর্থাৎ- জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেঁধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবনু মানসূর, শু'বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 49 · #1087 - 50
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ...... শু'বাহ থেকে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনু জাফার বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা فَذَعَتُّهُ অর্থাৎ "আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম" বর্ণিত হয়নি। আর আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা فَدَعَتُّهُ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 50 · #1088 - 51
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবুদ দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমরা শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেনঃ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ "আউযু বিল্লা-হি-মিনকা" অর্থাৎ আমি তোমার (অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আমরা শুনলাম) এরপর তিনি বলছেনঃ أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ “আল আনুকা বি লা'নাতিল্লা-হি” (অর্থাৎ আমি তাকে লা'নাত করছি যেমন আল্লাহ লা'নাত করেছিলেন)। তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় (যে সময় তিনি লা'নাত করছিলেন) তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন। সালাত শেষ করলে আমরা তাকে বললামঃ হে আল্লাহ রসূল! (আজ) আমরা সালাতের মধ্যে আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি যা ইতিপূর্বে আর কোন দিন বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম যে আপনি হাতও বাড়িয়ে দিলেন। (এর কারণ কি?) তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীস আমার মুখের উপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নি-শিখা নিয়ে এসেছিল, তাই আমি أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ কথাটিও আমি তিনবার বললাম। এরপর তিনবারأَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ বললাম, এ কথাটিও আমি তিনবার বললাম, কিন্তু তবুও সে পিছু হটল না। অবশেষে আমি তাকে পাকড়াও করতে ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সুলায়মান যদি দু'আ না করে থাকতেন তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাঁধা থাকত। আর সকাল বেলা মাদীনাবাসীদের ছেলে সন্তানেরা তাকে নিয়ে আনন্দ করত বা মজা করে খেলত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 51 · #1089 - 52
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কানাব ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় তার নাতনী আবূল আস ইবনুর রাবী' এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ বিনতু যায়নাবকে কাঁধে উঠিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি যখন দাঁড়াচ্ছিলেন তাকে (উমামাহ বিনতু যায়নাবকে) উঠিয়ে নিচ্ছিলেন। আবার যখন সাজদাতে যাচ্ছিলেন তখন নামিয়ে রাখছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া বলেন, (আমি এ হাদীসটি সম্পর্কে মালিককে জিজ্ঞেস করলে) মালিক বলেনঃ হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 52 · #1090 - 53
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ কতাদাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর তার নাতনী আবূল আস ইবনুর রাবী' এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ-কে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা যায়নাবের গর্ভজাত মেয়ে) তার কাঁধের উপর রেখে ইমামাতি করতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রুকূ’তে যাচ্ছেন তখন তাকে (কাঁধ থেকে) নামিয়ে রাখছেন, আবার সিজদা থেকে উঠার পর পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিচ্ছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 53 · #1091 - 54
আবূত তহির (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর (তার নাতনী) আবূল আস ইবনু রাবী' এর কন্যা উমামাহ (বিনতু যায়নাব) তার কাঁধে বসে আছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করার সময় তাকে নামিয়ে রাখছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 54 · #1092 - 55
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ কতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা মসজিদে বসেছিলাম এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। এরপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সালাতে ইমামতি করেছেন সে কথা তিনি এ হাদীসে উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 55 · #1093 - 56
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবূ হাযিম) বলেছেনঃ সাহল ইবনু সা'দ এর কাছে একদল লোক আসল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার কী কাঠের তৈরি তা নিয়ে ঝগড়া করতে শুরু করল। তখন সাহল ইবনু সা'দ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছিঃ মিম্বার কী কাঠের তৈরি ছিল এবং কে তা তৈরি করেছিল। তা আমি জানি। আর প্রথম যেদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মিম্বারের উপর বসেছিলেন সেদিন আমি তাকে দেখেছিলাম। আবূ হাযিম বলেন, আমি তখন তাকে বললামঃ হে আবূ আব্বাস (সাহল ইবনু সাদ) বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একজন মহিলাকে বলে পাঠালেন যে, তোমার কাঠ-মিস্ত্রি গোলামকে বল সে আমাকে কিছু কাষ্ঠ অর্থাৎ- কাষ্ঠ-নির্মিত আসন তৈরি করে দিক। এর উপর উঠে আমি মানুষের সামনে বক্তব্য পেশ করব। সে সময় আবূ হাযিম উক্ত মহিলার নামও উল্লেখ করেছিলেন। সুতরাং ঐ মহিলার গোলাম এ তিন স্তরবিশিষ্ট মিম্বারটি তৈরি করে দিয়েছিল। আসনটি ছিল (মাদীনার) গাবাহ নামক বনের বন্য-ঝাউ গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে তা এ স্থানে (মসজিদে) স্থাপন করা হলো। সাহল ইবনু সা'দ বলেনঃ আমি দেখলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন সালাতের জন্য। তার সাথে সাথে লোকেরাও তাকবীর বলল। এ সময় তিনি মিম্বারের উপরে ছিলেন। এরপর তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং পিছনের দিকে হেঁটে মিম্বার থেকে নামলেন এবং মিম্বারের গোড়াতেই (পাশেই) সিজদা করলেন। এরপর আবার গিয়ে মিমবারে উঠলেন এবং এভাবে সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ হে লোকজন। আমি এরূপ এজন্য করলাম যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পার এবং আমি কিভাবে সালাত আদায় করি তা শিখে নিতে পার। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 56 · #1094 - 57
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেনঃ কিছু সংখ্যক লোক সাহল ইবনু সাদ-এর কাছে আসলো। (অন্য সানাদে) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহরর ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমার সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ এর মাধ্যমে আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেন যে, তারা সাহল ইবনু সাদ এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার তৈরি ছিল? এটুকু বর্ণনা করার পর ইবনু আবূ হাযিম পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 57 · #1095 - 58
হাকাম ইবনু মূসা আল কানতারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাউকে কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর আবূ বাকরের বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবর্তে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শব্দ উল্লেখ আছে। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১০৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 58 · #1096 - 59
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... মুআয়কীব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদের মধ্যে অর্থাৎ- সালাতরত অবস্থায় পাথর-টুকরা সরানো সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যদি তোমাকে এরূপ (পাথর-টুকরা সরানোর কাজ) করতেই হয়, তাহলে একবার মাত্র করতে পার। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 59 · #1097 - 60
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলার দিকে দেয়ালে কাশি লেগে থাকা দেখতে পেলেন। তিনি নখ দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে উঠালেন। এরপর লোকদের সামনে গিয়ে বললেনঃ তোমরা কেউ যখন সালাত আদায় করো তখন সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করো না। কারণ কেউ যখন সালাত আদায় করে তখন তার সম্মুখে থাকেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 61 · #1098 - 61
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনু নুমায়র, কুতায়বাহ ও মুহাম্মদ ইবনু রুমূহ, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু রাফি, হারূন ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ (একদিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কিবলাতে কাশি বা শিকনি দেখতে পেলেন কথাটা উল্লেখিত হয়েছে। এরপর তারা মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 62 · #1099 - 62
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমৃর আন নাকিদ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলায় (কিবলার দিকের দেয়ালের গায়ে) কাশি বা থুথু লেগে আছে দেখতে পেলেন। তিনি একটি পাথরের টুকরা দ্বারা ঘষে ঘষে তা উঠিয়ে ফেললেন। এরপর মসজিদের মধ্যে তিনি কাউকে ডান দিকে কিংবা সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ (থুথু নিক্ষেপের প্রয়োজন হলে) সে যেন বা পায়ের নীচে নিক্ষেপ করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 63 · #1100 - 63
আবূত তহির ও হারমালাহ এবং যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থুথু বা কাশি দেখতে পেলেন। (অবশিষ্ট) উয়াইনাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 64 · #1101 - 64
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দেয়ালে (মসজিদের কিবলার দিকের দেয়াল গাত্রে) থুথু অথবা শ্লেষ্মা অথবা কাশি দেখতে পেলেন এবং ঘষে ঘষে তা উঠিয়ে ফেললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 65 · #1102 - 65
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মসজিদে কিবলার দিকে (কিবলার দিকের দেয়ালে) থুথু দেখতে পেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন লোকদের কাছে এসে বললেনঃ তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কেউ তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করে। কেউ তোমাদের মুখের উপর দাঁড়িয়ে মুখের উপর থুথু নিক্ষেপ করুক এটা কি তোমরা পছন্দ করবে? তোমাদের কাউকে (মসজিদে) থুথু নিক্ষেপ করতে হলে সে যেন বাঁ দিকে পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে। আর যদি এরূপ করার অবকাশ না পায় তাহলে যেন এরূপ করে। কাসিম ইবনু ইবরাহীম তা এভাবে করে দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি কাপড়ে থুথু ফেললেন এবং কাপড়খানা ঘষলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 66 · #1103 - 66
শায়বান ইবনু ফাররূখ, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে হুশায়ম বর্ণিত হাদীসে কতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেনঃ আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় ঘষছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১০৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 67 · #1104 - 67
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনুল বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন সালাত আদায় করো তখন যেন সে তার রব বা প্রভুর সাথে কানে কানে কথা বলে। সুতরাং সে যেন সামনে বা ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ না করে। বরং বাঁ দিকে বাঁ পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 68 · #1105 - 68
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদের মধ্যে থুথু ফেলা পাপের কাজ। আর ঐ থুথু মাটিতে পুঁতে দেয়াই এর কাফফারাহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 69 · #1106 - 69
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মসজিদের মধ্যে থুথু ফেলা পাপের কাজ। আর তা পুঁতে ফেলা হলো এর কাফফারাহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 70 · #1107 - 70
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয্ যুবাঈ ও শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের সমস্ত আমল বা কাজ-কর্ম (ভাল-মন্দ উভয়ই) আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। আমি দেখলাম তাদের সমস্ত উত্তম কাজের মধ্যে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূরীকরণও একটি উত্তম কাজ। আর আমি এও দেখলাম যে, তাদের খারাপ আমলের মধ্যে রয়েছে মসজিদের মধ্যে কাশি বা থুথু ফেলা এরং তা মিটিয়ে না ফেলা। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 71 · #1108 - 71
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। আমি দেখলাম তিনি কাশি ফেলে তা জুতা দিয়ে ঘষে (মাটির সাথে মিশিয়ে) দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 72 · #1109 - 72
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি দেখেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাশি ফেলেছেন এবং তা বাঁ পায়ের জুতা দিয়ে ঘষে দিয়েছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 73 · #1110 - 73
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ মাসলামাহ সাঈদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 74 · #1111 - 74
আবুর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আবূ মাসলামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আনাস (ইবনু মালিক) (রাযিঃ) কে অনুরূপ জিজ্ঞেস করলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 75 · #1112 - 75
আমর আন নাকিদ ও যুহরর ইবনু হারব, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একখানা নকশা অঙ্কিত কাপড়ের মধ্যে সালাত আদায় করলেন এবং (সালাত শেষে) বললেন, এ কাপড়ের নকশা ও কারুকার্য আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে। এটা নিয়ে আবূ জাহম-এর কাছে যাও এবং তার সাদামাটা মোট চাদরখানা আমাকে এনে দাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 76 · #1113 - 76
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একখানা নকশা ও কারুকার্য করা চাদরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। সালাতের মধ্যে তিনি এর নকশার প্রতি দেখতে থাকলেন। (অর্থাৎ- কাপড়খানার নকশা ও কারুকার্য সালাতে তার একাগ্রতা নষ্ট করে দিলো।) তাই সালাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন এ চাদরখানা নিয়ে আবূ জাহম ইবনু হুযায়ফাহ-এর কাছে যাও। আর আমাকে তার কম্বলখানা এনে দাও। কারণ এ চাদরখানা এখন সালাতের মধ্যে আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১১৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 77 · #1114 - 77
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একখানা নকশা করা চাদর ছিল। এ চাদর পরে সালাত আদায় করতে তার মন সেদিকে আকৃষ্ট হত। সুতরাং তিনি উক্ত চাদর আবূ জাহমকে দিয়ে তার সাদামাটা চাদরখানা নিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 78 · #1115 - 78
আম্র আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের খাবার উপস্থিত থাকবে। এমন অবস্থায় যদি সালাতের ইকামাতও দেয়া হয় তাহলে প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 79 · #1116 - 79
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাবার যদি সামনে হাজির করা হয় আর মাগরিবের সালাতের সময় হয়ে গেলেও সালাত আদায়ের পূর্বেই খাবার খেয়ে নিবে। খাবার রেখে সালাতের জন্য ব্যস্ত হয়ো না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 80 · #1117 - 80
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 81 · #1118 - 81
ইবনু নুমায়র ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে গিয়েছে সালাতের ইকামাত হয়ে গেছে। এমন অবস্থা হলে সে খাবার দিয়েই শুরু করবে। (অর্থাৎ- প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে) আবার খাবার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাতের জন্য ব্যস্ত হবে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 82 · #1119 - 82
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও আস সালত ইবনু মাসউদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 83 · #1120 - 83
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... ইবনু আবূ আতীক (আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমি এবং কাসিম (ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করলাম। তবে কাসিম বর্ণনায় অধিক ভুল-ত্রুটি করতেন। তিনি ছিলেন উম্মু ওয়ালাদ বা দাসীর পুত্র। আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ কি ব্যাপার! আমার এ ভাতিজা আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর যেভাবে বর্ণনা করছে সেভাবে বর্ণনা করছ না কেন? তবে আমি জানি এরূপ কি করে হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদকে শিক্ষা দিয়েছে, তার মা (যিনি স্বাধীন) আর তোমাকে তোমার মা (যিনি ক্রীতদাসী ছিলেন) শিক্ষা দিয়েছে। এ কথা শুনে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ রাগাম্বিত হয়ে উঠলেন এবং আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর প্রতি তীব্র ঘৃণা বিদ্বেষ প্রকাশ করলেন। এরপর আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর খাবার (দস্তরখানা) আসা (প্রস্তুতি) দেখে উঠে দাঁড়ালেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কোথায় যাচ্ছ? তিনি (কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ) বললেন, আমি সালাত আদায় করব। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ বসো, অকৃতজ্ঞ কোথাকার। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি খাবার হাজির হলে কোন সালাত আদায় চলবে না। কিংবা পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে সালাত আদায় চলবে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৬. ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 84 · #1121 - 84
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সম্পর্কিত ঘটনাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 85 · #1122 - 85
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছের কোন একটি খায় অর্থাৎ- রসুন বা অনুরূপ স্বাদ ও গন্ধের কোন কিছু খায়* সে যেন মসজিদে না আসে। যুহায়র তার বর্ণনাতে "কোন একটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ" করেছেন। তিনি খায়বার যুদ্ধের নাম উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 86 · #1123 - 86
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (শব্দগুলো তার) (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ এসব সবজি অর্থাৎ রসুন ইত্যাদি খেলে (মুখ থেকে) তার গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন আমার মসজিদের কাছে না আসে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১২৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 87 · #1124 - 87
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল আযীয ইবনু সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুন খাওয়া সম্পর্কে আনাস (ইবনু মালিক) (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে বা যারা এসব সবজি (দুর্গন্ধ জাতীয় গাছ) খায় সে বা তারা যেন আমাদের কাছে না আসে* এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় না করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 88 · #1125 - 88
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছ অর্থাৎ- উদ্ভিদ খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটেও না আসে এবং রসুনের গন্ধ দ্বারা আমাদেরকে কষ্ট না দেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 89 · #1126 - 89
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে এ রসুন জাতীয় উদ্ভিদ খাবে- কোন কোন সময় আবার তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পিয়াজ, রসুন বা মূলা খাবে সে যেন আমার মসজিদের কাছেও না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায় মালাকগণও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 90 · #1127 - 90
আবুত তহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবুত তাহির এর বর্ণনায়أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ এবং হারমালা এর বর্ণনায় أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ زَعَمَ উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন ও পিয়াজ খায় তার উচিত আমাদের থেকে দূরে থাকা অথবা আমাদের মসজিদ থেকে সরে থাকা কিংবা বাড়ীতে বসে থাকা। কোন এক সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে শাক-সবজি ভর্তি একটি ডেকচি আনা হলে তিনি তাতে খাবার গন্ধ দেখে তাতে কি আছে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলেন। তাতে কি ধরনের সবজি আছে তাকে তা জানানো হলে তিনি তখন তার কোন সাহাবীর কাছে তা নিয়ে যেতে বললেন। এ কথা জেনে সাহাবীও তা খাওয়া পছন্দ করলেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন তুমি খেতে পার। কারণ আমি যার (মালায়িকাহ) সাথে কথা বলি তোমাকে তো তার সাথে কথা বলতে হয় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 91 · #1128 - 91
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে একই সানাদে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব সবজি জাতীয় গাছ অর্থাৎ- রসুন খাবে সে যেন আমার মসজিদে- আমাদের কাছে না আসে। তবে তিনি (ইবনু জুরায়জ) বর্ণিত হাদীসে পিয়াজ ও গো-রসুনের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 93 · #1129 - 92
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার বিজিত হলো। আমরা এখনো ফিরে আসিনি। ইতোমধ্যে আমরা, অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ ঐ সবজি অর্থাৎ— রসুনের উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। কারণ লোকজন সবাই ছিল ক্ষুধার্ত। এরপর আমরা মসজিদে গেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুনের গন্ধ পেয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি এ কদৰ্য গাছ তথা সবজি খাবে সে যেন মসজিদে আমাদের নিকটেও না আসে। এ কথা শুনে সবাই বলতে শুরু করল রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ খবর পৌছলে তিনি লোকজনকে সাক্ষ্য করে বললেনঃ হে লোক সকল! আমার জন্য আল্লাহ তা'আলা যা হালাল করে দিয়েছেন তা হারাম করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে রসুন এমন একটি সবজি (গাছ) যার গন্ধ আমি অপছন্দ করি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 94 · #1130 - 93
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পিয়াজের ক্ষেতে গেলেন। সাথে তার সাহাবীগণও ছিলেন। কিছু সংখ্যক সাহাবী ঐ ক্ষেতের পিয়াজ খেলেন এবং অবশিষ্ট সাহাবীগণ খেলেন না। এরপর আমরা সবাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। কিন্তু যারা পিয়াজ খেয়েছিলেন না তিনি তাদেরকে প্রথমে কাছে ডেকে নিলেন। আর অন্যদেরকে যারা পিয়াজ খেয়েছিল পিয়াজের গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত কাছে ডাকলেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 95 · #1131 - 94
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মা'দান ইবনু আবূ ত্বলহাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) কোন এক জুমুআর দিন উমর ইবনুল খাত্ত্বাব খুতবাহ প্রদান করলেন। সে বক্তৃতায় তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকরের কথা উল্লেখ করে বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন একটি মোরগ আমাকে তিনটি ঠোকর দিল। আমি মনে করি এ স্বপ্নের অর্থ আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিছু সংখ্যক লোক বলছে আমি যেন পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত করে যাই (কিন্তু আমি যদি পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত না করেও যাই তাহলেও কোন ক্ষতি নেই)। কেননা, (আমি বিশ্বাস করি) মহান আল্লাহ এ দীনকে এবং তার খিলাফাত ব্যবস্থাকে বরবাদ করবেন না। কিংবা যা দিয়ে তিনি তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পাঠিয়েছি তাও ব্যর্থ করে দিবেন না। খুব শীঘ্রই যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত যাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন তাদের এ ছয়জনের* মধ্যে থেকে পরামর্শের ভিত্তিতে খিলাফাতের ব্যাপারে ফায়সালা হবে। আমি জানি কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। আমি তাদের এ জন্য আমার নিজের এ হাতে শাস্তি দিয়েছি এরপরে আবারও যদি তারা অনুরূপ কাজ করে (এ ব্যাপারে ইসলামের বদনাম করে) তাহলে তারা আল্লাহর শক্র, কাফির ও গোমরাহ। এছাড়া আরো একটি বিষয় আছে আমার পরে আমার দৃষ্টিতে কালালাহ বা উত্তরাধিকারবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদের বিষয় ছাড়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কোন বিষয়ই রেখে যাচ্ছি না। (জেনে রেখো!) আমি কালালাহ বা উত্তরাধিকারবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যত বেশি জিজ্ঞেস করেছি অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে এত জিজ্ঞেস করিনি আর তিনিও এ বিষয়ে আমাকে যত কঠোরভাবে বলেছেন আর কোন বিষয়েই তত কঠোরভাবে বলেননি। এমনকি তিনি আমার বুকের উপর তার আঙ্গুল ঠেসে ধরে বলেছেনঃ হে উমার! সূরাহ আন নিসার শেষের যে আয়াতটি গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ হয়েছিল (এ ব্যাপারে) সে আয়াতটিই কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি যদি আরো কিছু দিন বেঁচে থাকতাম তাহলে এ বিষয়ে (কালালাহ) এমন একটি ফায়সালা করতাম যা প্রত্যেকের মনের মতো হত। চাই সে কুরআন মাজীদ পড়ে থাকুন বা না পড়ে থাকুক। তিনি [উমার (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমাকে বিভিন্ন জনপদের উমারাদের (শাসনকর্তা) ব্যাপারে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের উদ্দেশ্য ঐসব এলাকার লোকদের শাসনকর্তা করে পাঠিয়েছি যে তারা তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে, লোকদের দীন সম্পর্কে শিক্ষাদান করবে, নবীর সুন্নাত সম্পর্কে অবহিত করবে এবং "ফাই" বা যুদ্ধের ময়দানে বিনাযুদ্ধে লব্ধ সম্পদ (সঠিকভাবে) বন্টন করে দিবে। আর তাদের কোন ব্যাপার কঠিন বা সমস্যাপূর্ণ হলে তা আমার কাছে জেনে নিবে। হে লোকজন! আরেকটি কথা হলো, তোমরা দুটি (সবজি জাতীয়) গাছ খেয়ে থাকো; অর্থাৎ- পিয়াজ ও রসুন। আমি এ দুটি জিনিসকে অরুচিকর বলে মনে করি। আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের কোন লোকের মুখ থেকে ঐ দু'টি জিনিসের গন্ধ পেলে তাকে বের করে দিতে আদেশ করতেন। আর তাদেরকে বাকীর দিকে বের করে দেয়া হত। তবে কেউ এ দুটি জিনিস (পিয়াজ ও রসুন) খেতে চাইলে যেন রান্না করে গন্ধ দূর করে নেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 96 · #1132 - 95
