Jami At Tirmidhi

← Jami At Tirmidhi

The Book on Jana''iz (Funerals)

১১৪ হাদিস

  1. 1

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন মু'মিন ব্যক্তির দেহে কাটা বিদ্ধ হয় অথবা সে যদি এর চেয়ে বেশি কিছুতে আক্রান্ত হয় তবে এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তার মর্যাদা এক ধাপ বাড়িয়ে দেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন। - সহীহ, রাওযুন নায়ীর (৮১৯), মুসলিম, বুখারী, সংক্ষিপ্ত সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস, আবূ উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আবু হুরাইরা, আবু উমামা, আবু সাঈদ, আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আসাদ ইবনু কুরয, জাবির, ইবনু আব্দুল্লাহ আবদুর রাহমান ইবনু আযহার ও আবু মূসা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 1 · #954 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  2. 2

    । আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু'মিন ব্যক্তির প্রতি যে কোন ধরণের দুঃখ-কষ্ট, দুশ্চিন্তা ও রোগ, এমনকি তুচ্ছ যেকোন চিন্তাই আসুক না কেন, এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তা'আলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। -– হাসান সহীহ, সহীহাহ (২৫০৩), মুসলিম, বুখারী সংক্ষিপ্ত। বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় আনহু সায়্যিয়াতিহির পরিবর্তে মিন সায়্যিয়াতিহী উল্লেখ আছে। আর উহাই সংরক্ষিত। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ওয়াকী বলেছেন, তিনি এই হাদীসটি ছাড়া আরকোন রিওয়ায়াতে দুশ্চিন্তাও যে গুনাহর কাফফারা হয় এমন কথা শুনেননি। আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রেও এই হাদীসটি কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 2 · #955 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan, Sahih
  3. 3

    সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম তার কোন (রুগ্ন) মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে সে (যতক্ষণ সেখানে থাকে ততক্ষণ) যেন জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে। – সহীহ, মুসলিম (৮/১৩) আলী, আবু মূসা, বারাআ, আবু হুরাইরা, আনাস ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সাওবান (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি আবু গিফার ও আসিম আল-আহওয়াল (রহঃ) এরকমই বৰ্ণনা করেছেন আবু কিলাবা হতে, তিনি আবুল আশআস হতে, তিনি আবু আসমা হতে, তিনি সাওবান (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। তিরমিয়ী বলেন, মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, যারা আবুল আশআস হতে আবু আসমার সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন তাদের সনদসূত্র অধিকতর সহীহ। মুহাম্মাদ (বুখারী) আরও বলেছেনঃ আবু কিলাবার হাদীসগুলি আবূ আমরের সূত্রেই বর্ণিত, কিন্তু এই হাদীসটি আবুল আশ আসের বরাতে আবু আসমা হতেই আমি জানতে পেরেছি।

    Book 10 · Hadith 3 · #956 · Sahih, Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim
  4. 4

    । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সাওবান (রাঃ)-এর সূত্রে (উপরের হাদীসের) এরকমই বর্ণিত আছে। তবে এই বর্ণনাতে আরো আছেঃ প্রশ্ন করা হল, ‘খুরফাতুল জান্নাত কি? তিনি বলেনঃ এটা হচ্ছে জান্নাতের কুড়ানো ফল। — সহীহ, মুসলিম উপরোক্ত হাদীসের মতই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আহমাদ ইবনু আবদা আয-যাববী (রাহঃ)....সাওবান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এই সনদে আবুল-আশআসের উল্লেখ নেই। আবু ঈসা বলেন, হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতেও এই হাদীসকে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা মারফুহিসেবে বর্ণনা করেননি।

    Book 10 · Hadith 4 · #957 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  5. 5

    । সুওয়াইর (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার হাত ধরে আলী (রাঃ) বললেন, আমার সাথে চল, অসুস্থ হুসাইনকে দেখে আসি। আমরা তার নিকটে গিয়ে মূসা (রাঃ)-কে হাযির পেলাম। আলী (রাঃ) বললেন, হে আবু মূসা। আপনি কি রোগী দেখতে এসেছেন না এমনি বেড়াতে এসেছেন? তিনি বললেন, না, রোগী দেখতে এসেছি। আলী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম যদি অন্যকোন মুসলিম রোগীকে সকাল বেলা দেখতে যায় তাহলে সত্তর হাজার ফিরিশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দুআ করতে থাকে। সে যদি সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যায় তবে সত্তর হাজার ফিরিশতা ভোর পর্যন্ত তার জন্য দু’আ করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান তৈরী হয়। — সহীহ, তবে হাদীসে বর্ণিত যায়িরাণ শব্দের পরিবর্তে শামিতান শব্দ আছে। -সহীহাহ (১৩৬৭), আর-রা ওয (১১৫৫) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এটি একাধিকসূত্রে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। এটিকে মারফু না করে কেউ কেউ মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী আবু ফাখিতার নাম সাঈদ, পিতার নাম ইলাকা।

    Book 10 · Hadith 5 · #958 · Sahih, Sahih, Daif
  6. 6

    । হারিসা ইবনু মুযাররিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা খাববাব (রাঃ)-এর নিকট আমি হাযির হলাম। তখন তার পেটে (গরম কিছু দিয়ে) তিনি সেঁক দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, আমি যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, জানি না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আর কোন সাহাবী এত বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন কি-না। একটি দিরহামও আমার নিকটে ছিল না (নিঃস্ব ছিলাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে। আর এখন চল্লিশহাজার দিরহাম আমার ঘরের কোণে পড়ে আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাদেরকে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন তবে অবশ্যই আমি মৃত্যু কামনা করতাম। — সহীহ, আহকামুল জানায়িয (৫৯), নাসাঈতে শুধুমাত্র মৃত্যু কামনা নিষেধ বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা, আনাস ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। খাববাব (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 6 · #959 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  7. 7

    । আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন জিবরল (আঃ) পাঠ করলেনঃ “আমি আপনাকে আল্লাহ তা'আলার নামে ঝাড়ছি এমন সকল কিছু হতে যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং সকল প্রকার অনিষ্টকর প্রাণী ও সকল হিংসুটে দৃষ্টি হতে। আল্লাহ্ তা'আলার নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি, আপনাকে আল্লাহ্ তা'আলা সুস্থতা দান করুন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫২৩), মুসলিম

    Book 10 · Hadith 8 · #960 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  8. 8

    । আবদুল আযীয ইবনু সুহাইব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ও সাবিত আল-বুনানী আনাস (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। সাবিত বললেন, হে আবু হামযা! আমি অসুস্থ অনুভব করছি। আনাস (রাঃ) বললেন, আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝাড়ফুকের দু’আ পাঠ করে ঝাড়ব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আনাস (রাঃ) বললেনঃ “হে আল্লাহ, মানবজাতির প্রভু! কষ্ট-ক্লেশ বিতাড়নকারী, রোগ হতে আপনি মুক্তি দিন, নিরাময়কারী তো আপনিই, আর কোন সুস্থতা দানকারী নেই আপনি ব্যতীত। এমন সুস্থতা আপনি দান করুন আর কোন রোগ যেন থাকতে না পারে"। — সহীহ, বুখারী আনাস ও আইশ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তিনি বলেন, আবু যুরআকে আমি প্রশ্ন করলামঃ বেশি সহীহ কোনটি, আবদুল আযীয-আবু নাযরা হতে তিনি আবু সাঈদ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি না আবদুল আযীয-আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি? তিনি উভয় হাদীসকেই সহীহ বলেছেন। আব্দুস সামাদ ইবনু আবদুল ওয়ারিস তার পিতা হতে আব্দুল আযীয ইবনু সুহাইব হতে, তিনি আবু নাযরা হতে, তিনি আবু সাঈদ হতে এবং আব্দুল আযীয ইবনু সুহাইব হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 9 · #961 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  9. 9

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি ওয়াসিয়াত করার মত সম্পদ কোন মুসলিম ব্যক্তির নিকট থাকে তবে নিজের নিকট ওয়াসিয়াতনামা লিখে না রেখে সেলোক যেন দুই রাতও অতিবাহিত না করে। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৯৯),বুখারী, মুসলিম ইবনু আবু আওফা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমর (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসন সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 10 · #962 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  10. 10

    । সা'দ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। তিনি বললেনঃ তুমি কি ওয়াসিয়াত করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কতটুকু? আমি বললাম, আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় আমার সবটুকু সম্পদ দিয়ে দিয়েছি। তিনি বললেনঃ তোমার সন্তানদের জন্য কি রাখলে? তিনি বললেন, তারা বেশ ধনী। তিনি বললেনঃ দশ ভাগের এক অংশ ওয়াসিয়াত কর। সা'দ (রাঃ) বলেন, আমি বরাবর “তা খুবই কম” বলতে লাগলাম। তিনি শেষে বললেনঃ ওয়াসিয়াত কর তিন ভাগের এক অংশ। আর তিন ভাগের এক অংশও বেশি হয়ে যাচ্ছে। – সহীহ, ইরওয়া (৮৯৯), সহীহ আবু দাউদ (২৫৫০), বুখারী, মুসলিম, দশভাগের একভাগ ওয়াসিয়াত কর এই অংশ বাদে। এ অংশটুকু যঈফ। আবু আব্দুর রহমান বলেন, আমরা এক-তৃতীয়াংশের কম ওয়াসিয়াত করাকে মুস্তাহাব মনে করি। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক-তৃতীয়াংশও অনেক বেশি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এটি একাধিকসূত্রে বর্ণিত আছে। কোন কোন বর্ণনায় কাবীর” শব্দ এবং কোন কোন বর্ণনায় ‘কাসীর” শব্দের উল্লেখ রয়েছে। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। তারাএক-তৃতীয়াংশের বেশী পরিমান ওয়াসিয়াত করাকে জাইয মনে করেন না বরংএক-তৃতীয়াংশেরও কম সম্পদ ওয়াসিয়াত করাকে মুস্তাহাব মনে করেন। সুফিয়ান সাওরী বলেনঃ এক-চতুর্থাংশের চেয়ে এক-পঞ্চমাংশ এবং এক-তৃতীয়াংশের চেয়ে এক-চতুর্থাংশ ওয়াসিয়াত করাকে পূর্ববর্তী আলিমগণ মুস্তাহাব মনে করতেন। এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ সম্পত্তি যে লোক ওয়াসিয়াত করল সে লোক তো আর কিছু রাখল না। তার জন্য এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওয়াসিয়াত করা জায়িয নয়।

    Book 10 · Hadith 11 · #963 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  11. 11

    । আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মাঝে অন্তিম সময়ের ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" পাঠ করে শুনাও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৪৪, ১৪৪৫), মুসলিম আবূ হুরায়রা, উম্মু সালামা, আইশ, জাবির ও তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী সু’দা আল-মুরিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 12 · #964 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  12. 12

    উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন অসুস্থ বা মৃত লোকের নিকটে তোমরা হাযির হলে তার সম্বন্ধে ভাল কথা বলবে। কেননা, তোমরা যেসব কথা বল সে প্রসঙ্গে ফেরেশতাগণ আমীন বলে থাকেন। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আবু সালামা (রাঃ) মারা যাবার পর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবু সালামা মারা গিয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! আমাকে এবং তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার পরে আমাকে তার চেয়ে আরও উত্তম পরিণতি দান করুন। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ্ তা'আলা তার পরবর্তীতে আমাকে তার চাইতে উত্তম ব্যক্তি দান করেছেন। তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৪৭), মুসলিম শাকীক হচ্ছেন ইবনু সালামা আবু ওয়াইল আসাদী। উম্মু সালামা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুমূর্ষ রোগীকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালকীন করা মুস্তাহাব। একদল আলিম বলেন, এই কালিমা যদি সে একবার পাঠ করে নেয় তবে পরে অন্যকথা না বললে পুনরায় তাকে তালকীন করা অনুচিত এবং বারবার এই বিষয়ে তাকে চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। ইবনুল মুবারাকের মৃত্যুর সময় হাযির হলে তাকে কোন এক লোক লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালকীন করতে থাকে এবং এই বিষয়ে বারবার তাকে তাকিদ করতে থাকে। তখন তিনি বললেন, আমি একবার তা বলেছি পরে অন্য কোন কথা না বলা পর্যন্ত আমি এই কথার উপরই প্রতিষ্ঠিত আছি। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রাহঃ)-এর এই কথার তাৎপর্য এটাই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছেঃ “যে লোকের শেষ কথা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হবে সে লোক জান্নাতে যাবে”।

    Book 10 · Hadith 13 · #965 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  13. 13

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুমূর্যু অবস্থায় দেখেছি একটি পানি ভর্তি বাটি তার সামনে রাখা ছিল। তিনি সেই বাটিতে তার হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং পানি দিয়ে তার মুখমণ্ডল মলছিলেন আর বলছিলেনঃ “হে আল্লাহ! মৃত্যুকষ্ট ও মৃত্যুযন্ত্রণা হ্রাসে আমায় সহায়তা করুন।" যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬২৩) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

    Book 10 · Hadith 14 · #966 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  14. 14

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখার পর হতে আমার আর কোন ঈর্ষা হয় না অন্য কোন ব্যক্তির সহজ মৃত্যু হলে। — সহীহ, মুখতাসার শামায়িল মুহাম্মাদীয়া (৩২৫), বুখারী ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আমি আবু যুরআকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম এবং তাকে বললামঃ আব্দুর রাহমান ইবনুল আ'লা ব্যক্তিটি কে? তিনি বললেনঃ ব্যক্তিটি হলেন আল আলা-ইবনুল লাজলাজ। এই হাদীসটিকে তিনি শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই জেনেছেন।

    Book 10 · Hadith 15 · #967 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  15. 15

    । আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, অবশ্যই মুমিনের আত্মা (মৃত্যুর সময়) ঘামের সাথে বের হয়, আমি গাধার মত মৃত্যুকে পছন্দ করি না, তাকে প্রশ্ন করা হল, গাধার মত মৃত্যু কি? তিনি বললেনঃ হঠাৎ মৃত্যু। অত্যন্ত দুর্বল। আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ

    Book 10 · Hadith 16 · #968 · Daif
  16. 16

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার আমলনামা লিপিবদ্ধকারী দু'জন ফিরিশতা দিবারাত্রির যখনই আমলনামা নিয়ে আল্লাহর কাছে পৌছে, আর আল্লাহ তা'আলা আমল নামার প্রথমে ও শেষে কল্যাণ (দেখতে) পান তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমাদেরকে এই কথার উপর সাক্ষি রাখছি যে, আমার বান্দার আমল নামার মাঝখানে যা আছে তা আমি ক্ষমা করে দিলাম। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা

    Book 10 · Hadith 17 · #969 · Hasan, Daif
  17. 17

    । আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কপালের ঘামসহ মুমিনের মৃত্যু হয়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৫২) ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। একদল মুহাদ্দিস বলেন, কাতাদা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা হতে কোন কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

    Book 10 · Hadith 18 · #970 · Sahih, Sahih, Sahih
  18. 18

    । আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুবকের নিকট গেলেন। তখন সে মুমূর্ষ অবস্থায় ছিল। তিনি বললেনঃ তোমার কেমন অনুভব হচ্ছে? যুবকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তা’আলার রহমতের আশা করছি, কিন্তু আবার ভয়ও পাচ্ছি আমার গুনাহগুলোর কারণে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে বান্দার হৃদয়ে এরকম সময়ে এরূপ দুই বিপরীত জিনিস একত্র হয়, আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই তার আকাঙ্ক্ষিত জিনিস তাকে দান করেন এবং তাকে তার বিপদাশংকা হতে নিরাপদ রাখেন। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (৪২৬১) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। হাদীসটিকে কোন কোন বর্ণনাকারী মুরসাল হিসেবে সাবিতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 19 · #971 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  19. 19

    । আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমরা মৃত্যুর খবর ঘোষণা থেকে নিবৃত্ত থাক। যেহেতু এটা জাহিলী যুগের কাজ। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, নাঈ' শব্দের অর্থ মৃত্যুর খবর ঢালাও করে ঘোষণা করা। যঈফ, তাখরীজু ইসলাহিল মাসাজিদ (১০৮) এই অনুচ্ছেদে হুযাইফা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    Book 10 · Hadith 20 · #972 · Daif, Daif, Daif
  20. 20

    । সাঈদ ইবনু আব্দুর রহমান আল-মাখযুমী আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ হতে তিনি সুফিয়ান সাওরী হতে তিনি আবূ হামযাহ হতে তিনি আল-কামা হতে তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তা মারফুরূপে বর্ণনা করা হয়নি এবং তাতে আন-নাইউ আযানুন বিলমায়্যিত" এই কথারও উল্লেখ নেই। যঈফ এই রিওয়ায়াতটি অনেক বেশী সহীহ। আবূ হামযার নাম মাইমূন আল-আওয়ার। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী নন। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। একদল আলিম নাঈ’ মাকরূহ বলেছেন। তাদের মতে নাঈ’ হল লোকদের মাঝে এই বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যে, অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। অতএব তারা যেন তার জানাযায় উপস্থিত হয়। কিছু আলিম বলেছেন, মৃতের ভাই-বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেয়াতে কোন অপরাধ নেই। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুসংবাদ দেয়াতে কোন সমস্যা নেই।

    Book 10 · Hadith 21 · #973 · Daif, Daif, Daif
  21. 21

    । হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলে আমার মৃত্যু হলে এই বিষয়ে তোমরা কোন ঘোষণা দিবে না। আমার ভয় হয় যে, এটা মৃত্যুর সংবাদ প্রচার বলে ধরা হবে। আমি মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিষেধ করতে শুনেছি। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৪৭৬) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 22 · #974 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  22. 22

    । আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রকৃত ধৈর্য হচ্ছে বিপদের প্রথম ধাক্কাতেই ধৈর্যধারণ করা। — সহীহ, আহকা-মুল জানা-য়িজ (২২ পৃঃ), মুসলিম। আবু ঈসা হাদীসটিকে এই সূত্রে গারীব বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 23 · #975 · Isnaad Hasan
  23. 23

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদের প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধরতে হবে। — সহীহ এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 24 · #976 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  24. 24

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)-কে মৃত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুম্বন করেছিলেন আর কাঁদছিলেন। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তার দু'চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৫৬) ইবনু আব্বাস, জাবির ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মারা যাবার পর আবু বাকার (রাঃ) তাকে চুমা দিয়েছেন। আইশা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 25 · #977 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif
  25. 25

    । উম্মু আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা (যাইনাব) মারা গেলে তিনি বললেনঃ তোমরা বেজোড় সংখ্যায় তিন বার বা পাঁচ বার অথবা প্রয়োজনে এর চেয়েও অধিক বার তাকে গোসল দিতে পার। বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও। আর শেষবার পানিতে কর্পূর বা কিছু পরিমাণ কর্পূর ঢেলে দাও। তোমাদের গোসল করানো শেষ হয়ে গেলে আমাকে জানিয়ে দিও। অতএব, তার গোসল শেষ করে আমরা তাকে জানালাম। তিনি তার লুঙ্গি আমাদের দিকে ছুড়ে দিলেন এবং বললেনঃ তার শরীরে এটিকে জড়িয়ে দাও। হুশাইম বলেন, এদের (খালিদ, মানসূর) ব্যতীত অন্যদের, হয়ত হিশামও তাদের একজন, বর্ণনায় আছে যে, উম্মু আতিয়া (রাঃ) বলেন, আমরা তার চুলকে তিন ভাগে বিন্যস্ত করলাম। হুশাইম বলেন, আমার ধারণায় তিনি এও বলেছেনঃ তার চুলগুলোকে আমরা তার পিছন দিকে ছেড়ে দিলাম। হুশাইম বলেন, এদের মধ্যে খালিদ আমাকে হাফসা ও মুহাম্মাদ-উম্মু আতিয়া (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেনঃ তার ডান পাশ দিযে তার ওযুর স্থানসমূহ হতে গোসল শুরু কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৫৮); বুখারী, মুসলিম। উম্মু সুলাইম (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উম্মু আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ) বলেন, নাপাক ব্যক্তির গোসলের নিয়মের মতই মৃতের গোসল করানোর নিয়ম। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের মতে মৃত ব্যক্তির গোসল করানোর ধরাবাধা কোন নিয়ম নেই। আসল কাজ হচ্ছে তাকে পাকসাফ করা। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, মালিক (রাহঃ) একটি অস্পষ্ট কথা বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে পরিষ্কার পানি বা অন্য কোন পানি দ্বারা গোসল করিয়ে তার দেহ হতে ময়লা দূর করে দিলেই যুথেষ্ট। কিন্তু আমার মতে মৃত ব্যক্তিকে তিন বা ততোধিক বার বেজোড় সংখ্যায় গোসল করানো মুস্তাহাব। তবে যেন তিন হতে কম না হয়। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাকে তোমরা তিনবার অথবা পাঁচবার গোসল করাও। যদি তিনবারের কমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং তাই যথেষ্ট হয়। তবে তার এই বক্তব্য তিন বার বা পাঁচ বার-এর কোন অর্থ হয়না। এই বিষয়ে তিনি কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারিত করে দেননি একথা বলা যায়না। ফকীহগণও এরকম কথা বলেছেন। হাদীসের প্রকৃত মর্ম তারাই হৃদয়ংগম করতে পারেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে এবং শেষবারে কর্পূর মিশ্রিত পানি দিয়ে।

    Book 10 · Hadith 26 · #978 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  26. 26

    । আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কস্তুরি সবচাইতে উত্তম সুগন্ধি। — সহীহ, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 27 · #979 · Hasan Sahih, Sahih Muslim
  27. 27

    । আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কস্তুরি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ তোমাদের সুগন্ধিগুলোর মধ্যে এটা হলো সবচাইতে উত্তম সুগন্ধি। — সহীহ, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। এই অভিমত আহমাদ ও ইসহাকের। মৃতের জন্য কস্তূরী ব্যবহারকে অন্য একদল আলিম মাকরূহ বলেছেন। এই হাদীস আল-মুস্তামির ইবনুর রাইয়্যানও আবু নাযরা হতে, তিনি আবু সাঈদ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ বলেনঃ আল-মুসতামির ইবনুর রাইয়্যান ও খুলাইদ ইবনু জাফর দুজনেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।

    Book 10 · Hadith 28 · #980 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  28. 28

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর গোসল করতে হবে এবং লাশ বহন করার পর ওযু করতে হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৬৩) আলী ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এটি মাওকুফ হিসেবেও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। আলিমদের মাঝে লাশকে গোসল করানোর পর গোসল করার বিষয়ে মতের অমিল রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, মৃত ব্যক্তিকে কোন লোক গোসল করানোর পরে তাকেও গোসল করতে হবে। কেউ কেউ বলেন, তাকে ওযু করতে হবে। মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর নিজে গোসল করা মুস্তাহাব, এটাকে বাধ্যতামূলক বলে মনে করি না। একই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈও। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে যে লোক গোসল করাবে আমার ধারণা মতে তার উপর গোসল ওয়াজিব নয়, ওযুই তার জন্য যথেষ্ট হবে। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, অবশ্যই তাকে ওযু করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রাহঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পর গোসলদানকারীর জন্য ওযু বা গোসল কোনটাই ওয়াজিব নয়।

