The Book on Hajj
- 1
। আবু শুরাইহু আল-আদাওবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন মাদীনার গভর্নর আমর ইবনু সাঈদ (আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরের বিরুদ্ধে) মক্কাতে সৈন্যবাহিনী পাঠাচ্ছিলেন তখন তিনি (আবু শুরাইহ) তাকে বললেনঃ হে আমীর! আপনি আমাকে অনুমতি দিন একটি হাদীস বর্ণনা করার। মক্কা বিজয়ের পরদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদীসটি বলেছিলেন। তখন তা আমার কর্ণদ্বয় শুনেছিল, আমার হৃদয় তা সংরক্ষণ করেছিল এবং আমার চক্ষুদ্বয় তা প্রত্যক্ষ করেছিল। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন, তারপর বললেনঃ মক্কাকে আল্লাহ্ তা'আলা “হারাম” ঘোষণা করেছেন, তাকে কোন মানুষ “হারাম" করেনি। অতএব, আল্লাহ্ তা'আলা ও আখিরাতের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে এখানে সে লোকের জন্য রক্তপাত করা বা এখানকার কোন বৃক্ষ কাটা বৈধ নয়। যদি কোন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এখানে (মক্কা বিজয়কালে) যুদ্ধ করার অজুহাত তুলে এখানে কোনরকম যুদ্ধাভিযান চালানোর সুযোগ খোঁজ করে তাহলে তোমরা সে লোককে বলে দিবে, আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে অনুমতি দিয়েছেন কেবল তার রাসূলকেই, এর অনুমতি তোমাকে দেননি। শুধু দিনের কিছু সময়ের জন্য তিনি আমাকেও এর অনুমতি দিয়েছিলেন। যেমনি গতকাল তা হারাম ছিল তেমনিভাবে আজও সেটা হারাম। তোমাদের উপস্থিত লোক যেন (একথা) অনুপস্থিত লোকের কাছে পৌছে দেয়। - সহীহ বুখারী, মুসলিম আবু শুরাইহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, তখন আমর ইবনু সাঈদ আপনাকে কি বলেছিল? তিনি বললেন, সে বলেছিল, হে আবূ শুরাইহ! আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে আপনার চেয়ে বেশি অবগত। কোন পাপী, পলাতক খুনী ও পলাতক অপরাধীকে হারাম শারীফ আশ্রয় দেয় না। আবু ঈসা বলেন, ওয়ালা ফাররান বিখারবাতিন -এর স্থল ওয়ালা ফাররান-ও বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ শুরাইহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ শুরাইহ আল-খুযাঈর মূল নাম খুওয়াইলিদ ইবনু আমর আল-আদাওবী আল-কা'বী। ওয়ালা ফাররান বিখারবাতিন -এর অর্থ 'অপরাধী’। বাক্যটির অর্থ হল, কোন লোক কোন ফৌজদারী অপরাধ করে অথবা খুন করে হারাম শারীফে আশ্রয় নিলে সে লোকের উপর হাদ্দ (নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর হবে।
Book 9 · Hadith 1 · #802 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 2
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হাজ্জ ও উমরা পরপর একত্রে আদায় কর। কেননা, এ হাজ্জ ও উমরা দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা যেমনভাবে হাপরের আগুনে দূর হয়। একটি কুবুল হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়। - হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৮৭) উম্মু সালামা ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
Book 9 · Hadith 2 · #803 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 3
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি হজ্জ করে এবং তাতে কোন রকম অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ না করে তাহলে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। — সহীহ হাজ্জাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃঃ ৫), বুখারি, মুসলিম আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবু হাযিম আল-কূফীই হলেন আল-আশজাঈ, তার নাম সালমান। তিনি আযযা আল-আশজাঈয়ার আযাদকৃত গোলাম ছিলেন।
Book 9 · Hadith 3 · #804 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 4
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার ঘর পর্যন্ত পৌছার মত সম্বল ও বাহনের অধিকারী হওয়ার পরও যদি হাজ্জ না করে তবে সে ইয়াহুদী হয়ে মারা যাক বা নাসারা হয়ে মারা যাক তাতে (আল্লাহ তা'আলার) কোন ভাবনা নেই। কারণ আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে বলেনঃ “মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাবার সামর্থ্য আছে, আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশে ঐ ঘরের হাজ করা তার অবশ্য কর্তব্য”। (সূরাঃ আল-ইমরান - ৯৭)। যঈফ, মিশকাত (২৫২১)। তা’লীকুর রাগীব (২/১৩৪) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ব্যতীত এটি প্রসঙ্গে আমরা কিছু জানি না। এটির সনদ প্রসঙ্গে সমালোচনা আছে। হিলাল ইবনু আবদুল্লাহ অপরিচিত লোক এবং হারিসকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলা হয়েছে।
Book 9 · Hadith 4 · #805 · Daif, Daif, Daif, Daif - 5
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে হাজ্জ ওয়াজিব হয়? তিনি বললেনঃ সম্বল ও বাহন (থাকলে)। খুবই দুর্বল, ইবনু মাজাহ (২৮৯৬) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এই হাদীসের আলোকে বলেন, কোন ব্যক্তি সম্বল ও বাহন সংগ্রহে সক্ষম হলেই তার উপর হাজ্জ ফরয হয়। ইবরাহীম ইবনু ইয়াযীদ আল-খুওয়ী আল-মক্কীর স্মৃতিশক্তি প্রশ্নবিদ্ধ।
Book 9 · Hadith 5 · #806 · Very Daif, Very Daif, Daif - 6
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ মানুষের মধ্যে যার সেখানে গমনের ক্ষমতা আছে আল্লাহ তা'আলার স্মরণে ঐ ঘরের হাজ্জ করা তার অপরিহার্যভাবে করণীয়, তখন সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি?” তিনি নীরব হয়ে রইলেন। তারা আবার বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি? তিনি বললেনঃ না। আমি যদি বলতাম হ্যাঁ, তবে তোমাদের উপর তা (প্রতি বছর) ফরয হয়ে যেত। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন কর না যা জাহির হলে তোমরা দুঃখিত হবে।" (সূরাঃমাইদা -১০১) যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৮৮৪) এই অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আলী বর্ণিত হাদীসটি হাসান গারীব। আবূল বাখতারীর নাম সাঈদ ইবনু আবূ ইমরান। ইনি হলেন সাঈদ ইবনু ফাইরোয।
Book 9 · Hadith 6 · #807 · Daif, Daif, Daif - 7
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ করেছেন তিনবারঃ দু’বার হিজরাতের আগে এবং এক বার হিজরাতের পর। তিনি এই (শেষোক্ত) হাজের সাথে উমরাও করেছেন। তিনি তেষট্টিটি কুরবানীর উট এনেছিলেন এবং ইয়ামান হতে আলী (রাঃ) অবশিষ্ট (৩৭টি) উটগুলি এনেছিলেন। আবু জাহালের একটি উটও ছিল এই উটগুলির মধ্যে। একটি রূপার শিকল এর নাসারন্ত্রে (নাকের ছিদ্রে) পরানো ছিল। তিনি এটাকেও যবেহ করেছিলেন। প্রতিটি কুরবানীর উট হতে এক টুকরো করে গোশত আনার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন। এগুলো রান্না করা হলে তিনি এর শুরুয়া (ঝোল) পান করেন। - সহীহ, হাজ্জাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (৬৭-৮৩), মুসলিম, হিজরাতের পূর্বে ২ হাজ্জ এবং আবু জাহল এই ব্যাক্যাংশ ছাড়া। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। শুধুমাত্র যাইদ ইবনু ইবাবের সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জানতে পেরেছি। আব্দুল্লাহ ইবনু বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস সম্বন্ধে আমি মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে প্রশ্ন করলাম। কিন্তু এই হাদীস উপরোক্ত সনদে বর্ণিত আছে বলে তিনি জানতে পারেননি। আমি দেখেছি এই হাদীসটিকে তিনি সংরক্ষিত বলে গণ্য করতেন না। তিনি বলেন, এটি সাওরী-আবূ ইসহাক-মুজাহিদের সনদে মুরসালভাবে বর্ণিত আছে। ৮১৫/২। কাতাদা (রাহঃ) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হাজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হাজ্জ এবং চারবার উমরা করেছেন। যিলকাদ মাসে একটি উমরা, হুদাইবিয়ার উমরা, হাজ্জের সাথে একটি এবং হুনাইন যুদ্ধের গানীমাত বন্টনকালে জিরানা হতে একটি উমরা। — সহীহ বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাব্বান ইবনু হিলাল (আবু হাবীব আল-বাসরী) একজন মর্যাদাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তাকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে মন্তব্য করেছেন।
Book 9 · Hadith 7 · #808 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 8
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা করেছেনঃ হুদাইবিয়ার উমরা, দ্বিতীয় উমরা এর পরের বছর, যিলকাদ মাসে কাযা উমরা হিসেবে ছিলো এটি, জিরানা নামক জায়গা হতে হচ্ছে তৃতীয় উমরা এবং তার হাজের সাথে আদায় করেন চতুর্থ উমরা। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০০৩) আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীসটি ইবনু উআইনা আমর ইবনু দীনার-ইকরিমার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা করেছেন। তিনি এই সনদে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। উক্ত সনদটি নিম্নরূপঃ সাঈদ ইবনু আব্দুর রহমান আল-মাখযুমী সুফিয়ান ইবনু উআইনা হতে, তিনি আমর ইবনু দিনার হতে, তিনি ইকরিমা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
Book 9 · Hadith 9 · #809 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 9
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করতে মনস্থ করলেন তখন লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন। তারা একত্র হল। অতঃপর তিনি যখন বাইদা নামক জায়গায় পৌছলেন তখন ইহরাম বাধলেন। — সহীহ, হাজ্জাতুন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (৪৫/২) ইবনু উমার, আনাস ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 10 · #810 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 10
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তারা বাইদা নামক জায়গাকে কেন্দ্র করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জড়িয়ে (ইহরাম প্রসঙ্গে) মিথ্যারোপ করছে। আল্লাহর শপথ! মসজিদের নিকটেই একটি গাছের পাশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামের তাকবীর ধ্বনি করেছিলেন। - সহীহ বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 11 · #811 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 11
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর ইহরামের তাকবীর উচ্চারণ করেছেন। (য’ঈফ, য’ঈফ আবূ দাউদ ৩১২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুস সালাম ইবনু হারব ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। (ইহরামের) নামাযের পর ইহরাম বাধা আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন।
Book 9 · Hadith 12 · #812 · Daif, Daif, Daif - 12
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ করেছেন। (শাজ, ইবনু মাযাহ ২৯৬৪, বুখারী ও মুসলিম) এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইবনু উমার (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল আলিম এ হাদীস মুতাবিক 'আমল করার কথা বলেছেন। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছেঃ রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ করেছেন এবং আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ)-ও ইফরাদ হাজ করেছেন। (সনদ সহীহ, কিন্তু তা শাজ, দেখুন পরবর্তী হাদীস বিশেষ করে ৮২৩ নং হাদীস)
Book 9 · Hadith 13 · #813 · Shadh, Hasan Isnaad, Hasan Sahih, Sahih - 13
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি উমরা ও হাজ্জ উভয়ের একত্রে ইহরাম বেঁধে লাব্বায়িক বলতে শুনেছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৬৮, ২৯৬৯) উমার ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী কতিপয় আলিম আমল করেছেন। এই মতকে পছন্দ করেছেন কুফাবাসী ফকীহগণ ও অপরাপর আলিম।
Book 9 · Hadith 14 · #814 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 14
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ) তামাত্তু হাজ্জ করেছেন। মুআবিয়া (রাঃ)-ই সর্বপ্রথম তা করতে নিষেধ করেন। - সনদ দুর্বল
Book 9 · Hadith 15 · #815 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 15
। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু নাওফাল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি হাজের সাথে উমরা একত্র করে তামাত্তু হাজ প্রসঙ্গে সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস ও যাহহাক ইবনু কাইস (রাঃ)-কে আলোচনা করতে শুনেছেন। যাহহাক ইবনু কাইস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ প্রসঙ্গে জ্ঞানহীন ব্যক্তি ছাড়া কেউ এটা করতে পারে না। সা'দ (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা! তুমি বড় অপ্রীতিকর কথা বললে। যাহহাক বললেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তো এটা করতে মানা করেছেন। সা'দ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেছেন এবং আমরাও তার সাথে তা করেছি। - সনদ দুর্বল ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ এই হাদীসটি সহীহ।
Book 9 · Hadith 16 · #816 · Daif Isnaad, Sahih Isnaad, Sahih, Isnaad Hasan - 16
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নরূপ তালবিয়া পাঠ করতেনঃ “আমি হাযির, হে আল্লাহ! আমি হাযির; তোমার কোন শরীক নেই, আমি হাযির; সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামাত তোমারই, সমস্ত বিশ্বের রাজত্ব তোমারই; তোমার কোন শরীক নেই।” – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯১৮), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ, জাবির, আইশা, ইবনু আব্বাস ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি আরও বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করার কথা বলেছেন। এই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, কোন লোক যদি আল্লাহ তা'আলার মহত্ব ব্যঞ্জক কোন শব্দ নিজের পক্ষ নেই। কিন্তু আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাঠকৃত তালবিয়াতে সন্তুষ্ট থাকাই বেশি প্রিয়। ইমাম শাফিঈ বলেন, “তালবিয়ার মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলার মহত্ব ব্যঞ্জক কোন শব্দ যুক্ত করাতে কোন সমস্যা নেই” ইবনু উমার (রাঃ)-এর এই রিওয়ায়াতটি হল আমার এই কথার দলীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তিনি তালবিয়ার শব্দ সংরক্ষণ করেছেন। এরপরও তিনি এতে নিজের পক্ষ হতে বাড়িয়েছেন (নিম্নের হাদীস)।
Book 9 · Hadith 18 · #817 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 17
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইহরাম বাঁধার সময় তিনি উচ্চস্বরে বলতেনঃ “লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলকা, লা-শারীকা লাকা” বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলতেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালবিয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালবিয়ার সাথে নিজের পক্ষ হতে তিনি এটুকু অংশ বাড়িয়ে পাঠ করতেনঃ লাব্বাইকা, লাব্বাইকা ও সা’দাইকা ওয়াল খাইরু কী ইয়াদাইকা, লাব্বাইকা ওয়ার রাগবা-উ ইলাইকা ওয়াল আমলু। আমি হাযির, আমি হাযির, আমি ভাগ্যবান, সকল প্রকার কল্যাণ তোমারই হাতে, আমি হাযির, সকল প্রকার আশা-আকাংক্ষা তোমার প্রতিই, আমলও তোমার (সন্তুষ্টির) জন্যই”। — সহীহ, প্রাগুক্ত, বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 19 · #818 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 18
। আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, কোন প্রকার হাজ্জ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেনঃ চিৎকার করা (উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ) ও রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী দেওয়া)। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ
Book 9 · Hadith 20 · #819 · Sahih, Sahih, Daif - 19
। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডান ও বামে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি সবকিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে। এমনকি পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্ত পর্যন্ত (তালবিয়া পাঠকারীদের দ্বারা) পূর্ণ হয়ে যায়। — সহীহ, মিশকাত (২৫৫০) ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশের হাদীসের ন্যায় উবাইদ ইবনু হুমাইদের বরাতে সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে। ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবু বাকরের হাদীসটিকে গরীব বলেছেন। তিনি বলেন, ইবনু আবু ফুদাইক-দাহহাক ইবনু উসমানের সূত্র ব্যতীত এটি বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। আর আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ারবুর নিকট হতে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির কোন হাদীস শুনেননি। বরং অন্য একটি হাদীস তিনি সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ারবুর মাধ্যমে তার পিতার সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। আবু নুআইম আত-তাহহান-যিরার ইবনু সুরাদ এই হাদীসটিকে ইবনু আবূ ফুদাইক যাহহাক ইবনু উসমান হতে, তিনি মোহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি সাইদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু ইয়ারবু হতে, তিনি তার পিতার সূত্রে-আবু বাকর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু যিরার তার বর্ণনায় ভুল করেছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ) বলেছেন, বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির-ইবনু আব্দুর রহামান ইবনু ইয়ারবু হতে, তিনি তার পিতা হতে যিনি হাদীসটির সূত্র এইভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি ভুল করেছেন। আবু ঈসা বলেন, আমি যিরার ইবনু সুরাদ আবু ফুদাইকের সুত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি মুহাম্মাদ আল-বুখারীর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, এটি ভুল। আমি বললাম, ইবনু আবূ ফুদাইক হতে যিরার ছাড়াও অন্যান্য বর্ণনাকারী এরকমই বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, এগুলো কিছু নয়। এরা ইবনু আবূ ফুদাইক হতে বর্ণনা করেছেন অথচ এতে সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমানের নাম উল্লেখ করেননি। যিরার ইবনু সুরাদকে ইমাম বুখারী দুর্বল বর্ণনাকারী সাব্যস্ত করেছেন। আল-আজ্জ' অর্থ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং “আস-সাজ্জ” অর্থ পশু কুরবানী করা।
Book 9 · Hadith 21 · #820 · Sahih, Sahih, Isnaad Hasan - 20
। খাল্লাদ ইবনুস সাইব (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে বলেন যে, আমার সাহাবীদেরকে যেন আমি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ প্রদান করি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯২২) যাইদ ইবনু খালিদ, আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। খাল্লাদ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটিকে কেউ কেউ খাল্লাদ ইবনু সাইব হতে, তিনি যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটি সহীহ্ নয়। খাল্লাদ ইবনুস সাইব তার পিতার সূত্রে এই বর্ণনাটিই সঠিক।
Book 9 · Hadith 22 · #821 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 21
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনি ইহরামের উদ্দেশ্যে (সেলাই করা) পোশাক খুলতে ও গোসল করতে দেখেছেন। — সহীহ তা’লীকাতুল জিয়াদ, মিশকাত তাহকীক ছানী, আল হাজ্জ্বল কাবীর (২৫৪৭) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। ইহরাম বাধার পূর্বে গোসল করাকে একদল আলিম মুস্তাহাব বলেছেন। এই মত ইমাম শাফিঈর।
Book 9 · Hadith 23 · #822 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 22
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! কোথা হতে আমরা ইহরাম বাধব? তিনি বললেনঃ যুল-হুলাইফা হতে মাদীনাবাসীগণ, জুহফা হতে সিরিয়াবাসীগণ, কারন হতে নাজদবাসীগণ এবং ইয়ালামলাম হতে ইয়ামানবাসীগণ ইহরাম বাঁধবে। -সহীহ ইবনু মা-জাহ (২৯১৪) বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী অলিমগণ আমল করতে বলেছেন।
Book 9 · Hadith 24 · #823 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 23
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ব এলাকার লোকদের জন্য আকীক নামক জায়গাকে মীকাত হিসেবে স্থির করেছেন। মুনকার; ইরওয়া (১০০২), যঈফ আবূ দাউদ (৩০৬), সহীহ হল যাতু ইরক। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইনি হলেন আবূ জাফর।
Book 9 · Hadith 25 · #824 · Munkar, Daif, Daif - 24
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে ইহরাম অবস্থায় আপনি কি ধরণের পোশাক পরার নির্দেশ দেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জামা, পাজামা, টুপি, পাগড়ী ও মোজা পরবে না। তবে কোন লোকের জুতা না থাকলে সে লোক চামড়ার মোজা পরবে যা পায়ের গোছার নিচে থাকে। যাফরান ও ওয়ারাস রং-এ রং করা কোন-পোশাক তোমরা পরবে না। ইহরামধারী মহিলারা মুখ ঢাকবে না এবং হাতে দস্তানা (হাত মোজা) পরবে না। — সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ (১৬০০-১৩০৬), আল হাজ্জ্বল কাবীর, বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন।
Book 9 · Hadith 26 · #825 · Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 25
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ ইহরামধারী ব্যক্তি লুঙ্গি যোগাড় করতে না পারলে সে পাজামাই পরবে এবং জুতা জোগাড় করতে না পারলে মোজা পরবে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৩১), বুখারী, মুসলিম। ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, ইহরামধারী ব্যক্তি (সেলাইবিহীন) লুঙ্গি জোগাড় করতে না পারলে পাজামাই পরবে এবং জুতা জোগাড় করতে না পারলে মোজা পরবে। এটা আহমাদ (রাহঃ)-এর মন্তব্য। ইবনু উমার (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী অপর একদল আলিম বলেন, জুতা না পেলে সে মোজার উপরিভাগ পায়ের গোড়ালি নিন্মভাগ বরাবর কেটে পরতে পারবে। এই মত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ ও মালিক (রাহঃ) এর।
Book 9 · Hadith 27 · #826 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 26
। ইয়ালা ইবনু উমাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক বেদুইনকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় জুব্বা পরিহিত দেখলেন। তিনি তাকে তা খুলার নির্দেশ দিলেন। - সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ১৫৯৬, ১৫৯৯, বুখারি, মুসলিম পূর্ণরূপে।
Book 9 · Hadith 28 · #827 · Sahih, Sahih, Sahih - 27
। ইবনু আবী উমার সুফিয়ান হতে, তিনি আমর ইবনু দিনার হতে, তিনি আতা হতে, তিনি সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা হতে এই সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বক্তব্যসম্বলিত হাদিস ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এই শেষাক্ত সুত্রে বর্ণিত হাদিসটিকে অধিক সহিহ বলেছেন। এ হাদিসের পটভূমিতে একটি ঘটনাও আছে। আতা-ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) এর সূত্রে কাতাদা-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত প্রমুখ এইরূপই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমর ইবনু দীনার ও ইবনু জুরাইজ-আতা হতে, তিনি সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা হতে তিনি তার পিতা ইয়ালা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা বর্ণনা করেছেন তাই সঠিক।
Book 9 · Hadith 29 · #828 · Sahih, Sahih - Agreed Upon - 28
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হারাম শারীফের ভিতরেও পাঁচটি অনিষ্টকারী প্রাণীকে মারা যায়ঃ ইদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল ও হিংস্র কুকুর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৮৭), মুসলিম ইবনু মাসউদ, ইবনু উমার, আবু হুরাইরা, আবু সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 30 · #829 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 29
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইহরামধারী ব্যক্তি আক্রমণকারী হিংস্র জীব, হিংস্ৰ কুকুর, ইদুর, বিছা, চিল ও কাক হত্যা করতে পারে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৮৯) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, ইহরামধারী ব্যাক্তি আক্রমণকারী হিংস্র জীব হত্যা করতে পারে। সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ এই অভিমত দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) আরও বলেন, যে কোন হিংস্র জীব, যদি তা মানুষ বা তার পশুর উপর আক্রমণ করে তবে সেটিকে ইহরামধারী ব্যক্তি হত্যা করতে পারে।
Book 9 · Hadith 31 · #830 · Daif, Daif, Daif - 30
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইহরাম পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮২), বুখারী। আনাস, আবদুল্লাহ ইবনু বুহাইনা ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইহরাম অবস্থায় রক্তক্ষরণ করানোর ব্যাপারে একদল আলিম অনুমতি প্রদান করেছেন। তারা বলেন, এ অবস্থায় চুল ফেলা যাবে না। ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেন, ইহরাম পরিহিত অবস্থায় প্রয়োজন ব্যতীত রক্তক্ষরণ করানো যাবে না। সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, ইহরাম পরিহিত ব্যক্তির রক্তক্ষরণ করানোতে কোন সমস্যা নেই, তবে চুল কাটা যাবে না।
Book 9 · Hadith 32 · #831 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 31
। নুবাইহ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু মামার তার (ইহরামধারী) ছেলেকে বিয়ে করাতে মনস্থ করলেন। তাই তিনি আমাকে আমীরুল হাজ্জ আবান ইবনু উসমানের নিকট পাঠালেন। তার নিকট এসে আমি বললাম, আপনার ভাই তার ছেলেকে বিয়ে করাতে চান। এই বিষয়ে তিনি আপনাকে সাক্ষী রাখতে চান। তিনি বললেন, আমি দেখছি সে তো এক মূৰ্খ বেদুঈন! ইহরামধারী ব্যক্তি না নিজে বিয়ে করতে পারে আর না অন্যকে বিয়ে করাতে পারে, অথবা এরকমই বলেছেন। নুবাইহ বলেন, এরপর তিনি হাদীসটিকে উসমান (রাঃ)-এর মারফতে মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৯৬৬), মুসলিম আবু রাফি ও মাইমূনা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী আমল করার কথা ব্যক্ত করেছেন। উমার ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনু আবু তালিব ও ইবনু উমার (রাঃ) তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। কিছু সংখ্যক তাবিঈ ফিকহবিদের বক্তব্যও তাই। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর মতও তাই অর্থাৎ ইহরাম পরিহিত অবস্থায় কোন লোক বিয়ে করতে পারে না। তারা বলেন, ইহরাম অবস্থায় কোন লোক বিয়ে করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
Book 9 · Hadith 33 · #832 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 32
। আবূ রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ইহরামমুক্ত অবস্থায় মায়মূনা (রাঃ)-কে বিয়ে করেন এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায়ই তার সাথে বিবাহরজনী যাপন করেন। আমি ছিলাম তাদের দু'জনের মধ্যকার দূত (ঘটক)। যঈফ, ইরওয়া (১৮৪৯), হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ যাহা ৮৮৭নংহাদীসের অংশ আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। হাম্মাদ ইবনু যাইদ-মাতার আল-ওয়াররাক হতে তিনি রাবীআ (রহঃ)-এর সূত্র ব্যতীত অন্য কেউ এটিকে মুসনাদ হিসেবে রিওয়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)-রাবীআ হতে তিনি সুলাইমান ইবনু ইয়াসারের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা (রাঃ)-কে হালাল (ইহরামমুক্ত) অবস্থায় বিয়ে করেছেন। মালিক এই রিওয়াত মুরসাল’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটিকে সুলাইমান ইবনু বিলালও রাবীআ হতে এটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ ইয়াযীদ ইবনু আসান্ম হতে মাইমূনাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালাল অবস্থায় আমাকে বিয়ে করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ ইয়াযীদ ইবনু আসাম্ম (রহঃ) মাইমূনাহ (রাযিঃ)-এর বোনের ছেলে।
Book 9 · Hadith 34 · #833 · Daif, Daif, Sahih - 33
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ইহরাম অবস্থায় মাইমূনাহ (রাযিঃ)-কে বিয়ে করেন। (শাজ, ইবনু মাযাহ ১৯৬৫, বুখারী ও মুসলিম) এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল আলিম এ হাদীস অনুসারে আমলের (ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করা বৈধ হওয়ার) অভিমত গ্রহণ করেছেন। সুফইয়ান সাওর ও কুফাবাসী আলিমদের অভিমতও অনুরূপ।
Book 9 · Hadith 35 · #834 · Shadh, Daif, Hasan Sahih, Sahih - 34
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ইহরাম অবস্থায় মাইমূনাহ (রাযিঃ)-কে বিয়ে করেছেন। (শাজ, দেখুন পূর্বের হাদীস)
Book 9 · Hadith 36 · #835 · Shadh, Shadh, Hasan Sahih, Sahih - 35
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ইহরাম অবস্থায় মাইমূনা (রাঃ)-কে বিয়ে করেছেন। শাজ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। রাবী আবূশ শা'সা-এর নাম জাবির ইবনু যাইদ। মাইমূনা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ইহরাম অবস্থায় না ইহরামমুক্ত অবস্থায় বিয়ে করেছেন, এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলিমগণের মাঝে মতদ্বৈততার কারণ এটা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মক্কার পথে বিয়ে করেছিলেন। তাই কেউ কেউ বলেন, তিনি মাইমূনা (রাঃ)-কে নিজের ইহরামমুক্ত অবস্থায়ই বিয়ে করেছেন। কিন্তু এই বিয়ের বিষয়টি তার ইহরাম বাধার পরে প্রকাশিত হয়। এরপর মক্কার পথে সারিফ’ নামক জায়গায় তিনি ইহরামমুক্ত অবস্থায় তার সাথে বিবাহরজনী যাপন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাইমূনা (রাঃ)-এর যেখানে বিবাহরজনী হয়েছিল পরবর্তীতে সেই সারিফ’ নামক জায়গাতেই তিনি (মাইমুনা) মারা যান এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
Book 9 · Hadith 37 · #836 · Sahih, Sahih - 36
। মাইমূনা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে বিয়ে করেন তিনি তরন ইহরামমুক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং একই অবস্থায় তিনি তার সাথে বাসর যাপন করেন। পরবর্তী কালে মাইমূনা (রাঃ) সারিফেই মারা যান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে যে ঝুপড়িতে (কুঁড়ে ঘরে) বাসর যাপন করেন আমরা তাকে সেই স্থানেই দাফন করি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৯৬৪), মুসলিম সংক্ষিপ্তভাবে এই হাদীসটিকে আবৃ ঈসা গরীব বলেছেন। ইয়াযীদ ইবনু আসান্ম হতে একাধিক বর্ণনাকারী এই হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন যে, হালাল অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা (রাঃ)-কে বিয়ে করেন।
Book 9 · Hadith 38 · #837 · Sahih, Sahih, Sahih - 37
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহরাম অবস্থায়ও স্থলভাগের শিকারকৃত প্রাণীর গোশত তোমাদের জন্য বৈধ, যদি না তোমরা নিজেরা তা শিকার করে থাক বা তোমাদের উদ্দেশে তা শিকার করা হয়। যঈফ, মিশকাত, তাহকীকৃ ছানী (২৭০০) এ অনুচ্ছেদে আবূ কাতাদা ও তালহা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি একটি বিস্তারিত বর্ণনা। মুত্তালিব জাবির (রাঃ)-এর হাদীস শুনেছেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। একদল আলিমের মতে যদি মুহরিম ব্যক্তি নিজে শিকার না করে বা তার উদ্দেশে শিকার না করা হয় তবে তার জন্য এর গোশত খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, এ অনুচ্ছেদে যতগুলো হাদীস বর্ণিত আছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে উত্তম এবং খুব বেশী যুক্তিসম্মত। এ হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এরও উক্ত অভিমত।
Book 9 · Hadith 39 · #838 · Daif, Daif, Daif - 38
। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (সফরে) ছিলেন। তিনি আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে পড়ে গেলেন। তার সঙ্গীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে মুহরিম ছিলেন না। তিনি একটি বন্য গাধা দেখলেন। তিনি সেই মুহূর্তে তার ঘোড়ায় উঠে বসলেন এবং তার চাবুকটি সঙ্গীদেরকে দিতে বললেন। কিন্তু তা দিতে তারা অস্বীকার করলেন। তিনি তার বর্শাটি চাইলে তাও দিতে তারা অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর তিনি নিজেই সেটাকে উঠিয়ে নেন এবং গাধাটিকে আক্রমণ করে মেরে ফেলেন। কিছু সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং সেটা খেতে কেউ কেউ অস্বীকার করলেন। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তারা মিলিত হয়ে তাকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বললেনঃ এটি এমন খাবার যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে খাইয়েছেন। - সহীহ, ইরওয়া (১০২৮), সহীহ আবূ দাউদ (১৬২৩),বুখারী, মুসলিম