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কতাদাহ (রহঃ) থেকে (পূর্ব-বর্ণিত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 97 · #1133 - 96
আবুত তহির আহমাদ ইবনু 'আম্র (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন লোককে মসজিদের মধ্যে হারানো কোন জিনিস খোঁজ করতে দেখলে (অর্থাৎ- উচ্চস্বরে) যেন বলেঃ আল্লাহ করুন! তোমার জিনিস যেন তুমি না পাও। কারণ মাসজিদ তো এ উদ্দেশে তৈরি করা হয়নি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 98 · #1134 - 97
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 99 · #1135 - 98
হাজ্জাজ বিন শাইর (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে হারানো জিনিস অনুসন্ধান করল। সে বলল, লাল বর্ণের উটের প্রতি কে ঘোষণা জানাল? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যেন তোমার হারানো জিনিস না পাও। কেননা মসজিদ তো মসজিদের কাজের জন্য বানানো হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 100 · #1136 - 99
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... বুৱায়দাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরায়দাহ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায় শেষ হলে জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, লোহিত বর্ণের উটের কথা কে বলল? এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যেন তা (তোমার হারানো বস্তুটি) না পাও। কারণ মাসজিদ মসজিদের কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 101 · #1137 - 100
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুরাইদাহ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায়ের পর এক গ্রাম্য আরব এসে মসজিদের দরজায় তার মাথা প্রবেশ করল। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি (মুহাম্মাদ ইবনু শায়বাহ) আবূ মিসান ও সাওর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, শায়বাহ ইবনু না'আমাহ আবূ না'আমাহ (রহঃ)। তার থেকে মিস'আর, হুশায়ম, জারীর সহ অন্যান্য কূফীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 102 · #1138 - 101
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন সালাতে দাঁড়াও তখন শাইত্বন তার কাছে এসে তাকে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে দেয়। এমনকি সে কয় রাকাআত সালাত আদায় করল তাও স্মরণ করতে পারে না। তোমরা কেউ এরূপ অবস্থা হতে দেখলে যেন বসে বসেই দু'টি (অতিরিক্ত) সিজদা করে নেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 103 · #1139 - 102
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 104 · #1140 - 103
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের আযান শুরু হলে শাইতন পিঠ ফিরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে এবং এত দূরে চলে যায় যে, আর আযান শুনতে পায় না। অতঃপর আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। কিন্তু যে সময় তাকবীর দেয়া হয় তখন পুনরায় পিঠ ফিরে পালায়। কিন্তু তাকবীর শেষ হলে আবার ফিরে আসে এবং মানুষের (মুসল্লী) মনে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্ধের সৃষ্টি করে বলে অমুক কথা এবং অমুক কথা স্মরণ কর যেসব কথা কখনো তার স্মরণ করার নয়। অবশেষে সে (মুসল্লী) কত রাক’আত আদায় করল তা স্মরণ করতে পারে না। এরূপ অবস্থায় তোমরা কেউ যখন স্মরণ করতে পারবে না কত রাকাআত আদায় করেছ তখন বসে বসেই সর্বশেষ দু'টি সিজদা করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 105 · #1141 - 104
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সময় সালাতের তাকবীর বলা হয় সে সময় শাইত্বন বায়ু নিঃসরণ করতে করতে দৌড়ে পালায়। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করলেন যে, সে (শাইত্বন) তাকে উৎসাহিত করে, আশান্বিত করে এবং যা সে কখনো স্মরণ করত না তা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 106 · #1142 - 105
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় রাকাআতে) তিনি না বসে উঠে দাঁড়ালে লোকজন সবাই তার সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল। তিনি সালাত শেষ করলে অর্থাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত প্রায় শেষ করলে আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বেই বসে দুটি সিজদা করলেন। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 107 · #1143 - 106
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমূহ (রহঃ) .. 'আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ্ আল আসদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাতে (দু রাকাআতের পর) না বসেই দাঁড়িয়ে গেলেন সালাত শেষ করে, অর্থাৎ- সালাতের শেষ পর্যায়ে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে ভুলে যাওয়া বৈঠকের পরিবর্তে বসে বসেই দু'টি সিজদা করলেন এবং প্রতিটি সাজদাতেই তাকবীর বললেন। লোকজন সবাই তার সাথে সাথে সাজাদাহ দুটি করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫০. ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 108 · #1144 - 107
আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ আল আযদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সালাতরত অবস্থায় যে দু' রাকাআত আদায় করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। অবশেষে সালাতের শেষ পর্যায়ে পৌছে সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'টি সিজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 109 · #1145 - 108
মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন রাকাআত আদায় করা হলো না চার রাকাআত আদায় করা হলো- সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো এরূপ সন্দেহ হলে সে যে কয় রাক’আত আদায় করেছে বলে নিশ্চিত হবে (তিন রাকাআত) সে কয় রাকাআতকে ভিত্তি ধরে অবশিষ্ট করণীয় করবে। এরপর সালাম ফিরানোর পূর্বে দুটি সিজদা করবে। (এখন) সে যদি পাঁচ রাকাআত আদায় করে থাকে তাহলে এ দু' সিজদা দ্বারা তার সালাতের জোড়া পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি তার সালাত চার রাকাআত হয়ে থাকে তাহলে (এই) সিজদা দুটি শাইতনের মুখে মাটি নিক্ষেপের শামিল হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 110 · #1146 - 109
আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ওয়াহব (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) থেকে একই সানাদে উপরোক্ত অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর সুলায়মান ইবনু বিলাল এর মতই বর্ণনা করেছেন যে, সালাম ফিরানোর পূর্বে দু'টি সিজদা করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৩ ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 111 · #1147 - 110
আবূ শায়বার দু' পুত্র আবূ বকর ও উসমান এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী ইবরাহীমের বর্ণনা মতে, এ সালাতে তিনি কিছুই কম বা বেশী করে ফেললেন। সালাম ফিরানোর পর তাকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সালাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, নতুন হুকুম আবার কেমন? তখন সবাই বললঃ আপনি সালাতে এরূপ করেছেন। এ কথা শুনে তিনি পা দু' খানা ভাজ করে কিবলামুখী হয়ে বসলেন এবং দুটি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর আমাদের দিকে ঘুরে বললেনঃ সালাতের ব্যাপারে কোন নতুন হুকুম আসলে আমি তোমাদরকে জানতাম। (এটা তেমনি কিছু নয়) বরং আমি তো মানুষ বৈ কিছুই না। তোমাদের যেমন ভুল হয় আমারও তেমন ভুল হয়। সুতরাং আমি যদি কোন কিছু ভুলে যাই তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও। আর সালাতের মধ্যে তোমাদের কারো কোন সন্দেহ হলে চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে যেটি সঠিক বলে মনে হবে সেটিই করবে এবং এর উপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করবে। অতঃপর দু'টি সিজদা করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 112 · #1148 - 111
আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবন বিশর এর বর্ণনায় فَلْيَنْظُرْ أَحْرَى ذَلِكَ لِلصَّوَابِ এবং ওয়াকী এর বর্ণনায়فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ কথাটি উল্লেখিত আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 113 · #1149 - 112
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ দারিমী (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর বলেছেন, সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা সঠিক ধারণাটি গ্রহণ করতে হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 114 · #1150 - 113
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) .... মনসুর (রহঃ) থেকে একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 115 · #1151 - 114
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করবে সেটিই গ্রহণ করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 116 · #1152 - 115
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করবে সেটিই গ্রহণ করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 117 · #1153 - 116
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) তাদের সবার বর্ণিত সানাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মানসূর (রহঃ) বলেছেনঃ চিন্তা-ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 118 · #1154 - 117
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল 'আম্বারী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন। তিনি যখন সালাম ফিরালেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাতের সংখ্যা কি বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ আবার কেমন কথা? তখন সবাই বলল, আপনি তো সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন। এ কথা শুনে তিনি দু'টি সিজদা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 119 · #1155 - 118
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (আলকামাহ) একদিন তাদের সাথে (যুহরের) পাঁচ রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 120 · #1156 - 119
উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... ইবরাহীম ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাম ফিরানোর পর লোকজন তাকে বলল, হে আবূ শিবল (আলকামার উপনাম)! আপনি সালাত পাঁচ রাক’আত আদায় করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি কখনো এরূপ করিনি। কিন্তু লোকজন সবাই আবারো বলল, হ্যাঁ, আপনি এরূপ করেছেন। ইবরাহীম ইবনু সুওয়াইদ বলেছেন, আমি তখন বালক ছিলাম এবং সবার থেকে দূরে এক কোণে ছিলাম আমিও বললাম হ্যাঁ, আপনি সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করেছেন। তিনি তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ওরে কানা, তুমিও তাই বলছ! আমি বললামঃ হ্যাঁ। ইবরাহীম ইবনু সুওয়াইদ বলেন, তখন তিনি ঘুরে দু'টি সিজদা করলেন এবং সালাম ফিরানোর পরে বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বর্ণনা করেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সালাত আদায় করতে পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি ঘুরলে লোকজন পরস্পর কানাঘুষা করতে থাকল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কি? সবাই বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাতের রাকাআত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ না, তখন সবাই বলল, আপনি তো সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করেছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুরলেন এবং দুটি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন। অতঃপর বললেনঃ আমি তোমাদের মতোই মানুষ। আমিও ভুল করি যেমন তোমরা ভুল করো। ইবনু নুমায়র তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, (সালাতের মধ্যে) তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দু'টি সিজদা করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 121 · #1157 - 120
আওন ইবনু সাল্লাম আল কুফী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সালাত আদায় করতে পাঁচ রাকাআত আদায় করলেন। আমরা তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! সালাত (এর রাকাআত সংখ্যা) কি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। (এ কথা শুনে) তিনি বললেনঃ এ আবার কি কথা? তখন সবাই বললঃ আপনি তো সালাত পাঁচ রাকাআত আদায় করেছেন, এ কথা শুনে তিনি বললেন আমি তো তোমাদের মতই মানুষ। আমি স্মরণ রাখি যেমন তোমরা স্মরণ রাখো। আবার আমি ভুলে যাই যেমন তোমরা ভুলে যাও। এরপর তিনি দুটি সাহু সিজদা দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 122 · #1158 - 121
মিনজাব ইবনুল হারিস আত তামীমী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি সালাতে কিছু কম বা কিছু বেশী করে ফেললেন। হাদীসের বর্ণনাকারী ইব্রাহীম বলেছেনঃ (তিনি কম করলেন না বেশী করলেন) এ সন্দেহটা আমার নিজের। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সালাতে কি কিছু বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি বললেন আমি তোমাদের মতো মানুষ বৈ আর কিছুই নই। আমারও তোমাদের মতো ভুল হয়। সুতরাং সালাতে তোমাদের কেউ কিছু ভুলে গেলে সে যেন বসেই দুটি সিজদা করে নেয়। এ কথার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুরলেন এবং দু'টি সিজদা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 123 · #1159 - 122
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সাহু সাজদার দু'টি সিজদা সালাম ফিরিয়ে কথা বলার পর করেছিলেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 124 · #1160 - 123
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। (এ সালাতে) তিনি কিছু বেশী বা কম করলেন। (হাদীসের বর্ণনাকারী) ইবরাহীম বলেছেন, আল্লাহর শপথ, এ সন্দেহ (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে বেশী করলেন না, কম করলেন) আমার নিজের। তিনি (ইবরাহীম) বলেছেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সালাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেনঃ না। (নতুন কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়নি)। তখন (সালাতে) তিনি যা করেছেন আমরা তাকে তা বললাম। তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি যদি সালাতে কোন কিছু বেশী বা কম করে ফেলে তাহলে (সিজদা-ই সাহুর) দুটি সিজদা করবে। বর্ণনাকারী ইবরাহীম বলেন এর (এ কথা বলার) পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'টি সিজদা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৩ ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 125 · #1161 - 124
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে দিবাভাগের দু’ওয়াক্ত সালাতের কোন এক ওয়াক্ত সালাতে অর্থাৎ- যুহর কিংবা আসরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু রাকাআত আদায় করার পরই সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি রাগাম্বিত মনে মসজিদের কিবলার দিকে স্থাপিত এক বৃক্ষ শাখার উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। এ সময় সবার মাঝে আবূ বাকর ও উমারও ছিলেন। কিন্তু তারা উভয়েই (এ পরিস্থিতিতে) কথা বলতে সাহস পেল না। আর যাদের তাড়াতাড়ি করে যাওয়ার ছিল তারা এই বলে দ্রুত মাসজিদ থেকে বের হয়ে গেল যে, সালাত কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর যুল ইয়াদায়ন উপনামে পরিচিত জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি কম করে দেয়া হয়েছে- না আপনি ভুলে গিয়েছেন? এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডানে বায়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন যুল ইয়াদায়ন যা বলছে তা কি ঠিক? সবাই জবাব দিলো, হ্যাঁ সে যা বলেছে সত্য বলেছে। আপনি তো সালাত দু' রাকাআত মাত্র আদায় করেছেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর তাকবীর বলে সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর মুহাম্মাদ ইবনু সীরন বললেন, ইমরান ইবনু হুসায়ন সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 126 · #1162 - 125
আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে দিবাভাগের দু ওয়াক্ত সালাতের এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি সুফইয়ান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 127 · #1163 - 126
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ‘আসরের সালাত আদায় করালেন। কিন্তু দু' রাক’আত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। যুল ইয়াদায়ন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সালাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে না আপনি ভুল করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব কিছুই হয়নি (সালাত কমিয়ে দেয়া বা আমার ভুল করা) কিছুই হয়নি। এ কথা শুনে যুল ইয়াদায়ন বলল, হে আল্লাহর রসূল! কিছু একটা অবশ্যই হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ যুল ইয়াদায়ন এর কথা কি ঠিক? সবাই বলল, হ্যাঁ হে আল্লাহর রসূল! তখন রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর বসে বসেই দুটি সিজদা (সাহু সিজদা) করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 128 · #1164 - 127
হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দু' রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তখন বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে না আপনি ভুল করলেন? এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ সালামাহ হাদীসটি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 129 · #1165 - 128
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুহরের সালাত আদায় করেছিলাম। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'রাকাআত আদায় করেই সালাম ফিরালে বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। এরপর তিনি (শায়বান) হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 130 · #1166 - 129
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আসরের সালাত আদায় করতে তিন রাক’আত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি তার বাড়ীর মধ্যে চলে গেলেন। তখন দীর্ঘ হাত বিশিষ্ট খিরবাক নামক জনৈক ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এরপর সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন তা বর্ণনা করল। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগাম্বিত মনে চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে আসলেন এবং লোকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটি কি ঠিক কথা বলছে? সবাই জবাব দিলো, হ্যাঁ সে ঠিক বলেছে। তখন তিনি আরো এক রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন। এরপর দুটি সাহু সিজদা দিয়ে আবার সালাম ফিরালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 131 · #1167 - 130
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আসরের সালাত আদায় করতে তিন রাক’আত আদায় করে সালাম ফিরালেন এবং নিজ কামরার মধ্যে প্রবেশ করলেন। তখন লম্বা দুটি হাত বিশিষ্ট এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগাম্বিত হয়ে বেরিয়ে আসলেন, অতঃপর যে এক রাকাআত সালাত তিনি ছেড়েছিলেন তা আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর সাহুর দুটি সিজদা করলেন এবং আবার সালাম ফিরালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 132 · #1168 - 131
যুহায়র ইবনু হারব, উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এ সময় তিনি এমন সব সূরাহও তিলাওয়াত করতেন যাতে সাজদার আয়াত আছে। তখন তিনি সিজদা করতেন, আমরাও তার সাথে সিজদা করতাম। এমনকি (এ সময়) আমাদের মধ্যে তার কপাল স্থাপনের (সিজদা করার) জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 133 · #1169 - 132
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) .... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করলে যখন তিনি সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন তখন আমাদের সাথে নিয়ে সিজদা করতেন। এ সময় খুব ভিড় বা জটলা হত। এমনকি আমাদের অনেকেই (কপাল স্থাপন করে) সিজদা করার মতো জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। আর এ অবস্থার সৃষ্টি হত সালাতের বাইরে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 134 · #1170 - 133
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় সূরাহ ওয়ান নাজমি' পাঠ করে সিজদা (তিলাওয়াতের সিজদা) করলেন। তার সঙ্গে অন্য সকলেও সিজদা করল। শুধু এক বৃদ্ধ ব্যক্তি (সিজদা না করে) এক মুঠো কঙ্কর উঠিয়ে বললঃ আমার জন্য এটাই যথেষ্ট। হাদীসটির বর্ণনাকারী সাহাবী আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) বর্ণনা করেছেন যে, আমি ঐ বৃদ্ধ লোকটিকে পরে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 135 · #1171 - 134
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার যায়দ ইবনু সাবিতকে সালাতে ইমামের পিছনে কিরাআত তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন জবাবে যায়দ ইবনু সাবিত বলেছিলেনঃ সালাতে ইমামের পিছনে কিরাআতের প্রয়োজন নেই। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে সূরাহ “ওয়ান নাজমি ইযা- হাওয়া-” তিলাওয়াত করলেন। কিন্তু (সূরাটি শুনার পরও) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করলেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 136 · #1172 - 135
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) তাদের সামনে “ইযাস সামা-উন্ন শাক্কাত" সূরাটি তিলাওয়াত করলেন এবং সিজদা করলেন। সিজদা শেষে তিনি তাদেরকে বললেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরাটি তিলাওয়াত করে সিজদা করেছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 137 · #1173 - 136
ইবরাহীম ইবনু মূসা, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 138 · #1174 - 137
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাক্কিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা "ইযাস সামা-উন্ন শাক্ক্বাত" এবং "ইক্রা বিস্মি রব্বিকা" এ দুটি সূরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সিজদা করেছি অর্থাৎ- এ দু'টি সূরাহ তিলাওয়াতকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করেছেন। আমরাও তার সাথে সিজদা করেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 139 · #1175 - 138
মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ “ইযাস সামা-উন্ন শাক্ক্ক্বাত" এবং "ইক্রা বিসমি রব্বিকা" পাঠকালে সিজদা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 140 · #1176 - 139
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) কর্তৃক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 141 · #1177 - 140
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ রাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর পিছনে ইশার সালাত আদায় করলাম। (এ সালাতে) তিনি সূরাহ "ইযাস সামা-উন্ন শাকক্বাত" পাঠ করে সিজদা (তিলাওয়াতের সিজদা) করলেন। (সালাত শেষে) আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিসের জন্য এ সিজদা? তিনি বললেনঃ আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করা কালে এ সূরায় আমি সিজদা করেছি। সুতরাং তার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত (আমৃত্যু) আমি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করতে থাকব। অবশ্য হাদীস বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ'লা তারতম্য সহকারে কিছুটা বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমি এ সিজদা পরিত্যাগ করব না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 142 · #1178 - 141
আমর আন নাকিদ, আবূ কামিল, আহমাদ ইবনু আবদাহ (রহঃ) ..... ইবনু আখযার (রহঃ) থেকে এবং সকলে সুলায়মান আত তায়মী থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে কেউই আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 143 · #1179 - 142