    Book 10 · Hadith 29 · #981 · Sahih, Sahih, Sahih
  29. 29

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাদা রঙ্গের পোশাক পর। কেননা, তোমাদের জন্য তা সবচাইতে উত্তম পোশাক। তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের এটা দিয়েই কাফন দাও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৭২) সামুরা, ইবনু উমার ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণও এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেন, যে পোশাক পরিধান করে মৃত ব্যক্তি নামায আদায় করত তাকে তা দিয়ে কাফন দেয়াই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, সাদা কাপড়ে কাফন দেয়াই আমরা পছন্দ করি। উত্তম কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়াই মুস্তাহাব।

    Book 10 · Hadith 30 · #982 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  30. 30

    । আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের মাঝে কোন লোক তার কোন ভাইয়ের ওয়ালী হয় তবে সে যেন তার জন্য উত্তম কাফনের ব্যবস্থা করে। – সহীহ, সহীহাহ (১৪২৫), আহকামুল জানা-য়িজ (৫৮), মুসলিম জাবির হতে জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেনঃ “সে যেন তার জন্য উত্তম কাফনের ব্যবস্থা করে” সাল্লাম ইবনু আবু মুতী’ এই কথার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে এটা অতি উত্তম হতে হবে, কাফনের কাপড় অধিক মূল্যের হতে হবে তা নয়।

    Book 10 · Hadith 31 · #983 · Sahih
  31. 31

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তিনটি ইয়ামানী সাদা কাপড় দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফন দেওয়া হয়েছিল। এতে জামা ও পাগড়ী ছিল না। বর্ণনাকারী (উরওয়া) বলেন, লোকেরা আইশা (রাঃ)-কে বলল, কেউ কেউ বলেন, দুটি কাপড় ও একটি লম্বা রেখাযুক্ত চাদর দ্বারা তাকে কাফন দেওয়া হয়েছে। আইশা (রাঃ) বলেন, একটি চাদর আনা হয়েছিল কিন্তু তারা তা ফিরিয়ে দেন এবং তাকে সেটা দিয়ে কাফন দেননি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৬৯),বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 32 · #984 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  32. 32

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, শুধুমাত্র একটি পশমী চাদর দ্বারা হামযা ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফন দিয়েছিলেন। – হাসান, আল-আহকাম (৫৯,৬০) আলী, ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাফনের প্রসঙ্গে বিভিন্ন রকম হাদীস আছে। আইশা (রাঃ)-এর হাদীস তন্মধ্যে সবচাইতে সহীহ। এই হাদীস অনুযায়ী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী বলেন, পুরুষদেরকে তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হবে- দু'টি চাদর ও একটি জামা বা তিনটি চাদরেই কাফন দেওয়া যায়। দু’টো কাপড় না পাওয়া গেলে একটিতেই যথেষ্ট হবে। আর তিনটি না পাওয়া গেলে দুটিই যথেষ্ট। তিনটি পাওয়া গেলে তা বেশি উত্তম। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। তারা বলেন, মহিলাদেরকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হবে।

    Book 10 · Hadith 33 · #985 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Daif
  33. 33

    । আবদুল্লাহ্ ইবনু জাফর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাফর (রাঃ)-এর শহীদ হওয়ার খবর এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরী কর। কেননা, এমন খবর তাদের নিকটে এসেছে যা তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৬১০), মিশকাত (১৭৩৯) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মৃত ব্যক্তির পরিবারের দুঃখ-কষ্ট জনিত ব্যস্ততার কারণে তাদেরকে কিছু পাঠানোকে একদল আলিম মুস্তাহাব বলেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈর। জাফর ইবনু খালিদ হচ্ছেন ইবনু সা-রাহ, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। ইবনু জুরাইজও তার বরাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 34 · #986 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  34. 34

    । আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব লোক (মৃত্যুশোকে) জামার বুক ছিড়ে, গাল চাপড়ায় ও জাহিলী যুগের ন্যায় হা-হুতাশ করে সেসব লোক আমাদের দলভুক্ত নয়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৮৪),বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 35 · #987 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  35. 35

    । আলী ইবনু রাবীআ আল-আসাদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কারাযা ইবনু কা'ব নামক এক আনসারী মারা গেলে তার জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি শুরু হয়। এমতাবস্থায় মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) এসে মিম্বারে উঠলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেন, ইসলামে বিলাপ করে কাদার বিধান কোথায়? সাবধান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাদা হয় তাকে বিলাপের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। — সহীহ, আল আহকাম (২৮, ২৯), বুখারী, মুসলিম ইবনু মালিক, আনাস, উম্মু আতিয়্যা, সামুরা ও আবু মালিক আল-আশআরী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মুগীরা (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 36 · #988 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  36. 36

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উন্মাতদের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি (খারাপ) বিষয় আছে। তারা কখনও এগুলো (পুরোপুরি) ছাড়বে নাঃ মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ সহকারে ক্ৰন্দন করা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, সংক্রামক রোগ সংক্রমিত হওয়ার ধারণা, একটি উট সংক্রমিত হলে একশটি উটে তা সংক্রমিত হওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রথমটি কিভাবে সংক্রমিত হল? আর নক্ষত্রের প্রভাব মান্য করা অর্থাৎ অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি হলো। – হাসান, সহীহাহ (৭৩৫) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 37 · #989 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  37. 37

    । উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার পরিবারের লোকদের কান্নাকাটির কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৯৩) বুখারী, মুসলিম ৷ ইবনু উমার ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসের ভিত্তিতে একদল আলিম, মৃত ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করা অপছন্দ করেছেন। তারা বলেন, তাকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। উক্ত হাদীসকে,তারা দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেন, আমি আশা করি যদি মৃত ব্যাক্তি তার পরিবারের লোকদেরকে তার জীবিতাবস্থায় কাঁদতে বারণ করে যায় তাহলে তাদের কান্নার কারণে তার কিছু হবে না।

    Book 10 · Hadith 38 · #990 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  38. 38

    । আবু মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার জন্য ক্ৰন্দনকারীরা যখন কঁদে আর বলে, হায় আমাদের পাহাড় হে আমাদের নেতা বা অনুরূপ কোন কথা, তখন দুইজন ফিরিশতা ঐ মৃত ব্যক্তির জন্য নিয়োগ করা হয়। তারা তার বুকে ঘুষি মারে আর বলতে থাকে, তুমি কি এরূপ ছিলে? – হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৫৯৪) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গরীব বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 39 · #991 · Hasan, Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  39. 39

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার পরিবারের লোকদের কান্নাকাটির কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। আইশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে (ইবনু উমারকে) রহম করুন। তিনি মিথ্যা বলেননি, বরং ভুল বুঝেছেন। এক ব্যক্তি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে ইয়াহুদী অবস্থায় মারা গিয়েছিলঃ মৃত ব্যক্তিকে (তার গুনাহের কারণে) শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর তার জন্য তার পরিবারের লোকেরা কাঁদছে। - সহীহ, আহকা-মুল জানায়িজ (২৮) বুখারী, মুসলিম৷ ইবনু আব্বাস, কারাযা ইবনু কাব, আবু হুরাইরা, ইবনু মাসউদ ও উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস আইশা (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা “ওয়ালা তাযির ওয়াযিরাতুন বিযরা উখরা" (একজন অপরজনের বোঝা বহন করবে না) আয়াত দলীল হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈরও।

    Book 10 · Hadith 40 · #992 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  40. 40

    । জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর হাত ধরে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পুত্র ইবরাহীম (রাঃ)-এর নিকটে গেলেন। তাকে তিনি মুমূর্ষ অবস্থায় দেখতে পেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোলে তুলে নিলেন এবং কাঁদলেন। আবদুর রাহমান (রাঃ) তাকে বললেন, আপনিও কাঁদছেন? আপনি কি কান্না করতে বারণ করেননি? তিনি বললেনঃ না, বরং আমি দুইটি নির্বোধসুলভ ও পাপাচারমূলক চিৎকার নিষেধ করেছিঃ বিপদের সময় চিৎকার করা, মুখমণ্ডলে আঘাত করা এবং জামার সম্মুখভাগ ছিড়ে ফেলা আর শাইতানের মত (চিৎকার) কান্নাকাটি করা। — হাসান, হাদীসটিতে আরো অনেক বক্তব্য আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 41 · #993 · Hasan, Hasan, Hasan, Hasan
  41. 41

    । আমর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আইশা (রাঃ)-এর নিকট শুনেছেন যে, তার নিকট উল্লেখ করা হল যে, ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নাকাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয় (এ কথা শুনে) আইশা (রাঃ) বললেন, আবদুর রাহমানের বাবাকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করুন। তিনি মিথ্যা বলেননি। তবে তিনি হয়ত ভুলে গেছেন বা সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। (প্রকৃত বিষয় এই যে,) কোন এক ইয়াহুদি নারীর লাশের বা কবরের পাশ দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাচ্ছিলেন। তখন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ তার জন্য তো এরা কান্নাকাটি করছে, অথচ তাকে কবরের মাঝে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। — সহীহ, আল-আহকাম (২৮),বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 42 · #994 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon
  42. 42

    সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমার (রাঃ)-কে জানাযার আগে আগে চলতে দেখেছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ

    Book 10 · Hadith 43 · #995 · Sahih, Sahih, Hasan
  43. 43

    । সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমর (রাঃ)-কে জানাযার আগে আগে চলতে দেখেছি। — সহীহ

    Book 10 · Hadith 44 · #996 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih
  44. 44

    । যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমার (রাঃ) জানাযার আগে আগে চলতেন। যুহরী বলেন, আমাকে সালিম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, তার পিতাও জানাযার আগে আগে যেতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, অনেকগুলো সূত্রে ইবনু উমর (রাঃ)-এর হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার আগে আগে যেতেন। সালিম (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, তার পিতা জানাযার আগে আগে যেতেন। হাদীস বিশারদগণ সকলেই (যুহরী হতে বৰ্ণিত) মুরসাল হাদীসটিকে বেশি সহীহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেন, এই বিষয়ে ইবনু উয়াইনার হাদীসটি হতে যুহরীর মুরসাল রিওয়ায়াতটি বেশি সহীহ। আমার মনে হয় ইবনু উআইনা হতে ইবনু জুরাইয এটিকে গ্রহণ করেছেন। এবং মানসূর, বাকর ও সুফিয়ান যুহরী হতে, সালিমের বরাতে তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। আলিমদের মাঝে জানাযার আগে আগে চলা প্রসঙ্গে মত পার্থক্য আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর কিছু সংখ্যক আলিমের মতে জানাযার আগে আগে চলা উত্তম। এই মত ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ)-এর। আবূ ঈসা বলেন, এই অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ)-এর বর্ণিত (পরবর্তী) হাদীস অরক্ষিত।

    Book 10 · Hadith 45 · #997 · Sahih, Sahih, Hasan
  45. 45

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকার, উমার এবং উসমান (রাঃ) জানাযার আগে আগে চলতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৮৩) আবু ঈসা বলেন, আমি এই হাদিস সম্পর্কে মুহাম্মাদ আল-বুখারিকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু বাকার এ হাদীসের সনদে ভুল করেছেন। মূলতঃ ইউনুস-যুহরীর সূত্রে হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকার ও উমার (রাঃ) জানাযার আগে আগে যেতেন। যুহরী বলেন, সালিম আমাকে অবহিত করেছেন যে, তার পিতাও জানাযার আগে আগে যেতেন। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন, এটিই হলো বেশি সহীহ বর্ণনা।