Book 9 · Hadith 40 · #839 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 39
। আবুন নাযরের হাদীসের মতই আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীস বর্ণিত আছে। তবে এই রিওয়ায়াতে আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের নিকট এর গোশত অবশিষ্ট আছে কি? — সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 41 · #840 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 40
। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন এবং সাব ইবনু জাসসামা (রাঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে অবহিত করেছেন যে, আবওয়া বা ওয়াদদান নামক জায়গাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি একটা বন্য গাধা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপহার দিলেন। কিন্তু তাকে তিনি তা ফেরত দিলেন। তার চেহারাতে মালিন্যের ভাব দেখতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার এই উপহার ফিরিয়ে দিতাম না। কিন্তু আমরা যে এখন ইহরাম অবস্থায় আছি। সহীহ এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং অপরাপর আলিমগণ মুহরিমের জন্য শিকারের গোশত খাওয়া মাকরূহ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ফেরতদানের তাৎপর্য এই যে, তিনি অনুমান করেছিলেন যে, হয়ত তার উদ্দেশ্যেই এটিকে শিকার করা হয়েছে। তাই এটা হতে বাঁচতেই তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইমাম যুহরী (রাহঃ)-এর কিছু শাগরিদ তার হতে বর্ণনা করেন যে, বন্য গাধার গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপহার দেয়া হয়। কিন্তু এই রিওয়ায়াতটি সংরক্ষিত নয়। আলী ও যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 9 · Hadith 42 · #841 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 41
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ অথবা “উমরাহ" করতে বের হলাম। আমাদের সামনে এক ঝাক পঙ্গপাল এসে পড়ল। আমরা আমাদের চাবুক ও ছড়ি দিয়ে এগুলো মারতে শুরু করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা তোমরা খেতে পার। কারণ এটা জলজ শিকারের অন্তর্ভুক্ত। - যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩২২২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূল মুহাৰ্যযিম ব্যতীত এটিকে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূল মুহাযযিমের নাম ইয়ামীদ ইবনু সুফিয়ান। শুবা তার সমালোচনা করেছেন। একদল আলিম মুহরিমের জন্য পঙ্গপাল শিকার করা এবং তা খাওয়ার সম্মতি দিয়েছেন। অন্য একদল আলিম বলেছেন, তা শিকার করলে বা খেলে মুহরিমের উপর সাদাকা (দম) নির্ধারিত হবে।
Book 9 · Hadith 43 · #842 · Daif, Daif, Daif - 42
। ইবনু আবূ আম্মার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে আমি বললাম, হায়েনা কি শিকার (করার মত প্রাণী) তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, সেটা কি খেতে পারবো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৮৫) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি জারীর ইবনু হাযিম (রাহঃ) রিওয়ায়ত করেছেন এবং তিনি সনদের উল্লেখ করেছেন এভাবে “জাবির হতে তিনি উমার হতে”। কিন্তু ইবনু জুরাইজ (রাহঃ)-এর বর্ণনাটি বেশি সহীহ। এই মত ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। একদল আলিম মুহুরিমের ক্ষেত্রে বলেন, সে যদি হায়েনা শিকার করে তাহলে তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে।
Book 9 · Hadith 44 · #843 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 43
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা শরীফে যাওয়ার উদ্দেশে ফাখ নামক জায়গাতে গোসল করেন। - সনদ খুবই দুর্বল। ফাখ শব্দ উল্লেখ না করে বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ আবূ দাউদ (১২২৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। মক্কা মুকাররমায় যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতেন মর্মে বর্ণিত ইবনু উমার (রাঃ) হতে নাফি-এর হাদীসটি বেশী সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) মক্কায় যাওয়ার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব বলেছেন। রাবী আবদুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আহমাদ ইবনু হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ তাকে যঈফ বলেছেন। তার সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে এ হাদীসটি মারফুহিসেবে বর্ণিত হয়েছে কি-না তা আমাদের জানা নেই।
Book 9 · Hadith 45 · #844 · Very Daif Isnaad, Very Daif Isnaad, Daif, Daif - 44
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আগমন করলেন তখন এর উচ্চভূমি দিয়ে আসলেন এবং বের হলেন নিম্নভূমি দিয়ে। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬৩৩) বুখারী, মুসলিম ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 46 · #845 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 45
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের বেলা মক্কা নগরীতে আগমন করেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬২৯), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।
Book 9 · Hadith 47 · #846 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 46
। মুহাজির আল-মাক্কী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলঃ কোন ব্যক্তি বাইতুল্লাহ্ শরীফ দেখে তার উভয় হাত তুলবে কি-না। তিনি বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ করেছি, কিন্তু তখন কি আমরা তা করেছি? যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৩২৬), মিশকাত তাহকীক ছানী (২৫৭৪) আবূ ঈসা বলেন, বাইতুল্লাহ দেখে হাত তোলা বিষয়ের এই হাদীসটি শুবা হতে আবূ কাযাআর সূত্রেই আমরা জেনেছি। আবূ কাযাআর নাম সুওয়াইদ ইবনু হুজাইর।
Book 9 · Hadith 48 · #847 · Daif, Daif, Isnaad Hasan - 47
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মক্কায় পৌছার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন এবং হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন, তারপর ডান দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তিন বার তাওয়াফ করলেন দ্রুত পদক্ষেপে, আর স্বাভাবিক গতিতে তাওয়াফ করলেন চার বার। এরপর মাকামে ইবরাহীমে আসলেন এবং পাঠ করলেনঃ “মাকামে ইবরাহীমকে তোমরা নামাযের জায়গা হিসাবে গ্রহণ কর”(সূরাঃ বাকারা- ১২৫)। তিনি এখানে তার ও বাইতুল্লাহর মাঝে মাকামে ইবরাহীমকে রেখে দুই রাকাআত নামায আদায় করলেন, এরপর হাজরে আসওয়াদের নিকট এসে তা চুম্বন করলেন। এরপর তিনি বের হয়ে গেলেন সাফা পাহাড়ের দিকে (সাঈর উদ্দেশ্যে)। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার ধারণা তিনি তখন পাঠ করলেনঃ “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া (পাহাড়দুটি) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত"(সূরাঃ বাকারা- ১৫৮)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭৪), মুসলিম ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেন।
Book 9 · Hadith 49 · #848 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 48
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাজরে আসওয়াদ হতে শুরু করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন বার দ্রুত পদক্ষেপে তাওয়াফ করেন এবং ধীর পদক্ষেপে চারবার তাওয়াফ করেন। — সহীহ, প্রাগুক্ত ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, কোন লোক নিজ ইচ্ছায় দ্রুত পদে তাওয়াফ (রমল) ছেড়ে দিলে তার এই কাজটি মন্দ বলে বিবেচিত হবে, কিন্তু এইজন্য তার উপর কিছু ধার্য হবে না। প্রথম তিন চক্করে রমল না করলে বাকী চক্করসমূহে আর তা করবে না। একদল আলিম বলেছেন, মক্কাবাসী এবং যারা মক্কা হতে ইহরাম বাধেন তাদের জন্য রমল (দ্রুত পদে তাওয়াফ) নেই।
Book 9 · Hadith 50 · #849 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 49
। আবুত তুফাইল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তাওয়াফের সময় মুআবিয়া (রাঃ) যে রুকনের পাশ দিয়েই যেতেন সেটিই চুম্বন করতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে বললেন, শুধুমাত্র রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুম্বন করতেন। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, বাইতুল্লাহর কিছুই উপেক্ষণীয় নয়। - সহীহ, আলহাজ্জ্বল কাবীর, বুখারী, মুসলিম উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কিছু চুম্বন করবে না।
Book 9 · Hadith 51 · #850 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 50
। ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একটি চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নীচে দিয়ে এবং তার দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপর দিয়ে জড়ানো (ইযতিবা) অবস্থায় (বাহু খোলা রেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করেছেন। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৯৫৪) আবু ঈসা বলেন, এটি ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত সাওরীর হাদীস। এটিকে আমরা শুধুমাত্র তার হাদীস হিসেবেই জেনেছি। এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল হামীদ হলেন ইবনু জুবাইরা ইবনু শাইবা এবং ইয়ালা (রাঃ) হলেন ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা।
Book 9 · Hadith 52 · #851 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Daif - 51
। আবিস ইবনু রবীআ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমি হাজরে আসওয়াদে চুমা দিতে দেখেছি এবং তিনি তখন বলছিলেনঃ আমি তোমাকে চুমা দিচ্ছি অথচ আমি জানি তুমি শুধুই একটি পাথর। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যদি তোমাকে চুমা দিতে না দেখতাম তাহলে আমি তোমাকে চুমা দিতাম না। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৪৩), বুখারী, মুসলিম আবু বাকর ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 53 · #852 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 52
। যুবাইর ইবনু আরাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত এক ব্যক্তি ইবনু উমারকে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। জবাবে তিনি বললেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। লোকটি বললোঃ আপনি কি মনে করেন? আমি যদি পরাভূত হই, আপনি কি মনে করেন? আমি যদি ভিড়ে আটকে পরি, তিনি বললেন তোমার ঐ কি মনে কর (কথাটি) ইয়ামানে রেখে আস (লোকটি ইয়ামানী ছিল তাই একথা বললেন) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উহা স্পর্শ করতে ও চুম্বন দিতে দেখেছি। — সহীহ (আল-হাজ্জ্বলকাবীর) বুখারী বর্ণনাকারী এই যুবাইর ইবনু আরাবী হতে হাম্মাদ ইবনু যাইদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর যুবাইর ইবনু আদী কুফাবাসী যার উপনাম আবূ সালামা তিনি আনাস ইবনু মালিক এবং আরও অনেক সাহাবী হতে হাদীস শুনেছেন। তার নিকট হতে সুফিয়ান সাওরী এবং আরও অনেক হাদীস বিশারদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটি আরও একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করাকে তারা মুস্তাহাব বলেছেন। তবে এর নিকটে আসা সম্ভব না হলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করে হাতে চুম্বন করবে। এতটুকু নিকটে আসাও সম্ভব না হলে এর বরাবর এসে দাড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলবে। এটি ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত।
Book 9 · Hadith 54 · #853 · Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 53
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আসার পর বাইতুল্লাহ শারীফে সাত (শাওতে) তাওয়াফ করলেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমে এসে পাঠ করলেনঃ ইবরাহীমের দাড়াবার জায়গাকে তোমরা নামাযের জায়গা হিসেবে গ্রহণ কর” (সূরাঃ বাকারা- ১২৫)। তারপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে তিনি দুরাক’আত নামায আদায় করলেন, তারপর হাজরে আসওয়াদের নিকটে এসে তা চুমা দিলেন, তারপর বললেনঃ যে দিক হতে আল্লাহ্ তা'আলা শুরু করেছেন সে দিক হতে (দৌড়ানো) আমরাও শুরু করব। সাফা পর্বত হতে তিনি সাঈ শুরু করলেন এবং পাঠ করলেনঃ সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্ তা'আলার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত”(সূরাঃ বাকারা- ১৫৮)। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৩৭৪), মুসলিমে এরূপ বর্ণনা আছে “আমি শুরু করব"। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মতে এই হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। মারওয়ার আগে সাফা হতে সাঈ শুরু করতে হবে। সাফার আগে মারওয়া হতে সাঈ শুরু করলে তা সঠিক হবে না, বরং শুরু করতে হবে সাফা হতেই। সাফা ও মারওয়ার সাঈ না করে যদি কোন লোক শুধু বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করে চলে আসে তবে এ প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। কিছু সংখ্যক আলিম বলেন, যদি কোন লোক সাফা ও মারওয়ার সাঈ না করে মক্কা হতে বেরিয়ে যায় এবং মক্কার নিকটেই থাকা অবস্থায় যদি সে কথা তার মনে পড়ে তবে সে ফিরে আসবে এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ পুরো করবে। আর যদি দেশে ফিরার পর তার মনে পড়ে তাহলে তার হাজ্জ হয়ে যাবে কিন্তু তাকে একটি দম (কুরবানী) দিতে হবে। এটা সুফিয়ান সাওরীর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেছেন, কোন লোক যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে দেশে ফিরে আসে তাহলে তার হাজ্জ আদায় হবে না। এটা ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত। তিনি বলেন, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা ওয়াজিব, তা ব্যতীত হাজ্জ হবে না।
Book 9 · Hadith 55 · #854 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 54
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুশরিকদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ করেছেন (দৌড়িয়েছেন)। – সহীহ বুখারী, মুসলিম আইশা, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে (দৌড়ে চলাকে) আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। সাঈ না করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে যদি কোন লোক শুধু হেটে প্রদক্ষিণ করে তবে তাও জায়িয।
Book 9 · Hadith 56 · #855 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 55
। কাসীর ইবনু জুমহান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়ে চলার স্থানে বনু উমর (রাঃ)-কে আস্তে চলতে দেখে আমি বললাম, সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়ে চলার স্থানে আপনি আস্তে চলছেন যে? তিনি বলেন, আমি যদি দ্রুত চলি তবে দ্রুত চলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও দেখেছি। আর যদি আস্তে চলি তবে আস্তে চলতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, আর আমি তো এখন একজন বৃদ্ধ লোক। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৮৮) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একই রকম হাদীস ইবনু উমার (রাঃ) হতে সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ)-ও বর্ণনা করেছেন।
Book 9 · Hadith 57 · #856 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 56