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ রাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) কে সূরাহ "ইযাস সামা-উন শাক্ক্বাত" পড়ে সিজদা করতে দেখেছি। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি আমার প্রিয়তম বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করতে দেখেছি। সুতরাং তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে সিজদা করতে থাকব। হাদীসটি বর্ণনাকারী শু'বাহ বলেনঃ আমি আতা ইবনু আবূ মায়মূনাকে জিজ্ঞেস করলাম "আমার প্রিয়তম বন্ধু" বলতে কি আবূ হুরায়রাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 144 · #1180 - 143
মুহাম্মাদ ইবনুল মা'মার ইবনু রিবাঈ আল কায়সী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত আদায়ের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বৈঠক করতেন তখন বাঁ পা'টি (ডান পায়ের) উরু ও নলার মধ্যে স্থাপন করতেন, ডান পা'টি বিছিয়ে দিতেন, আর বাঁ হাতটি বাঁ হাঁটুর উপর এবং ডান হাতটি ডান উরুর উপর স্থাপন করতেন। আর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 145 · #1181 - 144
কুতায়বাহ (ইবনু সাঈদ) ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দু'আ করার জন্য বসতেন তখন ডান হাতটি ডান উরুর উপর এবং বাঁ হাতটি বাঁ উরুর উপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন এবং বাঁ হাতের তালু (বাঁ) হাঁটুর উপর রাখতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 146 · #1182 - 145
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের সময় যখন বসতেন (বৈঠক করতেন) তখন দু'হাত দু' হাঁটুর উপর রাখতেন। আর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর উপর ছড়িয়ে রাখতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 147 · #1183 - 146
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে "তাশাহহুদ’ পড়তে যখন বসতেন তখন বাঁ হাতটি বা হাঁটুর উপর এবং ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন। আর (হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী) তিপ্পান্ন সংখ্যার মতো করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 148 · #1184 - 147
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবদুর রহমান আল মু'আবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) আমাকে দেখলেন যে, আমি সালাতের অবস্থায় ছোট ছোট পাথর টুকরা নিয়ে অনর্থকভাবে নড়াচড়া করছি। সালাত শেষ করে তিনি আমাকে এরূপ কাজ করতে নিষেধ করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ করতেন তুমিও তাই করবে। আমি তখন জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতরত অবস্থায় কি করতেন? তিনি (‘আলী ইবনু আবদুর রহমান আল মু'আবী) বললেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে যখন বৈঠক করতেন তখন ডান হাতের তালু ডান উরুর উপর রেখে আঙ্গুলগুলো গুটিয়ে শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। আর বাঁ হাতের তালু বাঁ উরুর উপর স্থাপন করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 149 · #1185 - 148
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ‘আলী ইবনু আবদুর রহমান আল মু'আবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমারের পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছি। এরপর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তার বর্ণনায় এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ মুসলিমের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 150 · #1186 - 149
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ মা'মার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কাতে একজন আমীর ছিলেন। তিনি সালাতে দু'বার সালাম ফিরাতেন (একবার ডানে এবং একবার বামে)। এ কথা শুনে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বললেনঃ সে কোথা থেকে এ সুন্নাত শিখেছে? হাকাম তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৮৯ ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 151 · #1187 - 150
আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আমির অথবা কোন এক ব্যক্তি দু'বার সালাম ফিরালেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু উমার বললেন, তুমি কোথা থেকে এটা পেয়েছ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯০, ইসলামীক সেন্টার নম্বরহীন)
Book 5 · Hadith 152 · #1188 - 151
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আমির ইবনু সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ডানে এবং বামে সালাম ফিরাতে দেখতাম। এমনকি (তিনি এমনভাবে মুখ ঘুরাতেন যে,) আমি তার গালের শুভ্রতা দেখতে পেতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 153 · #1189 - 152
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ দ্বারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত শেষ হওয়া জানতে পারতাম। অর্থাৎ- সালাত শেষ হলেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে ‘আল্ল-হু আকবার বলতেন। তখন আমরা বুঝতে পারতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯২. ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 154 · #1190 - 153
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত শেষ হওয়া তাকবীর পাঠ ছাড়া আর কিছু দ্বারা জানতে পারতাম না। আমর ইবনু দীনার বলেছেনঃ আমি পরবর্তী সময়ে (আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস-এর নিকট থেকে হাদীসটির বর্ণনাকারী) আবূ মা'বাদ-এর হাদীসটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেনঃ আমি তোমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করিনি। অথচ ইতোপূর্বে তিনি আমার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 155 · #1191 - 154
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ফারয (ফরয) সালাত শেষে লোকেরা উচ্চস্বরে তাকবীর বা অন্য কোন যিকর পাঠ করত*। আবূ মা'বাদ বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আরো বলেছেনঃ ঐ উচ্চৈঃস্বর শুনেই আমি সালাত শেষ হওয়ার কথা বুঝতে পারতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 156 · #1192 - 155
হারূন ইবনু সাঈদ ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে আমার কাছে আসলেন। তখন আমার কাছে একজন ইয়াহুদ মহিলা উপস্থিত ছিল। সে আমাকে বলছিলঃ তুমি কি জান কবরে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে? আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়াহুদ মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তিনি অবশ্য বললেনঃ পরীক্ষা বা ‘আযাব তো হবে ইয়াহুদদের। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা এভাবে কয়েক রাত কাটালাম। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি জান আমার কাছে এ মর্মে ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষা করা হবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন এর পরবর্তীকালে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 157 · #1193 - 156
হারূন ইবনু সাঈদ, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারপর থেকে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 158 · #1194 - 157
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার দু’জন বৃদ্ধ ইয়াহুদিনী আমার কাছে আসলো। তারা বললঃ কবরে মানুষকে 'আযাব দেয়া হয়ে থাকে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তাদের কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করা আমার ভাল লাগল না। পরে তারা চলে গেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলে আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! মদীনার দু’জন বৃদ্ধ ইয়াহুদিনী আমার কাছে এসেছিলেন। তারা বলল, কবরে মানুষকে আযাব দেয়া হয়। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা সত্য কথাই বলেছে। কেননা কবরে মানুষকে এমন আযাব দেয়া হয় যা চতুষ্পদ জীব-জন্তু পর্যন্ত শুনতে পায়। এ কথা বলে আয়িশাহ বললেনঃ এরপর আমি সব সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে দেখেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 159 · #1195 - 158
হান্নাদ ইবনুস্ সারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সালাত আদায় করেছেন তখনই তাকে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 160 · #1196 - 159
আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 161 · #1197 - 160
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন (সালাতে) তাশাহহুদ পড় তখন চারটি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করবে। এ বলে দুআ করবেঃ “আল্লহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়ামিন আযা-বিল কবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল”– (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি )। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 162 · #1198 - 161
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে এ বলে দু'আ করতেনঃ “আল্ল-হুম্মাইন্নী আউযুবিকা মিন ‘আযাবিল কবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামা-তি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল মা'সামি ওয়াল মাগরম” – (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রসূল! আপনি ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে এত আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন? (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কেউ যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 163 · #1199 - 162
হাকাম ইবনু মূসা, আলী ইবনু খশরাম (রহঃ) ..... আওযাঈ (রহঃ) থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, "তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পাঠ করবে"। তারা 'আ-খির বা শেষ তাশাহহুদ’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 164 · #1200 - 163
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বিল কবরি ওয়া আযা-বিন না-রি ওয়া ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়া শাররিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 165 · #1201 - 164
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে তার আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় চাও। কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। আর জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 166 · #1202 - 165
মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 167 · #1203 - 166
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 168 · #1204 - 167
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর ও জাহান্নামের আযাব ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাইতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 169 · #1205 - 168
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে যেভাবে কুরআন মাজীদের সূরাহ শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এ দু'আটিও শিখাতেন। দু'আটি হলোঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্না- না'উযুবিকা মিন ‘আযা-বি জাহান্নাম ওয়া আউয়ুবিকা মিন আযাবিল কবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামা-ত” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।)। মুসলিম ইবনু হাজ্জাজ বলেনঃ তাউস (একদিন) তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি সালাত আদায় করার সময় কি এ দু'আটি পড়েছ? সে বলল, 'না'। এ কথা শুনে তাউস বললেন, তুমি পুনরায় সালাত আদায় কর। কারণ তাউস (তোমার পিতা) তিন, চার বা তার বক্তব্য অনুসারে কম বা বেশী লোকের নিকট থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি এরূপ বলেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 170 · #1206 - 169
দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং বলতেন- "আল্ল-হুম্মা আনতাস্ সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু তাবা-রকতা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।)। হাদীস বর্ণনাকার ওয়ালীদ বলেন- আমি আওযাঈকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন- আস্তাগফিরুল্ল-হ, আস্তাগফিরুল্ল-হ' (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১২১০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 171 · #1207 - 170
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে সালাম ফিরানোর পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততটুকু সময় বসতেন- “আল্ল-হুম্মা আনতাস সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু তাবা-রকতা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।)- এ দু'আটা পড়তে যতটুকু সময় লাগে। ইবনু নুমায়র এর একটি বর্ণনায় يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ এর স্থলে ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ উল্লেখ আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 172 · #1208 - 171
ইবনু নুময়ের (রহঃ) .... ‘আসিম (রহঃ)-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 173 · #1209 - 172
আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনাতে এ কথাটুকু নেই যে, তিনি يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ (হে শানশাওকাতময়, দয়াবান) বলতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 174 · #1210 - 173
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুগীরাহ বিন শুবাহ মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-কে লিখে পাঠান যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন– "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ" (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীক বিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 175 · #1211 - 174
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও আহমাদ ইবনু সিনান (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকর ও আবূ কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ দু'আটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মু'আবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 176 · #1212 - 175
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (আমীর) মুআবিয়ার কাছে ওয়াররাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতে শুনেছি ... তবে এ বর্ণনায়ঃ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 177 · #1213 - 176
হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, (আমীর) মু'আবিয়াহ মুগীরাহ এর কাছে লিখেছিলেন। ... এরপর তিনি মানসুর ও আ'মাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 178 · #1214 - 177
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... আব্দাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ ও আবদুল মালিক ইবনু উমায়র (উভয়ে) মুগীরাহ ইবনু শুবাহ এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদকে বলতে শুনেছেন যে, (আমীর) মু'আবিয়াহ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর কাছে পত্র লিখলেনঃ তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছ এমন কিছু লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বর্ণনা করেনঃ এ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মুগীরাহ ইবনু শুবাহ তাকে লিখে জানালেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি সালাত শেষে (এ দু'আটি) বলতেন, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লামা-নি’আ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শরীকবিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 179 · #1215 - 178
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- না'বুদু ইল্লা- ঈয়্যা-হু লাহুন নি'মাতু ওয়ালাহুল ফাযলু ওয়ালাহুস্ সানা-উল হাসানু লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও শরীকবিহীন। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয় এবং শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।)। আর তিনি (ইবনুয যুবায়র) বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 180 · #1216 - 179
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উরওয়াহ তাদের আযাদকৃত দাস আবূয যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে ইবনু নুমায়র-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তাহলীল (অর্থাৎ- “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। হাদীসটির শেষে তিনি এভাবে বলেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনুয যুবারর বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাগুলো বলে প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পর তাহলীল বা আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 181 · #1217 - 180
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র (রহ:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুতবাহ দিতে শুনেছি যে, সালাতের শেষে সালাম ফিরিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন .....। অতঃপর তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 182 · #1218 - 181
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র আল মাক্কী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ঘুবায়র (রাযিঃ)-কে প্রতি ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতে শুনেছেন হিশাম ও হাজ্জাজ বর্ণিত পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত দু'আর অনুরূপ দু'আ করতেন। অবশ্য এ হাদীসের শেষে তিনি এ কথা বলেছেনঃ বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 183 · #1219 - 182
আসিম ইবনু নায্র আত তায়মী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুতায়বাহও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ একদিন গরীব মুহাজিরগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললেন, সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নি’আমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিভাবে? তারা বললেনঃ আমরা সালাত আদায় করি তারাও সালাত আদায় করে। আমরা সিয়াম পালন করি তারাও সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান করে আমরা দান করতে পারি না। আর তারা দাস মুক্ত করে আমরা দাস মুক্ত করতে পারি না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব না যা করলে তোমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর লোকদের সমকক্ষ হতে পারবে? আর যারা তোমাদের পিছনে পড়ে আছে তাদের পিছনে রেখে এগিয়ে যেতে পারবে? আর তোমাদের মতো কাজ না করে কেউ তোমাদের মতো উত্তম হতে পারবে না। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তা অবশ্যই বলবেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক সালাতের পর তোমরা তেত্রিশবার করে তাসবীহ (সুবহানা-ল্ল-হ), তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লা-হ) বলবে। আবূ সালিহ বর্ণনা করেছেন এরপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ আমরা যা করেছি আমাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা তা জেনে ফেলেছে। সুতরাং এখন তারাও এ কাজ করতে শুরু করেছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ তো আল্লাহর মেহেরবানী। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। কুতায়বাহ ছাড়া আর যারা এ হাদীসটি লায়স ও ইবনু আজলান এর মাধ্যমে সুমাই থেকে বর্ণনা করেছেন তারা এতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, সুমাই (হাদীসটির এক পর্যায়ের বর্ণনাকারী) বলেছেনঃ আমি ভুলে গিয়েছি হাদীসটি বরং এভাবে বলা হয়েছেঃ তেত্রিশবার তাসবীহ বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার হামদ করবে আর তেত্রিশবার তাকবীর বলবে। সুতরাং (এ কথা শুনে) আমি আবূ সালিহ্-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি বললে, তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ বরং তুমি বলবে "আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হি আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হ” (অর্থাৎ- আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তার। আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তার )। এভাবে সবগুলো মোট তেত্রিশবার বলবে। ইবনু আজলান বলেছেনঃ আমি রাজা ইবনু হায়ওয়াহ এর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনিও আমাকে আবূ সালিহ ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে শোনালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 184 · #1220 - 183
উমাইয়্যাহ ইবনু বিসতাম আল আয়শী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন গরীব মুহাজিররা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নি’আমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। অর্থাৎ- এভাবে তিনি লায়স থেকে কুতায়বাহ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তিনি আবূ হুরায়রাহ বর্ণিত হাদীসে আবূ সালিহ বর্ণিত হাদীসের "অতঃপর গরীব মুহাজিররা ফিরে আসল” কথাটা শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আর হাদীসটির মধ্যে তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সুহায়ল বলেন, এগার বার করে সবগুলো মিলিয়ে মোট তেত্রিশবার পড়তে হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 185 · #1221 - 184
হাসান ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... ক’ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক ফারয (ফরয) সালাতের পরে কিছু দু'আ আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (আলহামদু লিল্লা-হ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (সুবহা-নাল্ল-হ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ করা। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 186 · #1222 - 185
আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে তেত্রিশবার আল্লাহর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার আল্লাহর তাহমীদ বা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং তেত্রিশবার তাকবীর বা আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করবে আর এভাবে নিরানব্বই বার হওয়ার পর শততম পূর্ণ করতে বলবে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা-লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও তার কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনিই। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম- তার গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেয়া হয়।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 188 · #1223 - 186
মুহাম্মাদ ইবনু সব্বাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এরপর উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 189 · #1224 - 187
ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু হাস্সান এবং ইউনুস আল মুআদ্দিব ও অন্যান্য 'আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যিয়াদ ও উমারাহ ইবনু ক্বা-ক্বা এর মাধ্যমে আবূ যুর'আহ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আবূ যুর'আহ বলেছেন, আমি আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ সালাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাকাআত শেষে উঠে দাঁড়িয়ে “আল হামদুলিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীন” বলে শুরু করতেন। চুপ থাকতেন না (অর্থাৎ- দ্বিতীয় রাকাআত থেকে উঠা এবং সূরাহ ফা-তিহাহ পাঠের মাঝখানে কোন বিরতি থাকত না)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 191 · #1225 - 188
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে সালাতের কাতারে ঢুকে পড়ল। তখন সে হাঁপাতে ছিল। এ অবস্থায় সে বলে উঠল “আল হামদুলিল্লা-হি হামদান কাসীরান তুইয়্যিবাম মুবা-রকান ফীহ” (অর্থাৎ- সব প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তার অনেক অনেক প্রশংসা যা পবিত্র কল্যাণময়।)। সালাত শেষ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ কথাগুলো কে বলেছ? তখন সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ ঐ কথাগুলো যে বলেছে সে তো কোন খারাপ কথা বলেনি। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমি এসে যখন সালাতে শারীক হই তখন আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই আমি এ কথাগুলো বলেছি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখলাম, বারোজন মালায়িকাহ ঐ কথাগুলোকে আগে উঠিয়ে নেয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 192 · #1226 - 189
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত আদায় করেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ “আল্লহু আকবার কাবীরা- ওয়াল হামদুলিল্লা-হি কাসীরা- ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি বুকরাতান ওয়া আসীলা-” (অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, বড়। সব প্রশংসা আল্লাহর। আর সকাল ও সন্ধ্যায় তারই পবিত্রতা বর্ণনা করতে হবে।)। (সালাত শেষে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এ কথাগুলো কে বলল? সবার মধ্যে থেকে জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রসূল আমি ঐ কথাগুলো বলেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কথাগুলো আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথাগুলো বলতে শোনার পর থেকে তার ওপর আমল করা কখনো ছাড়িনি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 193 · #1227 - 190