    Book 10 · Hadith 46 · #998 · Sahih, Sahih, Hasan
  46. 46

    । আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানাযার পিছে পিছে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বলেনঃ দৌড়ের চেয়ে কিছুটা ধীরে চলবে। যদি সে ভাল ব্যক্তি হয় তাহলে তোমরা তাকে তাড়াতাড়ি তার জায়গায় পৌছে দিলে। সে মন্দ ব্যক্তি হলে তাড়াতাড়ি এক জাহান্নামীকে বিতাড়িত করা হল। লাশের অনুসরণ করা হয়। লাশ কারো অনুসরণ করে না। যে ব্যক্তি লাশের আগে আগে চলে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৪৮৪) আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী আবূ মাযিদ বর্ণিত এ হাদীসটিকে তার কারণে যঈফ বলেছেন। ইয়াহইয়াকে আবূ মাযিদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেন, একটি পাখি উড়ে এসে আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছে (রাবী অপরিচিত)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাদের মতে জানাযার পিছে পিছে যাওয়াই অতিশয় ভাল। ইমাম সাওরী ও ইসহাক (রাহঃ)-এর এ অভিমত। আবূ মাযিদ একজন অখ্যাত ও অপরিচিত রাবী। ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে তার দুটি হাদীস বর্ণিত আছে। তাইমুল্লাহ গোত্রের ইমাম ইয়াহইয়া বিশ্বস্ত রাবী। তার উপনাম আবূল হারিস। তাকে ইয়াহইয়া আল-জাবির এবং ইয়াহইয়া আল-মুজবিরও বলা হয়। তিনি ছিলেন কূফার বাসিন্দা। শুবা, সুফিয়ান সাওর, আবূল আহওয়াস ও সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 47 · #999 · Daif, Daif, Daif, Daif
  47. 47

    । সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি জানাযায় উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। তিনি কিছু ব্যক্তিকে আরোহী অবস্থায় দেখে বললেনঃ তোমাদের কি শরম নেই? আল্লাহ তা'আলার ফিরিশতাগণ পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন আর তোমরা পশুর পিঠে সাওয়ার হয়ে যাচ্ছো! যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৪৮০) এই অনুচ্ছেদে মুগীরা ইবনু শুবা ও জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। অাৰু ঈসা বলেন, সাওবান (রাঃ)-এর হাদীসটি মাওকৃফরূপেও বর্ণিত আছে। মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, মাওকুফ বর্ণনাটিই অনেক বেশী সহীহ।

    Book 10 · Hadith 48 · #1000 · Daif, Daif, Daif
  48. 48

    । সিমাক ইবনু হারব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আমরা ইবনুদ দাহদাহ-এর জানাযাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার অবস্থায় ছিলেন। আমরা তার চারপাশে ছিলাম এবং সেটি আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছিলো এবং ঘোড়ার চলার তালে তালে তিনি দুলছিলেন। — সহীহ, আল আহকাম (৭৫), মুসলিম

    Book 10 · Hadith 49 · #1001 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  49. 49

    । জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনুদ দাহদাহ এর জানাযায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়ে হেটে যান, কিন্তু ফিরে আসেন ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার হয়ে। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 50 · #1002 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  50. 50

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জানাযা (লাশ) নিয়ে তোমরা তাড়াতাড়ি এগিয়ে চল। কেননা, সে যদি ভাল লোক হয় তাহলে তোমরা উত্তম পরিণতির দিকে তাকে এগিয়ে দিলে। আর যদি সে খারাপ লোক হয়ে থাকে তাহলে তাকে তোমাদের গর্দান হতে তাড়াতাড়ি নামিয়ে রাখলে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৭৭), বুখারী, মুসলিম আবু বাকরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 51 · #1003 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  51. 51

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের যুদ্ধের দিন হামযা (রাঃ)-এর লাশের নিকটে এলেন। সেখানে দাড়িয়ে তিনি দেখতে পেলেন, তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বললেনঃ (হামযার বোন) সাফিয়্যা তার মনে আঘাত পাবে এমন ভয় যদি না হতো তাহলে আমি এই অবস্থায়ই তার লাশ ছেড়ে যেতাম। তাকে হিংস্র জীবজন্তু খেয়ে ফেলত এবং সে এদের পেট হতেই কিয়ামতের দিন বেরিয়ে আসত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি একটি সাদা-কালো ডোরাযুক্ত চাদর নিয়ে আসতে বললেন এবং সেটা দিয়ে তার কাফন পরান। তা এত ছোট ছিল যে, মাথার দিকে টানলে তার দু'পা বেরিয়ে যেত, আবার তার পায়ের দিকে টানলে তার মাথা বেরিয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, নিহতের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি কিন্তু কাপড় কম ছিল। তাই এক কাপড়ে একজন, দুইজন, এমনকি তিনজনকেও একসাথে কাফন পরানো হয় এবং একই কবরে দাফন করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করতেনঃ এদের মধ্যে কার বেশি কুরআন জানা আছে? তাকেই তিনি কিবলার সম্মুখে এগিয়ে রাখতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাশগুলোর দাফন সম্পন্ন করলেন, কিন্তু তাদের জানাযা আদায় করেননি। — সহীহ, আল আহকাম (৫৯, ৬০) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা আনাস (রাঃ)-এর এই হাদীস সম্পর্কে উপরোক্ত সূত্র ব্যতীত আর কোন সূত্রে জানতে পারিনি। হাদীসে বর্ণিত নামিরা অর্থ পুরাতন কাপড়। উসামা ইবনু যাইদের বর্ণনা সম্পর্কে মতভেদ আছে। লাইস ইবনু সা’দ বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব হতে, তিনি আব্দুর রাহমান ইবনু কাব ইবনু মালিক হতে, তিনি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ হতে, আর মামার বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সালাবা হতে, তিনি জাবির হতে। এই হাদীসটি আনাস (রাঃ) হতে যুহরীর সূত্রে উসামা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। লাইস ইবনু সা’দ-ইবনু শিহাব হতে, তিনি আবদুর রাহমান ইবনু কাব হতে, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ হতে এই সূত্রে বর্ণিত হাদীস সম্বন্ধে মুহাম্মাদ বুখারীকে আমি প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই সূত্রটি বেশি সহীহ।

    Book 10 · Hadith 52 · #1004 · Sahih, Sahih, Daif
  52. 52

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থকে দেখতে যেতেন, জানাযায় উপস্থিত হতেন, গাধার পিঠে সাওয়ার হতেন এবং কেনা গোলামের দাওয়াতও কুবুল করতেন। বানু কুরাইযার (যুদ্ধের) দিন তিনি একটি গাধার পিঠে সাওয়ার ছিলেন। এর লাগাম ও গদি ছিল খেজুর গাছের বাকলের তৈরী। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪১৭৮) আবূ ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীসটি শুধু মুসলিম হতে আনাস (রাঃ) সূত্রেই জেনেছি। কিন্তু মুসলিম আল-আওয়ার হাদীস শাস্ত্রে যঈফ। তার পিতার নাম কাইসান আল-মুলাঈ। তার সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে। শুবা এবং সুফিয়ান মুলাঈ তার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 53 · #1005 · Daif, Daif, Daif, Sahih
  53. 53

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তার দাফন সম্পর্কে সাহাবীগণের মাঝে মতের অমিল দেখা দেয়। আবু বাকার (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আমি কিছু শুনেছি, তা আমি ভুলিনি। তিনি বলেছেনঃ যে স্থানে আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে দাফন হওয়ার ইচ্ছা করেন সে স্থানেই তাঁর মৃত্যু দেন। তোমরা তাকে তার শয্যাস্থানে দাফন কর। — সহীহ, আল আহকাম (১৩৭, ১৩৮), মুসলিম, মুখতাসার শামায়িল (৩২৬) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা গরীব বলেছেন। স্মরণশক্তির দিক হতে আবদুর রাহমান ইবনু আবু বাকারকে দুর্বল বলা হয়েছে। আরো কয়েকটি সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এই হাদীসটিকে আবূ বাকার (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 54 · #1006 · Sahih, Sahih, Sahih
  54. 54

    । ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত লোকদের ভালো দিকগুলো আলোচনা কর এবং তাদের খারাপ দিকগুলো আলোচনা থেকে ক্ষান্ত হও। যঈফ, মিশকাত (১৬৭৮), রাওযুন নামীর (৪৮২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি যে, ইমরান ইবনু আনাস আল-মাক্কী একজন উপেক্ষিত রাবী অর্থাৎ তার বর্ণিত হাদীস অগ্রাহ্য। কোন কোন রাবী এ হাদীসটি আতা হতে আইশা (রাঃ) সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। ইমরান ইবনু আবী আনাস আল-মিসরী এই ইমরান ইবনু আনাস আল-মাক্কীর তুলনায় বেশী উল্লেখযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য।

    Book 10 · Hadith 55 · #1007 · Daif, Daif, Daif
  55. 55

    । উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন লাশের সাথে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেতেন তাহলে কবরে তা না রাখা পর্যন্ত তিনি বসতেন না। একদা এক ইয়াহুদী পণ্ডিত তাকে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমরাও এরূপ করি। এরপর হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার) আগেই বসতে লাগলেন এবং বললেনঃ তোমরা তাদের বিপরীত কর। - হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৫৪৫) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গরীব বলেছেন। হাদীস শাস্ত্রে বিশর ইবনু রাফি খুব একটা শক্তিশালী নন।

    Book 10 · Hadith 56 · #1008 · Hasan, Hasan, Daif
  56. 56

    । আবু সিনান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার ছেলে সিনানকে আমি দাফন করলাম। কবরের কিনারায় আবু তালহা আল-খাওলানী (রহঃ) বসা অবস্থায় ছিলেন। কবর হতে আমি যখন উঠে আসতে চাইলাম তখন আমার হাত ধরে তিনি বললেন, হে আবু সিনান! তোমাকে কি আমি সুসংবাদ দিব না? আমি বললাম, অবশ্যই দিন। তিনি বললেন, আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃ) হতে যাহহাক ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আরযাব (রাহঃ) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দার কোন সন্তান মারা গেলে তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে কি ছিনিয়ে আনলে? তারা বলে, হ্যাঁ। পুনরায় আল্লাহ্‌ তায়ালা প্রশ্ন করেন, তোমরা তার হৃদয়ের টুকরাকে ছিনিয়ে আনলে? তারা বলে, হ্যাঁ। পুনরায় তিনি প্রশ্ন করেন, তখন আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, সে আপনার প্রতি প্রশংসা করেছে এবং ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পাঠ করেছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, জান্নাতের মধ্যে আমার এই বান্দার জন্য একটি ঘর তৈরী কর এবং তার নাম রাখ “বাইতুল হামদ” বা প্রশংসালয়। — হাসান, সহীহাহ (১৪০৮) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 57 · #1009 · Hasan, Hasan, Hasan, Daif
  57. 57

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর জন্য চার তাকবীরের মাধ্যমে (গায়বী) জানাযার নামায আদায় করেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩৪), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস, ইবনু আবী আওফা, জাবির, আনাস ও ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর বড় ভাই। বদরের যুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু যাইদ (রাঃ) অংশ গ্রহণ করেননি। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মতে চার সাওর, মালিক ইবনু আনাস, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।

    Book 10 · Hadith 58 · #1010 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  58. 58

    । আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের জানাযাগুলোতে যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) চারবার তাকবীর দিতেন। কিন্তু এক জানাযায় তিনি পাঁচবার তাকবীর দিলেন। তাকে এই বিষয়ে আমরা প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ তাকবীরও দিতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০৫), মুসলিম যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই মত গ্রহণ করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ। তাদের মতে জানাযা নামাযে পাঁচবার তাকবীর পাঠ করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, জানাযার নামাযে যদি ইমাম সাহেব পাঁচবার তাকবীর পাঠ করেন তবে মুক্তাদীদেরকে তার অনুসরণ করতে হবে।

    Book 10 · Hadith 59 · #1011 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  59. 59

    । আবু ইবরাহীম আল-আশহালী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামায পড়তেন তখন এই দু'আ পাঠ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যকার জীবিত, মৃত, উপস্থিত, অনুপস্থিত, ছোট, বড় এবং পুরুষ ও মহিলা সবাইকেই মাফ করুন। ইয়াহইয়া বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাকে আবু সালামা ইবনু আবদুর রাহমান একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনাতে আরো আছেঃ “হে আল্লাহ! আমাদের মাঝে যে ব্যক্তিকে আপনি বাচিয়ে রাখেন তাকে ইসলামের উপর বাচিয়ে রাখুন এবং যে ব্যক্তিকে মৃত্যু দেন তাকে ঈমানের সহিত মৃত্যু দান করুন"। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৮) আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, আই , আবূ কাতাদা, জাবির ও আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ইব্রাহিমের পিতা হতে বর্ণিত হাদিসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটিকে মুরসাল হিসেবে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর-আবূ সালামা ইবনু আবদুর রাহমানের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হিশাম আদ-দাস্তাওয়াঈ ও আলী ইবনুল মুবারাক মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইকরিমা ইবনু আম্মার এটিকে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর-আবু সালামা হতে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ইকরিমা ইবনু আম্মারের রিওয়ায়াত সংরক্ষিত নয়। ইয়াহইয়ার সূত্রে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অনেক সময় তিনি বিভ্রান্তিতে পতিত হন। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে আব্দুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদার বরাতে তার পিতার সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর আবু ইব্রাহীম আল আশহালী হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি এই অনুচ্ছেদে সবচেয়ে বেশি সহীহ। আমি তাকে আবৃ ইবরাহীম আল-আশহালীর নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি তা বলতে পারেননি।

    Book 10 · Hadith 60 · #1012 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  60. 60

    । আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় কালে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে দু’আ পাঠ করতে শুনেছি আমি তার বাক্যগুলি মনে রেখেছিঃ “হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন এবং তাকে এমনভাবে (আপনার দয়ার) শিশির বিন্দু দিয়ে ধৌত করুন যেভাবে কাপড় ধোয়া হয়”। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০০) মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) এটাকেই এই অনুচ্ছেদের সবচেয়ে বেশি সহীহ হাদীস বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 61 · #1013 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  61. 61

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জানাযার নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৫), বুখারী উম্মু শারীক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনু উসমান হচ্ছেন আবূ শাইবা আল-ওয়াসিতী। তিনি প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী অর্থাৎ তার বর্ণিত হাদীস প্রত্যাখ্যাত। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত রিওয়ায়াতটিই সহীহ। তিনি বলেন, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাত।

    Book 10 · Hadith 62 · #1014 · Sahih, Sahih, Daif
  62. 62

    । তালহা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এক মৃত ব্যক্তির জানায আদায় করলেন এবং তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। তাকে এ প্রসঙ্গে আমি প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এটা সুন্নাত অথবা সুন্নাতের পূর্ণতা দানকারী। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। জানাযার নামাযে প্রথম তাকবীর পাঠ করার পর সূরা ফাতিহা পাঠকে তারা পছন্দ করেছেন। এই মত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না। কেননা, এটা হচ্ছে আল্লাহর প্রশংসা, নবীর প্রতি দরূদ পাঠ এবং মৃতের জন্য দুআ করা। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমদের। রাবী তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আউফ হলেন আব্দুর রাহমান ইবনু আউফের ভ্রাতুষ্পপুত্র। তার নিকট হতে যুহরী হাদীস বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 63 · #1015 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  63. 63

    । মারসাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযানী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন মালিক ইবনু হুবাইরা (রাঃ) জানাযার নামায আদায় করতেন তখন লোকজনের উপস্থিতি অল্প হলে তাদেরকে তিনি তিন সারিতে ভাগ করতেন। তারপর তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির জানাযার নামায তিন কাতার লোক আদায় করেছে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত হয়েছে। – হাসান, আহকামুল জানায়িয (১২৮) আইশা, উম্মু হাবীবা, আবু হুরাইরা ও মাইমূনা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মালিক ইবনু হুবাইরা হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। অনেক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম ইবনু সা’দ ও মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি মারসাদ ও মালিক ইবনু হুরাইরার মাঝে আরও একজন বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন। পূর্বোক্ত বর্ণনাই আমার মতে বেশি সহীহ।

    Book 10 · Hadith 64 · #1016 · Daif, Daif, Daif
  64. 64

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন মুসলিম মারা যাওয়ার পর একশত জনের একদল মুসলিম তার জানাযার নামায আদায় করে এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করে, তবে তার জন্য তাদের সুপারিশকে কুবুল করা হবে। আলী (ইবনু হুজর) তার বর্ণিত হাদীসে (একশতের স্থলে) একশত বা ততোধিক' বাক্য উল্লেখ করেছেন। — সহীহ, আল আহকাম (৯৮), মুসলিম আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটিকে কিছু বর্ণনাকারী মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসাবে নয়।

    Book 10 · Hadith 65 · #1017 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  65. 65

    । উকবা ইবনু আমির আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এমন তিনটি সময় আছে যে সময়ে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করতে অথবা আমাদের মৃত ব্যক্তিদের দাফন সম্পন্ন করতে বারণ করতেনঃ চকমক করে সূর্য উঠার সময় হতে তা সম্পূর্ণভাবে না উঠা পর্যন্ত; দুপুরের সময় সূর্য ঠিক (মাথার উপর) সোজা হয়ে যাওয়া হতে যতক্ষণ পর্যন্ত তা ঢলে না পড়ে এবং যে সময় সূর্য ডুবার সময় হয়, সম্পূর্ণভাবে তা ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫১৯), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও একদল আলিম আমল করেছেন। জানাযার নামায উল্লেখিত ওয়াক্তসমূহে আদায় করাকে তারা মাকরূহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, মৃতকে দাফন না করার কথা বলে এ হাদীসে জানাযার নামায না আদায় করা বুঝানো হয়েছে। সূর্য উদয়ের সময়, ঠিক দুপুরে এবং সূর্য ডুবার সময়। তিনি জানাযার নামায আদায় করাকে মাকরূহ বলেছেন। এই মত গ্রহণ করেছেন ইমাম, আহমাদ ও ইসহাক। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, যেসব ওয়াক্তে নামায আদায় করা মাকরূহ সেসব ওয়াক্তে জানাযার নামায আদায় করাতে কোন সমস্যা নেই।

    Book 10 · Hadith 66 · #1018 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  66. 66

    । মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী ব্যক্তি লাশের পিছে পিছে যাবে, আর পায়ে হাঁটা ব্যক্তি যেদিক দিয়ে ইচ্ছা সেদিক দিয়ে যেতে পারবে এবং শিশুর (লাশের) জানাযাও আদায় করতে হবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০৭) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইসরাঈল এবং আরও অনেকে হাদীসটি সাঈদ ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। পূর্ণাঙ্গ দেহ বিশিষ্ট বাচ্চা জনানোর পর চিৎকার না করলেও তার জানাযা নামায আদায় করতে হবে। এই কথা বলেছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক।

    Book 10 · Hadith 67 · #1019 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  67. 67

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন শিশু যদি জন্মগ্রহণ করার পরে চিৎকার না করে তবে তার জানাযার নামায আদায় করতে হবে না, সে কোন ব্যক্তির ওয়ারিস হবে না এবং তারও কেউ ওয়ারিস হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫০৮) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের বর্ণনায় রাবীগণের গরমিল আছে। এটাকে একদল মারফু হাদীস রূপে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আশআস ইবনু সাওওয়ার এবং আরও অনেকে এটাকে জাবির হতে মাওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আতা ইবনু আবূ বারাহ-এর বরাতে জাবির হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মারফু বর্ণনা হতে মাওকুফ বর্ণনাটিই বেশি সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। শিশু জন্মগ্রহণ করার পর চিৎকার না করলে তাদের মত আনুযায়ী তার জানাযা আদায় করবে না। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রহঃ)।

    Book 10 · Hadith 68 · #1020 · Sahih, Sahih, Daif
  68. 68

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সুহাইল ইবনু বাইযা (রাঃ)-এর জানাযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের অভ্যন্তরভাগে আদায় করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫১৮) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেছেন, জানাযার নামায মসজিদের অভ্যন্তরভাগে আদায় করা যাবে না। শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, মসজিদে জানাযার নামায আদায় করা যায়। এ হাদীস নিজের অনুকূলে তিনি দলীল হিসাবে উপস্থাপন করেন।

    Book 10 · Hadith 69 · #1021 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  69. 69

    । আবু গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-এর সাথে আমি এক লোকের জানাযার নামায আদায় করলাম। তিনি লাশের মাথা বরাবর দাঁড়ালেন। তারপর লোকেরা কুরাইশ বংশের এক মহিলার লাশ নিয়ে আসলো। তারা বলল, হে হামযার পিতা! এর জানাযা আদায় করুন। তিনি তার খাটিয়ার মাঝ বরাবর দাঁড়ালেন। তাকে আলা ইবনু যিয়াদ (রাহঃ) বললেন, স্ত্রীলোকটির খাটিয়ার মাঝ বরাবর এবং পুরুষ লোকটির মাথা বরাবর আপনি যেভাবে দাড়ালেন, এভাবে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাড়াতে দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নামায শেষে তিনি বললেন, তোমরা এই নিয়ম ভালোভাবে স্মরণ রাখ। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৪) সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। হাম্মামের সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস হাম্মামের সূত্রে ওয়াকী (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি সনদে গড়মিল করেছেন। তিনি বলেছেন গালিব আনাস হতে, সঠিক হল আবূ গালিব। আব্দুল ওযারিস এবং আরও অনেকে হাম্মামের মতই আবু গালিব হতে বর্ণনা করেছেন। আবু গালিবের নাম নিয়ে মত পার্থক্য আছে। কেউ বলেছেন, তার নাম নাফি, কেউ বলেছেন রাফি। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। এই মত আহমাদ ও ইসহাকেরও।

    Book 10 · Hadith 70 · #1022 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
  70. 70

    । সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার জানাযা আদায় করলেন, তিনি তার কোমর বরাবর দাড়ালেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৪৯৩), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হুসাইন আল-মুআল্লিমের সূত্রে শুবা (রহঃ) এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 71 · #1023 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  71. 71