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বাহনে সাওয়ার হয়ে (বাইতুল্লাহ ) তাওয়াফ করেছেন। তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকটে পৌছে এর প্রতি ইশারা করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৪৮), বুখারী, মুসলিম জাবির, আবুত তুফায়িল ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কোন কারণ ছাড়া আরোহী অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে একদল আলিম মাকরূহ বলেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈরও।
Book 9 · Hadith 58 · #857 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 57
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পঞ্চাশ বার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে সে তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মত পাপ মুক্ত হয়ে যাবে। যঈফ, যঈফা (৫১০২) এই অনুচ্ছেদে আনাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে তার উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাকে।
Book 9 · Hadith 59 · #858 · Daif, Daif, Daif - 58
। আইয়ূব সাখতিয়ানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ইবনু জুবাইরকে মুহাদ্দিসগণ তার পিতা সাঈদ ইবনু জুবাইর হতেও উত্তম গণ্য করতেন। তার এক ভাই ছিল, যার নাম আবদুল মালিক ইবনু সাঈদ ইবনু জুবাইর। তার নিকট হতেও মুহাদ্দিসগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। — সনদ সহীহ
Book 9 · Hadith 60 · #859 · Sahih Isnaad, Sahih Isnaad, Daif - 59
। জুবাইর ইবনু মুতইম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবদ মানাফের বংশধরগণ! তোমরা কোন লোককে রাত ও দিনের যে কোন সময় ইচ্ছা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং নামায আদায় করতে বাধা দিও না। — সহীহ, সহীহ ইবনু মা-জাহ (১২৫৪) ইবনু আব্বাস ও আবু যার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবু নাজীহও এই হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু বাবা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমামদের মধ্যে মক্কা শারীফে আসর ও ফজরের নামাযের পর অন্য কোন নামায আদায় করার বৈধতা প্রসঙ্গে মতের অমিল আছে। কিছু সংখ্যক আলিম আসর ও ফজরের পরে নামায ও তাওয়াফে কোন সমস্যা না থাকার কথা বলেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসকে তারা প্রমাণ হিসাবে হাযির করেন। আরেক দল আলিম বলেন, আসরের পর যদি কোন লোক তাওয়াফ করে তাহলে সে লোক সূর্য না ডোবা পর্যন্ত তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। এমনিভাবে ফজরের পর কোন লোক যদি তাওয়াফ করে তাহলে সে লোক সূর্য না উঠা পর্যন্ত তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। তারা নিজেদের মতের অনুকূলে উমার (রাঃ)-এর হাদীস পেশ করেছেন। ফজরের নামাযের পড় তিনি তাওয়াফ করলেন, কিন্তু (তাওয়াফের) নামায আদায় করলেন না। সূর্য উঠার পর তিনি ঐ নামায ঘতুয়া নামক জায়গাতে পৌছে আদায় করেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও মালিকেরও।
Book 9 · Hadith 61 · #860 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 60
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাওয়াফের দুই রাকাআত নামায আদায়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইখলাসের দুইটি সূরা তিলাওয়াত করেনঃ সূরা কাফিরূন এবং সূরা ইখলাস। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭৪), মুসলিম
Book 9 · Hadith 62 · #861 · Sahih, Sahih, Sahih - 61
। জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তাওয়াফের দুরাকাআত নামাযে তিনি (মুহাম্মাদ আল-বাকির) সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করতে পছন্দ করতেন। – সনদ সহীহ, মাকতু’ আব্দুল আজীজ ইবনু ইমরানের হাদীসের তুলনায় এই হাদীসটিকে আবু ঈসা বেশি সহীহ বলেছেন। কেননা বর্ণনাকারী আবদুল আযীয ইবনু ইমরান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
Book 9 · Hadith 63 · #862 · Sahih Isnaad Maqtu, Sahih Isnaad Maqtu, Sahih - 62
। যাইদ ইবনু উসাই (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, কি বিষয় সহকারে আপনাকে (নবম হিজরীতে মক্কায়) পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, চারটি বিষয় (ঘোষণা করার জন্য)। মুসলিম ছাড়া আর কোন লোক জান্নাতে যাবে না; কোন লোক উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না; এইখানে (কা'বা শারীফে) মুসলিম ও মুশরিকগণ এই বছরের পর একত্র হতে পারবে না এবং যে সব লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুক্তি আছে সে সব লোকের চুক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, কিন্তু যে সব লোকের চুক্তিতে কোন মেয়াদের উল্লেখ নেই সে সব লোকের চুক্তির মেয়াদ (আজ হতে) চার মাস পর্যন্ত। — সহীহ, ইরওয়া (১১০১) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 64 · #863 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Daif - 63
। ইবনু আবু উমার ও নাসর ইবনু আলী তারা উভয়ে সুফিয়ান হতে, তিনি আবু ইসহাকের বরাতে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে যাইদ ইবনু উসাইর স্থলে তারা উভয়ে ইয়ুসাই উল্লেখ করেছেন, এটাই বেশি সহীহ। — সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস আবু ঈসা বলেন, এই ক্ষেত্রে শুবার ভুল আছে। বর্ণনাকারীর নামটি তিনি যাইদ ইবনু উসাইল বলে উল্লেখ করেছেন।
Book 9 · Hadith 65 · #864 · Sahih, Sahih, Sahih - 64
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে আচঞ্চল চোখে ও প্রফুল্ল মনে চলে গেলেন কিন্তু (কিছুক্ষণ পর) ফিরে আসলেন চিন্তগ্রস্ত অবস্থায়। আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কাবার ভেতরে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মন বলছিল আমি যদি এরূপ না করতাম (তবে সেটাই ভাল ছিল)। আমার ভয় হচ্ছে আমার পরে আমার উম্মাতদেরকে যন্ত্রণায় ফেললাম কি-না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৬৪) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 9 · Hadith 66 · #865 · Daif, Daif, Daif - 65
। বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কাবার অভ্যন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করেছেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৬৩), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি নামায আদায় করেননি, বরং তাকবীর ধ্বনি করেছেন। উসামা ইবনু যাইদ, ফাযল ইবনু আব্বাস, উসমান ইবনু তালহা ও শাইবা ইবনু উসমান (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিলাল (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম মত দিয়েছেন। কাবার অভ্যন্তরে নামায আদায় করাতে কোন সমস্যা আছে বলে তারা মনে করেন না; ইমাম মালিক বলেন, নফল নামায কা'বার অভ্যন্তরে আদায় করাতে কোন সমস্যা নেই; তবে ফরয নামায আদায় করা মাকরূহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, যে কোন নামায কাবার অভ্যন্তরে আদায় করায় সমস্যা নেই তা ফরয হোক বা নফল হোক। কেননা, কিবলামূখী হওয়া, পবিত্রতা অর্জন করা ইত্যাদি প্রসঙ্গে ফরয ও নফলের বিধান একই।
Book 9 · Hadith 67 · #866 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 66
। আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু যুবাইর (রাঃ) তাকে বললেন, তোমাকে উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রাঃ) যে হাদীস বলেছেন, তা আমার নিকটে বর্ণনা কর। আসওয়াদ বলেন, তিনি আমাকে বলেছেন যে, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায় জাহিলী যুগের এত নিকটে এবং ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে নবদীক্ষিত না হত তাহলে আমি কা'বা ঘরকে ভেঙ্গে (পুনঃনির্মাণ করে) এর দুটো দরজা বানাতাম। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৮৭৫) বর্ণনাকারী বলেন, পরে যখন ইবনুয যুবাইর (রাঃ) ক্ষমতাধিকারী হন তখন এটিকে ভেঙ্গে (পুনঃনির্মাণ করেন এবং) এর দুইটি দরজা তৈরী করেন। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 68 · #867 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 67
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে ঢুকে সেখানে আমি নামায আদায়ের ইচ্ছা করতম তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে হিজর (হাতীম)-এ প্রবেশ করিয়ে আমাকে বললেনঃ যদি তুমি বাইতুল্লায় চাও তাহলে এই হিজরেই নামায আদায় করে নাও। কেননা এও বাইতুল্লাহর অংশ। কিন্তু তোমার সম্প্রদায় কা'বা ঘর ছোট করে নির্মাণ করে এবং (অর্থাভাবে) এই স্থানটিকে কা'বার বাইরে রেখে দেয়। — হাসান সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৭৬৯), সহীহাহ (৪৩) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বর্ণনাকারী আলকামার পিতার নাম বিলাল।
Book 9 · Hadith 69 · #868 · Hasan Sahih, Hasan Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 68
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত হতে হাজরে আসওয়াদ অবতীর্ণ হয়েছিল দুধ হতেও বেশি সাদা অবস্থায়। কিন্তু এটিকে আদম সন্তানের গুনাহ এমন কালো করে দিয়েছে। — সহীহ, মিশকাত (২৫৭৭), তা’লীকুর রাগীব (২/১২৩), আল-হাজ্জ্বল কাবীর আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 70 · #869 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 69
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকুত (দীপ্তিশীল মূল্যবান মণি) হতে দুটো ইয়াকুত। আল্লাহ্ তা'আলা এই দুটির আলোকপ্রভা নিম্প্রভ করে দিয়েছেন। এ দু'টির প্রভা যদি তিনি নিস্তেজ করে না দিতেন তাহলে তা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত। — সহীহ, মিশকাত (২৫৭৯) আবু ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর এই বক্তব্য মাওকৃফভাবে বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতেও এই বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে, তবে তা গারীব।
Book 9 · Hadith 71 · #870 · Daif - 70
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামায আদায় করলেন, তারপর ভোরে যাত্রা শুরু করেন আরাফাতের দিকে। — সহীহু, হাজ্জাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (৫৫/৬৯), মুসলিম, জাবির হতে আবু ঈসা বলেন, হাদীস বিশারদগণ বর্ণনাকারী ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন।
Book 9 · Hadith 72 · #871 · Sahih, Sahih, Sahih - 71
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় যুহর ও ফজরের নামায (অর্থাৎ যুহর হতে পরবর্তী ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্তের নামায) আদায় করলেন। তারপর ভোরেই আরাফাতের দিকে যাত্রা শুরু করেন। -সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর ও আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, মিকসাম-ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী ইয়াহইয়ার সনদে শুবা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, হাকাম মিকসাম হতে মাত্র পাঁচটি হাদীস শুনেছেন। এরপর এই পাঁচটি হাদীস তিনি বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এগুলোর মধ্যে উক্ত হাদীসটি ছিল না।
Book 9 · Hadith 73 · #872 · Sahih, Sahih, Sahih - 72
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহু! আমরা মিনায় আপনার জন্য কি একটা ঘর বানিয়ে দিব যা আপনাকে ছায়া দিবে? তিনি বললেনঃ না। যে ব্যক্তি মিনায় যে জায়গাতে আগে পৌছবে সেটিই হবে তার অবস্থানস্থল। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০০৬) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 9 · Hadith 74 · #873 · Daif, Daif, Hasan, Isnaad Hasan - 73
। হারিসা ইবনু ওয়াহব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, পূর্ণ নিরাপত্তা বজায় থাকা অবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সর্বাধিক সংখ্যক লোকসহ মিনায় (চার রাক’আত ফরযের স্থলে) দুই রাকাআত নামায আদায় করেছি। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৭১৪), বুখারী, মুসলিম ইবনু মাসউদ, ইবনু উমার ও আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি মিনাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুই রাকাআত নামায আদায় করেছি এবং এখানে আবু বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও দুই রাকাআত নামায আদায় করেছি। মক্কাবাসীদের জন্য মিনায় নামায কসর করা প্রসঙ্গে ইমামদের মধ্যে মতের অমিল আছে। একদল আলিম বলেন, মিনায় মুসাফির ছাড়া অন্য কোন মক্কাবাসী সেখানে নামায কসর করবে না। এই মত দিয়েছেন ইবনু জুরাইজ, সুফিয়ান সাওরী, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)। কিছু আলিম বলেছেন, মক্কাবাসীর জন্য মিনায় নামায কসর করায় কোন সমস্যা নেই। এই অভিমত আওযাঈ, (রহঃ)-এর।
Book 9 · Hadith 75 · #874 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 74
ইয়াযীদ ইবনু শাইবান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু মিরবা আনসারী (রাঃ) আমাদের নিকটে আসলেন। আরাফাতের এমন এক জায়গায় আমরা অবস্থান করছিলাম যাকে আমর (রাঃ) (ইমামের স্থান হতে) বহু দূর বলে মনে করছিলেন। ইবনু মিরবা আনসারী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিনিধি হিসাবে আমি তোমাদের নিকটে এসেছি। তিনি বলেছেনঃ হাজ্জের নির্ধারিত স্থানসমূহে তোমরা অবস্থান কর। কারণ, তোমরা ইবরাহীম (আঃ)-এর ওয়ারিসী প্রাপ্ত হয়েছ। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০১১) আলী, আইশা, জুবাইর ইবনু মুতইম ও শারীদ ইবনু সুওয়াইদ সাকাফী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা হাদীসটি প্রসঙ্গে শুধু ইবনু উআইনা হতে-আমর ইবনু দীনারের সূত্রেই জানতে পারি। ইবনু মিরবার নাম ইয়াযীদ আনসারী। এই একটি হাদীসই তার সূত্রে বর্ণিত আছে বলে জানা যায়।
Book 9 · Hadith 76 · #875 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 75
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কুরাইশ এবং তাদের ধর্মের যারা অনুসারী ছিল তাদেরকে হুম্স বলা হত। তারা মুযদালফায় অবস্থান করত এবং বলত, আমরা আল্লাহর ঘরের অধিবাসী। তারা ব্যতীত অন্য লোকেরা আরাফাতে অবস্থান করত। আল্লাহ্ তাআলা এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “অতঃপর যেখান হতে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন কর” (সূরা বাকারাঃ ১৯৯)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০১৮)বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। হাদীসটির তাৎপর্য এই যে, মক্কাবাসীরা (হাজের সময়) হারাম শারীফের বাইরে বের হত না। হারাম শরীফের বাইরে আরাফাতের ময়দান অবস্থিত। তাই তারা মুযদালফায় অবস্থান করত এবং আল্লাহর ঘরের অধিবাসী বলে (গর্ববোধের) নিজদেরকে পরিচয় দিত। আরাফাতে তারা ব্যতীত অন্যান্য লোক থাকত। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “অতঃপর লোকেরা যেখান হতে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন কর”। “হুমস” হল হারামবাসী।
Book 9 · Hadith 77 · #876 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 76
। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে অবস্থান গ্রহণ করলেন, তারপর বললেনঃ এটাই আরাফাতের ময়দান, এটাই অবস্থান স্থল। আর গোটা আরাফাতই অবস্থান স্থল। এরপর সূর্য ডুবে গেলে তিনি সেখান হতে ফিরে আসলেন এবং তার বাহনের পিছনে উসামা ইবনু যাইদকে বসালেন। স্বীয় অবস্থান হতে তিনি হাত দিয়ে ইশারা করছিলেন। লোকজন তাদের উটগুলো ডানে বামে হাকাচ্ছিল। তাদের দিকে তিনি তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা শান্তভাবে পথ চল। লোকদেরকে নিয়ে মুযদালফায় পৌছে তিনি দুই ওয়াক্তের (মাগরিব ও এশা) নামায একসাথে আদায় করলেন। ভোরে ‘কুযাহ' নামক জায়গাতে এসে তিনি অবস্থান করলেন এবং বললেনঃ এটা হলো কুযাহ; এটাও অবস্থান স্থল, আর সম্পূর্ণ মুযদালফাই অবস্থানের জায়গা। এরপর তিনি ওয়াদী মুহাসসারে আসলেন। তার উটটিকে তিনি বেত মারলেন, ফলে তা দ্রুত উপত্যকাটি অতিক্রম করল। তারপর তিনি থামলেন এবং তার পিছনে ফাযলকে বসালেন এরপর তিনি জামরায় আসলেন এবং এখানে কংকর নিক্ষেপ করলেন। তিনি কুরবানীর জায়গায় পৌছে বললেনঃ এটা কুরবানী করার জায়গা। আর সম্পূর্ণ মিনাই কুরবানী করার জায়গা। এরকম সময় তাকে খাসআম গোত্রের এক যুবতী ফাতাওয়া জিজ্ঞাসা করল, আমার বাবা খুবই বয়স্ক ব্যক্তি। আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত হাজ্জ তার উপর ফরয হয়েছে। তার পক্ষ হতে আমি হাজ্জ আদায় করলে সেটা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ তোমার বাবার পক্ষ হতে হাজ আদায় কর। আলী (রাঃ) বলেন, তিনি এমন সময় ফাযলের ঘাড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চাচাতো ভাইয়ের ঘাড় কেন ঘুরিয়ে দিলেন? তিনি বললেনঃ আমি লক্ষ্য করলাম এরা দুইজন যুবক-যুবতী। সুতরাং তাদেরকে আমি শাইতান হতে নিরাপদ মনে করিনি। এরপর এক লোক এসে তাকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যে মাথা মুণ্ডনের পূর্বেই তাওয়াফ (ইফাযা) করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ মাথা মুণ্ডন করে ফেলো, কোন সমস্যা নেই, অথবা বললেন, চুল ছেটে ফেলো, কোন সমস্যা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আরেক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কংকর মারার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কংকর মেরে নাও, কোন সমস্যা নেই। আলী (রাঃ) বলেন, তারপর বাইতুল্লাহ্ পৌছে তিনি তাওয়াফ করলেন, তারপর যমযম কূপের নিকটে এসে বললেনঃ হে আবদুল মুত্তালিব বংশের লোকেরা। জনতা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠবে এই ভয় যদি না হত তবে আমি (তোমাদের সঙ্গে) অবশ্যই পানি টেনে তুলতাম। – হাসান, হিযাবুল মারঅা, আল-হাজ্জ্বল কাবীর (২৮) জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে, এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলী (রাঃ)-এর এই হাদীসটি আমাদের নিকটে আবদুর রাহমান ইবনুল হারিস ইবনু আইয়্যাশের সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত আছে বলে জানা নেই। সাওরী হতে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আরাফাতে যুহরের ওয়াক্তে যুহর ও আসর একসাথে আদায় করতে বলেছেন। কিছু আলিম বলেন, নিজের অবস্থান স্থলেই কোন লোক নামায আদায় করলে এবং ইমামের সঙ্গে নামাযে হাযির না হয়ে নিজ অবস্থান স্থলে নামায আদায় করলে সে চাইলে ইমামের মত দুই নামায একসাথে আদায় করতে পারে। বর্ণনাকারী যাইদ ইবনু আলী হলেন ইমাম হুসাইন (রাঃ)-এর পৌত্র।
Book 9 · Hadith 78 · #877 · Hasan, Hasan, Hasan Sahih, Daif - 77
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াদী মুহাসসারে তার উট দ্রুত হাকিয়ে যান। এই হাদীসে বিশর আরো উল্লেখ করেন যে, তিনি শান্তভাবে মুযদালিফা হতে ফিরে আসেন এবং লোকদেরকেও শান্তভাব অবলম্বনের হুকুম দেন। আবু নুআইম আরো বর্ণনা করেনঃ তিনি নুড়ি পাথর (জামরায়) ছুড়ে মারার হুকুম দেন এবং বলেনঃ এই বছরের পর হয়ত আমি আর তোমাদের দেখা পাব না। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬৯৯, ১৭১৯), মুসলিম উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 79 · #878 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 78
আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুযদালিফাতে ইবনু উমর (রাঃ) নামায আদায় করলেন। সেখানে তিনি এক ইকামাতে দুই নামায (মাগরিব ও এশা) একসাথে আদায় করলেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়ামকে এই স্থানে আমি এরকমই করতে দেখেছি। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬৮২, ৬৯০), নাসা-ঈ, মুসলিমের শব্দ ইকামাতুন ওয়াহিদাতুল ঐ বর্ণনাটি শাজ, বুখারীর শব্দ প্রত্যেক নামাযের জন্যই ইকামাত, এ বর্ণনাটি সংরক্ষিত।
Book 9 · Hadith 80 · #879 · Shadh, Sahih, Daif - 79
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইয়াইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু খালিদ হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে, তিনি ইবনু উমার হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ কর্ণনা করেছেন। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, ইয়াহইয়া সুফিয়ানের বর্ণনাটিকে সঠিক বলেছেন। আলী, আবু আইয়ুব, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ, জাবির ও উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইবনু উমর (রাঃ)-এর হাদীস সম্বন্ধে সুফিয়ানের রিওয়ায়াতটি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদের রিওয়ায়াত অপেক্ষা বেশি সহীহ। সুফিয়ানের রিওয়ায়াতটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ বলেন, মাগরিবের নামায মুযদালফার বাইরে আদায় করা যাবে না। মুযদালফায় পৌছার পর দুই নামায (মাগরিব-এশা) এক ইকামাতে একইসাথে আদায় করবে, এর মধ্যে নফল নামায আদায় করবে না। কিছু আলিম এই মত গ্রহণ করেছেন। এই অভিমত সুফিয়ান সাওরীর। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে মাগরিব আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে, পোশাক-পরিচ্ছদ ছেড়ে তারপর ইকামাত দিয়ে এশার নামায আদায় করা যায়। আবার কিছু আলিম বলেন, মুযদালফায় মাগরিব ও এশা একসাথে এক আযান ও দুই ইকামাতে আদায় করবে। মাগরিবের আযান দেওয়ার পর ইকামাত দিবে এবং মাগরিবের নামায আদায় করবে, আবার ইকামাত দিয়ে এশার নামায আদায় করবে। এই মত ইমাম শাফিঈর। আবু ঈসা বলেনঃ আবু ইসহাক-মালিক পুত্রদ্বয় আবদুল্লাহ ও খালিদ সূত্রে-ইবনু উমার (রাঃ) হতে এই হাদীসটিকে ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন। ইবনু উমর (রাঃ) হতে সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে সালামা ইবনু কুহাইলও এটিকে বর্ণনা করেছেন। মালিকের পুত্রদ্বয় আবদুল্লাহ্ ও খালিদ-ইবনু উমার (রাঃ) হতে এটিকে আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন।
Book 9 · Hadith 81 · #880 · Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 80
। আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ামার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে নাজদবাসী কিছু লোক আসলো। তিনি তখন আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। তারা হাজ্জ সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করে। এই মর্মে এক ঘোষণাকারীকে তিনি ঘোষণা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেনঃ হজ্জ হচ্ছে আরাফাতে অবস্থান। মুযদালফার রাতে ফজর উদয় হওয়ার পূর্বেই কোন লোক এখানে পৌছতে পারলে সে হজ্জ পেল। তিনটি দিন হচ্ছে মিনায় অবস্থানের। দুই দিন অবস্থান করে কোন লোক তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছা করলে তাতে কোন সমস্যা নেই। আর তিন দিন পর্যন্ত অবস্থানকে কোন লোক বিলম্বিত করলে তাতেও কোন সমস্যা নেই। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন, ইয়াহইয়ার বর্ণনায় আরো আছেঃ এক লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিছনে আরোহণ করালেন। সে লোক তা ঘোষণা দিতে থাকল। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ
Book 9 · Hadith 82 · #881 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 81
। পূর্বোক্ত হাদীসের মতই ইবনু আবী উমার সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা হতে, তিনি সুফিয়ান সাওরী হতে, তিনি বুকাইর ইবনু আতা হতে তিনি আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ামুর (রাঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস সুফিয়ান ইবনু উআইনা বলেন, এটি একটি উত্তম হাদীস যা সুফিয়ান সাওরী বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ামুরের হাদীস অনুসারে আমল করেন। তারা বলেন, (৯ যিলহাজ্জ দিবাগত রাতে) কোন লোক যদি ফজর উদয়ের পূর্বে আরাফাতে হাযির হতে ব্যর্থ হয় তবে তার হাজ্জ ছুটে গেল। ফজর উদয়ের পর হাযির হলে তা ধর্তব্য হবে না। সে উমরা করবে এবং পরবর্তী বছর হাজ্জ আদায় করবে। এই মত প্রকাশ করেছেন সুফিয়ান সাওরী, সাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অাৰু ঈসা বলেনঃ শুবা বুকাইর ইবনু আতা হতে সাওরীর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি ওয়াকী বর্ণনা করে বলেছেন, হজ্জ সম্পর্কিত হাদীসসমূহের মূল হচ্ছে এই হাদীসটি।
Book 9 · Hadith 83 · #882 · Sahih - 82
। উরওয়া ইবনু মুয়ারিস ইবনু আওস ইবনু হারিসা ইবনু লাম আত-তাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মুযদালফায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, তখন তিনি নামাযের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাঈ-এর দুই পাহাড় (অঞ্চল) হতে এসেছি। আমার বাহনকেও আমি ক্লান্ত করে ফেলেছি এবং নিজেকেও খুবই পরিশ্রান্ত করেছি। আল্লাহর শপথ। আমি এমন কোন বালির স্তুপ ছেড়ে যাইনি যেখানে আমি অবস্থান করিনি। আমার কি হাজ্জ হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাদের এই নামাযে যে লোক শরীক হয়েছে, আমাদের সাথে ফিরে আসা পর্যন্ত অবস্থান করেছে এবং এর পূর্বে রাতে বা দিনে আরাফাতে থেকেছে তার হাজ্জ পূর্ণ হয়েছে এবং সেলোক তার অপরিচ্ছন্নতা দূর করে নিয়েছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০২৬),বুখারী, মুসলিম এই হাদিসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তাফাসাহু এর অর্থ তাঁর হাজ্জ। বালির স্তূপকে হাবল বলা হয়। পাথরের স্তূপকে জাবাল বলা হয়।
Book 9 · Hadith 84 · #883 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 83
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মাল-সামানবাহী দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতেই আমাকে মুযদালিফা হতে (মিনায়) পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০২৬), নাসা-ঈ অনুরূপ আইশা, উম্মু হাবীবা, আসমা বিনতু বাকর ও ফাযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 9 · Hadith 85 · #884 · Sahih, Sahih - 84
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন (১০ই যিলহাজ্জ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল বেলা কংকর মেরেছেন এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর কংকর মেরেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৫৩), মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। কুরবানীর দিনের পরবর্তী দিনসমূহে তারা দুপুরের পর কংকর মারার কথা বলেছেন।
Book 9 · Hadith 87 · #885 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 85
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, সূর্য উঠার আগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুযদালিফা হতে) যাত্রা করেন। — পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় এ হাদীসটি সহীহ। উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সূর্য উঠা পর্যন্ত জাহিলী যুগের লোকেরা অপেক্ষা করত, তারপর রাওয়ানা হত।
Book 9 · Hadith 88 · #886 · Sahih Lighairihi, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 86
। আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) বলেন, আমরা মুযদালফায় অবস্থানরত ছিলাম। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তখন বললেনঃ সূর্য না উঠা পর্যন্ত মুশরিকরা এখান হতে রাওয়ানা হত না। তারা বলতঃ হে সাবির। আলোকিত হও। কিন্তু তাদের বিপরীত নীতি অনুসরণ করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতঃপর সূর্য উঠার পূর্বেই উমর (রাঃ)-ও রাওয়ানা হন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০২২), বুখারী এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 89 · #887 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 87
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি ছোট কংকর দিয়ে জামরায় নিক্ষেপ করতে দেখেছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০২৩), মুসলিম সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস তার মাতা উম্মু জুনদুব আল-আযদিয়া হতে এবং ইবনু আব্বাস, ফাদল ইবনু আব্বাস, আবদুর রাহমান ইবনু উসমান আত-তাইৰ্মী ও আবদুর রাহমান ইবনু মুআয (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ বলেন, রমী করার পাথর হবে ছোট আকৃতির।
Book 9 · Hadith 90 · #888 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 88
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সূর্য ঢলে পড়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কংকর নিক্ষেপ করতেন। -জাবির (রাঃ) বর্ণিত ৯০১ নং হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহীহ। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।
Book 9 · Hadith 91 · #889 · Sahih, Sahih, Sahih - 89
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোহী অবস্থায় জামরায় কংকর মেরেছেন। —সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩০৩৪), মুসলিম, জাবির হতে দেখুন হাদীস নং (৮৮৭) জাবির, কুদামা ইবনু আবদুল্লাহ ও উম্মু সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। হেঁটে রমী বা পাথর নিক্ষেপ করাকে অন্য একদল আলিম পছন্দনীয় বলেছেন। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে গিয়েছেন। আমাদের মতে এই হাদীসের তাৎপর্য হলঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সময় কার্যক্রম অনুসরণের সুযোগ প্রদানের জন্য আরোহী অবস্থায় কংকর মেরেছেন। আলিমগণের নিকট উভয় প্রকার হাদীসই গ্রহণযোগ্য।
Book 9 · Hadith 92 · #890 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 90
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কংকর মারার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরে আসতেন। — সহীহ, সহীহা (২০৭২), সহীহ আবু দাউদ (১৭১৮) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটিকে মারফু না করে কেউ কেউ উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করেছেন। কেউ কেউ বলেন, কুরবানীর দিন সাওয়ার হয়ে এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতে হেটে কংকর মারবে। আবু ঈসা বলেন, যারা এই কথা বলেছেন তারা মূলতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের হুবহু অনুসরণার্থে তা বলেছেন। কেননা, কুরবানীর দিন কংকর মারার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায় সাওয়ারী অবস্থায় গিয়েছেন। আর শুধুমাত্র জামরা আকাবাতেই কুরবানীর দিন কংকর মারা হয়।
Book 9 · Hadith 93 · #891 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 91
। আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জামরা আকাবায় যখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) আসলেন তখন উপত্যকার মাঝে দাঁড়ালেন, কিবৃলামুখী হলেন এবং বরাবর ডান ত্রু উচু করে কংকর মারতে শুরু করলেন। তিনি সাতটি কংকর মারলেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় আল্লাহু আকবার বললেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ যিনি ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই, যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে তিনি এখান হতেই কংকর মেরেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৩০), বুখারী, মুসলিম৷ হান্নাদ ওয়াকী হতে, তিনি মাসউদী হতে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফাযল ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে সাতটি কংকর উপত্যকার মধ্য হতে মারা এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তাকবীর বলা পছন্দনীয়। কিছু সংখ্যক আলিম এই সুযোগ রেখেছেন যে, যদি উপত্যকার মধ্য হতে কংকর মারা সম্ভব না হয় তাহলে যেখান হতে সম্ভব সেখান হতেই তা মারা যাবে।
Book 9 · Hadith 94 · #892 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 92
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার যিকির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামরায় কংকর ছুড়া এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার নিয়ম রাখা হয়েছে। যঈফ, মিশকাত (২৬২৪), যঈফ আবূ দাউদ (৩২৮) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
Book 9 · Hadith 95 · #893 · Daif, Daif, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 93
। কুদামা ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার উটিনিতে সাওয়ার হয়ে জামরায় কংকর মারতে দেখেছি। সেখানে কোন রকম মারপিট, কোন ধাক্কাধাক্কি এবং সরে যাও সরে যাও ইত্যাদি কিছু ছিল না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৩৫) আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। কুদামা ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই পরিচিত। আর উহা আইমান ইবনু নাবিল (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীস। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মত অনুযায়ী আইমান ইবনু নাবিল একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