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল জাফার ইবনু যিয়াদ, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, সালাত শুরু হয়ে গেলে তোমরা তাতে শারীক হওয়ার জন্য দৌড়াবে না বা তাড়াহুড়া করবে না। বরং ধীরস্থিরভাবে হেঁটে হেঁটে যাও। তোমাদেরকে গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে। এভাবে ইমামের সাথে সালাতের যে অংশ পাবে তাই আদায় করবে। আর যা পাবে না তা পূর্ণ করে নিবে।” (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 194 · #1228 - 191
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হয়ে গেলে তোমরা দৌড়াদৌড়ি বা তাড়াহুড়া করে সালাতে এসো না। বরং প্রশান্তিসহ গাম্ভীর্য বজায় রেখে সালাতে শারীক হও। অতঃপর ইমামের সাথে যতটা সালাত পাও তা আদায় করো। আর যতটা না পাবে তা পূরণ করে নাও। কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাত আদায়ের সঙ্কল্প করে তখন সে সালাতরত থাকে বলেই গণ্য হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 195 · #1229 - 192
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস তিনি এ বলে বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আহবান করা (আযান দেয়া) হয় তখন তোমরা স্বাভাবিকভাবে হেঁটে গিয়ে সালাতে শারীক হও। এ সময় তোমাদের উচিত প্রশান্তভাব ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা। এভাবে যতটুকু জামা'আতের সাথে পাবে আদায় করবে। আর যতটুকু পাবে না তা পূরণ করে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 196 · #1230 - 193
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, যুহারর ইবনু হারব [শব্দগুলো তার] (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হয়ে গেলে তোমাদের কেউ যেন দৌড়িয়ে না যায়। বরং প্রশান্তভাবে গাম্ভীর্য বজায় রেখে হেঁটে হেঁটে যেন যায়। জামা'আতে বা ইমামের সাথে যতটুকু পাবে আদায় করবে। আর যা না পাবে তা পূরণ করে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 197 · #1231 - 194
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... কতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে তিনি শোরগোল ও কোলাহল শুনতে পেয়ে (সালাত শেষে) বললেনঃ কি ব্যাপার! তোমরা এরূপ করলে কেন? সবাই বলল, আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, এরূপ করবে না। বরং তোমরা সালাতে আসার সময় শান্তভাবে আসবে এভাবে জামা'আতে সালাতের যে অংশ পাবে তা আদায় করে নিবে আর যে অংশ পাবে না তা পরে পূর্ণ করে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 198 · #1232 - 195
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... শায়বান (রহঃ)-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 199 · #1233 - 196
হারূন ইবনু মা’রূফ ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পৌছার আগেই আমরা দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করে নিলাম। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন। তখনও তাকবীর বলা হয়নি। ইতোমধ্যে তার কিছু স্মরণ হলে তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা নিজ-নিজ স্থানে অপেক্ষা করতে থাক। এ কথা বলে তিনি ফিরে গেলেন। আমরা তার পুনরায় না আসা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। ইতোমধ্যে তিনি গোসল করে আসলেন। তখনও তার মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছিল। এবার তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলে আমাদের সালাত আদায় করালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৪২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 201 · #1234 - 197
যুহায়র ইবন হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সালাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলে লোকজন কাতার ঠিক করে দাঁড়াল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জায়গায় দাঁড়িয়ে ইশারা করে তাদের সবাইকে বললেনঃ তোমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গায় অপেক্ষা করো। এরপরে তিনি গিয়ে গোসল করে আসলেন। তখন তার মাথার চুল থেকে পানি চুইয়ে পড়ছিল। এবার তিনি সবাইকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 202 · #1235 - 198
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্দেশে সালাতের ইকামাত দেয়া হত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের স্থানে দাঁড়ানোর পূর্বেই লোকজন কাতার বেঁধে দাঁড়িয়ে যেত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 203 · #1236 - 199
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য ঢলে পড়লেই বিলাল আযান দিতেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে না আসা পর্যন্ত এবং তাকে না দেখা পর্যন্ত ইকামাত দিতেন না। বের হয়ে আসার পর তিনি তাকে দেখতেন তখনই কেবল ইকামাত দিতেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১২৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 204 · #1237 - 200
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি (জামাআতের সাথে) কোন সালাতের এক রাকাআত পেয়ে যায় সে উক্ত সালাত পেয়ে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 205 · #1238 - 201
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (জামা'আতে) এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারল সে উক্ত সালাতই ইমামের সাথে আদায় করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৪৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 206 · #1239 - 202
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব, ইবনু নুমায়র, ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মালিক এর মাধ্যমে ইয়াহইয়া কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে কারোর বর্ণিত হাদীসেই "মা'আল ইমাম" (ইমামের সাথে) কথাটি নেই। তবে উবায়দুল্লাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে পুরো সালাতই পেয়ে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 207 · #1240 - 203
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বে কেউ যদি ফজরের এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে ফজরের সালাত আদায় করল। আর তেমনি যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারলে সে যেন ঠিক ওয়াক্তেই 'আসরের সালাত আদায় করল*।
Book 5 · Hadith 208 · #1241 - 204
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হাদীসটি যায়দ ইবনু আসলাম মালিক এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 209 · #1242 - 205
হাসান ইবনুর রাবী', আবূত তহির ও হারমালাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল সে উক্ত সালাত পেয়ে গেল। আর সিজদা অর্থ রাকাআত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 210 · #1243 - 206
হাসান ইবনুর রাবী’ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত সালাত আদায় করল সে ওয়াক্ত মতোই সালাত আদায় করল। আবার যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাআত সালাত আদায় করল সেও ওয়াক্ত মতোই ফজরের সালাত আদায় করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 211 · #1244 - 207
আবদুল আ'লা ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... মামার (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 212 · #1245 - 208
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) একদিন আসরের সালাত আদায় করতে দেরী করলে উরওয়াহ (রহঃ) তাকে বললেনঃ একদিন জিবরীল (আঃ) এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন। এ কথা শুনে উমর ইবনু আবদুল 'আযীয উরওয়াহকে বললেনঃ উরওয়াহ! তুমি যা বলছ তা ভালমতো চিন্তাভাবনা করে বলো। উরওয়াহ বললেনঃ আমি বাশীর ইবনু আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। একদিন জিবরীল (আঃ) এসে আমার ইমামতি করলেন। আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর পুনরায় আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি আবার তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি আরো একবার তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এভাবে তিনি আঙ্গুল গুণে পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাতের কথা বললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 213 · #1246 - 209
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ উমার ইবনু আবদুল 'আযীয (রহঃ) একদিন সালাত আদায় করতে (বেশ দেরী করে ফেললেন) তাই উরওয়াহ ইবনু মাসউদ তার কাছে গিয়ে বললেন, কুফায় (গভর্নর) থাকাকালীন একদিন মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রহঃ) (আসরের) সালাত আদায় করতে করতে দেরী করে ফেললেন। আবূ মাসউদ আল আনসারী (রাযিঃ) গিয়ে তাকে বললেন, মুগীরাহ! একি করছ তুমি? তুমি কি জানো না যে, এক সময় জিবরীল (আঃ) এসে সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সালাত আদায় করলেন। তিনি জিবরীল (আঃ) আবার (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে আবার সালাত আদায় করলেন। তিনি জিবরীল (আঃ) পুনরায় (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় এ সালাত তার সাথে আদায় করলেন। তিনি জিবরীল (আঃ) আবারও (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সালাত তার সাথে আদায় করলেন। এরপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আপনি এভাবে সালাত আদায় করতে আদিষ্ট হয়েছেন। এ কথা শুনে উমার ইবনু আবদুল আযীয উরওয়াহ ইবনু যুবায়রকে বললেনঃ উরওয়াহ! তুমি কি বলছ তা কি চিন্তা করে দেখেছে? জিবরীল (আঃ) নিজে কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য সালাতের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন? জবাবে উরওয়াহ বলেন, বাশীর ইবনু আবূ মাসউদ তার পিতা আবূ মাসউদের নিকট থেকে তো এরূপই (সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া) বর্ণনা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 214 · #1247 - 210
উরওয়াহ বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য কিরণ তার কামরার মধ্যে থাকত, তখনো তা দেয়ালের উপর উঠে যেত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 215 · #1248 - 211
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, তখনো সূর্য কিরণ আমাদের কামরার মধ্যে ঝলমল করত। বেশ কিছুক্ষণ পরও কামরার মধ্যে ছায়া পড়ত না। আবূ বাকর বলেছেনঃ এরপরও বেশ কিছুক্ষণ উপরে উঠত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 216 · #1249 - 212
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন তখনো সূর্যের কিরণ তার কামরার মধ্যে থাকত এবং তা কামরার মধ্যে থেকে উপরের দিকে (দেয়ালে) উঠে যেত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 217 · #1250 - 213
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন সূর্যের কিরণ তখনো আমার কামরার মধ্যেই থাকত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 218 · #1251 - 214
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন ফজরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখে ফজরের সালাতের সময় হলো সূর্যের প্রান্তভাগ বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত। তোমরা যখন ঘুহরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, এর সময় হলো- আসরের ওয়াক্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত। তোমরা যখন আসরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো আসরের সালাতের সময় হলো সূর্য বিবর্ণ হয়ে হলুদ (সোনালী বা তাম্রবর্ণও বলা যেতে পারে) বর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত।* তোমরা যখন মাগরিবের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, মাগরিবের সালাতের সময় থেকে পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা বা লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর তোমরা যখন ইশার সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখ ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধেক রাত পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 219 · #1252 - 215
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসরের সালাতের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুহরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তৰ্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় থাকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 220 · #1253 - 216
যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ... আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ও ইয়াহইয়া ইবনু আবূ বুকায়র (রহঃ) উভয়ই শুবাহ (রহঃ)-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি শু'বাহ মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একের অধিকবার মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 221 · #1254 - 217
আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুহরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের সালাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হয় ফাজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব সূর্যোদয়ের সময় সালাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়তনের দু শিংয়ের মধ্যখানে উদিত হয়*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 222 · #1255 - 218
আহমাদ ইবনু ইউসুফ আল আয্দী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সূর্যের উপর দিকের প্রান্তভাগ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ফাজর সালাতের সময় থাকে। যুহরের সালাতের সময় থাকে আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্য গড়িয়ে আসরের সময় না হওয়া পর্যন্ত। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ করার পর উপরের প্রান্তভাগ অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্ত থেকে সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 223 · #1256 - 219
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামিমী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, দৈহিক আরাম উপভোগের সাথে জ্ঞানার্জন কখনও সম্ভব নয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 224 · #1257 - 220
যুহায়র ইবনু হারব ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি আমাদের সাথে দু'দিন সালাত আদায় কর (লোকটি তাই করল)। সূর্য যখন মাথার উপর থেকে হেলে পড়ল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলেন। বিলাল আযান দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে ইকামাত দিতে বললে তিনি যুহরের সালাতের ইকামাত দিলাম (অর্থাৎ- তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন)। এরপর (আসরের সময় হলে) তিনি তাকে আসরের সালাতের ইকামাত দিতে বললেন। বিলাল ইকামাত দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল এবং পরিষ্কার ও আলো ঝলমল দেখাচ্ছিল। তারপর আদেশ দিলে বিলাল মাগরিবের আযান দিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত আদায় করলেন তখন সূর্য ডুবে গেছে। এরপর তিনি বিলালকে ইশার সালাতের ইকামাত দিতে বললেন বিলাল ইকামাত দিলেন এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে সান্ধ্যকালীন লালিমা বা রক্তিম আভা দেখা যায় তা অন্তৰ্হিত হওয়ার পরপরই ইশার সালাত আদায় করলেন। পরে বিলালকে তিনি ফজরের সালাতের ইকামাত দিতে বললেন এবং উষার অভ্যুদয়ের সাথে সাথেই ফজরের সালাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি বিলালকে আদেশ করলেন এবং বেশ দেরী করে যুহরের সালাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় দিনে) তিনি এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল। তবে আগের দিনের তুলনায় বেশ দেরী করে পড়লেন। তিনি সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা লালিমা অন্তৰ্হিত হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। আর রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার সালাত আদায় করলেন এবং সর্বশেষ বেশ ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী ব্যক্তি কোথায়? লোকটি তখন বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বললেনঃ দুদিন যে দু'টি সময়ে আমি সালাত আদায় করলাম এরই মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো সালাতের ওয়াক্তসমূহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 225 · #1258 - 221
ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আর'আরাহ আস সামী (রহঃ) ..... বুরায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে এসে জিজ্ঞেস করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে সালাত আদায় করো (জানতে পারবে)। অতঃপর ফজরের সালাতের জন্য বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলে তিনি (বিলাল) বেশ কিছু অন্ধকার থাকতে আযান দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। পরে সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়লে তিনি বিলালকে যুহরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং যুহরের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর সূর্য কিছু উপরে থাকতেই তিনি বিলালকে আসরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং আসরের সালাত আদায় করলেন)। তারপর সান্ধ্যকালীন গোধূলি (বা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে দৃশ্যমান রক্তিম আভা) অন্তৰ্হিত হওয়ার সাথে সাথে বিলালকে ইশার আযান দিতে বললেন (এবং ইশার সালাত আদায় করলেন)। পরদিন প্রত্যুষে বেশ ফর্সা হয়ে গেলে তিনি বিলালকে ফজরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন)। তারপর যুহরের সালাতের আযান দিতে বললেন এবং বেশ দেরী করে (সূর্যের উত্তাপ কমলে) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর সূর্য তাম্রবর্ণ ধারণ করার পূর্বেই এর আলো পরিষ্কার এবং ঝলমলে থাকতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আসরের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং আসরের সালাত আদায় করলেন) এরপর সন্ধ্যা-গোধূলি অদৃশ্য হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা কিছু অংশ (বর্ণনাকার হারামী ইবনু উমারাহ সন্দেহ করেছেন) অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার সালাতের আযান দিতে বললেন (এবং ইশার সালাত আদায় করলেন)। পরদিন সকালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন (সালাতের সময় সম্পর্কে) প্রশ্নকারী কোথায়? (দু'দিন সালাত আদায়ের) সময়ের মধ্যে তুমি যে ব্যবধান দেখলে তার মাঝখানেই হলো সালাতের সময়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১২৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 226 · #1259 - 222
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জবাব দিলেন না তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাজের মাধ্যমে তাকে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন। বর্ণনাকার সাহাবী আবূ মূসা বলেন, উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখনও অন্ধকার এতটা ছিল যে লোকজন একে অপরকে দেখে চিনতে পারছিল না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আযান দিতে আদেশ করলেন এবং লোকজন বলাবলি করছিল যে, দুপুর হয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ বিষয়ে তাদের চেয়ে বেশী অবহিত। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় সালাত আদায় করলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ইশার সালাত আদায় করলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে। এর পরদিন সকালে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাত দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, যখন সালাত শেষ করলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় ঘটেছে বা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর যুহরের সালাত এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, গত দিনের আসরের সালাত যে সময় আদায় করেছিলেন প্রায় সে সময় এসে গেল। অতঃপর আসরের সালাতটাও এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, সালাত শেষ করলে লোকজন বলাবলি করতে লাগল- সূর্য রক্তিন বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর মাগরিবের সালাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করলেন যে সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা তখন অন্তর্নিহিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ইশার সালাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গেল এবং অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর সকাল বেলা প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ এ দু'টি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই সালাতসমূহের সময় (অর্থাৎ- দু' দিনে আমি একই সময়ে সালাত আদায় না করে একই সালাতের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকুই প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 227 · #1260 - 223
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ... আবূ মূসা আল আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাকে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। তবে এ হাদীসের বর্ণনাকারী বলেছেন যে, দ্বিতীয় দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা অন্তৰ্হিত হওয়ার পূর্বে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 228 · #1261 - 224
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গরমের প্রচণ্ডতা দেখা দিলে (যুহরের) সালাত দেরী করে গরমের প্রচণ্ডতা কমলে আদায় করো। গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই হয়ে থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 229 · #1262 - 225
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ..... পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 230 · #1263 - 226
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী, 'আমর ইবনু সাওওয়াদ ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গরমের দিনে (যুহরের) সালাত (গরমের প্রচণ্ডতা হ্রাস পেয়ে ঠাণ্ডা হলে) আদায় করো। কারণ গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। আমর বলেছেনঃ আবূ ইউনুস আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা উত্তাপ ঠাণ্ডা হলে যুহরের সালাত আদায় কর, কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। ইবনু শিহাব, ইবনু মুসাইয়্যিব এবং আবূ সালামাহ ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে আমর (রহঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 231 · #1264 - 227
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ (প্রচণ্ডতা) গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই উৎপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা (যুহরের) সালাত দেরী করে (গরম কমে গেলে) আদায় কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 232 · #1265 - 228
ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) আমার কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তীব্র গরমের সময় সালাত আদায় না করে পরে (গরম কমলে) সালাত আদায় কর। কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই সৃষ্টি হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 233 · #1266 - 229
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন যুহরের সালাতের আযান দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেনঃ আরে একটু ঠাণ্ডা হতে দাও না। অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কিছু সময় অপেক্ষা কর। তিনি আরো বললেন যে, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হয়ে থাকে। সুতরাং গরম প্রচণ্ডতা ধারণ করলে সালাত দেরী করে একটু ঠাণ্ডা হলে আদায় কর। আবূ যার (হাদীস বর্ণনাকারীর সাহাবী) বলেনঃ (প্রচণ্ড গরমের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় সালাত আদায় করতেন যে সময়) আমরা টিলার ছায়া দেখতে পেতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 234 · #1267 - 230
আমর ইবনু সাওওয়াদ ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে এ বলে ফরিয়াদ করল যে, তার এক অংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে দু'বার শ্বাস প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। একবার শীতকালে এবং আরেকবার গ্রীষ্মকালে। তোমরা যে প্রচণ্ড গরমের অনুভব করে থাকো তা এ কারণেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 235 · #1268 - 231
ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গরমের সময় যুহরের সালাত দেরী করে (গরমের প্রচণ্ডতা কমলে) আদায় কর। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়াতেই হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলে মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রতি বছর দু'বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। শীতকালে একবার এবং গ্রীষ্মকালে একবার। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 236 · #1269 - 232