    । আবদুর রাহমান ইবনু কাব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জাবির (রাঃ) তাকে জানিয়েছেন যে, উহুদের যুদ্ধের দুই দুইজন শহীদকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কাপড়ে একসাথে কাফন সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রশ্ন করতেনঃ এদের দুজনের মধ্যে কোন ব্যক্তির বেশি কুরআন মুখস্ত আছে? তাদের কোন একজনের দিকে ইশারা করা হলে তিনি প্রথমে তাকে (কিবলার দিকে) কবরে রাখতেন। তারপর তিনি বলতেনঃ এদের জন্য আমি কিয়ামতের দিন সাক্ষী হব। (বর্ণনাকারী বলেন) তিনি রক্তমাখা দেহেই তাদেরকে দাফন করার হুকুম দিয়েছেন এবং তাদের জানাযা আদায় করেননি, এমনকি তাদের গোসলও করানো হয়নি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫১৪), বুখারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। যুহরী তার সনদের ধারাবাহিকতায় উল্লেখিত হাদীসটি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। যুহরী হতে আব্দুল্লাহ ইবনু সালাবা ইবনু আবু সুয়াইবের বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। কোন কোন রাবী হাদীসটি জাবির হতেও বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মধ্যে শহীদ ব্যক্তির জানাযা আদায়ের ব্যাপারে মতের অমিল আছে। একদল আলিম তাদের জানাযা আদায় না করার কথা বলেছেন। মদীনার আলিমগণ এই মত দিয়েছেন। একইরকম কথা বলেছেন ইমাম। শাফিঈ এবং আহমাদও। অপর একদল আলিম বলেন, শহীদ ব্যক্তিদের জানাযা আদায় করতে হবে। “হামযা (রাঃ)-এর জানাযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছেন” তারা দলীল হিসাবে এই হাদীস নিজেদের পক্ষে উপস্থাপন করেছেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী এবং কুফাবাসী আলিমদের। একইরকম মত দিয়েছেন ইমাম ইসহাকও।

    Book 10 · Hadith 72 · #1024 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  72. 72

    । শাবী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিচ্ছিন্ন করব দেখলেন। অতঃপর তিনি তার সাহাবীদেরকে তার পিছনে কাতারবন্দী করে দাঁড় করালেন এবং তার উপর (কবরের উপর) জানাযার নামায আদায় করলেন। বর্ণনাকারীকে প্রশ্ন করা হল, কে আপনাকে জানিয়েছেন? তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩০), বুখারী, মুসলিম আনাস, বুরাইদা, ইয়াজীদ ইবনু সাবিত, আবূ হুরায়রা, আমির ইবনু রাবীআ, আবু কাতাদা ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, জানাযার নামায কবরের উপর আদায় করা যাবে না। মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর এই মত। ইবনুল মুবারাক বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে যদি জানাযার নামায আদায় না করে দাফন করে তাহলে কবরের উপর জানাযা আদায় করা যাবে। অর্থাৎ কবরের উপর জানাযা আদায় করা ইবনুল মুবারাকের মতে জায়িয। আহমাদ ও ইসহাক বলেছেনঃ একমাস পর্যন্ত কবরের উপরে জানাযার নামায পড়া যাবে। তারা উভয়ে বলেছেন, ইবনুল মুসায়িবের নিকট আমরা যা শুনেছি তা হলঃ সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ)-এর মায়ের কবরের উপর এক মাস পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামায আদায় করেছেন।

    Book 10 · Hadith 73 · #1025 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  73. 73

    । সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, সাদ (রাঃ)-এর আম্মা ইন্তিকাল করেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযির ছিলেন না। তিনি (সফর হতে) প্রত্যাবর্তন করে তার জানাযার নামায আদায় করেন। ইতিমধ্যে (মৃত্যুর পর) একমাস চলে গিয়েছিল। - যঈফ, ইরওয়া

    Book 10 · Hadith 74 · #1026 · Daif, Daif, Daif
  74. 74

    । ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের ভাই নাজাশী মারা গেছেন। তোমরা তার জন্য দাঁড়িয়ে নামায আদায় কর। বর্ণনাকারী বলেন, মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযের ন্যায় আমরা দাড়িয়ে কাতার বাঁধলাম এবং তার জন্য জানাযার নামায আদায় করলাম। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩৫), মুসলিম আবু হুরাইরা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আবু সাঈদ, হুযাইফা ইবনু উসাইদ ও জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। হাদীসটি আবু কিলাবা তার চাচা আবুল মুহাল্লাবের বরাতে ইমরান ইবনু হুসাইন হতে বর্ণনা করেছেন। আবুল মুহাল্লাবের নাম আবদুর রাহমান, পিতার নাম আমর। অপর মতে তার নাম মুআবিয়া।

    Book 10 · Hadith 75 · #1027 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  75. 75

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক জানাযার নামায আদায় করল সে লোকের জন্য এক কীরাত সাওয়াব। আর জানাযার সাথে সাথে যে লোক যায় এবং দাফন সমাপ্ত পর্যন্ত থাকে তার জন্য দুই কীরাত সাওয়াব। এর একটি অথবা অপেক্ষাকৃত ছোটটি উহুদ পাহাড়ের সমান। (বর্ণনাকারী বলেন) এ কথা ইবনু উমারের নিকট আমি বর্ণনা করলে তিনি আইশা (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে এ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বললেন, আবু হুরাইরা সত্য কথা বলেছেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, আমরা তো তাহলে অনেক কীরাত হতে বঞ্চিত হয়েছি। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৩৯),বুখারী, মুসলিম বারাআ, আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ, উবাই ইবনু কা'ব, ইবনু উমার ও সাওবান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 10 · Hadith 76 · #1028 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  76. 76

    । আব্বাস ইবনু মানসূর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি আবূল মুহাযযিমকে বলতে শুনেছিঃ আমি দশ বছর ধরে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সান্নিধ্যে ছিলাম। আমি তাকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি লাশের পিছে পিছে গেল এবং তা তিনবার বহন করল সে মৃত ব্যক্তির প্রতি তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করল। যঈফ,মিশকাত (১৬৭০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কিছু রাবী এ হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। আবূল মুহাযযিমের নাম ইয়াযীদ, পিতার নাম সুফিয়ান। শুবা (রাহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 77 · #1029 · Daif, Daif, Daif, Daif
  77. 77

    । আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখলে তোমরা দাঁড়িয়ে যাবে। তোমরা দাঁড়িয়ে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তা তোমাদেরকে ছাড়িয়ে যায় অথবা তা মাটিতে না রাখা হয়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৪২), বুখারী, মুসলিম আবু সাঈদ, জাবির, সাহল ইবনু হুনাইফ, কাইস ইবনু সা’দ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আমির ইবনু রাবীআর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 78 · #1030 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  78. 78

    । আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখলে তোমরা দাড়িয়ে যাবে। লাশের পিছু পিছু যে লোক যাবে সে লোক যেন না বসে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিচে নামিয়ে না রাখা হয়। -সহীহ বুখারী, মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেছেন, কাঁধ হতে মৃত ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে না রাখা পর্যন্ত লাশের অনুসরণকারী বসবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, লাশ ছাড়িয়ে তারা আগে চলে যেতেন এবং বসে থাকতেন যতক্ষণ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির লাশ না পৌছাত। ইমাম শাফিঈর মতও তাই।

    Book 10 · Hadith 79 · #1031 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  79. 79

    । আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মৃত ব্যক্তিকে নিচে না রাখা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা” প্রসঙ্গে তার সামনে আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে দাড়াতেন কিন্তু পরবর্তীতে বসে থেকেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৪৪), মুসলিম হাসান ইবনু আলী ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা সহীহ বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসের সনদে চারজন রাবী হলেন তাবিঈ। তাদের মাঝে একজন অন্য জনের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি এ অনুচ্ছেদে অধিকতর সহীহ। পূর্ববর্তী দাঁড়ানো প্রসঙ্গে হাদীসের নির্দেশকে এই হাদীস মানসূখ (রহিত) করে দিয়েছে। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, ইচ্ছা করলে কোন লোক দাড়াতেও পারে আবার নাও দাড়াতে পারে। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে দাড়াতেন কিন্তু পরবর্তীতে বসে থেকেছেন” তিনি দলীল হিসাবে এই হাদীসটিকে পেশ করেছেন। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও একইরকম কথা বলেছেন। আবু ঈসা বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে দাড়াতেন কিন্তু পরবর্তীতে বসে থেকেছেন” আলী (রাঃ)-এর এই কথার তাৎপর্য এই যে, মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়াতেন এবং এ অভ্যাস পরবর্তী কালে ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর তিনি আর লাশ নিয়ে যেতে দেখলে দাঁড়াতেন না।

    Book 10 · Hadith 80 · #1032 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  80. 80

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের জন্য লাহদ এবং অন্যদের জন্য শাক। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৫৪) জারীর ইবনু আবদুল্লাহ, আইশা, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাসের হাদীসটিকে উল্লেখিত সনদ সূত্রে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 81 · #1033 · Sahih, Sahih, Daif
  81. 81

    । ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হত; আবু খালিদের বর্ণনায় আছে, মৃত ব্যক্তিকে যখন তার কবরে নামানো হত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলতেনঃ “বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি ওয়া 'আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ", অপর বর্ণনায় আছেঃ ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি ওয়া 'আলা সুন্নাতি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম”। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫৫০) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সূত্রে হাসান গারীব। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ) হতে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ সিদীক আন-নাজী হাদীসটিকে ইবনু উমারের বরাতে নাৰী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আবু সিদ্দীক আন-নাজীর সূত্রে এটা মাওকুফ হিসাবেও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।

    Book 10 · Hadith 82 · #1034 · Sahih, Sahih, Sahih
  82. 82

    । জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যে ব্যক্তি লাহদ (সিন্দুকী) কবর খুঁড়েছিলেন সে ব্যক্তি হচ্ছেন আবু তালহা (রাঃ)। আর তার (কবরে লাশের) নিচে যে ব্যক্তি পশমী চাদর বিছিয়ে ছিলেন সে ব্যক্তি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস শুকরান (রাঃ)। — সনদ সহীহ জাফর (রাহঃ) বলেন, আবু রাফির ছেলে উবাইদুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন শুকরানকে আমি বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! কবরের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিচে আমিই পশমী চাদর বিছিয়েছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। শুকরানের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। উসমান ইবনু ফারকাদের সূত্রে আলী ইবনুল মাদীনীও উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 83 · #1035 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan
  83. 83

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি লাল পাশমী চাদর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরে বিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। -সহীহ, মুসলিম (৩/৬১) অন্য জায়গায় মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার এই হাদীসের সনদে ইয়াহইয়ার পূর্বে মুহাম্মাদ ইবনু জাফরের নাম উল্লেখ করেছেন। আর এই সনদটি বেশি সহীহ। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। শুবা হাদীসটিকে আবু হামজা আল-কাসসাব হতে বর্ণনা করেছেন, তার নাম ইমরান ইবনু আবূ আতা। আবূ হামযা আয-যুরাঈ হতেও হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম নাসর ইবনু ইমরান। তারা উভয়েই ইবনু আব্বাসের ছাত্র। বর্ণিত আছে যে, কবরে লাশের নিচে কিছু দেয়াকে ইবনু আব্বাস (রাঃ) মাকরুহ মনে করতেন। এই হাদীস অনুযায়ী কোন কোন আলিম এই অভিমত গ্রহণ করেছেন।

    Book 10 · Hadith 84 · #1036 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  84. 84

    । আবু ওয়াইল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবুল হাইয়ায আলা-আসাদীকে আলী (রাঃ) বললেন, আমি এমন এক কাজের দায়িত্ব দিয়ে তোমাকে পাঠাব যে কাজ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন। কোন ধরণের উচু কবরকে সমান না করে ছাড়বে না এবং কোন প্রতিকৃতি না ভেঙ্গে রাখবে না। সহীহ, আল আহকাম (২০৭) ইরওয়া (৭৫৯), তাহজীরুস সাজিদ (১৩০) , মুসলিম জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। ভূমি হতে কবর অধিক উচু করাকে তারা মাকরুহ মনে করেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, কবর উচু করাকে আমি মাকরূহ বলে মনে করি। তবে এটুকু উচু তো অবশ্য করতে হবে যাতে করে লোকেরা বুঝে এটা কবর। এর ফলে কবরের উপর দিয়ে তারা চলাফিরা করবে না এবং এর উপর বসবে না।

    Book 10 · Hadith 85 · #1037 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  85. 85