Book 9 · Hadith 96 · #894 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Hasan - 94
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হুদাইবিয়ার (সন্ধির) বছর একটি গরু সাতজনের পক্ষ হতে এবং একটি উটও সাতজনের পক্ষ হতে কুরবানী করেছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩২), মুসলিম ইবনু উমার, আবু হুরাইরা, আইশা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবৃ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। একটি উট সাতজনের পক্ষ হতে এবং একটি গুরুও সাতজনের পক্ষ হতে কুরবানী করাকে তারা জায়িয মনে করেন। এই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ)-এর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বরাতে বর্ণিত আছে যে, একটি গরু সাতজনের পক্ষ হতে এবং একটি উট দশজনের পক্ষ হতে কুরবানী করা যায়। এই অভিমত ইসহাক (রহঃ)-এর। শুধুমাত্র একটি সূত্রেই আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি জেনেছি।
Book 9 · Hadith 97 · #895 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 95
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় কুরবানীর ঈদ আসলে আমরা একটি গরুতে সাতজন এবং একটি উটে দশজন করে শরীক হই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩১) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এটি হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীস।
Book 9 · Hadith 98 · #896 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 96
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যুল-হুলাইফা নামক জায়গায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশুর গলায় একজোড়া জুতা বুলিয়ে দিলেন এবং এর কুঁজের ডান দিকে চিরে রক্ত প্রবাহিত করলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৯৭), মুসলিম মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবু হাসসান আল-আরাজের নাম মুসলিম। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। কুরবানীর উট বা গরুর কুজের ডান বা বাম দিক দিয়ে চিরে দেয়া তাদের মতে সুন্নাত। এই অভিমত সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। ইউসুফ ইবনু ঈসা বলেন, এই হাদীস বর্ণনার সময় আমি ওয়াকীকে বলতে শুনেছি, আহলুর রায়ের কথার প্রতি এই বিষয়ে ক্ৰক্ষেপ করবে না। কারণ, কুঁজ চিরা হলো সুন্নাত এবং আহলুর রায়ের কথা হলো বিদ’আত। আমি আবুস সাইবকে বলতে শুনেছি, আমরা ওয়াকীর নিকট বসা ছিলাম। একজন আহলুর রায়কে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশুর কুঁজ চিরেছেন। আর আবু হানীফা বলেন যে, তা মুসলা বা অঙ্গ বিকৃতকরণ। ঐ ব্যক্তি বলল, ইবরাহীম নাখঈ বলেছেন, এটা হলো মুসলা। আবুস সাঈব বলেন, আমি দেখতে পেলাম ওয়াকী ভীষণভাবে রেগে গেলেন এবং বললেন, আমি বলছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তুমি বলছ ইবরাহীম বলেছেন। তোমাকে কারারুদ্ধ করা উচিত। তুমি যে পর্যন্ত না এই বক্তব্য প্রত্যাহার করছ সে পর্যন্ত তোমাকে কারামুক্ত করা অনুচিত।
Book 9 · Hadith 99 · #897 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 97
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুদাইদ নামক জায়গা হতে তার কুরবানীর পশু কেনেন। সনদ দুর্বল, ইবনু মাজাহ (৩১০২)। বুখারী বর্ণনা করেছেন মওকুফ ভাবে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। ইয়াহইয়া ইবনুল ইয়ামানের সূত্রেই শুধু উপরোক্ত হাদীস প্রসঙ্গে জানা যায়। নাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইবনু উমার (রাঃ) কুদাইদ হতে তা কেনেন। আবূ ঈসা বলেন, এই রিওয়াত অনেক বেশী সহীহ।
Book 9 · Hadith 100 · #898 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 98
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদয়ির (কুরবানীর পশুর) গলায় মালা পরানোর রশি পাকিয়ে দিয়েছি। এরপরও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামও বাধেননি এবং সাধারণ জামাকাপড়ও পরিবর্তন করেননি। -সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৯৮), বুখারী, মুসলিম৷ এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একদল আলিম বলেন, যদি কোন ব্যক্তি হাজ্জের ইচ্ছা করে কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরিয়ে দেয় এবং ইহরাম না বাধে তাহলে সে লোকের জন্য যে কোন পোশাক পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার হারাম হবে না। অপর কিছু সংখ্যক আলিমগণ বলেন, ইহরামধারী লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ কুরবানির পশুর গলায় মালা পরিয়ে দেয়া ব্যাক্তির প্রতিও প্রযোজ্য হবে।
Book 9 · Hadith 101 · #899 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 99
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরানোর রশি পাকিয়ে দিতাম। এগুলোর সবই ছিল মেষ ও বকরী। এরপরও তিনি ইহরাম বাঁধেননি। সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৫৪০), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন এবং কুরবানীর মেষ-বকরী ইত্যাদির গলায় মালা পরানো বৈধ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 102 · #900 · Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 100
। নাজিয়া আল-খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে এবং এর মৃত্যুর আশংকা দেখা দিলে আমি কি করব? তিনি বললেনঃ এটিকে যবাহ কর, এর (গলায় বাধা) জুতা তার রক্তে ডুবিয়ে দাও, এরপর মানুষের জন্য তা রেখে দাও যেন তারা তা খেতে পারে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১০৬) যুওয়াইব আবূ কাবীসা আল-খুযাঈ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। নাজিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করার অভিমত দিয়েছেন। তারা বলেন, নফল কুরবানীর ক্ষেত্রে পশুটি চলতে না পারলে (যবাহ করার পর) সে নিজে বা তার সঙ্গীরা এর গোশত খেতে পারবে না, বরং লোকদের জন্য তা ফেলে রাখবে তারা যাতে উহা খেতে পারে। আর তার জন্য কুরবানী হিসাবে এটি যথেষ্ট হবে। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। তারা বলেন, যদি মালিক তা হতে কিছু খেয়ে থাকে তাহলে যতটুকু খেয়েছে সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অপর একদল আলিম বলেন, নফল কুরবানীর পশু হতে যদি সে কিছু খায় তাহলে তার বিনিময়ে আরেকটি কুরবানী দিতে হবে।
Book 9 · Hadith 103 · #901 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 101
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তিকে তার কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো কুরবানীর উট। তিনি তৃতীয় বা চতুর্থ বারে তাকে বললেনঃ আরে দুর্ভাগা এতে আরোহণ কর। -সহীহ বুখারী, মুসলিম আলী, আবু হুরাইরা ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। প্রয়োজনে কুরবানীর উটের উপর আরোহণ করার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ অনুমতি দিয়েছেন। এই অভিমত ইমাম, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। কোন কোন আলিম বলেন, একান্ত বাধ্য না হলে কুরবানীর উটে আরোহণ করা উচিত নয়।
Book 9 · Hadith 104 · #902 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 102
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জামরায় কংকর মারার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশু কুরবানী করলেন, এরপর তার মাথার ডান দিক নাপিতের দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং সে তা মুণ্ডন করল। আবু তালহা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ চুলগুলো দিলেন। এরপর তিনি বাম দিক বাড়িয়ে দিলে সে তা মুণ্ডন করল। তিনি (আবু তালহাকে) বলেনঃ লোকজনের মাঝে এগুলো বণ্টন করে দাও। — সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ (১০৮৫, ১৭৩০), মুসলিম একই রকম হাদীস ইবনু আবী উমার (রাহঃ).....হিশাম (রাহঃ) হতেও বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 105 · #903 · Sahih, Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 103
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীদের একদল মাথা মুণ্ডন করলেন এবং কতিপয় সাহাবী চুল খাট করলেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাথা মুণ্ডনকারীদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা অনুগ্রহ করুন। একবার কি দুইবার তিনি এ কথাটি বললেন, তারপর বললেনঃ চুল ছোট করে কর্তনকারীদের উপরও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৪৪), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস, ইবনু উম্মুল হুসাইন, মারিব, আবু সাইদ, আবু মারইয়াম, হুবশী ইবনু জুনাদা ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। পুরুষদের মাথা মুণ্ডন করা উত্তম বলে তারা মত দিয়েছেন, তবে চুল ছোট করে ছাটলেও তা যথেষ্ট হবে। এই অভিমত ইমাম সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।
Book 9 · Hadith 106 · #904 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 104
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে তাদের মাথা কামিয়ে ফেলতে মানা করেছেন। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৬৫৩)। যঈফ
Book 9 · Hadith 107 · #905 · Daif, Daif, Hasan - 105
। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আবূ দাউদ হতে তিনি হাম্মাম হতে তিনি খিলাস হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত আছে। কিন্তু এই সূত্রে আলী (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, আলী (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটিতে অস্থিরতা আছে। এই হাদীসটি হাম্মাদ হতে কাতাদার সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে বিদ্বানগণের মতে মহিলাদের মাথা কামাতে হবে না তাদের মাথার চুল ছাটতে হবে।
Book 9 · Hadith 108 · #906 · Hasan - 106
। আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক লোক প্রশ্ন করল, যবাহ (কুরবানী) করার পূর্বে আমি মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবাহ কর, এতে কোন সমস্যা নেই। অন্য আরেকজন প্রশ্ন করল, আমি কংকর মারার আগে কুরবানী করেছি। তিনি বললেনঃ কংকর মেরে নাও, এতে কোন সমস্যা নেই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৫১), বুখারী, মুসলিম আলী, জাবীর, ইবনু আব্বাস ইবনু উমার ও উসামা ইবনু শরীক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিমের মতও তাই। অনুরূপ মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক। কিছু সংখ্যক আলিম বলেন, হজ্জের অনুষ্ঠানসমূহের ক্রমিক ধারা নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করলে দম (পশু কুরবানী) দিতে হবে।
Book 9 · Hadith 109 · #907 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 107
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইহরাম বাধার পূর্বে এবং কুরবানীর দিন বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি কস্তুর মিশ্রিত সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯২৬), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত রয়েছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে কুরবানীর দিন যখন ইহরামধারী ব্যাক্তি জামরা আকাবায় কংকর মারবে, কুরবানী করবে এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেটে নিবে তখন হতেই তার জন্য যা (ইহরামের কারণে) হারাম ছিল তা হালাল হয়ে যাবে, তবে স্ত্রীসহবাস হালাল হবে না। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, স্ত্রীসম্ভোগ ও সুগন্ধি ব্যতীত আর সবকিছু তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই মত গ্রহণ করেছেন। এই মত কুফাবাসী আলিমদেরও।
Book 9 · Hadith 110 · #908 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 108
। ফাযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুযদালিফা হতে মিনা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার বাহনের পিছনে বসিয়ে এনেছেন। জামরা আকাবায় কংকর মারা পর্যন্ত তিনি অনবরত তালবিয়া পাঠ করেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৪০), বুখারী, মুসলিম আলী, ইবনু মাসউদ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের মতে, হাজ্জ পালনকারী জামরা আকাবায় কংকর মারা শেষ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে না। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।
Book 9 · Hadith 111 · #909 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 109
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরার বেলায় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা মাত্র তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতেন। যঈফ, ইরওয়া (১০৯৯), যঈফ আবূ দাউদ (৩১৬) বর্ণনাটি ইবনু আব্বাসের নিজস্ব কথা আর ইহাই সহীহ এই অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ আলিম এই হাদীস অনুসারে বলেছেন, উমরা পালনকারী হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে না। কোন কোন আলিম বলেন, মক্কার জনপদের সীমায় পৌছেই তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিবে। (তিরমিয়ী বলেন) তবে উক্ত হাদীস অনুযায়ীই আমল করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এই অভিমত।
Book 9 · Hadith 112 · #910 · Sahih Muquf, Sahih Muquf, Hasan Sahih, Daif - 110
। ইবনু আব্বাস ও আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফে যিয়ারাত রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। - শাজ, ইবনু মাজাহ (৩০৫৯) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম রাত অবধি দেরি করে তাওয়াফে যিয়ারাত করার সম্মতি দিয়েছেন। আরেক দল আলিম কুরবানীর দিন তা করা মুস্তাহাব বলেছেন। অন্য একদল আলিম মিনায় থাকতে শেষ দিন পর্যন্ত তা দেরি করার সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
Book 9 · Hadith 113 · #911 · Shadh, Daif, Daif - 111
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবতাহ নামক জায়গায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বাকর, উমার ও উসমান (রাঃ) অবতরণ করতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৬৯), মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে আইশা, আবু রাফি ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুর রাযযাক হতে উবাইদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রেই জেনেছি। আবতাহ-এ অবতরণ করাকে একদল বিশেষজ্ঞ আলিম মুস্তাহাব বলেছেন, তবে ওয়াজিব নয়। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আবতাহে অবতরণ করা হাজের অনুষ্ঠানের কোন অঙ্গ নয়। এটি হল একটি স্থান যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।
Book 9 · Hadith 114 · #912 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 112
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুহাসসাব নামক জায়গায় অবতরণ কোন (জরুরী) বিষয় নয়। এতো একটি স্থান, যে জায়গায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করেছিলেন। – সহীহ, বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা বলেন, তাহসীব” অর্থ আবতাহে অবতরণ করা (দু’টি একই স্থান)। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 115 · #913 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 113
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য আবতাহে অবতরণ করেন যে, সেখান হতে (মাদীনার উদ্দেশ্যে) বেরিয়ে যাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। – সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৭৫২), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু আবী উমার হতে হিশাম ইবনু উরওয়া (রাহঃ) এর সূত্রেও এরূপ বর্ণিত আছে।
Book 9 · Hadith 116 · #914 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 114
। সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার পিতা আমাকে নিয়ে হাজ আদায় করেছেন। তখন আমি সাত বছরের বালক ছিলাম। — সহীহ, আলহাজ্জ্বুল কাবীর, বুখারী এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 118 · #915 · Sahih, Sahih - 115
। কুতাইবা কাযায়া ইবনু সুয়াইদ আল-বাহিলী হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। – সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবু ঈসা বলেন, হাদিসটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল রূপেও বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ একমত যে, যদি নাবালেগ শিশু হাজ্জ আদায় করে তাহলে আবার বালেগ হওয়ার পর (হাজ্জ ফরয হলে) তাকে হাজ্জ আদায় করতে হবে। ফরয হাজ্জের জন্য শিশুকালের হাজ্জ যথেষ্ট হবে না। অনুরূপভাবে হাজ্জ করার পর যদি কোন দাস আযাদ হয় তাহলে হাজের সামর্থ্য হলে আবার তাকে হাজ্জ আদায় করতে হবে। তার ফরয হজ্জের জন্য দাস অবস্থার হাজ যথেষ্ট হবে না। এই মত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।
Book 9 · Hadith 119 · #916 · Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 116
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যখন হাজ্জ করতাম তখন মেয়েদের পক্ষ হতে তালবিয়া পাঠ করতাম এবং বালকদের পক্ষ হতে রমী (কঙ্কর নিক্ষেপ) করতাম। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৩৮) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এটি আমরা জেনেছি। এই প্রসঙ্গে আলিমগণ একমত যে, মেয়েরা নিজেদের তালবিয়া পাঠ করবে। তাদের হয়ে অন্য কেউ তালবিয়া পাঠ করলে তা হবে না। তবে তাদের উচ্চ কণ্ঠে তালবিয়া পাঠ করা মাকরূহ।
Book 9 · Hadith 120 · #917 · Daif, Daif, Daif - 117
। ফাযল ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, খাসআম গোত্রের এক মহিলা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতার উপর আল্লাহ নির্ধারিত হাজ্জ ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি খুবই বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। উটের পিঠে বসার সামর্থ্যও তার নেই। তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি হাজ্জ আদায় কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯০৯), বুখারী, মুসলিম আলী, বুরাইদা, হুসাইন ইবনু আওফ, আবু রায়ীন আল-উকাইলী, সাওদা বিনতু যামআ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ফাযল ইবনু আব্বাসের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে হুসাইন ইবনু আওফ আল-মুযানী (রাহঃ)-এর এই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে সিনান ইবনু আবদিল্লাহ আল-জুহানী-তার ফুফুর সূত্রেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাসের সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত আছে। এই রিওয়ায়াতগুলি প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহীহ হল ইবনু আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক ফাযল ইবনু আব্বাসের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। মুহাম্মাদ আল-বুখারী আরো বলেন, হয়ত ফাযল ইবনু আব্বাস এবং অন্যদের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি শুনেছেন, পরে তা মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং যার নিকট হতে শুনেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি। আবু ঈসা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। এই মত পোষণ করেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। মৃত ব্যক্তির পক্ষে হাজ্জ আদায় করাকে তারা জায়িয মনে করেন। ইমাম মালিক বলেন, যদি মৃত ব্যক্তি ওয়াসিয়াত করে যায় তবে তার পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করা যাবে। একদল আলিমের মতে, যদি জীবিত ব্যক্তি বৃদ্ধ হয় এবং হাজ্জ আদায়ের (দৈহিক) সামর্থ্য না থাকে তাহলে তার পক্ষে হাজ্জ আদায় করা যাবে। এই মত ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈর।
Book 9 · Hadith 121 · #918 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 118
। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক মহিলা এসে বলল, আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু তিনি হাজ্জ আদায় করেননি। তার পক্ষে কি আমি হাজ আদায় করব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তার পক্ষে তুমি হজ্জ আদায় কর। — সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৫৬১), মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 122 · #919 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 119
। আবূ রাযীন আল-উকাইলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হাজ্জ, উমরা, এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। তিনি বললেনঃ তোমার পিতার পক্ষে তুমি হাজ্জ ও উমরা আদায় কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯০৬) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস হতেই জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যের পক্ষ হতে উমরা করার অনুমতি দিয়েছেন। আবু রায়ীন আল-উকাইলী (রাঃ)-এর নাম লাকীত, পিতা আমির।
Book 9 · Hadith 123 · #920 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 120
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো উমরা করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেনঃ না, তবে তোমরা উমরা করলে তা অতিশয় ভাল। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। কোন কোন আলিমের মতে উমরা ওয়াজিব নয়। এ কথাও বলা হত যে, হাজ হলো দুটি। কুরবানীর দিন হলো বড় হাজ্জ এবং উমরা হলো ছোট হাজ। ইমাম শাফিঈ বলেন, উমরা হলো সুন্নাত (প্রতিষ্ঠিত ইবাদাত)। আমার জানামতে তা ছেড়ে দেয়ার সুযোগ কেউ দেননি। এটি নফল হওয়া প্রসঙ্গেও কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি নফল বলে যে হাদীস বর্ণিত আছে তা যঈফ, তা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জেনেছি যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) উমরা পালন ওয়াজিব মনে করতেন। আবূ ঈসা বলেন, এর পুরোটাই ইমাম শাফিঈর বক্তব্য।
Book 9 · Hadith 124 · #921 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 121
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত হাজ্জের মধ্যে উমরাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৫৭১), মুসলিম সুরাকা ইবনু জু'শুম ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাসের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীসের তাৎপর্য হল, হাজ্জের মাসসমূহে উমরা করায় কোন সমস্যা নেই। অনুরূপ ব্যাখ্যাই করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। এই হাদীসের তাৎপর্য হল, হজ্জের মাসসমূহে জাহিলী যুগের লোকেরা উমরা আদায় করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দেন এবং বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত উমরাও হজ্জের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে অর্থাৎ হাজ্জের মাসসমূহে উমরা করাতে কোন সমস্যা নেই। হাজ্জের মাস হলঃ শাওয়াল, যুলকাদা ও যুলহিজ্জার প্রথম দশদিন। হজ্জের মাসগুলি ব্যতীত অন্য মাসে হাজের ইহরাম বাধা উচিত নয়। আর হারাম মাসগুলো হলোঃ রজব, যুলকাদা, যুলহিজ্জা ও মুহাররাম। অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী ও অপরাপর অনেক আলিম।
Book 9 · Hadith 125 · #922 · Sahih, Sahih, Sahih - 122
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক উমরা অপর উমরা পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ। কবুল হাজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নেই। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৮৮), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 126 · #923 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 123
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আইশা (রাঃ)-কে তানঈম হতে (ইহরাম করে) উমরা করান। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৯৯), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 127 · #924 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 124
। মুহাররিশ আল-কাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমরার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (ইহরাম বেঁধে) জিরানা হতে বের হন এবং রাতেই মক্কায় যান। উমরা পালন করে তিনি ঐ রাতেই ফিরে আসেন। জিরানাতেই তার ভোর হয়। মনে হল তিনি যেন এখানেই রাতযাপন করেছেন। পরের দিন তিনি সূর্য ঢলে পড়ার পর বাতনে সারিফের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হন এবং মুযদালফার পথে সেখানে পৌছে যান। এই কারণে তার এই উমরার খবর মানুষের নিকট অজ্ঞাত থেকে যায়। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৭৪২) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গরীব বলেছেন। এই হাদীস ছাড়া মুহাররিশ আল-কাবী (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আর কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি-না তা আমাদের জানা নেই। বলা হয়ে থাকে যে, “জা-আ মাআত তারক” অর্থাৎ মাও সূলের পথে আগমণ করেন।
Book 9 · Hadith 128 · #925 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 125
। উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করেছেন? তিনি বললেন, রজব মাসে। উরওয়া বলেন, তখন আইশা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন উমরা করেননি যাতে তিনি অর্থাৎ ইবনু উমার (রাঃ) তার সাথে ছিলেন না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো কখনও রজব মাসে উমরা করেননি। – সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৯৯৭, ২৯৯৮), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি বলতে শুনেছি, উরওয়া ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) হতে হাবীব ইবনু আবী সাবিত কখনও কিছু শুনেননি।
Book 9 · Hadith 129 · #926 · Sahih, Sahih, Sahih - 126
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বমোট চারবার উমরা করেছেন, এর মধ্যে একটি করেছেন রজব মাসে। — সহীহ, (হাদীসটি পূর্বের হাদীসের সংক্ষিপ্তরূপ, তাতে আইশা (রাঃ) রজব মাসের উমরাহকে অস্বীকার করেছেন।) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
Book 9 · Hadith 130 · #927 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 127
। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যুলকাদা মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ করেছেন। — সহীহ, বুখারী এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Book 9 · Hadith 131 · #928 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - 128
। উম্মু মাকিল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৯৯৩) ইবনু আব্বাস, জাবির, আবু হুরাইরা, আনাস ও ওয়াহব ইবনু খানবাশ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ওয়াহব ইবনু খানবাশকে হারিম ইবনু খানবাশও বলা হয়। (রাবী) বায়ান ও জাবির বলেছেন শাবী হতে, তিনি ওয়াহব ইবনু খানবাশ হতে। আর দাউদ আল আওদী বলেছেন শাবী হতে, তিনি হারিম ইবনু খানবাশ হতে। তার নাম ওয়াহব এটিই অধিক সহীহ। উম্মু মাকিলের হাদীসটি এই সূত্রে হাসান গারীব। আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সঠিকভাবে বর্ণিত আছে যে, রামাযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। ইসহাক বলেন, এ হাদীসের তাৎপর্য সূরা ইখলাস প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীসটির তাৎপর্যের অনুরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক “কুল হুআল্লাহু আহাদ সূরা তিলাওয়াত করল সে যেন কুরআন মাজীদের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করল”।
Book 9 · Hadith 132 · #929 · Sahih, Sahih, Sahih - 129
। হাজ্জাজ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো দেহের কোন অঙ্গ ভেঙ্গে গেলে বা সে খোড়া হয়ে গেলে হালাল (ইহরাম, মুক্ত) হয়ে যাবে এবং তাকে আরেকবার হাজ্জ আদায় করতে হবে। ইকরামা বলেন, আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলে তারা উভয়ে বলেন, হাজ্জাজ সত্য বলেছেন। — সহীহ, ইবনু মী-জাহ (৩০৭৭) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ হতেও একাধিক বর্ণনাকারী এই হাদীসের মতই রিওয়ায়াত করেছেন। এই হাদীস মামার ও মুআবিয়া ইবনু সাল্লাম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসীর হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু রাফি হতে, তিনি হাজ্জাজ ইবনু আমর হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। কিন্তু হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ তার সনদে আবদুল্লাহ ইবনু রাফি-এর উল্লেখ করেননি। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে হাজ্জাজ একজন (হাদীসের) হাফিজ ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি বলতে শুনেছি, মামার ও মুআবিয়া ইবনু সাল্লামের রিওয়ায়াতটি এই হাদীসের ক্ষেত্রে বেশি সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের মতই অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। সূত্রটি এই আবদ ইবনু হুমাইদ আবদুর রাজ্জাক হতে, তিনি মা’মার হতে, তিনি নবী আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
Book 9 · Hadith 133 · #930 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 130
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যুবাআ বিনতুয যুবাইর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাজ্জ আদায় করতে চাচ্ছি। আমি কি কোন শর্ত আরোপ করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যুবাআ বললেন, আমি কিভাবে বলব? তিনি বললেনঃ তুমি বলবে, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। হে আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করে দিবে সেখানেই আমি ইহরামমুক্ত হব। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৩৮), মুসলিম জাবির, আসমা বিনতু আবু বাকর ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে হাজের ক্ষেত্রে এইরূপ শর্তারোপ করা যায়। তারা বলেন, যদি কোন ইহরামধারী এইরূপ শর্ত করার পর বাধার সম্মুখীন হয় অথবা অপারগ হয়ে পড়ে তাহলে সেলেক ইহরামমুক্ত হয়ে যেতে পারবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। হাজের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা আরেক দল আলিমের মতে সঠিক নয়। তারা বলেন, কোন লোক শর্তারোপ করলেও ইহরামমুক্ত হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাকে কোন শর্তারোপ না করা ব্যক্তির মতই গণ্য করা হবে।
Book 9 · Hadith 134 · #931 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Hasan - 131
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি হাজে কোন রকম শর্তারোপ করা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন, তোমাদের জন্য কি তোমাদের নবীর সুন্নাতই যথেষ্ট নয়? — সহীহ (১৮১০), বুখারী এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু উমারের কথার তাৎপর্য হল, যখন কোন ব্যক্তি হাজের জন্য ইহরাম বাধবে অতঃপর কা'বা পর্যন্ত পৌছতে বাধা গ্রস্থ হয় তাহলে সে হজ্জের নিয়্যাত ভঙ্গ করবে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকমই করেছেন যখন তাঁকে কাফিরগণ বাধা দিয়েছিল।
Book 9 · Hadith 135 · #932 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Bukhari - 132
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমি বললামঃ মিনায় অবস্থানের দিনগুলিতে সাফিয়্যা বিনতু হুওয়াই (রাঃ) হায়েযগ্রস্তা হয়ে পড়েছেন। তিনি বললেনঃ সে আমাদের প্রতিবন্ধক হবে নাকি? লোকেরা বলল, তিনি তাওয়াফে যিয়ারাত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কোন সমস্যা নেই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭২, ৩০৭৩), বুখারী, মুসলিম ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত দিয়েছেন। তাওয়াফে যিয়ারাত সম্পন্ন করার পর কোন মহিলা হয়েযগ্রস্তা হলে সে (মিনা হতে) চলে আসতে পারে। এতে তার উপর অন্য কিছু বর্তাবে না। এই অভিমত সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর।