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম অভিযোগ করে আল্লাহর কাছে বলল, হে আমার প্রভু! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আমাকে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের অনুমতি দিন। তাই আল্লাহ তা'আলা তাকে দু'বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দান করলেন। একবার শীত মৌসুমে আরেকবার গ্রীষ্ম মৌসুমে। তোমরা শীতকালে যে ঠাণ্ডা অনুভব করে থাকো তা জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে। আবার যে গরমে বা প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করে থাকো তাও জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 237 · #1270 - 233
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য (মাথার উপর থেকে) হেলে পড়লেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 238 · #1271 - 234
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... খাব্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা গরমের সময় সালাত আদায় করা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 239 · #1272 - 235
আহমাদ ইবনু ইউনুস শব্দাবলী তার ও ‘আওন ইবনু সাল্লাম (রহঃ) ..... খাব্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে প্রচণ্ড গরমের (সালাত আদায়ের ব্যাপারে) অভিযোগ করলাম। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন না। রর্ণনাকারী যুহায়র বললেন, আমি আবূ ইসহাককে জিজ্ঞেস করলামঃ তারা (খাব্বাব ও অন্য সাহাবীগণ) কি যুহরের সালাত (প্রচণ্ড গরমের মধ্যে) আদায় করা সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি (যুহায়র) আবারও জিজ্ঞেস করলাম (যুহরের সালাত) আগে ভাগে অর্থাৎ- ওয়াক্তের প্রথম দিকে আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন? তিনি এবারও বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 240 · #1273 - 236
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের সময়ও আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (যুহরের) সালাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ যখন (গরমের প্রচণ্ডতার কারণে সাজদার সময়) কপাল মাটিতে স্থাপন করতে পারত না তখন সে কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 241 · #1274 - 237
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময় সালাত আদায় করতেন সূর্য তখনও আকাশের অনেক উপরে অবস্থান করত এবং তখনও তার তেজ বিদ্যমান থাকত। (অর্থাৎ- তেজ কমে বর্ণ পরিবর্তন হত না) সালাত শেষে যার দরকার পড়ত সে মাদীনার আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত এবং সেখানে পৌছার পরেও সূর্য আকাশের বেশ উপরে থাকত(১)। তবে বর্ণনাকারী কুতায়বাহ তার বর্ণনায় "তারা ‘আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত" কথাটা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 242 · #1275 - 238
হারূন ইবনু সাঈদ আল লায়লী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করতেন যখন ছায়া প্রতিটি বস্তুর সমান হত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 243 · #1276 - 239
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতাম যে সালাতের পর আমাদের মধ্যে থেকে কেউ চাইলে (মাদীনার শহরতলীর) কুবা নামক স্থানে যেয়ে পৌছত। অথচ সূর্য তখনও অনেক উপরে অবস্থান করত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 244 · #1277 - 240
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতাম যে তারপর লোকজন বানী আমর ইবনু আওফ গোত্রের এলাকায় গিয়ে দেখতে পেত যে, তারা তখন মাত্র আসরের সালাত আদায় করছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 245 · #1278 - 241
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, মুহাম্মাদ ইবনু সব্বাহ, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... 'আলা ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি একদিন আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর বসরাস্থ বাড়ীতে গেলেন। আর বাড়ীটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত ছিল। তিনি (আলা ইবনু আবদুর রহমান) তখন সবেমাত্র যুহরের সালাত আদায় করছেন। আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান বলেনঃ আমরা তার (আনাস ইবনু মালিকের) কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি আসরের সালাত আদায় করছ? আমরা জবাবে তাকে বললাম, আমরা এই মাত্র যুহরের সালাত আদায় করে আসলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ যাও আসরের সালাত আদায় করে আসো। এরপর আমরা গিয়ে আসরের সালাত আদায় করে তার কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ ঐ সালাত হলো মুনাফিকের সালাত যে বসে বসে সূর্যের প্রতি তাকাতে থাকে আর যখন তা অস্তপ্রায় হয়ে যায় তখন উঠে গিয়ে চারবার ঠোকর মেরে আসে। এভাবে সে আল্লাহকে কমই স্মরণ করতে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 246 · #1279 - 242
মানসূর ইবনু আবূ মুযাহিম (রহঃ) ..... আবূ উসামাহ ইবনু সাহর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর সাথে যুহরের সালাত আদায় করলাম এবং সেখান থেকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম তিনি আসরের সালাত আদায় করছেন। সালাত শেষে আমি জিজ্ঞেস করলামঃ চাচাজান, এখন আপনি কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করলেন? তিনি বললেনঃ ‘আসর, আর এটিই হচ্ছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত যা আমরা তার সাথে আদায় করতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 247 · #1280 - 243
আমর ইবনু সাওওয়াদ আল আমির, মুহাম্মদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী ও আহমদ ইবনু ঈসা (রহঃ) তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে বানী সালামাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা আমাদের একটা উট যাবাহ করতে চাই। আমরা চাই আপনিও সেখানে উপস্থিত থাকুন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আচ্ছা, ঠিক আছে। এরপর তিনি রওয়ানা হলে আমরাও তার সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা গিয়ে দেখলাম উটটি তখনও যাবাহ করা হয়নি। উটটি যাবাহ করতে প্রস্তুত করা হলো এবং তার কিছু গোশত রান্না করা হলো। সূর্যাস্তের পূর্বেই আমরা তা খেলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 248 · #1281 - 244
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতাম যে সালাতের পর উট যাবাহ করা হত*। তা দশ ভাগে বিভক্ত করা হত। এরপর তা রান্না করে সূর্যাস্তের পূর্বেই সু-সিদ্ধ গোশত খেতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 249 · #1282 - 245
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আওযাঈ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা আসরের সালাতের পর উট যাবাহ করতাম। কিন্তু তিনি বলেননি যে, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (আসরের) সালাত আদায় করতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 250 · #1283 - 246
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আসরের সালাত কাযা হয় তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 251 · #1284 - 247
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ...... ইবনু উমার (রযিঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আমর শুধু বর্ণনাই করেছেন। আর আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 252 · #1285 - 248
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আসরের সালাত কাযা হলো তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 253 · #1286 - 249
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তাদের কবর ও ঘর-বাড়ী যেন আগুন দিয়ে ভরে দেন। কারণ তারা আমাদেরকে যুদ্ধের কাজ-কর্মে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসত্বা (আসরের সালাত), থেকে বিরত রেখেছে এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 254 · #1287 - 250
মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকর আল মুক্বদ্দামী, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 255 · #1288 - 251
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদের (যুদ্ধ তৎপরতায়) ব্যস্ত রাখার কারণে আমরা আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা যেন তাদের কবর, বাড়ী-ঘর ও পেটসমূহ আগুন দ্বারা ভর্তি করে দেন। বর্ণনাকারী শু'বাহ ঘর-বাড়ী ও পেটসমূহ কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 256 · #1289 - 252
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে বুয়ুতাহুম ও কুবুরাহুম তাদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 257 · #1290 - 253
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহারর ইবনু হারব, উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন খন্দকের একটি খাঁজ বা সংকীর্ণ পথের উপর বসে বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে “সালাতুল উসতা" (মধ্যবর্তী সময়ের সালাত বা আসরের সালাত) আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এমনকি এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ওদের কবর ও বাড়ি-ঘর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কবরসমূহ অথবা পেট আগুন দ্বারা যেন ভর্তি করে দেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 258 · #1291 - 254
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কাফিররা আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, অর্থাৎ- আসরের সালাত) থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তা'আলা ওদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। অতঃপর তিনি এ সালাত মাগরিব এবং ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করলেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 259 · #1292 - 255
আওন ইবনু সাল্লাম আল কুফী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন মুশরিকগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাত থেকে বিরত রাখল। এমনকি সূর্য লাল অথবা (বলেছেন) তাম্রবর্ণ ধারণ করল। এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা (মুশরিকরা) আমাকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, অর্থাৎ- আসরের সালাত) থেকে বিরত রাখল। আল্লাহ যেন তাদের পেট ও কবরকে আগুন দিয়ে ভরে দেন অথবা তিনি বললেনঃ حَشَا اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا (এখানে শুধু শাব্দিক তারতম্য দেখানো হয়েছে। অর্থের কোন পার্থক্য নেই)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 260 · #1293 - 256
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি এভাবে অবতীর্ণ হয়েছিলحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ততদিন এভাবেই আমরা আয়াতটি তিলাওয়াত করতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আয়াতটি 'মানসুখ' বা বাতিল ঘোষণা করে এভাবে অবতীর্ণ করলেনحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى (পূর্বোক্ত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহ ও আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। পরবর্তীকালে নাযিলকৃত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং صلاَةِ الْوُسْطَى বা মধ্যবর্তীকালীন সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। বর্ণনাকারী শ্বাকীক ইবনু উকবাহ এর কাছে জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। এ কথা শুনে তিনি বারা ইবনু আযিবকে লক্ষ্য করে বললঃ তাহলে তো এ কথা দ্বারা আসরের সালাতই বুঝায়। বারা ইবনু আযিব তাকে বললেনঃ কী পরিস্থিতিতে কেমন করে পূর্বোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে কেমন করে তা মানসূখ বা বাতিল হয়েছিল, তা আমি তোমাকে বলে দিয়েছি। আর আল্লাহ তা'আলাই এ সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত। [ইসলামীক সেন্টার ১৩১৪] ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আশজাঈ (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ আমরা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি (পূর্বোক্তরূপে) পড়তাম। ফুযায়ল ইবনু মারযুক্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 261 · #1294 - 257
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন উমার ইবনুল খাত্ত্বাব কাফির কুরায়শদের ভৎসনা ও গালমন্দ করতে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সূর্য এখন ডুবন্ত প্রায়। কিন্তু আজ আমি এখন পর্যন্ত আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর শপথ, আমিও আজ এখন পর্যন্ত আসরের সালাত পড়িনি। এরপর আমরা একটি কংকরময় ভূমিতে গেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে ওযু করলেন, আমরাও ওযু করলাম। এরপর তিনি (আমারে সাথে নিয়ে) আসরের সালাত আদায় করলেন। তখন সূর্য ডুবে গিয়েছিল। এর (আসরের সালাত আদায়ের) পর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 263 · #1295 - 258
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর-এর মাধ্যমে উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 264 · #1296 - 259
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের বেলা ও দিনের বেলা মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ) এক দলের পর আর একদল তোমাদের কাছে এসে থাকে এবং তাদের উভয় দল ফাজর ও আসর সালাতের সময় একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের সাথে রাত্রি যাপন করেছে তারা উঠে যায়। তখন তাদের প্রভু মহান আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কিরূপ অবস্থায় রেখে আসলে? যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। মালায়িকাহ তখন বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলাম তখন তারা সালাত আদায় করছিল। আবার তাদের কাছে আমরা যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 265 · #1297 - 260
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মালায়িকাহ এক দলের পর আরেক দল তোমাদের কাছে এসে থাকে। এরপর আবুয যিনাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 266 · #1298 - 261
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসেছিলাম। এক সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ অচিরেই (জান্নাতে) তো তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহ তা'আলাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখতে পারবে যেন এ চাঁদকে অবাধে দেখতে পাচ্ছ। (সুতরাং যদি এরূপ চাও) তাহলে সাধ্যমত সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত উত্তম সময়ে আদায়ের মাধ্যমে আয়ত্তে রাখ। এ কথা দ্বারা তিনি ফজর ও আসরের সালাত বুঝালেন। অতঃপর জারীর ইবনু আবদুল্লাহ এ আয়াতটি পাঠ করলেন, وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا তুমি তোমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে (সূরাহঃ ত্ব-হা ২০ঃ ১৩০) (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 267 · #1299 - 262
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, আবূ উসামাহ ও ওয়াকী’-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেনঃ তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর দরবারে পেশ করা হবে। তখন তোমরা তাকে এমনভাবে স্পষ্ট দেখতে পাবে যেমনভাবে এ চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তিনি আরো বলেছেনঃ অতঃপর তিনি (আয়াত) পাঠ করলেন। তবে জারীর (পাঠ করলেন) কথাটা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 268 · #1300 - 263
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ বকর ইবনু উমারাহ ইবনু রুআয়বাহ তার পিতা রুআয়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এমন কোন ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বের এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত অর্থাৎ— ফাজর ও আসরের সালাত আদায় করে। এ কথা শুনে বাস্রার অধিবাসী একটি লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি নিজে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে এ কথা শুনেছ? সে বললঃ হ্যাঁ। তখন লোকটি বলে উঠল, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছি। আমার দু' কান তা শুনেছে আর মন তা স্মরণ রেখেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩০৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 269 · #1301 - 264
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... উমর ইবনু রুআয়বাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায় করবে সে জাহান্নামে যাবে না। এ সময় তার কাছে বাসরার অধিবাসী জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। সে বলল, তুমি কি সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে এ হাদীসটি শুনেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছি। এ কথা শুনে বাসরার অধিবাসী লোকটি বলল- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ হাদীসটি আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে যে স্থানে তুমি শুনেছ সে স্থানেই শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 270 · #1302 - 265
হাদ্দাব ইবনু খালিদ আল আযদী (রহঃ) ..... আবূ বকর তার পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দু'টি ঠান্ডা সময়ের (ফাজর ও আসর) সালাত ঠিকমত আদায় করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 271 · #1303 - 266
ইবনু আবূ উমার, ইবনু খিরাশ ... হাম্মাম (রহঃ) থেকে একই সানাদে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু খিরাশ ও বিশর ইবনুস সারী আবূ বকরকে আবূ মূসার সাথে সম্পর্কিত করে আবূ বাকর ইবনু আবূ মূসা বলে উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 272 · #1304 - 267
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য অস্তমিত হয়ে অদৃশ্য হলেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 273 · #1305 - 268
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর আমাদের কেউ তীর ছুড়ে তা পতিত হওয়ার জায়গা পর্যন্ত দেখতে পেত (অর্থাৎ- ওয়াক্তের প্রথমেই শীঘ্র শীঘ্ৰ সালাত আদায় করা হত)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 274 · #1306 - 269
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করতাম (উপরে বর্ণিত হাদীসের) অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 275 · #1307 - 270
আমর ইবনু সাওওয়াদ আল আমির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত- যাকে আতামাহ্ বলা হত- আদায় করতে অনেক দেরী করলেন। অনেক রাত পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন না। এমনকি শেষ পর্যন্ত উমার ইবনুল খাত্ত্বাব যেয়ে বললেন, মেয়ে ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং এসে মসজিদের লোকদেরকে বললেনঃ এ সালাতের জন্য (এত রাতে) তোমরা ছাড়া এ পৃথিবীবাসীদের আর কেউ-ই অপেক্ষা করছে না। এ ঘটনাটি ছিল মানুষের মধ্যে ইসলাম বিস্তার লাভ করার পূর্বের। হারমালাহ তার বর্ণনায় এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমার কাছে বলা হয়েছে যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ তোমাদের জন্য এটা ঠিক নয় যে, তোমরা আল্লাহর রসূলকে সালাতের জন্য তাকিদ করবে। উমর ইবনুল খাত্ত্বাব যখন উচ্চস্বরে ডাকলেন তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটা বললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 276 · #1308 - 271
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনুল লায়স (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ সনদে বর্ণিত হাদীসে তিনি যুহরীর কথা وَذُكِرَ لِي থেকে শুরু করে পরবর্তী অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 277 · #1309 - 272
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ, হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) [তাদের শব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি] ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করতে অনেক রাত করলেন। এমনকি রাতের বড় একটা অংশ অতিবাহিত হয়ে গেল এবং মসজিদের লোকজনও ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং সালাত আদায় করে বললেনঃ এটাই ইশার সালাতের উত্তম সময়। তারপর তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম (তাহলে এ সময়কে ইশার সালাতের সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করতাম)। আবদুর রাযযাক বর্ণিত হাদীসে কিছুটা বর্ণনার তারতম্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে না দাঁড়াত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 278 · #1310 - 273
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতে ইশার সালাতে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা তারও বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা জানি না তিনি পারিবারিক কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, না অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এসে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা এমন এক সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ যার জন্য তোমরা ছাড়া অন্য কোন দীনের লোকেরা অপেক্ষা করছে না। (তারপর তিনি বললেন) আমার উম্মাতের জন্য যদি ভাল না হত তাহলে আমি তাদের সাথে প্রতিদিন এ সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযযিনকে আযান দিতে আদেশ করলেন। এরপর মুয়াযযিন ইকামাত দিলে তিনি সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩১৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 279 · #1311 - 274
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ইশার সালাত আদায় করতে খুব দেরী করে ফেললেন। এমনকি আমরা সবাই মসজিদেই ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেনঃ আজকের এ রাতে তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ-ই সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 280 · #1312 - 275
আবূ বাকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ) ..... সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা আনাসকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আংটি (বা সিল-মোহর) সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করতে দেরী করলেন। এত দেরী করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল অথবা প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হল। তখন তিনি আসলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। (কিন্তু তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ) যে সময় থেকে তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ সে সময় থেকে তোমরা সালাতরত আছ। আনাস বলেছেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রৌপ্য নির্মিত আংটির চাকচিক্য বা উজ্জ্বলতা এখনও দেখতে পাচ্ছি। এ কথা বলে আনাস তার বাঁ হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করলেন (অর্থাৎ- এর দ্বারা তিনি বুঝালেন যে, আংটিটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐ আঙ্গুলেই পরিহিত ছিল)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 281 · #1313 - 276
হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে (ইশার সালাত আদায় করতে) আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এভাবে রাত প্রায় অর্ধেক হয়ে আসল। এরপর তিনি এসে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন। আমি যেন এ মুহুর্তেও হাতের আঙ্গুলে পরিহিত আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 282 · #1314 - 277
আবদুল্লাহ ইবনু সব্বাহ আল আত্বর (রহঃ) ..... কুররাহ (রহঃ)-এর মাধ্যমে উক্ত সানদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তার বর্ণনাতে 'পরে তিনি আমাদের দিকে ঘুরালেন' কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 283 · #1315 - 278
আবূ আমির আল আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাথে যেসব সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধব জাহাজে চড়ে এসেছিল সবাই বাকী' নামক একটি কঙ্করময় স্থানে অবস্থানরত ছিলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিন রাতে ইশার সালাতের সময় পালা করে তাদের (আমার সাথে জাহাজে আগত বন্ধু-বান্ধব) একদল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (তার সাথে ইশার সালাত আদায় করার জন্য) যেত। আবূ মূসা বলেন, একদিন (পালাক্রমে) আমি ও আমার সঙ্গী-সাথীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তিনি সেদিন কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ইশার সালাতের জন্য আসতে দেরী করলেন। সালাত শেষ হলে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে কিছু অবহিত করছি। তোমরা সু-সংবাদ গ্রহণ কর। কারণ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি’আমাত যে, এ মুহুর্তে তোমরা ছাড়া অন্য কোন মানুষই সালাত আদায় করছে না। অথবা (আবূ মূসা বলেন,) এ দু'টি কথার মধ্যে কোন কথাটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। আবূ মূসা বর্ণনা করেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যা শুনলাম তাতে অত্যন্ত খুশী হয়ে ফিরে আসলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 284 · #1316 - 279