    । আবূ মারসাদ আল-গানবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবরের উপর তোমরা বসবে না এবং কবরকে সামনে রেখে নামায আদায় করবে না। — সহীহ, আল আহকাম (২০৯, ২১০), তাহযীরুস সাজিদ (৩৩), মুসলিম আবু হুরাইরা, আমর ইবনু হাযম ও বাশীর ইবনুল খাসাসিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরের হাদীসের মত আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতেও একটি সনদ সুত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

    Book 10 · Hadith 86 · #1038 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  86. 86

    । আলী ইবনু হুজর এবং আবু আম্মার উভয়েই ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আব্দুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি বুসর ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা হতে, তিনি মারসাদ আল-গানবী হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এই সূত্রে আবু ইদরীসের নাম উল্লেখ নেই এবং এটাই সহীহ বর্ণনা। আবু ঈসা বলেন, ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, ইবনুল মুবারাক সনদের মধ্যে আবু ইদরীস আল-খাওলানীর নাম ভুল বশত যোগ করেছেন। এ ভাবেই অনেক বর্ণনাকারী হাদীসটি আবু ইদরীসের উল্লেখ না করেই বর্ণনা করেছেন। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাঃ) হতে বুসর ইবনু উবাইদুল্লাহ সরাসরি হাদীস শুনেছেন।

    Book 10 · Hadith 87 · #1039 · Sahih, Sahih, Sahih, Sahih
  87. 87

    । জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কবর পাকা করতে, তার উপর কোন কিছু লিখতে বা কিছু নির্মাণ করতে এবং তা পদদলিত করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। — সহীহ, আহকামুল জানা-য়িয (২০৪), তাহযীরস সাজিদ (৪০), ইরওয়া (৭৫৭), লিখতে নিষেধ করেছেন ব্যতীত, মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাবির (রাঃ) হতে আরো একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। কবরকে কাদা দিয়ে লেপার পক্ষে হাসান বাসরীসহ একদল আলিম অনুমতি প্রদান করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেছেন কাদা দিয়ে কবর লেপাতে কোন সমস্যা নেই।

    Book 10 · Hadith 88 · #1040 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  88. 88

    ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার গোরস্তানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি কবরবাসীদের দিকে মুখ করে বললেনঃ আস্‌সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসার। - যঈফ, মিশকাত (১৭৬৫) এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা ও আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাস বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ কুদাইনার নাম ইয়াহইয়া, পিতার নাম মুহাল্লাব। আর আবূ যাবইয়ানের নাম হুসাইন, পিতার নাম জুনদুব।

    Book 10 · Hadith 89 · #1041 · Daif, Daif, Daif
  89. 89

    । সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারাত করতে নিষেধ করেছিলাম। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তার মায়ের কবর যিয়ারাত করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারাত কর। কেননা, তা আখিরাতের কথাকে মনে করিয়ে দেয়। — সহীহ, আল আহকাম (১৭৮, ১৮৮), মুসলিম আবু সাঈদ, ইবনু মাসউদ, আনাস, আবু হুরাইরা ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বুরাইদার হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেন। কবর যিয়ারাত করতে তাদের মতে কোন দোষ নেই। এই মত দিয়েছেন ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)।

    Book 10 · Hadith 90 · #1042 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  90. 90

    আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলাইকা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হুবশী নামক স্থানে মারা গেলেন। পরে তাকে মক্কায় এনে এখানে কবর দেয়া হল। আইশা (রাঃ) মক্কায় এসে (ভাই) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্রের কবর য়ারাতে গেলেন। তিনি কবরের পাশে দাড়িয়ে নিম্নোক্ত কবিতা আবূত্তি করেনঃ “আমরা দু'জন জায়ীমার দুই সহচর দীর্ঘকাল কাটিয়েছি একসাথে এমনকি বলা হত আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন হব না কিন্তু যখন পৃথক হলাম আমি মালিকের থেকে মনে হচ্ছে এক রাতও কাটাইনি একসাথে।" তারপর তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার কসম! আমি যদি হাযির থাকতাম তবে আপনার মউতের জায়গাতেই আপনাকে দাফন করা হত। আমি যদি আপনার দাফনের সময় হাযির থাকতাম, তবে আমি আপনার কবর যিয়ারাতে আসতাম না। যঈফ, মিশকাত

    Book 10 · Hadith 91 · #1043 · Daif, Daif, Sahih
  91. 91

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কবর যিয়ারাতকারী মহিলাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। – হাসান, ইবনু মাজাহ (১৫৭৬) ইবনু আব্বাস ও হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম মনে করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারাতের অনুমতি দেওয়ার পূর্বেকার হাদীস এটি। তিনি কবর যিয়ারাতের অনুমতি দেওয়ার পর এই অনুমতির মধ্যে নারী-পুরুষ সকলেই অন্তর্ভুক্ত। কোন কোন আলিম মনে করেন, স্ত্রীলোকদের মাঝে অল্প ধৈর্য এবং বেশি অস্থিরতা থাকার জন্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কবর যিয়ারাত অপছন্দ করেছেন।

    Book 10 · Hadith 92 · #1044 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Isnaad Hasan
  92. 92

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা কবরে প্রবেশ করলেন। তার জন্য একটি আলো জ্বালানো হল। তিনি কিবলার দিক হতে মৃতদেহ ধরলেন এবং বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমায় রহম করুন! তুমি ছিলে বেশী নরমদিলের এবং বেশী কুরআন তিলাওয়াতকারী। তিনি তার (নামাযে) চারবার আল্লাহু আকবার বললেন। যঈফ, মিশকাত (১৭০৬) তিনি রাত্রে কবরে প্রবেশ করলেন এ অংশটুকু হাসান, আহকামুল জানায়িয এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ (রাঃ) যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর অগ্রজ। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, মৃতকে কিবলার দিক হতে কবরে নামাবে। আর একদল আলিমের মতে পায়ের দিক হতে নামাতে হবে। বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম রাতে মৃতদেহ দাফন করা জায়িয মনে করেন।

    Book 10 · Hadith 93 · #1045 · Daif, Daif, Hasan, Daif
  93. 93

    । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকজন তার প্রশংসা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্য (জান্নাত) নির্ধারিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেনঃ পৃথিবীতে তোমরা (মুমিনরা) আল্লাহ তা'আলার সাক্ষী। – সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৪৯১), বুখারী, মুসলিম উমার, কাব ইবনু উজরা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।

    Book 10 · Hadith 94 · #1046 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih
  94. 94

    । আবুল আসওয়াদ আদ-দীলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মাদীনাতে এসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বসলাম। (আমাদের সামনে দিয়ে) লোকেরা একটি লাশ নিয়ে যাচ্ছিল। তারা তার ভালো গুণাবলীর প্রশংসা করছিল। উমার (রাঃ) বললেন, নির্ধারিত হয়ে গেল। তাকে আমি প্রশ্ন করলাম, কি নির্ধারিত হলো? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন আমি শুধু তাই বলেছি। তিনি বলেছেনঃ তিনজন লোকও যদি কোন মুসলিমের পক্ষে উত্তম সাক্ষী দেয় তাহলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায়। উমার (রাঃ) বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, দু’জন লোক যদি এমন সাক্ষী দেয়? তিনি বললেনঃ দু'জন লোক (সাক্ষী) দিলেও। উমার (রাঃ) বলেন, তারপর একজনের সাক্ষ্যের কথা আমরা প্রশ্ন করিনি। — সহীহ, আল আহকাম (৪৫), বুখারী আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবুল আসওয়াদের নাম যা-লিম, পিতা আমর এবং দাদা সুফিয়ান।

    Book 10 · Hadith 95 · #1047 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari
  95. 95

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির তিনটি শিশু সন্তান মারা গেলে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না; তবে শপথ ভঙ্গ করে থাকলে (স্পর্শ করবে)। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৬০৩) উমার, মুআয, কাব ইবনু মালিক, উতবা ইবনু আবদ, উম্মু সুলাইম, জাবির, আনাস, আবু যার, ইবনু মাসউদ, আবু সালাবা আল-আশজাঈ, ইবনু আব্বাস, উকবা ইবনু আমির, আবু সাঈদ এবং কুররা ইবনু ইয়াস আল-মুযানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই একটি মাত্র হাদীসই আবু সালাবা হতে বর্ণিত আছে। ইনি আবু সালাবা আল-খুশানী নন। আবু হুরাইরার হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 96 · #1048 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  96. 96

    আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান (আল্লাহ্ তা'আলার কাছে) পাঠিয়েছে, তারা তার জন্য (জাহান্নামের বিরুদ্ধে) সুরক্ষিত কেল্লা হবে। আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি দুটি সন্তান আগে পাঠিয়েছি। তিনি বললেনঃ দু'টি পাঠালেও। কুরআন বিশেষজ্ঞদের নেতা উবাই ইবনু কাব (রাঃ) বললেন, আমি একটি আগে পাঠিয়েছি? তিনি বললেনঃ একটি পাঠালেও। কিন্তু এটা শুধু তার জন্য যে প্রথম চোটেই সহিষ্ণুতা অবলম্বন করেছে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬০৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবূ উবাইদা (রহঃ) তার পিতার কাছে হাদীস শুনেননি।

    Book 10 · Hadith 97 · #1049 · Daif, Daif, Daif
  97. 97

    । ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যার দুটি মৃত সন্তান থাকবে, তাদের প্রতিদানে আল্লাহ তা'আলা তাকে জানাতে প্রবেশ করাবেন। আইশা (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনার উন্মাতের মধ্যে যার একটি মৃত সন্তান থাকবে? তিনি বললেনঃ হে কল্যাণময়ী। যার এমন একটি সন্তান থাকবে তাকেও। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, আপনার উম্মাতের মধ্যে যার কোন অগ্রগামী সন্তান নেই? তিনি বললেনঃ আমিই আমার উম্মাতের জন্য অগ্রগামী। কেননা আমার ইন্তেকালে তারা যে কষ্ট পাবে তেমন আর কারো ইন্তেকালে পাবে না। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (৩/৯৩), মিশকাত (১৭৩৫) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কেননা আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবদু রব্বিহি ইবনু বারিকের সূত্রেই জেনেছি। একাধিক মুহাদ্দিস তার নিকট হতে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ইবনু সাঈদ-হাব্বান ইবনু হিলাল হতে তিনি আবদে রব্বিহির সূত্রে উপরের হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। সিমাক ইবনুল ওয়ালীদ, তিনি হলেন আবূ যুমাইল হানাফী।

    Book 10 · Hadith 98 · #1050 · Daif, Daif, Isnaad Hasan
  98. 98

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকারেরঃ মহামারীর কারণে যে লোক মারা যায়, যে পেটের অসুখের কারণে মারা যায়, পানিতে ডুবে যে লোক মারা যায়, চাপা পড়ে যে লোক মারা যায় এবং যে লোক আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় (যুদ্ধক্ষেত্রে) শহীদ হয়। — সহীহ, আল আহকাম (৩৮) বুখারী, মুসলিম আনাস, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া, জাবির ইবনু আতীক, খালিদ ইবনু উরফুতা, সুলাইমান ইবনু সুরাদ, আবু মূসা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ আন অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 99 · #1051 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  99. 99

    । আবু ইসহাক আস-সাবীঈ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খালিদ ইবনু উরফুতা (রাঃ)-কে সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) অথবা সুলাইমান (রাঃ)-কে খালিদ (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে শুনেছেনঃ "যে লোককে পেটের পীড়া মৃত্যু দিয়েছে কবরে সে লোককে কোন রকম শাস্তি দেয়া হবে না"। তাদের একজন অন্যজনকে বললেন, হ্যাঁ। - সহীহ, আল আহকাম (৩৮) আবু ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। অন্য সূত্রেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