Book 9 · Hadith 136 · #933 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 133
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে লোক বাইতুল্লাহর হাজ্জ করে তার শেষ কাজ যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হয়। তবে ঋতুবতী মহিলা এর ব্যতিক্রম। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য (চলে আসার) অনুমতি দিয়েছেন। — সহীহ, বুখারী (১৭৬১), অনুমতির ব্যাক্য সহ ইরওয়া (৪/২৮৯) ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন।
Book 9 · Hadith 137 · #934 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 134
। হারিস ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এই ঘরের হাজ্জ বা উমরা করবে তার শেষ কাজ যেন বাইতুল্লায় সম্পর্কযুক্ত হয়। এই বর্ণনাটি মুনকার, তবে "উমরা করবে" এই শব্দ ব্যতীত হাদীসের অর্থ সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৭৪৯), যঈফা (৪৫৮৫) উমার (রাঃ) তখন তাকে (হারিস ইবনু আবদুল্লাহকে) বলেন, তোমার শরম হওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তুমি এই বিষয়টি শুনেছ অথচ আজো আমাদেরকে তা জানাওনি। এই অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হারিস ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আওস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ হতেও একাধিক রাবী একইরকম বর্ণনা করেছেন। এই সনদের কোন কোন অংশে হাজ্জাজের উল্টো বর্ণনা করা হয়েছে।
Book 9 · Hadith 140 · #935 · Munkar, Daif, Daif - 135
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একসাথে হাজ্জ ও উমরা আদায় করেছেন (কিরান হাজ্জ করেছেন) এবং হাজ্জ ও উমরার জন্য একটি মাত্র তাওয়াফই করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৯৭১, ২৯৭৪) ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেন, কিরান হাজ্জ পালনকারী একটি তাওয়াফই করবে। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ বলেন, কিরান হাজ পালনকারী দুটি তাওয়াফ ও দুটি সাঈ করবে (একটি হাজের জন্য ও একটি উমরার জন্য)। এই অভিমত ইমাম সাওর ও কুফাবাসী আলিমদের।
Book 9 · Hadith 141 · #936 · Sahih, Sahih, Sahih - 136
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাজ্জ ও উমরার ইহরাম যে লোক একত্রে বাধবে এই দুইটির ক্ষেত্রে সে লোকের জন্য এক তাওয়াফ ও এক সাঈ যথেষ্ট হবে এবং সে একই সাথে উভয়টি হতে ইহরামমুক্ত হয়ে যাবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৭৫) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। কেননা, দারাওয়ারদী এককভাবে এই শব্দে হাদীস বর্ণনা করেছেন। একাধিক রাবী উবাইদুল্লাহ ইবনু উমর (রাহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এটিকে তারা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ।
Book 9 · Hadith 142 · #937 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 137
। মারফুভাবে আলী ইবনুল হাযরামী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুহাজিরগণ হজ্জের সকল অনুষ্ঠান পালনের পর মক্কাতে তিন দিন থাকতে পারেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১০৭৩), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এটি এই সনদে মারফু হিসেবে অন্যভাবেও বর্ণিত আছে।
Book 9 · Hadith 143 · #938 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 138
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ, হাজ্জ বা উমরা আদায়ের পর ফেরার সময় যখনই কোন টিলা বা উচু জায়গায় উঠতেন তখন তিনবার "আল্লাহু আকবার" বলতেন, তারপর পাঠ করতেনঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শারীক নেই, রাজত্ব তারই, সকল প্রশংসা তারই জন্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর শক্তিশালী। তার নিকটেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, তারই ইবাদতকারী, তার পথে ভ্রমণকারী, আমরা আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী। আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছেন, তার বান্দাহকে সাহায্য করেছেন এবং সম্মিলিত বাহিনীকে একাই পরাস্ত করেছেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২৪৭৫), বুখারী, মুসলিম বারাআ, আনাস ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
Book 9 · Hadith 144 · #939 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 139
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি দেখতে পেলেন এক লোক তার উটের পিঠ হতে পড়ে গিয়ে ঘাড় ভেঙ্গে মারা গেছে। সে লোক ইহরাম পরিহিত অবস্থায় ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে তাকে গোসল করাও এবং তাকে তার (ইহরামের) দুই কাপড়েই কাফন পরাও, কিন্তু তার মাথা ঢেকে দিও না। কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাকে ইহরাম অথবা তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৮৪), বুখারী, মুসলিম৷ এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কিছু সংখ্যক আলিমগণ এই হাদীসানুযায়ী আমল করেছেন। এই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। আর কিছু সংখ্যক আলিমগণ বলেন, ইহরামধারী লোক মারা গেলে তার ইহরাম শেষ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যে লোকের ইহরাম নেই সে লোকের ক্ষেত্রে যেই বিধান এই লোকের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
Book 9 · Hadith 145 · #940 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon - 140
। নুবাইহ ইবনু ওয়াহব (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু মামার-এর চক্ষুরোগ হয়। তিনি ইহরামধারী ছিলেন। তিনি আবান ইবনু উসমানকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চোখে ঘৃতকুমারীর রস দাও। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওরাসাল্লাম হতে উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ চোখে ঘৃতকুমারীর রস দাও। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬১২), মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুসারে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেন, ঔষধে সুগন্ধি না থাকলে তা ব্যবহার করতে ইহরামধারী ব্যক্তির কোন সমস্যা নেই।
Book 9 · Hadith 146 · #941 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih Muslim - 141
। কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, হুদাইবিয়াতে তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে এবং মক্কায় আসার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় তিনি হাড়ির নীচে (চুলায়) আগুন জ্বালাচ্ছিলেন, আর তার চেহারায় উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমাকে কি তোমার এই পোকাগুলো কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে মাথা মুণ্ডন কর এবং "এক ফারাক" খাদ্যদ্রব্য ছয়জন মিসকীনকে দান কর (তিন সা"-তে এক ফারাক) অথবা তিনদিন রোযা রাখ অথবা একটি পশু কুরবানী কর। ইবনু আবী নাজীহ-এর বর্ণনায় আছেঃ অথবা একটি বকরী যবাহ কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭৯, ৩০৮০), নাসা-ঈ এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। যদি কোন মুহরিম লোক মাথা মুণ্ডন করে বা যে ধরণের পোশাক ইহরামে পরা উচিত নয় কোন লোক যদি সেই ধরণের পোশাক পরে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে তাহলে এই হাদীসে বর্ণিত নিয়মে তার উপর কাফফারা প্রদান করা অপরিহার্য হবে।
Book 9 · Hadith 147 · #942 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Bukhari And Muslim - 142
। আবুল বাদাহ ইবনু আদী (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাখালদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (জামরাতুল আকাবায়) কংকর মারতে এবং আরেকদিন তা বাদ দিতে অনুমতি দিয়েছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৩৬) আবু ঈসা বলেন, ইবনু উআইনা এরকমই বর্ণনা করেছেন। আর মালিক ইবনু আনাস আব্দুল্লাহ ইবনু আবু বাকর হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবুল বাদাহ ইবনু আসিম ইবনু আদী (রাঃ) হতে, তিনি তার পিতা হতে এটিকে বর্ণনা করেছেন। মালিক (রাহঃ)-এর এই বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ। একদল আলিম এই হাদীসের ভিত্তিতে রাখালদের জন্য একদিন জামরায় কংকর মারার এবং অন্যদিন তা বাদ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এই মত ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর।
Book 9 · Hadith 148 · #943 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 143
। আসিম ইবনু আদী (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের রাখালদের (মিনায়) রাত্রি যাপন না করার এবং কুরবানীর দিন কংকর মেরে পরবর্তী দুইদিনের কংকর কোন একদিন একত্রে মারার অনুমতি তার বর্ণনায় বলেছেন, দুই দিনের কংকর প্রথম দিন একত্রে এবং মিনা হতে যাত্রার শেষদিন কংকর মারবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৩৭) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি অপেক্ষা অনেক বেশি সহীহ।
Book 9 · Hadith 149 · #944 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Isnaad Sahih - 144
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এলে তিনি তাকে বললেনঃ তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? আলী (রাঃ) বললেন, যে নিয়্যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বেঁধেছেন আমিও সেই ইহরাম বেঁধেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার সাথে হাদী (কুরবানীর পশু) না থাকলে আমি (উমরা করে) হালাল (ইহরামমুক্ত) হয়ে যেতাম। -সহীহ, ইরওয়া, আল-হাজ্জ্বল কবীর (১০০৬), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা উপরোক্ত সনদে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
Book 9 · Hadith 150 · #945 · Sahih, Sahih, Sahih - Agreed Upon - 145
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি হাজ্জের বড় (মহান) দিন প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে কুরবানীর দিন। — সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ
Book 9 · Hadith 151 · #946 · Sahih, Sahih, Sahih - 146
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাজের বড় দিন হলো কুরবানীর দিন। — সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবু ঈসা বলেন, এটি আলী (রাঃ) মারফুভাবে বর্ণনা করেননি। প্রথমোক্ত হাদীস হতে এই হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের মারফু হিসেবে বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা ইবনু উআইনার মাওকৃফহিসেবে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। আবু ঈসা বলেন, আবূ ইসহাক-হারিস হতে, তিনি আলী (রাঃ)-এর সূত্রে এই হাদীসটিকে হাদীসের একাধিক হাফিয বর্ণনাকারী মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুবা আবু ইসহাক হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুররা হতে, তিনি আল-হারিস হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন।
Book 9 · Hadith 152 · #947 · Sahih, Sahih, Sahih - 147
। উমাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ভীড় ঠেলে হলেও ইবনু উমার (রাঃ) হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর নিকটে যেতেন (তা স্পর্শ করার জন্য)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য কোন সাহাবীকে আমি এরূপ করতে দেখিনাই। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রাহমান। আপনি ভীড় ঠেলে হলেও এই দুই রুকনে গিয়ে পৌছেন, কিন্তু আমি তো ভীড় ঠেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যকোন সাহাবীকে সেখানে যেতে দেখিনি। তিনি বললেন, আমি এরূপ কেন করব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ এই দুইটি রুকন স্পর্শ করলে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। — সহীহ, তালিকুল রাগীব (২/১২০) আমি তাকে আরো বলতে শুনেছিঃ সঠিকভাবে যদি কোন লোক বাইতুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে তাহলে তার একটি ক্রীতদাস আযাদ করার সমান সাওয়াব হয়। -সহীহ ইৰনু মা-জাহ (২৯৫৬) তাকে আমি আরো বলতে শুনেছিঃ যখনই কোন ব্যক্তি তাওয়াফ করতে গিয়ে এক পা রাখে এবং অপর পা তোলে আল্লাহ তখন তার একটি করে গুনাহ মাফ করে দেন এবং একটি করে.সাওয়াব লিখে দেন। -সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১২০), মিশকাত (২৫৮০) আবু ঈসা বলেন, একইরকম হাদীস ইবনু উমার (রাঃ) হতে অপরএক সূত্রে বর্ণিত.আছে। কিন্তু সেই সনদে উমাইরের উল্লেখ নেই। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।
Book 9 · Hadith 153 · #948 · Sahih, Sahih, Hasan, Hasan - 148
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা নামায আদায়ের অনুরূপ। তবে তোমরা এতে (তাওয়াফকালে) কথা বলতে পার। সুতরাং তাওয়াফকালে যে ব্যক্তি কথা বলে সে যেন ভাল কথা বলে। — সহীহ, ইরওয়া (১২১), মিশকাত (২৫৭৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১২১), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমাহ (২৭৩৯)। আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে ইবনু তাউস প্রমুখ হতে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত আছে। এটি আতা ইবনুস সাইব ছাড়া অন্য কোন সুত্রে মারফুভাবে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, বিশেষ কোন প্রয়োজনীয় কথা, আল্লাহর যিকির ও ইলম প্রসঙ্গিয় আলোচনা ব্যতীত তাওয়াফের সময় অন্য কোন কথা না বলা মুস্তাহাব।
Book 9 · Hadith 154 · #949 · Sahih, Sahih, Hasan - 149
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! এই পাথরকে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। যেলোক সত্য হৃদয়ে একে পর্শ করবে তার সম্বন্ধে এই পাথর আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে সাক্ষ্য দিবে। — সহীহ, মিশকাত (২৫৭৮), তা’লীকুর রাগীব (২/১২২), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২৭৩৫) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
Book 9 · Hadith 155 · #950 · Sahih, Sahih, Hasan, Isnaad Hasan - 150
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিহীন তেল ব্যবহার করতেন। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, "মুকাত্তাত’ অর্থ সুগন্ধযুক্ত। তিনি আরও বলেন, এই হাদীসটি গারীব। ফারকাদ আস-সাবাখী হতে সাঈদ ইবনু জুবাইর-এর সূত্রেই শুধু মাত্র আমরা এই হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) ফারকাদ আস-সাবাখীর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তার বরাতে লোকেরা হাদীস বর্ণনা করেছে।
Book 9 · Hadith 156 · #951 · Daif Isnaad, Daif Isnaad, Daif - 151
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি যমযমের পানি সাথে করে নিয়ে আসতেন, আর বলতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বহন করে আনতেন। — সহীহ, সহীহাহ (৮৮৩) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এই হাদীস প্রসঙ্গে শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি।
Book 9 · Hadith 157 · #952 · Sahih, Sahih, Isnaad Sahih - 152
। আবদুল আযীয ইবনু রুফাই (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বললাম, ইয়াওমুত-তারবিয়ায় (৮ই যুলহিজ্জায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় যুহরের নামায আদায় করেছেন? আপনি এই প্রসঙ্গে যা জানেন তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, তিনি ইয়াওমুন নাফরে (১৩ই যুলহিজ্জায়) আসরের নামায কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বলেন, আবতাহ (বাতহা) নামক জায়গায়। এরপর তিনি বললেন, তোমার আমীরগণ যা করবে তুমিও সেইভাবে কর (যেখানে তারা নামায আদায় করে সেখানে তুমিও আদায় কর) -সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৬৭০) বুখারী, মুসলিম। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কিন্তু সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে ইসহাক ইবনু ইউসুফ আল-আযরাকের বর্ণনাটি গারীব।
Book 9 · Hadith 158 · #953 · Sahih, Sahih, Hasan Sahih, Sahih - Agreed Upon