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সালাত যাকে লোকে আতামাহ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সব চেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একাকী থেকে আমিও সে সময় ইশার সালাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আতা বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাসকে বলতে শুনেছি- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ইশার সালাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর তারা আবার জেগে উঠলে উমার ইবনুল খাত্ত্বাব উঠে গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, সালাতের সময় হয়েছে। 'আতা বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন- অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। আমি যেন এ মুহুর্তেও দেখছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করার আদেশ করতাম। ইবনু জুরায়জ বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তাকে বলেছেন আমি তা আতাকে দেখাতে বললাম। তখন আতা তার আঙ্গুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নীচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমণ্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাঁড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙ্গুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন। ইবনু জুরায়জ বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাতে ইশার সালাত কত দেরী করেছিলেন বলে 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আত্বা বললেন, ইশার সালাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ যেভাবে দেরি করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরি করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামা'আতে ইমাম হয়ে সালাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করা। বেশী আগেও আদায় করো না কিংবা বেশী বিলম্বেও আদায় করো না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 285 · #1317 - 280
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত দেরী করে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 286 · #1318 - 281
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গেয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদেরকে ইশার সালাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাবান্বিত না করে বসে। কেননা আল্লাহর কিতাবে এ সালাতের নাম ইশা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যাপার হলো তারা (গ্রাম্য লোকেরা) উট দোহনে অনেক বিলম্ব করে থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 289 · #1319 - 282
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিন মহিলারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং তারা সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। (তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,) তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 290 · #1320 - 283
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈমানদার স্ত্রী লোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করতো। কিন্তু যেহেতুরসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করতেন তাই সালাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত তখনও তাদেরকে চেনা যেত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 291 · #1321 - 284
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী ও ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় ফজরের সালাত আদায় করতেন যে, সালাত শেষে মেয়েরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না। আনসারী তার বর্ণিত হাদীসে مُتَلَفِّعَاتٍ শব্দের স্থানে مُتَلَفِّفَاتٍ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 292 · #1322 - 285
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু হাসান ইবনু আলী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ মাদীনাতে আসলে আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রচণ্ড গরম থাকতে, ‘আসরের সালাত সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের সালাত সূর্য অস্তমিত হতে এবং ইশার সালাত কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 293 · #1323 - 286
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনুল হাসান ইবনু আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) সালাত দেরী করে আদায় করতেন। তাই আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 294 · #1324 - 287
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ আবূ বারযাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যাঁ। আমার মনে হচ্চে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি। সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবূ বারাহ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবূ বারযাহ্ বললেন- ইশার সালাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার সালাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার সালাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। শু'বাহ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবনু সালামাহ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস কবলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সালাত আদায় করতেন। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষ করে লোক মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের সালাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলেছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না। সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত। আবূ বারযাহ আরো বলেছেন, ফজরের সালাতে রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষাট থেকে একশ' পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 295 · #1325 - 288
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আবূ বারযাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করতে কোন দ্বিধা বা ভ্ৰক্ষেপ করতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বললেনঃ অথবা রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ইশার সালাত আদায় করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভ্ৰক্ষেপ করতেন না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 296 · #1326 - 289
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আবূ বারযাহ আল আসলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশ' আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সালাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 297 · #1327 - 290
খালাফ ইবনু হিশাম, আবূর রাবী' আয যাহরানী ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ...... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে সালাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করবে তাহলে কী করবে? আবূ যার বলেন- এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রসূল!), এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি উত্তম সময়ে সালাত আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ- ইমামের সাথে জামা'আতে সালাত পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবে। এটা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ণনাকারী খালাফ তার বর্ণনায় عَنْ وَقْتِهَا কথাটা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 298 · #1328 - 291
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে সালাত আদায় করবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো (সালাতের উত্তম সময়ে) সালাত আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে সালাত আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্তত তোমার সালাত রক্ষা করতে সক্ষম হলে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 299 · #1329 - 292
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমীরের বা নেতার আদেশ শুনতে ও মানতে আদেশ করেছেন যদিও সে একজন হাত-পা কাটা ক্রীতদাস হয়। আর আমি যেন সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করি। এরপরে তুমি দেখ যে, লোকজন (জামা'আতে) সালাত আদায় করে নিয়েছে তাহলে তুমি তো আগেই তোমার সালাত হিফাযাত করেছ। অন্যথায় (অর্থাৎ- তাদের সাথে জামা'আতের সালাত পেলে) তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 300 · #1330 - 293
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মতো করেই সালাত আদায় করতেন। তবে তিনি ইশার সালাত তোমাদের চেয়ে একটু দেরী করে আদায় করতেন। আর তিনি সালাত হালকা করে আদায় করতেন। আবূ কামিল বর্ণিত হাদীসে يُخِفُّ শব্দটির স্থানে يُخَفِّفُ শব্দ উল্লেখ আছে। তবে উভয় শব্দের অর্থ একই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 301 · #1331 - 294
যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার না করে বসে। জেনে রাখো সালাতের নাম হলো ইশা। আর তারা উট দোহন করতে দেরী করে তাই এ সালাতকেও তারা আতামাহ’* বলে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩২৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 302 · #1332 - 295
আসিম ইবনুন নাযর আত তায়মী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ যার তাকে বললেন- তোমরা অথবা বললেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তুমি যদি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করো যারা সময় মতো সালাত আদায় না করে দেরী করে পড়ে তাহলে কী করবে? এরপর আবার নিজেই বললেন, তুমি সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। তারপর জামাআতে সালাত হলে তাদের সাথেও সালাত আদায় করে নিবে। কারণ এটি তোমার জন্য বাড়তি সাওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 303 · #1333 - 296
আবূ গাসসান আর মিসমাঈ (রহঃ) ..... আবুল আলিয়াহ আল বারা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুস সামিতকে বললাম, আমি এমন সব আমীর বা নেতার পিছনে জুমুআর সালাত আদায় করি যারা দেরী করে সালাত আদায় করে থাকে। মাতার বলেনঃ এ কথা শুনে আবুল আলিয়াহ আল বাররা আমার উরুর উপরে সজোরে এমনভাবে হাত দিয়ে চাপড়ালেন যে, আমি ব্যথাই পেলাম। এবার তিনি বললেন- এ বিষয়ে আমি আবূ যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও আমার উরুর উপরে সজোরে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে বললেন- আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে জামা'আতের সালাতকে নাফল হিসেবে আদায় করবে। আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, (এ কথা বলার সময়) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও আবূ যার-এর উরুর উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 304 · #1334 - 297
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা'আতে সালাত আদায় করা তোমাদের কারো একাকী সালাত আদায় করার চাইতে পচিশগুণ বেশী উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 305 · #1335 - 298
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা'আতের সাথে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে পচিশগুণ বেশী উত্তম। তিনি আরো বলেছেনঃ রাতের কর্তব্যরত মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ) এবং দিনের কর্তব্যরত মালায়িকাহ ফজরের সালাতের সময় একত্র হয়। এ কথা বলে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন, এক্ষেত্রে তোমরা ইচ্ছা করলে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করো- وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا অর্থাৎ- "ফজরের ওয়াক্তের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকে"- (সূরাহ ইসরা ১৭ঃ ৭৮)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 306 · #1336 - 299
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি .....। তবে আবূ বকর ইবনু ইসহাক তার বর্ণিত হাদীসে بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا এর পরিবর্তে خمس وَعِشْرِينَ دَرَجَةً কথাটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 307 · #1337 - 300
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কানাব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ওয়াক্ত সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করা পঁচিশ ওয়াক্ত একাকী সালাত আদায় করার সমান। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 308 · #1338 - 301
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমামের সাথে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 309 · #1339 - 302
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামাআতের সাথে সালাত আদায় করা সালাত একাকী আদায় করা সালাত থেকে সাতাশগুণ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 310 · #1340 - 303
যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামা'আতে সালাত আদায় করা তার একাকী আদায় করা সালাত থেকে সাতাশগুণ অধিক (মর্যাদাসম্পন্ন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 311 · #1341 - 304
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু নুমায়র (রহঃ) তার। পিতার মাধ্যমে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে "বিশগুণের কিছু বেশী" মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। আর আবূ বাকর (রহঃ) এর বর্ণনায় "সাতাশগুণ" মর্যাদার কথা উল্লেখ আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 312 · #1342 - 305
ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বিশগুণের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 313 · #1343 - 306
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। কোন এক ওয়াক্ত সালাত জামা'আতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক লোককে না পেয়ে বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছি যে, কোন জনৈক ব্যক্তিকে আমি সালাতে ইমামাত করার আদেশ করি এবং যারা সালাতে জামা'আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং কাঠ-খড় দ্বারা আগুন জ্বলিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বলিয়ে দিতে আদেশ করি। তাদের কেউ যদি জানত যে তারা একখণ্ড গোশত হাড্ডি পাবে তাহলে তারা তাতে অবশ্যই উপস্থিত হত। অর্থাৎ- ইশার সালাতে (উপস্থিত হত)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 314 · #1344 - 307
ইবনু নুমায়র, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব [শব্দগুলো তাদের দু'জনের] (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করা মুনাফিকদের সর্বাপেক্ষা কঠিন। তারা যদি জানত যে, এ দু'টি সালাতের পুরস্কার বা সাওয়াব কত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বুক হেঁচড়ে হলেও তারা এ দু' ওয়াক্ত জামা'আতে উপস্থিত হত। আমি ইচ্ছা করেছি সালাত আদায় করার আদেশ দিয়ে কাউকে ইমামতি করতে বলি। আর আমি কিছু লোককে নিয়ে জ্বালানী কাঠের বোঝাসহ যারা সালাতের জামা'আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জালিয়ে দেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 315 · #1345 - 308
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মনস্থ করেছি যে, লোকজনকে জ্বালানী কাঠের স্তুপ করতে বলি। তারপর একজনকে সালাতে ইমামাত করতে আদেশ করি এবং লোকজনসহ গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই, যারা জামা'আতে উপস্থিত হয় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 316 · #1346 - 309
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 317 · #1347 - 310
আহমাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না এমন এক দল লোক সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, জনৈক ব্যক্তিকে সালাতে ইমামত করার নির্দেশ দেই আর আমি গিয়ে যারা জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না, আগুন লাগিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 318 · #1348 - 311
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক অন্ধ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ধরে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই। অতঃপর তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার জন্য সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানাল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু যে সময় লোকটি ফিরে যেতে উদ্যত হলো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন? তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? সে বলল, হ্যাঁ (আমি আযান শুনতে পাই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি মসজিদে আসবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 319 · #1349 - 312
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন আমাদের ধারণা হলো মুনাফিক যার নিফাক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউই সালাতের জামা'আত পরিত্যাগ করে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় রুগ্ন ব্যক্তিও দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে সালাতের জামা'আতে উপস্থিত হত। তিনি আরো বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হিদায়াতের কথা শিখিয়েছেন। আর হিদায়াতের কথা ও পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো সে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা যে মসজিদে আযান দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৬০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 320 · #1350 - 313
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আগামীকাল কিয়ামতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেন ঐ সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সালাতও হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি, যেমন জনৈক ব্যক্তি সালাতের জামা'আতে উপস্থিত না হয়ে বাড়ীতে সালাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করো তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা-পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পদ্ধতি পরিত্যাগ করো তাহলে অবশ্যই পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সালাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মসজিদে উপস্থিত হয় তাহলে মসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা মনে করি যার মুনাফিকী সর্বজনবিদিত এমন মুনাফিক ছাড়া কেউ-ই জামা'আতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় এমন ব্যক্তি জামা'আতে উপস্থিত হত যাকে দু’জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে সালাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 321 · #1351 - 314
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূশ শাসা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর সাথে মসজিদে বসেছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াজ্জিন (সালাতের জন্য) আযান দিলো। এ সময়ে জনৈক ব্যক্তি মাসজিদ থেকে উঠে চলে যেতে থাকল। আর আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) তার প্রতি তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। লোকটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল। এ দেখে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন এ ব্যক্তি তো আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নীতি ও পদ্ধতির নাফরমানী করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬২. ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 322 · #1352 - 315
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ... আবূশ শাসা আল মুহারিবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযানের পর জনৈক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে দেখে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন, এ লোকটি তো আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ লঙ্ঘন করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 323 · #1353 - 316
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ 'আমরাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের সালাতের পর উসমান ইবনু আফফান মসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন- ভাতিজা, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামা'আতের সাথে ইশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাআতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে সালাত আদায় করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 324 · #1354 - 317
যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ সাহল উসমান ইবনু হাকীম থেকে একই সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 325 · #1355 - 318
নাসর ইবনু ‘আলী আল জাহ্যামী (রহঃ) ..... জুনদুব ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাদানের বিনিময়ে কোন অধিকার দাবী করেন না। যদি করেন তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 326 · #1356 - 319
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুনদুব (ইবনু আবদুল্লাহ) আল কাসরীকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করল। আর আল্লাহ তা'আলা যদি তার নিরাপত্তা প্রদানের হাক্ব কারো থেকে দাবী করে বসেন তাহলে সে আর রক্ষা পাবে না। তাই তাকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 327 · #1357 - 320
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জুনদুব ইবনু সুফইয়ান (রহঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি "তাকে উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 328 · #1358 - 321
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... মাহমুদ ইবনুর রাবী আল আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসার সাহাবী ইতবান ইবনু মালিক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমি আমার কওমের লোকদের ইমামাত করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে তাদের ও আমার এলাকার মধ্যবর্তী উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাতে পারি না। (এভাবে আমিও জামা'আতে সালাত আদায় করা থেকে বঞ্চিত হই) হে আল্লাহর রসূল! তাই আমার আকাঙ্ক্ষা হলো, আপনি আমার বাড়ীতে গিয়ে একটি জায়গায় সালাত আদায় করবেন। সে স্থানটিকে আমি আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিব। হাদীস বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনুর রাবী আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগীর আমি তা করব। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেনঃ পরদিন সকালে কিছুটা বেলা হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাযিঃ) আসলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার বাড়ীতে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলে তিনি বাড়ীর ভিতরে গিয়ে না বসেই সোজা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করলে তোমার ভাল হয়? আমি তখন তাকে ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন- আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছোট ছোট টুকরা করে যে গোশত পাক করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাকে তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বাধা দিলাম। ইতোমধ্যে (খবর ছড়িয়ে পড়াতে) আমাদের আশে-পাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক জমে গেল। তাদের মধ্যে একজন বলল, মালিক ইবনুদ দুখশুন কোথায়? (তাকে তো দেখছি না!) অন্য একজন বলে উঠল, আরে, সে তো মুনাফিক। সে আল্লাহ এবং তার রসূলকে মোটেই পছন্দ করে না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার সম্পর্কে এভাবে বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” বলেছে। অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই" বলে বিশ্বাস করেছে। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই বলল, আল্লাহ এবং তার রসূলই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। একজন বলল, আমরা দেখি, সে মুনাফিকদের সাথে হাসিমুখে আলাপ করে এবং তাদের (উপদেশ দানের মাধ্যমে) কল্যাণ কামনা করে বা তাদের সাথে সলাপরামর্শ করে। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই বলে ঘোষণা করেছে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন। বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব বলেন- পরে আমি বানী সালিম গোত্রের নেতৃস্থানীয় হুসায়ন ইবনু মুহাম্মাদ আনসারীকে মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদীসটির সত্যতা স্বীকার করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 329 · #1359 - 322
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইতবান ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনুদ দুখশুন অথবা বলল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মালিক ইবনুদ দুখায়শিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমুদ ইবনুর রাবী’ বলেছেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে (সহাবা) আবূ আইয়ুব আল আনসারীও ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলেছেন। মাহমুদ ইবনুর রাবী’ বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ইতবান ইবনু মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। তিনি বলেছেনঃ অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তার দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার কওমের ইমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। হাদীসটির বর্ণনাকার যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরো অনেক ফারয (ফরয) ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম আহকাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, (হুকুম-আহকামের) বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোকায় না পড়ে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 330 · #1360 - 323