    Book 10 · Hadith 100 · #1052 · Sahih, Sahih, Sahih
  100. 100

    । উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মহামারী প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করলেন এবং বললেনঃ যে গযব বা শাস্তি বনী ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর উপর এসেছিলো, তার বাকী অংশই হচ্ছে মহামারী। অতএব, কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা হতে চলে এসো না। অপরদিকে কোন এলাকায় এটা দেখাদিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গাতে যেও না। – সহীহঃ বুখারী, মুসলিম সা'দ, খুযাইমা ইবনু সাবিত, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, জাবির ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উসামা ইবনু যাইদের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 101 · #1053 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  101. 101

    । উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাত লাভ করা পছন্দ করে, তার সাথে সাক্ষাত করতে আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন। আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করতে যে লোক পছন্দ করে না, তার সাথে সাক্ষাত করতে আল্লাহ্ তা'আলাও পছন্দ করেন না। - সহীহ, বুখারি, মুসলিম। আবু মূসা, আবু হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা ইবনুস সা-মিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 102 · #1054 · Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  102. 102

    । আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করতে যে লোক পছন্দ করে তার সাথে সাক্ষাত করতে আল্লাহ্ তা'আলাও পছন্দ করেন। আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করতে যে লোক পছন্দ করে না, তার সাথে সাক্ষ করাকে আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন না। আইশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত্যুকে তো আমরা সবাই অপছন্দ করি। তিনি বললেনঃ এর অর্থ তা নয়, বরং যখন আল্লাহ্ তা'আলার রহমত, তার সন্তোষ ও তার জান্নাতের সুসংবাদ কোন মু'মিন লোককে দেয়া হয় তখন সে লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে ইচ্ছা করে এবং তার সাথে সাক্ষাত করাকে আল্লাহ তা'আলাও পছন্দ করেন। অপরপক্ষে যখন কাফির লোককে আল্লাহর নির্ধারিত আযাব ও তার গযবের দুঃসংবাদ দেয়া হয় তখন আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাত করাকে সে লোক পছন্দ করে না এবং তার সাথে সাক্ষাত করাকে আল্লাহ্ তা'আলাও পছন্দ করেন না। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২৬৪), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 103 · #1055 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim
  103. 103

    । জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন এক লোক আত্মহত্যা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায় করেননি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৫২৬), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আলিমদের মাঝে আত্মহত্যাকারীর জানাযা আদায়ের ব্যাপারে মতের অমিল আছে। একদল আলিম বলেন, কিবলার দিকে ফিরে যেসব লোক নামায আদায় করে তাদের ও আত্মহত্যাকারীর জানাযা আদায় করা হবে। এই মতের প্রবক্তা হচ্ছেন সুফিয়ান সাওরী ও ইসহাক (রহঃ)। ইমাম আহমাদ বলেন, আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামায ইমাম সাহেব আদায় করবেন না, তবে অন্যান্য লোকেরা তা আদায় করবে।

    Book 10 · Hadith 104 · #1056 · Sahih, Sahih, Sahih Muslim
  104. 104

    । আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, কোন এক মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানাযার উদ্দেশ্যে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তোমাদের সার্থীর জানাযা আদায় কর; কেননা, তার ঋণ(অপরিশোধিত অবস্থায়) আছে। আবু কাতাদা (রাঃ) বললেন, তার দেনা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তা পরিশোধ করে দেবে তো? তিনি বললেন, অবশ্যই পরিশোধ করব। তারপর তিনি সে ব্যক্তির জানাযার নামায আদায় করলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪০৭),বুখারী, মুসলিম জাবির, সালামা ইবনুল আকওয়া ও আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ কাতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 105 · #1057 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih
  105. 105

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হলে তিনি প্রশ্ন করতেন, তার ঋণ পরিশোধ করার মত কোন কিছু রেখে গেছে কি এ ব্যক্তি? সে লোক ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে বলা হলে তবে তিনি তার জানাযার নামায আদায় করতেন। অন্যথায় তিনি মুসলিমদের বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জানাযার নামায তোমরা আদায় কর। তারপর তাকে আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য বিজয় দিলে তিনি দাড়িয়ে বললেনঃ মু'মিনদের জন্য তাদের নিজেদের চাইতেও আমি বেশি কল্যাণকামী। অতএব, মুমিনদের মাঝে কোন লোক যদি ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা যায় তবে তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর ধন-সম্পদ রেখে যে ব্যক্তি মারা যায় তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪১৫), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের মতই লাইস ইবনু সাদের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

    Book 10 · Hadith 106 · #1058 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  106. 106

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত লোককে বা তোমাদের কাউকে যখন কবরের মধ্যে রাখা হয় তখন কালো বর্ণের এবং নীল চোখ বিশিষ্ট দু'জন ফেরেশতা আসেন তার নিকট। তাদের মধ্যে একজনকে মুনকার এবং অন্যজনকে নাকীর বলা হয়। তারা উভয়ে (মৃত ব্যক্তিকে) প্রশ্ন করেনঃ তুমি এ ব্যক্তির (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রসঙ্গে কি বলতে? মৃত ব্যক্তিটি (যদি মুমিন হয় তাহলে) পূর্বে যা বলত তাই বলবেঃ তিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল। তারা উভয়ে তখন বলবেন, আমরা তো জানতাম তুমি একথাই বলবে। তারপর সে ব্যক্তির কবর দৈর্ঘ্য-প্রস্থে সত্তর গজ করে প্রশস্ত করা হবে এবং তার জন্য এখানে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। তারপর সে লোককে বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে থাক। তখন সে বলবে, আমার পরিবার-পরিজনকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আমি তাদের নিকট ফিরে যেতে চাই। তারা উভয়ে বলবেন, বাসর ঘরের বরের মত তুমি এখানে এমন গভীর ঘুম দাও, যাকে তার পরিবারের সবচাইতে প্রিয়জন ব্যাতিত আর কোন ব্যাক্তি জাগিয়ে তুলতে পারে না। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে তার বিছানা হতে জাগিয়ে তুলবেন। মৃত লোকটি যদি মুনাফিক হয় তাহলে (প্রশ্নের উত্তরে) বলবে, তার প্রসঙ্গে লোকেরা একটা কথা বলত আমিও তাই বলতাম। এর বেশি কিছুই আমি জানি না। ফেরেশতা দু'জন তখন বলবেন, আমরা জানতাম, এ কথাই তুমি বলবে। তারপর যমীনকে বলা হবে, একে চাপ দাও। সে লোককে এমন শক্ত করে যমীন চাপা দেবে যে, তার পাজরের হাড়গুলো পরস্পরের মাঝে ঢুকে পরবে। (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তাকে তার এ বিছানা হতে উঠানো পর্যন্ত সে লোক এভাবেই আযাব পেতে থাকবে। — হাসান, মিশকাত (১৩০), সহীহাহ (১৩৯১) আলী, জাইদ ইবনু সাবিত, ইবনু আব্বাস, বারাআ ইবনু আজিব, আবু আইয়ুব, আনাস, জাবির, আইশা ও আবু সাঈদ (রাঃ) সকলেই এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কবরের শাস্তি সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 107 · #1059 · Hasan, Hasan, Isnaad Hasan
  107. 107

    । ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক মারা গেলে তার সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় তার (আখিরাতের) বাসস্থান তুলে ধরা হয়। সে লোক জান্নাতে বসবাসকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে জান্নাতের জায়গা দেখানো হয়। আর যদি সে লোক জাহান্নাম বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তাকে জাহান্নামীদের জায়গা দেখানো হয়। তারপর বলা হয়, তোমার থাকার জায়গা এটাই। তোমাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা এখানে পাঠাবেন। — সহীহ, বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।

    Book 10 · Hadith 108 · #1060 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon
  108. 108

    । আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, তাকেও দুর্দশাগ্রস্তের সমান বদলা দেয়া হয়। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৬০২) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু আলী ইবনু আসিমের সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি মারফু হিসেবে জেনেছি। কিছু রাবী মুহাম্মাদ ইবনু সূকার সূত্রে এটা মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসেবে নয়। কথিত আছে যে, আলী ইবনু আসিম এই হাদীসের জন্যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। মুহাদ্দিসগণ তাকে দোষারোপ করেছেন।

    Book 10 · Hadith 109 · #1061 · Daif, Daif, Daif
  109. 109

    । আদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুমুআর দিনে অথবা জুমুআর রাতে কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে কবরের ফিতনা হতে আল্লাহ তাকে রক্ষা করেন। — হাসান, মিশকাত (১৩৬৭), আল আহকাম (৩৫) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এর সনদ পরস্পর সংযুক্ত নয়। কেননা আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর নিকট হতে রাবীআ ইবনু সাইফ সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে কোন হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মূলতঃ তিনি আবদুর রাহমান আল-হুবুল্লীর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে হাদীস বর্ণনা করেন।

    Book 10 · Hadith 110 · #1062 · Hasan, Hasan, Hasan
  110. 110

    । আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ হে আলী। তিনটি কাজে দেরি করবে না। নামায- যখন ওয়াক্ত হয়ে যায়; জানাযা— যখন উপস্থিত হয় এবং বিধবা-যখন তার যোগ্য পাত্র পাওয়া যায়। যঈফ,মিশকাত (১৪৮৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গরীব। আমরা এর সনদ পরস্পরসংযুক্ত আছে বলে মনে করি না।

    Book 10 · Hadith 111 · #1063 · Daif, Daif, Hasan
  111. 111

    । আবূ বারযা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সন্তানহারা মহিলাকে সমবেদনা জানায় তাকে জান্নাতে একটি কারুকার্য খচিত চাঁদর পরিয়ে দেয়া হবে। যঈফ, মিশকাত (১৭৩৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব এবং এর সনদ মজবুত নয়।

    Book 10 · Hadith 112 · #1064 · Daif, Daif, Daif
  112. 112

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাযা আদায়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং প্রথম তাকবীরেই শুধু হাত দুটোকে উঠালেন (রাফউল ইয়াদাইন করলেন)। ডান হাতকে তিনি বাম হাতের উপর রাখলেন। – হাসান, আল আহকাম (১১৫, ১১৬) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই আমরা জেনেছি। আলিমগণের মাঝে জানাযায় কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠানো প্রসঙ্গে মতের অমিল রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মতে, জানাযায় প্রতি তাকবীরেই হাত দুটোকে উঠাতে হবে। এরকম মত ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম তা শুধুমাত্র প্রথম তাকবীরের সময়ই করতে হবে বলেছেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের। ইবনুল মুবারাক বলেন, জানাযায় ডান হাত দিয়ে বাম হাতকে ধরবে না (দুই হাতই ঝুলিয়ে রাখবে)। অপর একদল আলিম বলেছেন, অন্যসব নামাযের অনুরূপ জানাযাতেও ডান হাত দিয়ে বাম হাতকে ধরবে। আবু ঈসা ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরাকেই উত্তম মনে করেছেন।

    Book 10 · Hadith 113 · #1065 · Hasan, Hasan, Daif
  113. 113

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির রূহ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার ঋণের সাথে বন্ধক অবস্থায় থাকে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ

    Book 10 · Hadith 114 · #1066 · Sahih, Sahih, Hasan
  114. 114

    । আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু'মিন ব্যক্তির রূহ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার ঋণের সাথে বন্ধক থাকে। — সহীহ, পূর্বের হাদীসের কারণে এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। পূর্বোক্ত হাদীসের তুলনায় এটা বেশি সহীহ।

    Book 10 · Hadith 115 · #1067 · Sahih Lighairihi, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan
সব বিষয় · Jami At Tirmidhi