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মাহমুদ ইবনুর রাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ীতে একটি বালতি থেকে পানি নিয়ে যে কুল্লি করেছিলেন তা এখনো আমার মনে আছে। মাহমূদ ইবনুর রাবী বলেন, ইতবান ইবনু মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে, “তিনি আমাদের সাথে নিয়ে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য পাকানো জাশীশাহ নামক খাবার খেতে তাকে ঠেকিয়ে রাখলাম পর্যন্ত" উল্লেখ করলেন। তবে এরপর ইউনুস ও মা'মার বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটুকু তিনি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 331 · #1361 - 324
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদী মুলায়কাহ তার নিজের হাতে প্রস্তুত একটি খাবার খেতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা খেলেন। খাওয়া শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা সবাই উঠে দাড়াও, আমি তোমাদের (বারাকাত বা শিক্ষাদানের) জন্য সালাত আদায় করব। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেনঃ আমি উঠে গিয়ে আমাদের একটি চাটাইয়ের উপর দাঁড়ালাম যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে কালো বর্ণ ধারণ করেছিল। আমি সেটির উপর কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ চটাইয়ের উপর দাঁড়ালেন। আর বৃদ্ধ মহিলারা দাঁড়ালেন পিছনে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাথে নিয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর চলে গেলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 332 · #1362 - 325
শায়বান ইবনু ফাররূখ ও আবূর রাবী’ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখলাক বা নৈতিক চরিত্রের বিচারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ঘরে থাকতেই সালাতের সময় হয়ে গেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে বিছানার উপর থাকতেন সেটিই ঝেড়ে ফেলে পানি ছিটিয়ে দিতে বলতেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের ইমামাত করতেন। আমরা তার পিছনে দাঁড়াতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী (আবূ তাইয়্যাহ) বলেনঃ তার (আনাস ইবনু মালিক-এর) বাড়ীর বিছানা খেজুর পাতায় তৈরি ছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 333 · #1363 - 326
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ীতে আসলেন। তখন সেখানে শুধু আমি, আমার মা এবং আমার খালা উম্মু হারাম ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের লক্ষ্য করে বললেন, উঠ আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। তখন কোন ফারয (ফরয) সালাতের ওয়াক্ত ছিল না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। জনৈক ব্যক্তি (হাদীস বর্ণনাকারী) সাবিতকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনাসকে তার কোন পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন? তিনি (সাবিত) বললেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের পরিবারের সবার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সব রকম কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। আমার মাতা তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার এ ক্ষুদ্র খাদিমের (আনাসের) জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার জন্য সব রকমের কল্যাণের দু'আ করলেন। দু'আর শেষভাগে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বললেন তা হলোঃ হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দাও এবং এতে তাকে বারাকাত দান করো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 334 · #1364 - 327
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এবং তার মা অথবা খালাকে সাথে করে সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার ডানে দাঁড় করালেন এবং মেয়েদের পিছনে দাঁড় করালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 335 · #1365 - 328
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শু'বাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 336 · #1366 - 329
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামিমী, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মায়মুনাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তার পাশেই থাকতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সিজদা করতেন তখন কোন কোন সময় তার কাপড় আমার শরীর স্পর্শ করত। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 337 · #1367 - 330
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) শব্দাবলী তার ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (একদিন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করছেন এবং চটাইয়ের উপরই সিজদা করছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 338 · #1368 - 331
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মসজিদে জামা'আতের সাথে সালাত আদায় করলে তা তার বাড়ীতে বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে বিশগুণেরও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন। কারণ কোন লোক যখন সালাতের জন্য ওযু করে এবং ভালভাবে ওযু করে মসজিদে আসে তাকে সালাত ছাড়া আর কিছুই মসজিদে আনে না; আর সে সালাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যও পোষণ করে না। সুতরাং এ উদ্দেশে সে যখনই পদক্ষেপ করে তখন থেকে মসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার প্রতিটি নেকীর বদলে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ যেন সে সালাতরত থাকে। আর তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করার পর সালাতের স্থানেই বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ (ফেরেশতাগণ) তার জন্য এ বলে দু'আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তার তওবা কবুল করো। এরূপ দুআ ততক্ষণ পর্যন্ত করতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ওযু নষ্ট না করে*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 339 · #1369 - 332
সাঈদ ইবনু আমর আল আশ'আরী, মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার ইবনু রাইয়্যান, ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 340 · #1370 - 333
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের পর উক্ত স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ এ বলে তার জন্য দু'আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহমত দান করো। আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ সালাতরত বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষামান থাকে। ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮০, ইসলামীক সেন্টার. ১৩৯২(ক)
Book 5 · Hadith 341 · #1371 - 334
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য বসে সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতরত থাকে। আর মালায়িকাহও ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য এ বলে দু'আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহম করো। (আর মালায়িকাহ) ততক্ষণ পর্যন্ত এরূপ দুআ করতে থাকে যতক্ষণ সে সেখান থেকে উঠে চলে না যায় কিংবা যতক্ষণ ওযু নষ্ট না করে। হাদীস বর্ণনাকারী রাফি' বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম হাদাস বা ওযু নষ্ট করা কাকে বলে? তিনি বললেনঃ নিঃশব্দে বা স্বশব্দে বায়ু নিঃসরণ করা। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 342 · #1372 - 335
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করে এবং শুধু সালাতের কারণেই সে ঘরে (পরিবার-পরিজনের কাছে) ফিরে যায় না ততক্ষণ পর্যন্ত সে যেন সালাতরত অবস্থায়ই থাকে (অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করল ততক্ষণ সে সালাত আদায় করল বলেই ধরে নেয়া হবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 343 · #1373 - 336
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযি) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতের জন্য অপেক্ষা করে তখন ওযু ভঙ্গ না করা পর্যন্ত সে যেন সালাতরত থাকল। এ সময়ে মালাকগণ এ বলে তার জন্য দুআ করতে থাকো যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি রহম করো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 344 · #1374 - 337
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 345 · #1375 - 338
আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আল আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হাঁটার পথ (অর্থাৎ- ঘর) মসজিদ থেকে বেশী দূরে সে সালাতের অধিক সাওয়াব লাভের হাকদার। আর যে ব্যক্তি সালাতের জন্য অপেক্ষা করে ইমামের সাথে (জামা'আতে) সালাত আদায় করে সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী সাওয়াবের হাকদার যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। আবূ কুরায়ব-এর বর্ণনাতে "জামা'আতে ইমামের সাথে সালাত আদায় করে" কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 346 · #1376 - 339
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জনৈক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামা'আতের সাথে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবনু কাব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা (বর্ণনাকারী আবূ উসমান নাহদীর সন্দেহ) আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে সালাত আদায় করতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। এ কথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদ থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য (আমলনামায়) লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 347 · #1377 - 340
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আত তায়মী (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৭, ইসলামীক সেন্টার ১৩৯৯)।
Book 5 · Hadith 348 · #1378 - 341
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকুদ্দামী (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ছিল যার বাড়ী মাদীনার অন্য লোকদের বাড়ীর তুলনায় (মসজিদে নবাবী থেকে) দূরে অবস্থিত ছিল। কিন্তু সে জামা'আতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক ওয়াক্ত সালাতও ছাড়ত না। উবাই ইবনু কা'ব বলেন, আমরা তার জন্য সমবেদনা অনুভব করলাম। তাই তাকে বললাম, হে অমুক! আপনি যদি একটি গাধা খরিদ করে নিতেন তাহলে সূর্যের খরতাপ থেকে রক্ষা পেতেন এবং বিষাক্ত পোকা-মাকড় থেকেও নিরাপত্তা লাভ করতে পারতেন। সে বলল, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের সাথেই আমার ঘর হোক তা আমি পছন্দ করি না। তার এ কথা আমার কাছে খুবই দুর্বিষহ মনে হলো। তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বিষয়টি তাকে জানালাম। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন- সে পুনরায় অনুরূপ কথা বলল। সে এ কথাও বলল যে, এভাবে সে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব বা পুরস্কার আশা করে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি যা আশা করেছ তা তুমি অবশ্যই লাভ করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 349 · #1379 - 342
সাঈদ ইবনু আমর আল আশ'আসী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার, সাঈদ ইবনু আযহার আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আসিম-এর মাধ্যমে একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 350 · #1380 - 343
হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ী মসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। আমরা মসজিদের আশে-পাশে বাড়ী নির্মাণের জন্য ঐ ঘর-বাড়ী বেঁচে ফেলতে মনস্থ করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করেন। তিনি (আমাদের সম্বোধন করে) বললেনঃ (সালাতের জন্য মসজিদে আসার) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তোমাদের মর্যাদা ও সাওয়াব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 351 · #1381 - 344
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে বানু সালামাহ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছলে তিনি তাদের (বানু সালিমাহ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশে বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাই মনস্থ করেছি। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়ীতেই থাকো। কারণ তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 352 · #1382 - 345
আসিম ইবনুন নায্র আত তায়মী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু সালিমাহ গোত্রের লোকজন মসজিদে নববীর কাছে এসে উক্ত খালি স্থানে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। মসজিদে নবাবীর পাশে কিছু খালি জায়গা ছিল। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবগত হলে তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে বানু সালিমাহ গোত্রের লোকজন! তোমরা তোমাদের বর্তমান ঘর-বাড়ীতেই থাকো। সালাতের জন্য মসজিদে আসতে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ (পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব) লিখিত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা শুনে তারা বললঃ আমরা এতে (এ কথায় এতো খুশী হলাম যে) আমাদের বাড়ী-ঘর স্থানান্তরিত করে মসজিদের কাছে আসলেও তত খুশী হতাম না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 353 · #1383 - 346
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাড়ী থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযু করে) তারপর কোন ফারয (ফরয) সালাত আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে (মসজিদে) যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপের একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 354 · #1384 - 347
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে লায়স (রহঃ) কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ হতে ইবনু মুযার (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তবে বাকরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কারো বাড়ীর দরজার সামনেই যদি একটি নদী থাকে আর সে ঐ নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? এ ব্যাপারে তোমরা কী বলো? সবাই বললঃ না, তার শরীরে কোন প্রকার ময়লা থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটিই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দৃষ্টান্ত। এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলা সকল পাপ মুছে নিঃশেষ করে দেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 355 · #1385 - 348
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি আবদুল্লাহর পুত্র। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে তোমাদের কারোর বাড়ীর দরজার পাশ দিয়ে দু'কুল ছাপিয়ে উঠা প্রবহমান নদীর সাথে উপমা দেয়া যেতে পারে। আর ঐ নদীতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান বলেছেনঃ এভাবে (গোসল করলে) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 356 · #1386 - 349
আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সালাত আদায় করতে মসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তা'আলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তুত করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 357 · #1387 - 350
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ...... সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু সামুরাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি (ফজরের সালাতের পর) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বসতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, অনেক দিন বসেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের যে জায়গায় ফজরের সালাত (অথবা বলেছেন ভোরের সালাত) আদায় করতেন সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থেকে উঠতেন না। সূর্য উদিত হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে উঠতেন। লোকজন তখন জাহিলী যুগের ঘটনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করত। এসব ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে লোকজন হাসত আর তা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 358 · #1388 - 351
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেনঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায়ের পর সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সালাতের জায়গায় বসে থাকতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 359 · #1389 - 352
কুতায়বাহ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সিমাক (রহঃ) থেকে এ সানাদে বর্ণিত। কিন্তু তাতে 'ভালভাবে' শব্দটির উল্লেখ নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 360 · #1390 - 353
হারূন ইবনু মা’রূফ ও ইসহাক ইবনু মূসা আল আনসারী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার কাছে সব চাইতে প্রিয় জায়গা হলো মাসজিদসমূহ আর সব চাইতে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 361 · #1391 - 354
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনজন লোক একত্রিত হলে তাদের একজনকে তাদের ইমাম বা নেতা হতে হবে। আর তাদের মধ্যে ইমামাত বা নেতৃত্বের সবচাইতে বেশী হাক্বদার সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশী কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 362 · #1392 - 355
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ...... কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে একই সানাদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 363 · #1393 - 356
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, হাসান ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 364 · #1394 - 357
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদেরকে বললেনঃ যে সর্বাপেক্ষা বেশী কুরআনের পাঠক ও কুরআনী জ্ঞানের অধিকারী সে-ই কওমের (লোকজনের) ইমামাত করবে। সবাই যদি কুরআনের জ্ঞানের সমপর্যায়ের হয় সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সুন্নাত সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত হবে সে-ই ইমামাত করবে। সুন্নাহর জ্ঞানেরও সবাই সমান হলে হিজরাতে যে অগ্রগামী সে ইমামাত করবে। কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিজস্ব প্রভাবাধীন এলাকায় ইমামাত করবে না কিংবা তার অনুমতি ছাড়া তার বাড়ীতে তার বিছানায় বসবে না। বর্ণনাকারী আশাজ্জ তার বর্ণনায় سِلْمًا (ইসলাম) শব্দের স্থানে سِنًّا (বয়স) শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৪০৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 365 · #1395 - 358
আবূ কুরায়ব, ইসহাক, আশাজ্জ, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... তারা সকলে আ'মাশ (রহঃ) এর সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 366 · #1396 - 359
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেনঃ আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের জ্ঞান যা সবচেয়ে বেশী এবং যে কুরআন তিলাওয়াতও সুন্দরভাবে করতে পারে সে-ই সালাতের জামা'আতে ইমামাত করবে। সুন্দর কিরআতের ব্যাপারে সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে হিজরাতে অগ্রগামী সে ইমামাত করবে। হিজরাতের ব্যাপারেও সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে বয়সে প্রবীণ সেই ইমামাত করবে। কোন ব্যক্তি যেন কারো নিজের বাড়ীতে (বাড়ীর কর্তাকে বাদ দিয়ে) কিংবা কারো ক্ষমতাসীন এলাকায় নিজে ইমামাত না করে। আর কেউ যেন কারো বাড়ীতে গিয়ে অনুমতি ছাড়া তার বিছানায় না বসে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 367 · #1397 - 360
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রায় এ বয়সের কিছু যুবক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বিশ রাত (অর্থাৎ- বিশ দিন) অবস্থান করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র হৃদয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের লোকজনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছি। তাই নিজ পরিবারে আমরা কাকে কাকে রেখে গিয়েছি এ বিষয়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, তোমরা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্থান করে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করো। আর এ বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে আদেশ করো। আর সালাতের সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দিবে। তবে বয়সে যে সবার বড় সে ইমামাত করবে*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 368 · #1398 - 361
আবূ রাবী' আয যাহরানী ও খালাফ ইবনু হিশাম (রহঃ) ..... আইয়ূব (রহঃ) হতে একই সানাদে বর্ণিত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 369 · #1399 - 362
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস আবূ সুলাইমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সমবয়সী একদল যুবকের সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আসলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তারা সবাই ইবনু উলাইয়্যাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 370 · #1400 - 363
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আন হানযালী (রহঃ) ..... মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক বন্ধু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তার নিকট থেকে ফিরতে চাইলাম তখন তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ সালাতের সময় হলে আযান দিবে এবং তারপর ইকামাত দিবে (অর্থাৎ- সালাত আদায় করবে)। তবে তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় হবে সেই যেন ইমামাত করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪০৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 371 · #1401 - 364
আবূ সাঈদ ইবনু আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... খালিদ আল হাযযা (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাফস ইবনু গিয়াস এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, হাযযা (রহঃ) বলেছেন, তারা উভয়ে (মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস এবং তার বন্ধু) কিরআতের ব্যাপারে সমকক্ষ ছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 372 · #1402 - 365
আবূত তহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে কিরআত শেষ তাকবীর দিয়ে রুকূ’তে গিয়ে রুকূ’ থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বনা- ওয়ালাকাল হামদ” – (অর্থাৎ- যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন। হে আমাদের প্রভু! সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট)। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম ও আইয়্যাশ ইবনু রবী’আহ এবং দুর্বল ও নিপীড়িত মু'মিনদের নাযাত দান করো। হে আল্লাহ! তুমি মুযার গোত্রকে কঠোর হস্তে পাকড়াও করো। আর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দিয়ে তাদের শায়েস্তা করো। হে আল্লাহ! তুমি লিহইয়ান, রি'লান, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করো। কেননা তারা আল্লাহ এবং তার রসূলের অবাধ্য হয়েছে। অতঃপর আমরা জানতে পারলাম যে, আয়াত- "হে নবী! এর ব্যাপারে তোমার কোন করণীয় নেই। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করুন আর তাদেরকে শাস্তি দান করুন এ ব্যাপারে তিনি পূর্ণ ইখতিয়ারের অধিকারী। কেননা তারা তো যালিম" (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১২৮)। অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে কুনুত পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 373 · #1403 - 366
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে ইউসুফের সময়ে দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখী করা পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 374 · #1404 - 367
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় একমাস যাবৎ ফজরের সালাতে দ্বিতীয় রাকাআতে রুকূ’ থেকে ওঠার পরে কুনুত পড়েছেন। এতে তিনি যখন রুকূ’ থেকে উঠে "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ" বলতেন তখন কুনত পড়তে গিয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ, ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্ত করে দাও। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! আয়িশাহ ইবনু আবূ রাবী'আহকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! দুর্বল অসহায় মুমিনদেরকেও মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! তুমি মুবার গোত্রকে তোমার কঠোরতা দ্বারা পিষে মারো। হে আল্লাহ! তুমি তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দান করো। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেছেন, পরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু'আ পরিত্যাগ করতে দেখেছি। এতে আমি বিস্মিত হয়ে বললামঃ আমি দেখছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখন তাদের জন্য দু'আ করা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ আমাকে তখন বলা হলো তুমি কি দেখছ না যে, তারা সবাই মুক্ত হয়ে চলে এসেছেন? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 375 · #1405 - 368
যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করেছিলেন। সিজদা করার পূর্বে রুকূ’ থেকে উঠে যখন তিনি "সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বললেন তখন এ বলে দুআ করলেনঃ “হে আল্লাহ আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী'আকে মুক্তিদান করো" এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ হুরায়রাহ্ আওযাঈ বর্ণিত হাদীসের বা সিনী ইউসুফ [অর্থাৎ- ইউসুফ (আঃ)-এর] যুগের দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ দিয়ে শাস্তি দান করো পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। এতে তিনি আওযাঈ বর্ণিত হাদীসের পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 376 · #1406 - 369
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতো করে (প্রায় অনুরূপ) সালাত আদায় করে দেখাব। এরপর আবূ হুরায়রাহ যুহর, ইশা ও ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন। এতে তিনি মু'মিনদের জন্য দু'আ করতেন এবং কাফিরদেরকে অভিসম্পাত করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 377 · #1407 - 370
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বি'রি মাউনাহ" নামক স্থানে যে মু’মিনদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হত্যাকারীদের জন্য ত্রিশদিন পর্যন্ত ফজরের সালাতে বদদুআ করেছিলেন। আনাস বর্ণনা করেছেন, "বি'রি মাউনাহ" নামক স্থানে নিহতদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা আয়াত অবতীর্ণ করেছিলেন যা আমরা পাঠ করতাম। অবশেষে তা মানসুখ বা রহিত করে দেয়া হয়েছিল। আয়াতটি ছিল أَنْ بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ অর্থাৎ- "আমাদের কওমকে এ সংবাদ পৌছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর আমরাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।" (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 378 · #1408 - 371
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রুকূর পরে সংক্ষিপ্তভাবে পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 379 · #1409 - 372
উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয আল আম্বারী, আবূ কুরায়ব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল আ'লা (রহঃ) [শব্দাবলী ইবনু মু'আয-এর] ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস যাবৎ ফজরের সালাতে রুকূ করার পর কুনুত পড়েছেন। এতে তিনি রি'ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের জন্য বদ-দু'আ করতেন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র সম্পর্কে বলতেন যে, উসাইয়্যাহ আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 380 · #1410 - 373
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস যাবৎ ফজরের সালাতে রুকূ’ থেকে উঠার পর কুনুতে বানু উসাইয়্যাহ গোত্রের জন্য বদ-দুআ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪১৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 381 · #1411 - 374
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-কে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কুনুত রুকূ করার পূর্বে পড়তে হবে না পরে? জবাবে তিনি বললেনঃ রুকূ’ করার পূর্বে পড়তে হবে। তিনি বলেন, এ কথা শুনে আমি আবার বললাম যে, কোন কোন লোক বলে থাকে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ’ করার পর কুনুত পড়তেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রুকূ’র পরে) একমাস কুনুত পাঠ করেছেন। তখন তিনি ঐসব লোকদের জন্য বদ-দুআ করতেন যারা তার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) সাহাবীকে হত্যা করেছিল যাদেরকে 'ক্বারী' বলে সম্বোধন করা হত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২০, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 382 · #1412 - 375
ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বি'রি মাউনাহ-এর ঘটনায় 'ক্বারী' বলে পরিচিত সত্তরজন সাহাবীকে হত্যার কারণে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যতখানি বেদনাহত হয়েছিলেন এমনটি আর কোন সেনাদলের ক্ষেত্রে হতে দেখিনি। এ ঘটনার পর তিনি এক মাস পর্যন্ত (ঐসব সহাবাব) হত্যাকারীদের জন্য বদ-দুআ করেছিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 383 · #1413 - 376
আবূ কুরায়ব, ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে উভয়েই কিছুটা অতিরিক্ত শাব্দিক তারতম্যসহ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 384 · #1414 - 377
আমর আন্ নাকিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রি'ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রসমূহকে লা'নাত করে একমাস পর্যন্ত সালাতে কুনুত পড়েছেন। এরা সবাই আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে নাফরমানী করেছিল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 385 · #1415 - 378
আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ (অর্থবোধক) হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 386 · #1416 - 379
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবে কিছু গোত্রের জন্য এক সময়ে একমাস যাবৎ বদ-দুআ করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তা পরিত্যাগ করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 387 · #1417 - 380
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাজর এবং মাগরিবের সালাতে কুনুত পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 388 · #1418 - 381
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাজর ও মাগরিবের সালাতে কুনুত পড়তেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 389 · #1419 - 382
আবূত তহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সাব্হ আল মিসরী (রহঃ) ..... খুফাফ ইবনু ঈমা আল গিফারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সালাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে বদ-দু'আ করলেন হে আল্লাহ! তুমি বানী লিহইয়ান, রি'ল যাকওয়ান ও উসাইয়্যাহ গোত্রসমূহের ওপর লা'নাত বর্ষণ করো। তারা আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে। আর গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্রকে নিরাপদ রাখুন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 390 · #1420 - 383
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... হারিস ইবনু খুফাফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খুফাফ ইবনু ঈমা বর্ণনা করেছেন। তিনি (খুফাফ ইবনু ঈমা) বলেন, একদিন সালাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ’ করলেন এবং তারপর রুকূ’ থেকে মাথা তুলে বললেনঃ গিফার গোত্রকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করুন। আসলাম গোত্রকে আল্লাহ নিরাপদে রাখুন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র তো আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করেছে। এরপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি বানী লিহইয়ান গোত্রের ওপর লা'নাত বর্ষণ করো, রি'ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের ওপর লা'নাত বর্ষণ করো। এরপর তিনি সাজদায় চলে গেলেন। খুফাফ ইবনু ঈম বলেছেনঃ এ কারণেই কুনুতে কাফিরদের লা'নাত করা হয়ে থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪২৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 391 · #1421 - 384
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... খুফাফ ইবনু ঈমা (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে "এ কারণেই কুনুতে কাফিরদের লা'নত করা হয়ে থাকে" কথাটি বলেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৪৩০, ইসলামীক সেন্টার নেই)
Book 5 · Hadith 392 · #1422 - 385
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজায়বী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার সময় রাতে সফররত ছিলেন। এক সময় রাতের শেষভাগে তাকে তন্দ্রায় পেয়ে বসলে তিনি সেখানেই অবতরণ করলেন। আর বিলালকে বললেনঃ “তুমি আজ রাতে আমাদের পাহারার কাজ করো। সুতরাং বিলাল যতটা সম্ভব রাতের বেলায় সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু ফজরের সময় ঘনিয়ে আসলে বিলাল পূর্ব দিকে মুখ করে তার উটের সাথে হেলান দিলেন। এ সময় ঘুমে বিলালের দু'চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বিলাল কিংবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের কারোরই নিদ্রা ভঙ্গ হলো না। এ অবস্থায় তাদের গায়ে সূর্যের আলো এসে পড়ল। প্রথমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠে বিলালকে ডাকলেন, হে বিলাল! বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি যে কারণে জাগতে পারেননি আমিও ঐ একই কারণে জগতে পারিনি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিলেন তাড়াতাড়ি যাত্রা করো। সুতরাং সবাই উটগুলো হাকিয়ে কিছু দূরে নিয়ে গেলে এবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং বিলালকে সালাতের জন্য আদেশ করলেন। বিলাল সালাতের ইকামাত দিলে তিনি তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- “আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো"- (সূরাহ ত্ব-হা- ২০ঃ ১৪)। ইউনুস বলেছেনঃ ইবনু শিহাব لِذِكْرِي (লিযিক্রী)-এর স্থানে لِلذِّكْرَى (লিযযক্রা) আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩১, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 393 · #1423 - 386
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য ঘুমালাম। কিন্তু সূর্যোদয়ের পূর্বে আমরা জাগিনি। (নিদ্রা থেকে জেগে উঠে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেকে নিজের উটের লাগাম টেনে নিয়ে যাও। কারণ এ স্থানে আমাদের মাঝে শয়তান এসে হাজির হয়েছে। বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ বলেছেনঃ আমরা তাই করলাম। অতঃপর তিনি পানি চেয়ে নিয়ে ওযু করলেন এবং দু'টি সিজদা করলেন (অর্থাৎ- দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন)। ইয়াকুব বলেছেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের দু' রাকাআত) সুন্নাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের (ফরয) সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩২, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 394 · #1424 - 387
শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন (যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি বললেনঃ আজকের বিকাল থেকে সারারাত তোমাদেরকে পথ চলতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালে পানির কাছে উপস্থিত হবে। সুতরাং লোকজন সেখান থেকে এভাবে যাত্রা করল যে, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না। আবূ কতাদাহ্ বলেন- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও পথ চলছিল। এক সময় রাত্রি দ্বি-প্রহর হয়ে গেল। আমি তার পাশে পাশেই চলছিলাম। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তন্দ্রায় ঝিমুচ্ছিলেন। ঘুমের প্রভাবে এক সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীর উপর একদিকে ঝুঁকে পড়লেন। ঠিক সে সময় আমি তার কাছে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ধরলাম (অর্থাৎ ঠেকনা দিলাম)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন, কিন্তু তাকে জাগালাম না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলতে থাকলেন এবং এ অবস্থায় রাতের বেশীর ভাগ অতিক্রান্ত হলে সওয়ারীর উপর থেকে আবার একদিকে ঝুঁকে পড়লেন। তখন আবার আমি তাকে না জাগিয়ে ঠেলে ধরলাম। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন। আবূ কতাদাহ বলেন- এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার চলতে থাকলেন। রাত ভোর হয়ে আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবার প্রথম দু'বারের চেয়েও বেশী করে একদিকে ঝুঁকে পড়লেন, এমনকি তার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তখন আমি পুনরায় ঠেস লাগিয়ে ধরলাম। এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা উঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম- আবূ কতাদাহ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে তুমি আমার পাশে পাশে কতক্ষণ ধরে চলছ? আমি বললাম, আমি রাতের প্রথম থেকেই এভাবে আপনার সাথে চলছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে হিফাযাত করুন। কারণ তুমি তার নবীকে দেখাশুনা করছ। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, এই তো একজন আরোহী। তারপর বললাম, এই তো আরো একজন আরোহী এসে উপস্থিত হলো। এভাবে আমরা সাতজন একত্র হলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তা থেকে কিছু দূরে সরে গেলেন এবং মাটিতে মাথা রাখলেন (অর্থাৎ- শুয়ে পড়লেন)। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বললেনঃ সালাতের খেয়াল রেখো। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন আর তখন সূর্যের আলো তার পিঠের উপর এসে পড়েছিল। আবূ কতাদাহ্ বলেন- এরপর আমরা সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে পড়লাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সবাই যার যার সওয়ারীতে সওয়ার হও। তাই আমরা সওয়ারীতে চেপে যাত্রা করলাম। সূর্য বেশ কিছু উপরে উঠলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারী থেকে অবতরণ করে আমার কাছে অল্প পানিসহ যে ওযুর পাত্র ছিল তা চেয়ে নিয়ে অন্য সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে ওযু করলেন। আবূ কতাদাহ্ বললেন- এরপরও ঐ পাত্রে কিছু পানি অবশিষ্ট থাকল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ কাতাদাহ-কে বললেনঃ পাত্রটি রেখে দাও, দেখবে পরে বিস্ময়কর কান্ড ঘটবে। তখন বিলাল সালাতের আযান দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে দুরাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করলেন এবং তারপর প্রতিদিনের মতো করে ফজরের ফারয (ফরয) সালাত আদায় করলেন। আবূ কাতাদাহ্ বলেন। অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করলে আমরাও সওয়ারীতে আরোহণ করে তার সাথে রওয়ানা হলাম। এ সময়ে আমরা পরস্পর চুপিসারে বলাবলি করছিলাম যে, আমরা সালাতের ব্যাপারে যে অবহেলা প্রদর্শন করলাম তার কাফফারাহ বা ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার জীবন ও কাজ-কর্ম কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নয়? এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেনঃ ঘুমানোতে কোন দোষ বা অবহেলা নেই। অবহেলা তখনই বলা হবে যদি কোন ব্যক্তি সালাত না আদায় করে দেরী করে এবং অন্য সালাতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। কোন সময়ে কারো এরূপ হয়ে গেলে সে যখন জাগ্রত হবে তখনই যেন সালাত আদায় করে নেয়। পরদিন সকালে যেন সে সময়মত সালাত আদায় করে। পরে তিনি বললেনঃ অন্য সবাই কী করেছে তা কি জান? সকালে লোকজন যখন তাদের নবীকে দেখতে পেল না তখন আবূ বাকর ও উমার তাদেরকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের পিছনে আছেন। তিনি তোমাদেরকে পিছনে ফেলে যেতে পারেন না। কিন্তু লোকজন বললঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের সামনে আছেন। (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) এ ব্যাপারে তারা যদি আবূ বাকর ও উমার-এর কথা মানতো তাহলে সঠিক কাজ করত। আবূ কতাদাহ বলেনঃ যখন বেলা বেড়ে দুপুর হলো এবং সবকিছু সূৰ্যতাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তখন আমরা লোকজনের কাছে গিয়ে পৌছলাম। তখন তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলছিলঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা পিপাসায় মরে গেলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তোমরা মরবে না। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ছোট পেয়ালাটা আনো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযুর পাত্রটাও চেয়ে নিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালাতে পানি ঢালতে থাকলেন আর আবূ কতাদাহ পান করাতে থাকলেন। লোকজন যখন দেখল যে, পানি মাত্র একপাত্র আর এতগুলো লোক তখন তারা (পানি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে) ভিড় জমিয়ে তুলল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ধীরে সুস্থে পানি পান করতে থাকো। সবাইকে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করানো যাবে। সুতরাং লোকজন তাই করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি ঢালছিলেন আর আমি (আবূ কতাদাহ্) পান করাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া পানি পান করতে আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালার পানি ঢেলে আমাকে বললেনঃ পান করো। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান না করা পর্যন্ত আমি পান করব না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যিনি পানি পান করান তিনি সবার শেষে পান করেন। আবূ কতাদাহ বলেনঃ আমি তখন পানি পান করলাম। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করলেন। পরে অবশ্য লোকজন পানি পান করার ফলে শান্ত মনে তৃপ্তি সহকারে যেতে থাকল। হাদীসের বর্ণনাকারী সাবিত বলেছেন যে, "আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ ও এ কথা শুনে বললেনঃ তাহলে তো আপনি এ হাদীসটি সম্পর্কে ভাল জানেন। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কোন কওমের লোক? আমি বললাম, আমি আনসারদের একজন। তিনি বললেন, তাহলে বর্ণনা কর। কেননা, তুমি তোমার হাদীস সম্পর্কে নিশ্চয়ই ভালভাবে অবহিত আছ। আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ বলেন- আমি ঐ রাতে কাফিলায় শরীক ছিলাম। তবে আমি জানতাম না যে, অন্য কেউও আমার মতো হাদীসটি স্মরণ করে রেখেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 395 · #1425 - 388
আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু সখর আদ দারিমী (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন এক সফরে তার সাথে ছিলাম। এক রাতে আমরা রাতের বেলায়ই পথ চলছিলাম। রাতের শেষ দিকে আমরা বিশ্রামের জন্য একস্থানে অবতরণ করলে ঘুমের প্রভাবে আমাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এ অবস্থায় সূর্য উদিত হলো। ইমরান ইবনু হুসায়ন বলেন, আমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন তিনি আবূ বকর। আমাদের নীতি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পর নিজে নিজেই যতক্ষণ না জাগতেন ততক্ষণ আমরা কেউ তাকে নিদ্রা থেকে জাগাতাম না। আবূ বাকরের পর যিনি প্রথম জাগলেন তিনি 'উমার। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ গিয়ে দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা উঠিয়ে দেখতে পেলেন সূর্য আগেই উদিত হয়েছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সবাইকে বললেনঃ তোমরা এখান থেকে যাত্রা শুরু করো। এরপর তিনিও আমাদের সাথে যাত্রা করলেন। অতঃপর সূর্যের কিরণ আরো পরিষ্কারভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সওয়ারী থামিয়ে অবতরণ করলেন এবং আমাদেরকে সাথে করে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি সবার থেকে দূরে থাকল এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন না। সালাত শেষ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী কারণে আমাদের সাথে সালাত আদায় করলে না? সে বলল- হে আল্লাহর নবী, আমার জন্য গোসল ফারয (ফরয) হয়েছে (তাই সালাত আদায় করতে পারলাম না)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করতে বললেন। অতঃপর সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একদল লোকের সাথে সম্মুখের দিকে আগে আগে পাঠিয়ে দিলেন যাতে আমরা পানি খুঁজে বের করি। আমরা ইতোমধ্যেই যার পর নাই তৃষ্ণাৰ্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা পথ চলতে চলতে এক স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। সে তার সওয়ারীর উপর দুটি চামড়ার মশকের উপর দু দিকে পা ঝুলিয়ে বসে ছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে পানি কোথায় পাওয়া যাবে? সে বলে উঠল হায়! হায়! এখানে তোমরা পানি কোথায় পাবে? আমরা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তোমার গোত্রের বসতি এলাকা থেকে পানি কত দূরে? সে বললঃ একদিন ও একরাতের পথের ব্যবধান। আমরা তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলো। সে বললঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার কী? এরপর আমরা আর তাকে নিজের ইচ্ছামত কোন কিছুই করতে দিলাম না। বরং তাকে ধরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে আমাদেরকে যা বলেছিল তাকেও তাই বলল। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরো জানালেন যে, সে কয়েকজন ইয়াতীম শিশুর অভিভাবিকা। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটকে বসাতে আদেশ করলে সেটিকে বসানো হলো এবং তিনি চামড়ার মশকের উপর দিকের মুখ দুটিতে কুল্লি করে দিলেন। এরপর উটটিকে দাঁড় করানো হলো। আমরা তৃষ্ণার্ত চল্লিশ জনে সবাই এবার তৃষ্ণা দূর করে পানি পান করলাম। আমরা আমাদের মশক ও পানির পাত্রগুলো ভর্তি করে নিলাম এবং আমাদের সঙ্গী লোকটিকেও গোসল করালাম। তবে কোন উটকে আমরা পানি পান করালাম না। অথচ মশক তখনও পানির চাপে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের যার কাছে যা আছে নিয়ে এসো। সুতরাং আমরা ঐ মহিলার জন্য খেজুর ও খেজুরের টুকরা এনে জমা করলে সেগুলো দিয়ে তার জন্য একটি পুটলি বাধা হলো। (এগুলো দিয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এবার তুমি গিয়ে তোমার বাচ্চাদের খাওয়াও। আর মনে রেখ যে, আমরা তোমার পানি আদৌ নেইনি। সে তার লোকদের কাছে ফিরে গিয়ে বললঃ আমি সবচেয়ে বড় যাদুকরের সাক্ষাৎ পেয়েছি। অথবা সে সম্ভবত বলেছিল, একজন নবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি। এমন-এমন বিস্ময়কর দেখলাম তার ব্যাপারটা আল্লাহ তা'আলা ঐ মহিলার দ্বারা উক্ত জনপদকে হিদায়াত দান করলেন। সুতরাং সেও ইসলাম গ্রহণ করল এবং উক্ত জনপদের লোকেরাও ইসলাম গ্রহণ করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 396 · #1426 - 389
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা রাতের বেলা পথ চললাম। রাতের শেষভাগে ভোর অল্প কিছু পূর্বে আমরা এমনভাবে পড়লাম (অর্থাৎ- ক্লান্তিতে শরীর এলিয়ে দিলাম) যার চেয়ে অন্য কোন পড়াই কোন মুসাফিরের কাছে অধিক পছন্দনীয় বা সুখকর নয়। একমাত্র সূর্যতাপে আমরা জেগে উঠলাম। ..... এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি সালাম ইবনু যারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ করে বর্ণনা করলেন। এ বর্ণনাতে তিনি হ্রাস-বৃদ্ধিও করলেন। হাদীসটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন- উমর ইবনু খাত্তাব জেগে উঠে যখন লোকদের অবস্থা দেখলেন তখন উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। উমার ছিলেন উঁচু কণ্ঠস্বরের লোক। তার গুরুগম্ভীর শব্দে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠলে লোকজন তার কাছে তাদের অবস্থা জানিয়ে অভিযোগ করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ঘুমে কোন ক্ষতি নেই। তোমরা এখান থেকে যাত্রা করো। এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৫, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 397 · #1427 - 390
ইসহাকু ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফররত অবস্থায় রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে তার ডান কাতে শুয়ে থাকতেন। আর ভোরের কাছাকাছি সময়ে জাগ্রত হলে তার বাহু দাঁড় করিয়ে হাতের তালুতে ভর রেখে শুয়ে থাকতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন নেই, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 398 · #1428 - 391
হাদ্দাব ইবনু খালীদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই যেন সে তা আদায় করে নেয়। এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন কাফফারাহ তাকে দিতে হবে না। হাদীসের বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ তার বর্ণনায় "আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো"- (সূরাহ ত্ব-হা- ২০ঃ ১৪) এ আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 399 · #1429 - 392
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ আওয়ানাহ, কাতাদাহ ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনাতে “এর কাফফারাহ এ (স্মরণ হলেই আদায় করে নেয়া) ছাড়া আর কিছুই নয়"- কথাটি উল্লেখ করা হয়নি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 400 · #1430 - 393
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কেউ কোন সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা ঘুমিয়ে পড়লে তার কাফফারাহ হলো যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 401 · #1431 - 394
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারণে সালাত আদায় করতে না পারলে অথবা সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় করবে। কেননা, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ "আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো"- (সূরাহ ত্ব-হা- ২০ঃ ১৪)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৩৯, ইসলামীক সেন্টার)
Book 5 · Hadith 402 · #1432